দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’
বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?
আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।
দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।
এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।
সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?
এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।
এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?
আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।
এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।
জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।
সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।
তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।
দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।
আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।
ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।
আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।
সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।
আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?
আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।
এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।
এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।
এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিত্যপণ্য মজুতের এক অভিনব ও উদ্বেগজনক কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিবছর রমজানে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিকে পুঁজি করে সাধারণত স্থলভিত্তিক গুদামে পণ্য মজুত করা হতো, কিন্তু এবার প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে নদীপথে ভাসমান লাইটার জাহাজকেই ‘অস্থায়ী গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, যশোর ও নোয়াপাড়া এলাকার নদীতে পণ্যবোঝাই এমন অসংখ্য জাহাজ পণ্য খালাস না করে দীর্ঘ দিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুট করার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের প্রধান পাইকারি মোকামগুলোতে এখনই এই অসাধু তৎপরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহে আপাতদৃষ্টিতে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমদানিকারকরা পরিকল্পিতভাবে বন্দর থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন এবং লাইটার জাহাজে পণ্য আটকে রাখছেন। এতে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান প্রায় একই সময়ে হওয়ায় এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। রমজান ও নির্বাচনের সময় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং এই অপতৎপরতা রুখতে নৌপরিবহন অধিদফতর ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শন দফতরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে। ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত জাহাজে থাকা পণ্যের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রমজানকে সামনে রেখে আমদানিকারকরা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করায় বহিঃনোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের ভিড় বেড়েছে, যার ফলে পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজেরও সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রাখছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে টাস্কফোর্স। যদিও লাইটার জাহাজ মালিক সমিতি দাবি করেছে, এমন অভিযোগ তাদের কাছে নতুন এবং অধিকাংশ জাহাজ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি গ্রুপের মতো বড় আমদানিকারকরা দাবি করছেন, পণ্য খালাসে ১-২ দিনের বিলম্ব স্বাভাবিক ঘটনা, এটিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাদ্যদ্রব্য মজুত করা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভাসমান জাহাজে বা অন্য কোনো উপায়ে অবৈধ মজুত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের ২ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক অভিযানের মাধ্যমেই এই অসাধু চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে বাজার স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে; জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ২৫ জানুয়ারি রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “চলতি জানুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ।” এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার সংগৃহীত হয়েছিল, যা বর্তমান অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় ইতিহাসে কোনো একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত বছরের জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাব্যঞ্জক ছিল, যার মধ্যে নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার দেশে আসে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।
পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে বাংলাদেশের বর্ডার এজেন্সিগুলোর কাজের কৌশল ও গুরুত্বেও এসেছে নতুন মাত্রা। একসময় রাজস্ব আহরণই কাস্টমসের প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো, কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেই ধারণা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাস্টমসের এই বহুমুখী ভূমিকা ও গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন বা ডব্লিউসিও প্রতি বছর একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে। ২০২৬ সালের জন্য ডব্লিউসিও আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে কাস্টমস প্রোটেক্টিং সোসাইটি থ্রু ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট। ডব্লিউসিও-এর অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশ কাস্টমসও এই প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার এবং দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হচ্ছে।
ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, এবং মানহীন খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ রোধসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডব্লিউটিও-টিএফএ, ডব্লিউসিও-আরকেসি এবং সিএমএএ চুক্তিসহ সার্ক, ডি-৮ এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গেও সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধে ডব্লিউসিও-এর আরআইএলও এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক বা সিইএন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা অপরিসীম। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আয়ের ২৭ শতাংশই এসেছে কাস্টমস খাত থেকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্যে গতি সঞ্চার করা হয়েছে। এছাড়া এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ সুগম করা হচ্ছে।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বা বাণিজ্য সহজীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ জোর দিয়েছে। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, আইবাস প্লাস প্লাস ইন্টিগ্রেশন, বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো বা বিএসডব্লিউ এবং অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বাস্তবায়নের ফলে পণ্যচালান খালাস প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। টাইম রিলিজ স্টাডি অনুসারে, বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য একদিনের মধ্যেই শুল্কায়ন সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া নন-ইনট্রুসিভ ইন্সপেকশন, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর বা এইও, কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ই-অকশন এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে কাস্টমস নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের নিত্যনতুন কলাকৌশলের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় টিকে থাকতে উচ্চ পেশাদারিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যুগোপযোগী কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমস এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষা উপকরণে স্টলে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলার সময় যতই এগোচ্ছে তত শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারও সহায়তা ছাড়াই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের এক্সপিরিমেন্টগুলো অনুসন্ধান, গবেষণা ও তথ্য পরীক্ষা করতে পারে। সে জন্য শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদাও বেশি। কোমলমতি শিশুরা এখন মোবাইল ও কম্পিউটারে গেমনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাতে তাদের চিন্তাশক্তি বিকশিত হচ্ছে না। এই শিশুরা যদি খেলতে খেলতে বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি শেখতে পারে তাহলে তাদের চিন্তার শক্তি বিকশিত হবে।
রূপগঞ্জে আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় ও আমির হোসেন পর্যায়ক্রমে এভাবেই বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়ে তাদের মতামত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। মেলায় এসেই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তারা শিক্ষা উপকরণসহ বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে নিয়ে আসেন। ওই স্টলে শুধু তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, ছিল অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদেরও ভিড়।
চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা নিয়ে চমক, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াস দুটি মজার সায়েন্স গেম, তড়িৎ তাপ ও আলোর ২০টি মজার খেলা নিয়ে আলোর ঝলক, ট্যানগ্রাম বুদ্ধি বাড়ানোর প্রাচীন চাইনিজ পাজল গেম, ২০টি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, তড়িতের ২০টি মজার খেলা ও ২০টি খেলা নিয়ে রসায়ন রহস্য, অদ্ভুত মাপজোখ, ট্যানোগ্রাম, স্মার্টকিট, শব্দকল্প মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করছে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স। মহাকাশ এবং সৌরজগৎবিষয়ক নতুন বিজ্ঞানবাক্স ও ক্লাসভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির ২৭টি এক্সপেরিমেন্ট শিশুদের আকর্ষণ করছে। নিজ হাতে ব্যাবহারিক জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিজ্ঞানবাক্সের পাশাপাশি মেলায় শিক্ষা উপকরণের স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি নাসিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়সিদের জন্য বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে পারে। তবে চার থেকে ছয় বছরের কৌতূহলী শিশুরাও বিজ্ঞানবাক্সের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। বয়স কিংবা শ্রেণি অনুযায়ী বাক্স তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবার শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্স প্যাভিলিয়নে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।’
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও শিশুদের টিকিটের মূল্য ২৫ টাকা করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ মূল্য ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে পারছে।’
উল্লেখ্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
পুঁজিবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনের কমিশন সভাকক্ষে বিএসইসি ও সিডিবিএলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিডিবিএলের পক্ষ থেকে সভায় নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন, কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট, সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন আইপিও রুলসের মাধ্যমে আরও বেশি প্রফেশনাল ও বিশ্বমানের পদ্ধতিতে প্রাইস ডিসকভারির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিডিবিএলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিডিবিএলকে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চায় কমিশন।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে সিডিবিএলকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ানের মতো নতুন ভূমিকায় দেখতেও আগ্রহী কমিশন।
সভায় সিডিবিএলের চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসা উচিত। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিডিবিএলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটিতে নামিয়ে এনে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত (মার্জ) করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে রয়েছে ৬৪টি। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘গভর্নেন্স (সুশাসন) ব্যর্থতা ও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে ব্যাংক খাত থেকে ৩ লাখ কোটি টাকার মতো পাচার হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের গভর্নেন্স সিস্টেম নষ্ট হয়েছে।
