মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

আমান কটন ফাইব্রাস: আইপিওতে তোলা অর্থের ৯০ শতাংশই ব্যাংকে এফডিআর

আপডেটেড
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৭
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৭

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০১৮ সালে ৮০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেড। এ অর্থ তোলার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানিটির কারখানার জন্য নতুন যন্ত্রাংশ ক্রয় ও প্রতিস্থাপন করা এবং ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করা। এ অর্থ ব্যয়ে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটিকে আইপিও-পরবর্তী এক বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও ব্যয় সম্পন্ন করতে পারেনি আমান কটন। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানির আইপিও তহবিলের প্রায় ৯০ শতাংশই অব্যবহৃত রয়ে গেছে। আর ওই অব্যবহৃত অর্থ তিনটি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করে রেখেছে কোম্পানিটি।

তথ্য অনুসারে, গত আগস্ট শেষে কোম্পানির আইপিও তহবিল থেকে মোট ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা উত্তোলিত মোট তহবিলের মাত্র ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত তহবিলের ৮৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ ৭১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কিছু কোম্পানি আছে যারা বাজার থেকে টাকা নিয়ে ব্যবহার না করে বছরের পর বছর ফেলে রাখে। এতে আলটিমেটলি বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আমার মনে হয়, যেসব কোম্পানি এভাবে বাজার থেকে টাকা নিয়ে সময়মতো ব্যবহার করতে পারে না, সেখানে ব্যবস্থাপনা পর্ষদে সমস্যা আছে। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে যাদের হাতে বেশি শেয়ার আছে তাদের দু-একজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত বিএসইসির।’

আইপিও অনুমোদনকালের প্রসপেক্টাস অনুসারে, আমান কটন ফাইব্রাসের উত্তোলিত অর্থ কেবল নতুন যন্ত্রাংশ ক্রয় ও প্রতিস্থাপন এবং ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করার কথা ছিল। তখন এ তহবিলের মোট অর্থের মধ্যে ৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কোম্পানির নতুন যন্ত্রাংশ ক্রয় ও প্রতিস্থাপনে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়। আর ১০ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কোম্পানির ঋণ পরিশোধ ও বাকি ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আইপিও খরচ খাতে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

কোম্পানির ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিও তহবিল ব্যয়ে সময় বাড়ানো হয়। এ সময় এ তহবিল ব্যবহারের জন্য সময় দুই বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের ৫ আগস্ট করার পাশাপাশি ব্যয় পরিকল্পনায়ও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। কোম্পানিটি তার ঋণ পরিশোধে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৩৬৫ টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এবং ৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৫ টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য নতুন করে বরাদ্দ নির্ধারণ করে।

এরপর কোম্পানিটি আইপিও তহবিল ব্যবহারের জন্য আরও একবার সময় বাড়িয়েছে। ২০২১ সালে কোম্পানির ১৬তম এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে এ তহবিল ব্যবহারের সময় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এ দফার নির্ধাতির সময় শেষ হওয়ায় কোম্পানিটি তহবিল ব্যবহারের জন্য নতুন করে আরও একবার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দফায় কোম্পানিটি আইপিও তহবিল ব্যবহারের জন্য ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসন্ন ১৮তম এজিএমে এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, গত আগস্ট শেষে আইপিও তহবিল থেকে ঋণ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থ ব্যবহার সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি। এ ছাড়া আইপিও খরচ খাতের অর্থ থেকে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যবহার করেছে, যা এ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত মোট অর্থের ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। কিন্তু কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত যন্ত্রাংশ ক্রয় ও প্রতিস্থাপন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের এক টাকাও ব্যয় করেনি।

কোম্পানির নিরীক্ষক জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কোম্পানিটি আগস্টের শেষ দিন পর্যন্ত আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে কোনো আমদানি কিংবা নির্মাণকাজ করেনি। তবে এ সময় পর্যন্ত কোম্পানিটি তহবিলের অব্যবহৃত অর্থসহ সুদ বাবদ অর্জিত টাকা যোগ করে মোট ৭৩ কোটি টাকা তিনটি ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করে রেখেছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ৩৮ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ১৫ কোটি টাকা এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসিতে ২০ কোটি টাকা এফডিআর করেছে।

