রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে দরকার স্মার্ট পুঁজিবাজার: ডিএসই চেয়ারম্যান

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫০

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সামনে হাতছানি দিচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ৷ ২০৪১ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের একটি দেশে পরিণত হবে৷ ইতোমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পণ করেছি। স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণ করতে প্রয়োজন স্মার্ট পুঁজিবাজার।

ডিএসইর নিকুঞ্জ টাওয়ারে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত ‘স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম অব ডিএসই গো লাইভ’ শীর্ষক প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রুপালী হক চৌধুরী এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান এবং প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের চারটি উপাদানের মধ্যে একটি উপদান হলো স্মার্ট ইকোনমি। আর স্মার্ট ইকোনমির দুটি সেক্টর হচ্ছে ক্যাপিটাল মার্কেট ও মানি মার্কেট। আজকের এ বিষয়টি শুধু প্রধানমন্ত্রীর‌ লক্ষ্য পূরণ নয়, এটি স্মার্ট পুঁজিবাজার তৈরির‌ অংশ হিসেবে কাজ করবে। অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে অনেক ভূমিকা রাখলেও বাংলাদেশে দুর্ভাগ্য জনক সেটা হয় না। আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে‌ পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেটা এখনো হয়ে উঠেনি। কারণ আমাদের দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন হচ্ছে। সেটা উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে হয়। এতে পুঁজিবাজার যেমন বড় হয় তেমনই দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে স্মার্ট করার জন্য এর কার্যক্রমকে পেপারলেস করতে হবে। আর সেই পেপারলেসের যাত্রা আজকে এই প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ডিএসই নিজস্ব স্মার্ট ডাটা সেন্টার তৈরি করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে পুঁজিবাজার যে স্মার্টের দিকে যাচ্ছে সেটা ডিএসই গত বছর থেকেই শুরু করেছে। আজকে ছিল এর দ্বিতীয় উদ্যোগ।

ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, পুঁজিবাজারের অন্যতম উপাদান হল স্টেকহোল্ডারদের তথ্য সঠিকভাবে নেওয়া। সেটা যদি না নেওয়া যায় তাহলে আধুনিক পুঁজিবাজার করা সম্ভব হবে না। সেই তথ্যই স্মার্টভাবে নেওয়ার কার্যক্রম আজকে থেকে শুরু করা হল। এতে তথ্য সঠিক সময় পাওয়া যাবে এবং সঠিক সময়ে নানা উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। আমরা যদি সকলকে সঙ্গে নিয়ে পুঁজিবাজারে উন্নয়নে কাজ করতে পারি তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট ইকোনমি বাস্তবায়ন করতে পরবো।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান। এসময় তিনি বলেন-প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু হওয়ায় পুঁজিবাজার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে সহজে নির্ভুল তথ্য প্রকাশ করতে পারবে। আগে যে ইচ্ছা ও অনিচ্ছাভাবে ভুল তথ্য প্রদান ও প্রকাশ করার ঝুঁকি ছিল সেই ঝুঁকি আর থাকবে না। এছাড়া কেউ কোনো অনিয়ম করলে তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রূপালি হক চৌধুরী বলেন, অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন থেকে সময় অনেক বেঁচে যাবে। এতে করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য দ্রুততম সময়ে সবার কাছে পৌঁছানো যাবে। তবে সিস্টেমে সমস্যা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে করে সমস্যা হওয়ার কারণে সিস্টেমের কাজ বন্ধ না হয়ে যায়।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য কোনোভাবে যাতে ভুল প্রকাশ না হয় এবং বাদ না যায় সে বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাজার থেকে অনৈতিক মুনাফা করতে না পারে এবং ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

পরে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান মো. রবিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে তিনি তৈরিকৃত সফটওয়্যারটির উদ্দেশ্য, ব্যবহার ও টেকনিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক এবং বিভিন্ন মডিউল সম্পর্কে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানে সমাপণী বক্তব্য প্রদান করেন ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা চলবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা চলতে পারে বলে একটি রায়ে অভিমত দিয়েছে নিউইয়র্কের একটি আদালত। তবে ওই রায়ে আরসিবিসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব অভিযোগ এনেছিল তার বেশির ভাগই খারিজ হয়ে গেছে। কেবল চুরি যাওয়া যে অর্থ আরসিবিসিতে গেছে, তা ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা চালাতে পারবে বলে আদেশ দেওয়া হয়। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশ দেয়। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছে আরসিবিসি।

