বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নয়-ছয় থেকে বারো-নয় করা উচিত

মঞ্জুর হোসেন
আবদুর রহিম
প্রকাশিত
আবদুর রহিম
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২২ ১১:৩২

দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই মূল্যস্ফীতির পারদ ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। অর্থনীতির অন্য সূচকগুলোও নিম্নমুখী। সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শুনিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব বাংলাদেশেও বেশ ভালোই পড়েছে। এ থেকে আমরা কমে মুক্ত হব- সেটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।’

বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন মঞ্জুর হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কার কথা বলছেন, অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করছেন। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমরা তো একটি বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আছে। অর্থনৈতিক-সামাজিক সবদিক থেকেই। বিশেষ করে করোনাভাইরাস-পরবর্তী ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধটা আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের অর্থনীতির জন্য। এখানে রাশিয়া একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ একদিকে হয়ে এমন একটি পর্যায়ে যাচ্ছে, যার ফলে দিন দিন সমস্যাগুলো বাড়ছে; নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তাতে সারা বিশ্ব এর দ্বারা এফেক্টেড হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এ থেকে আমরা ব্যতিক্রম নই। কারণ একটা হচ্ছে, যে জ্বালানি তেলের উৎসগুলো অনেকটাই সেই সব দেশের ওপর নির্ভর করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আবার কিছুটা কমছে, আবার বাড়ছে। তেলের একটি অনিশ্চয়তা আছে।

দ্বিতীয়ত আছে খাদ্যসংকটের একটি বিষয়। যেহেতু আমাদের অনেক কিছুই আমদানি করতে হয়। তৃতীয়ত হচ্ছে, আমাদের রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসব দেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে; অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। তারা হয়তো এখন তাদের কস্ট অব লিভিং কমাতে চাইবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থা যা, আমাদের অবস্থাও তা। তবে আমরা যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, সেহেতু অভিঘাতটা আমাদের ওপর অনেক বেশি হবে অন্যান্য দেশের চাইতে।

এটি হচ্ছে মূলত প্রথম কথা; আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে আমরাও কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। জ্বালানি তেলকে সাশ্রয় করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছি। দেশের অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে। উৎপাদনব্যবস্থা অনেকটা কমে গেছে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার যে অবস্থায় আমরা এসছিলাম গত কয়েক বছরে। বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে। এগুলো সবই কিন্তু দেশের উৎপাদনব্যবস্থার ওপর একটি প্রভাব ফেলছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা প্রবৃদ্ধি সেটার ওপর আঘাত আসছে।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ধরেছে। সেটি কি আদৌ অর্জন করা সম্ভব হবে?

এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে এই লক্ষ্য আসলে অর্জন করা খুবই কঠিন। বিশ্বব্যাংক বলেন বা আইএমএফ বলেন, তারা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ সেটা আগের থেকে কমিয়ে এনেছে। আমাদের ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল, এখন সবাই বলছে ৬ শতাংশ, এমনকি আরও কমও হতে পারে। এই সবকিছুর সঙ্গে যেটা সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য অ্যাডজাস্ট করেছে। এ ছাড়া অন্য যেসব জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতি একটা খারাপ পর্যায়ে আছে। সেটা আগস্টে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে এটা ৯-এর ওপরে ৯ দশমিক ১ হয়েছে। কিন্তু যেটা আমরা অনেকবার বলেছি। আমাদের গবেষণায়ও দেখেছি যে, মূল্যস্ফীতি এটাকে বলি আমরা হেডলাইনি ইনফ্লেশন। এটা গড়, এটা সবার ওপর কিন্তু ইনফ্লেশনটা হয়। প্রত্যেক ক্যাটাগরির মানুষের ওপর ইনফ্লেশনের প্রভাব আলাদা। দরিদ্র শ্রেণির লোকদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কিন্তু অনেক বেশি। দরিদ্র মানুষ হয়তো ১২ শতাংশ ফিল করছে। আমি হয়তো ৯ শতাংশ করছি; আরেকজন হয়তো ৭ শতাংশ ফিল করছে। কারণ এটা কনজামশন বাস্কেটের ওপর নির্ভর করে আপনি কোন জিনিসগুলো খাচ্ছেন, সেই জিনিসগুলোর দাম কেমন বেড়েছে। সেই হিসাবে এক ধরনের আঘাত তো আছেই। দ্বিতীয় হচ্ছে যে করোনাভাইরাস-পরবর্তী যেই ধরনের রিকভারির কথা ছিল; যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেগুলো কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

