আগের সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ, মাংস ও সবজি। দুএকটি ছাড়া সব সবজির কেজিই ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা। আজ শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে এমন তথ্যই মিলেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখীর কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা ও বরবটি ১৪০ টাকা।
প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধুন্দুল ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙা ১২০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১২০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি শিমের কেজি ৪৮০ টাকা, ফুলকপি প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ছোট আকারের বাঁধাকপি ৮০ টাকা, পাকা টমেটোর কেজি প্রকারভেদে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, গাজর ১৮০ টাকা ও মুলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবুর হালি ৩০ থেকে ৬০ টাকা। ধনে পাতার কেজি ৬০০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৮০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৮০ টাকা। বাজারে মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, মুলা শাক ২৫ টাকা, কলমি শাক ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাঁটা শাক ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১২৫ টাকা, আদা ৩২০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, নতুন আলু ১২০ টাকা, বগুড়ার আলু ১০০ টাকা ও পুরোনো আলু ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি হাইব্রিডের কেজি ২৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৫২০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগি ৩৩০ টাকা ও সাদা লেয়ার ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়, হাঁসের ডিমের ডজন ২৩০ টাকা। আর দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকা। বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংসের কেজি এক হাজার ১৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
বাজারে চাষের শিংয়ের কেজি (আকারভেদে) ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুইয়ের দাম কেজিতে বেড়ে (আকারভেদে) ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, মৃগেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পাবদা।
৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫৫০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, পাঁচমিশালি ২২০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা, বাইম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, দেশি কই এক হাজার ২০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৮০০ টাকা ও কাইক্ক্যা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে পাঁচ কেজি সয়াবিন তেল ৮১৮ টাকা, দেশি মসুর ডালের কেজি ১৪০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)-এ সূচকের পতন হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরও কমেছে।
দিনের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির ২১ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।
লেনদেন শেষে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৯ দশমিক ১৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এদিকে ডিএস-৩০ সূচক ২৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৩ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭১ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৯৯টির, কমেছে ২৪৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো— ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ব্র্যাক ব্যাংক, তৌফিকা ফুড, খান ব্রাদার্স পিপি, ইনটেক লিমিটেড, সি পার্ল ও একমী পেস্টিসাইড।
দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে— মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিবিএস, বিবিএস কেবলস, ড্রাগন সোয়েটার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ইনটেক লিমিটেড, এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১, গ্রীন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ডমিনেজ স্টিল ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে— আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সি পার্ল, মেঘনা পেট, সায়হাম টেক্সটাইল, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি সোনালী প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিডি থাই ফুড, জাহিন টেক্সটাইল ও সেলভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে।
আগে যেখানে ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ঋণের সীমাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনিরাপদ ঋণ দেওয়া যেত, এখন তা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) জারি করা গাইডলাইনে বলা হয়েছে, আগের তুলনায় অনিরাপদ ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দৈনন্দিন লেনদেনে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গ্রাহক নগদ অর্থ বহনের পরিবর্তে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন গাইডলাইনে গ্রাহক সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেডিট কার্ড–সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতা নির্ধারণ, ঋণসীমা ঠিক করা, সুদের হার, কার্ড ইস্যু ও বিপণন প্রক্রিয়া, বিলিং ও অর্থ আদায়ের পদ্ধতি, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ, জালিয়াতি, লেনদেন নিষ্পত্তি–সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা অনুসরণ করেই ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বিশাল অঙ্কের বার্ষিক লোকসান ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাপানের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা। প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের এই ক্ষতি কোম্পানিটির ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৫৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম এমন বড় আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি প্রকল্প নিয়ে নেওয়া ভুল কৌশলকেই এই ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এবং লোকসানের দায় স্বীকার করে কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের একটি অংশ কোম্পানিকে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভি প্রকল্পে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিপুল ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয় সামাল দিতে গিয়েই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বপরিকল্পিত তিনটি ইলেকট্রিক গাড়ির মডেল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গিয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে জাপানের এই অটোমোবাইল জায়ান্ট।
