বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আনতে অর্থমন্ত্রী শোনালেন আশার কথা

আপডেটেড
২ জুন, ২০২৩ ০০:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ জুন, ২০২৩ ০০:০০

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে আরেকটি বড় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যেই ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিশাল এই বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে বাজারের আগুনে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি থেকে কিছুটা রেহাই দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ৩ লাখ টাকা থেকে এই সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না। তবে করপোরেট করে হাত দেননি অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল; কর আগের মতোই থাকছে। বিদ্যমান করপোরেট কর হিসেবে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৭ শতাংশ করই অপরিবর্তিত থাকছে।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বয়স্ক ভাতা বাড়ছে ১০০ টাকা; বিধবা ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।

বৈশ্বিক বাস্তবতা আর নানামুখী চাপের মধ্যে দাঁড়িয়েও ‘স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে’ যাত্রার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভোটের আগে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তিনি তার এবারের বাজেটেও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছেন। আর বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে দেশের অর্থনীতি যখন নানামুখী চাপের মধ্যে, সেই সময় নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর ঘোষণাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলছেন অর্থনীতিবিদরা। আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তারা। বলেছেন, অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সাফ বলে দিয়েছেন, বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ‘পূরণ হবে না’। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, আমদানি কমে যাচ্ছে। এই পরিবেশে প্রবৃদ্ধি খুব একটা যে হবে, সেটা আশা করা ঠিক না। এ বছর বলা হচ্ছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে। আমার বিবেচনায় সেটাও কমে হয়তো ৫-এর ঘরে চলে আসবে। আগামী বছর যে খুব একটা ব্যতিক্রম কিছু হবে তা মনে হয় না। তাহলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কোন জাদুবলে আসবে। এটা অসম্ভব; অবাস্তব লক্ষ্য। অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘গড় মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় ৯ শতাংশ। সেই মূল্যস্ফীতি কীভাবে ৬ শতাংশে নেমে আসবে- এটাও আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়। অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে প্রধান গুরুত্বে রেখে সরকারকে কাজ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

অবশ্য বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের মূল্য কমে আসা, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় এবং খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগের প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে আশা করি।’

প্রস্তাবিত বাজেটের ৭ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা) চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। টাকার এই অঙ্ক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২১ শতাংশের সমান। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুস্তফা কামালের দেয়া বাজেটের আকার ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

গত বছর বাজেট দিতে গিয়ে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়’ প্রত্যাবর্তনের সংকল্প করেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় পরিবর্তিত বিশ্ববাজার, জ্বালানি ও ডলারসংকট এবং মূল্যস্ফীতি তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা মধুর হতে দেয়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হাঁটতে হয়েছে কৃচ্ছ্রের পথে। তার ওপর বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে স্বস্তি আনার চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে আর্থিক খাতের নানামুখী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বছরে এবং দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগের বছরে জনতুষ্টির খুব বেশি সুযোগ রাখার পথ মুস্তফা কামালের সামনে নেই। তার পরও স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্বাচনী স্লোগানটিকেই তিনি বাজেটে ফিরিয়ে এনেছেন। তার এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ মাথাপিছু আয় হবে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার; দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকবে ৩ শতাংশের কম মানুষ আর চরম দারিদ্র্য নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়; মূল্যস্ফীতি সীমিত থাকবে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে; বাজেট ঘাটতি থাকবে জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে; রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত হবে ২০ শতাংশের ওপরে; বিনিয়োগ হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। শতভাগ ডিজিটাল অর্থনীতি আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাক্ষরতা অর্জিত হবে। সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে। স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগব্যবস্থা, টেকসই নগরায়ণসহ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব সেবা থাকবে হাতের নাগালে। তৈরি হবে পেপারলেস ও ক্যাশলেস সোসাইটি। সবচেয়ে বড় কথা, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।”

২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বাজেটগুলোতে উন্নয়ন খাত বরাবরই বেশি গুরুত্ব পেয়ে আসছিল। কিন্তু মহামারির ধাক্কায় সেই ধারায় কিছুটা ছেদ পড়ে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবার বিশ্বের অনেক দেশে মন্দার ঝুঁকি থাকলেও বাজেটের আকার বাড়িয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন মুস্তফা কামাল।

৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটে এবার উন্নয়ন ব্যয় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন বাজেটে পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা যাবে সরকারের ঋণের ‍সুদ পরিশোধে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের আরও প্রায় ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হয়ে, যার পরিমাণ অন্তত ৭৭ হাজার কোটি টাকা।

