বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


নির্বাচিত

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন নীতিমালায় সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্রিল্যান্সার এবং স্বতন্ত্র সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে নতুন এক নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার জারি করা এক সার্কুলারে ডিজিটাল সেবার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক আয় গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে প্রথাগত কাগুজে দলিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন থেকে ই-মেইল, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট বা ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি ব্যবহার করেই ফ্রিল্যান্সাররা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে আনতে পারবেন।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার বা ওপিজিএসপি-এর মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে উল্লিখিত অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিধি বৃদ্ধিতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা বা ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবেন। অন্যান্য খাতের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এই জমার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহে প্রবাসীদের আরও নমনীয়তা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ার ফলে সেবা রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় আরও বেশি হারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসবে এবং এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাহ শক্তিশালী হবে।


নির্বাচিত

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানিতে অচলাবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পাথর আমদানিতে অনির্দিষ্টকালের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। গত ১৮ জুলাই থেকে স্থানীয় আমদানিকারকরা ভারত থেকে পাথর আনা বন্ধ রেখেছেন। মূলত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পাথরের দাম আকস্মিক বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা পাথরের গুণগত মান বজায় রাখছেন না এবং পাথরের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মাটি ও বালু মিশ্রিত থাকছে। এই নিম্নমানের পাথর বাংলাদেশের বাজারে বিপণন করতে গিয়ে আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে সোনাহাট স্থলবন্দরের সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত কয়েক দিন ধরে কোনো ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ না করায় ওয়্যার হাউজ, ট্রাক টার্মিনাল ও পাথর রাখার ডিপোগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলোও এখন অলস। সাধারণত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ট্রাক পাথর নিয়ে এই বন্দরে প্রবেশ করে থাকে, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। আমদানিকারকদের দেওয়া তথ্যমতে, এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোন ১১ ডলারে আমদানি করা হতো, যা বাংলাদেশে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে ভারত সেই দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার নির্ধারণ করায় খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭০ টাকায়।

পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বড় বোল্ডার পাথরের পরিবর্তে ভারত থেকে ছোট আকারের পাথর পাঠানো হচ্ছে, যা ক্রাশার মেশিনে ভাঙলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে দেশের বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই পাথর কিনতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এছাড়া সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে পাথর লোড করার কারণে তাতে ময়লা ও বালুর পরিমাণ বেশি থাকছে। স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একতরফা মূল্যবৃদ্ধি ও নিম্নমানের সামগ্রী আসার কারণে ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে আমদানি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এই অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

সাত লাখ কৃষকের ৬০৪ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করল কৃষি ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিমালার ধারাবাহিকতায় সাত লাখের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীর ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংকটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। মওকুফকৃত ঋণের সর্বমোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত মোট কৃষিঋণ মওকুফ প্রকল্পের প্রায় ৩৯ শতাংশই এককভাবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘকাল ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র অংকের এই কৃষিঋণের বোঝার কারণে বহু কৃষক তীব্র আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত ছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব, উৎপাদন ব্যয়ের আকস্মিক বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং নানাবিধ আর্থিক প্রতিকূলতার দরুন তারা যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন। এর ফলে তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় ঋণ নেওয়ার অধিকারও হারিয়েছিলেন। কৃষকদের এই দুরবস্থা নিরসনে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অংকের ঋণের আসল ও সুদ মকুবের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ তথ্য যাচাই ও হিসাব সমন্বয় শেষে যোগ্য কৃষকদের এই ঋণের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই এককভাবে এই ব্যাংকটি বিতরণ করে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণ মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা পুনরায় নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসার সুযোগ লাভ করবেন এবং নতুন করে কৃষিঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতির সঞ্চার করবে। কৃষকদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং কৃষিবান্ধব ব্যাংকিং সেবা প্রসারে ব্যাংকটি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কৃষকদের সামগ্রিক কল্যাণে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।


নির্বাচিত

প্রবাসী আয়ের দুই-তৃতীয়াংশই আসে ৫ দেশ থেকে, শীর্ষে সৌদি আরব

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের সংগৃহীত মোট রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশই এসেছে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র— এই রাষ্ট্রগুলো থেকেই মূলত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও প্রবাসীদের বসবাসের কারণে রেমিট্যান্সের বড় অংশই সেখান থেকে আসছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার। দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৩২২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে।

শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এই ছয়টি দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবাহ দেশের রিজার্ভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মাসভিত্তিক হিসেবে মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের চিরাচরিত চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ওই মাসে মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয়ের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। অথচ গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে টানা ১০ মাসই সৌদি আরব শীর্ষ অবস্থানে ছিল। মে মাসে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী আয় ছিল ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা মে মাসে এসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি বিশাল অংশ হাতেগোনা কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার নতুন বাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ করতে পারলে প্রবাসী আয়ের উৎস আরও স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় হবে। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা ও ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে হুন্ডির মতো অবৈধ পথ পরিহার করে প্রবাসীরা বৈধ পথে আয় পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন যেন দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় কোনো ধাক্কা দিতে না পারে, সে জন্য নতুন শ্রমবাজার সন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

ব্যক্তি পর্যায়ে এনবিআরের আয়কর ই-রিটার্ন সেবা চালু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে সংস্থাটি জানায়, কর প্রদান পদ্ধতিকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালে অনলাইন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে করদাতাদের মাঝে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে করদাতাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সারতে অনেক বেশি আগ্রহী।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির সকল করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা এখন বাধ্যতামূলক। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের জ্যেষ্ঠ নাগরিক, সনদপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনি প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিয়োজিত বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে; তারা চাইলে সরাসরি কাগজে (পেপার রিটার্ন) তথ্য জমা দিতে পারবেন। এছাড়া যদি কোনো সাধারণ করদাতা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনলাইনে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন, তবে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমতি নিয়ে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

করদাতারা রাজস্ব বোর্ডের নির্দিষ্ট পোর্টালে (www.etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন—বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে অতি সহজেই তাদের কর পরিশোধ করতে পারবেন। নির্ভুলভাবে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই করদাতা তার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করার সুবিধা পাবেন। অনলাইন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে সরকারি ছুটি ব্যতীত অফিস চলাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট কল সেন্টারে (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য এনবিআর এক বিশেষ আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা তাদের নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত) রেয়াত বা প্রণোদনা পাবেন। তবে সেপ্টেম্বর মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এই সুবিধা আর কার্যকর থাকবে না। এছাড়া ডিসেম্বর মাসের পর রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য সকল করদাতার প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।


নির্বাচিত

ব্যাংকগুলোর এনএসএফআর প্রতিবেদন জমায় নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোর নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও বা এনএসএফআর প্রতিবেদন তৈরির বর্তমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত ওপেন মার্কেট অপারেশনস বা ওএমও নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যেই মূলত এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট ও গাইডলাইনে এই পরিমার্জন আনা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালা মোতাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ), ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ) এবং এ জাতীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাকে সরাসরি সম্পদ বিক্রি হিসেবে গণ্য না করে জামানতভিত্তিক ঋণ হিসেবে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিকট পাঠিয়েছে।

প্রেরিত সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫ সালের বেসেল-৩ কাঠামোর অধীনে ব্যাংকসমূহকে লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (এলসিআর) ও এনএসএফআর বজায় রাখতে হয়। সম্প্রতি ওএমও পরিচালনার নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে এনএসএফআর রিপোর্টিং কাঠামোতেও পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে ইন্টারব্যাংক রেপোকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট দায় হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়া ‘জামানতভিত্তিক ঋণ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থায়ন’ শিরোনামে একটি নতুন রিপোর্টিং উপাদান যোগ করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো, এসএলএফ, আইবিএলএফ ও অ্যাসিউরড রেপোসহ সমজাতীয় সুবিধাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করা বাজারজাতযোগ্য সিকিউরিটিজকে এখন থেকে জামানতমুক্ত এবং জামানতযুক্ত— এই দুই স্বতন্ত্র ভাগে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত ঋণ ও আমানত সংক্রান্ত কিছু রিপোর্টিং শিরোনামেও পরিমার্জন আনা হয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত এই এনএসএফআর রিপোর্টিং টেমপ্লেট ব্যবহার করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত সময়কালের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই নির্দেশনা গত ৩০ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে, তবে ২০১৫ সালের মূল এনএসএফআর নির্দেশিকার অন্যান্য নিয়মাবলী আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।


নির্বাচিত

দেশের বাজারে স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপার দামও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বুধবার থেকে ভালো মানের তথা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ হাজার ৭৪১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এই দর সমন্বয় করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সমিতি। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।

হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দিনে স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বৃদ্ধি পেল। এর আগে মঙ্গলবারও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ এখন বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় আজ ২১ ক্যারেটে ২ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ২৭৫ টাকা বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় ২২ জুলাই রাত পর্যন্ত বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গত এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গড়ে ৫৯ ডলার কমেছে। স্বর্ণের অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের নতুন নিয়মে ভ্যাট প্রদান করতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বর্ণের ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে প্রতি ভরি অলঙ্কারের ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যা আগে মোট দামের ওপর ৫ শতাংশ ছিল।

স্বর্ণের দর বৃদ্ধির সমান্তরালে আজ রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। বুধবারের নতুন তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব ধাতুর দাম বর্তমানের তুলনায় বেশ কম ছিল।


নির্বাচিত

বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।’ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আগামী দিনে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমরা আরও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে। শুধু কথায় নয়, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

রপ্তানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লেদার, এগ্রো প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যেসব খাতকে আমরা অগ্রাধিকারমূলক রপ্তানি খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেগুলোর প্রত্যেকটিরই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।’ বর্তমানে বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও একসময় ছোট পরিসরে শুরু করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, বিদেশি বাজারে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নতুন ব্যবসা শুরু করছেন, তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান বা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এই সময় তাদের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ইপিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।’

সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকার খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ), ২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটিও অনুমোদন করা হয়। মেলার সম্ভাব্য সময় আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

স্পেনের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, রয়েছে বহুমুখীকরণের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সঙ্গে এবারের ফুটবল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও। বিশ্বকাপে রানার্সআপ আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর সম্পর্ক থাকলেও শিরোপা জয়ী স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘদিনের রপ্তানিকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক । বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করে ইউরোপের এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে স্পেনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশ।

পোশাকের পাশাপাশি স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্যেরও উপস্থিতি রয়েছে। টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৪৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ফুটওয়্যার খাত থেকে ৭৮ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার এবং খেলনা, গেমস ও ক্রীড়া সামগ্রী রপ্তানি করে ১৪ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেন প্রায় ২১ থেকে ২২ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক। ওই বছর স্পেনের পোশাক আমদানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। দেশটির মোট পোশাক আমদানির মূল্যের ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। ১৫ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চীন। এরপর মরক্কো ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ইতালি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তুরস্ক ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া ৬ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে অবস্থান করছে।

তবে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি আরও বাড়াতে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে তুলাভিত্তিক পোশাকের পাশাপাশি ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক উৎপাদন বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ফ্যাশননির্ভর পণ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের জন্য স্পেনের বাজারে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য রপ্তানিরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। স্পেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এমন অনেক পণ্য আমদানি করে, যেগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি করা সম্ভব। এসব সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করে স্পেনের বাজারে প্রবেশ করানো গেলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি স্পেন থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগও রয়েছে। দেশটির বিশ্বখ্যাত খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, বাজার সংযোগ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে স্প্যানিশ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হলে মূলধনের পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিপণন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

স্পেনের ক্রেতাদের চাহিদায় এখন দ্রুত সরবরাহ, টেকসই উৎপাদন ও উদ্ভাবনী পণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো এবং উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব, নতুন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বাজারে আরও বড় অংশীদার হতে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে আরও তিন বছর শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে উৎপাদনে উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করা গেলে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও দ্রুত বাড়তে পারে।


নির্বাচিত

মিউচুয়াল ফান্ড ও ব্যাংকিং খাতের দাপটে সূচকের বড় উত্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একক আধিপত্যের পাশাপাশি ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার পরিস্থিতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় দিনশেষে সূচকের বড় উত্থান এবং লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক ও লেনদেনের পরিমাণে একই ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন লেনদেন হওয়া সব খাতের মধ্যে ২৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান এবং ৪১টির বাজারমূল্য অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের জন্য দিনটি ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, যেখানে ৩২টি ফান্ডের দাম বাড়লেও কোনোটির দরপতন হয়নি। ব্যাংকিং খাতের চিত্রও ছিল বেশ ইতিবাচক; ২০টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে মাত্র ২টির দর কমেছে। বিমা খাতের ৪৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও ৮টির দাম কমেছে।

বড় কোম্পানি বা ১০ শতাংশ ও তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে ৩০টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরবৃদ্ধির পাশাপাশি লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ‘জেড’ গ্রুপের ৭৪টি কোম্পানির শেয়ারের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাছাইকৃত ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ২২০ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্যতম শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৯টির দাম বেড়েছে এবং ৭৬টির দাম কমেছে। এদিন সিএসইতে ১৯ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।


নির্বাচিত

শিশুদের জন্য ২২৫ ডলারে টেসলার বিশেষ বাইক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান টেসলা এবার শিশুদের ব্যবহারের জন্য একটি নতুন দ্বিচক্রযান বাজারে নিয়ে এসেছে। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের শারীরিক গঠন ও সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা এই বাহনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যালান্স বাইক’। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ধরা হয়েছে ২২৫ মার্কিন ডলার। প্রযুক্তি বিষয়ক পোর্টাল এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ বাইকটিতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক মোটর বা প্যাডেলের ব্যবহার নেই। এটি মূলত শিশুরা তাদের পায়ের সাহায্যে মাটিকে ধাক্কা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

