বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চার মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৪.৩৬%

ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪০

চলতি ২০২৩-২৪ করবর্ষের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর, স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আয় করেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। যা বিগত করবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। গত করবর্ষের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়, খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের হিসাব হলো-চার মাসে আমদানি ও রফতানি শুল্ক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক থেকে ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আয় কিছুটা পিছিয়ে আছে। চার মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যমতে, গত ২০২২-২৩ করবর্ষের প্রথম চার মাসে আমদানি-রপ্তানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। চলতি করবর্ষের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬৬১ কোটি। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে আয়কর আহরণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। গত করবর্ষের চার মাসের ২৬ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার আয়কর রাজস্ব আয় এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। শুল্ক ও আয়করের মত ভ্যাট রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও ভাল প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত করবর্ষের চার মাসে ভ্যাট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি করবর্ষে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।


‘রমজানে বাজার মনিটরিং পুলিশ দিয়ে করাতে চাই না’

আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান মাসে বাজার মনিটরিং, চাই না পুলিশ দিয়ে করানো হোক। এটার জন্য বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনিটরিং করলেই হয়। আপনারা এটা না করলে সরকারিভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে। এটা আমরা চাই না। অসৎ ব্যবসায়ীর পক্ষে এফবিসিসিআই কোনো কথা বলবে না বলে জানিয়েছেন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।

আজ বুধবার দুপুরে মতিঝিলে এফবিসিসিআই বোর্ডরুমে আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা’র জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আসন্ন রমজান মাসে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের ‘ন্যায্য লাভ’ করার অনুরোধও জানান।

তিনি বলেন, ‘রমজান মাস ইবাদতের মাস। আপনারা সারা বছর ব্যবসা করেন, রমজান মাসেও ব্যবসা করবেন। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে ফেস্টিভালে ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও তেমন হতে হবে। আপনারা রমজান মাসের ‘ন্যায্য লাভ’ করেন। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এ বিষয়ে সতর্ক আছেন। তাই এই দিক সবাইকে সাবধান হতে হবে।’

মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রমজান মাসে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাপ্লাই চেইনে ঘাটতি হলে আর্টিফিসিয়াল ক্রাইসিস তৈরি হবে। এটা যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ব্যবসায়ীরা লাভও করে, লসও করে। তবে এই লাভটা যেন ন্যায্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পথে চাঁদাবাজির শিকার হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলাপ করব।’

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


অস্বাভাবিক বাড়ছে তিন কোম্পানির শেয়ারদর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন খাতের তিন কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। কোম্পানিগুলো হলো ব্যাংক খাতের এসবিএসি ব্যাংক, বস্ত্র খাতের এস্কয়ার নিট কম্পোজিট এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম। তবে কোম্পানি তিনটি পৃথকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে, তাদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ের শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে ডিএসই।

সাধারণত কোম্পানি আর্থিক পারফরম্যান্স ভালো করলে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে পারে। এর বাইরে ভবিষ্যতে কোর ব্যবসা বাড়তে পারে এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্যকে কেন্দ্র করেও শেয়ারদর বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট বড় কোনো বিনিয়োগ বা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যা ভবিষ্যৎতে কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। যাতে বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং পুঁজিবাজারে শেয়ারদরও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির সিদ্ধান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আকারে প্রকাশিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওপরে উল্লেখিত কোম্পানি তিনটির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশও করা হয়নি, তা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

এসবিএসি ব্যাংক: ডিএসইতে গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ দর বেড়ে দাঁড়ায় ১২ টাকা ৬০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৭ কার্যদিবসের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ টাকা বা ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়। এদিন মোট ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭১টি শেয়ার হাতবদল হয়।

এস্কয়ার নিট কম্পোজিট: ডিএসইতে গত ৩১ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৩ টাকা। ২৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির এ শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৩০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৬ কার্যদিবসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা বা ৩১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়েছে। এ দিন মোট ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৩টি শেয়ার লেনদেন হয়।

