বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে ‘বিস্মিত’ চীনা রাষ্ট্রদূত

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনে দেখা করতে জান চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই প্রবৃদ্ধি বিস্মিত করেছে চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে।

মঙ্গলবার চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনে দেখা করতে জান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দিত হয়েছি যে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই হার বিস্ময়কর। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মতো এরকম অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যে প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। এটা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।’

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে চীন বাংলাদেশে আরও সহযোগিতা বাড়াবে। বিনিয়োগও বাড়াবে। বিশেষ করে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।’

আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে চীন বড় একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে বলেও জানান ইয়াও ওয়েন। প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের কোথায় বিনিয়োগ করা যায় সেটা খতিয়ে দেখে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াবে। এছাড়া আইসিটি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে চীন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সম্ভাব্য সবকিছু করবে বলেও জানান ইয়াও ওয়েন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন চীনা রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।’ চীনের কাছ থেকে প্রযুক্তিখাতসহ অনেক বিষয়ে শেখার আছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।


দরপতনেও সূচক বৃদ্ধি, লেনদেন কমছে পুঁজিবাজারে

মঙ্গলবার ডিএসইতে হাতবদল হয়েছে ৫৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। ছবি: ডিএসই ওয়েবসাইট
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দুই দিন পতনের পর মঙ্গলবার সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ হলেও দরপতনের পাল্লাই ভারী ছিল পুঁজিবাজারে। কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তারল্যপ্রবাহ যথাযথ হচ্ছে না। এর ফলে বাজার একই জায়গায় আবর্তিত হচ্ছে।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৫ গুণের কাছাকাছি। মোট ৩৩৮টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির। বিপরীতে ১৪১টির দর কমেছে।

অন্যদিকে ফ্লোর প্রাইসেই লেনদেন হয়েছে অর্ধেক কোম্পানির। আগের দিনের ১৬৫টির লেনদেন হয়েছিল অপরিবর্তিত দরে। সেই তালিকায় ঢুকেছে আরও ৩টি, অর্থাৎ আগের দরে লেনদেন হয়েছে ১৬৮টির।

দরপতন বেশি হলেও সেগুলোর তুলনায় দরবৃদ্ধির পাওয়া কোম্পানি সূচকে বেশি প্রভাব ফেলেছে। যার কারণে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষে সূচক বেড়েছে ৪ পয়েন্ট। সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে।

ডিসেম্বরে তলানিতে নামা লেনদেন গত মাসে বাড়তে বাড়তে ১৮ জানুয়ারি হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই হয়। এরপর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবরে কমে গেলেও ৩০ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ কর্মদিবস লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টি স্বস্তি জাগায় বিনিয়োগকারীদের মনে।

রোববার লেনদেন হয় ৭৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ১৮ জানুয়ারি, ৯৩৪ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এরপর দুই দিনই কমে ফের আগের অবস্থানে চলে গেছে লেনদেন। আগের দিনের চেয়ে ১৭১ কোটি ৯২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা কমে সোমবার লেনদেন হয় ৫৮০ কোটি ৮১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। মঙ্গলবার লেনদেন কমল আরও ২৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। দিনভর হাতবদল হয়েছে ৫৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাজার ওই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এর কারণ, বাজারে ক্যাশ ফ্লো ঠিকঠাক হচ্ছে না। এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে যে আর্থিক প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে তার কারণে ক্যাশ ফ্লো ওভার কাম করতে পারছে না।’

মোস্তফা মাহবুব আরও বলেন, ‘দরপতন ও ফ্লোর প্রাইসে লেনদেনের সংখ্যাই বেশি ছিল। তবে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর কারণে সূচকে পয়েন্ট যোগ হয়েছে। গত কয়েক দিন যে লেনদেন বেড়েছে, তা ফান্ড ইনজেকশন নাকি সেক্টরাল মুভমেন্টের কারণে বেড়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য। তখন মন্তব্য করার মতো কিছু পাওয়া যাবে হয়ত।’

দেশের অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ১৪০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৬০টির ও অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ৫৫টির। দরপতন হলেও ৫ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক সিএএসপিআই অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে।

এক্সচেঞ্জটিতেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর হাতবদল হয়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট, যা আগের দিনের চেয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার টাকা কম। সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭ কোটি ৩০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।


মেলায় আদর্শ’র স্টল বরাদ্দ চেয়ে রিটের আদেশ বুধবার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনীকে স্টল বরাদ্দ না দেয়ায় বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন রাখা হয়েছে।

আপত্তি থাকা তিনটি বই ‘আদালতে জমা দিতে হবে’ এবং ‘বইগুলো বিক্রি করা হবে না’ মর্মে লিখিতভাবে আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খশরুজ্জামান ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনিক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মো. সেলিম আযাদ।

পরে এএজি সেলিম আযাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, তিনটি বই নিয়ে আপত্তি উঠেছে। বুধবার সেগুলো আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বই মেলায় স্টল বরাদ্দ না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন আদর্শ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান।

রিট আবেদনে বলা হয়, “শুধু একটি বইয়ের জন্য মেলায় পুরো প্রকাশনীর অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ সে বইটি ‘ব্যানড লিস্টেড’ বা ‘কালো তালিকাভুক্ত’ নয়। বাংলা একাডেমি আইন-২০১৩ অনুযায়ী তাদের এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো বৈধতা নেই।”

‘একইসঙ্গে প্রতিবছর একাডেমি থেকে যে নীতিমালা করা হয়, তারও ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলা একাডেমি। তাদের এ সিদ্ধান্ত সংবিধানের বাক-স্বাধীনতার বিরোধী,’ বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়:

