শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আনতে অর্থমন্ত্রী শোনালেন আশার কথা

আপডেটেড
২ জুন, ২০২৩ ০০:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ জুন, ২০২৩ ০০:০০

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে আরেকটি বড় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যেই ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিশাল এই বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে বাজারের আগুনে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি থেকে কিছুটা রেহাই দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ৩ লাখ টাকা থেকে এই সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না। তবে করপোরেট করে হাত দেননি অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল; কর আগের মতোই থাকছে। বিদ্যমান করপোরেট কর হিসেবে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৭ শতাংশ করই অপরিবর্তিত থাকছে।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বয়স্ক ভাতা বাড়ছে ১০০ টাকা; বিধবা ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।

বৈশ্বিক বাস্তবতা আর নানামুখী চাপের মধ্যে দাঁড়িয়েও ‘স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে’ যাত্রার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভোটের আগে নতুন অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী বাজেট জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তিনি তার এবারের বাজেটেও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছেন। আর বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে দেশের অর্থনীতি যখন নানামুখী চাপের মধ্যে, সেই সময় নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানোর ঘোষণাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলছেন অর্থনীতিবিদরা। আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে আটকে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তারা। বলেছেন, অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সাফ বলে দিয়েছেন, বিরাজমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ‘পূরণ হবে না’। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, আমদানি কমে যাচ্ছে। এই পরিবেশে প্রবৃদ্ধি খুব একটা যে হবে, সেটা আশা করা ঠিক না। এ বছর বলা হচ্ছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে। আমার বিবেচনায় সেটাও কমে হয়তো ৫-এর ঘরে চলে আসবে। আগামী বছর যে খুব একটা ব্যতিক্রম কিছু হবে তা মনে হয় না। তাহলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কোন জাদুবলে আসবে। এটা অসম্ভব; অবাস্তব লক্ষ্য। অতি আশাবাদের বদলে বাস্তবতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য ধরাই উচিত ছিল সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘গড় মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় ৯ শতাংশ। সেই মূল্যস্ফীতি কীভাবে ৬ শতাংশে নেমে আসবে- এটাও আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়। অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে প্রধান গুরুত্বে রেখে সরকারকে কাজ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

অবশ্য বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের মূল্য কমে আসা, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় এবং খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগের প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে বলে আশা করি।’

প্রস্তাবিত বাজেটের ৭ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকার এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা) চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। টাকার এই অঙ্ক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২১ শতাংশের সমান। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুস্তফা কামালের দেয়া বাজেটের আকার ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

গত বছর বাজেট দিতে গিয়ে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়’ প্রত্যাবর্তনের সংকল্প করেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় পরিবর্তিত বিশ্ববাজার, জ্বালানি ও ডলারসংকট এবং মূল্যস্ফীতি তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা মধুর হতে দেয়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হাঁটতে হয়েছে কৃচ্ছ্রের পথে। তার ওপর বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে স্বস্তি আনার চেষ্টায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে আর্থিক খাতের নানামুখী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বছরে এবং দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগের বছরে জনতুষ্টির খুব বেশি সুযোগ রাখার পথ মুস্তফা কামালের সামনে নেই। তার পরও স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর নির্বাচনী স্লোগানটিকেই তিনি বাজেটে ফিরিয়ে এনেছেন। তার এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ মাথাপিছু আয় হবে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার; দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকবে ৩ শতাংশের কম মানুষ আর চরম দারিদ্র্য নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়; মূল্যস্ফীতি সীমিত থাকবে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে; বাজেট ঘাটতি থাকবে জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে; রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত হবে ২০ শতাংশের ওপরে; বিনিয়োগ হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। শতভাগ ডিজিটাল অর্থনীতি আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাক্ষরতা অর্জিত হবে। সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে। স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগব্যবস্থা, টেকসই নগরায়ণসহ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব সেবা থাকবে হাতের নাগালে। তৈরি হবে পেপারলেস ও ক্যাশলেস সোসাইটি। সবচেয়ে বড় কথা, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।”

