শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নতুন শিক্ষাক্রম, পুরাতন অপপ্রচার 

আপডেটেড
৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৪০
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:৫৩

যতবারই এ দেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই দেখা গেছে একশ্রেণির মানুষ হইহই, রইরই, গেল গেল সব গেল, শিক্ষা গেল, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গেল- এমন সব কথা বলে রাস্তায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে আসছে। চলতি বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার আগে এবং পরেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কোথাও অভিভাবকরা, কোথাও শিক্ষকরা, কোথাও বা বিশেষজ্ঞ নামেও নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী নতুন বছরে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ধর্মীয় উন্মাদনা, মিথ্যাচার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক তথা গোটা জাতিকেই যেন জাগিয়ে তোলা হচ্ছে, বলার চেষ্টা হচ্ছে আপনারা কেন ঘুমিয়ে আছেন, প্রতিবাদ করুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনেকে শিক্ষাক্রমকে অপপ্রচারের শিখণ্ডী বানাতে মাঠে নেমে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব আজগুবি কথা প্রচার করা হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও শোভনীয় নয়।

শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হতেই পারে; কিন্তু সেটি পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন সূচি ধরে ধরে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেই সাধারণত করা হয়ে থাকে। সেসবের চেষ্টা দেখি না। যা কিছু বলা হয়, তা গড়ে হরিবোল বললেও যেন কম বলা হবে। এভাবে তো কোনো শিক্ষাক্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার দর্শন, হৃদপিণ্ড যা একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞই বোঝেন। যেমন- একজন হার্ট স্পেশালিস্ট ডাক্তার মানুষের হৃদপিণ্ড সম্পর্কে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে পাঠ্যবই নিয়ে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। অনেকের গাইড বইয়ের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে ঘৃতাহুতি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের লাভালাভ হিসাব করেও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদানের পরিবর্তে বই ছুড়ে মেরে শিক্ষামন্ত্রীকে গালাগাল করছেন এমন কথাও আমি শুনতে পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই আমার কাছে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো নয়। কারণ ’৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে হালের নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা অবস্থান আমার দেখা বিষয়, বোঝারও বিষয়। স্পষ্টই বুঝতে পারি যে শিক্ষাক্রম নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের বক্তব্যে থাকে গঠনমূলক সমালোচনা। বাকি যারা উঠেপড়ে সমালোচনা করেন তাদের নানান জনের নানা উদ্দেশ্য, স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটি কোনোকালেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম দ্বারা গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাই নানা অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত থেকেছে চিরকালই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্বের মধ্যে নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ’৮০ সালের মধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এরপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে আসা। কিন্তু কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পরই নানা গোষ্ঠী নানা অপবাদে এমন একটি শিক্ষানীতিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল যারা এর ভেতরের দর্শনটি বুঝতে অক্ষম ছিল। তাদেরই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হলো ’৭৫-এর পর। দেশে তখন থেকে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ধারার ও নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে যার মতো করে গড়ে তোলা শুরু করেছে। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হালচাল হলে সেই জাতি কোনোভাবেই শিক্ষার দর্শন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। আমরাও সে কারণে হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এতসব বিভাজন সৃষ্টির মূলেই হচ্ছে ‘নামে শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির অব্যবস্থা’। সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের আসল রূপ। আমাদের কোনো স্তরেই শিক্ষাক্রম ঠিক নেই। যে যার মতো করে প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ছে, বই-পুস্তক ঠাসা আর পরীক্ষার জাঁতাকলে শিক্ষার্থীদের পিষ্ট করার এক ভয়ংকর তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতির কয়েকটি প্রজন্মও তেমনি কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার দক্ষ, জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় বেড়ে ওঠা শিক্ষিত মানব গড়ে তুলতে আমরা পেরেছি বলে দাবি করতে পারব না। কারণ শিক্ষার দর্শনই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষার দর্শন হচ্ছে কি পড়ব বা পড়াব, কেন পড়ব বা পড়াব, পড়ার অর্জনটা কী হবে বা হবে না- সেটি হাতেনাতে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারব যে আমাদের এ ৫ দশকের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি পারতাম তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কেন? একবারও কি আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? আমাদের করণীয় কী সেগুলো সম্পর্কে কতজনই বা আমরা অবহিত? কিন্তু যখনই দেশে শিক্ষায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বিরোধিতাটা প্রবলভাবেই আসে, বিরোধিতাটা যদি গঠনমূলক হতো তাহলে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিরোধিতাটাই যখন ব্যঙ্গাত্মক, বিদ্রূপাত্মক এবং নানা ধরনের শ্লেষ, মনগড়া, ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন বুঝতেই হবে এত বছরের আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা বের হয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই শিখনফল ব্যঙ্গবিদ্রূপ, তামাশা, অপরাজনীতি ও বিভ্রান্ত করতে যতটা ‘পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে, নীতি-নৈতিকতা, যুক্তিবাদী জ্ঞানবিজ্ঞানে দক্ষ ও সৃজনশীল মানুষরূপে গড়ে উঠতে অক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কারণ সেই শিক্ষাক্রমটাই এতদিনকার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে ছোট দেশ হলেও নানাভাবে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে কারণেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গেল বছর তাদের দেশে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। এমনকি সরকারপ্রধানের প্রাসাদও দখল করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কিছুই ধ্বংস করেনি। এর মানে কী? আমরা কি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো ফল বের করতে পারব? এ ধরনের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত তাহলে কি হতো? ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, কাটাকাটি, কি না হতো? শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটি টানার কারণ হচ্ছে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কিছু নীতি-নৈতিকতা, যুক্তি ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেসবের চর্চা কোথায়? এখানেই বোঝা যায় শিক্ষাক্রমের পার্থক্যের মধ্যেই ভিন্ন জাতি গঠনের কারণ নিহিত থাকার।

