বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
অর্থমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক প্রস্তাব আগামী বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:১৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির সভায় অগ্রিম আয়কর (এআইটি), ভ্যাট আইনের আওতায় আগাম কর (এটি) প্রত্যাহার, ব্যাংক ঋণের সুদহার হ্রাসসহ ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতামতের গুরুত্ব দেয়। যে উন্নয়ন-অগ্রগতি হচ্ছে, সেখানে কেউ বাদ থাকুক সেটা আমরা চাই না। আগামী অর্থবছরের বাজেটের জন্য ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এনবিআরের ৪৪তম পরামর্শক কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সভায় এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতা ও উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার এবং বেসরকারি খাত সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। বাজেট প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন একটা চলমান প্রক্রিয়া। সব কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের মতামতের গুরুত্ব থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আগামী বাজেটের জন্য যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে। সবাই যদি কেবল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য করতে চান, তাহলে রপ্তানি বাড়বে না। তিনি রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।

ব্যবসায়ীরা কর ন্যায়পাল নিয়োগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর ন্যায়পাল নিয়োগের বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। স্মার্ট বাংলাদেশ র্নিমাণে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আমাদের যেমন প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, একই সঙ্গে কর আহরণের সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে। এই সক্ষমতা যদি অর্জন করতে না পারি, তাহলে উন্নত বিশ্বে আমরা যেতে পারব না। ব্যবসায় ব্যয় কমানো কিংবা ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে এনবিআর কাজ করছে বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কর সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ব্যবসায়ীর যদি অসন্তোষ থেকে থাকে, আমি মনে করি সেটি ব্যক্তিপর্যায়ের। এই অসন্তোষ সংশ্লিষ্ট কমিশনার কিংবা রাজস্ব বোর্ডে কথা বলে সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশ্বস্ত করেন ব্যবসায়ীদের।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম ব্যবসায় খরচ কমাতে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আমদানিকৃত কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যসহ শিল্প উপকরণের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি), ভ্যাট আইনের আওতায় আগাম কর (এটি) প্রত্যাহার, ব্যাংক ঋণের সুদহার হ্রাসসহ আমদানি পণ্যের যথাযথ শুল্কায়ন এবং পণ্য খালাসের জটিলতা দূর করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে তিনি রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত পণ্য, কাঁচামাল ও সেবা ক্রয়কে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানান।

মাহবুবুল আলম মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের প্রকৃত আয় বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাক থেকে বৃদ্ধি করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে ব্যাংকিং কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেউ যদি এনবিআরের কোনো কর্মকর্তার কারণে হয়রানির শিকার হন। সেই অভিযোগ জানানোর জায়গা নেই। তবে এফবিসিআিই এবং এনবিআরের সমন্বয়ে একটা অভিযোগ সেল গঠন করা হলে ব্যবসায়ীরা সেখানে অভিযোগ করতে পারবেন। আগামী বাজেটে এ ধরনের একটা অভিযোগ সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া এফবিসিসিআই ব্যবসা সহজীকরণের সেবা বাড়াতে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিভাগ নামে একটি বিভাগ গঠনের প্রস্তাব করেন।

মাহবুবুল আলম রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর হার ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে পূর্বের ন্যায় ০ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, বুট, ডাল, হলুদ, মরিচ, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনিসহ সকল প্রকার কৃষিজাত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে উৎসে কর কর্তনের আওতাবহির্ভূত রাখার প্রস্তাব করেন। আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শিল্প, বিনিয়োগ ও জনবান্ধব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় এনবিআরের তিনজন সদস্য আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সম্পর্কিত কার্যক্রমের ওপর আলাদা তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


দক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৯৫ কোটি ডলার

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত বাজারের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২১
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রচলিত রপ্তানি বাজারের বাইরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ অঞ্চলের ১১টি দেশে ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে ব্রাজিল, চিলি ও পেরু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এ অঞ্চলে রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর, যা পণ্য বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্রাজিলে ৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চিলিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং পেরুতে ২ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া কলম্বিয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার, উরুগুয়েতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার এবং আর্জেন্টিনায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত বাজারের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক এ অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হলেও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, গৃহসজ্জার উপকরণ, হস্তশিল্প এবং জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের চাহিদা চিহ্নিত করে নতুন ক্রেতা তৈরি করা গেলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী হতে পারে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহায়তায় এবং ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস। প্রদর্শনীতে পাঁচটি বুথের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য তুলে ধরে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, বাঁশের পণ্য, টেরাকোটা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও নকশিকাঁথা স্থান পায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ও সম্ভাবনাময় শিল্প সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের ধারণা দিতে ইপিবি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি প্রচারমূলক বুথ স্থাপন করা হয়।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। সম্ভাব্য ক্রেতারা বাংলাদেশের স্টল পরিদর্শন করে প্রদর্শিত পণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখান। এ ছাড়া বাংলাদেশের গৃহসজ্জা ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বাজার সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইপিবি কাজ করছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অল্প কয়েকটি বাজারে রপ্তানি সীমাবদ্ধ থাকলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় দেশের রপ্তানি আয় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মোহাম্মদ হাসান আরিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাজারের চাহিদা, ভোক্তার পছন্দ, পণ্যের দাম, প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায়িক রীতিনীতি সম্পর্কে আগাম গবেষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় প্যাভিলিয়নের ব্র্যান্ডিং জোরদার, রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সুযোগে রূপ দিতে সহায়তা করতে পারে।

