বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি থেকে এলএনজি আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) একটি জাহাজ। ছবি: এএফপি
আপডেটেড
১ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৪৪
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৩৮

জরুরীভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে এলএনজি সরবরাহ ও ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ প্রকল্পে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।

সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ওই সময় চুক্তিটি হতে পারে।

মঙ্গলবার ইআরডি থেকে গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এলএনজি সরবরাহ ও ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় এ বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দুই দেশের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইআরডি সচিব শরিফা খান। সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন মোহাম্মদ আবুথনাইন।

সভায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনে সম্মত হয়। এই টাস্কফোর্স জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে নিয়মিত সভা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যৌথ কমিশন সভায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এর একটি অনুযায়ী, দুই দেশের নৌ-পেশাজীবীদের মধ্যে নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া, দেশ দুটির বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এফবিসিসিআই এবং ফেডারেশন অব সৌদি চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের মধ্যে একটি জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠনে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সভায় দুই দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিজ্ঞান ও শিক্ষার সব ক্ষেত্রে কার্যকর দ্বি-পাক্ষিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। যৌথ কমিশন সভায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি, কৃষি, পরিবেশ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অন্যান্য বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা কনস্যুলেটের কর্মকর্তারাও এতে যোগ দেন।

যৌথ কমিশনের সূচনা বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান সৌদি আরবকে বাংলাদেশের ভাতৃপ্রতিম বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সৌদি যুবরাজ বাংলাদেশ সফর করবেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

টিসিবির জন্য ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার মসুর ডাল কিনবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী স্বল্প আয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের লক্ষ্যে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ খাদ্যপণ্য কেনা হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় এ ক্রয়ের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য প্রকাশিত উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হয়। এতে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে খুলনার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’। টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে টিসিবির নির্দিষ্ট গুদাম পর্যন্ত পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতি কেজি মসুর ডালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মাধ্যমে বিতরণের উদ্দেশ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে অনুমোদিত এই ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল যুক্ত হলে সংস্থার নিরাপত্তা মজুত আরও সুদৃঢ় হবে, যা সরকারের চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে কার্ডধারী পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে।


নির্বাচিত

চীনা শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৬৩০ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপযোগ সেবা সংযোগের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৫ টাকা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। চীন সরকারের ঋণ ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, বর্জ্য শোধনাগার, বহুমুখী জেটি এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উত্থাপিত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’ শীর্ষক কাজটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দাখিলকৃত দরপত্র যাচাই-বাছাই ও দরকষাকষি শেষে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। চলতি বছরের ২০ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ প্রকল্পটির পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রস্তাবনা অনুমোদন করে, যার মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অনুমোদিত প্যাকেজের আওতায় শিল্পাঞ্চলে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ ও ২৪ মিটার প্রশস্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। একই সাথে পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশালাকার পানি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের জন্য দৈনিক ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনে সক্ষম সঞ্চালন লাইন ও জেলা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৈনিক ২৫ মিলিয়ন লিটার পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হবে।

পণ্য আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে প্রকল্প এলাকায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক বহুমুখী জেটি, একটি কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সাথে পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল নিশ্চিতের অংশ হিসেবে কঠিন বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক শোধন, শোধিত পানির পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও এই প্যাকেজের আওতায় স্থাপন করা হবে।


নির্বাচিত

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩ অনাপত্তি সনদ বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের ইলিশ মাছ আমদানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পূর্বে ইস্যুকৃত ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করার পর আজ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব অনাপত্তি সনদ বাতিল ঘোষণা করা হয়, যার প্রেক্ষিতে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভারত থেকে ইলিশের চালান প্রবেশ স্থগিত হয়ে যায়।

