রোববার, ৩ মে ২০২৬
২০ বৈশাখ ১৪৩৩
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক

অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দাবি নির্বাচনের সময়সীমা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন ড. কামাল হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:২১

সংবিধান নতুন করে লেখা হবে না কি সংশোধন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক শেষে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ছাত্রদের আহ্বানে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর চার দিনের মাথায় ১২ আগস্ট বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আলোচনার বাইরে রয়ে যায়। গতকাল এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচনের রূপরেখাসহ নানা বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবিধানের কাঠামোগত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনাসহ নানা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম ও ৬টি ইসলামী দলের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি না থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটা যৌক্তিক সময় নিয়ে সংস্কারগুলো করে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন।

এ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ হয়েছে। সরকারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের রূপরেখা, নির্বাচন, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চেয়েছে। দ্রুতই আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সরকারের মেয়াদ ঠিক হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রস্তাবনা ভিত্তিতেই রূপরেখা দেওয়া হবে। একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বৈঠকে দলগুলো তাদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সংবিধান ইস্যুতেও মতামত দেয় দলগুলো।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না- এমন প্রস্তাব দেয়। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকার যেসব সংস্কার করতে পারে না সেইসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা, ক্ষমতার ভারসাম্যসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে গণফোরাম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ ৮৩টি প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ১২ দফা সুপারিশ করেছে ১২ দলীয় জোট। জোটটির নেতারা বলেন, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিরাজমান সংকট সমাধানে সময় লাগবে। সরকারকে এই সময় দিতে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুত আছে। এ সময় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিও জানান নেতারা।

গত ১২ আগস্ট বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ যেসব দল ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছিল, তাদের এবারের বৈঠকে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রণ পায়নি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, জাতীয়বাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জাসদ ডাক পেয়েছে।

গতকাল বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টায় প্রথমে খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ ৭টি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুনতাসীর আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতৃত্ব দেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। প্রতিনিধিদলে থাকবেন মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালাল উদ্দিন। পরে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ, নেয়ামূল বশির, নুরুল আলম তালুকদার ও আওরঙ্গজেব বেলাল।

এরপর বিকেল ৫টায় মতবিনিময় সভায় জাতীয়বাদী সমমনা জোট থেকে নেতৃত্বে দেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকি, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও ১২ দলীয় জোটের বৈঠক হয়। ১২ দলীয় জোটের নেতৃত্বে দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম, লেবার পার্টির একাংশের ফারুক রহমান, জাগপা একাংশের তাসমিয়া প্রধান, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শাহ আহমেদ বাদল। বাংলাদেশ জাসদের নেতৃত্ব দেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন নাজমুল হক প্রধান, মুশতাক হোসেন, আবদুল কাদের হাওলাদার, কাজী সদরুল হক।

সন্ধ্যা ৭টায় গণফোরাম ও জাতীয় পার্টির বৈঠক করে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তার প্রতিনিধিদলে ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, মজিবুর রহমান চুন্নু, মাশরুর মওলা ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। আর গণফোরামের নেতৃত্ব দেবেন ড. কামাল হোসেন। তার প্রতিনিধিদলে থাকবেন মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, এস এম আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিব উদ্দিন আবদুল কাদের ও মোশতাক আহমেদ।

এদিকে বৈঠক থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু অবহিত করেন। এ সময় ইসলামী দলগুলোর একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অযৌক্তিক সময় নষ্ট করবে না অন্তর্বর্তী সরকার।

এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আসন্ন দুর্গাপূজায় কেউ যাতে নৈরাজ্য করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ইসলামী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানানো হয়। তারা আরও জানান, সংলাপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ সাংবিধানিক বেশ কিছু সংস্কারের দাবিও উপস্থাপন করেছেন নেতারা।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৭ প্রস্তাব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের

বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সাত দফা উপস্থাপন করেন।

এগুলো হচ্ছে:

১. প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

ক. নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কার: জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগকারীদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সে জন্য আসনভিত্তিক বিজয়ী সংসদ সদস্যদের বাইরে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।

খ. নির্বাচনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার: প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার ও প্রকাশনার ব্যবস্থা করা। যোগ্য সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।

২. সাংবিধানিক সংস্কার:

ক. বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। তাই এ ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ভারসাম্য সৃষ্টি করা।

