আরও একটি বছর শেষ হচ্ছে। বছরটিতে দেশের অর্থনীতি নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। নেতিবাচক অনেক সংবাদের সঙ্গে কিছু সুসংবাদও ছিল। ২০২৩ সালের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ২৩টি আলোচিত ঘটনা নিয়ে এই আয়োজন।
১. নিত্যপণ্যের দামে চরম অস্থিরতা
বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা দেখা গেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে ব্রয়লার মুরগির মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আলুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আর বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে এসে পেঁয়াজের বাজারেও আগুন লাগে। দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ ছাড়া দফায় দফায় ডিম, কাঁচা মরিচ, চিনি, ভোজ্য তেল ও সবজির মতো পণ্যের দাম বেড়েও নতুন রেকর্ড হয়েছে।
২. মূল্যস্ফীতিতে রেকর্ড
দেশে অর্থনীতির জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে বছরজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বছরের শেষের দিকে অক্টোবরে এসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশে ওঠে, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বছরের বেশির ভাগ সময়ই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে ওঠে, যা এর আগের ১৩৪ মাস বা ১১ বছর ২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অক্টোবরেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
৩. মজুরি আন্দোলনে ভুগেছে পোশাকশিল্প
বছরের শুরুতে ক্রয়াদেশ তুলনামূলক কম থাকায় তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সঙ্গে ছিল গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটজনিত উদ্বেগ। এরই মধ্যে নতুন করে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার। তাতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার খরচ বাড়ে। যদিও বছরের শেষ দিকে সবকিছু ছাপিয়ে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে চারজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাই বেশি ভুগিয়েছে সর্বোচ্চ রপ্তানির এই খাতকে।
৪. সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ
চলতি বছরে দেশে সোনার দাম রেকর্ড করেছে। দফায় দফায় দাম বেড়েছে সোনার; সে তুলনায় কমেছে সামান্য। এ বছরই দেশে প্রথমবারের মতো সোনার দাম ভরিপ্রতি লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। দাম বাড়ায় এ বছর নতুন নতুন রেকর্ড হয়েছে, বছর শেষে দেশের ইতিহাসে সোনার এখন সর্বোচ্চ দাম। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর সোনার দাম বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৪১ টাকায় পৌঁছায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর মধ্যে দাম কমানো হয়েছে ১১ বার, বাড়ানো হয়েছে ১৮ বার।
৫. ডলারসংকট
গত বছরের মতো চলতি বছরেও ডলার-সংকট দেখা গেছে। তবে চলতি বছরে আগের মতো ডলারের দাম ধরে না রেখে ধীরে ধীরে তা বাজারভিত্তিক করার দিকে নেওয়া হয়েছে। এতে ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম ১১০ টাকা হলেও ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলার কিনছে ১২২-১২৩ টাকা দামে। ফলে এর চেয়ে বেশি দামে আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। ডলারের দাম তিন দফায় কমানো হয়েছে। এখন ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা দামে। মাঝে অস্থিরতায় খোলাবাজারে ডলারের দাম ওঠে ১২৭ টাকায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর।
৬. খেলাপি ঋণে রেকর্ড
চলতি বছর দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের রেকর্ড হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, যা এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।
৭. প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা
বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস রিপোর্টে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদহার, বিনিয়োগ হ্রাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি তীব্রভাবে মন্থর হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ এই নেতিবাচক ধাক্কার বাইরে নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নামিয়ে এনেছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। নানা প্রেক্ষাপটে এটি অর্জন সম্ভব হবে না। তাই প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।
৮. আর্থিক হিসাবে ঘাটতির রেকর্ড
চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সূচকে ১২৭ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে আর্থিক হিসাবের সূচকে এক হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারের বড় উদ্বৃত্ত ছিল।
৯. ঋণ নিয়ে আইএমএফের শর্ত
বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দিতে নানান শর্ত বেঁধে দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শর্ত পূরণের আলোকেই ২ ফেব্রুয়ারি আসে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এরপর দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ পেতে আরও শর্তজুড়ে দেয় সংস্থাটি। এরপর নানা নাটকীয়তা শেষে চলতি ডিসেম্বরে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আসে দেশে।
১০. রিজার্ভ কিছুটা বাড়ল
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৪০ কোটি ডলার ঋণের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার বছরের শেষদিকে রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। এই দুই সংস্থার ঋণ পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে। তবে খরচ করার মতো রিজার্ভ (বিপিএম৬) আছে ২১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।
১১. তারল্যসংকট