পোশাক চুরি ঠেকাতে বিজিএমইএর পাঁচ প্রস্তাব

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি ঠেকাতে চালক ও হেলপারদের ডেটাবেজ তৈরিসহ পাঁচটি প্রস্তাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব দেন। এসময় বিজিএমইএর অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফারুক হাসান বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহনকালে পোশাক শিল্পের শত শত কোটি টাকার রপ্তানিযোগ্য পণ্য কাভার্ডভ্যান থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা দফায় দফায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন আইন প্রয়াগকারী সংস্থার প্রধান এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি, যা জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।’

ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিশ্বব্যাপী নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের রোল মডেলের তকমা পেয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। বিগত ১০ বছরে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শ্রমিকের কল্যাণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প নির্মাণে যে পরিশ্রম আমরা করেছি, বিনিয়োগ করেছি এবং সফলতা পেয়েছি, তা সমগ্র বিশ্বের প্রশংসা অর্জন করেছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক ক্রেতারা পোশাক সোর্সিং করার জন্য বাংলাদেশেকে তাদের পছন্দের শীর্ষে রেখেছেন। পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ডেনিমের ক্ষেত্রে চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন প্রথম অবস্থানে। সরকারের নীতিগত সহযোগিতায় ইউরোপের বাজারে আমরা অতি শিগগিরই এক নম্বর অবস্থান নিতে সমর্থ হবো, সে বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই হাজারেরও বেশি কাভার্ড ভ্যান থেকে শত শত কোটি টাকার রপ্তানিযোগ্য তৈরি পোশাক পণ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালেই ২০-২২টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

‘গত জানুয়ারি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের এক ক্রেতা ভিডিওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারককে জানায় যে প্রায় বেশিরভাগ কার্টনের ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ পোশাক তারা বুঝে পাননি। এমনকি কিছু কার্টন খালি ছিল। ওই শিপমেন্টে ২৬ হাজারের বেশি পোশাক ছিল। প্রায় ৮ হাজারের মতো পোশাক চুরি হয়। এ ঘটনা জানানো হলে র‌্যাব ওই চোর চক্রের হোতা শাহেদসহ চার জনকে গ্রেপ্তার এবং যে কাভার্ড ভ্যানে করে তারা ব্রাজিলের পণ্য চুরি করেছিল, সেটি জব্দ করে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এসব অপরাধীদের কারণে আমাদের পোশাক শিল্প বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চক্রগুলো অত্যন্ত সংঘবদ্ধ। তারা পরিকল্পিতভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানির মালামাল কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভারের যোগসাজশে চুরি করে।’

‘পরিবহন কোম্পানিগুলো যখন রপ্তানি মালামাল পরিবহন করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে কাভার্ড ভ্যান সরবরাহ করে, তখন নিজেদের মালিকানায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে লাইন থেকে ভাড়া করেও কিছু কাভার্ড ভ্যান সরবরাহ করে। অধিকাংশ চুরির ঘটনায় দেখা যায় লাইন থেকে ভাড়া করা গাড়ীর ড্রাইভারের যোগসাজশে এ ধরনের চুরির কার্যক্রম সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে কাভার্ড ভ্যান পথিমধ্যে ওয়্যারহাউজ, ইটের ভাটা, গাড়ির গ্যারেজে ঢুকে সুকৌশলে প্রত্যেক কার্টন থেকে অধিকাংশ মালামাল সরিয়ে রাখে। তারপর সেখানে সমপরিমাণ ঝুট বা মাটি দিয়ে কার্টনের ওজন ঠিক রেখে চট্টগ্রাম কনটেইনার ডিপোতে পাঠায়। ১-২ মাসপর ক্রেতার হাতে কার্টন পৌঁছানোর পর আমরা জানতে পারি পোশাকের পরিবর্তে ঝুট বা মাটি রয়েছে। এতে করে আমাদের ক্রেতা-বিক্রেতার আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, দেশ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। আর আমরা মূল্যবান ক্রেতা হারাচ্ছি, যা কাম্য নয়।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘মহাসড়কে পোশাক শিল্পের পণ্য চুরি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিজিএমইএ পোশাক শিল্পের চুরি রোধ করার জন্য বছরের পর বছর ধরে মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব, ডিবিসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু চুরির মামলা হওয়াতে আইনের দুর্বলতার কারণে তারা ১৫ দিন বা এক মাসের মধ্যে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে এবং আবার একই কাজ করতে থাকে।’

বিজিএমইএর প্রস্তাবনা

১. ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চলমান কাজ আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা।
২. এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. কতিপয় নাম সর্বস্ব কোম্পানি এসব চুরির মালামাল ক্রয় করে স্টকলট হিসেবে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। স্টকলট রপ্তানির ক্ষেত্রে মালের উৎস নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ থেকে সনদপত্র গ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানির অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।
৪. এদেরকে ধরতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও কাজে লাগাতে হবে।
৫. কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতি, কাভার্ড ভ্যান চালক এবং হেলপারদের ডাটাবেইজ প্রস্তত করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।


এক ব্যবসায়ী নেতার ঋণখেলাপি হয়ে ওঠার গল্প

সায়ফুল ইসলাম।
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৪৭
আবদুর রহিম হারমাছি

শিল্পোদ্যোক্তা সায়ফুল ইসলাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৩ সালজুড়ে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ এই ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকায়ও উঠে এসেছে সায়ফুল ইসলামের নাম।

গত ২৪ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তাতে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের মালিক সায়ফুল ইসলামের নাম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তার এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় কয়েকটি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা খেলাপি হয়ে ডুবতে বসেছে অনেক হাঁকঢাক দিয়ে পুঁজিবাজারে আসা প্রতিষ্ঠানটি। বিপুল অঙ্কের এই টাকা আটকে থাকায় ব্যাংকগুলোও পড়েছে বিপাকে।

