রোববার, ২৩ জুন ২০২৪
শেয়ারবাজার

লেনদেন তিনশ কোটির ঘরে

আপডেটেড
২৭ মে, ২০২৪ ০০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৪ ০০:০৩

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। দরপতনের পাশাপাশি এ দিন ডিএসইতে লেনদেন কমে তিনশ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২২ প্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫০ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলের পর সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেল। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ১৮৮ পয়েন্ট। এরপর সূচক আর এত নিচে নামেনি। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা লেনদেন কমেছে। লেনদেন শুধু আগের দিনের তুলনায় কমেনি, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারির পর হয়েছে সর্বনিম্ন লেনদেন।

টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার। ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার, রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড, ওরিয়ন ইনফিউশন, বেস্ট হোল্ডিং, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং স্কয়ার ফার্মা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৭০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৫টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬৯ কোটি ১ লাখ টাকা।


এমএফএসে মাসিক লেনদেন ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

গ্রাহক ২২ কোটি ৬৫ লাখ
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১৩:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

হিসাব খুলতে কোনো টাকা লাগে না। শহর থেকে গ্রামে রয়েছে সার্বক্ষণিক লেনদেনের সুবিধা। কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, ঋণ নেওয়াসহ যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নানা পরিষেবা। বিদেশ থেকে আসছে রেমিট্যান্সও। ফলে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওপর মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে নির্ভরশীলতা। গ্রাহকের সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, এমএফএস অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় চলতি বছরের এপ্রিলে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এই অংক এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড লেনদেন। এর আগে একক মাসে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল চলতি বছরের মার্চে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা।

গ্রাহক ২২ কোটি ৬৫ লাখ: মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যাও। বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ নানা নামে ১৩টির মতো ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এমএফএস সেবা দিচ্ছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫ হাজার ৫৫৩ জন। গ্রাহক বেশি হওয়ার কারণ অনেক গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করছে। লেনদেনের সুবিধার্থে একাধিক সিমের হিসাব খুলছেন। নিবন্ধিত এসব হিসাবের মধ্যে পুরুষ গ্রাহক ১৩ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ও নারী ৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪১টি। এখন গ্রাহক ঘরে বসেই ডিজিটাল কেওয়াইসি (গ্রাহকসম্পর্কিত তথ্য) ফরম পূরণ করে সহজেই এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলতে পারছেন।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপর ‘নগদ’-এর অবস্থান।

বিভিন্ন সেবা: মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এখন গাড়িচালক, নিরাপত্তাকর্মী ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবামাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাক খাতসহ শ্রমজীবীরা এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছেন। যার ফলে দিন দিন নগদ টাকার লেনদেন কমে আসছে। এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এপ্রিলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা আর উত্তোলন হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। এ সময় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে ৩৭ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আলোচিত সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বাবদ বিতরণ হয় চার হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। বিভিন্ন পরিষেবার ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয় এবং কেনাকাটায় ৬ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এ ছাড়া ৮৫৬ কোটি টাকার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে মোবাইলের মাধ্যমে।


ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছে না ৪০ শতাংশ টিআইএনধারী

আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৪ ১০:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন বা কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা এবং প্রকৃতপক্ষে রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তির সংখ্যায় ব্যাপক ব্যবধান থাকায় দেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ শতাংশ টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিলের আশা ছেড়ে দিয়েছে।

দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুসারে, এর মধ্যে গত ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৬৭ লাখ টিআইএনধারী ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি কাগজপত্রে যে টিআইএনধারী আছেন, তাদের মধ্য থেকে ৪০ লাখের কাছ থেকে রিটার্ন পাওয়া যাবে না।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কী কী কারণে রিটার্ন জমা হচ্ছে না, এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমরা দুই মাস আগে চেয়ারম্যানের (এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম) কাছে জমা দিয়েছি।’

রিটার্ন জমা না দেওয়া এই টিআইএনধারীদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, একবার টিআইএন রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চাইলেই যেকোনো টিআইএন বন্ধ করা যায় না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে আয় না থাকলে টিআইএন স্থগিত করার একটি বিধান আনা হলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