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্যসংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণও বাড়ছে। সংকটে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক রেকর্ড ২৪ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ধার নিয়েছে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা ধার নেয়ার রেকর্ড ছিল। সবশেষ ধারের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।
১২. কলমানি সুদহার ১১ বছরে সর্বোচ্চ
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার পাশাপাশি আন্তব্যাংক কলমানিতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক থেকে ধার করে চলছে। কলমানির সুদের হার ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সম্প্রতি কলমানিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যার গড় সুদহার ছিল ৯.১৪ শতাংশ। এ আগে ধারের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, যার গড় সুদহার ৯.১৩ শতাংশ।
১৩. সংকটে পাঁচ ব্যাংক
সারা বছর শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকে তারল্যসংকট দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা চলতি হিসাবে এসব ব্যাংকের ঘাটতি ছিল। এসব ব্যাংকের আমানত বাড়লেও তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা চলতি হিসাবে জমা করেনি। ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাবের স্থিতি ঋণাত্মক। বারবার অবহিত করার পরও ব্যাংকগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবের ঋণাত্মক স্থিতি সমন্বয়ের জন্য ২০ কর্মদিবসের সময় বেঁধে দেয়।
১৪. শেয়ারবাজারে সুদিনের আশায় বছর পার
এক বছর আগে শেয়ারবাজারের অবস্থা যেমন ছিল, বিদায়ের ক্ষণে এসে সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা সুদিনের আশায় বছর পার করে দিয়েছেন। এ বাজারের সঙ্গে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী যুক্ত। তাদের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করে আটকে গেছে। নিকট ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের উন্নতি হবে– এমন আশাও করছেন না অনেকে। ২০২২ সালের জুলাই শেষে আরোপ করা ফ্লোর প্রাইস এখন বিনিয়োগকারীদের ‘গলার কাঁটা’হয়ে বিঁধে আছে। কারণ বেশির ভাগ শেয়ার ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দরে আটকে রয়েছে।
১৫. অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন
করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে ২০২০ সাল থেকেই অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি নেয় সরকার। মহামারির কশাঘাত থেকে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখনই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা দেয় মন্দাভাব। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২২ সালের মতো ২০২৩ সালজুড়েই সরকারি খরচ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেয় সরকার। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠোর মনিটরের আওতায় আনা হয়।
১৬. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি সংস্কার
২০২৩ সালে ডলারের দর ও সুদহার বাজারমুখী করার ক্ষেত্রে দুটি সংস্কার এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত পরিপালনের জন্য যা করা হয়েছে। গত জুলাই থেকে ১৮২ দিন ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদের সঙ্গে একটি মার্জিন যোগ করে সুদহার নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে গত জুন পর্যন্ত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। এ ছাড়া অনেক দিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত একটি দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করত। এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায়ই ডলারের দর ঠিক হচ্ছে। তবে এখন দর বাজারের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১৭. উচ্চ সুদে সরকারের ঋণ
দ্রব্যমূল্যের উচ্চ দাম ও টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়ার কারণে সারা বছরই মূল্যস্ফীতি ছিল বাড়তি। এ জন্য চলতি বছরের মাঝামাঝিতে এসে টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে টাকা ধার করা বাড়িয়ে দেয়। এতে সরকারের টাকা ধারের সুদহার বেড়ে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। এদিকে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আমানতকারীরা সরকারি ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করছে। ফলে ব্যাংকগুলোর আমানতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ঋণে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১৪ শতাংশে উঠেছে।
১৮. ব্যাংকগুলোর বেশি দরে ডলার ক্রয়
বছরজুড়ে ডলার আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনা। বর্তমানে রেমিট্যান্সে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও ব্যাংকগুলো ডলার কিনছে ১২০ থেকে ১২২ টাকায়। এ নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তাদের আবেদনের ফলে শেষ পর্যন্ত জরিমানা মওকুফ হয়েছে। ডলার সংকট চরম আকার ধারণ করায় এবং আইএমএফের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার আলোকে রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য এখন আর দর নিয়ে তেমন প্রশ্ন করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।
১৯. প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস
২০২২ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়প্রাপ্তিতে নেতিবাচক ধারা থাকলেও এ বছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, দেশের প্রবাসী আয়ে এখন ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এ বছরের শেষে আনুষ্ঠানিক তথা বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।
২০. রেকর্ড রপ্তানি আয়
