পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, ‘দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ফের বিপদে ফেলে দিয়েছে। তারপরও বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। বাংলাদেশের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং অস্থির ডলারের বাজারকে সুস্থির করা। আর এ জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুল আলম।
বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই পরামর্শ দিয়েছেন মৃদুভাষী কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষ শামসুল আলম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি?
বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন আছে সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি কোন রাখঢাক না করে যেটা প্রকৃত অবস্থা, সেটাই তুলে ধরেছেন। চ্যালেঞ্জটা আপনারা জানেন। এই চ্যালেঞ্জটা কিন্তু বিশ্বব্যাপী সবার জন্য। এটা এখন কোনো একক দেশের বিষয় না। করোনাভাইরাস যেমন কোনো একক দেশের বিষয় ছিল না। সে রকম ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে দরদামের ক্ষেত্রে, পরিবহন ব্যয়ের ক্ষেত্রে। মূল্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে এই যুদ্ধের কারণে।
করোনার ধাক্কা সামলে যে সময় আমাদের মতো দেশগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। বেশ কিছু দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিছু কিছু দেশ অবশ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স যেটা বলেছিল ১২টি দেশ যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কার মতো। এটা মাসখানেক আগের বিশ্লেষণ। সেই সময় রয়টার্সের সেই গবেষণায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বলা হয়েছে স্থিতিশীল। সেই ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না। তার পরে অবস্থাটা একটু পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী দরদামের কারণে। অন্যান্য দেশেও বেড়েছে, আমাদের দেশেও বেড়েছে।
সেই ঘটনা আপনারা শুনেছেন। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। আমেরিকার মতো একটি পরিপক্ব অর্থনীতিতে, যুক্তরাজ্যের মতো একটি মহাশক্তিধর পরিপক্ব অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্র সব কিছু মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি গত জানুয়ারি থেকেই একটু একটু করে বাড়ছিল। সেটা বাড়ছিল কারণ করোনাভাইরাসের পরে সব দেশেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ফলে চাহিদা বাড়ছিল। সে অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ লাগে।
এই যুদ্ধ আমাদের মহা সংকটে ফেলে দেয়। বিশেষ করে গমের ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু ৪০ শতাংশ গম ইউক্রেন থেকে আমদানি করতাম। সেই অবস্থায় মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতি যেন আরেকটু বাড়া শুরু করল। সেই যুদ্ধের কারণে যেহেতু পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেল হঠাৎ করে। ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ল। বিশেষ করে দুগ্ধপণ্য, ভোগ্যপণ্য চিনি- খাদ্যপণ্য ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেল। সবই কিন্তু আন্তর্জাতিক পণ্য, যেটা আমরা আমদানি করি। সেই বাড়ার ফলে সর্বশেষ এসে আমরা বাজেটও ঘোষণা করলাম। তখনও আমরা মোটামুটি আশাবাদী ছিলাম যে, আমরা এগোচ্ছি মূল্যস্ফীতি বাড়া সত্ত্বেও। যদিও জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইতে এসে আবার একটু কমল, তখন ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই করোনাভাইরাসের মধ্যে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কিন্তু আমি বলব সহনশীল ছিল। কারণ ২০১৩ সালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
আমি যেটা বলতে চাচ্ছি এরচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার ক্ষমতা নিয়েছিল। ব্যবস্থাপনা করছিল। তারপর সুন্দরভাবে আস্তে আস্তে মূল্যস্ফীতি কমে এল। অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ল। সর্ব ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রসর হচ্ছিলাম। এখনকার যে মূল্যস্ফীতি অবশ্যই এটা বেশি। এটাকে আমি কোনোভাবেই হালকা করে দেখছি না। আমি যেটা পত্রপত্রিকায় দেখলাম যে, আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ; আর সেপ্টেম্বরে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। ৯ শতাংশের ওপর মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। যদিও এটা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়নি।
ভারতেও তাজা শাকসবজি নিয়ে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ এই সেপ্টেম্বরে। আর খাদ্যের মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ বা ৯ দশমিক ৯। সেই অর্থে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি আমরা খুব বেশি খারাপ করে ফেলছি, বিষয়টি তা না। আমি তুলনাটা দিচ্ছি এই জন্য যে, এই পরিস্থিতি এখন সবাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উন্নত দেশ হোক, ভারত হোক, ভারত তো এখন অনেক উচ্চ প্রশংসিত দেশ, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেরও যথেষ্ট সুনাম আছে আমরাও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এশিয়ান টাইগার কাব বা ব্যাঘ্র শাবক হিসেবে আমরা চিহ্নিত হয়েছি। এখন এই মূল্যস্ফীতিটা যদি আমরা ধরি। মূল্যস্ফীতির বাইরে কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। এটা হলো স্বস্তির বিষয়।
অর্থনীতির অন্য সূচকগুলো নিয়ে কিছু বলবেন?
