বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চার বছরে ভারতে ইলিশ রপ্তানি ৫৫৪১ টন

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:২৮

চার বছরে ভারতে ৫ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ওই পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয় বলে জানিয়েছেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৩’ বাস্তবায়ন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ এখন এ দেশের জাতীয় সম্পদই নয়, তা কূটনীতির অংশেও পরিণত হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুর্গাপূজায় সীমিত পরিসরে ইলিশ রপ্তানি হয়ে থাকে, যা প্রতিবেশী দেশের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিকসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, চার বছরে ৫ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে, যা মোট ইলিশ উৎপাদনের মাত্র দশমিক ৫ ভাগেরও কম, যা থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৩৯ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির জন্য অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৬০৯ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬২ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা)।

শ ম রেজাউল বলেন, সর্বশেষ ২০২২ সালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আওতায় ২ হাজার ৬২টি মোবাইল কোর্ট, ১০ হাজার ৮২১টি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ৩১.৪১ মেট্রিক টন ইলিশ, ৯১৯.৮৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং ২ হাজার ৯০৮টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও ৪৭.৩২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া জব্দকৃত মালামাল নিলামে বিক্রয় করে ২২ লাখ ১১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়নের হওয়ায় গত বছর ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকরণের ২২ দিনে প্রায় ৫২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। ফলে গত বছর প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার ৫১৫ কেজি ডিম উৎপাদিত হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি জাটকা ইলিশ যুক্ত হয়েছে।

ইলিশ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই, তারপরও ইলিশের দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইলিশ উৎপাদনে আলাদা কোনো ব্যয় নেই। কিন্তু ইলিশ আহরণ ও সংরক্ষণ করার জন্য ব্যয়ের পরিমাণটা কম না। সরকার কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিচ্ছে, যারা ইলিশ আহরণে আমাদের সহায়তা করেন তাদের ভিজিএফ থেকে সাহায্য করা হচ্ছে। যারা ইলিশ আহরণ করেন তাদের নৌযান ব্যবহার করতে হয়, জাল ব্যবহার করতে হয়, শ্রমিক নিয়োগ করতে হয়। মাছ আহরণের পর তারা যেখানে মজুত করে অবতরণকেন্দ্রে মাছ নিয়ে আসার পর সেখান থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া করে বরফ দেয়া থেকে শুরু করে কয়েক দফা স্থান পরিবর্তন হওয়ায় যারা মুনাফা লাভ করেন তারা বিভিন্ন স্তরে স্তরে লাভবান হন।

রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা অধিক লাভবান হওয়ার কারণে ইলিশের দাম যে সহনীয় থাকা উচিত, তার চেয়ে বেশি দেখা যায়।’

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকারের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত আছেন আমরা বিভিন্ন সময় তাদের তাগিদও দিয়েছি। ইতোমধ্যে তারা কিছু কাজও করছেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আরও বেশি তৎপরতার সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনাকে একেবারে মাছ আহরণের কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত আরও কঠোর নজরদারি ও দেখভাল করা হলে আমার বিশ্বাস ইলিশের দামকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ যারা মৎস্য আহরণ করে, তারা আহরণ বন্ধ থাকাকালীন তাদের খাবারের ব্যবস্থা আমরা করে দিই। যারা নৌকা নিয়ে মাছ ধরেন অনেক সময় তাদের নৌকা সরবরাহ করা হয়। অনেক সময় তাদের জাল সরবরাহ করছি। অনেক সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য আমরা গরু, ভেড়া, ছাগল, মুরগি, হাঁস দিচ্ছি। যাতে ওই সময় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান হয়। আমরা গবেষণা করে ইলিশের অভয়াশ্রম কীভাবে করা যায় সেটি করছি। বাজার ব্যবস্থাপানাটা কোনোভাবেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জব ডিস্ক্রিপশনের মধ্যে আসে না। আমরা উৎপাদন ও আহরণের সঙ্গে জড়িতদের সহায়তা করা, ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে কার্পণ্য করি না।’

তিনি বলেন, চলতি বছর বিগত বছরের চেয়ে ইলিশের আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে, ইলিশের প্রাচুর্যতায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার চলমান কার্যক্রমসমূহ এভাবেই বাস্তবায়ন করা হলে সারা বছর ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আপামর জনগণ বিশেষ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

বিষয়:

