মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঋণ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নয়

ছায়েদুর রহমান
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:১৫

পুঁজিবাজারের জন্য গত সপ্তাহের লেনদেন বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাজারে বড় অঙ্কের ফান্ড প্রবেশ করেছে যা বাজারের গতি ফেরাতে কাজে আসবে। তবে তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সাবধান করে বলেন, ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোনো বাজারেই ঋণ করে ব্যবসা করার ফল ভালো হয় না। পুঁজিবাজারের বর্তমান নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুলতান আহমেদ।

গত সপ্তাহের লেনদেন নিয়ে অনেকেই সন্তুষ্টি জানিয়েছেন, আপনার অভিমত কী?

: দেখুন, অনেকদিন ধরেই পুঁজিবাজারে ঝিমিয়ে ধরা পরিস্থিতি ছিল। গত সপ্তাহে লেনদেনটা একটু ভালো হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ বাজারে বেশকিছু নতুন ফান্ড প্রবেশ করেছে। আরো নতুন নতুন ফান্ড আসবে বলে বিভিন্নভাবে শোনা যাচ্ছে। তা যদি সত্যি হয় তাহলে এটা বাজারের জন্য বেশ ইতিবাচক হবে বলেই মনে হচ্ছে।

নতুন ফান্ডের ধরন কেমন? অর্থাৎ কোন ধরনের বিনিয়োগকারী এ সব ফান্ড নিয়ে আসছে?

: এটা পরিষ্কার করে বলা যায় না ফান্ডগুলো কোথা থেকে আসছে। তবে বড় বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক এমনকি ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকেও তা আসছে বলে শুনতে পাচ্ছি। হাউসগুলোতেও ভালো লেনদেন হতে শুরু করেছে। এখন এ সব ফান্ড যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় তবেই তা টেকসই বাজারের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। সবাই চায় বাজার ভালো হোক। তবে ভালো হওয়ার সংজ্ঞাটা একেক জনের জন্য একেক রকম। যার কাছে যে শেয়ার আছে সেটা বাড়লেই তার কাছে মনে হবে বাজার ভালো হয়েছে। আবার আমরা যারা ব্রোকার হাউসের প্রতিনিধি আমাদের কাছে ভালো লেনদেন মানেই বাজার ভালো। তবে সামগ্রিকভাবে সবপক্ষের ইতিবাচক অংশগ্রহণ হলেই তাকে টেকসই বাজার বলা যায়। আমার মনে হয় ভালো লেনদেন আগামী কয়েক সপ্তাহ থাকলে বাজারের প্রতি আস্থা বাড়বে। ছোট বিনিয়োগকারীরাও আবার সক্রিয় হবে।

এই সময়ে কেন ইতিবাচক আশা করছেন?

: দেখুন এখন বছরের না শুরুর সময় না শেষ। আবার কোনো ব্যাংকিং ক্লোজিংয়েরও সময় নয় এখন। অন্যদিকে এখন লভ্যাংশ দেয়ার মৌসুম। অনেক কোম্পানি এখন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। সে সব শেয়ার কিনতেও অনেকে নতুন তহবিল প্রবেশ করাচ্ছেন। তবে তার মধ্যেও সাবধানী আচরণ করার বিকল্প নেই। কোনো কোম্পানির দাম বাড়তে দেখলেই নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেন অনেকে। এটা পরিপক্ব আচরণ নয়। পুঁজিবাজার মানে জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা, সেটা আমাদের বাজারে কম হয়। সবাই চলন্ত গাড়িতে উঠতে চায়, এটা চিন্তা করে না সেখানে দুর্ঘটনার চান্সও বেশি। চলন্ত গাড়ি মানে যে শেয়ারের দাম বাড়ছে সেটাই সবাই কিনতে চায়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই শুধু ক্যাপিটাল গেইন খুঁজে বেড়ায়। আবার অনেকেই দেখে কোনটার বেশি লেনদেন হচ্ছে, এটাও ঠিক নয়। যখন যার লেনদেন ভালো হচ্ছে সব ওখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে যা মোটেই কাম্য নয়। এটা আমাদের বাজারেই দেখা যায়। বিশ্বের অন্য কোনো বাজারে এমন না বুঝে গুজবে শেয়ার কেনার নজির নেই। আমার পরামর্শ হচ্ছে যে সব শেয়ার দিনের পর দিন এক জায়গায় পড়ে আছে সেখানে বিনিয়োগ করুন। দেরিতে হলেও সেখান থেকে নিশ্চিত লাভ পাওয়ার আশা করা যায়। যেটা এরই মধ্যে ৪০/৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে সেটা কেনা মানে নিশ্চিত ঝুঁকিতে প্রবেশ করা। দুঃখজনক হলেও আমাদের বাজারে সেভাবেই বেশির ভাগ কেনাবেচা হচ্ছে।

তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের করণীয় কী?