অর্থনীতির অন্য সূচকগুলো ভালোই আছে বলা যায়। শুধু আমি নয়, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ সব দাতা সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে। আমাদের গত জুন পর্যন্ত শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর যদি ম্যানুফ্যাকচারিং বলি, সেটাও ছিল এই জুনে ১২ শতাংশ। সেবা খাত বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। এতে বোঝা যায় অর্থনীতির যে সাধারণ গতিপ্রবাহ, কর্মকাণ্ড-ব্যবসা বাণিজ্য সবই কিন্তু এর মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনো যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিতে হয়। যেটা প্রবৃদ্ধিকে আসলে আঘাত করে। যেমন- আমরা আমদানিকে যখন নিয়ন্ত্রণ করি, যদিও শিল্পপণ্য আমদানি আমরা বন্ধ করিনি বেশি মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ভোগ কমে যাবে। তো সামগ্রিক অর্থে ভোগ কমে গেলে অর্থনীতির যে গুণিতক ফলাফল প্রবৃদ্ধির ওপরে আঘাত আসবে। দ্বিতীয় হলো- মুদ্রা সরবরাহকে আমরা একটু নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আমরা রেপোর রেট বা নীতি সুদের হার বাড়িয়েছি। নীতি সুদ হার বাড়ানোর অর্থ হলো মুদ্রা সরবরাহকে টেনে ধরা। এর মানে হলো প্রবৃদ্ধি যেভাবে হওয়ার কথা কিছুটা হলেও একটু ধীরগতি হতে পারে। যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বেশ ভালোভাবে করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রবৃদ্ধিকে স্যাক্রিফাইস করতে হবে।
সেই প্রবৃদ্ধিও এডিবি বলছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। যদিও আমাদের বাজেটে প্রাক্কলন ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আমার যেটা মনে হয়, এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের তো প্রায় এক কোয়ার্টার চলে গেল, হয়তো আমাদের প্রক্ষেপিত সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেটা আসলে মনে হয় হবে না। তবে ৬ শতাংশের ওপরে যদি থাকে, সেটাও বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো পারফরম্যান্স হবে বলে আমি মনে করি।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
বিশ্বব্যাংক সব সময়ই একটু কনজারভেটিভ-রক্ষণশীল। বিশ্বব্যাংক যা বলেছে, প্রতিবারই বাংলাদেশে তার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এবারও তাই হবে আশা করি। তবে আমি আবারও বলছি, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও সেটাকে আমি খুবই ভালো বলে মনে করি। এ কথা ঠিক যে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে এক মাস দেখে কোনো কিছুর প্রভাব বলে দেয়া কঠিন। আমি বরং তিন মাসের হিসাবটা দিই, এটাই বেশি নির্ভরযোগ্য। অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রতি মাসের হিসাব নিয়ে কথা বলার চেয়ে কয়েক মাসের গড় নিয়ে কথা বললে বেশি সঠিকভাবে রিফ্লেক্ট করে।
সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স কমলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর হিসাব করলে তিন মাসে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স ১৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তাই তিন মাসের ধারাটা যদি আমলে নিই তাহলে এখনই শঙ্কিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমি মনে করি সামনে রেমিট্যান্স বাড়বে। আমাদের প্রচুর লোক বিভিন্ন দেশে গেছে গত অর্থবছরে; প্রায় ১০ লাখ লোক গিয়েছে। এর আগের বছর গিয়েছিল মাত্র সাড়ে ৩ লাখ। তাই রেমিট্যান্স বাড়বে, আর বাড়বেটা কারণ হলো- মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের ফলে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র যারা বিক্রি করে সেসব দেশ। দুই হলো যারা তেল বিক্রি করে। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধে তারা লাভবান হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এখন প্রচুর কাজকর্ম শুরু হয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তারা বিলাসবহুল প্রাসাদ বানাচ্ছে। তার মানে আমাদের লেবার ফোর্সের কিন্তু ডিমান্ড থাকবে। গত বছর যেমন ১০ লাখ গিয়েছে, এবারও তাই যাবে। যাওয়ার হারটা কিন্তু বেশি। আর দুই হলো- চীন-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে রপ্তানির অনেক চাহিদা আমাদের দিকে চলে আসছে। যদিও ব্যবসায়ীরা দুই-একজন বলছেন, তাদের অর্ডারগুলো কমে গেছে, আমার মনে হয় এটা হচ্ছে সাময়িক। রপ্তানি যদি আমরা প্রপার চ্যানেলে ধরি, রপ্তানি আয়টি এখনো অস্বস্তিকর অবস্থায় পৌঁছেনি।