এদিকে এই আর্থিক বিপর্যয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার টোকিও শেয়ারবাজারে হোন্ডার শেয়ারের দর ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যারাবিয়ান বিজনেস এ তথ্য জানিয়েছে।
অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রবিবার (১৫ মার্চ) এনবিআরের প্রথম সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদ নওশাদ মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, গত ফেব্রুয়ারির করপর্বের ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন সময়সীমা আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনবিআর আরও জানায়, ই-ভ্যাট সিস্টেমে ধীরগতির কারণে অনেক করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। করদাতাদের সেই ভোগান্তি কমাতেই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (১ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ই-ভ্যাট সিস্টেমে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের এই অতিরিক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাড়তি সময়ের মধ্যে করদাতারা সহজেই অনলাইনে তাদের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও মন্ত্রণালয়ের ‘বাস্তবতা-বিবর্জিত’ রেশনিং প্রক্রিয়ার কারণে নতুন সরকারকে জনগণের কাছে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বিপিসির চেয়ারম্যানসহ কিছু কর্মকর্তা জ্বালানি সচিবকে ভুল তথ্য দিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা ছাড়াই গত ১০-১২ দিন ধরে সারাদেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে ডিপো খোলা রেখে রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা ‘প্রতারণামূলক কাজ’।
মালিক সমিতির দাবি, সব ডিপোতে তেল সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এদিকে তেলবাহী জাহাজ জেটিতে অপেক্ষায় থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাম্পে তেল পৌঁছানোর দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে ডিলাররা সংকটে রয়েছেন। ১৩ হাজার ৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাঙ্কলরি ২০০-২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডিপোতে গিয়ে মাত্র ৪ থেকে ৬ হাজার লিটার তেল পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত অভিন্ন মূল্যে তেল বিক্রি করতে হওয়ায় সেই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না।
সংগঠনটির মতে, গত ১০-১২ দিনের এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব আগামী এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে আরও প্রস্তাব করা হয়, সরকার যদি পর্যাপ্ত তেল আমদানিতে সময় নেয় বা অপারগ হয়, তবে সক্ষম ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দ্রুত আমদানির অনুমতি দিয়ে বিপিসিকে তেল সরবরাহ করা যেতে পারে। এতে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য সরিয়ে কন্টেইনার জট কমাতে ৩৭৮টি কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-অকশন পদ্ধতিতে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর ।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে জানানো হয় যে, বন্দরের কন্টেইনার জট কমানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস নিয়মিতভাবে অখালাসকৃত পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্চ ২০২৬ মাসে ৩৭৮টি কন্টেইনার পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর জারি করা বিশেষ আদেশ নং–৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী ই-অকশন–২/২০২৬ এর আওতায় ৪৯টি লটে মোট ১৮০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেমস ও গাড়ির যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সামগ্রী। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) নির্ধারণ করা হয়নি।
অপরদিকে স্থায়ী আদেশ নং–৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুযায়ী ই-অকশন–৩/২০২৬ এর আওতায় ৭৪টি লটে মোট ১৯৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ, ক্রাফট লাইনার পেপারসহ আরও নানা পণ্য।
নিলাম কার্যক্রমে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। আগ্রহী বিডারদের জন্য মার্চ মাসজুড়ে পণ্য সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা বাংলাদেশ কাস্টমস-এর ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী পণ্য খালাস করতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, ই-অকশন–২/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ২টায় এবং ই-অকশন–৩/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স ৮ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ২টায় খোলা হবে।
সংস্থাটি বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দর ও বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময় বন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে বুড়িমারী কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পবিত্র শবে কদর এবং শনিবার (২১ মার্চ) সম্ভাব্য ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ১১ দিন বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে এ সময় বন্দরের পুলিশ অভিবাসন চৌকি (ইমিগ্রেশন) চালু থাকবে। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনার ভিত্তিতে ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন (কাস্টমস কর্তৃপক্ষ), স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও, থানার ওসি, উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা, পুলিশ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিবি, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, ভুটানের সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, "পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সাপেক্ষে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চ থেকে যথারীতি আমদানি-রপ্তানিসহ সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।"
বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, "আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে চিঠি পাওয়া গেছে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।"
বাংলাদেশ কাস্টমস -এর অধীন বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার মহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, "শবে কদর, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন লিখিতভাবে জানিয়েছে। তবে এ সময় আন্তর্জাতিক এই ইমিগ্রেশন পথ দিয়ে যাত্রী পারাপার এবং কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।"
কোম্পানি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এখন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে এনবিআরের করনীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মো. একরামুল হকের সই রয়েছে।
