বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে আরেকটি বড় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যেই ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিশাল এই বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে বাজারের আগুনে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি থেকে কিছুটা রেহাই দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ৩ লাখ টাকা থেকে এই সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না। তবে করপোরেট করে হাত দেননি অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল; কর আগের মতোই থাকছে। বিদ্যমান করপোরেট কর হিসেবে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৭ শতাংশ করই অপরিবর্তিত থাকছে।
বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বয়স্ক ভাতা বাড়ছে ১০০ টাকা; বিধবা ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।
বৈশ্বিক বাস্তবতা আর নানামুখী চাপের মধ্যে দাঁড়িয়েও ‘স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে’ যাত্রার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভোটের আগে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তিনি তার এবারের বাজেটেও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছেন। আর বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে দেশের অর্থনীতি যখন নানামুখী চাপের মধ্যে, সেই সময় নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর ঘোষণাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলছেন অর্থনীতিবিদরা। আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তারা। বলেছেন, অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সাফ বলে দিয়েছেন, বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ‘পূরণ হবে না’। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, আমদানি কমে যাচ্ছে। এই পরিবেশে প্রবৃদ্ধি খুব একটা যে হবে, সেটা আশা করা ঠিক না। এ বছর বলা হচ্ছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে। আমার বিবেচনায় সেটাও কমে হয়তো ৫-এর ঘরে চলে আসবে। আগামী বছর যে খুব একটা ব্যতিক্রম কিছু হবে তা মনে হয় না। তাহলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কোন জাদুবলে আসবে। এটা অসম্ভব; অবাস্তব লক্ষ্য। অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।’
তিনি বলেন, ‘গড় মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় ৯ শতাংশ। সেই মূল্যস্ফীতি কীভাবে ৬ শতাংশে নেমে আসবে- এটাও আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়। অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে প্রধান গুরুত্বে রেখে সরকারকে কাজ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’
অবশ্য বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের মূল্য কমে আসা, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় এবং খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগের প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে আশা করি।’
প্রস্তাবিত বাজেটের ৭ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা) চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। টাকার এই অঙ্ক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২১ শতাংশের সমান। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুস্তফা কামালের দেয়া বাজেটের আকার ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত বছর বাজেট দিতে গিয়ে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়’ প্রত্যাবর্তনের সংকল্প করেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় পরিবর্তিত বিশ্ববাজার, জ্বালানি ও ডলারসংকট এবং মূল্যস্ফীতি তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা মধুর হতে দেয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হাঁটতে হয়েছে কৃচ্ছ্রের পথে। তার ওপর বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে স্বস্তি আনার চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে আর্থিক খাতের নানামুখী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।
সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বছরে এবং দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগের বছরে জনতুষ্টির খুব বেশি সুযোগ রাখার পথ মুস্তফা কামালের সামনে নেই। তার পরও স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্বাচনী স্লোগানটিকেই তিনি বাজেটে ফিরিয়ে এনেছেন। তার এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ মাথাপিছু আয় হবে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার; দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকবে ৩ শতাংশের কম মানুষ আর চরম দারিদ্র্য নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়; মূল্যস্ফীতি সীমিত থাকবে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে; বাজেট ঘাটতি থাকবে জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে; রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত হবে ২০ শতাংশের ওপরে; বিনিয়োগ হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। শতভাগ ডিজিটাল অর্থনীতি আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাক্ষরতা অর্জিত হবে। সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে। স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগব্যবস্থা, টেকসই নগরায়ণসহ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব সেবা থাকবে হাতের নাগালে। তৈরি হবে পেপারলেস ও ক্যাশলেস সোসাইটি। সবচেয়ে বড় কথা, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।”
২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বাজেটগুলোতে উন্নয়ন খাত বরাবরই বেশি গুরুত্ব পেয়ে আসছিল। কিন্তু মহামারির ধাক্কায় সেই ধারায় কিছুটা ছেদ পড়ে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবার বিশ্বের অনেক দেশে মন্দার ঝুঁকি থাকলেও বাজেটের আকার বাড়িয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন মুস্তফা কামাল।
৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটে এবার উন্নয়ন ব্যয় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা যাবে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের আরও প্রায় ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হয়ে, যার পরিমাণ অন্তত ৭৭ হাজার কোটি টাকা।
মহামারির ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে শুরু করলে বেড়ে যায় আমদানি। তাতে সরকারের জমানো ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। রপ্তানি বাড়লেও আমদানির মতো অতটা না বাড়ায় এবং রেমিট্যান্সের গতি ধীর হয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য আর জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় ডলার বাঁচাতে সরকার বিলাসপণ্য আমদানিতে লাগাম দেয়ার পাশাপাশি কৃচ্ছ্রের পথে হাঁটতে শুরু করে।
রাজস্ব আহরণে এনবিআর বিদায়ী অর্থবছরের লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন।
তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬ শতাংশের বেশি। টাকার ওই অঙ্ক মোট বাজেটের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশের মতো।
গতবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ শতাংশের মতো। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। সংশোধনে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২২৭ কোটি টাকা করা হয়।
আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের দেশি-বিদেশি উৎস অনুসন্ধান হবে রাজস্ব খাতের নীতি-কৌশল। রাজস্ব আহরণে সব সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজীকরণসহ অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে কর নেট সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ, স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে মূল্য সংযোজন কর আদায় সহায়ক ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস স্থাপন ও সম্প্রসারণ, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন, কর প্রশাসনের অটোমেশন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে কর রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হবে।’
