রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

সিন্ডিকেটে অস্থির চালের বাজার

দামে অস্থিরতার পেছনে রয়েছে মিলার, ধান-চালের মজুদদার, পাইকার ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১০ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:২৯
ইকবাল হোসেন 
প্রকাশিত
ইকবাল হোসেন 
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:২৮

চালের সংকট না থাকলেও বাজারে চালের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম ২০০-২৫০ টাকা বেড়েছে। গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম গড়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দামে অস্থিরতার পেছনে রয়েছে মিলার, ধান-চালের মজুদদার, পাইকার ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’। মুনাফালোভী সিন্ডিকেট চালের মজুদ গড়ে তুলেছে। এরাই চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। এ কারণে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের ইতিবাচক সব উদ্যোগ। যদিও সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা মাঝারি আকারের বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতের চালের। এ ধরনের চালের ভোক্তা সাধারণত মধ্যবিত্ত। গতকাল শনিবার ঢাকার বাজারে খুচরা পর্যায়ে এ দুই জাতের চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬৪ টাকায়। এ ছাড়া মোটা চালের (গুটি স্বর্ণা ও চায়না ইরি) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ও চিকন চাল (মিনিকেট) বিক্রি হয়েছে কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে। মাস তিনেক আগে মোটা চালের কেজি ৪৮-৫০, মাঝারি চাল ৫৪-৫৮ এবং চিকন চাল ৬৮-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে সরু চালের দর প্রায় ৪ শতাংশ, মাঝারি চালের ৮ ও মোটা চালের দর ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির এই হার আরও বেশি। এ সময় সব ধরনের চালের দর বেড়েছে গড়ে ১২ শতাংশ।

সূত্র মতে, বাজারে চালের অভাব নেই। তবে মিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারা এখন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মিল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত এই চক্র জাল বিছিয়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এ কারণে চাল উৎপাদন বেশি। বাজারে চালের সংকট সৃষ্টির বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক।

ঢাকায় চালের বড় পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দুটি কারণের কথা বলেছেন- এক. ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়াচ্ছেন। দুই. আমনে যে উৎপাদন কম হবে, সে খবর বাজারে আছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্সের গোলাম হাফিজ মানিক বলেন, মিলার, মজুদদার ও পাইকার এবং বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি চালের দামে ফায়দা লুটছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান-চাল কিনে গুদামজাত করে। পরে সুবিধামতো সময়ে বেশি দামে বিক্রি করে।

বাজারে ধানের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বড় মিলার গোডাউনে হাজার হাজার টন পুরোনো চাল ও ধান মজুদ করে রেখেছে। তাদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

গোলাম হাফিজ মানিক আরও বলেন, কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের লাগাম টানতে পারলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

শুল্ক প্রত্যাহারের পরও আমদানি বাড়ছে না

চালের সরবরাহ বাড়াতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অগ্রিম আয়করও ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি সপ্তাহে বলা হয়, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো, ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কিন্তু শুল্ক প্রত্যাহার হলেও চক্রটি মজুদ চাল বেশি দামে বিক্রির জন্য আমদানি করছে না। আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছে অন্যদেরও। তাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৫৭ টন। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৩৪ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৮ টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু ৪৮ টন চাল আমদানি হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চালের মজুদ রয়েছে ৯ লাখ ৬৮ হাজার টন। তবে সরকারের নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে সাধারণত ১১ লাখ টন চাল রাখার কথা বলা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য বাজেট ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাকি ৭ লাখ ৫০ হাজার টনের জন্য আরও ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ লাগবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ রিসোর্সেসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আকিজ এসেনসিয়ালসের কর্মকর্তা এস এম রাহাদুজ্জামান রাজীব বলেন, যে বছরই হাওরে বন্যা হয় অথবা আগাম বন্যায় ধান নষ্ট হয়ে যায়, ওই বছরই ধান-চালের সংকট সৃষ্টি হয়। গত সরকারের সময় আমরা দেখেছি ১০ থেকে ১৮ লাখ মেট্ৰিক টন পর্যন্ত চাল আমদানি করতে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত এক কেজি চালও আমদানি করতে পারেনি। শুল্ক কমানোর পরও ব্যবসায়ীরা আমদানি করেনি। এর অন্যতম কারণ বিশ্ববাজারে এখন চালের দর অনেক বেশি। ভারত থেকে আমদানি করলে চালের দর বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পড়বে। এ জন্য আমদানিতে আগ্রহ কম।