কিন্তু অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ যে কমছেই। ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
আমি সে আলোচনাতেই আসছিলাম। সেটা আমি বলছি, রেমিট্যান্স বাড়বে, এখনো ইতিবাচক গত বছরের তুলনায়। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়েও ভালো প্রবৃদ্ধি আছে। এটা ঠিক, আমাদের রিজার্ভ চাপের মধ্যে আছে, ৪ অক্টোবর ছিল ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। যেটা গত বছর এই সময়ে ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই অর্থে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিন্তু কম। কিন্তু এই যে ৩৬ বিলিয়ন, এটাও আমাদের জন্য সন্তোষজনক। ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। আর রপ্তানি আয়ের কথা বলছি, গত অর্থবছর প্রথম ৩ মাসে রপ্তানি বেড়েছিল ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এবার বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যদিও কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, আমাদের রপ্তানি কমে যাচ্ছে। কিন্তু মোটা দাগে গত তিন মাসে আমাদের রপ্তানি কিন্তু ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।
আর আমদানির উল্লম্ফন কিন্তু কমেছে। গত বছর প্রথম তিন মাসে আমদানি বেড়েছিল ৪৬ শতাংশ। আর এই বছর প্রথম দুই মাসে আমদানি বড়েছে ১৬ শতাংশ। যেহেতু আমরা আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটা একটি ভালো লক্ষণ, সরকার যে নীতি নিয়েছে, সেটা কার্যকর হচ্ছে। আমদানিকে নিয়ন্ত্রণ করছি, যাতে ডলারের চাহিদাটা কমে আসে। আমাদের সব নীতির লক্ষ্য হচ্ছে ফরেন এক্সচেঞ্জকে স্ট্যাবেল করা। আরেকটা হলো মূল্যস্ফীতিকে কিভাবে বাগে আনতে পারি। এর মধ্যেই আমাদের সব নীতি কিন্তু নিবন্ধিত। আমরা প্রবৃদ্ধি নিয়ে সত্যি কথা বলি, এই মুহূর্তে ভাবছি না এত।
প্রবৃদ্ধি মূল্যবান, এটাকে আমি অবহেলা করছি না। কিন্তু প্রায়োরিটি দিচ্ছি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলারটাকে স্ট্যাবল করা। ডলার স্ট্যাবল না হলে আরো ক্ষতি হয়ে যাবে। এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলারটাকে স্ট্যাবল করতে প্রতি মুহূর্তে লক্ষ রাখছে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক, ফিন্যান্স ডিভিশন। বাংলাদেশ ব্যাংক তো নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে এখন। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের জন্য এখন মূল্যবান।
মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং ডলারের বাজারকে স্বাভাবিক করতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। আপনি এ বিষয়ে কী ভাবছেন?
এটা আমি বলব অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আমার একটি পরামর্শ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। এটা মনে হয়, এখন একটি বাস্তবতা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। দেখুন যদি মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়। তাহলে আমানতের সুদের হার আপনি ৬ শতাংশ রাখেন কী করে? তার মানে এখন যদি একজন ব্যাংকে আমানত রাখে সে ৩ শতাংশ টাকা হারাবে। এটাতো সমর্থনযোগ্য না। এ ছাড়া ডলার স্ট্যাবল বা স্থিতিশীল করার জন্য আমি মনে করি ঋণের সুদের হার কিছুটা হলেও বাড়ানো দরকার। কারণ, কম থাকাতে সস্তায় পেয়ে যাচ্ছে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা। তাতে হচ্ছে কি? তারা সস্তায় পেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সমস্যা। কিন্তু আমি তো চাচ্ছি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে। কাজেই সুদের হার বাড়ালে তখন তারা কম নেবে। তখন তারা কম ঋণ নিতে চাইবে, কারণ তখন কস্ট অব ক্যাপিটাল বেড়ে যাবে। যেহেতু এখন ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। এটা একটু কমানোর জন্য সুদের হার একটু বাড়ানো দরকার। এটা অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমার নিজের মূল্যায়ন।
কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে আছে কি না?
