মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
১৭ চৈত্র ১৪৩২

নতুন শিক্ষাক্রম, পুরাতন অপপ্রচার 

আপডেটেড
৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৪০
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:৫৩

যতবারই এ দেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই দেখা গেছে একশ্রেণির মানুষ হইহই, রইরই, গেল গেল সব গেল, শিক্ষা গেল, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গেল- এমন সব কথা বলে রাস্তায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে আসছে। চলতি বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার আগে এবং পরেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কোথাও অভিভাবকরা, কোথাও শিক্ষকরা, কোথাও বা বিশেষজ্ঞ নামেও নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী নতুন বছরে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ধর্মীয় উন্মাদনা, মিথ্যাচার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক তথা গোটা জাতিকেই যেন জাগিয়ে তোলা হচ্ছে, বলার চেষ্টা হচ্ছে আপনারা কেন ঘুমিয়ে আছেন, প্রতিবাদ করুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনেকে শিক্ষাক্রমকে অপপ্রচারের শিখণ্ডী বানাতে মাঠে নেমে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব আজগুবি কথা প্রচার করা হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও শোভনীয় নয়।

শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হতেই পারে; কিন্তু সেটি পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন সূচি ধরে ধরে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেই সাধারণত করা হয়ে থাকে। সেসবের চেষ্টা দেখি না। যা কিছু বলা হয়, তা গড়ে হরিবোল বললেও যেন কম বলা হবে। এভাবে তো কোনো শিক্ষাক্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার দর্শন, হৃদপিণ্ড যা একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞই বোঝেন। যেমন- একজন হার্ট স্পেশালিস্ট ডাক্তার মানুষের হৃদপিণ্ড সম্পর্কে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে পাঠ্যবই নিয়ে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। অনেকের গাইড বইয়ের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে ঘৃতাহুতি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের লাভালাভ হিসাব করেও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদানের পরিবর্তে বই ছুড়ে মেরে শিক্ষামন্ত্রীকে গালাগাল করছেন এমন কথাও আমি শুনতে পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই আমার কাছে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো নয়। কারণ ’৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে হালের নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা অবস্থান আমার দেখা বিষয়, বোঝারও বিষয়। স্পষ্টই বুঝতে পারি যে শিক্ষাক্রম নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের বক্তব্যে থাকে গঠনমূলক সমালোচনা। বাকি যারা উঠেপড়ে সমালোচনা করেন তাদের নানান জনের নানা উদ্দেশ্য, স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটি কোনোকালেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম দ্বারা গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাই নানা অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত থেকেছে চিরকালই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্বের মধ্যে নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ’৮০ সালের মধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এরপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে আসা। কিন্তু কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পরই নানা গোষ্ঠী নানা অপবাদে এমন একটি শিক্ষানীতিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল যারা এর ভেতরের দর্শনটি বুঝতে অক্ষম ছিল। তাদেরই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হলো ’৭৫-এর পর। দেশে তখন থেকে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ধারার ও নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে যার মতো করে গড়ে তোলা শুরু করেছে। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হালচাল হলে সেই জাতি কোনোভাবেই শিক্ষার দর্শন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। আমরাও সে কারণে হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এতসব বিভাজন সৃষ্টির মূলেই হচ্ছে ‘নামে শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির অব্যবস্থা’। সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের আসল রূপ। আমাদের কোনো স্তরেই শিক্ষাক্রম ঠিক নেই। যে যার মতো করে প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ছে, বই-পুস্তক ঠাসা আর পরীক্ষার জাঁতাকলে শিক্ষার্থীদের পিষ্ট করার এক ভয়ংকর তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতির কয়েকটি প্রজন্মও তেমনি কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার দক্ষ, জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় বেড়ে ওঠা শিক্ষিত মানব গড়ে তুলতে আমরা পেরেছি বলে দাবি করতে পারব না। কারণ শিক্ষার দর্শনই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষার দর্শন হচ্ছে কি পড়ব বা পড়াব, কেন পড়ব বা পড়াব, পড়ার অর্জনটা কী হবে বা হবে না- সেটি হাতেনাতে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারব যে আমাদের এ ৫ দশকের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি পারতাম তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কেন? একবারও কি আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? আমাদের করণীয় কী সেগুলো সম্পর্কে কতজনই বা আমরা অবহিত? কিন্তু যখনই দেশে শিক্ষায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বিরোধিতাটা প্রবলভাবেই আসে, বিরোধিতাটা যদি গঠনমূলক হতো তাহলে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিরোধিতাটাই যখন ব্যঙ্গাত্মক, বিদ্রূপাত্মক এবং নানা ধরনের শ্লেষ, মনগড়া, ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন বুঝতেই হবে এত বছরের আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা বের হয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই শিখনফল ব্যঙ্গবিদ্রূপ, তামাশা, অপরাজনীতি ও বিভ্রান্ত করতে যতটা ‘পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে, নীতি-নৈতিকতা, যুক্তিবাদী জ্ঞানবিজ্ঞানে দক্ষ ও সৃজনশীল মানুষরূপে গড়ে উঠতে অক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কারণ সেই শিক্ষাক্রমটাই এতদিনকার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে ছোট দেশ হলেও নানাভাবে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে কারণেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গেল বছর তাদের দেশে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। এমনকি সরকারপ্রধানের প্রাসাদও দখল করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কিছুই ধ্বংস করেনি। এর মানে কী? আমরা কি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো ফল বের করতে পারব? এ ধরনের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত তাহলে কি হতো? ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, কাটাকাটি, কি না হতো? শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটি টানার কারণ হচ্ছে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কিছু নীতি-নৈতিকতা, যুক্তি ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেসবের চর্চা কোথায়? এখানেই বোঝা যায় শিক্ষাক্রমের পার্থক্যের মধ্যেই ভিন্ন জাতি গঠনের কারণ নিহিত থাকার।