বর্তমানে যেই শিক্ষাক্রম সরকার স্কুলপর্যায়ে প্রবর্তন করেছে সেটিকে এক কথায় জীবন, কর্ম ও জ্ঞানমুখী জনশক্তি তৈরি করার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আমাদের আগের সৃজনশীলব্যবস্থা কিছু কিছু সফলতা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পরীক্ষা আর মুখস্থবিদ্যার পুরাতন পদ্ধতির মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আটকে ছিল। শিক্ষার্থীরা শেষ বিচারে পরীক্ষার্থীই থেকেছে। পরীক্ষার জন্য তাদের গাইডবই ক্রয় করতে আর টিউটরের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থবিদ্যার চাপ জগদ্দল পাথরের মতো চেপেছিল। গতানুগতিক শিক্ষায় বিশ্বাসী শিক্ষক ও অভিভাবকরা যুগযুগ ধরে এমনটি দেখে এসেছেন, শিখে এসেছেন। তারা জিপিএ-৫ পাওয়ায় সন্তানের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কয়জন সেই ভবিষ্যতের মালিক হতে পেরেছেন ? আমাদের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও ছিল গতানুগতিক। শ্রেণিপাঠ, মুখস্তবিদ্যা আদায় করা, পরীক্ষার মূল্যায়নও সেভাবে নির্ধারণ করা হতো। আর এর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গাইডবই, শ্রেণিপাঠের চেয়ে কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি কোচিং নেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এটি কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান, জীবন ও শিক্ষার মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ রাষ্ট্রেই অচল হয়ে গেছে। আমরা যুগযুগ ধরে সেটাকেই নানা নামে অব্যাহত রেখেছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই এমন খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিজেদের যুক্ত রাখার প্রবণতায় বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদের একটা বিরাট অংশই আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে করোনাকালে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাক্রম বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু করোনাকাল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আগের বোধ, বিশ্বাস আর অভ্যস্ততার মধ্যে গুটিয়ে থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম কেবলই প্রবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে। এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং উন্নততর করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে; কিন্তু এটিকে বাতিল করে আগের মুখস্থ বিদ্যা এবং গাইডবই, টিউশননির্ভর শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার যারা দাবি করেন তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা হতে পারে। যে শিক্ষকরা সেখানে ফিরে যেতে চান, তারাও একই দোষে দোষী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা প্রতিটি শিক্ষকেরই দায়িত্ব। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষকেরই পঠনপাঠনের নিয়মিত অভ্যাস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। অথচ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ এবং নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হাতেকলমে শেখন, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই যুগের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে পারেন, শিক্ষার্থীদেরও গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা নয় বরং সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হওয়া, আস্থা রাখা এবং তাদের জীবন, কর্ম ও জ্ঞান দক্ষতায় গড়ে তোলার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি আস্থাশীল হতেই হবে। অপপ্রচার, গুজব, ব্যঙ্গবিদ্রূপ শিক্ষার সঙ্গে যায় না, জীবনের সঙ্গেও নয়। এটাই শিক্ষার দর্শন।

লেখক: ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


ভারত বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিলো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে আরও ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত। ভারতের রপ্তানিকারকরা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতে পারবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতের ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের সচিব রোহিত কুমার সিং নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও মরিশাসে ১ হাজার ২০০ টন, বাহরাইনে ৩ হাজার টন এবং ভুটানে ৫৬০ টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের এই পরিমাণ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লির ওই কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এবং অন্য তিনটি দেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমানে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ভারত।


অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত আইওএসকো এপিআরসির ভাইস চেয়ার পুনর্নির্বাচিত

