সংকটকালে নয়-ছয় সুদের হার বহাল রাখা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি ও পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ালে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না। বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাবে। তখন ব্যাংকগুলোও বিপদে পড়বে। তাই আমি মনে করি যে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, তাদের আমাদের একইভাবে দেখা উচিত। আর নতুন করে কেউ যাতে খেলাপি না হয় তাদের জন্য বর্তমান সুদের হার বহাল রাখা উচিত।’
গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ সরকারের কাছে এ অনুরোধ করেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে আগামী দিনগুলো কেমন যাবে? রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা কী সম্ভব হবে? নাকি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে। একজন ব্যবসায়ী নেতা পোশাক শিল্প খাতের একজন বড় উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার বিশ্লেষণ জানতে চাই।
গত অর্থবছর ছিল করোনাভাইরাস থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। সব দেশই ভালো করেছে। গত বছর প্রায় সব দেশের অর্থনীতি ভালো ছিল। আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল। গত অর্থবছর আমরা রপ্তানিতে যে ৩৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি দেখেছি, সেটার কারণ হচ্ছে কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। রপ্তানিতে আসলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ।
কিন্তু এখন সারা পৃথিবীতে ডলার ক্রাইসিস আছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে একটি বড় মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমেরিকাতে মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে বেশি। যুক্তরাজ্য, জার্মানি সব দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের ঘরে। এর বড় কারণ হচ্ছে যুদ্ধ। সারা পৃথিবীর চাহিদার ৪০ শতাংশ খাদ্যশস্য সরবরাহ করত এই দুটি দেশ রাশিয়া-ইউক্রেন। এ ছাড়া ইউরোপ তেল এবং গ্যাসের জন্য নির্ভর করে রাশিয়া আর ইউক্রেনের ওপর। সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি হু হু করে বাড়ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।
যদিও আমি মনে করি যে, বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো আছে। এটা সত্যি যে, আমাদের বৈদেশিক বিনিময় হারের ওপর চাপ এসেছে; যেহেতু আমাদের অনেক আমদানি করতে হয়। আমাদের তেল, গ্যাস, কাঁচামাল আবার কিছু খাদ্যশস্য আনতে হয়। কিন্তু আমাদের শক্তির দিক আছে। আমাদের শক্তি হচ্ছে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি। আমাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের কৃষক ভাইরা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। আমাদের দেখতে হচ্ছে দেশি কোম্পানিগুলোর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। আবার রপ্তানি খাতে কারও চাকরি চলে না যায়। বড় বাধা এনার্জি ক্রাইসিস। সরকার চাইলেই কিন্তু বেশি দামে শক্তি কিনতে পারছে না। বাংলাদেশ কিন্তু নিজেই কিছু শক্তি উৎপাদন করে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার যে সমস্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর বিভিন্ন ভাবে তা ঠিক করার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে দেশে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো হয়েছে। ফলমূল কম আসছে কসমেটিকস কম আসছে। এ বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি মার্জিন করেছে ১০০ শতাংশ। আবার এনবিআর কর বসিয়েছে। এতে কাজ হয়েছে।
কিন্তু ডলারের বাজার তো স্থিতিশীল হচ্ছে না। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছেই। এ অবস্থা আর কতদিন চলবে?