বর্তমানে যেই শিক্ষাক্রম সরকার স্কুলপর্যায়ে প্রবর্তন করেছে সেটিকে এক কথায় জীবন, কর্ম ও জ্ঞানমুখী জনশক্তি তৈরি করার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আমাদের আগের সৃজনশীলব্যবস্থা কিছু কিছু সফলতা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পরীক্ষা আর মুখস্থবিদ্যার পুরাতন পদ্ধতির মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আটকে ছিল। শিক্ষার্থীরা শেষ বিচারে পরীক্ষার্থীই থেকেছে। পরীক্ষার জন্য তাদের গাইডবই ক্রয় করতে আর টিউটরের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থবিদ্যার চাপ জগদ্দল পাথরের মতো চেপেছিল। গতানুগতিক শিক্ষায় বিশ্বাসী শিক্ষক ও অভিভাবকরা যুগযুগ ধরে এমনটি দেখে এসেছেন, শিখে এসেছেন। তারা জিপিএ-৫ পাওয়ায় সন্তানের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কয়জন সেই ভবিষ্যতের মালিক হতে পেরেছেন ? আমাদের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও ছিল গতানুগতিক। শ্রেণিপাঠ, মুখস্তবিদ্যা আদায় করা, পরীক্ষার মূল্যায়নও সেভাবে নির্ধারণ করা হতো। আর এর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গাইডবই, শ্রেণিপাঠের চেয়ে কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি কোচিং নেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এটি কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান, জীবন ও শিক্ষার মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ রাষ্ট্রেই অচল হয়ে গেছে। আমরা যুগযুগ ধরে সেটাকেই নানা নামে অব্যাহত রেখেছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই এমন খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিজেদের যুক্ত রাখার প্রবণতায় বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদের একটা বিরাট অংশই আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে করোনাকালে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাক্রম বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু করোনাকাল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আগের বোধ, বিশ্বাস আর অভ্যস্ততার মধ্যে গুটিয়ে থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম কেবলই প্রবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে। এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং উন্নততর করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে; কিন্তু এটিকে বাতিল করে আগের মুখস্থ বিদ্যা এবং গাইডবই, টিউশননির্ভর শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার যারা দাবি করেন তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা হতে পারে। যে শিক্ষকরা সেখানে ফিরে যেতে চান, তারাও একই দোষে দোষী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা প্রতিটি শিক্ষকেরই দায়িত্ব। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষকেরই পঠনপাঠনের নিয়মিত অভ্যাস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। অথচ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ এবং নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হাতেকলমে শেখন, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই যুগের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে পারেন, শিক্ষার্থীদেরও গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা নয় বরং সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হওয়া, আস্থা রাখা এবং তাদের জীবন, কর্ম ও জ্ঞান দক্ষতায় গড়ে তোলার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি আস্থাশীল হতেই হবে। অপপ্রচার, গুজব, ব্যঙ্গবিদ্রূপ শিক্ষার সঙ্গে যায় না, জীবনের সঙ্গেও নয়। এটাই শিক্ষার দর্শন।

