সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘাটতি বাজেটে খেলাপী ঋণ বাড়বে: ডিসিসিআই

আপডেটেড
১ জুন, ২০২৩ ২২:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৩ ২২:৩৯

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার এবার অনেক টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিবে। এর ফলে বেসরকারি খাতে চাপ বাড়বে আর ঋণ খেলাপী বাড়বে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিক্রিয়া জানায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন।

ডিসিসিআই’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। সরকারের এ ব্যাংক নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খেলাপী ঋণ বৃদ্ধি পাবে।

করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়ের সীমা ৫ লাখ হলে ভালো প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করেছে, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সেটাকে ৫ লাখ টাকা করা প্রয়োজন বলে মনে করে ডিসিসিআই। করযোগ্য নয় এমন টিনধারীদের ওপর নূন্যতম ২ হাজার টাকা আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর করের বোঝা তৈরি করবে, তাই এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।

ডিসিসিআই মনে করে কর্পোরেট করের হার না কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়বে। কর্পোরেট করের হার এবং ক্যাশ লেনদেনের সীমা ৩৬ লাখ টাকার পরিবর্তে বার্ষিক খরচের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

মোবাইল ফোনের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনের পক্ষে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোনের উৎপাদনের ওপর ভ্যাট আরোপের কারণে এর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে, ফলে দেশীয় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ফেডের কড়াকড়িতে ঋণ ব্যয় বাড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতিগত সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট (০.২৫ শতাংশ) বাড়ালেও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর তাৎক্ষণিক কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন দেশটির অর্থনৈতিক ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে এর প্রভাবে পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, ডলারভিত্তিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশটির বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এর ঘরে। গত মে মাসের শেষভাগে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম নীতিগত পরিবর্তন। ফেডের নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও অন্তত এক দফা (২৫ ভিত্তি পয়েন্ট) বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেএস গ্লোবালের গবেষণা প্রধান ওয়াকাস ঘানি বলেন, ফেডের এই সুদের হার বৃদ্ধি রুপির ওপর কিছুটা চাপ বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থাকে আরও সংকোচনমূলক করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণকে ব্যয়বহুল করবে। তবে পাকিস্তানের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নে এর তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ গত সেপ্টেম্বরে ছাড়া ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের ইউরোবন্ডের শর্ত আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাঁর মতে, “পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, যা সরাসরি দেশটির আমদানি বিল ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।”

ইসমাঈল ইকবাল সিকিউরিটিজের গবেষণা প্রধান সাদ হানিফ জানান, ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের জন্য একাকী কোনো বড় ধাক্কা হয়ে আসবে না। কারণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড ২১.৪ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে এবং স্থানীয় ঋণবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও সীমিত।

তবে মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে সাদ হানিফ বলেন, “আগস্টে পাকিস্তানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.১ শতাংশ। ফলে বর্তমানে প্রকৃত সুদের হার মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশ। এ অবস্থায় ফেডের কড়াকড়ির কারণে অদূর ভবিষ্যতে এসবিপির পক্ষে নীতিগত সুদের হার কমানো কঠিন হবে। এছাড়া এসওএফআর (SOFR)-যুক্ত বাণিজ্যিক ঋণের মতো ফ্লোটিং রেটের বৈদেশিক ঋণের পরিশোধ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওয়াশিংটনের ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বৃদ্ধির চেয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে ওঠানামা করা পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ও চলতি হিসাবের জন্য অনেক বেশি উদ্বেগের।”

একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ খান বলেন, ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে রুপির অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়বে এবং ঋণ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া জ্বালানি ও সারের মতো জরুরি পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়লে তা মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, রিজার্ভ বাড়লেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানকে প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। রপ্তানি বৃদ্ধির চেয়ে ঋণ ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

আরিফ হাবিব লিমিটেডের (এএইচএল) গবেষণা প্রধান সানা তাওফিক এটিকে ফেডের একটি “মৃদু বৃদ্ধি” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এতে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা না থাকলেও ডলার শক্তিশালী হবে এবং মার্কিন বন্ডের ফলন বাড়বে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন সংকোচনমূলক নীতির দিকে যাচ্ছে, তখন পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো স্থিতাবস্থা ধরে রেখেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের মনিটরি পলিসি কমিটি (এমপিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় বৈঠকে তাদের নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ১১.৫ শতাংশে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