ফিলিপাইনের গণমাধ্যম এনকোয়ারার ডট নেট এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ, ২০১৬ সালে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক এবং বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ ডজন খানেক ব্যক্তিকে আসামি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।

তবে মামলার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের বাইরে-এই কথা বলে আরসিবিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পাল্টা মামলা করেন। মামলাটি খারিজের আবেদনও করেন তারা।

২০২০ সালের ২০ মার্চ দেওয়া রায়ে বলা হয়, ‘মামলাটি টেকনিক্যাল হওয়ায় তা বিচারের জন্য গ্রহণ করা হয়নি, যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ আছে । এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কের কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি ফিলিপাইনের স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা তথ্যে আরসিবিসি জানায়, তারা ২৯ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের আদালত থেকে একটি সিদ্ধান্ত পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আরসিবিসি ব্যাংক ও সব বিবাদীর বিরুদ্ধে অর্থ রূপান্তর, চুরি, আত্মসাৎ- এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা প্ররোচনা, জালিয়াতি (আরসিবিসির বিরুদ্ধে), জালিয়াতিতে সহায়তা বা প্ররোচনা- এসব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

তবে অন্যান্য অভিযোগে মামলা চলতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত, যেমন চুরি যাওয়া যে অর্থ আরসিবিসিতে গেছে, তা ফেরত দেওয়া। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, তা ভেবে দেখছে আরসিবিসি।


উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরও ৩ বছর শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় আসার পর বাংলাদেশ আরও তিন বছর শুল্ক সুবিধা পাবে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ আবুধাবিতে ডব্লিউটিওর ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা উন্নয়নশীল দেশের খ্যাতি অর্জনের পরও সেসব দেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখতে রাজি হন।

গত শুক্রবার শেষ হওয়া ডব্লিউটিও সম্মেলনের খসড়া ঘোষণায় বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল ও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় রপ্তানি পণ্যের জন্য স্বল্প বা শূন্য শুল্ক সুবিধা ভোগ করবে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি সমঝোতার ২৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের ঘোষণার দিন থেকে সেসব দেশ পরবর্তী তিন বছর এ সুবিধা পাবে।

এ ছাড়া, সেসব দেশ ডব্লিউটিওর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার আওতায় তিন বছর পর্যন্ত কারিগরি সহায়তা পাবে।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, এই পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যমান স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ডব্লিউটিওর কমিটিগুলো ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ও জেনারেল কাউন্সিল অগ্রগতিবিষয়ক পরবর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে প্রতিবেদন দেবে।

ডব্লিউটিওর প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সদ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সব শুল্ক সুবিধা কার্যকর রাখা না গেলেও সেসব উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও পণ্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

ডব্লিউটিও সদস্য দেশগুলো ই-কমার্সের ওপর আমদানি শুল্ক স্থগিতের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে রাজি হয়েছে।

ডব্লিউটিও ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সরকারি খাদ্য মজুদ, মৎস্য খাতে ভর্তুকির মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। যদিও আলোচনা আরও এক দিন বাড়িয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।


অফশোর ব্যাংকিং বিল সংসদে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং আইন করতে সংসদে বিল উঠেছে। আজ শনিবার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংসদের বৈঠকে ‘অফশোর ব্যাংকিং বিল-২০২৪’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

উত্থাপিত বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং অর্থ বহিঃউৎস এবং অনুমোদিত বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রাপ্ত তহবিল দ্বারা এই আইনে বর্ণিত শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী অনিবাসী বা ক্ষেত্রমত বাংলাদেশে নিবাসী ব্যক্তির সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রম।