হঠাৎ করে আমদানি বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খোলাসা না করা হলেও বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশীয় জেলেদের স্বার্থ সুরক্ষার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি ভারতীয় ইলিশের আমদানি মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে সর্বোচ্চ ২ ডলার পর্যন্ত দেখানো হচ্ছিল, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা। অথচ সেই ভারতীয় ইলিশকে দেশের বাজারে ‘পদ্মার ইলিশ’ বলে প্রচার করে প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছিল। এর পাশাপাশি ঘোষিত মূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে স্থানীয় জেলেদের উৎসাহ বজায় রাখতে সরকার এ আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় ভারতীয় ইলিশ প্রতারণামূলকভাবে চড়া দামে বিক্রির দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করেছে প্রশাসন। বেনাপোল মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে বন্দর দিয়ে ইলিশের নতুন কোনো চালান দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে বেনাপোলসহ আশপাশের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে আকস্মিকভাবে আমদানির অনুমতিপত্র বাতিল করায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ার দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানির উদ্দেশ্যে ভারতীয় অংশে এলসি খুলে যে পরিমাণ ইলিশ মজুত রাখা হয়েছিল, তা এখন বাধ্য হয়ে লোকসানে ফেরত দিতে হবে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে সর্বমোট ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ দেশে পৌঁছেছে। বাতিলকৃত ১০৩টি সনদ বাদে অবশিষ্ট অনুমোদনের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমলো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৩
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হওয়া এবং চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিতে বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এশীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের তেলের দামেই পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট হ্রাস পেয়ে ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে লেনদেন হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও মঙ্গলবার তা আবার চালু করা হয়। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা যায়, যা বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশনগুলোর মেরামত সম্পন্ন করে পাইপলাইনটির শতভাগ সক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ হ্রাস করে বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। এর আগে মঙ্গলবারই গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দরে পৌঁছেছিল।

যদিও যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা আসেনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি রয়ে গেছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বাজার থেকে অতিরিক্ত ঝুঁকির চাপ অনেকটাই কমছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির নৌ-নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।


নির্বাচিত

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে টাকার মান বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতীয় রুপির বিপরীতে বিগত দুই বছরে দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশি টাকা। এই দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, যার মধ্যে কেবল গেল এক বছরেই টাকার মান বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতি এক টাকার বিপরীতে মিলছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। এর আগে ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকায় পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭২ রুপি এবং ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এর পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৭০ রুপি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রুপির বিপরীতে টাকার মান ৫ দশমিক ৫ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় মুদ্রায় টাকার সার্বিক ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও রুপির তুলনায় টাকার শক্তিশালী অবস্থানের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। বর্তমানে এক ভারতীয় রুপি কিনতে যেখানে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকা, সেখানে গত বছরের একই সময়ে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ দশমিক ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক রুপির জন্য এখন আগের চেয়ে ৯ দশমিক ৭২ পয়সা বা ৭ দশমিক ১ শতাংশ কম টাকা লাগছে। দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতি এক রুপির বিনিময় মূল্য ছিল ১ দশমিক ৪৩ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও টাকার এই ইতিবাচক ধারা নিশ্চিত হওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ টাকা থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা, যার ফলে প্রতি টাকার বিপরীতে শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ রুপি মিলেছে।

টাকার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে জানান, রুপির বিপরীতে টাকার শক্ত অবস্থান দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি আনবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দর ও পণ্য পরিবহন খরচ অপরিবর্তিত থাকলে ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্প যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানির ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তারা বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাবেন।

বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া সাধারণ বাংলাদেশিরাও এর সরাসরি সুফল পাবেন বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। তাঁর মতে, রুপির মান কমে যাওয়ায় ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের হোটেল ভাড়া, খাবার ও যাতায়াতসহ অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ টাকার হিসাবে আগের চেয়ে সাশ্রয়ী হবে। তবে আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত বাজারদর কেবল মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারদর, শুল্ক কাঠামো এবং লজিস্টিক ব্যয়ের ওপরও নির্ভর করে। মুখপাত্র পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রার বিনিময় হারের গতিবিধি সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে


নির্বাচিত

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’-এ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির এই ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এডিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ শতাংশের ঘরে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ায় বিদায়ী অর্থবছরের শেষভাগে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল, তবে সার্বিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব সীমিত ছিল। বিশেষ করে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি সঞ্চার হওয়া প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখছে। এডিবির বাংলাদেশ প্রধান চিংফেং ঝাং জানান, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে এই অগ্রযাত্রা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তিনি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত তৈরি, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিবেশের সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। এডিবির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশে থাকা সাধারণ মূল্যস্ফীতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে। তবে জ্বালানি সংকট, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে খাদ্যপণ্যের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া রপ্তানির তুলনায় আমদানির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ বজায় থাকায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও ডলারের মজুত সুরক্ষায় তা বড় ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতির খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় এডিবি জানিয়েছে, আগামী দিনে কৃষি ও সেবা খাতই প্রবৃদ্ধির প্রধান খুঁটি হিসেবে অবদান রাখবে। তবে ঋণের উচ্চ সুদহার, জ্বালানি স্বল্পতা এবং বহির্বিশ্বে চাহিদা হ্রাসের কারণে শিল্প ও বৃহৎ বিনিয়োগ খাতে কিছু চাপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম, বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, টাকার ওপর চাপ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্কারের ধীরগতিকে প্রধান অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে সতর্ক করেছে এডিবি।


নির্বাচিত

রাজস্ব আয়ে রেকর্ড মোংলা বন্দরে, বেড়েছে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৬
খুলনা প্রতিনিধি

রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় করার পাশাপাশি আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা যা গত অর্থ বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশী।

মঙ্গলবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বন্দরের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও আর্থিক সাফল্যের এসব তথ্য তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি জাহাজ আগমন, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন বা ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও বেড়েছে বন্দরের কার্যক্রম। অর্থবছরটিতে ২৫ হাজার টিইইউজের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ২৫৮ টিইইউজ বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সময়ে মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বন্দর ব্যবহারকারী, শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। জাহাজ আগমন বাড়াতে ‘ইন্টারনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি’র মাধ্যমেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত সভা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ হাজার ৫০০টি, কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ লাখ টিইইউজ এবং গাড়ি হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২০ হাজার ইউনিট। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহায়ক জলযান সংগ্রহ, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ।

সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অবকাঠামো নির্মাণ হলে শিপিং, সিএন্ডএফ, স্টিভেডরিং ও শ্রম খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বন্দরকে আরও কার্যকর বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া জাহাজ ও শিল্পকারখানা থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সংগ্রহ এবং নিঃসৃত তেল অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়া এ প্রকল্পের ফলে জাহাজের বর্জ্য নদী ও সমুদ্রে ফেলা বন্ধের পাশাপাশি পশুর চ্যানেল ও আশপাশের নদ-নদীর দূষণ কমানো এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বন্দরের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি ও তা ধরে রাখা। পাশাপাশি নিরাপদ ও দূষণমুক্ত নৌপথ নিশ্চিত করা, পুরোনো সহায়ক জলযান প্রতিস্থাপন, নতুন জলযান সংগ্রহ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের আরও বেশি করে মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোংলা বন্দরকে সরাসরি ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, কনটেইনারবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো এবং সিঙ্গাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সঙ্গে সরাসরি ফিডার জাহাজ চলাচল বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি খুলনা-মোংলা ও খুলনা-ভাঙ্গা সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। উন্নয়ন প্রকল্প ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

জ্বালানি তেল কিনতে ৬ মাসে অতিরিক্ত খরচ ২৩ হাজার কোটি টাকা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ফলে গত ছয় মাসে (মার্চ-আগস্ট) জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে এতদিন জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। এতে গত প্রায় ছয় মাসে বিপিসিকে অতিরিক্ত ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি’র অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ছয় মাসের এই অতিরিক্ত ব্যয় হিসাবে মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা করে বিপিসির ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যের পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ও বিপুল হারে বেড়েছে। আগে যেখানে জাহাজ ভাড়া ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ জাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রেই ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসি’র লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৭০ টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা সমন্বয় করা হলে বিপিসির বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রথম প্রকল্প চূড়ান্ত করল দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত ৩৫০ বিলিয়ন (৩৫ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মঙ্গলবার দেশটির সরকার জানিয়েছে, প্রথম প্রকল্প হিসেবে টেক্সাসে একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মুনাফা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের মধ্যেই আরও দুটি বড় প্রকল্প বিবেচনায় রাখছে সিউল। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ানের একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর সংসদ সদস্য চুং চিন-উক সাংবাদিকদের জানান, টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি পারমাণবিক চুল্লিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার। গত বছরের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার যে সমঝোতা হয়েছিল, তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইনপ্রণেতাদের এই ব্রিফিং দেওয়া হয়।

