শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

পাইকারিতে পেঁয়াজের দামে পতন, খুচরায় কমেনি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৭ জুন, ২০২৩ ০০:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ০০:০২

আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ না করতেই ঝাঁজ কমছে এই কৃষিপণ্যের। চলতি সপ্তাহে ৯০ টাকা দামে বিক্রি হওয়া এই পণ্য রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে।

দাম কমার এ প্রভাব পাড়া-মহল্লায় এখনো পড়তে শুরু করেনি। মহল্লার খুচরা বাজারে এখনো বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দরে। তবে খুব শিগগির ৫০ টাকায় নেমে আসবে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

আমদানির ঘোষণা দেয়ার পরপরই হঠাৎ দাম পড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক ব্যাখা দিতে পারছেন না আড়তদাররা। তাদের দাবি, ভারতীয় পেঁয়াজ প্রবেশের ফলে দাম পড়ে গেছে। এত দামের পেছনে মজুতদাররা জড়িত তা মানতে নারাজ পেঁয়াজের আড়তদাররা। তাদের দাবি, কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ার জন্য মাল বিক্রি করত না। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রবেশে চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারে ৫০ টাকার কমে চলে আসবে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢুকেছে। ভারত থেকে আনা পেঁয়াজের দাম কেজিতে পড়ছে ১৪ থেকে ১৭ টাকা।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল পেঁয়াজ। গত মাসে হঠাৎ দাম বাড়তে শুরু করে। তারপর সপ্তাহ ব্যবধানে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি প্রতি বাড়তে থাকে। পাশাপাশি এ মাসেই কোথাও কোথাও সেঞ্চুরি অর্থাৎ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় মসলা জাতীয় এ পণ্য।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার কথা। গত রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারে ঢোকার আগেই চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ভোগ্য পণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম এক রাতে ৩০ টাকা কমে গিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে পণ্যটি বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। সাতক্ষীরায় বর্তমানে খুচরা বাজারে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে আজ বুধবার থেকেই ৬০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হবে বলে আশা পাইকারী ব্যবসায়ীদের।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে কদিন আগে ৯০-৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা দরে। দিনাজপুরে ৮০ টাকার পরিবর্তে মাত্র ৩৭ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে ঢাকার শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। খুচরা দোকানে এই রেশ পড়ে নাই। তাই নগরীর খুচরা দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা নওয়াব আলী দৈনিক বাংলাকে জানান, প্রতি পাল্লা অর্থাৎ পাঁচ কেজি পেঁয়াজ চার শ টাকায় বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ‘মাঝখানে কেজি এক শ বেচছি এক শ টাকা। বিশ টাকা কমছে। তবে ওহন ক্রেতাও কমছে।’

পেঁয়াজের দাম সামনে ৫৫ টাকায় নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. শুভ। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আশা করি দাম আরও কমবে। এহন দেশি বাছাডা ৮০ টাকা কেজি বেচি। পাল্লা ৪০০ টাকা। ছোট-বড় দেশি এই পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি বেচতেছি। পাল্লা ৩৫০ টাকা। দুই-একের ভিতরে আরও দাম কমবো।’

এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এহন কেজিতে কমছে মনে করেন বিশ টাকা। ৬০ থেকে ৫৫ টাকায় আসতে পারে। আগে তো ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ছিল না। তাই দাম বেশি।’

শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির সহসভাপতি ও রাজবাড়ী ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শ্যামবাজারে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে।’

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেট করে মজুতদাররা এই দাম বাড়িয়েছে বলে মনে করেন না এই ব্যবসায়ী। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কৃষকরা দাম ছাড়তে চায় নাই। তারাও দাম বাড়াইয়া দিছিলো। শুধু মজুতদাররা জড়িত না।’

খাতুনগঞ্জে ৫০ টাকায় পেয়াঁজ
আমদানি অনুমতির এক দিন পর পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি কমেছে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা। গত মঙ্গলবার দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে পণ্যটি বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে আমদানি করা মালবাহী গাড়ি চট্টগ্রামে পৌঁছালেও গতকাল রাত আটটার আগে শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত আমদানি করা কোনো পেঁয়াজ ঢোকেনি চট্টগ্রাম শহরে।

চাকতাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘আমরা গতকাল ৬০ টাকা বিক্রি করলেও আজ দাম আরেকটু কমেছে। আজকে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতেছি আমরা। এখনো তো আমদানির পেঁয়াজ আসেনি। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম কমে গেছে। পুরোপুরি পেঁয়াজ এলে ৪০ টাকারও নিচে নেমে যাবে দাম।’

পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কমার প্রভাব ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারেও। মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজারে ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।

নগরীর অক্সিজেন এলাকায় ৯০ টাকা দরে পণ্যটি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ী ইলিয়াস। তিনি বলেন, ‘আমি আগে কিনেছি পেঁয়াজ, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমনিতে যারা নতুন আনতেছে, তারা কম নিচ্ছে। আমদানির কারণে দাম কমেছে।’

এদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসার আগেই পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম ৪০ টাকা কমে যাওয়ার ঘটনা বাজার নিয়ন্ত্রণের সিন্ডিকেটের কারসাজিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।

তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমদানির পেঁয়াজ বাজারে ঢোকার আগেই ৪০ টাকা দাম কমে গেছে। এর মানে হলো তারা চাইলে আমদানির ঘোষণার আগেও পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারত। এটা স্পষ্টতই সিন্ডিকেটের বিষয়টি প্রমাণ করে। আমরা যতই বলি, বাজার মনিটরিংয়ের কেউ নেই আসলে। সরকারি কর্মকর্তারা শুধু বসে বসে দেখেন।’

ভোমরা দিয়ে প্রবেশ করেছে ৯২০ টন ভারতীয় পেঁয়াজ
পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রাপ্তির দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২৭টি ট্রাকে ৯২০ টন ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান জানান, ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দর দিয়ে সোমবার ১১টি ট্রাকে ৩৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করলেও গতকাল মঙ্গলবার তা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ট্রাকে দাঁড়াবে।

সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচা ও পাকামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আগামীকাল থেকে আমরা ৬০ টাকায় খুচরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারব। আর এলসি ঢুকে গেলে এমনিতে পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৪০ টাকা
ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। দুদিনের ব্যবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে ৪০ টাকা।

সোমবার বিকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেয়াঁজবাহী ট্রাক আসা শুরু হয়। সোমবার ভারত থেকে ৫৬ ট্রাকে ১ হাজার ৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পযন্ত এ বন্দর দিয়ে ১৩৩ ট্রাকে ২৭৭৭ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহরের পুরাতন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে কদিন আগে ৯০-৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা দরে।

দিনাজপুরে ৩৭ থেকে ৪৩ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ!
দিনাজপুরে ৮০ টাকার পরিবর্তে মাত্র ৩৭ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজ আমদানির ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) অনুমোদন দিলে প্রথম দিন দেশের অন্যতম স্থলবন্দর হিলি দিয়ে গত সোমবার ভারতীয় তিনটি ট্রাকে ৬৩ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর থেকে টানা ৮২ দিন বন্ধ ছিল ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি। এতে ৪০ টাকা থেকে দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে।

মঙ্গলবার বিকেলে হিলি পানামা পোর্ট লিংক ঘুরে দেখা যায়, বন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক। এসব ট্রাকে ভারত থেকে এসেছে আমদানি করা নাসিক, ইন্দ্রোর ও মধ্য প্রদেশের পেঁয়াজ। বন্দর থেকে এসব পেঁয়াজ কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা ট্রাকের আশপাশে ভিড় জমিয়ে আছে। আমদানিকারক এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দরদাম করতে ব্যস্ত তারা সকলে। পাইকারি বাজারে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কোয়ালিটিভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। যা খুচরা বাজারে ৩৭ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

গাজীপুর থেকে পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তৌফিক হাসান নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহ করি। টানা প্রায় তিন মাস সময় পেঁয়াজের আমদানি ছিল না। দীর্ঘদিন পর আজ হিলি বন্দরে এসেছি পেঁয়াজ কিনতে। চার ট্রাক পেঁয়াজ কিনব। দরদাম করছি।’