নির্বাচিত

ট্যানারির বর্জ্য রূপান্তর হচ্ছে রপ্তানিমুখী মূল্যবান পণ্যে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত কঠিন রাসায়নিক বর্জ্য এখন উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ওষুধ শিল্পের উপযোগী জেলটিন ও চামড়া নরম করার কাজে ব্যবহৃত শিল্প প্রোটিন পাউডার উৎপাদিত হচ্ছে। চীনের ওয়েনঝো ইউয়ানফেই গ্রুপের প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে দেশে প্রতিষ্ঠিত দুটি কারখানা এই সম্ভাবনাময় খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কাছে ওয়েনঝো ইউয়ানফেই ও পিংইয়াং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত ‘বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ২০২৪ সালে নিবন্ধিত শতভাগ রপ্তানিমুখী ‘ইয়ংলি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড’ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানা দুটিতে কাঁচামাল হিসেবে সাভার শিল্পনগরী থেকে সংগৃহীত ওয়েট ব্লু ডাস্ট, চামড়ার ছাঁট ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে কারখানা দুটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার টন ট্যানারি বর্জ্য রিসাইকেল করছে এবং এতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) সমৃদ্ধ বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানির বার্ষিক জেলটিন উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার টন, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ট্যানারির বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়েছে।


গত বছর থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে ইতোমধ্যে চীন ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের জেলটিন এবং ৩ লাখ ডলারের শিল্প প্রোটিন পাউডার। সম্প্রতি হংকং থেকেও ৪ লাখ ডলারের জেলটিনের নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সনদ সম্পন্ন করার পর তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এসব পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস
জেলটিন প্রধানত ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণ তৈরিতে এবং শিল্প প্রোটিন পাউডার প্রক্রিয়াজাত চামড়াকে নরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কাঁচামালের জন্য স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের জেলটিন এবং ১ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের খালি ক্যাপসুলের আবরণ আমদানি করেছে। ফলে দেশে এ ধরনের উৎপাদন বাড়লে তা আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্ভাবনাময় এই শিল্প বর্তমানে কাঁচামালের তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। বছরে ৫ হাজার টন জেলটিন উৎপাদনের জন্য প্রায় ৩০ হাজার টন গরুর কাঁচা চামড়ার ছাঁট প্রয়োজন হলেও দেশে এর মোট বার্ষিক সরবরাহ মাত্র ২০ হাজার টনের মতো। এর ওপর সম্প্রতি কিছু ব্যবসায়ী এই কাঁচা ছাঁট বিদেশে রপ্তানি শুরু করায় স্থানীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্প ও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষায় সাভার চামড়া শিল্পনগরী থেকে গরুর চামড়ার কাঁচা ছাঁট রপ্তানি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউএস এফডিএ নিবন্ধন, হালাল ও জিএমপি সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ সুরক্ষার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্যাপসুল খাতের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবৃদ্ধি
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ সাতটি দেশে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৬ ডলার মূল্যের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা) জেলটিনের খালি ক্যাপসুল রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭২ হাজার ৪০৮ ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৭ হাজার ১৮৯ ডলার। বছরভেদে এসব পণ্যের শীর্ষ গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, জার্মানি এবং সবশেষে মেক্সিকো।

বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, খালি ক্যাপসুলের বৈশ্বিক বাজারের আকার ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বার্ষিক ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (নিউট্রাসিউটিক্যালস), স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওষুধ শিল্পের গবেষণার প্রসারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমানের জেলটিনজাত পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করছে।


নির্বাচিত

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পণ্যে ‘ডিসকাউন্টের’ প্রতিযোগিতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিতে শুরু করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। আসন্ন হ্যালোউইনসহ উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে সুপারশপগুলোর মাঝে এখন গ্রাহক টানতে রীতিমতো দাম কমানোর প্রতিযোগিতা চলছে।

