সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


নির্বাচিত

খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে টালমাটাল দেশের অর্থনীতি

ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত
আপডেটেড ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত চার বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রবল চাপে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা এখন খাদের কিনারায়। এই অস্থিরতার প্রভাবে কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, একটি সাধারণ পরিবারের পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঞ্চয়ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষের ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যে চলে যায় বলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার মান ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে চরম আপস করে চলতে হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে ফড়িয়া, বেপারি ও আড়তদারসহ অসংখ্য অংশীজন থাকায় খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে সবুজ মরিচের দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ, চালে ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডাল ৭৮ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ। সরবরাহ চেইন যত দীর্ঘ হচ্ছে, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তত বেশি হচ্ছে। এই শৃঙ্খলে বিশেষ করে চালের বাজারে অটো রাইস মিলারদের পর্যায়েই মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই খাদ্যে ব্যয় করে, যেখানে উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৯ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা দরিদ্র শ্রেণির ওপরই পড়ছে। প্রকৃত মজুরি না বাড়ায় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ঋণের ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে, যা দেশে দারিদ্র্যের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ইনফ্লেইশন ডাইনামিকস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য উচ্চ অবস্থানে থাকলে এবং দেশীয় জ্বালানি সরবরাহে চাপ অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও মূল্যস্ফীতির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় থাকতে পারে।” বিশেষ করে জ্বালানি ও কোর বা মূল পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতির ধরনে এখন পরিবর্তন এসেছে। আগে কেবল খাদ্য পণ্যের দাম বাড়লে হাহাকার তৈরি হতো, তবে এখন জ্বালানি ও সেবা খাতগুলোও মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। বর্তমানে প্রোটিনজাত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যেমন চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনি পরিবহন, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সেবার ব্যয় বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। একইসঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও লুব্রিকেন্টের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পুরো অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত করলেও সম্প্রতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর স্বার্থে তা কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, নীতি সুদহার কমানোর ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আইএমএফ ও এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছিই থাকতে পারে।

এই সংকট থেকে উত্তরণে গবেষকরা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে অপ্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে আনা, পাইকারি বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো, মজুতদারি রুখতে কঠোর নজরদারি এবং আধুনিক কোল্ড চেইন ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা। বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব, তাই কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


নির্বাচিত

কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে বৈশ্বিক বাজারে ১২ শতাংশ দখলের সম্ভাবনা বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) বা কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাকের বাজার ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ এই বিশাল বাজারের অন্তত ১২ শতাংশ অংশীদারত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলা-নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্প বর্তমানে দ্রুত গতিতে তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা সিনথেটিক তন্তুর দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদী রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এই বর্ধিত বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতি ও পোশাকশিল্পের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার কার্যকর রোডম্যাপ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা জরুরি। পাশাপাশি দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়গুলোকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ তুলাভিত্তিক হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা এখন সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে, যা এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম তন্তু খাতের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএফটিআই-এর বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে যে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার বিস্তার, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।


নির্বাচিত

এফটিএ ও শুল্ক ছাড়ে ভারতের পোশাক খাতে বড় সম্ভাবনা, বাড়ছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের হার ব্যাপক হ্রাস এবং যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুবাদে ভারতের পোশাক রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মতিলাল ওসওয়ালের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধেই ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে প্রস্তাবিত ভারত-ইইউ এফটিএ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানিতে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে আসায় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ভারতের শুল্ক ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মতিলাল ওসওয়াল জানিয়েছে, ‘মার্কিন শুল্ক কাঠামোর এই স্পষ্টতা পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের মনে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও আনুষঙ্গিক দোকানের বিক্রি জুনে আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে, যা শক্তিশালী গতি নির্দেশ করে।’ এই চাহিদার সুবাদে ভারতীয় উদ্যোক্তারা নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে, গত ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ভারতের টেক্সটাইল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাকের ওপর যুক্তরাজ্যের ৮ থেকে ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা পাকিস্তান, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বিপরীতে ভারতের সক্ষমতা বাড়াবে। মতিলাল ওসওয়ালের মতে, ‘স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব কিছুটা ধীরে দেখা গেলেও আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতের শেয়ার ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যাওয়ার এক চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে এই চুক্তি।’