অর্থনীতির ব্যবসা-বাণিজ্য যেগুলোর মধ্যে আমরা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যেহেতু বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বেড়েছে; তা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরেও প্রভাব পড়েছে। তৃতীয় আরেকটি জিনিস আমাদের সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার। ডলারের মুদ্রা বিনিময় হার একটি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে একটি বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ডলারের যে ব্যবস্থাপনা, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেছে না তারা কী করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যদিও পুরোপুরি মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বাংলাদেশের হাতে। যেহেতু আমাদের একটি বড় অংশ ফাটকাবাজারিতে লিপ্ত হয়ে যাই; আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যাকানিজমগুলো এতটা শক্তিশালী না। সেদিক থেকে পুরোপুরি যদি আমরা মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিই ফল আরও খারাপ হবে। কিন্তু যেটা হয়েছে, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পেরে ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভর করছিল। সেটা আরও খারাপ হয়েছে। তারা তিনটি রেট প্রপোজ করেছে। একটি রেমিটারদের জন্য, একটি এক্সপোর্টারদের জন্য আর একটি ইম্পোর্টারদের জন্য। আরও একটি আছে সাধারণ মানুষের জন্য। এখন এ ধরনের মাল্টিপোল এক্সচেঞ্জ রেট পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। এ ছাড়া ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে এটা আসলে ভালো ভূমিকা রাখে না। একটি বিনিময় হারে অবশ্যই আসতে হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংককে খুব স্ট্রংলি নিতে হবে।

এটা খুব দুঃখজনক হলেও সতি যে, বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতেও দেখা গেছে। পলিসি রেটখ্যাত সুদের হার ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারপর এক্সচেঞ্জ রেট কীভাবে হবে সেটাও ব্যাংকাররা সাজেস্ট করছে। তারা হচ্ছে এন্ড ইউজার, আর এই ইউজারের ওপর যদি আমি ছেড়ে দিই পলিসি মেকিং তার ফলাফল কখনো ভালো হয় না। আমি আশা করব যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং শক্ত অবস্থান নেবে। যেটা সঠিক হওয়া দরকার, সেটাই নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু আমাদের একটি ইউনিফাইড এক্সচেঞ্জ রেট লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সঠিক কাজটি করছে না? কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে?

আমি তো বললাম যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব আছে। আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছি যে, মুদ্রা সংকট যখন তৈরি হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে ব্যবস্থাপনা করে আসছে। বিশেষ করে ৪, ৫, ১০ বছর ধরে সেটা তো তারা মেইনটেইন করতে পারবে না। ক্রাইসিস না থাকলে এই ধরনের এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করা যেতে পারে। এতদিন তো প্রায় ফিক্সড ছিল। আসলে এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সময়ে সময়ে ছাড় দেয়া দরকার ছিল। সেটা না করার ফলে যখন ক্রাইসিস দেখা গেল, রিজার্ভকে ধরে রাখার কথা এল, তখন এক্সচেঞ্জ রেটকে এই লেভেলের ডেপ্রিসিয়েট না করে তাদের উপায় ছিল না। এখন করার পরও দেখা গেল মার্কেটে বাংলাদেশ ব্যাংক যা রেট বলছে, সেই রেট ফলো হচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি যে কন্ট্রোল ব্যাংকগুলোর ওপরে সেটার দুর্বলতা দেখা গেল। অনেক ব্যাংক বাড়তি মুনাফা করেছে এই এক্সচেঞ্জ রেট দিয়ে। ইভেন মানি এক্সচেঞ্জগুলোর ওপর কোনো কন্ট্রোল আছে বলে আমার মনে হয় না।

এটি অনেক দিনের পুঞ্জীভূত একটি সমস্য। একটি সংকটের মুখে তাদের পক্ষে এটি ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে প্রপার এক্সচেঞ্জ রেট ম্যানেজমেন্ট করা, প্রপার মনিটরি পলিসি ফর্মুলেশনের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা নতুন করে তো আর এখন বিল্ডআপ করা যাবে না। এখন দরকার হচ্ছে তারা প্রয়োজনে যাদের কাছ থেকে সাজেশন নেয়া দরকার বা তাদের নিজেদের যে এক্সপার্টেজ আছে সেগুলো ডেভেলপ করে, আমি মনে করি সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিজ যোগ্যতায় নিজে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এটি ব্যাংকারদের ওপর একদমই ছেড়ে দেয়া উচিত না। তাতে করে হিতে বিপরীত হবে আসলে। আমরা এই মুহূর্তে দেখছি, ব্যবসায়ীদের চাপে হোক, যেকোনো কারণেই হোক, সুদের হার আসলে যেভাবে ফিক্স করে রাখা হয়েছে, সেটা আসলে কোনোভাবেই ডিজায়ারেবল না। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতির অবস্থা খারাপ। দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমার সুদের হারকে ফিক্সড করে বিনিয়োগকে সুবিধা দিয়ে কার লাভ হবে।

জনগণ যখন খারাপ অবস্থায় থাকে, মূল্যস্ফীতি যখন বেশি থাকে, তখন এমপ্লয়মেন্ট রেটও বাড়তে থাকে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আসলে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ফিন্যান্স ডিভিশনের একটি ভূমিকা থাকা উচিত, এক্সপার্টদেরও ভূমিকা থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে যে, আমাদের এক্সপার্টদের মধ্যে অপিনিয়নগুলো এত বিভেদমূলক এবং এতভাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেন যে, তাদের মতামত নিয়েও যে সেন্ট্রাল ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারবে, সেটা নিয়েও সমস্য। তর পরও আমি মনে করি ডায়লগটা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডায়লগ করা, সেখান থেকে তারা যেটা ভালো মনে করে সেটা তারা নিতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো অর্থনীতিবিদের কথার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো দরকার নেই।

সরকার বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে। সেটা কি সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারটা (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গেল। এই কোয়ার্টার দেখে বলা খুব কঠিন যে, বাংলাদেশে এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী হবে। আমি মনে করি যে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির প্রক্ষেপণ আরও রিভিশন হবে। তারা ছয় মাস পর বলবে যে আরও কমে যাবে, নয় মাস পর বলতে পারে অন্য কথা। আমাদের এক কোয়ার্টার পার হয়েছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের বলা হয়েছে যে এই তিন মাসের মতো করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশের মতো। কিন্তু আমরা এই অবস্থায় চলতে পারব কি না, সেটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর।

তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হবে, সেটার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে আমরা সহনীয় রাখতে পারি, সেটা নিয়েই সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশি কাজ করা উচিত। আমার মনে হয়, এটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাজারে গেলে দেখতে পাই যে, জিনিসপত্রের মূল্য কীভাবে আকাশচুম্বী ধারণ করছে, সেদিক থেকে সরকারের অনেকগুলো করণীয় আছে। একটি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমানো বা সহনীয় করার জন্য পলিসিগত কিছু দ্রুত করা দরকার। সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যেগুলো নিয়েছে সুদের হার বাড়ানো, ইম্পোর্ট কিছুটা কমানো, এর বাইরে ফিসক্যাল কিছু মেজার আছে। যেমন- জনগণকে সহায়তা দেয়া। বর্তমানে এক কোটি লোককে ১৫ টাকা দরে চাল দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়ানো। যেটাকে আমরা বলি ফিসক্যাল ট্রান্সফার; এ ছাড়া ওপেন মার্কেট সেলস আরও বেশি পরিমাণে বাড়াতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে যেটা দেয়া হয়, সেটা যথেষ্ট না। সেটা যদি আরও বেশি আকারে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ আরও বেশি আকারে মূল্যস্ফীতির আঘাতটিকে সয়ে যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পন্থা হচ্ছে- যাদের ফিক্সড সেলারি, তাদের কাছ থেকে কিন্তু দাবি আসা শুরু হয়েছে যেন তাদের বেতনটা বাড়ানো হয় এবং সেটা হয়তো করতে হতে পারে সামনে। যাদের একটি স্থির আয় আছে বা নিম্ন আয় আছে, তাদের পক্ষে কিন্তু মূল্যস্ফীতিকে মোকাবিলা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কাজগুলো করতে গেলে সরকারের কিন্তু ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় যদি বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে জিডিপি গ্রোথ হয়তো আরেকটু কম হতে পারে। সেটাও মন্দ হয় না। যদি আমাদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশও প্রবৃদ্ধি হয়, তাহলেও ভালো বলে আমি মনে করি। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর পলিসিগত পদক্ষেপগুলো যথাযথ হওয়া দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি যাতে সাধারণ জনগণকে বিপদে ফেলতে না পারে সরকারের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে সহায়তা দেয়া। সেটা পণ্য দিয়েও হতে পারে অথবা টাকা দিয়েও হতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে যাদের সেলারি ফিক্সড তাদের সেলারি রিভাইস করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বেড়ে যাবে। অন্যান্য খাতে ব্যয় কমাতে পারে। এটি একটি জটিল পরিস্থিতি, ম্যানেজ করার মতো, ব্যালান্স করার মতো ক্যাপাসিটি সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতটুকু আছে আমরা জানি না। এতদিন আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিকস স্টাবিলিটি খুব ভালো ছিল। ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হয়নি। আগে এ রকম কোনো বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা আমরা করিনি। এই ধরনের সংকট মোকাবিলার জন্য সব ধরনের ব্যালান্স করে আমরা এগোতে পারি কি না। সেটা এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো যদি দেশে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়, তাহলে এই সংকটের সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সেই আশঙ্কা আছে। তবে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। যাতে আমরা সবাই মিলে একভাবে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। জনগণের যাতে ক্ষতি না হয়। জনগণের কল্যাণ যাতে ব্যাহত না হয়, সবার এ বিষয়ে একমত হওয়া উচিত। এমন কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন নেয়া ঠিক হবে না ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মতো অবস্থা হয়। সেদিক থেকে সরকার এবং বিরোধী দল যারা আছে আমাদের আশা থাকবে তারা কিছু জাতীয় ইস্যুতে একমত হয়ে এই সময়টা পার করবেন, যাতে সব ধরনের একটি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কীভাবে এই সময়টা পার করা যায়, কারণ আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে আছি। আবার যদি দেশীয় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুব ক্ষতিকর হবে।

ডলারসংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, গবেষণা সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আলোচনার বিষয়টি পুরোপুরি অনুপস্থিত। আলোচনা করতে তো অসুবিধা নেই। সিদ্ধান্ত আপনারাই নেন। আপনি আলোচনার টেবিলে সবাইকে নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আলোচন করেন। কারণ সংকটকালীন সময়টা সাধারণ সময় থেকে আলাদা। সুতরাং সেই সময়টাকে ম্যানেজ করতে হলে দূরদর্শিতার সঙ্গে করতে হবে।

আমাদের দেশে রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের দেশে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের মতো গভর্নরের মতো গভর্নর হয়তো নেই। আমাদের যে রিসোর্স আছেন। সেন্ট্রাল ব্যাংকে যদি না থাকে বাইরে যারা আছেন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তাই বলে শুধু ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়াটা যৌক্তিক না। পার্সোনালি যদি কারও সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকে সেটা যথেষ্ট নয়। মুক্ত আলোচনা হওয়া উচিত, আসলে দেশের অর্থনীতি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সে বিষয়ে। যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, সেখানে পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এটা হচ্ছে এক দিকের কথা। এর বাইরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখছি, আমাদের আমদানি বাড়ছে আবার কমছে- এগুলো নির্ভর করছে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির ওপরে। আমরা একটিমাত্র পণ্য রপ্তানি করি, সেটাও পশ্চিমাদের সঙ্গে। পশ্চিমারা কিন্তু একটি যুদ্ধের মধ্যে আছে। সেটা হয়তো তারা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি ধসে যাবে যদি আমাদের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি, প্রডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন করতে পারিনি।

সামনের দিনগুলো কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?

সামনের দিনগুলো কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ওপরে। যুদ্ধ যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে চলে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। খুবই অবস্থা খারাপ। আর এটা বর্তমান অবস্থায় যদি লিংগার করতে থাকে এবং সামনে শীত আসছে সামনে ইউরোপকে যদি রাশিয়া গ্যাস তেল বন্ধ করে দেয়, সেখানে ইউরোপে একটি সংকট তৈরি হতে পারে। এই সংকটের চাপ কিন্তু আমাদের দিকে লাগবে। পোশাক রপ্তানির একটি বড় মার্কেট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ওপেক বলছে, তেলের দাম কমিয়ে দেবে। তেলেন দাম বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি খুব একটি আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থা দেখছি না।

আপনার কাছে শেষ প্রশ্ন। এই যে আপনি অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ, সংকট বা চাপের কথাগুলো বলছেন। এগুলো মোকাবিলা করতে এই মুহূর্তে আমাদের কী কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপর। এ অবস্থায় বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে নয়-ছয় সুদের হার থেকে আমাদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। দুটিই বাড়াতে হবে। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের সুদের হার যেটা এখন ৯ শতাংশ বেঁধে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেটা ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর আমানতের সুদের হার যেটা ৬ শতাংশ আছে, সেটা ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বলতে চাই, নয়-ছয় সুদের হার থেকে বারো-নয় সুদের হার বেঁধে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরামর্শ বলেন আর দাবিই বলেন- এ বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জোরালোভাবে উপস্থাপন করছি।

এখানে একটি বিষয় আলোচনায় আসতে পারে যে, নয়-ছয় সুদের হার তো প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে করা হয়েছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তখনকার পেক্ষাপট আর এখনকার পেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। তখন দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। আর এখন ৯ শতাংশের ওপর।

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রীকে আগে বলা হয়েছিল সুদের হার নয়-ছয় থাকলে ভালো হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন যদি এটা বোঝানো যায় যে, এটা বাড়ালেও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং বড় অংশে দেশের জন্য ভালো হবে। তাহলে নিশ্চয় সেটা উনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, ওনার বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা যারা পলিসি মেকার আছেন, তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো যাতে তথ্যনির্ভর হয়, তখন ওনাকে বোঝানো গেলে তাহলে ওনার পক্ষে হয়তো সিদ্ধান্ত ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা চিন্তা করবেন এবং অবশ্যই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন।

এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটি অনুরোধ করব। এই কঠিন সংকট মোকাবিলার জন্য তিনি একটি হাই প্রোফাইল কমিটি তৈরি করবেন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। এটা মন্ত্রিপর্যায়ে হতে পারে, সচিব পর্যায়ে হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা সেখানে থাকতে পারেন, ব্যবসায়ীরা থাকতে পারেন। এটি হয়তো ভালো কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হতে পারে। সেটা যদি হয় আরও ভালো হবে। সেই কমিটির পরামর্শে সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বসতে পারেন। কারণ তারা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে যদি দেশের অবস্থা খারাপ করে ফেলে তাহলে তো সমস্যা আরও বাড়বে। এই জায়গাগুলোতে তো কাজ আছেই। আমরা অর্থনীতিবিদরা তো শুধু বলতে পারি কী করতে হবে, দায়িত্বটা সরকারকেই নিতে হবে। সিদ্ধান্তটাও সরকারকেই নিতে হবে।


অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ১৯:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো সুসংহতকরণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের একটি বিশাল ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেন। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার এই আর্থিক সহায়তা মূলত ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে প্রদান করা হচ্ছে।

এই ঋণ সহায়তা দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে বেগবান করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’-এর আওতায় এটিই প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় কার্যকর সহযোগিতা প্রদান করা। একই অনুষ্ঠানে নোট বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

প্রদত্ত এই ঋণ কর্মসূচির দুটি প্রধান ভিত্তি রয়েছে, যার একটি হলো জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যটি অর্থনৈতিক সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করার মতো নীতিগত পদক্ষেপগুলোতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা এবং দেশব্যাপী স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের সাথে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। জ্বালানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে জাইকা। মূলত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাইকার এই অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।


বিমা খাতের দাপটে ফের চাঙা শেয়ারবাজার, সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক কার্যদিবসের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার আবারও বড় ধরণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তায় বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বিমা খাত। এদিন অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে দিনশেষে মূল্যসূচক ও লেনদেনের অংকে বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই উত্থানের মাধ্যমে গত ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ দিনই শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী থাকল।

মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের দাপট আরও বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ১০০টি এবং ৫১টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে বিমা খাতের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টিরই দাম বেড়েছে। এই ব্যাপক উর্ধ্বগতির প্রলেপে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও এদিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক, যার ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি 'জেড' গ্রুপের ৫৩টি এবং মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে এবং ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার দ্রুত তার ক্ষতি কাটিয়ে উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ক্রেতাদের সক্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহই এই উত্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।


জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বেকারত্ব নিরসন এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে সরাসরি বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প না থাকলেও অত্যন্ত সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য বিনা জামানতে ঋণের পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মাত্র ৪ শতাংশ সুদে বড় অংকের অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের বিশেষ ভাতা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ ও পেশাদার উদ্যোক্তা তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থান করেন। তরুণদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রকল্প আছে কি না—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।”

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে মন্ত্রী সংসদকে জানান যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল থেকে নবাগত উদ্যোক্তারা কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জামানত সাপেক্ষে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসারে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান যে, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।” কেবল ঋণই নয়, বরং সরাসরি বিনিয়োগ বা ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানও গঠন করা হয়েছে যেখান থেকে নতুন উদ্যোগগুলো ইক্যুইটি সহায়তা নিতে পারবে।

আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানান যে, ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর আওতায় বিভিন্ন জেলায় মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের জন্য অংশগ্রহণকারীদের কোনো ফি দিতে হয় না; বরং সফলভাবে কোর্স শেষ করলে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের স্বাবলম্বী করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।


