শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
২৮ চৈত্র ১৪৩২
সাক্ষাৎকার

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুপারশপের প্রসার, পরিধি বাড়াতে হবে: সাব্বির নাসির 

স্বপ্নের সিইও
আপডেটেড
১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৫:৩৫
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৫:৩৪

মধ্য কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা এখন নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম বা উচ্চমূল্যস্ফীতি। কেন দফায় দফায় দাম বাড়ছে তা নিয়ে যখন সবাই উদ্বিগ্ন, তখন দেশের বৃহৎ চেইন সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র প্রধান নির্বাহী সাব্বির হাসান নাসির দৈনিক বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, কৃষক, উৎপাদক, আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা দোকান পর্যন্ত সর্বত্রই সমন্বিত নীতিমালার অভাব। তিনি আরও বলেন, জবাবদিহি বাড়াতে হলে পুরো প্রক্রিয়াকে উন্নত বিশ্বের আদলে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এ জন্য দেশের সুপারশপগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার সুলতান আহমেদ

বাংলাদেশের মতো কম আয়ের দেশে সুপারশপের ভবিষ্যৎ কী?

সাব্বির হাসান নাসির : বাংলাদেশে সুপারশপের ব্যবসা ‘আগোরা’র হাত দিয়ে শুরু হয়। শুরুতে খুব এলিট ক্লাসের গ্রাহকরা শুধু এখানে কেনাকাটা করতে আসতেন । ঢাকার অভিজাত এলাকায় ছিল তাঁদের আউটলেট । এরপর ‘স্বপ্ন’সহ অন্যান্য কিছু ব্র্যান্ড ‘সুপারশপ ফর অল’ এ ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০১২ সালের দিকে এটা বিস্তৃত হতে শুরু করে, তখনো পুরো মার্কেটের শূন্য দশমিক তিন শতাংশ ছিল সুপারশপের দখলে, যা এখন ২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ পুরো মার্কেটে যত বেচা-বিক্রি হয়, তার মাত্র ২ শতাংশ এখন সুপারশপের হাতে। অন্যান্য দেশের কথা যদি বলি, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এর মার্কেট শেয়ার ৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৩ শতাংশ, ফাস্ট ওয়ার্ল্ডে ৬০/৭০ শতাংশ, কোথাও কোথাও ৮০/৯০ শতাংশ। উন্নত বিশ্বে এত বেশি হওয়ার পেছনে একটা কারণ মাথাপিছু আয়। মাথাপিছু আয় যত বাড়ে সুপারশপের পরিধি তত বাড়ে। কারণ গ্রাহকের কাছে তখন স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাজারের পরিবেশ ও সময়ের দাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে সরকারের স্বদিচ্ছা। সরকার যদি আসলেই চায় মডার্ন ট্রেড গড়ে তুলতে, যেখানে জবাবদিহি থাকবে, তাহলে সেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে ব্যাংক, প্রাইভেট ইক্যুইটি ও প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ। অর্থাৎ বড় বিনিয়োগকারীদের এ খাতে এগিয়ে আসা। আমাদের দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে, এখন প্রশ্ন আসবে সরকার সত্যিকার অর্থেই চায় কি না মডার্ন ট্রেডের বিকাশ হোক। আমরা যদি মাথাপিছু আয় ভারতের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে আমাদের বাজারের অন্তত ৫/৬ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা ছিল সুপারশপের দখলে। এখানেই প্রশ্ন আসে, সরকার কি সত্যিকার অর্থেই চায় এই সেক্টরের উন্নয়ন করতে? আমার কাছে মনে হয় না তারা সেটা চায় ।

কেন আপনার মনে হচ্ছে সরকার চায় না?

