রোববার, ২৪ মে ২০২৬
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা, বাড়বে দাম

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ১৫:৫২
বাণিজ্য ডেস্ক

গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিল (আইজিসি)। আবাদি জমির সংকোচন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গড় ফলন হ্রাস পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আইজিসি-র সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে গমের উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে ৮২ কোটি টনে নামতে পারে এবং ভুট্টার ফলন ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৩০ কোটি টনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সরবরাহ কমলেও বিশ্বজুড়ে গমের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম এখনই ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন হ্রাসের সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে শস্যের সমাপনী মজুত ৪ শতাংশ কমে ৬১ কোটি ৫০ লাখ টনে গিয়ে ঠেকবে। যদিও এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে আমদানির হার কমতে পারে, তবে সামগ্রিক শস্য বাণিজ্যে ২ শতাংশ পতনের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। এই উৎপাদন ঘাটতির পূর্বাভাসের প্রভাবে গত এক মাসে তৈলবীজ ও শস্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যার মধ্যে গমের দামের উল্লম্ফন ছিল সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় এই মূল্যসূচক বর্তমানে প্রায় ৮ শতাংশ উঁচুতে অবস্থান করছে।

খাদ্যশস্যের এমন নেতিবাচক পূর্বাভাসের মাঝে সয়াবিন ও চালের উৎপাদনে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক সয়াবিন উৎপাদন ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টনের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। অন্যদিকে, চালের উৎপাদন গত বছরের ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টনের মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর বাড়তি চাহিদার কারণে চালের বিশ্ব বাণিজ্য ৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রধান শস্য গমের সংকট আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প: মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ নিয়ে শিল্পখাতের উদ্বেগ

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ১৩:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি সুস্থ পুঁজিবাজার যে কোনো আধুনিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে প্রবাহিত করে, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অর্থায়নে ভূমিকা রাখে, যা শুধুমাত্র ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে সম্ভব নয়। এই বাজারে মিউচুয়াল ফান্ড একটি বিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। এটি পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও বহুমুখী বিনিয়োগ সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার মালিকানার সুযোগ করে দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ভিত্তি শক্তিশালী করে এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেলে অনেক সময় স্থিতিশীল ক্রেতা হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা:
২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ডিএসইএক্স সূচক ৭,৩৬৭.৯৯ পয়েন্টে পৌঁছানোর পর থেকে বাজার দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে এটি নেমে দাঁড়ায় ৫,২৪৫.২২ পয়েন্টে, যা প্রায় ২৮.৮% পতন নির্দেশ করে। এই পতনের মূল কারণগুলো মূলত সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে-বিশ্বব্যাপী সংঘাত, বৈদেশিক মুদ্রা ও ডলার তারল্য সংকট, উচ্চ সুদের হার, রাজনৈতিক পরিবর্তন, স্থায়ী মূল্যস্ফীতি, দুর্বল আইপিও প্রবাহ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া। এর ফলে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) কমেছে, ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোর ডিসকাউন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফি আয় কমে গেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর কিছু নির্দিষ্ট ধারার বিষয়ে উদ্বেগ:
এই প্রেক্ষাপটে, শিল্পখাত নতুন প্রবর্তিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর কিছু ধারাকে গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছে। বিধি ৬২(২) অনুযায়ী, কোনো বিদ্যমান ক্লোজড-এন্ড ফান্ড যদি তার ক্রয়মূল্য বা ন্যায্য মূল্যভিত্তিক NAV-এর মধ্যে যেটি বেশি তার তুলনায় ২৫% বা তার বেশি ডিসকাউন্টে লেনদেন হয়, তবে ছয় মাসের মধ্যে সেটিকে রূপান্তর বা অবসায়নের জন্য বিবেচনা করতে হবে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৪টি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টি, যাদের সম্মিলিত সম্পদমূল্য (AUM) প্রায় ৪,৩৭৭ কোটি টাকা, এই শর্তের আওতায় পড়ে।

এত বড় পরিসরে বাধ্যতামূলক অবসায়ন হলে প্রায় ২,৬২৭ কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ার ইতোমধ্যে দুর্বল বাজারে বিক্রির চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে ইউনিটধারীদের প্রায় ১,৫৫৭.৬০ কোটি টাকার কাগুজে ক্ষতি স্থায়ী ক্ষতিতে পরিণত হবে এবং শেয়ারের দাম আরও কমে যাবে, যা লাখো খুচরা বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বাজার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করবে, যে পুনরুদ্ধার স্বাভাবিকভাবেই এই ডিসকাউন্ট কমিয়ে আনতে পারত।

আমাদের দৃষ্টিতে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড শুধু NAV-এর তুলনায় ২৫% বা তার বেশি ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে, এই কারণেই সেটিকে অবসায়ন করার বাস্তব কোনো উপকারিতা নেই। ডিসকাউন্ট মূলত ইউনিটের বাজারদরকে প্রতিফলিত করে, অন্তর্নিহিত পোর্টফোলিওর গুণগত মানকে নয়। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা দেখায় যে ক্লোজড-এন্ড ফান্ড সাধারণত ডিসকাউন্টে লেনদেন করে, যা দুর্বল বাজারে বাড়ে এবং শক্তিশালী বাজারে কমে আসে। এর চেয়ে অনেক ভালো সমাধান হতে পারে, যখন এই সীমা অতিক্রম হবে, তখন সংশ্লিষ্ট ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করা। এতে ইউনিটধারীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তারা বিনিয়োগ ধরে রাখবেন নাকি NAV অনুযায়ী ইউনিট রিডিম করবেন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর স্বাধীনতা বজায় থাকবে, ডিসকাউন্ট এক ধাপে দূর হবে এবং জোরপূর্বক বিক্রির মাধ্যমে মূল্য ধ্বংস এড়ানো সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় উদ্বেগটি বিধি ৬৭(৪) এবং ৬৭(৭) নিয়ে, যেখানে মিউচুয়াল ফান্ডকে অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিদ্যমান অ-তালিকাভুক্ত বিনিয়োগ ছয় মাসের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরাসরি ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, একটি মিউচুয়াল ফান্ডের অন্য ওপেন-এন্ড বা ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগও এর আওতায় পড়তে পারে, যদিও এসব ফান্ড বিএসইসি অনুমোদিত, নিয়মিত তদারকির আওতায় এবং দৈনিক NAV প্রকাশ করে; ওপেন-এন্ড স্কিমগুলো আবার প্রতিদিন NAV অনুযায়ী রিডিমযোগ্য। তাই এগুলোকে যৌক্তিকভাবে “অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ” হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিধিগুলো এভাবে প্রয়োগ করা হলে একটি ফান্ডের অন্য ফান্ডে বিনিয়োগের প্রচলিত চর্চা বন্ধ হয়ে যাবে, বিভিন্ন সম্পদশ্রেণিতে বৈচিত্র্য কমে যাবে এবং দুর্বল বাজারে বিশৃঙ্খল বিক্রির চাপ তৈরি হয়ে স্থায়ী মূলধনী ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

তৃতীয় উদ্বেগটি বিধি ৭৭ নিয়ে, যেখানে ০–৫০ কোটি টাকার AUM সীমায় ব্যবস্থাপনা ফি কমানো হয়েছে এবং ২০০ কোটির উপরে নতুন ০.৭৫% ফি স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকার AUM-সম্পন্ন ফান্ডগুলোর ব্যবস্থাপনা ফি আয় আনুমানিক ১৩% থেকে ২১% পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। বৃহত্তর বাজার পতনের কারণে AUM আগেই কমে যাওয়ার পর এই নতুন চাপ এমন সময়ে আসছে, যখন আধুনিকায়িত কাঠামোর অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিল্পখাতকে গবেষণা, কমপ্লায়েন্স সিস্টেম, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের AMC-গুলো, যাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ব্রেক-ইভেন অবস্থার কাছাকাছি, তারা বিশ্লেষক কাভারেজ কমাতে, নতুন পণ্যের উদ্ভাবন ধীর করতে এবং কিছু ক্ষেত্রে একীভূত হওয়ার পথে যেতে বাধ্য হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীর বিকল্প কমাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে দুর্বল করবে, যা এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রত্যাশা:
শিল্পখাত ইউনিটধারীদের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড কাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যকে পূর্ণ সমর্থন জানায়। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিধিমালাগুলোর প্রয়োগ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোকে তাদের মূল অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতে দেওয়া উচিত এবং রূপান্তর বা অবসায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তখনকার বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া উচিত। শিল্পখাত এই বিষয়ে আরও ভালো সমাধানের লক্ষ্যে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক সংলাপের প্রত্যাশা করে।


এক মাসে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ভারতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতে। দেশটিতে চলতি মাসেই এ নিয়ে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ০.৮৭ রুপি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৯৯.৫১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দামও প্রতি লিটারে ০.৯১ রুপি বেড়ে এখন ৯২.৪৯ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবারও তেল সংস্থাগুলো দ্বিতীয় দফায় প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ পয়সা করে দাম বাড়িয়েছিল। মাত্র তিন দফার এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতের বাজারে জ্বালানির মোট দাম প্রায় ৫ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে, যা আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ী এবং পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত লক্ষাধিক মানুষ। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা না কমলে দেশীয় বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে, যা প্রকারান্তরে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।


দেশের বাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য পুনরায় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দর সারাদেশে কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ড’-এর দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায় বিক্রি হবে।

স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মানভেদে রুপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঘরোয়া বাজারে মোট ৬৮ বার স্বর্ণের দামের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ৩২ বার কমানোর পথে হেঁটেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০২৫ সালেও স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমলে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আসার আশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।


৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২০ মে) আরও ৭ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয়েছে। নিলামে নির্ধারিত কাট-অফ রেট ছিল একই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি মে মাসেই মোট ৪৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দফায় নিলামের মাধ্যমে কেনা ডলারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১৩ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার।


সরবরাহ উদ্বেগে বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দুই দিন কমার পর আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মূলত ইরান যুদ্ধকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে তেলের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত কয়েক দিনের দরপতনের পর বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ার পেছনে মূলত কয়েকটি শক্তিশালী কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইরান ইস্যুতে এখনো কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় তেলের সরবরাহ লাইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়াও বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মজুত হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো চূড়ান্ত ও কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। হোয়াইট হাউসের এই অনড় অবস্থান তেলের বাজারের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তিনি কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করবেন না এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও তিনি প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সরবরাহ লাইনের ঝুঁকি এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মজুত পরিস্থিতি এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারদর স্থিতিশীল হবে কি না।


সবুজ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বড় বাধা গ্রিড সক্ষমতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরিবেশবান্ধব শিল্পপার্ক, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) দ্রুত প্রসারের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার অভূতপূর্ব হারে বাড়ছে। বেইন অ্যান্ড কোম্পানি এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দক্ষিণ এশিয়ার সবুজ অর্থনীতি ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এসব খাতে বিদ্যুতের চাহিদা তিন গুণ বেড়ে ১০০ টেরাওয়াট ঘণ্টার বেশি হতে পারে। এই বিপুল চাহিদাকে এ অঞ্চলের শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন এই বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিদ্যুৎ খাতে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এই বিশাল অংকের বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি প্রয়োজন হবে শুধুমাত্র ডেটা সেন্টারগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে। বর্তমানে এই অঞ্চলের সবুজ অর্থনীতির বাজারমূল্য প্রায় ২৯ হাজার কোটি ডলার, যা আগামী চার বছরের মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারীরা এখন বাড়তি অর্থ বা প্রিমিয়াম দিতেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বিদ্যুৎ ও ইভি খাতের উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ও বিদেশি কোম্পানি প্রায় ৫৪ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাত্র ৬০ শতাংশ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, আর বাকি বিনিয়োগগুলো বিভিন্ন কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মূলত যথাযথ সরকারি নীতিমালার অভাব এবং বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণেই বিনিয়োগকারীরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোতে পারছেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের এই অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে গ্রিড বা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা। গত পাঁচ বছরে সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অস্পষ্টতা, সরকারি অনুমোদনের জটিলতা এবং গ্রিড সংযোগের কঠিন নিয়মাবলী এই সংকটের মূল কারণ। হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের গ্রিড আধুনিকায়নে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ঘাটতি থাকবে, যা উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

