বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বেঁধে দেয়া দামে সায় নেই ব্যবসায়ীদের

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:১৮

সরকারের বেঁধে দেয়া দামে সায় নেই ব্যবসায়ীদের। খুচরাপর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকায়। ডিম কিছু কিছু দোকানে বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে, প্রতি ডজন ১৪৪ টাকায়। আবার বেশকিছু দোকানে বিক্রি করছে ১৫০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি না করা নিয়ে বিক্রেতাদের রয়েছে নানান অজুহাত।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় বাজারের এই পরিস্থিতি।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৮০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ২৬০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ার আদা ২৮০-৩০০ টাকা, চায়না রসুন ২০০, দেশি রসুন ২৪০ টাকা, আলু ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, গতকাল দেশি আদা ৪০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ান আদা ২০-৪০ টাকা ও দেশি রসুন ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। খুচরাপর্যায়ে আলু-পেঁয়াজ বিক্রিতে মানা হচ্ছে না সরকার নির্ধারিত দাম।

নির্ধারিত দামে বিক্রি না করা নিয়ে আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতারা বলেন, তারা গতকাল রাতে আলু কিনেছেন। তারা তো কম দামে কিনতে পারেননি, বিক্রি করবেন কীভাবে। কেনা পড়েছে ৪২ টাকা, তারপর ভাড়া, নষ্ট আলু বাদ দিয়ে ৫০ টাকাতেই বিক্রি করতে হয়।

তারা আরও বলেন, পাইকাররা দাম না কমালে তারা কম দামে কীভাবে বিক্রি করবেন?

বাজার করতে আসা শামীম হাসান বলেন, সরকার তো দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু আমাদের কিনতে হয় বেশি দামেই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী ৩ কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানান। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য হবে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। আলু কেজিতে ভোক্তাপর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা কোল্ড স্টোরেজ থেকে ২৬-২৭ টাকা। ডিমের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি পিস ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরও দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে ডিম আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বোতল ও প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল ১৬৯ টাকা লিটার, খোলা তেল ১৪৯ টাকা, পাম অয়েল ১২৪ টাকা, চিনি খোলা ১২০ ও প্যাকেট ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সব পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজনে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। তবে কিছু কিছু দোকানে সরকার নির্ধারিত দামেই ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর সয়াবিন বিক্রি আগের দামেই, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৫১ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা আব্দুল জব্বার প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। কেন বেশি দামে বিক্রি করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ডিম ভাঙা থাকে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

আরেক ডিম বিক্রেতা সালাম নির্ধারিত দামেই ডিম বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, সরকার যেহেতু দাম নির্ধারণ করেই দিয়েছে, তাহলে এর বেশি বিক্রি করার উপায় নেই।

মায়ের দোয়া জেনারেল স্টোরের সোহান বলেন, আমার নতুন তেল উঠানো হয়নি, তাই আগের দামেই বিক্রি করছি।

ভোক্তা অধিকারের অভিযান: নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মূল্য তালিকা না থাকায় ও বেশি দামে বিক্রি করায় পেঁয়াজের দুই পাইকারি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা এবং একজন ডিম ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার।

অভিযান শেষে আব্দুল জব্বার বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ডিম, সয়াবিন তেল, আলু, পেঁয়াজের যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার, তা তদারকি করার জন্যই মূলত আজকের এই অভিযান।

তিনি বলেন, যেহেতু গতকালই এই মূল্যতালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে তাই ব্যবসায়ী মহল এখনো এই ব্যাপারে সিনসিয়ার না, তারা আগের মূল্যতালিকাই রেখে দিয়েছে। ৩টি প্রতিষ্ঠানে আমরা অনিয়ম পেয়েছি। ডিমের একটি প্রতিষ্ঠানে আমরা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অনিয়ম পেয়ে তাকে আইনের আওতায় এনেছি। আর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছে।

