যতবারই এ দেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই দেখা গেছে একশ্রেণির মানুষ হইহই, রইরই, গেল গেল সব গেল, শিক্ষা গেল, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গেল- এমন সব কথা বলে রাস্তায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে আসছে। চলতি বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার আগে এবং পরেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কোথাও অভিভাবকরা, কোথাও শিক্ষকরা, কোথাও বা বিশেষজ্ঞ নামেও নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী নতুন বছরে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ধর্মীয় উন্মাদনা, মিথ্যাচার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক তথা গোটা জাতিকেই যেন জাগিয়ে তোলা হচ্ছে, বলার চেষ্টা হচ্ছে আপনারা কেন ঘুমিয়ে আছেন, প্রতিবাদ করুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনেকে শিক্ষাক্রমকে অপপ্রচারের শিখণ্ডী বানাতে মাঠে নেমে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব আজগুবি কথা প্রচার করা হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও শোভনীয় নয়।
শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হতেই পারে; কিন্তু সেটি পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন সূচি ধরে ধরে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেই সাধারণত করা হয়ে থাকে। সেসবের চেষ্টা দেখি না। যা কিছু বলা হয়, তা গড়ে হরিবোল বললেও যেন কম বলা হবে। এভাবে তো কোনো শিক্ষাক্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার দর্শন, হৃদপিণ্ড যা একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞই বোঝেন। যেমন- একজন হার্ট স্পেশালিস্ট ডাক্তার মানুষের হৃদপিণ্ড সম্পর্কে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে পাঠ্যবই নিয়ে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। অনেকের গাইড বইয়ের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে ঘৃতাহুতি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের লাভালাভ হিসাব করেও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদানের পরিবর্তে বই ছুড়ে মেরে শিক্ষামন্ত্রীকে গালাগাল করছেন এমন কথাও আমি শুনতে পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই আমার কাছে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো নয়। কারণ ’৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে হালের নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা অবস্থান আমার দেখা বিষয়, বোঝারও বিষয়। স্পষ্টই বুঝতে পারি যে শিক্ষাক্রম নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের বক্তব্যে থাকে গঠনমূলক সমালোচনা। বাকি যারা উঠেপড়ে সমালোচনা করেন তাদের নানান জনের নানা উদ্দেশ্য, স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটি কোনোকালেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম দ্বারা গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাই নানা অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত থেকেছে চিরকালই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্বের মধ্যে নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ’৮০ সালের মধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এরপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে আসা। কিন্তু কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পরই নানা গোষ্ঠী নানা অপবাদে এমন একটি শিক্ষানীতিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল যারা এর ভেতরের দর্শনটি বুঝতে অক্ষম ছিল। তাদেরই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হলো ’৭৫-এর পর। দেশে তখন থেকে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ধারার ও নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে যার মতো করে গড়ে তোলা শুরু করেছে। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হালচাল হলে সেই জাতি কোনোভাবেই শিক্ষার দর্শন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। আমরাও সে কারণে হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এতসব বিভাজন সৃষ্টির মূলেই হচ্ছে ‘নামে শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির অব্যবস্থা’। সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের আসল রূপ। আমাদের কোনো স্তরেই শিক্ষাক্রম ঠিক নেই। যে যার মতো করে প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ছে, বই-পুস্তক ঠাসা আর পরীক্ষার জাঁতাকলে শিক্ষার্থীদের পিষ্ট করার এক ভয়ংকর তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতির কয়েকটি প্রজন্মও তেমনি কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার দক্ষ, জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় বেড়ে ওঠা শিক্ষিত মানব গড়ে তুলতে আমরা পেরেছি বলে দাবি করতে পারব না। কারণ শিক্ষার দর্শনই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষার দর্শন হচ্ছে কি পড়ব বা পড়াব, কেন পড়ব বা পড়াব, পড়ার অর্জনটা কী হবে বা হবে না- সেটি হাতেনাতে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারব যে আমাদের এ ৫ দশকের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি পারতাম তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কেন? একবারও কি আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? আমাদের করণীয় কী সেগুলো সম্পর্কে কতজনই বা আমরা অবহিত? কিন্তু যখনই দেশে শিক্ষায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বিরোধিতাটা প্রবলভাবেই আসে, বিরোধিতাটা যদি গঠনমূলক হতো তাহলে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিরোধিতাটাই যখন ব্যঙ্গাত্মক, বিদ্রূপাত্মক এবং নানা ধরনের শ্লেষ, মনগড়া, ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন বুঝতেই হবে এত বছরের আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা বের হয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই শিখনফল ব্যঙ্গবিদ্রূপ, তামাশা, অপরাজনীতি ও বিভ্রান্ত করতে যতটা ‘পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে, নীতি-নৈতিকতা, যুক্তিবাদী জ্ঞানবিজ্ঞানে দক্ষ ও সৃজনশীল মানুষরূপে গড়ে উঠতে অক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কারণ সেই শিক্ষাক্রমটাই এতদিনকার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে ছোট দেশ হলেও নানাভাবে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে কারণেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গেল বছর তাদের দেশে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। এমনকি সরকারপ্রধানের প্রাসাদও দখল করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কিছুই ধ্বংস করেনি। এর মানে কী? আমরা কি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো ফল বের করতে পারব? এ ধরনের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত তাহলে কি হতো? ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, কাটাকাটি, কি না হতো? শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটি টানার কারণ হচ্ছে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কিছু নীতি-নৈতিকতা, যুক্তি ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেসবের চর্চা কোথায়? এখানেই বোঝা যায় শিক্ষাক্রমের পার্থক্যের মধ্যেই ভিন্ন জাতি গঠনের কারণ নিহিত থাকার।
বর্তমানে যেই শিক্ষাক্রম সরকার স্কুলপর্যায়ে প্রবর্তন করেছে সেটিকে এক কথায় জীবন, কর্ম ও জ্ঞানমুখী জনশক্তি তৈরি করার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আমাদের আগের সৃজনশীলব্যবস্থা কিছু কিছু সফলতা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পরীক্ষা আর মুখস্থবিদ্যার পুরাতন পদ্ধতির মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আটকে ছিল। শিক্ষার্থীরা শেষ বিচারে পরীক্ষার্থীই থেকেছে। পরীক্ষার জন্য তাদের গাইডবই ক্রয় করতে আর টিউটরের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থবিদ্যার চাপ জগদ্দল পাথরের মতো চেপেছিল। গতানুগতিক শিক্ষায় বিশ্বাসী শিক্ষক ও অভিভাবকরা যুগযুগ ধরে এমনটি দেখে এসেছেন, শিখে এসেছেন। তারা জিপিএ-৫ পাওয়ায় সন্তানের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কয়জন সেই ভবিষ্যতের মালিক হতে পেরেছেন ? আমাদের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও ছিল গতানুগতিক। শ্রেণিপাঠ, মুখস্তবিদ্যা আদায় করা, পরীক্ষার মূল্যায়নও সেভাবে নির্ধারণ করা হতো। আর এর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গাইডবই, শ্রেণিপাঠের চেয়ে কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি কোচিং নেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এটি কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান, জীবন ও শিক্ষার মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ রাষ্ট্রেই অচল হয়ে গেছে। আমরা যুগযুগ ধরে সেটাকেই নানা নামে অব্যাহত রেখেছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই এমন খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিজেদের যুক্ত রাখার প্রবণতায় বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদের একটা বিরাট অংশই আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে করোনাকালে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাক্রম বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু করোনাকাল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আগের বোধ, বিশ্বাস আর অভ্যস্ততার মধ্যে গুটিয়ে থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম কেবলই প্রবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে। এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং উন্নততর করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে; কিন্তু এটিকে বাতিল করে আগের মুখস্থ বিদ্যা এবং গাইডবই, টিউশননির্ভর শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার যারা দাবি করেন তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা হতে পারে। যে শিক্ষকরা সেখানে ফিরে যেতে চান, তারাও একই দোষে দোষী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা প্রতিটি শিক্ষকেরই দায়িত্ব। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষকেরই পঠনপাঠনের নিয়মিত অভ্যাস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। অথচ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ এবং নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হাতেকলমে শেখন, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই যুগের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে পারেন, শিক্ষার্থীদেরও গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা নয় বরং সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হওয়া, আস্থা রাখা এবং তাদের জীবন, কর্ম ও জ্ঞান দক্ষতায় গড়ে তোলার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি আস্থাশীল হতেই হবে। অপপ্রচার, গুজব, ব্যঙ্গবিদ্রূপ শিক্ষার সঙ্গে যায় না, জীবনের সঙ্গেও নয়। এটাই শিক্ষার দর্শন।
লেখক: ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি বাণিজ্য সুরক্ষায় একটি বিস্তৃত ‘জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন কঠোর বিধিনিষেধের মুখে বহু বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ট্রেসেবিলিটি বলতে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একটি পণ্যের ইতিহাস, ব্যবহার ও অবস্থান অনুসরণ করার সক্ষমতাকে বোঝায়।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিটের প্রথম বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা বলেন,ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইকোডিজাইন ফর সাসটেইনেবল প্রোডাক্টস রেগুলেশন (ইএসপিআর) মেনে চলার জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করা এখন দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান। বৈঠকে এসটিআইএলই–টু প্রকল্পের আওতায় বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জিআইজেড-(জার্মান সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন)–এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গ্যাপ অ্যানালাইসিস ও প্রয়োজন মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
