বুধবার, ২২ মে ২০২৪

বেশি দামে ডলার কেনাবেচা, ১৩ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব

ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৩৬

নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশিতে ডলার কেনাবেচার অভিযোগে ১৩ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

আমদানিতে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দর নির্ধারিত থাকলেও কোনো কোনো ব্যাংক ১১৭ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। একইভাবে কিনেছে ১১৬ টাকা দরে।

ব্যাখ্যা তলব তালিকায় কোন কোন ব্যাংক রয়েছে সেটি জানা যায়নি। তবে জানা গেছে, সবই বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এর মধ্যে একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকও রয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস এবং বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ থেকে ডলার কেনাবেচা পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিকভাবে পরিদর্শনে শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংকে ডলারের অনিয়ম পাওয়ায় এ খাতের অন্যান্য ব্যাংকেও ডলার বেচাকেনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাড়তি দরে ডলার কেনা থেকে বিরত ছিল অনেক ব্যাংক। এমনকি মানি চেঞ্জারগুলোতেও গতকাল ডলার কেনাবেচা বন্ধ ছিল।

ব্যাংকাররা জানান, ডলারের দর বাজারভিত্তিক বলা হলেও এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঠিক করে দিচ্ছে। এবিবি ও বাফেদার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত ডলার কেনার দর এখন ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা; আমদানিতে ১১০ টাকা। তবে এ রকম দরে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে ২০২১ সালে ডলার কেনাবেচায় অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগে ১২ ব্যাংকের লাভের অর্থ থেকে ৫০০ কোটি টাকা সিএসআর খাতে ব্যয়ের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তালিকায় বিদেশি মালিকানার দুটি ও বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংক ছিল।


এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪১%

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের মার্চে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১.২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মার্চে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের মার্চে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ১১ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আগের বছরের তুলনায় আমানত ও রেমিট্যান্স প্রবাহও যথাক্রমে ১৬.৫২ শতাংশ ও ২৩.১১ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যাংকাররা জানান, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রসারের ফলে গ্রামীণ পর্যায়ে অনেক মানুষ যারা আগে ব্যাংকিং সেবার আওতা থেকে বাইরে ছিলেন, তারা এখন সহজেই নিজেরাই সেবা নিতে পারছেন। মূলত এ কারণেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকগুলোর নতুন নতুন সেবার বিস্তারের কারণে ব্যাংকিং সিস্টেমে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে। আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসারের কারণ গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে যত সময় যাবে, এজেন্ট ব্যাংকিং আরও জনপ্রিয় হবে। এখন গ্রামীণ পর্যায়ে বায়োমেট্রিক মডেলে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। লেনদেন হলেই মেসেজ সার্ভিস রয়েছে। যার কারণে অনিয়ম হওয়ায় আশঙ্কা কম। ফলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে উৎসাহ বাড়ছে।

এ ছাড়া অনেক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সহজে ছোট ঋণ দেওয়া শুরু করেছে, যার কারণে ঋণ বাড়ছে। অনেকে ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে ঋণও দিচ্ছে, যা প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়েছে।

শরিয়াভিত্তিক একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কম সময়ের জন্য ঋণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া এসব ঋণ আদায়ের হারও খুবই বেশি।

তাছাড়া গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের খরচ মেটাতে এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে ঋণ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং পর্যাপ্ত আর্থিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা ও রেমিট্যান্সের সুবিধাভোগীদের জন্য।

মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৩১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পরিমাণ এখনো আমানতের পরিমাণের তুলনায় উল্লেখযোগ্য নয়।

বেশিরভাগ ব্যাংক এখনো এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের জন্য কার্যকর অবকাঠামো তৈরি করতে পারেনি বলে আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ বাড়েনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের মোট আমানতের শতভাগের মধ্যে ঋণ হিসেবে ৮৭ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে। তবে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংগুলো ঋণ হিসাবে ৯২ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে।

চলতি প্রান্তিকে বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সবদিক থেকেই প্রসারিত হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩১টি ব্যাংকের এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৩৫, আর আউটলেট ছিল ২১ হাজার ৬১৩টি। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৫টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায়ই ৮৬ শতাংশ গ্রাহক।


রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার পাচ্ছে ২০টি প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০২১। আগামী ২৩ মে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ ও এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম।

বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে ছয়টি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পাবে। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে ইকোটেক্স লিমিটেড, প্রাণ ডেইরি লিমিটেড ও মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড। অন্যদিকে একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে স্নোটেক্স আউটারওয়্যার লিমিটেড এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড।

মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেড, দ্বিতীয় বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এবং তৃতীয় এপিএস অ্যাপারেলস লিমিটেড।

ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে দ্য রিলায়েবল বিল্ডার্স ও কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। দ্বিতীয় রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড। তৃতীয় হয়েছে গুনজে ইউনাইটেড লিমিটেড।

মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে ফারিহা গ্রিন মুড লেদার্স লিমিটেড, দ্বিতীয় এবিএম ওয়াটার কোম্পানি এবং তৃতীয় ডিপলেড ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড।

কুটিরশিল্প ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে ব্লু-স্টার অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, দ্বিতীয় প্রীতি বিউটি পার্লার এবং তৃতীয় লেহাজ সালমা যুব মহিলা কল্যাণ সংস্থা।

হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে শুধু বিজ সল্যুশনস লিমিটেড নির্বাচিত হয়েছে।

২০১৪ সালে প্রথম ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর সপ্তমবারের মতো রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।


দেশে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণে সিডিনেটকে ইউএসটিডিএর সমীক্ষা অনুদান

সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ) বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সাবমেরিন ক্যাবল (বাঘা-১)-এর উন্নয়নের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডকে (সিডিনেট) একটি সমীক্ষা অনুদান অনুমোদন করেছে।

সাব-সি ক্যাবল শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়াবে এবং ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত করবে। সিডিনেট ফ্লোরিডাভিত্তিক এপি টেলিকম এলএলসি-কে সমীক্ষা পরিচালনা করার জন্য নির্বাচিত করেছে।

ইউএসটিডিএ এবং সিডিনেট ষষ্ঠ ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পাদন করে। সেখানে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ রোমুয়াল্ডেজ মার্কোস জুনিয়র মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে ইউএসটিডিএর পরিচালক এনোহ টি. ইবং বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে আমরা সিডিনেটের মতো অংশীদারদের সঙ্গে সাব-সি ক্যাবল প্রকল্পগুলোর একটি পোর্টফোলিও তৈরি করছি যারা সাব-সি ফাইবার অপটিক ক্যাবল সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের দেশেগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ক্ষমতা সম্প্রসারিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এজেন্সি একটি অংশীদারত্বভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করে, যা প্রকল্পের বিকাশকারী, মার্কিন বেসরকারি খাত, মার্কিন সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সমমনা ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের সম্পদ এবং ক্ষমতাকে কাজে লাগায়, এসব প্রকল্পের সাফল্যের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ বাঘা-১।’

সাব-সি ক্যাবলগুলো বিশ্বব্যাপী যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বাস্তবায়িত হলে বাঘা-১ ক্যাবলটি বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করবে, যা নিরাপদ উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রসারিত করতে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করবে। ইউএসটিডিএর গবেষণা বাংলাদেশে একটি বিশ্বস্ত সাব-সি ক্যাবল সিস্টেম স্থাপনের জন্য সবচেয়ে কৌশলগত পথ চিহ্নিত করার বিকল্পগুলো মূল্যায়নে সিডিনেটকে সহায়তা করবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সিডিনেটের পরিচালক এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘বাঘা-১ বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত সংযোগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং ফাইভ-জি পরিষেবা, আন্তর্জাতিক ডাটা সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক হাইপারস্কেলারের জন্য উদীয়মান ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ উন্মুক্ত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য আরও কানেকটেড এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার এই অগ্রযাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘ইউএসটিডিএর সমীক্ষা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উন্নত ইন্টারনেট ব্যবহার আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।’ তিনি দ্রুতগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও কানেক্টেড করার ক্ষেত্রে মার্কিন বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব স্থাপন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ইউএসটিডিএ বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অগ্রাধিকারের লক্ষ্যগুলো যেমন এগিয়ে নেয়, তেমনি বৈশ্বিক অবকাঠামো, বিনিয়োগের জন্য অংশীদারত্ব, ডিজিটাল সংযোগ এবং সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারত্ব এবং সমৃদ্ধ প্রকল্প প্রস্তুতি সুবিধার জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালন করে থাকে।


কোরবানির ঈদের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ মে, ২০২৪ ১৮:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম বাড়লেও কোরবানির ঈদের আগে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের কোনো সমন্বয় করবো না। আশা করছি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক যারা আছেন, ঈদ পর্যন্ত নতুন করে কোনো মূল্য বেঁধে দেবে না। আগের দামেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন।’