শিল্পমন্ত্রী কিম রয়টার্সকে জানান, বিনিয়োগের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন সরকারি বিনিয়োগ কমিটির অনুমোদন এবং দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইউনহাপ জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টেক্সাস বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক প্রকল্

তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের এনসিনালে ৬.৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মূলত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ইউনহাপ জানায়, প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন দক্ষিণ কোরিয়া করলেও এর মালিকানা মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে সমানভাবে (৫০:৫০) ভাগাভাগি করা হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বড় অঙ্কের তহবিল ছাড়ের প্রয়োজন হতে পারে।

চুং চিন-উক আরও জানান, সিউল মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্টিংহাউস’-এর ৫ থেকে ১০ শতাংশ শেয়ার কেনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘আলাস্কা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস’ (এলএনজি) প্রকল্পে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মোট আটটি বড় পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে দুটি নির্মিত হবে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব ‘এপিআর১৪০০’ মডেলে এবং বাকি ছয়টিতে ব্যবহার করা হবে ওয়েস্টিংহাউসের ‘এপি১০০০’ ডিজাইন। এছাড়া নিজস্ব মুদ্রা ‘ওন’-এর বিনিময় হারে সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করতে চাইছে।

ট্রাম্পের চাপ ও বাণিজ্যিক মুনাফা নিয়ে উদ্বেগ

জাপানের মতো অন্যান্য দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখাচ্ছে অভিযোগ করে মার্কিন কর্মকর্তারা সমালোচনা করে আসছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন এ নিয়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিল। এছাড়া ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘কুপাং’-এর মতো মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর বিধিনিষেধ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সিউলের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে বিনিয়োগ দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছে সিউল।

এর আগে গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং জানান, প্রকল্পভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনায় বাণিজ্যিক উপযোগিতা বা মুনাফার প্রশ্নটি একটি বড় জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং সিউল বিনিয়োগকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার চেষ্টা করছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক পলিসি গ্রুপ ‘কোরিয়া ইকোনমিক ইনস্টিটিউট অব আমেরিকা’র জ্যেষ্ঠ গবেষক হিউন জুং জে বলেন, "প্রথম প্রকল্পের ঘোষণা একটি অর্থপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে উভয় দেশ একটি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি প্রতিশ্রুতির চেয়ে এর বাস্তবায়ন ও ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হবে।"

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সোগাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিম ইয়ং-জিন বলেন, টেক্সাস বিদ্যুৎ প্রকল্প কোরিয়ান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ওয়েস্টিংহাউসের অংশীদারিত্ব দক্ষিণ কোরিয়ার মেধা সম্পত্তি রক্ষায় সহায়তা করবে এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা এই বিনিয়োগের অর্থনৈতিক মুনাফা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ বছরের মুনাফা ফেরত কাঠামোর আওতায় টেক্সাস প্রকল্পটি লাভজনক হবে। দেশটির কৌশলগত বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উপযোগিতাহীন কোনো প্রকল্প যদি জাতীয় নিরাপত্তা বা সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষার স্বার্থে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে সে ক্ষেত্রে সংসদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে।


নির্বাচিত

নতুন ১০ কোম্পানি তালিকাভুক্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের ঘোষণা ডিএসইর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ভালো ও মানসম্মত সরকারি, বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সাথে নতুন তালিকাভুক্তির স্থবিরতা কাটাতে প্রণীত বিধিমালার পাশাপাশি পাঁচটি খেলাপি ব্রোকারেজ হাউজের প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ পাওনা অর্থ আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরিশোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, বিগত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাজারে ভালো কোনো নতুন আইপিও বা তালিকাভুক্তি না হওয়ায় ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের নতুন খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে প্রস্তুতকৃত আরেকটি বিধিমালা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে বন্ডের লিস্টিং ফি কমানোর পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ডাইরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর আবেদনকারীদের জন্য লিস্টিং ফিতে ৫০ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খেলাপি ব্রোকারেজ হাউজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। চেয়ারম্যান জানান, মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এবং সালতা সিকিউরিটিজে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনাদারদের শতভাগ অর্থ ডিএসইর ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে প্রায় ৯৭ শতাংশ বা ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি মাইলফলক নয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’