খ. দুই মেয়াদের বেশি একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা বন্ধ করা।

গ. প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের বিধান করা।

ঘ. সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা।

৩. বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা। বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার স্বার্থে বিচারপতি নিয়োগ ও বিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থা: শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিতর্কিত বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা সংযোজন করা।

৫. পুলিশ ও প্রশাসন: পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের ব্যবহারের পথ বন্ধ করা।

৬.কোরআন সুন্নাহবিরোধী আইন/নীতি প্রণয়ন না করা।

৭. হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও আলেম ওলামা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে দায়ের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।


আফ্রিকার ৫৩ দেশকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দিলো চীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় এক বৈপ্লবিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে গণচীন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহাদেশটির ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫৩টি দেশ এখন থেকে চীনের বাজারে কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাবে। আগামী দুই বছরের জন্য কার্যকর থাকা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও নাইজেরিয়ার মতো আফ্রিকার শীর্ষ ২০টি শক্তিশালী অর্থনীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়া এই উদ্যোগকে চীন-আফ্রিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন সময়ে চীন এই উদার বাণিজ্যিক নীতি গ্রহণ করল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আমদানির ওপর কর বাড়িয়ে কঠোর সুরক্ষাবাদী নীতির দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে বিশ্ব বাণিজ্যে নিজের প্রভাব আরও সংহত করার কৌশল নিয়েছেন। এর আগে চীন আফ্রিকার ৩৩টি অনুন্নত দেশের জন্য শুল্ক তুলে নিলেও এবার মহাদেশের প্রায় সব দেশকেই এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হলো।

আফ্রিকার ৫৪টি রাষ্ট্রের মধ্যে একমাত্র দেশ হিসেবে এই বিশাল শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে থাকছে ইসওয়াতিনি। বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো, ইসওয়াতিনি আফ্রিকার একমাত্র রাষ্ট্র যারা এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন না করায় দেশটি এই বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো। তবে বাকি ৫৩টি দেশ এই চুক্তির ফলে সরাসরি উপকৃত হবে এবং চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে তাদের রপ্তানি পণ্যের বাজারজাতকরণ অনেক সহজ ও লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই নীতি বাস্তবায়নের সুফল এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি বিশাল চালান শুক্রবার চীনের শেনঝেন বন্দরে পৌঁছেছে, যা কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই প্রথম পণ্য হিসেবে বাজারে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। কেনিয়ার কফি ও অ্যাভোকাডো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ফল ও ওয়াইনের ওপর আগে ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক ধার্য ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইভরি কোস্ট ও ঘানার মতো দেশগুলোও তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর এই বিশাল ছাড় পাওয়ায় দারুণভাবে লাভবান হবে বলে জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

চীনের স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশনের মতে, এই উদ্যোগ কেবল বাণিজ্যই বাড়াবে না বরং চীন ও আফ্রিকার মধ্যকার পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিপুল জনসংখ্যার এই মহাদেশ থেকে সস্তায় কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য সংগ্রহের মাধ্যমে চীন যেমন তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাবে, তেমনি আফ্রিকার দেশগুলোও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সক্ষম হবে। বিশ্ব বাণিজ্যের এই নতুন মেরুকরণ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যের প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এক সপ্তাহে ভারতের রিজার্ভ কমলো প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটির রিজার্ভ ৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা প্রায় ৪৮২ কোটি মার্কিন ডলার হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার (১ মে) ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই পতনের ফলে দেশটির মোট রিজার্ভ বর্তমানে ৬৯৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন বা ৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।

আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের প্রায় প্রতিটি খাতেই এবার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মজুতের সবচেয়ে বড় অংশ বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (এফসিএ) ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার কমে বর্তমানে ৫৫৪ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মজুতও ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ১২০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে রক্ষিত রিজার্ভের পরিমাণও গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

অথচ এর ঠিক আগের সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেশ ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। সে সময় মজুত ২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৭০৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ভারতের রিজার্ভ তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তর ৭২৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক পতন দেশটির অর্থনীতিতে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিনিময় মূল্যের ওঠানামা এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী। বিশেষ করে ভারতীয় রুপির মানের বড় ধরনের পতন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রিজার্ভের ওপর। আরবিআই জানিয়েছে, তারা বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের ক্রমবর্ধমান চাহিদাও রিজার্ভের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভারতের বর্তমান মজুত এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে যা দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী কৌশল এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরায় বৃদ্ধি পেলে দ্রুতই এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