: জেনেবুঝে আসতে হবে। গুজবে কান দেয়া যাবে না। অনেকে বলেন, ভালো শেয়ারের দাম বাড়ে না। এটাও অনেক সময় সত্যি। তবে তারপরও নিজের বিনিয়োগ আগে সুরক্ষিত রাখতে হবে। একটু লাভ পেলে অনেকেই ঋণ নিয়ে আরো শেয়ার কেনেন। আমি বলব এটাও ঠিক নয়, ঋণ নিয়ে কোনো বাজারেই বিনিয়োগ করা উচিত নয়। এর ফলাফল প্রায় সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক হয়। এমনও হয় বেশি লোকসান হয়েছে বিধায় সেই বিনিয়োগকারী আর ব্রোকার হাউসের সঙ্গে যোগাযোগও করেন না। তখন আরো বড় বিপদে পড়তে হয় দুপক্ষকেই।

বর্তমান বাজারে বেশির ভাগ শেয়ারের লেনদেন হচ্ছে না, বিনিয়োগকারীরা যাবে কোথায়?

: এটা অবশ্যই সত্যি। ২০০-র অধিক শেয়ার এখনো ফ্লোর প্রাইসের কারণে আটকে আছে। তাতে অনেক বিনিয়োগ সেখানে ঝুলে আছে। আমি মনে করি এ ব্যাপারে দ্রুত একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তবে ইদানীং অনেক কোম্পানি ফ্লোর থেকে বের হয়ে আসছে। ভালো লেনদেন থাকলে এটা অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

ধাক্কা সামলে এআই খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ দেখছে জেপি মরগান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর দরপতনের ফলে এ খাতের শেয়ারমূল্য এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অবস্থান আরও স্বচ্ছ হয়েছে এবং বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোতে নতুন করে অর্থলগ্নি করার পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান।

জেপি মরগানের শীর্ষ বিশ্লেষক মিসলাভ মাতেজকার নেতৃত্বে তৈরি করা এক পর্যালোচনায় বলা হয়, ‘প্রযুক্তি খাত হয়তো তার অতীতের সাফল্যের চূড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ফিরবে না... তবুও এর মৌলিক ভিত্তিগুলো বেশ শক্তিশালী এবং এআই বলয়ে এখনো প্রচুর সুযোগ রয়েছে।’ বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি চিপ ও প্রযুক্তি খাতে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হলেও কোম্পানিগুলোর মূলধনী বিনিয়োগ ব্যয়ের (ক্যাপেক্স) ধারা যথেষ্ট শক্তিশালী থাকবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা এবং এআই প্রযুক্তি থেকে সরাসরি রাজস্ব আয়ের ইতিবাচক লক্ষণগুলো এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এআই সংশ্লিষ্ট শেয়ারে ব্যাপক উত্থান দেখা গেলেও, পরবর্তীতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে শীর্ষ প্রযুক্তি নির্বাহীরা দ্রুতগতির প্রযুক্তিগত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেয়ারের দামে বড় ধরনের ধস নামে। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় সামনে বাজার পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছে জেপি মরগান। বিশেষ করে শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, ২০২৭ সাল পর্যন্ত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত চাহিদার তুলনায় চিপের সীমিত সরবরাহের মতো ইতিবাচক নিয়ামকগুলোর কারণে সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী অবস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সেমিকন্ডাক্টরের তুলনায় প্রচলিত সফটওয়্যার খাতের বিষয়ে কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ব্যাংকটি। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে সফটওয়্যার খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠছে। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ‘নাটকীয় অবমূল্যায়নের কারণে সফটওয়্যার খাতে সরাসরি শর্ট পজিশন নেওয়া ঠিক হবে বলে আমরা মনে করি না, তবে সফটওয়্যারের বিপরীতে সেমিকন্ডাক্টরের পেয়ার ট্রেডে পুনরায় প্রবেশ করা উচিত।’ বিশ্ববাজারের পরিসংখ্যানও এই ব্যবধানের প্রমাণ দিচ্ছে; চলতি বছর বৈশ্বিক চিপ খাতের সার্বিক সূচক ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টরস অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর ইকুইপমেন্ট ইনডেক্স’ প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সফটওয়্যার খাতের ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস ইনডেক্স’-এ অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।


