সংকটের মধ্যে ও জাতীয় নির্বাচনের বছরে আরেকটি উচ্চাভিলাষী বাজেট নিয়ে আসছে সরকার। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে হাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যে আসছে এই বাজেট।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট হবে দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট।
আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এটি হবে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করবেন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার।
প্রথা অনুযায়ী ৩০ জুন অথবা তার আগের দিন ২৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হয়। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন বাজেটের বাস্তবায়ন। ২৮ জুন থেকে কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হবে। সে কারণে এবার বাজেট পাস হবে ২৬ জুন।
এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম ‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। এতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।
শেষ তিনটি বাজেট করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দিতে হয়েছে সরকারকে। এবারও সেই সংকটের মধ্যেই আরেকটি বাজেট দিতে হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোট আর আইএমএফের শর্তের চাপ।
বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে স্বস্তি দিতে গিয়ে অন্যদিকে টান পড়ছে। প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখতে হচ্ছে আইএমএফের শর্ত; যেন কোনো অবস্থাতেই ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বাকি কিস্তিগুলো আটকে না যায়। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতির পারদ ফের চড়ছে। এপ্রিলে এই সূচক ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বেড়েছে। মে মাসের তথ্য পাওয়া গেলে সেটি দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) গিয়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে ইতিমধ্যেই জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, আইএমএফের নানা শর্ত আর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকার বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন বাজেট। সে হিসাবে আগামী বাজেটের ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার। আর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে বাকি ছয় মাস, জানুয়ারি থেকে জুন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। বাজারে ডলারের সংকট এখনো কাটেনি।
এমন সংকটকালেই টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা সাজিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এসব শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে নতুন বাজেটে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে এসব শর্ত সম্পর্কিত। আইএমএফ প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। বাকি অর্থ সমান ছয় কিস্তিতে দেবে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কম সুদের এই ঋণের বাকি কিস্তিগুলো নির্বিঘ্নে পাওয়ার জন্য নতুন বাজেটে আইএমএফের শর্তের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে আগামী বছরও উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রবণতা থাকবে। সে জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাজেট প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেহেতু এটা এই সরকারের শেষ বাজেট, তাই আসন্ন বাজেটটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে নির্বাচনের প্রতিফলন থাকে। নতুন বাজেটে দেয়া পদক্ষেপগুলো যাতে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে; খুশি হয়। কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে নতুন বাজেট করতে হচ্ছে। যুদ্ধ সব দেশকেই কমবেশি প্রভাবিত করেছে। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি এক নম্বর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাজেই আমি মনে করি আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ প্রবৃদ্ধি কমলে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
যুক্তিসংগত ভারসাম্য রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার ব্যয়ও কমানো যাবে না। এসব বিবেচেনা করে কৌশলপূর্ণ একটি বাজেট দিচ্ছি আমরা।’
রাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুমুখী চাপের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি, আইএমএফের শর্তের খড়্গ, ভর্তুকির বোঝা, নির্বাচনী বছরে বাড়তি খরচের চাহিদা, অর্থায়ন সংকট- এসব মিলিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন বাজেট তৈরিতে হিমশিম খেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
আয়ের পথ সীমিত, তার পরও নির্বাচনে জনতুষ্টির কথা মাথায় রেখে বড় বাজেট আসছে। যেখানে আইএমএফের একগাদা শর্ত মানতে গিয়ে অবাধে করছাড় তুলে দিয়ে বরং করের বোঝা বাড়ানোর মতো অপ্রিয় পথে হাঁটতে হতে পারে সরকারকে। যে কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারেও ভর্তুকির চাপ থাকবে। চাপ থাকবে এক বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দামে যে ২৮ শতাংশ উল্লম্ফন হয়েছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যদিও আইএমএফের শর্তের কারণে ভর্তুকি থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষির প্রসার আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিন্তা করে সরকার শিগগিরই হয়তো ভর্তুকি তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে হচ্ছে।
আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করার কারণে সরকারকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পালন করতে হবে। আর এসব শর্তের প্রতিফলন নতুন বাজেটে থাকবে। যেমন- রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) নিতে হবে। এটি করতে হলে গণহারে যে করছাড় দেয়া আছে, তা তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেয়া কর অবকাশ সুবিধা তুলে দিতে কঠোর হতে হবে। এটি করা হলে দেশীয় শিল্পগুলো কমবেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।
তা ছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য যখন নানা ধরনের চাপের মধ্যে, তখন বাড়তি করের বোঝা চাপবে তাদের ওপর। এর সঙ্গে সব স্তরের করের বোঝা বাড়বে। কারণ আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে আসছে অর্থবছরে অন্তত ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে। এটি করতে কমবেশি ব্যক্তিশ্রেণির কর যেমন বাড়বে, তেমনি সব স্তরেই করের চাপ পড়বে। এটি নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় হলেও শেষ পর্যন্ত না করে পারবে না সরকার। এমনিতেই রাজস্ব আয়ে নাজুক অবস্থা চলছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
একদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না, অন্যদিকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, বর্তমান এই কঠিন সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ সত্যিই কষ্টে আছে। তাদের আগে স্বস্তি দিতে হবে। তারপর জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে তাকাতে হবে। সেই সঙ্গে রিজার্ভ যাতে আর না কমে সে জন্য রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কম সুদের বিদেশি ঋণ বাড়াতে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে।’
এবারও ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা
বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বিবিএস ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাব কষে বলেছে- এবার ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি বলছে ৫ শতাংশের কিছু বেশি হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে; কবে শেষ হবে- নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। যুদ্ধের প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়ছে অর্থনীতিতে। ডলারের দর বেড়েই চলেছে; ৮৬ টাকার ডলার হাতে গুনে ১০৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ডলারের এই উল্লম্ফনের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়ছে।
এদিকে অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এসব সংকটের মধ্যেও আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। আর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এবার জিডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।
নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী সরকারি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করবেন ৫ লাখ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। তবে চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করেছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী অর্থ সংগ্রহের দুটি উৎস চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে কোন উৎস থেকে কত টাকা তিনি ঋণ করবেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন। বাজেটের সারসংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থমন্ত্রী মোট ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এটি মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৫৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে তিনি ঋণ নিতে চান ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি, আর সঞ্চয়পত্র থেকে নেবেন ১৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নেবেন বিদেশি ঋণ।
এদিকে প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট থেকে অর্থমন্ত্রী খরচের দুটি খাত নির্ধারণ করেছেন। এর একটি হলো সরকারের আবর্তক ব্যয় বা পরিচালন ব্যয়। এর আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা মোট সরকারি ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিডিপির ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যটি হলো উন্নয়ন ব্যয়, যার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছর উন্নয়ন ব্যয়ের মোট আকারকেও দুভাবে নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ব্যয়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ এডিপির জন্য।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে সরকার ব্যয় করবে মোট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এই ভর্তুকির বড় অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যুতে, যার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কৃষিতে যাবে ১৭ হাজার কোটি, রপ্তানি ভর্তুকিতে যাবে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং প্রণোদনায় ব্যয় হবে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের ভর্তুকিতে ব্যয় হবে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরও সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির খাতগুলোর ব্যয়ে। আগামী অর্থবছর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে বাণিজ্যমেলায় উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মিষ্টি রোদে শীতের আমেজ ভালই লাগে। তাছাড়া শীতের দাপট অনেকটাই কমে গেছে। সকালেই সূর্যের আলোয় আলোকিত মেলা প্রাঙ্গণ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ক্রেতা দর্শনার্থীও। বিক্রেতারা জানান, আগের চেয়ে বেচাকিনি অনেক বেড়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, জুমার নামাজের পর থেকেই টিকিটের জন্য মানুষজনের লম্বা সারি। মেলায় মানুষের উপচে পড়া ভীড়। দোকানিরাও খুশি। ক্রেতা দর্শর্নাথীরাও পছন্দের পন্য কিনে খুশি।
