দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক ৭৯ শতাংশ। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৭২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৪ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১২৫ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ২৪১ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ৩১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৮টির দর। এ ছাড়া লেনদেন হয়নি ১৮টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি আজিয়াটা, ইউসিবি ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ ছাড়া ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। আর বস্ত্র খাতের দখলে ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল বিবিধ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জীবন বীমা খাত। এ তিন খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ১, দশমিক ১ ও দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল কাগজ, ভ্রমণ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত। এসব খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮, ৫ দশমিক ১ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে ১৬ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬ হাজার ৫২০ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ৯ হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯ হাজার ৯৫৫ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ২৭৪ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ২২১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির বাজারদর।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের হাত ধরে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। গত ডিসেম্বর মাসের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এটি ছিল তৃতীয় কোনো মাস, যেখানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এবং গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। শতাংশের হিসেবে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি অবিশ্বাস্য। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ২১৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, সেই তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের সামগ্রিক চিত্রও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও তা সমানতালে বজায় রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সুসংহত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা দেশে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। সাধারণত রমজান ও ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্সের হার বাড়ে, তবে এবার জাতীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগেভাগেই এই গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে অর্থ পাচার এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকেও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেমিট্যান্সের এই বিশাল প্রবাহের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত ২৯ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী যা বর্তমানে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের প্রাচুর্যের কারণে দেশে বর্তমানে ডলারের কোনো সংকট নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। প্রবাসীদের এই অব্যাহত অবদানের ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখন এতটাই অস্থিতিশীল যে, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত নতুন দাম ১২ ঘন্টাও স্থায়ী হচ্ছে না। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দিনের শুরুতে এক দাম নির্ধারণের পর সেই একই দিন রাতে পুনরায় দাম পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। নজিরবিহীন এই অস্থিতিশীলতার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত রবিবার, যেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
রবিবার সকালে বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিশ্ববাজারের দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সেই দিনই রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় ভরি প্রতি ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে এখন সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। আজ সোমবার পর্যন্ত বাজারে এই নতুন দর কার্যকর রয়েছে এবং এই দামেই অলঙ্কার কেনাবেচা চলছে।
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো, এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যোগ করতে হবে। গহনার কারুকাজ ও নকশাভেদে মজুরির এই হার আরও বাড়তে পারে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের এই অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বাজারে মোট ২০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬ বার কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালেও বাজার ছিল অত্যন্ত অস্থিতিশীল, যেখানে পুরো বছরে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। বাজুস দাবি করেছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা এবং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণেই তারা দ্রুত এই ধরণের সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দেশের বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বেশ বড় গতি লক্ষ্য করা গেছে। পুরো মাসে দেশে প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ ডলার। ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশের রেমিট্যান্স পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে।’ যদিও গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের অংক কিছুটা কম। গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাস আয়। উল্লেখ্য যে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, তখন প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
মুখপাত্র আরও জানান যে, জানুয়ারির শেষ তিন দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী অবস্থান ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থান দেখা গেছে। রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯.০৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৯৩.৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১০.৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৭.২৩ পয়েন্টে এবং শরীয়াহ সূচক ৮.৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪২.৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬৮টির দাম বেড়েছে, ১৬২টির কমেছে এবং ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় ছিল ডমিনেজ স্টিল, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফাইন ফুডস, তৌফিকা ফুড, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং ওয়ান ব্যাংক। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আলহাজ টেক্সটাইল, সিএপিএমআই বিবি আইবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং এবং স্যালভো কেমিক্যাল।