ইপিবির পণ্যভিত্তিক তথ্য বলছে, দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ওভেন পোশাক ও পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। দুই শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ওই ১১টি দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

এ সময়ে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। জুতা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। পাশাপাশি অন্যান্য বস্ত্রপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী ও ভ্রমণসামগ্রীও রপ্তানি তালিকায় রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হবে।

রপ্তানির হিসাবে ব্রাজিল ও চিলি একত্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ জোগান দিয়েছে। দেশ দুটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে দক্ষিণ আমেরিকায় বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় ব্রাজিল ও চিলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পেরু ও কলম্বিয়ায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন ক্রেতা তৈরি করার মাধ্যমেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বিষয়:

মীরসরাইয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান এসবিএস জিপারের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রতিষ্ঠান এসবিএস জিপারের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-০১-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে শতভাগ চীনা মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেসার্স এসবিএস জিপার বাংলাদেশ কোম্পানি। মঙ্গলবার এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কারখানাটির উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেপজার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারখানাটিতে বর্তমানে ১৪০ জন স্থানীয় কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি পুরোদমে উৎপাদনে গেলে দুই সহস্রাধিক বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ছয়টি প্লটজুড়ে গড়ে ওঠা এই কারখানায় বিভিন্ন ধরনের আধুনিক জিপার, জিপারের অনুষঙ্গ, প্লাস্টিকের বোতামসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারখানাটির যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসবিএস জিপার গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিদেশি ক্রেতাপ্রতিনিধি, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-০১-এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-০১-এর সার্বিক চিত্রের বিবরণে জানা যায়, সেখানকার মোট ২৭৯টি শিল্পপ্লটের মধ্যে ২৬৩টি প্লট এবং একটি ছয়তলা কারখানা ভবন ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসবিএস জিপারসহ বর্তমানে ১৪টি প্রতিষ্ঠান সেখানে পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলমান এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুব শিগগিরই তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসবিএস জিপারের এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বিকাশ, নতুন বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


জ্বালানি অস্থিরতায় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ার আভাস

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফায় বড় উল্লম্ফনের আভাস
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও সেই পরিস্থিতি থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলো। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে কোম্পানিগুলোর পরিশোধন ও জ্বালানি বাণিজ্য বিভাগে আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বাড়তি আয় কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানে যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় বাজারে দামের ওঠানামা বেড়ে যায় এবং জ্বালানির দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

বাজারের এই অস্থিরতা বড় তেল কোম্পানিগুলোর ট্রেডিং বিভাগকে বাড়তি মুনাফার সুযোগ করে দিয়েছে। তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করলে ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ট্রেডিং বিভাগগুলো আয় বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় শোধনাগার ব্যবসার মুনাফাও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের আয় বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা দীর্ঘমেয়াদে একই পর্যায়ে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপির তৃতীয় প্রান্তিকের নিট আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৫ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে শেভরন, এক্সনমোবিল, শেল, বিপি ও টোটালএনার্জিজের মতো শীর্ষ কোম্পানিগুলোর শোধনাগার মুনাফার মার্জিন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ হিসাব বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া বাজার অস্থিরতা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেল জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের শোধনাগার ব্যবসার মার্জিন প্রতি ব্যারেলে ৪২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ ধরনের মার্জিন বৃদ্ধি কোম্পানিটির পরিশোধন কার্যক্রম থেকে আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিজ আশা করছে, তাদের শোধন ও রাসায়নিক ব্যবসা থেকে নগদ প্রবাহ দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমোবিলও শোধনাগার ব্যবসায় বাড়তি আয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। কোম্পানিটির ধারণা, উচ্চ শোধনাগার মার্জিনের কারণে তাদের ডাউনস্ট্রিম বা পরিশোধন ও বিপণন ব্যবসার মুনাফা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫০ কোটি ডলার বাড়তে পারে। ফলে তেল উৎপাদনের পাশাপাশি পরিশোধন, বিপণন ও জ্বালানি বাণিজ্য থেকেও বড় কোম্পানিগুলোর আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে বাড়তি মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে। অতীতে তেলের দাম বেড়ে গেলে অনেক জ্বালানি কোম্পানি উৎপাদন সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগকারীরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ঋণ কমানো এবং শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে চলতি প্রান্তিকে আয় বাড়লেও কোম্পানিগুলো আগের মতো ব্যাপক ব্যয়ে ফিরবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক বিরাজ বরখাটারিয়ার মতে, তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশের সময় কোম্পানিগুলোর বাড়তি অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনাই বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এখন পর্যন্ত এক্সনমোবিল ও শেভরন তাদের অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে। এতে আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

শেভরনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকেও নজর রাখছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় কোম্পানিটির বিনিয়োগ এবং কাজাখস্তানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র টেঙ্গিজে যৌথ উদ্যোগের চুক্তি সম্প্রসারণের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্যদিকে, শেল ও শেভরনের মতো কোম্পানি শেয়ার পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক কর্মসূচি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছে এইচএসবিসি। বাইব্যাকের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি বাজার থেকে নিজেদের শেয়ার কিনে নেয়, যা শেয়ারহোল্ডারদের কাছে অর্থ ফেরত দেওয়ার একটি পদ্ধতি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শেল বছরের শুরুতে তাদের প্রান্তিকভিত্তিক বাইব্যাক কর্মসূচি কমিয়ে ৩০০ কোটি ডলারে এনেছিল। তবে আয় বাড়তে থাকলে চতুর্থ প্রান্তিকে তা আবার ৩৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে।

বিপির ক্ষেত্রেও বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক ট্রেডিং আপডেটের পর বিনিয়োগ ব্যাংক টিপিএইচ কোম্পানিটিকে ইউরোপের তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যাংকটির হিসাব অনুযায়ী, শোধনাগার, গ্যাস বিপণন ও ট্রেডিং থেকে বিপির মূল মুনাফা ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ মুনাফা ছিল ৫৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব ব্যবসা থেকে কোম্পানিটির আয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বিপি বর্তমানে বাড়তি অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের ব্যালান্স শিট পুনর্গঠন ও ঋণ কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে কোম্পানিটির নিট ঋণ ও পরিচালন নগদ প্রবাহের অনুপাত ছিল ১ দশমিক ৭ গুণ, যা পাঁচটি বড় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে তৃতীয় প্রান্তিক নাগাদ এ অনুপাত কমে ০ দশমিক ৮ গুণে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনটি হলে কোম্পানিটির ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও আর্থিক অবস্থানে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

আগামী ১৫ ডিসেম্বরের কৌশলগত পর্যালোচনায় বিপি তাদের ভবিষ্যৎ মূলধন বণ্টনের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এইচএসবিসির বিশ্লেষক কিম ফাস্টিয়ার ও সদনান আলীর মতে, কোম্পানিটির অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ঋণ কমানো, মূলধনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ২০২৮ সালের আগে শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করা। তাদের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, বাড়তি মুনাফা অর্জনের পরও সব কোম্পানি তাৎক্ষণিকভাবে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পথে হাঁটবে না।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও বাজারের অস্থিরতা বড় তেল কোম্পানিগুলোর জন্য স্বল্পমেয়াদে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই মুনাফা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে তেলের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতার ওপর। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর ঋণ পরিশোধ, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও শেয়ার পুনঃক্রয়ের সিদ্ধান্তও তাদের ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিষয়:

বদলাচ্ছে ভ্যাট কাঠামো, ছাড় থাকছে না ৫০০ পণ্য ও সেবায়

* ২০৩০ সালের মধ্যে গুণতে হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট * করছাড় তুলে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা * সুরক্ষায় থাকবে নিত্যপণ্য ও জরুরি সেবা * ছাড় থাকছে নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় * বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় অর্থনীতিবিদদের  
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক  

দেশের করব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। বর্তমানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় চালু থাকা হ্রাসকৃত ভ্যাট হার ও কর অব্যাহতি ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ৫০০টির বেশি পণ্য ও সেবার ভ্যাট কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গণপরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতকে প্রস্তাবিত অভিন্ন হারের বাইরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং করব্যবস্থার সংস্কারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আইএমএফের কারিগরি কমিটির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবটির প্রাথমিক সময়সূচি ও লক্ষ্যভুক্ত পণ্য-সেবার তালিকা উপস্থাপন করা হয়।

রাজস্ব সংস্কারের অগ্রগতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আগামী নভেম্বরে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

করছাড় কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা: বর্তমানে দেশে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসকৃত ভ্যাট হার কার্যকর রয়েছে। আবার কিছু পণ্য ও সেবা সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণ আদেশের (এসআরও) মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে। ভ্যাট আইনের বিভিন্ন তফসিল ও এনবিআরের পৃথক আদেশের আওতায় এসব সুবিধা দেওয়া হয়।

ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, কম্পিউটারসামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, মেট্রোরেল, রেস্তোরাঁ, রড-স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, নন-ব্র্যান্ডের পোশাক, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা এ সুবিধার আওতায় রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় শেষে এসব ক্ষেত্রে রেয়াতি ভ্যাটের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে ১৫ শতাংশ অভিন্ন হারের আওতায় আনা হবে।

এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ ভ্যাট কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফ জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশ কীভাবে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াবে এবং কর অব্যাহতির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এর জবাবে অপরিহার্য কয়েকটি খাতকে সুরক্ষিত রেখে ধাপে ধাপে ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অভিন্ন হার চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে যুক্ত আরেক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ সব ধরনের ভ্যাট সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছাড় বহাল রাখার প্রস্তাব করেছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বর্তমানে চালু থাকা প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট হারও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর বিদ্যমান হ্রাসকৃত ভ্যাট হার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০২৮ ও ২০৩০ সালে বদলাবে ভ্যাট কাঠামো: প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় বিদ্যমান ভ্যাট ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে একবারে সব সুবিধা প্রত্যাহার না করে কয়েক বছর ধরে করকাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।

ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ, সমুদ্রগামী জাহাজ, মেট্রোরেল, রড-স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, রেস্তোরাঁ, নন-ব্র্যান্ডের পোশাক, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের ক্ষেত্রে বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রেয়াতি ভ্যাট রয়েছে। এসব সুবিধার কয়েকটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুনে এবং অন্যগুলোর মেয়াদ ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদ শেষ হলে সুবিধাগুলো আর না বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লিফটের ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর ১০ শতাংশ রেয়াতি ভ্যাট সুবিধার মেয়াদও বাড়ানো হবে না বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে অভিন্ন হার কার্যকর হলে তাদের কর পরিশোধের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। তবে নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব সংরক্ষণ, কর পরিশোধ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

করছাড়ের পরিমাণ রাজস্ব আয়ের চেয়েও বেশি: কর অব্যাহতি কমানোর পেছনে সরকারের অন্যতম বিবেচনা হলো রাজস্ব আহরণ বাড়ানো। এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন করছাড় ও রেয়াতি সুবিধার কারণে ভ্যাট খাতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। ওই অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে ভ্যাট খাতে প্রকৃত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, সব ধরনের করছাড় মিলিয়ে দেশে কর সুবিধার পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকৃত রাজস্ব আদায় জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে কর অব্যাহতি পর্যালোচনা করে কোন খাতে কতটুকু ছাড় প্রয়োজন, তা নির্ধারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছে সরকার। তবে সব ধরনের ছাড় প্রত্যাহার করলেই সমপরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। করের হার বাড়লে পণ্য ও সেবার দাম, ভোক্তার চাহিদা এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্য রাজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক প্রভাবের নির্ভরযোগ্য হিসাব তৈরি করা প্রয়োজন।

নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ছাড় বহাল: অভিন্ন ভ্যাট হার চালুর পরিকল্পনায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ ও মরিচের মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যে বিদ্যমান ভ্যাট ছাড় বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও কৃষি উপকরণেও সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা, গণপরিবহন এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধও প্রস্তাবিত অভিন্ন হারের বাইরে থাকবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম সহনীয় রাখার পাশাপাশি করব্যবস্থাকে আরও সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে কোন পণ্য বা সেবা কতটুকু ছাড় পাবে, তা চূড়ান্ত তালিকা ও নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে। এসব ক্ষেত্রে ছাড়ের আওতা স্পষ্ট করা না হলে একই ধরনের পণ্য বা সেবার মধ্যে করের পার্থক্য থেকে যেতে পারে।

বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় অর্থনীতিবিদদের: ২০৩০ সালের মধ্যে অভিন্ন ভ্যাট হার চালুর পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় রয়েছে অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের হিসাব দেখাতে হবে সরকারকে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সরকারের পরিকল্পনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ তার আগেই শেষ হতে পারে। ফলে কর্মসূচির মেয়াদের মধ্যে কোন সংস্কার কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সে বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ করছাড় প্রত্যাহার করলে কত টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে, তার স্পষ্ট হিসাব প্রয়োজন। শুধু করছাড়ের পরিমাণ উল্লেখ করলেই হবে না; কোন খাতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে এবং তাতে প্রকৃত রাজস্ব কতটা বাড়বে, তা দেখাতে হবে।

ব্যবসায়ীদের সম্মতি পেতে কম হারের প্রস্তাব: বাংলাদেশে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালুর উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে সরকার তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এবারও প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী মহলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, অভিন্ন ভ্যাট হার চালু করা অসম্ভব নয়। তবে ভ্যাটের হার কত হবে, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। সামগ্রিক ভ্যাটের হার কিছুটা কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট অভিন্ন হার নির্ধারণ করা হলে ব্যবসায়ীদের আপত্তির বড় কারণ থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালের মধ্যে অভিন্ন ভ্যাট হার চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—করছাড় প্রত্যাহারের সময়সূচি, সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য মূল্যপ্রভাব এবং ব্যবসায়ীদের সম্মতি। একই সঙ্গে আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতার পাশাপাশি রাজস্ব বাড়ানোর বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণ করতে হবে সরকারকে। করব্যবস্থা সহজ করা ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি সেবার ব্যয় বেড়ে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।


