বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
১২ চৈত্র ১৪৩২

নতুন শিক্ষাক্রম, পুরাতন অপপ্রচার 

আপডেটেড
৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৪০
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১২:৫৩

যতবারই এ দেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ততবারই দেখা গেছে একশ্রেণির মানুষ হইহই, রইরই, গেল গেল সব গেল, শিক্ষা গেল, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গেল- এমন সব কথা বলে রাস্তায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনার করে আসছে। চলতি বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার আগে এবং পরেও চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। কোথাও অভিভাবকরা, কোথাও শিক্ষকরা, কোথাও বা বিশেষজ্ঞ নামেও নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। নতুন এ শিক্ষাক্রম অনুযায়ী আগামী নতুন বছরে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধেও অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ধর্মীয় উন্মাদনা, মিথ্যাচার ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক তথা গোটা জাতিকেই যেন জাগিয়ে তোলা হচ্ছে, বলার চেষ্টা হচ্ছে আপনারা কেন ঘুমিয়ে আছেন, প্রতিবাদ করুণ ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও অনেকে শিক্ষাক্রমকে অপপ্রচারের শিখণ্ডী বানাতে মাঠে নেমে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব আজগুবি কথা প্রচার করা হচ্ছে যা উচ্চারণ করাও শোভনীয় নয়।

শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হতেই পারে; কিন্তু সেটি পাঠ্য বিষয়ের বিভিন্ন সূচি ধরে ধরে গঠনমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেই সাধারণত করা হয়ে থাকে। সেসবের চেষ্টা দেখি না। যা কিছু বলা হয়, তা গড়ে হরিবোল বললেও যেন কম বলা হবে। এভাবে তো কোনো শিক্ষাক্রমকে মূল্যায়ন করা যায় না। শিক্ষাক্রম হচ্ছে শিক্ষার দর্শন, হৃদপিণ্ড যা একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞই বোঝেন। যেমন- একজন হার্ট স্পেশালিস্ট ডাক্তার মানুষের হৃদপিণ্ড সম্পর্কে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে পাঠ্যবই নিয়ে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েন। অনেকের গাইড বইয়ের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের মধ্যে ঘৃতাহুতি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের লাভালাভ হিসাব করেও এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে কোনো কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পাঠদানের পরিবর্তে বই ছুড়ে মেরে শিক্ষামন্ত্রীকে গালাগাল করছেন এমন কথাও আমি শুনতে পেয়েছি। সবকিছু মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই আমার কাছে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো নয়। কারণ ’৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন থেকে হালের নতুন শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের নানা অবস্থান আমার দেখা বিষয়, বোঝারও বিষয়। স্পষ্টই বুঝতে পারি যে শিক্ষাক্রম নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের বক্তব্যে থাকে গঠনমূলক সমালোচনা। বাকি যারা উঠেপড়ে সমালোচনা করেন তাদের নানান জনের নানা উদ্দেশ্য, স্বার্থ, অজ্ঞতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটি কোনোকালেই জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্রম দ্বারা গঠিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থাই নানা অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত থেকেছে চিরকালই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। শিক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্বের মধ্যে নিয়ে আসেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ’৮০ সালের মধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এরপর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে আসা। কিন্তু কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন দেওয়ার পরই নানা গোষ্ঠী নানা অপবাদে এমন একটি শিক্ষানীতিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল যারা এর ভেতরের দর্শনটি বুঝতে অক্ষম ছিল। তাদেরই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সফল হলো ’৭৫-এর পর। দেশে তখন থেকে ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন ধারার ও নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে যার মতো করে গড়ে তোলা শুরু করেছে। একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন হালচাল হলে সেই জাতি কোনোভাবেই শিক্ষার দর্শন দ্বারা গঠিত হতে পারে না। আমরাও সে কারণে হতে পারিনি। আমাদের মধ্যে এতসব বিভাজন সৃষ্টির মূলেই হচ্ছে ‘নামে শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তবে ব্যবসা-বাণিজ্য আর অদক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির অব্যবস্থা’। সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের আসল রূপ। আমাদের কোনো স্তরেই শিক্ষাক্রম ঠিক নেই। যে যার মতো করে প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ছে, বই-পুস্তক ঠাসা আর পরীক্ষার জাঁতাকলে শিক্ষার্থীদের পিষ্ট করার এক ভয়ংকর তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায় জাতির কয়েকটি প্রজন্মও তেমনি কাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিকার দক্ষ, জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় বেড়ে ওঠা শিক্ষিত মানব গড়ে তুলতে আমরা পেরেছি বলে দাবি করতে পারব না। কারণ শিক্ষার দর্শনই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। শিক্ষার দর্শন হচ্ছে কি পড়ব বা পড়াব, কেন পড়ব বা পড়াব, পড়ার অর্জনটা কী হবে বা হবে না- সেটি হাতেনাতে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা কি দাবি করতে পারব যে আমাদের এ ৫ দশকের শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা যুগোপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পেরেছি? যদি পারতাম তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কেন? একবারও কি আমরা এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি? আমাদের করণীয় কী সেগুলো সম্পর্কে কতজনই বা আমরা অবহিত? কিন্তু যখনই দেশে শিক্ষায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই বিরোধিতাটা প্রবলভাবেই আসে, বিরোধিতাটা যদি গঠনমূলক হতো তাহলে আপত্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু গোটা বিরোধিতাটাই যখন ব্যঙ্গাত্মক, বিদ্রূপাত্মক এবং নানা ধরনের শ্লেষ, মনগড়া, ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন বুঝতেই হবে এত বছরের আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যারা বের হয়ে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই শিখনফল ব্যঙ্গবিদ্রূপ, তামাশা, অপরাজনীতি ও বিভ্রান্ত করতে যতটা ‘পারদর্শিতা’ অর্জন করেছে, নীতি-নৈতিকতা, যুক্তিবাদী জ্ঞানবিজ্ঞানে দক্ষ ও সৃজনশীল মানুষরূপে গড়ে উঠতে অক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। কারণ সেই শিক্ষাক্রমটাই এতদিনকার শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যুক্ত করা হয়নি। একটা উদাহরণ দিই। শ্রীলঙ্কা আমাদের চেয়ে ছোট দেশ হলেও নানাভাবে তারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে গেছে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। সে কারণেই লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গেল বছর তাদের দেশে অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছিল। এমনকি সরকারপ্রধানের প্রাসাদও দখল করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে কেউ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কিছুই ধ্বংস করেনি। এর মানে কী? আমরা কি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেও কোনো ফল বের করতে পারব? এ ধরনের ঘটনা যদি বাংলাদেশে ঘটত তাহলে কি হতো? ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি, কাটাকাটি, কি না হতো? শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটি টানার কারণ হচ্ছে সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কিছু নীতি-নৈতিকতা, যুক্তি ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সেসবের চর্চা কোথায়? এখানেই বোঝা যায় শিক্ষাক্রমের পার্থক্যের মধ্যেই ভিন্ন জাতি গঠনের কারণ নিহিত থাকার।

