সংকটের মধ্যে ও জাতীয় নির্বাচনের বছরে আরেকটি উচ্চাভিলাষী বাজেট নিয়ে আসছে সরকার। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে হাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যে আসছে এই বাজেট।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট হবে দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট।
আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এটি হবে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করবেন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার।
প্রথা অনুযায়ী ৩০ জুন অথবা তার আগের দিন ২৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হয়। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন বাজেটের বাস্তবায়ন। ২৮ জুন থেকে কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হবে। সে কারণে এবার বাজেট পাস হবে ২৬ জুন।
এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম ‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। এতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।
শেষ তিনটি বাজেট করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দিতে হয়েছে সরকারকে। এবারও সেই সংকটের মধ্যেই আরেকটি বাজেট দিতে হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোট আর আইএমএফের শর্তের চাপ।
বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে স্বস্তি দিতে গিয়ে অন্যদিকে টান পড়ছে। প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখতে হচ্ছে আইএমএফের শর্ত; যেন কোনো অবস্থাতেই ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বাকি কিস্তিগুলো আটকে না যায়। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতির পারদ ফের চড়ছে। এপ্রিলে এই সূচক ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বেড়েছে। মে মাসের তথ্য পাওয়া গেলে সেটি দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) গিয়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে ইতিমধ্যেই জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, আইএমএফের নানা শর্ত আর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকার বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন বাজেট। সে হিসাবে আগামী বাজেটের ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার। আর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে বাকি ছয় মাস, জানুয়ারি থেকে জুন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। বাজারে ডলারের সংকট এখনো কাটেনি।
এমন সংকটকালেই টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা সাজিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এসব শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে নতুন বাজেটে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে এসব শর্ত সম্পর্কিত। আইএমএফ প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। বাকি অর্থ সমান ছয় কিস্তিতে দেবে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কম সুদের এই ঋণের বাকি কিস্তিগুলো নির্বিঘ্নে পাওয়ার জন্য নতুন বাজেটে আইএমএফের শর্তের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে আগামী বছরও উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রবণতা থাকবে। সে জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাজেট প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেহেতু এটা এই সরকারের শেষ বাজেট, তাই আসন্ন বাজেটটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে নির্বাচনের প্রতিফলন থাকে। নতুন বাজেটে দেয়া পদক্ষেপগুলো যাতে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে; খুশি হয়। কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে নতুন বাজেট করতে হচ্ছে। যুদ্ধ সব দেশকেই কমবেশি প্রভাবিত করেছে। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি এক নম্বর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাজেই আমি মনে করি আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ প্রবৃদ্ধি কমলে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
যুক্তিসংগত ভারসাম্য রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার ব্যয়ও কমানো যাবে না। এসব বিবেচেনা করে কৌশলপূর্ণ একটি বাজেট দিচ্ছি আমরা।’
রাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুমুখী চাপের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি, আইএমএফের শর্তের খড়্গ, ভর্তুকির বোঝা, নির্বাচনী বছরে বাড়তি খরচের চাহিদা, অর্থায়ন সংকট- এসব মিলিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন বাজেট তৈরিতে হিমশিম খেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
আয়ের পথ সীমিত, তার পরও নির্বাচনে জনতুষ্টির কথা মাথায় রেখে বড় বাজেট আসছে। যেখানে আইএমএফের একগাদা শর্ত মানতে গিয়ে অবাধে করছাড় তুলে দিয়ে বরং করের বোঝা বাড়ানোর মতো অপ্রিয় পথে হাঁটতে হতে পারে সরকারকে। যে কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারেও ভর্তুকির চাপ থাকবে। চাপ থাকবে এক বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দামে যে ২৮ শতাংশ উল্লম্ফন হয়েছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যদিও আইএমএফের শর্তের কারণে ভর্তুকি থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষির প্রসার আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিন্তা করে সরকার শিগগিরই হয়তো ভর্তুকি তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে হচ্ছে।
আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করার কারণে সরকারকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পালন করতে হবে। আর এসব শর্তের প্রতিফলন নতুন বাজেটে থাকবে। যেমন- রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) নিতে হবে। এটি করতে হলে গণহারে যে করছাড় দেয়া আছে, তা তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেয়া কর অবকাশ সুবিধা তুলে দিতে কঠোর হতে হবে। এটি করা হলে দেশীয় শিল্পগুলো কমবেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।
তা ছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য যখন নানা ধরনের চাপের মধ্যে, তখন বাড়তি করের বোঝা চাপবে তাদের ওপর। এর সঙ্গে সব স্তরের করের বোঝা বাড়বে। কারণ আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে আসছে অর্থবছরে অন্তত ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে। এটি করতে কমবেশি ব্যক্তিশ্রেণির কর যেমন বাড়বে, তেমনি সব স্তরেই করের চাপ পড়বে। এটি নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় হলেও শেষ পর্যন্ত না করে পারবে না সরকার। এমনিতেই রাজস্ব আয়ে নাজুক অবস্থা চলছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
একদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না, অন্যদিকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, বর্তমান এই কঠিন সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ সত্যিই কষ্টে আছে। তাদের আগে স্বস্তি দিতে হবে। তারপর জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে তাকাতে হবে। সেই সঙ্গে রিজার্ভ যাতে আর না কমে সে জন্য রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কম সুদের বিদেশি ঋণ বাড়াতে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে।’
এবারও ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা
বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বিবিএস ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাব কষে বলেছে- এবার ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি বলছে ৫ শতাংশের কিছু বেশি হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে; কবে শেষ হবে- নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। যুদ্ধের প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়ছে অর্থনীতিতে। ডলারের দর বেড়েই চলেছে; ৮৬ টাকার ডলার হাতে গুনে ১০৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ডলারের এই উল্লম্ফনের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়ছে।
এদিকে অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এসব সংকটের মধ্যেও আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। আর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এবার জিডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।
নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী সরকারি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করবেন ৫ লাখ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। তবে চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করেছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী অর্থ সংগ্রহের দুটি উৎস চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে কোন উৎস থেকে কত টাকা তিনি ঋণ করবেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন। বাজেটের সারসংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থমন্ত্রী মোট ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এটি মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৫৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে তিনি ঋণ নিতে চান ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি, আর সঞ্চয়পত্র থেকে নেবেন ১৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নেবেন বিদেশি ঋণ।
এদিকে প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট থেকে অর্থমন্ত্রী খরচের দুটি খাত নির্ধারণ করেছেন। এর একটি হলো সরকারের আবর্তক ব্যয় বা পরিচালন ব্যয়। এর আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা মোট সরকারি ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিডিপির ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যটি হলো উন্নয়ন ব্যয়, যার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছর উন্নয়ন ব্যয়ের মোট আকারকেও দুভাবে নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ব্যয়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ এডিপির জন্য।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে সরকার ব্যয় করবে মোট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এই ভর্তুকির বড় অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যুতে, যার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কৃষিতে যাবে ১৭ হাজার কোটি, রপ্তানি ভর্তুকিতে যাবে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং প্রণোদনায় ব্যয় হবে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের ভর্তুকিতে ব্যয় হবে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরও সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির খাতগুলোর ব্যয়ে। আগামী অর্থবছর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার মারা গেছেন। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিলে গত সপ্তাহে তাঁকে দুবাইয়ের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় আজ তিনি মারা যান।
রন হক সিকদার ছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসা জগতের এক পরিচিত নাম। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সিকদার গ্রুপ ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভাবনীয় প্রসার ঘটিয়েছে। বিশেষ করে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বাইরে রন হক সিকদার সমাজসেবামূলক কাজেও ছিলেন অগ্রণী। শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন। দেশের করপোরেট অঙ্গনে তিনি একজন প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
তাঁর এই অকাল প্রয়াণে দেশের করপোরেট ও বাণিজ্যিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের অর্থনীতির পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৮৮ মিলিয়ন ডলার; সেই তুলনায় এবার প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ ২৬০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই থেকে ৩রা মে পর্যন্ত সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রটিও বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে মোট ২৯ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৪ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ডলার, যার তুলনায় এবারের অঙ্কটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমার কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বাজারের স্বাভাবিক ছন্দ ও লেনদেনের গতি পুনরুদ্ধার করতে সংগঠনটি অবিলম্বে এই কৃত্রিম মূল্যসীমা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আজ সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিবিএ।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেনহীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া চিঠিতে ডিবিএ আরও জানিয়েছে যে, “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ফ্লোর প্রাইসযুক্ত শেয়ারগুলো ৩ মে ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করায় বিক্রেতাদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।” সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা বাজারের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