মেলায় দর্শনার্থীদের এমন আগমনে বিক্রেতাদের মুখে উচ্ছাসের হাসি। মেলায় আসা ক্রেতারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে চাহিদা মতো নিজের কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি কেনার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে কেনাকাটা শেষ করে স্টলে বাইরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। মেলায় আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে কাপড়, প্রসাধনী ও ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে। ভিড় দেখা গেছে রাজা মামার চায়ের স্টলেও।
দুপুরের দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সকাল থেকে মেলায় আসতে থাকেন মানুষ। বিকেলে এটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের পর্যাপ্ত বুথ থাকায় মেলায় ঢুকতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।
বেড়াইদ থেকে এসেছেন ফাহাদ দম্পতি। তারা বলেন, মেলায় এসে ঘুরে ঘুরে বেশ কয়েকটি ফার্নিচারের শোরুম দেখলাম দুটি সোফা ও একটি ওয়ারড্রব পছন্দ হয়েছে। আরো কিছু দেখতেছি। সাধ্যমত কিনে নিয়ে যাব।
সুজানা ইসলাম নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় চাকুরীজীবি। তিনি বলেন, দুপুর থেকে সব স্টল ঘুরলাম, অনেক কিছু দেখলাম। পছন্দ হয়েছে কিছু পণ্য, যা ফেরার সময় নিয়ে যাব। মেলার চারদিক খোলামেলা থাকায় ঠান্ডা বাতাস কাবু করে ফেলেছে।
মার্কস কোম্পানীর স্যালসম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, , বেচাবিক্রির পরিমাণ সন্তোষজনক। এতোদিন সবাই ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখেছেন। কিন্তু আজ ক্রেতার সংখ্যা বেশি। যারা আসছেন তারা কেনার জন্যই আসছেন।
স্বামী সন্তানসহ এসেছেন আঁখি মনি, তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাইকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। গৃহস্থালির ও রান্নাবান্নার কাজে জন্য বেশ কিছু পণ্য ক্রয় করেছি। স্যালসম্যান হৃদয় খান জানান, শুক্রবার লোকসংখ্যা অনেক হয়েছে। বেচাকেনা ও বেশ ভালো। কয়েকদিন শীতের কারণে মানুষ কেমন আসেনি তবে আজ মানুষের সমাগম আমাদের আশানুরূপ বেচাকেনা হয়েছে।
রাজা মামা চায়ের স্বত্তাধিকারী রাজা মামা বলেন, শুক্রবার লোকজন আসছে। বেচাকেনাও হচ্ছে। টার্কিস প্যাভিলিয়নের মালিক নাসির হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনে বেচাকেনা তেমন হয়নি। শুক্রবার দুপুর থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়।
আড়াই হাজার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় আসা আশরাফ ভূঁইয়া বলেন, আমরা চার বন্ধু মিলে চারটি ব্লেজার কিনলাম। পছন্দসই জিনিস বিশেষ ছাড়ে পেলে আরও কিছু কেনার ইচ্ছা আছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, এখানে কেনা-কাটা করলে শত শত জিনিস দেখে পছন্দেরটাই কেনা যায়। আবার অফার ও ছাড়ে সাশ্রয়ী মূল্যেই কেনা যায়। শোরুমের মূল্য থেকে ১৫ পার্সেন্ট ছাড় পেয়েছি, তাই একটি এলইডি টিভি কিনলাম।
সাকুরা হান্ডি ক্যাপসের ম্যানেজার রাকিব হোসেন জানান, মেলার প্রথম এক সপ্তাহ তেমন বিক্রি হয়নি। শুক্রবার ও শনিবার বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। এমনিতে প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই মেলায় ক্রেতা বিক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মিলন মেলা ঘটে। তবে পুরোদমে বেচা-বিক্রি আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে শুরু হতে পারে।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রথম থেকেই ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কমই ছিল। এখন তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয়। এরই মধ্যে দুটি ছুটির দিনও আমরা পেয়েছি। শুক্র ও শনিবার এ দুদিন ক্রেতা দর্শনার্থীদের সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিল। আশা করছি, আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে মেলা পুরোদমে জমে উঠবে।
মেলায় নিরাপত্তায় দায়িত্বে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণায় ৩ দিন পর শুরু হয় মেলা। আবার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে, একই সময়ে তীব্র শীতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম ছিল। আজ আবার বেড়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ৭ শতাধিক পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা। মেলায় থাকা কারাপণ্য বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, এ বছর নানা কারনে বেচাকেনা কম হচ্ছে। তবে কারাপণ্যের চাহিদা সব সময় রয়েছে।
তবে আয়োজকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারে সংযুক্ত করতে বাণিজ্যমেলার আসর বসে। আর ব্যবসায়ীদের প্রদর্শনে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নেয়া পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাণিজ্য মেলা কাজ করছে। এবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ মেলায় অংশ নিচ্ছে।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৩ লাখ ৭৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এবারের মেলাস্থল। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা। তবে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।
অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘ওনারা নতুন শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে যেয়ে একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেলেন। সে জন্য ওনারা আচরণও করতে পারলেন না। ওনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওনারা কি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কি না।’
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেই সংস্কারের কথা বলেছিল, সেই সংস্কারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা, অংশীজনের অংশগ্রহণ, উন্মুক্ততা দরকার, সেটি তারা দেখাতে পারেনি। সংলাপের ক্ষেত্রে সরকার শুধু রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব দিয়েছে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটা জাতীয় উত্থান, জাতীয় জাগরণ, জাতীয় অংশগ্রহণের ভেতরে অংশীজনদের নিয়ে নতুন বন্দোবস্তের চিন্তাকে সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
সংলাপে অংশীজনদের মতামত না নেওয়াকে সংবাদ সম্মেলনে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এর দুটো ফলাফল হলো। যারা নতুন বন্দোবস্তের কারিগর হতে চেয়েছিলেন, তাঁরা পুরোনো বন্দোবস্তের অংশ হয়ে গেলেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে গেলেন এবং ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেলেন। বড়জোর তাঁরা ক্রাউড ফান্ডিং করে টাকা তুললেন, কিন্তু টাকার খরচ কমানোর ক্ষেত্রে কিন্তু আর পারলেন না।
সমস্যার দ্বিতীয় ফলাফল হিসেবে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, যারা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক ছিল, তাদের উত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেন, রাজনীতিবিদেরা আত্মগোপন করলেন, আর আমলারা ফিরে এলেন। কারণ, এই পুরোনো বন্দোবস্তের সবচেয়ে বড় রক্ষক হলো আমলাতন্ত্র। ওই আমলাতন্ত্র তখন আবার ফিরে এল। আর আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়। নীতি সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম, সুলতানা কামাল প্রমুখ।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ের চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও শেষ পর্যায়ে বিক্রির চাপে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭.৫২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৯৫৮.৯৮ পয়েন্টে এসে অবস্থান নেয়। লেনদেনের প্রথম ১৭ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই গতি স্থিমিত হয়ে আসে এবং বাজার শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক ধারায় পর্যবসিত হয়। এদিন ডিএসইএস সূচক ১.৮৭ পয়েন্ট কমে ৯৯৫.৯২ পয়েন্টে দাঁড়ালেও ব্যতিক্রমীভাবে ডিএস৩০ সূচক ৪.৫০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১২.৭১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০২টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ২২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে সূচকের পতন সত্ত্বেও বাজারের মোট মূলধন ও লেনদেনের পরিমাণে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
গত বুধবারের তুলনায় আজ ডিএসইর মূলধন ১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের কার্যদিবসের ৩৬৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
দেশের শেয়ারবাজারে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আগের দিন দাপট দেখালেও বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে ঢালাও দরপতন হয়েছে। এই দরপতনের ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিন ডিএসইতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্য সূচকও কমেছে। তবে সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্য সূচক সামান্য বেড়েছে, তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে বেশির ভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যার ফলে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু লেনদেনের শেষ দিকে এসে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে বড় ধরনের পতন ঘটে। এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বাজারের অন্যান্য খাতেও। দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে মাত্র ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে দাম কমেছে ২২০টি প্রতিষ্ঠানের এবং ৬৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে, যেখানে ৪৯টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ভালো মানের কোম্পানি বা ১০ শতাংশ ও তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ার দাম বাড়লেও কমেছে ১২১টির। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও চিত্রটি ছিল হতাশাজনক। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দিয়ে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৬টির দাম বাড়লেও ৪৪টির দাম কমেছে। অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করলেও বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১২ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সূচক কমলেও ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এদিন বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ওপরে থাকল। লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যার ১৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপরই অবস্থান করছে সিটি ব্যাংক এবং এপেক্স স্পিনিং। লেনদেনের শীর্ষ ১০ তালিকায় আরও রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, মালেক স্পিনিং, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির দাম বাড়লেও কমেছে ৬৯টির। সিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার তুলনায় কম। মূলত বিমা খাতের অস্থিরতাই বৃহস্পতিবারের বাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা ৫ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে একটি বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের পতাকাবাহী ‘এমভি হং টার্ন’ নামের জাহাজটি মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর চ্যানেলের বেসক্রিক এলাকায় নোঙর করে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সরকারি মজুদ বাড়াতে এই চাল আমদানি করা হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত এই চাল খালাসের পর নদীপথে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে পাঠানো হবে। জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ চাল খালাস করতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আব্দুল সোবহান সরদার জানান, বুধবার বিকেলে জাহাজটি থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এই নমুনা মান যাচাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খুলনা এবং ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জাহাজটি থেকে পুরোদমে চাল খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
চাল খালাস প্রক্রিয়ার তদারকি ও নমুনা সংগ্রহের সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আজাদ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক এসকে মশিয়ার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সরকারিভাবে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) চুক্তির আওতায় ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে মোট ৮ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই চালের এই চালানটি দেশে এসেছে। এর আগেও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ২৫ হাজার টন চাল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে বলে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক আভাস দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে মূল্যস্ফীতি কমে আসা, মানুষের ব্যয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়া এবং নতুন সরকারের কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান অর্থনীতির কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও ভুলে যায়নি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি থাকায় বর্তমানে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা হয়েছে, যার ফলে ব্যবসায়িক ঋণের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ভুটান ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই অঞ্চলের শীর্ষে থাকলেও ভারত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের যে সাময়িক হিসাব দিয়েছে, তাতেও প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক।
বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রতিবেদনটিতে আলোকপাত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশে স্থির থাকবে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। জ্বালানির দাম হ্রাস এবং শ্রমবাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার রেশ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশজুড়ে এলপি গ্যাস নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি সরবরাহ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের, তবে এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভেনিজুয়েলা এবং ইরানজুড়ে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সেই বিষয়ে সরকার কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমন প্রশ্ন করা হলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জ্বালানিতে ভেনিজুয়েলা ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সেখানে হঠাৎ করে একটা প্রভাব পড়েছে, আমেরিকা কীভাবে ডিল করে, দেখতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানির ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে একটা প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে, আমিও ছিলাম সেখানে। কারণ জ্বালানি তো আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি যদি আমরা এনশিওর করতে না পারি, লোকাল প্রোডাকশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানির দুটো দিক আছে- পাওয়ার এবং এনার্জি। ওই দুটো দিকের একটা কমপ্রিহেনসিভ করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং, তারপরে কয়লার ব্যবহারটা কীভাবে করব, মধ্যপাড়া কয়লাটা আছে সেটা হার্ড রক- এগুলো একটা কমপ্রিহেনসিভ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত সোমবার টিআইবি একটা রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে সরকারের উপদেষ্টাদের চেয়ে ব্যুরোক্রেসি বেশি শক্তিশালী এবং তারা সব সিদ্ধান্ত নেয়, আপনি কী বলবেন? এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আপনারা দেখছেন না, যে কিছু হয়েছে? বা দেখতে চাচ্ছেন না বা যারা দেখেন তারা আবার সাহস করে বলতে পারছেন না। আমাদের দেশে কিন্তু এইরকম একটা জিনিস সবসময় চলে আসছে। একেক সময় বেশি বলেন, একেক সময় কম বলেন।
