বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

মূল্যস্ফীতি ও ডলারের দাম কমাতে সুদের হার বাড়ানো উচিত

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, ‘দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ফের বিপদে ফেলে দিয়েছে। তারপরও বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। বাংলাদেশের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং অস্থির ডলারের বাজারকে সুস্থির করা। আর এ জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুল আলম।

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই পরামর্শ দিয়েছেন মৃদুভাষী কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষ শামসুল আলম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন আছে সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি কোন রাখঢাক না করে যেটা প্রকৃত অবস্থা, সেটাই তুলে ধরেছেন। চ্যালেঞ্জটা আপনারা জানেন। এই চ্যালেঞ্জটা কিন্তু বিশ্বব্যাপী সবার জন্য। এটা এখন কোনো একক দেশের বিষয় না। করোনাভাইরাস যেমন কোনো একক দেশের বিষয় ছিল না। সে রকম ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে দরদামের ক্ষেত্রে, পরিবহন ব্যয়ের ক্ষেত্রে। মূল্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে এই যুদ্ধের কারণে।

করোনার ধাক্কা সামলে যে সময় আমাদের মতো দেশগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। বেশ কিছু দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিছু কিছু দেশ অবশ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স যেটা বলেছিল ১২টি দেশ যেকোনো সময় বিপদে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কার মতো। এটা মাসখানেক আগের বিশ্লেষণ। সেই সময় রয়টার্সের সেই গবেষণায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বলা হয়েছে স্থিতিশীল। সেই ১২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না। তার পরে অবস্থাটা একটু পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী দরদামের কারণে। অন্যান্য দেশেও বেড়েছে, আমাদের দেশেও বেড়েছে।

সেই ঘটনা আপনারা শুনেছেন। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে চলে গেছে। আমেরিকার মতো একটি পরিপক্ব অর্থনীতিতে, যুক্তরাজ্যের মতো একটি মহাশক্তিধর পরিপক্ব অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্র সব কিছু মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে এসেছে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি গত জানুয়ারি থেকেই একটু একটু করে বাড়ছিল। সেটা বাড়ছিল কারণ করোনাভাইরাসের পরে সব দেশেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ফলে চাহিদা বাড়ছিল। সে অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ লাগে।

এই যুদ্ধ আমাদের মহা সংকটে ফেলে দেয়। বিশেষ করে গমের ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু ৪০ শতাংশ গম ইউক্রেন থেকে আমদানি করতাম। সেই অবস্থায় মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতি যেন আরেকটু বাড়া শুরু করল। সেই যুদ্ধের কারণে যেহেতু পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেল হঠাৎ করে। ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ল। বিশেষ করে দুগ্ধপণ্য, ভোগ্যপণ্য চিনি- খাদ্যপণ্য ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেল। সবই কিন্তু আন্তর্জাতিক পণ্য, যেটা আমরা আমদানি করি। সেই বাড়ার ফলে সর্বশেষ এসে আমরা বাজেটও ঘোষণা করলাম। তখনও আমরা মোটামুটি আশাবাদী ছিলাম যে, আমরা এগোচ্ছি মূল্যস্ফীতি বাড়া সত্ত্বেও। যদিও জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইতে এসে আবার একটু কমল, তখন ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই করোনাভাইরাসের মধ্যে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কিন্তু আমি বলব সহনশীল ছিল। কারণ ২০১৩ সালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ।

আমি যেটা বলতে চাচ্ছি এরচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার ক্ষমতা নিয়েছিল। ব্যবস্থাপনা করছিল। তারপর সুন্দরভাবে আস্তে আস্তে মূল্যস্ফীতি কমে এল। অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ল। সর্ব ক্ষেত্রেই আমরা অগ্রসর হচ্ছিলাম। এখনকার যে মূল্যস্ফীতি অবশ্যই এটা বেশি। এটাকে আমি কোনোভাবেই হালকা করে দেখছি না। আমি যেটা পত্রপত্রিকায় দেখলাম যে, আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ; আর সেপ্টেম্বরে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। ৯ শতাংশের ওপর মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। যদিও এটা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়নি।

ভারতেও তাজা শাকসবজি নিয়ে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ এই সেপ্টেম্বরে। আর খাদ্যের মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশ বা ৯ দশমিক ৯। সেই অর্থে আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি আমরা খুব বেশি খারাপ করে ফেলছি, বিষয়টি তা না। আমি তুলনাটা দিচ্ছি এই জন্য যে, এই পরিস্থিতি এখন সবাইকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উন্নত দেশ হোক, ভারত হোক, ভারত তো এখন অনেক উচ্চ প্রশংসিত দেশ, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেরও যথেষ্ট সুনাম আছে আমরাও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এশিয়ান টাইগার কাব বা ব্যাঘ্র শাবক হিসেবে আমরা চিহ্নিত হয়েছি। এখন এই মূল্যস্ফীতিটা যদি আমরা ধরি। মূল্যস্ফীতির বাইরে কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। এটা হলো স্বস্তির বিষয়।

অর্থনীতির অন্য সূচকগুলো নিয়ে কিছু বলবেন?