এলডিসি উত্তরণে বাণিজ্যঝুঁকি, বার্ষিক ৬৩৮ কোটি ডলার রপ্তানি হ্রাসের শঙ্কা

বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ অর্থনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হলেও এর প্রভাবে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি খাত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রাক্কলনের বরাতে জানা গেছে, উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। যদিও ২০১৮ সালের বাণিজ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক প্রধান বাজারগুলোতে শুল্কের হার বাড়লে স্থানীয় তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তীব্র চাপের মুখে পড়বে। রাজধানীর একটি সেমিনারে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে এলডিসি উত্তরণের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খানের উপস্থাপিত বিশ্লেষণে উঠে আসে, অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা উঠে গেলে দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। এর প্রভাবে কানাডায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৪২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, জাপানে ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বেশ কিছু বড় অংশীদার উত্তরণ-পরবর্তী নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এ সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া অভ্যন্তরীণ আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বহাল রাখবে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান ও তুরস্ক অতিরিক্ত তিন বছর এবং চীন দুই বছরের জন্য এ সুবিধা ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সুবিধা বহাল থাকলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রপ্তানি হিসাব বিবেচনায় উত্তরণের পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত মোট রপ্তানির ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ বা প্রায় ৪ হাজার ৩৫৯ কোটি ডলারের বাজার সুরক্ষিত থাকবে।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য ধরে রাখতে বাংলাদেশকে কানাডার জিপিটি প্লাস, ইইউর জিএসপি প্লাস কিংবা যুক্তরাজ্যের এনহ্যান্সড প্রেফারেন্স ব্যবস্থার মতো বিকল্প কাঠামোর শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব কাঠামোর আওতায় পণ্যের উৎসের নিয়মাবলি (রুলস অব অরিজিন) রপ্তানিকারকদের জন্য বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডায় ৬০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে শুল্কশ্রেণি পরিবর্তন বা যথাক্রমে ৩০ ও ২৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন বাধ্যতামূলক হবে। একইভাবে সিরামিক, হোম টেক্সটাইল ও কৃষিপণ্যেও কঠোর শর্তের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে দেশের রপ্তানি খাত এখনো বিপজ্জনকভাবে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। গেল অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে মাত্র ১০টি পোশাকপণ্য থেকে, যেখানে এককভাবে সুতি টি-শার্ট থেকেই এসেছে ৭০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। রপ্তানি পণ্যের এই বহুমুখীকরণের ঘাটতি উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতাও এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জকে গভীর করছে বলে সেমিনারে সতর্ক করা হয়। দুর্বল কর-জিডিপি অনুপাত, বিদেশি ঋণের গড় সুদহার ২ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে ১২৭ কোটি ডলারে নেমে আসায় সরকারের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া উত্তরণের পর ডব্লিউটিওর বিধিমালার কারণে রপ্তানিতে সরাসরি নগদ ভর্তুকি প্রদান বন্ধ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে নগদ সহায়তার পরিবর্তে কারখানা আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা এবং শ্রমমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে বিএফটিআই। একই সাথে ওষুধশিল্পের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় না ঘটলেও মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ছাড় উঠে যাওয়ার তিন থেকে চার বছর পর নতুন উদ্ভাবিত ও পেটেন্টপ্রাপ্ত ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া জাতিসংঘের বাজেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের আর্থিক চাঁদার হারও বহুগুণ বাড়বে।

পূর্বঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ নানা অস্থিতিশীলতার কারণে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে সরকার। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি ইতিবাচক বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ পরিষদে সুপারিশ পাঠিয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বাড়তি সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদি চার ধাপের একটি জাতীয় পথনকশা গ্রহণ করেছে। এই রূপরেখার আওতায় প্রথম ধাপে সামষ্টিক অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দ্বিতীয় ধাপে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, তৃতীয় ধাপে শিল্পে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং চূড়ান্ত ধাপে সার্বিক সক্ষমতা মূল্যায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধরে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