কে এই সায়ফুল

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড একটি বাংলাদেশি জাহাজ ও নৌযান নির্মাণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন মেরিন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান দেশের অভ্যন্তরীণ গ্রাহক ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে জাহাজ রপ্তানি করে আসছিল। তবে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর একটি জাহাজও রপ্তানি করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সায়ফুল ইসলাম। দ্বিতীয়বারের মতো এমসিসিআইয়ের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সায়ফুল সম্পর্কে বলা হয়, তিনি একজন নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে স্বীকৃত। তিনি পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া তিনি এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। ২০১৫-২০১৭, ২০১৭-২০১৯, ২০১৯-২০২০ ও ২০২১ সময়কালে লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এবং ২০০৮-২০১২ সময়কালে বাংলাদেশ জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিজিসিসিআই) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সায়ফুল ইসলাম ২০২১ সালে অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি) এবং এমসিসিআইয়ের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড শিপ বিল্ডিং লিমিটেড, বঙ্গ ড্রেজারস লিমিটেড, সুবর্ণ ভূমি রিসোর্টস, মুন্সীগঞ্জ এবং সুবর্ণ ভূমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের পদে অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি ফুটস্টেপস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাইরুহিল রিসোর্টের পরিচালক এবং সাংঘভি শু অ্যাকসেসরিজ (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

দেনায় দেউলিয়া ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড

একসময় প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার শ্রমিকের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকত ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। চট্টগ্রামের পটিয়ার কোলাগাঁও এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানটিতে এখন সুনসান নিস্তব্ধতা। জাহাজ নির্মাণের কাজ বন্ধই বলা যায়। করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এই হাল কারখানাটির। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সেই জায়গায় এখন ঝুলছে ‘পটিয়া মেরিন শিপ বিল্ডার্স’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডটি গড়ে উঠেছিল ৪০ একর জায়গাজুড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং উচ্চসুদে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ একে দ্রুত পরিণত করে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে। শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির এখন এমনই করুণ অবস্থা যে দুই বছর ধরে তারা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না।

২০০০ সালে দেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে বিপুল সম্ভাবনা জাগিয়ে আত্মপ্রকাশ করা ওয়েস্টার্ন মেরিন বিভিন্ন ধরনের ১৫০টি জাহাজ তৈরি করেছে গত ২০ বছরে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার, বন্দরের ইউটিলিটি জাহাজ, টাগবোট, কনটেইনার জাহাজ, ট্যাংকার, বাল্ক ক্যারিয়ার এবং যাত্রীবাহী জাহাজ ইত্যাদি।

২০০৮ সাল থেকে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, কেনিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারতসহ ১২ দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করে। কোম্পানির ২ হাজার কোটি টাকার টার্নওভারের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রাই ছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে টানা ১৯ বছর ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বর্তমানে কোম্পানিটির সাধারণ একজন পরিচালক হিসেবে আছেন।

কোম্পানির ভেতরকার বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের জুনে সাখাওয়াত হোসেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পর পরই ক্যাপ্টেন (অব.) সোহেল হাসান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেন। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পর শুরু হয় করোনার প্রাদুর্ভাব। এরপর ওয়েস্টার্ন মেরিন আর একটি জাহাজও রপ্তানি করতে পারেনি।

সাখাওয়াত হোসেনের দাবি, তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের আগ পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন মেরিন জাহাজ রপ্তানিকারক হিসেবে ছিল সামনের সারিতে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানি গত আড়াই বছরে একটি জাহাজও রপ্তানি করতে পারেনি। এমনকি একটি বিদেশি কোম্পানিকে সময়মতো জাহাজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা একটি মামলাও করেছে। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিয়েছে।’

ওয়েস্টার্ন মেরিনকে ঋণ হিসেবে দেয়া বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আছে দুশ্চিন্তায়। বছরের পর বছর ধরে থমকে যাওয়া জাহাজ নির্মাণের কাজ এই দুশ্চিন্তাকে পরিণত করেছে রীতিমতো আতঙ্কে। ফলে ঋণের টাকা আদৌ আদায় করা যাবে কি না, সেটাই এখন অনিশ্চিত।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন মেরিনের কাছে ২ হাজার কোটি টাকা পাবে ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এসব ঋণের অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদে পুনর্গঠন ও রি-শিডিউলিং করা হয়েছে। যদিও এই ঋণের একটি অংশ আবার মন্দ ঋণ হিসেবে ক্লাসিফায়েড করা হয়েছে।

সে হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ওয়েস্টার্ন মেরিন শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়েছে ৭২১ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়া থেকে নিয়েছে ৪৪৮ কোটি টাকা। এই কোম্পানিটির কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক পাবে ১১৭ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১১১ কোটি, এনসিসি ব্যাংক ১০০ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংক ৭২ কোটি, ঢাকা ব্যাংক ৬৩ কোটি এবং ওয়ান ব্যাংক পাবে ৫৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে পূবালী ব্যাংক পাবে ৫ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ৫ কোটি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে কোম্পানিটির কাছে।

এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাইডাস ফিন্যান্স ওয়েস্টার্ন মেরিন থেকে পাবে ৪৫ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ৩৬ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ৩২ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ২২ কোটি টাকা, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট ১৭ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স ১৩ কোটি টাকা, উত্তরা ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট ১১ কোটি টাকা এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্টের পাওনা ২ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শুরুতে ওয়েস্টার্ন মেরিনের ভালো ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখেই অন্যান্য ব্যাংকের মতো আমরাও প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিয়েছিলেন। করোনা মহামারিরসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির এখন খারাপ অবস্থা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আমরা ঋণটা আদায়ের ব্যবস্থা করছি।’