এক বছরে ৬০০ কোটি টাকার দেশি বাইসাইকেল বিক্রি, বাড়ছে রপ্তানিও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

বড় শহরগুলোতে তীব্র যানজট, ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং ডেলিভারি সেবার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দেশে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে বাইসাইকেল চালানো একটি আধুনিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে, যা যাতায়াতের পাশাপাশি শরীরচর্চার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত এক বছরে দেশের বাজারে বড় তিনটি দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা এই খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষ করে মেঘনা গ্রুপ, আরএফএল এবং আকিজ ভেঞ্চারের মতো বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশের বাজারের অর্ধেকেরও বেশি চাহিদা পূরণ করছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শীর্ষ তিনটি ব্র্যান্ড ৪৪০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি করলেও ২০২৫ সালে তা এক লাফে বেড়ে ৫৯৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই তিন প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকারও বেশি। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল বিক্রি হয়। মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই শিশুদের দখলে থাকলেও বাকি অংশ মূলত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও পেশাজীবীরা ব্যবহার করেন।

এক দশক আগেও বাংলাদেশের বাইসাইকেল বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল, কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো ৫০ শতাংশের বেশি বাজার দখল করে নিয়েছে। যন্ত্রাংশসহ দেশে বাইসাইকেলের বার্ষিক বাজারের আকার এখন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মেঘনা গ্রুপ বর্তমানে তাদের সাতটি কারখানার মাধ্যমে যন্ত্রাংশের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশেই উৎপাদন করছে এবং বছরে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি পণ্য বিক্রি করছে। একইভাবে আরএফএল এবং আকিজ ভেঞ্চার বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে, যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি বাইসাইকেল এখন ইউরোপসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বাইসাইকেল বিদেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই রপ্তানি করেছে মেঘনা গ্রুপ। আরএফএল গ্রুপ বর্তমানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো উন্নত দেশগুলোতে নিয়মিত তাদের পণ্য সরবরাহ করছে। এমনকি নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আকিজ ভেঞ্চারও সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের বাজারে সফলভাবে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করেছে। উন্নত মান ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাইসাইকেলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বাইসাইকেল শিল্পে সরকারি নীতি সহায়তা এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সাহসী বিনিয়োগ এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা ভবিষ্যতে বাইসাইকেলের বাজারকে আরও বড় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ঋণে বড় সুযোগ: ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি ডলার করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের উৎপাদনশীল খাতের প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা বা ‘লং-টার্ম ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি’র (বিবি-এলটিএফএফ) কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একজন একক ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে দুই বা ততোধিক ব্যাংকের মাধ্যমে সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই ঋণের সীমা হবে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি মার্কিন ডলার। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই নীতিমালায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিএফআই) জন্য তহবিলের সুদের হার তাদের ‘ক্যামেলস’ রেটিং অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। রেটিং-১ প্রাপ্ত ব্যাংকসমূহ ৫ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ, ৭ বছর মেয়াদে ১.২৫ শতাংশ এবং ১০ বছর মেয়াদে ১.৫০ শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ পাবে। অন্যদিকে, রেটিং-২ প্রাপ্ত ব্যাংকগুলো ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য ১.২৫ থেকে ১.৭৫ শতাংশ সুদে এবং রেটিং-৩-এ থাকা ব্যাংকগুলো ১.৫০ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এর ফলে শক্তিশালী আর্থিক ভিতের ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম খরচে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

উদ্যোক্তা পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের ব্যয় এবং পরিচালন খরচ বিবেচনা করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে এই সুদের হার কোনোভাবেই ব্যাংকগুলোর ‘কস্ট অব ফান্ড’ বা তহবিল ব্যয়ের চেয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এই বাধ্যবাধকতার ফলে শিল্পোদ্যোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক সুদে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা দেশের শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই অর্থায়ন সুবিধার বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছিল, যেখানে সুদের হার আন্তর্জাতিক বাজারদর বা ‘সোফর’ (SOFR)-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতো। পূর্ববর্তী নিয়মে ব্যাংকগুলো তহবিলের ব্যয়ের ওপর সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত মার্জিন যোগ করার সুযোগ পেত। বর্তমান সংশোধিত নীতিমালায় সুদের হার নির্ধারণ পদ্ধতি সহজ করার পাশাপাশি ঋণের সীমা বৃদ্ধি করায় বড় শিল্প প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা অনেক সহজতর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এই উদ্যোগটি ডলার সংকটের সময়ে শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প ও উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। ব্যাংকগুলো এখন থেকে বর্ধিত এই সীমার মধ্যে ঋণ বিতরণ করতে পারবে, যা দেশের বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলোকে নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। শিল্পখাতের অংশীজনরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।


