সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ডলার কারসাজিতে জড়িত ১০ ব্যাংককে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ অক্টোবর, ২০২৩ ২১:০৫

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রির অপরাধে বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ (৭) ধারা অনুযায়ী, বেশি মূল্যে ডলার বিক্রির অপরাধে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বেশি দামে ডলার বিক্রি করার অভিযোগে বেসরকারি খাতের ১০ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেপ্টেম্বরে মাসে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এসব ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু করে।

ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংকের টাকা ও ডলারের চাহিদা-জোগানের বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে। কোনো কোনো ব্যাংকে ট্রেজারি বিভাগের প্রধান পদে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ডলার বেচাকেনায় কারসাজির সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যাংকের মধ্যে প্রচলিত ধারার ৭টি ও ইসলামি ধারার ৩টি ব্যাংক রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেছিলেন, বেশি দামে ডলার বিক্রির জন্য এসব ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধান দায় এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ (৭) ধারা অনুযায়ী, এ অপরাধে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। যদি আইনের একই ধারার লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রথম দিনের পর প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা যায়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চের পর থেকে দেশে ডলার সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে সংকট আরও প্রকট হয়। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেয়া হয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) ওপর। এরপর দুই সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ শুরু করেন। তবে কিছু ব্যাংক ডলারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে ডলার কেনাবেচা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের জরিমানার কবলে পড়তে হলো।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৭
বাণিজ্য ডেস্ক
    যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আয় এসেছে ৩৩৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আয় এসেছে ৩৩৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধি পণ্য রপ্তানিতে দেশের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। এত বড় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।’

হাসান আরিফ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা এবং বিশেষ করে বড় ভোক্তাবাজারে দেশীয় পণ্যের ধারাবাহিক চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ছে

প্রচলিত বড় বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন ও বিকল্প বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫২ ও ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে রপ্তানি বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, রপ্তানি বাজারের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন কিংবা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। এ নিয়ে দেশটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। দেশটি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

ইউরোপের এসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি— এ তিন দেশ থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। ফলে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৪.৩৯ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতেও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এ বাজারের ধারাবাহিক অবদানকেই তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক। এ কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমরা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ খুঁজতে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক এড়ানোর বিষয়ে আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাই লক্ষ্য

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকেরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বড় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও ভোক্তাদের পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী।

তার মতে, প্রচলিত ও নতুন—উভয় ধরনের বাজারে রপ্তানির এ প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নতুন ও বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা দেশের রপ্তানি ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

ক্রিপ্টো চুরির ৯৫ শতাংশ সম্পদ উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সের

৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯৫ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯৫ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স। আজ রবিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে সাইবার হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত অপরাধী গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ জড়িত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

বৃহস্পতিবারের সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। আজ থেকে ধাপে ধাপে এ সুবিধা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্ল্যাটফর্মটি থেকে বিটকয়েন, ইথার, বিএনবি, সোলানা, এক্সআরপি ও ডজকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তোলন করা যাবে।

এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ এ হামলার জন্য দায়ী। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উত্তর কোরিয়ার জেনেভা মিশন ও চীনে অবস্থিত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

দেশে বাড়ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে উদ্যোক্তারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
    ব্যবসার পরিধি বাড়লেও পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভোক্তার ব্যয় সংকোচনের কারণে চাপে রয়েছেন উদ্যোক্তারা

