অনাস্থার পুঁজিবাজারে দরপতনের মিছিল আরও লম্বা হচ্ছে। কিছুতেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা মিলছে না। নেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কোনো বার্তাও। আগের দিন ৩ শতাংশ পতনের পর গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে আরও দেড় শতাংশের কাছাকাছি। একদিনেই এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে আরও সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মতো। লেনদেন সামান্য বাড়লেও দিনভর বিক্রয়চাপে যতগুলো সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে, তার দ্বিগুণ দর হারিয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের পতনে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেয়ার কেনার ক্রেতা একদমই কম। অনেক বিনিয়োগকারী তাদের বিও হিসাব বন্ধ করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আবার সাইডলাইনে থেকে মূলধন হাতে নিয়ে বাজার পর্যাবেক্ষণ করছে। তাছাড়া ফোর্সড সেলের মধ্যে পড়তে হচ্ছে অনেককে। এতে প্রতিনিয়ত বিক্রয় চাপে দরপতনের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে মিডওয়ে সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশেকুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ আগের সমস্যাগুলো আছে। তবে এখন প্যানিক সেল এবং যারা ঋণ নিয়ে শেয়ার ক্রয় করেছিলেন, তাদেরকে ফোর্সড সেলের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাজারে ট্রাস্ট (আস্থা) বড় ইস্যু। গত কয়েক দিন ধরে ভালো শেয়ারের দাম পড়ে গেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা আস্থা থেকে অনেকখানি দূরে চলে গেছেন। এখন তারা সব শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি যতটুকু সম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গতকাল একদিনেই আরও ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৬৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। আগের দিন সূচকটি ১৪৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে নেমেছিল। সূচকটির গতকালের অবস্থান ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। ওইদিন ডিএসইএক্স সূচক ৪ হাজার ৮৬৭ পয়েন্টে নেমেছিল। এক্সচেঞ্জটির অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের দিন লেনদেন শেষে যা ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে নেমেছিল। আর বাছাইকৃত ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ দিনের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন যা ছিল ১ হাজার ৮৩০ পয়েন্টে।
ঢাকার এ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৯৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে গতকাল সবগুলোর লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০৫টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৬টিই দর হারিয়েছে। আর ৪৬টির দর এদিন অপরিবর্তিত ছিল। এক্সচেঞ্জটির লেনদেনের পরিমান এদিন সামান্য বেড়ে ৩৫৭ কোটি ২৫ লাখ হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার। আগের দিন ডিএসইর বাজার মূলধন একদিনেই পৌনে ১০ হাজার কোটি টাকা কমার পর গতকাল আরও ৩ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা কমেছে।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সবগুলো সূচক কমেছে। এর মধ্যে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮৫ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮২১ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। এক্সচেঞ্জটিতে এদিন ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১২৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির।
এদিকে ধারাবাহিক দরপতনে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া বিনিয়োগকারীরা আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও মতিঝিলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মতিঝিলে ডিএসইর পুরাতন ভবনের সামনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবিতে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জড়ো হন একদল বিনিয়োগকারী। আর দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আরেকটি গ্রুপ। উভয় মানববন্ধন থেকেই বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দরপতন অভ্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এখন বিনিয়োগকারীদের একটাই দাবি, বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ।’
চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিন) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ওই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে আসে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সচিবালয়ে আজ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দল।
সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান নানামুখী সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে একটি ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্যই এই কাউন্সিল গঠিত। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ‘আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ মালিকপক্ষের এই নেতার মতে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারসহ বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থলপথে ব্যবসা সচল রাখার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধি দল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছে। সংগঠনটির ২২ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আগামীকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) গুয়াংজু শহরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।
এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বিস্তৃত করা এবং দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করা।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী। এ দলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোটিভ, শিল্পকারখানার তেল ও গ্রিজ, শিপিং ও লজিস্টিকস সেবা, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সফর চলাকালে প্রতিনিধি দলটি চীনের শীর্ষ বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ও চেম্বারগুলোর সঙ্গে একাধিক বিজনেস ফোরাম এবং বি-টু-বি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিপিআইটি গুয়াংজু, সিসিপিআইটি গুয়াংজু নানশা, গুয়াংজু নানশা সার্ভিসেস ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এবং গুয়াংজু ওভারসিজ এন্টারপ্রাইজেস চেম্বার অব কমার্স।
