মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিয়ন্ত্রণহীন কাঁচাবাজার, প্রতিযোগিতা করে বাড়ছে ডিম-মুরগির দামও

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৩০

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দাম কমে গিয়েছিল শাক-সবজির। তবে এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাত দেখিয়ে আগের চেয়েও বেড়ে যায় বিভিন্ন সবজির দাম। এখন কোনো কারণ ছাড়াই ঊর্ধ্বমুখী দাম কাঁচাবাজারের প্রায় সব পণ্যের। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৮০ বা ১০০ টাকার ওপরে। ফলে ব্যাগ নিয়ে বাজারে ঢুকে হিমশিম খেতে দেখা যায় সীমিত আয়ের ক্রেতাদের। বাজার কে নিয়ন্ত্রণ করছে বা আদৌ কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কি না এই প্রশ্ন রেখে কেনাকাটায় কাটছাঁট করে চলে যাচ্ছেন তারা।

শুধু সবজিই নয়, প্রতিযোগিতা করে বাড়ছে ডিম, মুরগি, মাছের দামও। আর আগে থেকেই উচ্চমূল্যে অবস্থান করছে গরু ও খাসির মাংস। এখন নাগালের মধ্যে নেই আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের মতো পণ্যও। আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় নিত্যপণ্যের এই চিত্র।

আকাশচুম্বী সবজির বাজার

আজকের বাজারে প্রায় সব সবজির দামই বেড়েছে বড় অঙ্কে। ভারতীয় টমেটো ১৭০ টাকা, দেশি গাজর ১৪০ টাকা, চায়না গাজর ১৫০-১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১২০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১৬০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৬০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতিটি লাউ ৭০-৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা করে।

গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনায় গেলে দেখা যায় আজ সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ৮০ টাকা বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহে এই বাজারে কাঁচা মরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল প্রতি কেজি ২৪০ টাকা, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে ভারতীয় টমেটো, দেশি গাজর, করলা, পেঁপে, মুলা, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া ও লাউয়ের। ২০ টাকা করে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে চিচিঙ্গা, শসা, উচ্ছে, কাঁকরোল, পটল, ধুন্দল, কচুর লতি ও কচুরমুখীর।

ঝিঙার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। আর কেজিতে ৪০ টাকা করে দাম বেড়েছে সাদা গোল বেগুন, কালো গোল বেগুন ও বরবটির। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে আগের মতোই।

সবজির দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাজারে বন্যার পরের প্রভাব পড়েছে, তাই দাম বেশি। আমরা মোকামে গিয়ে আগের মতো দাম পাই না। আগে যদি পাঁচ জায়গায় মাল বিক্রি হতো, এখন হয় দুই জায়গায়। ওই দুই জায়গায়ই সব ব্যবসায়ী যায়। এতে তখন মাল নেওয়ার জন্য একেক ব্যবসায়ী একেক দাম বলে। তখনই দামটা বেড়ে যায়। আমরাও বুঝি যে ক্রেতাদের সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের আর কী করার আছে? যেরকম কেনা সেভাবেই আমাদের বিক্রি করতে হয়।’

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শেখ মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাজারে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। এই দায় আসলে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও। তারা ঠিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা যদি ঠিকভাবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করত, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো বলে আমার মনে হয়।’

বেসরকারি চাকরিজীবী এস এম মুহিদ বলেন, আগের সরকারও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই, এই সরকারও পারছে না। তবে এই সরকার এসেছে বেশি দিন হয়নি। তাদের সময় দিলে হয়তো অবস্থা ঠিক হবে। এদিকে নজর দিতে হবে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন সায়রা খানম। তিনি বলেন, ‘বাজারের যে অবস্থা তাতে ঢাকা শহরে থাকতে পারব কি না চিন্তায় আছি। বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণই নাই। অনেকের কাছে থেকে অনেক আশ্বাস পেয়েছি বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে, কিন্তু এখনো সবকিছুর অত্যধিক দাম। জানি না এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে কি না।’

বাজারে উচ্চমূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও চায়না আদার। আর নতুন আসা ভারতীয় আদা পাওয়া যাচ্ছে কম দামেই। গতকাল আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১০-১২০ টাকায়। এর মধ্যে ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা ও বড় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। আর মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১৫-১২০ টাকা করে। লাল ও সাদা আলু ৬০ টাকা, বগুড়ার আলু ৭০ টাকা, দেশি রসুন ২৪০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, চায়না আদা ২৮০ টাকা, নতুন ভারতীয় আদা ১২০-১৬০ দরে বিক্রি হয়।