মহামারির ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে শুরু করলে বেড়ে যায় আমদানি। তাতে সরকারের জমানো ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। রপ্তানি বাড়লেও আমদানির মতো অতটা না বাড়ায় এবং রেমিট্যান্সের গতি ধীর হয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য আর জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় ডলার বাঁচাতে সরকার বিলাসপণ্য আমদানিতে লাগাম দেয়ার পাশাপাশি কৃচ্ছ্রের পথে হাঁটতে শুরু করে।

রাজস্ব আহরণে এনবিআর বিদায়ী অর্থবছরের লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন।

তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬ শতাংশের বেশি। টাকার ওই অঙ্ক মোট বাজেটের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশের মতো।

গতবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ শতাংশের মতো। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। সংশোধনে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২২৭ কোটি টাকা করা হয়।

আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের দেশি-বিদেশি উৎস অনুসন্ধান হবে রাজস্ব খাতের নীতি-কৌশল। রাজস্ব আহরণে সব সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজীকরণসহ অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে কর নেট সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ, স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে মূল্য সংযোজন কর আদায় সহায়ক ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস স্থাপন ও সম্প্রসারণ, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন, কর প্রশাসনের অটোমেশন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে কর রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব সংসদের সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।

সাধারণত ঘাটতির পরিমাণ ৫ শতাংশের মধ্যে রেখে বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা হয়। তবে টাকা জোগানোর চাপ থাকায় কয়েক বছর ধরেই তা সম্ভব হচ্ছে না। বরাবরের মতোই বাজেট ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীকে নির্ভর করতে হবে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর।

তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি তিনি মেটাবেন। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে রেকর্ড ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে বাজেটে।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে অর্থবছর শেষে তা ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে বলে সরকার ধারণা করছে। তার পরও অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, তার নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে।

নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৬০ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৬৬ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা, সংশোধনে তা সামান্য কমিয়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা করা হয়, যদিও মার্চ পর্যন্ত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।


বন্ধ শিল্প সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে অচল কিংবা আংশিক সচল থাকা শিল্প ও সেবা খাতকে পুনরায় উৎপাদনমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি সম্পাদনের বিস্তারিত নীতিমালা, দায়দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়। এর সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির খসড়া, অনুমোদনপত্র, ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কন্টিনিউটি এবং প্রমিসরি নোটের নমুনাও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, গত ৪ জুন বিআরপিডির জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার "বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়তা বিষয়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম" বাস্তবায়নে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। এই স্কিম থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে আগ্রহী যেকোনো তফসিলি ব্যাংককে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশগ্রহণ চুক্তিতে সই করতে হবে। পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে যেসব বৃহৎ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে অথবা সক্ষমতার তুলনায় সীমিত আকারে উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের পুনরায় সচল করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং সেবা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান রক্ষা এবং রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, কেবল সেই সকল বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে, যারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেলে পুনরায় পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হবে। তবে ঋণখেলাপি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের সুযোগ পাবে না। ঋণ অনুমোদনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং ইউটিলিটি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্রও যুক্ত করা আবশ্যক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অর্থ পাচার, জালিয়াতি কিংবা তহবিল অপব্যবহারের সাথে জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই স্কিমের আওতায় আনা যাবে না এবং এ সংক্রান্ত যথাযথ যাচাইয়ের পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

এই স্কিমের অর্থ নির্দিষ্ট কিছু খাতেই কেবল ব্যয় করা যাবে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল, কাঁচামাল ক্রয় এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন। এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা প্রদান করা যাবে, যা অবশ্যই ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই নগদ টাকা প্রদান করা যাবে না। চুক্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই তহবিল ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানের পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না; এটি শুধুমাত্র নতুন কার্যকরী মূলধনের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হবে। প্রয়োজনে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে নিজস্ব প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে পারবে।

একজন ঋণগ্রহীতা বা একটি করপোরেট গ্রুপ এই স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, তবে গ্রাহকের লেনদেন সন্তোষজনক হলে এবং তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে তা নবায়ন করার সুযোগ থাকবে। সুদের হারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফা গ্রহণ করতে পারবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ওই ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে। প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পেতে ব্যাংকগুলোকে তাদের পর্ষদ সভায় ঋণ অনুমোদনের সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগে আবেদন করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি বিষয়েও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং ব্যাংকগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোও নিজস্ব বিনিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে এই স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