ভোজ্যতেলের পুরোনো মজুত নতুন দরে বিক্রির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

সরকার ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করার পর তেলের বাজারে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন দরের তেল এখনো বাজারে না আসলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছে থাকা পুরোনো মজুত করা তেল নতুন ও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীদের কাছে বর্তমানে যে ভোজ্যতেল রয়েছে, তা আগের কম দামে কেনা হলেও সরকারি ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তাঁরা সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য ঠিক করা হয়েছে ৯৭৫ টাকা। এই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই বাজারজুড়ে পুরোনো তেলের ওপর নতুন দাম চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে।

সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকেই তেলের বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। ডিলার ও কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। মূলত দাম বাড়ার আগাম সংকেত পেয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রেখেছিলেন। এখন নতুন দাম ঘোষণার পর তাঁরা সেই মজুত করা পুরোনো তেলই বাড়তি দামে বাজারে ছাড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বোতলের গায়ে লেখা আগের দাম ঘষে তুলে ফেলে ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও মিরপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা পাঁচ লিটারের পুরোনো বোতল নির্ধারিত ৯৫৫ টাকার পরিবর্তে ৯৬০ থেকে ৯৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। এমনকি খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত ১৮০ টাকার পরিবর্তে ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার ও ডিলার পর্যায়ে দাম বেশি হওয়ায় তাঁরাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যদিও বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্র বারবার এমন কারসাজি করার সুযোগ পাচ্ছে। নতুন দরের তেল বাজারে আসার আগেই পুরোনো মজুতের ওপর বাড়তি দাম আদায় করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী ক্রেতারা আশা করছেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দ্রুত বাজার অভিযানে নামবে এবং গায়ের দামের চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়া ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনবে। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


রানারের ৫০ লাখ শেয়ারের মালিকানা ছাড়ল ব্রামার ফন্ট্রিয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

মরিশাসে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্রামার ফন্ট্রিয়ার পিই টু লিমিটেড দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস পিএলসির ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে গত ৯ এপ্রিল এই শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে বলে কোম্পানিটি ডিএসইকে নিশ্চিত করেছে। সুইডেনভিত্তিক ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্সের এই বিদেশি বিনিয়োগ ফান্ডটি রানার অটোমোবাইলসের অন্যতম বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত রয়েছে।

৫০ লাখ শেয়ার বিক্রির পর রানার অটোমোবাইলসে ব্রামার ফন্ট্রিয়ারের মালিকানা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে রানারের ১ কোটি ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৩৪৭টি শেয়ার রয়েছে, যা মোট শেয়ারের ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। এই বিক্রির আগে ব্রামারের কাছে রানার অটোমোবাইলসের ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ বা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪ হাজার ৩৪৭টি শেয়ার ছিল। মূলত ধাপে ধাপে মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার কৌশলী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সর্বশেষ শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রানার অটোমোবাইলসে ব্রামার ফন্ট্রিয়ারের বিনিয়োগের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০১৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি ১০৫ কোটি টাকার বিনিময়ে রানারের ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৬১টি শেয়ার কিনে প্রথম বিনিয়োগ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে দুই দফায় বোনাস শেয়ার পাওয়ার ফলে তাদের শেয়ারের পরিমাণ বেড়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫২১টিতে পৌঁছায়। ২০১৯ সালে রানার অটোমোবাইলস যখন আইপিও-র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তখন কোম্পানিটিতে ব্রামারের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

আর্থিক সূচকের দিক থেকে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি বর্তমানে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঞ্চিত বা রিজার্ভ তহবিলে বর্তমানে ৪৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা জমা রয়েছে। বাজারে রানার অটোমোবাইলসের মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩২টি, যার একটি বড় অংশই সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

