বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আবার ঢালাও দরপতন হলো দেশের শেয়ারবাজারে। স্বল্প মূলধনি কিছু কোম্পানির শেয়ারদর লাফ দিলেও গত কয়েক মাসে লাফিয়ে বাড়ছিল এমন কোম্পানিগুলো দর হারানোয় সূচকের বড় পতন হলো। সূচকের এই পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল তুমুল আলোচিত ওরিয়ন গ্রুপের চার কোম্পানি- যেগুলো গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সূচক বৃদ্ধিতে ছিল প্রধান ভূমিকায়। সেই সঙ্গে বড় মূলধনি কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের দরপতনও এতে ভূমিকা রেখেছে ।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ১৫ পয়েন্টের পর দ্বিতীয় কর্মদিবসে সূচক কমল ৬৫ পয়েন্ট। কিছুটা কমল লেনদেনও। বড় পতনের এই দিনে কেবল ২৫টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৫৩টির আর আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে ১৮২টি কোম্পানির, সেগুলোর সিংহভাগই লেনদেন হচ্ছে বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইসে। লেনদেনও কিছুটা কমেছে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ কোটি ৮৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা কম। রোববার হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৩৪৩ কোটি ১২ লাখ ৪ হাজার টাকা।
এদিন পতনে থাকা কোম্পানিগুলোর দর এক দিনেই এতটা কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের সিইও সুমন দাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্বল্প মূলধনির দর বাড়ছে, এর দুটি কারণ হতে পারে। প্রথমত, বিএসইসি থেকে পেইড-আপ ক্যাপিটাল বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে, যেটা করার পরিকল্পনা করছে কোম্পানিগুলো। যার কারণে ওই দিকে ধাবিত করছে। আর দ্বিতীয়ত, এসব শেয়ারের দর বাড়ানো সহজ হয়, ফলে যারা ওমুক ভাই, তমুক ভাই ফলো করেন, তারা এসব শেয়ারের পেছনে দৌড়ান, এতেই দর বাড়ে।’
তিনি বলেন, ‘বাজারকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। ফ্লোর প্রাইস বা বিভিন্ন সময় যে ২ বা ৫ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর খুব বেশি প্রয়োজন ছিল না। সে সময় যদি পড়ত, একটা সময় গিয়ে মানুষ ঠিকই বুঝতে পারত এবং বিনিয়োগে ফিরে আসত। তবে এখন যদি ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয় তাহলে হয়তো আবার মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে চলে যেতে পারে।’
অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেগুলো তরতর করে বেড়েছিল, সেগুলো তো কমবে। আবার যেগুলো কারণ ছাড়াই কমে যাবে সেগুলো বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক।’
নানা গুজব-গুঞ্জনে কিছু কোম্পানির শেয়ারদর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল, সেগুলোর পতনও হয়েছে সবচেয়ে বেশি। লভ্যাংশ-সংক্রান্ত ঘোষণার কারণে মূল্যসীমা না থাকা দুই কোম্পানি দর হারিয়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। কিছুদিন ধরে লাফাচ্ছিল এমন চারটি কোম্পানি দর হারিয়েছে ৯ শতাংশের বেশি। আরও চারটি কোম্পানি দর হারিয়েছে ৮ শতাংশ করে, তিনটি দর হারিয়েছে ৭ শতাংশ করে। আটটি কোম্পানির দর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি, ১৩টি কোম্পানির দর কমেছে ৫ শতাংশের বেশি, আরও ৮টির কমেছে ৪ শতাংশের বেশি।
বিপরীতে যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে, তার মধ্যে কেবল দুটি করে কোম্পানি আছে, যাদের দর যথাক্রমে ৮, ৭, ৫ ও ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চারটি কোম্পানির দর ২ শতাংশের বেশি ও ৭টি দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। শীর্ষ দশে থাকা ১০টি কোম্পানির সাতটিই স্বল্প মূলধনি। এর মধ্যে একটির দর ১৬ কর্মদিবসে ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ৩৯২ টাকা ৩০ পয়সা।
সূচক পতনে বেশি প্রভাব ওরিয়ন গ্রুপ ও বেক্সিমকোর: তবে দরবৃদ্ধি ও পতনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় এগুলো সূচকে প্রভাব বিস্তার করতে পারে কমই। সূচকের বড় পতন হয়েছে মূলত বেক্সিমকো লিমিটেড, ওরিয়ন গ্রুপের চার কোম্পানি, বড় মূলধনি বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সিমেন্ট, হঠাৎ করে লাফাতে থাকা সি পার্ল, জেএমআই হসপিটাল, আইসিবি ও সোনালী পেপারের দরপতনে। বেক্সিমকো লিমিটেডের ৩.৪৪ শতাংশ দরপতনে ৭.৭৪ পয়েন্ট সূচক কমেছে। ওরিয়ন গ্রুপের চার কোম্পানির মধ্যে বিকন ফার্মা ৫.১ পয়েন্ট, ওরিয়ন ফার্মা ৩.৪৮ পয়েন্ট, কোহিনূর কেমিক্যালস ১.৭৫ পয়েন্ট এবং ওরিয়ন ইনফিউশন সূচক কমিয়েছে ১.৪৩ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি কোম্পানিই সূচক ফেলেছে ১৯.৫০ পয়েন্ট।