বিলে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কসমূহের শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমানত গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট তাদের স্বল্প মেয়াদি ঋণ ও অগ্রিম বা বিনিয়োগ, ঋণপত্র ও গ্যারান্টি সুবিধা প্রদান, বিল ডিসকাউন্টিং, বিল নেগোশিয়েটিং এবং অন্যান্য বৈদেশিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বহিঃলেনদেন সেবা দিতে পারবে। বিলে বলা হয়েছে, অনিবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট আমানত ও ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক পর্ষদের অনুমোদিত নীতিমালা থাকতে হবে। তফসিলি ব্যাংকের অফশোর কার্যক্রমের জন্য পৃথক হিসাবপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিট থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে তহবিল স্থানান্তর করা যাবে।


‘পরম বন্ধু হতে পারে স্বাস্থ্য বিমা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

প্রায় দুই যুগ ধরে দেশের বিমা খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এস এম জিয়াউল হক। ২০০১ সালে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অ্যালিকোতে (বর্তমানে মেটলাইফ বাংলাদেশ) তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সাফল্যের সঙ্গে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) ২০২৪-২০২৫ মেয়াদের জন্য পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দেশের বিমা খাতের সার্বিক অবস্থা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদী হাসান সজল

বিমা খাতের বর্তমান অবস্থা কেমন?

: বিমা খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দাবি পরিশোধও অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ সালে এ খাতে মোট সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি ছিল। তার মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার দাবি আলোচিত বছরের মধ্যেই ৮১টি কোম্পানি পরিশোধ করেছে। এসব দিক বিবেচনায় অতীতের তুলনায় বর্তমানে বিমা খাত ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে খাতটি প্রত্যাশিত জায়গায় এখনো পৌঁছাতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে আস্থার জায়গাতে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এই জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। নতুন নতুন পণ্য আনতে হবে। পাশাপাশি সেবায় নতুনত্ব আনতে হবে। আজকে স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে এসে ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’-এর মতো বিপণন চ্যানেল চালু হচ্ছে। এ ধরনের সেবা অনেক আগেই চালু হওয়া দরকার ছিল। এ ধরনের আরও চ্যানেল বাড়াতে হবে। তাহলে বিমা খাত আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে। দেশ ও অর্থনীতিতে ভালো অবদান রাখতে পারবে।

বিমা খাতে আস্থার সংকট আছে। ঘুরেফিরে এ অভিযোগটি বারবার আলোচনায় উঠে আসে। আস্থার সংকট কাটাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন?

: আস্থার সংকট দূর করতে সর্বপ্রথম তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। প্রথমত, সেবা দ্রুতকরণ করতে হবে। দেশে এতগুলো বিমা কোম্পানি রয়েছে, এর মধ্যে চার্টার্ড লাইফসহ ৫-৭টা কোম্পানি বিমা দাবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করেছে। বাকিগুলো কিন্তু নির্ধারিত সময়ে দিতে পারেনি। অন্য কোম্পানিগুলোকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পরিশোধে সচেষ্ট হতে হবে। দ্বিতীয়ত, এ খাতে আমাদের দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে। মেধাবী ও ব্যাচ টপারদের এখানে নিয়ে আসতে হবে। বহির্বিশ্বে যেখানে মেধাবীরা বীমা খাতে প্রচুর আগ্রহ দেখায়, বাংলাদেশের চিত্র ঠিক তার উল্টো। ভবিষ্যতে বিমা খাতের স্বার্থে এখানে দক্ষ জনবল নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। তৃতীয়ত, পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। যুগ যুগ ধরে একই ধরনের সেবা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়। আমরা চার্টার্ড লাইফও বেশকিছু নতুন পণ্য আনতে কাজ করছি। এই তিনটি বিষয়ের ওপর নজর রেখে কাজ করলে সামনের দিনগুলোতে বিমা খাতের আস্থার সংকট আস্তে আস্তে কেটে যাবে।

বিশ্বের অনেক দেশেই মানুষের স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক জীবন ব্যবস্থা বিমা পলিসির আওতায় রয়েছে। আমরা এ অবস্থানে কেন যেতে পারছি না?