কোম্পানিটির বর্তমান মালিকানা কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। বাকি অংশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার। ব্রামার ফন্ট্রিয়ারের এই বড় অংকের শেয়ার বিক্রির ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, অটোমোবাইল খাতের এই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।


ছয় ব্যাংকের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর পৃথক পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো—এবি ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি এবং এনআরবি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের (পিএসআই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচিত সময়ে তিনটি ব্যাংক বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৪২ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় রয়েছে ৩৬ টাকা ২ পয়সা। একইভাবে আইএফআইসি ব্যাংকের লোকসানের পরিমাণও গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে; ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি ১৩ টাকা ৩২ পয়সা লোকসান গুনেছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক শেয়ারপ্রতি ৭ টাকা ৫৫ পয়সা লোকসান দিয়েছে এবং ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

তালিকায় থাকা অন্য তিনটি ব্যাংক মুনাফা অর্জন করলেও এবার বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২০২৫ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা মুনাফা করেছে এবং ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২৮ পয়সা। এনআরবি ব্যাংকও গত বছরের তুলনায় মুনাফা কিছুটা বৃদ্ধি করে শেয়ারপ্রতি ২০ পয়সায় উন্নীত করেছে। তবে মুনাফা থাকা সত্ত্বেও এসব ব্যাংক লভ্যাংশ না দিয়ে সেই অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২৩ টাকা ৯২ পয়সা, ওয়ান ব্যাংকের ২২ টাকা ৪৬ পয়সা এবং এনআরবি ব্যাংকের ১২ টাকা ৮৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সময়সূচি ও রেকর্ড ডেটও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবি ব্যাংকের এজিএম আগামী ১৮ জুন এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এজিএম ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে; এই দুই ব্যাংকেরই রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ মে। আইএফআইসি ব্যাংকের এজিএম হবে ২৯ জুন এবং রেকর্ড ডেট ২১ মে। ওয়ান ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক—উভয় প্রতিষ্ঠানের এজিএম আগামী ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবশেষে এনআরবি ব্যাংক ২০ আগস্ট তাদের সাধারণ সভা আহ্বান করেছে। প্রতিটি ব্যাংকই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালনা করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


শেয়ারবাজারে সূচক ও মূলধনে পতন, তবে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই ব্যবসায়িক সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা শেষ কার্যদিবসে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকায়। অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম কমায় এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২৪৬টির এবং ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। প্রধান সূচক কমলেও শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৩ পয়েন্টে নেমেছে। তবে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ গত সপ্তাহে কিছুটা ইতিবাচক ছিল এবং ২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই মিশ্র প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা সতর্ক অবস্থান তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহজুড়ে মোট ৪ হাজার ৭১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বেশি। প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের গড় লেনদেনের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি লেনদেন বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয়তা বাড়ার প্রমাণ দিলেও বিক্রির চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত দরপতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই ও সিএসআই যথাক্রমে দশমিক ১৭ শতাংশ ও দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১১৬টির দাম বেড়েছে এবং ১৭৩টির দাম কমেছে। এছাড়া সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কমে ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে উভয় বাজারেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা মুনাফা সংগ্রহের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।


আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম পাঁচ বছরে সর্বনিম্নে

আপডেটেড ২ মে, ২০২৬ ১৭:৩৫
বানিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পণ্যটির বাজারদর কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। মূলত বিশ্ববাজারে চিনির বিপুল মজুত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাবেই এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহের আধিক্য এবং জ্বালানি খাতের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে চিনির বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

আইসিই (ICE) এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম কমে পাউন্ডপ্রতি ১৩ ডলার ৪৬ সেন্টে নেমে এসেছে। এর আগে গত শুক্রবার দাম আরও কমে ১৩ ডলার ২২ সেন্ট পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দামের রেকর্ড। যদিও সাদা চিনির দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪১৯ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে চিনির বাজারে এক ধরনের মন্দা ভাব বিরাজ করছে। বাজারে চিনির অতিরিক্ত সরবরাহ দামের ওপর এই নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।