নির্বাচিত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৪
অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের যাবতীয় ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের সব তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বিএফআইইউর দায়িত্বশীল এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংকগুলোকে পাঠানো নির্দেশনায় সালমান মুক্তাদিরের নামে পরিচালিত সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহক পরিচিতি সংক্রান্ত কেওয়াইসি নথি এবং বিস্তারিত হিসাব বিবরণী বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের সফটকপি জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএফআইইউর সরবরাহ করা এক্সেল ফাইলে তাঁর হিসাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য, অর্জিত সুদ এবং উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) সংক্রান্ত যাবতীয় বিবরণ পূরণ করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই আর্থিক তথ্য তলব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের আলোকে এসব তথ্যের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি ভবনে সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয় ও স্টুডিওতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সালমান মুক্তাদিরসহ সামাজিক মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রত্যাশা করে সরকার।


নির্বাচিত

মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জোরে বিশ্ববাজারে ডলারের দাপট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইউরোপের জ্বালানি ও ঋণসংক্রান্ত উদ্বেগের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নীতি সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান চলতি বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ফলে গত ১৪ মাসের মধ্যে ইউরোর বিপরীতে ডলারের সবচেয়ে বড় মাসিক উত্থান হতে চলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার ইউরোর দর কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১৩১২ ডলারে, যা ২০২৫ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। বুধবার এশিয়ার বাজারে তা সামান্য পরিবর্তন হয়ে ১ দশমিক ১৩৩৭ ডলারে লেনদেন হয় এবং জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিপরীতেও তা প্রায় ১৭৮ পয়েন্টে সমর্থন খুঁজছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরোর বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা টানা তৃতীয় প্রান্তিক ধরে ডলারকে মুনাফার ধারায় রেখেছে।

ডলারের শক্তিমত্তার প্রভাবে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর আগস্টের শুরুর পর প্রথমবারের মতো ৭০ সেন্টের নিচে নেমে গেছে। দেশটির মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য কম হওয়ায় মুদ্রাটির মান নয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৬৯৫৯ ডলারে নেমে আসে। বৈদেশিক মুদ্রা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা মার্কেটস-এর প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট ডনেলি বলেন, “মার্কিন অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে, বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতায় ইউরোপ পিছিয়ে পড়ছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ও ফ্রান্সের রাজনীতি ইউরোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপে গ্যাসের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফ্রান্সে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও পুঞ্জীভূত ঋণের বোঝা, যার কারণে জার্মানির সঙ্গে ফরাসি বন্ডের মুনাফার ব্যবধান বেড়ে ১১৫ বেসিস পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা ইউরোর সম্ভাব্য পতন থেকে রক্ষা পেতে আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে ডলারের এই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে আগামীতে আরও জোরালো মার্কিন তথ্যের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সুইস ফ্রাঁ-এর বিপরীতে ডলার প্রায় ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৮৩৫৮ ফ্রাঁতে উঠেছে। তবে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ মুদ্রা হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংক অব জাপানের নীতি সুদহার বৃদ্ধির কারণে ডলারের বিপরীতে ইয়েন কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর ২ শতাংশ এবং পুরো তৃতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এশিয়ার বাজারে ১৫৬ দশমিক ৩৮ ইয়েনে লেনদেন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সুদহার নির্ধারণের বিষয়ে ধারণা পেতে বাজার বর্তমানে দেশটির কোর পিসিই মূল্যস্ফীতি সূচক এবং আসন্ন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের ওপর নজর রাখছে। তবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে “জরুরি কোনো প্রয়োজন নেই” বলে মন্তব্য করার পর নীতি সুদহার বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা ম্লান হয়েছে। এর প্রভাবে দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ৩ দশমিক ৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে এবং আগামী মাসে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ থেকে কমে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে নিউজিল্যান্ড ডলারের দর শূন্য দশমিক ৫৬৪৬ ডলারে নেমে গেছে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমে ১ দশমিক ৩২৩৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে চীনের জাতীয় ছুটির প্রাক্কালে শেষ কার্যদিবসে ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা ইউয়ান টানা সপ্তম প্রান্তিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার পথে রয়েছে।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধাতু ভোক্তা দেশ চীনে সেপ্টেম্বর মাসে কারখানা খাতের কার্যক্রম পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরার তথ্যে বুধবার বিশ্ববাজারে তামার দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশটিতে সপ্তাহব্যাপী আসন্ন জাতীয় ছুটির কারণে সামগ্রিক লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ ছিল।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি তামার বেঞ্চমার্ক মূল্য জিএমটি ০৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি মেট্রিক টন ১৪ হাজার ৪৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে (এসএইচএফই) সর্বাধিক লেনদেন হওয়া নভেম্বর মেয়াদের তামার দর শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ইউয়ান বা ১৬ হাজার ৩৪০ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে সংক্ষিপ্ত হওয়া চলতি সপ্তাহে পণ্যটির সার্বিক দর শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ কমে সমাপ্তির পথে রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগস্টের ৪৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫০ দশমিক ১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে রেটিংডগ-এর একটি বেসরকারি জরিপে কারখানা কার্যক্রমে আরও দ্রুতগতির সম্প্রসারণ পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে পিএমআই সূচক আগের ৫১ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ দশমিক ১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

