রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬
২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

মূল্যস্ফীতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৪ ১৭:৩৪

সরকার নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমাতে আমরা ভর্তুকির পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যেও পণ্য বেচবো। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি আমরা। আমরা ট্রাক সেলের পাশাপাশি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করছি। এই ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যেও পণ্য বিক্রি করা হবে। এতে করে ভোক্তারা উপকৃত হবেন।’

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বা‌জে‌টের আকার সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। ওই বাজেটের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

নতুন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে দুই লাখ ৮৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরে ছিল পাঁচ লাখ কোটি টাকা।

বাজেটে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পরে তা কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা হয়। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

বিষয়:

পাঁচ বছরে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ

আপডেটেড ৮ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশে কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে কার্ডের ব্যবহার, লেনদেনের ধরণ এবং কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। সময়ের ব্যবধানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি টাকায়।

বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক এবং একটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) কার্ড সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৫টি ব্যাংক ডেবিট কার্ড সেবা পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি শেষে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি।

পাঁচ বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখে। অর্থাৎ এই সময়ে মোট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১৫ শতাংশ।

এদিকে ২০২০ সালের আগস্ট শেষে দেশে সব ধরনের কার্ড ছিল প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ। পরে তা বেড়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৬৯ লাখে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যাংকের ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকেরা মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।

এই ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা, যা মোট ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। তাদের পর যুক্তরাজ্য, ভারত, মোজাম্বিক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও সৌদি আরবের নাগরিকেরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে এগিয়ে ছিলেন।


হরমুজ প্রণালি বন্ধে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনার আটকে পড়েছে সমুদ্রে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড রুটে জাহাজ আটকে থাকায় সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

শত শত পণ্যবাহী জাহাজ সাগরে আটকা পড়েছে। এর মধ্যে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনারগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এফটির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৪২৫টি কনটেইনার জাহাজের মধ্যে অন্তত ৯০টি পারস্য উপসাগরে আটকা আছে। এছাড়া ১০০টিরও বেশি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে মালামাল খালাস করা বর্তমানে অসম্ভব। হিমায়িত খাদ্য ও গবাদিপশুবাহী জাহাজগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন। দুবাইয়ের জেবেল আলী ও ওমানের সালালাহ বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এশিয়ার দূরবর্তী বন্দরগুলোতেও জট সৃষ্টি হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চারটি জাহাজে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য হালাল মাংস পরিবহনের উদ্দেশ্যে জীবিত গবাদিপশু আছে। শিপিং জায়ান্ট মায়ের্স্কের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জোহান সিগসগার্ড জানান, শেলফ লাইফ কম হওয়ায় হিমায়িত পণ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এসব পণ্যের জন্য বিকল্প স্টোরেজ খোঁজা হচ্ছে।

উপসাগরীয় বন্দরগুলো অকার্যকর হওয়ায় চাপ পড়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং উত্তর আফ্রিকার তানজিয়ার ও আলজেসিরাস বন্দরে। সিঙ্গাপুরে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য অপেক্ষার সময় ২ দশমিক ৯ দিন থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫ দিনে পৌঁছেছে। হ্যাপাগ-লয়েডের প্রধান নির্বাহী রলফ হাববেন জ্যানসেন জানিয়েছেন, তারা বিকল্প বন্দরের জন্য ব্যবস্থা করছে।

বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসি ১৯ শতকের একটি সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ করে জানিয়েছে, কনটেইনারগুলো নিকটস্থ সুবিধাজনক বন্দরে নামিয়ে দেয়া হবে। গ্রাহকদের নিজ খরচে সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৮০০ ডলার ‘ডেভিয়েশন কস্ট’ দিতে হবে।

স্থবির আকাশপথ ও সড়কপথের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এয়ার কার্গোর ১৩ শতাংশ স্থবির। অনেক বিমান অবতরণ করতে পারছে না। ডিএইচএল শত শত ট্রাক ব্যবহার করে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছে। লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সপ্তাহের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে।

শিপিং বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইস্তানবুল হাব সচল থাকায় তুর্কি এয়ারলাইনস ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ ও জ্বালানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


জ্বালানি সাশ্রয়ে মার্কেটে কমানো হচ্ছে আলোকসজ্জা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের দোকানপাট ও শপিংমলে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

শনিবার রাজধানীতে সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, 'এটি (জ্বালানি সংকট) আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি হয়েছে। এই সংকটটি তৈরি হয়েছে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে। আমরা মনে করি যেকোনো কারণেই হোক, আমাদেরকে সাশ্রয়ী হতে হবে। আগামীকাল (রোববার) থেকে আমরা সমস্ত মার্কেটে আলোকসজ্জাগুলো বন্ধ রাখব। পাশাপাশি খুব অপ্রয়োজনীয় বাতি যেগুলো আছে সেগুলো আমরা বন্ধ রাখব।'