নগদ লেনদেনের চেয়ে ডিজিটালে ব্যয় ২৮ গুণ কম

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে যে ব্যয় হয়, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ ভাগের এক ভাগ।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন ব্যবস্থায় বছরে যে ব্যয় হয়, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৮ ভাগের এক ভাগ। ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ: আ কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা ওই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ। মাথাপিছু হিসাবে বছরে নগদ লেনদেনের ব্যয় ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা, যেখানে ডিজিটাল লেনদেনে এ ব্যয় মাত্র ৩৪৮ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক নোটের কাঁচামাল আমদানি, ছাপানো, পরিবহন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে প্রচলন বজায় রাখতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। নিয়মিত ব্যবহারে নোট পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া হয়ে গেলে সেগুলোর পরিবর্তে নতুন নোট ছাপাতে হয়, ফলে বারবার ব্যয় তৈরি হয়। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে এসব ব্যয় কমানোর পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে দুর্নীতি, চুরি ও অর্থের অপব্যবহার কমানো সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, নগদ লেনদেন পরিচালনায় ব্যাংকগুলোর বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। ভোক্তাদের এ-সংক্রান্ত ব্যয় বছরে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যয় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এসব ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা ছাপানো ও বিতরণ, অর্থ পরিবহন, নিরাপত্তা, ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ পরিচালনা এবং টাকা তোলা, বহন ও ব্যবহারে মানুষের ব্যয় করা সময়ের মূল্য। নগদ লেনদেনের সঙ্গে ছায়া অর্থনীতির কারণে সরকারের রাজস্ব হারানোর বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ছায়া অর্থনীতির কারণে সম্ভাব্য বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং নগদ লেনদেনের মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ ক্ষতি হিসাবের বাইরে রাখলেও নগদ লেনদেনের ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি। তবে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায়ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় বছরে আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আয় হলেও পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া বেশি মাশুল, লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ। প্রতারণা, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া, ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতার কারণেও অনেক গ্রাহক ও ব্যবসায়ী এ ব্যবস্থায় আগ্রহী হচ্ছেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তরের প্রসার ঘটলেও বিভিন্ন ধরনের লেনদেনের মোট সংখ্যার ৮০ শতাংশের বেশি এখনো নগদে সম্পন্ন হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুনাফা তুলনামূলক কম হওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের অতিরিক্ত মাশুল তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই লেনদেনের পদ্ধতি, অর্থ নিষ্পত্তির সময় ও খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন ভোক্তাদের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা দেয়। এ ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য সেবা, সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণাটি তৈরিতে পেমেন্ট ব্যবস্থার তথ্য ও নীতিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ২১টি সাক্ষাৎকার এবং পাঁচটি দলভিত্তিক আলোচনা করা হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় মানদণ্ড হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এ ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর লক্ষ্য কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের পথে বাধা কমানো। গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুললেই হবে না; সাশ্রয়ী সেবা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, সহজে ব্যবহারযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। পাশাপাশি বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে আন্তসংযোগ বাড়ানো, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব দূর করা, গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগে ডিজিটাল লেনদেনকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য করা গেলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় সাশ্রয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে।


ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার

শ্রমবাজারের এই মিশ্র পরিস্থিতি আগামী মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) নীতি সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির গতিতে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা এবং কর্মসংস্থান বাজারে ধীর পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শ্রমবাজারের এই মিশ্র পরিস্থিতি আগামী মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) নীতি সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে। প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারার পর প্রকাশিত এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিনের ভাটা হয়তো তলানিতে পৌঁছে স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী জন হিলির প্রথম জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের আগে এ তথ্য সরকারের জন্যও কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ওএনএস) হিসাব অনুযায়ী, বোনাস ছাড়া কর্মীদের গড় সাপ্তাহিক আয় চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে যাওয়ার পর এটি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ধারা বজায় রেখেছে। অর্থনীতিবিদদের নিয়ে রয়টার্সের জরিপে যেখানে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল, প্রকৃত ফলাফল তাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে মজুরি বৃদ্ধির গতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক শূন্য শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকের পর এই প্রথম বাড়ল।

যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে তালিকাভুক্ত কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩ হাজার। এছাড়া আগস্ট মাসের প্রাথমিক হিসাবে ২৬ হাজার কর্মী হ্রাসের কথা বলা হলেও তা সংশোধন করে ১ হাজার বৃদ্ধির তথ্য দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনডিড’-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জ্যাক কেনেডি বলেন, “সর্বশেষ পরিসংখ্যান শ্রমবাজারের কিছুটা সহনশীলতার ইঙ্গিত দেয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্সের প্রতিফলন।” তবে বাজার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি আসন্ন বাজেটের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে যে শ্রমবাজার কোনোমতে টিকে রয়েছে। প্রশ্ন হলো বাজেট নিয়োগকর্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো কারণ জোগাতে পারে কি না।” উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস নিয়োগকর্তাদের ওপর কর বৃদ্ধি করার পর থেকেই দেশটিতে কর্মী নিয়োগের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছিল।

ওএনএস-এর জরিপ অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাজ্যের বেকারত্বের হার কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের মধ্যভাগের পর সর্বনিম্ন। তবে কর্মসংস্থানের কিছু পরিসংখ্যানে এখনো দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া তিন মাসে খালি পদের সংখ্যা আগের ৭০৪,০০০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯১,০০০-এ। ২০২১ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম শূন্য পদের সংখ্যা সাত লাখের নিচে নামল, যা মহামারি পরিস্থিতি বাদ দিলে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুরেন থিরু বলেন, “শূন্যপদের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া শ্রমবাজারের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা ইঙ্গিত করে চলতি বছরের এআই-চালিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো নিয়োগের দুর্বল চাহিদা, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান ব্যয়।”

শ্রমবাজারের এই তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দামের ধাক্কা উচ্চ মজুরির দাবির মাধ্যমে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, আগামী নভেম্বরের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মূল সুদের হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশে উন্নীত করতে পারে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য ততটাই জরুরি হয়ে পড়বে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে আরও দূরে ঠেলে দেবে।