ডিবিএ তাদের চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে যে, ফ্লোর প্রাইসজনিত এই দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং বাজারের সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস দ্রুত সরিয়ে নিয়ে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসইসির প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংগঠনটি জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘বিজিএমইএ মো. রিয়াজউদ্দীন ডে-কেয়ার সেন্টার’-এর পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিশেষ এই সেন্টারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিজিএমইএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানদের নিরাপত্তা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আধুনিক এই ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে কর্মীরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে আরও নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে এই সেন্টারটি সুসজ্জিত করা হয়েছে। এখানে আনন্দঘন খেলাধুলার জায়গা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং বিকাশ নিশ্চিত করা সহজতর হবে।
উদ্বোধন পর্ব শেষে বিজিএমইএ সভাপতি এবং সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ সেন্টারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষ এবং শিশুদের জন্য রাখা আধুনিক উপকরণসমূহ পরিদর্শন করেন। কার্যালয় প্রাঙ্গণেই এমন একটি অনন্য সুবিধা চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এর ফলে তাঁদের পেশাগত জীবনে বাড়তি মানসিক প্রশান্তি কাজ করবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন ছয়টি ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকে জনবল নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার, অস্বচ্ছ উপায়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্বভাবে তদন্ত চালিয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করলেও পুরো নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি কাঠামো মেনে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এই তদন্তে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে, যারা মূলত নিয়োগের আগে জাতীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার উপস্থিতি এবং প্রার্থীদের সনদের সত্যতা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তা আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে। মূলত নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির প্রধান কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে আরও প্রায় ১১ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৩৪০ জনকে কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি চাকরিতে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিশাল জনবল নিয়োগের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর মাধ্যমে একটি বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও ৫ হাজার ৩৮৫ জন অভিযুক্ত কর্মীর মধ্যে মাত্র ৪১৪ জন তাতে অংশগ্রহণ করেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি বা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের প্রথমে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ১৯ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা, যাদের দাবি শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকেই প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ ছাঁটাইয়ের সমর্থনে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে।
বর্তমানে এই নিয়োগ ও ছাঁটাই সংক্রান্ত বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়োগ প্রদান বা চাকরি বহাল ও বাতিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওই ব্যাংকের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও নীতিমালার এখতিয়ারভুক্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার কর পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বা ১২ ট্রিলিয়ন ওন সমপরিমাণের এই বিশাল কর বিলটি গত পাঁচ বছর ধরে মোট ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রয়াত হওয়া স্যামসাংয়ের তৎকালীন চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির ওপর এই কর ধার্য করা হয়েছিল।
লি কুন-হির প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ওন সমমূল্যের সম্পদের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ হারে এই বিশাল কর নির্ধারিত হয়। এই নজিরবিহীন কর পরিশোধের প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ংয়ের সঙ্গে তাঁর মা হং রা-হি এবং দুই বোন লি বু-জিন ও লি সিও-হিউন যুক্ত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল, কারণ এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই পরিশোধিত করের অঙ্ক ২০২৪ সালে দেশটির মোট আদায়কৃত উত্তরাধিকার করের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।
প্রয়াত চেয়ারম্যানের রেখে যাওয়া সম্পদের তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি পাবলো পিকাসো এবং সালভাদর দালির মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অমূল্য শিল্পকর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এসকল শিল্পকর্মের একটি বড় অংশ ইতিপূর্বে জাতীয় জাদুঘর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল কর পরিশোধের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, কর দেওয়া নাগরিকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব। ১৯৩৮ সালে লি বিং-চুলের প্রতিষ্ঠিত স্যামসাং বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্ববৃহৎ ‘চ্যাবল’ বা পরিবার-নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা গোষ্ঠী হিসেবে দেশটির অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার ফলে শেয়ারবাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের আর্থিক মূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ভারী শিল্প ও নির্মাণ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাম্রাজ্যটি এখনো সুসংহত পারিবারিক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার মোট ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’ এর ব্যবহার আবশ্যক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, তালিকার ১ থেকে ১৮ নম্বর ক্রমিকের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি “প্রাইভেট কারে জ্বালানি দেওয়ার জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
