বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
১০ বৈশাখ ১৪৩৩

সংকটের মধ্যে নির্বাচন পারের বাজেট

আপডেটেড
১ জুন, ২০২৩ ১০:৫২
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৩ ১০:৫১

সংকটের মধ্যে ও জাতীয় নির্বাচনের বছরে আরেকটি উচ্চাভিলাষী বাজেট নিয়ে আসছে সরকার। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে হাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যে আসছে এই বাজেট।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট হবে দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট।

আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এটি হবে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করবেন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার।

প্রথা অনুযায়ী ৩০ জুন অথবা তার আগের দিন ২৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হয়। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন বাজেটের বাস্তবায়ন। ২৮ জুন থেকে কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হবে। সে কারণে এবার বাজেট পাস হবে ২৬ জুন।

এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম ‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। এতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।

শেষ তিনটি বাজেট করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দিতে হয়েছে সরকারকে। এবারও সেই সংকটের মধ্যেই আরেকটি বাজেট দিতে হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোট আর আইএমএফের শর্তের চাপ।

বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে স্বস্তি দিতে গিয়ে অন্যদিকে টান পড়ছে। প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখতে হচ্ছে আইএমএফের শর্ত; যেন কোনো অবস্থাতেই ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বাকি কিস্তিগুলো আটকে না যায়। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতির পারদ ফের চড়ছে। এপ্রিলে এই সূচক ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বেড়েছে। মে মাসের তথ্য পাওয়া গেলে সেটি দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) গিয়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে ইতিমধ্যেই জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, আইএমএফের নানা শর্ত আর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকার বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন বাজেট। সে হিসাবে আগামী বাজেটের ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার। আর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে বাকি ছয় মাস, জানুয়ারি থেকে জুন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। বাজারে ডলারের সংকট এখনো কাটেনি।

এমন সংকটকালেই টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা সাজিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এসব শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে নতুন বাজেটে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে এসব শর্ত সম্পর্কিত। আইএমএফ প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। বাকি অর্থ সমান ছয় কিস্তিতে দেবে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কম সুদের এই ঋণের বাকি কিস্তিগুলো নির্বিঘ্নে পাওয়ার জন্য নতুন বাজেটে আইএমএফের শর্তের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে আগামী বছরও উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রবণতা থাকবে। সে জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাজেট প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেহেতু এটা এই সরকারের শেষ বাজেট, তাই আসন্ন বাজেটটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে নির্বাচনের প্রতিফলন থাকে। নতুন বাজেটে দেয়া পদক্ষেপগুলো যাতে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে; খুশি হয়। কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে নতুন বাজেট করতে হচ্ছে। যুদ্ধ সব দেশকেই কমবেশি প্রভাবিত করেছে। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি এক নম্বর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাজেই আমি মনে করি আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ প্রবৃদ্ধি কমলে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

যুক্তিসংগত ভারসাম্য রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার ব্যয়ও কমানো যাবে না। এসব বিবেচেনা করে কৌশলপূর্ণ একটি বাজেট দিচ্ছি আমরা।’

রাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুমুখী চাপের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি, আইএমএফের শর্তের খড়্গ, ভর্তুকির বোঝা, নির্বাচনী বছরে বাড়তি খরচের চাহিদা, অর্থায়ন সংকট- এসব মিলিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন বাজেট তৈরিতে হিমশিম খেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আয়ের পথ সীমিত, তার পরও নির্বাচনে জনতুষ্টির কথা মাথায় রেখে বড় বাজেট আসছে। যেখানে আইএমএফের একগাদা শর্ত মানতে গিয়ে অবাধে করছাড় তুলে দিয়ে বরং করের বোঝা বাড়ানোর মতো অপ্রিয় পথে হাঁটতে হতে পারে সরকারকে। যে কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে।

নতুন বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারেও ভর্তুকির চাপ থাকবে। চাপ থাকবে এক বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দামে যে ২৮ শতাংশ উল্লম্ফন হয়েছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যদিও আইএমএফের শর্তের কারণে ভর্তুকি থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষির প্রসার আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিন্তা করে সরকার শিগগিরই হয়তো ভর্তুকি তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে হচ্ছে।

আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করার কারণে সরকারকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পালন করতে হবে। আর এসব শর্তের প্রতিফলন নতুন বাজেটে থাকবে। যেমন- রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) নিতে হবে। এটি করতে হলে গণহারে যে করছাড় দেয়া আছে, তা তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেয়া কর অবকাশ সুবিধা তুলে দিতে কঠোর হতে হবে। এটি করা হলে দেশীয় শিল্পগুলো কমবেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।

তা ছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য যখন নানা ধরনের চাপের মধ্যে, তখন বাড়তি করের বোঝা চাপবে তাদের ওপর। এর সঙ্গে সব স্তরের করের বোঝা বাড়বে। কারণ আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে আসছে অর্থবছরে অন্তত ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে। এটি করতে কমবেশি ব্যক্তিশ্রেণির কর যেমন বাড়বে, তেমনি সব স্তরেই করের চাপ পড়বে। এটি নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় হলেও শেষ পর্যন্ত না করে পারবে না সরকার। এমনিতেই রাজস্ব আয়ে নাজুক অবস্থা চলছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

একদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না, অন্যদিকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, বর্তমান এই কঠিন সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ সত্যিই কষ্টে আছে। তাদের আগে স্বস্তি দিতে হবে। তারপর জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে তাকাতে হবে। সেই সঙ্গে রিজার্ভ যাতে আর না কমে সে জন্য রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কম সুদের বিদেশি ঋণ বাড়াতে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে।’

এবারও . শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বিবিএস ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাব কষে বলেছে- এবার ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি বলছে ৫ শতাংশের কিছু বেশি হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে; কবে শেষ হবে- নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। যুদ্ধের প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়ছে অর্থনীতিতে। ডলারের দর বেড়েই চলেছে; ৮৬ টাকার ডলার হাতে গুনে ১০৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ডলারের এই উল্লম্ফনের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়ছে।

এদিকে অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এসব সংকটের মধ্যেও আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। আর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এবার জিডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।

নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী সরকারি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করবেন ৫ লাখ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। তবে চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করেছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।

এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী অর্থ সংগ্রহের দুটি উৎস চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে কোন উৎস থেকে কত টাকা তিনি ঋণ করবেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন। বাজেটের সারসংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থমন্ত্রী মোট ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এটি মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৫৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে তিনি ঋণ নিতে চান ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি, আর সঞ্চয়পত্র থেকে নেবেন ১৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নেবেন বিদেশি ঋণ।

এদিকে প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট থেকে অর্থমন্ত্রী খরচের দুটি খাত নির্ধারণ করেছেন। এর একটি হলো সরকারের আবর্তক ব্যয় বা পরিচালন ব্যয়। এর আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা মোট সরকারি ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিডিপির ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যটি হলো উন্নয়ন ব্যয়, যার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছর উন্নয়ন ব্যয়ের মোট আকারকেও দুভাবে নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ব্যয়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ এডিপির জন্য।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে সরকার ব্যয় করবে মোট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এই ভর্তুকির বড় অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যুতে, যার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কৃষিতে যাবে ১৭ হাজার কোটি, রপ্তানি ভর্তুকিতে যাবে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং প্রণোদনায় ব্যয় হবে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের ভর্তুকিতে ব্যয় হবে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা।

অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরও সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির খাতগুলোর ব্যয়ে। আগামী অর্থবছর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বিষয়:

পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব, দুই মাস পর ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি পার

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজারে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সবকটি সূচকের বড় উত্থান ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দীর্ঘ দুই মাস পর লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক এবং বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক যথাক্রমে ৩ ও ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৫ এবং ২ হাজার ৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকায় সূচকের এই ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা গত ১৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ লেনদেন। গত কার্যদিবসের তুলনায় এদিন লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে, ১২১টির কমেছে এবং ৫৭টি কোম্পানির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ৪৭টি কোম্পানির দরও ইতিবাচক ছিল। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় উত্থান হলেও লেনদেনের গতি ছিল কিছুটা নিম্নমুখী। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এদিন ৬০ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বৃদ্ধি পেলেও ৯১টির দর কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ গত দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে কিছুটা দরপতন থাকলেও তৃতীয় দিনের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ দিনে বাজারের এই চাঙ্গাভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


আসন্ন বাজেটে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও করহার কমানোর প্রস্তাব ডিসিসিআই’র

ডিসিসিআইর প্রস্তাবনা এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে উপস্থাপন করা হয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করা, করের হার সমসাময়িক করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানো এবং আহরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংলাপে ডিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে ৫৪টি সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে উপস্থাপন করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

প্রস্তাবিত সুপারিশমালায় অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদ্যমান করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা, সাধারণ নাগরিকদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি কাস্টমস ও ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সম্পূর্ণ অটোমেশন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ডিসিসিআই-এর সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, করজাল সম্প্রসারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হলে সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে।

সংলাপে ড. পাটোয়ারী আরও বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্য বিনিময়ের জন্য সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন চালু করা প্রয়োজন। এছাড়া কোম্পানির আমানতের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপ করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভ্যাট সংগ্রহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

ব্যবসায়ীদের এসব প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, আসন্ন বাজেটে শুল্ক হার কমানোর চেয়ে নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে এবং অর্থনীতির চাকায় নতুন গতি সঞ্চার হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কর ফাঁকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এনবিআর কঠোর অবস্থানে থাকবে, তবে সৎ করদাতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের কম হলেও অর্থনীতির বিশালত্ব বিবেচনায় এটি কোটির ঘরে থাকা উচিত ছিল। তিনি জানান, করপোরেট করহার ইতিমধ্যে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশে আনা হয়েছে এবং কার্যকর করহার যেন আর না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে করপোরেট রিটার্ন দাখিল অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা হবে এবং ভ্যাট ও কর রিফান্ড ব্যবস্থাও ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উক্ত বৈঠকে ডিসিসিআই-এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫.১৩ বিলিয়ন ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৫ হাজার ১২৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,১২৫.৯০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ ৩০.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এর আগে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০,৩৬৬.২৪ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, মোট রিজার্ভ (গ্রস রিজার্ভ) থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।


বাজেটে ০.৫০ শতাংশ উৎসে কর চায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ খাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ প্রস্তুতকারকরা।

এ প্রস্তাবনা আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

বর্তমানে রপ্তানির বিপরীতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হচ্ছে, যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকরী মূলধন আটকে যাচ্ছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ হার কমানো হলে শিল্পখাত উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

এই প্রেক্ষাপটে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, বর্তমানে চূড়ান্ত কর নির্ধারণের সময় উৎসে কাটা কর সমন্বয় করা হয়, ফলে এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে নির্ধারণ করলে সরকারের রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

বিজিএপিএমইএ জানায়, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি প্রণোদনা ধীরে ধীরে কমছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসে কর কমানো হলে রপ্তানি খাত উৎসাহিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, উচ্চ হারে উৎসে কর কাটার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ডলার সংকট এবং আর্থিক ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আয়করমুক্ত সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।

এছাড়া কোম্পানির সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানতের সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় এবং তারল্য সংকট মোকাবিলা সহজ হয়।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর “প্রচ্ছন্ন রপ্তানি” সংজ্ঞা সংশোধনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংজ্ঞায় তিনটি শর্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া অন্য শর্তগুলোতে শুধু বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন ও স্থানীয় ঋণপত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংজ্ঞাটিকে আরও আধুনিক ও বাস্তবসম্মত করতে সব ধরনের এলসি, সেলস কনট্রাক্ট, পারচেজ অর্ডারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি রপ্তানি মূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আরটিজিএস, এফডিডি, এফটিটি ইত্যাদি লেনদেন পদ্ধতিকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।


সূচকের ইতিবাচক ধারায় পুঁজিবাজার, ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। প্রধান বাজার ডিএসইর মূল সূচক ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ও ডিএসই-৩০ সূচক যথাক্রমে ২ ও ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১০৬২ ও ১৯৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে এদিন মোট ৯২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে, যা গত কর্মদিবসের তুলনায় ১০৫ কোটি টাকা বেশি। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৫টির শেয়ার দর বেড়েছে এবং ১০৮টির দাম কমেছে, যেখানে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের এই চাঙ্গাভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে এই বাজারে লেনদেনের অংক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ কোটি টাকা কমে ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর বৃদ্ধি পেলেও ৭৭টির দাম কমেছে এবং ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আগের অবস্থাতেই স্থির রয়েছে।


চীনের সাথে বিনিয়োগ দৃঢ় করতে বিডাকে বিসিসিসিআইয়ের ৯ সুপারিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে নয়টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের নিকট এই সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিসিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ জেড এম আজিজুর রহমান। তিনি দুই দেশের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প বিকাশের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান জানান যে, বর্তমানে শুধুমাত্র সরকারি পর্যায়ে এলএনজি আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিনি দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বেসরকারি খাতকেও এলএনজি আমদানির অনুমতি দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। জবাবে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান যে, জ্বালানি সমস্যা নিরসনে সরকার অত্যন্ত সক্রিয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলছে। এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সহায়ক হতে পারে।

সভায় চীনা উদ্যোক্তাদের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট চাও চংচং দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাইকরণের জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চেম্বারের অন্যান্য সদস্যরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকালে উদ্ভূত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৯ দফা সুপারিশের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উক্ত বৈঠকে বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিসিসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক আবু তাহেরসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।


ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে ভোগান্তি দূরীকরণের এন‌বিআরের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্যাট রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি ডিজিটাল করার সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা নানাবিধ কারিগরি ও দাপ্তরিক জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে এনবিআর কার্যালয়ে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংলাপে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপনের পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান দায়িত্ব পালনে ত্রুটির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গ্রাহক সেবায় অবহেলা বা কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংলাপে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হারেস মোহাম্মদ অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘকাল ধরে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিলেও বর্তমানে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অথচ দাপ্তরিকভাবে পুরোনো তথ্য অনলাইনে হালনাগাদ না থাকায় নতুন করে রিটার্ন দাখিল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি মাঠপর্যায়ের সমস্যাটি তুলে ধরে বলেন, “প্র্যাকটিক্যালি অনেকদিন ধরে আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিচ্ছি। এখন সেটি রিসিভ করছে না। কিন্তু অনলাইনে দিতে গেলে বলছে—আপনার ডেটা আপডেট নেই, আগে আপডেট করতে হবে। কিন্তু এই আপডেট কীভাবে করব, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তথ্য হালনাগাদ করতে গেলে বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের নামে অহেতুক সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জবাবে বলেন যে, অনলাইন ব্যবস্থার লক্ষ্যই ছিল ব্যবসায়ীদের দাপ্তরিক কাজ দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজতর করা। তথ্য হালনাগাদ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল এবং অনেকেই তা সম্পন্ন করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা যখন বিভিন্ন স্তরের আমলাতান্ত্রিক বাধার কথা উল্লেখ করেন, তখন চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করে বলেন, “কোনো চেক নেই। যদি কোথাও পেন্ডিং থাকে, সেটির রিপোর্ট আমরা আজ সন্ধ্যায় নেব। কোথায় কতগুলো পেন্ডিং আছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আলোচনার এক পর্যায়ে ম্যানুয়ালি নেওয়া তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “একদম ঠিক বলেছেন। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল, আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছি।”

আলোচনায় উঠে আসে যে, ভ্যাট কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির কারণেও ব্যবসায়ীরা স্থায়ী কোনো সমাধান পাচ্ছেন না এবং একই সমস্যার জন্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে ধরণা দিতে হচ্ছে। এনবিআর প্রধান ব্যবসায়ীদের সব সমস্যা খোলাখুলি বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়। আপনারা মন খুলে সমস্যার কথা বলুন, আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো।” তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতা হারেস মোহাম্মদ মন্তব্য করেন, “আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিয়েছি, কিন্তু অনলাইনে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছি। আপনাদের কাছে অনেক সময় পৌঁছানোই যায় না—অফিসের ভেতরে নানা স্তরের বাধা থাকে। সমস্যাটা এখানেই। গত মাসেও আপডেট না হওয়ায় আমাকে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হয়েছে। এই মাসেও একই কারণে সেটাই করতে বাধ্য হয়েছি। এটিই বাস্তবতা।”


প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় দেশের পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা, ডিএসই’র ভূমিকা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ডিএসই’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠকে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও জোরদার করা এবং বাজারের গভীরতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


আরও পৌনে দুই লাখ টন জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পৌনে দুই লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বৈঠক পরবর্তী তথ্যানুযায়ী, "ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য" ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ হাজার টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন কেনা হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অন্য একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেশের মজুত ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিতভাবেই এ ধরনের আমদানির প্রস্তাবগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

একই সভায় জ্বালানি খাতের পাশাপাশি অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ফিখ্টনার জিএমবিএইচ অ্যান্ড কো. কেজি (জিইআর) নামক বিদেশি সংস্থাকে পরবর্তী ২৪ মাসের জন্য পুনরায় পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিটি, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। এছাড়া খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের ভিত্তিতে ২১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি নতুন হেসিয়ান বস্তা ক্রয়ের একটি প্রস্তাবও বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। মোট ১৯টি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বস্তাগুলো সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে।


চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ১ লাখ ৬৯ হাজার টন ডিজেল ও অকটেনবাহী ৫ জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ লাখ ৬৯ হাজার টন ডিজেল ও অকটেন নিয়ে একযোগে পাঁচটি বিশাল জাহাজ পৌঁছেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানির মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় যে, ‘এমটি ওকট্রি’ ও ‘এমটি কেপ বনি’ নামক দুটি জাহাজ ডলফিন জেটিতে নোঙর করে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস করছে। এই সরবরাহ আসার ফলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্পখাতে জ্বালানি সংকট নিরসনে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে আরও তিনটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ‘এমটি লিয়ান সং হু’ প্রায় ৪১ হাজার টন ও ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ভারত থেকে এসেছে এবং তাইওয়ান থেকে ‘এমটি নাভে সিয়েলো’ নিয়ে এসেছে প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী মহাব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা গণমাধ্যমকে বলেন, “জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে জেটিতে ভিড়বে এবং শিগগিরই জ্বালানি খালাস করা হবে।” তিনি আরও প্রত্যাশা করেন যে, এই জাহাজগুলো থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হলে দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বিপিসির বাণিজ্যিক ও পরিচালনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন জানান, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দ্রুততম সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিপোসমূহে সরবরাহ করার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া গত ১৯ দিনে বিপিসি দেশের অভ্যন্তরীণ তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে সুপার পেট্রো পিএলসি একাই ১১ হাজার ৬১৫ টন সরবরাহ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করায় নিকট ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। এই বিশাল মজুত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহে ৯ মাসে রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আহরণে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এনবিআরের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংস্থাটি ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ১১.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর—এই তিনটি প্রধান খাতের কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি। আয়কর খাতে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর, যেখানে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা, যা ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার ঘাটতি নির্দেশ করে। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে ঘাটতির পরিমাণ ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা কম রাজস্ব সংগৃহীত হয়েছে। কেবল মার্চ মাসের পরিসংখ্যানেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শূন্যতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৬০ হাজার ৫০ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকলেও সংগৃহীত হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। তবে বছরওয়ারি হিসাবে মার্চ মাসেও ২.৬৭ শতাংশের একটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।


বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিন বন্ধ বুড়িমারী স্থলবন্দর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা চার দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরটিতে নির্ধারিত সময়জুড়ে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে।

গত সোমবার বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ।

সংস্থাটির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার পাঠানো ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতের চ্যাংরাবান্ধা ও বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা চার দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

আগামী শনিবার থেকে আবারও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হবে।

কুচবিহার জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও ব্যবসায়ীদের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

এএসএম নিয়াজ নাহিদ বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার থেকে চার দিন সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে।’

বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, এই সময় ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি চিকিৎসা এবং ভুটান ও নেপালগামী যাত্রীরা এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করতে পারবেন।


বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে চারদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার ও ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ কেফায়েতুল ওয়ারেস।

তাদের জানানো অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পরদিন শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।

এই সময়ের মধ্যে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপারও স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুটান ও বাংলাদেশ সংলগ্ন জলপাইগুড়ি জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় ভোটগ্রহণে ঝুঁকি কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, "সরকারি ছুটি দিনসহ মোট চার দিন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল থেকে আবারও তা স্বাভাবিক হবে।"

বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেফায়েতুল ওয়ারেস বলেন, "আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের সময়টাতেও স্বাভাবিকভাবে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা খোলা থাকবে। তবে ভারত যেহেতু ভোট উপলক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই তারা পাসপোর্টধারী গ্রহণ করবে না। আর গ্রহণ না করলে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।"


banner close