পেঁয়াজ আমদানিকারক আবুল হাসানাত বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পেঁয়াজ আমদানি না থাকায় পেঁয়াজের দাম স্থবির হয়ে পড়েছিল। যথাসময়ে সরকার পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বন্দর।’

বিষয়:

বৃষ্টির অজুহাতে সবজির বাজার চড়া, টমেটোর ডবল সেঞ্চুরি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল থেকে রাজধানীতে ভারী বর্ষণের কারণে সবজির বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম আগের থেকে কিছুটা বেশি দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব ধরনের সবজিই বিক্রি হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি দামে। টমেটো ২০০ টাকা কেজি এবং পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এ ছাড়া প্রতিকেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৫০- ১৭০ টাকায়, শসা ৮০-১২০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ২৬০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে হঠাৎ করে বেগুনের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। লম্বা বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৮০-১০০ টাকায়। আর সবুজ গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০- ১০০ টাকায়। কালো গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর মেরাদিয়া হাট বাজার, গোড়ান বাজার, খিলগাঁও রেলগেট কাঁচাবাজারসহ বেশকিছু বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, কাঁকরোল ৮০-৯০ টাকায়, পেঁপে ৫০-৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৭০- ৮০ টাকায়, পটল ৫০-৬০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৮০ টাকা, বরবটি ১০০- ১২০ টাকায়, কচুর লতি ৮০- ১০০ টাকায়, কচুরমুখী ১০০- ১২০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায়। প্রতিটি লাউ ৭০- ৮০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা করে।

সবজির বাজারে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দাবি করছেন, বন্যায় ও বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাজারে নাকাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। প্রতিনিয়তই বাজারে এসে হিমশিম খেতে হয় সাধারণ মানুষের।

প্রায় দেড় মাস ধরে কোরবানির ঈদের আগে থেকেই বাজারে পেঁয়াজের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়।

দক্ষিণ বনশ্রীর এলাকার এক মুদি দোকানি জানান, গত সপ্তাহ দেশি পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা হয়েছে। এই দাম শুনলে ক্রেতারা তেমন একটা কিনতে চায় না। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কম হলেও বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে নিম্নমানের ভারতীয় পেঁয়াজ মিশিয়ে বিক্রি করছেন অনেকে। ফলে দেশি পেঁয়াজের দামে বিক্রি হচ্ছে কম দামি ভারতীয় পেঁয়াজ। যদি ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যেত তাহলে দাম হতো সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত।


সাত দেশ থেকে পরিশোধিত তেল কিনবে সরকার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জি-টু-জি চুক্তির আওতায় বিশ্বের ৭টি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধিত তেল কিনবে সরকার। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ের প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী এ ক্রয় প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সচিব বলেন, তেল কেনার আগে একটু নেগোশিয়েট করে রাখতে হয়৷ আমরা কোন কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ জ্বালানি তেল কিনব এসব বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এ ক্রয় প্রস্তাবের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৪ দশমিক ৪৫ কোটি টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ওকিউটি ওমান, পিআইএলসিএল মালয়েশিয়া, পিআইটিটি থাইল্যান্ড, এনকো আরব আমিরাত, পেট্রো চায়না, চীন, বিএসপি ইন্দোনেশিয়া, ইউনিপেক চীন এবং আইওসিএল মালয়েশিয়া।


রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে আমিরাত, সৌদি চতুর্থ

আমিরাত থেকে এসেছে ৪৬০ কোটি ডলার
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৪ ১২:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭৪-৭৫ অর্থবছর থেকে প্রতিবারই সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। কিন্তু এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম; ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছর সৌদিকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। রেমিট্যান্স আহরণের তালিকায় সৌদি আরব নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে। দ্বিতীয় স্থান বহাল রেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র; তৃতীয় যুক্তরাজ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে রেমিট্যান্স প্রবাহের দেশভিত্তিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সৌদি আরবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রেমিট্যান্স এসেছে আমিরাত থেকে। এই অর্থবছরে সৌদি থেকে ২৭৪ কোটি ১৫ লাখ (২.৭৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছে। আমিরাত থেকে এসেছে ৪৬০ কোটি (৪.৬ বিলিয়ন) ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ২৯৬ কোটি ১৬ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরের প্রতি মাসেই সৌদির চেয়ে আমিরাত থেকে বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। সবচেয়ে বেশি এসেছে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে। এ মাসে আমিরাতে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ৫৩ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। সৌদি আরবের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩২ কোটি ৩ লাখ ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ২৭৯ কোটি ৩২ লাখ (২.৭৯ বিলিয়ন) ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৩৭৬ কোটি ৫৩ লাখ (৩.৭৬ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আরব আমিরাত থেকে এসেছিল ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ কম, ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ (৩.০৩ বিলিয়ন)। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে যথাক্রমে ৩৫২ কোটি ২০ লাখ (৩.৫২ বিলিয়ন) ও ২০৮ কোটি ৪ লাখ ডলার।

