যতবারই এ দেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই দেখা গেছে একশ্রেণির মানুষ হইহই, রইরই, গেল গেল সব গেল, শিক্ষা গেল, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গেল- এমন সব কথা বলে রাস্তায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে আসছে। চলতি বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার আগে এবং পরেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কোথাও অভিভাবকরা, কোথাও শিক্ষকরা, কোথাও বা বিশেষজ্ঞ নামেও নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী নতুন বছরে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ধর্মীয় উন্মাদনা, মিথ্যাচার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক তথা গোটা জাতিকেই যেন জাগিয়ে তোলা হচ্ছে, বলার চেষ্টা হচ্ছে আপনারা কেন ঘুমিয়ে আছেন, প্রতিবাদ করুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনেকে শিক্ষাক্রমকে অপপ্রচারের শিখণ্ডী বানাতে মাঠে নেমে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব আজগুবি কথা প্রচার করা হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও শোভনীয় নয়।
শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হতেই পারে; কিন্তু সেটি পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন সূচি ধরে ধরে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেই সাধারণত করা হয়ে থাকে। সেসবের চেষ্টা দেখি না। যা কিছু বলা হয়, তা গড়ে হরিবোল বললেও যেন কম বলা হবে। এভাবে তো কোনো শিক্ষাক্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার দর্শন, হৃদপিণ্ড যা একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞই বোঝেন। যেমন- একজন হার্ট স্পেশালিস্ট ডাক্তার মানুষের হৃদপিণ্ড সম্পর্কে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে পাঠ্যবই নিয়ে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। অনেকের গাইড বইয়ের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে ঘৃতাহুতি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের লাভালাভ হিসাব করেও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদানের পরিবর্তে বই ছুড়ে মেরে শিক্ষামন্ত্রীকে গালাগাল করছেন এমন কথাও আমি শুনতে পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই আমার কাছে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো নয়। কারণ ’৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে হালের নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা অবস্থান আমার দেখা বিষয়, বোঝারও বিষয়। স্পষ্টই বুঝতে পারি যে শিক্ষাক্রম নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের বক্তব্যে থাকে গঠনমূলক সমালোচনা। বাকি যারা উঠেপড়ে সমালোচনা করেন তাদের নানান জনের নানা উদ্দেশ্য, স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটি কোনোকালেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম দ্বারা গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাই নানা অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত থেকেছে চিরকালই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্বের মধ্যে নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ’৮০ সালের মধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এরপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে আসা। কিন্তু কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পরই নানা গোষ্ঠী নানা অপবাদে এমন একটি শিক্ষানীতিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল যারা এর ভেতরের দর্শনটি বুঝতে অক্ষম ছিল। তাদেরই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হলো ’৭৫-এর পর। দেশে তখন থেকে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ধারার ও নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে যার মতো করে গড়ে তোলা শুরু করেছে। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হালচাল হলে সেই জাতি কোনোভাবেই শিক্ষার দর্শন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। আমরাও সে কারণে হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এতসব বিভাজন সৃষ্টির মূলেই হচ্ছে ‘নামে শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির অব্যবস্থা’। সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের আসল রূপ। আমাদের কোনো স্তরেই শিক্ষাক্রম ঠিক নেই। যে যার মতো করে প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ছে, বই-পুস্তক ঠাসা আর পরীক্ষার জাঁতাকলে শিক্ষার্থীদের পিষ্ট করার এক ভয়ংকর তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতির কয়েকটি প্রজন্মও তেমনি কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার দক্ষ, জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় বেড়ে ওঠা শিক্ষিত মানব গড়ে তুলতে আমরা পেরেছি বলে দাবি করতে পারব না। কারণ শিক্ষার দর্শনই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষার দর্শন হচ্ছে কি পড়ব বা পড়াব, কেন পড়ব বা পড়াব, পড়ার অর্জনটা কী হবে বা হবে না- সেটি হাতেনাতে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারব যে আমাদের এ ৫ দশকের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি পারতাম তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কেন? একবারও কি আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? আমাদের করণীয় কী সেগুলো সম্পর্কে কতজনই বা আমরা অবহিত? কিন্তু যখনই দেশে শিক্ষায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বিরোধিতাটা প্রবলভাবেই আসে, বিরোধিতাটা যদি গঠনমূলক হতো তাহলে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিরোধিতাটাই যখন ব্যঙ্গাত্মক, বিদ্রূপাত্মক এবং নানা ধরনের শ্লেষ, মনগড়া, ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন বুঝতেই হবে এত বছরের আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা বের হয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই শিখনফল ব্যঙ্গবিদ্রূপ, তামাশা, অপরাজনীতি ও বিভ্রান্ত করতে যতটা ‘পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে, নীতি-নৈতিকতা, যুক্তিবাদী জ্ঞানবিজ্ঞানে দক্ষ ও সৃজনশীল মানুষরূপে গড়ে উঠতে অক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কারণ সেই শিক্ষাক্রমটাই এতদিনকার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে ছোট দেশ হলেও নানাভাবে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে কারণেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গেল বছর তাদের দেশে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। এমনকি সরকারপ্রধানের প্রাসাদও দখল করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কিছুই ধ্বংস করেনি। এর মানে কী? আমরা কি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো ফল বের করতে পারব? এ ধরনের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত তাহলে কি হতো? ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, কাটাকাটি, কি না হতো? শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটি টানার কারণ হচ্ছে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কিছু নীতি-নৈতিকতা, যুক্তি ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেসবের চর্চা কোথায়? এখানেই বোঝা যায় শিক্ষাক্রমের পার্থক্যের মধ্যেই ভিন্ন জাতি গঠনের কারণ নিহিত থাকার।