২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বাজেটগুলোতে উন্নয়ন খাত বরাবরই বেশি গুরুত্ব পেয়ে আসছিল। কিন্তু মহামারির ধাক্কায় সেই ধারায় কিছুটা ছেদ পড়ে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবার বিশ্বের অনেক দেশে মন্দার ঝুঁকি থাকলেও বাজেটের আকার বাড়িয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন মুস্তফা কামাল।

৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটে এবার উন্নয়ন ব্যয় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে এডিপি অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন বাজেটে পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা যাবে সরকারের ঋণের ‍সুদ পরিশোধে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ। অনুন্নয়ন ব্যয়ের আরও প্রায় ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হয়ে, যার পরিমাণ অন্তত ৭৭ হাজার কোটি টাকা।

মহামারির ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে শুরু করলে বেড়ে যায় আমদানি। তাতে সরকারের জমানো ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। রপ্তানি বাড়লেও আমদানির মতো অতটা না বাড়ায় এবং রেমিট্যান্সের গতি ধীর হয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য আর জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় ডলার বাঁচাতে সরকার বিলাসপণ্য আমদানিতে লাগাম দেয়ার পাশাপাশি কৃচ্ছ্রের পথে হাঁটতে শুরু করে।

রাজস্ব আহরণে এনবিআর বিদায়ী অর্থবছরের লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রায় ৬৬ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন।

তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬ শতাংশের বেশি। টাকার ওই অঙ্ক মোট বাজেটের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশের মতো।

গতবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ শতাংশের মতো। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। সংশোধনে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২২৭ কোটি টাকা করা হয়।

আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের দেশি-বিদেশি উৎস অনুসন্ধান হবে রাজস্ব খাতের নীতি-কৌশল। রাজস্ব আহরণে সব সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজীকরণসহ অন্যান্য সংস্কারের মাধ্যমে কর নেট সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ, স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে মূল্য সংযোজন কর আদায় সহায়ক ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস স্থাপন ও সম্প্রসারণ, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন, কর প্রশাসনের অটোমেশন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে কর রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধনে তা ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। নতুন অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব সংসদের সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।

সাধারণত ঘাটতির পরিমাণ ৫ শতাংশের মধ্যে রেখে বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা হয়। তবে টাকা জোগানোর চাপ থাকায় কয়েক বছর ধরেই তা সম্ভব হচ্ছে না। বরাবরের মতোই বাজেট ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীকে নির্ভর করতে হবে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর।

তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি তিনি মেটাবেন। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে রেকর্ড ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে বাজেটে।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রাক্কলনের ভিত্তিতে অর্থবছর শেষে তা ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হবে বলে সরকার ধারণা করছে। তার পরও অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, তার নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে।

নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৬০ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৬৬ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা, সংশোধনে তা সামান্য কমিয়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা করা হয়, যদিও মার্চ পর্যন্ত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।


নির্বাচিত

গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনছে এজেন্ট ব্যাংকিং, ৮৪ শতাংশ গ্রাহকই গ্রামের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০৫

ব্যাংকের শাখা থেকে দূরে থাকা মানুষের জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং এখন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট গ্রাহকের ৮৪ শতাংশের বেশি গ্রামীণ এলাকার। একইভাবে মোট আমানতের প্রায় ৮২ শতাংশও এসেছে গ্রাম থেকে।

শুধু হিসাব খোলা বা আমানত সংগ্রহেই নয়, ঋণ বিতরণ এবং প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও শহরের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯৩ শতাংশই যাচ্ছে গ্রামীণ এলাকায়। পাশাপাশি দেশের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের সাড়ে ৮৫ শতাংশের অবস্থানও গ্রামাঞ্চলে।

ফলে ব্যাংকের প্রচলিত শাখার বাইরে মানুষের কাছে সহজে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতেও এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর মধ্যেই চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের তিন মাসের তুলনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্রামেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বেশি হিসাব

জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা আমানত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৮১টি। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার হিসাব ২ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার ৪টি। অর্থাৎ মোট হিসাবের প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশই গ্রামে।

এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত হিসাব ছিল ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১৯৭টি। তখন গ্রামীণ এলাকার হিসাব ছিল ২ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৯টি।

এক বছরের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত হিসাব বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় হিসাব বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় গ্রাহকগোষ্ঠী।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রামাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু গ্রাহক সংখ্যায় নয়, আমানতের পরিমাণেও স্পষ্ট। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার আমানত ৪২ হাজার ৫৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা মোট আমানতের প্রায় ৮২ শতাংশ।

২০২৫ সালের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানত ছিল ৪৫ হাজার ২৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামের আমানত ছিল ৩৭ হাজার ৪৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পুরো এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ঋণ বিতরণেও এগিয়ে গ্রাম

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও গ্রামীণ গ্রাহকদের অংশ শহরের তুলনায় বেশি। জুন শেষে মোট ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৮টি। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার ঋণ হিসাব ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৯৯টি।

২০২৫ সালের জুনে মোট ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৯৩টি। গ্রামীণ এলাকায় ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫টি হিসাব। অর্থাৎ এক বছরে মোট ঋণ হিসাব বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকার ঋণ হিসাব বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

ঋণের স্থিতিতেও গ্রামীণ এলাকার প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৮৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

২০২৫ সালের জুনে গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ ছিল ৬ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ফলে এক বছরে গ্রামীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের বড় অংশ যাচ্ছে গ্রামে

প্রবাসী আয় বিতরণের ক্ষেত্রেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওপর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশে মোট ৬ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৫টি ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছেছে ৫ হাজার ৪৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। শহরাঞ্চলে গেছে ৪২৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শহরের তুলনায় গ্রামে প্রায় ১২ দশমিক ৯ গুণ বেশি রেমিট্যান্স পৌঁছেছে।

তবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় রেমিট্যান্স বিতরণ কমেছে প্রায় ৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ। ফলে গ্রামে রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা শক্তিশালী হলেও সাম্প্রতিক এই পতন খাতটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

গ্রামবাংলার হাতের নাগালে ব্যাংকিং

একসময় ব্যাংকিং সেবা নিতে গ্রামের মানুষকে উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে হতো। দূরত্ব, যাতায়াত ব্যয় এবং সময়ের কারণে অনেকেই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। এজেন্ট ব্যাংকিং সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে।

এখন স্থানীয় বাজার, ছোট দোকান কিংবা বসতবাড়ির নিচের আউটলেট থেকেই হিসাব খোলা, টাকা জমা ও উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স গ্রহণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাও এজেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

ডেবিট কার্ড, চেকবই ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মতো সুবিধাও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে। বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে এই সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

এক যুগে গ্রাহক আড়াই কোটির বেশি

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে। বেসরকারি ব্যাংক এশিয়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করে।

শুরুতে শুধু গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমতি ছিল। পরে নীতিমালা সংশোধন করে পৌরসভা ও শহরাঞ্চলেও এই সেবা চালুর সুযোগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে ৩১টি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৩০টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে সেবা দিচ্ছে। সারাদেশে ১৫ হাজার ৩২১ জন এজেন্টের অধীনে রয়েছে ২০ হাজার ৪৮৮টি আউটলেট। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নারী গ্রাহকের অংশগ্রহণও বাড়ছে। মোট আমানত হিসাবের প্রায় অর্ধেক নারীদের। এর বড় একটি অংশ গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের নারী।

ফলে ব্যাংকের প্রচলিত শাখার বাইরে নারীদের আর্থিক সেবার আওতায় আনতেও এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঞ্চয়, রেমিট্যান্স গ্রহণ ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়ছে।

দ্রুত বাড়ছে আমানত ও ঋণ

সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট আমানত হিসাব দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ২৯৩টি। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ১০৯টি। এক বছরে হিসাব বেড়েছে ১৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।