এই সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি ক্যান্টন ফেয়ার-এ অংশ নেবে, যেখানে কাঠামোবদ্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ এবং সরেজমিনে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি তারা গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারেও অংশগ্রহণ করবে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডিসিসিআই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী দুইটি বিশাল ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ইউনিপ্যাক ও ভিটল এশিয়ার সরবরাহকৃত এই জ্বালানির মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে ৩৩ হাজার টন এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে ৩৫ হাজার টন তেল রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বহির্নোঙরে কিছু তেল খালাস করার পর জাহাজ দুটি ডলফিন জেটিতে অবস্থান নিয়ে অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক ডিজেলের গড় চাহিদা ১১ হাজার টনেরও বেশি। উল্লেখ্য যে, গত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মজুতকৃত ১ লাখ ১৯ হাজার টন ডিজেল দিয়ে মাত্র ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। তবে নতুন এই বিশাল চালানের ফলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মজুত আরও অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি পাবে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’ সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত সরবরাহকারীদের বাইরেও বিকল্প আমদানির পথ সচল রাখায় বর্তমান মাসে জ্বালানি সংকটের কোনো ঝুঁকি নেই। আমদানিকৃত তেলের নতুন চালানের আগমন অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের প্রবণতা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ‘৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে’ নেমেছে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর দাঁড়িয়েছে ‘৯০ দশমিক ২৪ ডলারে’। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরায় এই দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক এই তৎপরতা সফল হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলের সরবরাহ পুনরায় বাজারে ফিরবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া অবরোধ আরোপ করার পর নতুন এই সম্ভাবনায় বাজারে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। তথ্য অনুযায়ী, সংকটের আগে এই পথে যেখানে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
এর মধ্যেই সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতার মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে এবং মার্কিন প্রশাসন তা আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া সুবিধাও গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ সীমিত হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ জানিয়েছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাতায়াত বিধিনিষেধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার চেয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) খুব শীঘ্রই তেলের মজুত সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ করবে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ‘১০২ দশমিক ১৬ ডলারে’ এবং ডব্লিউটিআই ‘১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে’ পৌঁছে গিয়েছিল বলে অপর একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে উভয় বাজারেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
এর আগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর দাপটে মূল্যসূচক ও লেনদেন বাড়লেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে বাজারে পতন দেখা যায়। তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের ছুটির কারণে শেয়ারবাজারে কোনো লেনদেন হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার লেনদেন শুরু থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকে এবং সূচকে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত এ প্রবণতা অব্যাহত থাকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বৃদ্ধি পায় এবং সবকটি মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট, বিপরীতে কমেছে ৯০টির এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে ৫২টির এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৮টির এবং ৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৫৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮টির দাম বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে এবং মোট লেনদেন হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, অর্থাৎ লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। এই দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২২ লাখ টাকা।
এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, গোল্ডেন সন, শাহজিবাজার পাওয়ার, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বিবিএস কেবলস এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৩ পয়েন্ট বেড়েছে। এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৪টির এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনায় মার্চ মাসের অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট থেকে জারি করা এক বিশেষ নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের ভ্যাট রিটার্ন ও অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার কারিগরি সমস্যা ও সরকারি ছুটির কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এর ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সময় পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে বলে মনে করছে রাজস্ব বোর্ড।
এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিটের নোটিশে বলা হয়েছে যে, পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটি এবং একই সময়ে ই-ভ্যাট সিস্টেমের উন্নয়নমূলক কাজের কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়।
জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং এসব কারিগরি সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে মার্চ মাসের অনলাইন রিটার্ন জমার সময়সীমা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ১ (ক)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যে জরিমানার বিধান রয়েছে, তা থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্ত থাকবেন।
সাধারণ নিয়মে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিগত মাসের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও বকেয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়।
তবে সিস্টেমগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো তথ্য আপলোড করতে পারছিলেন না বলে এনবিআরকে অবহিত করা হয়েছিল।
এনবিআর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ জারি করে।
ব্যবসায়ীদের জন্য অনলাইনে সহজে রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছন্দ করতে কারিগরি দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বৈশাখী ছুটি ও সিস্টেম আপগ্রেডের কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সময় বাড়ানোর ফলে তা কেটে গেছে। এনবিআর আশা করছে, বর্ধিত সময়ের মধ্যেই দেশের সব নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।
এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক জরিমানার চাপ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও সময়মতো পূরণে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ক্রয় করতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ‘দুই লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা’। অথচ আগের দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার এই মানসম্পন্ন স্বর্ণের দাম ছিল ‘দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা’।
বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এই মূল্য সমন্বয়ের পথে হেঁটেছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ‘দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা’। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দর দাঁড়িয়েছে ‘দুই লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা’ এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারিত হয়েছে ‘এক লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা’ হিসেবে।
স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ‘৬ হাজার ৬৫ টাকা’ দরে বিক্রি হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ‘৫ হাজার ৭৭৪ টাকা’, ১৮ ক্যারেট ‘৪ হাজার ৯৫৭ টাকা’ এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ধরা হয়েছে ‘৩ হাজার ৭৩২ টাকা’। সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮২৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বর্ণের দর আউন্সপ্রতি ‘৫ হাজার ২০০ ডলার’ থেকে ‘৫ হাজার ৫৫০ ডলারে’ পৌঁছেছিল।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল। গত ২৯ জানুয়ারি একলাফে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস, যার ফলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পৌঁছেছিল ‘২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়’। দেশের ইতিহাসে এক ধাপে স্বর্ণের দামের এতো বড় বৃদ্ধি এবং এই মূল্য ছিল এক অনন্য রেকর্ড। মূল্যের এই ধারাবাহিক ওঠানামা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
উড়োজাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি জাহাজ আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ১২ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে 'এমটি গ্রেট প্রিন্সেস' নামের এই জাহাজটি মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বন্দরের জেটিতে নোঙর করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে যে পরিমাণ জেট ফুয়েলের মজুত ছিল তা দিয়ে প্রায় ১৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব, তবে নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় মজুতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ টন করে মোট ২১ হাজার টন জেট ফুয়েল বিক্রি হয়েছে।
জেট ফুয়েলের পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আজ রাত ১১টার দিকে আরও দুটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুরের সরবরাহ করা 'এমটি টর্ম দামিনি' ৩৩ হাজার টন এবং ভিটল এশিয়ার 'এমটি লুসিয়া সলিস' জাহাজটি ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসছে। দেশের পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতে ডিজেলের ব্যাপক নির্ভরতা থাকায় এ মাসজুড়েই ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
বিপিসির পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে এবং নতুন চালানগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে মজুতের স্থিতি আরও কয়েক দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।”
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
টানা দুই মাস ধরে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলেই শোধন কার্যক্রম থেমে যায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক ব্যবহার করেও কিছুদিন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হয়। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদলের আলোচনায় এ আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রতিবেশী দেশগুলো এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত চাপে পড়েছে।
তিনি জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জেনারেটরের জন্য ডিজেলের ঘাটতিতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, ছোট ও মাঝারি শিল্পে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং ঢাকার আশপাশের সব শিল্পাঞ্চলে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়া দ্রুত অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন, শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক খাতে সোলার পিভি সিস্টেমের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড়ের দাবি জানানো হয়।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এর ওপর বর্তমান ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর বর্তমান চারটির পরিবর্তে তিনটিতে নামিয়ে আনা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বিদ্যমান তামাক করসহ মোট রাজস্ব আয় দাঁড়াতে পারে ৮৫ হাজার কোটি টাকায়।
‘তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালায় রাজস্ব বৃদ্ধির এই সম্ভাবনা এবং কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। এতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলা হয়, তামাকবিরোধী এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমবে, অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে এবং রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের পণ্যের ভোক্তা, যাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও শ্রমজীবী। এই দুই স্তর একীভূত করে দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে এবং নতুন করে ধূমপান শুরু করা নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু করলে কর ব্যবস্থার জটিলতা কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উচ্চ স্তরে তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২০০ বা তার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর নির্ধারিত হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এই সংস্কার কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং তিন লাখ বাহাত্তর হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এক লাখ পঁচাশি হাজার তরুণসহ তিন লাখ সত্তর হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ব্যাংক খাতে দুর্বল ও একীভূত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রেখে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে বরং তাদের পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ দায়ীদের অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ না থাকার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সংশোধন এনে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসনের পরিপন্থী।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক এবং এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো সমস্যাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, এতে কার্যত দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, মালিকানা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ খাতটির সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারকে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে এমন আইন প্রণয়ন শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থই রক্ষা করতে পারে।