বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক

অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দাবি নির্বাচনের সময়সীমা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২১

সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না কি সংশোধন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ছাত্রদের আহ্বানে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর চার দিনের মাথায় ১২ আগস্ট বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে রয়ে যায়। গতকাল এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচনের রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবিধানের কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম ও ৬টি ইসলামী দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলো করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।

এ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ হয়েছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চেয়েছে। দ্রুতই আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সরকারের মেয়াদ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাবনা ভিত্তিতেই রূপরেখা দেওয়া হবে। একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বৈঠকে দলগুলো তাদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সংবিধান ইস্যুতেও মতামত দেয় দলগুলো।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না- এমন প্রস্তাব দেয়। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার যেসব সংস্কার করতে পারে না সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, ক্ষমতার ভারসাম্যসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গণফোরাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ ৮৩টি প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ করেছে ১২ দলীয় জোট। জোটটির নেতারা বলেন, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিরাজমান সংকট সমাধানে সময় লাগবে। সরকারকে এই সময় দিতে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত আছে। এ সময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও জানান নেতারা।

গত ১২ আগস্ট বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ যেসব দল ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিল, তাদের এবারের বৈঠকে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রণ পায়নি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয়বাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জাসদ ডাক পেয়েছে।

গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় প্রথমে খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুনতাসীর আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। প্রতিনিধিদলে থাকবেন মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালাল উদ্দিন। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, নেয়ামূল বশির, নুরুল আলম তালুকদার ও আওরঙ্গজেব বেলাল।

এরপর বিকেল ৫টায় মতবিনিময় সভায় জাতীয়বাদী সমমনা জোট থেকে নেতৃত্বে দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, জাগপা একাংশের তাসমিয়া প্রধান, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমেদ বাদল। বাংলাদেশ জাসদের নেতৃত্ব দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন নাজমুল হক প্রধান, মুশতাক হোসেন, আবদুল কাদের হাওলাদার, কাজী সদরুল হক।

সন্ধ্যা ৭টায় গণফোরাম ও জাতীয় পার্টির বৈঠক করে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান চুন্নু, মাশরুর মওলা ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আর গণফোরামের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, এস এম আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিব উদ্দিন আবদুল কাদের ও মোশতাক আহমেদ।

এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু অবহিত করেন। এ সময় ইসলামী দলগুলোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।

এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নৈরাজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইসলামী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানানো হয়। তারা আরও জানান, সংলাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক বেশ কিছু সংস্কারের দাবিও উপস্থাপন করেছেন নেতারা।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৭ প্রস্তাব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের

বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা উপস্থাপন করেন।

এগুলো হচ্ছে:

১. প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

ক. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সে জন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।

খ. নির্বাচনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। যোগ্য সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।

২. সাংবিধানিক সংস্কার:

ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।

গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।

ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।

৩. বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।

৫. পুলিশ ও প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।

৬.কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন/নীতি প্রণয়ন না করা।

৭. হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেড় বছর পর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডলারের দামে এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনার দামে পরিবর্তন আনে। এতদিন প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কেনা হলেও তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার এবং খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন এই দর ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।

খোলাবাজারেও ডলারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। সেখানে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সা দরে। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় কিনতে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দিচ্ছে। এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে প্রতি ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।

আমদানিকারকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এর ফলে আমদানির খরচ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়বে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায় প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে আমদানির ক্ষেত্রেও ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে। গত ৩ মার্চ প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।


যুদ্ধ থামার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে— এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪ ডলার কমে প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের মূল্যও কমে প্রায় ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে সোমবার যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনায় তেলের বাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। সে সময় ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়ে প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে দাম বাড়ে।

পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ট্রাম্পের মধ্যে একটি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে কথা হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয় এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাময়িক স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স


আবাসন খাতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় রিহ্যাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন রিহ্যাব নেতারা। ছবি: রিহ্যাবের সৌজন্যে
আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫২
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব সামাল দিয়ে নির্মাণ কার্যক্রম চালু রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। একই সঙ্গে গৃহঋণের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, “চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আবাসন খাতেও। এ খাতকে সচল রাখতে বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চাওয়া হয়েছে। গভর্নর ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প সুদের গৃহঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে গৃহঋণের সুদহার বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই গৃহঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, জেলা ও উপজেলা শহরে আবাসন প্রকল্পে আলাদা অর্থায়নের ব্যবস্থা করা এবং রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে এসব এলাকায় স্বল্প সুদের আবাসন ঋণ চালু করা।

সংগঠনটির মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং এখানে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

সংগঠনটি মনে করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


শেয়ারবাজারে আজও বড় উত্থান, সূচক বেড়েছে তিন শতাংশের কাছাকাছি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসেও শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব মূল্যসূচক ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণেও কিছুটা গতি দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৫০টি ছাড়া প্রায় সবগুলোর দর বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাজারে বড় ধস দেখা যায়। ওই সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক কমে যায় এবং এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫৯ পয়েন্ট হারায়। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৮ মার্চ) আরও বড় পতন ঘটে, সেদিন সূচক কমে ২৩১ পয়েন্ট। এরপর সোমবার (৯ মার্চ) সূচক ১৩২ পয়েন্ট বাড়ে এবং মঙ্গলবার সেই ধারা আরও জোরালো হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। লেনদেন যত এগিয়েছে, ততই বাড়তে থাকে মূল্যবৃদ্ধির তালিকা। ফলে শেষ পর্যন্ত বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৩টির এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্ট। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৬৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইতে দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৯৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৪১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৭৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