এই কর্মকর্তা জানান, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা দুটি প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। ফলে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের উপস্থিতিতে মূল্যতালিকা ঠিক করেছে। আমরা আশা করছি, আজ যেহেতু প্রথম দিন তাই একটু সময় লাগছে। বিকাল থেকে বা আগামীকাল থেকে এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম সচল রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম চালু রাখতে প্রায় ১ হাজার ৩ কোটি টাকা (৩০ কোটি দিরহাম বা ৮ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার) মূলধন জোগান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পরিশোধিত মূলধনের ঘাটতি মেটাতে আজ বুধবারের মধ্যেই দেশটিতে ৮ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ১০৪ মার্কিন ডলার স্থানান্তরের জন্য জনতা ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী, দেশটিতে জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ন্যূনতম ৪০ কোটি দিরহাম থাকা বাধ্যতামূলক হলেও প্রতিষ্ঠানটির ছিল মাত্র ১০ কোটি দিরহাম। দীর্ঘদিনের এই ৩০ কোটি দিরহামের ঘাটতির কারণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর একাধিকবার ব্যাংকটিকে সতর্ক করে চিঠি দেয়। সবশেষ নির্দেশনায় একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে কার্যক্রম সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিতে প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহকের হিসাব খোলা, নতুন কোনো আর্থিক সেবা দেওয়া বন্ধ এবং সেখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা চাপিয়ে দেওয়া হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট কাটাতে উদ্যোগ নেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তাদের পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইউএইতে জনতা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সেখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নূন্যতম মূলধনের শর্ত পূরণ করা আবশ্যক; যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সংরক্ষিত বিভিন্ন উপখাত থেকে স্থানীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে এই তহবিল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হলো। সরকারের এই অর্থ জোগানের ফলে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল আইনে অবস্থিত চারটি শাখার কার্যক্রম বন্ধের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হলো।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে সেবা দিয়ে আসছে জনতা ব্যাংক। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেশে অর্থ পাঠানো, চলতি, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাব খোলার প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এই শাখাগুলো। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড এবং ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, কমার্শিয়াল গ্যারান্টি ও বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।


নির্বাচিত

রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) আমদানির সুযোগ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সম্প্রতি ঘোষিত ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’-এ রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই নীতি সংশোধন করে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরোনো রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞার কারণে একদিকে সাধারণ ক্রেতারা আধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরে জানানো হয়, দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দেশের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহনের চাহিদা মেটাতে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত রিকন্ডিশন্ড ইভি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে তরল জ্বালানি আমদানি করে। এ অবস্থায় দেশে প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শর্তসাপেক্ষে এসব গাড়ি আমদানির রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, আমদানির পূর্বে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে কার্যকর পরিদর্শন এবং ব্যাটারির সক্ষমতা (স্টেট অব হেলথ বা এসওএইচ) ন্যূনতম ৭০ শতাংশ থাকার প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাটারির আয়ুষ্কালের নিশ্চয়তা থাকা এবং বন্যা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবহৃত ব্যাটারির পরিবেশসম্মত পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) ও নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে চার্জিং স্টেশন স্থাপন, ডায়াগনস্টিকস ও সার্ভিসিং অবকাঠামোয় দেশীয় বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা অব্যাহত রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে বর্তমান বাজেটের শুল্ক-কাঠামো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস্তব ফলাফল পর্যালোচনা করে বয়সসীমাসহ অন্যান্য শর্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক শীতলতার মাঝেও ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চললেও এর প্রভাব পড়ছে না দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর। বিশেষ করে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক সংকটের বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ভারতের বাজারে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা বিগত বছরের একই সময়ে ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এই প্রবৃদ্ধি বর্তমানের অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে চীন ও অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আড়াই শতাংশের কিছু বেশি, আর জাপানে রপ্তানি পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি লক্ষ্য করা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের টানাপড়েন বিভিন্ন ইস্যুতে দৃশ্যমান হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে নানা শীতলতা সত্ত্বেও বাণিজ্যে তার কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। যদিও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখনো প্রায় ৯০০ কোটি ডলারের উপরে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে ইতিহাস গড়েছিল। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে সেই ধারাবাহিকতায় কিছুটা উঠানামা দেখা যায়। তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক, যা মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক। এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং প্লাস্টিক সামগ্রীও নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছু নীতিগত জটিলতা ও শুল্ক-অশুল্ক বাধা এখনো বিদ্যমান। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগ বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের নির্দেশনা জারি করে। এছাড়া কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পানীয় ও ফার্নিচার রপ্তানির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও দেশীয় বস্ত্র শিল্প সুরক্ষায় সুতা আমদানিতে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। এসব বিধিনিষেধের কারণে মাঝে বাণিজ্যিক গতি কিছুটা মন্থর হলেও সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে তার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কূটনৈতিক সম্পর্কে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সহকারী হাই কমিশনে হামলা এবং ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার কেন্দ্রিক ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হলেও সম্পর্কের বরফ পুরোপুরি গলেনি। এমনকি ট্রানজিট সুবিধা ও সুনির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধ বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাসত্ত্বেও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা কমছে না। দেড়শ কোটি মানুষের বিশাল চাহিদা মেটাতে ভৌগোলিক ও আর্থিক দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের জন্য এখনো সবচেয়ে সুবিধাজনক উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই বাণিজ্যিক ধারা দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে বিদ্যমান অশুল্ক বাধাগুলো দূর করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা বজায় থাকলে রাজনৈতিক টানাপড়েন ছাপিয়ে বাণিজ্যের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখা সম্ভব। সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিল চায় পোশাক শিল্পের দুই সংগঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে প্রচলিত বন্ড সুবিধা বাতিল করে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির নতুন বিধান কার্যকর করেছে। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের কাস্টমস, রফতানি ও বন্ড শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এনবিআরের জারিকৃত আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, “বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলো। তবে ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রকৃত রফতানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে এ সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।” আদেশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট রফতানিকারককে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বিটিএমএর প্রত্যয়নপত্র কাস্টমস স্টেশনে জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থের নিঃশর্ত ও অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে। আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য পুরোপুরি রফতানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে এই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা যাবে। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই আদেশ গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, অথচ সভার কার্যবিবরণীতে এটি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর। সংগঠন দুটির মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতাবিবর্জিত ও আত্মঘাতী এবং এটি কার্যকর হলে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন যে, প্রয়োজনীয় সুতার অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা এবং বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার নিয়মটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অযৌক্তিক।