জনপ্রিয় ডিসকাউন্ট চেইন আলডি ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাজা খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তারা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমমূল্যের ছাড় দেবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্যের দর গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষ চেইন ক্রোগার পণ্যের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চড়া মূল্যের জেরে মতানৈক্য তৈরি হওয়ায় রেড বুল ও বোয়ার্স হেডের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে কোম্পানিগুলোর বাড়তি মুনাফার চাপ ভোক্তাদের ওপর না পড়ে।

মুদিপণ্য কেনাকাটায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও দামের বড় ছাড়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাকার্ট জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি বড় গ্রোসারি চেইন তাদের ‘নো মার্কআপ’ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হয়েছে, যার ফলে দোকানে সরাসরি যে দামে পণ্য পাওয়া যায়, অ্যাপে অর্ডার করলেও গ্রাহককে ঠিক একই দামে পণ্য দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো বাড়তি অনলাইন মাশুল যুক্ত করা হচ্ছে না। ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস রজার্স জানান, যেসব রিটেইলার বাড়তি দাম ছাড়া পণ্য বিক্রি করছে তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অন্যদের চেয়ে অন্তত ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

অপর পাইকারি প্রতিষ্ঠান কস্টকো তাদের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের হিসাবে কফি, আখরোট ও গোলমরিচের মতো নিত্যপণ্যে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও রন ভ্যাচরিস বলেন, ‘পণ্যের উৎস পর্যায়ে কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, কীভাবে পণ্যের দাম যত দূর সম্ভব নিচে নামিয়ে রাখা যায়। নতুন নতুন উপায়ে দাম কমানোটাই আমাদের মূল কাজ।’ এর আগে রিটেল জায়ান্ট ওয়ালমার্ট এ বছর ১১ হাজারের বেশি পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে। সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের বাণিজ্য সম্মেলনে ওয়ালমার্ট ইউএসের সিইও গুগিনা বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে পণ্যের সাময়িক মূল্যছাড়কে স্থায়ীভাবে কম দামে রূপান্তর করার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে পারছেন।’

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা প্লেসার ডটএআইয়ের তথ্যে দেখা যায়, অর্থনৈতিক চাপের মুখে সাধারণ মানুষ বেশি ছাড় দেওয়া সুপারশপগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে এবং আলডিতে ক্রেতাদের আগমন সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার কোনো তাৎক্ষণিক অলৌকিক সমাধান না থাকলেও সংকটময় সময়ে বড় সুপারশপগুলোর এমন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যছাড় সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ লাঘবে বড় সহায়ক হবে।


নির্বাচিত

দুই দশকে কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) বিগত দুই দশকে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১২ গুণ। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রারম্ভিক মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেইপিজেডে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে কেইপিজেডের ২৫৮টি শিল্প প্লটে ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ মিলিয়ে মোট ৪০টি শিল্পকারখানা পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পরিচালিত। এছাড়া প্রায় ৫০ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরও পাঁচটি নতুন শিল্প ইউনিটের বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের বৈশ্বিক উদ্যোক্তারা এই শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপন করেছেন।

কেইপিজেডের বাণিজ্যিক অগ্রযাত্রার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৭ সালের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি শুরুর প্রথম অর্থবছরে এখান থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই শিল্পাঞ্চল থেকে বিশ্বের বাজারে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিগত পাঁচ অর্থবছরের চিত্রে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, প্রথাগত পোশাকের বাইরে বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণই এই শিল্পাঞ্চলের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এখানে হাই-টেক ক্রীড়া পোশাক, আধুনিক বাইসাইকেল, আন্তর্জাতিক মানের ক্যাম্পিং তাঁবু ও সরঞ্জাম, সেফটি সুট ও জুতা, আসবাবপত্র এবং চামড়াজাত বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এসব বিশেষায়িত পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানের মুখে ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে এ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে পতেঙ্গার স্থবির শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলটির উদ্বোধন করেছিলেন, যা বন্দরনগরীর শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


নির্বাচিত

রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের ‘থ্রি-আর’ কৌশল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কর প্রশাসনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব সংগ্রহের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংস্থাটি তাদের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশল সাজিয়েছে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে। এগুলো হলো—পুনরুদ্ধার (রিকভারি), পুনর্বহাল (রেস্টোরেশন) এবং পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন)। এর মধ্যে রিকভারি কৌশলের আওতায় গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে; রেস্টোরেশন কৌশলে করের আওতা সম্প্রসারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রিকনস্ট্রাকশন কৌশলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক সংস্কার এবং কর-জিডিপি ব্যবধান কমানোর এই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে নির্ধারিত মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগ থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অনুবিভাগ থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস বা শুল্ক অনুবিভাগ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, ‘আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে এনবিআর আশা করছে।’