লেনদেনের দিক থেকে সবার ওপরে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যেখানে ৩৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। আর ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকে বড় উত্থান দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮২০ পয়েন্টে। প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২০৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ৬৪ পয়েন্টে উঠেছে।

সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩১টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৩২টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনশেষে এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।


মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে এলো ১.৫২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৫০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি মার্চের প্রথম নয় দিনে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এ সময় প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “চলতি মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময় দেশে এসেছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এবার প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে প্রবাস আয় বাড়ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।


একদিনের ব্যবধানে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

টানা দুই দফা কমার পর আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে দেশের বাজারে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের তথ্য জানায় সংগঠনটি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা ঠিক করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকালে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৩৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৪ বার কমানো হয়েছে।


চার বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক।

গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনোনীত স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পরিচালিত হচ্ছিল। তবে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় এবার সরাসরি পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে এসব ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। একই প্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার পরও নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামানকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো। তখন ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ছিল এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালনায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৫ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। একই সময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকে এ হার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশে এবং আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে ৬ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। সে সময় এসব ঋণ নিয়মিত হিসেবে দেখানো হলেও বর্তমানে অনেক ঋণই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।


বাজেটে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান সিপিডির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুততর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট। এমন এক সময়ে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপের মুখে রয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি আরও শক্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমানে অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংগ্রহে ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিনিয়োগের নিম্নগতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থরতা। একই সঙ্গে আগামী দিনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের দিকেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও নানা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করা সম্ভব হবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডি জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতের জন্য নির্দিষ্ট রাজস্ব নীতি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই এবং শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ঈদের দিন ছাড়া প্রতিদিন সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে পণ্য খালাস ও বাণিজ্য কার্যক্রম চলবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ঈদের আগে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু থাকবে।

এ বিষয়ে সোমবার একটি আদেশ জারি করেছে এনবিআর। ইতোমধ্যে দেশের সব কাস্টমস কমিশনারকে নির্দেশনাটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই কাস্টম হাউস খোলা রাখার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ঈদের দিন বাদে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সময়েও সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়।


ঈদের আগে ছুটিতে পোশাক শিল্প এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ঈদের ছুটি রয়েছে। এসময় বন্ধ থাকবে ব্যাংকও।

তবে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় ১৮ ও ১৯ মার্চ সী‌মিত প‌রিস‌রে ব্যাংক খোলা রাখ‌তে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দুইদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরিপোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে, আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে।

ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবে তাদের বিধি অনুযায়ী ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।


অনুমতি ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন ফেরত নিতে পারবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয় করা অর্থ নিজ দেশে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ফেরত নিতে আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে না। আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই ১০ কোটি টাকা নিতে পারত। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদারিকরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রয় করা অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ২০২০ সালের সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বাধীন মূল্য নির্ধারক দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য থাকলে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে নিজস্বভাবে অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দিতে পারবে।

এছাড়া সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নির্ধারিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু অতিক্রম না করলে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, ব্যাংকগুলোই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে মূলধন দেশের বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা দূর হবে। আর এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনও আর প্রয়োজন হবে না।

ব্যাংকগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে হবে। মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই ও প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেবে এই কমিটি। কমিটিতে সিএফএর মতো প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদধারী সদস্য থাকতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মূল্যায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য যুক্তিসংগত মাশুল আদায় করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে তিনটি গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতি-নেট অ্যাসেট ভ্যালু পদ্ধতি, মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতির বিস্তারিত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেনদেনের সময় কমানো এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত উন্নতিও আনা হয়েছে। মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ছয় মাসের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

ব্যাংকগুলো কোনো অসংগতি না থাকলে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন পাঠাবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের তারিখ, যেটি পরে হবে, সেই তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পুরো শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন সব লেনদেনের বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।


বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি একই সঙ্গে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে স্টিফান লিল্যার এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দক্ষ ট্রেড নেগোসিয়েটর তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ও আলোচনায় কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

স্টিফান লিল্যার বলেন, "বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি কাজ করতে প্রস্তুত।"

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান এবং ইউএনডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ারবাজারে দরপতনের পর বড় উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার (৯ মার্চ) শেয়ার ও ইউনিটের দাম বড় পরিসরে বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দরপতনের পর দ্বিতীয় কার্যদিবসের লেনদেনে প্রধান সূচকসহ সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনে দরপতন ঘটে। এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমে এবং বাজার মূলধন ২০,৪১৩ কোটি টাকার পতন দেখায়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও ডিএসইর সূচক একদিনে ২৩১ পয়েন্ট কমে।

সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। দিনের সময় দাম বৃদ্ধি আরও ব্যাপক হয়ে সূচকের বড় উত্থান প্রদর্শন করে।

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৫১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৭টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেড়েছে, ১৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের ৭৪টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে, ১টির অপরিবর্তিত। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ১০১টির শেয়ার বেড়েছে, ২টির দাম কমেছে, ৬টির অপরিবর্তিত। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৪টির দাম বেড়েছে, ৪টির কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫,১৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৩৫ পয়েন্টে, ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১,৯৭৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে ৪১৬ কোটি ৯ টাকা হয়েছে, আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৫৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বড় লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দিয়ে, ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এরপর সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং খান ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রবি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ফাইন ফুডসও রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১৩৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৩টির দাম বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে ৬২টির দাম কমেছে এবং ১৩টির অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।


banner close