এর আগে কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ মার্চ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্বাভাবিক করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ছাড়া অন্যান্য করদাতাদের জন্য ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, করদাতাদের সুবিধা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট করদাতারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি বাণিজ্য সুরক্ষায় একটি বিস্তৃত ‘জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন কঠোর বিধিনিষেধের মুখে বহু বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ট্রেসেবিলিটি বলতে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একটি পণ্যের ইতিহাস, ব্যবহার ও অবস্থান অনুসরণ করার সক্ষমতাকে বোঝায়।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিটের প্রথম বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা বলেন,ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইকোডিজাইন ফর সাসটেইনেবল প্রোডাক্টস রেগুলেশন (ইএসপিআর) মেনে চলার জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করা এখন দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান। বৈঠকে এসটিআইএলই–টু প্রকল্পের আওতায় বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জিআইজেড-(জার্মান সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন)–এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গ্যাপ অ্যানালাইসিস ও প্রয়োজন মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
বিল্ডের গবেষণা পরিচালক ড. ওয়াসেল বিন শাদাত পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিটকে জানান, ইএসপিআর বিশ্ববাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। তার ভাষায়, এ বিধান শিল্পকে স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশগত মান থেকে সরিয়ে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক মানদণ্ডে নিয়ে যাচ্ছে, যা ইইউতে প্রবেশ করা প্রায় সব ধরনের ভৌত পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
সভাপতি মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, ইএসপিআর বাজারে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রক শর্ত হলেও ডিপিপি এই নিয়ম মেনে চলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সীমান্তে মেশিন-পঠনযোগ্য তথ্য, উপাদানের গঠন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এবং কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সূক্ষ্ম ডেটা সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে।
বিশেষ করে যখন দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক ঝুঁকি বড় হতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করা হয়।
উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রেসেবিলিটি সংক্রান্ত নতুন শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে বছরে আনুমানিক ০.৩৬ বিলিয়ন থেকে ১.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি আয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
‘গ্যাপ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে ছয়টি ক্ষেত্রে মোট ৬২টি প্রস্তুতিগত ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ঘাটতিকে ‘স্তর ১’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো দ্রুত সমাধান না করলে রপ্তানি আয়ের বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় পলিসি কো-অর্ডিনেশন ইউনিট একটি বিকেন্দ্রীভূত জাতীয় ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুপারিশ করেছে।
বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, দ্রুত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ বুঝে নেওয়া এখন বেসরকারি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষভাবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পরিচালিত নিবন্ধিত রপ্তানিকারক বা আরইএক্স সিস্টেমকে এই উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার মতে, আরইএক্স ইতোমধ্যেই রপ্তানিকারকদের যাচাইকৃত তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করছে। ফলে এটিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী জাতীয় ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব, যা বিদ্যমান রপ্তানি ব্যবস্থাকে ইইউর ডিজিটাল শর্তের সঙ্গে সমন্বয় করতে সহায়তা করবে।
সভায় বিভিন্ন রপ্তানি খাতে প্রস্তুতির বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি বিদ্যা অমৃত খান বলেন, পোশাক খাত ইতোমধ্যেই টেকসই উৎসের প্রমাণ প্রদানের বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ইএসপিআর এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শিশুশ্রম, অন্যায্য শ্রমনীতি বা পরিবেশ ধ্বংসের কোনো প্রভাব না থাকে এবং এ নিয়ম মানা ‘বাধ্যতামূলক এবং কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না’।
অন্যদিকে এলএফএমইএবি (লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ)–এর মহাসচিব মেজর রফিকুল ইসলাম (অব.) জানান, চামড়া ও পাদুকা খাতে এ বিষয়ে সচেতনতার বড় ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, অনেক উদ্যোক্তা এখনো ইএসপিআর সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না, তাই দ্রুত সংগঠিত সচেতনতা কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থ বিভাগ থেকে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব ও নিয়ম-সম্মত উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্পখাতকে সহায়তা দিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রয়েছে। এ তহবিলের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে সহায়তা দেওয়া হবে।
এসটিআইএলই–টু প্রকল্পের প্রধান মাইকেল ক্লোডে বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিল্ড জাতীয় কৌশল তৈরির কাজ করছে। তবে পৃথক কোম্পানির জন্য ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিল্পখাতের ওপরই থাকবে।
উর্মি গ্রুপের গ্রুপ সাসটেইনেবিলিটি লিড বি এম ফখরুল আলম সতর্ক করে বলেন, ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দেরি হলে শিগগিরই ‘অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কমপ্লায়েন্স চাপ’ তৈরি হতে পারে। তিনি উৎপাদকদের সহায়তায় দ্রুত একটি সরল জাতীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতভিত্তিক আলোচনার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রতিটি শিল্পখাত আগাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (এমওইএফসিসি), পরিকল্পনা বিভাগ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং খাতটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, গত কয়েক মাসে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে মুরগির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না খামারিরা। এতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প এবং এ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, পোল্ট্রি খাতের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেট বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যেখানে একটি বাচ্চার দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে বলেও দাবি করা হয়। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং অনেকেই লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতা সুলতান হাসান বলেন, ‘আমরা লোকশান করতে করতে ভিটে-মাটি সব হারিয়েছি। পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই আমাদের প্রণোদনা দিন। আমাদের পাশে দাড়ান।’