বর্তমানে যেই শিক্ষাক্রম সরকার স্কুলপর্যায়ে প্রবর্তন করেছে সেটিকে এক কথায় জীবন, কর্ম ও জ্ঞানমুখী জনশক্তি তৈরি করার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আমাদের আগের সৃজনশীলব্যবস্থা কিছু কিছু সফলতা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পরীক্ষা আর মুখস্থবিদ্যার পুরাতন পদ্ধতির মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আটকে ছিল। শিক্ষার্থীরা শেষ বিচারে পরীক্ষার্থীই থেকেছে। পরীক্ষার জন্য তাদের গাইডবই ক্রয় করতে আর টিউটরের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থবিদ্যার চাপ জগদ্দল পাথরের মতো চেপেছিল। গতানুগতিক শিক্ষায় বিশ্বাসী শিক্ষক ও অভিভাবকরা যুগযুগ ধরে এমনটি দেখে এসেছেন, শিখে এসেছেন। তারা জিপিএ-৫ পাওয়ায় সন্তানের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কয়জন সেই ভবিষ্যতের মালিক হতে পেরেছেন ? আমাদের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও ছিল গতানুগতিক। শ্রেণিপাঠ, মুখস্তবিদ্যা আদায় করা, পরীক্ষার মূল্যায়নও সেভাবে নির্ধারণ করা হতো। আর এর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গাইডবই, শ্রেণিপাঠের চেয়ে কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি কোচিং নেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এটি কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান, জীবন ও শিক্ষার মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ রাষ্ট্রেই অচল হয়ে গেছে। আমরা যুগযুগ ধরে সেটাকেই নানা নামে অব্যাহত রেখেছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই এমন খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিজেদের যুক্ত রাখার প্রবণতায় বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদের একটা বিরাট অংশই আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে করোনাকালে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাক্রম বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু করোনাকাল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আগের বোধ, বিশ্বাস আর অভ্যস্ততার মধ্যে গুটিয়ে থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম কেবলই প্রবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে। এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং উন্নততর করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে; কিন্তু এটিকে বাতিল করে আগের মুখস্থ বিদ্যা এবং গাইডবই, টিউশননির্ভর শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার যারা দাবি করেন তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা হতে পারে। যে শিক্ষকরা সেখানে ফিরে যেতে চান, তারাও একই দোষে দোষী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা প্রতিটি শিক্ষকেরই দায়িত্ব। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষকেরই পঠনপাঠনের নিয়মিত অভ্যাস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। অথচ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ এবং নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হাতেকলমে শেখন, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই যুগের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে পারেন, শিক্ষার্থীদেরও গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা নয় বরং সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হওয়া, আস্থা রাখা এবং তাদের জীবন, কর্ম ও জ্ঞান দক্ষতায় গড়ে তোলার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি আস্থাশীল হতেই হবে। অপপ্রচার, গুজব, ব্যঙ্গবিদ্রূপ শিক্ষার সঙ্গে যায় না, জীবনের সঙ্গেও নয়। এটাই শিক্ষার দর্শন।
লেখক: ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
টানা দুই মাস ধরে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলেই শোধন কার্যক্রম থেমে যায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক ব্যবহার করেও কিছুদিন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হয়। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদলের আলোচনায় এ আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রতিবেশী দেশগুলো এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত চাপে পড়েছে।
তিনি জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জেনারেটরের জন্য ডিজেলের ঘাটতিতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, ছোট ও মাঝারি শিল্পে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং ঢাকার আশপাশের সব শিল্পাঞ্চলে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়া দ্রুত অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন, শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক খাতে সোলার পিভি সিস্টেমের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড়ের দাবি জানানো হয়।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এর ওপর বর্তমান ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর বর্তমান চারটির পরিবর্তে তিনটিতে নামিয়ে আনা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বিদ্যমান তামাক করসহ মোট রাজস্ব আয় দাঁড়াতে পারে ৮৫ হাজার কোটি টাকায়।