বর্তমানে যেই শিক্ষাক্রম সরকার স্কুলপর্যায়ে প্রবর্তন করেছে সেটিকে এক কথায় জীবন, কর্ম ও জ্ঞানমুখী জনশক্তি তৈরি করার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন। আমাদের আগের সৃজনশীলব্যবস্থা কিছু কিছু সফলতা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পরীক্ষা আর মুখস্থবিদ্যার পুরাতন পদ্ধতির মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আটকে ছিল। শিক্ষার্থীরা শেষ বিচারে পরীক্ষার্থীই থেকেছে। পরীক্ষার জন্য তাদের গাইডবই ক্রয় করতে আর টিউটরের কাছে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাতে শিক্ষার্থীদের ওপর মুখস্থবিদ্যার চাপ জগদ্দল পাথরের মতো চেপেছিল। গতানুগতিক শিক্ষায় বিশ্বাসী শিক্ষক ও অভিভাবকরা যুগযুগ ধরে এমনটি দেখে এসেছেন, শিখে এসেছেন। তারা জিপিএ-৫ পাওয়ায় সন্তানের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কয়জন সেই ভবিষ্যতের মালিক হতে পেরেছেন ? আমাদের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাও ছিল গতানুগতিক। শ্রেণিপাঠ, মুখস্তবিদ্যা আদায় করা, পরীক্ষার মূল্যায়নও সেভাবে নির্ধারণ করা হতো। আর এর জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গাইডবই, শ্রেণিপাঠের চেয়ে কোচিং সেন্টার বা শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি কোচিং নেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। এটি কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীর জ্ঞান, জীবন ও শিক্ষার মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ রাষ্ট্রেই অচল হয়ে গেছে। আমরা যুগযুগ ধরে সেটাকেই নানা নামে অব্যাহত রেখেছি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তাদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গড়ে উঠেছে। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই এমন খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা এবং শিক্ষকতার পেশায় নিজেদের যুক্ত রাখার প্রবণতায় বিরাট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদের একটা বিরাট অংশই আধুনিক শিক্ষাক্রমের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে করোনাকালে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষাক্রম বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু করোনাকাল আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আগের বোধ, বিশ্বাস আর অভ্যস্ততার মধ্যে গুটিয়ে থাকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে টিকে থাকা যাবে না। পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতায় আসতে হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম কেবলই প্রবর্তিত হয়েছে, হচ্ছে। এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং উন্নততর করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে; কিন্তু এটিকে বাতিল করে আগের মুখস্থ বিদ্যা এবং গাইডবই, টিউশননির্ভর শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার যারা দাবি করেন তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা হতে পারে। যে শিক্ষকরা সেখানে ফিরে যেতে চান, তারাও একই দোষে দোষী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা প্রতিটি শিক্ষকেরই দায়িত্ব। কিন্তু অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষকেরই পঠনপাঠনের নিয়মিত অভ্যাস নেই। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখা ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। অথচ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ এবং নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী হাতেকলমে শেখন, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমেই যুগের সঙ্গে যেমন তাল মেলাতে পারেন, শিক্ষার্থীদেরও গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন। অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা নয় বরং সন্তানদের প্রতি মনোযোগী হওয়া, আস্থা রাখা এবং তাদের জীবন, কর্ম ও জ্ঞান দক্ষতায় গড়ে তোলার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রতি আস্থাশীল হতেই হবে। অপপ্রচার, গুজব, ব্যঙ্গবিদ্রূপ শিক্ষার সঙ্গে যায় না, জীবনের সঙ্গেও নয়। এটাই শিক্ষার দর্শন।