আমরা এখন প্রকল্প অনেক কম গ্রহণ করছি। আমরা আগে একটি একনেকে ১২ থেকে ১৪টি প্রকল্প বিচার-বিশ্লেষণ করতাম। সেটি এখন গড়ে নেমে এসেছে ৬টায়। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমরা এখন সেগুলোই নিচ্ছি। যেগুলো অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান করবে, কৃষি উৎপাদনকে বাড়াবে, যেটা আমাদের পণ্য পরিবহনকে আরো সহজ করবে, যে প্রকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরো শক্তিশালী করবে- এগুলোতো প্রকল্প নিতেই হবে, এগুলোই নিচ্ছি আমরা। আর যেগুলো বিল্ডিং সাজানো, এখন তা না করলেও চলবে- সেগুলোকে আমরা কিন্তু পিছিয়ে রাখছি। এটা হবে যখন আমাদের অবস্থা স্বাভাবিক হবে, তখন হবে।
কিন্তু অনেক প্রকল্প আছে যাদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ হচ্ছে বিদেশ থেকে কেনাকাটা। যদি এখন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমাই, তাহলে বিদেশ থেকে কেনাকাটা কমে আসবে, আর তাতে ডলার কম লাগবে। কাজেই একটি হলো প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনেক সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। আবার প্রকল্প কিন্তু নিচ্ছিও। সেই প্রকল্পগুলো নেয়া হচ্ছে- যেগুলো উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা আর মনে করিনা যে, নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় করা দরকার আছে; এখন এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা করা দরকার যে, আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব কি না। আমরা এখন অর্ধেকের কম বাতি জ্বালিয়ে অফিস করি। এসি ২৫-এ দিই। এভাবে দেশের সব নাগরিকের উচিত এই সাশ্রীয় কর্মসূচি যেন আমরা সবাই বাস্তবায়ন করি। দেশপ্রেমিক প্রত্যেক নাগরিকেরই এই হিসাব করা উচিত বলে আমি মনে করি। এই সমস্য কোনো দলের না। এই সমস্যা পুরো দেশের। এটা বিশ্বের সমস্যা। কাজেই সবার উচিত নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে যে সাশ্রীয় কর্মসূচিগুলো আমরা নিয়েছি, সেটাকে সহযোগিতা করা।
রেমিট্যান্স-রপ্তানি আয় ছাড়া রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য আর কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
বৈদেশিক মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য রিজার্ভটাকে বাড়াতেই হবে। রিজার্ভ বাড়লে আমদানির ক্ষেত্রে আমরা স্বচ্ছন্দে থাকি। শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত আর কিছুই আমদানি করতে পারছিল না। তো সে জন্য রিজার্ভটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে জন্য আমরা চাচ্ছি ডলার আনতে। এখন ডলার কিভাবে বাড়ে- বৈদেশিক সহায়তার কারণে, এফডিআই (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ)-এর কারণে। গত অর্থবছরে আমরা ভালো এফডিআই পেয়েছি; ৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। তার আগের বছর এসেছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন। চলতি অর্থবছরেও এফডিআইপ্রবাহ বেশ ভালো। আমরা এখন চেষ্টা করছি স্বল্প সুদে, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে। সেটা আইএমএফ হোক বিশ্বব্যাংক বা এডিবি হোক। এখন আমার মনে হয়, ইআরডিকেও (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) বিনিদ্র রজনী কাটানো উচিত।
যত বৈদেশিক মুদ্রা এখন সংগ্রহ করা যায়। আমরা স্বল্প সুদে ঋণ চাচ্ছি যেমন লাইবর প্লাস ওয়ান বা এক শতাংশের কম। আর পরিশোধের সময় হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ বছর। ঋণের ক্ষেত্রে জাপান তো কখনো সুদ নেয় না। সেটা মাপ করে দেয়; দিয়ে আবার বলে এটা আবার তোমরা খাটাও অন্য জায়গায়। ঋণটাকে এখন নেয়ার ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সক্রিয়। তবে সেসব ক্ষেত্রে ঋণ নেব, যেগুলোর লাভ ফিরে আসবে। আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করব। ইআরডির উচিত এখন বিনিদ্র রজনী কাটানো ঋণ আনার জন্য। আমরা এখন একটি আরামদায়ক জায়গায় আছি। আমাদের মোট ঋণ আমাদের দেশ-বিদেশে মিলে দেশজ আয়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ মাত্র ১৪ শতাংশ। আমরা দুটো মিলে যেতে পারি প্রায় ৬৭ শতাংশে। নেওয়ার সক্ষমতা এখনও আমাদের আছে।
যেসব প্রকল্প আমাদের সক্ষমতা বাড়াবে- এ রকম প্রকল্পে আমাদের ঋণ নিতে হবে। নেয়ার সুযোগ আছে। আমাদের এখন ডলার দরকার, সেটাও দরকার। আর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার তো চেষ্টা করতে হবে সার্বিকভাবে। পুঁজির যে আমাদের সংকট, সেটা কাটিয়ে উঠব তো আসলে ডলার পেলেই। কাজেই আমার পরামর্শ হবে, ঋণের বিষয়ে আমাদের নেগোসিয়েশনের জন্য আমাদের সর্বশক্তি বিনিয়োগ করা দরকার। এ বিষয়ে ইআরডি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসা দরকার।
এ কথা ঠিক যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে আলোচনাটা আগের মতোই হয়, দেশে দুর্নীতি কমেনি। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই?
দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। আবার দুর্নীতিকে এক দিনে কমানো সম্ভব না। এর গোড়া অনেক গভীরে পতিত। ছড়িয়ে আছে শিকড় সব জায়গায়। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে যতই আপনি শক্ত হবেন বা ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাবেন, আপনার জনপ্রিয়তা হুহু করে বেড়ে যাবে। এটা স্বাভাবিক, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটা দেখা গেছে।
একটি বিষয় দেখবেন দুর্নীতি বিষয়ে পদক্ষেপগুলো কিন্তু অনেক দৃশ্যমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে দুদক ডেকেছে। একজন প্রাক্তন সেনাপতি এখনো জেলে আছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ট্রাস্টি এখনো জেলে। ব্যাংকের বেশ কিছু এমডি জেলে গেল। বহু সাজা হচ্ছে, হয়তো আরও হওয়া উচিত।
আমাদের দুর্নীতি তো সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। সরকারি চাকরিতে বেতন বাড়ানো হলো, কিন্তু দুর্নীতি কমল না। এটা আসলে একটি সামাজিক ব্যাধি। বেতন বাড়ানো-কমানোর সঙ্গে মনে হয় না দুর্নীতি যুক্ত আছে। না হলে বড়লোকেরা দুর্নীতি করে কেন। যারা বড়লোক তারা কেউ বউয়ের নামে কেউ শালার নামে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছে। ভালো সুশাসন হলে দুর্নীতি কমে আসবে, একদম নাই করে দিতে পারবেন না। এটা কোনো দেশই পারেনি। তবে মাত্রাটা অনেক কমিয়ে আনতে হবে। আমার দেশে এখন বড় সমস্যা আয় বৈষম্যের। নানানভাবে আমাদের দেশে এখন লুটপাট হচ্ছে, সেটা বন্ধ করতে হবে। যে যেখানে জড়িত আছে, সেখানে তাকে শাস্তি দিতে হবে। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।
দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সুসংহতকরণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের একটি বিশাল ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেন। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই আর্থিক সহায়তা মূলত ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঋণ সহায়তা দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে বেগবান করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’-এর আওতায় এটিই প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করা। একই অনুষ্ঠানে নোট বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
প্রদত্ত এই ঋণ কর্মসূচির দুটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে, যার একটি হলো জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যটি অর্থনৈতিক সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার মতো নীতিগত পদক্ষেপগুলোতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা এবং দেশব্যাপী স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। জ্বালানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে জাইকা। মূলত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাইকার এই অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এক কার্যদিবসের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার আবারও বড় ধরণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তায় বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বিমা খাত। এদিন অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে দিনশেষে মূল্যসূচক ও লেনদেনের অংকে বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই উত্থানের মাধ্যমে গত ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ দিনই শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী থাকল।
মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের দাপট আরও বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ১০০টি এবং ৫১টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে বিমা খাতের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টিরই দাম বেড়েছে। এই ব্যাপক উর্ধ্বগতির প্রলেপে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও এদিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক, যার ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি 'জেড' গ্রুপের ৫৩টি এবং মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে এবং ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার দ্রুত তার ক্ষতি কাটিয়ে উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ক্রেতাদের সক্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহই এই উত্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দেশের বেকারত্ব নিরসন এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে সরাসরি বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প না থাকলেও অত্যন্ত সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য বিনা জামানতে ঋণের পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে বড় অংকের অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ ও পেশাদার উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থান করেন। তরুণদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রকল্প আছে কি না—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।”
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মন্ত্রী সংসদকে জানান যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে নবাগত উদ্যোক্তারা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জামানত সাপেক্ষে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসারে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।” কেবল ঋণই নয়, বরং সরাসরি বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানও গঠন করা হয়েছে যেখান থেকে নতুন উদ্যোগগুলো ইক্যুইটি সহায়তা নিতে পারবে।
আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান যে, ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর আওতায় বিভিন্ন জেলায় মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য অংশগ্রহণকারীদের কোনো ফি দিতে হয় না; বরং সফলভাবে কোর্স শেষ করলে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে বিশ্বজুড়ে চলমান বিপুল বিনিয়োগ একদিকে যেমন অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। মূলত বিশাল সব ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নির্মাণ উপকরণের আকাশচুম্বী ব্যয় এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই পরিষেবা এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তিন হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার সচল রয়েছে এবং আরও প্রায় দেড় হাজার কেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতটির বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুগল, আমাজন, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ করছে। চলতি বছরেই এ খাতে মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ৬৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি। এই বিশাল ব্যয় প্রবাহ বাজারব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