টেসলার এই নতুন উদ্ভাবনে নকশা ও স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাইকটির মূল কাঠামো বা ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত হালকা ওজনের সাদা ম্যাগনেসিয়াম ধাতু। এতে একটি আরামদায়ক কালো রঙের আসন যুক্ত করা হয়েছে এবং বাইকটির সামনের অংশে টেসলার সেই সুপরিচিত ‘T’ লোগোটি বসানো হয়েছে। এছাড়া বাহনটির একপাশে ‘টেসলা’ নামটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। সাধারণত এই ধরনের ব্যালান্স বাইক বাজারে ১০০ ডলারের নিচেই পাওয়া যায়, তবে টেসলার ব্র্যান্ড ভ্যালু ও নির্মাণের বিশেষত্বের কারণে এটির দাম তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


নির্বাচিত

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইউরোজোনে ঋণের কঠোর শর্ত, প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোজোনের ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানের নীতিমালার শর্ত আগের চেয়ে কঠোর করেছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) ত্রৈমাসিক ব্যাংক ঋণ জরিপে মঙ্গলবার এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকেও ঋণ পাওয়ার এই কড়াকড়ি অব্যাহত থাকতে পারে বলে ব্যাংকগুলো ধারণা করছে।

নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই জরিপ সম্পর্কে ইসিবি জানিয়েছে, ব্যবসায়িক ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি আবেদন প্রত্যাখ্যান করছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্প এবং জ্বালানি-নির্ভর উৎপাদন খাতের ক্ষেত্রে ঋণের মানদণ্ড সবচেয়ে বেশি কঠিন করা হয়েছে।

জরিপের এই ফলাফল ইসিবির দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১টি দেশের এই ইউরোজোন জ্বালানি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগ যেমন কমেছে, তেমনি উৎপাদন খাতের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ইসিবি জানিয়েছে, “অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমে আসাই ঋণ কড়াকড়ির মূল কারণ। ব্যাংকগুলো বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক ও জ্বালানি খাতের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।”

এই অঞ্চলের ১৫৯টি বৃহৎ ব্যাংকের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই জরিপ প্রসঙ্গে ইসিবি আরও বলেছে, “২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো ঋণের সকল ক্ষেত্রে শর্ত আরও কঠোর করার পূর্বাভাস দিচ্ছে।”

দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসিবি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পথে হাঁটতে পারে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায়—যা ইসিবির ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি—অধিকাংশ বাজার বিশ্লেষক সেপ্টেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, গৃহ ঋণের চাহিদা দ্বিতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী দিনে ব্যাংকগুলো এই চাহিদা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।


নির্বাচিত

এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পোশাকশিল্প গড়ার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি এবং উচ্চ মূল্যের পণ্য উৎপাদনে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনে গত সোমবার বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনের সম্মেলনের প্রারম্ভিক পর্বে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা এই মত প্রকাশ করেন। তাঁরা মনে করেন, অনাগত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সক্ষমতা কেবল সস্তা শ্রম বা বাজার সুবিধার ওপর নির্ভরশীল থাকবে না; বরং উৎপাদনশীলতা, আধুনিক উদ্ভাবন এবং টেকসই উৎপাদনই হবে অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, "তৈরি পোশাকশিল্প কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় উৎস। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের চাহিদা পূরণে শ্রমশক্তিকে নতুন দক্ষতায় গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সে জন্য সরকার শ্রমিক–মালিকের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং টেকসই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।"

নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, "এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো পোশাক কারখানার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। প্রথম প্রজন্ম বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে। এখন সেই অর্জনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের।"

বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান বলেন, "এলডিসি–পরবর্তী বাস্তবতায় শুধু চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভাবন, নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা, নকশা উন্নয়ন ও মূল্য সংযোজনের দিকে যেতে হবে।" তিনি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি এবং এআইয়ের ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

শেল্‌টেক্‌ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, "কোটা–পরবর্তী সময় ও কোভিড–১৯–এর মতো বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। এখন এলডিসি–পরবর্তী বাস্তবতায় টিকে থাকতে অটোমেশন, এআই, দক্ষ মানবসম্পদ, বাজার বহুমুখীকরণ, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।"

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরিয়া লোপেজ বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের জোরালো চাহিদা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন, পরিবেশগত মান এবং পণ্যের বহুমুখীকরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।"

বায়লা সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম বলেন, "আগামী দিনের বৈশ্বিক বাজারে প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল দিয়ে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে না। ‘থিংক বিয়ন্ড টুডে’ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার মানসিকতা। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের দ্রুত এআই, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এবং উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে হবে।" অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বায়লার প্রথম সহসভাপতি হাসিন আরমান।


নির্বাচিত

banner close