লাভেলো আইসক্রিম : ডিএসইতে গত ২৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। ২৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির এ দর বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৮ কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১৮ টাকা ৬০ পয়সা বা ৬২ দশমিক ৪২ শতাংশ।


আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দারাজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিইও জেমস ডং এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানান।

দারাজ বাংলাদেশ কতজন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে রাজি না হলেও কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৩৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হবে। এর মধ্যে তিনজন শীর্ষ নির্বাহী (সিএক্সও) কর্মকর্তাও চাকরি হারাবেন বলে জানা গেছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ১৭০০ কর্মচারী রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৯৫০ জন স্থায়ী কর্মী। দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, ছাঁটাইয়ের ঘোষণার ফলে দারাজ বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক কর্মী চাকরি হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি বার্তায় দারাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস ডং জানিয়েছেন, একটি ‘সুবিন্যস্ত ও কর্মতৎপর কাঠামো’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রুপের সব পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ঠিক কতজন কর্মী এর ফলে চাকরি হারাবেন, সেটি কোম্পানির ওই অভ্যন্তরীণ বার্তায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দারাজের কার্যক্রম আছে। এসব দেশে ঠিক কত শতাংশ কর্মী বা সব মিলিয়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, সে সম্পর্কে কিছু বলতে দারাজ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত বছর দারাজ বার্তা সংস্থাটিকে বলেছিল এই পাঁচ দেশে তাদের তিন হাজার কর্মী আছে।

অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়, ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা আমাদের দারাজ পরিবারের অনেক সদস্যকে বিদায় জানাব।’

গত বছর দারাজ রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে বিভিন্ন দেশে তাদের তিন হাজার কর্মী রয়েছে। তবে প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে শুরু হওয়া সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, উচ্চ করহার এবং ভর্তুকি কমে যাওয়ার কারণে এরপর কোম্পানিটি তাদের কর্মীসংখ্যা ১১ শতাংশ কমিয়েছিল।

জেমস ডং বলেন, ‘আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তবে আমাদের ব্যয়ের কাঠামো আমাদের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে পেছনে পড়ে রয়েছে। বাজারে নজীরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকা ও অব্যাহতভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেমস ডং আরও বলেন, ‘দারাজ এখন তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে সক্রিয়ভাবে দারাজের সেবায় বৈচিত্র্য এনে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা, পণ্যের ক্যাটাগরির সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতাদের কার্যক্রমের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা।’

গত জানুয়ারি মাসে জেমস ডংকে দারাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের প্রধান নির্বাহী বিয়ার্ক মিকেলসেন দায়িত্ব ছাড়ার পর পদটি খালি হয়েছিল।

বিয়ার্ক মিকেলসেন গত বছর জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হলো তাদের সবচেয়ে বড় বাজার।

দারাজের প্রতিষ্ঠা পাকিস্তানে ২০১২ সালে। মূলত অনলাইনে ফ্যাশনপণ্য বিক্রি করত এই প্রতিষ্ঠান। এরপর চীনের বিশাল ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলিবাবা এটি অধিগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে একটি নতুন ট্যাব খোলা হয়।

দারাজ চারটি প্রধান ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনা করে- ই-কমার্স, লজিস্টিকস, লেনদেন অবকাঠামো ও আর্থিক সেবা। কোম্পানিটি রয়টার্সকে বলেছে, তাদের তিন কোটি গ্রাহক রয়েছে। দুই লাখ সক্রিয় বিক্রেতা এক লাখের বেশি ব্র্যান্ডের পণ্য দারাজের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করে থাকে।

দারাজের মূল কোম্পানি আলিবাবা, ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাজারের দৃশ্যপট পরিবর্তনের কারণে ব্যয় হ্রাস এবং পরিচালনা খরচে সামঞ্জস্যতা আনার মাধ্যমে তার আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে। এ ছাড়া চলমান মুদ্রাস্ফীতি ভোক্তা ব্যয়কে প্রভাবিত করেছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই আলিবাবা এসব চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং আরও দক্ষ অপারেশনাল কাঠামো নিশ্চিত করতেই এ রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে।


বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় বেড়েছে

সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৪.৫২ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে উন্নয়ন সহায়তা প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩০৬.১ শতাংশ, ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে ৩.২৬ শতাংশ। একই সঙ্গে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৪.৫২ শতাংশ।

উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নতুন ৭.১৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের প্রতিশ্রুত ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার থেকে অনেকটাই বেশি।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা প্রশংসনীয়।

তারা বলেন, অর্থবছরের শুরু থেকে অনেকগুলো প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঋণ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার কারণে এই সাফল্য এসেছে। বিপরীতে আগের অর্থবছরে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়ায় বেশ কয়েকটি প্রকল্পের চুক্তি বিলম্বিত হয়েছিল।

ইআরডির তথ্য অনুসারে, বেশিরভাগ ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে প্রধান তিন উন্নয়ন সহযোগী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও জাপান থেকে। তিন উন্নয়ন সহযোগী সম্মিলিতভাবে ৬.০৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে এডিবি থেকে, মোট ২.৬২ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি এই সময়ে জাপান থেকে ২.০২ বিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ১.৪১ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে উন্নয়ন সহায়তা সংস্থাগুলো মোট ৪.৩৯ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড় করেছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাজারভিত্তিক ঋণের সুদহার বেড়েছে, যা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়িয়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, সরকার অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে উন্নয়ন অংশীদারদের সুদ ও আসল পরিশোধে ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়কালে ১.২৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

ইআরডির তথ্যানুসারে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে শুধু সুদের অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১০৭.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সুদ পরিশোধের জন্য ৭৬০.৭৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে।

এই সময়ে সরকার বিভিন্ন ঋণের আসলের ১.০৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সোফর রেট ছিল ১ শতাংশের কম।

এ ছাড়া এ সময়ে বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ গ্রহণও ক্রমেই বাড়ছে, যার ফলে দেশের সুদ পরিশোধ বাড়ছে।

এডিবি থেকে বাংলাদেশের ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাজারভিত্তিক সুদে নেওয়া। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকেও বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ নিয়ে থাকে বাংলাদেশ।

তাছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক থেকেও সীমিত পরিসরে বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ নেয়।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক সুদের হার অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ১.১৯ বিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ করবে বলে প্রক্ষেপণ হয়েছে। গত অর্থবছরে (২০২২-২৩), বাংলাদেশের সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৯৪৪ মিলিয়ন ডলার, এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, সুদ পরিশোধের পাশাপাশি আসল পরিশোধের চাপও বাড়বে। বিভিন্ন বাজার সহায়তা ঋণ এবং কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা রেল লিঙ্কের মতো মেগা প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এখন এসব ঋণের আসলের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।


দেশে ২৪ দিনে গড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে দেশের প্রবাসী আয় হয়েছে ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। প্রবাসীরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে এই রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪০ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৯৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা ছিল সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।


ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৩তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন আগামীকাল সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে। ২৬ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে সম্মেলন। সম্মেলনে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটবে, এমন প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দুই বছর পর পর ডব্লিউটিওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে কৃষি ও মৎস্য খাতের ভর্তুকি, মেধাস্বত্ব সুবিধা, ই-কমার্স এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এবারের সম্মেলনে আমরা বাংলাদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় আলাদাভাবে ফোকাস করছি না। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তীতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ও মেধাস্বত্বসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা যেন আরও কয়েক বছর অব্যাহত থাকে। এটা আমরা চাচ্ছি।

তিনি জানান, এলডিসি হিসেবে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ কারিগরি সহযোগিতা ও ডিসপিউট সেটেলমেন্টের যে সুবিধা পাওয়া যায়, উত্তরণের পরেও কয়েক বছর এই সুবিধা বহাল রাখতে চাই। বাংলাদেশ এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখবে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তীতে মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রদানের সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টিও বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