তবে অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করতে পারে বলে রিস্টাড এনার্জি পূর্বাভাস দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে নির্মাণাধীন ‘স্টারগেট’ প্রকল্পের জন্য প্রায় সাত গিগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, যা খোদ নিউইয়র্ক শহরের মোট চাহিদার চেয়েও বেশি। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদ্যুতের চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পর কেবল ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণেই গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় চাহিদা ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসন।
অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় চিপ, স্টিল ও কংক্রিটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। যদিও কিছু অর্থনীতিবিদ এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাময়িক বলে মনে করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এআই-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আশা রাখেন, তবে নীতিনির্ধারকদের বড় অংশই বর্তমানে চিন্তিত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআই প্রযুক্তির সুফল অর্থনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি বাজার ব্যবস্থায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা নিরূপণ করা। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় এআই-এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন চীনের বিশ্বখ্যাত তিন করপোরেট জায়ান্ট আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদুকে সে দেশের সামরিক কার্যক্রমের সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মাধ্যমে চীনের সবচেয়ে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলোর কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কালো তালিকায় যুক্ত হলো। পেন্টাগনের এই হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ইতোমধ্যে নড়বড়ে হয়ে থাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তজনা ও জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস এই তালিকাভুক্তির বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে সম্প্রসারিত’ করছে। দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিদেশে ব্যবসা করা চীনা কোম্পানিগুলো ওই সব দেশের আইন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল নীতি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ন্যায্য, সুবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’
অন্যদিকে, বৈশ্বিক ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে যে, এই তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তির ‘কোনো ভিত্তি নেই’। কোম্পানির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক কোম্পানি নয় এবং এটি সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের অংশও নয়।’ তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেব।’ তবে এই তালিকার বিষয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইদু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, পেন্টাগনের এই ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র তালিকা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার চালুর পর বর্তমানে এই তালিকায় মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত অঙ্গসংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনো চুক্তিতে অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হয় না। পেন্টাগনের সংজ্ঞা অনুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কিংবা বেইজিংয়ের ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়’ নীতির আওতায় বেসামরিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনকে একীভূত করতে সহায়তা করে, তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়। তবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকা বাধ্যতামূলক। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।
চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিতব্য ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো (সিএসএই) এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি ও রপ্তানি মেলায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
আগামী ১১ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই আন্তর্জাতিক মেলায় সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলে দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বিসিসিসিআইয়ের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর বিটুবি সংযোগ স্থাপন করা। বিশেষ করে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং কৃষিভিত্তিক উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে রফতানি বৃদ্ধি করে দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশে সরাসরি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশীয় শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করাও এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি এক্সপোর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরাম এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেবে। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিসিসিসিআই এবং চীনের মেশিনারি ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি ও রপ্তানি চেম্বারের (সিসিআইইএম) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি ব্যাংক অব হুঝৌ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সম্ভাব্য অন্য একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (৯ জুন) কোম্পানি দুটি তীব্র ক্রেতা সংকটের মুখে পড়েছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হলেও সে তুলনায় ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই উভয় কোম্পানির কয়েক লাখ শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন দামে বিক্রির প্রস্তাব এলেও ক্রয়ের ঘর ছিল প্রায় শূন্য। ক্রেতা সংকটের কারণে পুরো দিনে বেক্সিমকোর মাত্র ৮ হাজার ২৬টি এবং ইসলামী ব্যাংকের ৪০ হাজার ৪১৬টি শেয়ার লেনদেন সম্ভব হয়েছে। বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ১১০ টাকা ১০ পয়সায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর মঙ্গলবার তা সর্বনিম্ন ৯৯ টাকা ১০ পয়সা দরে বিক্রির আদেশ দিলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে মাত্র ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