তিনি আরও বলেন, ডলার সংকটের কারণে ভারত থেকে আমদানির জন্য এলসি করলে এখনও খরচ বেশি পড়ে। ভারত থেকে যদি সাশ্রয়ী মূল্যে সরু চাল আমদানি করা যায় তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। মিয়ানমার বা ফিলিপাইনের চাল আমাদের দেশের মানুষ খেতে অভ্যস্ত নয়। সরকার আজ যদি ভারত থেকে এক লাখ মেট্ৰিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, কাল প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা কমে যাবে। চালের দাম পুরোপুরি মজুতের ওপর নির্ভর করে। মজুদ থাকলে চালের দাম কমবে, না থাকলে রাতারাতি বেড়ে যাবে।

যেভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ হয়

রাহাদুজ্জামান রাজীব বলেন, চালের দাম বাড়ার পেছনে একটা চেইন অব কমান্ড কাজ করে তৃণমূল থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত। দাম বৃদ্ধির জন্য এককভাবে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না। চালের দাম প্রোডাক্ট চেইন ও পর্যাপ্ত মজুতের ওপর নির্ভর করে। যেমন- মিনিকেটের দাম অক্টোবর মাসে প্রতি বস্তা ছিল ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। চলতি মাসে সেটার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এটার কারণ মিনিকেট চাল যে ধান থেকে হয় সেটার দাম বেড়ে গেছে। প্রতি মণের দাম ছিল (৩৭ কেজি) ১ হাজার ৫৬০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা। এ কারণে ধানের দাম বেড়ে গেলে চালের দাম বাড়ে।

তিনি বলেন, মিলার ও আড়তদারদের দোষ হচ্ছে আজকে ধানের দাম বাড়লে তারা আজকে থেকেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা ১৫ বা ২০ দিন পরে বাড়াতে পারত। তারা মজুতের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। বাংলাদেশের ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় মূলত যশোর, নওগাঁ ও বগুড়া থেকে। মোটা চালের নিয়ন্ত্রণ হয় ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও হাওর এলাকা থেকে। চালের বাজার থেকে ধানের বাজারের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী। এটি নিয়ন্ত্রণ করে ৫০ জন ব্যবসায়ী। সারা দেশে চালের পাইকার আছে এক হাজার ৭০০ জন, যারা সরাসরি মিল থেকে চাল কিনে।

রাহাদুজ্জামান রাজীব আরও বলেন, ধানের সাপ্লাই চেইন হচ্ছে- কৃষকরা ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করে। ফড়িয়ারা বিভিন্ন সাপ্লাইয়ারের কাছে বিক্রি করে, আর সাপ্লাইয়ররা বিভিন্ন মিলারের কাছে ধান বিক্রি করে। স্থানীয় কিছু ফড়িয়া ও সাপ্লাইয়ার ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা সিসি লোন নিয়ে ধান কিনে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে রাখে। দাম বাড়লে ধান বিক্রি করে দেয়। মুজুদদাররা যে দামে ধান বিক্রি করে মিলাররা সে হিসাবে চালের দাম নির্ধারণ করে।

তিনি বলেন, সরকার সব সময় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মিলার ও আড়তদারদের ওপর দোষ চাপায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, জরিমানা করে। কিন্তু আসল কলকাঠি নাড়ায় ধানের ব্যবসায়ীরা। এদের সঙ্গে মিলারদেরও কিছু যোগসাজশ থাকে। এজন্য চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ধানের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। পাশাপাশি মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। তাহলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সরু চালের দাম আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিনিকেট ও কাটারি চালের ধানটা পর্যাপ্ত নেই, এগুলো বোরো মৌসুমে হয়। চলতি আমন মৌসুমে মোটা ও মাজারি মানের চালের ধান উৎপাদন হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম কমবে। যদি সরকার আমদানি করতে না পারে, মে মাসের আগে সরু চালের দাম কমবে না।

