সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না কি সংশোধন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ছাত্রদের আহ্বানে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর চার দিনের মাথায় ১২ আগস্ট বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে রয়ে যায়। গতকাল এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচনের রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবিধানের কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এ বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম ও ৬টি ইসলামী দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলো করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।
এ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ হয়েছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চেয়েছে। দ্রুতই আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সরকারের মেয়াদ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাবনা ভিত্তিতেই রূপরেখা দেওয়া হবে। একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা হবে।
গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বৈঠকে দলগুলো তাদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সংবিধান ইস্যুতেও মতামত দেয় দলগুলো।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না- এমন প্রস্তাব দেয়। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার যেসব সংস্কার করতে পারে না সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, ক্ষমতার ভারসাম্যসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গণফোরাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ ৮৩টি প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ করেছে ১২ দলীয় জোট। জোটটির নেতারা বলেন, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিরাজমান সংকট সমাধানে সময় লাগবে। সরকারকে এই সময় দিতে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত আছে। এ সময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও জানান নেতারা।
গত ১২ আগস্ট বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ যেসব দল ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিল, তাদের এবারের বৈঠকে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রণ পায়নি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয়বাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জাসদ ডাক পেয়েছে।
গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় প্রথমে খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুনতাসীর আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। প্রতিনিধিদলে থাকবেন মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালাল উদ্দিন। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, নেয়ামূল বশির, নুরুল আলম তালুকদার ও আওরঙ্গজেব বেলাল।
এরপর বিকেল ৫টায় মতবিনিময় সভায় জাতীয়বাদী সমমনা জোট থেকে নেতৃত্বে দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, জাগপা একাংশের তাসমিয়া প্রধান, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমেদ বাদল। বাংলাদেশ জাসদের নেতৃত্ব দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন নাজমুল হক প্রধান, মুশতাক হোসেন, আবদুল কাদের হাওলাদার, কাজী সদরুল হক।
সন্ধ্যা ৭টায় গণফোরাম ও জাতীয় পার্টির বৈঠক করে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান চুন্নু, মাশরুর মওলা ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আর গণফোরামের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, এস এম আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিব উদ্দিন আবদুল কাদের ও মোশতাক আহমেদ।
এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু অবহিত করেন। এ সময় ইসলামী দলগুলোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।
এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নৈরাজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইসলামী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
নেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানানো হয়। তারা আরও জানান, সংলাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক বেশ কিছু সংস্কারের দাবিও উপস্থাপন করেছেন নেতারা।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৭ প্রস্তাব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের
বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা উপস্থাপন করেন।
এগুলো হচ্ছে:
১. প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
ক. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সে জন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।
খ. নির্বাচনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। যোগ্য সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।
২. সাংবিধানিক সংস্কার:
ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।
খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।
গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।
ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।
৩. বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।
৫. পুলিশ ও প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।
৬.কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন/নীতি প্রণয়ন না করা।
৭. হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
দেশের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর আমানতকারীদের জন্য আজ বৃহস্পতিবার থেকে অর্থ উত্তোলনের এক বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন থেকে তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে এককালীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যাদের জমানো টাকার পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হবে; তারা পরবর্তী সময়ে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, কিডনি ডায়ালাইসিস এবং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট সীমা কার্যকর হবে না, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী অধিক অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