শেয়ারবাজারের লাগাতার পতন রোধে গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল বিএসইসি। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাজার অস্থিতিশীল হলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। অধিকাংশ শেয়ারের ওপর থেকে ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা এতদিন বহাল ছিল। বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সোমবার কোম্পানি দুটির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোম্পানি দুটির শেয়ারের এই দরপতন মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা কাটানোর অংশ। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম আটকে রাখায় তা প্রকৃত বাজারদর প্রতিফলিত করছিল না। ফলে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এক ধরণের তাড়াহুড়ো দেখা দিয়েছে, যা শুরুতে দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারের দাম একটি যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাজারের স্বাভাবিক মূল্য আবিষ্কার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। তাদের মতে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি বাড়ছিল এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং বাজারের গতিশীলতা বাড়বে। স্বল্পমেয়াদে এই দরপতন অস্থিরতা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সুস্থ ও স্বচ্ছ শেয়ারবাজার গড়ে তোলার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। মূলত প্রকৃত চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বাজার পরিচালিত হওয়ার পথ সুগম হওয়ায় পুঁজিবাজারের গভীরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরণের উল্লম্ফন ঘটেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই ইতিবাচক বাণিজ্যিক চিত্র সামনে এলো, যেখানে তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চীনের শুল্ক প্রশাসনের (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস) দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানির আর্থিক পরিমাণ ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের মে মাসে এই রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২৮.৮ বিলিয়ন ডলার। মূলত গত বছরের একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা অস্থির বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে দুই দেশের রফতানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হ্রাস পেয়েছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের পর বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই পরিবর্তন বৈশ্বিক অর্থনীতির বৃহত্তম দুই অংশীদারের মধ্যে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূর্বের বছরের তুলনায় রফতানির এই বিশাল প্রবৃদ্ধি দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নিরসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার আবর্তনযোগ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত সরল সুদ বা মুনাফা প্রযোজ্য হবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তহবিল সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতের জন্য এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি স্কিমটি আবর্তনযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিবছর গ্রাহক পর্যায়ে পুনঃবিতরণ করা যাবে। এ স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত ঋণ ব্যাংকসমূহ তাদের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতেও প্রদর্শন করতে পারবে।
এ স্কিমে অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার (সরল) হবে ৮ শতাংশ।
বিদ্যমান বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত সব প্রকার শস্য-ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি খাত এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্য পল্লী ঋণ খাতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করা যাবে। অধিক সংখ্যক প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষককে এ ঋণ সুবিধা দিতে খাতভিত্তিক ঋণসীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা, শস্য ও ফসল খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য পল্লী ঋণ ও আয় উৎসারী খাতে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে।
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের সহায়তার জন্য শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ (শুধুমাত্র শস্য-ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে) প্রদান করা যাবে। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করার লক্ষ্যে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত (ব্যক্তিগত বা দলগত জামানত) গ্রহণ করা যাবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ বার এ স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন এবং এ ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাও এ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না।
কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ অপব্যবহার বা অসদ্ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে অথবা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ শাস্তিমূলক সুদসহ এককালীন অর্থ কেটে নেবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ওই ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে তা আদায় করা হবে।
সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ফসল কাটার মৌসুম শুরুর আগেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে ব্যানার স্থাপনের মাধ্যমে এই ঋণের ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানি বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বর্তমানে তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যার ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের জ্বালানি খরচ ইতিমধ্যে ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসকে আরও উসকে দিচ্ছে।
আর্থিক সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলে এই অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় ধরনের নেতিবাচক সংশোধন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অন্তত ৭০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সাথে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস ২০২৬ সালের জন্য তাদের বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে তেলের এই ভয়াবহ সংকটের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী গতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব বজায় রয়েছে। ফিচের মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য প্রবাহ আগামী জুলাইয়ের আগে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার প্রবল প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে। ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বোমার আওয়াজ হাজার মাইল দূরে এই সরু গলিগুলোতেও অর্থনৈতিক ভূকম্পন তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ডলারের অস্থিতিশীল দরের কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন। লোকসান এড়াতে আমদানিকারকরা এখন অতিরিক্ত মজুত করার পরিবর্তে প্রয়োজনভিত্তিক পণ্য আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বাকিতে পণ্য বিক্রি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শিপিং রুট পরিবর্তনের কারণে পণ্য পৌঁছানোর সময় প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পণ্যের বাজারদরে।