তিনি বলেন, ঢাকায় চালের বড় আড়তের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, বাবু বাজার, যাত্রাবাড়ী কলাপট্টি, জুরাইন, কচুক্ষেত, মিরপুর-১, ১০, ১১, গাজীপুরের টঙ্গী বাজার, সাভারের নামা বাজার, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ, চিটাগাং রোড। এ ছাড়া চট্টগ্রামে চাকতাই ও পাহাড়তলী থেকে চাল সরবরাহ হয়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা বদ অভ্যাস হলো, আন্তর্জাতিক বাজার এ পণ্যের দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে তাদের মজুদ থেকে বাড়তি দাম কার্যকর করে। কিন্তু তা এক মাস পরে কার্যকর করা যেত। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সুযোগ সবসময় নেই। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে এক বস্তা (৫০ বস্তা) চালের দামে পার্থক্য হয়ে যায় ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

তবে চালের দামের অস্থিরতার পেছনে নিজেদের দায় অস্বীকার করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সোহেল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মাহবুবুর রহমান সোহেল বলেন, কয়েক বছর ধরে চালের বাজারে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আসার পর দাম অস্থিতিশীল হচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে আসার পর মাঝারি মানের মিলাররা তাদের সঙ্গে পেরে উঠে না। বড় কোম্পানিগুলো ব্র্যান্ড ইমেজ কাজে লাগিয়ে বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। আগে চালের দাম প্রতি বস্তায় বাড়তো ১০ থেকে ২০ পয়সা, এখন বাড়ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এটা হচ্ছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যের কারণে। এ ছাড়া দামের অস্থিরতার পেছেনে ধান মজুদদারদেরও দায় আছে। তারা সুযোগ সন্ধানে থাকে। তারা জানে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে দামেই হোক ধান ক্রয় করবে।

মজুদ কমছে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি এক চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, জরুরিভিত্তিতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অর্থবছরের বাকি সময়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা কঠিন হতে পারে। তাই উন্মুক্ত দরপত্রের পাশাপাশি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া দরকার। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানিতে উৎসাহিত করতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনও (বিটিটিসি) সম্প্রতি চালের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের তুলনায় ভারত থেকে চাল আমদানিতে খরচ কম। মুনাফাসহ সব খরচ যোগ করার পর ভারতীয় চালের দাম পড়ে কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। আর থাইল্যান্ডের চালের দাম পড়ে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি।

সরকারি হিসাবে, নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে ১১ লাখ টন চালের কথা বলা হয়ে থাকে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। বাড়তি ৭ লাখ ৫০ হাজার টনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে।

ধান ও চালের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ

মজুদ বাড়াতে সরকার বাজার থেকে প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৭ টাকা ও ধান ৩৩ টাকা দরে কিনবে। এ ছাড়া ৪৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কিনবে সরকার। গত বুধবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকের পর উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, চাল ও গমের যতটুকু মজুদ আছে ও যতটুকু আমদানি দরকার, তারচেয়ে কিছুটা বেশি আমদানি ও সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা ধান ও চাল সংগ্রহের দাম ঠিক করে দিয়েছি। সেটা যেন ভোক্তা ও কৃষকদের জন্য যৌক্তিক হয়। আমরা একটা দাম ঠিক করব আর বাজারে এর থেকে বেশি ব্যবধানে বিক্রি হবে- এমন যেন না হয়। এমনটা হলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারে।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানোরও তাগিদ দেন অর্থ উপদেষ্টা। সরকার আসন্ন আমন মৌসুমে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান, সাড়ে ৫ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও ১ লাখ টন আতপ চাল কিনবে। সেদ্ধ চাল ও ধান কেনা হবে ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১৭ নভেম্বর থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত।

এদিকে বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৬৭ কোটি টাকা।

বিশ্ববাজার পরিস্থিতি

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বিশ্ববাজারের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছর আগের তুলনায় এখন চালের দাম ১১ শতাংশ কম। বিগত এক মাসে তা ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু তারপরও আমদানি করতে গেলে খরচ অনেক পড়বে। কমিশন বলছে, থাইল্যান্ডের চালের দাম পড়বে ৬৬ টাকা কেজি। এর সঙ্গে শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে দেশে দাম পড়বে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজির দাম পড়বে ৫৪ টাকা। এর সঙ্গে শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ যোগ করে দাম পড়বে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাল খুবই সংবেদনশীল পণ্য। সরকার চাইলেও অনেক সময় হুট করে আমদানি সম্ভব হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও কারসাজি ঠেকাতে সরবরাহ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এখন দরিদ্র মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ব্যাপকভাবে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এ জন্য টাকার প্রয়োজন হলে অন্য খাতে খরচ কমাতে হবে।

চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যানের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে যাতে ধান আবাদ বেশি হয়, সে জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।