কথা বলেননি চেয়ারম্যান সায়ফুল হক

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের বর্তমান অবস্থা জানতে গত কয়েক দিনে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সায়ফুল ইসলামের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ধরেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেয়া হয় এবং খুদেবার্তা পাঠানো হয় এবং তিনি তা দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। পরে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল হাসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেবের স্ত্রী অসুস্থ। স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে তিনি খুব ব্যস্ত আছেন। তাই কথা বলতে পারছেন না।’

সর্বশেষ ২০১৯-২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সায়ফুল ইসলাম ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ার ১১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে এই শেয়ারের দর ছিল ১৫ টাকা। দুই বছর আগে ছিল ১৭ টাকা। ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে।

২০১৮ সালে ওয়েস্টার্ন মেরিন ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল; লভ্যাংশ দিয়েছিল প্রতি ১০০ শেয়ারে নতুন ২০টি শেয়ার। ২০১৯ অর্থবছরে মুনাফা হয় ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল প্রতি ১০০ শেয়ারে নতুন ১৫টি শেয়ার। ২০২০ সালে মুনাফা হয় ১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেয়া হয় প্রতি শেয়ারে ৫ পয়সা, আর ১০০ নতুন শেয়ারে ২ দশমিক ৫০টি বোনাস শেয়ার।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২১ ও ২০২২ সালের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের নিজের ওয়েবসাইট এবং ডিএসইর ওয়েবসাইটেও এই দুই বছরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুঁজিবাজারে এ কোম্পানির ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের বর্তমান বাজার মূলধন ২৫৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বর্তমান এমডির বক্তব্য

প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জানতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল হাসানকে ফোন দেয়া হলে তিনি ইংরেজিতে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান। তাতে তিনি বলেন, ‘আমরা অবকাঠামোতে এবং জাহাজ নির্মাণ কারখানায় ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। এ সময় আমরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এই ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এই টাকায় আমরা একটি বিশ্বমানের জাহাজ নির্মাণ কারখানা তৈরি করি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে ৩০ একর জায়গার ওপর আমাদের এই কারখানাটি।’

সোহেল হাসান বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আমরা জাহাজ তৈরির আদেশ পেতে থাকি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে। এ সময় আমরা ভিয়েতনাম ও চায়নার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এসব আদেশ পাই। আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৩৩টি জাহাজ রপ্তানি করি। এসব রপ্তানি থেকে ১০ কোটি ডলার আয় করি। ১০ বছরে আমরা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছিলাম। বাংলাদেশের জন্য নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছিলাম আমরা। রপ্তানিতে নতুন বাজার সৃষ্টি করেছি। রপ্তানিযোগ্য নতুন পণ্য বাজারে এনেছি। আমরা সেই সময় ১০০টি জাহাজ তৈরি করি দেশের জন্য। এর মধ্যে সরকারি এবং বেসরকারি জাহাজ আছে। এর মাধ্যমে আমরা দেশের কষ্টার্জিত ডলার বাঁচিয়ে দিই। কারণ আগে এই জাহাজগুলো চায়না বা ইউরোপ থেকে আমদানি করা হতো।’

ওয়েস্টার্ন মেরিনের খারাপ সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট শুরু হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় ২০১১-১২ সালের ইউরোজোনের সংকট। আমাদের এই খাত আক্রান্ত হয়। এরপর আমাদের একের পর এক ক্রয় আদেশ বাতিল হতে থাকে। যখন আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিলাম, তখন শুরু হয় করোনাভাইরাস মহামারি। তারপর শুরু হয়ে যায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর মাধ্যমে আমাদের আরও অনেক ক্রয় আদেশ বাতিল হয়ে যায়। আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায়।’

এমডি বলেন, ‘আমরা ব্যাংকগুলো থেকে যে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম তার মধ্যে ৮০০ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সমস্যায় পড়ে বাকি টাকা দিতে পারিনি। বাকি টাকা সুদে, আসলে ও জরিমানা মিলে এখন ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হয়েছে।’

সোহেল হাসান বলেন, ‘নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতির ফলে এই খাতে বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশের বড় বড় মেগা প্রকল্পে জাহাজ লাগছে। বিদেশ থেকে নতুন আদেশ আশা শুরু করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার দিয়ে রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণশিল্পগুলোর বকেয়া সুদ মাফ করে দিতে বলেছে। এই নীতির আওতায় আমরা ব্যাংকগুলোর কাছে, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছি। আমরা আবেদনে বলেছি, আমদের সুদগুলো মাফ করে দিতে। আমরা ১০ বছরের মধ্যে আমাদের আসল টাকা দিয়ে দিতে চেয়েছি।’

তিনি দাবি করেন, ‘ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল আছে। বর্তমানে আমরা ৩১টি জাহাজ বানাচ্ছি। এর মধ্যে দেশি এবং বিদেশি জাহাজ আছে।’


আত্মীয়ের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করেছেন আদানি

আদানি গ্রুপের মালিক গৌতম আদানি। ছবি ফেসবুক থেকে নেয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক, দৈনিক বাংলা

শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের মুখে একে একে প্রকাশ্যে আসছে আদানিকে ঘিরে থাকা বিতর্ক। তার পরিবারের সদস্যদের নাম করে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এবার আদানির সঙ্গে নাম জড়াল ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া)। আদানির এক আত্মীয় ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ফলে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে আদানিরা ভেতর থেকে প্রভাব খাটিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর ইকোনমিক টাইমসের।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগসংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে শেয়ারবাজারে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তারপর থেকেই ধস নেমেছে আদানিদের শেয়ারের দামে। গত কয়েক দিনে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিপুল সম্পত্তিহানি হয়েছে। এক ধাক্কায় বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় থেকে ২২ নম্বরে নেমে গেছেন তিনি। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে অভিযোগ, আদানিরা কারসাজি করে ধনী হয়েছেন। তারা কৃত্রিমভাবে শেয়ারবাজারে দর বাড়িয়েছেন। এভাবে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

