ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি বলেন, বিশাল এ বাজেট বাস্তবায়নে অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণসহ রিজার্ভ বাড়ানো, ডলার সংকট, এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স সবকিছুর গতি নিম্নমুখী। অথচ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী।
শনিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন বলেন, আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। বিশাল আকারের এই রাজস্ব সংগ্রহ করা সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বিশ্বে বিভিন্ন সংকটের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া।
উন্নত রাষ্ট্রে পৌঁছাতে দেশের অর্থনীতির আকার স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন, ২০৩১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পৌঁছাতে দেশের অর্থনীতির আকার স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এজন্য দেশের বাজেটের আকারও বাড়ছে। বাজেটের আকার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৭৯ হাজার ৬১৪ কোটির তুলনায় সাড়ে নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রস্তাবিত ২০২৩-১৪ অর্থ বছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। বাজেটে জাতীয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে বাজেটের আকারও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের এই আকার অবাস্তব নয়। দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাজেটের আকারও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। তার মধ্যে কর থেকে রাজস্ব আসবে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অংশ ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য রাজস্ব ৭০ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত রাজস্বের মধ্যে মৃসক থেকে সংগ্রহ করা হবে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ, আয়কর থেকে আসবে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ , সম্পূরক শুল্ক থেকে আসবে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, আমদানি শুল্ক থেকে আসবে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য কর ১ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজেটি স্মাট বাংলাদেশ গড়তে বাজেট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, উন্নয়নের অভিযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রা শিরোনামে বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নামেন্ট, স্মার্ট ইকোনমি এবং স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তোলার দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা, দূরদর্শী, বিচক্ষণ পরিকল্পনা এবং আন্তরিক প্রয়াস আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সুদৃঢ় করেছে। গত ১৪ বছরে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। জিডিপির আকার অনুযায়ী ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ছিলো বিশ্বের ৬০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশ আজ বিশ্বে ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ১১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট সময়কালীন এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল ক্রয়ে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত পৃথক চারটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারটি ভিন্ন প্যাকেজে এই পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। প্রথম প্যাকেজের আওতায় সিঙ্গাপুরের ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহ করবে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন গ্যাস অয়েল ০.০০৫% ‘এস’ এবং ৯০ হাজার টন জেট এ-১ জ্বালানি রয়েছে। এই লটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড সরবরাহ করবে ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন তেল। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন গ্যাস অয়েল এবং ৮০ হাজার টন জেট এ-১ রয়েছে, যাতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
অন্যান্য জ্বালানির মধ্যে তৃতীয় প্যাকেজের আওতায় সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৯০০ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ১৮০ সিএসটি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া চতুর্থ প্যাকেজের অধীনে ভিটল এশিয়া থেকে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন-৯৫ আনলোডেড আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী জানুয়ারি-জুন সময়ের তুলনায় বর্তমান মেয়াদে জ্বালানি আমদানির প্রিমিয়ামের হারে বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা গেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গ্যাস অয়েলের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং জেট এ-১ এর ক্ষেত্রে প্রায় ৫৪ শতাংশ। এছাড়া ফার্নেস অয়েল ও গ্যাসোলিনের প্রিমিয়ামও ৪৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার এই বিশাল অংকের ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটির সুপারিশ ও প্রতিযোগিতামূলক দরের ভিত্তিতেই সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পূর্বমুহূর্তে দেশের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও দোদুল্যমান প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের সতর্কাবস্থা বিরাজ করায় বুধবার (১০ জুন) সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে বাজারে বড় উত্থান ও পুনরায় পতনের যে চক্র চলছে, আজ দরপতনের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা থাকলেও শেষ দিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রির চাপে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটে। দিনশেষে ডিএসইতে ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের দর। এর ফলে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য কমলেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের অংকের দিকে তাকালে দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে ১ হাজার ২১০ কোটি ৫ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম বাড়লেও মৌলভিত্তি সম্পন্ন বড় কোম্পানিগুলোর দরপতন সূচকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট এবং এনসিসি ব্যাংক। এছাড়া শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল পিপলস ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও জেনেক্স ইনফোসিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতনের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৩ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে অংশ নেওয়া ১০৮টির দাম বাড়লেও ৯৯টির দাম কমেছে এবং সেখানে প্রায় ২৪ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। মূলত বাজেটে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সম্ভাব্য ঘোষণাগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের সংশয় কাজ করায় বাজারে এমন অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক আসর ‘দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি ও রপ্তানি মেলা ২০২৬’-এ মর্যাদাপূর্ণ ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। দেশটির ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আজ থেকে এই ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছেন। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে যে, থিম কান্ট্রি হওয়ার সুবাদে এবারের আসরে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। মেলার প্রথম দিনে মূল উৎসবের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হবে। আয়োজনের দ্বিতীয় দিনটিকে ‘বাংলাদেশ ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও ইউনান প্রদেশের গভর্নরসহ বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মেলায় স্থাপিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের পাশাপাশি বাহারি হস্তশিল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্রেতা, আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে নতুন বাণিজ্যিক বাজার সৃষ্টি এবং চীনের বাজারে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে এই মেলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য স্থানীয় উৎস থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই পরিমাণ ডাল সংগ্রহের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এই ডাল সরবরাহ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টিসিবির মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সারাদেশে টিসিবির উপকারভোগীদের মাঝে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতেই নতুন করে এই ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা, তবে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করায় তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থানীয় পাইকারি বাজারে একই মানের মসুর ডালের গড় মূল্য যেখানে প্রতি কেজি ৮৪ টাকা, সেখানে টিসিবি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে তা সংগ্রহ করছে। এমনকি অস্ট্রেলিয়া বা ভারত থেকে আমদানিকৃত ডালের তুলনায় স্থানীয় উৎস থেকে এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সরকারের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজিতে খরচ পড়ত প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা পর্যন্ত।
বর্তমানে টিসিবির গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আগামী ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত কার্যক্রম সচল রাখতে বড় অংকের ডালের প্রয়োজন হবে। টিসিবির চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এই ক্রয় প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় মনে করেছে সরকার। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করাই এই সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য।
মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মরক্কোর ওসিপি ন্যুট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে দুই পৃথক লটে এই সার সংগ্রহ করা হবে। এই বিপুল পরিমাণ সার আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৫২২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৫ টাকা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার কেনা হবে। এই ধাপে প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার এবং এতে মোট ব্যয় হবে ২৫৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় আরেকটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই লটের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৭২৬ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার এবং এর ফলে এই ধাপে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ১৭৫ টাকা। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুততম সময়ে এই আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরাসরি সরকারি পর্যায়ে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের কার্যদিবসে তেলের দাম কমে গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছালেও বুধবার (১০ জুন) বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার তথ্য বাজারে এই উর্ধ্বমুখী প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার লেনদেন শুরুর পর লন্ডন বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৩ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.২৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতির নতুন তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো হ্রাস পেয়েছে। গত ৫ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে তেলের মজুত ৯১.২ লাখ ব্যারেল এবং পেট্রোলের মজুত ১১.৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি পণ্যের রফতানি বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ মজুত কমে আসায় সেই সক্ষমতা এখন হুমকির মুখে। রফতানি ব্যাহত হওয়ার এই আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দামকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের (তেজাবী স্বর্ণ) মূল্য হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা। এর আগে এ মানের স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি স্বর্ণের মূল্যে তৃতীয় দফা পতন। গত ২ জুন ও ৬ জুন দুই দফায় দাম কমানোর পর আজ আবারও মূল্য হ্রাস পাওয়ায় তিন দফায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম মোট ১৫ হাজার ৩৩৯ টাকা কমেছে।
স্বর্ণের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রূপার দামও কমিয়েছে বাজুস। সবচেয়ে ভালো মানের রূপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের সমন্বয় এবং তেজাবী স্বর্ণের দাম হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন দাম বুধবার সকাল থেকেই সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেনের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল সোমবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৩২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। গত বছরের জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে সাত দশমিক ৯২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৮ জুন পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে তিন হাজার ৩৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮৪১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে নতুন অর্থবছরে বিড়ির দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
