রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


নির্বাচিত

বাড়ছে ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার লক্ষ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক তেল পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অর্থায়ন করছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), যাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

গত বৃহস্পতিবার ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের এই ঋণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় এবং শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে কোনো একক প্রকল্পে এটিই আইডিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবির কান্ট্রি প্রোগ্রামসের ডিরেক্টর জেনারেল আনাসে আইসামি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে দেশের প্রধান তেল শোধনাগারের সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে সরাসরি ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসবে, যা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে এবং দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।

আইডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনুদান, ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে আসছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আইডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। ইআরডির মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আইডিবির মধ্যকার উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে।


নির্বাচিত

জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বর্তমান স্থিতাবস্থায় থাকলে চলতি বছর বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের (জেডসিএ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির প্রকোপ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণেই দেশ এমন সংকটের মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেডসিএ-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান। বর্তমানে আমদানির ব্যয় মেটানোর যে সক্ষমতা ৫.৭ মাস রয়েছে, তা কমে ৫.২ মাসে দাঁড়াতে পারে। অথচ এই বাড়তি অর্থ দিয়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব ছিল, যা দেশের বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশের সমান।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এলএনজি আমদানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে সামগ্রিক ব্যয় কমার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আমদানি ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। জুলাই মাসে যেখানে ৬ লাখ ৩০ হাজার টন এলএনজি দেশে এসেছিল, আগস্টে তা মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টনে নেমে আসে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬৪ শতাংশই গ্যাসনির্ভর হওয়ায় এই সরবরাহ ঘাটতি সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। গত ১১ আগস্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। গ্যাসের এই তীব্র সংকটে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশের বড় সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই এখন বন্ধ বা সীমিত পরিসরে চলছে এবং সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

জেডসিএ মনে করছে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের প্রধান দুর্বলতা হলো এর অত্যধিক আমদানিনির্ভরতা। ২০২৩ সালে মোট জ্বালানির ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়েছে। যদিও সরকার স্পট মার্কেট ও বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, তবুও সরবরাহের অনিশ্চয়তা কাটছে না। বর্তমান সংকটে তিনটি বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, “এলএনজি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। বৈশ্বিক সংকটের সময় সরবরাহ চুক্তি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গ্যাস দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নেই। অথচ এ ধরনের জ্বালানির ব্যয় বাড়তেই থাকে।” তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, এলএনজিনির্ভর ঝুঁকি এড়াতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য।

একইভাবে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, কেবল এলএনজি নির্ভরতা বাড়িয়ে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, নতুন টার্মিনালগুলো চালু হলে ২০৩০ সাল নাগাদ এলএনজি আমদানি ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট ছাড়াতে পারে, যার জন্য বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। শফিকুল আলমের মতে, “এলএনজি আমদানি বাড়লে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও বাড়বে। এর ফলে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাবে, কিন্তু দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে না।”


নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকের ভূমিকাঃ মজিবর রহমান

মো. মজিবর রহমান- ব্যবস্হাপনা পরিচালক- জনতা ব্যাংক পিএলসি
ছবি: মো. মজিবর রহমান। ব্যবস্হাপনা পরিচালক - জনতা ব্যাংক পিএলসি।
আপডেটেড ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। এটি শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে না, বরং আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভ পরিস্থিতিতেও স্বস্তি এনেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৫.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭.৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৬,৩১ বিলিয়ন ডলার।
এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত অর্থকে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে শুধু অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ, সহজ, সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে।
জনতা ব্যাংক পিএলসি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক, বিদেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনতা ব্যাংক রেমিট্যান্স আহরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য কাজ করছে। ২০২৫ সনে জনতা ব্যাংক দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর অন্যতম ছিল; ব্যাংকটির রেমিট্যান্স গ্রহণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭,৫৫৫ কোটি টাকা। জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ফরেন রেমিট্যান্সের পরিমান ১২,৩৭০ কোটি টাকা।
আমাদের লক্ষ্য হবে ‘প্রবাসীর অর্থ, দ্রুততম সময়ে নিরাপদে পরিবারের হাতে’-এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এজন্য ডিজিটাল রেমিট্যান্স প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, Exchange House ও বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে কার্যকর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, দ্রুত পেমেন্ট নিষ্পত্তি, গ্রাহকবান্ধব সেবা এবং রেমিট্যান্স লেনদেনে স্বচ্ছতা ও কমপ্লায়েন্স আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রবাসীদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াতে তাদের দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য রেমিট্যান্স-ভিত্তিক সঞ্চয়, ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার সঙ্গে সংযুক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ, রেমিট্যান্সকে শুধু ভোগব্যয়ের অর্থ হিসেবে না দেখে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত করতে হবে।
অত্র ব্যাংকের দেশের অভ্যন্তরস্থ ৯২৬ টি শাখা ফরেন রেমিট্যান্স পরিশোধের একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক হিসেবে থাকায় এবং ব্যাংক/এক্সচেঞ্জ হাউজের প্রেরিত ফরেন রেমিট্যান্স API এর মাধ্যমে বেনিফিসিয়ারীর হিসাবে ২৪/৭ রেমিট্যান্স জমা করার সার্ভিস নিশ্চিত করতে পারায় ব্যাংক/এক্সচেঞ্জ কোম্পানী অত্র ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরণে এবং বেনিফিসিয়ারীগণ অত্র ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণে উৎসাহিত হয়েছেন।
নেগোশিয়েসন এর মাধ্যমে ব্যাংক/এক্সচেঞ্জ হাউজকে প্রতিযোগীতামূলক এক্সচেঞ্জ রেট প্রদান করায় এবং দ্রুত সার্ভিস নিশ্চিত করায় ব্যাংক/এক্সচেঞ্জ কোম্পানীসমূহ অত্র ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রেরণে আগ্রহী হয়েছে।
অত্র ব্যাংকের ইতালীর রোম ও মিলান শহরে অবস্থিত জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানী এসআরএল, ইতালী এর দুইটি শাখা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতস্থ চারটি শাখার মাধ্যমে Mobile Financial Services এর আওতায় bKash এর মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স এর অর্থ উপকারভোগীর ওয়ালেটে দ্রুততম সময়ে প্রদান করায় রেমিটারগণ অত্র ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত হয়েছেন।
এছাড়া প্রবাসী আয় আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদে দেশে আনার লক্ষ্যে নগদের সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাভোগীদের কাছেও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারের মাধ্যমে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকের ভূমিকা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে Letter of Credit (LC), বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, Trade Finance, Remittance, Foreign Exchange এবং Correspondent Banking-এসব ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আওতায় আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক একটি বড় শক্তি। জনতা ব্যাংক এ ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞ জনবল, বৈদেশিক বাণিজ্য অবকাঠামো, Correspondent Banking Network এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক রপ্তানি মুখী প্রতিষ্ঠান তৈরিতে অন্যতম ভুমিকা পালন করে আসছে। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রপ্তানির পরিমান ছিল যথাক্রমে ১৪২৫৫ কোটি, ৮২৫৫ কোটি ও ৬১৬৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংকের বড় রপ্তানিকারকদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পর রপ্তানি কমে যায়। এর পর অনেক নতুন গ্রাহক অত্র ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমানে জনতা ব্যাংক ফরেন ট্রেড এর ব্যবসারক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স এর উপর গুরুত্ব আরোপ করছে। রপ্তানি ঋনের ক্ষেত্রে সহজামানতদ্বারা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখে রপ্তানি ব্যবসা বৃদ্ধির করছে। নতুন ও পুরাতন গ্রাহকদের মাধ্যমে রপ্তানি ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই বছরে নতুন করে রপ্তানি খাতে কোনো ফোর্স লোন সৃষ্ট হয়নি।
জনতা ব্যাংকের ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৯,৭৫১ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সনের জুন পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ছিল ১২.২৬৮ কোটি টাকা। আমদানির ক্ষেত্রে জনতা বাংক পিএলসি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেমন- বিপিসি, বিএডিসি, বিসিআইসি, বাপেক্স, বিডি পুলিশ, পদ্মা অয়েল, ডিজিডিপি ও খাদ্য অধিদেপ্তরের আমদানিসমূহ জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো-আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংক শুধু অর্থায়ন করবে না; বরং উদ্যোক্তার ব্যবসার সম্প্রসারণের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। দ্রুত Trade Processing, ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, AML/CFT Compliance এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জনতা ব্যাংকের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
সবশেষে বলতে চাই, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বাণিজ্য-দুটিই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন-এই দুই জায়গায় ব্যাংকের সেবার মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনতা ব্যাংক PLC রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হিসেবে তার ঐতিহ্য, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স আহরণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জনতা ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হবে-প্রবাসীর আস্থা, উদ্যোক্তার আস্থা এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ-এই তিনটিকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স সংগ্রহে বাংলাদেশের সকল ব্যাংকসমূহের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংক পিএলসি, কে ‘রেমিট্যান্স এ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান করা হয়। এছাড়া জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালের জন্য Top Ten Remittance Award-ও পেয়েছে, যা রেমিট্যান্স সংগ্রহে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

