দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’
বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?
আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।
দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।
এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।
সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?
এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।
এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?
আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।
এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।
জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।
সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।
তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।
দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।
আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।
ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।
আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।
সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।
আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?
আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।
এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।
এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।
এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাগজ বা হার্ডকপি আকারে জমা দেওয়া সকল ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। রবিবার (৭ জুন) সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন এন্ট্রি সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্লোজিং ব্যালেন্স ২০২৬ সালের মে মাস থেকে ‘ফ্রিজ’ বা ‘অপরিচালন যোগ্য’ হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই স্থিতির বিপরীতে কোনো প্রকার সমন্বয় করা যাবে না। মূলত করদাতাদের দাখিলকৃত পূর্ববর্তী সকল মাসিক রিটার্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি বিশেষ সাব-মডিউল চালুর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ই-ভ্যাট সিস্টেম পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হার্ডকপি রিটার্ন এখনও অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আগামী জুলাই মাস থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই এই সময়সীমা আরও তিন মাস বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ভ্যাট রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের আবেদন বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে থাকা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। ফলে পূর্বের সকল রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি না করলে কোনো প্রতিষ্ঠান রিফান্ডের আবেদন করার যোগ্যতা হারাবে। রাজস্ব প্রশাসনে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতেই এনবিআর এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সকল করদাতার সহযোগিতা কামনা করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মানে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রবিবার (৭ জুন) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একাধিক নিলাম পদ্ধতি অনুসরণ করে দুইটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই বৈদেশিক মুদ্রা কেনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জুন মাসের এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১০১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা কমানোর পাশাপাশি প্রবাসী আয় ও রফতানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারে চলমান কৌশলের অংশ হিসেবেই বাজার থেকে নিয়মিত ডলার কেনা হচ্ছে।
দেশের ফল রফতানি খাতে এক নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ফল রফতানি করে বাংলাদেশ ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে। আগের পুরো অর্থবছরে এই খাতের আয় ছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফল রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ৮২ শতাংশেরও বেশি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছর ধরে এই খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার, সেখান থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে এই বিশাল উল্লম্ফন জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রফতানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে বাদাম (তাজা বা শুকনো) এবং তাজা ফলের বিভিন্ন শ্রেণি থেকে। এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রফতানি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ফলের প্রধান বাজার হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশি ফলের বিশাল চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে আন্তর্জাতিক মূলধারার বাজারে এখনও বাংলাদেশের ফলের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারেনি। মূলত বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নত প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রফতানি পণ্যের তালিকায় গ্রীষ্মকালীন ফল আম এখনও শীর্ষে রয়েছে। এর পাশাপাশি পেয়ারা, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও কলার চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফি চাষের প্রসারের ফলে রফতানিযোগ্য ফলের একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও চুক্তিভিত্তিক চাষের প্রসারের ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে রফতানি বৃদ্ধিতে লজিস্টিকস এবং অবকাঠামোগত কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনও বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। উচ্চ বিমান ভাড়া, মৌসুমে কার্গো পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব রফতানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া কোয়ারেন্টিন সনদ প্রদান ও প্যাকেজিং সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় জেলা পর্যায়ের রফতানিকারকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সেবাগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে ফল রফতানি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। আম রফতানির বর্তমান মৌসুম শেষে আয়ের এই অংক আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রফতানি আয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩.৪১ শতাংশ কমে ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের ফলে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই এই খাতের সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বাজারগুলোতে ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় রফতানিকারকদের মধ্যে বর্তমানে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য হলেও বর্তমান অর্থবছরে সেখানে রফতানি ৪.৮৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে মোট রফতানি আয় হয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তারা এখন পোশাক ক্রয়ে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একই সাথে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও রফতানি প্রবৃদ্ধি কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আয় ০.০৪ শতাংশ কমে ৭.০৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা নতুন অর্ডারের চেয়ে পুরনো মজুত শেষ করার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। কেবল বড় বাজারগুলোই নয়, গত কয়েক বছর ধরে বাজার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে যেসব অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেখানেও রফতানি আয় প্রায় ৬ শতাংশ কমে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারেও বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।
পণ্যের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিটওয়্যার খাতে রফতানি ৪.২৬ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রফতানি ২.৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। টি-শার্ট, সোয়েটার থেকে শুরু করে ওভেন শার্ট ও জ্যাকেট—সব ধরণের পণ্যের চাহিদাই আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে নিম্নমুখী। ক্রেতারা এখন কেবল ক্রয়াদেশ কমিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, বরং উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও তারা পণ্যের দাম কমানোর জন্য রফতানিকারকদের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন। অভ্যন্তরীণভাবে ক্রমবর্ধমান গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের নতুন মজুরি কাঠামোর কারণে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় রফতানিকারকরা বর্তমানে উভয়সংকটে রয়েছেন।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, “চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের রফতানি চিত্র থেকে স্পষ্ট যে বৈশ্বিক বাজারে এখনও চাহিদার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার হয়নি। ক্রেতারা এখন আগের তুলনায় কম দামে পণ্য কিনতে চাইছেন এবং অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক বেশি সতর্ক। ফলে রফতানি আয় ও মুনাফা– দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হচ্ছে।” তার মতে, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে অর্ডার কমে যাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান এবং অপ্রচলিত বাজারেও আয় কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এখন প্রায় সব বাজারেই ছড়িয়ে পড়েছে।
এত প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা এই খাতের শক্তিশালী ভিত ও স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দেয়। প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে একমাত্র কানাডায় ২.২৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা কিছুটা স্বস্তি জোগাচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে হলে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো সম্ভব হলে বাংলাদেশ আবারও বিশ্ববাজারে তার হারানো অবস্থান ফিরে পেতে পারে। বর্তমান এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে হলে সরকারি নীতিগত সহায়তা এবং নতুন ক্রেতা আকর্ষণের বিকল্প নেই। বৈশ্বিক চাহিদার পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত রফতানি আয়ের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশে ৩৭৫ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বা তৈরি অবস্থায় (সিবিইউ) আমদানির ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি আমদানির সুযোগ না থাকলেও ২০২৬-২০২৯ সালের জন্য প্রস্তাবিত নতুন আমদানি নীতি আদেশে এই সিসিসীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই বিধান কার্যকর হলে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির মোটরসাইকেল বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি করে বিপণন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে এবং চলতি মাসেই চূড়ান্ত আদেশ জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের উদীয়মান মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী শিল্প খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে দেশে ইতিমধ্যে জাপানি ও ভারতীয়সহ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের প্রায় ১০টি কারখানা স্থাপিত হয়েছে। এসব কারখানায় গত কয়েক বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরাসরি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত মোটরবাইকগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরাসরি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে নতুন কিছু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান উপকৃত হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে তৈরি বাইক আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, যা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এছাড়া কিছু অসাধু আমদানিকারক কম মূল্য দেখিয়ে বা কর ফাঁকি দিয়ে উচ্চ সিসির বাইক নিয়ে আসার সুযোগ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা বলছেন যে ঘনঘন নীতি পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ ও আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও নতুন চ্যালেঞ্জের কথা সামনে আসছে। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ক্ষমতার মোটরসাইকেল রয়েছে। জনসাধারণের জন্য এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষমতার বাইক উন্মুক্ত করে দিলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তায় নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেশের মোটরসাইকেলের বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১০ লাখ উৎপাদনের বার্ষিক লক্ষ্যের বিপরীতে দেশে বর্তমানে ৫ লাখের কম বাইক বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সামগ্রিক খাতের স্বার্থ বিবেচনা না করে গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের সুবিধা অনুযায়ী নীতিমালা পরিবর্তন করা হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।