নির্ধারিত এই ৬৮টি ফিলিং স্টেশনের তালিকায় রয়েছে আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি, কামাল ট্রেডিং এজেন্সি, সিটি ফিলিং স্টেশন, আইডিয়েল ফিলিং স্টেশন, ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন এবং সিকদার ফিলিং স্টেশন। মহাখালী ও বনানী এলাকার গুলশান সার্ভিস স্টেশন, ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ, চন্দা মাহজাবীন (সিএম) ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। উত্তরার সেবা গ্রিন ফিলিং স্টেশন, মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, কসমো ফিলিং স্টেশন, উত্তরা ফিলিং স্টেশন এবং জি. এফ. ট্রেডিং (ডিএল ফিলিং স্টেশন) এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার খালেক সার্ভিস স্টেশন, মেসার্স এস.পি. ফিলিং স্টেশন, স্যাম এসোসিয়েটস, সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন, ডেনসো ফিলিং স্টেশন, আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, কমফোর্ট ফিলিং স্টেশন, এ. এস. ফিলিং স্টেশন ও সোবহান ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি নিতে অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
তালিকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স, পূবালী ফিলিং স্টেশন, মেঘলা মডেল সার্ভিস সেন্টার ও বিনিময় সার্ভিস স্টেশন। এছাড়া নীলক্ষেতের মেসার্স পথের বন্ধু ও কিউ.জি সামদানী ফিলিং স্টেশন, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, হাটখোলা রোডের মেসার্স এ. হাই অ্যান্ড কোং এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মুন সিএনজি, সান্টু ফিলিং স্টেশন, রাজধানী ফিলিং স্টেশন, মুক্তি ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স আসমা আলী সিএনজি স্টেশন। রায়েরবাজারের মেসার্স সাদেক ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স জে এম এক্সপ্রেস, শ্যামপুরের এস. আহমেদ ফাউন্ডেশন এবং খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার মেসার্স কিকো ও মেসার্স সিকদার ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল চালকদের ফুয়েল পাস ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা সেনানিবাসের সিএসডি ফিলিং স্টেশন, কেরানীগঞ্জের আলহাজ্ব নূর ফিলিং স্টেশন, সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশন এবং জুরাইন, মুগদা, মালিবাগ, রাজারবাগ, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি ও বাড্ডা এলাকার নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় অবশ্যই গ্রাহকদের ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় গম রপ্তানি শুরু করেছে ভারত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন এবং অভ্যন্তরীণ মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আইটিসি গুজরাটের কান্দালা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ২২ হাজার টন গম রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০২২ সালে দেশটিতে তীব্র তাপদাহের কারণে গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বলবৎ ছিল। বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় নরেন্দ্র মোদির সরকার চলতি বছরের শুরুতে প্রথমে ২৫ লাখ টন এবং গত মাসের শেষে আরও ২৫ লাখ টন গম রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ট্রেলিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গমের তুলনায় ভারতীয় গমের দাম অন্তত ২০ ডলার বেশি। বিশ্ববাজারে যেখানে প্রতি টন গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলার, সেখানে ভারতীয় গমের জন্য আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ ডলার। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দ্রুত সরবরাহের সুবিধার্থে ভারতের দিকে ঝুঁকছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে গম রপ্তানির এই ধারা মূলত জরুরি প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শিপমেন্ট প্রয়োজন, তারাই এখন ভারতীয় গমের প্রধান ক্রেতা। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী মজুতের ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা এখনও আর্জেন্টিনা বা রাশিয়ার মতো তুলনামূলক সস্তা উৎসের ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিশ্ব গমের বাজারে ভারতের এই প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির সবকটি মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের গতিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শেয়ারের দাম বাড়ার তালিকায় বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকলেও দিনশেষে সূচক ও লেনদেনের চিত্রে পতন লক্ষ্য করা গেছে।
ডিএসইতে দিনের শুরু থেকেই শেয়ার ও ইউনিটের দামে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। এক্সচেঞ্জটিতে আজ সব খাত মিলিয়ে ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর কমেছে ১৫৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২২৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৪ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে মোট ৮৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, সেই হিসেবে আজ লেনদেন বেড়েছে ৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে শেয়ারবাজারের এই ইতিবাচক ধারার চিত্র উঠে এসেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) চিত্রটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচক পতনের পাশাপাশি সিএসআই ও সিএসই-৫০ সূচক দুটিরও অবনমন হয়েছে। বাজারটিতে আজ অংশ নেওয়া ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বাড়লেও সূচক ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপরীতে ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে আজ লেনদেনের পরিমাণও বেশ কমেছে; এক্সচেঞ্জটিতে আজ ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
সবুজ শিল্পায়নের অভিযাত্রায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি নতুন ৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ‘লিড’ (LEED) সনদ অর্জন করায় দেশে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব কারখানার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে। যার মধ্যে ১২১টি কারখানা সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিং প্রাপ্ত। বিশেষত, বিশ্বের সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার তালিকায় এখন অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫২টিই বাংলাদেশের দখলে।