আয়কর বিভাগ প্রায় ৫৪ লাখ টিআইএনধারীর ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়ার বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছে আয়কর বিভাগ।

কেবল জমি বিক্রয় এবং অন্যান্য সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্য হয়ে টিআইএন নেওয়া, বাধ্য হয়ে টিআইএন নেওয়া প্রান্তিক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়া, মৃত্যু দীর্ঘ সময় ধরে করযোগ্য আয় না থাকা, সচেতনতার অভাব, প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন (পিএসআর) শো করার বাধ্যবাধকতা না থাকা, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোয় করের আওতার বাইরে চলে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণে আলোচ্য টিআইএনধারীদের কাছ থেকে রিটার্ন পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন কর কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করা, কোম্পানির অবসায়ন বা বিলুপ্তি, করদাতার প্রবাসে থাকা, একই ব্যক্তির দুইবার টিআইএন নেওয়া এবং টিআইএন তথ্যভাণ্ডারে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় বিপুলসংখ্যক টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে আয়কর বিভাগ।

করদাতারা অর্থবছরের যেকোনো সময় রিটার্ন জমা দিতে পারেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর। যারা এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি তারা পরেও জরিমানা পরিশোধ করে অথবা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

এনবিআরের প্রতিবেদনে একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ১০ লাখ টিআইএনধারী আছেন, যারা নতুন করে টিআইএন নিয়েছেন এবং তাদের রিটার্ন দেওয়ার সময় আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছর। ফলে বাধ্য না হওয়ায় তারা রিটার্ন দেননি।

জমি বিক্রয়ের সময় বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে টিআইএন নিয়েছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি এমন সংখ্যা অন্তত ৫ লাখ ২৮ হাজার। এসব টিআইএনধারীর বেশির ভাগের কাছ থেকেই রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া বিভিন্ন অফিসে সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্য হয়ে টিআইএন নিয়েছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার।

সচেতনতার অভাবে রিটার্ন জমা দেননি প্রায় ৩ লাখ। ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া প্রান্তিক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা পরবর্তী সময় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কারণে রিটার্ন জমা দেননি- এই সংখা আড়াই লাখের বেশি।

এ ছাড়া মৃত্যুবরণ করা প্রায় আড়াই লাখ টিআইএনধারী আছেন, যাদের উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে ওই টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও কম দেখছেন কর কর্মকর্তারা। অন্যদিকে করযোগ্য আয় নেই, এমন দুই লাখের বেশি টিআইএনধারীরও রিটার্ন দিচ্ছেন না। ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্ট কিনেছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি, এমন আছেন ২ লাখের বেশি।

এ ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন কারণে সব মিলিয়ে আরও ১১ লাখের বেশি টিআইএনধারীর রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার কোম্পানি রিটার্ন জমা দেয়নি।

যৌক্তিক কারণে যারা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, এনবিআরের তথ্যভাণ্ডার থেকে তাদের টিআইএন মুছে ফেলার সুপারিশ করেন বিশেষজ্ঞরা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মৃত্যু বা বয়স হওয়াসহ যৌক্তিক কারণে যাদের কাছ থেকে ট্যাক্স রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, ওই সব টিআইএন শনাক্ত করে তা এনবিআরের ডাটা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। আর যাদের করযোগ্য আয় নেই কিন্তু রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা আছে, তাদের জন্য সহজ এবং সংক্ষিপ্ত একটি রিটার্ন জমার সুযোগ থাকা উচিত।

আইনগতভাবে এর একটি সমাধান করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশেও টিআইএন সহজে বাতিল করার সুযোগ কম। কিন্তু সেখানে পুরো ব্যবস্থাপনা অটোমেটেড হওয়ায় যেকোনো কার্যক্রম সহজে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তা খুবই কঠিন।