এআই অবকাঠামোয় বিশাল বিনিয়োগে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে বিশ্বজুড়ে চলমান বিপুল বিনিয়োগ একদিকে যেমন অর্থনীতির নতুন দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। মূলত বিশাল সব ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নির্মাণ উপকরণের আকাশচুম্বী ব্যয় এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই পরিষেবা এবং ক্লাউড প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তিন হাজারের বেশি ডেটা সেন্টার সচল রয়েছে এবং আরও প্রায় দেড় হাজার কেন্দ্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতটির বৈশ্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুগল, আমাজন, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ করছে। চলতি বছরেই এ খাতে মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ৬৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি। এই বিশাল ব্যয় প্রবাহ বাজারব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

তবে অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করতে পারে বলে রিস্টাড এনার্জি পূর্বাভাস দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে নির্মাণাধীন ‘স্টারগেট’ প্রকল্পের জন্য প্রায় সাত গিগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, যা খোদ নিউইয়র্ক শহরের মোট চাহিদার চেয়েও বেশি। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদ্যুতের চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পর কেবল ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণেই গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় চাহিদা ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসন।

অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় চিপ, স্টিল ও কংক্রিটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। যদিও কিছু অর্থনীতিবিদ এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাময়িক বলে মনে করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে এআই-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আশা রাখেন, তবে নীতিনির্ধারকদের বড় অংশই বর্তমানে চিন্তিত। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআই প্রযুক্তির সুফল অর্থনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি বাজার ব্যবস্থায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা নিরূপণ করা। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় এআই-এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।


পেন্টাগনের কালো তালিকায় চীনের শীর্ষ তিন করপোরেট প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন চীনের বিশ্বখ্যাত তিন করপোরেট জায়ান্ট আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদুকে সে দেশের সামরিক কার্যক্রমের সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মাধ্যমে চীনের সবচেয়ে পরিচিত বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলোর কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কালো তালিকায় যুক্ত হলো। পেন্টাগনের এই হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের ফলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ইতোমধ্যে নড়বড়ে হয়ে থাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তজনা ও জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।

চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস এই তালিকাভুক্তির বিষয়টিকে ‘বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে সম্প্রসারিত’ করছে। দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিদেশে ব্যবসা করা চীনা কোম্পানিগুলো ওই সব দেশের আইন ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল নীতি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ন্যায্য, সুবিচারপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

অন্যদিকে, বৈশ্বিক ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে যে, এই তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তির ‘কোনো ভিত্তি নেই’। কোম্পানির একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক কোম্পানি নয় এবং এটি সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের অংশও নয়।’ তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেব।’ তবে এই তালিকার বিষয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইদু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, পেন্টাগনের এই ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’র তালিকা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার চালুর পর বর্তমানে এই তালিকায় মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত অঙ্গসংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কোনো চুক্তিতে অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হয় না। পেন্টাগনের সংজ্ঞা অনুসারে, যেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত কিংবা বেইজিংয়ের ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়’ নীতির আওতায় বেসামরিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনকে একীভূত করতে সহায়তা করে, তাদেরই এই তালিকায় রাখা হয়। তবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকা বাধ্যতামূলক। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।


চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই প্রতিনিধি দল

আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ১৫:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিতব্য ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো (সিএসএই) এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি ও রপ্তানি মেলায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

আগামী ১১ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই আন্তর্জাতিক মেলায় সংগঠনটির সভাপতি খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলে দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বিসিসিসিআইয়ের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর বিটুবি সংযোগ স্থাপন করা। বিশেষ করে চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং কৃষিভিত্তিক উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে রফতানি বৃদ্ধি করে দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশে সরাসরি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশীয় শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করাও এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সফরকালে প্রতিনিধি দলটি এক্সপোর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরাম এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেবে। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিসিসিসিআই এবং চীনের মেশিনারি ও ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি ও রপ্তানি চেম্বারের (সিসিআইইএম) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। পাশাপাশি ব্যাংক অব হুঝৌ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সম্ভাব্য অন্য একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ক্রেতা সংকটে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (৯ জুন) কোম্পানি দুটি তীব্র ক্রেতা সংকটের মুখে পড়েছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হলেও সে তুলনায় ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই উভয় কোম্পানির কয়েক লাখ শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন দামে বিক্রির প্রস্তাব এলেও ক্রয়ের ঘর ছিল প্রায় শূন্য। ক্রেতা সংকটের কারণে পুরো দিনে বেক্সিমকোর মাত্র ৮ হাজার ২৬টি এবং ইসলামী ব্যাংকের ৪০ হাজার ৪১৬টি শেয়ার লেনদেন সম্ভব হয়েছে। বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ১১০ টাকা ১০ পয়সায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর মঙ্গলবার তা সর্বনিম্ন ৯৯ টাকা ১০ পয়সা দরে বিক্রির আদেশ দিলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে মাত্র ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