অন্যদিকে কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামে আজ পতনও লক্ষ্য করা গেছে। দর কমার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো ঢাকা ডাইং, ফার কেমিক্যাল, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, রিং শাইন, সার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, বিবিএস কেবলস, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সব মিলিয়ে দিনের শুরুতে বাজারে যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। বিনিয়োগকারীদের জন্য সপ্তাহের প্রথম দিনটি সূচকের এমন উন্নতি দিয়ে শেষ হওয়া একটি ভালো লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে না কমবে, তা সোমবার জানা যাবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রবিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দুপুর ৩টায় বেসরকারি এলপিজির নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই এই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।
সোমবার এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও ঘোষণা করা হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।” গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ যখন দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে গ্রাহকেরা প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০৬ টাকায় কিনছেন।
একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় আড়াই টাকা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণা আসার পর বোঝা যাবে গ্রাহকদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর আছে কি না। সাধারণত সৌদি আরামকোর দামের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিধায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এখানে সরাসরি পড়ে। কাল বিকেলেই সব সংশয় দূর হবে এবং ফেব্রুয়ারির পুরো মাস এই নতুন দামই কার্যকর থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে না কমবে, তা সোমবার জানা যাবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ রবিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে। সোমবার দুপুর ৩টায় বেসরকারি এলপিজির নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসেই এই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।
সোমবার এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও ঘোষণা করা হবে। বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।” গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ যখন দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে গ্রাহকেরা প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০৬ টাকায় কিনছেন।
একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় আড়াই টাকা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণা আসার পর বোঝা যাবে গ্রাহকদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর আছে কি না। সাধারণত সৌদি আরামকোর দামের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয় বিধায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এখানে সরাসরি পড়ে। কাল বিকেলেই সব সংশয় দূর হবে এবং ফেব্রুয়ারির পুরো মাস এই নতুন দামই কার্যকর থাকবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বুধ ও বৃহস্পতিবারের এই ছুটির সাথে পরের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় গ্রাহকেরা টানা চার দিন ব্যাংকের সেবা পাবেন না। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে এই ছুটি ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশনার আলোকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা পাঠিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথারীতি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ফলে টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে আবার নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের চলাচল ও ভোট দেওয়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার জানিয়েছেন যে ভারত এখন থেকে ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সেই চুক্তিটি করেছি, অন্তত চুক্তির প্রাথমিক ধারণাটি চূড়ান্ত হয়েছে।’ তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্যটি সামনে এনেছে।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার তেল কেনায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতসহ অনেক দেশের ওপর ট্রাম্প ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর আগে রুশ তেল কেনার কারণেও তিনি ভারতের ওপর শুল্ক বসিয়েছিলেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।
বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গ জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল বোঝাই ১৮টি জাহাজের একটি বহর টেক্সাস, লুইসিয়ানা ও মিসিসিপির পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এখন ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেলে অপরিশোধিত তেলের পৌঁছাবে, যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে গত বছর চীন যেখানে প্রতিদিন গড়ে চার লাখ ব্যারেল তেল যেত। কিন্তু জানুয়ারিতে তা শূন্যে নেমে আসে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ স্থানীয় সময় ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) ফোনে কথা বলেছেন। তারা উভয়ে দুই দেশের ‘সম্পর্ক সম্প্রসারণে একমত’ এবং আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককের অগ্রগতি হবে বলে জানিয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী বন্দি হওয়ার পর দুজনের মধ্যে এটি ছিল প্রথম ফোনালাপ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের অংশগ্রহণকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানো এবং পাল্টা শুল্ক কমিয়ে আনা। এই চুক্তির অধীনে আমেরিকার তুলা দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনার মতো বড় বিষয়গুলো এই আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং এই তারিখেই স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
যুক্তরাষ্ট্র আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক অনেক বেশি আরোপ করলেও গত জুলাই মাসে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়েছিল। তবে আসন্ন চুক্তিতে এই হার আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। শুল্ক ঠিক কতটা কমবে সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, "বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারব না, এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।" সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই শুল্কহার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
এই সুবিধাগুলো পেতে বাংলাদেশকে কিছু শর্ত ও ছাড় দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী কয়েক বছরে বোয়িং থেকে ২৫টি বিমান কেনা হতে পারে, যার পেছনে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গমের আমদানি বাড়ানো, জ্বালানি তেল ও তুলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হতে পারে। সামরিক খাতের জন্য হেলিকপ্টার বা প্রশিক্ষণ বিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও এই আলোচনার অংশ হিসেবে থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে সচিব জানান, "দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।"
সম্প্রতি ভারতের সাথে ইইউ-এর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু আছে কি না, এমন প্রশ্নে সচিব আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না।" তিনি ভারতকে প্রতিযোগী নয় বরং পরিপূরক হিসেবেই দেখছেন।
জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশের একটি বড় চুক্তি হতে যাচ্ছে। সচিব জানান, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া এই বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সচিব আরও জানান, বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বেশ কাঠামোবদ্ধ রূপ পেয়েছে এবং এর বিস্তারিত কনফিগারেশন নিয়ে এখন কাজ চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারির এই চুক্তি সফল হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।
সোনার বাজারে এখন বেশ অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। কখনো দাম কমছে আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সোনার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই তথ্য জানিয়েছে যা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে। অথচ ওইদিন সকালেই একবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল।
সংগঠনটি জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই স্থানীয় বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিন্তু সোনার বড় দরপতন হয়েছে। তথ্য সরবরাহকারী একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী প্রতি আউন্স সোনার দাম এখন ৪ হাজার ৮৯৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত বৃহস্পতিবার ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
নতুন দাম অনুযায়ী এখন সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকায়। সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম আগের মতোই আছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল। গত বৃহস্পতিবার একবারে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে ছিল সর্বোচ্চ। এরপর শুক্রবার সকালে আবার ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হলেও বাজারের এই অস্থিরতা এখনো কাটেনি। মূলত স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার সংকটের কারণেই এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকার দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে এনেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে দুই টাকা করে কমানো হয়েছে। নতুন এই সমন্বয়ের পর প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে শনিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে যা রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
গত বছরের মার্চ মাস থেকে নিয়মিত বিরতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এই স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া চলে আসছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি গ্যাসের দামও প্রতি মাসে নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন যার সিংহভাগই ডিজেল। সাধারণত কৃষি সেচে, পরিবহন ও জেনারেটরে এই ডিজেল ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি থেকে সব সময় মুনাফা করে আসছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। আগে জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম বিপিসি ঠিক করলেও এখন থেকে বিইআরসি প্রতি মাসে তা সমন্বয় করছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব কমাতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে প্রশাসন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও ভোটগ্রহণ চলাকালে যাতে অবৈধভাবে অর্থ বিতরণ, ভোট কেনাবেচা বা প্রভাব বিস্তারের জন্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহার করা না যায়, সে লক্ষ্যেই মোবাইল আর্থিক সেবায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলোতে লেনদেনের সীমা কমে আসবে। বর্তমানে যেখানে দিনে ৫০ হাজার টাকা পাঠানো যায়, সেখানে নির্বাচনের এই দিনগুলোতে গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে ১০ বারের বেশি টাকা পাঠানো যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করা হবে। এ জন্য কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।"
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা স্থানান্তরও বন্ধ করার পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে আস্থা, সিটিটাচ বা সেলফিনের মতো অ্যাপ দিয়ে দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও আগে থেকেই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কোনো একটি ব্যাংক হিসাবে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে সেটি বিএফআইইউকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি এই প্রতিবেদন দিতে দেরি করে বা ভুল তথ্য দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নজরদারির ফলে নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার অনেকটা কমে আসবে। তবে প্রার্থীদের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনী খরচ করতে কোনো বাধা থাকবে না। বিএফআইইউর চাহিদা অনুযায়ী এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য ও পানীয় (ফুড অ্যান্ড বেভারেজ)’বিষয়ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ‘গালফুড ২০২৬’-এ ১৭ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ৫ দিনের এই মেলায় সাড়ে ১০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিশ্চিত হয়েছে।
এবারের গালফুডে অংশ নেয় বাংলাদেশের ৩৪ প্রতিষ্ঠান। এ মেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের খাদ্যপণ্যের রপ্তানি আরও গতিশীল হবে। মেলায় অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
দুবাইয়ে গালফুডের ৩১তম আসর শুরু হয় গত ২৬ জানুয়ারি। মেলা শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (ডিডব্লিউটিসি) ও দুবাই এক্সিবিশন সেন্টার (ডিইসি), এক্সপো সিটি- এই দুই ভেন্যুত অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাঁচ দিনের এই মেলা। এতে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের ৮ হাজার ৫০০-এর বেশি শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পরিবেশক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাসহ নীতিনির্ধারকরা অংশ নেয়।
গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে পাঁচ দিনব্যাপী ৩১তম গালফুড- ২০২৬ শেষ হয়। এ বছর মোট ১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের নিশ্চিত রপ্তানি আদেশ মিলেছে। এ ছাড়া ১৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সম্ভাব্য অর্ডার পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, এ বছর প্রথমবারের মতো দুবাইয়ের বাইরে দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে কান্ট্রি প্যাভিলিয়নভিত্তিক এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী 'জি-টু-জি-০২' নগদ ক্রয় চুক্তির আওতায় গমের তৃতীয় চালানটি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে এসে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এমভি ডব্লিউএফ আর্টেমিস নামক জাহাজটি ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে বন্দরে নোঙর করেছে। এই বিশেষ চুক্তির অধীনে সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে পূর্ববর্তী দুই চালানে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছেছে। ইতিপূর্বে 'জি-টু-জি-০১' চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গমের আমদানি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে জাহাজ থেকে সংগৃহীত গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ চলছে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাসের কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।