স্যামসাংয়ের শেয়ার দরপতনে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বড় ধস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

এশিয়ার শেয়ারবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বড় ধরনের ধসের কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল মুনাফা করার পরও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের শেয়ারের দরপতন বিনিয়োগকারীদের জন্য আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এআই-ভিত্তিক যে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল, তা হয়তো এখন অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন শুরুর দিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এশিয়ার বাজারে তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো বেড়েছে, যার ফলে প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের মন্দার আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, এআই-চালিত মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদার ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। বিস্ময়কর এই প্রবৃদ্ধির খবরের পরও দিনের শুরুর দিকে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দর প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোস্পি প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়, যা গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতনকে আরও ঘনীভূত করেছে। চলতি বছরের জুনে কোস্পি সূচক সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে এটি প্রায় ২০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আসন্ন আয়ের প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছেন যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্যামসাংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রাথমিক হিসাব কাগজে-কলমে অসাধারণ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘এআই মেমোরি চিপের চাহিদা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী, সরবরাহ সীমিত রয়েছে এবং বড় মেমোরি চিপ নির্মাতারা এমন মুনাফার হার অর্জন করছে, যা কয়েক বছর আগেও অবিশ্বাস্য মনে হতো।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার এখন নিখুঁত ফলাফলের প্রত্যাশায় বাজারদর নির্ধারণ করছে, যেখানে স্রেফ ভালো ফলাফল বিনিয়োগকারীদের তৃপ্ত করতে পারছে না। ইনেস এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শুধু গত প্রান্তিকের ফলাফল দেখছেন না; তারা বিচার করছেন আগামী কয়েকটি প্রান্তিকের ফলাফল এমন একটি প্রবৃদ্ধির ধারা ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, যা ইতোমধ্যে প্রায় উল্লম্ব গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’


মালয়েশিয়ায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারে চুম্বক কারখানা গড়ছে লিনাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় একটি স্থায়ী চুম্বক প্রস্তুতকারক কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার জেএস লিংকের সাথে অংশীদারিত্বের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ উত্তোলনকারী সংস্থা লিনাস। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে লিনাস তাদের কাঁচামাল আহরণ প্রক্রিয়ার সাথে শিল্পের পরবর্তী ধাপের উৎপাদন কার্যক্রমের সরাসরি সমন্বয় ঘটাতে চায়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি।

লিনাস জানিয়েছে, কুয়ালালামপুর হতে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) পূর্ব দিকে অবস্থিত কুয়ান্তানে তাদের বর্তমান কারখানার সন্নিকটেই নতুন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পিত এই কারখানায় বার্ষিক প্রায় ৩ হাজার টন চুম্বক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব চুম্বক প্রস্তুত করতে বিরল খনিজ নিওডিমিয়ামের পাশাপাশি লোহা ও বোরন ব্যবহার করা হবে।

এক বিবৃতিতে লিনাস জানিয়েছে, “এসব চুম্বক দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারে গাড়ি নির্মাণ, বায়ুশক্তি উৎপাদন এবং ইলেকট্রনিকস শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে।” সম্পাদিত সমঝোতা মোতাবেক, লিনাস মালয়েশিয়ার প্রস্তাবিত নতুন কারখানা ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েসান অঞ্চলে অবস্থিত জেএস লিংকের প্ল্যান্টে প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ কাঁচামাল যোগান দেবে। এই বিশেষ বাণিজ্যিক চুক্তিটি ২০৩৮ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন এই শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিনাসের জেবেং কারখানাটি ২০১২ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই কারখানা থেকে মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিরল খনিজ বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ লিনাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই খাতের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন হয় চীনে।


বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইউরোপের বেঞ্চমার্ক প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৪.৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২.৫ ডলার) পৌঁছেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে তেলের বাজারেও আগুন লেগেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ৭৩.০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৯.৪৮ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার কারণে জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। যদিও হামলার ফলে জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে এখনো কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে 'কাজ শেষ করার' (Finish the job) প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন হুমকি অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। বাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি শান্ত না হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৫ থেকে ৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
বিশ্বের বর্তমান এই সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৩১৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল) নেমে এসেছে। সরবরাহ ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরব এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত তাদের তেল পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জার্মানি নিজস্ব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশাল গ্যাস রিজার্ভ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

জাপানি মালিকানাধীন কিছু সুপারট্যাঙ্কার আটকে থাকার পর এই সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে বের হতে শুরু করলেও তেলের বাজার এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।