নির্বাচিত

ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতায় পাম তেলের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫৭
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের মূল্য হ্রাসের প্রভাবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার মালয়েশিয়ায় পাম তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পতন ঘটেছে। তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের চাঙ্গাভাব এবং মালয়েশিয়ার মুদ্রা রিঙ্গিতের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় এই লোকসানের মাত্রা তুলনামূলক সীমিত ছিল।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহ চুক্তিতে পাম তেলের দাম টনপ্রতি ৯ রিঙ্গিত বা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৬৩ রিঙ্গিতে (১ হাজার ১৪২ দশমিক শূন্য ৫ মার্কিন ডলার) নেমে লেনদেন শেষ হয়। গত সপ্তাহে সার্বিকভাবে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দরপতনের পর এদিন লেনদেন চলাকালে দর ৪ হাজার ৬৪২ থেকে ৪ হাজার ৭২০ রিঙ্গিতের মধ্যে ওঠানামা করে।

আন্তর্জাতিক ভোজ্যতেলের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পাম তেলের দাম অন্যান্য তেলের মূল্য পরিবর্তনের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করে। এদিন চীনের ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে সক্রিয় সয়াবিন তেলের চুক্তি শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং পাম তেলের চুক্তি ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডেও সয়াবিন তেলের দাম শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পায়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, শক্তিশালী জ্বালানি তেল এবং দুর্বল মুদ্রা বাজারকে শক্তি জোগালেও ‘ডালিয়ান ও শিকাগোর ভোজ্যতেলের দরপতন মূল্যবৃদ্ধির সুযোগকে সীমিত করেছে।’

অন্যদিকে ইরানের শান্তি চুক্তি ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে খনিজ তেলের দাম বাড়লে বায়োডিজেল তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পাম তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মান শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য পাম তেল কেনা কিছুটা সাশ্রয়ী হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রযুক্তিগত বাজার বিশ্লেষক ওয়াং তাও এক পূর্বাভাসে জানান, চলমান দরপতনের ধারায় পাম তেলের দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ৫৮৮ থেকে ৪ হাজার ৬২২ রিঙ্গিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পণ্য পরিবহন তদারকি সংস্থা ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস ও অ্যামস্পেক এগ্রি মালয়েশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে মালয়েশিয়ার পাম তেল রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ১ থেকে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল সমিতি (গাপকি) জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে তাদের দেশ থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন পাম তেল রপ্তানি হয়েছে, যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।


নির্বাচিত

ক্রেডিট কার্ডে সরাসরি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কেনার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে প্রচলিত ব্যাংক চ্যানেল কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর না করে যাত্রীরা সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক ড. মো. আবু বক্কার সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকেরা বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশে পরিচালিত বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর টিকিট কিনতে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যেসব বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাইরে নিষ্পত্তি হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিকিট কেনার এই ব্যয় গ্রাহকের নির্ধারিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক টিকিটের সত্যতা যাচাই করে গ্রাহকের কার্ডে ব্যবহৃত অর্থ পুনরায় রিফিল বা সমন্বয় করার সুযোগ পাবে। এ ধরনের লেনদেন সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ব্যাংকগুলোকে এয়ারলাইনসের নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) অনুসরণ করতে হবে।

তবে বিদেশি কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর নিজ দেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী রেমিটেবল সারপ্লাস হিসেবে গণনা ও সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি এসব আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ট্রানজেকশন মনিটরিং (টিএম) মডিউলের মাধ্যমে রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার বিনিয়োগকারীকে অর্থ পরিশোধ শুরু ডিএসইর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নিজস্ব ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে এ ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ভুক্তভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসই আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে’ সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

অনুষ্ঠানে ডিএসই চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক নিয়মে শেয়ারের দর ওঠানামা ও লাভ-ক্ষতি স্বীকৃত হলেও কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বাজারের আস্থায় মারাত্মক আঘাত হানে। অতীতে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ গ্রাহকদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎ করে ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনাদার ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর সমুদয় অর্থ আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে তিনি তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