শেয়ার ইস্যুর অনুমতি পেল পাওয়ারগ্রিড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি দুই দফায় সরকারের অনুকূলে সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি পেয়েছে। কোম্পানিটিকে শর্তসাপেক্ষে এ শেয়ার ইস্যুর অনুমতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি সরকারের শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে দুই ধাপে শেয়ার ইস্যু করবে। প্রথম পর্যায়ে ২০ টাকায় ২০ কোটি ১১ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে। যার মধ্যে অভিহিত মূল্যের ওপর ১০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ হবে। মোট শেয়ারের দাম হবে ৪০২ কোটি টাকা।

এ পর্যায়ে ইস্যুকৃত শেয়ার কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করবে এবং নতুন জারি করা শেয়ারগুলো তার বিদ্যমান সাধারণ শেয়ারের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কোম্পানিটি ৭৬৪ কোটি ১১ লাখ নন-কমিউলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করবে। যার ইস্যুকৃত মূল্য হবে ৭ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ১০ টাকা। এই অর্থ পরিশোধিত মূলধনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে না। যার ফলে এটি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে না।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত সংস্থাটির কাছে সরকারের মোট শেয়ার মানি জমার পরিমাণ ছিল দশ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগের বছরের জুন পর্যন্ত জমা হয়েছে ১০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।


দুই কোম্পানির ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি ও র‍্যানকন মোটরবাইকস লিমিটেডের বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত বৃহস্পতিবার বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে ৯০১তম কমিশন সভায় কোম্পানি দুটির মোট ৪০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আড়াইশ কোটি টাকার প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের বন্ডটি অরূপান্তরযোগ্য, হস্তান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য। এটি আনসিকিউরড জিরো-কুপন বন্ড, যার ডিসকাউন্ট রেট ৯-১২ শতাংশ। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল আর্থিক খরচ কমিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড। বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় । কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৬২ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৭১ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩২। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও গত ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।

এদিকে র‍্যানকন মোটরবাইকসের দেড়শ কোটি টাকা মূল্যের বন্ডটি আনসিকিউরড, অরূপান্তরযোগ্য ও পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য জিরো কুপন। এটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। এ বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য এক লাখ টাকা। এ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের কিছু অংশ পুনঃঅর্থায়ন করার পরিকল্পনা করছে। বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। এ ছাড়া বন্ডটি অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

মোটরসাইকেলের জাপানি ব্র্যান্ড সুজুকির উৎপাদক ও পরিবেশক হলো র‌্যানকন মোটরবাইকস। সুজুকি ও র‌্যানকন যৌথভাবে গাজীপুরে কারখানা করেছে। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, র‌্যানকন মোটরবাইকস ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। তখন তাদের কর্মী ছিল মাত্র তিনজন। সুজুকির মোটরসাইকেলের প্রথম চালান দেশে আসার আগেই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালে ৩৬০ জনের একটি টিম নিয়ে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় সুজুকি মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু হয়।


বাংলাদেশ সফরে বিশ্বব্যাংকের এমডি আন্না বেজার্ড

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্না বেজার্ড। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), (অপারেশনস) আন্না বেজার্ড শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছেন। এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। বিশ্বব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একদিনের সফরে বেজার্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সফরকালে আন্নার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ছিল। এরপর আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থাটি বাংলাদেশকে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- যার অধিকাংশই অনুদান। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) সমর্থিত বৃহত্তম চলমান কর্মসূচি রয়েছে।


বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল। বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। আর ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রিজার্ভসহ অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, এক মাস আগে ২৪ জানুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

চলতি মাসের প্রথম দিন ১ ফেব্রুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘গ্রস’ হিসাবে নামে ২৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার।

৭ ফেব্রুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল একই, ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার।

সবশেষ বৃহস্পতিবার বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। ‘গ্রস’ হিসাবে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারে।

আমদানি কমায় এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালের আগস্টে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। কিন্তু এর পর থেকে কমতে কমতে এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে ‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ রিজার্ভ হিসাবে দাবি করে।

সবশেষ ডিসেম্বর মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে ‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ দিয়ে প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