৪৩ বছরে সর্বনিম্ন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেলের মজুদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থনীতি ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে এই মজুদের পরিমাণ ৬২ লাখ ব্যারেল কমে ৩১৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮৩ সালের এপ্রিলের পর আর দেখা যায়নি।

মূলত গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। তারই অংশ হিসেবে সরকারি সংরক্ষিত তহবিল থেকে মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার একটি চুক্তিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানের এই মজুদ হ্রাস সেই প্রক্রিয়ারই একটি পর্যায়।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত মজুদ মিলিয়ে সামগ্রিক তেলের ভাণ্ডার ১২০.৭১ মিলিয়ন ব্যারেল কমে বর্তমানে ৭৩৪ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। সামগ্রিক মজুদের এই পরিমাণ ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


৫০ কোটি বিক্রির ইতিহাস গড়ে নতুন সিরিজ আনছে রেডমি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

স্মার্টফোনের বিশ্ববাজারে বিক্রির নতুন এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছে শাওমির জনপ্রিয় সাব-ব্র্যান্ড রেডমির ‘নোট’ সিরিজ। গত ১২ বছরে বিশ্বজুড়ে এই সিরিজের ৫০ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। এই বিশাল সাফল্যের উদযাপনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসে নতুন ‘রেডমি নোট ১৭’ সিরিজ বাজারে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

শাওমি জানায়, ২০১৪ সালে প্রথম রেডমি নোট বাজারে আসার পর থেকে গড়ে প্রতি বছর ৪ কোটির বেশি হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে। মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত ডিসপ্লে, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং আধুনিক সব ফিচারের সমন্বয়ে মধ্যম বাজেটের গ্রাহকদের মন জয় করতেই এই সিরিজটি সফল হয়েছে। একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হিসেবে জানানো হয়েছে যে, রেডমি এবার ‘নোট ১৬’ সিরিজটি এড়িয়ে সরাসরি ‘নোট ১৭’ সিরিজ বাজারে আনছে। শাওমির মূল ফ্ল্যাগশিপ ১৭ সিরিজের নামকরণের সঙ্গে মিল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও নতুন সিরিজের স্পেসিফিকেশন নিয়ে রেডমি এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়নি, তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে এই সিরিজে তিনটি মডেল থাকতে পারে—রেডমি নোট ১৭, ১৭ প্রো এবং ১৭ প্রো ম্যাক্স। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেজ মডেলটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৬এস জেন ৪ প্রসেসর এবং ৬৭ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকতে পারে। অন্যদিকে, প্রো মডেলে ৯ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণ ‘নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স’ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি ৭৫০০ প্রসেসরের পাশাপাশি ১০ হাজার ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দানবীয় ব্যাটারি এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া সবকটি মডেলেই ১.৫কে ফ্ল্যাট ওএলইডি ডিসপ্লে এবং পানি প্রতিরোধী সুবিধা থাকতে পারে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই সিরিজের আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।


উত্তরবঙ্গের কৃষিতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের আমূল পরিবর্তনে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উত্তরবঙ্গের কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি খাতে গতি বাড়াতে এই বিশাল তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও আধুনিক হিমাগারের অভাব, প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ঘাটতি এবং বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এসব বাধা দূর করে কৃষি খাতের অবকাঠামো শক্তিশালী করতেই তিন বছর মেয়াদি এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ।

তহবিলের অর্থ প্রধানত চারটি খাতে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে কৃষি উৎপাদন খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তবে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মতো বড় অবকাঠামো খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। এছাড়া কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ঋণের মেয়াদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন খাতে গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস এবং সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য ৩৬ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন ঋণগ্রহীতারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগের জোয়ার আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আঞ্চলিক দারিদ্র্য বিমোচনে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনল কাতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার চলতি বছরের জন্য বাংলাদেশে তাদের নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পণ্য পরিবহনে সৃষ্ট বাধার কারণে কাতারএনার্জি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় বিকল্প খুঁজছে পেট্রোবাংলা
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আজ সোমবার (৬ জুলাই) রয়টার্সকে বলেন, "এই সব সমস্যার মূল কারণ যুদ্ধ। আমরা এই ঘাটতি মেটানোর জন্য বিকল্প উৎসের সন্ধান করছি। এর মধ্যে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বাণিজ্যিক দিক থেকে সাশ্রয়ী সব ধরনের পথ বেছে নেব।"