: ওইসব দেশের মতো সার্বিক জীবন ব্যবস্থা বিমা পলিসির আওতায় আনতে গেলে সরকারের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বপ্রথম প্রধান প্রধান পেশার মানুষের জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসি বাধ্যতামূলক করে দিতে হবে। দেশে প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে, ৪২ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক আছে, শিক্ষার্থী আছে ১০ লাখের ওপরে। এর বাইরে প্রধান প্রধান পেশাগুলো মিলিয়ে বাধ্যতামূলক পলিসির আওতায় এনে একবারেই ১ কোটির বেশি মানুষকে বিমা করানো সম্ভব। এরপর বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকের প্রায় ৬ কোটি আমানতকারীকে আস্তে আস্তে বিমা পলিসির আওতায় আনা যেতে পারে। আমরা যদি দেশের বাইরে একটু উন্নত দেশগুলোতে ভ্রমণ কিংবা কাজে যাই, সে ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিমা পলিসির আওতায় যেতে হচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশে এখনো বিমাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। তাই আমি বলব বিমাকে সর্বস্তরের জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিমার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

: উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য বিমা করা থাকে। নিকটবর্তী দেশ ভারতেও বেশিরভাগ মানুষের স্বাস্থ্য বিমা করা আছে। কিন্তু আমাদের দেশে এটাকে এখনো জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হয়নি। যেখানে একুশ শতকের বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের ব্যক্তিগত ব্যয় অনেক বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সেবা নিতে ব্যক্তিপর্যায়ে নিজস্ব ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে দেশের প্রায় ৮৬ লাখ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশে ৪ শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে যায় শুধু স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত খরচের জন্য। জীবনে যেকোনো দুরারোগ্য ব্যাধি বা দুর্ঘটনা একটি সম্ভাবনাময় জীবন ও পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয়বহুল জীবনের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য বীমা হতে পারে পরম বন্ধু।

বীমা কোম্পানিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন?

: আইডিআরএ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রায় ১৩ বছর পর এসে ২০২৩ সালে সুশাসন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে অনেক ক্ষেত্রেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে গত দুই বছর ধরে অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। করপোরেট গভর্ন্যান্স নীতিমালা হয়েছে, গ্রাহক সুরক্ষা নীতিমালা হয়েছে, তথ্য যাচাই-বাচাই অত্যাধুনিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে, ব্যাংকাস্যুরেন্স চালু হচ্ছে। দুই বছর ধরে আইডিআরএ বিমা খাতের উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ শুরু করেছে। এটি যদি আইডিআরএ প্রতিষ্ঠার পরপরই আরও ১০-১২ বছর আগেই শুরু করা যেত, তাহলে এত দিনে বিমা খাত একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যেত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা খাতের উন্নয়নে আইডিআরএর যুগোপযোগী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে।

চার্টার্ড লাইফের সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে বলুন?

: চার্টার্ড লাইফ চতুর্থ প্রজন্মের একটি বিমা কোম্পানি। এর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরুর ১০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দশ বছরে এটি একটি শতকোটির কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। কোম্পানির সম্পদ রয়েছে ১১০ কোটি টাকার। গত বছর কোম্পানির গ্রস আয় হয়েছে ১০১ কোটি টাকা। আমাদের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ গ্রাহক আছে। আমরা শতভাগ দাবি পরিশোধ করতে সক্ষম। আমাদের কোনো দাবি বকেয়া নেই। কোম্পানির নিজস্ব ডিজিটাল অ্যাপস রয়েছে, যা দিয়ে গ্রাহক নিজেই তার পলিসির সব তথ্য দেখতে পারে। এ অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহক তার প্রিমিয়াম জমা দিতে পারবে, ক্লাইম সাবমিট করতে পারবে। আমরা নতুন নতুন পণ্য আনতে কাজ করছি। এরই মধ্যে চার্টার্ড নিরাপত্তা, চার্টার্ড সুরক্ষা নামক দুটি নতুন পণ্য যুক্ত হয়েছে আমাদের সেবায়। আমরা গ্রাহকের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনছি। বিমাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

চার্টার্ড লাইফ ২০২২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কোম্পানির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রবৃদ্ধির গতি ভবিষ্যতেও ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কী?