পোশাক খাতের নেতৃবৃন্দ চিঠিতে আরও জানান, দীর্ঘদিনের প্রচলিত বন্ড ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই এ শিল্প বর্তমানে সুসংহত অবস্থানে পৌঁছেছে। এখন হঠাৎ করে বন্ড সুবিধা সরিয়ে নেওয়া হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না, ফলে শুধু দেশীয় উৎসের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় সুতার জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তারা জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।


নির্বাচিত

শেয়ারবাজারে ফের সূচকের অবনমন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর এক কার্যদিবসের ব্যবধানে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) আবারও দরপতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্যহ্রাসের পাশাপাশি সূচকের পতন হয়েছে, যদিও লেনদেনের অংকে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দর কমার তালিকায় অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সামগ্রিক মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিগত রবিবারের ভয়াবহ ধসে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০৩ পয়েন্ট হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু মঙ্গলবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। লেনদেনের শুরুর ভাগে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধিতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে প্রধান সূচক ৬১ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে দুপুর ১২টার পর এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মাত্রাতিরিক্ত বিক্রয় চাপের মুখে বাজারের গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং দিনশেষে বড় উত্থানের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়লেও ২৫২টির দর কমেছে এবং ৬১টি প্রতিষ্ঠানের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার ৫৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা বেড়ে ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিনের লেনদেনে শীর্ষস্থান দখল করেছে এনভয় টেক্সটাইল, যার ২৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। পরবর্তী অবস্থানে থাকা মালেক স্পিনিং ও শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ যথাক্রমে ২৫ কোটি ৯ লাখ ও ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন করেছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম কটন ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৬টির দর কমলেও ৮৬টির দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮ পয়েন্ট বেড়েছে।


নির্বাচিত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা প্রথম দিনে তুলেছেন ২৫০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে কার্যক্রমের প্রথম দিনেই আমানতকারীরা প্রায় ২৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গত সোমবার দিনশেষে অর্থ উত্তোলনের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্রাহকদের মাঝে টাকা সংগ্রহের ব্যাপারে ব্যাপক উদ্বেগ ও তোড়জোড় থাকলেও প্রথম দিনে উত্তোলনের প্রকৃত অংকটি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম ছিল।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে। বর্তমানে এই বৃহৎ ব্যাংকটির মোট শাখার সংখ্যা ৭৬১টি। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র মারফত জানা গেছে, আমানত ফিরে পেতে এই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে পাওনা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমানতকারীদের এই পাওনা মিটিয়ে দিতে গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার নগদ তহবিল জোগান দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত এই অর্থ সোমবার সকালে প্রধান কার্যালয় হয়ে বিভিন্ন শাখা পর্যায়ে পৌঁছানোর পর রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন আটকে থাকা জমানো টাকা হাতে পেয়ে গ্রাহকদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই তাদের পাওনা বুঝে পেয়েছেন এবং সময়মতো টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় ব্যাংকের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