একই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানত বেড়ে প্রায় ৪৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর প্রায় ৮৩ শতাংশই এসেছে গ্রামীণ এলাকা থেকে।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আমানত হিসাব রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে। এরপর রয়েছে ব্যাংক এশিয়া ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।

ঋণ বিতরণেও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ৮২০ কোটি টাকা বা ৫১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। তবে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ গ্রাহকদের অংশগ্রহণ বেশি। তাদের কাছে কেন্দ্রীভূত রয়েছে ২৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন মাত্রা

ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হাওর, চর ও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তার পুরোপুরি হয়নি। এসব অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ, এজেন্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং গ্রাহকদের আর্থিক বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং শুধু বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেল নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির অর্থপ্রবাহ, সঞ্চয়, ঋণ ও রেমিট্যান্স ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। গ্রামকে কেন্দ্র করে এর বিস্তার অব্যাহত থাকলে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

আলোচনা ব্যর্থ, কানাডার পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সুসম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিবেশী দেশ কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ বিশাল অংকের শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হওয়া এই ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’-এর কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈরী আচরণের বিপরীতে কানাডাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমপরিমাণ অর্থাৎ “ডলার ফর ডলার” বা “সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক” আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন ছিল অন্যায্য, অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সাপেক্ষ।” তিনি অবিলম্বে তাঁর দেশের আলোচক দলকে ওয়াশিংটন থেকে অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। কার্নি আরও জানান যে, তাঁর দেশের আলোচকগণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কানাডার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আচরণে চুক্তিটি অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কানাডাকেই দায়ী করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “গত সপ্তাহের শুরুতে যেসব শর্তে কানাডা সম্মত হয়েছিল, সে সব শর্তে আজ (শুক্রবার) রাতে তারা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।” তিনি একে কানাডার জন্য একটি বড় সুযোগ হারানো বলে মন্তব্য করেন। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে কানাডায় তৈরি যানবাহনের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনা এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক অর্ধেক করার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। যদিও এটি কানাডার মোট রপ্তানির মাত্র ৫ শতাংশ, তবুও এর প্রতীকী ও কৌশলগত প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৩০ দিনের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে কানাডার ওপর কঠোর শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই শাস্তিমূলক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ কানাডাকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাজনৈতিকভাবেও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। দুটি বড় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামলানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কার্নি ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে এবং তারা ওয়াশিংটনকে আর কোনো ছাড় দিতে নারাজ। এর আগে গত বছর থেকেই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে কানাডার কুইবেক অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আপাতত আর কোনো নতুন আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করেনি। এই শুল্ক যুদ্ধ ইতোমধ্যে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা বিভিন্ন খাতকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলবে, যার ফলে ব্যবসা বন্ধ হওয়া ও ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়বে বলে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে গত ১৮ মাস ধরে চলা ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতের মন্দা এখন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ওয়াশিংটনে তিন দিনব্যাপী নিবিড় আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পরই উত্তর আমেরিকার দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলো।

অবশ্য ওয়াশিংটন ও অটোয়া কোনো চুক্তিতে পৌঁছালেও, তা কানাডার জনগণ ও দেশটির ১০টি প্রদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য বেশ কঠিন হতো বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কারণ ১৯ আগস্ট প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ কানাডীয় চান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করুক এবং আর কোনো ধরনের ছাড় দিতেও নারাজ তারা।


নির্বাচিত

শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের আহ্বান ডিসিসিআই-এর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার হ্রাসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সেমিনারে সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ সরকারি ঋণের তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ঋণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ব্যাপক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, সেখানে বেসরকারি খাতের এই নগণ্য প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগের জন্য চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজ স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।

জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, শিল্প খাতের উৎপাদন সচল রাখতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। তিনি অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ১০টি খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, যথাযথ নীতিগত সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি নিবিড় অংশীদারত্বের মাধ্যমেই বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিতে কাজ করছে। এছাড়া ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. জায়েদি সাত্তার এবং অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং খেলাপি ঋণ হ্রাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমানোর তাগিদও দেওয়া হয় উক্ত সেমিনারে। বর্তমানে উচ্চ ব্যবসায়িক খরচের মুখে থাকা সিএমএসএমই খাতের সুরক্ষা নিশ্চিতে ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং চালুর প্রস্তাবটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়।


নির্বাচিত

জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বৃহৎ সৌর প্রকল্প ভ্যাটিকানের

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটি তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো বা ১১৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশি সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সৌর শক্তি ও কৃষিকাজের এক অনন্য সমন্বয় ঘটানো হবে, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় ‘এগ্রিবোলটাইক’ সিস্টেম বলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা হবে ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট, যা ইতালির অন্যতম বৃহত্তম সৌর স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে মাটি থেকে বেশ কয়েক মিটার উঁচুতে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, যার ফলে প্যানেলের নিচের জমিতে স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। প্যানেলগুলোর ছায়া মাটির পানি বাষ্পীভবন রোধ করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে ফসলকে রক্ষা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

রোমের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে ভ্যাটিকানের নিজস্ব মালিকানাধীন ‘সান্তা মারিয়া দি গ্যালেরিয়া’ নামক স্থানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের শুরুতে ইতালি ও ভ্যাটিকানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পর সম্প্রতি এক যৌথ কমিশন এই প্রকল্পের কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। যদিও প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় বা সক্ষমতা নিয়ে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে আলোচনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমতিসহ পুরো নির্মাণকাজ শেষ করতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে।

৪৫০ হেক্টর আয়তনের এই বিশাল এলাকাটি ১৯৫০-এর দশক থেকেই ভ্যাটিকান রেডিওর সম্প্রচার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ভ্যাটিকান রেডিওর ট্রান্সমিশন স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পুরো ভ্যাটিকান রাষ্ট্রকে জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী করে তোলা। এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ রোমের বামবিনো গেসু হাসপাতালসহ ভ্যাটিকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনাগুলোতেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত ট্র্যাকিং সোলার প্যানেলগুলো ওই এলাকার প্রায় ২০০ হেক্টর জমি জুড়ে বিস্তৃত থাকবে। প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতালিকে সরবরাহ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক সত্যতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস এই প্রকল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে পোপ লিও চতুর্দশ এই বিশাল উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটির মধ্যে সম্পাদিত বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি ইতালির আয়কর বা অন্যান্য সরকারি ফি থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে ইতালির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতালির সরকারি কোষাগারের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৮ সালেও তৎকালীন পোপ বেনেডিক্টের আমলে ভ্যাটিকানের একটি মিলনায়তনের ছাদে কিছু সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছিল, যা ছিল পবিত্র এই নগরীর প্রথম পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উদ্যোগ।


