সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল

বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ৬০ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০১
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত
সুলতান আহমেদ
প্রকাশিত : ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল মিলতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ ধরে বিশ্বব্যাপী তৈরি হয় ডলারসংকট। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই যেহেতু নিয়ন্ত্রণ হয় মার্কিন ডলার দিয়ে তাই যুদ্ধের অজুহাতে বাড়তে থাকে অতি প্রয়োজনীয় এ মুদ্রাটির চাহিদা। করোনা মহামারিপরবর্তী বাংলাদেশেও বেড়ে যায় আমদানি, যার সুবাদে দেশে চাহিদা বাড়ে মার্কিন ডলারের। ডলারের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে দফায় দফায় বিক্রি করতে হয়েছে ডলার। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ নেমে আসে প্রায় অর্ধেকে।

তবে ডলারসংকট কিংবা রিজার্ভ কমে যাওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিশেষ করে গভর্নর হিসেবে আবদুর রউফ তালুকদারের নিয়োগের পরই অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমাতে নেওয়া হয় বেশ কিছু পদক্ষেপ। এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নির্দেশনা দেয় ব্যাংকগুলোকে। সেসব পদক্ষেপের সুফল মিলতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, আমদানি ও রপ্তানির ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বলছে, গেল চার মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমে হয়েছে ৩৮০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা তার আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৬২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের চার মাসের হিসাবে শতকরা বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও সার আমদানির প্রভাবে যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৮২ কোটি ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমার কারণ হিসাবে বড় অবদান রেখেছে আমদানি নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানির হিসেবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশে মোট আমদানি হয়েছে ২ হাজার ২৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। যা এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে ছিল ২ হাজার ৫৫১ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চার মাসে আমদানি কমেছে ২০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে রপ্তানি থেকে মোট আয় এসেছে ১ হাজার ৬৪৬ কোটি মার্কিন ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ছিল ১ হাজার ৫৮৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ রপ্তানিতে বড় কোনো প্রবৃদ্ধি না হলেও বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি কোনো আমদানিকারক যেন পণ্যের বাড়তি দাম দেখিয়ে আমদানি করতে না পারে সেদিকেও রয়েছে কঠোর নজরদারি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংককে আমরা সতর্কতার সঙ্গে আমদানির ঋণপত্র খুলতে বলেছি। আমদানিতে যেন কোনোভাবেই কোনো মিথ্যা তথ্য না আসে সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নজরদারি করছে।’ শুধু তাই নয়- আমদানির আড়ালে যেন কোনোভাবেই অর্থ পাচার না হয় সেদিকেও তাদের নজরদারি রয়েছে। ‘বর্তমানে বিশ্ববাজারে আমদানি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে, এ ছাড়া বাড়তি প্রাইস মনে হলে তা সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এ জন্য আমদানি কিছুটা কমে এসেছে’ বলেও জানান তিনি। আমদানি কমানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ভুল দামে আমদানি করতে দেব না, আমার মনে হয় এতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ঘাটতি কমে আসবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমে ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যা ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে ছিল ১ হাজার ৭১৫ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা যায় ২০২০-২১ অর্থবছরে। করোনা মহামারি প্রথম বছরে বাণিজ্য ঘাটতি সব রেকর্ড ভেঙে ছাড়িয়ে যায় ৩ হাজার ৩২৫ কোটি ডলারের ঘর। সেই হিসাবে গত অর্থবছরে তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক হয় বাণিজ্য ঘাটতি। যা চলতি অর্থবছর শেষে আরও কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তবে তার প্রভাবে যেন আমদানি কমে না আসে সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। অর্থনীতিবিদ ও দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অব বাংলাদেশ-আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন এফসিএ বলেন, ‘রিজার্ভের কথা চিন্তা করে আমদানি কমিয়ে আনতে হবে, সেটা ধীরে ধীরে হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা আমদানি করতে না পারলে রপ্তানিও কমে আসবে।’ তবে তার পরামর্শ আমদানির আড়ালে যেন অর্থ পাচার না হয় সেদিকে আরও নজরদারি বাড়াবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