এই অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ ব্যক্তি আমানতকারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আমানতকারীরা দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা কঠোর করা হয়েছে; প্রতিষ্ঠানের সাত লাখ টাকার বেশি আমানতকে পাঁচ বছর মেয়াদী স্থায়ী আমানতে রূপান্তর করা হবে। এই আমানতের বিপরীতে ব্যাংক রেটের চেয়ে এক শতাংশ কম অর্থাৎ তিন শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করা হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর লেনদেন পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে তিন মাস মেয়াদী আমানতগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনবার নবায়নের পর এবং দীর্ঘমেয়াদী আমানতগুলো নির্দিষ্ট কয়েকবার নবায়নের পর গ্রাহকরা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের শেয়ারবাজার।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রধান পুঁজিবাজার—ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই এসব দেশ বাংলাদেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। এ বছর বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে, যেখানে আগের বছর শেষে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের শেষে ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে, আগের বছর যা ছিল ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকও ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।
সূচক কমলেও ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের মোট বাজার মূলধন ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে চিত্র ছিল নেতিবাচক। ২০২৪ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। ফলে এক বছরে লেনদেন কমেছে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল- অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরে আসবে। তবে কিছু ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার ঘোষণা এলেও বাস্তবে তা আদায় হয়নি। এ ছাড়া সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই সময়ে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্বও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। মূলত মার্জিন রুলস বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল।
২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা ছিল, তার বড় অংশই অপূর্ণ থেকে গেছে। আগের বছরের মতো চলতি বছরেও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।
ব্যাংক থেকে ডলার কেনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল, আর ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলারসংকট কাটাতে সাহায্য করেছে। ২৯ দিনে দেশে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার।
গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। তাতে গত মার্চে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড হয়। ওই মাসে ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরপর চলতি মাসে প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া বিদেশি ঋণও আসছে। এতে বাড়ছে রিজার্ভ। গত মঙ্গলবার রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা কোনো সংস্থার ঋণে নয়, নিজেদের দেশ থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ বাড়ানো হবে। এটাই ভালো সিদ্ধান্ত।’
চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে ৩০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। আর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা ছাড়া সকল ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৩০ লাখের বেশি করদাতা ২০২৫-২৬ কর বছরের ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। লক্ষণীয় যে, যাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়নি, তারাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করছেন।
গত আগস্ট মাসে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবর মাসে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বর মাসে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন এবং ডিসেম্বর মাসে অদ্যাবধি প্রায় ১০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর একই সময়ে ১০ লাখ ২ হাজার ২৯৮ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। করদাতাগণের সুবিধার জন্য সরকার ইতোমধ্যে রিটার্ন দাখিলের তারিখ ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে এ বছর ৪০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করবেন মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশাবাদী।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ই-মেইল অ্যাড্রেস ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণের মাধ্যমে আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে একটি প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। তাছাড়া, করদাতার পক্ষে তাদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনরূপ কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতাগণ তাদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে কোনো ঝামেলা ছাড়া ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার পত্র এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারছেন। দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল হলে রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকেই সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে ২০২৫-২৬ কর বছরের সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেছেন।
ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য এনবিআর করদাতা এবং করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিজদেরকে ও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য এনবিআর কর্তৃক স্থাপিত কল সেন্টারের ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতাগণ ই-রিটার্ন সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন। এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd এর ইট্যাক্স সার্ভিস অপশন থেকে করদাতারা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন। অধিকন্তু, দেশের সকল কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালীন সময়ে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সকল সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
এনবিআর ব্যক্তি শ্রেণির সকল করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করেছে।