: আমি মনে করি সব জীবন বিমা কোম্পানির জন্য সামনের বছরগুলোতে ভালো করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কেননা, সামনে স্বাস্থ্য বিমার চাহিদা অবশ্যই বাড়বে। আমরা যদি জীবন বিমা খাতের সর্ববৃহৎ কোম্পানি মেটলাইফের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই তারা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর ভালো করে আসছে। তাদের ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আছে। নতুন গ্রাহক সংখ্যাও বাড়ছে। আমার মনে হয় যে কোম্পানি যত বেশি সুনামের সঙ্গে পুরোনো হবে, সে কোম্পানির সম্ভাবনার দাঁড় ততটা উন্মোচন হবে। চার্টার্ড লাইফেরও সুনামের সঙ্গে তার ব্যবসাকে এগিয়ে নিচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে কোম্পানির আরো ভালো করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস। এ দিবসকে কেন্দ্র করে আপনাদের কোনো পদক্ষেপ আছে কি?

: আমরা একক কোম্পানি হিসেবে পুরো মার্চ মাসকে ‘বিমা সেবা মাস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের বোর্ড মেম্বাররাও এটিতে অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের গ্রাহকদের ভালো সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে, দ্রুত ক্লেইম পরিশোধে এ মাসে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে। পুরো মাসজুড়েই আমরা গ্রাহককে বীমার প্রতি সচেতন করতে উদ্যোগ নিয়েছি।


কাল থেকে ১০ টাকা কমে সয়াবিন তেল

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমানোর পর আগামীকাল শুক্রবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করা হচ্ছে। ১৭৩ টাকা প্রতি কেজি তেলের দাম হবে ১৬৩ টাকা। আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম থাকবে সর্বোচ্চ ১৪৯ টাকা। তবে আপাতত পাম ওয়েলে দাম কমানো হচ্ছে না।

গত মাসের ২০ তরিখে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

টিটু বলেন, ‘টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা ছিলেন। আমি ওনাদের বলেছি, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন আমাদের যারা শিল্প এবং ব্যবসায়ী বড় আকারের আছেন তাদেরও সোশ্যাল একটা রেসপনসিবিলিটি আছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমি বলব না যৌক্তিকভাবে, কিছুটা অযৌক্তিকভাবেও আমরা ওনাদেরকে অনুরোধ করেছি এবং ওনারা ভোজ্যতেলের দাম ১০ টাকা প্রতি লিটারে কমানোর জন্য একমত হয়েছেন। ওনারা নিজেরাই প্রস্তাবটা করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ মার্চ থেকে দামটা কার্যকর হবে। আমাদের এই ট্যারিফটা ১৫ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর আমরা বসে প্রতি মাসে যেমন তেলের দাম আমাদের ট্যারিফ ঠিক করে, প্রতিমাসে আমাদের যারা মিলমালিক আছে তাদের সঙ্গে বসে দাম রেগুলার বেসিসে পুনর্নির্ধারণ করে দেব। কারণ আমাদের ব্যবসায়ীরা যদি ব্যবসা না করতে পারে তাহলে পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দেবে।’


মন্ত্রিসভায় অফশোর ব্যাংকিং আইনের অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অফশোর ব্যাংকিং আইনের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অফশোর ব্যাংক খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। পাঁচটি কারেন্সিতে লেনদেন করা যাবে।

আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, অফশোর ব্যাংক করার জন্য অনিবাসী বাংলাদেশি বা অনিবাসী প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। বাংলাদেশিরাও এর লাইসেন্স নিতে পারবেন।

এটা সর্বাধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা জানিয়ে কেবিনেট সেক্রেটারি আরও বলেন, সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক বিশ্বে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাহবুব হোসেন আরও বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার অফশোর ব্যাংকিং নামে নতুন ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করছে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অফশোর ব্যাংকিং আইন করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশ এ ব্যবস্থা ব্যবহার করে সুফল পেয়েছে।


‘রমজানে বাজার মনিটরিং পুলিশ দিয়ে করাতে চাই না’

আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান মাসে বাজার মনিটরিং, চাই না পুলিশ দিয়ে করানো হোক। এটার জন্য বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনিটরিং করলেই হয়। আপনারা এটা না করলে সরকারিভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে। এটা আমরা চাই না। অসৎ ব্যবসায়ীর পক্ষে এফবিসিসিআই কোনো কথা বলবে না বলে জানিয়েছেন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।