গভর্নর বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- গভর্নেন্স ফেইলর। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে ব্যাংকের দুরবস্থার কারণ হলো- ব্যাংকগুলোর মালিকানা ব্যক্তিদের হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেমন ইসলামী পাঁচটি ব্যাংক এক করা হলো। সবগুলো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স না থাকায় ৩ লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গেছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে চারটি খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম। ফলে বাংলাদেশে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির অবস্থানে রয়েছে। এখন আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত খাতকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বর্তমান গর্ভনর। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়ে গেছিল। আমরা বুঝতে পারছি, এই খাতটা কতটা নাজুক পর্যায়ে আছে। বিভিন্ন কলাকৌশলে এটাকে ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা এসেছে সেটা অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
এক দশকেরও বেশি সময় পর আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে যাত্রীদের সময় ও ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বিমান এই রুটে একমুখী টিকিটের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা। রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের মূল্য ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকা থেকে শুরু। এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, এটি বিদ্যমান ট্রানজিট খরচের তুলনায় বড় ধরনের সাশ্রয়।
একাধিক ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাব হয়ে ইকোনমি ক্লাসে ফিরতি টিকিটের দাম পড়ছে ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আসন সংকট এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতার কারণে ভাড়া বেড়েছে।
ইনোগ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের সিইও এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক মো. তসলিম আমিন বাসসকে জানান, পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের দুবাই, দোহা বা শারজার মতো শহর হয়ে ট্রানজিট যাত্রা করতে হয়েছে। এতে যাত্রার সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। কিন্তু বর্তমানে যাত্রীদের গড়ে সাড়ে ৮ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগছে, কখনো কখনো ট্রানজিট সূচির কারণে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।’
ট্রাভেল এজেন্টদের মতে, বিমানের সরাসরি সেবাদান চালু হলে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য এয়ারলাইন্স এই রুটে বিমান পরিচালনা করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, পুনরায় চালু হওয়া ঢাকা-করাচি রুটটি প্রাথমিকভাবে ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। ফ্লাইটগুলো আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ট্রায়াল ভিত্তিতে চলবে।
বিমানের বিপণন ও বিক্রয় পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঢাকা-করাচি প্রথম ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।’
দুই মাসের পরীক্ষামূলক সময়ে যাত্রী চাহিদা, লোড ফ্যাক্টর এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই রুটটি স্থায়ী করা হবে কি না এবং ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সর্বশেষ ২০১২ সালে বিমান এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। তবে, যাত্রী সংকট ও লোকসানের কারণে সে সময় সেবা বন্ধ করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন— বৃহস্পতিবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ঢাকা থেকে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লাইট ছেড়ে রাত ১১টায় করাচিতে পৌঁছাবে। করাচি থেকে রাত ১২টায় ফ্লাইট ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় এমন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ট্রানজিট বিঘ্ন ছাড়াই কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরাসরি সংযোগ যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’
পুনরায় ফ্লাইট চালুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও কারিগরি বিষয়ে আলোচনার পর আকাশপথ ব্যবহারের অনুমোদন এবং সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-করাচি রুট পুনরায় চালু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এ রুটে চামড়া রপ্তানি, কৃষি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক ভ্রমণ, ধর্মীয় পর্যটন ও চিকিৎসা ভ্রমণও সহজ হবে, যা এতদিন উচ্চ ভাড়া ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে সীমিত ছিল।
দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার রাজধানীর বিআইসিএম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন- এনরিকো লরেঞ্জোন (টিম লিডার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স), মিরোস্লাভ স্ক্রিয়েচকা (অ্যাটাচি- প্রোগ্রাম অফিসার, ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স, ম্যাক্রোইকোনমি ও পিএফএম) এবং কিশোয়ার আমীন (প্রোগ্রাম ম্যানেজার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স)।
বিআইসিএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুছ সালেহীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আসিফ ইমরান, সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ এবং নির্বাহী প্রেসিডেন্টের একান্ত সচিব হুমায়রা আলম।
বৈঠকে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইনস্টিটিউটের সামগ্রিক কার্যক্রম প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। ইইউ কীভাবে এসব শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে ইইউ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে বিআইসিএমের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা এই খাতের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার এবং আগামীতে সব ধরনের সহযোগিতা চলমান রাখার আশ্বাস দেন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কানাডা থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ তেল সংগ্রহ করা হবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে সব ধরনের খরচ ধরে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় ডিপিএম পদ্ধতিতে তেল কিনতে কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের (উৎস: ব্রাজিল) কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি তা দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) পরে প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে যোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির দরাদরির মাধ্যমে সুপারিশ করা এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের কাছে থেকে উল্লিখিত পরিমাণ তেল ৩৫৭ কোটি ৬২ হাজার ১০০ টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ এই মূল্য হবে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা। এই তেল খোলাবাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং কেনা দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি রোজা সামনে রেখে সংকট রোধে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়। তেল সরবরাহ করবে প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড।
