রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

জুয়েলারি শিল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৪ ২১:২৪

দেশের জুয়েলারি শিল্পের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের এল একসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রজেক্টের আওতায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতা প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ উপলক্ষে বাজুস ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আজ বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায় এবং বিশ্ব ব্যাংকের অ্যাসেট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় বাজুসের সহ-সভাপতি গুলজার আহমেদ, মো. রিপনুল হাসান, মাসুদুর রহমান, উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, কোষাধ্যক্ষ উত্তম বণিক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এই অ্যাসেট প্রজেক্ট। অ্যাসেট প্রজেক্টের অধীনে বাজুস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় জুয়েলারি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০০ ব্যক্তিকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জুয়েলারি শিল্পে কারিগরি দক্ষতার মান বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রজেক্টের আওতায় তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণে থাকছে জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারিং, জুয়েলারি ডিজাইন, জুয়েলারি ডিজাইন ক্যাড অপারেশন ও জুয়েলারি সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স।


আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা, আউন্সপ্রতি দর পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।

এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।

ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।


একদিনে সূচক বাড়ল ৪ শতাংশ, ৫ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ৪ শতাংশ বা ২০১ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রবল সক্রিয়তায় প্রায় পাঁচ মাস পর বাজারের দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই উত্থানকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা এবং নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৬৪টি শেয়ার ও ইউনিট, বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২৬টির। অর্থাৎ দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল ১৪ গুণ বেশি। সূচকটি আগের দিনের তুলনায় বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনের দিক থেকেও আজ রেকর্ড হয়েছে; বাজারটিতে মোট ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। আজকের লেনদেনে শীর্ষস্থানে ছিল সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নিয়মিত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা শেয়ারবাজারের এই ইতিবাচক মোড় নিতে সহায়তা করেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উচ্চ সুদহার বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হবে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এমন একটি সাময়িক উত্থান দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে স্থির হয়ে যায়। তাই বাজার স্থিতিশীল করতে সুদের হার সমন্বয় এবং বাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার (আইপিও) আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ সবকটি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেখানে অংশ নেওয়া ২২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসইর পরিচালকসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের এই আস্থাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন। দিনশেষে, নির্বাচনের পর প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারের এই চনমনে ভাব অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।


বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে বিজিএমইএ-র অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় এই নিরঙ্কুশ জয়কে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের অনন্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে যে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে, তা দেশের আপামর জনতার গণরায়েরই প্রকৃত প্রতিফলন।

বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করে যে, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব কার্যকর হবে বলে বিজিএমইএ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে। দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সন্ধিক্ষণে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের দূরদর্শী নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসা-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশাবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিজিএমইএ পরিবারের যেসব সদস্য বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংগঠনটি মনে করে। অভিনন্দন বার্তার শেষাংশে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ পরিচালনায় তার সকল উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।


বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষায় ডব্লিউটিও মহাসচিবের সতর্কবার্তা

ব্লিউটিওর মহাপরিচালক ড. এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেছেন যে, অভিন্ন নিয়ম না থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ‘বিশৃঙ্খলায়’ নিমজ্জিত হতে পারে। জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সংস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এগুলো এখনো অপরিহার্য। ডব্লিউটিও প্রধানের মতে, ‘প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য দ্বিপক্ষীয় সংস্থাগুলো এখনো অপরিহার্য।’

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এ সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজনীয়। ডব্লিউটিওর মতো ফোরাম দেশগুলোকে একত্র হওয়ার এবং এসব সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টায় সুযোগ করে দেয়।’ তবে সংস্থার বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, ডব্লিউটিওর ‘বর্তমান অবস্থা টেকসই নয়’। বহুপক্ষীয় এই মঞ্চকে সময়োপযোগী করার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমাদের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোকে কার্যকর হতে হলে পরিবর্তন আনতেই হবে।’

সংস্থা প্রধান হুঁশিয়ারি দেন যে, সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসায়ীরা শুল্কহার, পণ্যের মানদণ্ড ও শুল্ক প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ১৯৩০-এর দশকের সেই বিধ্বংসী সুরক্ষাবাদী নীতির ঘূর্ণাবর্তে ফিরিয়ে নিতে পারে। প্রতিটি দেশ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করলে যে অরাজকতা তৈরি হবে, তা কেউ দেখতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংকট নিরসনে চলতি বছরের শেষ দিকে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংস্থাকে আরও সহনশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মহাসচিব।


সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর এই চাল রপ্তানির পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।

রপ্তানি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে। শর্তানুযায়ী, ‘প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হতে হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।’ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত চাল কোনোভাবেই রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজিকরণ শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে অহস্তান্তরযোগ্য, ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে এই কাজ করাতে পারবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতি অনুযায়ী সাধারণ চাল বিদেশে পাঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে গড়ে মাত্র ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগের মতো বিভিন্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানির এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে সম্পন্ন হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া পর্যন্ত সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সময় বৃদ্ধি করায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী পুনরায় সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাবে।


এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন এবং জাপানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের সূচকগুলো বর্তমানে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজারের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী ধারার ওপর ভর করে এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক সূচকটি গত বৃহস্পতিবার দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহেই এই সূচকটি প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