ডলারের দাম বাড়ায় আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়বে, এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, ডলারের সমন্বয়টা হলো ১০ টাকা থেকে ১৭ টাকা। এতে ভোক্তা পর্যায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না। ডলারের দাম বাড়লেও ভোক্তাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম একই পর্যায়ে রাখবো।’

ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ আমদানিকারকরা তখনই অভিযোগ করছিলেন যে ব্যাংক থেকে তারা সরকারি নির্দিষ্ট রেটে ডলার পাচ্ছিলেন না, তারা তখনই ১২০ টাকা, ১২২ টাকা, একেকজন একেকভাবে প্রাইভেটলি সেটলড (নিষ্পত্তি) করছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন সরকার সমন্বয় করার কারণে সরকারি রেটেই তারা আমদানি করতে পারবেন। কাজেই আমদানিনির্ভর পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দামে কোনো সমন্বয় করবো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, ঈদের আগ পর্যন্ত নতুন কোনো দাম নির্ধারণ করা হবে না। পুরোনো দামেই তারা সরবরাহ করতে পারবেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা আন্তর্জাতিক পণ্য। কোথায় যুদ্ধ হবে, অর্থনীতির কোথায় কী হবে, সেটা নিয়ে আগাম ধারণা করা যাবে না। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে মূল্য নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করবো।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘রমজানের আগে-পরে আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর ছিলাম। নতুন সরকার আসার পরে সময়টা কম ছিল, জোরটা অনেক বেশি ছিল, বাজারে যাতে কোনোভাবে খাদ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট না হয়।’

তিনি বলেন, ‘রমজানের পর বাজার স্থিতিশীল ছিল। সামনে আবার কোরবানির ঈদ। ঈদ এলে আমাদের দেশের কিছু লোক আছে, যারা সুযোগসন্ধানী, সরবরাহ ঠিক থাকার পরও জিনিসপত্রের দাম দু-এক জায়গায় বেড়ে যায়। সেই লক্ষ্যে গত রোজার ঈদের সময় যেভাবে মনিটরিং করেছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও সেটা করতে বলেছেন। ঈদে যাতে ভোক্তারা কোনো অসুবিধায় না পড়েন, ন্যায্যমূল্যে জিনিসপত্র পান, সেজন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এটা আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হয়েছে, কাজে গতি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, মনিটরিং আবার সচল করবো, যেন ঈদ সামনে রেখে বাজার থেকে কেউ সুযোগ-সুবিধা নিতে না পারেন। এটা নিয়মিত মনিটরিং। একটা স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম চলে, আরেকটি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রমজানে, ঈদে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের কার্যক্রম জোরদার হবে, দৃশ্যমান হবে।


আমরা ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলিনি: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাহিদা ও যোগান অনুসারে যাতে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলিনি। এটা মুক্তবাজার অর্থনীতি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ঈদ পর্যন্ত কোনো পণ্য ঘাটতি থাকবে না। আমরা তো বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি না। বাজার যাতে সঠিকভাবে কার্যকর থাকে, চাহিদা ও যোগান অনুসারে যাতে মূল্যটা নির্ধারিত হয় এবং আমদানিকৃত পণ্যের দাম যাতে নির্দেশক মূল্যের কাছাকাছি থাকে, এটাই আমাদের চেষ্টা। আমরা তো ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলিনি। এটা মুক্তবাজার অর্থনীতি।’

বাজার মনিটরিং বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রমজানের আগে-পরে আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে তৎপর ছিলাম। নতুন সরকার আসার পরে সময়টা কম ছিল, জোরটা অনেক বেশি ছিল—বাজারে যাতে কোনোভাবে খাদ্যের কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কোনো সংকট না হয়। সেদিকে আমাদের লক্ষ্য ছিল।’


১৭ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৩৬ কোটি ডলার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। রোজার ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া লেগেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি মে মাসের ১৭ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৩৫ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ২৮ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। প্রতিদিনের গড় হিসাবে এসেছে ৮ কোটি ডলার বা ৯৩৬ কোটি টাকা।

মাসের বাকি ১৪ দিনে (১৮ থেকে ৩১ মে) এই হারে এলে মাস শেষে রেমিট্যান্সের অঙ্ক প্রায় ২৫০ কোটি (আড়াই বিলিয়ন) ডলারে গিয়ে পৌঁছবে, যা হবে একক মাসের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২১ সালের জুলাইয়ে এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ (২.৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে।