সাব্বির হাসান নাসির: কারণটা খুব পরিষ্কার। যদি তারা সত্যিকার অর্থেই চাইত তাহলে শুধু সুপারশপের ওপর ৫% হারে ভ্যাটের ব্যারিয়ার দিয়ে রাখত না। বাইরে থেকে কিছু কিনলে আপনার কোনো ভ্যাট নেই অথচ সুপারশপ থেকে নিলে ৫ শতাংশ ভ্যাট। আমাদের এই ৫% ভ্যাট অনেক ক্ষেত্রেই ডিসকাউন্ট দিতে হয়, যা প্রফিট মার্জিনকে অনেক নাজুক করে দেয়। যদি সরকার চাইত তাহলে আমাদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করত, এভাবে বৈষম্য করত না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কেন সরকার এটা করছে না? সে প্রশ্নের উত্তরে আমার কাছে যেটা মনে হয়, তা হচ্ছে সরকার একপ্রকার ভয় পায় যে, ইনফরমাল বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, সুপারশপের প্রসার বাড়লে সেটা না উচ্ছেদ হয়ে যায়। সেখানে যে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে, তা বন্ধ হয়ে যায় কি না। আবার সরকার এটাও ভাবতে পারে যে, সুপারশপ তো বড়লোকদের বাজার, এখানে যাঁরা বাজার করেন ৫ শতাংশ ভ্যাট তাদের কাছে কোনো বিষয়ই না। সুপারশপ এখন আর সাধারণের বিলাসিতা নয়। একটা নারীর নিরাপদ বাজার, মধ্যবিত্তের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সম্ভার। আমি মনে করি, সরকারের এখন ভাবা উচিত ১৮ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে জবাবদিহি আনা গেলে মূল্যস্ফীতি সহজেই কন্ট্রোল করা সম্ভব। এ ছাড়া, ফুড সেফটি নিশ্চিত করতে চাইলে সুপারশপের বিকল্প নেই। খোলাবাজারে আপনি সহজে কাউকে ধরতে পারছেন না, এখানে তো চার-পাঁচজন রিটেইল কোম্পানিকে জবাবদিহিতায় আনতে পারছেন। আবার যদি ভ্যালু চেইনের স্বচ্ছতার প্রশ্ন আসে, তাহলে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। পুরো পৃথিবীতে এ কারণেই সুপারশপ ব্যবস্থা এত জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, এটা একধরনের সভ্যতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকও। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা সেখানে যেতে পারছি না। বড় কোম্পানিগুলোকে দেখুন তারাও খুব বেশি আসছে না এখানে বিনিয়োগ করতে। তারা ভাবছে এখানে লাভ করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। আবার ব্যাংকগুলোও অনেক ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না এ খাতে ঋণ দিতে।

অনেক গ্রাহকের এমনকি ভোক্তা অধিদপ্তরেরও অভিযোগ রয়েছে সুপারশপে দাম বেশি। আপনি বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে পারে সুপারস্টোর, কীভাবে?

সাব্বির হাসান নাসির: এটা ওনাদের ভুল ধারণা। আমি বলব প্রাইসিং কীভাবে হয়, কীভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ে তা না জেনেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে। মনে করেন, পেঁয়াজ কিংবা আলু যা নিয়ে এখন খুব আলোচনা হচ্ছে। আমরা কখনই পাইনি এসব চাষ করে কৃষক খুব লাভ করেছে। আবার যারা খুচরা ব্যবসা করছে তারাও এটা করে বাড়ি-গাড়ি করছে তাও নয়। তাহলে বাড়তি দাম যাচ্ছে কোথায়? রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নে প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে। বাজারে আমাদের শেয়ার মাত্র ২ শতাংশ, তাহলে আমরা কীভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারি? সরকারের উচিত ভ্যালু চেইনের সব স্টেকহোল্ডারদের তথ্য নিয়ে, ডেটা নিয়ে কাজ করে সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা।

আপনি বলছিলেন মূল্যস্ফীতি কমানোর কথাও- সেটা কীভাবে?

সাব্বির হাসান নাসির: আপনি দেখবেন আমরা প্রচুর মূল্যছাড় দিই। আমরা যেহেতু একটা বড় অ্যামাউন্ট একসঙ্গে কিনি তাই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমরা বার্গেনিং করে কিছুটা কমে কিনতে পারি। আমাদের মডার্ন ট্রেডের শেয়ার এখনো অনেক কম। এই সীমিত শেয়ার নিয়েও আমরা যেসব ছাড় দিচ্ছি, তা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই বাজার থেকে অনেক অনেক কম। আমাদের শেয়ার আরও বাড়লে বাজার ব্যবস্থার ওপর আমাদের ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ সহজ হতো।

গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে, সুপারশপে ফ্রেশ পণ্য পাওয়া যায় না। সেটা কেন?

সাব্বির হাসান নাসির: আমাদের অধিকাংশ কৃষিপণ্য আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই কিনে থাকি। তবে আমরা ফ্রেশ রাখার জন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করি না। এ জন্য বাজারের মতো হয়তো ফ্রেশ মনে হয় না। এ ছাড়া মাংসের মধ্যে দেখবেন আমরা কোনো ওয়াটারিং করি না, যেটা বাজারে পাবেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করি ফ্রেশ রাখার জন্য।

আপনি ভ্যাট বৈষম্যের কথা বলছিলেন, এখনো ইসিআর মেশিন সব ব্যবসায়ীকে দেয়া সম্ভব হয়নি। তাহলে ভ্যাটের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কীভাবে আসবে?