জাপানের নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচির বিজয় দেশটির শেয়ারবাজারে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা মূলত তার নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া অর্থনৈতিক শিথিলতার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচি সরকার অর্থনৈতিকভাবে অধিক দায়িত্বশীল হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে মুদ্রাবাজারে ইয়েন এক সপ্তাহে ২.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। জাপানের এই বিপুল বিজয় সরকারকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা প্রদান করবে এবং বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশটিতে বেকারত্বের হার হ্রাস পাওয়া এবং কর্মসংস্থান অপ্রত্যাশিতভাবে গতিশীল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক স্বল্পমেয়াদে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি রিটার্ন একদিনে ৫.৮ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত অক্টোবর মাসের পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

ইউরোপীয় ফিউচার সূচকগুলোও একটি আশাব্যঞ্জক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ নতুন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুমে বিনিয়োগকারীরা করপোরেট খাতের মুনাফা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সামগ্রিকভাবে আমেরিকার কর্মসংস্থান তথ্য এবং জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে ডলারের আধিপত্য এবং অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের দৃঢ় অবস্থান মুদ্রাবাজারে এক বিশেষ ভারসাম্য তৈরি করেছে, যার সুফল সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো বৈশ্বিক শেয়ার সূচকগুলোতে।


নির্বাচন পরবর্তী হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিনের বিরতি কাটিয়ে আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। হিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনদিন বন্ধের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে।’ আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমানও বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হিলি স্থল বন্দরের কাস্টমস বিভাগের সুপার এম আর জামান বন্দরের বর্তমান কর্মব্যস্ততা সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার দুপুরে এই স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ভুট্টা, মসলা ও ফল বোঝাই বেশ কয়েকটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো থেকে মালামাল খালাসের কাজ চলছে। বন্দরের সবধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে’। মূলত আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং মালামাল খালাস প্রক্রিয়া সচল হয়।

বন্দরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া প্রসঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ নিরোধ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধের পর আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক হয়েছে বন্দরের অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রম।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভারত থেকে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তা আনলোড হয়ে দেশি ট্রাকে লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।’ বর্তমানে বন্দরে ভুট্টা, মসলা ও ফলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শ্রমিকদের পণ্য খালাসের ব্যস্ততায় বন্দরের পরিবেশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।


মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগে ঘাটতি ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যেকোনো দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মজবুত ভিত্তির ওপর, তবে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অপুষ্টি, শিক্ষার নিম্নমান এবং অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে এসব দেশে মানবসম্পদ গঠনের প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

‘বিল্ডিং হিউম্যান ক্যাপিটাল হোয়্যার ইট ম্যাটার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২৯টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে ৮৬টিতেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা অথবা কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিখনের ক্ষেত্রে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। সংস্থাটির মানব উন্নয়নবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মামতা মূর্তি বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও সুরক্ষার সক্ষমতার ওপর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সমৃদ্ধি নির্ভর করে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক দেশ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির পুষ্টি, শিক্ষা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনীতিতে টেকসই কর্মসংস্থানের ধরন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।’

বিশ্বব্যাংকের এই বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি এই দেশগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়ন তাদের সমপর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মতো হতো, তবে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গড়ে ৫১ শতাংশ বেশি আয় করতে সক্ষম হতো। প্রতিবেদনে আশঙ্কাজনক চিত্র হিসেবে সাব-সাহারা আফ্রিকার উদাহরণ টানা হয়েছে, যেখানে শৈশবকালীন অপুষ্টির কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের গড় উচ্চতা ২৫ বছর আগের তুলনায় কমে গেছে। এ ধরনের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত অবনতি সরাসরি মানুষের আয়ের সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া ১৫ বছর আগের তুলনায় এই অঞ্চলের শিশুদের পড়াশোনার মানও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, পারিবারিক পরিবেশ এবং স্থানীয় সামাজিক পরিস্থিতিও শিশুদের ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। যেমন, চীনে কর্মসংস্থানের তাগিদে বাবা-মা দূরে থাকায় আত্মীয়দের কাছে বড় হওয়া শিশুরা তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাদের মেধা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে সান সালভেদরের গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অর্জন পার্শ্ববর্তী নিরাপদ এলাকার মানুষের চেয়ে অনেক কম।

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগের অভাবও অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এসব দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী কোনো আনুষ্ঠানিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং যারা কাজ করছেন তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষি বা নিম্নমানের আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত, যেখানে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। তবে এই সংকটের মাঝেও জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরগিজস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো তাদের আয়স্তরের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে যে, অভিভাবক সহায়তা কর্মসূচি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং শিক্ষানবিশ কাজে সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক এখন সরাসরি সাহায্যের বদলে এমন সব বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে যা মানুষের ব্যক্তিগত আয় ও জাতীয় অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে সহায়ক হবে।