২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ৫৫ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। এর আগে, ২০২১-২২ অর্থবছরের রপ্তানি আয় ছিল ৫২.০৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬২ বিলিয়ন ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
২১. ‘স্মার্ট পদ্ধতিতে’ সুদহার নির্ধারণ
আইএমএফের শর্ত ও ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটাতে ৯ শতাংশ সুদহার তুলে ঋণের সুদহারে ‘স্মার্ট পদ্ধতি’তে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর হয় চলতি বছরের জুলাই থেকে। ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ তুলে দিয়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডের ছয় মাসের গড় সুদহার (ওয়েটেড) বিবেচনা করে প্রতি মাসে একটি রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংক।
২২. একই পরিবার থেকে ব্যাংকের পরিচালক কমিয়ে আনা
একই পরিবার থেকে ব্যাংকের পরিচালক তিনজনে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১- এর সংশোধনী অনুযায়ী একটি ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে একই পরিবারের সর্বোচ্চ চারজন সদস্য থাকতে পারতেন। ২০১৮ সালে করা এই আইনে পরিবর্তন আনা হয় চলতি বছরের ২১ জুন। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকে এক পরিবারের তিনজনের বেশি পরিচালক থাকতে পারবেন না।
২৩. পুরো ঋণ পরিশোধ শ্রীলঙ্কার
দুই বছর আগে মুদ্রা বিনিময় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলার ঋণের পুরোটাই পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ কিস্তিতে এই ঋণ দেয় বাংলাদেশ। কোনো দেশকে দেওয়া বাংলাদেশের প্রথম ঋণ এটি।
বৈশ্বিক বাজারে সোমবার স্বর্ণের দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শক্তিশালী ডলারের প্রভাব এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এই পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে
স্পট স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭১৬.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচার ১ শতাংশ কমে ৪,৭৩৮.৯০ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এই প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দুইয়ের চাপে স্বর্ণের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস তেল ৭০ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুযায়ী ফার্নেস তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিস্তারিত পর্যালোচনা ও গণশুনানির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা একটি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর অথবা প্রয়োজন অনুসারে ফার্নেস তেলের মূল্য সমন্বয় করা যাবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে জার্মানি ও সুইডেন।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার এবং সহযোগিতা বাড়ালে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জার্মান বিনিয়োগকারীদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) এবং সম্ভাবনাময় বাজার উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রত্যাশা করেন।
পরে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকের সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশ ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, নন-ট্যারিফ বাধা কমাতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) নতুন আয়ের রেকর্ড গড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জানুয়ারি-মার্চ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় বছরে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আনাদোলু।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বছরের প্রথম তিন মাসে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার, যা প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারের সমান। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল এ আয় ৩ হাজার ৫২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে।
মার্চ মাসে এককভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মাসে আয় বেড়েছে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, যা প্রায় ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ প্রযুক্তির চিপ উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক এআই সম্প্রসারণের বড় সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে এই কোম্পানি। অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত চিপ সরবরাহ করছে তারা। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ায় উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের জন্য নির্ভরতা বেড়েছে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন সত্ত্বেও কোম্পানির প্রবৃদ্ধিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের উচ্চ চাহিদাই তাদের অবস্থান স্থিতিশীল রেখেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মাসভিত্তিক আয় প্রকাশ করলেও নিট মুনাফার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয় না। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রথম প্রান্তিকের বিস্তারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে মুনাফা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