যাঁদের পাওনা পাঁচ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এই ধাপে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ হচ্ছে না, তাঁদের পাওনাও দ্রুততম সময়ে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান দৃঢ় আশ্বাস দেন। তিনি জানান, খেলাপি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সম্পদ ও শেয়ার বিক্রিসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি গ্রাহকদের অর্থ আদায়ের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের তথ্য ও জটিল হিসাব সুচারুভাবে সমন্বয় করায় তিনি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশংসা করেন।

আইপিএফ তহবিলের অর্থের উৎস তুলে ধরে তিনি জানান, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ট্রেড কমিশন এবং কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) জমার ওপর পাওয়া সুদের ২৫ শতাংশ অর্থ দিয়েই এ সুরক্ষা তহবিল গড়ে তোলা হয়েছে। বিএসইসি, উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল এবং ব্রোকারদের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও আস্থাশীল পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।


নির্বাচিত

টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের পতন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্যহ্রাসের কারণে প্রধান প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে টানা তিন কার্যদিবস দরপতনের ধারা অব্যাহত রইল। এর আগে গত সপ্তাহে বুধবার বড় উত্থান ও ৮০০ কোটি টাকার লেনদেনের পর বৃহস্পতিবার থেকে যে দরপতন শুরু হয়েছিল, তা চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনেও বজায় থাকে।

সোমবার লেনদেনের প্রথমার্ধে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম বাড়ায় প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ইতিবাচক ধারায় ছিল। তবে লেনদেনের শেষ আধা ঘণ্টায় হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত বিক্রয়চাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি প্রতিকূল রূপ নেয় এবং দিনশেষে পতন দিয়েই লেনদেন শেষ হয়। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৫টির শেয়ারদর বাড়ার বিপরীতে ২২৪টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের দর। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়া বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

কোম্পানিগুলোর শ্রেণিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো কোম্পানির মধ্যে ৭৯টির দর বাড়লেও কমেছে ১০৯টির এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের ২০টি প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৫০টির দাম কমেছে। এছাড়া লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬টির দর বাড়ার বিপরীতে ৬৫টির পতন হয়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর। লেনদেন হওয়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বাড়লেও ২৮টির কমেছে এবং ২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সূচকে পতন হলেও ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এদিন বাজারটিতে মোট ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা সম্পন্ন হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষে ছিল অ্যাপেক্স স্পিনিং। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় এর পরেই রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, এনভয় টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা, ইভিন্স টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ারদর বাড়ার বিপরীতে ৯৮টির দাম কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট হ্রাস পায়। পাশাপাশি বাজারটিতে মোট লেনদেনের পরিমাণও বড় ব্যবধানে কমে ১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।


নির্বাচিত

অনুমোদনহীন ২২টি অবৈধ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর শনাক্ত করে সেগুলোর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট স্থায়ীভাবে ব্লক করাসহ গুগল প্লে স্টোর থেকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলো অপসারণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগের তদন্তের বরাতে এই তথ্য পাওয়া যায়।

লাইসেন্সবিহীন হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বহুদূর পে, জিনিপে, পে-টিলার, বেঙলি পে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটি পে, ইজিপে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত এবং পিপড়াপে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা দিয়ে আসছিল। তদারকি এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক চ্যানেল তৈরি করেছে।

পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর মূলত এমন একটি মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ককে একক সংযোগের আওতায় আনে। নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই সেবা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক, যার অধীনে বর্তমানে দেশে ১১টি বৈধ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি, আইনি সুরক্ষা কিংবা কোনো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকে না। ফলে এসব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারীদের দেউলিয়াত্ব, জালিয়াতি কিংবা আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকের বড় অঙ্কের অর্থ অনিষ্পন্ন থেকে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির বাইরে থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম গ্রাহকের পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোনো বিধানই মানছে না। ফলে তহবিলের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য নির্ধারণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অধিকন্তু, কিছু প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো নিষিদ্ধ ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন এবং অনলাইন জুয়ায় সরাসরি সহায়তা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সাথে অনিবন্ধিত আর্থিক কার্যক্রমের কারণে সরকার মোটা অঙ্কের ভ্যাট ও ট্যাক্স রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পেমেন্ট ব্যবস্থা পরিচালনা করা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন করে কোনো ব্যবহারকারী প্রতারিত হলে তার কোনো আইনি দায়ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহন করবে না। এ পরিস্থিতিতে শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ অর্থপাচার ও আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।