লেখক: ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


সংঘাতের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে সহায়তা দেবে এডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা জোরদারে এডিবি দ্রুত, নমনীয় ও সম্প্রসারণ যোগ্য সহায়তা দেবে। এর মধ্যে দ্রুত ছাড় যোগ্য বাজেট সহায়তা এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এডিবির পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতাও সংস্থাটির আছে। এ ক্ষেত্রে কাউন্টার সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।

এডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন ঘটায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি অনিশ্চয়তা বাড়ায় আর্থিক পরিবেশ কঠোর হয়ে উঠছে, যার ফলে মুদ্রার ওপর চাপ ও পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এডিবি।

সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্রথমে আর্থিক সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা দেওয়া হবে, যেখানে কাউন্টার সাইক্লিক্যাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে জ্বালানি ও খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংস্থাটি, যা জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।

এডিবি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।


স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার মধ্যে সরকার স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এ ক্রয় সম্পন্ন হবে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে দুই কার্গোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এপ্রিল মাসে দুই দফায় এলএনজি দেশে পৌঁছাবে। ১০ম কার্গো ২৪–২৫ এপ্রিল এবং ১১তম কার্গো ২৭–২৮ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

প্রস্তাব অনুসারে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এ দুই কার্গো কেনা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ মার্কিন ডলার। প্রতিটি কার্গোর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এলএনজি বাজারেও পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

গত ১১ মার্চ একই কমিটির বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন একটি কার্গোর দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৫৮ ডলার এবং বাকি দুই কার্গোর মূল্য ছিল ২০ দশমিক ৭৬ ডলার।

এরও আগে এক সপ্তাহ আগে দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে একটি ২৮ দশমিক ২৮ ডলার এবং অন্যটি ২৩ দশমিক ০৮ ডলার দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়।


ব্যাংক খাত সংস্কারে স্পষ্ট রোডম্যাপ চায় আইএমএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নীতিগত সংস্কার জোরদারে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ পরিকল্পনা লিখিতভাবে জমা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৫ মার্চ) সফররত আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

আলোচনায় আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তুত করার কথা বলা হয় এবং তা লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংস্থার মতে, এ রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাতে কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরি হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলেও উল্লেখ করা হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, "পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।"

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক আগামী মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, যার পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে তা বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে, বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, পরবর্তী কিস্তি পেতে হলে সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, ডিএসইতে লেনদেন ৬০৩ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানির ৩৫ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ১৫৩টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৮ টাকা।

বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩১৬ দশমিক ২৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ০৫ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১০৭৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট।

লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১০২টির কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো—একমি পেস্টিসাইড, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, তৌফিকা ফুড, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল এবং রানার অটোমোবাইলস।

দর বৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড-১, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বিডি থাই, ফার্স্ট জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এফবিএফ ইনকাম ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে দরপতনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে—জেনেক্স ইনফোসিস, অ্যাপোলো ইস্পাত, সিএনএ টেক্সটাইলস, তুং হাই নিটিং, নিউলাইন ক্লথিংস, ফ্যামিলি টেক্সটাইলস, রিজেন্ট টেক্সটাইলস, এফএএস ফাইন্যান্স, ম্যাকসন স্পিনিং এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।