দীর্ঘদিন পর দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার নেতৃত্ব দিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। এ খাতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধিতে সামগ্রিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, বেড়েছে সূচক ও লেনদেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় সব বিমা কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়। একই চিত্র ছিল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), যেখানে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিমা কোম্পানিগুলোর হিসাব বছর শেষ হওয়ায় ২০২৫ সালের লভ্যাংশ ঘোষণার প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এর প্রভাবেই শেয়ারদরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সূচক নিম্নমুখী ছিল। তবে আধাঘণ্টার মধ্যেই বিমা খাতের শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকে। ফলে দিনের শেষে অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লেনদেন শেষ হয়।
দিনশেষে ডিএসইতে ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৪৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৬টি। বিমা খাতের ৫৬টির মধ্যে ৫৪টির দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র দুইটির।
ভালো মানের বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১০৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি। মাঝারি মানের ৫০টি কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশের দাম বেড়েছে। ‘জেড’ শ্রেণির ৩২টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও ৫২টির কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে সাতটির দাম বেড়েছে, সাতটির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত ছিল।
দাম বাড়ার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭১ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়ে ২ হাজার ২ পয়েন্টে পৌঁছালেও শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে নেমেছে।
প্রধান মূল্য সূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৩৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—লাভেলো আইসক্রিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কেডিএস এক্সসরিজ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বিডিকম অনলাইন এবং গোল্ডেন সন।
অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে দশমিক ৯৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৮টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে এলপিজিবাহী আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও অন্তত চারটি জাহাজ আসার প্রস্তুতি রয়েছে।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে ডিএল লিলি এবং ভারত থেকে গ্যাস ক্যারেজ নামের দুটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছে। বর্তমানে জাহাজ দুটি চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে নোঙর করে আছে।
তিনি আরও জানান, রোববার (১২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে কংটং নামের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর পরদিন মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে পল নামের আরেকটি জাহাজ পৌঁছাবে।
পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি বহনকারী মারান গ্যাস হাইড্রা এবং ১৮ এপ্রিল লবিটো নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি চাপে সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে সরকারি ব্যয়ের ধরণে গত বছর বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ খাতে বিভিন্ন দেশের সরকারের বার্ষিক ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালের জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মতো ধারাবাহিক বৈশ্বিক চাপ নীতিনির্ধারকদের বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও বিনিয়োগে যেতে বাধ্য করছে। খবর আনাদোলু।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘স্টেট অব এনার্জি পলিসি ২০২৬’ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে মূল্য ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী সরকারি ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে এই খাতে মোট ব্যয় ৪০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯–এর প্রভাব কাটতে না কাটতেই ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করে।
বিশ্বের ৮৪টি দেশের ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি নীতিগত পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি ‘গ্লোবাল এনার্জি পলিসি হাব’–এর তথ্যভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ, যেখানে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু প্রতিশ্রুতি, জরুরি মজুদ এবং জ্বালানি প্রাপ্তির মতো প্রায় ২০০টি ক্ষেত্র বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যে দেখা যায়, ব্যয়ের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কয়লা-তেলের পরিবর্তে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর জ্বালানিতে ঝোঁক তৈরি করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ খাতে উচ্চ ব্যয়ের ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ দেশগুলো এখন তাৎক্ষণিক সংকটের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
২০২২ সালের জ্বালানি সংকট বিশ্বনেতাদের জন্য বড় শিক্ষা হয়ে এসেছে। ওই সময়ে ভোক্তাদের উচ্চমূল্য থেকে রক্ষা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও এর সিংহভাগ সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ব্যবহার হয়নি। মোট ২২ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশ প্রকৃত অর্থে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, বাকি অংশ রাষ্ট্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের ৩০টি দেশ, যারা মোট আমদানিকৃত গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবহার করে, তারা এ খাতে নতুন ও কঠোর নীতিমালা চালু করেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি রূপান্তরের এই সময়ে খনিজ সম্পদের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে, তবে সরবরাহ ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ সীমিত কিছু দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