তিনি বলেন, একেবারে যে সব হয়ে গেছে, আমি বলে ফেললাম ১০০ এর মধ্যে ১০০ পেয়ে গেছি, সেটা তো না। ডেফিনেটলি কিছু কিছু আমাদের এক্সপেক্টেশন ছিল করতে পারব, লিমিটেশন ছিল, করতে পারিনি। তার মধ্যে অনেক রকম কো-অপারেশন আছে, কোঅর্ডিনেশন আছে সরকারি কর্মচারী আছে, দক্ষ লোকের দরকার আছে, নিষ্ঠা-- এগুলো আছে। এগুলো ছাড়া আমরা পরিকল্পনা করলাম বা আমরা ইচ্ছা করলাম করে ফেলব, এটা সম্ভব না।
বৈঠকে সয়াবিন তেল, সার, বরিশালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বিদেশে পাঠানোর জন্য ৬০ হাজার চালক তৈরির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
তীব্র গ্যাসের সংকট ও মূল্যস্ফীতিসহ ছয় সমস্যায় পড়েছে দেশের রেস্তেরাঁ খাত। চলমান এসব সংকট নিরসনে সরকারে কাছে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এ ছাড়া শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হুমকিধামকি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা বন্ধসহ রেস্তোরাঁ খাত রক্ষায় আলাদা সুপরিকল্পনা ঘোষণার দাবি জানান এখাতের মালিকরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসানসহ অন্যরা ছিলেন এ সময়।
ইমরান হাসান বলেন, ‘দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এখন এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা ১,৩০০ টাকার সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে।
এ অবস্থায় পেট্রোবাংলা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের কোনো উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলছে না, কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু ভোক্তা অধিদপ্তর লোক দেখানো কিছু জরিমানা করছে। তাতে আরও হিতে বিপরীত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিল্পবে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। বিগত দিনের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম থেকে মুক্তি মিলবে বলেই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বিগত দিনের প্রতিবন্ধকতা দিন দিন বাড়ছে।
এ ছাড়া বর্তমান বাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে। এসব কারণে দেশের রেস্তোরাঁ সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে।’
ইমরান বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট দেখিয়ে রেস্তোরাঁ খাতে পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে এ খাতে মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হতো। সেটা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমলাদের যোগসাজশে আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা বেসরকারি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস বন্ধ করার মাধ্যমে। যারা বর্তমানে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনে রান্না করতে গিয়ে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ মালিকরা এবং লোকসান বেড়েই চলেছে।’
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমরা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা হয়ে গেছি। বাজারে কখনো তেলের সংকট, ডাল, চাল পেঁয়াজের সংকট লেগে রয়েছে। অন্যদিকে এ সরকারের সময় কিছু কর্মচারী ও বহিরাগত ব্যক্তি শ্রমিক সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হুমকি-ধামকি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা আদায় করছে। এসব দাবিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অনেক ক্ষেত্রে মালিকদের ওপর শারীরিক হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে। আসলে একটি করপোরেট গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নকে ব্যবহার করে রেস্তোরাঁ খাত দখলের ষড়যন্ত্র করছে।’
তিনি আরও বলেন, এসব নামে-বেনামে চাঁদাবাজি ও হুমকি বন্ধ না হলে রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে সর্বপ্রথম জ্বালানি সংকট নিরসন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা করপোরেট দখলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধ এবং মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বর্তমান ও আগামী সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে রেস্তোরাঁ খাত রক্ষায় আলাদা সুপরিকল্পনা ঘোষণা প্রদান করার কথা বলেন, রেস্তেরাঁ মালিকরা।
তারা বলেন, এই সেক্টরে কর্মরত ৩০ লাখ কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ জড়িত। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লোক খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে রেস্তোরাঁর উপর নির্ভর করবে। রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এই সেক্টর, সুতরাং রেস্তোরাঁ সেক্টরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আর যদি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হয়, অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ না করা হয় এবং গ্যাস সংকটসহ সব সম্যসা সমাধান না হলে ব্যবসা বন্ধ করে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে।
দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজতর করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল আমদানির ক্ষেত্রে কার্যকর শুল্ক আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের দাম যেমন কমবে, তেমনি দেশীয় মোবাইল ফোন সংযোজনকারী শিল্পকেও বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। বিদেশি ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য মোবাইল তৈরির যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যারা ফোন সংযোজন করেন, তাদের ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নেওয়া এই পদক্ষেপটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বড় ধরণের স্বস্তি আসবে। উদাহরণস্বরূপ, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৩০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের প্রতিটি স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশে সংযোজিত বা প্রস্তুতকৃত ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি ফোনের দামও গড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই বিশাল শুল্ক ছাড়ের ফলে বাজারে সব ধরণের মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও সহজসাধ্য করে তুলবে। মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি পণ্য পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং আমদানিকারকদের আর্থিক চাপ কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে এলপিজি আমদানিকে ‘শিল্প কাঁচামাল’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই স্বীকৃতির ফলে আমদানিকারকরা এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন বা প্রায় ৯ মাস মেয়াদে বাকিতে মূল্য পরিশোধের বিশেষ সুবিধা পাবেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত এলপিজি আমদানির জটিল প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ সময় সাপেক্ষে এই বাড়তি ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এলপিজি সাধারণত বড় জাহাজে বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা দেশে এনে বিশাল স্টোরেজ ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন সাইজের সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করার পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ এবং চূড়ান্ত বিতরণে বেশি সময় লাগার কারণে আমদানিকারকদের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লোতে নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে যে ২৭০ দিনের বাকিতে পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, এলপিজি আমদানিকারকদেরও এখন একই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হলো। এর ফলে স্থানীয় বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকরা কেবল সরবরাহকারীর কাছ থেকেই নয়, বরং চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও ক্রেতা ঋণ বা ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, দেশীয় ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও পাওয়া যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা এবং ঋণ সংক্রান্ত সকল সতর্কতামূলক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই নীতিগত সহায়তার ফলে জ্বালানি খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং আমদানিকারকদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে। মূলত সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দেশে এলপিজি অটোগ্যাসের চরম সংকটের কারণে অধিকাংশ গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে এলপিজি চালিত প্রায় দেড় লাখ যানবাহনের মালিক ও চালকরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি দাবি উত্থাপন করেছে। তারা জানিয়েছে, দেশে প্রতি মাসে ব্যবহৃত মোট ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজির অন্তত ১০ শতাংশ বা ১৫ হাজার মেট্রিক টন যেন বাধ্যতামূলকভাবে অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যথায় পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী এই বিকল্প জ্বালানি শিল্পটি অচিরেই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে মালিক পক্ষ অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে গ্যাস সংগ্রহের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতে হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক যানবাহন রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি অবিলম্বে এই শিল্পকে রক্ষা করা না যায়, তবে বিপুল সংখ্যক যানবাহনের মালিক এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যেতে বাধ্য হবেন। এটি কেবল পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে না, বরং কয়েক হাজার স্টেশন মালিক ও কর্মচারী সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। এই সংকট নিরসনে তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলপিজি আমদানির প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করা এবং যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, সেই অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়মিত তদারকি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার ওপর তারা বিশেষ জোর দিয়েছেন।
বর্তমানে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি যারা নতুন করে এলপিজি আমদানি করতে আগ্রহী, তাদের আবেদন দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের এই কঠিন সময়ে নীতিগত সুরক্ষা ও বিশেষ সহায়তা প্রদান করা না হলে এই বিশাল বিনিয়োগটি মুখ থুবড়ে পড়বে। মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতেই তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বিইআরসি এই যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে কী ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শীতের তীব্রতা কমায়, সরকারি ছুটির দিনে মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেড়েছে। শীতের দাপট কম থাকায় সকাল থেকে বেড়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। ব্যবসা ও লোকসংখ্যা মেলার দোকানিরা আশার আলো দেখছেন। তাদের মুখে ফুটেছে সফলতার হাসি। ব্যবসায়িরা বলছেন, দিন বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতা দর্শনার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে বেচাকেনাও বাড়ছে।