কাতারের ওপর নির্ভরতা ও বর্তমান চিত্র
কাতার বাংলাদেশের বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করেছিল, যার মধ্যে ৪.১৫ মিলিয়ন টনই এসেছিল কাতার থেকে। কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি রয়েছে—যার একটির আওতায় বছরে ২.৫ মিলিয়ন টন এবং অন্যটির আওতায় ১.৮ মিলিয়ন টন এলএনজি আসার কথা।

যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যাহত
তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে কোনো এলএনজি কার্গো বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়নি। শিপিং ডেটা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি কার্গো আমদানি করেছে।

সাধারণত বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই রুটটি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক ট্যাঙ্কার বিকল্প পথে চলছে অথবা যাত্রা বাতিল করছে। তবে কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা যতটা সম্ভব সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাতারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনতে হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হতে পারে।


পণ্য রপ্তানিতে ৪৩ খাতে প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩টি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে পণ্যভেদে দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হবে।
রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে বিকল্প নগদ সহায়তা হিসেবে ১.৫০ শতাংশ এবং ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে ০.৫০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ অতিরিক্ত সুবিধা এবং নতুন পণ্য বা নতুন বাজারে বস্ত্র খাত সম্প্রসারণে ২ শতাংশ সহায়তা বজায় রাখা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা থাকছে ০.৩০ শতাংশ।
সরকার কৃষি ও পাট খাতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান অব্যাহত রেখেছে। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা বহাল রয়েছে। এছাড়া বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ এবং হস্তশিল্প পণ্যে ৬ শতাংশ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের বিকাশে সফটওয়্যার এবং আইটি এনাবলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) রপ্তানিতে ৬ শতাংশ এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা রাখা হয়েছে। ওষুধ বা ফার্মা খাতে ৬ শতাংশ এবং অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) রপ্তানিতে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া জাহাজ রপ্তানিতে ৬ শতাংশ ও ফার্নিচার রপ্তানিতে ৮ শতাংশ হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই প্রণোদনা সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে হবে। রপ্তানি প্রণোদনার প্রতিটি আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অডিট ফার্ম দ্বারা যথাযথভাবে নিরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

নীতিগত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ফলে রপ্তানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


এআই বাজারের জোয়ারে এসকে হাইনিক্সের ২৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড শেয়ার ইস্যু

ছবি- রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন শেয়ার বাজার ন্যাসড্যাকে (Nasdaq) এক বিশাল শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স (SK Hynix)। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৮.০৭ বিলিয়ন ডলার (৪৩ ট্রিলিয়ন উওন) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নতুন শেয়ার বিক্রির ঘটনা হতে যাচ্ছে।

রেগুলেটরি ফাইলিং অনুযায়ী, এসকে হাইনিক্স ন্যাসড্যাকে মোট ১ কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার নতুন শেয়ার 'আমেরিকান ডিপোজিটরি রিসিট' (ADR) হিসেবে বিক্রি করবে। এখানে ১০টি এডিআর একটি সাধারণ শেয়ারের সমান বলে গণ্য হবে। সোমবার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসার পরপরই বড় বড় বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। বেইলি গিফোর্ড ওভারসিজ এবং কোটু ম্যানেজমেন্টের মতো প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ‌্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসকে হাইনিক্সের এই উদ্যোগটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ার বিক্রয় হতে যাচ্ছে। এটি সৌদি আরামকোর ২০১৯ সালের ২৫.৬ বিলিয়ন ডলার এবং আলিবাবার ২০১৪ সালের রেকর্ড আইপিও-কেও ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে গত মাসে কেবল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল। এসকে হাইনিক্স বর্তমানে এনভিডিয়া (Nvidia) এবং গুগলের মতো জায়ান্টদের হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ সরবরাহের প্রধান অংশীদার, যা তাদের এই বিশাল বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করছে।

এসকে হাইনিক্স জানিয়েছে, ন্যাসড্যাক থেকে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন চিপ কারখানা নির্মাণ এবং ডাচ প্রতিষ্ঠান এএসএমএল (ASML) থেকে আধুনিক চিপ তৈরির অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি (EUV scanner) কেনার কাজে ব্যয় করা হবে। মূলত বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। এই লিস্টিংয়ের ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি এসকে হাইনিক্সের শেয়ার কেনা সহজ হবে, যা প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের উন্নয়নের জন্য ৫৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যেখানে এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ন্যাসড্যাকে এই শেয়ারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হবে এবং শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক চিপ বাজারে এসকে হাইনিক্সের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিন সোমবারও (৬ জুলাই) দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে দুই বাজারেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তবে সূচক বাড়লেও উভয় বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়ার মধ্য দিয়ে সূচক চাঙা হতে শুরু করে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে।