আয়কর খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে কর ফাঁকি রোধ, উৎসে করের পরিধি বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হওয়া ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার ওপর ভিত্তি করে চলতি বছর ১০ শতাংশ স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতায় কর ফাঁকি শনাক্ত করে ৩ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার, পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সৃষ্ট কর মামলা নিষ্পত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা এবং বিলম্বিত রিটার্নে উৎসাহিত করে আরও ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। নীতিগত সংস্কারের আওতায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার কমিয়ে ১ হাজার কোটি, সব প্রতিষ্ঠানে টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে ১ হাজার কোটি এবং অডিটেড বিবরণী বাধ্যতামূলক করে ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর বিটুবি মডেলে উৎসে কর থেকে ৭ হাজার কোটি, আবাসন খাতে আইএফআরএস-১৫ প্রয়োগে ৪ হাজার কোটি এবং মূলধনি মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার আরোপের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভ্যাট অনুবিভাগে বিদায়ী অর্থবছরের ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায়ের ধারাবাহিকতায় ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বৃদ্ধির সুবাদে ১৫ হাজার কোটি এবং সিগারেট ও বিড়িসহ তামাক খাত থেকে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা আদায়ের রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিষ্পন্ন ভ্যাট মামলার ৫০ শতাংশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে কাস্টমস অনুবিভাগে বিদায়ী অর্থবছরের ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বিপরীতে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত প্রবৃদ্ধিতে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি এবং নতুন বাজেটের পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের আশা রয়েছে। এছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কঠোরভাবে রোধ করে ১ হাজার ৮০০ কোটি, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫০০ কোটি, নিলাম কার্যক্রম থেকে ৫০০ কোটি, আমদানি পণ্যের সঠিক মূল্য ও শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ থেকে ৪০০ কোটি এবং স্থগিত রাজস্ব নিষ্পত্তির মাধ্যমে আরও ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শুল্ক প্রশাসন।


নির্বাচিত

সূচকের পতনে কমেছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের অবনমন লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পেলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা বেড়েছে।

ডিএসইর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শরিয়াহ সূচক এবং ডিএসই-৩০ সূচক যথাক্রমে ১২ পয়েন্ট করে কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১০৩ ও ২০৯৯ পয়েন্টে। এদিন বাজারটিতে শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড মিলিয়ে মোট ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কার্যদিবসের ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার তুলনায় ২৯ কোটি টাকা কম। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরপতনের পাল্লাই ছিল ভারী; যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ৭৫টির, বিপরীতে ২৭৭টি সিকিউরিটিজের দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের দর।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। বাজারটিতে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৬৬টির, বিপরীতে দর কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর। সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও সিএসইতে লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে; দিনশেষে সেখানে মোট ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা বেশি।


নির্বাচিত

বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে প্রণোদনা ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহারের বিপরীতে নতুন আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মিলিতভাবে মোট ৬ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই আর্থিক সুবিধা সরাসরি কোনো সাধারণ ক্রেতা বা বিক্রেতার হিসাবে যুক্ত হবে না; বরং লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্নকারী দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ দেওয়া হবে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস এবং পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের সাথে যুক্ত অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিক্রেতার মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনাকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২ টাকা। অন্যদিকে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ক্রেতার হিসাব বা কার্ড প্রদানকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৪ টাকা। উদাহরণ হিসেবে, ২ হাজার টাকার একটি কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ৪ টাকা পাবে। একইভাবে ১ হাজার টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং পক্ষ ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং পক্ষ ২ টাকা হারে মাসিক ভিত্তিতে এই প্রণোদনা লাভ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের (পিআরএ) মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্সধারী সব বাণিজ্যিক মার্চেন্ট পয়েন্টের বাংলা কিউআর লেনদেনে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে। এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে প্রণোদনার আওতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরের বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি উৎসাহিত হতে পারে।