তার আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) সৌদি থেকে ৪৫৪ কোটি ১৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। আমিরাত থেকে এসেছিল অর্ধেকেরও কম, ২০৭ কোটি ১৮ লাখ (২.০৭ বিলিয়ন) ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে এসেছিল যথাক্রমে ৩৪৩ কোটি ৮৪ লাখ (৩.৪৩ বিলিয়ন) ও ২০৩ কোটি ৯২ (২.৩ বিলিয়ন) লাখ ডলার। ওই দুই অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের উৎস ছিল আরব আমিরাত। দ্বিতীয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

হিসাব বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের পাঁচ ভাগের এক ভাগই এসেছে আরব আমিরাত থেকে। সৌদি আরবের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে আরব আমিরাত থেকে; যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি এসেছে ৫৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। ৬৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি এসেছে যুক্তরাজ্যের চেয়ে।

গেল অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে আগের অর্থবছরের (২০২২-২৩) চেয়ে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে আমিরাত থেকে বেড়েছে ৫১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে যুক্তরাজ্য থেকে বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২০ শতাংশই এসেছে আরব আমিরাত থেকে। উপসাগরীয় এই দেশটি বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যদিও বিনিয়োগের অর্থ কীভাবে পাঠানো হয়েছে তা জানা যায়নি। কারণ কেবল হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছে।

অনেকে অবৈধভাবে আরব আমিরাতে টাকা পাচার করে সেখানে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আরব আমিরাতের সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর দুবাই ও রাজধানী আবুধাবি বর্তমানে অর্থ পাচারের জন্য বিশ্বের ধনীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। আরব আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা সৌদি আরবের চেয়ে অর্ধেক।

আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফনের আভাস ২০২২-২৩ অর্থবছরেই পাওয়া গিয়েছিল। ওই অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার (৩.০৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাজ্যের ফেডারেশন-সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাতটি রাজ্যের নাম হলো- আবুধাবি, আজমান, দুবাই, ফুজাইরা, রাস আল খাইমা, আশ শারজাহ এবং উম্ম আল কোয়াইন। প্রতিটি রাজ্যের শাসনব্যবস্থা বংশগত রাজতন্ত্র এবং প্রতিটি রাজ্যের শাসনকর্তার পদবি হলো ‘আমির’।

ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী আবুধাবির আমির সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে দুবাইয়ের আমির হলেন প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান।

আবুধাবি শহর এই ফেডারেশনের রাজধানী। আবুধাবি ফেডারেশনের বৃহত্তম রাজ্য, যা মোট ভূমির তিন-চতুর্থাংশের বেশি অংশ নিয়ে গঠিত। দুবাই এই ফেডারেশনের বৃহত্তম ও জনবহুল শহর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র।


৫ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় আসছে: শিল্পমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আনতে যাচ্ছে সরকার। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দও আগের চেয়ে বেড়েছে।

মন্ত্রী রেবাবার নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দেশের অসহায় মানুষ আজ আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনেক কিছু। এই টাকা একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলমের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. ফারহানা আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুশফিকুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস, সহকারী পরিচালক নঈম জাহাঙ্গীর ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা সুরভী আফরোজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার ২০৬ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।


'দক্ষ কর্মী তৈরিতে ১০০ কোটি টাকা দিতে আগ্রহী দ. কোরিয়া'