লেখক পরিচিতি :
মো. মজিবর রহমান
ব্যবস্হাপনা পরিচালক
জনতা ব্যাংক পিএলসি


নির্বাচিত

ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতির হার আবারও বেড়েছে। ইউরোপের ২১টি দেশের এই জোটে আগস্ট মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের প্রাথমিক তথ্যে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদদের দেওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ মাস ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে অঞ্চলটির সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল জ্বালানি খাতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। আগস্টে জ্বালানির দাম বার্ষিকভিত্তিতে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালের শুরুর দিকের সংকটের পর এটিই জ্বালানির দামে সবচেয়ে বড় লাফ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগস্টের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, যা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে, যেখানে সরকারি বন্ডের ইল্ড বা মুনাফার হার বেড়েছে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির পণ্যের দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি বা ‘কোর ইনফ্লেশন’-এ কিছুটা স্বস্তির দেখা মিলেছে। ইউরোজোনে আগস্টে কোর ইনফ্লেশন জুলাইয়ের ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ সামাল দিতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) আগামী সপ্তাহে আবারও নীতিগত সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন এবার মূল সুদহার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে, যা হবে চলতি বছরে ইসিবির দ্বিতীয় দফা সুদহার বৃদ্ধি। এছাড়া মুডি’স অ্যানালিটিকসের অর্থনীতিবিদ কামিল কোভার জানান, জ্বালানি মূল্যের এই চাপ অব্যাহত থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি আগামী ডিসেম্বরেও নীতিগত সুদহার পুনর্বিবেচনা করে তা আরও বাড়াতে পারে।


নির্বাচিত

তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়াতে এডিবির অর্থায়ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিদ্যুৎ সুবিধার আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (সাড়ে ১৭ কোটি ডলার) ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হবে।

এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ছয়টি নতুন ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা আরও ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বৃদ্ধি করবে। এছাড়া বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে বিশেষ প্রযুক্তির পরিবাহক ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার পুরোনো বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন এবং একটি আঞ্চলিক মেরামত কেন্দ্রের আধুনিকায়ন করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসরত প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের অর্ধেকের বেশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তির হার ৯৯ শতাংশ হলেও পার্বত্য অঞ্চলে জাতীয় গ্রিডের সুবিধা অত্যন্ত সীমিত; যেখানে খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিড বিদ্যুতের হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির পাশাপাশি জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া প্রকল্পটি বাংলাদেশকে আরও দুর্যোগ সহনশীল ও কম কার্বন নিঃসরণকারী অবকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


নির্বাচিত

অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ইতিবাচক ধারায় রয়েছে দেশের প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত। গত দুই মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে মোট ৫৮৩ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। অর্থ পাচার রোধে কড়াকড়ি ও হুন্ডি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক গতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৩ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে এবং নিট রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার পর বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ও ডলার বিক্রির চাপে একপর্যায়ে তা কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল, যা সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয়ে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ৪৪৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ শতাংশেরও বেশি। তবে গত বছরের আগস্টে মার্কিন শুল্কহার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে রপ্তানি কম হওয়ায় এবার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে; যদিও চলতি বছরের জুলাই মাসের ৪৭৩ কোটি ডলারের চেয়ে আগস্টে রপ্তানি আয় ৩০ কোটি ডলার কমেছে।

দেশের সার্বিক রপ্তানিতে বরাবরের মতোই মূল ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। আগস্ট মাসে এ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং মোট আয় এসেছে ৩৬১ কোটি ডলার, যা গত জুলাইয়ে ছিল ৩৮৯ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারে।