লেখক: ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


'জিরো ওয়েটিং টাইমে' ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বস্তি

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৫৪
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’-এ ফিরেছে, ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা এখন শূন্যে নেমে এসেছে।

এই অবস্থার কারণে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড সময় কমে এসেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জনের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা জানান, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ নিশ্চিত করা হয় এবং পরবর্তী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে তা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও বিভিন্ন জটিলতায় বন্দর কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, "ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে।"

তিনি আরও বলেন, "এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন। লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা।"

রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নেয় এবং ঈদের ছুটিতেও রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয়।


মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে কয়লার দাম ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে ১৭ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রতি টন কয়লা ১৪০ ডলারের বেশি দামে লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধিকে এ দামের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ তথ্য জানিয়েছে হেলেনিক শিপিং নিউজ।

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে কয়লার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প হিসেবে আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে। পরিবেশগত কারণে যেসব দেশ কয়লার ব্যবহার কমিয়েছিল, তারাও এখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র পুনরায় চালু করছে।

জাপানসহ কয়েকটি উন্নত দেশ ইতোমধ্যে তাদের জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবেলায় দেশটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর এই বাড়তি চাহিদা বিশ্ববাজারে কয়লার দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশের বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদেশ থেকে আনা কয়লার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ১০ দিনের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়াল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল হামলা চালাতে পারে এমন খবরে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তেলের দামে এ উল্লম্ফন দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার প্রভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় মূল্য বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ইসরায়েলে হামলা এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুমকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান বলেন, "পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, "বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ একটি নির্দিষ্ট চক্রে চলে। ইউরোপে এই ঘাটতির প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে।"

তিনি আরও বলেন, "ব্রেন্ট এখন বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি ধীরে ধীরে দাম ১২০ ডলার বা তারও বেশি হবে।"

তার মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমন সরবরাহ বিঘ্ন আগে দেখা যায়নি এবং এর প্রকৃত প্রভাব আগামী কয়েক মাসে অর্থনৈতিক সূচকে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

রোববার ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অংশ নেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সোমবার (৩০ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্যালেস দ্য কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয়, "বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং বাণিজ্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে।"

এ সময় আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয় এবং এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার কথাও জানানো হয়।

নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে বলেন, "আরসিইপি জোটে বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত অংশীদার হতে পারে।" তিনি এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এফটিএ আলোচনার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।


ব্যাংক-বিমা খাতে দরপতনে শেয়ারবাজারে কমেছে সূচক, বেড়েছে লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ারের দরপতনের প্রভাবে সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ফলে সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। তবে এদিন লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়। ব্যাংক ও বিমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদাম কমতে শুরু করে এবং তা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এই পতনের প্রভাব অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দর কমা কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে যায় এবং দিনের লেনদেন শেষে সব সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৫০টির দাম কমেছে এবং ৩০টির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ব্যাংক খাতে কোনো কোম্পানির শেয়ারদাম বাড়েনি। এ খাতের ২৮টির দাম কমেছে, আর ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিমা খাতে ৯টির দাম বাড়লেও ৪৫টির শেয়ারদাম কমেছে এবং ৪টির ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়নি। উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতন বেশি দেখা গেছে। ৩৭টির দাম বাড়লেও ১৫৩টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৪টির কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদাম বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং ৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও সমান চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ৯টির দাম বেড়েছে, ৯টির কমেছে এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচক কমলেও লেনদেনে গতি বেড়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ টাকার। এরপর রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন ও বিডি থাই ফুড।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় টেকনো ড্রাগস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ফাইন ফুডস, সিটি ব্যাংক, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং শাইনপুকুর সিরামিক স্থান পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সিএএসপিআই সূচক ১১২ পয়েন্ট কমেছে। ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টির দাম বেড়েছে, ৯৮টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।