প্রযুক্তির সাম্প্রতিক উদ্ভাবন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশের সক্ষমতা, সাফল্য ও সম্ভাবনা দেশ এবং বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশে দেশে আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। যা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশের মানুষেরও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এটা প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিবাচক দিক। যেকোনো দেশের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তর একটা চলমান প্রক্রিয়া। সে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই ডিজিটাল রূপান্তরের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, এবারের এক্সপোতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশ টু দ্য গ্লোবাল’ ধারণার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও গবেষণার সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘এবারের আয়োজনে আমরা ৩
লাখ দর্শনার্থীর প্রত্যাশা করছি।’
তিনি জানান, স্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ কোম্পানি, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন থাকছে এই প্রদর্শনীতে। সে সঙ্গে থাকছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিভিন্ন সেমিনার, প্যানেল আলোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নীতি-নির্ধারণী আলোচনা।
সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম, সেলিব্রেটি, হারমনি, কার্নিভাল, মিল্কিওয়ে, মিডিয়া বাজার, উইন্ডি টাউনসহ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
প্রদর্শনীটি কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- লোকাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং।
দেশিয় ও আন্তর্জাতিক শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর এ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে।
এতে স্থানীয় ডিজিটাল পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ও সার্ভিস প্রোভাইডারস, স্থানীয় উদ্ভাবনী প্রদর্শক, আন্তর্জাতিক বিখ্যাত ব্রান্ড, কম্পিউটার গেমিং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, হার্ডওয়্যার খাতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, ওইম (অরিজিনাল ইকুয়েপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস) এবং সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তির নতুন সব পণ্য, সেবা, জীবনশৈলী ও ধারণা উপস্থাপন করবে এসব প্রতিষ্ঠান। তথ্যপ্রযুক্তির সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি এবং উদ্যোগগুলোও উপস্থাপন করা হবে। ১৩০টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে এসব প্রদর্শন করা হবে।
প্রদর্শনীতে যৌথভাবে সহযোগিতা করবে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প, ডিপার্টমেন্ট অব আইসিটি, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ (সিসিএ)।
সহযোগিতায় থাকবে বাংলাদেশ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) এবং টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)।
তালেবান সরকার তিন বছর আগে আফিম উৎপাদনের জন্য পপি চাষ নিষিদ্ধ করার পর থেকে উত্তর আফগানিস্তানের কৃষকেরা এখনো তাদের হারানো আয় পুনরুদ্ধার করতে পারেননি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কাবুল থেকে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)’র বরাত দিয়ে এএফপি সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জানায়, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে চলতি বছরে আফগানিস্তানে পপি চাষের পরিমাণ কমে মাত্র ১০ হাজার ২০০ হেক্টরে (২৫ হাজার ২০০ একর) নেমে এসেছে, যা দেশটির ইতিহাসে ‘এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সর্বনিম্ন মাত্রাগুলোর একটি’।
তবে এর ফলে পপি চাষের ভৌগোলিক অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন এলাকা থেকে চাষ সরে গিয়ে তালেবান কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কম এমন উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বিস্তার লাভ করেছে।
সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অসুযায়ী তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী বাদাখশান প্রদেশে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পপি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই প্রদেশসহ পার্শ্ববর্তী কুন্দুজ ও বালখে ‘গড়ে ৮৫ শতাংশ পরিবার পপি চাষ বন্ধ করার পর তাদের আগের আয় পুরোপুরি বা আংশিকভাবেও প্রতিস্থাপন করতে পারেনি’।
অনেক কৃষক এখন গম ও অন্যান্য শস্য চাষে ঝুঁকছেন। তবে ২০২৩ সালে ‘প্রতি হেক্টরে গম চাষ থেকে গড় আয় ছিল মাত্র ৭৭০ ডলার, যেখানে অপিয়াম পপি থেকে আয় হতো প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০ হাজার ডলার’।
ইউএনওডিসির আঞ্চলিক প্রতিনিধি অলিভার স্টলপে বলেন, ‘এই আয়হানি শুধু পরিবার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল করছে, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিচ্ছে এবং দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’
সংস্থাটি আফগানিস্তানে জাফরান, বাদাম, ভেষজ উদ্ভিদ এবং খরচ সহনশীল ও উচ্চমূল্যের ফল যেমন এপ্রিকট ও আঙুর চাষে উৎসাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যেগুলো শুষ্ক ও উচ্চভূমির পরিবেশের জন্য বেশি উপযোগী।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে দীর্ঘদিন ধরে পপি থেকে প্রাপ্ত আয় আফগানিস্তানের অর্থনীতির একটি বড় অংশ ছিল।
গত মাসে ইউএনওডিসি জানায়, চলতি বছরে আফগানিস্তানে অপিয়াম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২৯৬ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম।
এতে কৃষকদের অপিয়াম বিক্রি থেকে আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে—২০২৪ সালের ২৬০ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ১৩৪ মিলিয়ন ডলারে।
সরকারের মাদকবিরোধী কার্যক্রমবিষয়ক উপমন্ত্রীালয় এই প্রতিবেদনকে কৃষকদের ‘বাস্তবতা ও প্রকৃত চ্যালেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন’ বলে স্বাগত জানিয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ‘টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন এবং মাদক ফসল চাষের ওপর নির্ভরতা কমাতে’ নীতিমালা অনুসরণ করবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ১৩৩ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রতিশ্রুতি দ্বিগুণেরও বেশি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ১২১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।
গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫২ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫৮ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে। আর বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় দুই কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অন্যান্য দাতা সংস্থা ও দেশ ওই চার মাসে সাড়ে ৬২ কোটি ডলার দেবে বলে জানিয়েছে।