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসকো) এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির (এপিআরসি) ভাইস চেয়ার পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২২-২৪ সাল মেয়াদে চীনকে হারিয়ে এ পদে নির্বাচিত হলেও এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ২০২৪-২৬ সাল মেয়াদ পর্যন্ত এ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আইওএসকোর পক্ষ থেকে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে এপিআরসির ভাইস চেয়ার পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে গত সপ্তাহে দৈনিক বাংলাকে মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমাকে আইওএসকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার আমার প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ নির্বাচন করছে না। প্রথমবার চীন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করলেও এবার সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে এপিআরসির ভাইস চেয়ার পদে আরও একবার সুযোগ পাওয়ার আশা করছি। তবে বিষয়টি এখনো চিঠি আকারে আমার কাছে আসেনি।’

চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানানোর এক সপ্তাহ পর গতকাল আইওএসকোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন মোলোনি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আগামী ২৭ মে গ্রিসের এথেন্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইওএসকোর পর্ষদ সভায় অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে ২০২২-২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি মেয়াদ পর্যন্ত আইওএসকোর এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটিতে ভাইস চেয়ার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। প্রথমবার ভাইস চেয়ার পদে তিনি চীনকে ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় অর্জন।

২০২২-২৪ সাল মেয়াদে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটিতে ভাইস চেয়ার পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তার কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও যোগ্যতাকে সম্মান জানিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির কোনো সদস্য ভাইস চেয়ার পদে নির্বাচন করতে অংশগ্রহণ করেননি। ফলে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির ভাইস চেয়ার পদে আগামী ২০২৪-২৬ সালের মেয়াদে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুনর্নির্বাচিত করেছে আইওএসকো।

তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর আইওএসকোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়। এ জন্য এমএমওইউ স্বাক্ষরকারী হওয়ার জন্য বিএসইসির আবেদন অনুমোদন করেছে আইওএসসিও। এতে দেশের পুঁজিবাজার অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফলে বিএসইসি আন্তর্জাতিকভাবে এনফোর্সমেন্টের সহযোগিতা পাওয়া ও দেওয়া, বিএসইসি আইওএসকোর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে নিয়োগ ও নির্বাচনের সুযোগ লাভ এবং বিএসইসি আইওএসকোর নীতিনির্ধারণী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ২০২০ সালের ১৭ মে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তারই নেতৃত্বাধীন কমিশনের নানামুখী উদ্যোগে পুঁজিবাজার গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


রমজান মাসে এক কোটি পরিবারকে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে: বাণিজ্যপ্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টিসিবির মাধ্যমে রমজান মাসে আরও দুইবার এক কোটি পরিবারকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ আমরা শুরু করেছি। এই রমজানে আরও দুইবার আমরা এটা করব। সেখানে চাল থাকবে ৫ কেজি, তেল থাকবে, ডাল থাকবে, চিনি, খেজুর এবং ছোলা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা ব্যবসায়ী আছেন বিভিন্ন পর্যায়ের তারা নিশ্চিত করেছেন- আগামী রমজানে যে পরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাজারে থাকা দরকার বা মজুদ থাকা দরকার বা পাইপলাইনে থাকা দরকার সবগুলোই মোটামুটি পর্যাপ্ত আছে।’

‘ভারত থেকে পেঁয়াজ ও চিনি আমদানি জন্য যে প্রক্রিয়াগুলো আমরা নিয়েছি। নীতিগতভাবে ভারত সরকার পেঁয়াজের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এখন আমরা অফিসিয়ালি কাগজ পেলে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছতে পারে, সে পদক্ষেপ আমরা নেব।’- যোগ করে বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় বছরে দুইবার পেঁয়াজ উৎপাদনের যে উদ্যোগ নিচ্ছে আমরা আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চালের মতো এটাতেও আমাদের আমদানি নির্ভর হতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমরা যেন বর্ডার থেকে নদী পথে আনতে পারি সে ধরনের একটি এমওইউ ড্রাফট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কথা বলেছি। উনি বিষয়টিকে পজিটিভভাবে নিয়েছেন। আমাদের নৌ-পরিবহন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দ্বিপাক্ষিক নৌ পরিবহন চুক্তির মাধ্যমে আমরা যেন মিয়ানমার থেকে সহজে পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি।’