ঈদের মাস এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনের গড় হিসাবে এসেছিল ৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ। আর এ সূচকের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে রেমিট্যান্স। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সপ্রবাহে বেশ ভালো গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অনেকের ধারণা ছিল, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের পর রেমিট্যান্স কম আসবে; কিন্তু তেমনটি না হয়ে উল্টো আরও বেশি আসছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা-ডলারের বিনিময় হারের নতুন পদ্ধতি ‘ক্রলিং পেগ’ চালু করেছে। এ পদ্ধতিতে এখন থেকে দেশের মধ্যে ডলারের দর লাফ দিতে পারবে না, কেবল হামাগুড়ি দিতে পারবে। আর সেই হামাগুড়ি দিতে হবে নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে। সীমার বাইরে যাওয়া যাবে না। আপাতত সেই সীমা হচ্ছে ১১৭ টাকা। এতে এক লাফে ডলারের দর বেড়েছে ৭ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো এখন ১১৭ টাকা দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পারবে। এর সঙ্গে যোগ হবে সরকারের দেওয়া আড়াই শতাংশ প্রণোদনা।

‘ক্রলিং পেগ’ চালুর ফলে ডলারের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স বাড়ার আশাও রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ওই ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গত মার্চে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ (১.৯৯ বিলিয়ন) পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। আগের দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। জানুয়ারিতে এসেছিল ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল আরও বেশি, ২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। আগের দুই মাস অক্টোবর ও নভেম্বরেও বেশ ভালো রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। অক্টোবরে এসেছিল ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ (১.৯৮ বিলিয়ন) ডলার। নভেম্বরে আসে ১৯৩ কোটি (১.৯৩ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ১৯ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই ১০ মাসে ১৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল তার আগের অর্থবছরের (২০২১-২২) চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। প্রতিবারই দুই ঈদের আগে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ে; ঈদের পর কম আসে; কিন্তু এবার রোজার ঈদের আগে প্রবাসী আয় বাড়েনি। ঈদের পর অবশ্য বেশি আসছে।


আজ রাজধানীতে ১১তম এসএমই মেলা শুরু 

ফাইল ছবিটি সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৪ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১১তম জাতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পণ্য মেলা শুরু হচ্ছে আজ। চলবে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯ মে সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২৩ বিজয়ী সাতজন মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তার হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন।

মেলা উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, এবারের মেলায় অংশ নেবে সাড়ে তিন শর বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা। এ ছাড়া ৩০টি ব্যাংক, ১৫টি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস ক্লাবসহ আরও প্রায় ৫০টি উদ্যোক্তা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে।

শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, মেলায় অংশ নিচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বেশি ৭৫টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া পাটজাত পণ্যের ৪২টি, হস্ত ও কারু শিল্পের ৩৮টি, চামড়াজাত পণ্য খাতের ৩২টি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের ২৭টি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের ২৩টি, খাদ্যপণ্যের ১৪টি, তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাতের ১৩টি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের জন্য ১২টি, হারবাল/ভেষজ শিল্পের পাঁচটি, জুয়েলারি শিল্পের পাঁচটি, প্লাস্টিক পণ্যের চারটি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস খাতের তিনটি, ফার্নিচার খাতের তিনটি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১৯টি স্টল থাকবে মেলায়।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন আরও বলেন, মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মাঝে এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তুলে ধরার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের একটি সেক্রেটারিয়েট থাকবে। গণমাধ্যমের সহকর্মীদের কাজের সুবিধার্থে একটি মিডিয়া সেন্টারও থাকবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকা।

আজ শ‌নিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার ১৯ মে থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।


আজ ঢাকায় আসবেন কানাডার ইন্দো-প্যাসি‌ফিক বা‌ণিজ্য প্রতি‌নি‌ধি

কানাডার ইন্দো-প্যাসি‌ফিক বা‌ণিজ্য প্রতি‌নি‌ধি পল থো‌পিল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় তিন দিনের সফরে জন্য আসছেন কানাডার ইন্দো-প্যাসি‌ফিক বা‌ণিজ্য প্রতি‌নি‌ধি পল থো‌পিল।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় অবতরণ করবেন। ঢাকায় কানাডার হাইক‌মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌র মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

হাইক‌মিশন জানায়, কানাডার ইন্দো-প্যাসি‌ফিক বা‌ণিজ্য প্রতি‌নি‌ধি পল থো‌পিল আগামীকাল রোববার (১৯ মে) থে‌কে তিন দিনের জন্য বাংলাদেশ সফ‌রে থাকবেন। পল আজ শ‌নিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসবেন। পল বাংলাদেশ সফরের সময় সরকা‌রি কর্মকর্তা এবং অংশীজনেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রবেন।