গত বছরের ৭ নভেম্বর আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছিল; কমতে কমতে ১৩ ডিসেম্বর রিজার্ভ ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এরপর আইএমএফের ৪৭০ কোটি (৪.৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ৬৯ কোটি ডলার, ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৪০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ কোটি ডলার যোগ হওয়ায় বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে ২১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

গত ৮ জানুয়ারি আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ‘গ্রস’ হিসাবে নেমেছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে।

গত বছরের ১২ জুলাই থেকে আইএমএফের কথামতো রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রস’ হিসাবের পাশাপাশি বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করেও রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। ওই দিন ‘গ্রস’হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

১২ জুলাইয়ের আগে শুধুমাত্র ‘গ্রস’ হিসাবের রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করত বাংলাদেশ ব্যাংক। এক বছর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, রিজার্ভের দুই প্রধান উৎস রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় দুটোই বাড়ছে। এখন রিজার্ভ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সব দেশেই পড়েছে। সব দেশেই ডলারের দর বেড়েছে; মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। রিজার্ভ কমেছে। তবে ভালো খবর যে, এই সময় রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স দুটোই বাড়ছে। তা না হলে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ১৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত। এই দুই সূচক বাড়ায় আগামী দুই সপ্তাহে রিজার্ভ আরও খানিক বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। ‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে উঠতে পারে।

‘তার পর অবশ্য আকুর জানয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে। সেই বিল যদি ১ বিলিয়ন ডলারও হয়, তাও কিন্তু রিজার্ভ ফের ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে।’

‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ রিজার্ভ যাতে কোনো অবস্থাতেই আর ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে না নামে, সেজন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন আহসান মনসুর।


কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে ৬২% তরুণী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রতি পাঁচজন তরুণীর মধ্যে তিনজন কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের (এনইইটি) বাইরে আছে। এনইইটি দিয়ে মূলত ১৫-২৪ বছর বয়সি নিষ্ক্রিয় জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২২ অনুযায়ী ২০২২ সালে এনইইটি ক্যাটাগরিতে নারীদের অংশ ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৬১ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

একই বছরে এই ক্যাটাগরির সামগ্রিক জনসংখ্যার অংশ বেড়ে ৪০ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে যা ছিল ৩৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ২১ দশমিক ৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে এনইইটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এনইইটি ক্যাটাগরিতে পড়ে।

সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের নির্বাহী চেয়ারপারসন রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, এটি অবশ্যই দেশের জন্য খারাপ পরিস্থিতি, কারণ এটি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনার বড় অপচয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। প্রথমত এ কারণে জনশক্তির একটি বড় অংশ অব্যবহৃত ও যথাযথ মূল্যায়নের বাইরে থেকে গেছে। দ্বিতীয়ত, এটি সামাজিক অসন্তোষ, অস্থিরতা এবং পারিবারিক সহিংসতা বাড়ায়।

জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের কর্মসংস্থানবিষয়ক কর্মকর্তার মতে, এনইইটির আওতায় তরুণীদের সংখ্যা বাড়ছে, কারণ শহরাঞ্চলের কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। চাহিদার দিক থেকে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় স্বল্প শিক্ষিত নারীদের সুযোগ কমে গেছে।

তার মতে, গ্রামীণ নারীদের জন্য পরিবারের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। এ কারণে তারা শ্রমবাজারে প্রবেশে নিরুৎসাহিত হতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে তা বলা যাবে না।

তিনি মনে করেন, অল্পবয়সি নারীদের মজুরি-বহির্ভূত চাকরিতে যাওয়ার প্রবণতা ও মহামারি-পরবর্তী সময়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার উচ্চ হারই এনইইটি বৃদ্ধির মূল কারণ।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাবও একটি কারণ বলে জানান তিনি।

তার মতে, বর্তমানে তরুণদের জন্য যে প্রশিক্ষণ সুবিধা রয়েছে তা শ্রমবাজারের প্রতিযোগিতার সঙ্গে সক্ষমতা বাড়াতে উপযুক্ত নয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কর্মসংস্থান ও কর্মসূচি বিশেষজ্ঞদের মতে, জিডিপির শতকরা হিসেবে শিক্ষায় কম বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। ফলে অনেক তরুণ বেকার বা কর্মহীন থাকলেও শিক্ষা নিচ্ছে না। এমনকি তারা চাকরিও খোঁজে না।