নির্বাচিত

৯০০ কোটি ডলারের বিশাল ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা হোন্ডার

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার (১.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন) খরচ কমানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সরবরাহকারীদের যন্ত্রাংশের দাম আমূল কমানোর কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপে চীনা ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলা করতেই জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিওয়াইডি-র মতো চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত সফটওয়্যার ও ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং তুলনামূলক অনেক কম দামের কারণে দ্রুত বাজার দখল করে নিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম মোটরসাইকেল উৎপাদক হোন্ডা বর্তমানে তাদের ধুঁকতে থাকা কার বা গাড়ি নির্মাণ ব্যবসা পুনর্গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইভি সংশ্লিষ্ট খাতের ক্ষতির পরিমাণ শেষ পর্যন্ত ১২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অটোমোবাইল ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে গ্যাসোলিন-ইলেক্ট্রিক হাইব্রিড গাড়ির ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করছে।

চলতি বছরের বসন্তে জাপানের উৎসুনিমিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক গোপনীয় বৈঠকে হোন্ডা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রধান সরবরাহকারীদের তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে। এই খাতগুলো হলো—প্রেসড ও ফোর্জড যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সফটওয়্যার-চালিত যানবাহনের (এসডিভি) যন্ত্রাংশ। বৈঠকে হোন্ডার পক্ষ থেকে সরবরাহকারীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনে এই বিশাল সাশ্রয় অপরিহার্য। এছাড়া খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চীনা উৎস থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ব্যয় হ্রাসের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় থাকলেও হোন্ডার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে "বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই।" এদিকে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে নিশান মোটরসের সঙ্গে যৌথভাবে সফটওয়্যার-চালিত যানবাহনের কন্ট্রোল ইউনিট তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে হোন্ডা, যা ২০২৯ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর জাপানি শেয়ারবাজারে হোন্ডার শেয়ারের দর ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। চীনা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মার্কিন আমদানি শুল্কের হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান শ্রম ব্যয়ও প্রতিষ্ঠানটিকে এমন কঠোর ব্যয় সংকোচনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।


নির্বাচিত

উচ্চমূল্যে এলএনজি ও মরক্কো থেকে সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আরও বর্ধিত দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ২৮ মার্কিন ডলারের বেশি দর অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।

গত ২৪ আগস্টের সভায় প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬৩ ডলার এবং তার এক সপ্তাহ আগে ১৭ আগস্ট ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অথচ বিগত বছরের ডিসেম্বরেও এই জ্বালানির দাম ছিল সাড়ে ১০ ডলারের নিচে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজির আমদানিমূল্য বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

জালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য মোট তিন কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বরের জন্য আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলারে ৪৯তম কার্গো, ১-২ অক্টোবরের জন্য বিপি সিঙ্গাপুর থেকে ২৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলারে ৫০তম কার্গো এবং ৫-৬ অক্টোবরের জন্য ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড, সিঙ্গাপুর থেকে ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলারে ৫১তম কার্গো কেনার সুপারিশ অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া জিটুজি ভিত্তিতে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের জন্য অতিরিক্ত আরও এক কার্গো এলএনজি প্রতি ইউনিট ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার দরে সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

একই বৈঠকে দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে এবং কৃষকদের চাহিদা পূরণে মরক্কো থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে, যার সম্মিলিত ক্রয়ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, মরক্কো থেকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ৮৯৪ মার্কিন ডলার হিসেবে এতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা কৃষি ভর্তুকি খাত থেকে মেটানো হবে। গত ২৫ জুন সম্পাদিত নতুন চুক্তির দর অনুযায়ী এই মূল্য নির্ধারিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশটি থেকে মোট ৫ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এছাড়া একই দেশ থেকে চুক্তির সপ্তম লটের আওতায় আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৬৬৯ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার দরে এই সার ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা। কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষায় নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


নির্বাচিত

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, পাম অয়েলের দাম বর্তমান পর্যায়েই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় এবং দেশীয় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। তার আগে এই তেলের মূল্য ছিল ১৯৫ টাকা। ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ভোক্তাদের আরও বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে। সয়াবিন তেলের কাঁচামালের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার প্রেক্ষিতে এই মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাম অয়েলের দাম না বাড়ানোয় বাজারে বিকল্প ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।