অর্থনীতির অন্য সূচকগুলো ভালোই আছে বলা যায়। শুধু আমি নয়, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ সব দাতা সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল আছে। আমাদের গত জুন পর্যন্ত শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর যদি ম্যানুফ্যাকচারিং বলি, সেটাও ছিল এই জুনে ১২ শতাংশ। সেবা খাত বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। এতে বোঝা যায় অর্থনীতির যে সাধারণ গতিপ্রবাহ, কর্মকাণ্ড-ব্যবসা বাণিজ্য সবই কিন্তু এর মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এখনো যাচ্ছে বলে আমি মনে করি। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিতে হয়। যেটা প্রবৃদ্ধিকে আসলে আঘাত করে। যেমন- আমরা আমদানিকে যখন নিয়ন্ত্রণ করি, যদিও শিল্পপণ্য আমদানি আমরা বন্ধ করিনি বেশি মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ভোগ কমে যাবে। তো সামগ্রিক অর্থে ভোগ কমে গেলে অর্থনীতির যে গুণিতক ফলাফল প্রবৃদ্ধির ওপরে আঘাত আসবে। দ্বিতীয় হলো- মুদ্রা সরবরাহকে আমরা একটু নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আমরা রেপোর রেট বা নীতি সুদের হার বাড়িয়েছি। নীতি সুদ হার বাড়ানোর অর্থ হলো মুদ্রা সরবরাহকে টেনে ধরা। এর মানে হলো প্রবৃদ্ধি যেভাবে হওয়ার কথা কিছুটা হলেও একটু ধীরগতি হতে পারে। যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বেশ ভালোভাবে করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রবৃদ্ধিকে স্যাক্রিফাইস করতে হবে।

সেই প্রবৃদ্ধিও এডিবি বলছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। যদিও আমাদের বাজেটে প্রাক্কলন ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আমার যেটা মনে হয়, এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের তো প্রায় এক কোয়ার্টার চলে গেল, হয়তো আমাদের প্রক্ষেপিত সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেটা আসলে মনে হয় হবে না। তবে ৬ শতাংশের ওপরে যদি থাকে, সেটাও বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো পারফরম্যান্স হবে বলে আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বিশ্বব্যাংক সব সময়ই একটু কনজারভেটিভ-রক্ষণশীল। বিশ্বব্যাংক যা বলেছে, প্রতিবারই বাংলাদেশে তার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এবারও তাই হবে আশা করি। তবে আমি আবারও বলছি, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও সেটাকে আমি খুবই ভালো বলে মনে করি। এ কথা ঠিক যে, সেপ্টেম্বরে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে এক মাস দেখে কোনো কিছুর প্রভাব বলে দেয়া কঠিন। আমি বরং তিন মাসের হিসাবটা দিই, এটাই বেশি নির্ভরযোগ্য। অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রতি মাসের হিসাব নিয়ে কথা বলার চেয়ে কয়েক মাসের গড় নিয়ে কথা বললে বেশি সঠিকভাবে রিফ্লেক্ট করে।

সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স কমলেও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর হিসাব করলে তিন মাসে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স ১৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তাই তিন মাসের ধারাটা যদি আমলে নিই তাহলে এখনই শঙ্কিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমি মনে করি সামনে রেমিট্যান্স বাড়বে। আমাদের প্রচুর লোক বিভিন্ন দেশে গেছে গত অর্থবছরে; প্রায় ১০ লাখ লোক গিয়েছে। এর আগের বছর গিয়েছিল মাত্র সাড়ে ৩ লাখ। তাই রেমিট্যান্স বাড়বে, আর বাড়বেটা কারণ হলো- মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের ফলে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র যারা বিক্রি করে সেসব দেশ। দুই হলো যারা তেল বিক্রি করে। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধে তারা লাভবান হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এখন প্রচুর কাজকর্ম শুরু হয়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তারা বিলাসবহুল প্রাসাদ বানাচ্ছে। তার মানে আমাদের লেবার ফোর্সের কিন্তু ডিমান্ড থাকবে। গত বছর যেমন ১০ লাখ গিয়েছে, এবারও তাই যাবে। যাওয়ার হারটা কিন্তু বেশি। আর দুই হলো- চীন-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে রপ্তানির অনেক চাহিদা আমাদের দিকে চলে আসছে। যদিও ব্যবসায়ীরা দুই-একজন বলছেন, তাদের অর্ডারগুলো কমে গেছে, আমার মনে হয় এটা হচ্ছে সাময়িক। রপ্তানি যদি আমরা প্রপার চ্যানেলে ধরি, রপ্তানি আয়টি এখনো অস্বস্তিকর অবস্থায় পৌঁছেনি।