ডিম, ব্রয়লার ও কক মুরগির দাম বাড়ছেই

বিভিন্ন দোকানে মুরগির লাল ডিম ১৬০-১৬৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৬০ টাকা দরে ডজন বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৯০-১৯৭ টাকা, কক মুরগি ২৪৫-২৫৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৯০-২৯৫ টাকা, দেশি মুরগি ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে মুরগির লাল ও সাদা ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ৫ টাকা করে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২-৭ টাকা। কক মুরগির দাম বেড়েছে ৭ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া প্রতি কেজিতে লেয়ার মুরগির দাম কমেছে ৫-১০ টাকা।

ডিমের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে ডিমের সংকট, এ কারণে দাম বেড়ে গিয়েছে।

এ ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া আজ বাজারে ইলিশ মাছ ওজন অনুযায়ী ১৪০০-২২০০ টাকা কেজি, রুই মাছ ৩৫০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১৬০০ টাকা, কাঁচকি ৬০০ টাকা, কৈ ২০০-৩০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৮০০ টাকা, শিং ৫০০-১২০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০-১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-১২০০ টাকা, কাজলী মাছ ৭০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলেন, বাজারে মাছের দাম অত্যধিক। দাম আর কমছে না।

স্থিতিশীল মুদিপণ্যের দাম

এদিকে মুদি দোকানে প্রায় অপরিবর্তিত আছে বেশির ভাগ পণ্যের দাম। ছোট মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১৪০ টাকা, মাষকলাই ডাল ২০০ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা, ছোলা ১৩০ টাকা, প্যাকেট পোলাওর চাল ১৫০ টাকা, খোলা পোলাওর চাল মানভেদে ১১০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৭ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০, টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় ছোট মুগ ডালের দাম কমেছে ১০ টাকা, খেসারির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। ছোলার দাম বেড়েছে ৫ টাকা।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ নীতির আওতায় নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি বাজারে চাপ সৃষ্টি এবং ক্রেতাদের মূল্যছাড়ের দাবি বাড়াতে পারে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এটি মূলত আইনি কাঠামোর পরিবর্তন, শুল্কের কার্যকর হারে বড় কোনো পরিবর্তন নয়। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাময়িক এই শুল্ক এখন স্থায়ী আইনি ভিত্তি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এটিকে চ্যালেঞ্জ করা আরও কঠিন হবে।

তবে নতুন বাণিজ্য কাঠামোয় বাংলাদেশের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভিয়েতনামের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হওয়ায় বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে। পাশাপাশি মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত টেক্সটাইল ও পোশাকের জন্য তিন বছর মেয়াদি শুল্কমুক্ত ট্যারিফ রেট কোটা (টিআরকিউ) পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, যা ভারত বা ভিয়েতনামের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে এই সুবিধা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে শ্রমমান উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের সেকশন ৩০১-এর অধীনে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের গড় শুল্ক প্রায় ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

রপ্তানিকারকদের মতে, নতুন শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন আদালত পাল্টা শুল্ক স্থগিত করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমপরিমাণ নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্ত ভবিষ্যতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

নতুন তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশ ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্কসহ ৩৮টি দেশের পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যার প্রভাব সব রপ্তানিকারক দেশই অনুভব করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, শুরুতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা কমানো হয়। পরবর্তীতে আদালতের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পান এবং সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ ছাড় পেতে পারে, যা জোরপূর্বক শ্রমের ঝুঁকিমুক্ত তুলা ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার মার্কিন কৌশলের অংশ।

সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একদিকে মূল্যছাড়ের চাপ ও বৈশ্বিক চাহিদা কমার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় তুলনামূলক কম শুল্ক এবং সম্ভাব্য কোটা সুবিধা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই।


নির্বাচিত

রপ্তানি খাতে ৬৩.৪০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাত থেকে মোট ৬৩.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রা গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত আয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫.২০ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮.২০ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য তুলে ধরেন।

পূর্ববর্তী অর্থবছরের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ সালে মোট ৬৩.৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বছর শেষে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে, যার মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রাটি আগের বছরের টার্গেটের তুলনায় ১০ কোটি ডলার কম হলেও প্রকৃত অর্জনের তুলনায় বেশ উচ্চাভিলাষী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "গত দুই অর্থবছর ধরে রপ্তানি আয়ে একটি মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বে চলমান একাধিক যুদ্ধ, উন্নত দেশগুলোতে ভোগব্যয় কমে যাওয়া এবং নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব এর পেছনে কাজ করেছে।"