নির্বাচিত

২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে শুরু হচ্ছে বাপা ফুডপ্রো এক্সপো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী একাদশ ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬’। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তির আধুনিক পসরা নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী চলবে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত। এবারের আসরে বিশ্বের ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন করবে এবং এতে দেড় শতাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা উপস্থিত থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে শুধু পণ্য প্রদর্শনই নয়, বরং কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এ খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর সোবহানবাগে বাপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে। আয়োজক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনের এই আয়োজনে প্রায় ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেলায় প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, মান পরিদর্শন ও লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, রোবোটিকস ও স্মার্ট ফ্যাক্টরি সংক্রান্ত চার হাজারের বেশি সমাধান প্রদর্শিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, “দেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রদর্শনী উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাপা দেশ ও বিদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই মেলার মাধ্যমে আমরা এ ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা জানান দিতে চাই। পাশাপাশি দেশের এ খাতের সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং বাপার কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, “বর্তমান ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস পর্যন্ত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কার্যক্রম গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি আমরা তাদের কাছে আমাদের সক্ষমতা তুলে ধরবো। আমরা চাই, ভোক্তা সাধারণ, নতুন উদ্যোক্তা, ছোট-বড় ব্যবসায়ী—সবাই এ মেলায় আসবেন। এ সেক্টরে অন্যরা কী করছে, একে অন্যের জন্য কী সহায়তা প্রয়োজন, সেটা দেখবেন। দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরাও আসবেন। আমাদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেবেন। এ মেলায় ১৫৬ বিদেশি বিনিয়োগকারী আসছেন। তাদের কাছ থেকে নতুন উদ্যোক্তারা সহায়তা পাবেন। আমরা মূলত ৩৬০ ডিগ্রি দেখার চেষ্টা করেছি, যেন সবাই এ আয়োজন থেকে উপকৃত হন।”

এই প্রদর্শনীতে অস্ট্রেলিয়া, চীন, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ২৭টি দেশ অংশ নিচ্ছে। একই ভেন্যুতে সমান্তরালভাবে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে টেকসই খাদ্য উপকরণ ও বিকল্প প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান জানান, মেলায় বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সেমিনার থাকবে। আয়োজকদের মতে, মেলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নিবন্ধনের সুবিধা foodpro.com.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রদর্শনীতে সেশন স্টেজ ও গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি ফোরামের মতো আকর্ষণীয় নানা আয়োজন দর্শকদের জন্য বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।


নির্বাচিত

মদ বিক্রিতে রেকর্ড মুনাফা, ডিস্টিলারি ইউনিটে কেরুর আয় ছাড়াল ২০০ কোটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ডিস্টিলারি ইউনিট মুনাফার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ইউনিটের করপূর্ব মুনাফা প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ২২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা আগের অর্থবছরের ১৯০ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইউনিটটির বিক্রির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এই খাতের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে বিদেশি মদের আমদানিতে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালে শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং স্থানীয় বাজার সুরক্ষায় আমদানিকৃত মদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করে। এর ফলে গত চার বছর ধরে ডিস্টিলারি ইউনিটের বার্ষিক আয় ধারাবাহিকভাবে ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করছে এবং টানা পাঁচ বছর ধরে নিট মুনাফা ১০০ কোটি টাকার ওপরে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ইউনিটের করপূর্ব ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা থেকে ৩২ কোটি টাকা কর প্রদানের পর নিট মুনাফা ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই আর্থিক পরিসংখ্যানগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত নিরীক্ষা বা অডিট শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

ডিস্টিলারি ব্যবসায় বিশাল আয়ের সুফল মিললেও কেরুর মূল ব্যবসা হিসেবে পরিচিত চিনি উৎপাদন ইউনিটটি এখনো লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। সর্বশেষ অর্থবছরে এই ইউনিটে প্রায় ৬০ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে। মূলত আখ থেকে চিনি সংগ্রহের হার আশানুরূপ না হওয়ায় এই স্থবিরতা কাটছে না। তবে চিনি খাতের এই বড় অঙ্কের ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক দ্বিতীয় চিনি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই নতুন ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরলে চিনির লোকসান অনেকাংশে হ্রাস পাবে। গত অর্থবছরে চিনি বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ধরণের ব্যবসায়িক খাত মিলিয়ে কেরুর মোট সমন্বিত রাজস্ব ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ছিল ৯৭ কোটি টাকা। ডিস্টিলারি ইউনিটের বড় অংকের লাভ মূলত চিনি ইউনিটের লোকসান সামাল দিতে ব্যবহৃত হয় বলে সমন্বিত নিট মুনাফার পরিমাণ কিছুটা কম দেখায়। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত এই বৃহৎ শিল্প কমপ্লেক্সটি কেবল চিনি ও অ্যালকোহল উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৩৮ সালে বেসরকারি উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা এবং ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ হওয়া এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আখের ছোবড়া থেকে জৈব সার উৎপাদন, বাণিজ্যিক খামার পরিচালনা এবং ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ তৈরির ব্যবসার সাথেও সরাসরি যুক্ত।