আজ বুধবার দুপুরে মতিঝিলে এফবিসিসিআই বোর্ডরুমে আয়োজিত ‘আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা’র জন্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আসন্ন রমজান মাসে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের ‘ন্যায্য লাভ’ করার অনুরোধও জানান।

তিনি বলেন, ‘রমজান মাস ইবাদতের মাস। আপনারা সারা বছর ব্যবসা করেন, রমজান মাসেও ব্যবসা করবেন। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে ফেস্টিভালে ছাড় দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও তেমন হতে হবে। আপনারা রমজান মাসের ‘ন্যায্য লাভ’ করেন। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এ বিষয়ে সতর্ক আছেন। তাই এই দিক সবাইকে সাবধান হতে হবে।’

মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রমজান মাসে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাপ্লাই চেইনে ঘাটতি হলে আর্টিফিসিয়াল ক্রাইসিস তৈরি হবে। এটা যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ব্যবসায়ীরা লাভও করে, লসও করে। তবে এই লাভটা যেন ন্যায্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পথে চাঁদাবাজির শিকার হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলাপ করব।’

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


অস্বাভাবিক বাড়ছে তিন কোম্পানির শেয়ারদর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভিন্ন ভিন্ন খাতের তিন কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। কোম্পানিগুলো হলো ব্যাংক খাতের এসবিএসি ব্যাংক, বস্ত্র খাতের এস্কয়ার নিট কম্পোজিট এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম। তবে কোম্পানি তিনটি পৃথকভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে, তাদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ের শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে ডিএসই।

সাধারণত কোম্পানি আর্থিক পারফরম্যান্স ভালো করলে কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে পারে। এর বাইরে ভবিষ্যতে কোর ব্যবসা বাড়তে পারে এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্যকে কেন্দ্র করেও শেয়ারদর বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট বড় কোনো বিনিয়োগ বা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যা ভবিষ্যৎতে কোম্পানির মুনাফা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। যাতে বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখায় এবং পুঁজিবাজারে শেয়ারদরও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির সিদ্ধান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আকারে প্রকাশিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওপরে উল্লেখিত কোম্পানি তিনটির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশও করা হয়নি, তা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

এসবিএসি ব্যাংক: ডিএসইতে গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ দর বেড়ে দাঁড়ায় ১২ টাকা ৬০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৭ কার্যদিবসের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ টাকা বা ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়। এদিন মোট ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭১টি শেয়ার হাতবদল হয়।

এস্কয়ার নিট কম্পোজিট: ডিএসইতে গত ৩১ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৩ টাকা। ২৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির এ শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৩০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৬ কার্যদিবসের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা বা ৩১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়েছে। এ দিন মোট ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৩টি শেয়ার লেনদেন হয়।

লাভেলো আইসক্রিম : ডিএসইতে গত ২৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। ২৫ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির এ দর বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়। সে হিসাবে মাত্র ১৮ কার্যদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১৮ টাকা ৬০ পয়সা বা ৬২ দশমিক ৪২ শতাংশ।


আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দারাজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিইও জেমস ডং এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানান।

দারাজ বাংলাদেশ কতজন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে রাজি না হলেও কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৩৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হবে। এর মধ্যে তিনজন শীর্ষ নির্বাহী (সিএক্সও) কর্মকর্তাও চাকরি হারাবেন বলে জানা গেছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ১৭০০ কর্মচারী রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৯৫০ জন স্থায়ী কর্মী। দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, ছাঁটাইয়ের ঘোষণার ফলে দারাজ বাংলাদেশের পাঁচ শতাধিক কর্মী চাকরি হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি বার্তায় দারাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস ডং জানিয়েছেন, একটি ‘সুবিন্যস্ত ও কর্মতৎপর কাঠামো’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রুপের সব পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ঠিক কতজন কর্মী এর ফলে চাকরি হারাবেন, সেটি কোম্পানির ওই অভ্যন্তরীণ বার্তায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দারাজের কার্যক্রম আছে। এসব দেশে ঠিক কত শতাংশ কর্মী বা সব মিলিয়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, সে সম্পর্কে কিছু বলতে দারাজ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত বছর দারাজ বার্তা সংস্থাটিকে বলেছিল এই পাঁচ দেশে তাদের তিন হাজার কর্মী আছে।

অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়, ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা আমাদের দারাজ পরিবারের অনেক সদস্যকে বিদায় জানাব।’

গত বছর দারাজ রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে বিভিন্ন দেশে তাদের তিন হাজার কর্মী রয়েছে। তবে প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে শুরু হওয়া সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, উচ্চ করহার এবং ভর্তুকি কমে যাওয়ার কারণে এরপর কোম্পানিটি তাদের কর্মীসংখ্যা ১১ শতাংশ কমিয়েছিল।

জেমস ডং বলেন, ‘আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তবে আমাদের ব্যয়ের কাঠামো আমাদের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে পেছনে পড়ে রয়েছে। বাজারে নজীরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকা ও অব্যাহতভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জেমস ডং আরও বলেন, ‘দারাজ এখন তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে সক্রিয়ভাবে দারাজের সেবায় বৈচিত্র্য এনে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা, পণ্যের ক্যাটাগরির সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতাদের কার্যক্রমের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করা।’

গত জানুয়ারি মাসে জেমস ডংকে দারাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের প্রধান নির্বাহী বিয়ার্ক মিকেলসেন দায়িত্ব ছাড়ার পর পদটি খালি হয়েছিল।

বিয়ার্ক মিকেলসেন গত বছর জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হলো তাদের সবচেয়ে বড় বাজার।

দারাজের প্রতিষ্ঠা পাকিস্তানে ২০১২ সালে। মূলত অনলাইনে ফ্যাশনপণ্য বিক্রি করত এই প্রতিষ্ঠান। এরপর চীনের বিশাল ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলিবাবা এটি অধিগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে একটি নতুন ট্যাব খোলা হয়।

দারাজ চারটি প্রধান ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনা করে- ই-কমার্স, লজিস্টিকস, লেনদেন অবকাঠামো ও আর্থিক সেবা। কোম্পানিটি রয়টার্সকে বলেছে, তাদের তিন কোটি গ্রাহক রয়েছে। দুই লাখ সক্রিয় বিক্রেতা এক লাখের বেশি ব্র্যান্ডের পণ্য দারাজের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করে থাকে।

দারাজের মূল কোম্পানি আলিবাবা, ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাজারের দৃশ্যপট পরিবর্তনের কারণে ব্যয় হ্রাস এবং পরিচালনা খরচে সামঞ্জস্যতা আনার মাধ্যমে তার আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে। এ ছাড়া চলমান মুদ্রাস্ফীতি ভোক্তা ব্যয়কে প্রভাবিত করেছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই আলিবাবা এসব চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং আরও দক্ষ অপারেশনাল কাঠামো নিশ্চিত করতেই এ রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে।


বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় বেড়েছে

সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৪.৫২ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি ও ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে উন্নয়ন সহায়তা প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩০৬.১ শতাংশ, ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে ৩.২৬ শতাংশ। একই সঙ্গে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৪.৫২ শতাংশ।

উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নতুন ৭.১৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের প্রতিশ্রুত ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার থেকে অনেকটাই বেশি।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা প্রশংসনীয়।

তারা বলেন, অর্থবছরের শুরু থেকে অনেকগুলো প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঋণ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার কারণে এই সাফল্য এসেছে। বিপরীতে আগের অর্থবছরে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়ায় বেশ কয়েকটি প্রকল্পের চুক্তি বিলম্বিত হয়েছিল।

ইআরডির তথ্য অনুসারে, বেশিরভাগ ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে প্রধান তিন উন্নয়ন সহযোগী এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও জাপান থেকে। তিন উন্নয়ন সহযোগী সম্মিলিতভাবে ৬.০৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে এডিবি থেকে, মোট ২.৬২ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি এই সময়ে জাপান থেকে ২.০২ বিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ১.৪১ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে উন্নয়ন সহায়তা সংস্থাগুলো মোট ৪.৩৯ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড় করেছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাজারভিত্তিক ঋণের সুদহার বেড়েছে, যা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়িয়েছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, সরকার অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মেয়াদে উন্নয়ন অংশীদারদের সুদ ও আসল পরিশোধে ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়কালে ১.২৮ বিলিয়ন ডলার ছিল।