ক্রেতা নেই, তবুও চড়া সবজির দাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ১৩:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি থেকে এখনও রাজধানীতে ফেরেননি অনেক মানুষ। ফলে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। বাজারে ক্রেতাও কম। তবুও চড়া ব্রয়লার মুরগি, ডিম, আলু, কাঁচামরিচ, শসা, টমেটোসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম। ঈদুল আজহার পর হুড়হুড় করে ঢাকার বাজারে বেড়েই চলেছে কাঁচামরিচের দাম।

প্রতি কেজি মরিচের দাম এখন ঠেকেছে ৪০০ টাকাতে। তবে দেশি ও হাইব্রিড মরিচের দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মুগদা, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়ায় কাঁচা মরিচের এই দাম দেখা গেছে। স্থানভেদে প্রতি কেজি দেশি কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা আর হাইব্রিড মরিচের দাম চাওয়া হচ্ছে ৩২০ টাকা।

দোকানিরা জানান, ঈদের আগে কারওয়ানবাজারে প্রতিপাল্লা (পাঁচ কেজি) কাঁচা মরিচের পাইকারি দাম পড়েছে ৮০০ টাকা। এখন সেই মরিচের দাম পড়ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। আর দেশি মরিচ প্রতি পাল্লার দাম পড়ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক ৬০০ টাকা। যে কারণে খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া সবজির বাজারে দেখা গেছে, কাঁকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচুর লতা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ধুন্দল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করোল্লা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচু মুখি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৬০ টাকা এবং ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


১৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৯ হাজার ৪৩২ কো‌টি টাকা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ১২:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের কাছে অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারের কোরবানির ঈদের আগেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছে। ঈদের সময় ১৪ দিনে ১৯ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদে‌শিরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথম ১৪ দিনে বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৪ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১১৮ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৯ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ঈদের সময় দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে ৯৯১ কোটি টাকার বেশি সমপরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা। জুনের প্রথম ১৪ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২০ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দে‌শে রেমিট্যান্স এসেছে ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার। গত ৪৬ মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ এবং এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে ২৬০ কোটি ডলার। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২১০ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে আসে ২১৬ কো‌টি ৬০ লাখ ডলার। মার্চ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে আসে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং এপ্রিলে আসে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স। দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা গত সোমবার উদযাপিত হ‌য়েছে।


টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হলেও পরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে ঈদের পর লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলল। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসই এবং সিএসইতে দাম বেড়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে প্রায় পাঁচশ কোটি টাকা হয়েছে। এর আগে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে ঈদের আগে এক মাসের মধ্যে ডিএসই’র বাজার মূলধন প্রায় এক লাখ কোটি টাকা কমে যায়। আর ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক কমে প্রায় ৭০০ পয়েন্ট। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। বাজারে ক্রেতা সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটি শেষে শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে ক্রেতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বাজারে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতা বেশি থাকায় আজ বৃহস্পতিবার সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ২৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে। এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ২০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিন্ডে বাংলাদেশের ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল বিচ হ্যাচারি, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট নিটিং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল, ফরচুন সুজ এবং লাভেলো আইসক্রিম। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৭৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৮টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কর্যদিবসে লেনদেন হয় ৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।


‘মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলে লাখ টাকায় কোরবানি দিচ্ছে’

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলে লাখ টাকায় কোরবানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আজ বৃহস্পতিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের পকেটে টাকা আছে। একসময় গ্রামে মাছ-মাংস পাওয়া যেত না, এ দশা এখন নেই। মানুষের পকেটে টাকা না থাকলে লাখ টাকা দিয়ে কোরবানি দিতো না।

টিটু বলেন, একসময় বড় বোয়াল সারা দিন বিক্রি হতো না, বাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পড়ে থাকতো। এখন বড় বোয়ালের তিনজন ক্রেতা দাঁড়িয়ে থাকেন। গ্রামের মানুষেরও সক্ষমতা বেড়েছে।