নির্বাচিত

ফিডের দাম বাড়ায় চাপে পোলট্রি খামারি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোলট্রি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন দেশের খামারিরা। গত কয়েক দফায় মুরগির খাবার বা ফিডের দাম বাড়ার পাশাপাশি ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের মূল্যও বেড়েছে। এতে অনেক খামারি আগের তুলনায় কম পরিমাণে ফিড ব্যবহার করছেন। ফলে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসান সামলাতে না পেরে কেউ উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ খামার বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ফিড তৈরির প্রধান কাঁচামালগুলোর প্রায় সবকটির দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছে। ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা। ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত চালের কুঁড়ার দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা হয়েছে। সরিষার খৈলের দাম ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং সয়াবিন মিলের দাম ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা হয়েছে। ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রোটিন উৎসের দামও বেড়েছে।

ফিডের কাঁচামালের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে ভুট্টার বাজারে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, মার্চ থেকে মে মাসের মৌসুমে প্রতি কেজি ভুট্টা ২৮ থেকে ২৯ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও জুন, জুলাই ও আগস্টে তা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ভুট্টার দাম বেড়েছে। প্রতি টন ২৩৫ থেকে ২৪০ ডলার থেকে দাম বেড়ে প্রায় ২৯০ ডলারে পৌঁছেছে। ফিডের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় ভুট্টার এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে এবং শেষ পর্যন্ত ফিডের বাজারদরেও।

একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামাও আমদানিনির্ভর কাঁচামালের দামে প্রভাব ফেলছে। দেশের ফিড শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন একসঙ্গে ফিডের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ সংকট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলেও দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একটি মানসম্মত ফিড তৈরির মোট খরচের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামাল কেনায় ব্যয় হয়। ফলে ভুট্টা, সয়াবিন মিল, রাইস ব্র্যান ও ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের মতো প্রধান উপাদানের দাম বাড়লে ফিড মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে যায়। এ অবস্থায় আগের দামে ফিড বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ, শ্রম ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বাজারদরেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ খাবারের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৫০ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্র্যান ও ভুট্টার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। ৫০ কেজির এক বস্তা ব্র্যানের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭ টাকায় উঠেছে। এর প্রভাবে ৫০ কেজির এক বস্তা পোলট্রি ফিডের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ফিডের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পোলট্রি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যের দামও বাড়ছে। ফলে মুরগি, ডিম, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে খামারিরা পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন পর্যায়ে মুনাফার পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন।

খামারিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে ফিড ব্যবহারের পরিমাণ কমে যাওয়ায়। ব্যয় কমাতে অনেকে মুরগিকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার দিতে পারছেন না। এতে মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত ওজন পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন চক্র দীর্ঘ হলে একদিকে খাবার ও অন্যান্য খরচ বাড়ে, অন্যদিকে বাজারে মুরগির দাম অনুকূলে না থাকলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যান ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব কাঁচামাল ফিড উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্থানীয় কাঁচামালের ক্ষেত্রে আগে দেশের ফিড ও প্রাণিজ খাদ্যশিল্পের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করে অভ্যন্তরীণ শিল্প ও উৎপাদকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট, কর ও শুল্ক সাময়িকভাবে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে ফিডের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

ফিডের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের পোলট্রি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মাংস, ডিম, মাছ ও দুধের বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিলে বাজারে সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার করা এখন প্রাণিজ খাদ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের বাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে সাময়িক পতনের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই মাসে কিছুটা শ্লথগতির পর আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশের বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। এর ওপর ভর করে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) যুক্তরাজ্য থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে সর্বমোট ৯১৫ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৮২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রথম দুই মাসেই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার। এর আগে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, তবে আগস্টের দুই অঙ্কের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সেই প্রাথমিক ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের মাসিক গড় পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে মোট ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল, যার মাসিক গড় ছিল ৩৬৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিগত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মাসিক গড় রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া মাত্র দুই মাসেই গত পুরো অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বাজার যুক্তরাজ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবছরের সূচনালগ্নেই শীর্ষ এই বাজারে রপ্তানির ইতিবাচক ধারা দেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