তারা বলেন, সংকুচিত শ্রমবাজারের কারণে বেকার বা শ্রমশক্তির তুলনায় শূন্যপদ কম। তাই তারা চাকরি ও প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহী হন না।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এনইইটিদের অবশ্যই উপযুক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতা বঞ্চিত তরুণরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারে না। তাদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমবান্ধব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মশক্তিতে তরুণদের চাহিদা বাড়াতে হবে। তবে এ জন্য কেবল উপযুক্ত নীতি নিলে হবে না, তার যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ও মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নীতিমালা গ্রহণে শিক্ষা খাতের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

তাছাড়া শিক্ষা বা চাকরির সঙ্গে যুক্ত নন এমন তরুণরা হতাশ হয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করতে এনইইটি তরুণদের সংখ্যা কমানো দরকার, বিশেষ করে পুরুষের সংখ্যা।


ভারত বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিলো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে আরও ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত। ভারতের রপ্তানিকারকরা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতের ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের সচিব রোহিত কুমার সিং নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও মরিশাসে ১ হাজার ২০০ টন, বাহরাইনে ৩ হাজার টন এবং ভুটানে ৫৬০ টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের এই পরিমাণ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লির ওই কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এবং অন্য তিনটি দেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমানে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ভারত।


অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত আইওএসকো এপিআরসির ভাইস চেয়ার পুনর্নির্বাচিত

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসকো) এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির (এপিআরসি) ভাইস চেয়ার পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২২-২৪ সাল মেয়াদে চীনকে হারিয়ে এ পদে নির্বাচিত হলেও এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ২০২৪-২৬ সাল মেয়াদ পর্যন্ত এ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইওএসকোর পক্ষ থেকে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে এপিআরসির ভাইস চেয়ার পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে গত সপ্তাহে দৈনিক বাংলাকে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমাকে আইওএসকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার আমার প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ নির্বাচন করছে না। প্রথমবার চীন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করলেও এবার সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে এপিআরসির ভাইস চেয়ার পদে আরও একবার সুযোগ পাওয়ার আশা করছি। তবে বিষয়টি এখনো চিঠি আকারে আমার কাছে আসেনি।’

চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানোর এক সপ্তাহ পর গতকাল আইওএসকোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন মোলোনি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আগামী ২৭ মে গ্রিসের এথেন্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইওএসকোর পর্ষদ সভায় অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে ২০২২-২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি মেয়াদ পর্যন্ত আইওএসকোর এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটিতে ভাইস চেয়ার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। প্রথমবার ভাইস চেয়ার পদে তিনি চীনকে ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় অর্জন।

২০২২-২৪ সাল মেয়াদে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটিতে ভাইস চেয়ার পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তার কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও যোগ্যতাকে সম্মান জানিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির কোনো সদস্য ভাইস চেয়ার পদে নির্বাচন করতে অংশগ্রহণ করেননি। ফলে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির ভাইস চেয়ার পদে আগামী ২০২৪-২৬ সালের মেয়াদে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুনর্নির্বাচিত করেছে আইওএসকো।

তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর আইওএসকোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়। এ জন্য এমএমওইউ স্বাক্ষরকারী হওয়ার জন্য বিএসইসির আবেদন অনুমোদন করেছে আইওএসসিও। এতে দেশের পুঁজিবাজার অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলে বিএসইসি আন্তর্জাতিকভাবে এনফোর্সমেন্টের সহযোগিতা পাওয়া ও দেওয়া, বিএসইসি আইওএসকোর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে নিয়োগ ও নির্বাচনের সুযোগ লাভ এবং বিএসইসি আইওএসকোর নীতিনির্ধারণী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ২০২০ সালের ১৭ মে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তারই নেতৃত্বাধীন কমিশনের নানামুখী উদ্যোগে পুঁজিবাজার গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


banner close