দিনে দুই দফা বাড়িয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে একদিনে দুই দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই সমন্বয়ে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। আগের দিন (শুক্রবার) এ মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।

শনিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করা হয়, যা বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নির্ধারিত নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরি প্রতি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় স্থির রয়েছে।

বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাবেই সোনার দাম বাড়তি চাপে রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার কারণে চলতি মাসের শুরু থেকেই স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে দেশের বাজারেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি এক দফায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়।


লিড কারখানায় বৈশ্বিক শীর্ষে বাংলাদেশ, নতুন সনদ পেল ৫টি কারখানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। আরও পাঁচটি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিড’ সনদ পাওয়ায় দেশে মোট সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০টিতে।

রবিবার (২৯ মার্চ) তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে তিনটি গোল্ড এবং দুটি প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে।

বর্তমানে দেশে ১১৮টি প্লাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশের, যা পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে।

শিল্প সূত্র জানায়, নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড।

এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭ ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিসটিং বিল্ডিং ভি৪-গাই এর অধীনে গোল্ড সনদ পেয়েছে। নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-০২ ৬৫ পয়েন্ট অর্জন করে একই ক্যাটাগরিতে গোল্ড মান পেয়েছে। অন্যদিকে উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট এবং মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে, যা সর্বোচ্চ মান হিসেবে বিবেচিত।

সংস্থাটি জানায়, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড)’ মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব সনদ প্রদান করে। বৈশ্বিকভাবে এই স্বীকৃতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থার অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্জন তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। বর্তমানে বাংলাদেশ সবুজ পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যে ‘গ্রিন ট্যাগ’ যুক্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দরকষাকষির ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা মিলছে। একই সঙ্গে এটি দেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিদায়ী ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড সনদ অর্জন করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংযোজন। এর মাধ্যমে সবুজ কারখানার সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে এসব কারখানা শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, উৎপাদন ব্যয় কমানোতেও ভূমিকা রাখছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে রফতানি প্রতিযোগিতায়।

তারা বলছেন, টেকসই শিল্পায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি সংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে এবং বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করবে।


রফতানিতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উপর নির্ভরতা, অর্থনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের মোট রফতানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের দখলে রয়েছে, যার অংশ ৮০ শতাংশেরও বেশি। এই একক নির্ভরতা দেশের রফতানি কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তবে বৈশ্বিক বাজারে এ খাতের অংশীদারিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যান্য রফতানি পণ্যের অবদান ২ শতাংশের নিচেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশ পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো মূলত একটি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তা সামগ্রিক রফতানি আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অর্থনীতির গতি সচল রাখতে পোশাক খাতের বাইরে নতুন পণ্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী খাতগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস থেকে এসেছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা, যা মোট আয়ের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৈশ্বিক চাহিদা, বাণিজ্য নীতি বা ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পোশাক খাতে ধাক্কা এলে দেশের রফতানি আয় চাপের মুখে পড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপসহ নানা কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অতীতে বৈশ্বিক মন্দা, মহামারি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাতেও পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী দেশ যেমন ভিয়েতনাম, চীন ও ভারত ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি, উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ফলে তারা বহুমুখী রফতানি কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘ সময়েও এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ কোটি ডলারে।

অন্য খাতগুলোর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল থেকে এসেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্য থেকে ১ দশমিক ১ শতাংশ আয়। জুতা ও প্রকৌশল খাত থেকেও সমান হারে ১ দশমিক ১ শতাংশ অবদান এসেছে। এছাড়া রাসায়নিক পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, চিংড়ি, প্লাস্টিক ও তামাক পণ্য থেকে ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত আয় হয়েছে। অন্যান্য খাতের সম্মিলিত অবদান প্রায় ৬ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চামড়া, ওষুধ শিল্প, আইসিটি, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক এবং কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।