কিছু কিছু উন্নয়ন হচ্ছে। গত বছর আমাদের আমদানি হয়েছিল ৮৯ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি হয়েছিল ৫৩ বিলিয়ন ডলার। সেটা সবাইকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গত মার্চ মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি হয়েছিল। সেটা কমে সেপ্টেম্বরে ৫ বিলয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। ৫ মিলিয়ন ডলারের ওপর যেসব এলসি হচ্ছে, সেটা দরকার আছে, কি নেই সেটা দেখা হচ্ছে। তাতে কাজ হচ্ছে। কিন্তু রেমিট্যান্সটা একটু কমে গেছে। তবে রপ্তানিটা কিন্তু নির্ভর করে বিদেশের ওপরে। সেপ্টেম্বরে আমাদের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ রপ্তানি কমেছিল। অক্টোবরেও প্রবৃদ্ধি একই পরিমাণ কমেছে। তবে সেপ্টেম্বরের চেয়ে কিন্তু সার্বিক রপ্তানি অক্টোবরে বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার এসেছিল। অক্টোবরে এসেছে ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
একইসঙ্গে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৪ মাসের (জুলাই-অক্টোবর) তথ্য যদি আমরা দেখি, তা হলেও কিন্তু ৭ শতাংশে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের জুলাই-অক্টোবরের চেয়ে এই বছরের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ৭ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। এটার কারণ হচ্ছে চায়না এখন আর কাপড় বানাতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা গার্মেন্টসের ওয়ার্কার পাচ্ছে না। ভিয়েতনাম ইলেকট্রনিকস আইটেমের দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে বার্মার সমস্যা রাজনীতি। আফ্রিকায় সমস্যা কম্বোডিয়ায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কাস্টমার ফোকাস করছে বাংলাদেশে যতটুকু তারা পারে। এখানে আমেরিকা-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের সুফলও আমরা পাচ্ছি। এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, গত অর্থবছরে কিন্তু আমরা আমাদের রপ্তানিতে একটা বড় উল্লম্ফন পেয়েছিলাম। সেই উল্লম্ফনের ওপর যদি এবার আমরা এই সংকটের সময়ে ১০ শতাংশও বেশি (প্রবৃদ্ধি) রপ্তানি করতে পারি, সেটাও একটা ভালো অর্জন বলে আমি মনে করি। আমার বিশ্বাস এটা আমরা পারব। কেননা, সামনে ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিন আছে, সেটাকে ঘিরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে পোশাক রপ্তানি বাড়বে।
তবে এ ক্ষেত্রে সরকারকে একটি কাজ কিন্তু করতেই হবে, সেটা হচ্ছে, যে করেই হোক আমাদের পোশাক কারখানায় এবং পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পে (পশ্চাদসংযোগ শিল্প) নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই, এজন্য কিন্তু বাইরে থেকে গ্যাস-এলএনজি বা বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে না। বাড়তি ডলার খরচ করতে হবে না। সরকারকেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে না। শুধু একটি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এটা করা সম্ভব। আমরা সরকারকে বারবার এই অনুরোধটা করছি। আশা করছি, সরকার সদয় বিবেচনা করবে।
বর্তমানে যা আছে সেটার ম্যানেজমেন্ট ঠিক করেই কিন্তু সরকার এই সংকট নিরসন করতে পারে। যেমন ধরেন- আমরা আমাদের বাংলাদেশ চেম্বার থেকে সরকারকে বলেছিলাম গাজীপুর, সাভার আর নারায়ণগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় আপনারা গ্যাস যদি নিরবচ্ছিন্ন রাখাতে পারেন, আপনি কিন্তু ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। কারণ আপনার বেশির ভাগ কারখানা কিন্তু এই জোনে। গাজীপুরে একটি প্ল্যান্ট আছে যেটা থেকে বিদ্যুৎ আসার কথা ২০০ মেগাওয়াট। সেখানে হয় মাত্র ৩০ কিলোওয়াট। এই গ্যাসগুলো যদি কারখানাগুলোকে দিয়ে দেয়া হয় তা হলে কিন্তু সব কারখানা চলবে। ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করলে এটা ঠিক করা সম্ভব।
আমরা চাচ্ছি কীভাবে দেশের অর্থনীতি ধরে রাখা যায়। যাতে রপ্তানি ঠিক থাকে, চাকরি ঠিক থাকে, ডলারের দাম ঠিক থাকে। দেশ একটি স্ট্যাবল অবস্থায় থাকে। আমরা বুঝি সরকারের অনেক ধরনের সমস্যা আছে। সরকার চেষ্টা করছে। তবে ব্যবস্থাপনা করলে আরও ভালো চালানো সম্ভব।
যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান দুই বাজার আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি কমে যাবে বলে সবাই আশঙ্কা করছেন। আপনার বিবেচনায় প্রকৃত অবস্থা আসলে কেমন হবে?