সুদহার অপরিবর্তিত রেখে জাপানে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানোর ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধির প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামান্য বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধির প্রভাবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামান্য বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। তবে সার্বিক অর্থনীতিতে মূল মূল্যস্ফীতির বড় কোনো পরিবর্তন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আর্থিক পদক্ষেপে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত মাসেই নীতি সুদহার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জাপানি মুদ্রা ইয়েনের আকস্মিক পতন ঘটে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে না দিলে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে এই বৈঠকের পর প্রকাশিতব্য ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির ওপর কড়া নজর রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবে বিওজে, যার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আবারও সুদহার বাড়ানোর সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকতে পারে, তবে মূল মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।” পরবর্তীতে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাব্য সময় প্রসঙ্গে অপর এক কর্মকর্তা বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপ বিদ্যমান থাকলেও তা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়নি, ফলে এ নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কারণ নেই।”

এর আগে গত জুলাই মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে ২০২৭ সালের মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী অর্থবছরে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশে নামার প্রক্ষেপণ করেছিল ব্যাংক অব জাপান। জ্বালানি তেলের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমে আসবে এমন অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ওই হিসাব করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নতুন করে চড়ে যাওয়ায় চলতি মাসের প্রতিবেদনে ২০২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতিতে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন আসতে পারে। নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এ সংশোধন সীমিত পরিসরেই থাকবে; কারণ অর্থনীতিতে মজুরি ও পণ্যের মূল্যের বিপজ্জনক কোনো নেতিবাচক প্রভাব এখনও তৈরি হয়নি।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আগের পূর্বাভাসের কাছাকাছি অবস্থানেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট পণ্যের শক্তিশালী রপ্তানি ভরসা জোগানোয় ২০২৬ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বহাল থাকতে পারে। এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিল থেকে খাদ্যপণ্যে দুই বছরের জন্য প্রস্তাবিত ভোগ কর হ্রাসের উদ্যোগটি এখনও পার্লামেন্টে পাস না হওয়ায় তা আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসে যুক্ত করা হচ্ছে না।

ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, দুর্বল মুদ্রা এবং এআই খাতের বাড়তি চাহিদার কারণে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ১ অক্টোবরের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক জরিপ অনুযায়ী, করপোরেট পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা নতুন করে গতি পায়নি। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের পূর্বাভাস, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ব্যাংক অব জাপান তাদের নীতি সুদহার দুবার বাড়িয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করতে পারে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তা ১ দশমিক ৭৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করবে।


ব্যারেলপ্রতি আবারও ১১০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছায়। টানা তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে তা কমে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক উত্থানে আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই মূল্যস্তরে পৌঁছেছে তেলটি। গত মে মাসের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এ পর্যায়ে ওঠেনি। গত ১৯ মে এর দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৮ ডলার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৮১ ডলারে। তেলের বাজারে লেনদেন চলমান থাকায় এসব দাম পরিবর্তিত হতে পারে। অয়েলপ্রাইসডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামেই সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরে যুদ্ধবিরতির খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা—দুইয়ের প্রভাবেই দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।

মে মাসে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের ওপরে উঠেছিল। পরে জুনের শেষ দিকে তা কমে প্রায় ৭৩ ডলারে নেমে আসে। এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। সেই প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করে।

তবে জুলাই থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং সংঘাতের বিস্তারের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে প্রকৃত সরবরাহ ও চাহিদার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়ায়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও পরিবহন অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকিও বাজারের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর উৎপাদন বা সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ধরনের ঝুঁকি বাড়লে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ১১০ ডলারে ওঠায় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিষয়:

বাংলাদেশ-চীন আর্থিক সংযোগ জোরদারে বেইজিংয়ে সম্মেলন

বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকগুলোর সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিনিয়োগ অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বার্তা নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডে’। এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার প্রধান কার্যালয়ে যৌথভাবে এ বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের ২৬টি প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পদের হিসাবে শীর্ষ চারে থাকা তিনটি ব্যাংক—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। পাশাপাশি অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ভোক্তা ও স্মার্ট ইলেকট্রনিকস, শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম শুরু করেনি। অথচ সমপরিমাণ কিংবা কম বাণিজ্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে চীনা ব্যাংকগুলোর সরাসরি উপস্থিতি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারিত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাতসমূহ, বিশেষ করে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধার দিকগুলো তুলে ধরা হয়। এসব এলাকায় চীনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়। পরবর্তীতে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং পর্বে অংশ নিয়ে চীনা অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও যৌথ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্মেলনে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণই এ ধরনের অর্থায়নের চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়ক অংশীদারত্ব। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।”

চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, “চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না বিশেষায়িত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি জানান, বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে, যা বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক অবদান রাখবে।


আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণ-রুপার দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

তেলের দাম কমে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ কিছুটা কমায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। ধারণা করা হচ্ছে, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে ফেড।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭১ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯১ ডলার ৯০ সেন্ট হয়েছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমায় ফেডের ওপর চাপ কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। তবে সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে সোমবার রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।