নির্বাচিত

১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম কমল ১৩ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটার প্রতি ৭৩.৬৭ টাকা থেকে কমিয়ে ৭৩.০৯ টাকা করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে।

গত কয়েক মাসের বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এপ্রিলে দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৫৯৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এরপর জুনে দাম কিছুটা কমিয়ে ১৮৮৫ টাকা করা হলেও আগস্টে তা পুনরায় বৃদ্ধি পায়। চলতি মাসে সামান্য দাম কমলেও বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে এলপিজি খাতে নজিরবিহীন অরাজকতা দেখা দেয়, যেখানে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক।

এলপিজি খাতের সংকট মেটাতে সরকার আমদানিকারকদের জন্য আমদানিসীমা বাড়ানো, কর হ্রাস এবং জাহাজ ভাড়া টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার পর্যন্ত করার মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে। এমনকি ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও খুচরা বাজারে দরের ওপর কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। মূলত সৌদি আরামকোর দরের ওপর ভিত্তি করে এই দাম নির্ধারণ করা হয় এবং অন্যান্য খরচ পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ভার আরও ঘনীভূত হয়ে ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে অনাদায়ী বা শ্রেণিকৃত ঋণের অংক বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এক বার্তার মাধ্যমে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে অনাদায়ী ঋণের এই পরিমাণ দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণের স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সেই হিসেবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই অনাদায়ী ঋণ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া এক বছরের ব্যবধান বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে; ২০২৫ সালের জুন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৬ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতে ঋণের মান নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে সংকট বিরাজ করছে, তা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ অনাদায়ী থেকে যাওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কারমূলক নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না।


নির্বাচিত

শিপ রিসাইক্লিং ও জাহাজ নির্মাণে জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উদীয়মান জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে জাপানের বিখ্যাত শিপিং প্রতিষ্ঠান মিতসুই ও.এস.কে. লাইনস (এমওএল)। পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ ভাঙা, উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি টেকসই অংশীদারিত্ব তৈরি করতে চায় এই জাপানি কোম্পানি।

বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এমওএলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ দু’টি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।"

বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, পারদর্শী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সুবিধা দেশে বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে সচল ৩১টি পরিবেশবান্ধব ইয়ার্ডের সংখ্যা অচিরেই তিন অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, "সরকারের লক্ষ্য শুধু পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে সীমাবদ্ধ থাকা নয়; বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেরও একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের জাহাজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।"

জাপান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার মাধ্যমে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও জাহাজ নির্মাণ খাতকে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী শিল্পভিত্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।"

এমওএল প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি কারিগরি সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্বের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখায়। এ সময় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, এমওএলের মহাব্যবস্থাপক কেনতারো উয়েদা, গ্লোবাল শিপ রিসাইক্লিং প্রকল্পের ব্যবস্থাপক তাকাহা উয়েমাতসু এবং এমওএলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সেনজি তোকুমোতোসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তাইওয়ানের চিপ শিল্পে ৪০ শতাংশ আয়ের সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের আয় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। খাতটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। তাইওয়ান বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক চিপ উৎপাদনের প্রধান প্রাণকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত, যা স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি পর্যন্ত প্রায় সব আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

তাইপেতে আয়োজিত সেমিকন প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উ চি-ই বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন একটি নতুন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে নতুন উদ্ভাবনের গতি বহুগুণ বেড়ে গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “চলতি বছর তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আরও ভালো করছে। আমাদের মোট আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এটি ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।” তবে বিপুল এই আয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি তিনি জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনবল এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত চিপ তাইওয়ানে তৈরি হওয়ায় এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের বিরুদ্ধে মার্কিন চিপ শিল্প ‘চুরি’র অভিযোগ এনে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রে আরও চিপ কারখানা স্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই আধিপত্য টিএসএমসির মতো বিশ্বসেরা চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বৈশ্বিক চিপ সংগঠন সেমি-র প্রধান অজিত মানোচাও এই দশককে ‘এআই-এর দশক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অগ্রযাত্রা সব সময় মসৃণ হবে না এবং সামনে অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলো এআই চ্যাটবট ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। এই বিশাল বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কতটা লাভজনক হবে এবং শেয়ারবাজারের আকাশচুম্বী দর বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনও বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close