ওরিয়নের চার কোম্পানির চিত্র: এই গ্রুপের চারটি কোম্পানিই ওষুধ ও রসায়ন খাতের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মূলধনি ওরিয়ন ফার্মা দর হারিয়েছে ৫.৫১ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ১৩৪ টাকা ৩০ পয়সা। ৭ টাকা ৪০ পয়সা কমে দর দাঁড়িয়েছে ১২৬ টাকা ৯০ পয়সায়। গত ২০ কর্মদিবসে এটি কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১১৬ টাকা ২০ পয়সা, পরে বাড়তে বাড়তে উঠে যায় ১৫৬ টাকা ৫০ পয়সা। শেয়ারদর তরতর করে বাড়তে থাকার সময় লেনদেনও হয়েছে ব্যাপক। এমনও দিন গেছে এক দিনে আড়াই শ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা এখন নেমে এসেছে ৫০ কোটির ঘরে। গত ২৮ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন কোম্পানিটির দর ছিল ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫.৩৬ শতাংশ দর হারিয়েছে স্বল্প মূলধনি কোহিনূর কেমিক্যালস। আগের দিন দর ছিল ৬৩৭ টাকা। ৩৪ টাকা ২০ পয়সা কমে দর দাঁড়িয়েছে ৬০৩ টাকা ৪০ পয়সা। গত ২৮ জুলাই ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৭৯ টাকা ৯০ পয়সা। সম্প্রতি উঠে যায় ৭৫৭ টাকা ৪০ পয়সায়। এই দরে যারা কিনেছেন, তাদের এখন শেয়ারপ্রতি ১৫০ টাকা হারিয়ে গেছে। এই গ্রুপের সবচেয়ে আলোচিত কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন দর হারিয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ বা ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা। আগের দিন দর ছিল ৯৪৭ টাকা ৯০ পয়সা, দিন শেষে দর হারিয়েছে ৯১৩ টাকা। গত ছয় মাসেরও কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ গুণেরও বেশি বেড়ে এক হাজার টাকা ছুঁয়ে পরে নামতে শুরু করেছে। গত মে-জুন মাসেও দর ছিল ৮০ টাকার নিচে, রোববার দর এক হাজার টাকা ছুঁয়ে কমে। গত ২৮ জুলাই ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০৪ টাকা ৭০ পয়সা। এভাবে অস্বাভাবিক হারে দর বৃদ্ধির নেপথ্যে কী, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, এই দর বৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারসাজি আছে কি না। গ্রুপের অপর কোম্পানি বিকন ফার্মা দর হারিয়েছে ৩.১৯ শতাংশ বা ১১ টাকা। আগের দিন দর ছিল ৩৪৪ টাকা ৬০ পয়সা, দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ টাকা ৬০ পয়সা। দিনের একপর্যায়ে দর নেমে এসেছিল ২২১ টাকায়। ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২৪০ টাকা ৬০ পয়সা। বাড়তে বাড়তে তা সম্প্রতি উঠে যায় ৩৯৩ টাকা পর্যন্ত। গত তিন বছর ধরেই কোম্পানিটির শেয়ারদর ব্যাপকহারে লাফাচ্ছে। তিন বছর আগেও ২০ টাকার ঘরে লেনদেন হচ্ছিল শেয়ারদর। এভাবে লাফাতে থাকলেও কোম্পানির ব্যাপক আর্থিক উন্নতি হয়েছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
বেক্সিমকোর চার কোম্পানি ও বন্ডের দরে যা হলো: এই গ্রুপের পাঁচ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেড ৩.৪৪ শতাংশ বা ৪ টাকা ৪০ পয়সা দর হারিয়েছে। আগের দিন দর ছিল ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা, দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সায়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর অনেকটাই কমেছে। এর আগে এক বছরে বেড়েছে ব্যাপক হারে। ২০২০ সালে ফ্লোর প্রাইস দেয়ার সময় শেয়ারদর ১৩ টাকার ঘরে থাকলেও গত বছর দর ১৯০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি তাদের ব্যবসাও বেড়েছে। তবে গত নভেম্বর থেকে টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা বড় লোকসানে আছেন। ফ্লোর প্রাইস দেয়ার দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ১১৪ টাকা ২০ পয়সা। সেখান থেকে দর ১৪৬ টাকা হয়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা হারিয়ে যাওয়া টাকা ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন, তবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে দর আবার নিম্নমুখী হয়ে যাওয়ায় সে আশা আর পূরণ হয়নি।
ওরিয়ন গ্রুপের মতো এই গ্রুপের সব কোম্পানি দর হারায়নি। বেক্সিমকো ফার্মার দর এদিন স্রোতের বিপরীতে গিয়ে ১.৩১ শতাংশ বা ২ টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে। আগের দিন দর ছিল ১৬০ টাকা ২০ পয়সা, দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬২ টাকা ৩০ পয়সা। এই কোম্পানিটির দর গত দুই বছরে অনেকটাই বেড়েছে। ৯০ টাকার কম থেকে বাড়তে বাড়তে গত বছর ২৩৯ টাকা ৪০ পয়সায় উঠে যায়। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর থেকে ক্রমাগত দর হারাচ্ছে। গ্রুপের আরেক কোম্পানি আইএফআইসি ব্যাংক ফ্লোর প্রাইস থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছে। ১০ পয়সা দর হারিয়ে শেয়ারদর এখন ১১ টাকা ৯০ পয়সা। কমতে পারবে বড়জোর আর ৪০ পয়সা। ব্যাংক খাতের যে কোম্পানিটি গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে, তার মধ্যে আছে এটি। গত বছরের নভম্বেরের তৃতীয় সপ্তাহে দর ওঠে ২১ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে প্রায় অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে।
আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকস ৯০ পয়সা বা ১.৮১ শতাংশ দর হারিয়েছে। আগের দিন দর ছিল ৪৯ টাকা ৬০ পয়সা, দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে গ্রুপের একমাত্র কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদর অনেকটাই বেড়েছে। এই সময়ে ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে দর ৫৮ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠে যায়। এই গ্রুপের গ্রিন সুকুক বন্ড দর হারিয়েছে ১ টাকা। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডের দর আগের দিন ছিল ৮৮ টাকা ৫০ পয়সা, বর্তমান দর ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা।