বিল্ডের গবেষণা পরিচালক ড. ওয়াসেল বিন শাদাত পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিটকে জানান, ইএসপিআর বিশ্ববাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। তার ভাষায়, এ বিধান শিল্পকে স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশগত মান থেকে সরিয়ে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক মানদণ্ডে নিয়ে যাচ্ছে, যা ইইউতে প্রবেশ করা প্রায় সব ধরনের ভৌত পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
সভাপতি মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, ইএসপিআর বাজারে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রক শর্ত হলেও ডিপিপি এই নিয়ম মেনে চলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সীমান্তে মেশিন-পঠনযোগ্য তথ্য, উপাদানের গঠন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সূক্ষ্ম ডেটা সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে।
বিশেষ করে যখন দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক ঝুঁকি বড় হতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করা হয়।
উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রেসেবিলিটি সংক্রান্ত নতুন শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে বছরে আনুমানিক ০.৩৬ বিলিয়ন থেকে ১.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
‘গ্যাপ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে ছয়টি ক্ষেত্রে মোট ৬২টি প্রস্তুতিগত ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ঘাটতিকে ‘স্তর ১’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো দ্রুত সমাধান না করলে রপ্তানি আয়ের বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিট একটি বিকেন্দ্রীভূত জাতীয় ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুপারিশ করেছে।
বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, দ্রুত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ বুঝে নেওয়া এখন বেসরকারি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষভাবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পরিচালিত নিবন্ধিত রপ্তানিকারক বা আরইএক্স সিস্টেমকে এই উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার মতে, আরইএক্স ইতোমধ্যেই রপ্তানিকারকদের যাচাইকৃত তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করছে। ফলে এটিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী জাতীয় ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব, যা বিদ্যমান রপ্তানি ব্যবস্থাকে ইইউর ডিজিটাল শর্তের সঙ্গে সমন্বয় করতে সহায়তা করবে।
সভায় বিভিন্ন রপ্তানি খাতে প্রস্তুতির বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি বিদ্যা অমৃত খান বলেন, পোশাক খাত ইতোমধ্যেই টেকসই উৎসের প্রমাণ প্রদানের বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ইএসপিআর এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শিশুশ্রম, অন্যায্য শ্রমনীতি বা পরিবেশ ধ্বংসের কোনো প্রভাব না থাকে এবং এ নিয়ম মানা ‘বাধ্যতামূলক এবং কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না’।
অন্যদিকে এলএফএমইএবি (লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ)–এর মহাসচিব মেজর রফিকুল ইসলাম (অব.) জানান, চামড়া ও পাদুকা খাতে এ বিষয়ে সচেতনতার বড় ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, অনেক উদ্যোক্তা এখনো ইএসপিআর সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না, তাই দ্রুত সংগঠিত সচেতনতা কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থ বিভাগ থেকে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব ও নিয়ম-সম্মত উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্পখাতকে সহায়তা দিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে। এ তহবিলের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
এসটিআইএলই–টু প্রকল্পের প্রধান মাইকেল ক্লোডে বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিল্ড জাতীয় কৌশল তৈরির কাজ করছে। তবে পৃথক কোম্পানির জন্য ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিল্পখাতের ওপরই থাকবে।
উর্মি গ্রুপের গ্রুপ সাসটেইনেবিলিটি লিড বি এম ফখরুল আলম সতর্ক করে বলেন, ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দেরি হলে শিগগিরই ‘অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কমপ্লায়েন্স চাপ’ তৈরি হতে পারে। তিনি উৎপাদকদের সহায়তায় দ্রুত একটি সরল জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতভিত্তিক আলোচনার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রতিটি শিল্পখাত আগাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (এমওইএফসিসি), পরিকল্পনা বিভাগ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং খাতটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, গত কয়েক মাসে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে মুরগির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না খামারিরা। এতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প এবং এ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, পোল্ট্রি খাতের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যেখানে একটি বাচ্চার দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে বলেও দাবি করা হয়। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং অনেকেই লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতা সুলতান হাসান বলেন, ‘আমরা লোকশান করতে করতে ভিটে-মাটি সব হারিয়েছি। পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই আমাদের প্রণোদনা দিন। আমাদের পাশে দাড়ান।’
এ সময় সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। ডিম আমদানি করা হচ্ছে, এতে ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনেক সরকারি লোক জড়িত। আমরা সরকারের সঙ্গে বসতে চাই। আমাদের দুঃখগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা আশা করি সরকার আমাদের দিকে সুনজর দেবে।’