রপ্তানি আয়ে মন্দা অব্যাহত, জানুয়ারিতেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ের ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের তুলনায় জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে রপ্তানি খাতের এই নিম্নমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৪১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে চলতি অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরেও রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছিল। বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এদিন ৫৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের এই ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে; এদিন মোট ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১২০ কোটি টাকা বেশি। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ২১৫টির দর বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং বাকি ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৫৫ ও ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

একই দিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বাজার পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন সিএসইতে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে এবং ৬০টির দাম কমেছে, বাকি ২৫টি প্রতিষ্ঠানের দর ছিল অপরিবর্তিত। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার উভয় বাজারেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়ায় সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতির ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।


ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনরায় বৃদ্ধি

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।” এর আগে জানুয়ারিতে এলপিজির দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের সময় ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৬২ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছে। অটোগ্যাসের দাম এর আগে জানুয়ারিতে সর্বশেষ সমন্বয়ের সময় লিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।


প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্রয়ের ফলাফল প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র রোববার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ড্র-তে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী সিরিজের নম্বর হিসেবে ০MDE১৭৭৭৭ ঘোষিত হয়েছে। এ ছাড়া তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ০৪৮০১৩৩ নম্বরটি।

একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত এই ড্র-তে তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা করে বিজয়ী নম্বর দুটি হলো ০৭৬৬৩৩৮ ও ০৯৩৯৯৩০ এবং চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা করে জয়ী হয়েছে যথাক্রমে ০১০০০০১ ও ০৩৯৫৪০৮ নম্বর। এবারের ড্র-তে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। কক থেকে শুরু করে ঘচ পর্যন্ত প্রতিটি সিরিজের একই নম্বরে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে।

পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে বিজয়ী ৪০টি নম্বর হলো-০০১৫৯৩৭, ০১৭৫৯৪৯, ০৩২৩৮১৪, ০৫৭৬২১৪, ০৮৩৯৬৯১, ০০২৩১৩৯, ০২১২০৩০, ০৩৭৩০৬৮, ০৫৯৭১০৯, ০৮৬৮০৭৮, ০০৪১৮৭০, ০২১২৯৫৫, ০৩৭৮৪৪৯, ০৬৭৮৬১৪, ০৮৯১৫৮০, ০০৭৪৬৮৭, ০২৬৮২৯৩, ০৩৯৮১৪০, ০৭০২২৪২, ০৯৩১১৪৪, ০০৯৯১৮৪, ০২৯২৬৪১, ০৪০১৭৬৫, ০৭০৩২৯৯, ০৯৩২৪৭২, ০১১১০৭০, ০২৯৯৪৮৪, ০৪০৬২৭৭, ০৭২০৩৮১, ০৯৫৫৮৬১, ০১৪৫২০৪, ০৩১২৩৭৬, ০৪৮৪৬৯৭, ০৭২১৩০৮, ০৯৯০১৫৫, ০১৬৫৩৯২, ০৩২৩৭৮২, ০৫৫৯২৮৫, ০৮১২৪৯০ এবং ০৯৯৫২৭৩।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বাংলাদেশের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানি বাজার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেই প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে এভরিথিং বাট আর্মস সুবিধার আওতায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৯ সালে এই সুবিধা শেষ হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস কাঠামোর যোগ্য হতে পারে বলে মনে করা হলেও সেখানে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা জিএসপি প্লাস নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট পণ্য ইউরোপের মোট আমদানির ৯ শতাংশ ছাড়ালে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকে না, যেখানে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট তৈরি পোশাক আমদানির প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে যায়। এই সুবিধা না থাকলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে ভারতের সঙ্গে ইইউর সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক খাতে সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।”

বাণিজ্য সচিব আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি বিশেষ করে তৈরি পোশাক যাতে ইউরোপীয় বাজারে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে, সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।” অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন যে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের সাত হাজারের বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাণিজ্য সচিব জানান, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য তারিখ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশ থাকলেও তা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়বেন। তারা প্রথমে জাপান যাবেন এবং সেখানে চুক্তি সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।


জানুয়ারিতে দেশে এলো ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের হাত ধরে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। গত ডিসেম্বর মাসের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করছে।

দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এটি ছিল তৃতীয় কোনো মাস, যেখানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এবং গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। শতাংশের হিসেবে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি অবিশ্বাস্য। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ২১৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, সেই তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের সামগ্রিক চিত্রও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও তা সমানতালে বজায় রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সুসংহত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা দেশে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। সাধারণত রমজান ও ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্সের হার বাড়ে, তবে এবার জাতীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগেভাগেই এই গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে অর্থ পাচার এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকেও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেমিট্যান্সের এই বিশাল প্রবাহের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত ২৯ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী যা বর্তমানে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের প্রাচুর্যের কারণে দেশে বর্তমানে ডলারের কোনো সংকট নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। প্রবাসীদের এই অব্যাহত অবদানের ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।


স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা: ১২ ঘণ্টাও টিকছে না নতুন দাম, ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ছাড়াল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখন এতটাই অস্থিতিশীল যে, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত নতুন দাম ১২ ঘন্টাও স্থায়ী হচ্ছে না। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দিনের শুরুতে এক দাম নির্ধারণের পর সেই একই দিন রাতে পুনরায় দাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। নজিরবিহীন এই অস্থিতিশীলতার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত রবিবার, যেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

রবিবার সকালে বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিশ্ববাজারের দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সেই দিনই রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় ভরি প্রতি ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে এখন সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। আজ সোমবার পর্যন্ত বাজারে এই নতুন দর কার্যকর রয়েছে এবং এই দামেই অলঙ্কার কেনাবেচা চলছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো, এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। গহনার কারুকাজ ও নকশাভেদে মজুরির এই হার আরও বাড়তে পারে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের এই অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বাজারে মোট ২০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬ বার কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও বাজার ছিল অত্যন্ত অস্থিতিশীল, যেখানে পুরো বছরে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। বাজুস দাবি করেছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা এবং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণেই তারা দ্রুত এই ধরণের সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দেশের বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


জানুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ঊর্ধ্বগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বেশ বড় গতি লক্ষ্য করা গেছে। পুরো মাসে দেশে প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ ডলার। ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশের রেমিট্যান্স পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে।’ যদিও গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের অংক কিছুটা কম। গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। উল্লেখ্য যে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, তখন প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

মুখপাত্র আরও জানান যে, জানুয়ারির শেষ তিন দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী অবস্থান ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।


সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থান দেখা গেছে। রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৯৩.৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৭.২৩ পয়েন্টে এবং শরীয়াহ সূচক ৮.৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪২.৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬৮টির দাম বেড়েছে, ১৬২টির কমেছে এবং ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় ছিল ডমিনেজ স্টিল, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফাইন ফুডস, তৌফিকা ফুড, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং ওয়ান ব্যাংক। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আলহাজ টেক্সটাইল, সিএপিএমআই বিবি আইবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং এবং স্যালভো কেমিক্যাল।

অন্যদিকে কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামে আজ পতনও লক্ষ্য করা গেছে। দর কমার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো ঢাকা ডাইং, ফার কেমিক্যাল, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, রিং শাইন, সার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, বিবিএস কেবলস, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সব মিলিয়ে দিনের শুরুতে বাজারে যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। বিনিয়োগকারীদের জন্য সপ্তাহের প্রথম দিনটি সূচকের এমন উন্নতি দিয়ে শেষ হওয়া একটি ভালো লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে না কমবে, তা সোমবার জানা যাবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রবিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দুপুর ৩টায় বেসরকারি এলপিজির নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই এই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।

সোমবার এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও ঘোষণা করা হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।” গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ যখন দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে গ্রাহকেরা প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০৬ টাকায় কিনছেন।

একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় আড়াই টাকা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণা আসার পর বোঝা যাবে গ্রাহকদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর আছে কি না। সাধারণত সৌদি আরামকোর দামের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিধায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এখানে সরাসরি পড়ে। কাল বিকেলেই সব সংশয় দূর হবে এবং ফেব্রুয়ারির পুরো মাস এই নতুন দামই কার্যকর থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে না কমবে, তা সোমবার জানা যাবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রবিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দুপুর ৩টায় বেসরকারি এলপিজির নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই এই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।