দেশে নগরায়ণ, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং বাইরে খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত গড়ে উঠছে নানা ধরনের খাবারের দোকান, ফাস্টফুড আউটলেট, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এ খাতে বিনিয়োগ করছে। তবে ব্যবসার পরিধি বাড়লেও পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভোক্তার ব্যয় সংকোচনের কারণে চাপে রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২১ সালের হোটেল ও রেস্তোরাঁ জরিপ অনুযায়ী, দেশে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি। এক দশকে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২১ লাখ মানুষ। জরিপে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চায়ের দোকানের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২১ সালের পর একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এ পরিসংখ্যানকে বর্তমান বাজারের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মাংস, মাছ, চাল, তেল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে খাবার তৈরির খরচও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মীদের বেতন, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজির ব্যয়। ফলে একদিকে খাবারের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা এবং ক্রেতাদের ব্যয় কমে যাওয়াকে এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে উদ্যোক্তাদের একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ও বাড়তি অর্থ ব্যয় হয়। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহ, নতুন গ্যাস সংযোগ এবং কর-ভ্যাটের বিষয়গুলোও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে একই এলাকায় একাধিক রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠায় ক্রেতা আকর্ষণে খাবারের মান, স্বাদ, পরিবেশ, মূল্য ও সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। অনলাইন অর্ডার ও খাবার সরবরাহের সুযোগ ব্যবসার ধরনে পরিবর্তন এনেছে। তবে এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত কমিশন ও সরবরাহ খরচ ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এ খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা। খাবার সংরক্ষণ, রান্না, পরিবেশন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করলে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত তদারকি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রস্তুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসা সম্ভাবনাময় হলেও এ খাতের টেকসই বিকাশে উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা তদারকি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতিমালা তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সেবা খাতের বিকাশে রেস্তোরাঁ শিল্প আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


নির্বাচিত

নির্মাণসামগ্রীর বাজারে ঊর্ধ্বগতি, বাড়ছে ভবন নির্মাণের খরচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    রড ও সিমেন্টের দামের ওঠানামা নির্মাণকাজের মোট ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে

রাজধানীর বাজারে বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর দামে রয়েছে ভিন্নমুখী প্রবণতা। কোথাও দাম আগের তুলনায় বেড়েছে, আবার কোথাও সরবরাহ ও মানভেদে দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এতে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের পরিকল্পনা করা মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রড ও সিমেন্টের দামের ওঠানামা নির্মাণকাজের মোট ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের সাম্প্রতিক দর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৬ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায়। তবে রডের গ্রেড ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে এ দাম আরও বেশি হতে পারে। ৬০ গ্রেডের এমএস রডের দাম প্রতি টন ৯২ হাজার ৫০০ থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০ গ্রেডের রডের দাম ৮৯ হাজার থেকে ৯১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামেও পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকায়। তবে ব্র্যান্ড ও দোকানভেদে কিছু সিমেন্ট ৫১০ থেকে ৫১৫ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম সাধারণত ৪৭৫ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে থাকলেও বিশেষ ব্র্যান্ড বা বিক্রয়কেন্দ্রভেদে দাম বেশি হতে পারে।

ইটের বাজারেও রয়েছে মানভেদে দামের পার্থক্য। রাজধানীতে প্রথম শ্রেণির প্রতি হাজার ইটের দাম প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির ইট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১২ টাকায়। তবে ইটের আকার, মান, উৎপাদনস্থল ও পরিবহন খরচের কারণে বাজারে দামের তারতম্য দেখা যায়। বালুর ক্ষেত্রেও ধরন ও উৎস অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে মোটা বালু প্রতি ঘনফুট প্রায় ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তা ফেরত দিলে কিছু ক্ষেত্রে এ দাম ৩০ টাকায় নেমে আসে। পাকশী বালু প্রতি ঘনফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ভরাটের বালু প্রতি বস্তা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর দাম নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, পরিবহন খরচ, জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পড়ে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর খুচরা বাজারে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মান, ব্র্যান্ড এবং বিক্রয়কেন্দ্রের অবস্থানও দামের পার্থক্য তৈরি করে। নির্মাণ খাতে এসব উপকরণের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণকারীরা। কারণ, একটি ভবন নির্মাণে মোট ব্যয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় রড, সিমেন্ট, ইট ও বালু কেনায়। ফলে এসব পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেও পুরো প্রকল্পের ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

বাজারে দামের পার্থক্য থাকায় নির্মাণকাজ শুরুর আগে একাধিক বিক্রয়কেন্দ্র থেকে দর যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রডের গ্রেড, সিমেন্টের ব্র্যান্ড, ইটের মান এবং বালুর ধরন নিশ্চিত হয়ে কেনাকাটা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে উল্লেখিত দামগুলো ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন দরতথ্য ও বিক্রয়কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। এলাকা, পরিবহন খরচ, পণ্যের মান ও সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত বাজারদরে পার্থক্য হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

