সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না কি সংশোধন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ছাত্রদের আহ্বানে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর চার দিনের মাথায় ১২ আগস্ট বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে রয়ে যায়। গতকাল এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচনের রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবিধানের কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এ বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম ও ৬টি ইসলামী দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলো করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।
এ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ হয়েছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চেয়েছে। দ্রুতই আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সরকারের মেয়াদ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাবনা ভিত্তিতেই রূপরেখা দেওয়া হবে। একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা হবে।
গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বৈঠকে দলগুলো তাদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সংবিধান ইস্যুতেও মতামত দেয় দলগুলো।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না- এমন প্রস্তাব দেয়। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার যেসব সংস্কার করতে পারে না সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, ক্ষমতার ভারসাম্যসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গণফোরাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ ৮৩টি প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ করেছে ১২ দলীয় জোট। জোটটির নেতারা বলেন, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিরাজমান সংকট সমাধানে সময় লাগবে। সরকারকে এই সময় দিতে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত আছে। এ সময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও জানান নেতারা।
গত ১২ আগস্ট বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ যেসব দল ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিল, তাদের এবারের বৈঠকে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রণ পায়নি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয়বাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জাসদ ডাক পেয়েছে।
গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় প্রথমে খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুনতাসীর আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। প্রতিনিধিদলে থাকবেন মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালাল উদ্দিন। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, নেয়ামূল বশির, নুরুল আলম তালুকদার ও আওরঙ্গজেব বেলাল।
এরপর বিকেল ৫টায় মতবিনিময় সভায় জাতীয়বাদী সমমনা জোট থেকে নেতৃত্বে দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, জাগপা একাংশের তাসমিয়া প্রধান, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমেদ বাদল। বাংলাদেশ জাসদের নেতৃত্ব দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন নাজমুল হক প্রধান, মুশতাক হোসেন, আবদুল কাদের হাওলাদার, কাজী সদরুল হক।
সন্ধ্যা ৭টায় গণফোরাম ও জাতীয় পার্টির বৈঠক করে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান চুন্নু, মাশরুর মওলা ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আর গণফোরামের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, এস এম আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিব উদ্দিন আবদুল কাদের ও মোশতাক আহমেদ।
এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু অবহিত করেন। এ সময় ইসলামী দলগুলোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।
এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নৈরাজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইসলামী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
নেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানানো হয়। তারা আরও জানান, সংলাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক বেশ কিছু সংস্কারের দাবিও উপস্থাপন করেছেন নেতারা।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৭ প্রস্তাব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের
বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা উপস্থাপন করেন।
এগুলো হচ্ছে:
১. প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
ক. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সে জন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।
খ. নির্বাচনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। যোগ্য সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।
২. সাংবিধানিক সংস্কার:
ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।
খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।
গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।
ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।
৩. বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।
৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।
৫. পুলিশ ও প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।
৬.কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন/নীতি প্রণয়ন না করা।
৭. হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের তুলনায় এবার ৪০ শতাংশ বেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। গত রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির এলসি সম্পন্ন করা হয়েছিল। মূলত আমদানিকারকদের মাধ্যমে মজুদ করা পণ্যগুলো সঠিকভাবে ডিস্ট্রিবিউশন বা বিতরণ করা হলে বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরির অবকাশ থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, “কোনো পণ্যেরই কোনো প্রকার ঘাটতি দেখা যাবে না। আর যদি ঘাটতি দেখা না যায়, অর্থনীতির স্বাভাবিক সংজ্ঞায় চাহিদা মোতাবেক যদি যোগান থাকে মূল্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুদ করা আছে। আমদানিকারকরা মজুদ করা পণ্য সঠিকভাবে বিতরণ করলে আশা করি কোনো পণ্যের ঘাটতি থাকবে না।” ইতিপূর্বে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির এই উচ্চহার নবনির্বাচিত সরকারের জন্য রমজানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে যা বাজারে পণ্য সরবরাহে গতি আনবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে ট্রাকসেলের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর পৌঁছে দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নাগালে নিত্যপণ্যের দাম রাখতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো পাঁচটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে সারাদেশে সরবরাহ করবে সরকারি এই সংস্থাটি। সারাদেশের সিটি করপোরেশন, জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে চারশ’র বেশি ট্রাকের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং একই সাথে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝেও পণ্য বিতরণ অব্যাহত থাকবে। টিসিবির প্রস্তুতি অনুযায়ী ডিলারদের ইতোমধ্যে পণ্য নিতে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে যেখানে প্রতিটি ট্রাকে অন্তত ৪০০ জন ভোক্তার জন্য মালামাল বরাদ্দ থাকবে।