সবশেষে প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে এখন পরিবেশ সুরক্ষার চেয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তাদের গ্রিড আধুনিকায়নের গতি যদি বিদ্যুতের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বাড়াতে না পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নীতিগত সংস্কারের বিকল্প নেই বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


মার্কিন বন্ডের দরপতন, বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজারে চলমান অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধরনের বিপৎসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাধারণত শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারের সাময়িক উত্থান-পতন উপেক্ষা করা গেলেও বন্ড বাজারের অস্থিরতাকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের মতে, বর্তমানে তেলের দাম নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বন্ড বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও বন্ড ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন সরকারের আর্থিক নীতিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বন্ড বাজারের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা এবং এর ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে এই সমস্যাটি সাময়িক, কিন্তু বন্ড ব্যবসায়ীরা মনে করছেন বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। ফলে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। বন্ডের দাম যখন কমে যায়, তখন স্বাভাবিক নিয়মেই সুদের হার বা ইল্ড বেড়ে যায়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এখন সরকারকে অর্থ ধার দেওয়ার বিপরীতে অনেক বেশি সুদ দাবি করছেন। এর ফলে সরকারি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র ছিল যে, ৩০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়লেও সামগ্রিকভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের পতন হয়েছে। বন্ডের এই উচ্চ সুদহার কেবল বড় বিনিয়োগকারীদের জন্যই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার সরাসরি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারের সাথে সম্পর্কিত। ফলে সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়বে।

বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা কেবল যুদ্ধ বা তেলের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, বরং তাদের দৃষ্টিতে এখন একাধিক সংকট একসাথে দানা বেঁধেছে। ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ, ভোক্তা ঋণের চাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশাল বিনিয়োগ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ব্যয়—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের মতে, উন্নত বিশ্বে ঋণের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেছে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এই বিশাল ঋণ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশ্বাস দিয়ে শেয়ারবাজার বা তেলের দাম সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও বন্ড বাজারকে শান্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু কথায় আশ্বস্ত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তন খুঁজছেন। যদি বন্ডের এই দরপতন ও সুদের হারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে, তবে শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর করের বোঝা আরও বাড়বে এবং সামাজিক সেবা খাতে সরকারি ব্যয় কমিয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।


এইচঅ্যান্ডএম-এর অর্ডার কমানোর ঘোষণায় পোশাক খাতে শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আয় বৃদ্ধিকারী খাত তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন করে অনিশ্চয়তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ফাস্ট ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘এইচঅ্যান্ডএম’ বাংলাদেশের বেশ কিছু বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ডারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মূলত সুইডেনভিত্তিক এই ব্র্যান্ডটি এখন তাদের বৈশ্বিক ক্রয় কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে এবং বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের লক্ষণগুলো দেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

শিল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, গত দেড় বছরে এইচঅ্যান্ডএম তাদের অর্ডারের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে অনেক কারখানায় অর্ডার ছড়িয়ে দেওয়া হতো, এখন তারা শুধু গুটিকয়েক বড় ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই নতুন কৌশলের ফলে বাংলাদেশের রিদিশা, হেমস, এনএএফএ, ভারটেক্স, স্যান, অ্যাবনি, ফাউনটেইন এবং মুন রেডি উইয়ার্সের মতো প্রায় ১০টিরও বেশি বড় পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি সরে না গেলেও তাদের ‘কম সরবরাহকারী কিন্তু বেশি নিয়ন্ত্রণ’ নীতি অনেক কারখানার নিয়মিত উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে বড় সংকটে ফেলছে।

বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া এবং অনলাইনভিত্তিক নতুন ব্র্যান্ডগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় সংকোচনের দিকে কঠোর নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি কমাতে ‘বাংলাদেশ প্লাস ভারত’ মডেল অনুসরণ করছে। বিশেষ করে ম্যানমেইড ফাইবার বা সিনথেটিক কাপড়ের সহজলভ্যতা, দ্রুত কাঁচামাল সরবরাহের সুবিধা এবং শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সুবিধার কারণে ভারত এখন তাদের কাছে নতুন বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক খাত এখনো মূলত তুলাভিত্তিক উৎপাদনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় সিনথেটিক কাপড়ের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে শুধু সস্তা শ্রম বা কম মূল্যে পণ্য উৎপাদনই বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। এইচঅ্যান্ডএম এখন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহৃত কাঁচামালের ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থাকে টেকসই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যেসব কারখানা আধুনিক প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড পূরণে পিছিয়ে রয়েছে, তারা স্বাভাবিকভাবেই বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ছে। এই নতুন পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করা এখন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এইচঅ্যান্ডএম-এর এই কৌশলগত পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ এখনো এই ব্র্যান্ডটির মোট সংগ্রহের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে, তবুও পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থাকে দ্রুত আধুনিকায়ন করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় শুধু তুলাভিত্তিক পণ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সিনথেটিক তন্তু উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, বড় ব্র্যান্ডগুলোর এই বাজার পরিবর্তনের প্রবণতা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


২ কোটি লিটার তেল ও ২০ হাজার টন ডাল কিনছে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

সচিবালয়ে গতকাল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল এবং ২০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পণ্যগুলো সংগ্রহের জন্য মোট ৫৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত সরকারের ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণ কার্যক্রম তথা টিসিবির কার্যক্রমকে বেগবান করতেই এই বিশাল পরিমাণ খাদ্যপণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার মোট এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্র্যান তেল এবং এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল সংগ্রহ করবে। রাইস ব্র্যান তেল ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি লিটারের দাম পড়ছে ১৭৯ টাকা ৫০ পয়সা। যশোরের মজুমদার রাইস ব্র্যান অয়েল মিলসসহ মোট চারটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস থেকে ১৮৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কোটি লিটার পাম অয়েল কেনা হবে, যার প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৪ টাকা ৩৮ পয়সা।

মসুর ডাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুটি আলাদা প্রস্তাবের মাধ্যমে মোট ২০ হাজার টন ডাল সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রথম ধাপে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ১০ হাজার টন ডাল কেনা হবে ৮৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০ হাজার টন ডাল কেনা হবে ৮৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে, যা ঢাকার মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন এবং রাজশাহীর বিসমিল্লাহ ডাল মিল থেকে সংগ্রহ করা হবে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোজ্য পণ্য ছাড়াও বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বড় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) জন্য কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং সিস্টেম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি-কে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল বা নদীপথের টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ১ হাজার ২১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রস্তাবও সভায় পাশ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ডিইডব্লিউএল এবং কেএসবিএল যৌথভাবে এই বিশেষ জাহাজগুলো তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে।

ক্রয় কমিটির এই সামগ্রিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী মূল্যের তেল ও ডাল মজুত রাখাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কোস্টগার্ডের আধুনিকায়ন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নৌ-সীমানা রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। কার্যাদেশ পাওয়া সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত পণ্য ও সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৫ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও হংকং-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সানশাইন আউটডোর (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আধুনিক কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক মানের তাঁবু ও বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পিং পণ্য উৎপাদন করার লক্ষ্যে এই বিনিয়োগ চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং সানশাইন আউটডোর (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মি. লিয়াং ডিফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেপজা কর্তৃপক্ষ মীরসরাইয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

নতুন এই কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে বার্ষিক প্রায় ১৫ লাখ পিস বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করতে পারবে। তাদের উৎপাদন তালিকায় থাকবে উচ্চমানের তাঁবু, ক্যানোপি, পানি প্রতিরোধী ব্যাগ, ডাফেল ব্যাগ ও স্লিপিং ব্যাগ। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ভাঁজযোগ্য চেয়ার, এয়ার পিলো, তোষক, মশারি, কার্পেট, মাদুর এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি উৎপাদন করবে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মাথায় রেখে এই আধুনিক উৎপাদন ইউনিটটি সাজানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে পণ্যের বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কারখানাটি পুরোদমে চালু হলে প্রায় ২ হাজার ৯৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে, এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। মীরসরাইয়ের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ধীরে ধীরে একটি বড় শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে, যেখানে সানশাইন আউটডোরের মতো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেপজা কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে। সানশাইন আউটডোরের এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত মূলত বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিস্থিতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানাটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পণ্য রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হবে।


শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ও অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রির অর্থ সরাসরি নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা ‘নিটা’ হিসেবে জমা করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় আগে থাকা প্রশাসনিক জটিলতাগুলো কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

নতুন এই নির্দেশনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অডিটরের সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি বা প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করলে সেই অর্থ নিটা অ্যাকাউন্টে জমা করার আগে মূলধনি মুনাফার ওপর প্রযোজ্য কর নির্ধারণের জন্য অডিটরের সনদ বা ‘অডিটরস সার্টিফিকেট’ জমা দিতে হতো। এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘসূত্রতা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো, যা শেষ পর্যন্ত বিদেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করত। এখন থেকে এই ধাপটি আর প্রয়োজন হবে না।

তবে অডিটরের সনদ না লাগলেও কর আদায়ের বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, শেয়ার বিক্রির অর্থ সরাসরি নিটা অ্যাকাউন্টে জমা করা গেলেও সেই অর্থ বিদেশে পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলোকে প্রযোজ্য মূলধনি মুনাফা কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কর আদায়ের প্রক্রিয়াটি এখন আরও স্বয়ংক্রিয় এবং দ্রুততর হবে, যেখানে ব্যাংকের ওপর দায়বদ্ধতা বাড়বে কিন্তু গ্রাহকের ভোগান্তি কমবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে। এর ফলে বিনিয়োগের সময় এবং প্রশাসনিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশেষ করে বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে তারল্য সংকট বা বিদেশি বিনিয়োগের অভাব রয়েছে, এই উদ্যোগ তা কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনাগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন এই বিশেষ ছাড় বা নিয়মটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল ও সহজতর বিনিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির পর তাদের প্রাপ্য অর্থ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজে নিজ নিজ হিসাবে স্থানান্তর করতে পারবেন।


অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধকরণে নতুন বিধান আসছে ২০২৬-২৭ বাজেটে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার সীমিত সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। মূলত আবাসন খাতে জমি, ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেস ক্রয়-বিক্রয়ের সময় প্রকৃত লেনদেনের তথ্য গোপন করার ফলে যে বিশাল অংকের অপ্রদর্শিত অর্থ তৈরি হয়, তা মূলধারার অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জটিলতা এবং মৌজা মূল্যের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অর্থকে বৈধ করার সুযোগ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চায়।

প্রস্তাবিত এই সুযোগের ক্ষেত্রে সরকার একটি বিশেষ শর্ত আরোপের কথা ভাবছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষকেই তাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক সময় দলিলে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম দেখানো হয়, যার ফলে বাকি অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ফ্ল্যাটের প্রকৃত দাম ২ কোটি টাকা হলেও যদি সরকারি মৌজা রেট অনুযায়ী ৬৫ লাখ টাকায় দলিল হয়, তবে বাকি ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বৈধ করতে বিক্রেতাকে পুরো ২ কোটি টাকাই রিটার্নে দেখাতে হবে এবং প্রচলিত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি কালোটাকা বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির সময়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সাদা করা হয়েছিল, যেখান থেকে সরকার প্রায় ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশেষ দায়মুক্তির বিধান প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, যে কেউ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ আয়কর এবং তার ওপর ১০ শতাংশ জরিমানা প্রদান করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগামী বাজেটে আবাসন খাতের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

কালোটাকা সাদা করার এই নিয়মিত সুযোগ নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এমন সুযোগ সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন যে, বিশেষ কোনো স্কিম ছাড়াই নিয়মিত কর হার পরিশোধ করে যে কেউ অর্থ প্রদর্শন করতে পারেন। তবে আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাব প্রতিবছরের মতো এবারও কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কম কর হারে অঘোষিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে স্থবির হয়ে পড়া আবাসন খাত পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।

পরিশেষে, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়নের চেষ্টা করছে যেখানে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে তৈরি হওয়া অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার পথ সুগম হবে। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর না হচ্ছে, ততক্ষণ এই খাতের অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে যাবে। তবে এবারের বাজেটে এই সুযোগটি এমনভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে যেন তা সৎ করদাতাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না করে এবং স্বচ্ছতার শর্ত পূরণ করে।


banner close