একইভাবে ২০২৭ সালে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন এফটিএ কার্যকর হলে ইউরোপের বাজারেও ভারতীয় পোশাক রপ্তানির ওপর থাকা ১০ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক উঠে যাবে। বর্তমানে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো চীন ও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে, যা ভারতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। মতিলাল ওসওয়াল উল্লেখ করেছে, ‘ইইউ বর্তমানে প্রধানত চীন ও বাংলাদেশ থেকেই পোশাক সংগ্রহ করে, আর ভারত থেকে কেনে খুবই সামান্য—যা মূলত কয়েক দশকের শুল্ক-সংক্রান্ত স্থবিরতারই ফল। ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো যখন চীন ও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছে, তখন এই এফটিএ বাড়তি রপ্তানির বড় সুযোগ এনে দিচ্ছে। তবে আমেরিকার মতো একক কাঠামোর বাজারের তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছুটা খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ায় এই বৃদ্ধির গতি হবে ধীর ও ধারাবাহিক।’

ভারতের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর শক্তিশালী ও সমন্বিত টেক্সটাইল ইকোসিস্টেম। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম স্পিনিং সক্ষমতার দেশ হিসেবে ভারত সুতা কাটা থেকে শুরু করে পোশাক তৈরি পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিজস্ব উৎস থেকেই সম্পন্ন করতে পারে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা অভ্যন্তরীণ কাঁচামাল সরবরাহের সক্ষমতা বেশ সীমিত। চীন ও ভিয়েতনামও বর্তমানে কৃত্রিম তন্তু ও ইলেকট্রনিকস খাতের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে ভারতের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে শুল্ক সুবিধা মিললেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ ভারতের চেয়ে কম হওয়ার কারণে নিটওয়্যার খাতে তারা কাঠামোগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে শ্রমিকদের মজুরি ভারতের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম, যা মোট পোশাক উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ। এছাড়া রপ্তানির পরিধির দিক থেকেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকের বার্ষিক আয় ৩৫ কোটি ডলারের বেশি হলেও ভারতের মাত্র ৫টি প্রতিষ্ঠান এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছে।

মতিলাল ওসওয়াল পূর্বাভাস দিয়েছে যে, মার্কিন বাজারে চাহিদার পুনরুত্থান এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তির কল্যাণে ২০২৬ থেকে ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের বড় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের রাজস্ব বার্ষিক প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এই লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে ভারতকে বড় পরিসরে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জরুরি ভিত্তিতে নজর দিতে হবে।


নির্বাচিত

বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রির বাজারে টানা সাত বছর ধরে শীর্ষস্থানে টয়োটা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রির বাজারে টানা সাত বছর ধরে নিজেদের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে জাপানের প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশন। জাপান টুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে ৫৩ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে। এই অসামান্য সাফল্যের মাধ্যমে তারা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির ফক্সওয়াগনকে পেছনে ফেলেছে, যাদের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি। শীর্ষস্থান বজায় রাখলেও বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় টয়োটার সামগ্রিক বিক্রিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ পতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রথম বড় ধাক্কা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চীনের বাজারে চাহিদার নিম্নগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিই মূলত এই বিক্রয় হ্রাসের প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লজিস্টিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় টয়োটার সরবরাহ ও উৎপাদন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে জাপান থেকে উক্ত অঞ্চলে রপ্তানি ৩৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিক্রি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পেছনে চীনের বাজারে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ ধস বড় ভূমিকা পালন করেছে। তবে উত্তর আমেরিকার বাজারে হাইব্রিড গাড়ির জোরালো চাহিদার সুবাদে সেখানে বিক্রি দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।

জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে টয়োটা। বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুচ্চালিত ও হাইব্রিড গাড়ির সম্মিলিত বিক্রি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২৭ লাখ ১০ হাজার ইউনিটে উপনীত হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো শুধু বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজার, যেখানে বিক্রি ২ দশমিক ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৭২ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এটি টয়োটার ব্যবসায়িক ইতিহাসে প্রথমার্ধের সর্বোচ্চ বিক্রির একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবেশবান্ধব গাড়ির বাজারে টয়োটার এই অভাবনীয় সাফল্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে।