প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৬২৪ টাকা।


বিশ্ববাজারে তামাসহ অন্যান্য শিল্প ধাতুর দাম বৃদ্ধি

ডলারের দরপতনে তামাসহ অন্যান্য শিল্প ধাতুর দাম বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মান হ্রাস পাওয়া এবং বিশ্ব পুঁজিবাজারগুলোতে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ফলস্বরূপ আন্তর্জাতিক বাজারে তামাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পজাত ধাতুর দাম বেশ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ বা এলএমই-এর বার্ষিক সম্মেলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালেই ধাতুর বিশ্ববাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেল।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তিন মাস মেয়াদি তামার দাম শূন্য দশমিক নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি টন চৌদ্দ হাজার চারশো আশি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে চলতি বছরজুড়ে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে তামার দাম ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। অবশ্য এর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে এই শিল্প ধাতুটির দাম রেকর্ড পরিমাণ চৌদ্দ হাজার আটশো পঁচাত্তর ডলারে উন্নীত হয়েছিল।

বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতনের ধাক্কা সামলে বাজারগুলোতে যখন আবার স্বস্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, তখন লগ্নিকারীদের মনে আস্থা ফিরে আসার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ধাতু বাজারেও। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তামা, দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম এবং টিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সরবরাহ চুক্তির নগদ দর তিন মাস পরের মেয়াদী সরবরাহ চুক্তির দামের চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে। পুঁজিবাজার ও বাণিজ্যের পরিভাষায় এই বিশেষ অবস্থাকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়ে থাকে, যা মূলত নিকট ভবিষ্যতে পণ্যটির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের ধাতুবাজার গবেষক ইয়ান রোপার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য নতুন শুল্ক বা ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার আগেই দেশটিতে পরিশোধিত তামার চালান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি বছরজুড়ে সার্বিকভাবে তামার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে আগামী ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য খালাস ও আমদানির সময়সীমা ঘনিয়ে আসবে, যার ফলে বছরের একেবারে শেষভাগে তামার দাম কিছুটা হ্রাস পেতে পারে এবং সেই সময়ে মার্কিন ভূখণ্ডের বাইরে আন্তর্জাতিক অন্য বাজারগুলোতে বাড়তি সরবরাহ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যান্য শিল্প ধাতুর সার্বিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, অ্যালুমিনিয়ামের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন তিন হাজার এগারো ডলার পঞ্চাশ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে আসন্ন সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের বড় ধরনের উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।

তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর মধ্যে দস্তার দাম শূন্য দশমিক নয় শতাংশ, নিকেলের দাম শূন্য দশমিক নয় শতাংশ এবং সিসা ও টিনের দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিষয়:

আইপিও ছাড়াই সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন বিধিমালা জারি

পুঁজিবাজারে অপেক্ষাকৃত ভালো, স্বচ্ছ এবং প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা জোরালোভাবে আশা প্রকাশ করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কোনো রকম বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির সরকারি, বেসরকারি এবং বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো এখন থেকে দেশের শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এই বিশেষ সুযোগটি চালুর উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক একটি নতুন বিধিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ অতিরিক্ত সংখ্যায় এই বিধিমালাটি প্রকাশিত হয় এবং আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন তথা বিএসইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক দাপ্তরিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

নতুন এই বিধিমালা প্রবর্তিত হওয়ার ফলে যোগ্যতাপূর্ণ কোম্পানিগুলো নতুন করে কোনো শেয়ার ইস্যু না করে এবং আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে বাড়তি অর্থ সংগ্রহ না করেই তাদের প্রতিষ্ঠানে থাকা বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। এর মাধ্যমে দেশের মূল পুঁজিবাজারে অপেক্ষাকৃত ভালো, স্বচ্ছ এবং প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা জোরালোভাবে আশা প্রকাশ করছেন।

বিএসইসির প্রণীত চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, মূলত মোট সাতটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এই ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শতভাগ কিংবা অন্তত একান্ন শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম দশ শতাংশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সরকারের মালিকানায় রয়েছে এমন কোম্পানি এবং শতভাগ কিংবা অন্তত একান্ন শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন যেকোনো প্রতিষ্ঠান।

এর পাশাপাশি, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কমপক্ষে পাঁচশো কোটি টাকার নিট সম্পদমূল্য থাকা স্বয়ংসম্পূর্ণ তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিমা কোম্পানিগুলোও এই বিশেষ সুযোগের আওতায় তালিকাভুক্ত হতে পারবে। খসড়া নীতিমালার প্রাথমিক আলোচনায় বার্ষিক লেনদেন বা মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচশো কোটি টাকা হলেই যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার প্রস্তাব থাকলেও, চূড়ান্ত বিধিমালায় তার পরিবর্তে কোম্পানির বার্ষিক লেনদেন কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা হওয়া বাধ্যতামূলক করার কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত এই তালিকাভুক্তির সুযোগের আওতায় রয়েছে বিএসইসিতে নিবন্ধিত যেকোনো স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান এবং ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানি। এছাড়া কমিশন যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো স্বনামধন্য কোম্পানিকেও এই সুবিধার আওতাভুক্ত করার বিশেষ ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।


banner close