রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডলারের দাম আরও ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৩ ২১:৪৯

ডলারের দাম আরও ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কেনায় ডলারের দাম পড়বে ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা আর আমদানিতে পড়বে ১১০ টাকা ২৫ পয়সা। বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী রোববার থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী ও রপ্তানি আয় কিনতে ডলারের দাম হবে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা ৭৫ পয়সা, আগে যা ছিল ১১০ টাকা। আর আমদানি দায় মেটাতে ডলারের দাম নেওয়া যাবে ১১০ টাকা ২৫ পয়সা, আগে যা ছিল ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে সরকারের ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যাংকও সমপরিমাণ প্রণোদনা দিতে পারবে। ফলে প্রবাসী আয় পাঠালে ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ টাকার কিছু বেশি পাবেন উপকারভোগীরা।

ডলারের জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে সময় সময় বাফেদা ও এবিবি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করে আসছে। এ দুটি সংগঠন মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকসংশ্লিষ্ট। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তারা সময় সময় ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করছে।


নির্বাচিত

বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে প্রণোদনা ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহারের বিপরীতে নতুন আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মিলিতভাবে মোট ৬ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই আর্থিক সুবিধা সরাসরি কোনো সাধারণ ক্রেতা বা বিক্রেতার হিসাবে যুক্ত হবে না; বরং লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্নকারী দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ দেওয়া হবে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস এবং পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের সাথে যুক্ত অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিক্রেতার মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনাকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২ টাকা। অন্যদিকে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ক্রেতার হিসাব বা কার্ড প্রদানকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৪ টাকা। উদাহরণ হিসেবে, ২ হাজার টাকার একটি কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ৪ টাকা পাবে। একইভাবে ১ হাজার টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং পক্ষ ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং পক্ষ ২ টাকা হারে মাসিক ভিত্তিতে এই প্রণোদনা লাভ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের (পিআরএ) মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্সধারী সব বাণিজ্যিক মার্চেন্ট পয়েন্টের বাংলা কিউআর লেনদেনে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে। এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে প্রণোদনার আওতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরের বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি উৎসাহিত হতে পারে।


নির্বাচিত

ফিডের দাম বাড়ায় চাপে পোলট্রি খামারি, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোলট্রি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন দেশের খামারিরা। গত কয়েক দফায় মুরগির খাবার বা ফিডের দাম বাড়ার পাশাপাশি ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের মূল্যও বেড়েছে। এতে অনেক খামারি আগের তুলনায় কম পরিমাণে ফিড ব্যবহার করছেন। ফলে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসান সামলাতে না পেরে কেউ উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ খামার বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ফিড তৈরির প্রধান কাঁচামালগুলোর প্রায় সবকটির দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় উঠেছে। ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা। ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত চালের কুঁড়ার দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা হয়েছে। সরিষার খৈলের দাম ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং সয়াবিন মিলের দাম ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা হয়েছে। ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য প্রোটিন উৎসের দামও বেড়েছে।

ফিডের কাঁচামালের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে ভুট্টার বাজারে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, মার্চ থেকে মে মাসের মৌসুমে প্রতি কেজি ভুট্টা ২৮ থেকে ২৯ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও জুন, জুলাই ও আগস্টে তা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ভুট্টার দাম বেড়েছে। প্রতি টন ২৩৫ থেকে ২৪০ ডলার থেকে দাম বেড়ে প্রায় ২৯০ ডলারে পৌঁছেছে। ফিডের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় ভুট্টার এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে এবং শেষ পর্যন্ত ফিডের বাজারদরেও।

একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামাও আমদানিনির্ভর কাঁচামালের দামে প্রভাব ফেলছে। দেশের ফিড শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন একসঙ্গে ফিডের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ সংকট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলেও দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একটি মানসম্মত ফিড তৈরির মোট খরচের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামাল কেনায় ব্যয় হয়। ফলে ভুট্টা, সয়াবিন মিল, রাইস ব্র্যান ও ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যানের মতো প্রধান উপাদানের দাম বাড়লে ফিড মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে যায়। এ অবস্থায় আগের দামে ফিড বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ, শ্রম ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বাজারদরেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ খাবারের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৫০ কেজির এক বস্তা ফিডের দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্র্যান ও ভুট্টার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। ৫০ কেজির এক বস্তা ব্র্যানের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৭ টাকায় উঠেছে। এর প্রভাবে ৫০ কেজির এক বস্তা পোলট্রি ফিডের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ফিডের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পোলট্রি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যের দামও বাড়ছে। ফলে মুরগি, ডিম, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে খামারিরা পণ্যের দাম পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন পর্যায়ে মুনাফার পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন।

খামারিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে ফিড ব্যবহারের পরিমাণ কমে যাওয়ায়। ব্যয় কমাতে অনেকে মুরগিকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার দিতে পারছেন না। এতে মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত ওজন পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন চক্র দীর্ঘ হলে একদিকে খাবার ও অন্যান্য খরচ বাড়ে, অন্যদিকে বাজারে মুরগির দাম অনুকূলে না থাকলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডি-অয়েলড রাইস ব্র্যান ও রাইস ব্র্যানের সরবরাহ নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব কাঁচামাল ফিড উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে স্থানীয় কাঁচামালের ক্ষেত্রে আগে দেশের ফিড ও প্রাণিজ খাদ্যশিল্পের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করে অভ্যন্তরীণ শিল্প ও উৎপাদকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়লে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট, কর ও শুল্ক সাময়িকভাবে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে ফিডের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

ফিডের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের পোলট্রি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মাংস, ডিম, মাছ ও দুধের বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিলে বাজারে সরবরাহের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার করা এখন প্রাণিজ খাদ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের বাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে সাময়িক পতনের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই মাসে কিছুটা শ্লথগতির পর আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশের বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। এর ওপর ভর করে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) যুক্তরাজ্য থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে সর্বমোট ৯১৫ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৮২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রথম দুই মাসেই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার। এর আগে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, তবে আগস্টের দুই অঙ্কের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সেই প্রাথমিক ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের মাসিক গড় পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে মোট ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল, যার মাসিক গড় ছিল ৩৬৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিগত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মাসিক গড় রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া মাত্র দুই মাসেই গত পুরো অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বাজার যুক্তরাজ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থবছরের সূচনালগ্নেই শীর্ষ এই বাজারে রপ্তানির ইতিবাচক ধারা দেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

উৎপাদন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমছে মৎস্য খাতে, বিপন্ন নদী-হাওরের মাছ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মৎস্য খাতে উৎপাদনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমান্বয়ে শ্লথ হয়ে আসছে। সরকারি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলেও প্রবৃদ্ধির সূচক নেমে এসেছে গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে। বাণিজ্যিক চাষভিত্তিক মৎস্য উৎপাদনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ও নদী-হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এক গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছিল ৪৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। পরবর্তীতে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার টন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টনে উন্নীত হয় এবং প্রবৃদ্ধির হার পৌঁছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও ৩ দশমিক ২৮ শতাংশে। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ৫০ লাখ ১৮ হাজার টন এবং সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫১ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছালেও উৎপাদন বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমে মোট উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও সামুদ্রিক উৎস থেকে আহরণ হ্রাস পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের অবক্ষয় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও মৎস্য খাতে এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মাছ ও জলজ খাবারের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৮২ লাখ টনে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক উৎসের চেয়ে কৃত্রিম মৎস্যচাষ বা অ্যাকুয়াকালচারের অংশ ছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ টন। সংস্থার ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে মাছ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৎস্যচাষ বা কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত মাছই এখন মানুষের খাবারের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। এটিকে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা মাছের সিংহভাগই এখন সরাসরি খামারের চাষ থেকে আসছে। বর্তমানে বিশ্বে মাথাপিছু বার্ষিক মাছ খাওয়ার পরিমাণ ২০ দশমিক ৭ কেজিতে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশ্বজুড়েই অপরিকল্পিত চাষের কারণে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামুদ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক মাছের চারণভূমি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে আধুনিক বাণিজ্যিক খামারব্যবস্থা। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলা এককভাবে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ মাছ সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় চার লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মাছের খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভর কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম, পোনা, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রমের বাড়তি খরচের কারণে প্রান্তিক চাষিদের মুনাফা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত বর্ধনশীল জি-থ্রি রুইয়ের মতো আধুনিক জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অনেক অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক চাষের সম্প্রসারণ ঘটলেও দেশের প্রাকৃতিক উন্মুক্ত জলাশয় ও হাওরাঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজাতি এখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে নিমজ্জিত। দেশের দ্বিতীয় রামসার আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত দুই দশকে প্রায় অর্ধেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ সালে হাওরটিতে যেখানে ১৪১ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি ছিল, তা ২০১৫ সালে কমে ১৩৪টিতে, ২০২২ সালে ৯৩টিতে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ৭৬টি প্রজাতিতে নেমে এসেছে। চিতল, নানীদ, মহাশোল ও বাঘআইড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ এখন হাওরে বিলুপ্তপ্রায়।