কিন্তু অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ যে কমছেই। ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

আমি সে আলোচনাতেই আসছিলাম। সেটা আমি বলছি, রেমিট্যান্স বাড়বে, এখনো ইতিবাচক গত বছরের তুলনায়। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়েও ভালো প্রবৃদ্ধি আছে। এটা ঠিক, আমাদের রিজার্ভ চাপের মধ্যে আছে, ৪ অক্টোবর ছিল ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। যেটা গত বছর এই সময়ে ছিল ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেই অর্থে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিন্তু কম। কিন্তু এই যে ৩৬ বিলিয়ন, এটাও আমাদের জন্য সন্তোষজনক। ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। আর রপ্তানি আয়ের কথা বলছি, গত অর্থবছর প্রথম ৩ মাসে রপ্তানি বেড়েছিল ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এবার বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যদিও কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, আমাদের রপ্তানি কমে যাচ্ছে। কিন্তু মোটা দাগে গত তিন মাসে আমাদের রপ্তানি কিন্তু ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

আর আমদানির উল্লম্ফন কিন্তু কমেছে। গত বছর প্রথম তিন মাসে আমদানি বেড়েছিল ৪৬ শতাংশ। আর এই বছর প্রথম দুই মাসে আমদানি বড়েছে ১৬ শতাংশ। যেহেতু আমরা আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটা একটি ভালো লক্ষণ, সরকার যে নীতি নিয়েছে, সেটা কার্যকর হচ্ছে। আমদানিকে নিয়ন্ত্রণ করছি, যাতে ডলারের চাহিদাটা কমে আসে। আমাদের সব নীতির লক্ষ্য হচ্ছে ফরেন এক্সচেঞ্জকে স্ট্যাবেল করা। আরেকটা হলো মূল্যস্ফীতিকে কিভাবে বাগে আনতে পারি। এর মধ্যেই আমাদের সব নীতি কিন্তু নিবন্ধিত। আমরা প্রবৃদ্ধি নিয়ে সত্যি কথা বলি, এই মুহূর্তে ভাবছি না এত।

প্রবৃদ্ধি মূল্যবান, এটাকে আমি অবহেলা করছি না। কিন্তু প্রায়োরিটি দিচ্ছি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলারটাকে স্ট্যাবল করা। ডলার স্ট্যাবল না হলে আরো ক্ষতি হয়ে যাবে। এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডলারটাকে স্ট্যাবল করতে প্রতি মুহূর্তে লক্ষ রাখছে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক, ফিন্যান্স ডিভিশন। বাংলাদেশ ব্যাংক তো নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে এখন। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের জন্য এখন মূল্যবান।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা এবং ডলারের বাজারকে স্বাভাবিক করতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। আপনি এ বিষয়ে কী ভাবছেন?

এটা আমি বলব অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আমার একটি পরামর্শ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। এটা মনে হয়, এখন একটি বাস্তবতা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। দেখুন যদি মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়। তাহলে আমানতের সুদের হার আপনি ৬ শতাংশ রাখেন কী করে? তার মানে এখন যদি একজন ব্যাংকে আমানত রাখে সে ৩ শতাংশ টাকা হারাবে। এটাতো সমর্থনযোগ্য না। এ ছাড়া ডলার স্ট্যাবল বা স্থিতিশীল করার জন্য আমি মনে করি ঋণের সুদের হার কিছুটা হলেও বাড়ানো দরকার। কারণ, কম থাকাতে সস্তায় পেয়ে যাচ্ছে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা। তাতে হচ্ছে কি? তারা সস্তায় পেয়ে বেশি বিনিয়োগ করলে সমস্যা। কিন্তু আমি তো চাচ্ছি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে। কাজেই সুদের হার বাড়ালে তখন তারা কম নেবে। তখন তারা কম ঋণ নিতে চাইবে, কারণ তখন কস্ট অব ক্যাপিটাল বেড়ে যাবে। যেহেতু এখন ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। এটা একটু কমানোর জন্য সুদের হার একটু বাড়ানো দরকার। এটা অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমার নিজের মূল্যায়ন।

কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে আছে কি না?