চিনির এই দরপতনের পেছনে জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে চিনি উৎপাদনকারী কলগুলো ইথানল উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে সরাসরি চিনি উৎপাদনে মনোযোগ বাড়ায়। এর ফলে বাজারে চিনির জোগান হঠাৎ অনেক বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই দাম কমতে শুরু করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় তেলের বাজারে যে স্বস্তি দেখা গেছে, তা ইথানল বিমুখতা বাড়িয়ে চিনির উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করেছে।

ব্রোকার প্রতিষ্ঠান এডমিস-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমে বিশ্ববাজারে চিনির বড় ধরনের উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী মৌসুমে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমে গিয়ে চিনির বাজারে সামান্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় যদি পুনরায় তেল সংকট দেখা দেয়, তবে বায়োফুয়েল হিসেবে চিনির চাহিদা আবারও বাড়তে পারে। আপাতত অতিরিক্ত সরবরাহের চাপই বাজারের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে।

চিনির এই নজিরবিহীন দরপতন বৈশ্বিক চিনি উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ ফুডসের চিনি বিভাগ তাদের ব্যবসায় বড় অংকের লোকসানের কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করছে, ইউরোপীয় বাজারে চিনির দাম অস্বাভাবিক কম থাকায় পুরো বছর জুড়ে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অনেক চিনি উৎপাদনকারী দেশ তাদের বর্তমান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হতে পারে।


আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দামে বড় পতন: সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পর এবার কয়লার দামেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে এই জ্বালানি পণ্যটির দাম সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন কয়লার দাম এখন ১৩০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। অথচ মাত্র এক মাস আগে গত ২০ মার্চ কয়লার দাম ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছিল। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির এমন দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের আভাস পাওয়ায় কয়লার বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লার ওপর থাকা বাড়তি চাপের অবসান ঘটছে।

কয়লার দাম কমার পেছনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান জোগানকেও একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লার ব্যবহার কমতে শুরু করেছে। ইতিপূর্বে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ গ্যাসের চড়া দামের কারণে বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঝুঁকেছিল। এখন গ্যাসের প্রাপ্যতা সহজলভ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে কয়লার সামগ্রিক চাহিদা ও দাম—উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে।

দাম কমলেও কয়লার বাজার এখনই পুরোপুরি স্থিতিশীল বা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রেশ এখনো বিদ্যমান থাকায় জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অন্তর্নিহিত অনিশ্চয়তা কাজ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে কয়লার দাম কমতির দিকে থাকলেও গত মার্চের শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় এটি এখনো প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে বিশ্ববাজারের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন অনেকখানি কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

বর্তমানে কয়লা আমদানিকারক দেশগুলো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে। যদি আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও কমে আসে এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, তবে কয়লার দাম দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হতে পারে। সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পমালিকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার এই নিম্নমুখী ধারা একটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় ও বিদ্যুতের খরচ কমিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।


জাপানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আগ্রহী টোকিও, ইউনিমার্ট পরিদর্শনে জাপানের কৃষিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশে জাপানি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো যাচাই করতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত প্রিমিয়াম সুপারশপ ‘ইউনিমার্ট’ পরিদর্শন করেছে জাপানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী সুজুকি নোরিকাজু। বাংলাদেশে মানসম্মত জাপানি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এই সফরের আয়োজন করা হয়। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল ইউনিমার্টের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণন অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সুপারশপটি ঘুরে দেখার সময় জাপানি কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশে ‘মেড ইন জাপান’ পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, উচ্চমানের কৃষি ও খাদ্যপণ্য এবং জাপানি কনজিউমার গুডসের জন্য বাংলাদেশের বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। জাপানি প্রতিনিধি দল ইউনিমার্টের শেলফে থাকা পণ্যের বৈচিত্র্য ও প্রদর্শনীর প্রশংসা করার পাশাপাশি এখানকার গ্রাহকদের রুচি ও চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। জাপানি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির এই দেশে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পণ্যের বাজার দিনদিন বড় হচ্ছে।

পরিদর্শন পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে জাপানি মন্ত্রী দুই দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও কার্যকর সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বাধার বিন্ধ্যাচলগুলো দূর করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে আরও বেশি গুণগত মানের জাপানি পণ্য সরাসরি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