অ্যালকোহল উৎপাদন থেকে প্রাপ্ত বিশাল আয় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও লাভজনক অবস্থানে নিতে চিনি ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক ইউনিটগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


নির্বাচিত

নোট মুদ্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নতুন ব্যাংকনোট মুদ্রণের পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় গত এক বছরে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট বা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোট ছাপাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট খরচ হয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এটি আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকার তুলনায় প্রায় ৯৫.৪৬ শতাংশ বা ২২৪ কোটি টাকারও বেশি। দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই নিয়মিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এমন বিশাল ব্যয় বৃদ্ধি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ব্যয় বৃদ্ধির নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে টাকা তৈরির বিশেষ নিরাপত্তা কাগজ ও কালি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। বৈশ্বিক বাজারে এসব কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজার না থাকায় দরকষাকষির সুযোগ কম থাকে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন নোটের ছাপানোর পরিমাণ খুব একটা না বাড়লেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাই মূলত ব্যয়ের এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের ওঠানামা এই ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুব একটা ভূমিকা রাখেনি। এক বছরের ব্যবধানে ডলারের দাম মাত্র ৮ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় মুদ্রণ খরচে এর প্রভাব ছিল নগণ্য। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে নোটের নকশা পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটির ব্যয়ও এই উচ্চ ব্যয়ের জন্য দায়ী নয়। নকশা পরিবর্তনের কাজ মূলত নামমাত্র খরচে সম্পন্ন হয় এবং এতে মুদ্রণে সামান্য জটিলতা তৈরি হলেও আর্থিক ব্যয়ের মূল ভারটি বহন করতে হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিকে।

বিগত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই ব্যয়টি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নোট মুদ্রণ ব্যয় ৩৩৭ কোটি থেকে ৩৮৪ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার ফলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গত অর্থবছরে নোট ব্যবস্থাপনায় প্রায় দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হয়েছে।


নির্বাচিত

শর্তসাপেক্ষে বর্জ্য সুতা আমদানির অনুমতি দিল এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় স্পিনিং মিল মালিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধিতা ও পোশাক রপ্তানিকারকদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের বর্জ্য সুতা (ওয়েস্ট ইয়ার্ন) আমদানির অনুমতি প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে আমদানিকৃত এই কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কঠোর শর্ত হিসেবে ‘ব্যাংক গ্যারান্টি’ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার এনবিআরের দ্বিতীয় সচিবের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এইচএস কোড ৫৫০৫, ৫৫০৬ ও ৫২০৭-এর অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট মানের বর্জ্য সুতা এখন থেকে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা যাবে। তবে এই সুবিধা কেবলমাত্র বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার জন্য প্রযোজ্য হবে। আমদানির সময় প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থের একটি নিঃশর্ত ও অপরিবর্তনীয় ব্যাংক গ্যারান্টি কাস্টমস স্টেশনে জমা রাখতে হবে। উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সেই গ্যারান্টি পুনরায় অবমুক্ত করা হবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূলত নিম্ন ও মধ্যমূল্যের পোশাক এবং নিটওয়্যার তৈরিতে এই সাশ্রয়ী কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। বৈশ্বিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে সস্তায় কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, স্পিনিং মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, অনিয়ন্ত্রিত আমদানির ফলে দেশীয় সুতা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দুই পক্ষের এই মতপার্থক্য দূর করতে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে এনবিআর ভারসাম্যমূলক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত থাকার ফলে আমদানিকৃত সুতা কেবল রপ্তানি পণ্য উৎপাদনের জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে। পোশাক রপ্তানিকারকরা জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে কাঁচামাল সংগ্রহে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