সংগঠনটির নেতারা জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাবের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের কাছে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান, সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা চালু করা এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।
সংগঠনটির মতে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এর প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচকভাবে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৮৩ টাকা পর্যন্ত কমায় ভালো মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনা ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করে। এতে জানানো হয়, তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও রুপার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো সোনার দাম কমল দেশে। এর আগে শুক্রবার সকালে ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার কমেছিল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। ফলে তিন দিনে ২২ ক্যারেট সোনার দাম মোট কমেছে ৮ হাজার ১৬৫ টাকা।
নতুন দরে শনিবার সকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকায়। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।
এর আগে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ভরিতে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকায়।
অর্থাৎ শনিবার নতুন সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট সোনায় ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমেছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটে ২ হাজার ৫০৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ১৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা দাম কমেছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও পতন দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের রুপায় ভরিতে ২৯২ টাকা কমেছে। ২১ ক্যারেটে কমেছে ২৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপায় ভরিতে ১৭৪ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৩ টাকা।
বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে যায়। ফলে বাজারে এখনো ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও একই সময়ে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইএক্স সূচক ১২৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে সপ্তাহ শেষে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্টে। একই সময়ে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়ে ৫৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট যোগ হয়ে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ২ হাজার ১২ পয়েন্ট। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসও বেড়ে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ১ হাজার ৪৯ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৪টির, কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির। এছাড়া ২৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে ছয় বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক শেয়ারের দাম তুলনামূলক কমে আকর্ষণীয় পর্যায়ে চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা আবার শেয়ার কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে সূচক বাড়তে দেখা গেছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ গড় ছিল ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল সবচেয়ে বেশি। মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিল এ খাত। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের অংশ ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এরপর বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং প্রকৌশল খাত ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে সিমেন্ট খাতে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) গত সপ্তাহেও সূচক বেড়েছে। সিএএসপিআই সূচক ১ দশমিক ০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪ হাজার ৮২৫ পয়েন্ট। একই সময়ে সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৬০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ হাজার ৬১ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ১৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির।
মার্চের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানিপণ্য এসে পৌঁছেছে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে মোট ১৬টি জাহাজ দেশের বন্দরে এসেছে। এর পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে দেশে এসে খালাস সম্পন্ন করেছে। পরে ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।
এদিকে এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতোমধ্যে মোট ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিও বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং প্রায় চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জাহাজ চলাচল ও বীমা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা আপাতত নেই।
দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে হরমুজ প্রণালির এলাকায় কোনো সংঘাত বা বিঘ্ন দেখা দিলে জাহাজের সময়সূচি এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক খালাস কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং একটি টেকসই ও শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে আয়োজিত হয়েছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্টেরিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরাম’।
দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি গত ১৪ মার্চ শুরু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে বর্তমানে টোকিও সফর করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইউএস ন্যাশনাল এনার্জি ডমিনেন্স কাউন্সিল। আয়োজক প্যানেলে রয়েছেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব ডগ বারগাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসেই।
এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লিস্তে ও ভিয়েতনামের জ্বালানি মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে নীতিনির্ধারকরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশেষ করে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সেশনের বাইরে বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ব্রুনাইয়ের প্রতিনিধিদের পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে। এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসা এবং নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ঐক্য অত্যন্ত জরুরি এবং এই ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানা গেছে।
আসন্ন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে করের হার না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুপারিশও এসেছে।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এ সভার আয়োজন করে।
সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় সুদের হার কমানো, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রাধিকার খাতের উন্নয়ন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য আনুষ্ঠানিক সুপারিশ তৈরি করতেই সংগঠনটির সদস্যভুক্ত বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রাক-বাজেট সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
সভায় তিনি বলেন, ‘সরকার দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। তবে এর মানে এই নয়, করের বোঝা বাড়বে। বরং করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমেই রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে।’
এ সময় সংগঠনটির মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় বাজেট এমন একটি সময় হতে যাচ্ছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি একটি অস্থিতিশীল, জ্বালানির বাজার অস্থির এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন হবে চ্যালেঞ্জিং।’ তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে যৌক্তিক প্রস্তাবনার মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও কমেছে স্বর্ণের দাম। গত এক সপ্তাহে মূল্যবান এ ধাতুর দর প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ নেমে গেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূলত ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা কমে যাওয়াও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কমেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেও সাপ্তাহিক হিসাবে পতনই বেশি দেখা গেছে। দিনের লেনদেনে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৭ ডলার ৬১ সেন্টে পৌঁছায়। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে দরপতন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশে। অন্যদিকে এপ্রিল সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২ ডলার ৬০ সেন্টে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখন অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। শেয়ারবাজারে দরপতন এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের লোকসান সামাল দিতে স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন।
স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য খাতে লোকসান করছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত নগদ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে তারা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারে বলে বাজার ধারণা করছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রভাবও বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের বদলে ডলারকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে ডলারের বিনিময় হার গত তিন মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন জানুয়ারির ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যে Fফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮১ ডলার ২৫ সেন্টে নেমেছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০৫ ডলার ৯০ সেন্টে পৌঁছেছে।
চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক স্মার্টফোন সরবরাহ কমে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মেমোরি চিপের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়া, সরবরাহে ঘাটতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নির্মাতাদের উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে, যা পুরো শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
ওমডিয়া জানায়, বর্তমানে একটি স্মার্টফোন তৈরির মোট ব্যয়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে মেমোরি চিপে। এতে নির্মাতাদের লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের বিভিন্ন মডেলের ফোনের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। তবে দাম বাড়তে থাকলে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে, যেখানে ক্রেতারা মূল্যের ব্যাপারে বেশি সংবেদনশীল, সেখানে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মেমোরি চিপের দাম যদি একইভাবে বাড়তে থাকে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সার্ভারের জন্য চিপের চাহিদা আরও বাড়ে, তাহলে স্মার্টফোন বিক্রি সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ২০২২ সালের বাজার মন্দাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শিপিং খরচ বাড়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিও স্মার্টফোন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ সংকটের প্রভাব সব ধরনের ফোনে সমানভাবে পড়বে না বলে জানিয়েছেন জাকের লি, যিনি ওমডিয়া–এর প্রধান বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘১০০ ডলার বা তার কম দামের সস্তা ফোনগুলোর বিক্রি প্রায় ৩১ শতাংশ কমে যেতে পারে। কারণ এ বাজেটের ফোনে মুনাফা খুব কম থাকে, ফলে যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ৮০০ ডলারের বেশি দামের প্রিমিয়াম বা দামি স্মার্টফোনের বাজার উল্টো ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো বড় কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি নতুন মডেলের নকশা ও কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আগামী দিনে তুলনামূলক কম দামে উন্নত মানের স্মার্টফোন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে টানা প্রায় দুই বছর নির্মাণ খাতের কার্যক্রম ছিল অনেকটাই মন্থর। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এবং নির্মাণ মৌসুম শুরু হওয়ায় খাতটিতে চাহিদা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাবে রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আবারও স্থবির হয়ে পড়তে পারে পুরো নির্মাণ খাত।