এই তেল কিনতে ব্যয় ধরা হয় ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকা। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার তেলের মূল্য ধরা হয় ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। আর টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১০২৭ ও ১৯৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এ দিন ডিএসইতে ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৬৪ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
বুধবার ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৬টি কোম্পানির, কমেছে ১৯২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।
এ দিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো—ওরিয়ন ইনফিউশন, স্কয়ার ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ, চাটার্ড লাইফ, প্রগতি লাইফ, বেক্সিমকো ফার্মা, খান ব্রাদার্স ও সামিট পোর্ট।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে। বুধবার সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮৬টির, কমেছে ৯১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির কোম্পানির শেয়ার দর।
এ দিন সিএসইতে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ২ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বা ট্রেড-বেসড মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে একটি উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারস অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (এইসিওবিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে চিটাগাং ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপটি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের ব্যাংকিং খাত, কাস্টমস, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএফআইইউর পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমান। দিনব্যাপী আয়োজিত এই পলিসি ডায়ালগে দুটি পৃথক প্যানেল আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং—ব্যাংকিং ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও কমপ্লায়েন্স চ্যালেঞ্জ। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিজেই। আলোচনায় বক্তারা টিবিএমএল-এর পরিবর্তিত ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা স্যাংশনস প্রতিপালন এবং ট্রেড ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষণের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা উন্নত সিডিডি ও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া প্যানেলিস্টরা অর্থপাচার রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক অ্যানোমালি ডিটেকশন, ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণের প্রতি বিশেষ জোর দেন।
দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল টিবিএমএল প্রতিরোধে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাক্টিসেস বা আন্তর্জাতিক সেরা চর্চা—সমন্বিত উদ্যোগ ও আগামী দিনের করণীয়। এই পর্বে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত স্যাংশন স্ক্রিনিং, আন্তঃসীমান্ত তথ্য বিনিময় বা ক্রস-বর্ডার ইনফরমেশন শেয়ারিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা ট্রেড-ভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও কৌশলগুলো দেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমেই দেশে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও দায়িত্বশীল কমপ্লায়েন্স কালচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা টিবিএমএল প্রতিরোধে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সমাপনী বক্তব্যে বিএফআইইউ নেতৃত্ব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) ও কমব্যাটিং ফিন্যান্সিং অব টেররিজম (সিএফটি) প্রতিপালন জোরদার করার পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিনীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামক দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
এর আগে সূত্র জানিয়েছিল, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের কী দায়িত্বপালন করবে, কোন ধরনের কর্মকর্তা দায়িত্বপালন করবেন- এসব বিষয়ে অনুমোদনের পর বিভাগ দুটিতে কর্মকর্তাদের পদায়ন শুরু হবে।
২০২৫ সালের মে মাসে সরকার এনবিআরকে ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য কর প্রশাসন আধুনিকীকরণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নীতি প্রণয়ন করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ আর তা প্রয়োগ ও আদায় করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
রাজস্ব নীতি বিভাগের প্রধান দায়িত্ব হলো কর আইন প্রণয়ন, কর হার নির্ধারণ করা। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর চুক্তি তত্ত্বাবধান, কর ফাঁকি রোধে নীতিমালা তৈরি, কর ফাঁকি ও কর ফাঁকির প্রবণতা মূল্যায়নও এ বিভাগের দায়িত্ব।
অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায় ও প্রয়োগ, কর আদায় সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিরীক্ষা করা। এনবিআরের বর্তমান জনবল এই বিভাগে স্থানান্তরিত হবে।
দেশের বাজারে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। এর মাধ্যমে ফের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় উঠলো মূল্যবান এ ধাতুটির দাম।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত সোমবার ঘোষণা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ভালো মানের ১ ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। তার আগে ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। অর্থাৎ, ৫ দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলো ১৭ হাজার ৩২২ টাকা। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।
এতোদিন ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার এ দাম নির্ধারণ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।