নির্বাচিত

১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও এক লাখ কর্মসংস্থানের হাতছানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক বিশাল শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি চলছে। উত্তরে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর, সামনে আধুনিক কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত বিমানবন্দর এবং দক্ষিণে আগামীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর—এই কৌশলগত বলয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ৭৮৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই শিল্পাঞ্চলটিতে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সরকার।

এই শিল্পাঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো এর চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে এটি সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া আনোয়ারা থেকে বাঁশখালী হয়ে মাতারবাড়ী পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি দুটি প্রধান বন্দরের সঙ্গে সমন্বিত লজিস্টিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। দীর্ঘ এক দশকের নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে গত সোমবার এই শিল্পাঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) এই প্রকল্পের ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছে।

শিল্পাঞ্চলটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর নিজস্ব একটি বহুমুখী জেটি থাকবে, যেখানে ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়া কারখানার বর্জ্য শোধনে প্রতিদিন ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি), দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস সঞ্চালন লাইন এবং পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। পণ্য পরিবহনের সুবিধার জন্য ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীরের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক ও সেতু নির্মাণের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে যে শিল্প-করিডর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, এই চীনা শিল্পাঞ্চল হবে তার মূল প্রাণকেন্দ্র। তবে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সাফল্য নির্ভর করবে সময়মতো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর। বর্তমানে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহনের যে স্বল্পতা রয়েছে, এই শিল্পাঞ্চলটি সচল হলে তা দূর হবে এবং পণ্যবাহী যানের আনাগোনায় টানেলটি আরও কার্যকর হয়ে উঠবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকায়, এই দুটি বড় প্রকল্প একই সময়সীমার মধ্যে একে অপরের পরিপূরক হয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

ডিএসইতে লেনদেন বৃদ্ধি, সূচকে মিশ্র প্রবণতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবারে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যাপক আধিপত্য পরিলক্ষিত হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের দাপটে বাজারে লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পেলেও প্রধান সূচকে এক ধরনের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। লেনদেনের সূচনালগ্নেই একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

লেনদেন চলাকালীন মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলেও বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো বিপরীতমুখী আচরণ করায় সূচকের বড় উত্থান বাধাগ্রস্ত হয়। দিনশেষে ডিএসইতে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৪৯টির দাম হ্রাস পেয়েছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দর বেড়েছে এবং মাত্র একটির দর কমেছে।

কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো মানের ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে এবং ৮৬টির কমেছে। মাঝারি মানের লভ্যাংশ প্রদানকারী ৪৩টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেলেও ২৪টির দর হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৫৫টি কোম্পানির শেয়ার দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং ৩৯টির দাম কমেছে।

বাজারের সূচক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। এদিন বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তুলনায় ২১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা বেশি।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করছে মালেক স্পিনিং, যার ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এসিআই ফর্মুলেশন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, বেক্সিমকো, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, আইটি কনসালটেন্টস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কপারটেক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং সায়হাম কটন।

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৭টির দর বেড়েছে এবং ৬৬টির কমেছে। তবে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে বিশেষ কর প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর আইন, ২০২৩-এর নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা আর্থিক সুবিধা পাবেন। আজ রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাজস্ব প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে ব্যক্তিশ্রেণির ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতারা প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ রেয়াত বা ছাড় পাবেন। তবে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ২৫ হাজার টাকা। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো ধরনের কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যা বেশি, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত কর হিসেবে দিতে হবে। একইভাবে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যা বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত কর হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনে করছে, সময়ের শুরুতে রিটার্ন দাখিলে প্রণোদনা দেওয়ার ফলে করদাতারা উৎসাহিত হবেন এবং দেশে কর পরিপালনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। এতে কর প্রশাসনের সামগ্রিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে সংস্থাটি বিশ্বাস করে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই থেকে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য অনলাইন বা ই-রিটার্ন সেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে। করদাতারা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারবেন। রিটার্ন দাখিলে কোনো ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অফিস চলাকালীন নির্ধারিত কল সেন্টারের মাধ্যমে সহায়তা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে না বিধায় এনবিআর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করার জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।