এ সময় ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রতি কানাডার প্রতিশ্রুতি, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উপায় চিহ্নিত করা, দ্বিমুখী বি‌নি‌য়োগে উৎসাহিত করার জন্য কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়; তা নিয়ে আলোচনা করবেন।


ডলারের দামের সঙ্গে বাজারে বাড়ল মসলার দাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার পরপরই রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে আমদানিকৃত মসলার পাইকারি দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কচুক্ষেত ও পুরান ঢাকার কিছু পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে আমদানি করা বেশিরভাগ মসলার দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।

প্রতি কেজি জিরার দাম ৫৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮০ টাকা, এলাচের সর্বনিম্ন দাম ২৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২০০ টাকা করা হয়েছে। আরেক ধরনের এলাচের দাম আগে ৩২০০ টাকা ছিল এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ টাকায়।

এ ছাড়া গোল মরিচের (কালো) দাম ১০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা, কাজুবাদাম ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা ১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা কেজি করা হয়েছে।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

গত ৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করে।

সম্প্রতি দাম বেড়ে যাওয়ার হতাশা প্রকাশ করে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি আদা ৫৭০-৫৮০ টাকায় কিনতাম। কিন্তু এখন ৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অথচ ডলারের দাম বাড়ার আগেই এই মসলা আমদানি করা হয়েছে। এটা সিন্ডিকেটের কাজ।’

মৌলভীবাজার পাইকারি বাজারের মসলার এক পাইকারি বিক্রেতা বলেন, ‘এসব মসলার কেনা দাম একই হলেও কিছু আমদানিকারক ডলারের বাড়তি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে দাম বাড়াতে বলেছেন।’

কারওয়ান বাজারে এক দোকান মালিক বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বর্তমানে পাইকারি বাজারে সীমাবদ্ধ। তবে খুব শিগগির এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার আগে দাম বেড়ে যাবে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু ডলারের দাম কমলে তারা কি দাম কমায়?’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়ায় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন দাম বেশি না বাড়ায়।’


বাজারে চড়া মাছ-সবজির দাম, ক্রেতাদের ক্ষোভ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৭ মে, ২০২৪ ১৯:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে এখনো চড়া মাছের দাম। অধিকাংশ মাছের দাম তেমন একটা কমেনি। আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বিক্রেতাদের দাবি, গরমের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে, বাজারে নিত্যপণ্যের দামের বিষয়ে বরাবরের মতোই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। এর মধ্যে রুই ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০ টাকা, কালবাউশ ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাবদা ৫৪০ টাকা ও ইলিশ মাছ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারও রয়েছে গত সপ্তাহের মতোই। বাজারে প্রতি পিস ফুলকপির দাম ৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধা কপির দাম ৬০ টাকা ও প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ টাকা। এ ছাড়া, প্রতি কেজি গাজর ৭০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ টাকা ও পটল ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরবরাহ কমে যাওয়ার জিনিসপত্রের দাম একটু বাড়তি। গরম কমলে সামনে দাম কিছুটা কমতে পারে।’

সবজির এমন দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। একজন চাকরিজীবী বলেন, ‘আমাদের স্বল্প বেতনে প্রতিদিন মাছ বা মাংস খাওয়া যায় না। কিন্তু সবজির দামও যদি এমন বাড়তি যায়, তাহলে এটা খাওয়াও কমিয়ে দিতে হবে।’

বাজারে মুরগির মাংসের দামও আগের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়, লেয়ার ৩৪০ টাকায় ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। এছাড়া, প্রতি কেজি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

বিষয়:

সোনার অলংকার কিনতে ক্রেতাকে ৬ শতাংশ হারে মজুরি দিতে হবে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। তারা এবার সোনার অলংকারে ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সোনার অলংকার পরিবর্তনে ১০ শতাংশ এবং ক্রেতার কাছ থেকে অলংকার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম করেছে বাজুস।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাজুস। এতে বলা হয়, সম্প্রতি জুয়েলার্স সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সোনার অলংকার বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে ৬ শতাংশ হারে মজুরি নিতে পরামর্শ দিয়েছে সমিতি। এর পেছনে সমিতির ব্যাখ্যা হচ্ছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনার অলংকার বিক্রিতে ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সোনার অলংকার বিক্রিতে ভারতে ১০, শ্রীলঙ্কায় ৮, চীনে ১৫, ইতালিতে ২০, হংকংয়ে ৩০, মালয়েশিয়ায় ৩৫, অস্ট্রেলিয়ায় ২০, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ ও যুক্তরাজ্যে ১৪ শতাংশ মজুরি নেওয়া হয়।