সাব্বির হাসান নাসির: দেখুন ইসিআর মেশিন প্রজেক্ট বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এনবিআর চেষ্টা করে যাচ্ছে সব ব্যবসায়ীর কাছে এটা পৌঁছে দিতে। সত্যি বলতে এ কাজটা সহজ নয়, বেশ কঠিন। আমি বহু আগেই বলেছিলাম এত ঝামেলা না করে উৎপাদন পর্যায়ে সরাসরি ৫% ভ্যাট বসিয়ে দিতে। কিন্তু এনবিআর তা করেনি। এটা করতে পারলে ভ্যাট আদায় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকত না। আদায় কয়েকশ গুণ বেড়ে যেত, স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হতো। ইন্ডিয়াতে এ ব্যবস্থা জিএসটিতে রয়েছে।

স্বপ্নের সফলতা আসে আপনার হাত ধরে, গ্রাহকদের উদ্দেশে কী বলবেন?

সাব্বির হাসান নাসির: আমরা স্বপ্ন করেছি মূলত মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে। আমরা এটা অনুভব করি মধ্যবিত্ত মানুষ এখন বেশ কষ্টে রয়েছে। তাদের কষ্ট কীভাবে লাঘব করা যায়, সেটা সবসময় আমাদের ভাবনায় থাকে। আমরা গ্রাহকদের সেন্টিমেন্ট বোঝার চেষ্টা করি, তারা কী ধরনের পণ্য কিংবা অফার প্রত্যাশা করেন, তা নিয়ে ভাবি। এ জন্য দেখবেন স্বপ্নের ডিসকাউন্ট অফার সবচেয়ে বেশি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমাদের মতো কম দামে আপনি খোলাবাজারে অনেক পণ্য পাবেন না। শুধু তাই না, আমরা প্রতিটি কাস্টমারের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমরা পণ্যের কোয়ালিটি নিয়ে বিন্দুমাত্র কম্প্রোমাইজ করি না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে স্বপ্ন। তাই বলব, স্বপ্নের সঙ্গে থাকুন। এটা আপনাদের প্রতিষ্ঠান। নিজেদের ভেবে স্বপ্নে কেনাকাটা করুন, পরামর্শ দিয়ে স্টোর ম্যানেজমেন্টকে আরও গ্রাহকমুখী ও নির্ভুল করতে সাহায্য করুন। স্বপ্ন নিয়ে বাঁচুন।


যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় শেয়ারবাজারে ফের বড় দরপতন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সৃষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি দেশের শেয়ারবাজারে। একদিনের বড় উত্থানের পরপরই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে আবারও তীব্র দরপতন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বাজারে বড় উত্থান হলেও, পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সেই ধারা উল্টে যায়। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে যায়।

এর আগে যুদ্ধবিরতির খবরে ডিএসইর প্রধান সূচক একদিনেই ১৬১ পয়েন্ট বেড়েছিল এবং লেনদেনও প্রায় হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে থাকে এবং পুরো সময়জুড়েই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের শেষে সবকটি সূচকই বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৪টির শেয়ার ও ইউনিট। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতনের চাপ বেশি ছিল। একই চিত্র দেখা যায় মাঝারি ও দুর্বল কোম্পানির ক্ষেত্রেও, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বড় অংশের দরপতন হয়েছে, যা সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেনও কমে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

লেনদেনে এগিয়ে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইড এবং লাভেলো আইসক্রিম। এছাড়া ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সিটি ব্যাংক, কেডিএস এক্সসরিজ, মনোস্পুল বাংলাদেশ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন ও বিডি অটোকার লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় ছিল।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা যায়। সিএএসপিআই সূচক কমে ৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। সেখানে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমার সংখ্যা ছিল বেশি এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।


চিনিকল আধুনিকায়নে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ যুক্তরাজ্যের

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চিনিকলগুলোকে সচল ও আধুনিক করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘গতকালও একটা ইনভেস্টর আমরা চিনিকলের জন্য পেয়েছি। তারা ইউকেভিত্তিক। তারা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করবে।’

বিনিয়োগকারীরা শুধু চিনি পরিশোধন নয়, আখের উপজাত ব্যবহারের দিকেও নজর দিচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা সুগার রিফাইনসহ আমাদের আখের যে ছোবড়া (আখ) এটাকে কাজে লাগাতে চায়। আমরা তাদের বলেছি—এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটা জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো, যাতে আমরা খুব দ্রুত এমওইউ দিতে পারি।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খানসহ অন্যরা।