উৎপাদন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমছে মৎস্য খাতে, বিপন্ন নদী-হাওরের মাছ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মৎস্য খাতে উৎপাদনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমান্বয়ে শ্লথ হয়ে আসছে। সরকারি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলেও প্রবৃদ্ধির সূচক নেমে এসেছে গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে। বাণিজ্যিক চাষভিত্তিক মৎস্য উৎপাদনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ও নদী-হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এক গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছিল ৪৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। পরবর্তীতে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার টন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টনে উন্নীত হয় এবং প্রবৃদ্ধির হার পৌঁছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও ৩ দশমিক ২৮ শতাংশে। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ৫০ লাখ ১৮ হাজার টন এবং সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫১ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছালেও উৎপাদন বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমে মোট উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও সামুদ্রিক উৎস থেকে আহরণ হ্রাস পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের অবক্ষয় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও মৎস্য খাতে এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মাছ ও জলজ খাবারের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৮২ লাখ টনে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক উৎসের চেয়ে কৃত্রিম মৎস্যচাষ বা অ্যাকুয়াকালচারের অংশ ছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ টন। সংস্থার ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে মাছ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৎস্যচাষ বা কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত মাছই এখন মানুষের খাবারের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। এটিকে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা মাছের সিংহভাগই এখন সরাসরি খামারের চাষ থেকে আসছে। বর্তমানে বিশ্বে মাথাপিছু বার্ষিক মাছ খাওয়ার পরিমাণ ২০ দশমিক ৭ কেজিতে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশ্বজুড়েই অপরিকল্পিত চাষের কারণে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামুদ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক মাছের চারণভূমি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে আধুনিক বাণিজ্যিক খামারব্যবস্থা। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলা এককভাবে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ মাছ সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় চার লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মাছের খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভর কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম, পোনা, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রমের বাড়তি খরচের কারণে প্রান্তিক চাষিদের মুনাফা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত বর্ধনশীল জি-থ্রি রুইয়ের মতো আধুনিক জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অনেক অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক চাষের সম্প্রসারণ ঘটলেও দেশের প্রাকৃতিক উন্মুক্ত জলাশয় ও হাওরাঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজাতি এখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে নিমজ্জিত। দেশের দ্বিতীয় রামসার আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত দুই দশকে প্রায় অর্ধেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ সালে হাওরটিতে যেখানে ১৪১ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি ছিল, তা ২০১৫ সালে কমে ১৩৪টিতে, ২০২২ সালে ৯৩টিতে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ৭৬টি প্রজাতিতে নেমে এসেছে। চিতল, নানীদ, মহাশোল ও বাঘআইড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ এখন হাওরে বিলুপ্তপ্রায়।

প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলোতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সর্বনাশা চায়না দুয়ারি ও কিরণমালা ফাঁদের অবাধ ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ, জেনারেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পোনা নিধন, অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও কয়লা পরিবহনের মাধ্যমে পানি দূষণ এবং অতিরিক্ত পলি জমার কারণে নদী ও বিলের গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় জলজ প্রতিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ছে। বাস্তুসংস্থানের এই বিপর্যয়ের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত এক দশকে পরিযায়ী ও দেশি পাখির বিচরণ প্রায় ৭৭ শতাংশ কমে গেছে; যেখানে শীত মৌসুমে লাখ লাখ পাখি আসত, সেখানে ২০২৫ সালের জরিপে পাখির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র সাড়ে ২২ হাজারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি আয় টেকসই করতে হলে কেবল উৎপাদন বাড়ানোর গতানুগতিক কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে প্রজনন নিশ্চিত করতে মূল বিলগুলোকে স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য ঘোষণা, প্রাকৃতিক নদী ও খালের নিয়মিত ড্রেজিং, হাওরের জলজ বন পুনরুদ্ধার, দেশীয় মাছের পোনা ছাড়ার জন্য বিল নার্সারি স্থাপন এবং গভীর সমুদ্রে আধুনিক অনুসন্ধান জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মাছের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি চাষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি টেকসই বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য খাত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