অক্টোবরে শাওমির রেকর্ডসংখ্যক বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চলতি বছরের অক্টোবরে ৫০ হাজারেরও বেশি গাড়ি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একক কোনো মাসে গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তারা। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে কারখানাগুলোতে গাড়ির উৎপাদন জোরদার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আগস্ট মাসে ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ৪০ হাজার গাড়ি হস্তান্তরের পর সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে এসে সেই সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ সম্পন্ন করেছে শাওমি।

স্মার্টফোন নির্মাতা থেকে অটোমোবাইল খাতে প্রবেশ করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের মধ্যে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বছরের প্রথম দশ মাসের হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই তাদের নির্ধারিত সেই বার্ষিক লক্ষ্যের প্রায় ৬১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন, ডিএসইতে সূচক কমল ৩২ পয়েন্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিন এবং সিএসইতে চার কার্যদিবসেই দরপতনের চিত্র দেখা গেল

দেশের পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাসের সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচকে পতন ঘটেছে। সূচকের অবনমনের সমান্তরালে ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিন এবং সিএসইতে চার কার্যদিবসেই দরপতনের চিত্র দেখা গেল।

লেনদেনের শুরুর আধা ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকের কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। প্রথম ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর থেকেই বাজারে তীব্র বিক্রয়চাপ শুরু হয়, যার ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হতে থাকে। দিনের শেষভাগে এই বিক্রয়প্রবণতা আরও গতিশীল হলে বড় দরপতনের মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেনের সমাপ্তি ঘটে।

দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ১৯০টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির বাজারদর। নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৪টির দর বাড়লেও কমেছে ৯০টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৯টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৩৬টির। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ‘জেড’ গ্রুপের দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৮টির দাম বাড়লেও কমেছে ৬৩টির এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত থাকে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে; এদিন ৩০টি ফান্ডের দর বাড়ার বিপরীতে মাত্র একটির দর কমেছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৪ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে সার্বিক লেনদেন নেমে এসেছে ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার চেয়ে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম।

ডিএসইতে একক লেনদেনে শীর্ষস্থান দখল করেছে মতিন স্পিনিং, যার মোট ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এবং ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী আঁশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, ফাইন ফুডস এবং এনভয় টেক্সটাইল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ১৮০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৫টির দাম বাড়লেও কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর। এতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে, তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ঠেকেছে


নির্বাচিত

চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ শতাংশ, পোশাক খাতের অবদান ৮০%
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৬০৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, রাসায়নিক পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও জুতা রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে কৃষিপণ্য, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে।

রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোচ্য চার মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৭১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। দুই ধরনের পোশাক মিলিয়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে এ দুই খাত থেকে। অর্থাৎ দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। নিট পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাকেও প্রবৃদ্ধি থাকায় এ খাতের দুই প্রধান উপশাখাতেই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা, পণ্যের দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং নতুন বাজার তৈরির বিষয়টিও এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তৈরি পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতেও রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং জুতা রপ্তানিতে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে পাট, চামড়া ও জুতার মতো খাতে উৎপাদন সক্ষমতা, মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো গেলে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে রপ্তানি আয়ের চিত্র সব খাতে সমান ইতিবাচক নয়। প্রথম চার মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে আয় কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি আয়েও ১০ দশমিক ২ শতাংশ পতন হয়েছে। এসব খাতে আয় কমে যাওয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এ খাতগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে প্রথম চার মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যানে প্রবৃদ্ধির ধারা থাকলেও দেশের রপ্তানি কাঠামোর একটি বড় দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই আসছে নিট ও ওভেন পোশাক থেকে। ফলে তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক চাহিদা বা বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ঝুঁকি কমাতে পাট, চামড়া, জুতা, হোম টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন। রপ্তানি আয় বাড়াতে প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের মান ও নকশার উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব খাতে রপ্তানি কমেছে, সেসব খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতও রপ্তানি আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণ কমেছে ১৭.৬ শতাংশ

অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে শিল্পে মেয়াদি ঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনি বিনিয়োগে গভীর স্থবিরতার আভাস মিলছে। ২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে শিল্পে মেয়াদি ঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে মেয়াদি ঋণ বিতরণ পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো শিল্প খাতে সর্বমোট ৯৯ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ ছাড় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৯৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকার চেয়ে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের শেষভাগে নতুন ঋণের প্রবাহে তীব্র ভাটা পড়ে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিতরণ হওয়া ৩১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ঋণ পরবর্তী জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নেমে আসে ২৩ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকায় এবং চূড়ান্ত প্রান্তিক এপ্রিল-জুনে তা আরও কমে ২০ হাজার ২৯ কোটি টাকায় ঠেকে। আগের অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের ২৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার তুলনায় এই প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ কমেছে ৪ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিতরণের এই মন্দার বিপরীতে ঋণ আদায় ও স্থিতির পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে পুঞ্জীভূত ঋণের স্থিতি এক বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ আদায় ও স্থিতি বাড়ার বিষয়টি নতুন বিনিয়োগ নির্দেশ করে না; বরং মেয়াদি ঋণ ছাড় কমে যাওয়ার ফলে শিল্প সম্প্রসারণ থমকে যাওয়া এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেল, যখন সামগ্রিক অর্থনীতিতেও উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা, চড়া মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে; ২০২৬ সালের মার্চে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছিল ২৪ বছরের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে। এর সাথে ঋণের সুদহার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশে উঠে যাওয়ায় নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে ব্যাংকিং খাতের রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ। জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং এর ৮৫ শতাংশই কেন্দ্রীভূত রয়েছে মাত্র ১৫টি ব্যাংকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সুশাসনের অভাব ও উচ্চ সুদের কারণে সৃষ্ট এই সংকট উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৮ মাসের বিশেষ রূপরেখা গ্রহণ করলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ঋণের ব্যয় হ্রাস এবং ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের গতি ফেরানো সম্ভব নয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

আর্থিক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৭
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে গতকাল ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।
ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

মূলধনি মুনাফায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত সর্বাত্মক কর অব্যাহতির সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এ সুবিধা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আয়কর আইনে সংশোধনী আনাসহ সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র দাখিল করে ডিবিএ।

ডিবিএর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নির্ধারিত স্টক এক্সচেঞ্জ ও কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে প্রাপ্ত মূলধনি মুনাফাকে পুরোপুরি করমুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করপদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনি মুনাফায় করছাড় থাকলেও এর অতিরিক্ত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। ডিবিএ এই নির্ধারিত সীমা প্রত্যাহার করে ব্যক্তিশ্রেণির জন্য আগের মতো শতভাগ কর অব্যাহতি পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছে এবং একই সঙ্গে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রযোজ্য করকাঠামো যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, মূলধনি মুনাফার ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হলে বাজারে লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অর্জিত মুনাফা পুনরায় বাজারে খাটানোর সাহস পাবেন। এর ফলে পারিবারিক সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে স্থানান্তরিত হবে এবং তালিকাভুক্ত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজার থেকে সরাসরি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ ছাড় চাওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ডিবিএ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) সম্পূর্ণ কার্যকর রূপ পেলে মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবায়ন অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে; তাই সেই প্রস্তুতি পর্ব পর্যন্ত কর অব্যাহতি বহাল রাখা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সাধারণ ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরবে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ পুঁজিবাজার আধুনিকায়নে


নির্বাচিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় ও স্থানান্তর সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় ও স্থানান্তর সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে কোনো রূপ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়, যা জারির তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নির্দেশনায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রার যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় ভার্চুয়াল সম্পদ ও মুদ্রার লেনদেন নিষিদ্ধকরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসমূহের লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার উন্মুক্ত সীমা (ওপেন পজিশন), নস্ট্রো হিসাব সমন্বয়, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) ব্যবস্থায় দায় পরিশোধ, মুদ্রা সোয়াপ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে মূল্যঝুঁকি এড়াতে হেজিংসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা বিধিও এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বৈধ বা স্বীকৃত আর্থিক মাধ্যম নয়। এসব অনিবন্ধিত ভার্চুয়াল সম্পদের বিপরীতে কোনো রাষ্ট্র কিংবা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি না থাকায় এর বাজারমূল্য তীব্রভাবে ওঠানামা করে, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের পৃথক নির্দেশনায় দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে কিংবা বাইরে ভার্চুয়াল মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো অর্থ আদান-প্রদানকে অননুমোদিত ঘোষণা করে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইনি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও দেশে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই মুদ্রার অনানুষ্ঠানিক লেনদেন যে প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে, তা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক এক পরিসংখ্যানে। বিশ্বখ্যাত ব্লকচেইন ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেনালাইসিস বিশ্বের ১১৭টি দেশের উপাত্ত পর্যালোচনা করে বৈশ্বিক ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারের প্রবণতা সংক্রান্ত একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ‘দ্য ২০২৬ জিওগ্রাফি অব ক্রিপ্টো রিপোর্ট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণের হারে বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ষষ্ঠ, পাকিস্তান ২৫তম এবং শ্রীলঙ্কা ৮২তম স্থানে অবস্থান করছে।