বাণিজ্য মেলা শেষ, বিক্রি ৪০০ কোটি টাকা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ হয়েছে ২৮তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। এবারের মেলায় অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে যা গত বছরের বিক্রির থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এ তথ্য দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। একই সঙ্গে এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৯১ দশমিক ৮২ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। এটিও গত বছরের ‍তুলনায় ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ- চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা- ২০২৪ সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মাধ্যমে ২১ জানুয়ারি থেকে এ মেলা শুরু হয়েছিল। মেলার শেষদিন উপলক্ষে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী বছর বাণিজ্য মেলা দ্বিতল করা হবে। প্যাভিলিয়ন স্টলের পাশাপাশি অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করা হবে। সেমিনারে বিদেশি বায়ার ও রাষ্ট্রদূতদের সম্পৃক্ত করে রপ্তানিমুখী পণ্যের পরিধি বাড়ানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে পণ্য উৎপাদন করা হবে। একটি গ্রাম একটি পণ্য কার্যক্রম শুরু করব আমরা। দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি ঘরে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

বক্তব্য শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপনী ঘোষণা করেন।

মেলার শেষ দিনে বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বিভিন্ন অফার চললেও ক্রেতাদের চাপ তুলনামূলক অনেক কম লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল, শেষ দিনে সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে। তবে তার বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা গেছে মেলা প্রাঙ্গণে।
এবার মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলে বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্সস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জা ও গৃহস্থালি সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি, ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি নানাবিধ পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে- যা দেশের আমদানি ও রপ্তানি পরিধিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে বাণিজ্য মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে।

ইপিবির (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলায় মোট ৩০৪টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ৫টি দেশের ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দেশগুলো হলো- ভারত, হংকং, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। এবারের বাণিজ্যমেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ছিল ৩৫১টি; যা বিগত বছরে ছিল ৩৩১টি। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের দুইটি হলে (এ ও বি) ১৭৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সেন্টারের প্রধান ফটকের পূর্বপাশে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নসহ প্রিমিয়ার ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির স্টল ছিল ৬২টি। হলের পেছনে ফরেইন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন এবং প্রিমিয়ার ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নসহ প্রিমিয়ার ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির স্টল ছিল ৫৩টি।


দেশের ব্যাংকিং খাতে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে: বিএফআইইউ প্রধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থপাচারের ৮০-৮৫ শতাংশই হচ্ছে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে। বাণিজ্যের (আমদানি-রপ্তানি) আড়ালে ব্যাংকিং চ্যানেলে ‘আন্ডার ও ওভার ইনভেয়েসের’ মাধ্যমে এসব অর্থপাচার হয়। ব্যাংক যদি এটি বন্ধে সহযোগিতা না করে তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা ও সহযোগিতায় ১০ দেশের সঙ্গে এমওইউ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রকাশিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেমন- অনলাইন জুয়া/বেটিং, ক্রিপ্টো ট্রেডিং ও ডিজিটাল হুন্ডিতে প্রতারণামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) ৬৫ শতাংশ বেড়েছে ।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএফআইইউ-প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউতে ১৪ হাজার ১০৬টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর) জমা হয়েছে।

এসব সন্দেহজনক কার্যক্রমের মধ্যে ১২ হাজার ৮০৯টি হয়েছে ব্যাংকগুলোতে, ৯০১টি মানি ট্রান্সমিটারে এবং ১২১টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) হয়েছে। এক বছরে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৬৪ দশ‌মিক ৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৫৩৫টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫৭১টি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ২৮০টি।

বিএফআইইউর প্রধান জানা‌ন, সব সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) অপরাধ নয়। লেনদেন সন্দেহজনক হলে তদন্ত ক‌রি। এরপর য‌দি কোনো অপরা‌ধের তথ্য প্রমাণ মেলে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই।

মাসুদ বিশ্বাস বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ৮০ শতাংশ হ‌য় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংক য‌দি এটি বন্ধে সহযো‌গিতা না করে তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা ক‌ঠিন। কারণ একবার মানি লন্ডারিং হয়ে গেলে তা ফেরত আনা যায় না। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা ও সহযোগিতার জন্য ১০ দেশের সঙ্গে এমওইউ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিএফআইইউর প্রধান বলেন, বিএফআইইউর তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে ৫৯টি। এর মধ্যে দুদক মামলা করেছে ৪৭টি, সিআই‌ডি ১০টি এবং এন‌বিআরের বিশেষ সেল দুটি। এগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়‌নি।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৮০৯টি সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট জমা দিয়েছে ব্যাংকগুলো। তার আগের অর্থবছরে ৭ হাজার ৯৯৯টি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল ব্যাংকগুলো। আ‌র্থিক প্র‌তিষ্ঠা‌নগুলো রিপোর্ট জমা দেয় ১২১টি। আর এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ৯০০ রি‌পোর্ট জমা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদনের ৯১ শতাংশ তফসিলি ব্যাংক জমা দিয়েছে।

বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস বলেন, এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রেমিটাররা, ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বিএফআইইউর তথ্যানুযায়ী, রেমিটারদের পাঠানো প্রতিবেদন ৯৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ৩ কোটি ৮৬ লাখ নগদ লেনদেনের তথ্য জমা দিয়েছে এবং এনবিএফআইগুলো ১ হাজার ২৩৮টি নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএফআইইউর নির্বাহী প‌রিচালক র‌ফিকুল ইসলাম, বৈদে‌শিক মুদ্রা ও নী‌তি বিভাগের প‌রিচালক সারোয়ার হোসেন, অ‌তি‌রিক্ত প‌রিচালক কামাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।


শেষ হলো আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি প্রদর্শনী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অগ্নিঝুঁকি কমিয়ে এনে দেশে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, অগ্নি-সুরক্ষা নিশ্চিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘৯ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২৪’ (9th International Fire Safety and Security Expo 2024)। প্রদর্শনীর শেষ দিনে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় ১৩ টি প্রতিষ্ঠান ও অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে সাহসী ভূমিকার জন্য ৫ (পাঁচ) ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও স্মারক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা সামগ্রী ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এত অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশের শিল্পগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করেছি, যারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে আসার আগেই আগুন নেভাতে ভূমিকা রাখতে পারবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে এখনকার ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আরো বেশি সতর্ক। আমাদের সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সিভিল ডিফেন্সের উন্নতি করা।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ফায়ার সেফটি নিশ্চিতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণের সময় অবশ্যই বিল্ডিং কোড মানতে হবে। সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার জরুরী। এসময় মানুষের জীবনের মূল্যায়ন করার জন্য হলেও ফায়ার সেফটি নিয়ে সচেতন হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে ইসাবের সভাপতি নিয়াজ আলী চিশতি বলেন, এই প্রদর্শনীতে ৩০টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, ৩ দিনে ১৫ হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর আগমণ এবং আমাদের সেমিনারগুলোতে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন গুলোতে অত্যাধুনিক অগ্নি সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এই প্রদর্শনী আয়োজনের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুযোগের কথা তুলে ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাইন উদ্দিন বলেন, দেশকে উন্নত করতে হলে আমাদের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্মাণ ব্যয়ের ২ শতাংশ এ খাতে খরচ করতে হবে।

সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো.জসিম উদ্দিন বলেন, উন্নত বাংলাদেশে গড়তে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই অগ্নি নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিতে হবে। এইচএসবিসির ঘোষণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৯ম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে। অন্যান্য খাতের মতো ফায়ার সেফটি খাতেও অনেক বড় ভোক্তা রয়েছে আমাদের। কাজেই এখন সময় এসেছে দেশেই ফায়ার সেফটি পণ্য উৎপাদন করার। শুধু বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশেই ফায়ার সেফটি পণ্য উৎপাদনের জন্য এ খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা পণ্যের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশী পণ্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশেই পণ্য উৎপাদন করতে হবে।

ইসাবের সেক্রেটারি জেনারেল জাকির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ওপর গুরুত্ব অনেক। কারণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এককভাবে করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম শাহজাহান সাজু, প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসাবের সহ-সভাপতি মোঃ মতিন খান, মোহাম্মদ ফয়সাল মাহমুদ, ইঞ্জি. মোঃ মনজুর আলম, এম মাহমুদুর রশিদ, যুগ্ম মহাসচিব মো. মাহমুদ-ই-খোদা, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইঞ্জি মোঃ মাহাবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোঃ নূর-নবী, পরিচালক মো. ওয়াহিদ উদ্দিন, ইঞ্জি. মো. আল-ইমরান হোসেন, মেজর মোহাম্মদ আশিক কামাল, মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ইসাব সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা: আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ভবনে বিল্ডিং কোড মেনে চলা ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য ‘ইসাব সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আবাসিক ভবন ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে র‌্যানকন আর্টিস্টি রেসিডেন্সেস, দ্বিতীয় হয়েছে শেলটেক রুবিনুর, এবং তৃতীয় হয়েছে কনকর্ড শাপলা। বাণিজ্যিক ভবন ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে শান্তা ফোরাম, কনকর্ড এমকে হেরিটেজ এবং বিজিএমইএ। শিল্প ভবন (তৈরি পোশাক) ক্যাটাগরির ৩টি পর্যায়েই যৌথভাবে ৬টি প্রতিষ্ঠান বিজয়ী হয়েছে। এরমধ্যে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে গ্ল্যামার ড্রেসেস লিমিটেড এবং ডিজাইনটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড, যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে তাসনিয়া ফ্রেব্রিক্স লিমিটেড ও এসকিউ বিরিচিনা লিমিটেড এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে স্টারলিং ডেনিমস লিমিটেড, সিল্কেন সুইং লিমিটেড। এছাড়াও শিল্প ভবনের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছে বিএম কন্টেইনার ডিপোট লিমিটেড।