নরসিংদির শিবপুর থেকে মেলায় এসেছেন আবু হানিফ মিয়া। তিনি বলেন, বাণিজ্যমেলার প্রথম দিনই আসার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ব্যস্ততা, ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে আসা হয়নি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন, সকালে আকাশে সূর্যের দেখা পেয়েছি। তাই সপরিবারে মেলায় চলে এসেছি।
নারগিস সুলতানা নামে এক দর্শনার্থী জানান, আজ সূর্য উঠায় মেলায় আসলাম। রোদের আলোতে মেলাটা যেন ঝলমল করছে। এমন পরিবেশে মেলায় এসে খুবই ভালো লাগছে। দেখতেছি, পছন্দ হলে দিনভর কেনাকাটা করব।
টানা তিন দিন পর সূর্য্যরে দেখা মিলেছে। রৌদ্দ মেঘের লুকচুরি খেলা চলছে। তাপও কিছুটা বেড়েছে। শীতও কমেছে। বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।
প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের তেমন উপস্থিতি না থাকলেও চতুর্থ দিন সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থী আসতে শুরু করেছেন। ঘুরে দেখছেন মেলা প্রাঙ্গণ। গত ৩ জানুয়ারী ঢাকার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টায় গেট খোলার পরপরই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তারা জানান, প্রথম দিকে শুধু স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসা, কেনাকাটা শুরু হবে মাঝামাঝি সময় থেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণা। তবে মেলা জমে উঠতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। এখনও অনেক স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলছে।
মেলায় প্রবেশ টিকিট ইজারাদার 'ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের, হেড অফ অপারেশন বলেন, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারনে ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় না আসলেও শনিবার থেকে লোকসমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কারণে এবার ক্রেতা দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেলার আয়োজক সংস্থা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বানিজ্য মন্ত্রনালয় মেলাকে প্রানবন্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্ব্বোচ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবারে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় কেনা-বেচার ধুম পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাত শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গেট ইজারাদারের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, শৈত্য প্রবাহের দাপটে এ কদিন মেলায় মানুষজনের উপস্থিতি তুলনামূলক খুবই কম ছিলো। আজ আকাশে সূর্যের হাসির সঙ্গে বাণিজ্য মেলাও যেন হেসে উঠেছে। সকাল থেকেই ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষ্য করছি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস আদালত, স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় মেলা আজকে অনেকটা সরব।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর মারুফুল আলম বলেন, এমনিতেও মেলায় প্রথম দিকে ক্রেতা দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকে। তার মধ্যে প্রথম থেকেই ঘন কুয়াাশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কমই ছিলো। আজ হঠাৎ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। ফলে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিকেল যত ঘনিয়ে আসবে ক্রেতা দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে আশা করছি। বেলা ৩ টা পর্যন্ত ৩০ হাজার ৫৪৪ জন দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। আশা করছি আজ এর সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
দেশের নান্দনিক, রুচিসম্মত ও ফ্যাশনেবল বরান্ড হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রথম সারিতে রয়েছে টুয়েলভ ক্লথিং লিমিটেড। এই সেপ্টেম্বরে ক্রেতাদের জন্য নানা ডিজাইনের পোষাকের পাশাপাশি দূর্দান্ত অফারে সাজানো হয়েছে টুয়েলভের প্রতিটি আউটলেট। অনলাইনেও ক্রেতারা উপভোগ করতে পারবেন দারুণ এসব অফার।
এছাড়া, নিজেদের লয়্যাল কার্ডধারী ক্রেতাদের জন্যও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের আয়োজন করে থাকে টুয়েলভ। বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা সবসময় বিবেচনা করে নিজেদের কালেকশন সমৃদ্ধ করেছে টুয়েলভ কতৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় এই জেঁকে বসা তীব্র শীতের মাঝেই ”মাঘ মাসে বাঘা ছাড়” নামে নতুন ক্যাম্পেইন চালু করেছে টুয়েলভ। স্টক সীমিত থাকায় এই অফার চলবে খুবই অল্প দিনের জন্য। যেখানে শীতের সকল পণ্যের ওপর থাকছে ৫০% পর্যন্ত মূল্য ছাড়। টুয়েলভের সকল আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইনেও অর্ডারের মাধ্যমে ক্রেতারা এই অফার উপভোগ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে টুয়েলভের কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, টুয়েলভ ক্রেতাদের নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে একটি বিশাল পরিবার তৈরি করেছে। সেই পরিবারের সদস্যদের মাঝে এই শীতে আনন্দের উপলক্ষ এবং ফ্যাশন সচেতনতা তৈরি করার জন্যই এ আয়োজন।