বাকি থাকা ৫৯৩ জন বড় অঙ্কের পাওনাদারের অর্থ আদায়ের জন্য দায়ী ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শেয়ার ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রিসহ কঠোর আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। ব্রোকারেজগুলোর কমিশন ও তহবিলের সুদের অর্থ দিয়ে গঠিত আইপিএফ ফান্ডের এ কার্যক্রমে ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ইতিমধ্যে দোষী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আদালতে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাজারের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলোকে দেশে আকৃষ্ট করতে পারলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে আসার পথ সুগম হবে। এছাড়া ডিএসই, সিডিবিএল এবং সিসিবি-র সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অনিয়ম রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত ত্রৈমাসিক বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং বক্তব্য রাখেন ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম।


নির্বাচিত

পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিন সূচকের পতন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবারও (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত ছিল। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমায় প্রধান মূল্যসূচক নিম্নমুখী হয়েছে। তবে সূচক কমলেও ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মূলত রবিবার রাতে সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর সোমবার যে তীব্র দরপতন শুরু হয়েছিল, মঙ্গলবারও বাজারে সেই বিক্রয়চাপের প্রভাব বজায় থাকে।

মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম কমতে থাকে। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষভাগে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপের কারণে তা স্থায়ী হয়নি। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২২৭টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৫টির দর। অধিকাংশ শেয়ারের মূল্যহ্রাসের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে ব্লু-চিপ ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে স্থিতি পায়।

কোম্পানিগুলোর শ্রেণিভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২টির শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে ১১৭টির এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের ২০টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৪৭টির দাম। এছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির দর বাড়ার বিপরীতে ৬৩টির পতন হয়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দাম। লেনদেন হওয়া মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৯টির দাম বাড়লেও ৭টির কমেছে এবং ৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

প্রধান সূচক হ্রাস পেলেও ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে মোট ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। গত ১৮ আগস্টের পর এটিই ডিএসইতে একদিনের সর্বোচ্চ লেনদেন। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় পর্যায়ক্রমে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল এবং একমি পেস্টিসাইড।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দর বাড়লেও কমেছে ৮৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমেছে। পাশাপাশি বাজারটিতে মোট লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমে ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২১ কোটি ২ লাখ টাকা।


নির্বাচিত

দেশে ১৩০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পাইপলাইনে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে, যার মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে ১৮০ দিনের বিনিয়োগ উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল পরিসমাপ্তি শেষে এই অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে নবগঠিত জাতীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। চলতি বছরের ১৬ মার্চ ঘোষিত এই পরিকল্পনায় তিনটি প্রধান স্তম্ভের অধীনে ১৬টি কর্মধারা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার আওতায় গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিনিয়োগের উৎসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন, যেখান থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০০ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও তৈরি পোশাক খাতে ২০০ মিলিয়ন ডলার করে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগের রূপরেখা বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকারকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। বিনিয়োগের টেকসই পরিবেশ তৈরি করতে উন্নত ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক সেবা প্রদান এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ পাইপলাইন গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হলেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অর্জিত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।

অবকাঠামো খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সাত শতাধিক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হবে। এছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মোংলায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন করপোরেশনের সহায়তায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের সমন্বিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শুল্কায়ন ও ব্যাংকিং সেবা চালু এবং ঢাকার তৃতীয় টার্মিনালের আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বার্ষিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা পাঁচ লাখ টনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহেশখালীর কুতুবজোমে দৈনিক সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রূপান্তর ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি সোনাগাজীতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে এক ছাতার নিচে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে, যার মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরাসরি বিদেশি ইকুইটি আনার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার চূড়ান্ত নীতিমালা অনুমোদিত হয়েছে, যার জন্য নির্মিত ডিজিটাল পোর্টালটি আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজতর করতে ‘বাংলাবিজ’ প্ল্যাটফর্মে দ্রুত লাইসেন্স ও অনুমোদন নিশ্চিতে বিশেষ বিজনেস প্যাকেজ চালু এবং চীনের গুয়াংজুতে সরাসরি লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতে পিপিপি মডেলে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী হোটেল শৈবালকে আধুনিকায়নের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা সফল হলে আরও ৫০টির বেশি পর্যটন স্থাপনা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে আধুনিক মৎস্য আহরণ, মহেশখালীতে অ্যাকুয়াকালচার জোন প্রতিষ্ঠা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সানেমের যৌথ সহযোগিতায় দেশব্যাপী আটটি বিভাগে সমন্বিত বিনিয়োগ মানচিত্রায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও উৎপাদন থামেনি যে পোশাক কারখানায়