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকারের কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে শীঘ্রই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও ব্যবসায়িক নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, "গত বছর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোক্তারা স্থিতিশীল পরিবেশ ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা চান, যা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে।"

রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কোনো দেশের জন্য এত বেশি নির্ভরতা স্বস্তিদায়ক নয়। এ কারণে সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতের রপ্তানি বাড়াতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির এসব খাতভিত্তিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। আমরা চাই, তৈরি পোশাক খাত থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হোক। পাশাপাশি অন্যান্য খাত থেকেও ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসুক।"

তবে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলো তাদের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় সরকার আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শেয়ারবাজারে পতন কাটিয়ে লেনদেন ও সূচকে বড় উত্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা তিন কার্যদিবস নিম্নমুখী থাকার পর সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারার প্রতিফলন দেখা গেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরবৃদ্ধির পাশাপাশি সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসইতে মোট লেনদেনের অংকেও উন্নতির খবর পাওয়া গেছে। এদিনের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একক আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর দরবৃদ্ধির যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এবং পুরো বাজারকে ইতিবাচক দিকে টেনে নেয়। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রায় সকল মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ায় দিনের শেষে সূচকের একটি বড় উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

বাজারের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ডিএসইতে এদিন ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩১টির দাম বেড়েছে এবং ৩টির দাম স্থিতিশীল ছিল। ফলে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত দিনের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৮৩৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এছাড়া বাছাইকৃত ভালো কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ আগের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লভ্যাংশের হারের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর দামেও এদিন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে ডিএসইতে, যেখানে মোট ৮৭২ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফারইস্ট নিটিং ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়া আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং লেনদেনের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় আরও ছিল এমএল ডাইং, ড্রাগন সোয়েটার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বেক্সিমকোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) চাঙ্গাভাব বজায় ছিল। সেখানকার সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১২৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টির দাম বেড়েছে এবং ৬২টির দাম কমেছে। বাজারটিতে মোট ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা আগের দিনের ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।


নির্বাচিত

ক্যান্সার ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি, মুনাফা বেড়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, ক্যান্সারের ওষুধের ক্রমবর্ধমান বিক্রির ওপর ভর করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দুই শতাংশের বেশি বেড়ে ২৫০ কোটি ডলারে (২.৫ বিলিয়ন ডলার) উন্নীত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচ্য সময়ে ক্যান্সার ও বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের উচ্চ চাহিদার কারণে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই আয় বিশ্লেষকদের করা পূর্ববর্তী প্রাক্কলনকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা চলতি পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাসকেল সোরিও বলেন, চলতি মাসের শুরুতে একটি ওষুধের শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যর্থ হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যে কোম্পানি সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি জুলাইয়ের প্রথমার্ধে হৃদরোগের নতুন ওষুধ ওয়াইনুয়া পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ারের দরে কিছুটা মন্দা দেখা দিয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সোরিও বলেন, ‘আমাদের গবেষণা ও উন্নয়নভিত্তিক ওষুধের সম্ভাবনাময় পাইপলাইনের ওপর আমরা আস্থা রাখছি। আগামী ১৮ মাসে ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।’

ক্যান্সার ওষুধের ব্যাপক সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমানে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ওজন কমানোর একটি আধুনিক ওষুধ তৈরির প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে। গত মাসে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, কোম্পানিটির উদ্ভাবিত নতুন মুখে খাওয়ার পিলটি অন্যান্য জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের মতোই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বরে রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ করছাড়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়কর রিটার্ন জমা নেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে, যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, করসেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজতর করার লক্ষ্যে গত বুধবার (২২ জুলাই) থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এই ডিজিটাল পোর্টালটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রবর্তিত এই অনলাইন ব্যবস্থা করদাতাদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ নাগরিক এই প্রক্রিয়ায় রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

এনবিআর জানিয়েছে, স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এখন অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির জন্য কাগজের রিটার্ন জমার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাগরিক, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক এবং মৃত করদাতার আইনি প্রতিনিধিরা। এছাড়া নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতায় অনলাইনে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