শেয়ারবাজারের লাগাতার পতন রোধে গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল বিএসইসি। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাজার অস্থিতিশীল হলে ২০২২ সালের জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। অধিকাংশ শেয়ারের ওপর থেকে ধাপে ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা এতদিন বহাল ছিল। বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সোমবার কোম্পানি দুটির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোম্পানি দুটির শেয়ারের এই দরপতন মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা কাটানোর অংশ। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম আটকে রাখায় তা প্রকৃত বাজারদর প্রতিফলিত করছিল না। ফলে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এক ধরণের তাড়াহুড়ো দেখা দিয়েছে, যা শুরুতে দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারের দাম একটি যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাজারের স্বাভাবিক মূল্য আবিষ্কার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। তাদের মতে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি বাড়ছিল এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং বাজারের গতিশীলতা বাড়বে। স্বল্পমেয়াদে এই দরপতন অস্থিরতা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সুস্থ ও স্বচ্ছ শেয়ারবাজার গড়ে তোলার জন্য একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। মূলত প্রকৃত চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বাজার পরিচালিত হওয়ার পথ সুগম হওয়ায় পুঁজিবাজারের গভীরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মার্কিন বাজারে চীনের রফতানি বেড়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরণের উল্লম্ফন ঘটেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই ইতিবাচক বাণিজ্যিক চিত্র সামনে এলো, যেখানে তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

চীনের শুল্ক প্রশাসনের (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ কাস্টমস) দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্য রফতানির আর্থিক পরিমাণ ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের মে মাসে এই রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২৮.৮ বিলিয়ন ডলার। মূলত গত বছরের একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা অস্থির বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে দুই দেশের রফতানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হ্রাস পেয়েছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের পর বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই পরিবর্তন বৈশ্বিক অর্থনীতির বৃহত্তম দুই অংশীদারের মধ্যে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূর্বের বছরের তুলনায় রফতানির এই বিশাল প্রবৃদ্ধি দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নিরসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


কৃষি খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার আবর্তনযোগ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত সরল সুদ বা মুনাফা প্রযোজ্য হবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তহবিল সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতের জন্য এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি স্কিমটি আবর্তনযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিবছর গ্রাহক পর্যায়ে পুনঃবিতরণ করা যাবে। এ স্কিমের আওতায় বিতরণকৃত ঋণ ব্যাংকসমূহ তাদের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতেও প্রদর্শন করতে পারবে।

এ স্কিমে অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে এই পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফার হার (সরল) হবে ৮ শতাংশ।

বিদ্যমান বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত সব প্রকার শস্য-ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি খাত এবং আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্য পল্লী ঋণ খাতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করা যাবে। অধিক সংখ্যক প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষককে এ ঋণ সুবিধা দিতে খাতভিত্তিক ঋণসীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা, শস্য ও ফসল খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে ২০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য পল্লী ঋণ ও আয় উৎসারী খাতে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে।

ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের সহায়তার জন্য শস্য ও ফসল চাষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ (শুধুমাত্র শস্য-ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে) প্রদান করা যাবে। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করার লক্ষ্যে প্রচলিত জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত (ব্যক্তিগত বা দলগত জামানত) গ্রহণ করা যাবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ বার এ স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন এবং এ ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাও এ তহবিল থেকে ঋণ পাবেন না।

কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ অপব্যবহার বা অসদ্ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে অথবা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ শাস্তিমূলক সুদসহ এককালীন অর্থ কেটে নেবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ওই ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে তা আদায় করা হবে।

সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে ফসল কাটার মৌসুম শুরুর আগেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে ব্যানার স্থাপনের মাধ্যমে এই ঋণের ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


বৈশ্বিক সংঘাতে বাড়ছে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি, অস্থির অভ্যন্তরীণ বাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই নৌপথে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রফতানি বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বর্তমানে তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যার ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের জ্বালানি খরচ ইতিমধ্যে ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসকে আরও উসকে দিচ্ছে।

আর্থিক সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলে এই অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বড় ধরনের নেতিবাচক সংশোধন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অন্তত ৭০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সাথে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস ২০২৬ সালের জন্য তাদের বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে তেলের এই ভয়াবহ সংকটের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি খাতের শক্তিশালী গতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব বজায় রয়েছে। ফিচের মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য প্রবাহ আগামী জুলাইয়ের আগে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার প্রবল প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে। ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বোমার আওয়াজ হাজার মাইল দূরে এই সরু গলিগুলোতেও অর্থনৈতিক ভূকম্পন তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ডলারের অস্থিতিশীল দরের কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন। লোকসান এড়াতে আমদানিকারকরা এখন অতিরিক্ত মজুত করার পরিবর্তে প্রয়োজনভিত্তিক পণ্য আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বাকিতে পণ্য বিক্রি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শিপিং রুট পরিবর্তনের কারণে পণ্য পৌঁছানোর সময় প্রায় ২৫ দিন পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পণ্যের বাজারদরে।