এর পরেই প্রকাশ্যে আসে সেবির সঙ্গে আদানির সম্পর্ক। সেবির সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর যোগাযোগের নেপথ্যে সিরিল শ্রফ। তিনি একটি করপোরেট আইন সংস্থা চালান। এ ছাড়া শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির কমিটির সক্রিয় সদস্য তিনি। সিরিল সম্পর্কে গৌতম আদানির ছেলে কর্ন আদানির শ্বশুর। সিরিলের মেয়ে পরিধির সঙ্গে কর্নের বিয়ে হয় ২০১৩ সালে। সেই থেকেই আদানিদের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন সিরিল। তিনি আদানি গোষ্ঠীকে বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেবির সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকায় ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শেয়ারের দাম সম্পর্কে সংস্থার গোপন তথ্য তিনি ফাঁস করে দিতেন আদানি এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের কাছে।

শেয়ারবাজারে লাগাতার বিপর্যয়ের মুখে আচমকা ২০ হাজার কোটি টাকার এফপিও বাতিল করে দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই এফপিও এবং আদানিদের সামগ্রিক স্টকের ওপর নজর রেখেছে সেবি। সংস্থার তরফে সে কথা জানানো হয়েছে। আদানিদের ২০ হাজার কোটি টাকার এফপিও নিয়ে পরামর্শ দিয়েছিল যারা, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সিরিলের সংস্থা। আদানিদের ব্যবসায় সিরিলের ভূমিকা তাই প্রশ্নের মুখে।

শুধু সিরিল নন, আদানি পরিবারের অন্য সদস্যদের নামও জড়িয়েছে দুর্নীতিতে। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে অনেকের নাম রয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে হাজার কোটি টাকার হিরা দুর্নীতির প্রসঙ্গও। হিন্ডেনবার্গের ১০৬ পাতার রিপোর্টে গৌতম আদানির দাদা বিনোদ আদানির নাম রয়েছে। তিনি আদানি গোষ্ঠীর একটি ভুয়া সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে পানামা দুর্নীতি এবং ২০২১ সালে প্যান্ডোরা পেপার দুর্নীতিতেও নাম জড়িয়েছিল তার। গৌতমের ভাই রাজেশ আদানির বিরুদ্ধে বেআইনি হীরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভারত সরকারের ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বা ডিআরআই তাকে এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করেছিল। ১৯৯৯ এবং ২০১০ সালে দুবার রাজেশকে গ্রেপ্তারও করা হয়। হিন্ডেনবার্গের নজরে রয়েছেন গৌতমের শ্যালক সমীর ভোরাও। অভিযোগ রয়েছে, হীরা দুর্নীতির অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। আরও অভিযোগ, দুর্নীতি ঢাকার জন্য একাধিক মিথ্যার আশ্রয়ও নিয়েছিলেন তিনি। রিপোর্টে হীরা দুর্নীতির আর এক কাণ্ডারি হিসেবে যতীন মেটার নাম করা হয়েছে। যতীনের ছেলে আদানির ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। এ ছাড়া হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে গৌতম আদানির স্ত্রী প্রীতি আদানির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পেশায় দাঁতের চিকিৎসক। আদানি ফাউন্ডেশনের চেয়ারওম্যান প্রীতি। অভিযোগ, তিনিও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

তবে এত কিছু ঘটনা মধ্যে একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো। আর তা হলো আদানিদের শেয়ারে মিউচুয়াল ফান্ডের লগ্নি। দেখা যাচ্ছে, যে গোষ্ঠীর শেয়ারের দাম মাত্র দুই বছরে ৩০ গুণেরও বেশি বেড়েছে, ফান্ড ম্যানেজাররা সেই সংস্থাকে সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।

আদানি এন্টারপ্রাইজ় এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জ়োন ছাড়া আদানিদের বাকি সব শেয়ারেই মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সামান্য। এমনকি এই দুই সংস্থাতেও মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ খুব কম।


এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ: এফবিসিসিআই

এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:১১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে ২০২৬ সালে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। এলডিসি থেকে উত্তরণ- পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তার প্রস্তুতিস্বরূপ এখন থেকেই বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) ত্বরান্বিত করার তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বিকেলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড বডিস, ডেভেলপমেন্ট পার্টনারস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারস বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এই আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সহসভাপতি এম এ মোমেন বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে আমাদের এখন থেকেই কাজ করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে আমরা আগামী মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের আয়োজন করছি।’

এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘স্বল্প আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশে এখন মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার পথে রয়েছে। এখন আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আঞ্চলিক কো-অপারেশন এবং বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ে এই মিটিং থেকে আসা প্রস্তাবনাগুলো এফবিসিসিআই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবে।’

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) সই, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), আঙ্কটাড, ইউএনডিপিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের আরও জোরাল করার তাগিদ দেন।
কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এফটিএ এবং পিটিএ বিষয়ে শিগগিরই এফবিসিসিআইর উদ্যোগে সেমিনারের অয়োজন করা হবে। যতই আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, বিদেশি ব্যবসায়িক সংস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সমন্বয় ঠিক ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সভাপতির বক্তব্যে কমিটির চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মো. শাফকত হায়দার বলেন, ‘বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর পরিচালক হাসিনা নেওয়াজ, ড. নাদিয়া বিনতে আমিন, আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু, সাবেক পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন, মাহবুব আলম, মোহাম্মদ খোকন, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এফবিসিসিআইয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান, কমিটির কো-চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন খান, কে এইচ এম শহীদুল হকসহ অন্যরা।


আইএমএফের ঋণ: ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি কর আদায় করতে হবে