বিশ্ববাজারে ইস্পাত তৈরির উপকরণের মূল্য গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি মাসে চীনের বাজারে প্রতি টন স্টিল রেবারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯০ ইউয়ানে, যার ফলে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইস্পাতের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত চীন সরকার কর্তৃক গৃহীত বেশ কিছু বড় ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কারণেই বাজার পরিস্থিতিতে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। খবর হেলেনিক শিপিং।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইস্পাতের প্রধান ব্যবহারকারী খাত হিসেবে আবাসন বা গৃহনির্মাণ শিল্পকে বিবেচনা করা হয়। শীর্ষস্থানীয় রেটিং প্রদানকারী সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে চীনে আবাসন খাতের দরপতনের প্রবণতা ধীর হয়ে আসতে পারে। দেশটির স্থানীয় প্রশাসনগুলো আবাসন বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলে বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের কঠোর বিধিমালা শিথিল করা হয়েছে এবং গুয়াংজু এলাকায় আবাসন খাতে সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসকল উদ্যোগের ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই ধাতুর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবাসন শিল্পের পাশাপাশি চীনের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেও বর্তমানে ইস্পাতের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে চাহিদার বিপরীতে বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা ফুটে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, চীনে ইস্পাতের বার্ষিক উৎপাদন ২ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৮ সালের পর থেকে জুন মাসের হিসেবে সর্বনিম্ন উৎপাদন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সরকারি মেগা প্রকল্পের কারণে বাড়তি চাহিদা এবং অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ার দ্বিমুখী প্রভাবে ইস্পাতের বাজারমূল্য আরও কিছুকাল চড়া থাকতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধের মুখে পড়ে গত মে মাসে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বিগত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে একটি অস্থির যুদ্ধবিরতি চললেও ওয়াশিংটন কর্তৃক তা বারবার লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মূলত তেহরানকে একটি নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্তাবলীতে রাজি করাতে গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। তেহরান এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তখন সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও ইরান উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করে লাভবান হয়েছিল। তবে মে মাস থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ায় সেই সুবিধাজনক অবস্থান এখন সংকটের মুখে পড়েছে। বর্তমান তথ্য অনুসারে, ইরানের রফতানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়, যা বর্তমানে মার্কিন নজরদারিতে রয়েছে।
বাণিজ্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কেপলারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের তেল রফতানি মে মাসে ৩ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। জাহাজ চলাচলবিষয়ক প্রকাশনা লয়েডস লিস্টের হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চের তুলনায় মে মাসে ইরানের জ্বালানি খাত থেকে আয় প্রায় ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মার্চ মাসে দেশটি যেখানে দৈনিক ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি করে প্রায় ৫১৩ কোটি ডলার আয় করেছিল, মে মাসে সেই মাসিক আয় কমে মাত্র ৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লয়েডস লিস্ট আরও জানিয়েছে যে, এপ্রিল পর্যন্ত গত ১২ মাসের গড় রফতানির তুলনায় মে মাসে রফতানি কমেছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও ইরানের রফতানি তলানিতে নামার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিক্রি করতে না পারায় ইরান বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে সংরক্ষিত আছে। এ প্রসঙ্গে জ্বালানিনীতি গবেষক ও পরামর্শক মার্ক আয়ুব আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান কৌশলগতভাবে অবশিষ্ট সংরক্ষণ-ক্ষমতা ব্যবহার করছে। তথ্য বলছে, অবরোধ কার্যকর হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত চাপ তৈরি হবে তখনই, যখন এই সংরক্ষণ সক্ষমতা ফুরিয়ে আসবে।’ বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধের মূল উদ্দেশ্য উৎপাদন বন্ধ করা নয়, বরং তেল বিক্রির অর্থপ্রবাহ আটকে দেওয়া। বিশেষ করে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরান এখন বড় বাধার সম্মুখীন। যদিও রেলপথকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তবে সমুদ্রপথের বিশাল চালানের তুলনায় ট্রেনযোগে তেল পরিবহন অত্যন্ত নগণ্য ও ব্যয়বহুল।
এ সংকটের প্রভাব কেবল ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় খোদ মার্কিন অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মার্ক আয়ুবের মতে, ‘শেষ পর্যন্ত যে ধরনের চুক্তিই হোক না কেন, মূল প্রশ্ন একটাই—হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। হয় ইরান কোনো না কোনোভাবে সেখানে প্রভাব বজায় রাখবে, নয়তো এই সংঘাত আরও কয়েক মাস চলতে পারে।’ এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়ার ভয়ে ইরান বর্তমানে ভিএলসিসি ট্যাংকারের পরিবর্তে ছোট আকারের জাহাজ ব্যবহার করে তেল সররাহের চেষ্টা করছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আভাস দিচ্ছেন, তবে তেহরান তাদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত ও অবরোধ প্রত্যাহারের মতো কঠিন শর্তে অটল রয়েছে।