রাশেদা বেগম হীরা জানতে চেয়েছিলেন, তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি, বিশেষ করে বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রেখে অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হবে কিনা।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার আগের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সুসংহতকরণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের একটি বিশাল ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেন। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই আর্থিক সহায়তা মূলত ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঋণ সহায়তা দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে বেগবান করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’-এর আওতায় এটিই প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করা। একই অনুষ্ঠানে নোট বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
প্রদত্ত এই ঋণ কর্মসূচির দুটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে, যার একটি হলো জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যটি অর্থনৈতিক সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার মতো নীতিগত পদক্ষেপগুলোতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা এবং দেশব্যাপী স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। জ্বালানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে জাইকা। মূলত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাইকার এই অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এক কার্যদিবসের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার আবারও বড় ধরণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তায় বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বিমা খাত। এদিন অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে দিনশেষে মূল্যসূচক ও লেনদেনের অংকে বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই উত্থানের মাধ্যমে গত ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ দিনই শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী থাকল।
মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের দাপট আরও বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ১০০টি এবং ৫১টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে বিমা খাতের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টিরই দাম বেড়েছে। এই ব্যাপক উর্ধ্বগতির প্রলেপে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও এদিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক, যার ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি 'জেড' গ্রুপের ৫৩টি এবং মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে এবং ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার দ্রুত তার ক্ষতি কাটিয়ে উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ক্রেতাদের সক্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহই এই উত্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দেশের বেকারত্ব নিরসন এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে সরাসরি বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প না থাকলেও অত্যন্ত সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য বিনা জামানতে ঋণের পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে বড় অংকের অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ ও পেশাদার উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থান করেন। তরুণদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রকল্প আছে কি না—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।”
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মন্ত্রী সংসদকে জানান যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে নবাগত উদ্যোক্তারা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জামানত সাপেক্ষে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসারে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।” কেবল ঋণই নয়, বরং সরাসরি বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানও গঠন করা হয়েছে যেখান থেকে নতুন উদ্যোগগুলো ইক্যুইটি সহায়তা নিতে পারবে।
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান যে, ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর আওতায় বিভিন্ন জেলায় মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য অংশগ্রহণকারীদের কোনো ফি দিতে হয় না; বরং সফলভাবে কোর্স শেষ করলে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে বিশ্বজুড়ে চলমান বিপুল বিনিয়োগ একদিকে যেমন অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। মূলত বিশাল সব ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নির্মাণ উপকরণের আকাশচুম্বী ব্যয় এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই পরিষেবা এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তিন হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার সচল রয়েছে এবং আরও প্রায় দেড় হাজার কেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতটির বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুগল, আমাজন, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ করছে। চলতি বছরেই এ খাতে মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ৬৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি। এই বিশাল ব্যয় প্রবাহ বাজারব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
তবে অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করতে পারে বলে রিস্টাড এনার্জি পূর্বাভাস দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে নির্মাণাধীন ‘স্টারগেট’ প্রকল্পের জন্য প্রায় সাত গিগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, যা খোদ নিউইয়র্ক শহরের মোট চাহিদার চেয়েও বেশি। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদ্যুতের চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পর কেবল ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণেই গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় চাহিদা ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসন।
অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় চিপ, স্টিল ও কংক্রিটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। যদিও কিছু অর্থনীতিবিদ এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাময়িক বলে মনে করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এআই-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আশা রাখেন, তবে নীতিনির্ধারকদের বড় অংশই বর্তমানে চিন্তিত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআই প্রযুক্তির সুফল অর্থনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি বাজার ব্যবস্থায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা নিরূপণ করা। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় এআই-এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।