তবে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বড় বড় বন্ধুপ্রতিম দেশ কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এই তালিকায় আছে ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপান। এই চারটি দেশ নতুন করে প্রতিশ্রুতি না দিলেও আগে নেওয়া ঋণের অর্থ ছাড় করেছে। এর পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) গত ৫ মাসে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
অর্থবছরের পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া। দেশটি ৫ মাসে দিয়েছে ৫৫ কোটি ডলার। এরপরে আছে বিশ্বব্যাংক। এই সংস্থা দিয়েছে ৪৩ কোটি ডলার। আর এডিবি দিয়েছে সাড়ে ৩৩ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে সাড়ে ১৯ কোটি ডলার ও ৯ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে সাড়ে ৮ কোটি ডলার।
ইআরডি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, সরকার পতন, প্রশাসনে অস্থিরতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার সংকেটর কারণে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি কম ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় প্রতিশ্রুতি আদায়ের পরিমাণ বাড়ছে।
ইআরডির তথ্যানুযায়ী, জুলাই-নভেম্বর সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের পরিমাণও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
ইআরডি সূত্রে আরও জানা গেছে, গেল অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় বেড়েছে। তবে জুলাই-নভেশ্বর সময়ে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ ছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা, প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধও করেছে বাংলাদেশ।
এই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ১৯৪ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে, বিপরীতে বাংলাদেশ প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে মূলধন ও সুদ বাবদ বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে ১৮৯ কোটি ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন নারী-পুরুষ কর্মী বিদেশে গেছেন এবং এ সময়ে তারা দেশে ১৫,৭৯১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১,৫৭৯ কোটি ১০ লাখ ডলার) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি একটি সম্ভাবনাময় খাত এবং সরকার একে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তবধর্মী নীতির মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে কর্মসংস্থানে গেছেন ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন বাংলাদেশি, আর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন, জানান ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৫,৭৯১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩,৫৪৫ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ হাজার কোটি ডলার) ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, যার পরিমাণ ছিল ২৪.৮ বিলিয়ন ডলার।
রিক্রুটিং এজেন্ট ও অভিবাসী শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যে বিদেশে কর্মসংস্থান কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও নতুন গন্তব্য চিহ্নিত করা এবং বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের ব্যবধান কমে আসা এবং মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার কারণে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, গত ১১ মাস ২৮ দিনে কর্মসংস্থানের জন্য ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৯ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব গেছেন, কাতারে গেছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ জন, আর সিঙ্গাপুরে গেছেন ৬৯ হাজার ৪৯১ জন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি।’
তিনি জানান, দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য রাশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম ও পূর্ব ইউরোপসহ কিছু নতুন গন্তব্য দেশ অনুসন্ধান করেছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৬,৮৮৯.৫৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পর সঞ্চিত অর্থই মূলত প্রবাসীরা দেশে পাঠান। তারা আরও বলেন, নার্স, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ চাহিদাভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কারণ ভবিষ্যতে বহু দেশে এসব পেশার চাহিদা আরও বাড়বে।
সরকার বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেছে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে—শিপ বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং, জেনারেল মেকানিক্স, ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স, অটো ক্যাড ২ডি ও ৩ডি, ওয়েল্ডিং (৬জি), ক্যাটারিং, রাজমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ এবং কোরিয়ান, আরবি, ক্যান্টনিজ ও জাপানি ভাষা শিক্ষা।
সরকার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিদেশে নথিভুক্ত (ডকুমেন্টেড) কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র : বাসস
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি এভিটা জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে এসে পৌঁছেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি নম্বর জি টু জি-২ এর অধীনে এই গম আমদানী করা হয়েছে। গতকাল রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করছে।
জি টু জি-২ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে, যার প্রথম চালানে ৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গম এই চালানের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে।
৫৬ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন গমের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৩৪ মেট্রিক টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২২ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
উল্লেখ, জি টু জি-১ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি হয়েছে। জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