আমরা এখন প্রকল্প অনেক কম গ্রহণ করছি। আমরা আগে একটি একনেকে ১২ থেকে ১৪টি প্রকল্প বিচার-বিশ্লেষণ করতাম। সেটি এখন গড়ে নেমে এসেছে ৬টায়। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমরা এখন সেগুলোই নিচ্ছি। যেগুলো অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান করবে, কৃষি উৎপাদনকে বাড়াবে, যেটা আমাদের পণ্য পরিবহনকে আরো সহজ করবে, যে প্রকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরো শক্তিশালী করবে- এগুলোতো প্রকল্প নিতেই হবে, এগুলোই নিচ্ছি আমরা। আর যেগুলো বিল্ডিং সাজানো, এখন তা না করলেও চলবে- সেগুলোকে আমরা কিন্তু পিছিয়ে রাখছি। এটা হবে যখন আমাদের অবস্থা স্বাভাবিক হবে, তখন হবে।

কিন্তু অনেক প্রকল্প আছে যাদের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ হচ্ছে বিদেশ থেকে কেনাকাটা। যদি এখন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমাই, তাহলে বিদেশ থেকে কেনাকাটা কমে আসবে, আর তাতে ডলার কম লাগবে। কাজেই একটি হলো প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনেক সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। আবার প্রকল্প কিন্তু নিচ্ছিও। সেই প্রকল্পগুলো নেয়া হচ্ছে- যেগুলো উৎপাদন ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা আর মনে করিনা যে, নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় করা দরকার আছে; এখন এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা করা দরকার যে, আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব কি না। আমরা এখন অর্ধেকের কম বাতি জ্বালিয়ে অফিস করি। এসি ২৫-এ দিই। এভাবে দেশের সব নাগরিকের উচিত এই সাশ্রীয় কর্মসূচি যেন আমরা সবাই বাস্তবায়ন করি। দেশপ্রেমিক প্রত্যেক নাগরিকেরই এই হিসাব করা উচিত বলে আমি মনে করি। এই সমস্য কোনো দলের না। এই সমস্যা পুরো দেশের। এটা বিশ্বের সমস্যা। কাজেই সবার উচিত নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে যে সাশ্রীয় কর্মসূচিগুলো আমরা নিয়েছি, সেটাকে সহযোগিতা করা।

রেমিট্যান্স-রপ্তানি আয় ছাড়া রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য আর কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

বৈদেশিক মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য রিজার্ভটাকে বাড়াতেই হবে। রিজার্ভ বাড়লে আমদানির ক্ষেত্রে আমরা স্বচ্ছন্দে থাকি। শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত আর কিছুই আমদানি করতে পারছিল না। তো সে জন্য রিজার্ভটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে জন্য আমরা চাচ্ছি ডলার আনতে। এখন ডলার কিভাবে বাড়ে- বৈদেশিক সহায়তার কারণে, এফডিআই (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ)-এর কারণে। গত অর্থবছরে আমরা ভালো এফডিআই পেয়েছি; ৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। তার আগের বছর এসেছিল ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন। চলতি অর্থবছরেও এফডিআইপ্রবাহ বেশ ভালো। আমরা এখন চেষ্টা করছি স্বল্প সুদে, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে। সেটা আইএমএফ হোক বিশ্বব্যাংক বা এডিবি হোক। এখন আমার মনে হয়, ইআরডিকেও (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) বিনিদ্র রজনী কাটানো উচিত।

যত বৈদেশিক মুদ্রা এখন সংগ্রহ করা যায়। আমরা স্বল্প সুদে ঋণ চাচ্ছি যেমন লাইবর প্লাস ওয়ান বা এক শতাংশের কম। আর পরিশোধের সময় হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ বছর। ঋণের ক্ষেত্রে জাপান তো কখনো সুদ নেয় না। সেটা মাপ করে দেয়; দিয়ে আবার বলে এটা আবার তোমরা খাটাও অন্য জায়গায়। ঋণটাকে এখন নেয়ার ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সক্রিয়। তবে সেসব ক্ষেত্রে ঋণ নেব, যেগুলোর লাভ ফিরে আসবে। আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করব। ইআরডির উচিত এখন বিনিদ্র রজনী কাটানো ঋণ আনার জন্য। আমরা এখন একটি আরামদায়ক জায়গায় আছি। আমাদের মোট ঋণ আমাদের দেশ-বিদেশে মিলে দেশজ আয়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ মাত্র ১৪ শতাংশ। আমরা দুটো মিলে যেতে পারি প্রায় ৬৭ শতাংশে। নেওয়ার সক্ষমতা এখনও আমাদের আছে।