ইউনিমার্ট পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইউনাইটেড গ্রুপের পরিচালক শারফুদ্দিন আকতার রশিদ, ইউনিমার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মাহফুজুর রহমান এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন। ইউনাইটেড গ্রুপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আধুনিক রিটেইল চেইনে জাপানি বিনিয়োগ ও পণ্য সরবরাহের বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাপানের কৃষিমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে খাদ্য আমদানি ও খুচরা বাণিজ্য খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এর ফলে খুচরা ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে। এই সফরের সরাসরি প্রভাব হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে দেশের বড় বড় সুপারশপগুলোতে জাপানি ডেইরি পণ্য, সি-ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সম্পর্কের লক্ষ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনটি সম্পন্ন হয়েছে।


যমুনা ব্যাংকের নিট মুনাফায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি, আমানত বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যমুনা ব্যাংক পিএলসি সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যবসায়িক ও আর্থিক সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ব্যাংকটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হওয়ায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৯ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঘোষিত এই লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৭ জুলাই সকাল ১০টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে এবং এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ জুন।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে যমুনা ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৫৬ কোটি টাকায়, যা আগের বছর ছিল মাত্র ২৭৯ কোটি টাকা। আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি বড় সাফল্য দেখিয়েছে; এক বছরের ব্যবধানে আমানত ১৬ শতাংশ বা ৪ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৩৬ হাজার ৩২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মুনাফা ও আমানত বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস), যা আগের বছরের ২ টাকা ৯৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৯২ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংকটির এই উন্নতির ধারা চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকাঞ্চলেও (জানুয়ারি-মার্চ) বজায় রয়েছে। বছরের প্রথম তিন মাসে যমুনা ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৯১ পয়সা। চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮৮ পয়সায়। প্রতিটি আর্থিক সূচকের এই ইতিবাচক পরিবর্তন ব্যাংকটির শক্তিশালী মূলধন ভিত্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ জানান, গ্রাহকদের আস্থার কারণেই আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দেওয়ায় তা ২ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঋণ বিতরণে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং প্রাইমারি ডিলার হিসেবে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকটি বড় অংকের ফি আয় করছে। ব্যাংকের নগদ প্রবাহ অত্যন্ত সন্তোষজনক হওয়ায় ব্যালেন্স শিটের ওপর চাপ না ফেলে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৩ কোটি ৯৩ লাখের বেশি। বর্তমানে ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সুশাসন ও নিয়মিত বিধিবিধান পরিপালনের মাধ্যমে ব্যাংকটি আগামী দিনেও তাদের এই ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট রয়েছে।


মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মে মাসের জন্য জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজারদর অপরিবর্তিত রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। গত ১৯ এপ্রিল শেষ দফায় মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন আদেশে আগের সেই বর্ধিত মূল্যই বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসের ওই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে অকটেনের দাম ২০২২ সালের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আদেশে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা করা হয়েছিল, যার প্রফলে গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২২ সালের মার্চে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৩৭ ডলারে উঠেছিল, অন্যদিকে ২০২১ সালে করোনার সময় তা সর্বনিম্ন ৫০ ডলারে নেমেছিল।

চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ কার্যকর করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রতি মাসে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য বিধান করা। এই বিধিমালা অনুযায়ী বিপিসি ও অন্যদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে, কেবল আমদানিমূল্যের তারতম্যের ভিত্তিতে প্রতি মাসে দর কমবে বা বাড়বে। যদিও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা গেছে, বিএনপি সরকার এপ্রিলের শুরুতে বিশ্ববাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দাপ্তরিকভাবে দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল, যা পরবর্তীতে মাসের ১৯ তারিখে গিয়ে এক লাফে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সরকারি নির্দেশিকায় মূল্য নির্ধারণের যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, "অকটেন ও পেট্রোল ব্যক্তিগত যানবাহনে অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয় বিধায় এর মূল্য বিলাস দ্রব্য (লাক্সারি আইটেম) হিসেবে সব সময় ডিজেলের চেয়ে বেশি রাখা হয়।" এই গাণিতিক ফর্মুলা অনুযায়ী অকটেন ও ডিজেলের দামের ব্যবধান লিটারপ্রতি অন্তত ১০ টাকা নিশ্চিত করতে ‘α’ ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের বাজারে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী। ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়লে গত ৬ মার্চ থেকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং শুরু করা হয়, যার ফলে পাম্পগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিশেষ তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর চলতি সপ্তাহ থেকে পাম্পগুলোর উপচে পড়া ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা বজায় থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।


banner close