নির্বাচিত

এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক হলেন মো. ফজলুল হক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে ব্যবসায়ী মহল থেকেই দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক আজ রোববার সকালে মতিঝিলস্থ ফেডারেশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। উল্লেখ্য যে, মো. ফজলুল হক এর আগে বিকেএমইএর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৬ জুলাই এক আদেশের মাধ্যমে মো. ফজলুল হককে ১২০ দিনের জন্য এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে গত ২৭ জুন সাবেক প্রশাসক আবদুর রহিম খানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এই পদটি শূন্য ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করলেও আইনি জটিলতা ও মামলার কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারেননি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিন ধরেই একজন সফল ব্যবসায়ীকে এই পদে বসানোর দাবি জানানো হচ্ছিল যাতে করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন প্রশাসক মো. ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, “১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি পালন করতে যথাযথ চেষ্টা করব।” তিনি সংগঠনের সাধারণ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে এফবিসিসিআইয়ের গতিহীনতা কাটবে এবং দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন।


নির্বাচিত

সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে, আদায় নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে অর্থায়নের প্রবাহ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রদানের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিএমএসএমই ঋণসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তবে ঋণ বিতরণে এই ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও আদায়ের ক্ষেত্রে কিছুটা মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, আলোচ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিএমএসএমই খাতে মোট ৭০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৬২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ বা ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঋণ বিতরণে প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই অর্থায়নের বড় অংশই সরবরাহ করেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সিএমএসএমই খাতে মোট স্থিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায়, যা দেশের সামগ্রিক স্থিত ঋণের ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তবে ঋণ বিতরণে গতি এলেও আদায়ের চিত্র খুব একটা সন্তোষজনক নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই খাত থেকে ঋণ আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা কম। এর আগে প্রথম প্রান্তিকেও ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এই খাতের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তবে ঋণ আদায়ের শ্লথগতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই খাতে অর্থায়নের প্রধান উৎসহিসেবেতাদেরঅবস্থানআরওশক্তিশালীকরেছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ স্থগিত করল পোলিশ পোশাক জায়ান্ট এলপিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে চার শ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ না করেই নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোল্যান্ডের আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বকেয়া অর্থ আটকে রাখার পর গত ৩০ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে পোলিশ এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

চিঠিতে এলপিপি উল্লেখ করেছে যে, তারা তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল পর্যালোচনা করছে এবং এই সময়কালে বাংলাদেশে সব ধরনের নতুন ক্রয়াদেশ ও পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে তারা পোশাক সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোনো বিকল্প দেশে উৎপাদনের সুযোগ খোঁজার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছে। মূলত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক ও বায়িং হাউসগুলো আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় এলপিপি এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে সব মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর। সে সময় সরাসরি ব্যবসায়িক জটিলতা এড়াতে এলপিপির গ্যারান্টিতে ‘এফইএস রিটেইল’ নামক একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পোশাক সরবরাহ করেছিল বাংলাদেশের অন্তত ৪০টি কারখানা। তবে পণ্য পৌঁছানোর পর দীর্ঘ দেড় বছর পার হলেও কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি এলপিপি ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি দেনা-পাওনার সম্পর্ক অস্বীকার করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক সংগ্রহ করে থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা মালিকদের সাথে জরুরি বৈঠক করেছে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পাওনা পরিশোধ না করলে এলপিপিকে বাংলাদেশে কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির এই অনিয়মের বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা গত দেড় বছর ধরে পাওনা চেয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো ইতিবাচক ফল পাননি। এক পর্যায়ে এলপিপি বকেয়া অর্থের ৫০ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দিলেও তা স্থানীয় কারখানাগুলোর জন্য মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। বর্তমানে এই অচলাবস্থার কারণে বহু কারখানায় বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক ও কাঁচামাল অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে, যা সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। মূলত পাওনা না মেটানোর একটি অপকৌশল হিসেবেই এলপিপি এই একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