নির্বাচিত

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নেতিবাচক করল ফিচ

দেশটির ঋণমান ‘এ প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখলেও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ। সংস্থাটি দেশটির ঋণমান ‘এ প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখলেও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে।

শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফিচ বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, সরকারি আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি এবং ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ফ্রান্সের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। এসব কারণে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যয়সংকোচন ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

ফিচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৮ সালে তা বেড়ে ১২৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে গত আগস্টে সংস্থাটি ২০২৮ সালে ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১২২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। ফ্রান্সের ঋণের বোঝা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় দেশটিকে ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এর ফলে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে, যা সরকারি বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে ফ্রান্সে দুই দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে ঋণ কমানো ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখছে ফিচ। সংস্থাটির মতে, দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন এবং জনমত জরিপে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থী প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য আর্থিক কৌশল নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। ফিচের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নীতিনির্ধারণী বিতর্কে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ঋণের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমাদের আস্থা বাড়াতে পারে।’

এ ছাড়া সরকারি সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করে সংস্থাটি। ফিচের এ মূল্যায়নের আগে শুক্রবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনএসইই জানায়, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ফ্রান্সের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, ক্ষতি ৬৩০ কোটি ডলার

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জটিল এ হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ সত্য হলে এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, প্রাথমিকভাবে একটি ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ব্যবহৃত ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হ্যাকাররা অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি বা প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লকচেইনভিত্তিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের ধারণা, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ হামলার সঙ্গে জড়িত। ক্রিপ্টো খাতের বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলিপটিকও একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হয়, ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীটি উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর অংশ।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও এ গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। বাইন্যান্সে এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সেই ঘটনার প্রায় চার গুণ। ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার অভিযোগ ওঠার পর লাজারাস গ্রুপ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত ‘দ্য ইন্টারভিউ’ চলচ্চিত্রের প্রতিশোধ নিতে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সন্ধান ও উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী সংস্থা এবং খাতসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, ‘এটি ছিল একটি জটিল হামলা। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সমস্যার সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ লাতিন আমেরিকার জন্য পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তদন্ত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলেছে, হামলার ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি নির্ধারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে তারা। প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধারে ক্রিপ্টো খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও পদক্ষেপ নিয়েছে। স্টেবলকয়েন ইউএসডিটির ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথারের প্রধান পাওলো আরদোইনো জানিয়েছেন, বাইন্যান্সে সম্ভাব্য হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম সার্কেলের প্রধান জেরেমি আলেয়ার জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি জব্দ করেছে।

ইউএসডিটি ও ইউএসডিসি হলো স্টেবলকয়েন, যার মূল্য মার্কিন ডলারের মতো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে। এ কারণে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির তুলনায় এসব ডিজিটাল মুদ্রার দামে সাধারণত বড় ধরনের ওঠানামা হয় না।

বাইন্যান্স একদিকে ব্যবহারকারীদের অর্থ নিরাপদ থাকার দাবি করেছে, অন্যদিকে হামলার কারণে হওয়া সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্টেবলকয়েন ছাড়া অধিকাংশ বড় ডিজিটাল মুদ্রার দাম কমে যায়। বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ কমে রাতের দিকে ৭৬ হাজার ৪০০ ডলারে নেমে আসে, যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি বিটকয়েন প্রায় ৭৭ হাজার ৩০০ ডলারে লেনদেন হয়। একই সময়ে ইথেরিয়ামের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং বাইন্যান্সের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি বিএনবির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

বাইন্যান্সে এ হামলা ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সম্পদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের দাবি থাকলেও পুরো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


নির্বাচিত

banner close