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষে ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতিতে এক ঐতিহাসিক ও আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতি মাসে বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের চিরচেনা নিয়মটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে বছরে মাত্র চারবার বা তিন মাস পর পর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ দিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক বোঝা ও হয়রানি যেমন কমবে, তেমনি সাশ্রয় হবে বাড়তি খরচও। এনবিআর জানিয়েছে, পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করা হচ্ছে। ফলে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের আর সনাতন কাগজের ফাইল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠান অডিটের আওতায় এলেও তাদের আর কাগুজে নথিপত্র দিতে হবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় লেনদেনের হিসাব রাখে, তবে সেই ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিট সম্পন্ন হবে। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না বললেই চলে।
বর্তমানে কার্যকর ভ্যাট আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে ‘মূসক-৯.১’ ফরমে রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের সামান্য এদিক-সেদিক হলেই গুনতে হয় বড় অঙ্কের জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাসিক ব্যবস্থাকে একটি বড় বোঝা হিসেবে অভিহিত করে আসছিলেন। এই জটিলতার কারণেই অনেক ব্যবসায়ী ভ্যাট জালের বাইরে থাকতে পছন্দ করতেন। এনবিআর আশা করছে, নতুন ও সহজ এই পদ্ধতি চালুর ফলে ব্যবসায়ীরা কর প্রদানে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং কর ফাঁকির প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রেকর্ড ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়েছিল। এই সহজ এবং ব্যবসাবান্ধব ত্রৈমাসিক রিটার্ন পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারের বড় ধরনের উত্থানের প্রভাবে গত এক বছরে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নতুন করে মিলিয়নেয়ার বা লাখপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। ক্যাপজেমিনি ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ রিপোর্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী লাখপতির সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ২ কোটি ৫৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ৯৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি। সিএনবিসি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতিবেদনটিতে লাখপতি বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যাদের নিজস্ব আবাসস্থল ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী বাদে বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ লাখপতিদের তুলনায় অতিধনী বা ‘আল্ট্রা-হাই-নেট-ওয়ার্থ’ ব্যক্তিদের সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল আরও বেশি। বিশেষ করে যাদের ৩ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ রয়েছে, তাদের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়িয়েছে। এই অতিধনীরা মোট লাখপতিদের মাত্র ১ শতাংশ হলেও বিশ্বের সম্মিলিত লাখপতি সম্পদের ৩৫ শতাংশই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে নতুন লাখপতি তৈরির দৌড়ে যথারীতি শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গত বছর ৭ লাখ ৩০ হাজার নতুন লাখপতি যুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৩০ হাজারে। আমেরিকার পাশাপাশি এশিয়া অঞ্চলেও উল্লেখ্যযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে লাখপতির সংখ্যা ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮৩ লাখ ৭০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের ৭৬ শতাংশ উত্থান এবং তাইওয়ানের চিপ খাতের প্রভাবে এবার এশিয়ায় এই দুই দেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইউরোপে লাখপতি বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ, তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ধনী ব্যক্তিরা এখন নগদ অর্থ সঞ্চয় করার চেয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। একই সাথে আধুনিক ধনীরা তাদের বিপুল সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য এখন আর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক সংস্থার সেবা গ্রহণ করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া কয়লা শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে ৭০০ মিলিয়ন বা ৭০ কোটি ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের ঘোষণা দেন তিনি। মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে যখন জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়েছে, তখন সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রয়টার্স সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই বিশাল তহবিলের যোগান নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন কার্যকর করেছে। এটি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের একটি বিশেষ আইনি ক্ষমতা, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য শিল্পগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক কর্তৃত্ব প্রদান করে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কেনটাকি, ইন্ডিয়ানা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আরকানসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ১৪টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ৪২টি কয়লাখনি সংরক্ষণ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে একটি নতুন কয়লা রপ্তানি টার্মিনাল নির্মাণে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই টার্মিনাল নির্মাণের ফলে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া মার্কিন জ্বালানি বিভাগ আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে, যা দিয়ে আলাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে দুটি নতুন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম নতুন কোনো কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