নতুন করে এই স্বীকৃতির তালিকায় যুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড (ইউনিট-০২) ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে। সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ৮৩ পয়েন্ট এবং গাজীপুরের সুরাবাড়ির সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (মামটেক্স) ৮৪ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের শ্রীপুরের ওয়েলডান অ্যাপারেল লিমিটেড ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সনদ লাভ করেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পানি ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে রোল মডেলে পরিণত করেছে। এই অগ্রযাত্রা সম্পর্কে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘টেকসই শিল্পায়নের সূচকে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাতারে। নতুন চারটি কারখানার সংযোজন এ অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই টেকসই উন্নতির ধারা বজায় রাখতে উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সবুজ শিল্পায়নের এই রেকর্ড ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই রপ্তানি প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশই ভারতের বাজারে যাবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে বর্তমানের এই ১৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধিনিষেধের আগেই বিদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার বা টিটির মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করায় তাদের বিশেষ বিবেচনায় এই রপ্তানি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে টিটি হলো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর একটি প্রচলিত পদ্ধতি।
রপ্তানি অনুমোদনের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গণমাধ্যমকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা যেটা আছে তা থাকবে এবং সরকারের অনুমতি নিয়েই কাঁচা পাট রপ্তানি করতে হবে। এ দফায় যাঁদের রপ্তানি অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা আগেই আমদানিকারকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। ফলে অনুমতি দিতেই হয়েছে।”
অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে তাসফিয়া জুট ট্রেডিং, এ জেড জুট ট্রেডিং, এস এস ট্রেডিং, মেসার্স সুকুমার সরকার, জুট ইমপেক্স, সোনালী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এম এন জুট ট্রেডিং, মেসার্স রশ্মি কবির, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আর এস ট্রেডার্স, তৌফিক জুট ট্রেডিং, মেসার্স শরীফ আহমেদ, গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, বিডি গোল্ড ফাইবার, হুসনা জুট ফাইবার, মুসা জুট ফাইবার, ঢাকা ট্রেডিং হাউস লি এবং মেসার্স এম ডি আবুল কাসেম।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাসফিয়া জুট ট্রেডিং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৪০ টন কাঁচা পাট রপ্তানির বরাদ্দ পেয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ৬০ টন পাট রপ্তানি করতে পারবে গাজী জুট ইন্টারন্যাশনাল। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা ট্রেডিং হাউস ৮০০ টন, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৭৯০ টন, এম এন জুট ট্রেডিং ৫৭০ টন, মেসার্স রশ্মি কবির ৪০০ টন এবং মুসা জুট ফাইবার ৩০০ টন রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই বরাদ্দের অতিরিক্ত পাট রপ্তানি করতে পারবে না।
দেশীয় পাটকল মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি পরিপত্র জারি করে কাঁচা পাট রপ্তানিকে শর্তযুক্ত পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধের আবেদন জানিয়েছিল। সাধারণত বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও নেপালে কাঁচা পাট রপ্তানি করে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মে মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মাসের মতোই ১ হাজার ৯৪০ টাকা বহাল থাকছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এই মূল্য তালিকা আজ ৩ মে রোববার সন্ধ্যা থেকেই সারাদেশে কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং আমদানিকারকদের ব্যয় বিশ্লেষণ করে এই মাসে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম না বাড়লেও যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানি অটোগ্যাসের দামে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি লিটার অটোগ্যাস কিনতে গ্রাহকদের ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা খরচ করতে হবে, যা আগে ছিল ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।
১২ কেজি সিলিন্ডার ছাড়াও সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত অন্যান্য সকল সিলিন্ডারের দামও বিইআরসি নির্ধারিত হার অনুযায়ী আনুপাতিক হারে অপরিবর্তিত থাকবে। বিইআরসি স্পষ্ট করেছে যে, সরকারি এই রেট অনুযায়ী গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে তদারকি জোরদার করা হবে। কোনো বিক্রেতা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য দাবি করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা থাকলেও স্থানীয় বাজারে এলপিজির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে সরকার। বিইআরসি নির্ধারিত এই দাম সারাদেশের সকল ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় প্রশাসনকেও বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতীয় বাজেটে ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ইআরডি’র তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত এই সময়ে ঋণের আসল বা মূল অংশ হিসেবে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে আরও ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে এই খাতে মোট ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতির ওপর একটি দ্বিমুখী চাপের চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বোঝা দিন দিন ভারি হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে ঋণছাড়ের গতিও আগের তুলনায় ধীর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেওয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই খরচের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণের বিপরীতে সুদের কিস্তি বাবদও সরকারকে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা গুণতে হচ্ছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় যে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, এই বর্ধিত ঋণ পরিশোধের চাপ তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলছে।
ইআরডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে বাজেটের এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।