গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দামে ব্যাপক পতন হয়েছে। এক সপ্তাহেই প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৮০ ডলার কমে গেছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার মধ্যে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে তার তুলনায় খুবই সামান্য পরিমাণ কমেছে।
গেল এক সপ্তাহে বিশ্বাবাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৭৬ দশমিক ৮০ ডলার। প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরলে বিশ্ববাজারে এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা। বিপরীতে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমেছে ১ হাজার ২৮৪ টাকা।
অর্থাৎ বিশ্ববাজারে যে হারে দরপতন হয়েছে, দেশের বাজারে তার অর্ধেকও কমানো হয়নি। এতে দেশের বাজারে এবং বিশ্ববাজারের মধ্যে সোনার দামে বড় ধরনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে এক ভরি সোনা ১৬ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বাজারে সর্বশেষ সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তার আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ২৮৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৪ টাকা কমিয়ে ৯৫ হাজার ৪১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ৮১ হাজার ৭৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ দামেই দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে।
অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এরচেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেই সঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে নতুন দাম অনুযায়ী ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭ টাকা গুনতে হবে।
বাজুস থেকে যখন দেশের বাজারের জন্য সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, সে সময় বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার। এখন তা কমে ১ হাজার ৮৪৮ ডলারে নেমে গেছে। অর্থাৎ দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৫৫ ডলার।
বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই সোনার দাম কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৯২৪ দশমিক ৯৯ ডলার। সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৭৬ দশমিক ৮০ ডলার কমে প্রতি আউন্সের দাম ১ হাজার ৮৪৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আসল নোটের সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। মূলত আসল টাকার নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি বা বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই জরুরি বার্তা প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকৃতির নমুনা নোট ব্যবহার করে নিজস্ব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বাজারে জাল নোটের বিস্তার ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্ৰদৰ্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” দণ্ডবিধির আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি এরূপ নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা প্রচলনে থাকা ব্যাংক নোট সদৃশ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং উক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনসাধারণকে এই ধরনের অননুমোদিত প্রচারণা ও কন্টেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদান করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বেশ ইতিবাচক থাকলেও দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই শূন্য রেমিট্যান্সের তালিকায় একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি আশাব্যাঞ্জক খবর হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে কোনো প্রবাসী আয় জমা হয়নি। এ ছাড়া বিদেশি খাতের আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমেও ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা কোনো অর্থ পাঠাননি। মূলত প্রবাসীরা যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেশি লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে পৌঁছেছে। বিপরীতে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ২১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, "ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।" বর্তমান অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় সুখবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নতুন সময়সূচিতে শেয়ার কেনাবেচা চলবে।
রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত ডিএসই সূত্রে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে লেনদেন ১টা ৪০ মিনিটে শেষ হবে এবং এর পরবর্তী ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন হিসেবে গণ্য হবে। রমজানে লেনদেনের সময়সূচির বিষয়ে ডিএসই জানায়, “শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হবে। আর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।” এই সেশনে নতুন কোনো দাম প্রস্তাব করার সুযোগ না থাকলেও বিনিয়োগকারীরা দিনের সমাপনী বা ক্লোজিং দামে শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চললেও প্রতি বছরই রমজান মাসে বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর বাজার পুনরায় তার নিয়মিত সময়সূচিতে ফিরে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ডিএসইর দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময়ও সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ বিবেচনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটি এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি মাসে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে রিটার্ন দাখিলে বিঘ্ন ঘটায় এনবিআর এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ-চালান সিস্টেমে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ করদাতারা সময়মতো তথ্য হালনাগাদ করতে পারেননি যার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের উচ্চপর্যায় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, “জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৬ তারিখের পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” সাধারণত প্রতি মাসের ১৬ তারিখে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সময় বাড়ানো হলো। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট সার্কেল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বর্ধিত সময় অনুযায়ী রিটার্ন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়। ডিএসই-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
পেশাগত এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে হাসান ও. রশিদ জানান, “বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি প্রাইম ব্যাংকের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এপ্রিলেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, যেখানে বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সফল নেতৃত্বের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও ব্যাংকটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে; গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এই ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার প্রায় ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা ক্যানসার নিরাময়কারী ওষুধের অভাবনীয় বিক্রি বৃদ্ধির সুবাদে গত বছরে তাদের নিট মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসার ও ওষুধ বিক্রির উল্লম্ফন প্রতিষ্ঠানটিকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তারা এই আর্থিক অর্জনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কৌশল এই সাফল্যের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক বিবৃতিতে গত দুই বছরের লভ্যাংশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর পরবর্তী মুনাফা ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় এই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মাঝে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও গম আমদানি শুরুর আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গম আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখনই বড় কোনো তৎপরতা শুরু করছেন না। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে গমের দাম কম। এখনই গম আমদানি সম্ভাবনা নেই। তারা মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন গমের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, কিছুদিন মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন গম আসতে শুরু করবে। তখন দাম অনেকটা কমে আসবে। সে সময় আমদানি শুরু হবে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।
এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।
ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ৪ শতাংশ বা ২০১ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রবল সক্রিয়তায় প্রায় পাঁচ মাস পর বাজারের দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই উত্থানকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা এবং নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৬৪টি শেয়ার ও ইউনিট, বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২৬টির। অর্থাৎ দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল ১৪ গুণ বেশি। সূচকটি আগের দিনের তুলনায় বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনের দিক থেকেও আজ রেকর্ড হয়েছে; বাজারটিতে মোট ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। আজকের লেনদেনে শীর্ষস্থানে ছিল সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নিয়মিত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা শেয়ারবাজারের এই ইতিবাচক মোড় নিতে সহায়তা করেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উচ্চ সুদহার বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হবে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এমন একটি সাময়িক উত্থান দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে স্থির হয়ে যায়। তাই বাজার স্থিতিশীল করতে সুদের হার সমন্বয় এবং বাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার (আইপিও) আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ সবকটি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেখানে অংশ নেওয়া ২২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসইর পরিচালকসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের এই আস্থাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন। দিনশেষে, নির্বাচনের পর প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারের এই চনমনে ভাব অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় এই নিরঙ্কুশ জয়কে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের অনন্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে যে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে, তা দেশের আপামর জনতার গণরায়েরই প্রকৃত প্রতিফলন।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করে যে, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব কার্যকর হবে বলে বিজিএমইএ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে। দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সন্ধিক্ষণে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের দূরদর্শী নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসা-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশাবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিজিএমইএ পরিবারের যেসব সদস্য বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংগঠনটি মনে করে। অভিনন্দন বার্তার শেষাংশে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ পরিচালনায় তার সকল উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেছেন যে, অভিন্ন নিয়ম না থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ‘বিশৃঙ্খলায়’ নিমজ্জিত হতে পারে। জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সংস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এগুলো এখনো অপরিহার্য। ডব্লিউটিও প্রধানের মতে, ‘প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য দ্বিপক্ষীয় সংস্থাগুলো এখনো অপরিহার্য।’
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এ সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজনীয়। ডব্লিউটিওর মতো ফোরাম দেশগুলোকে একত্র হওয়ার এবং এসব সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টায় সুযোগ করে দেয়।’ তবে সংস্থার বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, ডব্লিউটিওর ‘বর্তমান অবস্থা টেকসই নয়’। বহুপক্ষীয় এই মঞ্চকে সময়োপযোগী করার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমাদের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোকে কার্যকর হতে হলে পরিবর্তন আনতেই হবে।’
সংস্থা প্রধান হুঁশিয়ারি দেন যে, সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসায়ীরা শুল্কহার, পণ্যের মানদণ্ড ও শুল্ক প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ১৯৩০-এর দশকের সেই বিধ্বংসী সুরক্ষাবাদী নীতির ঘূর্ণাবর্তে ফিরিয়ে নিতে পারে। প্রতিটি দেশ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করলে যে অরাজকতা তৈরি হবে, তা কেউ দেখতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংকট নিরসনে চলতি বছরের শেষ দিকে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংস্থাকে আরও সহনশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মহাসচিব।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর এই চাল রপ্তানির পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।
রপ্তানি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে। শর্তানুযায়ী, ‘প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হতে হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।’ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত চাল কোনোভাবেই রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজিকরণ শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে অহস্তান্তরযোগ্য, ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে এই কাজ করাতে পারবে না।
বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতি অনুযায়ী সাধারণ চাল বিদেশে পাঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে গড়ে মাত্র ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগের মতো বিভিন্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।
সুগন্ধি চাল রপ্তানির এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে সম্পন্ন হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া পর্যন্ত সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সময় বৃদ্ধি করায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী পুনরায় সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাবে।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন এবং জাপানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের সূচকগুলো বর্তমানে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজারের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী ধারার ওপর ভর করে এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক সূচকটি গত বৃহস্পতিবার দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহেই এই সূচকটি প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
জাপানের নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচির বিজয় দেশটির শেয়ারবাজারে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা মূলত তার নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া অর্থনৈতিক শিথিলতার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচি সরকার অর্থনৈতিকভাবে অধিক দায়িত্বশীল হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে মুদ্রাবাজারে ইয়েন এক সপ্তাহে ২.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। জাপানের এই বিপুল বিজয় সরকারকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা প্রদান করবে এবং বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশটিতে বেকারত্বের হার হ্রাস পাওয়া এবং কর্মসংস্থান অপ্রত্যাশিতভাবে গতিশীল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক স্বল্পমেয়াদে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি রিটার্ন একদিনে ৫.৮ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত অক্টোবর মাসের পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
ইউরোপীয় ফিউচার সূচকগুলোও একটি আশাব্যঞ্জক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ নতুন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুমে বিনিয়োগকারীরা করপোরেট খাতের মুনাফা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সামগ্রিকভাবে আমেরিকার কর্মসংস্থান তথ্য এবং জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে ডলারের আধিপত্য এবং অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের দৃঢ় অবস্থান মুদ্রাবাজারে এক বিশেষ ভারসাম্য তৈরি করেছে, যার সুফল সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো বৈশ্বিক শেয়ার সূচকগুলোতে।