২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব সংসদের সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
সাধারণত ঘাটতির পরিমাণ ৫ শতাংশের মধ্যে রেখে বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা হয়। তবে টাকা জোগানোর চাপ থাকায় কয়েক বছর ধরেই তা সম্ভব হচ্ছে না। বরাবরের মতোই বাজেট ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীকে নির্ভর করতে হবে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর।
তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি তিনি মেটাবেন। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে রেকর্ড ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে বাজেটে।
বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে অর্থবছর শেষে তা ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে বলে সরকার ধারণা করছে। তার পরও অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, তার নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে।
নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৬০ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৬৬ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা, সংশোধনে তা সামান্য কমিয়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা করা হয়, যদিও মার্চ পর্যন্ত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের তুলনায় এবার ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। গত রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির এলসি সম্পন্ন করা হয়েছিল। মূলত আমদানিকারকদের মাধ্যমে মজুদ করা পণ্যগুলো সঠিকভাবে ডিস্ট্রিবিউশন বা বিতরণ করা হলে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির অবকাশ থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, “কোনো পণ্যেরই কোনো প্রকার ঘাটতি দেখা যাবে না। আর যদি ঘাটতি দেখা না যায়, অর্থনীতির স্বাভাবিক সংজ্ঞায় চাহিদা মোতাবেক যদি যোগান থাকে মূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ করা আছে। আমদানিকারকরা মজুদ করা পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ করলে আশা করি কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না।” ইতিপূর্বে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির এই উচ্চহার নবনির্বাচিত সরকারের জন্য রমজানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে যা বাজারে পণ্য সরবরাহে গতি আনবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর পৌঁছে দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নাগালে নিত্যপণ্যের দাম রাখতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো পাঁচটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সারাদেশে সরবরাহ করবে সরকারি এই সংস্থাটি। সারাদেশের সিটি করপোরেশন, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে চারশ’র বেশি ট্রাকের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং একই সাথে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝেও পণ্য বিতরণ অব্যাহত থাকবে। টিসিবির প্রস্তুতি অনুযায়ী ডিলারদের ইতোমধ্যে পণ্য নিতে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে যেখানে প্রতিটি ট্রাকে অন্তত ৪০০ জন ভোক্তার জন্য মালামাল বরাদ্দ থাকবে।
টিসিবি'র মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, “পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কতিপয় পণ্য ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করবে, এটা এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সময় ১৭ (ফেব্রুয়ারি) তারিখ থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং এটা সারা দেশব্যাপীই হবে- প্রতিটি জেলা, সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে এটা হবে।” অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সাজার দাবি জানিয়ে ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “সুযোগ পেলে দাম বাড়াবে এই ধরণের টেনডেন্সি থেকে বের হয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়া দরকার।
আমরা বারবার বলেছি, শুধুমাত্র জরিমানাই কিন্তু একক (একমাত্র) শাস্তি নয়।” সাধারণত প্রতি বছর রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে টিসিবির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে এক কোটি পরিবার কার্ডধারীসহ সাধারণ মানুষও খোলা ট্রাক থেকে পণ্য কেনার সুবিধা পাবেন যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা ও সরবরাহ বৃদ্ধির খবরের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে স্থির অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৭.৭৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। ব্রেন্ড ক্রুড এবং ইউএস ডব্লিউটিআইয়ের দামে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেলেও ডব্লিউটিআই ব্যারেল প্রতি ৬২.৯১ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করায় বাজারে সরবরাহ বাড়ার পূর্বাভাস তৈরি হয় যা তেলের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে পারমাণবিক বিরোধ সমাধান ও নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ইরান জানিয়েছে, “সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।” এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের নিজস্ব শর্তে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো ফলাফল আসা নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝে সংশয় রয়েছে। বর্তমানে ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল মাস থেকে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে পুনরায় তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ভূরাজনৈতিক এই অনিশ্চয়তার কারণে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার প্রধান সূচকগুলোর পতনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতনে এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্টের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এদিন লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৮টিরই দরপতন ঘটেছে এবং প্রধান তিন সূচকই গত কার্যদিবসের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। মূলত বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিক্রয়চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচকটি ১১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে যা শতাংশের হিসেবে ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। একইভাবে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮ দশমিক ৬২ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০- ৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দিনভর মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণে জানান, “সূচকের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে; তবে সামগ্রিকভাবে সতর্ক অবস্থানে থেকেই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।” বিগত কয়েক কার্যদিবসে বাজারের মিশ্র প্রবণতার পর আজকের এই পতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বর্তমানে বাজারের এই অস্থিতিশীলতা নিরসনে এবং লেনদেনের গতি ফেরাতে পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকে কড়া নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ অংশীজনরা।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জেন্ডার-স্মার্ট এবং জলবায়ু-সমন্বিত অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইন্সট্রুমেন্ট চালু ও সম্প্রসারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের (আইআইএক্স) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই অংশীদারত্বের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের শেয়ারবাজারে টেকসই অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাবসম্পন্ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ডিএসইর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইআইএক্সের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই একটি স্বতন্ত্র থিম্যাটিক বা টেকসই অর্থায়ন শ্রেণির অধীনে অরেঞ্জ বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করবে এবং বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও বাজার প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে কাজ করবে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, “জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআইএক্সের সঙ্গে এই উদ্যোগ উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ চালু এবং টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।” একই অনুষ্ঠানে আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অরেঞ্জ পুঁজিবাজার এগিয়ে নেওয়ার এই সহযোগিতা লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াবে।”
দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে উভয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অরেঞ্জ ইন্সট্রুমেন্টকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ঋণ সিকিউরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথ কর্মশালা ও নীতিগত সংলাপ আয়োজনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আসল নোটের সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। মূলত আসল টাকার নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি বা বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই জরুরি বার্তা প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকৃতির নমুনা নোট ব্যবহার করে নিজস্ব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বাজারে জাল নোটের বিস্তার ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্ৰদৰ্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” দণ্ডবিধির আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি এরূপ নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা প্রচলনে থাকা ব্যাংক নোট সদৃশ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং উক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনসাধারণকে এই ধরনের অননুমোদিত প্রচারণা ও কন্টেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদান করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বেশ ইতিবাচক থাকলেও দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই শূন্য রেমিট্যান্সের তালিকায় একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি আশাব্যাঞ্জক খবর হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে কোনো প্রবাসী আয় জমা হয়নি। এ ছাড়া বিদেশি খাতের আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমেও ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা কোনো অর্থ পাঠাননি। মূলত প্রবাসীরা যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেশি লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে পৌঁছেছে। বিপরীতে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ২১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, "ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।" বর্তমান অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় সুখবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নতুন সময়সূচিতে শেয়ার কেনাবেচা চলবে।
রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত ডিএসই সূত্রে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে লেনদেন ১টা ৪০ মিনিটে শেষ হবে এবং এর পরবর্তী ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন হিসেবে গণ্য হবে। রমজানে লেনদেনের সময়সূচির বিষয়ে ডিএসই জানায়, “শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হবে। আর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।” এই সেশনে নতুন কোনো দাম প্রস্তাব করার সুযোগ না থাকলেও বিনিয়োগকারীরা দিনের সমাপনী বা ক্লোজিং দামে শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চললেও প্রতি বছরই রমজান মাসে বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর বাজার পুনরায় তার নিয়মিত সময়সূচিতে ফিরে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ডিএসইর দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময়ও সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ বিবেচনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটি এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি মাসে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে রিটার্ন দাখিলে বিঘ্ন ঘটায় এনবিআর এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ-চালান সিস্টেমে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ করদাতারা সময়মতো তথ্য হালনাগাদ করতে পারেননি যার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের উচ্চপর্যায় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, “জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৬ তারিখের পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” সাধারণত প্রতি মাসের ১৬ তারিখে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সময় বাড়ানো হলো। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট সার্কেল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বর্ধিত সময় অনুযায়ী রিটার্ন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়। ডিএসই-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
পেশাগত এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে হাসান ও. রশিদ জানান, “বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি প্রাইম ব্যাংকের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এপ্রিলেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, যেখানে বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সফল নেতৃত্বের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও ব্যাংকটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে; গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এই ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার প্রায় ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা ক্যানসার নিরাময়কারী ওষুধের অভাবনীয় বিক্রি বৃদ্ধির সুবাদে গত বছরে তাদের নিট মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসার ও ওষুধ বিক্রির উল্লম্ফন প্রতিষ্ঠানটিকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তারা এই আর্থিক অর্জনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কৌশল এই সাফল্যের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক বিবৃতিতে গত দুই বছরের লভ্যাংশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর পরবর্তী মুনাফা ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় এই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মাঝে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও গম আমদানি শুরুর আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গম আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখনই বড় কোনো তৎপরতা শুরু করছেন না। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে গমের দাম কম। এখনই গম আমদানি সম্ভাবনা নেই। তারা মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন গমের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, কিছুদিন মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন গম আসতে শুরু করবে। তখন দাম অনেকটা কমে আসবে। সে সময় আমদানি শুরু হবে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।
এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।
ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।