গমের নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রপ্তানি উৎসাহিত করতে সরকারের দেওয়া নগদ সহায়তা আরও অন্তত তিন বছর অব্যাহত রাখার অনুরোধ জনিয়েছে বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে পাঠানো আলাদা চিঠিতে এই অনুরোধ জানান বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। কেন এই অনুরোধ করা হচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে বিটিএমএর পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্যমানের পতন, গ্যাসের দাম ২৫০ শতাংশ ও শ্রমিকের মজুরি ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে মিলগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। এ কারণে বস্ত্রকলগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। এসব কারণে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও অন্তত তিন বছর বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনার বর্তমান সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ গত জুলাই মাসে প্রণোদনা কমিয়ে নতুন সার্কুলার জারি করে। এর পর থেকে রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান দেড় শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা দশমিক ৫০ শতাংশ, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা ৩ শতাংশ রয়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা বাজার সম্প্রসারণে প্রচলিত বাজারের বাইরে অন্য বাজারের জন্য ২ শতাংশ ও তৈরি পোশাক খাতে দশমিক ৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা রয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে দুই কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মেলে, বিপরীতে দুই কার্যদিবসে দরপতন হয়। এরপরও সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যাক প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৪১টির স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির। আর ১০১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৭ কোটি টাকা বা দশমিক ১৫ শতাংশ।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৫৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৮৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হান কটনের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
এছাড়া, লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, লাভেলো আইসক্রিম, রহিমা ফুড, মুন্নু ফেব্রিক্স, ফাইন ফুড এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম উভয়ই কমেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের আগে তেলের দাম কমল। এই বৈঠকের আগে বাজারের ধারণা, বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৬৪ সেন্টে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ৫৬ ডলার ৭৪ সেন্টে নেমে এসেছে।
চলতি বছর তেলের দাম অনেকটাই কমেছে। বাস্তবতা হলো, গত ১৬ ডিসেম্বর তেলের দাম পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এরপর বাজারে সরবরাহ–সংকটের আশঙ্কায় দাম কিছুটা বাড়ে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে চলতি বছর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১৯ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২১ শতাংশ কমেছে।
বাস্তবতা হলো, ২০২০ সালের পর চলতি বছরে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি কমবে—এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতির ধীরগতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা কমে। সেই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন বাড়তে থাকায় আগামী বছরে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা আছে। এই বাস্তবতায় তেলের দাম কমছেই।
রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয় কি না, বিনিয়োগকারীদের নজর এখন সেদিকেই। শান্তিচুক্তি হলে রাশিয়ার তেল খাতে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে।
যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে জমি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। জানা গেছে, ২০ দফা–সংবলিত শান্তিচুক্তির কাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি।
বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তাহলে প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামো নিয়ে গণভোট আয়োজন করতেও তিনি প্রস্তুত।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পাওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক তেল মজুত বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি—এ দুটি কারণে তেলের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরকারের নতুন সিদ্বান্ত অনুযায়ী দেশের সব স্থলবন্দরের সেবা মাশুলের হার ৫ শতাংশ বাড়ছে। প্রতিটি সেবার বিপরীতে কর, টোল, মাশুলের পরিমাণ আগের চেয়ে এই হারে বেড়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই মাশুল কার্যকর করা হবে।
এ নিয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অন্য স্থলবন্দরের তুলনায় বেনাপোল স্থলবন্দরে মাশুল কিছুটা বেশি। তাই বেনাপোল বন্দরের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরে ২৭ ধরনের সেবার বিপরীতে মাশুল আদায় করা হয়। যেসব যাত্রী বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ২০২৫ সালে মাশুলের পরিমাণ ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা। ২০২৬ সালের জন্য বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরি প্রবেশ করলে এখন ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা দিতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা। মোটর কার, জিপ, পিকআপ, থ্রি-হুইলারের জন্য মাশুল ১১০ টাকা ৮২ পয়সা। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলের জন্য নতুন মাশুল ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা।
বেনাপোল স্থলবন্দরে ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহারের মাশুল ট্রাক, লরিতে দিতে হবে ৮৮ টাকা ৬৫ পয়সা। অন্যদিকে কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ মাশুল ১৯৫ টাকা ৭ পয়সা। কোনো যানবাহন ইয়ার্ডে সারা রাত থাকলে ১১১ টাকা ৪৯ পয়সা। এ ছাড়া গুদামে পণ্য রাখলে তার মাশুল বেড়েছে পণ্য রাখার সময় অনুযায়ী। এভাবে সব ধরনের মাশুলের পরিমাণই বেড়েছে।
বেনাপোল ছাড়া অন্য স্থলবন্দরগুলোতেও মাশুল বেড়েছে ৫ শতাংশ হারে। যেসব যাত্রী বেনাপোল ছাড়া অন্য স্থলবন্দর ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য ২০২৫ সালে মাশুলের পরিমাণ ছিল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা। নতুন বছরের জন্য তা বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ছাড়া অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরির জন্য এখন ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা দিতে হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫১ টাকা ৬৪ পয়সা। মোটর কার, জিপের জন্য মাশুল ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা। মোটরসাইকেল, স্কুটার, বেবি ট্যাক্সি, থ্রি–হুইলারের জন্য নতুন মাশুল ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করলেও পণ্য ভেদে মাশুলের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও মাশুল বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মাশুল কার্যকর করা হবে।’