আইইএ জানায়, গত পাঁচ বছরে খনিজসম্পদ–সংক্রান্ত নীতিমালার এক-তৃতীয়াংশ নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিক্রিয়ায় দেশগুলো নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে।
আইইএর প্রযুক্তি পরিচালক লরা কোজি বলেন, ‘বৈশ্বিক সীমাবদ্ধতা ও ক্রমাগত পরিবর্তিত পরিস্থিতি জ্বালানি নীতিনির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখছে। সরকার ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে তাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন স্বল্পমেয়াদি সমাধানগুলো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি লক্ষ্যের ক্ষতি না করে।’
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, কিছু দেশ জ্বালানি দক্ষতা ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। যদিও ১৫টি দেশ অগ্রগতি দেখিয়েছে, তবুও সড়ক পরিবহনসহ বড় খাতে কঠোর নীতি প্রয়োগে বিলম্ব বা শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এতে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমলেও ভবিষ্যতে মূল্য অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সবশেষে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি সংকটের মতো প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নীতিতে নতুন এক গতিশীল অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে।
টানা পাঁচ সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর মালয়েশিয়ার বাজারে গত শুক্রবার পাম অয়েলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
প্রায় ১৬ মাসের মধ্যে এটিই ভোজ্যতেলটির সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাই মূলত বাজারে নেতিবাচক চাপ তৈরি করেছে। মার্চে দেশটিতে মজুদ সাত মাসের সর্বনিম্নে নেমে এলেও দামের পতন থামানো যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে জুন সরবরাহের বেঞ্চমার্ক পাম অয়েলের দাম কমেছে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১০৮ রিঙ্গিত। দিনশেষে প্রতি টন দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৩৫ রিঙ্গিতে। সপ্তাহজুড়ে দরপতন হয়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। এতে আমদানিকারক দেশগুলো কিছুটা স্বস্তি পেলেও উৎপাদকদের উদ্বেগ বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, রফতানি বাড়ায় টানা তিন মাস ধরে মজুদ কমছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশটিতে মজুদ রয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৭০ হাজার টন। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতাও দামের পতন ঠেকাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভরা মৌসুম হওয়ায় সরবরাহ আরও বাড়বে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মৌসুমী উৎপাদনের সঙ্গে রফতানি তাল মেলাতে না পারলে মজুদ আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মালয়েশিয়ার ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেলিনডুং বেস্তারির পরিচালক পারমালিঙ্গম সুব্রামানিয়াম জানান, বর্তমানে রফতানি পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রফতানি আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, ফলে পাম অয়েলভিত্তিক বায়োডিজেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য এই তেল কিনতে খরচ বেড়েছে। এতে ভারত ও চীনের মতো বড় আমদানিকারকরা এখন অপেক্ষা–পর্যবেক্ষণে থাকায় বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে এবং দাম নিম্নমুখী রয়েছে।
ভারত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় ৩ বছর ৬ মাস ১৩ দিন পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে গম আমদানি শুরু হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে ভারত থেকে ৩টি ট্রাকে ১১৬ টন গম আমদানি করা হয়। হিলি স্থলবন্দরের গম আমদানিকারক মিফা ইন্টারন্যাশনাল এই গম আমদানি করে। যা ভারতের ইজান ট্রেডার্স রফতানি করেছে।
এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে গত ২০২২ সালের ১৩ মে গম রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত সরকার।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গম রপ্তানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার প্রত্যাহার করেছে। শনিবার বন্দর দিয়ে পরীক্ষামূলক ৩ ট্রাক গম আমদানি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, ভারত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গম আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে তা পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া হবে। এরপর তারা আমদানিকৃত গম বন্দর থেকে খালাস করে নিতে পারবে। দ্রুত যেন সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ। তবে আইনের কিছু ধারায় রয়ে যাওয়া অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ জানিয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব উদ্যোগ শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারত।
সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, এই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকলে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারত।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার কিছু ধারা সংশোধন করে আইনটি পাস করলেও এখনও কয়েকটি বিষয়ে অনির্দিষ্টতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