লাফিয়ে উত্থান, ধপাস করে পতন: ৫ কোটির স্বল্পমূলধনি কোম্পানি অ্যাপেক্স ফুডস। গত জুলাইয়ের ২৮ তারিখেও কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ১৬৫ টাকা ৯০ পয়সা। সেখান থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গতকাল পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১৪ টাকা ৯০ পয়সায়। আজকে লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে দরপতন বা বৃদ্ধির সীমা না থাকায় এক দিনেই কমেছে ১৩.৬৯ শতাংশ বা ৪৩ টাকা ১০ পয়সা। বিশ্বের অন্য বাজারে না ঘটলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ ঘোষণার পরে দর সমন্বয় হতে দেখা যায়। তবে ঘোষিত ২০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ২ টাকার বিপরীতে এই পতনকে শুধু দর সংশোধন বলার উপায় নেই। একই অবস্থা ফারইস্ট নিটিংয়ের। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশের বিপরীতে এক দিনেই দর কমেছে ১৩.০৪ শতাংশ বা ৩ টাকা। ২৮ জুলাইয়ে ১৭ টাকায় লেনদেনের পর তরতর করে শেয়ারদর বেড়ে ২৯ আগস্ট ২৪ টাকা ৫০ পয়সা লেনদেন হয়। এরপর ওঠানামার মধ্যে থাকলেও গতকাল পর্যন্ত ২৩ টাকায় শেয়ার হাতবদল হয়েছে। একেবারে কম না হলেও ৫৭ কোটি টাকার মূলধনি কোম্পানি বিডি কম। ১২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটছে শেয়ারদর। ওই দিন ৩২ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হওয়া শেয়ারটি ১২ অক্টোবর ৭৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়। সেখান থেকে তিন কর্মদিবসে কমে আজকে শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৮ টাকা ৯০ পয়সায়। ৩ অক্টোবর নাভানা সিএনজির শেয়ার ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেনের পর হু হু করে দর বেড়ে বৃহস্পতিবার ৩৫ টাকা ৮০ পয়সায় ঠেকে। এরপর দুই দিনেই কমে দর দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ২০ পয়সায়। আজকে দর কমেছে একদিনে যতটুকু সম্ভব ততটুকু বা ৯.৫৫ শতাংশ। স্বল্পমূলধনি অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের দর ২৮ জুলাইয় ছিল ১২৮ টাকা ৩০ পয়সা। ৩০ আগস্ট ১৬৪ টাকা ৩০ পয়সায় উঠেছিল। এরপর দরপতন হলেও ১২ অক্টোবর শেয়ার বেচাকেনা হয় ১৫৫ টাকা ৩০ পয়সায়। সেখান থেকে কয়েক দিনেই শেয়ারদর কমে আজ ১৩৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এতে ১৪ টাকা ১০ পয়সা বা ৯.১৯ শতাংশ দর কমেছে। আরেক স্বল্পমূলধনি আজিজ পাইপসও দর ধরে রাখতে পারেনি। ১২ সেপ্টেম্বর ৯৬ টাকায় লেনদেন হওয়া শেয়ারদর ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ১৪০ টাকা ২০ পয়সায় ঠেকে। এরপর কয়েকদিনেই দর কমেছে ২৫ টাকার মতো। সোমবার ১১ টাকা ৫০ পয়সা কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৫ টাকা ৬০ পয়সা। এ ছাড়াও লাফিয়ে লাফিয়ে দর বাড়ার পরে ব্যাপকহারে দর কমেছে ফার কেমিক্যাল, পেনিনসুলা চিটাগং, আফতাব অটোমোবাইলস, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, মুন্নু সিরামিকস ও সি-পার্লের মতো কোম্পানির।
শীর্ষ ৫ খাত যেমন: লেনদেনের শীর্ষে ওষুধ ও রসায়ন খাত। সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৬.২৭ শতাংশ। খাতটিতে ৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধি হয়েছে। আর ১০টির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে। আর দরপতন হয়েছে ১৭টির। প্রকৌশল খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ৬টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৫টির লেনদেন হয়েছে আগের দরে। দরপতন হয়েছে ২১টির। তৃতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে ১৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। ১টির দরবৃদ্ধি, ৮টির দরপতন ও আগের দরে লেনদেন হয়েছে ৪টি কোম্পানির। চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সেবা ও আবাসন খাতে। খাতের সবকটি বা ৪টির লেনদেনই হয়েছে দরপতনে। হাতবদল হয়েছে ১১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ১০৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা লেনদেন করে তালিকার পঞ্চম স্থানে ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাত। ৩টির দরবৃদ্ধি, ১টির অপরিবর্তিত দরে ও ২টির লেনদেন হয়েছে দরপতনে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে আবারও দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এপি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজার এবং শেয়ারবাজারেও।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম সকালে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ৭৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে লেনদেনের সময় দাম ১০৬ ডলারের ওপরে ছিল। তিন সপ্তাহ আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এ তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআইয়ের দামও বেড়েছে। এটি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ৬৮ সেন্টে পৌঁছেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এ তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
তেলের বাজারের এই অস্থিরতার প্রতিফলন দেখা গেছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ।
হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচকে দশমিক ৭ শতাংশ পতন হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের সেনসেক্স সূচকে দশমিক ১ শতাংশ পতন দেখা গেছে।
মার্কিন ফিউচার বাজারে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ যথাক্রমে দশমিক ৫ ও দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি শেয়ারবাজার সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।
গত শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
এদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে সময় বৃদ্ধির আবেদন করার জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
নতুন ব্যবস্থায় করদাতারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রবেশ করে জরিমানা ছাড়াই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় নিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ রিটার্ন দিতে না পারলে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে “Time Extension” মেন্যু ব্যবহার করে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করতে পারবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার অনলাইনে আবেদন যাচাই করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত সময় অনুমোদন করতে পারবেন। সময় অনুমোদিত হলে করদাতারা ওই বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে এজন্য করদাতার ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন থাকতে হবে এবং ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
এনবিআর বিবৃতিতে সব সম্মানিত করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে অথবা অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল হওয়ায় আবেদন অনুমোদন বা নামঞ্জুর করার বিষয়টি আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ করদাতা ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। চলতি করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যাদের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়, তারা চাইলে সার্কেল অফিসে লিখিতভাবে অথবা অনলাইনে উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
শনিবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের রিজিওনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট জন জুট, বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)-এর ডিরেক্টর ইমাদ নাজিব আয়েদ ফাখৌরি, বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার ড. গেইল এইচ. মার্টিন, আইএফসি ম্যানেজার উইলফ্রেড তামেগন এবং সিনিয়র এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরিন এ. মাহবুব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ড. মো. কবির আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আলোচনায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ২২০ কোটি ৫০ লাখ (২.২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮০ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে ডিজেল ও পেট্রোল কিনছে সরকার। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়, নিয়মিত চুক্তির বাইরে গিয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন (পেট্রোল) কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সাধারণ ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
সচিবালয়ে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর পর জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতি যতদিন এই চাপ সামাল দিতে পারবে, ততদিন জ্বালানির দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। রাশিয়ার তেল অন্য দেশের মাধ্যমে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রেশনিং ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর অনেক রিফুয়েলিং স্টেশনে এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সরবরাহ কম থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে বরিশাল ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেও। অনেক পাম্পে এখনো আগের মতো সীমা নির্ধারণ করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে এবং একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল নিতে পারছেন।
রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি বলে জানিয়েছেন পাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের দোকান ও বিপণিবিতানগুলোতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে কয়েকটি নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) বিদ্যুৎ বিভাগে অনুষ্ঠিত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়’ বিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সম্মতি জানান। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব বিপণিবিতান ও ব্যবসায়িক স্থাপনার বাইরের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে হবে।
একই সঙ্গে শপিং মল ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো দোকান বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সাইনবোর্ডের আলো নিভিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে তারা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।
বৈঠকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা।
সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদের বোনাস ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে যেন কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার ঢাকার বেইলি রোড এলাকায় মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক ও নন-তৈরি পোশাক খাতে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস অবশ্যই ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।"
তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকা অনুযায়ী প্রস্তুত করে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। সংসদ সদস্যরা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইউসিবিএল, ট্রাস্ট ও প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক ঋণ দিতে গড়িমসি করছে। এসব ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণপ্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "যেসব শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের অহেতুক উত্তেজিত করে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।"
পলাতক মালিকদের এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, "এসব কারখানায় যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।"
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যেকোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সব সময় পাশে থাকবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে।" তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার।"
সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বর্তমানে ২১২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬৪টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১৫৩৫টি কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তিনি বলেন, "মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক নয়, যাদের সামর্থ্য আছে তারা দেবে; তবে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য শ্রমিকদের অনেকেই উসকে দিচ্ছে।"
অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তিনি বলেন, "যেহেতু অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে, আশা করা যায় কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হবে না।"
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, "আপদকালীন তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।"
সভায় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন এবং গাজীপুর জেলার সংসদ সদস্যরা মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করিম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩) ও ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫) সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)-এ সূচকের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও কমেছে।
দিনের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির ২১ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।
লেনদেন শেষে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৯ দশমিক ১৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এদিকে ডিএস-৩০ সূচক ২৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৩ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭১ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৯৯টির, কমেছে ২৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, তৌফিকা ফুড, খান ব্রাদার্স পিপি, ইনটেক লিমিটেড, সি পার্ল ও একমী পেস্টিসাইড।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে— মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিবিএস, বিবিএস কেবলস, ড্রাগন সোয়েটার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ইনটেক লিমিটেড, এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১, গ্রীন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ডমিনেজ স্টিল ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে— আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল, মেঘনা পেট, সায়হাম টেক্সটাইল, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি সোনালী প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিডি থাই ফুড, জাহিন টেক্সটাইল ও সেলভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে।
আগে যেখানে ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ঋণের সীমাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনিরাপদ ঋণ দেওয়া যেত, এখন তা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) জারি করা গাইডলাইনে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় অনিরাপদ ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দৈনন্দিন লেনদেনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গ্রাহক নগদ অর্থ বহনের পরিবর্তে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন গাইডলাইনে গ্রাহক সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেডিট কার্ড–সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতা নির্ধারণ, ঋণসীমা ঠিক করা, সুদের হার, কার্ড ইস্যু ও বিপণন প্রক্রিয়া, বিলিং ও অর্থ আদায়ের পদ্ধতি, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ, জালিয়াতি, লেনদেন নিষ্পত্তি–সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা অনুসরণ করেই ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বিশাল অঙ্কের বার্ষিক লোকসান ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাপানের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা। প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের এই ক্ষতি কোম্পানিটির ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৫৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম এমন বড় আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি প্রকল্প নিয়ে নেওয়া ভুল কৌশলকেই এই ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এবং লোকসানের দায় স্বীকার করে কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের একটি অংশ কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভি প্রকল্পে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিপুল ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয় সামাল দিতে গিয়েই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বপরিকল্পিত তিনটি ইলেকট্রিক গাড়ির মডেল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গিয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে জাপানের এই অটোমোবাইল জায়ান্ট।