চীনের জাতীয় দিবসের ছুটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে এসএইচএফই-এর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং আগামী ৮ অক্টোবর তা পুনরায় চালু হবে। দীর্ঘ ছুটির মুখে পড়ে ধাতুটির সরাসরি বা ভৌত চাহিদাও কিছুটা কমেছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রিমিয়াম আগের দিনের শীর্ষ অবস্থান থেকে কমে প্রতি টনে ১ হাজার ৫০ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। তবে আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রতি চীনা শিল্পখাতের চাহিদার নির্দেশক ইয়াংশান কপার প্রিমিয়াম সামান্য বেড়ে টনপ্রতি ১১৯ ডলার হয়েছে।

মার্কিন বন্ডের ক্রমবর্ধমান মুনাফার ওপর ভর করে ডলারের মান শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, যা মাসভিত্তিক হিসাবে প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত ধাতুর ক্রয়মূল্য বেড়ে যায়। পাশাপাশি ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজার চাঙ্গা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক পুনরায় নীতি সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে বজায় রেখেছে।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া অন্যান্য ধাতুর মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ এবং নিকেলের দর শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে জিংকের দর শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ ও টিনের দর শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং সিসার দাম অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে অ্যালুমিনিয়ামের দর শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ, জিংক শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ, সিসা শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ এবং নিকেলের দর ১ দশমিক ০০ শতাংশ কমেছে, তবে টিনের দাম ছিল অপরিবর্তিত।


নির্বাচিত

বাংলা কিউআরে চালু হচ্ছে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও গতিশীল ও সর্বজনীন করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তর সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় একজন গ্রাহক অন্য যেকোনো ব্যক্তির বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে কিংবা মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে সরাসরি আন্তঃব্যাংক ও এমএফএস লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সাথে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্য ও সেবার মূল্য নেওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রেতার ওপর আরোপিত ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) স্থগিত করা হয়েছে, যা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকেই কার্যকর হবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের অর্থ পাওয়ার সাথে সাথেই তা স্বয়ংক্রিয় ও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর হিসাবে জমা হয়ে যাবে, ফলে অর্থ পাওয়ার জন্য বিক্রেতাদের আর অপেক্ষা করতে হবে না। এছাড়া ১ শতাংশ এমডিআর বাতিলের পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ ফি শূন্য নির্ধারণ করায় ব্যাংক ও এমএফএসগুলো এখন থেকে মার্চেন্টদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা নামমাত্র মূল্যে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা দিতে পারবে। পাশাপাশি লেনদেন বাড়াতে ১ অক্টোবর থেকেই জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি কিউআর লেনদেনের বিপরীতে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বিশেষ সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ বাণিজ্যিক মার্চেন্ট বাংলা কিউআর সেবার আওতায় এসেছেন। গত ১ জুলাই একক বাংলা কিউআর চালুর পর বিগত ৯০ দিনের ব্যবধানে এ মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং আর্থিক মূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জুন মাসে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ লেনদেনের মাধ্যমে ২৮ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ হতো, বর্তমানে তা নাটকীয়ভাবে বেড়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লেনদেনে গড়ে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার মাইলফলকে পৌঁছেছে।

আরিফ হোসেন খান জানান, ডিজিটাল অর্থনীতির এই রূপান্তরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গণপরিবহন খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ আন্তঃডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটি একযোগে নীতিগত কৌশল বাস্তবায়ন করছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশনের পরিধি আরও সুসংহত হবে।