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশে দক্ষ কর্মী গড়তে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোইকার প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘কোইকা চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও চাহিদানির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়তে আর্থিক সহায়তা করবে বলে প্রস্তাব করেছে।’

‘আমরা প্রস্তাবটিকে ভালো মনে করছি। এ জন্য দ্রুত তাদের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি,’ বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষ জনবল গড়তে কোরিয়ার এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও যুগোপযোগী করবে।’

‘এসব কেন্দ্র আমাদের জনবলকে দক্ষভাবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল আলম, বিএমইটির মহাপরিচালক সালেহ আহমেদ মোজাফফর, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাইয়ং কিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি


পুঁজিবাজারে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ জুলাই, ২০২৪ ১২:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। ওই সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬১৭ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৪২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৮ পয়েন্ট হয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৩৫৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯২৩ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৮৪ পয়েন্ট। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৯টির, কমেছে ২৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪০টির দর। এ ছাড়া লেনদেন হয়নি ১৯টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পাওয়ার গ্রিড, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) শেয়ার। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১০ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। এর মধ্যে সেবা খাতে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৮ দশমিক ১, কাগজ খাতে ৬ দশমিক ২, ভ্রমণ খাতে ৬ দশমিক ১ এবং সাধারণ বিমা খাতে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৪৬৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৮৯ পয়েন্টে।

সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯ হাজার ৮৬ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৭টির, কমেছে ৬৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির বাজারদর। সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৬৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩০৮ কোটি টাকা।


পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বড় উত্থান হয়েছে। একদিনেই এক্সচেঞ্জটির সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ৩১টি বাদে সবগুলোর দর বেড়েছে। দর বৃদ্ধির এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন ফান্ড নিয়ে ক্রেতার উপস্থিতিও বেড়েছে। যাতে এক্সচেঞ্জের লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জের লেনদেন আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) রিফান্ডের টাকা আজ পুঁজিবাজারে এসেছে। এতে তারল্য বৃদ্ধির সুবাদে সূচক ও লেনদেন বেড়েছ। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সরকারি কর্মকর্তারা বিনিয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছে। এতে সামনে বাজারে তারল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। এ বিষয়গুলো আজ বাজারের উত্থানে সহায়ক ভূমিক হিসেবে কাজ করেছে।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, ‘বাাজারে আইপিও রিফান্ডের টাকা এসেছে। যারা অনেক কম দামে শেয়ার বিক্রি করে আইপিওতে আবেদন করেছিল। তারাই অনেক বেশি দাম দিয়ে শেয়ার কিনছে। এতে আজ সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।’

অন্য আরেক বিশ্লেষক বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা সবাই বিনিয়োগকারী। তবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে হয়। এখন যদি আইন করে সবাইকে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় তা পুঁজিবাজারে জন্য খুবই ভালো সিদ্ধান্ত হবে।’

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেন শেষে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সূচকটি ৭ সপ্তাহ পর আবারো সাড়ে ৫০০ হাজারের কাছাকাছি এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আজ সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেস্ট হোল্ডিংস এবং রেনাটা লিমিটেডের শেয়ার। এছাড়া গ্রামীনফোন, খান ব্রাদার্স, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডের শেয়ারও ডিএসইর সূচক বৃদ্ধি ভালো অবদান রেখেছে। এদিন ডিএসইর সবগুলো খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারে, ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। আর ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) শেয়ারগুলো।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯১টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৫টির। এর মধ্যে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চসীমায় বেড়েছে। বিপরীতে এদিন দর কমেছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের। আর ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে আজ দিনভর ঢাকার এ পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ৭৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ। যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এদিন লেনদেন বেড়েছে ২৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ৪২ দশমিক ৯১ শতাংশ। আজ এ লেনদেন ছিল ডিএসইতে চলতি বছরের ১৩ মে’র পর সর্বোচ্চ লেনদেন। আজ ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে, ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন ছিল বস্ত্র খাতের দখলে। আর ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ১০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন অবদান রেখেছে।


ডিএসইর লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার ঘরে

প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে উঠে এসেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ জুলাই, ২০২৪ ১৩:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের পর দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আবার পতন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাশের দিন পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সূচকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও কমেছে অপর দুই সূচক। তবে বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। আর ৭০০ কোটি টাকার ঘরে চলে আসা লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে গেছে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বাড়লেও কমেছে বাছাই করা সূচক। তবে এ বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। অবশ্য ডিএসই’র মতো এ বাজারটিতেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