এদিকে এই আর্থিক বিপর্যয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার টোকিও শেয়ারবাজারে হোন্ডার শেয়ারের দর ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যারাবিয়ান বিজনেস এ তথ্য জানিয়েছে।
অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রবিবার (১৫ মার্চ) এনবিআরের প্রথম সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদ নওশাদ মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, গত ফেব্রুয়ারির করপর্বের ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন সময়সীমা আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনবিআর আরও জানায়, ই-ভ্যাট সিস্টেমে ধীরগতির কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। করদাতাদের সেই ভোগান্তি কমাতেই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (১ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ই-ভ্যাট সিস্টেমে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের এই অতিরিক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাড়তি সময়ের মধ্যে করদাতারা সহজেই অনলাইনে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও মন্ত্রণালয়ের ‘বাস্তবতা-বিবর্জিত’ রেশনিং প্রক্রিয়ার কারণে নতুন সরকারকে জনগণের কাছে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বিপিসির চেয়ারম্যানসহ কিছু কর্মকর্তা জ্বালানি সচিবকে ভুল তথ্য দিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়াই গত ১০-১২ দিন ধরে সারাদেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে ডিপো খোলা রেখে রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা ‘প্রতারণামূলক কাজ’।
মালিক সমিতির দাবি, সব ডিপোতে তেল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এদিকে তেলবাহী জাহাজ জেটিতে অপেক্ষায় থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাম্পে তেল পৌঁছানোর দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে ডিলাররা সংকটে রয়েছেন। ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাঙ্কলরি ২০০-২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডিপোতে গিয়ে মাত্র ৪ থেকে ৬ হাজার লিটার তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত অভিন্ন মূল্যে তেল বিক্রি করতে হওয়ায় সেই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না।
সংগঠনটির মতে, গত ১০-১২ দিনের এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব আগামী এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও প্রস্তাব করা হয়, সরকার যদি পর্যাপ্ত তেল আমদানিতে সময় নেয় বা অপারগ হয়, তবে সক্ষম ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিয়ে বিপিসিকে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য সরিয়ে কন্টেইনার জট কমাতে ৩৭৮টি কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-অকশন পদ্ধতিতে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর ।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে জানানো হয় যে, বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস নিয়মিতভাবে অখালাসকৃত পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্চ ২০২৬ মাসে ৩৭৮টি কন্টেইনার পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর জারি করা বিশেষ আদেশ নং–৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী ই-অকশন–২/২০২৬ এর আওতায় ৪৯টি লটে মোট ১৮০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেমস ও গাড়ির যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সামগ্রী। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) নির্ধারণ করা হয়নি।
অপরদিকে স্থায়ী আদেশ নং–৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুযায়ী ই-অকশন–৩/২০২৬ এর আওতায় ৭৪টি লটে মোট ১৯৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ, ক্রাফট লাইনার পেপারসহ আরও নানা পণ্য।
নিলাম কার্যক্রমে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। আগ্রহী বিডারদের জন্য মার্চ মাসজুড়ে পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশ কাস্টমস-এর ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী পণ্য খালাস করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ই-অকশন–২/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ২টায় এবং ই-অকশন–৩/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৮ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ২টায় খোলা হবে।
সংস্থাটি বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।