শিল্প সচিব বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে, সেগুলোকে সচল রাখতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের খোঁজা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, আমাদের সেগুলো যাতে সক্রিয় হয়। আমাদের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪টা প্রতিষ্ঠান, তার অধীনে প্রায় দেড়শ’র মতো আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু বেশিরভাগই লোকসান হয়। এগুলো বাঁচানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ইনভেস্টর খুঁজছি। দেশি-বিদেশি ইনভেস্টর খুঁজছি।

সরকারি কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকার এগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সরকারের যে সমস্ত কার্যক্রম আছে, আমাদের ৬ মাসের একটা টার্গেট দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় থেকে। আমরাও সেটা দিয়েছি যে কী কী করবো। এগুলো করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত এই যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার চেষ্টা করছি।


অকটেন ও ফার্নেস অয়েল বহনকারী দুই জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে বৈশ্বিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানিতে জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত অকটেন ও ফার্নেস অয়েল বহনকারী দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

বুধবার রাতে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে নোঙর করে। একই সময়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে চার্লি অ্যাংকরেজে অবস্থান নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্নের সম্ভাবনা থাকায় এখন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, আর অবশিষ্ট অংশ সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।

চলতি এপ্রিল মাসে দেশের ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন ধরা হয়েছে। এই চাহিদা পূরণে আমদানি কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে এবং এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে সরবরাহ উৎস বহুমুখী করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


সিমেন্ট খাতে কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর হ্রাসের দাবি উদ্যোক্তাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সিমেন্ট শিল্পে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের, কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় লোকসান গুনেও কর দিতে হচ্ছে অনেক উৎপাদনকারীকে। উদ্যোক্তাদের মতে, এআইটিকে ন্যূনতম কর হিসেবে ধরার কারণে অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শিল্পের জন্য চাপ বাড়িয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‌কিছুদিন আগেও এআইটিকে নূন্যতম কর হিসেবে গণ্য করায় লোকসান করার পরেও অনেক সিমেন্ট উৎপাদনকারীকে আয়কর দিতে হয়েছে। আইনে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়করকে পরবর্তী বছরের জন্য জের টানা বা ক্যারি ফরোয়ার্ডের সুযোগ দেয়া হয়। যদিও এতে সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য মালিকদের তেমন কোনো উপকার হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কাঁচামাল আমদানিতে পণ্যভেদে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে এআইটি দিতে হয়, পাশাপাশি বিক্রির সময়ও ২ শতাংশ এআইটি পরিশোধ করতে হয়। এ হার কমিয়ে উভয় ক্ষেত্রেই দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে গতকাল সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১২টি সংগঠনকে নিয়ে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

আলোচনায় বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবে বলা হয়, ‌কিছুদিন আগেও এআইটিকে নূন্যতম কর হিসেবে গণ্য করায় লোকসান করার পরেও অনেক সিমেন্ট উৎপাদনকারীকে আয়কর দিতে হয়েছে। আইনে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়করকে পরবর্তী বছরের জন্য জের টানা বা ক্যারি ফরোয়ার্ডের সুযোগ দেয়া হয়। যদিও এতে সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য মালিকদের তেমন কোনো উপকার হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্রিম আয়করের হার এতই বেশি যে প্রতি বছরই তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মুনাফার পরিমাণ অনেত কম হওয়ায় প্রকৃত আয়করও কম হয়। এজন্য আমদানি ও বিক্রয় পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ করা হোক।

এছাড়া উদ্যোক্তারা বলেন, প্রকৃত আয়করের তুলনায় এআইটি বেশি হলে তা প্রতিবছর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

সভায় আরও তুলে ধরা হয়, সিমেন্টের প্রধান পাঁচটি কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্যের চেয়ে বেশি অ্যাসেসেবল ভ্যালু নির্ধারণ করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে লাইমস্টোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ভ্যাট নির্ধারণে ট্যারিফ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।


সরকার নির্ধারিত দরে এলপিজি বিক্রির অনুরোধ অপারেটরদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সকল ব্যবসায়ীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অনুরোধ জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক। একই সাথে বেশি দামে কেউ সিলিন্ডার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অনুরোধ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ পত্রে জানা যায় যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এলপিজি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান হতে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকদের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এ মুহূর্তে জনদুর্ভোগ কমানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

এমতাবস্থায়, এলপিজি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির জন্য এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর পক্ষ হতে সনির্বন্ধ অনুরোধ করা হলো বলে দাবি করেন তিনি।

দেশের বাজাদে সর্বশেষ ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম বাড়ে গত ২ এপ্রিল। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা।

বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।


এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো ৮২৩ মিলিয়ন ডলার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সাত দিনেই দেশে এসেছে ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯.৫ শতাংশ বেশি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হো‌সেন খান এ তথ্য জানান।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ মিলিয়ন ডলার। আর ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৮২৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭,০৩২ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২,৪২১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০.৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


নতুন জাহাজে আয় বাড়ছে, বিএসসি’র বহর সম্প্রসারণে যুক্ত হবে আরও ৪টি জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নতুন সংযোজিত দুটি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে অল্প সময়েই প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সঙ্গে বহর বাড়াতে আরও চারটি জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র সাতটি জাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে এসব জাহাজ চলাচল করেছে।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "জাহাজসমূহ লোকাল এরিয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচালিত হয়ে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহে যাত্রা সম্পন্ন করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এ জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ডে উত্তীর্ণ, যা তাদের নিরাপদ ও দক্ষ অপারেশন নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার কারণে বিশ্ববিখ্যাত জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিএসসি’র জাহাজ পরিচালনা ও ভাড়া নিতে আগ্রহী।"

বিএসসি সম্প্রতি ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ও ‘এমটি বাংলার নবযাত্রা’ নামে দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেছে, যেগুলো চীনের একটি শিপইয়ার্ড থেকে গত বছরের অক্টোবর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮ দশমিক ৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত দামের তুলনায় কম।

জাহাজ দুটি আধুনিক ‘গ্রিন শিপ’ প্রযুক্তিতে নির্মিত, যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়, নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত নকশার ব্যবহার রয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।

বর্তমানে ‘বাংলার প্রগতি’ পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে এবং ‘বাংলার নবযাত্রা’ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, বহর সম্প্রসারণে জি-টু-জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এছাড়া আরও দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের প্রকল্প মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে বিএসসি। পর্যায়ক্রমে জাহাজের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখছে।"

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।


কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সহযোগিতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিসিসিসিআই প্রতিনিধিরা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের। এছাড়া চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বেইজিং আরক গ্যালাক্সি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এতে নতুন বিভাগ ও বিষয় চালু, বিদ্যমান কোর্স আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পাশাপাশি শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দেশীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বিষয়ও প্রস্তাবে গুরুত্ব পায়।

চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সচিব আব্দুল খালেক কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতিতে বিসিসিসিআই’র উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।


জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির তিনটি আলাদা প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ‘ইয়ার এনার্জি এজি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ‘কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ‘সিকদার ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।

বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েক দফায় জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগে গত শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় ১ লাখ টন ডিজেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে যেন দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।


বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্যাবের মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ক্যাব জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম ১৭০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিকে তদারকির ঘাটতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির মতে, এটি কেবল বাজার অস্থিরতার বিষয় নয়; বরং ভোক্তার ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়ার অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমানো এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করাকে তারা সংগঠিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"

মানববন্ধনে সংগঠনটি সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা, কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানায়।


হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত কর কমানোর দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত উচ্চ কর কমিয়ে আগের মতো ১০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির মতে, বর্তমান কর কাঠামো এই খাতের সম্প্রসারণে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় এওএবি’র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, "আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।" এবং করহার পুনরায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান। তার মতে, হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকেও রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।

বর্তমানে মোট ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান। তবে, আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।"


যুদ্ধবিরতির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, বাড়ল লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর ফলে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান ঘটে এবং লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিনজুড়ে বাজার ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে, যা সূচককে দ্রুত উপরের দিকে নিয়ে যায়। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় দিনের শেষে সব সূচকেই শক্তিশালী উত্থান দেখা যায় এবং বাড়তি দামের তালিকাও দীর্ঘ হয়।

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।

দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে উঠেছে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার তুলনায় ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার চেয়ে বেশি।


সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ভাটা, আগ্রহ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সঞ্চয়পত্রের বাজারে আবারও বিনিয়োগ মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাস বিক্রির পরিমাণ কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবারও ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির পর গ্রাহকদের মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একক মাস হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে নিট বিক্রি কমেছে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতেও বিক্রির চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাস অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত নিট বিক্রি ৬১০ কোটি টাকা বেশি ছিল, যা ফেব্রুয়ারির ধাক্কায় এখন ঋণাত্মক অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র ছেড়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারলেও ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দিতে হলেও বিল ও বন্ডের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। স্বল্পমেয়াদি ৯১ দিনের বিলে বিনিয়োগ করেও এখন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। মূলত সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিল ও বন্ডে সুদের হার এখন বেশ চড়া।

বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না পেয়ে সরকার এখন ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণের প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশ।


banner close