আকিজ ফুডের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

বুধবার বিএসইসি’র সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০০৪তম কমিশন সভায় চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনুমোদিত বন্ডটি ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি হবে এবং এটি জামানতবিহীন, অরূপান্তরযোগ্য ও পূর্ণ পরিশোধযোগ্য শূন্য-সুদ বন্ড হিসেবে বাজারে ছাড়া হবে।

প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে বন্ডটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এতে ট্রাস্টি হিসেবে সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে নর্থ স্টার ইনভেস্টমেন্টস (বিডি) লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে।

বিএসইসি’র পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদ ছুটিতেও সচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর, রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডেল

আপডেটেড ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৭
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের সাত দিনের ছুটিতে প্রায় ২৫ লাখ কার্গো এবং প্রায় ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম গণমাধ্যমকে বলেন, "ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঈদের আগে থেকে গৃহীত নানামুখী সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সফলতা এসেছে।"

তিনি জানান, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে জেটি এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ বার্থিং ও নেভিগেশন সহায়তার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।

বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, ওই সাত দিনে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। ১৮ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

একই সময়ে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ’স কনটেইনার পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ’স এবং রপ্তানি ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ’স। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ’স কনটেইনার প্রসেস করা হয়। এই সময়ে মোট ৬৪টি জাহাজ বার্থিং ও হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ এবং ২৩ মার্চ ১২টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়।

সাম্প্রতিক কর্মবিরতি ও জাহাজ আগমনের চাপের কারণে এক সময় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় দুই থেকে তিন দিনে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে সমন্বিত তদারকির ফলে আউটার অ্যাঙ্করেজে অপেক্ষার সময় কমে ‘জিরো’ দিনে নেমে এসেছে, যা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হবে।

২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে মোট ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার মজুত ছিল। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩ টিইইউ’স এফসিএল, ২ হাজার ৬৫৪ টিইইউ’স ডিপো এবং ১ হাজার ৬৫২ টিইইউ’স খালি কনটেইনার রয়েছে।


যুদ্ধের প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভিয়েতনামে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এ চিত্র উঠে এসেছে। হ্যানয় থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

সরকারি তথ্য বলছে, ইরানে ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর দুই দিন আগের তুলনায় ডিজেলের দাম প্রায় ১০৫ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ছিল ১৯ হাজার ২৭০ ডং, যা বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৬০ ডং বা প্রতি লিটার ১ দশমিক ৫০ ডলার।

একই সময়ে ৯৫-অকটেন পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ২০ হাজার ১৫০ ডং থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৪০ ডং হয়েছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি।

সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি জ্বালানি ব্যয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ভিয়েতনাম সম্প্রতি কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। পাশাপাশি সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস উৎপাদন নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় পেট্রল ও ডিজেলের ওপর পরিবেশ সুরক্ষা কর অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়েছে। হ্যানয়ের বাসিন্দা নুয়েন ভ্যান চি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি তার ট্রাক চালাননি এবং যতটা সম্ভব সাইকেল ব্যবহার করছেন।

৫৪ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী এএফপিকে বলেন, ‘ডিজেলের এই অবিশ্বাস্য দামে আমি আমার ট্রাক বিক্রিও করতে পারছি না। কারণ, কেউ এটি ব্যবহার করতে চায় না।’


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপের শিল্পে গভীর সংকট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইউরোপের শিল্পাঞ্চলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে, যা উৎপাদন ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। করোনা মহামারীর ধকল এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই সংঘাত কাঁচামালের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

জার্মানির পরিচিত রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান ‘গেশেম’ এ পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। গৃহস্থালি পরিষ্কারক ও গাড়ির ব্রেক ফ্লুইড উৎপাদনকারী এ কোম্পানির মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মার্টিনা নিগসোয়াঙ্গার জানান, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো তারা কর্মী ছাঁটাই এবং নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের পরিকল্পনা করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এ অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়লেও ইউরোপে এর অভিঘাত বেশি অনুভূত হচ্ছে। কারণ, এ অঞ্চলে আগেই জ্বালানির দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। ইরান ও কাতারের গ্যাস স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৬ সালের শুরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ী থাকে, তবে আগামী দুই বছরে জার্মানির অর্থনীতি প্রায় ৪ হাজার কোটি ইউরো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সস্তা জ্বালানির অভাব এবং বৈশ্বিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ইউরোপের শিল্পখাত ক্রমেই চাপে পড়ছে। বর্তমানে জার্মানিতে বিদ্যুতের পাইকারি দাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।