টিসিবি'র মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, “পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কতিপয় পণ্য ট্রাক সেলের মাধ্যমে বিক্রি করবে, এটা এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সময় ১৭ (ফেব্রুয়ারি) তারিখ থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং এটা সারা দেশব্যাপীই হবে- প্রতিটি জেলা, সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে এটা হবে।” অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সাজার দাবি জানিয়ে ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “সুযোগ পেলে দাম বাড়াবে এই ধরণের টেনডেন্সি থেকে বের হয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেওয়া দরকার।
আমরা বারবার বলেছি, শুধুমাত্র জরিমানাই কিন্তু একক (একমাত্র) শাস্তি নয়।” সাধারণত প্রতি বছর রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে থাকে। বর্তমানে টিসিবির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীকাল থেকে এক কোটি পরিবার কার্ডধারীসহ সাধারণ মানুষও খোলা ট্রাক থেকে পণ্য কেনার সুবিধা পাবেন যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কূটনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা ও সরবরাহ বৃদ্ধির খবরের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে স্থির অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৭.৭৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। ব্রেন্ড ক্রুড এবং ইউএস ডব্লিউটিআইয়ের দামে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেলেও ডব্লিউটিআই ব্যারেল প্রতি ৬২.৯১ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করায় বাজারে সরবরাহ বাড়ার পূর্বাভাস তৈরি হয় যা তেলের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে। মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে যেখানে পারমাণবিক বিরোধ সমাধান ও নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ইরান জানিয়েছে, “সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।” এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের নিজস্ব শর্তে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো ফলাফল আসা নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝে সংশয় রয়েছে। বর্তমানে ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল মাস থেকে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মেটাতে পুনরায় তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ভূরাজনৈতিক এই অনিশ্চয়তার কারণে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার প্রধান সূচকগুলোর পতনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতনে এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্টের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এদিন লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৮টিরই দরপতন ঘটেছে এবং প্রধান তিন সূচকই গত কার্যদিবসের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। মূলত বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিক্রয়চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচকটি ১১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৮৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে যা শতাংশের হিসেবে ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। একইভাবে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৮ দশমিক ৬২ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০- ৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দিনভর মোট ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণে জানান, “সূচকের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও নির্বাচিত কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে; তবে সামগ্রিকভাবে সতর্ক অবস্থানে থেকেই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।” বিগত কয়েক কার্যদিবসে বাজারের মিশ্র প্রবণতার পর আজকের এই পতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বর্তমানে বাজারের এই অস্থিতিশীলতা নিরসনে এবং লেনদেনের গতি ফেরাতে পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকে কড়া নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ অংশীজনরা।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জেন্ডার-স্মার্ট এবং জলবায়ু-সমন্বিত অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইন্সট্রুমেন্ট চালু ও সম্প্রসারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের (আইআইএক্স) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই অংশীদারত্বের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের শেয়ারবাজারে টেকসই অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাবসম্পন্ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ডিএসই কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ডিএসইর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইআইএক্সের পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ডিএসই একটি স্বতন্ত্র থিম্যাটিক বা টেকসই অর্থায়ন শ্রেণির অধীনে অরেঞ্জ বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করবে এবং বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও বাজার প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে কাজ করবে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, “জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআইএক্সের সঙ্গে এই উদ্যোগ উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ চালু এবং টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।” একই অনুষ্ঠানে আইআইএক্সের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর দুররীন শাহনাজ বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অরেঞ্জ পুঁজিবাজার এগিয়ে নেওয়ার এই সহযোগিতা লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াবে।”
দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে উভয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অরেঞ্জ ইন্সট্রুমেন্টকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ঋণ সিকিউরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথ কর্মশালা ও নীতিগত সংলাপ আয়োজনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আসল নোটের সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। মূলত আসল টাকার নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি বা বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করায় সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই জরুরি বার্তা প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকৃতির নমুনা নোট ব্যবহার করে নিজস্ব প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বাজারে জাল নোটের বিস্তার ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও চিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্ৰদৰ্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” দণ্ডবিধির আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান যদি এরূপ নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা প্রচলনে থাকা ব্যাংক নোট সদৃশ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং উক্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনসাধারণকে এই ধরনের অননুমোদিত প্রচারণা ও কন্টেন্ট তৈরি থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদান করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বেশ ইতিবাচক থাকলেও দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এই শূন্য রেমিট্যান্সের তালিকায় একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি একটি আশাব্যাঞ্জক খবর হলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে কোনো প্রবাসী আয় জমা হয়নি। এ ছাড়া বিদেশি খাতের আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমেও ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা কোনো অর্থ পাঠাননি। মূলত প্রবাসীরা যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেশি লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে পৌঁছেছে। বিপরীতে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ২১০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট ২ হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, "ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহের এই ধারা বজায় থাকলে চলতি মাসেও প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।" বর্তমান অর্থবছরে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য একটি বড় সুখবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নতুন সময়সূচিতে শেয়ার কেনাবেচা চলবে।
রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত ডিএসই সূত্রে সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে লেনদেন ১টা ৪০ মিনিটে শেষ হবে এবং এর পরবর্তী ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন হিসেবে গণ্য হবে। রমজানে লেনদেনের সময়সূচির বিষয়ে ডিএসই জানায়, “শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হবে। আর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।” এই সেশনে নতুন কোনো দাম প্রস্তাব করার সুযোগ না থাকলেও বিনিয়োগকারীরা দিনের সমাপনী বা ক্লোজিং দামে শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে সাধারণ সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চললেও প্রতি বছরই রমজান মাসে বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর বাজার পুনরায় তার নিয়মিত সময়সূচিতে ফিরে আসবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ডিএসইর দাপ্তরিক কার্যক্রমের সময়ও সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ বিবেচনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটি এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে করদাতাদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি মাসে ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকায় এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে রিটার্ন দাখিলে বিঘ্ন ঘটায় এনবিআর এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এ-চালান সিস্টেমে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ করদাতারা সময়মতো তথ্য হালনাগাদ করতে পারেননি যার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের উচ্চপর্যায় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, “জানুয়ারি-২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৬ তারিখের পরিবর্তে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” সাধারণত প্রতি মাসের ১৬ তারিখে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সময় বাড়ানো হলো। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের সকল ভ্যাট সার্কেল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বর্ধিত সময় অনুযায়ী রিটার্ন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়। ডিএসই-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
পেশাগত এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে হাসান ও. রশিদ জানান, “বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি প্রাইম ব্যাংকের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এপ্রিলেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, যেখানে বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সফল নেতৃত্বের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও ব্যাংকটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে; গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এই ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার প্রায় ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা ক্যানসার নিরাময়কারী ওষুধের অভাবনীয় বিক্রি বৃদ্ধির সুবাদে গত বছরে তাদের নিট মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসার ও ওষুধ বিক্রির উল্লম্ফন প্রতিষ্ঠানটিকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তারা এই আর্থিক অর্জনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কৌশল এই সাফল্যের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক বিবৃতিতে গত দুই বছরের লভ্যাংশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর পরবর্তী মুনাফা ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় এই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মাঝে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও গম আমদানি শুরুর আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গম আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখনই বড় কোনো তৎপরতা শুরু করছেন না। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে গমের দাম কম। এখনই গম আমদানি সম্ভাবনা নেই। তারা মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন গমের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, কিছুদিন মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন গম আসতে শুরু করবে। তখন দাম অনেকটা কমে আসবে। সে সময় আমদানি শুরু হবে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।
এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।
ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।