আধুনিক এই পদ্ধতিতে করদাতারা ব্যাংক স্থানান্তর, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কিংবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অনায়াসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমাদানকারী ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো কারিগরি প্রতিকূলতা দেখা দিলে সরকারি ছুটির দিন বাদে অফিস চলাকালীন কল সেন্টার বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে এনবিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ৫ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধাটি শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পাওয়া যাবে। সেপ্টেম্বরের পর এই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে এবং নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ডিসেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা গুনতে হবে।


নির্বাচিত

গ্যাস অনুসন্ধানে দুটি নতুন রিগ কিনছে বাপেক্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ভূগর্ভস্থ গ্যাস আহরণ ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) বহরে আরও দুটি নতুন রিগ যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে জানান, "দুটি আধুনিক অনুসন্ধান কূপ খনন রিগ কেনার একটি প্রস্তাব আমরা চূড়ান্ত করেছি।"

বর্তমানে বাপেক্সের বিজয়-১০, বিজয়-১১, বিজয়-১২, বিজয়-১৮ এবং আইপিএস-১ নামে পাঁচটি সক্রিয় রিগ রয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের তথ্যমতে, নতুন এই দুটি রিগ সংগৃহীত হলে প্রতিষ্ঠানটির মোট রিগ সংখ্যা সাতে উন্নীত হবে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার জানিয়েছে, ২ হাজার হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিগ ক্রয়ের মূল্যায়ন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ হর্সপাওয়ারের অন্য একটি রিগ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ডিপিপি চূড়ান্ত হওয়ার পর অনুমোদনের জন্য তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।

বাপেক্সের সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশীয় খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করার নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মূলত অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বাপেক্স বর্তমানে উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কূপ খননসহ ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) একটি মূল্যায়ন-সহ-উন্নয়ন কূপ এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতার বেগমগঞ্জ-৫, ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতার বেগমগঞ্জ-৬ এবং ৫ হাজার ৩০০ মিটার গভীর সুনেত্রা-২ নামক কূপগুলো খনন করা হবে। খনন কাজ শেষে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে কূপগুলোর পরীক্ষণ ও চূড়ান্ত কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হবে।


নির্বাচিত

জ্বালানি অস্থিরতায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায় মুদ্রানীতি কঠোর করল সিঙ্গাপুর

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতময় পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিঙ্গাপুর মুদ্রা কর্তৃপক্ষ (এমএএস) সোমবার জানিয়েছে, বাণিজ্য-ভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রার মান বৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করা হবে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সিঙ্গাপুর তাদের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে দেশটির অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়। সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও সিঙ্গাপুর তাদের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর মুদ্রার সাপেক্ষে স্থানীয় ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সামাল দেয়। এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ডলারের মান শক্তিশালী রাখা হলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয়ভার লাঘব করা সম্ভব হয়।

সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এমএএস বলেছে, ‘আগামী কয়েক প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে।’ সংস্থাটি আরও মনে করছে যে, মূল মূল্যস্ফীতি জুলাই থেকে বাড়তে শুরু করতে পারে এবং আগামী বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, ‘জ্বালানির দাম আবার দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাড়তে পারে।’ মূলত জ্বালানি মজুত হ্রাস পাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে। এর আগে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো গত এপ্রিল মাসে মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছিল এমএএস।


নির্বাচিত

২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা এমইপি হাই-টেকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টলার মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকার বিশালাকার বিনিয়োগ নিয়ে আসছে এমইপি হাই-টেক। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় উন্নতমানের বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি এখানে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন শিল্প প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব সালেহ আহমদ। আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শফিউল আহমেদ চাকলাদার।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই কারখানায় ফ্যান, এলইডি লাইট, সুইচ-সকেট, বৈদ্যুতিক তার ও সার্কিট ব্রেকারসহ নানাবিধ ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হবে। এমইপি গ্রুপ ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের এই শিল্প খাতে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। নতুন এই প্রকল্পে দেশীয় উৎস থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সংস্থান করা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই কারখানাটির একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালেহ আহমদ বলেন, "জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এমইপি’র এই বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করবে। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, আমদানি বিকল্প শিল্প, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।"

বেজার এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, "বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প স্থাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।"


নির্বাচিত

বিমা খাতে ডিএসইতে ৮৮ শতাংশ কোম্পানির ইপিএস বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায় দারুণ জোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে এ খাতের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) থেকে জানা যায়, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা ৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৭টি কোম্পানিরই শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থাৎ, আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করা এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশেরই মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এবং সার্বিক হিসাবে মাত্র একটি কোম্পানির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