বাজুস ২০২২ সালের আগস্টে প্রতি গ্রামে কমপক্ষে ৩০০ টাকা মজুরি নিতে সদস্যপ্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়। তাতে প্রতি ভরিতে মজুরি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে অধিকাংশ জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের ধরে রাখতে মজুরিতে ছাড় দিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জুয়েলার্স সমিতির একজন সদস্য বলেন, ধরা যাক, বর্তমানে এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ টাকা। তাহলে ৬ হাজার টাকা মজুরি দিতে হবে। আর সোনা ও মজুরির ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের ফলে ব্যবসায়ে নতুন করে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোনার অলংকার পরিবর্তন বা বিক্রির ক্ষেত্রে জুয়েলার্স সমিতির নিদের্শনা হলো, পুরোনো অলংকার বিক্রির ক্ষেত্রে এর ওজন থেকে ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যা এত দিন ছিল ১৩ শতাংশ। এ ছাড়া সোনার অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অলংকারের ওজন থেকে ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এত দিন এই হার ছিল ৯ শতাংশ।

কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা চলছে। সর্বশেষ গত রোববার সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৩২ টাকা বেড়েছে। তাতে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা।


মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ মে, ২০২৪ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে রেকর্ড ১.৪৮ লাখ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশে এমএফএস চালু হওয়ার পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ মাসিক লেনদেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে- মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার সম্প্রসারণ, রমজান ও ঈদের কেনাকাটার মৌসুমে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকা পাঠানোর কারণে মোবাইলে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে ১৮,১৯৫ কোটি টাকা বেশি বা ১৪ শতাংশ বেশি লেনদেন হয়েছে এই মাধ্যমে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এর আগে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ২০২৩ সালের জুনে। সেই সময়ে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১.৩২ লাখ কোটি টাকা। এ ছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ১ লাখ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ২০২২ সালের এপ্রিলে, সে সময়ে লেনদেন হয়েছে ১.০৭ লাখ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে- দেশে বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ বিভিন্ন নামে ১৩টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহর কিংবা গ্রামে– এক মুহূর্তে দেশের যেকোনো স্থানে টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। দিন দিন গ্রাহক সংখ্যা যেমন বাড়ছে, লেনদেনের পরিমাণও তেমনি বাড়ছে।

২০২৪ সালের মার্চ শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ২২ কোটি ৪০ লাখের বেশি। এর মধ্যে শহরে গ্রাহক আছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ। এ ছাড়া গ্রামে রয়েছে ১২ কোটি ৬২ লাখ। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে পুরুষ ১৩ কোটি এবং নারী গ্রাহক ৯ কোটি।

এ বিষয়ে বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, মার্চে ক্যাশ আউট, ক্যাশ ইন, মার্চেন্ট পেমেন্ট, স্যালারি ডিসবার্সমেন্ট পূর্বের সকল সময়ের তুলনায় বেশি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে রোজা ও ঈদ। সাধারণত, আমাদের স্বজনরা অন্য সময় না পাঠালেও ঈদের সময়ে কিছু কিছু পরিমাণে খরচ মেটানোর জন্য টাকা পাঠিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, এই সময়ে অনেক গার্মেন্টস মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্যালারি পাঠিয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে কেনাকাটায় ব্যাপক লেনদেন হয়েছে।

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশেষ করে সরকারি সব ধরনের ভাতা, উপবৃত্তি ও প্রণোদনা বিতরণে মোবাইল আর্থিক সেবা খাত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এ খাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে, যোগ করেন তিনি।

নগদের একজন কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে নগদের সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। আমরা গ্রাহকদের চাহিদার আলোকে নতুন নতুন সেবা চালু করছি। এ ছাড়া মানুষজন এখন ব্যাংকে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে সহজেই এমএফএসের মাধ্যমে তাদের প্রিয়জনদের টাকা পাঠিয়ে দিতে পারছেন। আমরা মনে করি, সামনের সময়ে এটি আরও জনপ্রিয় হবে।

প্রিলে প্রায় প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ডিজিটাল কেনাকাটায় গ্রাহকদের বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়েছিল, ফলে লেনদেনের পরিমাণ আরও বেড়েছে, যোগ করেন তিনি।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্যদিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়।

এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপরে রয়েছে নগদ।


banner close