দেশে ধান উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমার এলাকায় এখন তিন ফসল হয়। সবার প্রচেষ্টায় কৃষিকে আমরা ফোকাস করছি। গত চার মাসে এক কোটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেছি। স্থায়ী দোকানে জুন মাস থেকে সারা দেশে ১০ হাজার ডিলার করে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য দেবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকির কারণে রিজার্ভ কমেছে। ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ১৪ বিলিয়ন গেছে সার-তেল আমদানির জন্য। ৪৮ বিলিয়ন থেকে এমনিতে ২০ হয়নি। কৃষি গবেষণা দরকার। পচনশীল পণ্য কাজে লাগাতে হবে। কোন মাসে কত প্রয়োজন এটা নির্ণয় করতে হবে। বাজারে কোনো পণ্যের যেন ঘাটতি না থাকে সেজন্য আমরা কাজ করছি। মিয়ানমার থেকে আদা, মরিচ আমদানির চেষ্টা করছি। ১২ মাস ভোক্তার কোনো পণ্যের যেন কোনো ঘাটতি না থাকে।

সামনে আরও ভালো সময় আছে—এমন আশাবাদ রেখে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুক্লমুক্ত কোটা ফ্রি সুবিধা পাচ্ছি। তিন মাসের রিজার্ভ আছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি ড. জিয়াকুন শি, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম প্রমুখ।


চামড়া নিয়ে এবারও হতাশা!

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুলতান আহমেদ

গেল কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদ এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চামড়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- চামড়ার জুতার দাম বেড়েছে, বেড়েছে গরুর দাম, তবে কেন চামড়ার এমন বেহাল দশা? সেই বেহাল দশা থেকে এবারও বের হতে পারছে না চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা। বছরের সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহের মৌসুমে এবারও কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও ঢের কম দামেই হাতে থাকা চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাদ্রাসা, মৌসুমি ব্যবসায়ী কিংবা চামড়ার মালিকদের।

আজ বুধবার কোরবানির ঈদের তৃতীয় দিনেও কিছু চামড়ার বেচা-বিক্রি চোখে পড়েছে পুরান ঢাকার পোস্তাসহ কয়েকটি জায়গায়। তবে কাঁচা চামড়ার পাইকারি বাজারখ্যাত লালবাগের পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন চামড়া কেনায় এবার তাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা পূরণ হয়েছে। ঈদের দিন সন্ধ্যা ও পরের দিন বেশির ভাগ চামড়া কেনার কাজটি সেরেছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার চলে তা সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজ। পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন এবারও গরমসহ নানা কারণে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, পোস্তায় এ বছর ঈদের ১ লাখের ওপরে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানকার পুরোনো ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর আগের বছরের তুলনায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে তারপরও তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করেছেন তারা। সেখানকার একজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের দিন বিকাল ৫টার পর থেকে চামড়া কেনা শুরু করেন তারা। সেদিন গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ হয়। এখন পর্যন্ত যা চলমান রয়েছে। কেন চামড়ার দাম এবারও কম জানতে চাইলে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার গরমের কারণে অনেকে চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছে’। ট্যানারি মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী তাদের অর্থ সরবরাহ করেননি বলেও জানান তিনি।

ঈদের আগে একাধিক বাণিজ্য সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ৫৫-৬০ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৫০-৫৫ টাকা। ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০-৫৫ টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ৪৫-৪৮ টাকা। এ ছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০-২৫ টাকা বর্গফুট ও বকরির চামড়া ১৮-২০ টাকা বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় মাঝারি সাইজের ২৫ বর্গফুটের চামড়ার দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৩৭৫ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। সেখানে লবণ, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলেও চামড়ার দাম দাঁড়ায় ১১শ থেকে ১২শ টাকায়। তবে ঈদ ও পরের দিন পোস্তার আড়তগুলোয় বড় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। সাইন্সল্যাব মোড় কিংবা হাজারীবাগে চামড়া বিক্রি হয়েছে আরও কম দামে, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান জানান, ‘পোস্তায় এ মৌসুমে ১ লাখ ৬০ হাজার চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এখনো কোথাও চামড়া অবিক্রিত থাকলে আমাদের ব্যবসায়ীরা তা কিনবেন। তবে চামড়াটা সঠিক উপায়ে সংগ্রহ করতে হবে। সময়মতো লবণ না দিলে সেই চামড়া কেউ কিনবে না’।