নির্বাচিত

ব্রাজিলের গরুর মাংসে বাড়তি ৫৫ শতাংশ শুল্ক বসাল চীন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গরুর মাংসের নির্ধারিত বার্ষিক কোটা অতিক্রমকারী অংশের ওপর অতিরিক্ত ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত কোটার বাইরে ব্রাজিল থেকে প্রবেশ করা গরুর মাংসের চালানে বিদ্যমান ১২ শতাংশ নিয়মিত শুল্কের সঙ্গে আরও ৫৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হবে। তবে এই বাড়তি শুল্ক পুরো আমদানির ওপর নয়; শুধুমাত্র নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত পরিমাণের ওপর প্রযোজ্য হবে। চলতি ২০২৬ সালের জন্য ব্রাজিলের জন্য চীনের গরুর মাংস আমদানির বার্ষিক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১১ লাখ ৬ হাজার টন। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই কোটা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে অতিরিক্ত সব চালানের ওপর এই বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ খামারি ও স্থানীয় মাংস উৎপাদন খাতকে অতিরিক্ত আমদানির বিরূপ প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে চলতি বছরের শুরুতেই তিন বছর মেয়াদি বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘সেফগার্ড’ নীতি কার্যকর করেছে বেইজিং। এই কাঠামোর আওতায় ব্রাজিলসহ প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করে তা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত ৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের শর্ত রাখা হয়। ব্রাজিলের মাংস শিল্পের জন্য চীনের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য; দেশটি গত বছর প্রায় ১৭ লাখ টন গরুর মাংস একাই চীনে রপ্তানি করেছিল। বর্তমান কোটা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এবং তা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্রাজিলের মাংস রপ্তানিকারকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

এর আগে আগস্টেই চীনা কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছিল যে ব্রাজিলের জন্য বরাদ্দকৃত কোটার ৯০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়ে গেছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে এই পদক্ষেপ কেবল কোনো একক দেশকে নিশানা করে নয়, বরং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সব বড় সরবরাহকারী দেশের জন্যই এ সাধারণ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রযোজ্য। তবে কোটার অতিরিক্ত রপ্তানি সচল রাখতে হলে অতিরিক্ত শুল্কের বিষয়টি এখন চীন-ব্রাজিল মাংস বাণিজ্যে নতুন অর্থনৈতিক বিবেচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

সংকট নেই, তবু এলপিজির বাজারে অস্বস্তি

* মজুতদারি ও বাড়তি দামের অভিযোগ * ৫০০ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার * সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনেই এসেছে প্রায় সোয়া লাখ টন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে সংকটের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় এই বাড়তি ব্যয় ৪১৫ থেকে ৫১৫ টাকা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনে দেশে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগের মাস আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের পুরো মাসের হিসাব এখনো পাওয়া না গেলেও মাসের প্রথম ২২ দিনের আমদানি আগস্টের মোট আমদানির তুলনায় অনেক কম।

নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের ব্যবধান: বিইআরসি ২ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। নতুন দাম ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঘোষিত দামের সঙ্গে বাস্তব বাজারের ব্যবধান কমেনি; বরং সরবরাহের ঘাটতির অভিযোগের মধ্যে অনেক এলাকায় গ্রাহকদের বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন পাইপলাইনের গ্যাস-সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা। রান্নার জন্য যাদের সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের জন্য বাড়তি ব্যয় এড়ানোর সুযোগ সীমিত। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পেলে একদিকে সংসারের মাসিক বাজেট বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহকারীদের কাছে ঘুরেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এলপিজির বর্তমান বাজার পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি, জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজের প্রাপ্যতা ও কার্গো সংগ্রহের ওপর।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যেও কাতার-সংশ্লিষ্ট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। অর্থাৎ নৌপথে ঝুঁকি থাকলেও সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ—এমন নয়। তবে এলএনজির জাহাজ চলাচলের তথ্যকে সরাসরি এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতির সমতুল্য হিসেবে দেখা যাবে না।