সোমবার রাজধানীর গুলশানে পিআরআই কার্যালয়ে আইএমএফের ঋণ নিয়ে কতা বলেন বক্তরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি (৪.৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণের পুরো অর্থ পেতে সরকারকে বাড়তি ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে সংস্থাটি রাজস্ব খাতের যে সব সংস্কারের কথা বলেছে তা বিশ্লেষণ এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।

পিআইরআই বলেছে, রাজস্ব খাতে আইএমএফের সংস্কার বা শর্ত পূরণ করতে আগামী অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে রাজস্ব আয় বা কর বাড়াতে হবে। এরমধ্যে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে হবে। আইএমএমের ঋণ কর্মসূচির সবশেষ বছর অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

‘এই বাড়তি রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন’ উল্লেখ করে সংস্থটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আইএমএফ রাজস্ব খাতের যে সব সংস্কারগুলো করতে হলেছে, তা শেষ করতে হবে।’

সোমবার রাজধানীর গুলশানে পিআরআই কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। এ সময় রাজস্ব খাতে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকারের যেসব সংস্কার করতে হবে, সে ব্যাপারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা পরিচালক এম এ রাজ্জাক।

পিআরআই বলছে, আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে রাজস্ব আয় বাড়াতে আইএমএফের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়া গেলেও বাজেটের আগে ধাপে ধাপে তা আসবে। আইএমএফের চাপে নয়; বরং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেই এই সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।

পিআরআই বলছে, এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন, তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে।

মূল প্রবন্ধে এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আইএমএফএর শর্ত মেনে ২০২৩-২০২৪, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাজেটের মূল রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে হবে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে হবে। এরপরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে সমাপ্ত বছরে বর্তমান বছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে হবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আইএমএমের ঋণ কর্মসূচির সর্বশেষ বছর, অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে।

পিআরআই গবেষণা পরিচালক আরও বলেন, ‘রাজস্ব খাতের ক্ষেত্রে আইএমএফের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এটা অসম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।’

এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আইএমএফ বলেছে, আমাদের এই মুহূর্তে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও বাড়াতে হবে। বর্তমানে তাদের হিসেবে এটা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। শর্ত অনুযায়ী জিডিপিতে করের অবদান সাত দশমিক ৮ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক তিন শতাংশ, ২০২৫ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৬ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এটা ম্যানেজ করা খুবই কঠিন। গত ৩-৪ বছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে ১৩ ভাগের মধ্যে থাকছে। এজন্য রাজস্ব আদায় ১৮ শতাংশ বাড়াতে হবে। এ বছরের বাজেটে সরকারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। এটা কম হওয়ার ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমরা পর‌্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারছি না। আইএমএফ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বন্ধের কথা বলেছেন। এ বছর প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল সেটা আইএমএফ কমিয়ে দিয়েছে।’

এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার ও মানসিকতার বদল করা না গেলে আইএমএফের শর্ত মেনে রাজস্ব খাতের সংস্কার বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ‘এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন, তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে। সংস্কার না হলে অর্জিত তো হবেই না বরং ট্যাক্স জিডিপি রেশিও কমে যেতে পারে। গত ৫ বছরে প্রতি বছর একটু একটু করে এটা কমেছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অন্য দেশে কর হার বাড়িযে এটা আদায় সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে কর হার এমনিই বেশি। এজন্য এটা আদায় করতে কষ্ট করতে হবে। এখানে সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই।’

বিষয়:

দেশের টাকা কানাডার বেগমপাড়ায় চলে যাচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। বহু টাকা এ দেশ থেকে কানাডার বেগমপাড়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। আন্ডার ভয়েস, ওভার ভয়েসসহ নানাভাবে যে কেউ চাইলেই খুব সহজেই বিদেশে টাকা পাঠাতে পারে। এটিকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাস্টমস বিষয়ক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব সম্মেলন ২০২৩ উপলক্ষে 'বাংলাদেশ কাস্টমস: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সারথি' শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

রাজস্ব আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগের তুলনায় রাজস্ব অনেক বেড়েছে, কিন্তু রাজস্ব- জিডিপি অনুপাতে এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। এটিকে আরও বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে আয়করে আমরা এখনো সফল হতে পারিনি। সেজন্য, রাজস্ব বিভাগের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৪ বছরে অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রে দেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সারা বিশ্ব তার স্বীকৃতি দিচ্ছে, প্রশংসা করছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রশংসা করছে। সেখানে দেশের ভিতরে কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। জাতি হিসেবে আমাদের আত্মসম্মানবোধ থাকা উচিত।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মাহবুবুর রহমান ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফাইজুর রহমান।


বাজার তদারকি অভিযান বন্ধ রাখার ‘আবদার’ ব্যবসায়ীদের

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের মসলার বাজার অস্থিতিশীল। বিশেষ করে আদা ও রসুনের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে নির্বিঘ্নে এলসি খোলা, আমদানি শুল্ক শিথিল ও বাজারে তদারকি অভিযান বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।

গরম মসলার মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সোমবার তারা এসব দাবি জানান। অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

এ সময় ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সফিউজ্জামান বলেন, ‘এলসির বিষয়টি বর্তমানে স্বাভাবিক হচ্ছে। তা ছাড়া মসলার আমদানির বিষয়ে এলসি খোলা নিয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে। এ সমস্যা যেন দ্রুত সমাধান হয়, সেই বিষয়ে আমরা বন্দর ও অন্যদের সঙ্গে কাজ করব। রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কাঠামোর বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মসলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