এদিকে সরকারও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে জ্বালানি তেল সরবরাহ রেশনিং পদ্ধতিতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। একই সঙ্গে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা ঠেকাতে রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।


নারী দিবস পালনে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

৮ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের যে প্রস্তুতি চলছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকিং খাতেও দিবসটি যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

চলতি বছর দিবসটির জন্য সরকার নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো, ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সব ধরনের কর্মসূচি ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাদের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে ব্যাংকিং খাতে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হয়।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে এবং উদযাপন কার্যক্রমে নির্ধারিত প্রতিপাদ্যটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।


এআই চিপ রফতানিতে কড়াকড়ি বাড়াতে নতুন নীতি ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশে উন্নতমানের চিপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই চিপ রফতানির ওপর নতুন ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি নীতি প্রণয়নের কথা ভাবছে, যেখানে বিদেশি দেশগুলোকে মার্কিন এআই চিপ পেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে কোনো দেশ যদি দুই লাখ বা তার বেশি চিপ কিনতে চায়, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার নির্মাণ অথবা বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হতে পারে।

প্রস্তাবিত এই নীতির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। আগের জো বাইডেন প্রশাসন ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর জন্য চিপ রফতানিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই পদ্ধতি থেকে সরে এসে চিপ রফতানিকে কৌশলগত দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

এর ফলে এনভিডিয়া বা এএমডির মতো বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিদেশে চিপ রফতানি করবে, তখন পুরো প্রক্রিয়ায় মার্কিন সরকারের কঠোর নজরদারি থাকবে।

রয়টার্সের হাতে আসা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি এক হাজারের কম চিপের ছোট চালানের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কোনো দেশ যদি এক লাখ পর্যন্ত চিপ সংগ্রহ করতে চায়, তাহলে তাদের সরকারকে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে। আর চিপের পরিমাণ যদি দুই লাখের বেশি হয়, তাহলে প্রয়োজনে মার্কিন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারেন।

এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো উন্নত প্রযুক্তির চিপ ব্যবহার করে কোনো দেশ যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারে এমন শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার’ বা সুপারকম্পিউটার তৈরি করতে না পারে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এই মডেলের ভিত্তিতে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের বিনিময়ে মার্কিন চিপ সংগ্রহে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, এতে করে চিপের অবৈধ পাচার বন্ধ হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

বর্তমানে রাশিয়ার মতো কালো তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে এসব উন্নত চিপ রফতানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চীনের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে সেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।


কাতারের গ্যাস বন্ধ, স্পট মার্কেটে চড়া দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ তীব্র জ্বালানি চাপে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সরকার এখন খোলা বাজার থেকে অনেক বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহ করছে।

কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে সরকার গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে এবং অন্তত চারটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্চ মাসে উচ্চমূল্যে দুটি এলএনজি কার্গো আমদানির ব্যবস্থা করেছে বলে কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গানভোর থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৮ দশমিক ২৮ ডলার দরে একটি চালান কেনা হয়েছে। এটি আগামী ১৫ থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া ভিটোল থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ০৮ ডলার দামে আরেকটি চালান কেনা হয়েছে, যা ১৮ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বছরের শুরুতে কেনা এলএনজির তুলনায় এই দাম কয়েক গুণ বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১০ ডলারের কাছাকাছি দামে এলএনজি কিনতে পেরেছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে প্রায় ২৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় জ্বালানি আমদানির ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার আরেক কর্মকর্তা বলেন, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা ছাড়া সরকারের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না। সরবরাহ সংকটের কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জরুরি খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে চারটি সার কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে সেই গ্যাস অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকে আরও বেশি সময় ধরে অস্থির স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি খাতের এই অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সার কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে সারের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথ খুঁজছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চমূল্য দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করেনি, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

সূত্র: রয়টার্স


ভারতের জন্য রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩০ দিনের জন্য ভারতকে এই বিশেষ অনুমতি দিয়েছে, যাতে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল দেশটি কিনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, এটি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি ‘ইচ্ছাকৃত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ’।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালির আশপাশে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। ভারত তাদের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানির প্রায় অর্ধেক এই পথ ব্যবহার করে আনে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ওই পথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর মস্কোর তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক দেশ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে বাধ্য হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপরও চাপ তৈরি করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, রাশিয়া তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয়ে ব্যবহার করছে।