চামড়ার দাম কম কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে আফতাব খান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কেনা হচ্ছে। তবে কেউ যখন লবণ না দিয়ে চামড়া নিয়ে আসবে তখন প্রতি বর্গফুটে ৫ থেকে ৭ টাকা কম হতেই পারে’।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর গুটি পক্সের কারণে চামড়া নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়াও সঠিকভাবে মাংস ছাড়াতে না পারা, সময়মতো লবণ না দেওয়া আর অতিরিক্ত গরমের কারণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা। আলম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক হাজার চামড়া কিনেছে তার আড়ত। তবে সংরক্ষণ আর সঠিক সময়ে ট্যানারিতে পাঠানো নিয়ে এখনো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা আরও জানান, গরম থেকে চামড়া বাঁচাতে চাইলে জবাই করার ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দেওয়া প্রয়োজন। তা করতে না পারলে দ্রুত এনে তাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। চামড়াজাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে তারা বলেন, এটা নষ্ট হোক তা কারও জন্যই প্রত্যাশিত নয়। এ ছাড়া অনেক গরুর খামারে এখন মোটাতাজা করার জন্য গরুকে নানা ধরনের কেমিক্যাল মেশানো খাবার খাওয়ানো হয় যার ফলে চামড়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা।

বিষয়:

পোস্তায় কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৭ জুন, ২০২৪ ১৯:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় চলছে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা। আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকেই রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা ট্রাক-ভ্যানে করে চামড়া নিয়ে আসছেন লালবাগের পোস্তায়।

লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজনারায়ণ ধর ও আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। রাতে পুরোদমে চামড়া বেচাকেনা শুরু হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়ার সংগ্রহ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন আড়ত-সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছর গরুর কাঁচা চামড়া প্রতি পিস সর্বোচ্চ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তুলনামূলক ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকা পিস। এ ছাড়া খাসির কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় মাঝারি আকারের ২৫ বর্গফুটের লবণযুক্ত চামড়ার দাম হওয়ার কথা এক হাজার ৩৭৫ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এই হিসাব থেকে লবণ, মজুরি ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫০ টাকা বাদ দিলে ওই চামড়ার আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় এক হাজার ১২৫ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা।

ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে চামড়ার দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গত বছর যা ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ টাকা। এ ছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘চামড়া আসতে শুরু করেছে। আড়তের মালিকদের চামড়া কিনতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো।’


১০ হাটে ক্যাশলেসে কেনা যাচ্ছে কোরবানির পশু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ জুন, ২০২৪ ১০:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু কেনার জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নেওয়ার ঝামেলা যারা নিতে চান না তাদের জন্য থাকছে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নাটোরের ১০ হাটে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। মাস্টারকার্ডের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডিজিটাল পেমেন্টের গতি বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এসব পশুর হাটে একটি করে পিওএস মেশিন, দুটি এটিএম, এমএফএস সেবা ও একটি এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ বসানো হয়েছে। গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে ‘স্মার্ট হাট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানসহ ব্যাংক ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই ১০ পশুর হাটের মধ্যে ছয়টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও একটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়।

উত্তরার ডিয়াবাড়ীর বউ বাজার পশুর হাটে ব্র্যাক ব্যাংক ও ভাটারা এলাকার সুতিভোলা খালে ব্যাংক এশিয়া নগদ টাকা ছাড়াই লেনদেনের সুবিধা দেবে। মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটে সিটি ব্যাংক, বিকাশ ও নগদ এবং মিরপুরের গাবতলীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পশু কেনার টাকা পরিশোধ করা যাবে। এ ছাড়া এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং গরুর হাট এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কাছে পশুর হাটে ডিজিটাল লেনদেনের সেবা দেবে। দক্ষিণ ঢাকার বাসিন্দারা হাজারীবাগ পশুর হাটে পূবালী ব্যাংক থেকে এ সেবা পাবেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেনের সেবা পাওয়া যাবে চট্টগ্রামের সাগরিকা ও নূরনগর পশুর হাটে। নাটোরের সিংড়া পৌরসভার পশুর হাটে ডিজিটাল সেবা দেবে সোনালী ব্যাংক।