বাংলাদেশের এলপিজি আমদানিকারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকার পরও কোনো কোনো সরবরাহকারী চুক্তির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পণ্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খোলাবাজার থেকেও চাহিদামতো কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান সরবরাহ বজায় রাখতে রেশনিং করছে। এ ছাড়া এলপিজির মূল্য নির্ধারণের সময় বিইআরসি টনপ্রতি ১৬০ ডলার প্রিমিয়াম ধরে হিসাব করেছিল বলে আমদানিকারকদের বক্তব্য। বর্তমানে এই প্রিমিয়াম ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে বলে তারা জানিয়েছেন। বাড়তি ব্যয় নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব ব্যয়ের তথ্য আমদানিকারকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পাওয়া। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আমদানি ব্যয়, চুক্তির শর্ত ও সরবরাহের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলে বাজারে দাম বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি কারণের নির্দিষ্ট অবদান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এলপিজি অপারেটররা জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে দেশে এলপিজির কোনো বড় সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য তুলে ধরে তারা আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়া এবং খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার অভিযোগ এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট ব্যবধান তুলে ধরছে।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। দেশে মোট কত এলপিজি আমদানি হয়েছে এবং কী পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা এক ধরনের হিসাব। আর সেই গ্যাস সময়মতো ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা আরেকটি বিষয়। জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও পরিবহন, বিতরণ বা স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের সমস্যা হলে নির্দিষ্ট এলাকায় সংকট তৈরি হতে পারে।

খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না। ফলে বাজারে পণ্য কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলোর দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা সিলিন্ডার মজুত করছেন এবং বেশি দামে বিক্রি করছেন।

এসব অভিযোগের কোনটি কতটা সত্য, তা নির্ধারণে কোম্পানিভিত্তিক সরবরাহের তথ্য, পরিবেশকদের কাছে পাঠানো সিলিন্ডারের পরিমাণ, খুচরা বিক্রির রসিদ এবং মজুতের হিসাব পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু আমদানির পরিসংখ্যান দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে, মজুতের অভিযোগ উঠলেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীকে দায়ী করার সুযোগ নেই—প্রয়োজন তদন্ত ও প্রমাণ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেও আমদানি কমে যাওয়ার পর এলপিজির বাজারে একই ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। তখন কোনো কোনো এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিলে খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।


নির্বাচিত

কাতারের এলএনজি নিয়ে অনিশ্চয়তা, চাপে চার দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘কাতারএনার্জি’ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে যে পূর্বনির্ধারিত এলএনজি কার্গো বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারতের অন্তত একজন বড় ক্রেতাকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইতালির শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি এডিসন পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছে যে কাতার থেকে তাদের নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ আগামী ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কাতারএনার্জি বিশ্বজুড়ে তাদের নিয়মিত গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় নোটিশ পাঠিয়ে আসছে এবং প্রায় প্রতি মাসেই কিছু নির্ধারিত কার্গো বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়মানুযায়ী ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ হলো এমন একটি বিশেষ আইনি সুরক্ষা, যার মাধ্যমে যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী পণ্য দিতে ব্যর্থ হলেও সাময়িকভাবে চুক্তিগত দায় ও জরিমানা থেকে রেহাই পায়। হরমুজ প্রণালীর জলপথ সংকটের পাশাপাশি খোদ কাতারের নিজস্ব উৎপাদন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মার্চে হামলার শিকার হয়ে দেশটির প্রধান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফানের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সেখানে সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন চলছে। কাতারএনার্জি কেন্দ্রটিকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখছে যাতে হরমুজ পুরোপুরি চালু হলে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো যায়, তবে নৌপথের বাধা দূর হলেও কাতারের সামগ্রিক সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

চলতি মাসে কাতার হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি পরিবহনের পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হলেও তা যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় এখনো অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে গত বছরও বৈশ্বিক মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো কোনো কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতা হয়নি। তেহরান সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে জলপথটি খোলার বিষয়ে তারা নিজেদের আরোপিত পূর্বশর্ত থেকে একচুলও নড়বে না; অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সংঘাতের অবসান ও অবাধ নৌচলাচল ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব এলএনজি বাজারে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। উত্তর গোলার্ধে শীতের মৌসুম সমাগত হওয়ায় ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। এই চরম মুহূর্তে কাতারের মতো বৃহৎ সরবরাহকারীর রপ্তানি সংকুচিত থাকায় বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস পেতে দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। আমদানিকৃত এই বাড়তি জ্বালানির ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলের ওপর পড়বে; বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো কাতারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় নভেম্বর পর্যন্ত কার্গো বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