এ কথা ঠিক যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সে কারণে আমাদের রপ্তানি আয় কমছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছে। এ অবস্থায় আগামী দিন আমাদের রপ্তানি আয়ে খুব ভালো খবর নেই। তবে খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আমি মনে করি। হাঁ, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের এবার প্রবৃদ্ধি কম হবে। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়েই অর্থবছর শেষ হবে। কেননা, আমরা ইতিমধ্যে চীনের বাজার বেশ খানিকটা দখল করতে পেরেছি। ভিয়েতনাম-মিয়ানমারের কিছু অর্ডারও বাংলাদেশে আসছে। পাশের দেশ ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা অতিপ্রয়োজনীয় কম দামি পোশাক বেশি রপ্তানি করি। বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতির অবস্থা যত খারাপই হোক না কেন, অতি প্রয়োজনীয় পোশাক কিন্তু সবার কিনতেই হবে। তাই সব মিলিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত নই।
বড় চিন্তার বিষয়, সেটা হচ্ছে আমাদের রিজার্ভ কিন্তু দিন দিন কমে আসছে। এখন ৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এক বছর আগে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স- এই দুই সূচক এতদিন অর্থনীতিকে সামাল দিয়ে আসছিল, সেই দুই সূচকই কিন্তু ধাক্কা খেয়েছে। রপ্তানির চেয়ে রেমিট্যান্সে কিন্তু বেশি ধাক্কা লেগেছে। সে কারণেই কিন্তু রিজার্ভ কমছে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, প্রচুর রেমিট্যান্স আসছে হুন্ডির মাধ্যমে। এখানে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভালোভাবে নজর দেয়া উচিত। প্রবাসীদের একটি টাকাও যেন হুন্ডির মাধ্যমে না আসে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রণোদনার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। বৈধ পথে শতভাগ রেমিট্যান্স আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর রপ্তানির ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে গ্যাস-বিদ্যুতের কথা তো আমি আগেই বলেছি। বৈশ্বিক কারণে আমাদের অর্থনীতি যে সংকটের মধ্যে পড়েছে, তা কিন্তু রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহ ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সেটাকে লক্ষ্য রেখেই এখন সরকারের সব পরিকল্পনা নিতে হবে।
জ্বালানিসংকট রপ্তানি খাতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শীত মৌসুম আসছে। সরকার বলছে, এই নভেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সব মিলিয়ে আপনার কাছে কী মনে হচ্ছে?
আমাদের ক্রেতারা, কাস্টমার এখন একটু ভয় পাচ্ছে। যখন তারা শোনে আমাদের এনার্জি ক্রাইসিস আছে; আর এর কারণে আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজগুলো উৎপাদন করতে পারছে না। যেটার কারণে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আপনারা এনার্জিটা কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে দেয়া যায় সে-ব্যবস্থা করেন। আমার এ মুহূর্তে যা আছে সেটার ওপর ভিত্তি করে। তা হলে দেখা যাবে, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজগুলো দাঁড়াতে পারবে। আর ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজগুলো যদি ঠিক থাকে তা হলে রপ্তানি কমবে না। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপে ক্রিসমাস সেলস খুব ভালো হয়। কিন্তু এবার একটু কম হচ্ছে বলে শুনছি। ওই দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। এই ক্রিসমাসে কিন্তু বেশি বিক্রি হয় ফ্যাশন প্রডাক্টগুলো, সেটা এবার কম হচ্ছে। আমাদের কাছে অর্ডার আছে। কিছু অর্ডার ডেফার্ড হচ্ছে। কাস্টমার অর্ডার দিতে চায়। নতুন নতুন কাস্টমার হচ্ছে। আমাদের কাস্টমারকে কনফিডেন্স দিতে হবে যে, বাংলাদেশ এটা মিট করতে পারবে। বাংলাদেশ এটা ডেলিভারি করতে পারবে।
এক কথায় যদি বলতেন এবার রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হবে, না নেগেটিভ (ঋণাত্মক) প্রবৃদ্ধি হবে?
আমি আগেই বলেছি, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৪ মাস গেছে। এই ৪ মাসে পোশাক রপ্তানিতে সাড়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সার্বিক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের বেশি। তাই এটা আমি বলতে পারি, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হবে সেটাতে কোনো সন্দেহ নেই। নেগেটিভ গ্রোথ গার্মেন্টস খাত থেকে হবে না। তবে এখানে একটি কথা কিন্তু আছে, যেটা আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি- গার্মেন্টস খাতে কিন্তু এনার্জি দিতেই হবে। এই খাত কিন্তু ২৪ ঘণ্টা চলতে হয়। এটা ১২ ঘণ্টা চললে সাসটেইনেবল হয় না। টেক্সটাইল না চললে গার্মেন্টস কাপড় পাবে না। যেমন টি-শার্টের ৯০ শতাংশ কাপড় কিন্তু বাংলাদেশেই হয়। এর জন্য স্পিনিং, নিটিং ডাইং ২৪ ঘণ্টা চলতে হয়। আপনি যদি ওভেন দেখেন বা ডেনিম এগুলোর প্রবৃদ্ধি আছে। ডেনিমের ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে তৈরি হয়। দেশে যদি ৫০ শতাংশ উৎপাদন না করতে পারে ইন্ডাস্ট্রি সিক (রুগ্ন) হয়ে যাবে। খেলাপি ঋণ বাড়বে। ব্যাংকগুলো বিপদে পড়বে। আবার গার্মেন্টসে অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সেটা ফেল করবে। কাস্টমার বাংলাদেশের ওপর কনফিডেন্স হারাবে। এই অপরচুনিটি লস করাটা আমাদের জন্য দুঃখজনক হবে। সঙ্গে সঙ্গে যদি অর্ডার ফেল করে তা হলে আনএমপ্লয়মেন্ট শ্রমিকরা বেকার হবে। এখন দেশ এটা নিতে পারবে না। চাকরি কিন্তু এখন ধরে রাখতে হবে। আমাদের ফরেন কারেনসি যেহেতু এই খাত থেকে আসে, রিজার্ভ বাড়ে- তাই খুব ভেবেচিন্তে এই খাতটার দিকে তাকাতে হবে। তা হলে আমরা সংকট খুব সহজেই মোকাবিলা করতে পারব।
অনেক কিছু করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এতে কী বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে?
আমি আগেই বলেছি, নতুন গভর্নর সাবেহ বিচক্ষণতার সঙ্গে সব কিছু সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন। একটার পর এটা পদক্ষেপের কারণে কিন্তু আমদানি ব্যয় অনেক কমে এসেছে। আর আমদানি ব্যয় কমে এলে, ডলারের চাহিদা কমবে; বাজারও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে আবারও বলছি, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা কিন্তু ধরে রাখতেই হবে।
আপনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা বলছিলেন। স্পর্শকাতর এই সূচকটির লাগাম টেনে ধরতে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদের হার যেটা বর্তমানে নয়-ছয় শতাংশ আছে, সেটা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে হচ্ছে, সেটা করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রেপো সুদহার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করেছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
দেখেন, এই সংকটকালে কঠিন সময়ে এখন কিন্তু সব কোম্পানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ছোট (ক্ষুদ্র) ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রায় দেউলিয়ার পথে। আর বড়রা তাদের ফুল ক্যাপাসিটিতে অপারেট করতে পারছে না। কারণ মার্কেটে চাহিদা নেই। মানুষ আর কিনতে পারছে না। তাই সেলস কমে গেছে। এ অবস্থায় সুদের হার বাড়ালে তখন দেখা যাবে ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পকারখানাগুলো আর ভায়বেল হবে না। ঠিকে থাকবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা সুদের হার বাড়িয়ে আমাদের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়াব, না আমরা ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে চাপ না দিয়ে এই যে একটি ক্রাইসিস সময় যাচ্ছে, যেটা আরও ১ থেকে ২ বছর থাকবে। এটা গভীরভাবে সরকারের নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিবেচনা করতে হবে বলে আমি মনে করি।
আমার মনে হয়, এখন আর কোনো খরচ না বাড়ানোই ভালো হবে। আপনারা দেখেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মত অর্গানাইজেশন যারা আমাদের সারাজীবন বলেছে বিদ্যুতের দাম বাড়াও, তারা এখন বলছে যে, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম আর বাড়াইও না। তারা বুঝতে পারছে বিদ্যুতের দাম যদি আর একটু বাড়ে করখানাগুলো বসে যাবে। তখন আর কোনো কিছুই কস্ট ইফেক্টিভ হবে না। দেশের মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে। তাই আমি মনে করি, সবচেয়ে জরুরি হলো যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, তাদের আমাদের একভাবে দেখা উচিত। আর নতুন করে কেউ যাতে খেলাপি না হয় তাদের জন্য বর্তমান সুদের হার বহাল রাখা উচিত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকমালিক, ব্যাংকার এবং আমাদের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে নয়-ছয় সুদের হার নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তার সুফল কিন্তু আমরা পাচ্ছিলাম, দেশ পাচ্ছিল। মহামারি করোনার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি সচল ছিল। আমার বিশ্বাস, সুদের হার বাড়ানো হবে, না বর্তমানে যা আছে, তাই থাকবে- সে বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নেবেন।
নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অর্থনীতির কী হবে? ব্যবসা-বাণিজ্যেরই বা কী হবে?
এটি তো বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অংশ। প্রতি ৫ বছরেই হয়। এটি তো ভালো আমাদের বিরোধী দলরা সমাবেশ করছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং হবে সেটিই স্বাভাবিক। তবে অতীতের মতো সংঘাতের রাজনীতি যেন না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি যেন ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে, সেটিই মনে রাখতে হবে।
রাজনীতি করা সবার অধিকার। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ। সেটি থাকলেই ভালো, সরকারিদল-বিরোধীদল সবাই রাজনীতি করবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের ওপর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর একটু চোখ রাখবেন প্লিজ! বাস-টাসগুলো পুড়িয়ে দিয়েন না, আমরা আমাদের ব্যবসা করি, আপনারা আপনাদের রাজনীতি করেন। আসুন, সবাই মিলেমিশে দেশটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয় এবং ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই চাঁদাবাজি ও অনিয়মগুলো বন্ধ করা না গেলে সরকারের সব আশা এবং ইশতেহার বিফলে যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্তে রক্তে চাঁদাবাজি ঢুকে গেছে। ফ্যাক্টরিতে ট্রাক ঢুকতে চাঁদা দিতে হয় আবার বের হতেও চাঁদা দিতে হয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে মানুষ এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।’
তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস সব জায়গায় দুর্নীতি ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।’
সংগঠনটি আরও তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের চলতি মূলধন সহায়তা দিয়ে ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো।
তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব উন্নয়ন প্রয়োজন। উৎপাদক থেকে পণ্য পরিবহন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসার খরচ কমানো সম্ভব নয়। তার মতে, ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাট সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রেও অনিয়ম রয়েছে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তিনি কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ খাতে প্রায় ২৬ লাখ বেকার তরুণকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চামড়া ও হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও জানান তিনি। পাশাপাশি চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী বিষয় থাকলে তা বাতিলের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইর অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। লেবু, তেল, চিনি, ছোলা, ট্যাং, মাংস ও মিনিকেট চালের দামে ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল আলম মিলন। ব্যবসায়ীদের ঘোষণায় সম্মতি জানিয়ে তিনি সেখানে যোগ দেন বলে জানানো হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি পিস লেবুতে ২ টাকা, তেলে প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনিতে প্রতি কেজিতে ১ টাকা, ছোলায় ২ টাকা এবং ২০০ গ্রাম প্যাকেট ট্যাংয়ে ৫ টাকা কম নেওয়া হবে। মাংসে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা এবং মিনিকেট চালে প্রতি কেজিতে ১ টাকা কমিয়ে বিক্রি করা হবে।
মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতিকেজি মাংস বিক্রি করবো।’ ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, ‘এতদিন আমরা ছোলা ৮০ কিনে ৮৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন লাভ ২ টাকা কমে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।’
কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকাও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেব। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।’
সব তেল বিক্রেতাদের পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রপাইটার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।’
কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করব।’
ট্যাংয়ের দাম নিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে, বিক্রি হতো ১৫৮০ টাকা। এখন ১৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল।’
চাল ব্যবসায়ীরা জানান, আগে মিনিকেট চালে প্রতি কেজিতে ২ টাকা লাভ রাখা হতো, এখন তা কমিয়ে ১ টাকা লাভে বিক্রি করা হবে। ফলে ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকায় মিনিকেট চাল বিক্রি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল আলম মিলন বলেন, ‘আমরা সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছে।’
ওয়ালস্ট্রিট থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা, যার হার গত ১৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চাপ এবং বিদেশি শেয়ারবাজারে তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্রবণতা জোরদার হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
এলএসইজি/লিপারের তথ্যামতে গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ইকুইটি থেকে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের শুরু থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ২০১০ সালের পর বছরের প্রথম আট সপ্তাহে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের এমন উচ্চ হার আর দেখা যায়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলার দুর্বল হওয়ায় বিদেশি সম্পদ কেনা মার্কিনদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা থামেনি। গত বছর শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার ধারা এখন দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্পষ্ট।
২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি খাতের প্রভাবের কারণে ‘বাই আমেরিকা’ কৌশল বিনিয়োগকারীদের বড় মুনাফা এনে দেয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে গত বছর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
তবে এআই খাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ব্যয়ের প্রশ্ন সামনে আসায় ওয়ালস্ট্রিটের শেয়ারের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। মার্কিন মেগাক্যাপ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে বিদেশি বাজারে সুযোগ খুঁজছেন। ব্যাংক অব আমেরিকার ফেব্রুয়ারির ফান্ড ম্যানেজার সার্ভে বলছে, পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ইকুইটি থেকে উদীয়মান বাজারে ঝুঁকছেন।
ইউবিএসের ইউরোপিয়ান ইকুইটি অ্যান্ড গ্লোবাল ডেরিভেটিভস স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান জেরি ফাউলার বলেন, ‘আমি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায় যুক্ত অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি। তারা সবাই এখন বিদেশের বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলছেন।’
তিনি আরো যোগ করেন, গত বছরের শেষে ডলারের বিপরীতে বিদেশী বাজারগুলোর মুনাফার চিত্র দেখে মনে হয়েছে, তারা বড় ধরনের লাভের সুযোগ হাতছাড়া করছেন।
এলএসইজি/লিপারের হিসাবে, চলতি বছর মার্কিন বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজারের শেয়ারে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। একক দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছে ২৮০ কোটি ডলার এবং ব্রাজিলে ১২০ কোটি ডলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নীতির প্রভাবে গত জানুয়ারি থেকে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলার প্রায় ১০ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। এতে বিদেশে বিনিয়োগ তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী বিদেশি বাজার থেকে অর্জিত রিটার্ন ডলারে রূপান্তরের পর আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
গত ১২ মাসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। একই সময়ে টোকিওর নিক্কেই সূচক ডলারের হিসাবে ৪৩ শতাংশ, ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ২৬ শতাংশ এবং সাংহাইয়ের সিএসআই ৩০০ সূচক ২৩ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। সিউলের কেওএসপিআই সূচকের মান এ সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এআই খাতের জায়ান্ট যেমন এনভিডিয়া, মেটা এবং মাইক্রোসফটের শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান এবং উচ্চমূল্যায়ন এখন বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। ফলে তারা জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের মতো বাজারে তুলনামূলক রক্ষণশীল ও প্রথাগত শিল্পভিত্তিক শেয়ারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমানে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় ২১ দশমিক ৮ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। ইউরোপে এই অনুপাত ১৫ গুণ, জাপানে ১৭ গুণ এবং চীনে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ গুণ।
অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান কারমিগনাকের পোর্টফোলিও উপদেষ্টা কেভিন থোজেট জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের বাজারে মার্কিন পুঁজির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সারাদেশের কাস্টমস স্টেশনগুলোতে সেবার মান উন্নয়ন এবং আমদানিকারকদের কার্যক্রম সহজ করতে নতুন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সভাপতির কাছে আবেদন জমা দিতে হবে।
লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে বিদেশি অংশীদারিত্ব সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি লাইসেন্স নিতে পারবেন না। আবেদনপত্রে কেবল একটি কাস্টমস স্টেশনের নাম উল্লেখ করা যাবে। একাধিক স্টেশনের নাম দিলে আবেদন বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনপত্রের সঙ্গে স্বত্বাধিকারী বা পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি। হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR)। স্নাতক পাসের সনদপত্র এবং ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ৫ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার (ডিজি, কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমি, চট্টগ্রাম-এর অনুকূলে)। অফিস কক্ষের মালিকানা বা ভাড়ার দলিলাদি এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ঘোষণাপত্র।
প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি এবং ফল একাডেমির ওয়েবসাইট (www.cevta.gov.bd) এ পাওয়া যাবে। যোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাকযোগে তাদের ঠিকানায় প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
এশিয়ার স্পট বাজারে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীনে চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেনের গতি কমে যায়। একই সঙ্গে আমদানিকারক দেশগুলোর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় নতুন করে কেনার চাপও দেখা যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনা বাজারে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি করেছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এপ্রিল সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে এলএনজির গড় দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ৬০ সেন্ট। আগের সপ্তাহে তা ছিল ১০ ডলার ৬৫ সেন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রিন্সিপাল ইনসাইট অ্যানালিস্ট গো কাতায়ামা বলেন, ‘বর্তমানে এলএনজির বাজারের মৌলিক ভিত্তিগুলো বেশ শিথিল। তবে নিকটবর্তী মেয়াদে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দাম বাড়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে বাজারে এলএনজি বেচাকেনার পরিমাণ কম ছিল। এছাড়া উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় গ্যাসের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে পণ্য কেনার তাড়াহুড়ো দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এলএনজির দাম যতটা কমার কথা ছিল, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তা ততটা কমেনি। অবশ্য সামনের মাসগুলোর চুক্তিতে বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে।’
জাপান ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এতে গরমের চাহিদা কমে গ্যাস ব্যবহারও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টর পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় এলএনজি নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাতায়ামার মতে, কম দামের সুযোগে বড় কোনো ক্রেতা বাজারে না এলে এশিয়ার স্পট এলএনজির দাম আরও নেমে যেতে পারে।
ইউরোপীয় বাজারেও গত সপ্তাহে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে এপ্রিল সরবরাহের জন্য এলএনজির গড় মূল্য ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ ডলার ২৬ সেন্ট, যা নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে গ্যাসের চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৯৯ সেন্ট কম। অন্যদিকে আর্গাস এ মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৪৪ সেন্ট এবং স্পার্ক কমোডিটিজ মার্চের জন্য দাম জানিয়েছে ১০ ডলার ৩৭ সেন্ট।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যালি ব্লেকওয়ে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ইউরোপের ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদের ওপর ক্রমাগত চাপের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়ার খবরে বিশ্ব পণ্যবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক কাতারের জাহাজও এই রুট ব্যবহার করে।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগানের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আটলান্টিক রুটে এলএনজি পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৩৩ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৭ হাজার ৫০০ ডলার।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে দেশে এসেছে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এবার অতিরিক্ত এসেছে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের হিসাবে ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিদায়ী জানুয়ারি মাসজুড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।
চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। তবুও বড় মূলধনের কয়েকটি কোম্পানির ইতিবাচক প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। একই দিনে শরিয়াহ সূচক কমেছে, তবে লেনদেন সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পাশাপাশি সব প্রধান সূচক কমেছে। যদিও সেখানে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পরপরই দর কমার তালিকা বড় হয়ে ওঠে। এতে সূচক ঋণাত্মক অবস্থায় যায়। মাঝপথে কিছু সময়ের জন্য দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বেড়ে গেলে সূচকও ইতিবাচক হয়। তবে দিনের শেষ ভাগে আবার দর কমার চাপ বাড়লেও বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রধান সূচক শেষ পর্যন্ত সামান্য উত্থান নিয়ে লেনদেন শেষ করে।
এই দিনে ডিএসইতে ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। কমেছে ১৯৪টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির দর।
ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত এবং ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী ৬১টির দর বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ৪০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২৬টির দর বাড়ার বিপরীতে ৪৩টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত ছিল।
‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৩৬টির দর বেড়েছে, ৫২টির কমেছে এবং ২০টির স্থিতিশীল ছিল। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ৭টির কমেছে এবং ২০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা বেশি।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংক, যার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সিএএসপিআই সূচক ৪৬ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ৯৩টির কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখভিত্তিক বিদ্যমান ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন জমা দিয়ে আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে রপ্তানি কার্যক্রমে নানা জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে পারেননি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক তার শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতির ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে সংকটে থাকা কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন, যা রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১২ কোটি ৩০ লাখ বা ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই ডলার কেনা হয়। প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাট-অফ হারও ছিল একই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এই ক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে তারল্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়। তারও আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, ৪ ফেব্রুয়ারি ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ক্রয় করা হয়েছিল। এসব লেনদেনেও প্রতি ডলারের হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
এই ধারাবাহিক ক্রয়ের ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১ হাজার ৪৪৮ মিলিয়ন বা ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন বা ৫৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সর্বশেষ আটটি ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা কাট-অফ রেটে মোট ১২৩ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ লাখ ৪৩ হাজার ‘রৌগ’ মডেলের এসইউভি ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশান। ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৮১টি গাড়িতে থ্রোটল বডি গিয়ারে সমস্যা পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯১৭টি গাড়িতে ইঞ্জিনের বিয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে গরম তেল বেরিয়ে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলো পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের আওতায় আনা হবে।
সূত্র: রয়টার্স।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি কার্যক্রমে বাধা এবং মার্কেট বন্ধের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এ দাবিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্যাব সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বরাবর জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল রাজধানীর চকবাজার থানার মৌলভীবাজার এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে দেখা যায়, মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স ১০ দিনের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পণ্য বেশি দামে কেনার দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো বৈধ ক্রয়সংক্রান্ত ক্যাশ মেমো দেখাতে পারেননি। বরং তারা স্বীকার করেন, পণ্য বাকিতে কিনে বিক্রির পর টাকা পরিশোধের সময় ক্যাশ মেমো দেওয়া হয়। যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পরিপন্থি এবং বাজারে অস্বচ্ছতার প্রমাণ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এ অনিয়মের প্রেক্ষিতে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো প্রকাশ্যে জরিমানা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, তিনি অন্য ব্যবসায়ীদের জড়ো করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং দোকানপাট বন্ধের হুমকি দেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য উদ্বেগজনক।
ক্যাবের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে।
দাবিগুলো হলো—
১. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকিমূলক অভিযানে বাধা প্রদান ও মার্কেট বন্ধের হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ;
২. বাজারে তদারকি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় সহায়তা নিশ্চিত করা;
৩. ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অস্বচ্ছ লেনদেন ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ;
৪. পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ মেমো প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা;
৫. ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা।
হংকংভিত্তিক তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেড উত্তরা ইপিজেডে একটি নতুন পোশাক কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির লিজ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কোম্পানিটি ১৯ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৪ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক জি ঝেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
জানা গেছে, কারখানাটি ২৪ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। এখানে উৎপাদিত পোশাক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৭০ লাখ পিস বিভিন্ন ধরনের ওভেন ও নিট পোশাক উৎপাদন করবে। এর মধ্যে থাকবে বটম, টপ, শার্ট, জিন্স, জ্যাকেট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, স্পোর্টসওয়্যার, সোয়েটার, হুডি এবং অন্যান্য জার্সি পণ্য।
নতুন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান সব ধরনের সহযোগিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আগের তুলনায় আরও দক্ষ ও আধুনিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বেপজা কাজ করছে। একই সঙ্গে রফতানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পখাত শক্তিশালী করতে মানসম্মত কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহের আহ্বান জানান তিনি।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এর ব্লক মার্কেটে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে মোট ৯৫ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এই সময়ে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের। প্রতিষ্ঠানটির ১৪ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়ায় ২৫৬ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ফাইন ফুডসের, যার পরিমাণ ৯ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর দাঁড়ায় ৪৭১ টাকা ৪০ পয়সা।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর ছিল ৫ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর পদ্মা অয়েলের ৫ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যার সমাপনী দর দাঁড়ায় ১৭৮ টাকা ৯০ পয়সা।
এ ছাড়া জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৪ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহ শেষে এদের শেয়ারদর ছিল যথাক্রমে ৪৮৪ টাকা ৯০ পয়সা, ৬৩ টাকা এবং ৮৫ টাকা।
ব্লক মার্কেটে আরও লেনদেন হয়েছে এমএল ডায়িংয়ের ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ২ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার এবং তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহ শেষে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর দর ছিল যথাক্রমে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, ৪২ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৬৮ টাকা ২০ পয়সা।
সূচকের দিক থেকে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে উঠেছে। তবে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের গড়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।