প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলোতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সর্বনাশা চায়না দুয়ারি ও কিরণমালা ফাঁদের অবাধ ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ, জেনারেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পোনা নিধন, অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও কয়লা পরিবহনের মাধ্যমে পানি দূষণ এবং অতিরিক্ত পলি জমার কারণে নদী ও বিলের গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় জলজ প্রতিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ছে। বাস্তুসংস্থানের এই বিপর্যয়ের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত এক দশকে পরিযায়ী ও দেশি পাখির বিচরণ প্রায় ৭৭ শতাংশ কমে গেছে; যেখানে শীত মৌসুমে লাখ লাখ পাখি আসত, সেখানে ২০২৫ সালের জরিপে পাখির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র সাড়ে ২২ হাজারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি আয় টেকসই করতে হলে কেবল উৎপাদন বাড়ানোর গতানুগতিক কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে প্রজনন নিশ্চিত করতে মূল বিলগুলোকে স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য ঘোষণা, প্রাকৃতিক নদী ও খালের নিয়মিত ড্রেজিং, হাওরের জলজ বন পুনরুদ্ধার, দেশীয় মাছের পোনা ছাড়ার জন্য বিল নার্সারি স্থাপন এবং গভীর সমুদ্রে আধুনিক অনুসন্ধান জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মাছের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি চাষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি টেকসই বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য খাত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


নির্বাচিত

আসিয়ান বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল ডিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবামূলক খাতের রপ্তানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সুবিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সহজে প্রবেশের সুযোগ গ্রহণ করতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সভায় ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের পক্ষে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোর আসিয়ান বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে মালয়েশিয়া একটি কৌশলগত সেতুবন্ধ হতে পারে। অনুষ্ঠানে এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার অত্যন্ত দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রধানত জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করলেও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তাবাজারে অন্যান্য মালয়েশীয় পণ্য বিপণনের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সভায় বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেয় বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল। সেখানে এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক জানান, বেসরকারি খাতের কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব। মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নিষ্ঠাবান ও দক্ষ কর্মীরা দেশটির শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং তাঁদের অর্জিত আধুনিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে স্বদেশের উৎপাদন খাতের বিকাশে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বার ও এফএমএমের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে সই করেন তাসকীন আহমেদ ও জ্যাকব লি চোর কক। পাশাপাশি উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের পরিচালক নাইম আব্দুল রহমানসহ কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী এফবিসিসিআই ও মালাগা চেম্বার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও স্পেনের বন্দরনগরী মালাগার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একমত হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং মালাগা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সাথে প্রযুক্তি বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শুক্রবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার মালাগা শহরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে মালাগা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন। আলোচনায় এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক উল্লেখ করেন যে, মালাগা অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই একক নির্ভরতা কমিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ, সিরামিক, পাটজাত পণ্য ও চামড়াজাত সামগ্রী আমদানির জন্য স্প্যানিশ উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মালাগার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সরেজমিনে সম্ভাবনা যাচাই করতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মালাগার উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন মালাগা থেকে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের স্পেনের প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এর প্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদল মালাগার বিশ্বখ্যাত টেকনোলজি পার্কের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী সুবিধাকে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিগত সহায়তা আদান-প্রদান, আধুনিক কৃষির বিকাশ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ জোরদারে দ্রুততম সময়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উক্ত বাণিজ্য বৈঠকে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর এবং মালাগা অফিশিয়াল চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি, সার্ভিসেস অ্যান্ড নেভিগেশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস্থার মার্তিনেজ রেয়েসসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