বাংলাদেশের নির্মাণশিল্প মূলত আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। এতে আগে যেখানে কাঁচামাল দেশে পৌঁছাতে প্রায় ৪৫ দিন লাগত, এখন সময় লাগছে প্রায় ৬০ দিন বা তারও বেশি।
জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে শিপিং চার্জ ও বীমা প্রিমিয়ামও বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফিউচার মার্কেটে কাঁচামালের বুকিং মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সূচনা হয়। পরে ইরান পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের কয়েক দিনের মধ্যে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যদিও চীন ও রাশিয়ার মতো মিত্র দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেয়। একই সময়ে অঞ্চলটির বিভিন্ন জ্বালানি পরিশোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে বড় চাপে ফেলেছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ধীরগতির। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্মাণ মৌসুম শুরু হওয়ায় সম্প্রতি খাতটিতে কিছুটা গতি ফিরে আসে। এতে রড ও সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
ইস্পাত উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে দেশে প্রথম গ্রেডের রডের দাম প্রতি টন ছিল প্রায় ৭৭ থেকে ৮৩ হাজার টাকা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ৮২ হাজার টাকায়। গত এক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই টনপ্রতি ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সর্বশেষ বাজারে রড বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি প্রায় ৯৫ থেকে ৯৭ হাজার টাকায়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন উৎপাদনকারীরা।
সিমেন্ট কোম্পানি ও ডিলারদের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চ প্রতি ব্যাগ (৫০ কেজি) সিমেন্টের দাম ছিল ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা। কয়েক দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে বর্তমানে ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর মধ্যে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ৪ মার্চ থেকে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম ৫ টাকা বাড়ায় এবং পরে আরও ৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। একইভাবে ফ্রেশ সিমেন্ট প্রতি ব্যাগে ১০ টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি বিক্রয় কমিশন বন্ধ করেছে। এনজিএস সিমেন্ট ৫ টাকা, রুবি সিমেন্ট ১০ টাকা এবং ডায়মন্ড সিমেন্টও ১০ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহেই আবার দাম বাড়তে পারে বলে ডিলারদের জানানো হয়েছে।
নির্মাণ মৌসুম শুরুর সময় দেশের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম, একেএস, কেএসআরএম ও জিপিএইচসহ বিভিন্ন কোম্পানি রড উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল। গত ডিসেম্বরের তুলনায় তখন উৎপাদন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাঁচামাল আমদানিতে বিলম্ব, দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থানরত জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে কাঁচামাল পরিবহনেও বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের কারণে লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য লোডিং ও সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে এবং বাজারে দাম আরও দ্রুত বাড়ছে বলে দাবি শিল্প সংশ্লিষ্টদের।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রড ও সিমেন্টের বাজার দুর্বল অবস্থায় ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা এবং নির্মাণ মৌসুমের কারণে চাহিদা বাড়লেও হঠাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরো বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণ খাতের কাঁচামালের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মুরগি ও ডিমের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিমও। তবে আমিষের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও স্বস্তি ফিরেছে সবজির দামে। অন্যদিকে ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে চিনি ও সেমাইয়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও ও তেজকুনিপাড়া এলাকা ঘুরে বাজারের এমন বৈচিত্র্যময় চিত্র দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোজার শুরুর দিকে মুরগির দাম কিছুটা কমলেও শেষ সময়ে এসে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে এর দাম। গত সপ্তাহে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি গতকাল ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। বিক্রেতারা বলছেন, খামার ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। মুরগির পাশাপাশি প্রতি ডজন ডিমেও ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে; বর্তমানে এক ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে চাহিদা আরও বাড়লে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