তবে বাজার অভিযান স্থিতিশীলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযান শিথিল করতে হলে ব্যবসায়ীদের সে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু অসাধু পথে দাম বাড়ানো, অনিরাপদ সামগ্রী, মসলায় রং ব্যবহার করা, সেটি হবে না। আমরা অভিযানের সময় দেখি ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেয়। দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়া মানেই এখানে কোনো একটা সমস্যা রয়েছে। তাহলে আমরা শুধু অভিযান বা কঠোর আইনি পদক্ষেপই গ্রহণ করব না, বাজার কমিটির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সভার শুরুতে এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘গরম মসলার বাজার বেশ কিছুদিন ধরে অস্থির দেখা যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্নভাবে দেখেছি এরই মধ্যে জিরার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে আসন্ন রমজান মাস কেন্দ্র করে মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রমজান কেন্দ্র করে গরম মসলার দাম কেউ যদি অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি করেন তাহলে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া ফুডগ্রেড রঙের পরিবর্তে যদি খাবারে অন্য রং মেশানো হয় তাহলেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যতালিকা থাকতে হবে।’ এ ছাড়া অবশ্যই ক্যাশ মেমো ব্যবহার করতে হবে বলেও তিনি জানান।

সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন বাবু বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংক মসলার জন্য আমাদের এলসি দিচ্ছে না। আর মসলার বাজার হচ্ছে আমদানিনির্ভর। শুধু বাংলাদেশ নয়, নানা কারণে সারা বিশ্বেই এ সমস্যা চলছে। জিরাসহ অধিকাংশ মসলা আমাদের দেশে আসে আফগানিস্তান, তুরস্ক ও ভারত থেকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান ও তুরস্ক কিন্তু কোনো এলসি দিচ্ছে না৷ আমরা শুধু ভারত থেকে জিরা আমদানি করছি। কিন্তু এখন ভারতেও জিরার দাম বেড়েছে৷ এ ছাড়া ভারতও কখন বন্ধ করে দেয় কি না, তাও বলা যাচ্ছে না। ডলারের দামও গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছি। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য। তবে আশা করি রমজানে আমরা মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারব।’


মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী, ৫ মাস ধরে কমছে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও খানিকটা কমেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সপ্তম মাস এবং নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর অর্থ হলো ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পেয়েছিল, এই বছরের জানুয়ারিতে তা কিনতে ১০৮ টাকা ৫৭ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। ডিসেম্বরে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তাদের লেগেছিল ১০৮ টাকা ৭১ পয়সা। নভেম্বরে লেগেছিল ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অক্টোবরে লেগেছিল ১০৮ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে লেগেছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা। আর আগস্টে লেগেছিল ১০৯ টাকা ৫২ পয়সা। আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতি ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপর আর এই সূচক ৯ শতাংশের উপরে ওঠেনি।

সোমবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-(বিবিএস)।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। দেশে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি করার কারণে আগস্টে তা এক লাফে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠে যায়। সেপ্টেম্বরে তা কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে আসে।

অক্টোবরে তা আরও কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। নভেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। অক্টোবরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে জানুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। নভেম্বরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি

জানুয়ারিতে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ১২ শতাংশ।

ডিসেম্বরে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ।

জানুয়ারিতে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আগের মাস ডিসেম্বরে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার প্রবণতা ছিল। ঠিক এ রকম একসময়ে গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। এর পরপরই বাড়ানো হয় সব ধরনের পরিবহন ভাড়া। এই দুইয়ের প্রভাবে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। গত ২৯ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হলেও বাজারে তার প্রভাব ছিল না বললেই চলে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপের দেশগুলোও ধুঁকছে।

মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হওয়ায় স্বস্তির কথা জানিয়েছে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমন ধানের বাম্পার ফলনের কারণে বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে। তার একটা প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে। আগামী বোরো মৌসুমে ভালো ফলন হলে মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে শঙ্কার কথা হচ্ছে, রমজানকে সামনে রেখে কিছু পণ্যের দাম কিন্তু বাড়তে শুরু করেছে। এটা অব্যাহত থাকলে কিন্তু মূল্যস্ফীতি আবার বাড়া শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। আমি এ বিষয়ে বারবার বলে আসছি, আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে বাজারের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন হয় না। বিবিএস ১৭ বছর আগের বছরকে (২০০৫-০৬) ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করে। অথচ জিপিডির হিসাব দেখায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে। বাস্তব চিত্র পাওয়ার জন্য মূল্যস্ফীতির তথ্যও ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

শহরের চেয়ে গ্রামে খাবারের দাম বেশি কেন- এ প্রশ্নের উত্তরে আহসান মনসুর বলেন, ‘এর সঠিক কোনো উত্তর আমার জানা নেই। তবে এমন হতে পারে, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে গ্রামের সব পণ্য এখন দ্রুত শহরে চলে আসছে। সে কারণে গ্রামে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

মজুরি সূচক বেড়েছে

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই মজুরি সূচক অল্প অল্প করে বাড়ছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশে উঠেছে। ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে উঠে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা আরও খানিকটা বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশে উঠেছে।


আশা জাগিয়ে ফের ধপাস পুঁজিবাজার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগের টানা ৫ কর্মদিবস লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টি স্বস্তি এনে দিলেও একদিন পরেই ধপাস পুঁজিবাজার। দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৭ গুণের বেশি। ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হয়েছে তারও বেশি। যদিও সংখ্যাটি আগের দিনের চেয়ে কমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৬ কর্মদিবস পর রোববার ৭ শ কোটির ঘর অতিক্রম করলেও একদিন পরেই লেনদেন নেমে এসেছে ৫ শ কোটির ঘরে।

সোমবার দিনভর হাতবদল হয়েছে ৫৮০ কোটি ৮১ লাখ ৯১ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে ১৭১ কোটি ৯২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা কম।