নির্বাচিত

সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারে চলছে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টা অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর প্রধান সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৪ পয়েন্ট এবং শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সমান ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে পৌঁছায়। প্রথম ৩০ মিনিটে ডিএসইতে মোট ৮৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট হাতবদল হয়।

সকাল থেকেই শেয়ার কেনার বাড়তি আগ্রহে সূচকের উঠানামার মধ্যে লেনদেন গতিশীল থাকতে দেখা যায়। লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক ১৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। যদিও সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচকটি কিছুটা সংশোধন হয়ে আগের অবস্থান থেকে ৪ পয়েন্ট কমে যায়, তবে এর পরপরই সূচকের গতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। লেনদেনের প্রথম ২০ মিনিট পর অর্থাৎ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৪৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল ২৯৩টি প্রতিষ্ঠান, বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দর।

সকালের এই লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা শীর্ষ ১০টি কোম্পানির তালিকায় স্থান করে নেয় বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো—এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং, সায়হাম টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, সেনা ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইভেন্স টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা এবং সায়হাম কটন।

ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সকালের লেনদেনে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর প্রধান সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৮১ পয়েন্টে অবস্থান করে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যায়। ওই সময় পর্যন্ত বন্দরনগরীর এই এক্সচেঞ্জে মোট ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট কেনাবেচা সম্পন্ন হয়। এই সময়ের মধ্যে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২২টির দর বৃদ্ধি পায়, ১০টির দর কমে এবং অপরিবর্তিত থাকে ৪টি কোম্পানির শেয়ারমূল্য।


নির্বাচিত

মডার্ন সিনটেক্সকে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সিন্থেটিক উপাদানের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের (এমএসএল) সঙ্গে ৫ কোটি বা ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘মডার্ন এনার্জি-ইফিশিয়েন্ট পলিয়েস্টার চিপস ম্যানুফ্যাকচারিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় উভয় পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমূল্যের বস্ত্র ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত মানের পলিয়েস্টার চিপসের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ১০৭ টন থেকে এক লাফে ৪০৭ টনে উন্নীত করতে পারবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের আওতায় কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি স্থানীয় চলতি মূলধনের ঋণও পুনঃঅর্থায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাত প্রধান চালিকাশক্তি হলেও এর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত সিন্থেটিক উপাদানের সিংহভাগ এখনো আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জানান, এডিবির এই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সহায়তা এমএসএলকে দক্ষ দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ, শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তোলা এবং সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এই বৃহৎ প্রকল্প চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি অবদান রাখবে।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের অংশ হিসেবে এই সম্প্রসারিত কারখানায় সর্বাধুনিক শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং বার্ষিক প্রায় ২ হাজার ২২২ টন সমপরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাবে। উন্নত এই পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী পরিকাঠামোর সুবাদে কারখানা ও সংশ্লিষ্ট ভবনের জন্য আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ডের ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ সনদ অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পটি পুরোদমে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য পলিয়েস্টার চিপসের অভ্যন্তরীণ নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে, যা তৈরি পোশাক খাতের লিড টাইম বা পণ্য সরবরাহের সময় কমিয়ে কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়াবে। এ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কারখানায় প্রায় ১০০টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এমএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী জানান, এডিবির এই অর্থায়ন তাঁদের উৎপাদন সক্ষমতা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে উন্নত ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।


নির্বাচিত

ব্রহ্মপুত্র দিয়ে প্রথমবার ঢাকায় আসছে আসামের মিথানল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন শুরু হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে রাজধানী ঢাকায় আনা হবে নামরূপের ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের’ (এপিএল) উৎপাদিত তরল রাসায়নিক মিথানল। ব্রিটিশ আমলে ডিব্রুগড়কে কেন্দ্র করে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যে রমরমা নদীভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সূচনা হয়েছিল, দেশভাগের পর তা ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এই পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সেই নৌবাণিজ্যিক ঐতিহ্য নতুন রূপ পেতে চলেছে।

এই পণ্য পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দুটি বিশেষায়িত অভ্যন্তরীণ মালবাহী জাহাজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপথ পরিবহন বিভাগের আওতাধীন এই দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে এপিএল সেগুলো লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন সম্পন্ন করে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলে। সংস্কারকৃত জাহাজ দুটির প্রতিটিতে ২৭টি করে কনটেইনার থাকবে এবং প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে; অর্থাৎ একটি জাহাজে ৫৪০ টন করে দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল বাংলাদেশে আসবে। বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করে ঢাকায় পৌঁছাতে এই জাহাজ বহরের আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।