স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সাময়িক ছাড় রাশিয়ার জন্য বড় আর্থিক সুবিধা তৈরি করবে না। কারণ এতে কেবল সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে জিম্মি করার যে চেষ্টা করছে, এই সাময়িক ব্যবস্থার ফলে সেই চাপ কিছুটা কমাবে।’

হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার কারণে ভারতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতের মজুদে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস রয়েছে প্রায় ২৫ দিন ব্যবহারের মতো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, গত শনিবার শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের শীর্ষ গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি গত বুধবার কাতারের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জিকে জানিয়েছে, তাদের এলএনজি ট্যাংকার দোহার রাস লাফান টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ইতোমধ্যে শিল্প গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ কমাতে শুরু করেছে।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে দেশে আসে, যা মোট আমদানির প্রায় অর্ধেক। এই তেলের বেশিরভাগই আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত থেকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ভারতে তেলের বড় ধরনের সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং রাজস্বঘাটতিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ছাড় কার্যকর হলে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতের বন্দরের দিকে পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি বলেন, ‘এই ছাড় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ভারতের কাঠামোগত নির্ভরতায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনবে না।’

ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কারণ কিছুদিন আগে রাশিয়ার তেল কেনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ২৫ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ট্রাম্প তখন অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার তেল কিনে ভারত ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে ভারত শুরু থেকেই রাশিয়ার তেল কেনার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। দেশটির যুক্তি, বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানিচাহিদা মেটাতে এই তেল প্রয়োজন এবং তারা তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করার অধিকার রাখে।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে দেশটি।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দেন। ওই চুক্তির ফলে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল কিনতে সম্মত হয়েছেন।’

তবে ভারত কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। দেশটির অবস্থান হলো, অন্য কোনো দেশের নির্দেশে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে না।

সূত্র: বিবিসি


যানবাহনে জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে দিল বিপিসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং সম্ভাব্য মজুতদারি ঠেকাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি সরবরাহে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।

গত শুক্রবার জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিপিসি। নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিটি যানবাহন নির্দিষ্ট সীমার বেশি জ্বালানি নিতে পারবে না।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রোল/অকটেন) জ্বালানি নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা কারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)। এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাস নিতে পারবে ২০ থেকে ২৫ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)। পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ডিজেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিতে পারবে ২০০ থেকে ২২০ লিটার (ডিজেল)।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এর ফলে অনেক গ্রাহক ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন এবং কোথাও কোথাও অবৈধ মজুতের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ করতেই তেলের সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, "কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।"

জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক কমানোর বিষয়টিও উল্লেখ করেছে বিপিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির নির্ধারিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিতভাবে তেলের চালান দেশে আসছে এবং একই সঙ্গে প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময় ভোক্তাদের তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তীবার জ্বালানি নেওয়ার সময় আগের রসিদ দেখানোর কথাও বলা হয়েছে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী এবং ভোক্তার ক্রয় রসিদ যাচাই করে তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের জ্বালানি মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হবে।

এছাড়া ডিলারদের কাছে জ্বালানি সরবরাহের আগে তাদের বর্তমান বরাদ্দ ও মজুত পরিস্থিতি যাচাই করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।


ঈদে ছুটির দিনেও কাস্টমস- ব্যাংক খোলা রাখার দাবি রপ্তানিকারকদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি পণ্যের সরবরাহ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং বাণিজ্যের গতি ব্যাহত না হয়, সেই বিবেচনায় এ দাবি জানানো হয়েছে। এ জন্য ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত কার্যক্রম চালু রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। জানা গেছে, সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, তৈরি পোশাক খাত মূলত ফ্যাশন ও সময়নির্ভর একটি শিল্প। বিদেশি ক্রেতারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণের শর্ত দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে একদিকে উদ্যোক্তারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে বন্দর, কাস্টমস ও ব্যাংক খাতের অব্যাহত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সব সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের অন্যান্য কাস্টমস স্টেশন, ব্যাংক এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) খোলা রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া এই শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন। সময়মতো শিপমেন্ট সম্পন্ন না হলে শুধু অর্ডার বাতিল হওয়ার ঝুঁকিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর আশঙ্কাও থাকে।

তারা আরও জানান, আগের বছরগুলোতেও ঈদের ছুটির সময় কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চালু রেখে পোশাক রপ্তানিতে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও একই ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএমইএ।


সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারবাজারে বড় ধস, মূলধন কমলো ২০ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সারা সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে গেছে এবং বাজার মূলধনেও বড় ধাক্কা লেগেছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে। এর ফলে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে এবং বাজার মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের তুলনায় কমে এসেছে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ৩২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫ দশমিক ৫১ গুণ বেশি।

এমন দরপতনের প্রভাবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ২ দশমিক ৮৪।

বাজার মূলধনের পাশাপাশি মূল্যসূচকেও বড় পতন হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পুরো সপ্তাহে কমেছে ৩৫৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ভালো মানের কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫৭ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছিল।

ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও গত সপ্তাহে কমেছে ৬৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচক ২১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

লেনদেনের গতি কমার চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা প্রায় ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

লেনদেনের দিক থেকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে ৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আর প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ব্যাংক এশিয়া, বেক্সিমকো ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক।


যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা, দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা।

যুদ্ধ চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এবং অনেক দেশে জ্বালানি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো অচিরেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী। এই আশঙ্কার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে উঠেছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। তেলের দাম বাড়লে শুধু যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় নয়, ঘর গরম রাখা, খাদ্য ও আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে।" তিনি সতর্ক করে জানান, "যদি এই যুদ্ধ আরো কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।" তার ভাষায়, "এর ফলে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রতিটি দেশে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।" এদিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ ইতোমধ্যে এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছে এবং সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজিউর’ ধারা কার্যকর করেছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপে অনুভূত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের গাড়িচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, গত শনিবারের পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩ দশমিক ৭ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ৬ পেন্স বেড়েছে। ফলে গত ১৬ মাসের মধ্যে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আপাতত গৃহস্থালি জ্বালানি বিল বাড়ছে না। কারণ দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম জুলাই পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ নির্ধারণ করে রেখেছে।

বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে উৎপাদিত তেল মজুত করে রাখতে হবে। কিন্তু মজুতের জায়গা শেষ হয়ে গেলে কয়েক দিন বা বড়জোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। এমনকি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিকল্প পাইপলাইন ব্যবস্থা থাকায় তারা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে কিছু তেল পরিবহন করতে পারে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিকে ঘিরে ঝুঁকি যতদিন থাকবে ততদিন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার চাপ বজায় থাকবে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়াবে না, খাদ্যসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়াতে পারে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে যেখানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে শুরু করেছিল, সেখানে নতুন করে এই পরিস্থিতি মুদ্রাস্ফীতিকে আবারও উসকে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিভিন্ন দেশ জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে।


দেশের মোট ব্যাংক ঋণের সিংহভাগই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংক ঋণের সিংহভাগই এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এই দুই বিভাগ মিলেই দেশের মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশের অংশীদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তত্র জানা যায়।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে খুলনা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের মাত্র ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

ডিসেম্বর শেষে বরিশাল বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।

একই সময়ে সিলেট বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।

অপরদিকে ডিসেম্বর শেষে রংপুর বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক ঋণের বড় অংশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত থাকায় আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির বেশির ভাগ ঘটনাও এসব এলাকাতেই ঘটছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যাংক শাখা ও ব্যবসাকেন্দ্রও মূলত এই দুই বিভাগকে কেন্দ্র করেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য বিভাগে ঋণ কার্যক্রম বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কীভাবে কম ঋণ পাওয়া অঞ্চলগুলোতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ঋণ নবায়নের নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বড় ধরণের নীতিনিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংক খাতের চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে আগের কঠোর নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ঋণ 'মন্দ মানে' খেলাপি হওয়ার আগ পর্যন্ত তা নবায়ন করার সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা। ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই বিশেষ শিথিলতা বজায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে প্রায় আট মাস আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে সীমাতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ না করলে কোনোভাবেই তা নবায়ন করা যাবে না। ওই নির্দেশনার ফলে অনেক ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছিলেন এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন। তবে নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় এক ধরণের নমনীয়তা তৈরি করল। ব্যাংকগুলো এখন থেকে গ্রাহকদের ঋণের মান পর্যবেক্ষণ করে তা নবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

উল্লেখ্য, দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দুটি বড় ধরণের সুবিধা ঘোষণা করলেন। ঋণ নবায়নের পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য এক বছর মেয়াদী বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশীয় উৎপাদন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই জোড়া সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এই সুযোগে শ্রমিকদের বেতন সময়মতো পরিশোধ করতে পারবেন এবং ঋণের কিস্তি নিয়ে বাড়তি চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সাহসী ও ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপে শিল্প খাতের স্থবিরতা দূর হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। সব মিলিয়ে নতুন গভর্নরের হাত ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও সহজতর করবে।


banner close