‘এতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই লাভবান হবেন’- উল্লেখ করে সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আরও বলেন, ‘টাকা সঙ্গে রাখলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই ঝুঁকি থাকে। তাই তারা টাকা হারানোর ঝুঁকি ছাড়াই গরু বেচা-কেনা করতে পারবেন।’ রাজধানীর ইন্দিরা রোড এলাকার বাসিন্দা কবির আহমেদ গাবতলীতে নগদ টাকা ছাড়াই পশু কেনার সুবিধার কথা জানতে পেরে খুশি। কারণ তিনি সেখান থেকে কোরবানির পশু কেনার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঝুঁকির মধ্যে নগদ টাকা নিয়ে হাটে যেতে ইচ্ছা করে না।’ সাধারণত কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড় থাকে। সেই ভিড়ে পকেটমার থাকার আশঙ্কা করা হয়। অথবা রাস্তায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। মাস্টারকার্ডের সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ ও ২০৩১ সালের মধ্যে নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এটি বড় উদ্যোগ।’ তিনি জানান, ঈদে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর একটি অংশ ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনতে পারলে তা অনেক বড় অর্জন হবে।


ঈদুল আজহা: মসলা কিনতে পকেট শূন্য হচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানি ঈদ এলেই মসলার প্রয়োজন বেড়ে যায়। রান্নার জন্য পেঁয়াজ, রসুন, আদার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে লাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গরম মসলাও।

মসলার ক্রেতাদের জন্য এখন দুঃসংবাদ। বাজরে মসলার খরচ জোগাতে পকেট শূন্য হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে মসলার খবর নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বাড়তি। শেষ কয়েকদিনের ব্যবধানেও দাম বেড়েছে আরেক দফা। এখন রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ দামের দিক থেকে শতক ছুঁইছুঁই করছে। কোথাও ছুঁয়েছেও। তবে মোটা দাগে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা আর একমাস আগে ৬০ টাকা ছিল।

একইভাবে গত একসপ্তাহে রসুনের দাম ২০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে আদার দাম। ৮০ টাকা বেড়েছে কেজিপ্রতি। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ২৪০-২৫০ টাকা ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য গরম মসলার দামও আকাশছোঁয়া।

এমন পরিস্থিতিতে ঈদের প্রয়োজনীয় এসব মসলা কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। একেবারে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা নিত্যপণ্যের দরে ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন।

এদিকে, দাম বাড়ার জন্য ছোট ব্যবসায়ীরা দায় চাপাচ্ছেন আমদানিকারক ও পাইকারদের ওপর। আর আমদানিকারক ও পাইকাররা দাঁড় করাচ্ছেন বিশ্ববাজার, ডলারের দর, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়াসহ নানা অজুহাত। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের আগে যেমনি নিত্যপণ্যের দর বাড়ালেন কৌশলী ব্যবসায়ীরা তেমনি কোরবানির আগেও সেই পথেই হাঁটলেন তারা। সুযোগ নিলেন চাহিদা বাড়ার।

গরম মসলার বাজারে এ বছর সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এলাচের। গত বছরের তুলনায় এখন মসলাটির দর প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। মানভেদে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬শ থেকে ৪ হাজার ২শ টাকা। গত বছর এ দর ছিল ১ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার ৪শ টাকা। অর্থাৎ এখন ১০০ গ্রাম খোলা এলাচ কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা।

জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা। খুচরা নিলে প্রতি ১০০ গ্রাম ১০০ টাকা রাখা হচ্ছে। গত বছর কোরবানির আগে জিরার কেজি কেনা গেছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।

প্রতি কেজি লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা। ১০০ গ্রাম ২০০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর ১৫০ টাকা ছিল। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম দারুচিনি ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, লং ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, গোলমরিচ ১০০ টাকা, তেজপাতা ৩০ টাকা এবং কালো এলাচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

