ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন বা কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা এবং প্রকৃতপক্ষে রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তির সংখ্যায় ব্যাপক ব্যবধান থাকায় দেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ শতাংশ টিআইএনধারীর রিটার্ন দাখিলের আশা ছেড়ে দিয়েছে।
দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুসারে, এর মধ্যে গত ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ৬৭ লাখ টিআইএনধারী ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি কাগজপত্রে যে টিআইএনধারী আছেন, তাদের মধ্য থেকে ৪০ লাখের কাছ থেকে রিটার্ন পাওয়া যাবে না।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কী কী কারণে রিটার্ন জমা হচ্ছে না, এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমরা দুই মাস আগে চেয়ারম্যানের (এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম) কাছে জমা দিয়েছি।’
রিটার্ন জমা না দেওয়া এই টিআইএনধারীদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, একবার টিআইএন রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চাইলেই যেকোনো টিআইএন বন্ধ করা যায় না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে আয় না থাকলে টিআইএন স্থগিত করার একটি বিধান আনা হলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।
আয়কর বিভাগ প্রায় ৫৪ লাখ টিআইএনধারীর ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়ার বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছে আয়কর বিভাগ।
কেবল জমি বিক্রয় এবং অন্যান্য সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্য হয়ে টিআইএন নেওয়া, বাধ্য হয়ে টিআইএন নেওয়া প্রান্তিক ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হওয়া, মৃত্যু দীর্ঘ সময় ধরে করযোগ্য আয় না থাকা, সচেতনতার অভাব, প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন (পিএসআর) শো করার বাধ্যবাধকতা না থাকা, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোয় করের আওতার বাইরে চলে যাওয়াসহ অন্যান্য কারণে আলোচ্য টিআইএনধারীদের কাছ থেকে রিটার্ন পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন কর কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করা, কোম্পানির অবসায়ন বা বিলুপ্তি, করদাতার প্রবাসে থাকা, একই ব্যক্তির দুইবার টিআইএন নেওয়া এবং টিআইএন তথ্যভাণ্ডারে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় বিপুলসংখ্যক টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে আয়কর বিভাগ।
করদাতারা অর্থবছরের যেকোনো সময় রিটার্ন জমা দিতে পারেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর। যারা এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি তারা পরেও জরিমানা পরিশোধ করে অথবা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এনবিআরের প্রতিবেদনে একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ১০ লাখ টিআইএনধারী আছেন, যারা নতুন করে টিআইএন নিয়েছেন এবং তাদের রিটার্ন দেওয়ার সময় আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছর। ফলে বাধ্য না হওয়ায় তারা রিটার্ন দেননি।
জমি বিক্রয়ের সময় বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে টিআইএন নিয়েছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি এমন সংখ্যা অন্তত ৫ লাখ ২৮ হাজার। এসব টিআইএনধারীর বেশির ভাগের কাছ থেকেই রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া বিভিন্ন অফিসে সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্য হয়ে টিআইএন নিয়েছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার।
সচেতনতার অভাবে রিটার্ন জমা দেননি প্রায় ৩ লাখ। ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া প্রান্তিক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা পরবর্তী সময় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কারণে রিটার্ন জমা দেননি- এই সংখা আড়াই লাখের বেশি।
এ ছাড়া মৃত্যুবরণ করা প্রায় আড়াই লাখ টিআইএনধারী আছেন, যাদের উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে ওই টিআইএনের বিপরীতে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনাও কম দেখছেন কর কর্মকর্তারা। অন্যদিকে করযোগ্য আয় নেই, এমন দুই লাখের বেশি টিআইএনধারীরও রিটার্ন দিচ্ছেন না। ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্ট কিনেছেন কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি, এমন আছেন ২ লাখের বেশি।
এ ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন কারণে সব মিলিয়ে আরও ১১ লাখের বেশি টিআইএনধারীর রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না।
রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার কোম্পানি রিটার্ন জমা দেয়নি।
যৌক্তিক কারণে যারা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, এনবিআরের তথ্যভাণ্ডার থেকে তাদের টিআইএন মুছে ফেলার সুপারিশ করেন বিশেষজ্ঞরা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মৃত্যু বা বয়স হওয়াসহ যৌক্তিক কারণে যাদের কাছ থেকে ট্যাক্স রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, ওই সব টিআইএন শনাক্ত করে তা এনবিআরের ডাটা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। আর যাদের করযোগ্য আয় নেই কিন্তু রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা আছে, তাদের জন্য সহজ এবং সংক্ষিপ্ত একটি রিটার্ন জমার সুযোগ থাকা উচিত।
আইনগতভাবে এর একটি সমাধান করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশেও টিআইএন সহজে বাতিল করার সুযোগ কম। কিন্তু সেখানে পুরো ব্যবস্থাপনা অটোমেটেড হওয়ায় যেকোনো কার্যক্রম সহজে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তা খুবই কঠিন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের তুলনায় এবার ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। গত রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির এলসি সম্পন্ন করা হয়েছিল। মূলত আমদানিকারকদের মাধ্যমে মজুদ করা পণ্যগুলো সঠিকভাবে ডিস্ট্রিবিউশন বা বিতরণ করা হলে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির অবকাশ থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, “কোনো পণ্যেরই কোনো প্রকার ঘাটতি দেখা যাবে না। আর যদি ঘাটতি দেখা না যায়, অর্থনীতির স্বাভাবিক সংজ্ঞায় চাহিদা মোতাবেক যদি যোগান থাকে মূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ করা আছে। আমদানিকারকরা মজুদ করা পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ করলে আশা করি কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না।” ইতিপূর্বে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির এই উচ্চহার নবনির্বাচিত সরকারের জন্য রমজানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে যা বাজারে পণ্য সরবরাহে গতি আনবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর পৌঁছে দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নাগালে নিত্যপণ্যের দাম রাখতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো পাঁচটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সারাদেশে সরবরাহ করবে সরকারি এই সংস্থাটি। সারাদেশের সিটি করপোরেশন, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে চারশ’র বেশি ট্রাকের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং একই সাথে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝেও পণ্য বিতরণ অব্যাহত থাকবে। টিসিবির প্রস্তুতি অনুযায়ী ডিলারদের ইতোমধ্যে পণ্য নিতে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে যেখানে প্রতিটি ট্রাকে অন্তত ৪০০ জন ভোক্তার জন্য মালামাল বরাদ্দ থাকবে।
টিসিবি'র মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, “পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কতিপয় পণ্য ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করবে, এটা এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সময় ১৭ (ফেব্রুয়ারি) তারিখ থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং এটা সারা দেশব্যাপীই হবে- প্রতিটি জেলা, সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে এটা হবে।” অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সাজার দাবি জানিয়ে ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “সুযোগ পেলে দাম বাড়াবে এই ধরণের টেনডেন্সি থেকে বের হয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়া দরকার।
আমরা বারবার বলেছি, শুধুমাত্র জরিমানাই কিন্তু একক (একমাত্র) শাস্তি নয়।” সাধারণত প্রতি বছর রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে টিসিবির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে এক কোটি পরিবার কার্ডধারীসহ সাধারণ মানুষও খোলা ট্রাক থেকে পণ্য কেনার সুবিধা পাবেন যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা ও সরবরাহ বৃদ্ধির খবরের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে স্থির অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৭.৭৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। ব্রেন্ড ক্রুড এবং ইউএস ডব্লিউটিআইয়ের দামে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেলেও ডব্লিউটিআই ব্যারেল প্রতি ৬২.৯১ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করায় বাজারে সরবরাহ বাড়ার পূর্বাভাস তৈরি হয় যা তেলের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে পারমাণবিক বিরোধ সমাধান ও নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ইরান জানিয়েছে, “সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।” এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের নিজস্ব শর্তে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো ফলাফল আসা নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝে সংশয় রয়েছে। বর্তমানে ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল মাস থেকে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে পুনরায় তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ভূরাজনৈতিক এই অনিশ্চয়তার কারণে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার প্রধান সূচকগুলোর পতনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতনে এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্টের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এদিন লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৮টিরই দরপতন ঘটেছে এবং প্রধান তিন সূচকই গত কার্যদিবসের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। মূলত বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিক্রয়চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচকটি ১১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে যা শতাংশের হিসেবে ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। একইভাবে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮ দশমিক ৬২ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০- ৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দিনভর মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণে জানান, “সূচকের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে; তবে সামগ্রিকভাবে সতর্ক অবস্থানে থেকেই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।” বিগত কয়েক কার্যদিবসে বাজারের মিশ্র প্রবণতার পর আজকের এই পতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বর্তমানে বাজারের এই অস্থিতিশীলতা নিরসনে এবং লেনদেনের গতি ফেরাতে পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকে কড়া নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ অংশীজনরা।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জেন্ডার-স্মার্ট এবং জলবায়ু-সমন্বিত অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইন্সট্রুমেন্ট চালু ও সম্প্রসারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের (আইআইএক্স) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই অংশীদারত্বের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের শেয়ারবাজারে টেকসই অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাবসম্পন্ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ডিএসইর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইআইএক্সের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই একটি স্বতন্ত্র থিম্যাটিক বা টেকসই অর্থায়ন শ্রেণির অধীনে অরেঞ্জ বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করবে এবং বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও বাজার প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে কাজ করবে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, “জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআইএক্সের সঙ্গে এই উদ্যোগ উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ চালু এবং টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।” একই অনুষ্ঠানে আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অরেঞ্জ পুঁজিবাজার এগিয়ে নেওয়ার এই সহযোগিতা লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াবে।”
দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে উভয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অরেঞ্জ ইন্সট্রুমেন্টকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ঋণ সিকিউরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথ কর্মশালা ও নীতিগত সংলাপ আয়োজনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আসল নোটের সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। মূলত আসল টাকার নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি বা বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই জরুরি বার্তা প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকৃতির নমুনা নোট ব্যবহার করে নিজস্ব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বাজারে জাল নোটের বিস্তার ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্ৰদৰ্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” দণ্ডবিধির আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি এরূপ নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা প্রচলনে থাকা ব্যাংক নোট সদৃশ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং উক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনসাধারণকে এই ধরনের অননুমোদিত প্রচারণা ও কন্টেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদান করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বেশ ইতিবাচক থাকলেও দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই শূন্য রেমিট্যান্সের তালিকায় একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি আশাব্যাঞ্জক খবর হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে কোনো প্রবাসী আয় জমা হয়নি। এ ছাড়া বিদেশি খাতের আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমেও ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা কোনো অর্থ পাঠাননি। মূলত প্রবাসীরা যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেশি লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে পৌঁছেছে। বিপরীতে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ২১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, "ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।" বর্তমান অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় সুখবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নতুন সময়সূচিতে শেয়ার কেনাবেচা চলবে।
রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত ডিএসই সূত্রে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে লেনদেন ১টা ৪০ মিনিটে শেষ হবে এবং এর পরবর্তী ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন হিসেবে গণ্য হবে। রমজানে লেনদেনের সময়সূচির বিষয়ে ডিএসই জানায়, “শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হবে। আর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।” এই সেশনে নতুন কোনো দাম প্রস্তাব করার সুযোগ না থাকলেও বিনিয়োগকারীরা দিনের সমাপনী বা ক্লোজিং দামে শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চললেও প্রতি বছরই রমজান মাসে বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর বাজার পুনরায় তার নিয়মিত সময়সূচিতে ফিরে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ডিএসইর দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময়ও সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ বিবেচনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটি এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি মাসে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে রিটার্ন দাখিলে বিঘ্ন ঘটায় এনবিআর এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ-চালান সিস্টেমে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ করদাতারা সময়মতো তথ্য হালনাগাদ করতে পারেননি যার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের উচ্চপর্যায় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, “জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৬ তারিখের পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” সাধারণত প্রতি মাসের ১৬ তারিখে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সময় বাড়ানো হলো। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট সার্কেল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বর্ধিত সময় অনুযায়ী রিটার্ন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়। ডিএসই-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
পেশাগত এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে হাসান ও. রশিদ জানান, “বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি প্রাইম ব্যাংকের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এপ্রিলেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, যেখানে বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সফল নেতৃত্বের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও ব্যাংকটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে; গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এই ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার প্রায় ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা ক্যানসার নিরাময়কারী ওষুধের অভাবনীয় বিক্রি বৃদ্ধির সুবাদে গত বছরে তাদের নিট মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসার ও ওষুধ বিক্রির উল্লম্ফন প্রতিষ্ঠানটিকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তারা এই আর্থিক অর্জনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কৌশল এই সাফল্যের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক বিবৃতিতে গত দুই বছরের লভ্যাংশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর পরবর্তী মুনাফা ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় এই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মাঝে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও গম আমদানি শুরুর আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গম আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখনই বড় কোনো তৎপরতা শুরু করছেন না। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে গমের দাম কম। এখনই গম আমদানি সম্ভাবনা নেই। তারা মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন গমের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, কিছুদিন মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন গম আসতে শুরু করবে। তখন দাম অনেকটা কমে আসবে। সে সময় আমদানি শুরু হবে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।
এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।
ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।