অগ্নি-নির্বাপন ও উদ্ধারকাজে বিশেষ ভূমিকার জন্য সম্মাননা পেলেন যারা: এদিকে অগ্নি-নির্বাপন ও উদ্ধারকাজে সাহসী ভূমিকার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ৫ ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে ইসাব। অগ্নি-নির্বাপন ও উদ্ধারকাজে সাহসী ভূমিকার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফয়সালুর রহমান, মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন সরকার, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. জহিরুল ইসলাম এবং ফায়ার ফাইটার আলহাজ মিয়া।

উল্লেখ্য, গত ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীর কো-পার্টনার হিসেবে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে রয়েছে FEBOAB, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই প্রদর্শনীতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে এফবিসিসিআই।


দাম কমছে সয়াবিন তেলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।


বাংলাদেশে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেবে ভারত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে বাংলাদেশসহ আরও পাঁচটি দেশে সরকারিভাবে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

গতকাল সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও দ্বিপক্ষীয় উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ রপ্তানি করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস। অন্য দেশগুলো হলো নেপাল, ভুটান, বাহরাইন ও মরিশাস।

এর আগে পবিত্র রমজান মাসে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমাতে নির্দিষ্ট পরিমাণে চিনি ও পেঁয়াজের অনুমতি দিতে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ ভারত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে এই নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কারণ, ভারত চেয়েছিল তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে।

ভারত তার রপ্তানি আটকাতে প্রথমে পেঁয়াজের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। কিন্তু এই পদক্ষেপে আশানুরূপ ফল না আসায় তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে।


বিএসইসি চেয়ারম্যানের মায়ের মৃত্যু

আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মা হাসিনা মমতাজ (৭৯) আর নেই। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আগামীকাল সোমবার বাদ জোহর মরহুমার জানাজা ধানমন্ডির ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

ষাট ও সত্তরের দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন হাসিনা মমতাজ। তিনি সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তার স্বামী রফিকুল ইসলাম খান ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রকাশক এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আরও শোক জানিয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ)। শোক বার্তায় সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানী ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু আলী মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানান।

শোক বার্তায় বলা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মা হাসিনা মমতাজের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সিএমজেএফ পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন পরিবারকে শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ

২০২২ সালে ৯.৭২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩ সালে ৭.২৯ বিলিয়ন ডলার
আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরের তুলনায় পোশাক রপ্তানি কমেছে। একক দেশ হিসেবে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৭.২৯ বিলিয়ন ডলার আয় এসেছে দেশটি থেকে। যদিও এই আয় আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোন দেশ কোন পণ্য কত রপ্তানি করছে ডলারের হিমাবে সেটা প্রকাশ করে দেশটির বাণিজ্য দপ্তরের ‘অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল’ বা ওটেক্সা।

সংস্থাটির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক গেছে ৯.৭২ বিলিয়ন ডলার। যা এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে এটা ঠিক কোভিড ১৯ পরবর্তী ২০২১ সালে রপ্তানি কম ছিল।

কিন্তু ২০২২ সালে ৯.৭২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হলেও ২০২৩ সালে সেটা না বেড়ে উল্টো কমেছে। ২০২৩ সালে রপ্তানি হয়েছে ৭.২৯ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং এক বছরে রপ্তানি কমেছে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার বা ২৫ শতাংশ।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র ও পোশাক পণ্যের সামগ্রিক আমদানি ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিজের পোশাক আমদানি ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৭৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী দেশ চীনের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ২৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই দেশটির পোশাক রপ্তানি ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২১ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি পোশাক রপ্তানি করে। কোভিড-১৯ এর মারাত্মক বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পোশাকের চাহিদা বেড়ে যায়।

রপ্তানি কমার কারণ: বাংলাদেশে ২০২৩ সাল জুড়েই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে একধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট ছিল।

বিশেষত শ্রম অধিকার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরব হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও ছিল কারও কারও মধ্যে।

এমন অবস্থায় ২০২৩ সালে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়া নিয়ে নানারকম উদ্বেগ তৈরি হলেও বিজিএমইএ বলছে, এই কমে যাওয়ার সঙ্গে রাজনীতি বা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলছেন, আমেরিকায় রপ্তানি কমার কারণ ব্যবসায়িক। সে দেশে মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের কারণে ভোগ কমেছে। কিন্তু শেষ দিকে এসে আবারও ব্যবসাটা বেড়েছে। ক্রিসমাস উপলক্ষে অর্ডার কিন্তু বেড়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, একক দেশ হিসেবে আমেরিকা এখনো পোশাক মালিকদের অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে। ফলে এটা ধরে রেখেই তারা নজর দিচ্ছেন বিকল্প মার্কেটে। একই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে একই কারখানায় বিভিন্ন আইটেমের পোশাক বানানো থেকে শুরু করে পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর।