এবার পূজায় ভারতে যাচ্ছে না ইলিশ, আমদানিও সম্পূর্ণ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ভারতে কোনো ইলিশ মাছ রপ্তানি না করার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ভারত থেকে সম্প্রতি শুরু হওয়া ইলিশের আমদানি কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর পূজার মৌসুমে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর যে রীতি প্রচলিত ছিল, এবার তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওপার বাংলার মাছপ্রেমী ও আমদানিকারকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ ইকোনমিক টাইমসকে জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারির মাধ্যমে ইলিশসংক্রান্ত সকল অভ্যন্তরীণ ছাড়পত্র বাতিল করেছে বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিত। তবে এবার নির্ধারিত সেই সময় পার হয়ে গেছে। এছাড়া আগামী ৭ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। ফলে সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় এবার ভারতে আর ইলিশ প্রবেশের সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও যেখানে বিশেষ সুবিধা মিলেছিল, সেখানে এবার তা না পাওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ইলিশের সমস্ত বাণিজ্য এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে রপ্তানি সচল রাখার লক্ষ্যে গত আগস্ট মাসেই ভারতীয় আমদানিকারকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করলেও ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজার উপহার ও উৎসবকালীন বিশেষ ছাড় হিসেবে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে আসছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ভারত ৫০০ টন ইলিশ আমদানি করে। এরপর ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন, ২০২১ সালে ১ হাজার ২০০ টন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩০০ টন, ২০২৩ সালে ৫৮৭ টন এবং ২০২৪ সালে ৫৭৭ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছিল; যা সর্বশেষ বছরে নেমে আসে প্রায় ১৫০ টনে।

তবে চলতি বছরে দুই দেশের ইলিশ বাণিজ্যে এক ব্যতিক্রমী চিত্র তৈরি হয়েছিল। বিগত দুই মাসে ভারতের গুজরাটের ভারুচ এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া থেকে উল্টো ৫০০ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়, যা চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের মাধ্যমে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি রপ্তানি প্রক্রিয়াও স্থগিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার ইলিশের আদান-প্রদান সম্পূর্ণ থমকে গেছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বস্ত্র, ওষুধ, ভৌত অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভোগ্যপণ্য উৎপাদন খাতে বিপুল বাণিজ্য ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের বাজারের এ সুবিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো। শুক্রবার শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ও কৌশলগত উদীয়মান বাজার হিসেবে উল্লেখ করে মাদ্রিদ চেম্বার সভাপতি জানান, দেশটি বর্তমানে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দৃঢ় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, আধুনিক পরিবহন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, টেকসই অবকাঠামো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সবুজ বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

সেমিনারে স্প্যানিশসহ ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি জানান, সরকার বিদেশি মূলধন আকৃষ্ট করতে নানামুখী বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি বরাদ্দের মতো বিশেষ সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এসব প্রকল্প থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছু বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার সম্ভাবনা অত্যন্ত আকর্ষণীয় উল্লেখ করে তিনি স্পেনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর প্রেক্ষিতে আগামী নভেম্বর নাগাদ একটি উচ্চপর্যায়ের স্প্যানিশ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা নিশ্চিত করেছে মাদ্রিদ চেম্বার।

মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এ সেমিনারে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, শিল্পপ্রতিষ্ঠান মলিন্স-এর এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভার-এর সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস। এছাড়া ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তথ্য তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধি নাহিয়ান রহমান রোচি এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। উল্লেখ্য, ইউরোপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হকের নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ১১ দিনের সরকারি সফরে ইউরোপে অবস্থান করছে।


নির্বাচিত

পুঁজিবাজারে টানা দুই সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক টানা দরপতন কাটিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। আকর্ষণীয় মূল্যে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার পাওয়ার সুযোগে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে বাজারের এই পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাজারের টেকসই উন্নতির সামনে নতুন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে উৎপাদন, সরবরাহ ও সামগ্রিক পরিবহন ব্যয়ের ওপর। এতে তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়ে মুনাফায় টান পড়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে ব্যাংক ঋণের চড়া সুদহার কমানোর প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হতে পারে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নতুন করে মূলধন বিনিয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