আন্তর্জাতিক কার্গো পরিবহন নির্বিঘ্ন ও কার্যকর করতে আসামের বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনালকে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে টার্মিনাল প্রাঙ্গণেই কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, আধুনিক জেটি এবং পণ্য সংরক্ষণের উপযোগী সুরক্ষিত গুদামঘরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া নদীপথে নৌযানগুলোর চলাচল সার্বক্ষণিক তদারকি ও কারিগরি সহায়তার অংশ হিসেবে টার্মিনালে একটি বাতিঘর বা লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ গড়ে তোলার কাজ চলছে।

সড়ক কিংবা রেলপথের চেয়ে নদীপথে পণ্য পরিবহন অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এপিএল চেয়ারম্যানের মতে, বগীবিল টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে কেবল মিথানলই নয়; বরং ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত পলিমার সামগ্রী, পেট্রোলিয়াম পণ্য, কয়লা ও আসামের চায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় দুয়ার খুলে যাবে। এর পাশাপাশি আসামের বিখ্যাত কাজী লেবু, অতিঝাল মরিচ হিসেবে খ্যাত জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত ‘ভূত জলোকিয়া’ এবং গোলমরিচের মতো কৃষিপণ্যও সরাসরি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।


নির্বাচিত

দেশে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের বিকাশমান সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোর ফোর সিজনস হোটেলের সিনার্জি রুমে ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব’ শীর্ষক এই ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ড টেবিল’ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বড় বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং মার্কিন চিপ ও এআই কোম্পানিগুলোর এই আগ্রহ দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআই, আধুনিক ডেটা অবকাঠামো এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

উচ্চপর্যায়ের এই গোলটেবিল বৈঠকে মূলত এআই ও ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৌশলগত সহযোগিতার নানাদিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের দ্রুত রূপান্তরের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে প্রতিনিধিরা বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কারম্যাক্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান তথ্য ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা শামীম মোহাম্মদের সঞ্চালনায় এ বৈঠকে মার্কিন প্রযুক্তি ও চিপ খাতের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

জুলাই-আগস্টে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ, যা দেশীয় মুদ্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

আজ রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্টে পরিশোধিত অর্থের মধ্যে মূল ঋণের কিস্তি বাবদ ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। আর সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর জুলাই-আগস্ট সময়ে নতুন করে ২৪ কোটি ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।


নির্বাচিত

হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে ধস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক

কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় মঙ্গলবার এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামই এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানির এই ঊর্ধ্বগতির জেরে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে আগামী অক্টোবরের শেষে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোর পতনের রেশ ধরে এদিন টোকিও, সিউল, হংকং, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, তাইপে, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও সিডনির শেয়ারবাজারে তীব্র নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে আসায় সোমবারের বড় দরপতনের পর মঙ্গলবার মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ১৬০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে; এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহান্তে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই পুনরায় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিলেও তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। এর মধ্যেই সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি বিশেষ প্রতিবেদন পুরোপুরি অস্বীকার করেন ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে ট্রাম্প দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে জব্দ থাকা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে জানান যে তিনি ইরানকে এমন কোনো প্রস্তাব দেননি এবং সংবাদমাধ্যমটিকে খবরটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের বিকল্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন; যেখানে হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানের দেওয়া শর্তাবলি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আদান-প্রদান করা বার্তাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সরকারি নীতিনির্ধারকেরা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন যে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়ে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অপরিহার্য আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের সমগ্র লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের আরেকটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রুট মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। আর্থিক পরামর্শক সংস্থা বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইয়ান লিংগেন উল্লেখ করেছেন যে এই সংঘাত আরও বেশ কিছুদিন আন্তর্জাতিক বাজারকে অস্থির রাখবে এবং জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটার বাস্তবতার সঙ্গেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মানিয়ে নিতে হবে। বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে; যুক্তরাজ্যের মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে যে সরবরাহ সংকটের কারণে দেশটিতে ইতিমধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ডিজেলের গড় বিক্রয়মূল্য সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।


নির্বাচিত

banner close