এদিন পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সবকটি সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার ধারণা অব্যাহত থাকায় এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৯ পয়েন্ট কমে যায়।

তবে লেনদেনের শেষদিকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকা থেকে দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। ফলে এদিকে দাম বাড়ার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে প্রধান মূল্যসূচক বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক মিশ্র থাকার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমে এসেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এ লেনদেনে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছে বিচ হ্যাচারির শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্যালভো কেমিক্যালের ১৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মালেক স্পিনিং, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইসিবি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট নিটিং এবং জেমিনি সি ফুড।

অপরদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮২টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।


স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৪ টাকা কমল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমার কারণে পাঁচ দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার ২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১ জুলাই) থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা সোমবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে। গতকাল রোববার (৩০ জুন) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে নতুন করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার ২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৬ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১১ হাজার ৯৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৪ টাকা কমিয়ে ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৭২৪ টাকা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৩৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দুই হাজার ১০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দুই হাজার ছয় টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জুন সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১২ হাজার ৯৭৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ১৪৩ টাকা বাড়িয়ে ৯৬ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৯৪৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ হাজার ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তার আগে গত ১২ জুন সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৭৩ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ৯৫৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৬ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১১ হাজার ৬৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৪ টাকা বাড়িয়ে ৯৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৭৩৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তারও আগে গত ৯ জুন সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৯৫ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৩৬ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১০ হাজার ৬১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ৯৪ হাজার ৮১৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।


অর্থবিলে ৭ পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জুলাই, ২০২৪ ১৪:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা বহাল ও সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে সরে আসাসহ বেশকিছু পরিবর্তন এনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য অর্থবিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গত শনিবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে পাস হয় বিলটি। বিলটি পাসের আগে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য সংশোধনী আনেন। এর মধ্যে কিছু সংশোধনী অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গ্রহণ করেন। অন্যগুলো তিনি গ্রহণ করেননি। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদন করেন সংসদ সদস্যরা।

অর্থবিলে প্রস্তাবিত বাজেটে দেওয়া ৭টি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ: ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ সাপেক্ষে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল সরকার। চার বছর পর এবার আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলো। অর্থবিলে ওই সুযোগ রাখা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে যাই থাক না কেন কোনো করদাতা স্থাবর সম্পত্তি যেমন- ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও ভূমির জন্য নির্দিষ্ট করহারে এবং নগদসহ অন্যান্য পরিসম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ কর পরিশোধ করলে কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। ফলে ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই ছাড়াই কালো টাকা সাদা করতে পারবেন।

এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা বহাল: বর্তমানে সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করতে পারেন। বৈষম্য হ্রাসে এবারের বাজেটে এই সুবিধা বাতিল করে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। গত ৬ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে সব প্রকার শুল্ক কর অব্যাহতি বিদ্যমান রয়েছে। কর অব্যাহতি সুবিধা কিছুটা হ্রাস করে কেবল আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং মূসক (মূল্য সংযোজন কর) ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করে অন্যান্য সব শুল্ক-করাদির অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করছি। এজন্য বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার সুপারিশ করছি। কিন্তু আইনগত জটিলতা ও এমপিদের দাবির মুখে ওই প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার। সংসদে পাস হওয়া অর্থবিল ২০২৪ অনুযায়ী, আগের মতোই শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করতে পারবেন সংসদ সদস্যরা।

সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশই থাকছে: ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল প্রস্তাবিত বাজেটে। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে সরে এসে আগের মতো ২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেবল ব্যক্তিগত একাধিক গাড়ি থাকলে সারচার্জ: প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কোম্পানির কাজে ব্যবহৃত একাধিক গাড়ির পরিবেশ সারচার্জ তুলে দিলেও শুধু ব্যক্তিগত গাড়িতে বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য পরিবেশ সারচার্জের হার ২৫ হাজার টাকা, ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৫০ হাজার, ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৭৫ হাজার, ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দেড় লাখ টাকা, ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা এবং এর চেয়েও বেশি সিসি বা কিলোওয়াট হলে অর্থাৎ সাড়ে তিন হাজার সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা সারচার্জ দিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন করমুক্ত: সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় পেনশন বাবদ যে কোনো আয় এবং পেনশন স্কিমে প্রদত্ত যে কোনো পরিমাণ চাঁদা করের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে অর্থবিলে। তবে কোম্পানি, তহবিল ও ট্রাস্ট কর্তৃক অর্জিত মূলধনি আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর বসছে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই বিধান রাখা হয়েছিল।

কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ায় কর শুধু সিটিতে: অর্থবিলে সারা দেশে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাব সংশোধন করে শুধু সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানির মতো তহবিল ও ট্রাস্টের মূলধনি আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স বসানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর অবকাশ সুবিধা বহাল: অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্কে মূলধনি যন্ত্র আমদানি শুল্কমুক্তই থাকছে। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব করেছিলেন। রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোতে বিনিয়োগে কর অবকাশ সুবিধার কথা জানিয়েছিল সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে সরকার।

অর্থ বিলে বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনার পাশাপাশি কিছু নতুন প্রস্তাবও পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আয় পুরোপুরি করমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন করদাতা কোনো অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি কর দিলে ওই করদাতার নথি নিরীক্ষায় ফেলা হবে না। এ ছাড়া ট্রাস্টের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর বসবে। এবারের বাজেটে এসব যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর ১ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার শিরোনামে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে

রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৮ কোটি ডলার
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জুলাই, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক রপ্তানি আয় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বাড়লেও অপ্রচলিত বাজারে আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত অপ্রচলিত বাজার থেকে পোশাক পণ্যের রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১৮ কোটি ডলার, যা একই সময়ে আগের বছরে ছিল ৭৬৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। মোট রপ্তানি আয়ের ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এসেছে নতুন বাজার থেকে।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাকের পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে জাপান থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাপান থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৪৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। আগের বছর রপ্তানি হয়েছিল ১৪৫ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেখান থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকলেও রাশিয়া থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরে ছিল ৪০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক অংশীদার ভারতে পোশাক পণ্যের রপ্তানি কমেছে ২৩ দশমিক ১১ শতাংশ এবং আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরে ছিল ৯৫ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের এক নম্বর বাণিজ্যিক অংশীদার চীনে রপ্তানি বেড়েছে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরে ছিল ২৫ কোটি ২ লাখ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৩ লাখ ডলার, যা গত বছর ছিল ১৭ কোটি ২ লাখ ডলার কোরিয়ায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ১১ মাসে আয় হয়েছে ৫৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার। গত বছর পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের ৪৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি আয় ইতিবাচক থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ। জুলাই-মে সময়ে আয় হয়েছে ২ হাজার ১৬৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। প্রথম ১১ মাসে আয় হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। গত বছর একই সময় আয় হয়েছিল ৭৭৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আয় হয়েছে ৫১৬ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ৪৫৯ কোটি ডলার।

পোশাক পণ্যের রপ্তানি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘প্রচলিত বাজারের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানির হিস্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং প্রচলিত বাজারের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হারও বেশি।’ বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছি না। সম্ভাবনা অনুযায়ী আমরা রপ্তানি আয় বাড়াতে পারছি না। এক্ষেত্রে সরকারকে অশুল্ক বাধা দূর করা এবং রপ্তানি সহজীকরণের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। ভারত একটি বড় বাজার। কারণ এর রয়েছে অনেক বড় জনসংখ্যা। সেখানে যদি আমরা খুব সামান্য পরিমাণও মার্কেট ধরতে পারি সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন হবে। সুতরাং ভারতসহ সম্ভাবনাময় সব অপ্রচলিত বাজারগুলোর প্রতি সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে এবং বাণিজ্যিক রিংগুলো কাজে লাগাতে হবে।


পোশাকশিল্পে নারীশ্রমিক কমে ৫৭ শতাংশে নেমেছে

একসময় পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুন, ২০২৪ ১৪:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতে নারীশ্রমিকের সংখ্যা কমছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অটোমেশন ও অন্যান্য খাতের তুলনায় মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় এই খাতে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ কমে গেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমআইবি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, পোশাক খাতে নিযুক্ত মোট শ্রমিকের মধ্যে নারীর সংখ্যা কমে ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