শিল্পে স্থিতিশীল উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতে শ্রম আইন ও বিধিমালার সংশোধনের সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধানকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে সংগঠনটি বলছে, কোনও ব্যক্তি যদি শ্রমিক পরিচয়ে আইনবহির্ভূত দাবি তুলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে সেগুলোকেও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাস ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখা উচিত।
অন্যথায়, শিল্প কারখানা ও শ্রমিক উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এ তথ্য জানানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার বিভিন্ন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, যার ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তিনি বলেন, ‘কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।’
মন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি। টিসিবির মাধ্যমে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালান্স’ তৈরি করা হবে।
কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাট পরিচালিত হবে। উদ্যোগটি সফল হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা একযোগে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বাড়লে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ এবং আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হবে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম প্রায় ৪ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রকৃত মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমে গিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেবে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের সংঘাত জ্বালানি উৎপাদন, তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এবং আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর দেশের উচ্চ নির্ভরশীলতা স্পষ্ট হয়েছে। জ্বালানি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সরবরাহকৃত অন্তত ২০ শতাংশ এলএনজি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে কাতারে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭২ শতাংশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, ফলে এই সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশ বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন সময়ে এই ধাক্কা এসেছে যখন দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আগে থেকেই কাঠামোগত ঘাটতি বিদ্যমান।
সানেম তাদের গবেষণায় তিনটি প্রধান প্রভাব চ্যানেল চিহ্নিত করেছে—জ্বালানি, রেমিট্যান্স, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা। এর মধ্যে জ্বালানি খাতের ধাক্কা সবচেয়ে সরাসরি, কারণ আমদানিনির্ভর জ্বালানির দামের উল্লম্ফন উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ায় এবং মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে।
খাতভিত্তিক প্রভাবেও বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ, পরিবহন খাতে প্রায় ৩ শতাংশ এবং কৃষিতে প্রায় ১ শতাংশ হ্রাসের আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি-নির্ভর শিল্প খাতে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পতন হতে পারে।
সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও বিশ্লেষণে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে কৃচ্ছ্রসাধন ও জ্বালানি রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব উদ্যোগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কিছু সুপারিশ দিয়েছে সানেম। সংস্থাটি মনে করছে, জমি ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সহজলভ্য ও কার্যকর বিকল্পগুলোর দিকে দ্রুত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে কার্যরত চীনা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন সিইএবির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা ডিএসই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানান।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন। ডিএসই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, হুয়াওয়ে, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন, জিংসু কনস্ট্রাকশন, হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট, চেন হুইমিন, হুইসি দ্য অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ল’ ফার্ম, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো, বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন, সিকেডি লেজার, ডংজিং গ্রুপ, কোকো ফ্যাশন, জিয়াংসু গুয়োতাই হুয়াশেং, শিন গাও টেক্সটাইল, জিংতাই রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি, বিওএফ, ভিভো এবং শেনজেন কিংডমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, "পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কৌশল প্রণয়ন চলছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যৌথ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে সিইএবি-এর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।"
ডিএসই’র পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে তাদের বিনিয়োগ ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিইএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন বলেন, "এই বৈঠক পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২৫০-এর বেশি, যারা বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয়।
মা বেন বলেন, "বিদ্যুৎ উৎপাদন, টানেল, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, পয়ঃশোধনাগার ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে।"
বৈঠকে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আদিব হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি ঘুরে দেখেন।