বৈশ্বিক বাজারে তামার দাম কমলেও অ্যালুমিনিয়ামের দাম ঊর্ধ্বগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দামে সামান্য পতন দেখা গেছে, আর বিপরীতে অ্যালুমিনিয়ামের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে এই ভিন্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) লেনদেনের সময় তামার দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি টন ১২ হাজার ২৬৭ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে এ ধাতুটির দর প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য মন্দা এবং বাজারে তামার বড় ধরনের মজুদ এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে তামার মজুদ গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যা বছরের শুরু থেকে প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে এর আগে বুধবার চীনের ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে সাময়িক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অ্যালুমিনিয়ামের দামে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন ৩ হাজার ২৯০ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০ মার্চের পর সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সময়ে অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে—দস্তার দাম বাড়লেও সিসা, নিকেল ও টিনের দাম কিছুটা কমেছে।


রিটার্ন জমা করেছেন সাড়ে ৪১ লাখেরও বেশি করদাতা, সময় বৃদ্ধির আবেদনেও সাড়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে অনলাইনে আবেদন ব্যবস্থার সূচনার পর করদাতাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই সুবিধা চালুর পর স্বল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে এবং অধিকাংশই অনুমোদন পেয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) এনবিআরের এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজারের বেশি করদাতা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন এবং সেগুলো ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি করদাতা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন এবং ৪১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

এনবিআর জানায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করদাতাদের সুবিধা বিবেচনায় চলতি বছর রিটার্ন জমার শেষ সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব না হলে করদাতারা অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় নিতে পারবেন। এজন্য নির্ধারিত সময়সীমার আগেই আবেদন করতে হবে।

এনবিআর আরও জানায়, সময় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় “Time Extension” নামে একটি অপশন যুক্ত করা হয়েছে। করদাতারা নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে সহজেই আবেদন করতে পারছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনাররা অনলাইনে দ্রুত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই আবেদন অনুমোদিত হচ্ছে। সময় বৃদ্ধি অনুমোদিত হলে নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১১ দিন পর ফের আমদানি-রপ্তানি শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ভারতীয় এক কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বন্দর এলাকায় ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসছে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।

হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গত ১৮ই মার্চ বুধবার থেকে শুরু করে ২৭শে মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১০দিন হিলি শুল্ক স্টেশনে কর্মরত সিআ্যন্ডএফ এজেন্টদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে ওই সময়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মাঝে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটির পর শনিবার থেকে সিআ্যন্ডএফ এজেন্টদের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় কাস্টমসের সুপার মৃত্যুবরণ করায় গতকাল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়নি। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে পুনরায় দুদেশের মাঝে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে সকালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে।

এর আগে শনিবার থেকেই বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। ফলে বন্দর এলাকায় আগে থেকে থাকা আমদানিকৃত পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে।


ঈদের ছুটি শেষে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৫
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ১০ দিনের বন্ধের পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে এই বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সোনামসজিদ বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি, লোড-আনলোড, পণ্য পরিবহনসহ কাস্টমস ও সিএন্ডএফ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে এই সময়েও সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।

বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান এবং সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অফিস সচিব একরামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে বন্দর বন্ধ থাকলেও ১৭ মার্চ কোনো আমদানি বা রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করেনি। শুধুমাত্র খালি ট্রাক নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে এবং সীমিত আকারে লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।


ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশি আলুচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার পথ খুলে গেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভিয়েতনামের বাজারে আলু রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে।

গত শুক্রবার ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী বিদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মে মাসে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। দূতাবাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ যাচাই শেষে ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশের আলুকে আমদানির জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করে।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, “এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক। এই অনুমোদনের ফলে আমাদের আলু রপ্তানিকারকদের সামনে বিশাল এক সুযোগ তৈরি হলো। এর সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত আলু রপ্তানি শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।”

দূতাবাস সূত্র জানায়, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য, বিশেষ করে তিল রপ্তানির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ কম।

অন্যদিকে উৎপাদন অঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জে কৃষকেরা পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছেন মাত্র ছয় থেকে আট টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, “উচ্চ ফলনশীল, রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর নতুন জাত সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। নতুন কিছু জাত থেকে একই পরিমাণ জমি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি আলু উৎপাদন সম্ভব।”

রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়লেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রপ্তানির খবর কিছুটা স্বস্তি মিললেও কৃষকের প্রচুর লোকসান হয়েছে। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না হলে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। যথাযথ অবকাঠামো ও হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ঘাটতি আছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও কৃষক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব জটিলতা দূর হলে বাংলাদেশি আলুর রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং চাষিরা স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ পাবেন।”


banner close