একইভাবে বেড়েছে শুকনো মরিচের দামও। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো মরিচ ৫০ টাকা এবং কেজি ধরে কিনলে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতির দাম বেড়েছে প্রায় ১৫০ টাকা।

দাম বাড়ার এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তথ্যেও।

সংস্থাটির বাজারদর অনুযায়ী, এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০ শতাংশ, রসুনের দাম সর্বোচ্চ ৬৯, আদার ২৩, দারুচিনি ১৯, লবঙ্গ ১১, এলাচ ৮৭ ও তেজপাতার ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরে জিরার দর না বাড়লেও এক মাসে বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, অন্যান্য মসলার দাম আমদানি খরচের হিসেবে তুলনামূলক বাড়েনি বরং কম রয়েছে। শুধু এলাচের দামটা একটু বেশি। কারণ বেশিরভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। সেখানে এবার গরমের কারণে উৎপাদন কম হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন ডলারের দাম বেশি। বিশ্বব্যাপী মসলার দাম বেশি। মসলা আমদানিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে দাম বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা আবারও কিছুটা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। পাইকারিতে দাম তার চেয়ে কম। খুচরা ব্যবসায়রিা ২০, ৫০, ১০০ টাকার করে মসলা বিক্রি করেন, সেজন্য তারা দর কিছুটা বেশি নিচ্ছেন। তাদের ঘাটতি বেশি।


জুয়েলারি শিল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জুয়েলারি শিল্পের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের এল একসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রজেক্টের আওতায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতা প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ উপলক্ষে বাজুস ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আজ বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায় এবং বিশ্ব ব্যাংকের অ্যাসেট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় বাজুসের সহ-সভাপতি গুলজার আহমেদ, মো. রিপনুল হাসান, মাসুদুর রহমান, উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, কোষাধ্যক্ষ উত্তম বণিক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এই অ্যাসেট প্রজেক্ট। অ্যাসেট প্রজেক্টের অধীনে বাজুস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় জুয়েলারি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০০ ব্যক্তিকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জুয়েলারি শিল্পে কারিগরি দক্ষতার মান বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রজেক্টের আওতায় তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণে থাকছে জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারিং, জুয়েলারি ডিজাইন, জুয়েলারি ডিজাইন ক্যাড অপারেশন ও জুয়েলারি সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স।


তিন দফা কমার পর বাড়ল সোনার দাম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দফা দাম কমার পর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক হাজার ৭৩ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ৯৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

আজ মঙ্গলবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জুন এবং ২৪ ও ২৫ মে সোনার দাম কমানো হয়। তিন দফায় ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে তিন হাজার ৬৬২ টাকা কমানো হয়। এখন সোনার দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৭৩ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ৯৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ২৬ টাকা বাড়িয়ে এক লাখ ১১ হাজার ৬৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৮৭৪ টাকা বাড়িয়ে ৯৫ হাজার ৬৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৭৩৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ জুন সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ২৯৫ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ২৩৬ টাকা কমিয়ে এক লাখ ১০ হাজার ৬১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ৯৪ হাজার ৮১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত এ দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।

তবে সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দুই হাজার ১০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দুই হাজার ছয় টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম এক হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


টিসিবির জন্য ডাল-তেল কিনছে সরকার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৩৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সয়াবিন তেল এবং ২০৫ কোটি টাকার মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আজ মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন জানান, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। এতে ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনতে মোট খরচ হবে ২০৫ কোটি টাকা। নাবিল নাবা ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড থেকে এই মসুর ডাল কেনা হবে।

জানা গেছে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে, যা রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান নাবিল নাবা ফুড প্রোডাক্ট থেকে এই মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি লিটার ১৫০ টাকা ৯০ পয়সা হিসাবে এই সয়াবিন তেল কিনতে মোট খরচ হবে ৩৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

এই সয়াবিন তেল টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এ সয়াবিন তেল কিনতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দুটি দরপ্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এই সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এখন মন্ত্রিসভা কমিটি সেটিই অনুমোদন দিলো।


banner close