নির্বাচিত

ইউনানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের ইউনান প্রদেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে কুনমিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি চীনের বিশাল বাজারের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) কুনমিংয়ের ‘দ্য জেনারেল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনান এন্টারপ্রেনার্সে’ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের নানাবিধ দিক তুলে ধরা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এক বিশদ উপস্থাপনার মাধ্যমে জানান যে, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি, পর্যাপ্ত শিল্পভূমি এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনের মধ্যবর্তী সংযোগকারী দেশ হওয়ার ফলে বাংলাদেশ চীনের বাজারে প্রবেশের এক কার্যকর পথ তৈরি করছে। এছাড়া প্রস্তাবিত কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর বাস্তবায়িত হলে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর জন্য এক নবদিগন্তের সূচনা করবে, যা ইউনানের উদ্যোক্তাদের জন্য বাণিজ্যের বড় সুযোগ বয়ে আনবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শতভাগ মালিকানা এবং মূলধন ও অর্জিত লভ্যাংশ নির্বিঘ্নে প্রত্যাবাসনের সুযোগ রয়েছে। চীনসহ ৩৪টি দেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি বাংলাদেশে একটি সুসংহত ও নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এ সময় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন ‘Chinese Economic and Industrial Zone’, ‘BIDA-এর ওয়ান স্টপ সার্ভিস’, হাই-টেক পার্ক এবং প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য পোশাক শিল্প, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ নির্মাণ শিল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাপক মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে ইউনানের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন। কুনমিংস্থ কনস্যুলেট বর্তমানে ইউনান ছাড়াও সিচুয়ান, চংচিং, গুইঝো ও গুয়াংশি প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বিক্রি, দাম কমানোর পথে ওয়ালমার্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের মাঝে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় গত ছয় বছরের মধ্যে এবারই প্রথম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের বিক্রির গতি সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির এই ধীর চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলছে। মূলত জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে ক্রেতাদের কেনাকাটার সক্ষমতা ও ধরনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে উঠতে ওয়ালমার্ট এখন কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুল্ক বাবদ প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় এই অর্থ ফেরত পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমিয়ে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১১ হাজার পণ্যের দাম কমানোর কর্মসূচি বা ‘রোলব্যাক’ হাতে নিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে থেকে জুলাই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সচল দোকানগুলোতে জ্বালানি বিক্রি বাদে ব্যবসা বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ওয়ালমার্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টার্গেটও সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত পাওয়ার কথা জানিয়েছে, যা তাদের মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। ওয়ালমার্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, মূল্য কমানোর ফলে ইতিমধ্যে খেলনা ও খাদ্যপণ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেছেন যে, খুচরা বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয় এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাজারের বর্তমান অস্থিরতা বিশ্লেষণ করে জন ডেভিড রেইনি বলেন, পেট্রলের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের হাতে অন্যান্য খাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম চার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ক্রেতাদের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘গত জুনে পেট্রলের দামে পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।’ তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ এখন বিলাসিতা কমিয়ে কেবল অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী পণ্যের পেছনেই তাদের সীমিত অর্থ ব্যয় করছেন।

তবে বিক্রি বাড়াতে দাম কমানোর এই কৌশলের পেছনে কিছু ঝুঁকিও দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বর্তমান মুনাফার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে শুল্ক ফেরতের এককালীন সুবিধা থেকে, যা ভবিষ্যতে পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও স্বয়ংক্রিয় অবকাঠামো নির্মাণে বিশাল বিনিয়োগের পাশাপাশি পণ্যের দাম কমালে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জন ডেভিড রেইনি বলেন, ‘যেখানে সম্ভব, মূল্যছাড়কে স্থায়ী করাই আমাদের সব সময়ের আশা ও উদ্দেশ্য।’ মূলত সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে পণ্যমূল্য রেখে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের অন্যতম এই খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান।


নির্বাচিত

ঢাকায় ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নভোথিয়েটারে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উদ্ভাবন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’। এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিদদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা। এর মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে ‘ট্রিলিয়ন-ডলার’ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিন দিনের এই মেলায় ১৫০টিরও বেশি ইনোভেশন শোকেস প্রদর্শিত হবে, যেখানে নবীন ও অভিজ্ঞ উদ্ভাবকদের আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যাবে। পাশাপাশি মেলায় ১৫টিরও অধিক সেশন ও সংলাপের আয়োজন থাকবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। মেলা প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ইনোভেশন হাব স্থাপন করা হবে, যা নতুন সব চিন্তা ও প্রযুক্তির কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করবে।