এদিকে দীর্ঘ সময় সংকটে থাকা ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বাজারে খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরণের তেলের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে সরবরাহের উন্নতি হলেও সংকটের অজুহাতে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া দাম এখনও কমেনি। অন্যদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে লাচ্ছা সেমাই, বাংলা সেমাই ও চিনির বিক্রি ব্যাপক জমে উঠেছে। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে অনেক ক্রেতাই আগেভাগে এসব শুকনো খাবার কিনে রাখছেন। বাজারে মানভেদে লাচ্ছা সেমাইয়ের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা চিনির কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে সবজির বাজার। রোজার শুরুর দিকে শাক-সবজির দাম আকাশচুম্বী থাকলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। বিশেষ করে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় ওঠা বেগুনের কেজি এখন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া আলু, শসা, গাজর ও শিমের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই রয়েছে। স্থিতিশীল আছে পেঁয়াজের দামও। সব মিলিয়ে আমিষের বাজারে বাড়তি খরচের চাপে সাধারণ মানুষ হিমশিম খেলেও সবজি ও ঈদ সামগ্রীর সহজলভ্যতা বাজার পরিস্থিতিতে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা করছে। তদারকি জোরদার করলে অন্যান্য পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এলেও এবং রমজানের তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে এখনো আশানুরূপ কেনাকাটার জোয়ার দেখা যাচ্ছে না। দেশের প্রায় ৫ হাজারের বেশি ছোট-বড় ফ্যাশন হাউস এবং কয়েক শ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এই উৎসব মৌসুমের ওপর বিনিয়োগ ও লাভের বড় অংশ নির্ভর করলেও এবার বাজারের চিত্র বেশ বৈচিত্র্যময় ও খানিকটা হতাশাজনক। টুয়েলভ, লা রিভ, আড়ং, ক্যাটস আই কিংবা রঙ বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সংগ্রহে নতুনত্ব থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে আগের মতো কেনাকাটার সেই ত্বরিত ঝোঁক বা ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নতুন সরকার গঠনের পর বাজারের স্থবিরতা কাটবে, কিন্তু বাস্তবে বেচাবিক্রিতে ভালো-মন্দের এক মিশ্র প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের গাণিতিক প্রত্যাশা ছিল অন্তত গত বছরের তুলনায় এবার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি বাড়বে। সেই আশা থেকেই রাজধানীর নামী দামী শপিং মল থেকে শুরু করে অলিগলির আউটলেটগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতা থাকলেও তাঁরা অত্যন্ত ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে কেনাকাটা করছেন। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে শুরু করে মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড বা আজিজ মার্কেটের মতো এলাকাগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা জামাকাপড় দেখছেন এবং দামের তুলনায় মানের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। আগের বছরগুলোর মতো মাসের শেষ দিকে যে পরিমাণ হুড়োহুড়ি থাকে, তা এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। অনেকেই পোশাকের ধরন আর বর্তমানের গুমোট আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে হালকা সুতি কাপড়ের পোশাক বেশি পছন্দ করছেন।
এবার ঈদের পোশাক সংগ্রহে ফ্যাশন হাউসগুলো আধুনিক আর দেশি ঐতিহ্যের ফিউশনকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে নজরকাড়া সংগ্রহের বিপরীতে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠিত আউটলেট থেকে জানা গেছে যে সেখানকার বেচাবিক্রি এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের মতে বাজার পরিস্থিতি অনেকটা অনিশ্চিত। অথচ এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে। যেমন, শীর্ষস্থানীয় কিছু ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি গত বছরের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। রঙের আধিক্য এবং পোশাকের বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহক এখনও ব্র্যান্ড শপে আস্থা রাখছেন।
কাপড়ের ধরন হিসেবে বরাবরের মতোই মেয়েদের থ্রি-পিস ও টু-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সিল্ক, খাদি কিংবা বয়েল কাপড়ের মাঝে এবার সুতি পোশাকই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে সংগ্রহে বড় পরিবর্তন না আসলেও আধুনিক কাটিংয়ের পাঞ্জাবি আর পাজামার আবেদন অম্লান রয়েছে। তবে পাইকারি বাজারের মন্থর গতির রেশ সরাসরি খুচরা বাজার ও শোরুমগুলোতে প্রভাব ফেলেছে। অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার বাজারের চড়া মূল্যের কথা চিন্তা করে কেনাকাটায় সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং তুলনামূলক বাজেটের ভেতর ভালো কিছু পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ী বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ সরাসরি ফ্যাশন সেক্টরের ওপর প্রভাব ফেলছে। ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর মতো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো গত বছরের তুলনায় কিছু বেশি বিক্রি করলেও সামগ্রিকভাবে বাজারের প্রকৃত চাঙ্গা ভাব ফিরে পেতে তারা আরও কয়েক দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। শেষ মুহূর্তের কয়েক দিনে যদি সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় না জমে, তবে উৎসবনির্ভর বিশাল এই বাজার ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কাও থেকে যায়। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ কেনাকাটায় যে আস্থার সংকটের ছাপ পড়েছে, তার উত্তরণ কেবল বাজারের আসন্ন কয়েক দিনের চাঞ্চল্যেই নিহিত রয়েছে।
দেশের বাজারে টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচাইতে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সকাল ১০টা থেকেই এই দর সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ এখন থেকে বিক্রি হবে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকায়। এর আগে গতকাল বুধবার দাম বাড়ার পর এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০১ টাকা।
স্বর্ণের দরপতনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এদিন কমেছে রুপার দামও। বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রায় প্রতিদিনই এই মূল্যবান ধাতুর দাম ওঠানামা করছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। মাত্র এক দিন আগেই বুধবার সকালে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ৩ হাজার টাকার বেশি দাম কমায় ক্রেতা ও সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে সোনার দামের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সামনের দিনগুলোতে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।