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে বাংলাদেশের সিংহভাগ তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রম হিসেবে এখনো উৎপাদন সচল রাখতে পেরেছে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও নেক্সটের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘৪এ ইয়ার্ন ডাইং’।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশে ২০১৯ সাল থেকেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে আসছে ৪এ ইয়ার্ন ডাইং। মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল-নির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা নতুন করে জ্বালানি ঘাটতি তৈরি করেছে।

সম্প্রতি ১৩৪টি নিটওয়্যার কারখানার ওপর পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র। গত আগস্টের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জেরে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ কারখানার ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন কিংবা কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ৭৮ শতাংশ কারখানাকে বাধ্য হয়ে আংশিক উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি কারখানামালিকরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারা এবং লোকসান এড়াতে ছাড় দিয়ে কম মূল্যে অর্ডার নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

তবে ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত ৪এ কারখানায় এখনো স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রয়েছে। প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শ্রমিকের এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় নিজস্ব সৌর প্যানেল থেকে। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা হয় নিজস্ব গ্যাস ও ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহিল নাকিব বলেন, "আমরা কখনোই একটি মাত্র জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকিনি। সবকিছুর জন্যই আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা ছিল। আমাদের একধরনের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তবে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে গেছে। প্রথমে তেলের সংকট ছিল, এরপর গ্যাসের সংকট।" তিনি জানান, ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে তাদের উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যার ফলে মাসে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা (৪০ হাজার ৯৫০ ডলার)।

এদিকে, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত সোমবার জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৭.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের এই পদক্ষেপে পোশাক কারখানাগুলোর ওপর খরচের চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত ঝুঁকি এড়াতে ৪এ এখন শিল্পমানের একটি বড় ব্যাটারি ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন অব্যাহত রাখা যায়। কারখানার প্রায় পুরো ছাদ সৌর প্যানেলে ঢেকে রাখা নাকিব বলেন, "আমরা এই অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতে পেরেছি, কিন্তু প্রতিটি কারখানার পক্ষে তা করা সম্ভব নয়।"

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী গত সপ্তাহে উল্লেখ করেন, গ্যাস আমদানির বাড়তি ব্যয়ের কারণে শিল্প প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হচ্ছে, লোডশেডিং বাড়ছে এবং গ্যাসে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় বরাদ্দ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান অপরিসীম। জাতীয় রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এর অবদান প্রায় ১০ শতাংশ।

জ্বালানি সংকটের কারণে যথাসময়ে ক্রেতাদের পণ্য পৌঁছে দিতে অনেক প্রস্তুতকারককে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বিমানে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, আবার অনেককে দিতে হচ্ছে বিশেষ মূল্যছাড়। পোশাক রপ্তানিকারক শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, "আমাদের মুনাফার হার এমনিতেই খুব কম, আর জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে তা আরও সংকুচিত হবে। প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখে একই সঙ্গে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার চাপ সামলানো আমাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।"

আজিম আরও জানান, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটে ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়ায় কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ২৫ হাজার পোশাকের অর্ডার দেওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র ৮ হাজার পিসের চূড়ান্ত কার্যাদেশ দিয়েছে।

এইচঅ্যান্ডএমসহ বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, কোম্পানিগুলো হয়তো বর্ধিত জ্বালানি ব্যয় কোনোভাবে বহন করতে পারবে; কিন্তু অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ ও লোডশেডিং বেশি উদ্বেগের কারণ। কারণ বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের সংকট এতটা তীব্র নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "আমরা অন্য সোর্সিং দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারব, নাকি তাদের কাছে অবস্থান হারাব, তা নির্ভর করবে আমরা পরিস্থিতিটি কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারি তার ওপর।"


নির্বাচিত

banner close