যেসব প্রকল্প আমাদের সক্ষমতা বাড়াবে- এ রকম প্রকল্পে আমাদের ঋণ নিতে হবে। নেয়ার সুযোগ আছে। আমাদের এখন ডলার দরকার, সেটাও দরকার। আর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার তো চেষ্টা করতে হবে সার্বিকভাবে। পুঁজির যে আমাদের সংকট, সেটা কাটিয়ে উঠব তো আসলে ডলার পেলেই। কাজেই আমার পরামর্শ হবে, ঋণের বিষয়ে আমাদের নেগোসিয়েশনের জন্য আমাদের সর্বশক্তি বিনিয়োগ করা দরকার। এ বিষয়ে ইআরডি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসা দরকার।

এ কথা ঠিক যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে আলোচনাটা আগের মতোই হয়, দেশে দুর্নীতি কমেনি। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই?

দুর্নীতি কমানোর চেষ্টা সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। আবার দুর্নীতিকে এক দিনে কমানো সম্ভব না। এর গোড়া অনেক গভীরে পতিত। ছড়িয়ে আছে শিকড় সব জায়গায়। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে যতই আপনি শক্ত হবেন বা ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাবেন, আপনার জনপ্রিয়তা হুহু করে বেড়ে যাবে। এটা স্বাভাবিক, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটা দেখা গেছে।

একটি বিষয় দেখবেন দুর্নীতি বিষয়ে পদক্ষেপগুলো কিন্তু অনেক দৃশ্যমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে দুদক ডেকেছে। একজন প্রাক্তন সেনাপতি এখনো জেলে আছেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ট্রাস্টি এখনো জেলে। ব্যাংকের বেশ কিছু এমডি জেলে গেল। বহু সাজা হচ্ছে, হয়তো আরও হওয়া উচিত।

আমাদের দুর্নীতি তো সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। সরকারি চাকরিতে বেতন বাড়ানো হলো, কিন্তু দুর্নীতি কমল না। এটা আসলে একটি সামাজিক ব্যাধি। বেতন বাড়ানো-কমানোর সঙ্গে মনে হয় না দুর্নীতি যুক্ত আছে। না হলে বড়লোকেরা দুর্নীতি করে কেন। যারা বড়লোক তারা কেউ বউয়ের নামে কেউ শালার নামে অ্যাপার্টমেন্ট কিনছে। ভালো সুশাসন হলে দুর্নীতি কমে আসবে, একদম নাই করে দিতে পারবেন না। এটা কোনো দেশই পারেনি। তবে মাত্রাটা অনেক কমিয়ে আনতে হবে। আমার দেশে এখন বড় সমস্যা আয় বৈষম্যের। নানানভাবে আমাদের দেশে এখন লুটপাট হচ্ছে, সেটা বন্ধ করতে হবে। যে যেখানে জড়িত আছে, সেখানে তাকে শাস্তি দিতে হবে। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।


চাঁদাবাজি বন্ধ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের দাবি ডিসিসিআইর

ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয় এবং ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই চাঁদাবাজি ও অনিয়মগুলো বন্ধ করা না গেলে সরকারের সব আশা এবং ইশতেহার বিফলে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্তে রক্তে চাঁদাবাজি ঢুকে গেছে। ফ্যাক্টরিতে ট্রাক ঢুকতে চাঁদা দিতে হয় আবার বের হতেও চাঁদা দিতে হয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মানুষ এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।’

তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস সব জায়গায় দুর্নীতি ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’

সংগঠনটি আরও তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের চলতি মূলধন সহায়তা দিয়ে ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো।

তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নয়ন প্রয়োজন। উৎপাদক থেকে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসার খরচ কমানো সম্ভব নয়। তার মতে, ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও অনিয়ম রয়েছে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ খাতে প্রায় ২৬ লাখ বেকার তরুণকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চামড়া ও হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও জানান তিনি। পাশাপাশি চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী বিষয় থাকলে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইর অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


রমজানে কারওয়ান বাজারে কম লাভে পণ্য বিক্রির ঘোষণা ব্যবসায়ীদের

কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। লেবু, তেল, চিনি, ছোলা, ট্যাং, মাংস ও মিনিকেট চালের দামে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল আলম মিলন। ব্যবসায়ীদের ঘোষণায় সম্মতি জানিয়ে তিনি সেখানে যোগ দেন বলে জানানো হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি পিস লেবুতে ২ টাকা, তেলে প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনিতে প্রতি কেজিতে ১ টাকা, ছোলায় ২ টাকা এবং ২০০ গ্রাম প্যাকেট ট্যাংয়ে ৫ টাকা কম নেওয়া হবে। মাংসে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা এবং মিনিকেট চালে প্রতি কেজিতে ১ টাকা কমিয়ে বিক্রি করা হবে।

মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতিকেজি মাংস বিক্রি করবো।’ ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, ‘এতদিন আমরা ছোলা ৮০ কিনে ৮৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন লাভ ২ টাকা কমে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।’

কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকাও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেব। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।’

সব তেল বিক্রেতাদের পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রপাইটার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।’

কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করব।’

ট্যাংয়ের দাম নিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে, বিক্রি হতো ১৫৮০ টাকা। এখন ১৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল।’

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, আগে মিনিকেট চালে প্রতি কেজিতে ২ টাকা লাভ রাখা হতো, এখন তা কমিয়ে ১ টাকা লাভে বিক্রি করা হবে। ফলে ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকায় মিনিকেট চাল বিক্রি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল আলম মিলন বলেন, ‘আমরা সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছে।’


ওয়ালস্ট্রিট ছাড়ছে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা, ঝুঁকছে বিদেশি বাজারে

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ওয়ালস্ট্রিট থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা, যার হার গত ১৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চাপ এবং বিদেশি শেয়ারবাজারে তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্রবণতা জোরদার হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
এলএসইজি/লিপারের তথ্যামতে গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ইকুইটি থেকে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের শুরু থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ২০১০ সালের পর বছরের প্রথম আট সপ্তাহে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের এমন উচ্চ হার আর দেখা যায়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলার দুর্বল হওয়ায় বিদেশি সম্পদ কেনা মার্কিনদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা থামেনি। গত বছর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার ধারা এখন দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্পষ্ট।
২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতের প্রভাবের কারণে ‘বাই আমেরিকা’ কৌশল বিনিয়োগকারীদের বড় মুনাফা এনে দেয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে গত বছর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
তবে এআই খাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ব্যয়ের প্রশ্ন সামনে আসায় ওয়ালস্ট্রিটের শেয়ারের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। মার্কিন মেগাক্যাপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে বিদেশি বাজারে সুযোগ খুঁজছেন। ব্যাংক অব আমেরিকার ফেব্রুয়ারির ফান্ড ম্যানেজার সার্ভে বলছে, পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ইকুইটি থেকে উদীয়মান বাজারে ঝুঁকছেন।
ইউবিএসের ইউরোপিয়ান ইকুইটি অ্যান্ড গ্লোবাল ডেরিভেটিভস স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান জেরি ফাউলার বলেন, ‘আমি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায় যুক্ত অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি। তারা সবাই এখন বিদেশের বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলছেন।’
তিনি আরো যোগ করেন, গত বছরের শেষে ডলারের বিপরীতে বিদেশী বাজারগুলোর মুনাফার চিত্র দেখে মনে হয়েছে, তারা বড় ধরনের লাভের সুযোগ হাতছাড়া করছেন।
এলএসইজি/লিপারের হিসাবে, চলতি বছর মার্কিন বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজারের শেয়ারে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। একক দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছে ২৮০ কোটি ডলার এবং ব্রাজিলে ১২০ কোটি ডলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নীতির প্রভাবে গত জানুয়ারি থেকে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলার প্রায় ১০ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। এতে বিদেশে বিনিয়োগ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিদেশি বাজার থেকে অর্জিত রিটার্ন ডলারে রূপান্তরের পর আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
গত ১২ মাসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। একই সময়ে টোকিওর নিক্কেই সূচক ডলারের হিসাবে ৪৩ শতাংশ, ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ২৬ শতাংশ এবং সাংহাইয়ের সিএসআই ৩০০ সূচক ২৩ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। সিউলের কেওএসপিআই সূচকের মান এ সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এআই খাতের জায়ান্ট যেমন এনভিডিয়া, মেটা এবং মাইক্রোসফটের শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান এবং উচ্চমূল্যায়ন এখন বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। ফলে তারা জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের মতো বাজারে তুলনামূলক রক্ষণশীল ও প্রথাগত শিল্পভিত্তিক শেয়ারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমানে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় ২১ দশমিক ৮ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। ইউরোপে এই অনুপাত ১৫ গুণ, জাপানে ১৭ গুণ এবং চীনে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ গুণ।
অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান কারমিগনাকের পোর্টফোলিও উপদেষ্টা কেভিন থোজেট জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের বাজারে মার্কিন পুঁজির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