এমন বহুমুখী শঙ্কার মাঝেও বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে বেশ চাঙাভাব লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচকের উত্থান এবং দুই দিন দরপতন হয়েছে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিগত দুই সপ্তাহে সূচকটিতে মোট ৬৩ পয়েন্টের ইতিবাচক সংযোজন ঘটল। এছাড়া বাছাই করা ৩০টি ব্লু-চিপ কোম্পানির ডিএস-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পালেও ব্যাপক গতি এসেছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহের ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার চেয়ে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। এর ফলে দৈনিক গড় লেনদেন ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৫২টি প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডের দাম বেড়েছে, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ওরিয়ন ইনফিউশন এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৫ শতাংশ অংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। এছাড়া ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সাধারণ বিমা এবং ১৩ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। একক কোম্পানি হিসেবে প্রায় ১১০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল করে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এরপরের অবস্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সায়হাম টেক্সটাইল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক সূচক ক্যাসপি ১৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯১২ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ১২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও বর্ধিত জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা কোম্পানিগুলোর আগামী প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তার ওপরই নির্ভর করছে পুঁজিবাজারের এই গতিশীলতার ভবিষ্যৎ।


নির্বাচিত

বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সাময়িক স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের, কৌশলগত সংকট বহাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সাময়িকভাবে কিছুটা সময় পেলেও, বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দ্বন্দ্ব মেটানোর সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি এক জাঁকজমকপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বৈঠক পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই দুই নেতা আরও দুবার বৈঠকে বসবেন। তবে শীর্ষ এই দুই নেতা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করলেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান সংকট, প্রতিরক্ষা খাত, বিরল খনিজ উপাদান এবং শিল্পনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই দেশের গভীর মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান। এ বিষয়ে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল রাসেল মন্তব্য করেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো তীব্র মতবিরোধ চলছে।

দ্য এশিয়া গ্রুপের পরামর্শক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক মনে করেন, অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তরিক—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হলে বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফলের প্রয়োজন হবে। ক্রিটেনব্রিঙ্কের ভাষ্যমতে, পূর্ববর্তী আলোচনাগুলোতে চীন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবে তারা যথাযথভাবে পূরণ করেনি বলে মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন। ফলে বেইজিংয়ের এমন ভূমিকায় ওয়াশিংটনের ভেতরে এক ধরনের গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর আগে দুই দেশ পরস্পরের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করে, যা একপর্যায়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণ সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিরল খনিজ উপাদান রপ্তানিতে আরোপিত বিধিনিষেধ এক বছরের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয় বেইজিং।

নভেম্বর মাসেই এই চুক্তির মূল মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। শুক্রবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, ওয়াশিংটন মূলত এই বাড়তি সময়কে ‘কমপ্লায়েন্স পিরিয়ড’ বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় হিসেবে দেখছে। ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্কের মতেও মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে চীন চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই করছে—এর বেশি নয়। তাঁর ভাষায়, ‘দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পরিস্থিতি টেকসই নয়।’

অন্যদিকে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মেরি লাভলি জানান, স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সিদ্ধান্ত। চীন এই চুক্তি আরও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য নবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিরল খনিজ বা বিশেষ ধরনের মাটি দিয়ে তৈরি চুম্বকের বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ফলে পুরো পরিস্থিতিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য চীনের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিতে চাইছে না ওয়াশিংটন। লাভলি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি অতীতের মতো এখন চীনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।


নির্বাচিত

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দুর্বল মার্কিন ভোক্তা আস্থা

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের আস্থা চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সার্ভেস অব কনজিউমার্স’-এর তথ্যানুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা আস্থা সূচকের চূড়ান্ত মান কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা গত আগস্টে ছিল ৫১ দশমিক ৭ পয়েন্ট। তবে এটি জরিপের প্রাথমিক হিসাব ৪৭ দশমিক ৮ পয়েন্টের চেয়ে কিছুটা ভালো। এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা সূচকটি ৪৭ দশমিক ৬ পয়েন্টে নামার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

বছরের শুরুর তুলনায় অর্থাৎ জানুয়ারি মাসের চেয়ে সূচকটি সামগ্রিকভাবে ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ বিষয়ে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় ভোক্তাদের বর্তমান এবং আগামী এক বছরের সম্ভাব্য ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ১০ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।

জরিপটির পরিচালক জোয়ান সু বলেন, ‘সাক্ষাৎকারগুলোতে সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের মধ্যেই একটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐক্যমত্য দেখা গেছে যে, বছরের শুরুর তুলনায় সামগ্রিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘চলতি মাসে আস্থায় বড় ধরণের ধস নামার পর দেখা গেছে, রিপাবলিকান সমর্থকদের আস্থা ২০২৬ সালের জানুয়ারির তুলনায় এখন ২০ শতাংশ কমেছে এবং একই সময়ে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই পতন দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশে।’