ডিসেম্বরে তিন শ কোটি থেকে দুই শর ঘরে নেমে যাওয়া লেনদেন ৪ জানুয়ারি বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বৈঠকের পর বাড়তে থাকে। ১৮ জানুয়ারি হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই হওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবরে উল্টো পথে ছোটে লেনদেনের চাকা। গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার লেনদেন নেমে আসে চার শ কোটির ঘরে।

সপ্তাহটিতে প্রথম তিন কর্মদিবস সূচক পতন ও শেষের দুই কর্মদিবস সূচক বাড়লেও লেনদেন বেড়েছে চার দিনই। এর মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবারই ১০৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বেড়ে হাতবদল হয় ৬৮৭ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

সেখান থেকে ৬৫ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বেড়ে রোববার লেনদেন হয় ৭৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ১৮ জানুয়ারি ৯৩৪ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

লেনদেন না হওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের দিনের ৩ গুণের বেশি বেড়েছে। রোববার একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৫টি। অথচ সোমবার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪টিতে। অবশ্য বৃহস্পতিবার এটি ছিল ৫৬।

দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৭ গুণের বেশি। ২১টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১৫২টির। আগের দিন এটি ছিল ৩ গুণ। ৪৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছিল ১৩৩টির।

তবে অপরিবর্তিত দরে লেনদেনের সংখ্যা আগের মতোই বেশি রয়েছে। লেনদেন খরার মধ্যে আড়াই শর বেশি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল। ধীরে ধীরে শতাধিক কোম্পানি ফ্লোর প্রাইস থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে।

বৃহস্পতিবার ১৬৫টি কোম্পানির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে বা ফ্লোর প্রাইসে। রোববার ফ্লোরে ঢোকে আরও ৫টি কোম্পানি। ১৭১টি কোম্পানির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে। সোমবার ফের ৫টি কোম্পানি বেরিয়ে এসেছে ফ্লোর থেকে। ফলে অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ১৬৫টির।

আগের সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে ২৯ পয়েন্ট সূচক পতনের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার সূচক বেড়েছিল ২৭ পয়েন্ট।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন ৮ পয়েন্টের পর সোমবার কমল আরও ৫ পয়েন্ট। ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৮০ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টানা কয়েক দিন লেনদেন বাড়ার পর একটু কমেছে। কিছুটা প্রফিট টেকিং বা মার্কেট কারেকশন হয়ে থাকতে পারে।'


অটোমেশন সফটওয়্যার কিনলেই সব সহজ হয়ে যাবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেমিনারে কথা বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:২৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অটোমেশন সফটওয়্যার কিনলেই সব সহজ হয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেছেন, ‘কৃষক জমি কিনতে গেলেও টিআইএন নিতে হয়, তাকে আমরা করদাতা হিসেবে উল্লেখ করতে পারি না। কর মেলা যে সময় হয়, তা হচ্ছে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়। তাই সবাই মেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, রিটার্ন দাখিল হয় না। অটোমেশন একটা সফটওয়্যার কিনে ফেললেই যে সব সহজ হয়ে যাবে বিষয়টা এমন না। এজন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে।’

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'আয়কর ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আয়করের ভূমিকা' এবং 'আয়কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা' বিষয়ক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘ই-রিটার্ন, ই-টিডিএস এগুলো আমাদের নিজস্ব তৈরিকৃত ডিজাইন। এগুলো দিয়ে আগের থেকে কাজ অনেক সহজ হয়েছে। সবাই অটোমেশন করার কথা বলেন। অটোমেশন করলেই যে সুবিধা পাওয়া যাবে তা না। আর অটোমেশন করলেই যে সব বদলে যাবে বা সব সহজ হয়ে যাবে বিষয়টা এমন না।’

আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআর ধাপে ধাপে দক্ষতা, আইটি নির্ভর সক্ষমতা আনছে। দিন দিন এনবিআর অনেক বদলে যাচ্ছে। সামনের দিনে এনবিআর আরও বদলে যাবে, বদলে দেবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কর আহরণ আরবানে বেশি রুরালে নাই, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের সহনীয় লেভেলটা অনেক বেশি তাই এখানে বিল গেটস নাই বা জ্যাক মা নাই। ব্যবসায়ীরা টাকা কামায়, টাকা উৎপাদন করে। তাই যারা ট্যাক্সদাতা দাতাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে একটা ভালো অবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। সবার মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক উন্নয়ন করা গেলে ট্যাক্স হার বাড়বে।’

তাজুল ইসলাম বলেন ,‘ট্যাক্স পের একটা সহনশীল মাত্রা থাকা উচিত। বিদেশে এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেও সেটা থেকে ট্যাক্স কাটা হয় ও সরকারের কোষাগারে জমা হয়ে যায়। তারা সবকিছুতেই দায়বদ্ধ থাকে। এক আইডি কার্ড থেকেই সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত তারা।’

কাস্টমে দ্রুত মালামাল খালাসের আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ীর মাল কাস্টমে তিন দিন আটকে রাখলে এর সঙ্গে জড়িত সবাই ভুক্তভোগী হয়। তাই যতদ্রুত সম্ভব মালামাল খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্যানেল আলোচনায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘নতুন রাজস্ব ভবন যেন ব্যক্তিপর্যায়ে আস্তার জায়গায় তৈরি হয়। করের হার নয়, করদাতার সংখ্যার মধ্য দিয়ে কর আহরণ বাড়াব। আমাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয় মেটাতে করের দরকার। রাষ্ট্র আমাদের যেসব সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এ জন্য আহরণ বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময় করপোরেট কর হার হ্রাস করা হয়েছে, যেটা আমরা চাইনি। আমরা শুধু চাই আশপাশের দেশ সমুহের সঙ্গে মিল রেখে করপোরেট কর হার নির্ধারণ করার কথা। কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয় করতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, এমসিসিআইসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

বিষয়:

banner close