তবে এখানে আরেকটা চ্যালেঞ্জ আছে। সেটা হচ্ছে, শুল্ক। দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চহারে শুল্ক থাকায় বাংলাদেশের পক্ষে সেসব দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়বে বলেই মনে করেন তৈরি পোশাক মালিকরা। এক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা দরকার বলে মত তাদের।

অবশ্য এক্ষেত্রে সরকার ইতিবাচক বলেই জানাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান জানাচ্ছেন, এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখানে শুল্ক দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে টার্গেটকৃত দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়া। এটা হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। অথবা একাধিক দেশ হলে সেখানে যদি ওই অঞ্চলে কোনো রিজিওনাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট থাকে, আমরা সেখানে যুক্ত হতে পারি।

এটার ক্ষেত্রে সুবিধা হলো একসঙ্গে একাধিক দেশের সঙ্গে শুল্ক এবং বাণিজ্য নিয়ে যুক্ত হওয়া সম্ভব। নতুন করে চুক্তির মাধ্যমেই শুল্ক কমানো নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজ হচ্ছে, তিনি যোগ করেন।

বাংলাদেশ এখন বিকল্প মার্কেটে যে পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে, সেটা ইউরোপ-আমেরিকার নির্ভরতা কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন দেশে রপ্তানি বৃদ্ধি দেশটির জন্য একটা বড় সুযোগ।

কিন্তু এক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে উৎপাদক এবং সরকারি পর্যায়ে কীভাবে সেটি নিরসন করা হয় তার ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।


পুঁজিবাজারে বিক্রিতে আয় কমেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি কোম্পানির

অপরিচালন খাত থেকে অর্জিত আয়ে ভালো মুনাফা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেদী হাসান সজল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমেটেডের বিক্রি বাবদ আয়ে চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। তবে অপরিচালন খাত থেকে অর্জিত আয়ের সুবাদে ভালো করেছে তিনটি কোম্পানিই। ফলে হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারি এ কোম্পানিগুলো বেশ ভালো মুনাফা লুফে নিতে পেরেছে। কোম্পানি তিনটি সর্বশেষ প্রকাশিত চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে দৈনিক বাংলা। প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি তেল কোম্পানির সম্মিলিতভাবে বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৩০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানি তিনটির আয় হয়েছিল ৩২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত আয় কমেছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। শতকরা হিসেবে সর্বশেষ সমাপ্ত ছয় মাসে আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। মূলত কোম্পানিগুলোর বিক্রি কমে যাওয়ায় আয়েও ভাটা পড়েছে।

কোর বিজনেস বা পরিচালন খাত থেকে কোম্পানি তিনটির আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কমলেও অপরিচালন আয় বা মূলধনী আমানতের বিপরীতে ভালো আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানি তিনটির সমন্বিত অপরিচালন আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৫৫৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে তিন কোম্পানির সমন্বিত অপরিচালন আয় বেড়েছে ১০৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে প্রথমার্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি কমেছে। তবে ব্যাংক আমানতের বিপরীতে সুদহার ভালো পাওয়ায় তাদের অপরিচালন খাত থেকে ভালো আয় এসেছে। ফলে কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জ্বালানি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫৫৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৫১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানি তিনটির নিট মুনাফা কমেছে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শতকরা হিসেবে সর্বশেষ সমাপ্ত ছয় মাসে মুনাফা কমেছে ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

কোম্পানিভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অকটেন, পেট্রল, কেরোসিন, ডিজেল, এলওডি, ফার্নেস অয়েল, জেবিও, লুব অয়েল, এলপিজি ও বিটুমিনসহ নয়টি জ্বালানি কম-বেশি বিক্রি করে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। এর বাইরে এলডিও, জেট এ-১, এসবিপি, এমটিটি, মেরিন ফুয়েল ও গ্রিজের বেশির ভাগই বিক্রি করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।

একক কোম্পানি হিসেবে আলোচিত তিন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে পদ্মা অয়েল। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটি বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১৩৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় হয়েছিল ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আলোচ্য প্রথমার্ধে কোম্পানির অপরিচালন আয় হয়েছে ১৭১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১৬৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত ছয় মাসে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১৫৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে তাদের বিক্রি কিছুটা কমেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নগদ বিক্রি বেড়েছে। ফলে নগদ পরিচালন প্রবাহ বেড়েছে। পাশাপাশি অপরিচালন খাত থেকে (আমানতের বিপরীতের সুদ আয়) ভালো আয় এসেছে। যার সুবাদে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এসেছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আলোচ্য তিন কোম্পানির মধ্যে জ্বালানি বিক্রিতে কোম্পানিটির অবস্থান দ্বিতীয়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির অপরিচালন আয় হয়েছে ২২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১৮৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নিট মুনাফায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের বিক্রি কিছুটা কমায় গ্রস আনিংসও কমেছে। তা ছাড়া বাকিতে বিক্রি বৃদ্ধি, কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি কারণে নগদ পরিচালন প্রবাহও কিছুটা কমেছে। তা সত্ত্বেও ভালো অপরিচালন আয়ের সুবাদে মুনাফা বেড়েছে।