নির্বাচিত

পাট রপ্তানিতে ফিরছে সুদিন, দুই মাসে আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ১৬ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার আয় অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আলোচিত দুই মাসে পণ্যভিত্তিক আয়ের চিত্রে দেখা যায়, কাঁচাপাটের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, পাটের সুতায় ৫৮ শতাংশ এবং অন্যান্য পাটপণ্যে ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে; তবে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি থেকে আয় প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট খাতের মোট রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছিল, যা এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এক যুগের সর্বনিম্ন ৮২ কোটি আট লাখ ডলারের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের পাটপণ্য রপ্তানি আয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল এবং চামড়া খাতকে পেছনে ফেলে জাতীয় রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তবে পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে আয় কমে খাতটি শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের তালিকায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও হোম টেক্সটাইলের পর চতুর্থ স্থানে নেমে আসে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি মূলত বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজারে কাঁচাপাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থমূল্যে ইতিবাচক দেখালেও পণ্যের পরিমাণের দিক থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের পণ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আয় নিয়ে রপ্তানির সিংহভাগই দখলে রেখেছিল পাটের সুতা, তবে এর রপ্তানির পরিমাণ ২ শতাংশ কমে ৪ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমেছিল। একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ থেকে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় হলেও কাঁচা পাট রপ্তানি ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ১২ লাখ ডলারে নেমে আসে এবং কাঁচা পাটের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ হাজার টনে। এছাড়া বহুমুখী পাটপণ্যের আয়ও ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে স্থির হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য পাঠানো হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রচলিত সুতা ও চটের পাশাপাশি পাটের তৈরি বহুমুখী গৃহসজ্জা সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, বাগান পরিচর্যার সামগ্রী, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ও প্যাকেজিং পণ্যের ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া চীনে পাটকাঠির চারকোলের বিশাল বাজার রয়েছে। বিশ্বে পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের বার্ষিক ৯০ লাখ বেল কাঁচা পাটের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এ খাত থেকে বছরে ৫০০ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব বলে বিনিয়োগ বোর্ডের বিভিন্ন সমীক্ষায় উল্লেখ রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ক্রয়াদেশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণভাবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের মুনাফাকে সংকুচিত করে রেখেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাট খাতের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ শীর্ষক একটি পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করে ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কাঁচা পাটের জাতীয় উৎপাদন ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেলে উন্নীতকরণ, স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটবীজের চাহিদার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পূরণ এবং মোট রপ্তানিতে উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের অংশ ৪৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণাগার স্থাপন এবং সাপ্লাই চেইনে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


নির্বাচিত

বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন-বেইজিং শুল্ক হ্রাসের সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। রোববার এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস। তবে এই শুল্ক ছাড়ের নির্দিষ্ট হার কিংবা তা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সমঝোতার শর্তানুযায়ী, উভয় দেশ পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে তালিকা পর্যালোচনা করে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা বংশোদ্ভূত আতশবাজি, বড়দিনের সাজসজ্জার উপকরণ, গৃহস্থালি পণ্য ও খেলাধুলার সামগ্রীসহ মোট ৭৭ ধরনের পণ্যে শুল্ক কমাতে পারে। অন্যদিকে চীন ওয়াশিংটন থেকে আমদানি করা ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাংস, সামুদ্রিক খাদ্য, দুগ্ধজাত পণ্য, শস্য, হুইস্কি, কাঠ এবং কয়লা।

হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানায়, সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের পর এসব ‘অ-সংবেদনশীল পণ্যে’ আরও সুবিধাজনক শুল্কহার দেওয়ার বিষয়ে কিছু ‘সুপারিশ’ নিয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে। শনিবার বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এই সমঝোতার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন কয়লা ক্রয়ে চীন সম্মত হয়েছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এর আগে দেশ দুটির পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে শুল্কের পরিমাণ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সির বৈঠকে একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।


নির্বাচিত

নদীপথে আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র হয়ে বাংলাদেশে মিথানল রপ্তানির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের জলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে মিথানল রপ্তানি শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’ (এপিএল) এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উত্তর-পূর্ব ভারতের ডিব্রুগড় অঞ্চল থেকে নদীপথে আন্তর্জাতিক কোনো বাণিজ্যিক পণ্য প্রেরণের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ঘটনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা বলেন, ‘ব্রিটিশরা এ দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে স্বাধীন ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে ডিব্রুগড় থেকে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