এদিকে জরিপে আগামী এক বছরের সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোক্তাদের প্রত্যাশার পারদ আগস্টের ৪ দশমিক শূন্য শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এই ১২ মাসের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা যেখানে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখান থেকে তা অনেকটাই বেড়েছে। এছাড়া টানা তিন মাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকার পর আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোক্তাদের গড় প্রত্যাশাও কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আভাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরাজমান সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সমঝোতার আভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিট। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো সপ্তাহজুড়ে চলা ব্যাপক অস্থিতিশীলতার অবসান ঘটিয়ে ইতিবাচক লেনদেনের মধ্য দিয়েই মার্কিন শেয়ারবাজারে সপ্তাহটি শেষ হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন বার্তা বিশ্ববাজারে নানামুখী প্রভাব ফেলে।

সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে অপরের প্রতি কঠোর বক্তব্য রাখলেও, তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার রূপরেখা পেশ করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্রিফিং ডটকমের বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইরান পূর্বশর্তগুলোতে কোনো ছাড় না দেওয়ায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের এই প্রস্তাবের ইতিবাচক প্রভাব আর কতদিন থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।’

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এডওয়ার্ড জোন্সের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো কোরকাফাস। এমন আশাবাদের কারণে শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি কমে যায় এবং দিনের সিংহভাগ সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পুঁজিবাজার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সামগ্রিক বাজারের প্রতিফলক হিসেবে পরিচিত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকেও ০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কোরকাফাস আরও উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান সুদের হার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা একদিকে বাজারে চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে শক্তিশালী করপোরেট আয় ও অর্থনীতির বলিষ্ঠ ভিত্তি বাজারকে টেকসই রাখছে। মূলত এই দুই বিপরীতমুখী শক্তির মধ্যেই বাজারে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে।

হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এসব বৈশ্বিক ঝুঁকির জেরে সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ইল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সরকারকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা বাড়তি মুনাফা দাবি করছেন। ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে এবং জাপানের সরকারি বন্ডের ইল্ডও কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। পাশাপাশি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার স্বার্থে ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পথ ধরে তারাও আগামী মাসগুলোতে সুদের হার বাড়াতে পারেন। এ পদক্ষেপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে এজে বেলের বাজার বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে জানান, ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ‘তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক’ বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে দুই পরাশক্তি তাদের চলমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত আরও দুই মাস বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


নির্বাচিত

জেদ্দায় ফ্যাশন এক্সপোতে অংশ নিল বাংলাদেশের ১১ প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের জেদ্দায় আন্তর্জাতিক পরিসরে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো-২০২৬’। জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই বৃহৎ মেলায় বাংলাদেশের ১১টি তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অর্থায়ন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সার্বিক সহায়তায় সেখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেদ্দা চেম্বার অব কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান ইমাদ মোহাম্মদ আল আবউদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সৌদি ফেডারেশন অব চেম্বারের সদস্য ও সাউথ ইস্ট এশিয়া রিজিওনাল বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী বোর্ড সদস্য ওসামা কোউকানদি। এ সময় কনস্যুলেটের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সৌদি আরবের বাণিজ্যিক আমদানিকারক, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জাকারিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, আলেয়া এপারেলস লিমিটেড, এম এস এএইচ কিউ অ্যাপপেরেলস, মডেস্ট অ্যাট্যায়ার বাই জাহান, ইতন ফ্যাশনস লিমিটেড, স্বপ্নীল হাউজ, বনুম গার্মেন্টস লিমিটেড, বেল বটম লিমিটেড, মার্কার, সাওদা ফ্যাশন ও আল নূর গার্মেন্টস লিমিটেড। এর পাশাপাশি ইপিবির পৃথক একটি প্রদর্শনী বুথে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, বস্ত্র খাতের বিশ্বমানের উৎপাদন সক্ষমতা এবং রপ্তানিযোগ্য বহুমুখী পণ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রদর্শনীর আয়োজক সংস্থা পিরামিডস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে ৫৫০টিরও বেশি স্টল বসেছে এবং বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

banner close