যমুনা অয়েল জ্বালানি তেল বিক্রিতে তিন কোম্পানির মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৬৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বাবদ আয় কমেছে ৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির অপরিচালন আয় হয়েছে ২৭১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ কোম্পানিটি সর্বশেষ ছয় মাসে তিন কোম্পানির মধ্যে অপরিচালন আয় অর্জনে শীর্ষে রয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির অপরিচালন আয় হয়েছিল ২১০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ১৬৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমানতে সুদ আয় ভালো পাওয়ায় আলোচ্য সময়ে তাদের অপরিচালন আয় বেড়েছে। যার সুবাদে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বাকিতে বিক্রি বাড়ায় তাদের নগদ প্রবাহ কিছুটা কমেছে।


জানুয়ারিতে আমিরাত থেকে ৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারিতে ৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সৌদি আরব থেকে এসেছে তিন ভাগের এক- ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

শুধু জানুয়ারি নয়, গত কয়েক মাস ধরেই সৌদি আরবের চেয়ে আমিরাত থেকে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসছে। অথচ বরাবরই সৌদি আরবে অবস্থানকারী প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আসছেন।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩৭৬ কোটি ৫৩ লাখ (৩.৭৬ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আরব আমিরাত থেকে এসেছিল ২৪ দশমিক ১০ শতাংশ কম, ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ (৩.০৩ বিলিয়ন)।

তার আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) অর্থবছরে সৌদি থেকে ৪৫৪ কোটি ১৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। আমিরাত থেকে এসেছিল অর্ধেকেরও কম, ২০৭ কোটি ১৮ লাখ (২.০৭ বিলিয়ন) ডলার।

ওই দুই অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের উৎস ছিল আরব আমিরাত। দ্বিতীয় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই দুই দেশকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে আমিরাত। এই অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশটিতে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা এই সাত মাসে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ।

জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বিভিন্ন দেশে থেকে মোট ১২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

এই সাত মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

হিসাব বলছে, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সৌদি আরবের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে আরব আমিরাত থেকে; শতাংশ হিসাবে বেশি এসেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি এসেছে ৮৪ শতাংশ। ৫১ শতাংশ বেশি এসেছে যুক্তরাজ্যের চেয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জুলাই-জানুয়ারি সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে আরব আমিরাত থেকে। দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাজ্য। শীর্ষ থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে সৌদি আরব।

গত দুই অর্থবছরে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র নেমে এসেছে চতুর্থ স্থানে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, প্রবাসীরা যেখানে টাকা বেশি পাবেন, সেখান থেকেই পাঠাবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে গত দুই বছরে আরব আমিরাতে আমাদের অনেক লোক গেছেন কাজের জন্য। তারা কাজ করছে; রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফনের আভাস গত অর্থবছরেই পাওয়া গিয়েছিল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩০৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার (৩.০৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

প্রথমবারের মতো আমিরাত থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে ২০২২-২৩ অর্থবছরে। গত অর্থবছরে তিনটি দেশ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। বাকি দুটি দেশ ছিল- সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র। গত অর্থবছরের কয়েক মাসেও শীর্ষে ছিল আমিরাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোনো কোনো মাসে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল আরব আমিরাত থেকে।

যেমন ২০২২ সালের মার্চ মাসে আরব আমিরাত থেকে ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর সৌদি আরব থেকে এসেছিল ২৮ কোটি ৩ লাখ ডলার।

২০২৩ সালের জানুয়ারি এবং ২০২২ সালের মে মাসেও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল আরব আমিরাত থেকে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে একক মাসের হিসাবে আমিরাত থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে, ৪৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সেই রেকর্ড ভেঙে জানুয়ারিতে ৪৪ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার রেমিট্যান্স এসেছে আমিরাত থেকে।


অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি বেড়েছে ৬.০৭ শতাংশ: বিবিএস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জিডিপির এ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

তবে প্রথম প্রান্তিকের সম্প্রসারণ ২০২২-২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা ৮.৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ পয়েন্ট কমে গেছে। দেশে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।

বিবিএস জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ, যেখানে ২০২৩ অর্থবর্ষের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

তবে গতবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৯ শতাংশ কমেছে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সেটি এই অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে শিল্প খাতে গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে আড়াই শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবারের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, প্রবৃদ্ধি হ্রাস দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চলমান আর্থিক সংকট জিডিপিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। মার্কিন ডলার সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সংকট কমবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


banner close