‘তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালায় রাজস্ব বৃদ্ধির এই সম্ভাবনা এবং কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। এতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলা হয়, তামাকবিরোধী এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমবে, অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে এবং রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের পণ্যের ভোক্তা, যাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও শ্রমজীবী। এই দুই স্তর একীভূত করে দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে এবং নতুন করে ধূমপান শুরু করা নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু করলে কর ব্যবস্থার জটিলতা কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উচ্চ স্তরে তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২০০ বা তার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর নির্ধারিত হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এই সংস্কার কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং তিন লাখ বাহাত্তর হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এক লাখ পঁচাশি হাজার তরুণসহ তিন লাখ সত্তর হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ব্যাংক খাতে দুর্বল ও একীভূত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রেখে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে বরং তাদের পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ দায়ীদের অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ না থাকার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সংশোধন এনে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসনের পরিপন্থী।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক এবং এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো সমস্যাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, এতে কার্যত দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, মালিকানা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ খাতটির সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারকে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে এমন আইন প্রণয়ন শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থই রক্ষা করতে পারে।
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনই প্রাধান্য পেয়েছে। এদিন যতগুলো শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। বিশেষ করে বিমা খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় সার্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইর সব সূচক নেমেছে এবং টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। তবে প্রথম ঘণ্টা পার হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। একে একে বিমা খাতের শেয়ারগুলো দাম বাড়ার তালিকা থেকে সরে গিয়ে পতনের তালিকায় চলে আসে। শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকায় বিমা খাতে ব্যাপক দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২১৩টির দাম কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিমা খাতে ৬টি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়লেও ৫০টির দর কমেছে, আর ২টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।
বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩০ পয়েন্টে নেমেছে। বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১ পয়েন্ট কমেছে। এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪টির দাম বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৪ কোটি টাকার তুলনায় কম।
স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সোমবার এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন আগামী ১৫ মে পর্যন্ত দাখিল করা যাবে।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যেসব করদাতার অর্থবছর ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় এক মাস বাড়িয়ে ১৫ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিসর বাড়াতে কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘ব্রিজিং নেশনস, বিল্ডিং প্রসপারিটি’ শিরোনামের একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ-ফিলিপাইনস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিপিসিসিআই)। সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে এ রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়।
বিপিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন রশিদ রোডম্যাপটি উপস্থাপন করেন। এতে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়িয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোডম্যাপটিতে হুমায়ুন রশিদ দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়লে দক্ষতা বিনিময়, যৌথ বিনিয়োগ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে গতি আসবে।
রোডম্যাপে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরের জন্য তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন ও সংযোগ, এবং স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
এসব খাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এতে দুই দেশের ব্যবসা ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. ক্যাইনলেট। তিনি বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন। আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (দ্বিপক্ষীয়) সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত রয়েছে, যেগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। সাম্প্রতিক বৈদেশিক নীতি সংলাপের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার নাবিকদের সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি স্বাক্ষর এবং নার্সিং শিক্ষা ও সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ে আসন্ন চুক্তিকে স্বাগত জানান তিনি।
সম্মেলনে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের পরিসর বাড়বে। পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত খাতে যৌথ প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের আর্থিক বাজারে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়াতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কেবল ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্য বা ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ (ডিবোর) নয়, বরং প্রকৃত লেনদেনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে মানি মার্কেটের সুদের হার। বৈশ্বিক ‘এসওএফআর’র আদলে দেশে চালু করা হচ্ছে নতুন এই রেফারেন্স রেট।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে এই রেট প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে দেশে ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ বা ডিবোর চালু ছিল। তবে এটি ব্যাংকগুলোর অফার করা সুদের হারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতো। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিয়মিত তথ্য না দেওয়ায় বাজারের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হতো না।
এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি লেনদেনের তথ্য ব্যবহার করে নতুন দুটি মানদণ্ডভিত্তিক রেট চালু করেছে।
এর মধ্যে প্রথমটি বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট বা বিওএফআর, যা ঝুঁকিমুক্ত বা জামানতনির্ভর রেট হিসেবে আন্তঃব্যাংক রেপো লেনদেনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। দ্বিতীয়টি ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট বা ডিওএমএমআর, যা জামানতবিহীন বা কলমানি লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানায়, এই রেটগুলো কোনো ব্যাংক বা ব্যক্তির ইচ্ছামতো নির্ধারিত হবে না; বরং লেনদেনের পরিমাণভিত্তিক গড়ের ওপর নির্ভর করবে। বিওএফআরের ক্ষেত্রে ওভারনাইট ও এক সপ্তাহ মেয়াদি রেট প্রকাশ করা হবে, আর ডিওএমএমআর’র ক্ষেত্রে ওভারনাইট, এক সপ্তাহ, এক মাস এবং তিন মাস মেয়াদি রেট পাওয়া যাবে।
অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রভাব কমাতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। কোনো দিনে পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকলে ধারাবাহিক সময় পদ্ধতিতে আগের কার্যদিবসের তথ্য যুক্ত করে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে সুদের হারের একটি বিশ্বাসযোগ্য মানদণ্ড তৈরি হবে। এতে ঋণচুক্তি, বন্ড ও ভাসমান সুদভিত্তিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সহজ হবে।
একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালু করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি মার্চ মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই রেট প্রস্তুত করা হচ্ছে। ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রতিদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এই রেফারেন্স রেট দেখা যাবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বার্ষিক পর্যালোচনার মাধ্যমে পদ্ধতিটিকে আরও উন্নত করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী, ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ইস্তেকমালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময়মূল্য প্রদান এখন থেকে সব তপশিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। তবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৈশ্বিক বাজারে সোমবার স্বর্ণের দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শক্তিশালী ডলারের প্রভাব এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এই পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে
স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭১৬.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচার ১ শতাংশ কমে ৪,৭৩৮.৯০ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এই প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দুইয়ের চাপে স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস তেল ৭০ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুযায়ী ফার্নেস তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিস্তারিত পর্যালোচনা ও গণশুনানির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা একটি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা প্রয়োজন অনুসারে ফার্নেস তেলের মূল্য সমন্বয় করা যাবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে জার্মানি ও সুইডেন।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার এবং সহযোগিতা বাড়ালে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জার্মান বিনিয়োগকারীদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) এবং সম্ভাবনাময় বাজার উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রত্যাশা করেন।
পরে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকের সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশ ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, নন-ট্যারিফ বাধা কমাতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) নতুন আয়ের রেকর্ড গড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জানুয়ারি-মার্চ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় বছরে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আনাদোলু।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বছরের প্রথম তিন মাসে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার, যা প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারের সমান। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল এ আয় ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে।
মার্চ মাসে এককভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মাসে আয় বেড়েছে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা প্রায় ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ প্রযুক্তির চিপ উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক এআই সম্প্রসারণের বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে এই কোম্পানি। অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত চিপ সরবরাহ করছে তারা। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ায় উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের জন্য নির্ভরতা বেড়েছে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন সত্ত্বেও কোম্পানির প্রবৃদ্ধিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের উচ্চ চাহিদাই তাদের অবস্থান স্থিতিশীল রেখেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মাসভিত্তিক আয় প্রকাশ করলেও নিট মুনাফার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয় না। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রথম প্রান্তিকের বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে মুনাফা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।