নতুন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সে আবেদন আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সারাদেশের কাস্টমস স্টেশনগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং আমদানিকারকদের কার্যক্রম সহজ করতে নতুন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।

আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সভাপতির কাছে আবেদন জমা দিতে হবে।

লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে বিদেশি অংশীদারিত্ব সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি লাইসেন্স নিতে পারবেন না। আবেদনপত্রে কেবল একটি কাস্টমস স্টেশনের নাম উল্লেখ করা যাবে। একাধিক স্টেশনের নাম দিলে আবেদন বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনপত্রের সঙ্গে স্বত্বাধিকারী বা পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR)। স্নাতক পাসের সনদপত্র এবং ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ৫ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার (ডিজি, কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর অনুকূলে)। অফিস কক্ষের মালিকানা বা ভাড়ার দলিলাদি এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ঘোষণাপত্র।

প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি এবং ফল একাডেমির ওয়েবসাইট (www.cevta.gov.bd) এ পাওয়া যাবে। যোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাকযোগে তাদের ঠিকানায় প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।


ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় স্থিতিশীল এলএনজি বাজারে অনিশ্চয়তার ছায়া

এলএনজি ট্যাংকার | ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

এশিয়ার স্পট বাজারে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীনে চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেনের গতি কমে যায়। একই সঙ্গে আমদানিকারক দেশগুলোর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় নতুন করে কেনার চাপও দেখা যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনা বাজারে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিল সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে এলএনজির গড় দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ৬০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে তা ছিল ১০ ডলার ৬৫ সেন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রিন্সিপাল ইনসাইট অ্যানালিস্ট গো কাতায়ামা বলেন, ‘বর্তমানে এলএনজির বাজারের মৌলিক ভিত্তিগুলো বেশ শিথিল। তবে নিকটবর্তী মেয়াদে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দাম বাড়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বাজারে এলএনজি বেচাকেনার পরিমাণ কম ছিল। এছাড়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় গ্যাসের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে পণ্য কেনার তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির দাম যতটা কমার কথা ছিল, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তা ততটা কমেনি। অবশ্য সামনের মাসগুলোর চুক্তিতে বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে।’

জাপান ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এতে গরমের চাহিদা কমে গ্যাস ব্যবহারও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় এলএনজি নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কাতায়ামার মতে, কম দামের সুযোগে বড় কোনো ক্রেতা বাজারে না এলে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম আরও নেমে যেতে পারে।

ইউরোপীয় বাজারেও গত সপ্তাহে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে এপ্রিল সরবরাহের জন্য এলএনজির গড় মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ২৬ সেন্ট, যা নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে গ্যাসের চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৯৯ সেন্ট কম। অন্যদিকে আর্গাস এ মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৪৪ সেন্ট এবং স্পার্ক কমোডিটিজ মার্চের জন্য দাম জানিয়েছে ১০ ডলার ৩৭ সেন্ট।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়ার খবরে বিশ্ব পণ্যবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক কাতারের জাহাজও এই রুট ব্যবহার করে।

স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগানের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আটলান্টিক রুটে এলএনজি পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৩৩ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৭ হাজার ৫০০ ডলার।


ফেব্রুয়ারির তিন সপ্তাহে এলো ২৩০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে দেশে এসেছে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এবার অতিরিক্ত এসেছে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের হিসাবে ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদায়ী জানুয়ারি মাসজুড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।


ডিএসইতে সূচক বেড়েছে, সিএসইতে পতন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। তবুও বড় মূলধনের কয়েকটি কোম্পানির ইতিবাচক প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। একই দিনে শরিয়াহ সূচক কমেছে, তবে লেনদেন সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পাশাপাশি সব প্রধান সূচক কমেছে। যদিও সেখানে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পরপরই দর কমার তালিকা বড় হয়ে ওঠে। এতে সূচক ঋণাত্মক অবস্থায় যায়। মাঝপথে কিছু সময়ের জন্য দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বেড়ে গেলে সূচকও ইতিবাচক হয়। তবে দিনের শেষ ভাগে আবার দর কমার চাপ বাড়লেও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রধান সূচক শেষ পর্যন্ত সামান্য উত্থান নিয়ে লেনদেন শেষ করে।

এই দিনে ডিএসইতে ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। কমেছে ১৯৪টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির দর।

ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত এবং ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ৬১টির দর বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ৪০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২৬টির দর বাড়ার বিপরীতে ৪৩টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত ছিল।

‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির দর বেড়েছে, ৫২টির কমেছে এবং ২০টির স্থিতিশীল ছিল। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ৭টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনে শীর্ষে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংক, যার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সিএএসপিআই সূচক ৪৬ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ৯৩টির কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।


কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের সময় বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখভিত্তিক বিদ্যমান ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন জমা দিয়ে আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে নানা জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক তার শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতির ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে সংকটে থাকা কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন, যা রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আট ব্যাংক থেকে ১২৩ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১২ কোটি ৩০ লাখ বা ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই ডলার কেনা হয়। প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাট-অফ হারও ছিল একই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এই ক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে তারল্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়। তারও আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ৪ ফেব্রুয়ারি ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ক্রয় করা হয়েছিল। এসব লেনদেনেও প্রতি ডলারের হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

এই ধারাবাহিক ক্রয়ের ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১ হাজার ৪৪৮ মিলিয়ন বা ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সর্বশেষ আটটি ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা কাট-অফ রেটে মোট ১২৩ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখের বেশি এসইউভি ফিরিয়ে নিচ্ছে নিশান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ লাখ ৪৩ হাজার ‘রৌগ’ মডেলের এসইউভি ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশান। ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৮১টি গাড়িতে থ্রোটল বডি গিয়ারে সমস্যা পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯১৭টি গাড়িতে ইঞ্জিনের বিয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে গরম তেল বেরিয়ে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলো পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের আওতায় আনা হবে।

সূত্র: রয়টার্স।


তদারকি অভিযানে বাধা: দোষীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাবের স্মারকলিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি কার্যক্রমে বাধা এবং মার্কেট বন্ধের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এ দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্যাব সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বরাবর জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল রাজধানীর চকবাজার থানার মৌলভীবাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে দেখা যায়, মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স ১০ দিনের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পণ্য বেশি দামে কেনার দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো বৈধ ক্রয়সংক্রান্ত ক্যাশ মেমো দেখাতে পারেননি। বরং তারা স্বীকার করেন, পণ্য বাকিতে কিনে বিক্রির পর টাকা পরিশোধের সময় ক্যাশ মেমো দেওয়া হয়। যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পরিপন্থি এবং বাজারে অস্বচ্ছতার প্রমাণ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এ অনিয়মের প্রেক্ষিতে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো প্রকাশ্যে জরিমানা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তিনি অন্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং দোকানপাট বন্ধের হুমকি দেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য উদ্বেগজনক।

ক্যাবের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে।

দাবিগুলো হলো—

১. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে বাধা প্রদান ও মার্কেট বন্ধের হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ;

২. বাজারে তদারকি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করা;

৩. ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অস্বচ্ছ লেনদেন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ;

৪. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ মেমো প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা;

৫. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা।


উত্তরা ইপিজেডে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার বিনিয়োগে পোশাক কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

হংকংভিত্তিক তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেড উত্তরা ইপিজেডে একটি নতুন পোশাক কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির লিজ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কোম্পানিটি ১৯ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৪ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক জি ঝেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

জানা গেছে, কারখানাটি ২৪ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। এখানে উৎপাদিত পোশাক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৭০ লাখ পিস বিভিন্ন ধরনের ওভেন ও নিট পোশাক উৎপাদন করবে। এর মধ্যে থাকবে বটম, টপ, শার্ট, জিন্স, জ্যাকেট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, স্পোর্টসওয়্যার, সোয়েটার, হুডি এবং অন্যান্য জার্সি পণ্য।

নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান সব ধরনের সহযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আগের তুলনায় আরও দক্ষ ও আধুনিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বেপজা কাজ করছে। একই সঙ্গে রফতানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পখাত শক্তিশালী করতে মানসম্মত কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।


ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৯৫ কোটি টাকার লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এর ব্লক মার্কেটে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে মোট ৯৫ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সময়ে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের। প্রতিষ্ঠানটির ১৪ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়ায় ২৫৬ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ফাইন ফুডসের, যার পরিমাণ ৯ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়ায় ৪৭১ টাকা ৪০ পয়সা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর ছিল ৫ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর পদ্মা অয়েলের ৫ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যার সমাপনী দর দাঁড়ায় ১৭৮ টাকা ৯০ পয়সা।

এ ছাড়া জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৪ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে এদের শেয়ারদর ছিল যথাক্রমে ৪৮৪ টাকা ৯০ পয়সা, ৬৩ টাকা এবং ৮৫ টাকা।

ব্লক মার্কেটে আরও লেনদেন হয়েছে এমএল ডায়িংয়ের ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ২ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার এবং তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর দর ছিল যথাক্রমে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, ৪২ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৬৮ টাকা ২০ পয়সা।

সূচকের দিক থেকে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে নেমেছে।

লেনদেনের গড়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।


banner close