শিল্প খাতের সাথে শিক্ষা ও গবেষণা খাতের সেতুবন্ধন মজবুত করতে মেলায় ৫০ জনেরও বেশি শিল্প বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য ৫০টিরও অধিক করপোরেট, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে এই মেলায়।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্টার্ট-আপসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে www.innovationfairbd.org ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতনে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ী সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় পতন লক্ষ করা গেছে। গত পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দেড় শতাংশেরও বেশি কমেছে। একই সময়ে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্ট। বড় কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ৩০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে থিতু হয়েছে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৪টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ৩১৪টির দর। অপরিবর্তিত ছিল ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য। সূচকের এই ধারাবাহিক পতনে ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ, ইসলামী ব্যাংক এবং এলএইচবির শেয়ার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, ২১ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেন নিয়ে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন। এছাড়া প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ৭ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের দিক থেকে শীর্ষে ছিল পাট খাত (৪.৬ শতাংশ), যার পরে রয়েছে কাগজ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত। বিপরীতে একমাত্র সেবা খাতে দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) চিত্রটি একই ছিল। সেখানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই প্রায় ২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৩২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হলেও মাত্র ৬৮টির দাম বেড়েছে এবং ২৪১টির দর কমেছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১০ কোটি টাকা।


নির্বাচিত

স্বর্ণের দাম ভরিতে এক লাফে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুস থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশোধিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে উন্নত মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। উল্লেখ্য যে, গতকাল পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন থেকে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকায় বিক্রি হবে এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা।

স্বর্ণের দামের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।


নির্বাচিত

সরবরাহ সংকটে খাতুনগঞ্জে চিনির দাম মণে বাড়ল ২০০ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনির দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে যে চিনি প্রতি মণ ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চিনির সরবরাহ কমে গেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামীতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বুকিং দর খুব একটা না বাড়ায় দেশের বাজারে হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

চিনির দাম বাড়ার পেছনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কমেছে এবং কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের চিনির বাজারে একসময় বড় অংশের জোগান দেওয়া এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে তাদের কারখানা বন্ধ রাখায় সরবরাহ ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের বাজারে মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিনি আসছে, যার ফলে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় যোগ হয়ে পাইকারি বাজারে দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আগের মজুত করা চিনি দিয়ে আপাতত বাজার চললেও নতুন উৎপাদন না থাকায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার পথে।

ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটের কথা বললেও এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন বাজার বিশ্লেষক ও ছোট ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চিনির আমদানি উন্মুক্ত থাকায় মিল মালিকদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসানে ফেলে বাজার থেকে সরিয়ে দিয়ে তারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন জানান, হাতেগোনা কয়েকটি শিল্পগ্রুপ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবেই তারা বেপরোয়া হয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন।

সিন্ডিকেটের এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন। তার মতে, বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করেই দাম ওঠানামা করে, এখানে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এদিকে, এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে দেশের অন্যতম চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাজার তদারকির বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ জানান, তাদের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়ার বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

মার্কিন শেয়ারবাজারে ঝুঁকছেন কোরীয় বিনিয়োগকারীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

নিজের দেশের শেয়ারবাজারে পতন এড়াতে বিপুল পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কোরিয়া সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি (কেএসডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসেই তারা নিট ৪৫০ কোটি ডলারের মার্কিন শেয়ার কিনেছেন। বিনিয়োগের এই হার গত জুনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিনিয়োগ করা ৫০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাজার বদলালেও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কৌশল বদলায়নি; নিজ দেশের মতো মার্কিন বাজারে গিয়েও তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ঢালছেন।

কেএসডি জানিয়েছে, জুলাই মাসে কেনা ৪৫০ কোটি ডলারের শেয়ারের মধ্যে প্রায় ৮৪ কোটি ডলারই বিনিয়োগ করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে হাইনিক্স’-এর মার্কিন এডিআর-এ। দেশীয় বাজারে সরাসরি শেয়ার কেনার সুযোগ থাকার পরও মার্কিন বাজার থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি দামে ও উচ্চ অস্থিরতার মধ্যে এটি কেনার প্রবণতাকে ‘অতিরিক্ত ফটকাবাজির লক্ষণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অ্যকাডিয়ান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন ল্যামন্ট। পাশাপাশি কোরীয় বিনিয়োগকারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে তিনগুণ পর্যন্ত রিটার্ন সুবিধাযুক্ত লিভারেজড ইটিএফ (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড)। জুলাইয়ে তাদের কেনা শীর্ষ ১০টি মার্কিন পণ্যের মধ্যে চারটিই ছিল এমন ঝুঁকিপূর্ণ লিভারেজড ফান্ড, যার মধ্যে ‘এসওএক্সএল’ এবং ‘প্রেশেয়ার্স আল্ট্রা কিউকিউকিউ’ উল্লেখযোগ্য।