বিএনপির বিশাল বিজয়ে তারেক রহমানকে বিটিএমএ-র অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শিল্পখাত, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতের সামগ্রিক অগ্রগতিতে নতুন এই নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিটিএমএ জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ায় বিটিএমএ-র চারজন সদস্যকে বিশেষ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তারা হলেন—সংগঠনটির সহসভাপতি মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা-৯), পরিচালক আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ-৩) এবং সদস্য এস এম ফয়সাল (হবিগঞ্জ-৪) ও মঞ্জুর এলাহী (নরসিংদী-৩)। সংগঠনটি মনে করে, নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ও দূরদর্শী পদক্ষেপে দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।

বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে প্রত্যাশা করা হয়েছে যে, টেক্সটাইল খাতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কাঁচামালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

সংগঠনটি আরও আশা প্রকাশ করেছে যে, শিল্পখাতের সম্প্রসারণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে। পরিশেষে, বিটিএমএ-র পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সকল প্রতিনিধিদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।


ভোটের ছুটিতে বাজারে সরবরাহ সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যদিও নির্বাচনের সময় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না, তবুও ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আমিষের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল, তবে আজ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাইকারি বাজারে চড়া মূল্যের প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, দোকানপাটের একটি বড় অংশই বন্ধ রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মূলত ভোট দিতে ঢাকার বাইরের স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থান করায় বাজারে জনসাধারণের আনাগোনা এখনো কম। সকালে রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম, মুলা ও বেগুন মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৪০-৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৮০-৯০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি হালি লেবু ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সালাদের জন্য ব্যবহৃত শসা, গাজর ও টমেটোর দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

মশলা ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০ টাকায় ঠেকেছে, যা গত সপ্তাহে ৫০ টাকা ছিল। আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ২৮০-৩২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিং মাছ ৬৫০-৭৫০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আমিষের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০-১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩০০ টাকার নিচে ছিল। গরুর মাংসের দামও কিছুটা বেড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মুরগি ও মাংসের দাম বাড়লেও ডিমের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতেই স্থির রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি এমন অস্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদায় স্থবিরতা ও সরবরাহ উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে আগের তুলনায় অনেকটাই ধীরগতিতে সম্পন্ন হতে পারে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হারে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় ৮০ হাজার ব্যারেল কম। এছাড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও তেলের উচ্চমূল্যের আশঙ্কায় ২০২৬ সাল নাগাদ পণ্যটির সামগ্রিক ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আইইএর মাসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ দৈনিক গড়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৪ শতাংশের সমান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর আমেরিকায় তুষারঝড়, চরম আবহাওয়া এবং কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আইইএ ২০২৬ সালের সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূর্বের ২৫ লাখ ব্যারেল থেকে কমিয়ে ২৪ লাখ ব্যারেলে পুনঃনির্ধারণ করেছে।

জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ওপেক প্লাস এবং গায়ানা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনায় রয়েছে, যদিও ওপেক প্লাস ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে; গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় তেলের দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২ সেন্ট কমে ৬৭ ডলার ৪০ সেন্ট এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ সেন্ট কমে ৬২ ডলার ৭১ সেন্টে নেমে এসেছে।


বিকাশ, রকেট ও নগদে আর্থিক লেনদেনে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্থের অবৈধ ব্যবহার রোধে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার ওপর আরোপিত চার দিনের বিশেষ সীমাবদ্ধতা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত লেনদেন সীমা শিথিল হওয়ায় এখন থেকে সকল প্রকার আর্থিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে সচল হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া ৯৬ ঘণ্টার এই কঠোর নির্দেশনার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে নানাবিধ ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।"

উক্ত সময়কালে এমএফএস ব্যবহারকারীরা পিটুপি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে বাণিজ্যিক কেনাকাটা বা মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াটি প্রচলিত নিয়মেই সচল রাখা হয়েছিল। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সকল লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বর্তমানে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং খাতে পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূলত নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।


নির্বাচনের আগে প্রতিদিন গড়ে ১,৫৫০ কোটি টাকার প্রবাসী আয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরণের গতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ৯ দিনেই প্রবাসীরা ১১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকার সমতুল্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার প্রবাসী আয় দেশে আসছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত উৎসবের আগে রেমিট্যান্স বাড়লেও এবার নির্বাচনের কারণে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; মূলত বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের একটি বড় অংশ প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশে আসছে।

প্রবাসী আয় আসার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কেবল এ মাসেই নয়, বরং গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যখন দেশে যথাক্রমে ৩২২ ও ৩১৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ এসেছিল। ২০২৫ সালে অর্জিত মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ডলারের সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধিতেও সক্ষম হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে প্রবাসী আয় আসা বাড়লেও চলমান নির্বাচনের কারণে ব্যাংকগুলো টানা চার দিন বন্ধ থাকায় অর্থ উত্তোলনে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন সুবিধাভোগীরা। সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকে টাকা তোলার সুযোগ না থাকায় গ্রাহকেরা বর্তমানে কেবল এটিএম বুথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যাচ্ছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর সেবা এবং মোবাইল ব্যাংকিং তথা বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো সেবাগুলো সীমিত করায় ডিজিটাল মাধ্যমে প্রবাসী আয় উত্তোলনের পথ বর্তমানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য নগদ অর্থের সংস্থান এখন এটিএম কার্ড কেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।


banner close