মিথানল পরিবহনের সুবিধার্থে আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপরিবহন বিভাগ থেকে দুটি কার্গো জাহাজ ইজারা নিয়েছে এপিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা এই নৌযান দুটিকে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে সংস্কার করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে, যাতে ডিব্রুগড়ে উৎপাদিত রাসায়নিক নদীপথে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে স্বল্প খরচে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই পণ্যবাহী প্রথম জাহাজ ‘ডিএলবি পাটকাই’ ডিব্রুগড়ের বগিবিল ঘাটে এসে অবস্থান করছে। তবে এটি ঠিক কবে নাগাদ বাংলাদেশের উদ্দেশে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। আসাম রাজ্য সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএল মূলত মিথানল ও ফরমালিন প্রস্তুত করে থাকে। মূলত পূর্ব আসামের তেলক্ষেত্রগুলোতে থাকা বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসকে শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছিল।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে উল্লম্ফন, প্রতিব্যারেল প্রায় ১০৬ ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজার খোলার দিনেই জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে, যা সরাসরি জ্বালানির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেহরান। তবে শনিবার ট্রাম্প এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। অবশ্য এর পরদিনই অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহেই একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এএনজেডের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। হুতি ও ইরান সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে জ্বালানিপ্রবাহ ঝুঁকির মধ্যে আছে।’ উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে সৌদির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ড্রোন ও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথা জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পায়। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে বাড়ার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ হতে পারে—এমন গুঞ্জনে স্থানীয় পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমার আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দরে এই পতন ঘটেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিশোধিত তেলের বাজারে চলমান চাপের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং ওয়াশিংটন রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির বড় সংকট তৈরি হবে, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই ইউরোপে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তোলন বাড়ায় সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দেশগুলোর দৈনিক তেল রপ্তানি ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের নিজস্ব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের বদলে পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি স্থানান্তর করায় হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি পরিবহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারের উদ্যোগে চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলেন, সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো: ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়।

পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ফেডের কড়াকড়িতে ঋণ ব্যয় বাড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতিগত সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট (০.২৫ শতাংশ) বাড়ালেও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর তাৎক্ষণিক কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন দেশটির অর্থনৈতিক ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে এর প্রভাবে পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, ডলারভিত্তিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশটির বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এর ঘরে। গত মে মাসের শেষভাগে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম নীতিগত পরিবর্তন। ফেডের নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও অন্তত এক দফা (২৫ ভিত্তি পয়েন্ট) বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেএস গ্লোবালের গবেষণা প্রধান ওয়াকাস ঘানি বলেন, ফেডের এই সুদের হার বৃদ্ধি রুপির ওপর কিছুটা চাপ বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থাকে আরও সংকোচনমূলক করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণকে ব্যয়বহুল করবে। তবে পাকিস্তানের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নে এর তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ গত সেপ্টেম্বরে ছাড়া ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের ইউরোবন্ডের শর্ত আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাঁর মতে, “পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, যা সরাসরি দেশটির আমদানি বিল ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।”

ইসমাঈল ইকবাল সিকিউরিটিজের গবেষণা প্রধান সাদ হানিফ জানান, ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের জন্য একাকী কোনো বড় ধাক্কা হয়ে আসবে না। কারণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড ২১.৪ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে এবং স্থানীয় ঋণবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও সীমিত।

তবে মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে সাদ হানিফ বলেন, “আগস্টে পাকিস্তানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.১ শতাংশ। ফলে বর্তমানে প্রকৃত সুদের হার মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশ। এ অবস্থায় ফেডের কড়াকড়ির কারণে অদূর ভবিষ্যতে এসবিপির পক্ষে নীতিগত সুদের হার কমানো কঠিন হবে। এছাড়া এসওএফআর (SOFR)-যুক্ত বাণিজ্যিক ঋণের মতো ফ্লোটিং রেটের বৈদেশিক ঋণের পরিশোধ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওয়াশিংটনের ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বৃদ্ধির চেয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে ওঠানামা করা পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ও চলতি হিসাবের জন্য অনেক বেশি উদ্বেগের।”

একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ খান বলেন, ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে রুপির অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়বে এবং ঋণ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া জ্বালানি ও সারের মতো জরুরি পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়লে তা মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, রিজার্ভ বাড়লেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানকে প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। রপ্তানি বৃদ্ধির চেয়ে ঋণ ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

আরিফ হাবিব লিমিটেডের (এএইচএল) গবেষণা প্রধান সানা তাওফিক এটিকে ফেডের একটি “মৃদু বৃদ্ধি” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এতে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা না থাকলেও ডলার শক্তিশালী হবে এবং মার্কিন বন্ডের ফলন বাড়বে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন সংকোচনমূলক নীতির দিকে যাচ্ছে, তখন পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো স্থিতাবস্থা ধরে রেখেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের মনিটরি পলিসি কমিটি (এমপিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় বৈঠকে তাদের নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ১১.৫ শতাংশে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


নির্বাচিত

ট্যানারির বর্জ্য রূপান্তর হচ্ছে রপ্তানিমুখী মূল্যবান পণ্যে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত কঠিন রাসায়নিক বর্জ্য এখন উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ওষুধ শিল্পের উপযোগী জেলটিন ও চামড়া নরম করার কাজে ব্যবহৃত শিল্প প্রোটিন পাউডার উৎপাদিত হচ্ছে। চীনের ওয়েনঝো ইউয়ানফেই গ্রুপের প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে দেশে প্রতিষ্ঠিত দুটি কারখানা এই সম্ভাবনাময় খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কাছে ওয়েনঝো ইউয়ানফেই ও পিংইয়াং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত ‘বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ২০২৪ সালে নিবন্ধিত শতভাগ রপ্তানিমুখী ‘ইয়ংলি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড’ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানা দুটিতে কাঁচামাল হিসেবে সাভার শিল্পনগরী থেকে সংগৃহীত ওয়েট ব্লু ডাস্ট, চামড়ার ছাঁট ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে কারখানা দুটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার টন ট্যানারি বর্জ্য রিসাইকেল করছে এবং এতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) সমৃদ্ধ বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানির বার্ষিক জেলটিন উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার টন, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ট্যানারির বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়েছে।


গত বছর থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে ইতোমধ্যে চীন ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের জেলটিন এবং ৩ লাখ ডলারের শিল্প প্রোটিন পাউডার। সম্প্রতি হংকং থেকেও ৪ লাখ ডলারের জেলটিনের নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সনদ সম্পন্ন করার পর তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এসব পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস
জেলটিন প্রধানত ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণ তৈরিতে এবং শিল্প প্রোটিন পাউডার প্রক্রিয়াজাত চামড়াকে নরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কাঁচামালের জন্য স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের জেলটিন এবং ১ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের খালি ক্যাপসুলের আবরণ আমদানি করেছে। ফলে দেশে এ ধরনের উৎপাদন বাড়লে তা আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্ভাবনাময় এই শিল্প বর্তমানে কাঁচামালের তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। বছরে ৫ হাজার টন জেলটিন উৎপাদনের জন্য প্রায় ৩০ হাজার টন গরুর কাঁচা চামড়ার ছাঁট প্রয়োজন হলেও দেশে এর মোট বার্ষিক সরবরাহ মাত্র ২০ হাজার টনের মতো। এর ওপর সম্প্রতি কিছু ব্যবসায়ী এই কাঁচা ছাঁট বিদেশে রপ্তানি শুরু করায় স্থানীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্প ও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষায় সাভার চামড়া শিল্পনগরী থেকে গরুর চামড়ার কাঁচা ছাঁট রপ্তানি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউএস এফডিএ নিবন্ধন, হালাল ও জিএমপি সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ সুরক্ষার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্যাপসুল খাতের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবৃদ্ধি
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ সাতটি দেশে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৬ ডলার মূল্যের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা) জেলটিনের খালি ক্যাপসুল রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭২ হাজার ৪০৮ ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৭ হাজার ১৮৯ ডলার। বছরভেদে এসব পণ্যের শীর্ষ গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, জার্মানি এবং সবশেষে মেক্সিকো।

বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, খালি ক্যাপসুলের বৈশ্বিক বাজারের আকার ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বার্ষিক ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (নিউট্রাসিউটিক্যালস), স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওষুধ শিল্পের গবেষণার প্রসারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমানের জেলটিনজাত পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করছে।


নির্বাচিত

banner close