বিনিয়োগকারীদের এমন বাজার পরিবর্তনের বিষয়ে ফিবোনাচ্চি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জং ইন ইউন জানান, দেশীয় বাজারে সেমিকন্ডাক্টর শেয়ার বা লিভারেজড ইটিএফে লোকসানের পর তুলনামূলক নিরাপদ ও তরল (লিকুইড) বাজার হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিচ্ছেন। রেলিয়েন্ট গ্লোবাল অ্যাডভাইজার্সের গবেষণা প্রধান ফিলিপ উল ব্যাখ্যা করেন, দেশীয় বাজারে যেসব এআই ও হার্ডওয়্যার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল, মার্কিন বাজারে গিয়ে তারা ঠিক একই ধরনের প্রযুক্তির শেয়ার কিনছেন। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বেঞ্চমার্ক সূচক ঘুরে দাঁড়ালেও স্থানীয় খুচরা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, আর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে কেনাকাটা করছেন। কোরিয়ার বাজারে মার্জিন ঋণের পরিমাণও গত জুনের ৩৭ ট্রিলিয়ন ওন থেকে কমে চলতি মাসের শুরুতে ২৭ ট্রিলিয়ন ওনে নেমে এসেছে, যা এ বছরে সর্বনিম্ন।

কোরীয় বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল পুঁজির প্রবাহ মার্কিন শেয়ারবাজারের সার্বিক সূচকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ উল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বারাই বেশি নিয়ন্ত্রিত। তবে ওয়েন ল্যামন্ট সতর্ক করে বলেছেন, সার্বিক সূচকে প্রভাব না ফেললেও নির্দিষ্ট কিছু ছোট শেয়ারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের কারণে মার্কিন ‘কোয়ান্টাম’ শেয়ারের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কোরিয়া, হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের লিভারেজড ইটিএফে এমন আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দরে তীব্র ওঠানামা তৈরি হতে পারে।


নির্বাচিত

বাণিজ্য চুক্তির আশায় কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আগামী তিন দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে শুল্ক কার্যকরের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প এটি স্থগিতের কথা জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও নিজস্ব শ্রমিকদের সুরক্ষায় চুক্তিতে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট বিধানও রাখা হবে বলে জানা গেছে।

হঠাৎ করে শুল্ক স্থগিতের এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেই স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন এই নীতি কার্যকর হলে কানাডা থেকে আমদানি করা ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক এবং হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্কের বোঝা চাপত। এর আগে থেকেই কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপিত রয়েছে। নতুন করে আরও পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ হলে তা উভয় দেশের অর্থনীতিতেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন শর্ত ও দাবি তুলে ধরেছে। কানাডা দীর্ঘদিন ধরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর থেকে বিদ্যমান শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চাওয়া হলো, মার্কিন গাড়ির ওপর কানাডা যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে তা দ্রুত প্রত্যাহার করা। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের চিজ উৎপাদকদের জন্য কানাডার বিশাল দুগ্ধবাজারে আরও বেশি ও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।


নির্বাচিত

এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার অনুমতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এসএস পাওয়ার-১-এর জন্য প্রায় ৩২ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বুধবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। একই সঙ্গে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে পূর্বে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশের অবশিষ্ট প্রায় ৩২ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় এবং প্রতিষ্ঠানটির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে পূর্বে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংকের অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ছাড় এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতেও এ খাতে রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষর করেছেন। একই বিষয়ে বিআরপিডি-২ বিভাগের পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার স্বাক্ষরিত সার্কুলার দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close