আলোচ্য সময়ে মুনাফা বৃদ্ধির এই ধারায় সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের ৬৭ পয়সা থেকে এক লাফে বেড়ে ১ টাকা ৪৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা ১২১ শতাংশের এক বিশাল প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের অভাবনীয় এই সাফল্যের ঠিক পরেই অবস্থান করছে তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স। এই কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলেও বেশ ইতিবাচক উল্লম্ফন দেখা গেছে। তাদের ইপিএস আগের ৭৪ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ টাকা ৩৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি আলোচ্য সময়ে ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

মুনাফা বৃদ্ধির এই চমৎকার ইতিবাচক ধারায় সফলতার সাথে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি প্রথম সারির বিমা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ২ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ১ পয়সা হয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্স উভয় প্রতিষ্ঠানই ১২ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে; যেখানে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ৯২ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৩ পয়সা এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ১ টাকা ১৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস ১ টাকা ১৪ পয়সা থেকে ৮ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ২৩ পয়সা এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস সামান্য বেড়ে ৭০ পয়সা থেকে ৭১ পয়সায় (১ শতাংশ বৃদ্ধি) দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বিমা খাতের প্রায় সব কোম্পানি মুনাফা বৃদ্ধির ধারায় থাকলেও কেবল সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স এর ব্যতিক্রম হিসেবে হতাশ করেছে। আলোচ্য সময়ে প্রকাশিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটির মুনাফাই নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের ৮৯ পয়সা থেকে ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৫২ পয়সায় নেমে এসেছে। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের এই পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও অর্ধবার্ষিক আর্থিক ফলাফলের সার্বিক চিত্রে দেশের শেয়ারবাজারে বিমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানিই যে মুনাফা বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একটি বার্তা দিচ্ছে।


নির্বাচিত

সূচকের সঙ্গে ডিএসইতে কমল লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

গত সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় রোববারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে দিন শেষ হয়েছে। সূচকের এই ধারাবাহিক পতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও বাজার সংশ্লিষ্টরা এটিকে স্বাভাবিক দরপতন হিসেবেই দেখছেন। এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসএস সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং শীর্ষ ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।

সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে এদিন সার্বিক লেনদেনের পরিমাণও লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। রোববারের বাজারে মোট ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে, যা এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবারের ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার তুলনায় বেশ কম। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে, অপরদিকে দাম বেড়েছে ১১৬টির এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এম এল ডাইং, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আমরা টেকনোলজিস, জিল বাংলা সুগার মিলস, ফ্যামিলি টেক্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার। বিপরীতে দর পতনের শীর্ষে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, একমি পেস্টিসাইডস, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

বাজারের এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বাজারে বড় ধসের মতো কোনো সংকট নেই। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং অর্থনীতিও ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের দিকে এগোচ্ছে। নতুন সরকার এবং বর্তমান বিএসইসি কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে যে ইতিবাচক জোয়ার তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই পতনটি মূলত তারই একটি স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ বা 'প্রাইস কারেকশন'। বাজার তার নিজস্ব গতিপথ ঠিক করে নিতেই সাময়িক এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন মনে করেন, শেয়ারবাজারে কেবল ব্যক্তিবদলে স্থায়ী পরিবর্তন আসে না; বরং টেকসই গতি ফেরাতে হলে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন। তিনি জানান, সম্প্রতি বাজারে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল, তাতে কম দামে কেনা শেয়ার থেকে অনেকেই এখন মুনাফা তুলে নেওয়া শুরু করায় এই বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে, যার কারণে ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই সাময়িকভাবে সাইডলাইনে গিয়ে বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।


নির্বাচিত

সরবরাহ সংকটে ভারতে ডায়েট কোকের দাম বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের কোমল পানীয়ের বাজারে। অ্যালুমিনিয়াম ক্যানের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার ভারতে ডায়েট কোকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, এই পানীয়টির আকালকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ‘ডায়েট কোক পার্টি’ নামক এক অস্বাভাবিক ও অভিনব ট্রেন্ড শুরু হয়। তবে এখন সেই সংকট কিছুটা কাটলেও, ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে এবং ভিন্ন আকারের ক্যানে এই জনপ্রিয় পানীয়টি কিনে পান করতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ভারতজুড়ে ডায়েট কোকের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা। ভারতে অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান ও এর কাঁচামাল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হলো হরমুজ প্রণালি, কিন্তু ইরান সংঘাত বন্ধে ঘোষিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই সমুদ্রপথটি কার্যত আবারও অচল হয়ে পড়েছে। এই বাণিজ্যিক অচলাবস্থার কারণে বাধ্য হয়ে কোকা-কোলাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে তুলনামূলক বড় আকারের এবং বেশি দামের ক্যান আমদানি করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত কীভাবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে এবং পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য করে, কোকা-কোলার এই পদক্ষেপ তারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