ডিএসইতে এদিন ১৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৫৫টির দাম কমেছে এবং ৭১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে, এই গ্রুপের ৫৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যেও ১৭টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই-৩০ সূচক এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচকেও সামান্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

লেনদেনের দিক থেকে এদিন ডিএসইতে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষে আধিপত্য বজায় রেখেছে মালেক স্পিনিং, যার মোট ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপরই তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড ও সামিট এলায়েন্স পোর্ট। এছাড়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির দাম বেড়েছে এবং ৯৩টির কমেছে। তবে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বড় অংকে কমে ১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার দর বাড়ার তালিকা বড় হওয়া বাজারের জন্য একটি শুভ সংকেত, তবে বড় অংকের লেনদেন বজায় রাখা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।


তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি, ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার পূর্বাভাসে সোমবার ইউরোপীয় শেয়ার বাজার এবং মার্কিন ফিউচার সূচক উর্ধ্বমুখী হয়েছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের আসন্ন আয়-ব্যয়ের খতিয়ান বা 'আর্নিংস সিজন'-এর দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জ্বালানি তেলের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭১.১০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ওপেক প্লাস (OPEC+) আগস্ট থেকে দৈনিক তেলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই দরপতন হয়েছে। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে; গত সপ্তাহে ১৬০টি জাহাজ এই রুট দিয়ে পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার বাজারের তথ্যানুসারে, সোমবার লেনদেনের শুরুতে ইউরোপের স্টোকস ৬০০ সূচক ০.২ শতাংশ বেড়েছে এবং মার্কিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেও তেলের দাম কমতে থাকায় এবং সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে আসায় বৈশ্বিক বাজারগুলোতে চাঙ্গাভাব দেখা গিয়েছিল। জেফরিজের প্রধান ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদ মোহিত কুমার জানিয়েছেন, তেলের দাম কমলে প্রবৃদ্ধি-সংবেদনশীল খাত এবং দেশগুলো ভালো পারফর্ম করবে, যারা গত তিন মাসে কিছুটা পিছিয়ে ছিল।

চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের, বিশেষ করে এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ফলাফল বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মুনাফা ১৮ গুণ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা চিপের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া আরেক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে, যা এআই খাতের জনপ্রিয়তার এক বড় পরীক্ষা হবে।

মুদ্রা বাজারে ডলারের সূচক সামান্য বেড়ে ১০১.০৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রয়েছে, যা ১৬২.২৩ ইয়েনে পৌঁছে প্রায় ৪০ বছরের রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন জাপানি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম গত সপ্তাহের ২ শতাংশ বৃদ্ধির পর সোমবার সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪,১৬০ ডলারে অবস্থান করছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে তুরস্কে ন্যাটো বৈঠকে যোগ দেবেন। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী (মিনিটস) এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এইচএসবিসি-র প্রধান এশীয় অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক নিউম্যান মনে করছেন, সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এই মাসে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সুদের হার বাড়তে পারে।


রপ্তানি ভর্তুকি নিরীক্ষায় অডিট ফার্ম নিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানি বাণিজ্যে বিকল্প নগদ সহায়তা বা রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনসমূহ অধিকতর স্বচ্ছতার সাথে নিরীক্ষার লক্ষ্যে অডিট ফার্ম নিয়োগের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (এফইপিডি-১) থেকে প্রকাশিত এক সার্কুলারে দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রপ্তানির বিপরীতে দাখিলকৃত নগদ সহায়তার আবেদনপত্রসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষায় নিয়োজিত সমসংখ্যক অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা যাবে।

সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ব্যাংক যদি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগ করতে চায়, তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ ধরণের আবেদনের ক্ষেত্রে অডিট ফার্ম নিয়োগের যৌক্তিকতা, সংশ্লিষ্ট ফার্মের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা, নগদ সহায়তা সংক্রান্ত আবেদনের মোট সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে। মূলত ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধ ও সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বে জারি করা ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ এবং ৬ জুলাই ২০২৪ সালের সার্কুলারসমূহের অন্যান্য সকল শর্ত ও নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকল তফসিলি ব্যাংককে এই নতুন নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। রপ্তানি খাতের উন্নয়ন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি আরও সুশৃঙ্খল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে ভর্তুকির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও পেশাদার অডিট ফার্মের সহায়তা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর ফলে রপ্তানি ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।


banner close