সংঘাতের কারণে শুধু জ্বালানি নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সার, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক তৈরির উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে গত এক বছরে জার্মানিতে রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়েছে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও এ চাপ থেকে মুক্ত নয়। ল্যানক্সেস ও বিএএসএফের মতো বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানিগুলো ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই এবং পণ্যের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে।

ফ্রান্স ও ডেনমার্কের প্লাস্টিক ও খেলনা নির্মাতারা জানিয়েছেন, এশিয়ার সরবরাহকারীরা পণ্য পাঠাতে না পারায় তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেগো জানিয়েছে, তারা জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর উপায় খুঁজছে, তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও তীব্র হবে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে ইউরোপের শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।


হরমুজ সংকটে বাণিজ্য সচল রাখতে নতুন শিপিং রুট চালু করলো সৌদি

ছবি- আরব নিউজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় তা মোকাবেলায় পাঁচটি নতুন শিপিং সার্ভিস চালু করেছে সৌদি আরব।

দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক শিপিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

সৌদি বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘মাওয়ানি’ জানায়, নতুন সার্ভিসগুলো পরিচালিত হবে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্ক, হ্যাপাগ-লয়েড, এমএসসি ও সিএমএ সিজিএমের সহযোগিতায়। পাঁচটি রুটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৪ টিইইউ পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা রাখা হয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন বন্দরকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।

গালফ শাটল, রেডেক্স, জেড, এই-১৯ ও এসই-৪ নামে চালু হওয়া এ রুটগুলো বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে এসব সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবকে বৈশ্বিক লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাবে।

লজিস্টিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বৈশ্বিক শিপিং খাতে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েফাইন্ডারের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিক বার্টলেট বলেন, "হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য একটি মানসিক চাপও তৈরি করেছে। সঠিক সময়ে জ্বালানি বা প্রয়োজনীয় রসদ পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে জাহাজ চালকদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে। নতুন এ সার্ভিসগুলো সে ঝুঁকি কমিয়ে আনবে।"

নতুন রুটগুলো আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের জন্য আরও নমনীয় বিকল্প তৈরি করবে এবং আরব উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগর করিডোরকেও শক্তিশালী করবে।

এর আগে গত ২১ মার্চ থেকে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নেয় সৌদি আরব। এর মধ্যে জাহাজের ক্রু পরিবর্তন, জ্বালানি সরবরাহ এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে দেশটি শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করছে না, বরং একটি শক্তিশালী জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে দেশটিকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেবার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে।


স্বর্ণের দামে আবার বড় পতন, ভরিতে কমেছে ৫৪৮২ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, যা আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, "স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।"

নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

এর আগে গত ১৯ মার্চ বিকেলে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।

সেই সময় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৪৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার বেড়েছে এবং ২০ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন করা হয়, যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।


মার্চের ২৩ দিনেই এলো প্রায় ২৮৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। উৎসবের প্রাক্কালে প্রবাসীরা নিজ পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রায় ২৮৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ১৬ থেকে ২৩ মার্চ অর্থাৎ মাত্র আট দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে সরকারের বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা প্রদান এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স হলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি। তবে এই ইতিবাচক ধারাকে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই করতে হলে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন তারা।


বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নয়

কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বাংলাদেশের মধ্যে অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে যে সংলাপ শুরু হয়েছে তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি রাষ্ট্রই এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নেই।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন করেন কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। আলোচনার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাপচারিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান। বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সব সময়ই নীতিগত আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।”

নতুন করে ঋণের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়েও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, অর্থায়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আইএমএফ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আইএমএফের এই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সহযোগিতা এবং কৌশলগত সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন, সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদের আগে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। অধিকাংশ খাতের কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, যদিও সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে থাকে, ফলে সূচক দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝপথে মিউচুয়াল ফান্ডে কিছুটা ইতিবাচক ধারা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা সামগ্রিক পতন ঠেকাতে পারেনি।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবে টানা দরপতনের পর ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ছুটির পর প্রথম দিনেই সেই প্রত্যাশা ভেঙে যায়।

দিনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী থাকে এবং শেষদিকে পতনের গতি আরও বাড়ে। ফলে সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে বাজার বড় পতনের মধ্যেই লেনদেন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমেছে ২৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও ১২২টির কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে দাম বেড়েছে ২২টির এবং কমেছে ৫০টির।

লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির কমেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বেড়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে নেমে আসে। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং রবি ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।


banner close