অথচ একসময় পোশাক খাতের মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। বিশেষ করে যারা গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানীতে এসে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করতেন তারা এই খাতে কাজ নিতেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে অন্যান্য খাতে চাকরির সুযোগ খুব সীমিত থাকায় আশির দশকে মূলত অদক্ষ নারীশ্রমিকরা পোশাক খাতের হাল ধরেন। তখন বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় অনেক কম হওয়ায় নারীশ্রমিকরা কম বেতন হলেও চাকরি নিতে আগ্রহী ছিলেন। এরপর বহু বছর ধরে পোশাক খাতে পুরুষ শ্রমিকের বিপরীতে গড়ে অন্তত দুজন নারীশ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হতো।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুপাত কমেছে। কারণ নারীরা এখন পোশাক কারখানায় শ্রম দেওয়ার চেয়ে করপোরেট চাকরিতে বেশি আগ্রহী।

বছরের পর বছর ধরে নারী শ্রমিকদের অবদানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। বিশ্ব বাজারে তৈরি পোশাকের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, নারীশ্রমিকের প্রভাব এখন কমেছে।

অটোমেশন ও স্পিনিং, উইভিং, ডাইং এবং ফিনিশিং সেক্টরের কারণে তা সম্ভব হয়েছে। এগুলো মূলত পুরুষ শ্রমিকরা পরিচালনা করে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া গত পাঁচ দশকে গ্রামাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য প্রচুর কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে তারা এখন জেলা পর্যায়ে বা নিজ শহরে কাজ করতে পারেন। তাই তারা পোশাক কারখানায় কাজ করতে শহরে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

তিনি বলেন, অনেক পোশাক কারখানা শ্রমিক সংকটে ভুগছে। এজন্য কেবল নারী নয়, পুরুষরাও এখন পোশাক খাতে কাজ করতে চান না।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কঠিন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর দক্ষতার অভাবে পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তরুণ প্রজন্ম পড়ালেখাতে আগ্রহী বেশি। তাই এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা এখন কম।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা অনেক বছর ধরে কারখানায় কাজ করার পর স্বাবলম্বী হন। তখন তারা উদ্যোক্তা হন অথবা স্বামীর সঙ্গে কৃষিকাজের মতো পারিবারিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন, বলেন তিনি।


কর আদায় বেড়েছে ১৫ শতাংশ

তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুন, ২০২৪ ১০:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে কর আদায়ে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে কর আদায়ে সরকারের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হলো ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা। তবে, মে মাসের শেষে কর আদায় এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। আগামী ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হবে।

একইভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা পূরণ করা কঠিন হতে পারে।

এনবিআরের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে কর আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, যা অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৭৯ শতাংশ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, চলতি মাসের রাজস্ব আদায়ের পরও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, জুন শেষে মোট কর আদায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে, যা গত মাসের চেয়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এদিকে সরকার ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি এবং গত পাঁচ বছরে এনবিআরের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ১১ শতাংশ থেকেও বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনি রাজস্ব বোর্ডের জন্য কঠিন কাজও বটে, বলেন তিনি।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে আনুমানিক ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আহসান এইচ মনসুর বলেন, কর প্রশাসনের দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ততার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

তারা এখনো কর আদায়ের জন্য পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে, যেমনটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল।

তিনি বলেন, এখানে অটোমেশন ও সঠিক ডেটাবেজের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে এনবিআরের অনেক কর্মকর্তা অসাধু ব্যক্তিদের কর ফাঁকিতে সহায়তা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আহসান মনসুর এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের সভাপতি মতিউর রহমানের প্রসঙ্গ টানেন। মতিউর রহমানকে সম্প্রতি সম্পদ নিয়ে বিতর্কের জেরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এই অর্থনীতিবিদের পরামর্শ, এনবিআরে ডিজিটালাইজেশন আনতে হলে অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে এবং যথাযথ সমন্বয় থাকতে হবে। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।


banner close