জাপানি রাসায়নিক আমদানির ওপর চীনের অতিরিক্ত ফি আরোপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে জাপানের ওপর অতিরিক্ত ‘জামানত’ বা ফি আদায় শুরু করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি অনুযায়ী, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার দরের চেয়ে পরিকল্পিতভাবে কম দামে পণ্য বিক্রি করে চীনের স্থানীয় শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকেই নতুন এই বাণিজ্যিক কড়াকড়ি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাপান থেকে আমদানি করা ‘ডাইক্লোরোসিলেন’ নামের রাসায়নিকের বিষয়ে গত জানুয়ারি থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন শিল্পে এই রাসায়নিকটির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী রাষ্ট্র হলো জাপান। এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানি নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘প্রাথমিক প্রমাণে দেখা গেছে, জাপান থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো ডাম্পিংয়ের বা কম দামে পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং এতে চীনের ডাইক্লোরোসিলেন শিল্প উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।’ এই ক্ষতির হাত থেকে দেশীয় শিল্পকে বাঁচাতে ‘নিরাপত্তা জামানত’ হিসেবে সাময়িক এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত হারে এই অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধিকাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানতের হার ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে টোকিওভিত্তিক ডেনাল সিলেনের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা কমিয়ে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে। জাপানি রাসায়নিক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান শিন-এৎসু কেমিক্যাল এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি তাদের ব্যবসার ‘খুবই ছোট একটি অংশ এবং সামগ্রিক ব্যবসায় এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না’।

চীনের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান সরকার। দেশটির মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন যে, টোকিও এই বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ‘যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাপান এরই মধ্যে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।’ তবে এই ব্যবস্থা ঠিক কতদিন স্থায়ী হবে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে আসবে, সে বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।


নির্বাচিত

সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সুগন্ধি চাল রপ্তানির পূর্বানুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ইতিপূর্বে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত চালের পরিমাণ এখন থেকে অর্ধেকে নেমে আসবে। এই সংশোধিত নিয়মটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মেয়াদ বলবৎ থাকবে। এর ফলে বড় বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের সকল রপ্তানিকারকের ওপর এই নতুন বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।

রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক হিসাব রাখতে সরকার ১০টি কঠোর শর্তারোপ করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের অবশ্যই রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর সকল বিধান যথাযথভাবে পালন করতে হবে। প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের গুণগত মান ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করবে এবং জাহাজীকরণের কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের কাঙ্ক্ষিত মূল্য বজায় রাখতে প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বা এফওবি রেট ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই রপ্তানি অনুমোদন হবে সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে পণ্য পাঠাতে পারবে না। এমনকি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরকার যেকোনো সময় এই অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। রপ্তানি আয়ের সত্যতা প্রমাণের জন্য পিআরসি বা প্রসিডস রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ভবিষ্যতে নতুন করে রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করতে হলে আগের কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণাদি দাখিল করতে হবে।

তথ্যানুযায়ী, এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির অনুমতি থাকলেও গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে মূল দর্শন হলো বৈদেশিক মুদ্রার অর্জনের চেয়ে দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া। অভ্যন্তরীণ বাজারে সুগন্ধি চালের দাম সাধারণের নাগালে রাখা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় এই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত চাল রপ্তানি একবারে বন্ধ না করে একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই কাঠামোর মধ্যে আনাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার দুই প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের ওপর কানাডার ঘোষিত পাল্টা শুল্ক আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধ এক নতুন ও জটিল মোড় নিল।

কানাডা সরকার প্রধানত যন্ত্রপাতি, বস্ত্র, ইস্পাত, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি উপকরণ এবং দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৭০০-এর অধিক পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। আমদানিকৃত এসব পণ্যের ধরন অনুযায়ী শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতেই ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। মূলত ওয়াশিংটনের নেওয়া শুল্ক নীতির সমপরিমাণ জবাব দিতেই অটোয়া এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল গত জুলাই মাসে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের সঙ্গে কানাডার ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আগস্ট মাসে দুই দেশ একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনায় বসলেও ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাল্টা শুল্কের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের সহায়তায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার। তবে এই শুল্ক যুদ্ধ কেবল কর আরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; কানাডার এই পদক্ষেপের ঠিক আগের দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু না করলে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে নিষিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। এমনকি উত্তেজনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারের জন্য অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিতর্কিত নির্দেশও দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ কানাডা তাদের তৈরি গাড়ির অন্যতম প্রধান বাজার। অন্যদিকে, আল জাজিরায় প্রকাশিত কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতির কারণে দেশটির অভ্যন্তরে অন্তত ৫৫০ ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। ঐ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শুল্কের ফলে সৃষ্ট মোট আর্থিক বোঝার প্রায় ৯৬ শতাংশই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে যাবে।


নির্বাচিত

banner close