নির্বাচিত

আসিয়ান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল ডিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবামূলক খাতের রপ্তানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সুবিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সহজে প্রবেশের সুযোগ গ্রহণ করতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সভায় ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের পক্ষে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোর আসিয়ান বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে মালয়েশিয়া একটি কৌশলগত সেতুবন্ধ হতে পারে। অনুষ্ঠানে এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার অত্যন্ত দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রধানত জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তাবাজারে অন্যান্য মালয়েশীয় পণ্য বিপণনের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সভায় বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেয় বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল। সেখানে এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক জানান, বেসরকারি খাতের কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব। মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নিষ্ঠাবান ও দক্ষ কর্মীরা দেশটির শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং তাঁদের অর্জিত আধুনিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে স্বদেশের উৎপাদন খাতের বিকাশে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার ও এফএমএমের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে সই করেন তাসকীন আহমেদ ও জ্যাকব লি চোর কক। পাশাপাশি উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের পরিচালক নাইম আব্দুল রহমানসহ কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী এফবিসিসিআই ও মালাগা চেম্বার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও স্পেনের বন্দরনগরী মালাগার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একমত হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং মালাগা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সাথে প্রযুক্তি বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শুক্রবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার মালাগা শহরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে মালাগা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন। আলোচনায় এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক উল্লেখ করেন যে, মালাগা অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই একক নির্ভরতা কমিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ, সিরামিক, পাটজাত পণ্য ও চামড়াজাত সামগ্রী আমদানির জন্য স্প্যানিশ উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মালাগার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সরেজমিনে সম্ভাবনা যাচাই করতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মালাগার উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন মালাগা থেকে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের স্পেনের প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এর প্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদল মালাগার বিশ্বখ্যাত টেকনোলজি পার্কের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী সুবিধাকে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিগত সহায়তা আদান-প্রদান, আধুনিক কৃষির বিকাশ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ জোরদারে দ্রুততম সময়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উক্ত বাণিজ্য বৈঠকে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর এবং মালাগা অফিশিয়াল চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি, সার্ভিসেস অ্যান্ড নেভিগেশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস্থার মার্তিনেজ রেয়েসসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

এবার পূজায় ভারতে যাচ্ছে না ইলিশ, আমদানিও সম্পূর্ণ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ভারতে কোনো ইলিশ মাছ রপ্তানি না করার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ভারত থেকে সম্প্রতি শুরু হওয়া ইলিশের আমদানি কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর পূজার মৌসুমে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর যে রীতি প্রচলিত ছিল, এবার তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওপার বাংলার মাছপ্রেমী ও আমদানিকারকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ ইকোনমিক টাইমসকে জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারির মাধ্যমে ইলিশসংক্রান্ত সকল অভ্যন্তরীণ ছাড়পত্র বাতিল করেছে বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিত। তবে এবার নির্ধারিত সেই সময় পার হয়ে গেছে। এছাড়া আগামী ৭ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। ফলে সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় এবার ভারতে আর ইলিশ প্রবেশের সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও যেখানে বিশেষ সুবিধা মিলেছিল, সেখানে এবার তা না পাওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ইলিশের সমস্ত বাণিজ্য এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে রপ্তানি সচল রাখার লক্ষ্যে গত আগস্ট মাসেই ভারতীয় আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করলেও ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজার উপহার ও উৎসবকালীন বিশেষ ছাড় হিসেবে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে আসছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ভারত ৫০০ টন ইলিশ আমদানি করে। এরপর ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন, ২০২১ সালে ১ হাজার ২০০ টন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩০০ টন, ২০২৩ সালে ৫৮৭ টন এবং ২০২৪ সালে ৫৭৭ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছিল; যা সর্বশেষ বছরে নেমে আসে প্রায় ১৫০ টনে।

তবে চলতি বছরে দুই দেশের ইলিশ বাণিজ্যে এক ব্যতিক্রমী চিত্র তৈরি হয়েছিল। বিগত দুই মাসে ভারতের গুজরাটের ভারুচ এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া থেকে উল্টো ৫০০ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়, যা চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের মাধ্যমে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি রপ্তানি প্রক্রিয়াও স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার ইলিশের আদান-প্রদান সম্পূর্ণ থমকে গেছে।


নির্বাচিত

banner close