আইপিওর অর্থ ব্যবহার নিয়ে কোম্পানি সচিব শরিফুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের কোম্পানি আমান কটন ফাইব্রাসের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১০০ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা ১০ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের হাতে ৪৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বাকি ৩৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারদর গত এক বছরের মধ্যে ২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩০ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারদর ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় ফ্লোর প্রাইসে আটকে রয়েছে।

কোম্পানিটি এখনো ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশের ঘোষণা দেয়নি। ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডাররা ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন। এর আগের হিসাব বছরে ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। এর আগে তালিকাভুক্তির পর প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।


মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে এলো ১.৫২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৫০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি মার্চের প্রথম নয় দিনে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এ সময় প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “চলতি মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময় দেশে এসেছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এবার প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে প্রবাস আয় বাড়ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।


একদিনের ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

টানা দুই দফা কমার পর আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে দেশের বাজারে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের তথ্য জানায় সংগঠনটি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা ঠিক করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকালে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৩৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৪ বার কমানো হয়েছে।


চার বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক।

গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনোনীত স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পরিচালিত হচ্ছিল। তবে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় এবার সরাসরি পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে এসব ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। একই প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার পরও নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামানকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো। তখন ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ছিল এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৫ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। একই সময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকে এ হার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশে এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে ৬ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। সে সময় এসব ঋণ নিয়মিত হিসেবে দেখানো হলেও বর্তমানে অনেক ঋণই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।


বাজেটে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান সিপিডির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট। এমন এক সময়ে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপের মুখে রয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি আরও শক্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমানে অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংগ্রহে ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিনিয়োগের নিম্নগতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থরতা। একই সঙ্গে আগামী দিনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও নানা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করা সম্ভব হবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডি জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতের জন্য নির্দিষ্ট রাজস্ব নীতি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই এবং শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ঈদের দিন ছাড়া প্রতিদিন সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস ও বাণিজ্য কার্যক্রম চলবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ঈদের আগে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু থাকবে।

এ বিষয়ে সোমবার একটি আদেশ জারি করেছে এনবিআর। ইতোমধ্যে দেশের সব কাস্টমস কমিশনারকে নির্দেশনাটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই কাস্টম হাউস খোলা রাখার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ঈদের দিন বাদে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সময়েও সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়।


ঈদের আগে ছুটিতে পোশাক শিল্প এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ঈদের ছুটি রয়েছে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও।

তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ১৮ ও ১৯ মার্চ সী‌মিত প‌রিস‌রে ব্যাংক খোলা রাখ‌তে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দুইদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরিপোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে, আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে।

ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবে তাদের বিধি অনুযায়ী ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।


অনুমতি ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন ফেরত নিতে পারবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয় করা অর্থ নিজ দেশে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ফেরত নিতে আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে না। আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই ১০ কোটি টাকা নিতে পারত। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদারিকরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রয় করা অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ২০২০ সালের সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বাধীন মূল্য নির্ধারক দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য থাকলে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে নিজস্বভাবে অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দিতে পারবে।

এছাড়া সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নির্ধারিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু অতিক্রম না করলে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, ব্যাংকগুলোই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে মূলধন দেশের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা দূর হবে। আর এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনও আর প্রয়োজন হবে না।

ব্যাংকগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে হবে। মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই ও প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেবে এই কমিটি। কমিটিতে সিএফএর মতো প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদধারী সদস্য থাকতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মূল্যায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য যুক্তিসংগত মাশুল আদায় করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে তিনটি গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতি-নেট অ্যাসেট ভ্যালু পদ্ধতি, মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতির বিস্তারিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেনদেনের সময় কমানো এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত উন্নতিও আনা হয়েছে। মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ছয় মাসের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

ব্যাংকগুলো কোনো অসংগতি না থাকলে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন পাঠাবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের তারিখ, যেটি পরে হবে, সেই তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পুরো শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন সব লেনদেনের বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।


বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি একই সঙ্গে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে স্টিফান লিল্যার এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দক্ষ ট্রেড নেগোসিয়েটর তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ও আলোচনায় কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

স্টিফান লিল্যার বলেন, "বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি কাজ করতে প্রস্তুত।"