জুলাইয়ে বিওয়াইডি’র বিক্রি বাড়ল ১২৪ শতাংশ

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি-র বিশ্বব্যাপী বিক্রয় প্রবৃদ্ধি জুলাই মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো অব্যাহত রয়েছে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি কিছুটা স্থবির থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এই অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত বিওয়াইডি-র আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভিত্তিতে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, গত জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪,১৯,২১১টি গাড়ি বিক্রি করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে বিওয়াইডি-র রপ্তানি চিত্র। জুলাই মাসে যাত্রীবাহী গাড়ি এবং পিকআপ ভ্যানের বিদেশের বাজারে সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ১২৪.৩ শতাংশ বেড়ে ১,৭৯,৮৪১ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। মূলত শক্তিশালী বৈশ্বিক চাহিদাই চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে কোম্পানিটিকে সহায়তা করেছে।

চলতি বছরের মে মাস থেকেই বিওয়াইডি-র বিক্রির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ এবং বিওয়াইডি-র সাশ্রয়ী ও উন্নত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে।


নির্বাচিত

পণ্য আমদানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার মার্কিন সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে খাদ্য ও ধাতু শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।

এই কোম্পানিগুলোকে ‘উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট এনটিটি লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের বিধান অনুযায়ী, তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যগুলো বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি বলে ধরে নেওয়া হয়। আমদানিকারকরা যদি অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে এটি ভুল প্রমাণ করতে না পারেন, তবে ওইসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায় না। তবে বেইজিং জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর জোরপূর্বক শ্রম বা অন্য কোনো নির্যাতনের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় যুক্ত করা হলো। এর ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ১৮৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০২১ সালে এই আইন কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একক বৃহত্তম সম্প্রসারণ।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একে ভিত্তিহীন ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ‘গঠনমূলক ভিডিও কল’ হওয়ার মাত্র একদিন পরই এই ঘোষণা এলো। চীন তার কোম্পানিগুলোর সুরক্ষায় “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” গ্রহণ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সরকারের দাবি অনুযায়ী, চারটি কোম্পানি উইঘুর ও অন্যান্য নির্যাতিত গোষ্ঠীকে নিয়োগ বা স্থানান্তরের কাজে জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। এছাড়া বাকি ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় যুক্ত করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন সরকারি শ্রম কর্মসূচির সাথে যুক্ত উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে থাকে। হাউস সিলেক্ট কমিটি অন চায়নার চেয়ারম্যান জন মুলেনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আজকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ক্রীতদাসদের শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।”

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এসব অভিযোগকে “একটি মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছে। তারা দাবি করেছে, চীনা আইন অনুযায়ী জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ এবং জিনজিয়াংয়ের কর্মীরা তাদের পেশা নির্বাচনে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইলেকট্রিক গাড়ি ও জ্বালানি সঞ্চয়কারী ব্যাটারির কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে। রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নতুন তালিকাভুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করলেও ব্যবসায়িক সময়ের বাইরে হওয়ায় কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এসডিআইসি জিনজিয়াং লিথিয়াম ইন্ডাস্ট্রি এবং তাদের মূল প্রতিষ্ঠান এসডিআইসি জিনজিয়াং লুওবুপো পটাশ। এছাড়া লিথিয়াম ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক জিনজিয়াং তিয়ানহংজি টেকনোলজিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে। অন্যদিকে, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ও শিল্প যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর নির্মাতা হুনান আইহুয়া গ্রুপকেও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

শেভরন বাংলাদেশের নতুন শীর্ষ নেতৃত্বে শু শিয়ং

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন শু শিয়ং। গত শনিবার (১ আগস্ট) থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তিনি এরিক এম. ওয়াকারের স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি বিগত ছয় বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শেভরন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শেভরন বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার আগে শু শিয়ং শেভরন চায়নার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের আপস্ট্রিম বাণিজ্যিক কার্যক্রম, জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খল এবং একাধিক যৌথ উদ্যোগ পরিচালনা করেছেন। ২০০৭ সালে শেভরনে যোগদানের পর থেকে তিনি কৌশল নির্ধারণ, ব্যবসায়িক পূর্বাভাস, ট্রেডিং ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘ পেশাদার জীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পরামর্শ প্রদান, নতুন বাণিজ্যিক ক্ষেত্র তৈরি এবং অংশীদারদের সাথে বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। উচ্চশিক্ষায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গণমাধ্যম সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।


নির্বাচিত

banner close