ভারতে ডায়েট কোক প্রধানত অ্যালুমিনিয়াম ক্যানেই বেশি বিক্রি হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও সেখানেই সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ৩০০ মিলিলিটারের ডায়েট কোকের ক্যানের দাম ছিল ৪০ রুপি; কিন্তু ছোট ক্যানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে ৩৩০ মিলিলিটারের নতুন ক্যান বাজারজাত করা হচ্ছে, যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মিলিলিটার পানীয়ের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির এই হার প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও কোকা-কোলা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত সময়ের জন্য ২০০ মিলিলিটারের কাচের বোতলে এই পানীয় বিক্রি শুরু করেছে, যা ক্যানের তুলনায় বেশ ব্যয়বহুল।

কোকা-কোলা এবং পেপসির মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য ভারত একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার, যেখানে স্বাস্থ্য সচেতন ভোক্তাদের কাছে ডায়েট কোকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ডায়েট কোকের বাইরে শূন্য-ক্যালোরির ‘কোক জিরো’ প্লাস্টিক ও কাচের বোতলের পাশাপাশি ক্যান—সব মাধ্যমেই পাওয়া যাওয়ায় সেটির সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ডায়েট কোকের এই আকস্মিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে ভারতের বিভিন্ন পাব এবং সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা নতুন উপার্জনের পথ তৈরি করেছেন। তারা ১০ থেকে ১৬ মার্কিন ডলার প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে এমন সব বিশেষ পার্টির আয়োজন করছেন, যেখানে গান-বাজনা ও অ্যালকোহলের পাশাপাশি সাময়িকভাবে দুর্লভ হয়ে ওঠা ডায়েট কোক পরিবেশন করে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

আমদানি নির্ভরতা কমাতে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

তুলার আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে ১৯ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে মাত্র ২ দশমিক ২৪ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদিত হয়, যা দেশের বিশাল বস্ত্র খাতের মোট চাহিদার মাত্র ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ তা ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। হাইব্রিড তুলার উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে জোরালোভাবে এগোচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়, যার ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এই বিপুল চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করতে হয় এবং শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে। এই বিশাল আমদানি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার প্রধানত চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী সমতল ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সিডিবির মতে, বর্তমানে দেশে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হলেও তা ২ লাখ হেক্টরে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলেই উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপকভাবে সহায়ক হবে।

তুলা উৎপাদনে এমন বিশাল সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যার মধ্যে নীতিগত পর্যালোচনার অভাব, দীর্ঘ উৎপাদন সময়, জলবায়ু পরিবর্তন, জমির অভাব এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণ অন্যতম। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ইতোমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তুলা চাষিদের প্রণোদনা প্রদান, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষের প্রণোদনা বাবদ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে তুলা চাষের জন্য বিনামূল্যে উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সিডিবির তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদনে কৃষকের প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তা থেকে প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে অনায়াসেই ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব; তদুপরি দেশে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। বাংলাদেশের দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের ৩২টিরও বেশি জেলার ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং কৃষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী দশকগুলোতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করে দেশীয় পোশাক শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


নির্বাচিত

যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির মতো চরম বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও মোট ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের খনিজ তেল বিক্রি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও জ্বালানি তেল বিক্রির এই বিপুল অঙ্কের হিসাব আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে ইরানের এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তেল বিক্রির আয়ের একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ চলাকালে দেশটি ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির সময় আরও ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক এই চলমান সামরিক সংকটের মধ্যেও তেল খাত থেকে অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ আয় চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আয়ের পূর্বাভাসের ৬০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

তবে তেল মন্ত্রণালয়ের এই বিশাল সাফল্যের দাবির সঙ্গে দেশটির শীর্ষস্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। গত জুনের শেষ দিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর বন্দর অবরোধের কারণে ইরান কোনো তেলই রপ্তানি করতে পারেনি। ফলে সরকারের দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একই সময়ে ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা হয়। এর কড়া জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা সামরিক হামলা চালায়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে। তবে এই শান্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি; চলতি জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close