এদিকে দেশের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২.২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে দেশে মোট ৫৮.২২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হলেও রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমদানির তুলনায় রফতানি না বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরণের পণ্যের মূল্য চড়া থাকায় এই ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে প্রবাসীরা ২ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯.৫ শতাংশ বেশি। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলেও শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট বর্তমানে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্বের পর্যটন অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে শীর্ষ স্থান দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে চীন। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, চীন খুব শীঘ্রই বিশ্বের বৃহত্তম ‘আউটবাউন্ড ট্রাভেল’ বা দেশ থেকে বিদেশে ভ্রমণের বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং পর্যটন বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে চীন বিশ্বমঞ্চে এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত থাকার সুবিধা প্রদান, উন্নত বিমান ও রেল যোগাযোগ এবং প্রবেশপথে অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর মতো পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের চীনে আকৃষ্ট করছে। ২০২৫ সালে ৬৮ মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি পর্যটক চীন সফর করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ বেশি। এ সময় পর্যটকদের ব্যয় ১০.৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা করোনা মহামারির পূর্ববর্তী রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ডব্লিউটিটিসি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে চীনের পর্যটন ব্যয় ২২.৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দেশটি বর্তমানে ১৯২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নতুন পর্যটন জোন, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং থিম পার্ক তৈরির মাধ্যমে চীন তার পর্যটন খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে। সংস্থাটির মতে, ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাতে তৈরি হওয়া প্রতি পাঁচটি চাকরির একটি হবে চীনে। আগামী এক দশকে এই খাতের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও সিইও গ্লোরিয়া গ্যেভারা চীনের এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু নীতি সংস্কার কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বাড়াতে পারে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, চীনের ঘুরে দাঁড়ানোই তার বড় প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, চীন যদি এই গতি বজায় রাখে এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করে, তবে তারা অচিরেই পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের অবিসংবাদিত শীর্ষ দেশে পরিণত হবে। চীন সরকার পর্যটন খাতকে বর্তমানে তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল রূপ ও ‘এল নিনো’র প্রভাবে চলতি সপ্তাহে এশিয়ার প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবাণী অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে ঘাটতির তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের রফতানি মূল্যে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনামে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টনে প্রায় ১০ ডলার বেড়ে ৪১৫-৪২০ ডলারে পৌঁছেছে। মে মাসে দেশটির চাল রফতানি গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদী হুমকির কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। থাইল্যান্ডেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম ৪৫০ ডলারে স্থির থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় চালের দাম এখনও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্থানীয় ভোক্তা ও কৃষক উভয়েই বড় ধরণের সংকটে পড়েছেন। দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দাবদাহ বোরো ধান কাটার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ধানের ফলন কমে যাচ্ছে এবং প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে ধান দ্রুত শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ লাখ টন চালের ক্ষতি হওয়ার পর এই নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে।
বৈশ্বিক বাজারে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাপপ্রবাহের দ্বিমুখী সংকটে বাংলাদেশের বাজারে চালের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম এখনও উচ্চপর্যায়ে অবস্থান করছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, এল নিনো পরিস্থিতি নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা সমগ্র এশিয়ার কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাই এখন চালের বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
দেশের পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর শীর্ষ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে সরকার। সোমবার (৮ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের ঘোষণা দেয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কাজী শায়রুল হাসানকে ব্যাংকটির পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কাজে যোগদানের আগে উভয়কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করতে হবে।
ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান বেসরকারি আর্থিক খাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। এর আগে তিনি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (সাবিনকো)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ সময় সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ব্যাংকিং সেক্টরে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন গঠিত এই ব্যাংকটির পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া ও আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একত্রিত করে এই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের এই নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। মূলত এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।