হোয়াইট হাউজে এই ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছি যা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। এর জন্য আমরা পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী কয়লার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “স্বচ্ছ ও সুন্দর কয়লার শক্তি ব্যবহার করে সব নাগরিকের জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম কমিয়ে আনতে আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।” ট্রাম্পের দাবি, এই পুরো বিনিয়োগ প্যাকেজটি সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কর্মসংস্থান ধরে রাখতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য এখন ৪.২৪ ডলারে ঠেকেছে, যা ইরান সংঘাত শুরুর আগে ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত এক বছরে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৭.৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমালোচনা করে কয়লাকেই অধিক সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী উৎস হিসেবে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউজ মনে করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার সাশ্রয় হবে, যা সাধারণ গ্রাহকদের উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে রক্ষা করবে।
জ্বালানি সরবরাহের সংকট মোকাবিলা এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ সহায়ক প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, গৃহস্থালি পণ্য ও বৈদ্যুতিক যান (ইভি) উৎপাদনে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর সুবিধাগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উৎপাদনে যে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে, সেটির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্লেন্ডার ও জুসারের মতো গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরির যন্ত্রাংশ আমদানিতে থাকা হ্রাসকৃত শুল্ক সুবিধার মেয়াদও ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে। বৈদ্যুতিক যানের ক্ষেত্রে বর্তমানে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ করের বোঝা কমিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ইভি উৎপাদনে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক ছাড়, ভ্যাট ও আয়কর সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রফটপ সোলার প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বর্তমানে ৩৬ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে এই কর কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে সুবিধার মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর পূর্ণ কর মুক্তি এবং পরবর্তী বছরগুলোতে নির্দিষ্ট হারে কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন।
শিল্প খাতে বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও বছরের শেষ নাগাদ এটি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উচ্চ শুল্ক হারের কারণে প্রতি মেগাওয়াট সোলার স্থাপনে যে ৩ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়, তা শুল্ক কমানোর ফলে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে। তবে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় সোলার যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অতীতে অসম প্রতিযোগিতার কারণে এই খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। কম্পিউটার ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পের প্রসারে বিদ্যমান সুবিধার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হলে ভোক্তারাও সুফল পাবেন। তবে নীতিনির্ধারকদের উচিত এই সুবিধার ফলে পণ্যমূল্য কতটুকু কমছে এবং আমদানির বিকল্প তৈরি হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সম্পদের তালিকায় মার্কিন সরকারি বন্ড বা ট্রেজারিকে পেছনে ফেলে স্বর্ণ এখন শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। মূলত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দাম এই পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বৈশ্বিক রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশই ছিল স্বর্ণ, যা মাত্র এক বছর আগেও ছিল ২০ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারির অংশ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর অবস্থান ১৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড এই পরিবর্তনের পেছনে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে দায়ী করে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ সঞ্চয়ের প্রবণতাকে আরও জোরালো করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণের বিশাল মজুদ রয়েছে, যা প্রায় ব্রেটন উডস যুগের কাছাকাছি এক মজবুত অবস্থান নির্দেশ করছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোও এই হিসাব বদলে দেওয়ার অন্যতম কারণ। যদিও সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভের ৪২ শতাংশ দখল করে আছে, তবে বিকল্প সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ঝোঁক ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২২ সাল থেকে বিশেষ করে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত তাদের স্বর্ণের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরণের রিজার্ভ পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশটি ২২০ টন স্বর্ণ সঞ্চয় করলেও ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দিয়েছে। ইসিবি আরও জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকাও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে, গত বছর যার আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই স্বর্ণমুখী প্রবণতা এবং মার্কিন ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা হ্রাস বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে মুদ্রা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরণের পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায় নেমে এসেছে। শনিবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করে, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে গত ২ জুন স্বর্ণের দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল, যখন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৭১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বাড়ানো হলেও ৩৪ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি ও ২৯ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৩ হাজার ২০৮ টাকা করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৪২ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ বার দাম বৃদ্ধি ও ২০ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে।