সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
৫ মাঘ ১৪৩২
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক

অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দাবি নির্বাচনের সময়সীমা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২১

সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না কি সংশোধন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ছাত্রদের আহ্বানে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর চার দিনের মাথায় ১২ আগস্ট বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে রয়ে যায়। গতকাল এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচনের রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবিধানের কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম ও ৬টি ইসলামী দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলো করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।

এ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ হয়েছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চেয়েছে। দ্রুতই আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সরকারের মেয়াদ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাবনা ভিত্তিতেই রূপরেখা দেওয়া হবে। একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বৈঠকে দলগুলো তাদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সংবিধান ইস্যুতেও মতামত দেয় দলগুলো।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না- এমন প্রস্তাব দেয়। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার যেসব সংস্কার করতে পারে না সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, ক্ষমতার ভারসাম্যসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গণফোরাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ ৮৩টি প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ করেছে ১২ দলীয় জোট। জোটটির নেতারা বলেন, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিরাজমান সংকট সমাধানে সময় লাগবে। সরকারকে এই সময় দিতে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত আছে। এ সময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও জানান নেতারা।

গত ১২ আগস্ট বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ যেসব দল ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিল, তাদের এবারের বৈঠকে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রণ পায়নি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয়বাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জাসদ ডাক পেয়েছে।

গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় প্রথমে খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুনতাসীর আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। প্রতিনিধিদলে থাকবেন মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালাল উদ্দিন। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, নেয়ামূল বশির, নুরুল আলম তালুকদার ও আওরঙ্গজেব বেলাল।

এরপর বিকেল ৫টায় মতবিনিময় সভায় জাতীয়বাদী সমমনা জোট থেকে নেতৃত্বে দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, জাগপা একাংশের তাসমিয়া প্রধান, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমেদ বাদল। বাংলাদেশ জাসদের নেতৃত্ব দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন নাজমুল হক প্রধান, মুশতাক হোসেন, আবদুল কাদের হাওলাদার, কাজী সদরুল হক।

সন্ধ্যা ৭টায় গণফোরাম ও জাতীয় পার্টির বৈঠক করে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান চুন্নু, মাশরুর মওলা ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আর গণফোরামের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, এস এম আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিব উদ্দিন আবদুল কাদের ও মোশতাক আহমেদ।

এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু অবহিত করেন। এ সময় ইসলামী দলগুলোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।

এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নৈরাজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইসলামী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানানো হয়। তারা আরও জানান, সংলাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক বেশ কিছু সংস্কারের দাবিও উপস্থাপন করেছেন নেতারা।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৭ প্রস্তাব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের

বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা উপস্থাপন করেন।

এগুলো হচ্ছে:

১. প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

ক. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সে জন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।

খ. নির্বাচনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। যোগ্য সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।

২. সাংবিধানিক সংস্কার:

ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।

গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।

ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।

৩. বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।

৫. পুলিশ ও প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।

৬.কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন/নীতি প্রণয়ন না করা।

৭. হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।


ব্যাংকিং খাতে প্রভাব বিস্তার রোধে শেয়ার ধারণের সীমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মালিকদের দ্বিমত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক কোম্পানিতে ব্যক্তি, পরিবার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণের ওপর কঠোর সীমা আরোপের একটি আইনি উদ্যোগ মালিকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে অস্থিতিশীলতা ও স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন সংশোধনের খসড়ায় প্রস্তাব করেছে যে, ‘ব্যক্তি, পরিবারের সদস্য এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একাধিক ব্যাংকে একযোগে ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।’ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন-২০২৫-এর ১৪(খ) ধারায় নতুন তিনটি উপধারা যোগ করার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যাংকের মোট শেয়ারের ২ শতাংশ বা তার বেশি ধারণ করে, তবে একই সময়ে অন্য কোনো ব্যাংকে ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার রাখতে পারবে না। এ ছাড়া সরকার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো বিনিয়োগকারী যদি ৫ শতাংশের বেশি শেয়ারও রাখে, তবুও তার ভোটাধিকার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর প্রস্তাবের বিপক্ষে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। তাদের মতে, পরিচালনা পর্ষদই মূলত ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং যেহেতু পর্ষদে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, তাই শেয়ার ধারণের ওপর আলাদা সীমার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বিএবি প্রস্তাব দিয়েছে যেন ‘পরিবার বলতে স্বামী-স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যদের’ বোঝানো হয় এবং একই পরিবারের শেয়ার ধারণের সীমা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সভায় জানান যে, একটি বৃহৎ গ্রুপ একসঙ্গে একাধিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকারকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন যে, ‘প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনী চূড়ান্ত করতে আরও সময় প্রয়োজন’ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএবির প্রতিনিধিদের পরবর্তী সভায় একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সপ্তাহের শুরুতে সূচক ও লেনদেনের ইতিবাচক গতিতে দেশের পুঁজিবাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৮ জানুয়ারি) দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় বাজারেই গত দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রধান সূচকগুলোও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যেখানে শরিয়াহ ও ডিএসই-৩০ সূচক যথাক্রমে ১৩ ও ২৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১০০৯ ও ১৯৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা বেশি; যেখানে আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৪টির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

একইভাবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক চিত্রও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৭ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হওয়া ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৭টির এবং দর কমেছে ৪৭টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ১৯টি কোম্পানির শেয়ার দর। লেনদেনের পরিমাণেও সিএসইতে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে গতকাল রোববার মোট ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। উভয় বাজারের এই ইতিবাচক ধারা ও সূচকের চাঙাভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।


রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি: ১৭ দিনে দেশে এলো ১৮৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসীরা মোট ১৮৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (১৮ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, এর মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এবার বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে, কারণ ২০২৫ সালের প্রথম ১৭ দিনে দেশে এসেছিল ১১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। বিশেষ করে গত ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি—এই তিন দিনেই প্রবাসীরা ১৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন।

রেমিট্যান্সের এই উর্ধ্বমুখী ধারা চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রকেও শক্তিশালী করেছে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বছর ব্যবধানে প্রায় ২১ দশমিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বর্তমান অর্থবছরের সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


বন্দরে লাইটারেজ জাহাজ সংকট, ক্ষতির শঙ্কায় আমদানিকারকরা

* বহিঃনোঙরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা * বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াকের সমন্বয়হীতা * দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ী মহলের * নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

লাইটারেজ জাহাজ সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী মাদার ভেসেল থেকে খালাস প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিবন্ধিত প্রায় ১ হাজার ২০টি লাইটারেজ জাহাজের মধ্যে যদি ৬৩০টির বেশি আটকে থাকে, তাহলে সংকট হওয়াই স্বাভাবিক। এর ওপর আবার ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ সারাদেশে পণ্য পৌঁছে দিতে বাইরে রয়েছে।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া), কোস্টাল ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এবং ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং বা আইভোয়াক

এই তিন সংগঠনের সমন্বয়হীনতা ও জাহাজ মালিকদের অতিমুনাফার আশা এই সংকটের জন্য দায়ী বলছেন কেউ কেউ। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া), কোস্টাল ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এবং ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক)–এর সমন্বয়ে বিডব্লিউটিসিসি গঠিত। মূলত এই তিন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সিরিয়াল প্রথা না মানা ও চট্টগ্রামে বরাদ্দকৃত ৯০০ লাইটার জাহাজ মোংলাসহ দেশের অন্য রুটে চলাচলের কারণে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ নবী আলম জানান, বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াক এ তিনটি সংগঠনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল গঠিত হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এছাড়া অতি মুনাফার আশায় সিরিয়াল না মেনে এবং চট্টগ্রামে না চালিয়ে লাইটার জাহাজ মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করছে। এ কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ জন্য সবার আগে বিসিভোয়া, কোয়াব এবং আইভোয়াক- এই তিন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

এদিকে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেল বলছে, ৫০ হাজার টনের একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে দৈনিক গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার হয়। সে হিসেবে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে প্রতিদিন প্রয়োজন হয় দুইশ থেকে আড়াইশ লাইটারেজ জাহাজ।

বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাস করলেও বাকী আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেল থেকে জাহাজ বুকিং নেন। দৈনিক ৮০টি লাইটারেজ বরাদ্দ দেয়া হলেও তিনদিন সেল থেকে কোনো জাহাজ দেয়া হয়নি। যে কারণে প্রায় শতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ আছে।

শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগে যেখানে একটা জাহাজ ৮ থেকে ১০ দিনে খালাস হতো সেখানে এখন একটা জাহাজ প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগছে। সে হিসেবে জাহাজ প্রতিদিন যে পরিমাণ ড্যামারেজ খাচ্ছে তা হিসেব করলে প্রতিদিন ৮০টা জাহাজে ১৬ লাখ করে ড্যামারেজ খাচ্ছে।’

আকিজ শিপিং লাইনের এজিএম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি মাসে কিন্তু আমাদের ৮ থেকে ১০টা জাহাজ থাকে। এখন এই মুহূর্তে আমাদের পোর্টে আছে ৪টা। গত চারদিন থেকে কোনো কাজই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক হাজী শফিক আহমেদ বলেন, ‘আগে যেটা ১৮ ঘণ্টায় ঢাকায় যেতো এখন সেটা তিনদিন লাগছে। বিভিন্ন জায়গায় জাহাজগুলো কুয়াশার জন্য চালাতে পারছে না। অনেকগুলো চিটাগাং পোর্টের জাহাজ মংলা পোর্টে চলে গেছে যেহেতু মংলা পোর্টে এখন যথেষ্ট মাদার জাহাজ আছে।’

বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আনলোডিং অপারেশন (খালাস কার্যক্রম) প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যে জাহাজ ১০ দিনে বন্দর ছাড়ার কথা, সেটি এখন ২৫ থেকে ৩০ দিন অপেক্ষা করছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য আমদানিকারকদের দৈনিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে মোট ১০৮টি পণ্যবাহী জাহাজ অপেক্ষমাণ ছিল। এসব জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি জাহাজে প্রায় ১২ লাখ টন রমজানসংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্য—গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেল আছে। আরও পাঁচটি জাহাজে ২ লাখ টনের বেশি চিনি রয়েছে। সাতটি জাহাজে সার এবং ২৫টি জাহাজে সিমেন্টের ক্লিংকার বহন করা হচ্ছে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি মাদার ভেসেল লাইটার জাহাজের মাধ্যমে নদীবন্দর ও টার্মিনালে পণ্য পরিবহন করে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে খালাস শেষ করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে লাইটারেজ সংকটের কারণে অপেক্ষার সময় বেড়ে ২০ থেকে ৩০ দিনে দাঁড়িয়েছে। কিছু জাহাজ দিনের পর দিন কোনো পণ্যই খালাস করতে পারছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ৩০-৩৫টি বড় জাহাজ বন্দরে থাকে, কিন্তু গত কয়েক দিনে ৭০-৮০টি জাহাজ অপেক্ষমাণ হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজের সংকটের কারণে দৈনিক খালাস ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

অপরদিকে লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে কঠোর অবস্থানে সরকার। লাইটার জাহাজের সংকট মোকাবিলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।


চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা: সাগরে ভাসছে ৮৫টির বেশি জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসছে ৮৫টিরও বেশি জাহাজ। পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার বা ছোট জাহাজের তীব্র সংকটের কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের মাশুল বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, এই সংকটের মূল কারণ কেবল লাইটারেজ জাহাজের অভাব নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা এবং জাহাজের অপব্যবহার। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে খাদ্যশস্য পরিবহনকারী বেশ কিছু লাইটারেজ জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও পণ্য খালাস করছে না। আমদানিকারকরা এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে পণ্যবাহী এই জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে এবং পুনরায় পণ্য পরিবহনের জন্য ফিরে আসতে পারছে না। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সংকট যা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

সাধারণত বড় শিল্প গ্রুপগুলো তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য খালাস করে থাকে। তবে সাধারণ আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজের বুকিং নেন। বর্তমানে বিডব্লিউটিসিসি চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ লাইটারেজ জাহাজের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি। ফলে অর্ধশতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে আসা একটি মাদার ভেসেল ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে এই সময়সীমা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অনেক জাহাজকে ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো জাহাজ দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও এক টন পণ্যও খালাস করতে পারছে না। এই বিলম্বের কারণে শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বহির্নোঙরে অবস্থান করা প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা করে ড্যামারেজ বা জরিমানা দিতে হচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসি এই সংকটের জন্য ঘন কুয়াশা এবং বিএডিসির সারের কাজে ১৪০টি জাহাজ আটকে থাকাকে দায়ী করেছে। তবে ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মতে, বিডব্লিউটিসিসির অধীনে থাকা ১ হাজার ২০০ জাহাজের মধ্যে প্রায় ৩০০টি মোংলা বন্দরে চলে গেছে। এছাড়া ৬৮৭টি জাহাজ পণ্য বোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়ার পর খালাস না করে এক থেকে দেড় মাস ধরে আটকে আছে। অপারেটররা এই সংকট নিরসনে জাহাজের সিরিয়াল প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস করে অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব হয়।


দাবি আদায়ে অনড় মোবাইল ব্যবসায়ীরা: সকল ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিতের ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান আন্দোলন ও দোকানপাট বন্ধ কর্মসূচি চলাকালীন সকল প্রকার ব্যাংক ঋণের বিপরীতে কিস্তি পরিশোধ বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং ব্যবসা সচল থাকাকালীন ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আয়-লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।" তাদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে যৌক্তিক দাবিগুলোর কোনো সমাধান না আসায় "এই বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব নয়।"

নিজেদের ব্যবসার বৈধতা ও সক্ষমতা প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায় যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনেই তারা ব্যাংক ঋণ পেয়েছে, যা তাদের আনুষ্ঠানিক ও বৈধ অর্থনীতির অংশ হওয়ার প্রমাণ দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়, "এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার বৈধতা, স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করে।" যারা এই শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে সংগঠনটি জানায়, "আজ যারা আমাদের অবৈধ বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, এই শিল্পে ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগই আমাদের বৈধতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।" পরিশেষে ব্যবসায়ীরা এই সংকট নিরসনে দ্রুত সমাধান দাবি করে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, "আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট, ন্যায্য সমাধান চাই। সমাধান এলেই ব্যবসা চলবে, ব্যবসা চললেই ব্যাংক কিস্তি চলবে।"


নীতি নির্ধারণে অংশীজনদের উপেক্ষা: দেশের ওষুধ শিল্পে সংকটের শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অংশীজনদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকা অনুমোদন ও মূল্য নির্ধারণের একতরফা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি)।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বাপির মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন যে, "অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও দাম নির্ধারণ অত্যন্ত কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত।" তিনি দাবি করেন, দেশের ওষুধ শিল্পের প্রধান অংশীজন হওয়া সত্ত্বেও বাপিকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করে মোট সংখ্যা ২৯৫-এ উন্নীত করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সরকার নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে এই তালিকার ওষুধগুলো তৈরি করতে হবে। সরকারের এমন অবস্থানের প্রেক্ষিতে ডা. জাকির হোসেন বলেন, "অর্তবর্তীকালীন রুটিন কাজের বাইরে এসে অনেক কিছু করতে চাইছে।" তিনি নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে সরকারকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনাদের সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন।" উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজার ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যয় বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করা হলে তা শিল্পের জন্য টেকসই হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বাপির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান যে, গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি বর্তমানে রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কোম্পানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ১৯৯০ সালের মূল্য কাঠামোতে ২০২৫-২৬ সালেও ওষুধ বিক্রির বাধ্যবাধকতাকে তিনি অবাস্তব বলে অভিহিত করেন। ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে শিল্পের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ২০১৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান।


গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন মন্দা: অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরে নিম্নমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি) সব ধরনের সূচকের পতন ও লেনদেনের উল্লেখযোগ্য হ্রাসের মধ্য দিয়ে বাজার পরিস্থিতি নেতিবাচক ছিল।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন ১৯.৯০ শতাংশ কমেছে এবং তালিকাভুক্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে, যদিও এই পরিস্থিতির মধ্যেও বাজার মূলধন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪ থেকে ৮ জানুয়ারির তুলনায় গত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৪৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, তবে বাজার মূলধন এক হাজার ২৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেড়ে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট এক হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা; যা আগের সপ্তাহের ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার গড় লেনদেনের তুলনায় বেশ কম।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৪১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হলেও মাত্র ৯৩টির দর বেড়েছে এবং ২৬৮টির দাম কমেছে, যেখানে ২৫টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই নিম্নমুখী প্রবণতায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯.৫৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৪,৯৫৮.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

একইভাবে ডিএসই-৩০ সূচক ২.২২ পয়েন্ট কমে ১,৯১২.৭২ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪.৮৭ পয়েন্ট কমে ৯৫২.৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএসএমইএক্স সূচক ৫.১৫ পয়েন্ট কমে ৯৫২.২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের এমন ধারাবাহিক পতন ও লেনদেনের নিম্নগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও বাজার মূলধনের ইতিবাচক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।


বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় চীনের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্মুক্ত বাজার নীতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৫ সালে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্য মূল্য ৪৫ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছে এক নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে, যা গত পাঁচ বছরে ৪০ ও ৪৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি অতিক্রমের ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয়েছে।

টানা নয় বছর ধরে বজায় থাকা এই প্রবৃদ্ধি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক সাফল্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশটির রফতানি কৌশল বর্তমানে শুধু পণ্য বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ‘উইন-উইন’ সহযোগিতার একটি কার্যকর মডেলে পরিণত হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা যায় বিদেশি বিনিয়োগপুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৩ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বাণিজ্য মূল্যে, যেখানে ইন্টেলের ছেংতু চিপ কারখানা কিংবা টেসলার শাংহাই গিগাফ্যাক্টরির মতো হাইটেক উদ্যোগগুলো চীনে উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করছে বিশ্ববাজারের সাধারণ ক্রেতারা, কারণ ‘মেড ইন চায়না’ সোলার প্যানেল, নতুন জ্বালানির গাড়ি ও গৃহস্থালি সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে ও দ্রুততায় সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীনা পণ্যের অনুপস্থিতিতে দেশটির পরিবারগুলোর গড় জীবনযাত্রার ব্যয় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেত। একই সঙ্গে চীনের উন্নত সৌর ও বায়ুশক্তি প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সুলভ করে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক সবুজ রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করেছে, যা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ের বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। রফতানির পাশাপাশি চীন আমদানিতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রমাণ ২০২৫ সালের রেকর্ড ১৮ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের আমদানি চিত্র এবং গড় শুল্কহার ৭ দশমিক ৩ শতাংশে কমিয়ে আনা। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি হাইনান ফ্রি ট্রেড পোর্টের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সিমেন্স এনার্জির মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প-শৃঙ্খল সুবিধা ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিগুলো বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। ২০২৫ সালের কেপিএমজি রিপোর্টেও এর প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৬৪ শতাংশ বহুজাতিক উদ্যোগ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে (২০২৬-২০৩০) চীন আমদানি ও রফতানির সুষম উন্নয়ন, উদ্ভাবনী বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সঞ্চালন মসৃণ করার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে চীন একটি আন্তর্জাতিকীকরণকৃত ভোগ পরিবেশ গড়ে তুলবে, ‘চায়নায় দোকান’ ব্র্যান্ড তৈরি করবে, পর্যটকদের জন্য কর ফেরত নীতি আরও উন্নত করবে এবং আন্তর্জাতিক ভোগ কেন্দ্র শহরগুলোর উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে বিশ্লেষকরা চীনের এই উন্মুক্ততা ও সহযোগিতার নীতিকে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।


রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা প্রদর্শন: ‘গ্যাপেক্সপো-২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

বিজিএপিএমইএ আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৫০০টি স্টলে তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও পণ্য প্রদর্শন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করেন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার। লক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত এই মেলায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট খাতের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে গত অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সঠিক সুযোগ পেলে এটি পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এই খাতের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।” অন্যদিকে, দেশের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার মন্তব্য করেন, “অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা ব্যবসায়ী সেজে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের টাকা লুট করতে পারে না।”

ব্যবসায়িক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “এই সেক্টরটি বাংলাদেশের অন্যতম ‘আন্ডাররেটেড’ সেক্টর হলেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানির খাত। কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ করে। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য গত একবছর খারাপ অবস্থায় গেছে। আমাদের আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও বিদেশিদের কাছে আস্থাভাজন গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়।” দেশীয় শিল্পের বিকাশে নীতিমালার প্রভাব সম্পর্কে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “‘আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু কিছু পলিসি আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। ‘ফ্রি অফ কস্ট’ আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আলোচনা করে সেটা কমিয়েছি। সব যদি দেশের বাইরে থেকেই আসে, তবে আমাদের কারখানা তো চলবে না। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে হবে।” রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলার সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে ৮টি শ্রেষ্ঠ স্টলকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ স্বীকৃতি জানানো হয়।


স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ভরিতে বাড়ল ২৬২৫ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে পুনরায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানো হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বাজুস বলেছে, “স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় স্বর্ণের দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে।” শনিবারও সারাদেশে এই পরিবর্তিত উচ্চমূল্যেই স্বর্ণ বেচাকেনা চলছে।

স্বর্ণের নতুন এই দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ এখন ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম পরিশোধ করতে হবে, যদিও গয়নার অলংকরণ ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা দরেই স্থির রয়েছে।


পাঁচ বছরে আয় ও উদ্বৃত্তে রেকর্ড ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

২০২৫ সালে খরচ বাদে লাভ করেছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে গত পাঁচ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লাভ করেছে; যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫- এই পাঁচ বছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩.০৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৮.৪২ শতাংশ। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চবক সূত্র জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭.৫৯ শতাংশের মধ্যে ধরে রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বাবদ চট্টগ্রাম বন্দর গত পাঁচ বছরে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় করেছে পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

সূত্রমতে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে ২০২৪ সালেও বড় অঙ্কের অর্থাৎ ২ হাজার ৯২৩.১৭ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তার আগের বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ, ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ ও ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। বছরটিতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ এ বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ৭.৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে ১৬.৬৯ এবং ২০২২ সালে ৬.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করায় গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৬১ শতাংশ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫০ শতাংশে সীমিত রাখতে পেরেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

যদিও ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব ব্যয় হয়েছে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০.১৮ শতাংশ বেশি ছিল। এর আগে ২০২২ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.১৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে এই অর্থ জমা দেয় তারা। গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে মোট ৭৫৮০.২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে কর হিসেবে, যার পরিমাণ ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ জমা দিয়েছে তিন হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর বাইরে কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও প্রতি বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৫ এ কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১৮০৪.৪৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় যা ৫.৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১,৭১১.৭৫ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে ১,৫১৯.৩৫ কোটি, ২০২২ সালে ১,৩৫৯.৫৯ কোটি এবং ২০২১ সালে ১,১৮৫.০৪ কোটি টাকা সরকারের কোষগারে জোগান দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত দুই ক্ষেত্রে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।


ভূরাজনৈতিক সংকট ও সরবরাহ শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবার কিছুটা বেড়েছে তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনের দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটির প্রাক্কালে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আক্রমণের সম্ভাবনা সাময়িকভাবে স্তিমিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার দাম কমলেও পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরির উপস্থিতি এবং সরবরাহে সম্ভাব্য ঘাটতির ভয়ে বাজার পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বেড়ে ৬৪ ডলার ১৩ সেন্ট হয়েছে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৫৯ ডলার ৪৪ সেন্টে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সরবরাহ আশানুরূপ শুরু না হওয়াকে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন। তাঁর মতে, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে যে পরিমাণ সরবরাহ আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তা এখনো ওভাবে শুরু হয়নি। শুক্রবার যারা তেল কিনেছে, তারা মূলত তিন দিনের ছুটির সময় ঘাটতিতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।’

যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালি অবরোধের আশঙ্কা বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দামের ওপর একটি বাড়তি চাপ বজায় থাকতে পারে।

তবে সামগ্রিক বাজার ভারসাম্য নিয়ে বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, “ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে জল্পনাকল্পনার ধারাবাহিক চাপ থাকলেও বাণিজ্যের যে মৌলিক ভারসাম্য, তাতে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, “চীনের চাহিদায় হঠাৎই বেড়ে না গেলে কিংবা তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলে তেলের দাম সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে।” মূলত চীনসহ বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর গতির কারণেই ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকালীন রেকর্ড দামের তুলনায় বর্তমানে তেলের বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


banner close