এদিকে দেশের বৈদেশিক পণ্য বাণিজ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২২.২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে দেশে মোট ৫৮.২২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হলেও রফতানি আয় হয়েছে মাত্র ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমদানির তুলনায় রফতানি না বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরণের পণ্যের মূল্য চড়া থাকায় এই ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে প্রবাসীরা ২ হাজার ৯৩২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯.৫ শতাংশ বেশি। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলেও শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট বর্তমানে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান দখলের পথে চীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের পর্যটন অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে শীর্ষ স্থান দখলের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে চীন। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, চীন খুব শীঘ্রই বিশ্বের বৃহত্তম ‘আউটবাউন্ড ট্রাভেল’ বা দেশ থেকে বিদেশে ভ্রমণের বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং পর্যটন বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে চীন বিশ্বমঞ্চে এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত থাকার সুবিধা প্রদান, উন্নত বিমান ও রেল যোগাযোগ এবং প্রবেশপথে অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালুর মতো পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের চীনে আকৃষ্ট করছে। ২০২৫ সালে ৬৮ মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি পর্যটক চীন সফর করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ বেশি। এ সময় পর্যটকদের ব্যয় ১০.৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা করোনা মহামারির পূর্ববর্তী রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ডব্লিউটিটিসি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে চীনের পর্যটন ব্যয় ২২.৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও দেশটি বর্তমানে ১৯২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নতুন পর্যটন জোন, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং থিম পার্ক তৈরির মাধ্যমে চীন তার পর্যটন খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে। সংস্থাটির মতে, ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী পর্যটন খাতে তৈরি হওয়া প্রতি পাঁচটি চাকরির একটি হবে চীনে। আগামী এক দশকে এই খাতের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও সিইও গ্লোরিয়া গ্যেভারা চীনের এই সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু নীতি সংস্কার কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বাড়াতে পারে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, চীনের ঘুরে দাঁড়ানোই তার বড় প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, চীন যদি এই গতি বজায় রাখে এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করে, তবে তারা অচিরেই পর্যটন অর্থনীতিতে বিশ্বের অবিসংবাদিত শীর্ষ দেশে পরিণত হবে। চীন সরকার পর্যটন খাতকে বর্তমানে তাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।


এল নিনোর প্রভাবে এশীয় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল রূপ ও ‘এল নিনো’র প্রভাবে চলতি সপ্তাহে এশিয়ার প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবাণী অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে ঘাটতির তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের রফতানি মূল্যে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভিয়েতনামে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টনে প্রায় ১০ ডলার বেড়ে ৪১৫-৪২০ ডলারে পৌঁছেছে। মে মাসে দেশটির চাল রফতানি গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদী হুমকির কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। থাইল্যান্ডেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম ৪৫০ ডলারে স্থির থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় চালের দাম এখনও তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্থানীয় ভোক্তা ও কৃষক উভয়েই বড় ধরণের সংকটে পড়েছেন। দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দাবদাহ বোরো ধান কাটার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ধানের ফলন কমে যাচ্ছে এবং প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে ধান দ্রুত শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ লাখ টন চালের ক্ষতি হওয়ার পর এই নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে।

বৈশ্বিক বাজারে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাপপ্রবাহের দ্বিমুখী সংকটে বাংলাদেশের বাজারে চালের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম এখনও উচ্চপর্যায়ে অবস্থান করছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, এল নিনো পরিস্থিতি নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা সমগ্র এশিয়ার কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাই এখন চালের বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।


সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর শীর্ষ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে সরকার। সোমবার (৮ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের ঘোষণা দেয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কাজী শায়রুল হাসানকে ব্যাংকটির পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান সিকদারকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আগামী তিন বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কাজে যোগদানের আগে উভয়কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করতে হবে।

ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান বেসরকারি আর্থিক খাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। এর আগে তিনি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (সাবিনকো)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ সময় সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, নতুন এমডি আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ব্যাংকিং সেক্টরে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন গঠিত এই ব্যাংকটির পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া ও আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একত্রিত করে এই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের এই নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। মূলত এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


banner close