এ সময় সংগঠনটির সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। ডিম আমদানি করা হচ্ছে, এতে ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনেক সরকারি লোক জড়িত। আমরা সরকারের সঙ্গে বসতে চাই। আমাদের দুঃখগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা আশা করি সরকার আমাদের দিকে সুনজর দেবে।’
সংগঠনটির নেতারা জানান, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাবের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের কাছে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান, সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা চালু করা এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।
সংগঠনটির মতে, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এর প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচকভাবে পড়বে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৮৩ টাকা পর্যন্ত কমায় ভালো মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও কমেছে।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনা ও রুপার নতুন দর ঘোষণা করে। এতে জানানো হয়, তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও রুপার দাম কমায় স্থানীয় বাজারেও নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো সোনার দাম কমল দেশে। এর আগে শুক্রবার সকালে ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার কমেছিল ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। ফলে তিন দিনে ২২ ক্যারেট সোনার দাম মোট কমেছে ৮ হাজার ১৬৫ টাকা।
নতুন দরে শনিবার সকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকায়। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।
এর আগে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ভরিতে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকায়।
অর্থাৎ শনিবার নতুন সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট সোনায় ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমেছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটে ২ হাজার ৫০৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ১৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনায় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা দাম কমেছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও পতন দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের রুপায় ভরিতে ২৯২ টাকা কমেছে। ২১ ক্যারেটে কমেছে ২৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপায় ভরিতে ১৭৪ টাকা হ্রাস পেয়েছে।
নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৩ টাকা।
বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে যায়। ফলে বাজারে এখনো ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও একই সময়ে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ২৪ শতাংশ কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইএক্স সূচক ১২৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে সপ্তাহ শেষে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ২৪১ পয়েন্টে। একই সময়ে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়ে ৫৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট যোগ হয়ে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ২ হাজার ১২ পয়েন্ট। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসও বেড়ে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটি ছিল ১ হাজার ৪৯ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৪টির, কমেছে ৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির। এছাড়া ২৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে ছয় বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা ঘটে। এতে অনেক শেয়ারের দাম তুলনামূলক কমে আকর্ষণীয় পর্যায়ে চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা আবার শেয়ার কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে সূচক বাড়তে দেখা গেছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ গড় ছিল ৬৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল সবচেয়ে বেশি। মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিল এ খাত। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের অংশ ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এরপর বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং প্রকৌশল খাত ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে সিমেন্ট খাতে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) গত সপ্তাহেও সূচক বেড়েছে। সিএএসপিআই সূচক ১ দশমিক ০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪ হাজার ৮২৫ পয়েন্ট। একই সময়ে সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৬০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯ হাজার ৬১ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ১৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির।
মার্চের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানিপণ্য এসে পৌঁছেছে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে মোট ১৬টি জাহাজ দেশের বন্দরে এসেছে। এর পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে দেশে এসে খালাস সম্পন্ন করেছে। পরে ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।
এদিকে এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতোমধ্যে মোট ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি শিল্পখাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিও বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েল। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং প্রায় চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জাহাজ চলাচল ও বীমা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা আপাতত নেই।
দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে হরমুজ প্রণালির এলাকায় কোনো সংঘাত বা বিঘ্ন দেখা দিলে জাহাজের সময়সূচি এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও ধারাবাহিক খালাস কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।