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান এবং ইউএনডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ারবাজারে দরপতনের পর বড় উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার (৯ মার্চ) শেয়ার ও ইউনিটের দাম বড় পরিসরে বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দরপতনের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসের লেনদেনে প্রধান সূচকসহ সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনে দরপতন ঘটে। এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমে এবং বাজার মূলধন ২০,৪১৩ কোটি টাকার পতন দেখায়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও ডিএসইর সূচক একদিনে ২৩১ পয়েন্ট কমে।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। দিনের সময় দাম বৃদ্ধি আরও ব্যাপক হয়ে সূচকের বড় উত্থান প্রদর্শন করে।

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৫১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৭টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেড়েছে, ১৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের ৭৪টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে, ১টির অপরিবর্তিত। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ১০১টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে, ৬টির অপরিবর্তিত। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৪টির দাম বেড়েছে, ৪টির কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫,১৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৩৫ পয়েন্টে, ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯৭৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৪১৬ কোটি ৯ টাকা হয়েছে, আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দিয়ে, ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরপর সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং খান ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ফাইন ফুডসও রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দাম বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে ৬২টির দাম কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।


তিস্তা বাঁধ প্রকল্পসহ বাংলাদেশে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ২২:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পেও অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, “চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।” তিনি আরও জানান, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর একটি।” খুব দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তার মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় নতুন ঋণ সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও জোরদার হবে।”


হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে জ্বালানি ও কাঁচামালবাহী ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত শুরুর আগে প্রায় আড়াই লাখ টন এলএনজিসহ মোট ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। সে সময় ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সংঘাত শুরুর আগেই তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং পণ্য খালাসের কাজ চলছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এসব জাহাজের মধ্যে অন্তত চারটিতে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রয়েছে। এই গ্যাস মূলত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার গ্যাসের চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হবে।

এ ছাড়া একটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এসেছে, যা গৃহস্থালি সিলিন্ডার গ্যাস, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হবে। কয়েকটি জাহাজে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল, শিল্পখাতে ব্যবহৃত ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্যও রয়েছে।

অন্যদিকে কয়েকটি কার্গো জাহাজে বিভিন্ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনা হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ এবং প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহৃত হবে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালি বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংঘাত শুরুর আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প কাঁচামাল রয়েছে।”

তিনি জানান, বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক জাহাজের জ্বালানি এবং কয়েকটি কার্গো জাহাজে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও এসেছে। এসব পণ্য দেশের গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হবে।

এ বিষয়ে শনিবার এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, “চারটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামে আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে এসব জাহাজের নিরাপদ আগমন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি কার্যক্রমের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


ঈদে এটিএমে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির সময় গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় গ্রাহকদের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে আগাম প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখা, কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করা এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বুথগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাহারাদারের সতর্ক অবস্থান রাখার কথাও বলা হয়েছে।

পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবার ক্ষেত্রেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করতে ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

ই-পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের ক্ষেত্রে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছুটির পুরো সময়জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ঈদের ছুটির সময় যেকোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানাতে হবে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পরিশোধ সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সতর্ক করতে প্রচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন সেবা চালু রাখার কথা বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আগে জারি করা নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি যুক্ত করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।


এলপি গ্যাসের দাম ৪১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন প্রস্তাবে প্রতি সিলিন্ডারের মূল্য ৪১০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৩৫ টাকা নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বেসরকারি খাতের এলপিজির তুলনায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানির গ্যাসের দাম কম থাকায় বাজারে ক্রসফিলিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এই সমস্যা মোকাবিলা এবং উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া গণমাধ্যমে বলেন, “বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মূল্য নির্ধারণ কমিটির প্রস্তাবনার ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।”

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। সে সময় ক্রসফিলিং বন্ধ করা, ডিলার পর্যায়ে স্থানীয় পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, অপারেশন খরচ এবং বিভিন্ন চার্জ বাড়ার বিষয়টি কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তবে সে সময় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। ফলে দাম বাড়ানোর আবেদন নাকচ হওয়ায় আগের মূল্যই বহাল থাকে।

নতুন করে দেওয়া প্রস্তাবটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী সময়ে তা কার্যকর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


banner close