সোমবার এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও ঘোষণা করা হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।” গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ যখন দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে গ্রাহকেরা প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০৬ টাকায় কিনছেন।

একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় আড়াই টাকা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণা আসার পর বোঝা যাবে গ্রাহকদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর আছে কি না। সাধারণত সৌদি আরামকোর দামের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিধায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এখানে সরাসরি পড়ে। কাল বিকেলেই সব সংশয় দূর হবে এবং ফেব্রুয়ারির পুরো মাস এই নতুন দামই কার্যকর থাকবে।


নির্বাচন উপলক্ষ্যে টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বুধ ও বৃহস্পতিবারের এই ছুটির সাথে পরের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় গ্রাহকেরা টানা চার দিন ব্যাংকের সেবা পাবেন না। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে এই ছুটি ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশনার আলোকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা পাঠিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথারীতি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ফলে টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে আবার নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের চলাচল ও ভোট দেওয়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


ইরান থেকে নয়, ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে ভারত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার জানিয়েছেন যে ভারত এখন থেকে ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সেই চুক্তিটি করেছি, অন্তত চুক্তির প্রাথমিক ধারণাটি চূড়ান্ত হয়েছে।’ তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্যটি সামনে এনেছে।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার তেল কেনায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতসহ অনেক দেশের ওপর ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর আগে রুশ তেল কেনার কারণেও তিনি ভারতের ওপর শুল্ক বসিয়েছিলেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গ জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বোঝাই ১৮টি জাহাজের একটি বহর টেক্সাস, লুইসিয়ানা ও মিসিসিপির পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এখন ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেলে অপরিশোধিত তেলের পৌঁছাবে, যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে গত বছর চীন যেখানে প্রতিদিন গড়ে চার লাখ ব্যারেল তেল যেত। কিন্তু জানুয়ারিতে তা শূন্যে নেমে আসে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ স্থানীয় সময় ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) ফোনে কথা বলেছেন। তারা উভয়ে দুই দেশের ‘সম্পর্ক সম্প্রসারণে একমত’ এবং আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককের অগ্রগতি হবে বলে জানিয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী বন্দি হওয়ার পর দুজনের মধ্যে এটি ছিল প্রথম ফোনালাপ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের অংশগ্রহণকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি।’


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির পথে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানো এবং পাল্টা শুল্ক কমিয়ে আনা। এই চুক্তির অধীনে আমেরিকার তুলা দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনার মতো বড় বিষয়গুলো এই আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং এই তারিখেই স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

যুক্তরাষ্ট্র আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক অনেক বেশি আরোপ করলেও গত জুলাই মাসে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছিল। তবে আসন্ন চুক্তিতে এই হার আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। শুল্ক ঠিক কতটা কমবে সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, "বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারব না, এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।" সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই শুল্কহার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

এই সুবিধাগুলো পেতে বাংলাদেশকে কিছু শর্ত ও ছাড় দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী কয়েক বছরে বোয়িং থেকে ২৫টি বিমান কেনা হতে পারে, যার পেছনে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গমের আমদানি বাড়ানো, জ্বালানি তেল ও তুলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হতে পারে। সামরিক খাতের জন্য হেলিকপ্টার বা প্রশিক্ষণ বিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও এই আলোচনার অংশ হিসেবে থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে সচিব জানান, "দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।"

সম্প্রতি ভারতের সাথে ইইউ-এর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু আছে কি না, এমন প্রশ্নে সচিব আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না।" তিনি ভারতকে প্রতিযোগী নয় বরং পরিপূরক হিসেবেই দেখছেন।

জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশের একটি বড় চুক্তি হতে যাচ্ছে। সচিব জানান, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া এই বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সচিব আরও জানান, বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেশ কাঠামোবদ্ধ রূপ পেয়েছে এবং এর বিস্তারিত কনফিগারেশন নিয়ে এখন কাজ চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারির এই চুক্তি সফল হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।


banner close