ইআরডির তথ্যানুসারে, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে শুধু সুদের অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১০৭.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সুদ পরিশোধের জন্য ৭৬০.৭৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে।

এই সময়ে সরকার বিভিন্ন ঋণের আসলের ১.০৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সোফর) ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সোফর রেট ছিল ১ শতাংশের কম।

এ ছাড়া এ সময়ে বাংলাদেশের বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ গ্রহণও ক্রমেই বাড়ছে, যার ফলে দেশের সুদ পরিশোধ বাড়ছে।

এডিবি থেকে বাংলাদেশের ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাজারভিত্তিক সুদে নেওয়া। এ ছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকেও বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ নিয়ে থাকে বাংলাদেশ।

তাছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক থেকেও সীমিত পরিসরে বাজারভিত্তিক সুদহারে ঋণ নেয়।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক সুদের হার অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ১.১৯ বিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ করবে বলে প্রক্ষেপণ হয়েছে। গত অর্থবছরে (২০২২-২৩), বাংলাদেশের সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৯৪৪ মিলিয়ন ডলার, এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলেন, সুদ পরিশোধের পাশাপাশি আসল পরিশোধের চাপও বাড়বে। বিভিন্ন বাজার সহায়তা ঋণ এবং কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা রেল লিঙ্কের মতো মেগা প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এখন এসব ঋণের আসলের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।


দেশে ২৪ দিনে গড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে দেশের প্রবাসী আয় হয়েছে ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। প্রবাসীরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে এই রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪০ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৯৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা ছিল সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।


ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৩তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন আগামীকাল সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে। ২৬ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে সম্মেলন। সম্মেলনে ৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটবে, এমন প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দুই বছর পর পর ডব্লিউটিওর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে কৃষি ও মৎস্য খাতের ভর্তুকি, মেধাস্বত্ব সুবিধা, ই-কমার্স এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এবারের সম্মেলনে আমরা বাংলাদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় আলাদাভাবে ফোকাস করছি না। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তীতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ও মেধাস্বত্বসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা যেন আরও কয়েক বছর অব্যাহত থাকে। এটা আমরা চাচ্ছি।

তিনি জানান, এলডিসি হিসেবে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ কারিগরি সহযোগিতা ও ডিসপিউট সেটেলমেন্টের যে সুবিধা পাওয়া যায়, উত্তরণের পরেও কয়েক বছর এই সুবিধা বহাল রাখতে চাই। বাংলাদেশ এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখবে। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তীতে মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রদানের সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টিও বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


শেয়ার ইস্যুর অনুমতি পেল পাওয়ারগ্রিড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি দুই দফায় সরকারের অনুকূলে সাধারণ শেয়ার ও অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করার অনুমতি পেয়েছে। কোম্পানিটিকে শর্তসাপেক্ষে এ শেয়ার ইস্যুর অনুমতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোম্পানিটি সরকারের শেয়ার মানি ডিপোজিটের বিপরীতে দুই ধাপে শেয়ার ইস্যু করবে। প্রথম পর্যায়ে ২০ টাকায় ২০ কোটি ১১ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে। যার মধ্যে অভিহিত মূল্যের ওপর ১০ টাকা প্রিমিয়াম যোগ হবে। মোট শেয়ারের দাম হবে ৪০২ কোটি টাকা।

এ পর্যায়ে ইস্যুকৃত শেয়ার কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করবে এবং নতুন জারি করা শেয়ারগুলো তার বিদ্যমান সাধারণ শেয়ারের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কোম্পানিটি ৭৬৪ কোটি ১১ লাখ নন-কমিউলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করবে। যার ইস্যুকৃত মূল্য হবে ৭ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ১০ টাকা। এই অর্থ পরিশোধিত মূলধনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে না। যার ফলে এটি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে না।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত সংস্থাটির কাছে সরকারের মোট শেয়ার মানি জমার পরিমাণ ছিল দশ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আগের বছরের জুন পর্যন্ত জমা হয়েছে ১০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।


banner close