প্রাইম ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদের পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান ও. রশিদ তার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা হয়। ডিএসই-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ থেকে তার এই পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকের বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

পেশাগত এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে হাসান ও. রশিদ জানান, “বেসরকারি অন্য একটি ব্যাংকে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি প্রাইম ব্যাংকের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে এপ্রিলেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।” ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন, যেখানে বর্তমান এমডি আলী রেজা ইফতেখারের সফল নেতৃত্বের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও ব্যাংকটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে; গত বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯৫ কোটি টাকা। বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত এই ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ার প্রায় ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।


ক্যানসারের ওষুধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বার্ষিক মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকা ক্যানসার নিরাময়কারী ওষুধের অভাবনীয় বিক্রি বৃদ্ধির সুবাদে গত বছরে তাদের নিট মুনাফায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক বাজারে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রসার ও ওষুধ বিক্রির উল্লম্ফন প্রতিষ্ঠানটিকে এই শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তারা এই আর্থিক অর্জনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র পরিবেশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিশেষ কৌশল এই সাফল্যের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিষ্ঠানটি তাদের আর্থিক বিবৃতিতে গত দুই বছরের লভ্যাংশের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কর পরবর্তী মুনাফা ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১০.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ২০২৫ সালে এসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় এই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলো।


দীর্ঘ চার বছর পর গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দীর্ঘ চার বছরের বিরতি শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের এই নতুন নির্দেশনার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মাঝে পুনরায় বাণিজ্য শুরুর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আবারও গম আমদানি শুরুর আশা করছেন, ব্যবসায়ীরা।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই নতুন নির্দেশনা জারি করে। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্থল বন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গম আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখনই বড় কোনো তৎপরতা শুরু করছেন না। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে গমের দাম কম। এখনই গম আমদানি সম্ভাবনা নেই। তারা মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন গমের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, কিছুদিন মধ্যে ভারতের বাজারে নতুন গম আসতে শুরু করবে। তখন দাম অনেকটা কমে আসবে। সে সময় আমদানি শুরু হবে।


আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা, আউন্সপ্রতি দর পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রতি আউন্সের মূল্য আবারও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হাজার ২২ ডলারে পৌঁছায়, যেখানে এপ্রিলের লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া স্বর্ণের দর ছিল প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৪৬ ডলার। রয়টার্স পরিবেশিত এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এর মাত্র একদিন আগে দর পতনের কারণে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন, যা স্বর্ণের বাজারকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।

এই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বর্ণের বাজারের বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে কম এসেছে। আবার শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। এই দুই কারণ স্বর্ণের দরকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে।” এদিকে আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও দৃশ্যমান, যেখানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যখন আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দর ছিল পাঁচ হাজার ১৭ ডলার।

ভবিষ্যৎ বাজার দর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ব্যাংক (এএনজেড) তাদের নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের চাহিদাই এখন দুই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে; চীনে চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে স্বর্ণের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ভারতীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থিমিত। গত শনিবার ভারতের কলকাতা ও দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৪ রুপিতে কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা গেছে।


একদিনে সূচক বাড়ল ৪ শতাংশ, ৫ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স একদিনেই ৪ শতাংশ বা ২০১ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রবল সক্রিয়তায় প্রায় পাঁচ মাস পর বাজারের দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই উত্থানকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা এবং নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৬৪টি শেয়ার ও ইউনিট, বিপরীতে দাম কমেছে মাত্র ২৬টির। অর্থাৎ দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার সংখ্যা ছিল ১৪ গুণ বেশি। সূচকটি আগের দিনের তুলনায় বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৪ শতাংশের বেশি এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনের দিক থেকেও আজ রেকর্ড হয়েছে; বাজারটিতে মোট ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। আজকের লেনদেনে শীর্ষস্থানে ছিল সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নিয়মিত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা শেয়ারবাজারের এই ইতিবাচক মোড় নিতে সহায়তা করেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উচ্চ সুদহার বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হবে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এমন একটি সাময়িক উত্থান দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে স্থির হয়ে যায়। তাই বাজার স্থিতিশীল করতে সুদের হার সমন্বয় এবং বাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার (আইপিও) আনার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ সবকটি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেখানে অংশ নেওয়া ২২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিএসইর পরিচালকসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীদের এই আস্থাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন। দিনশেষে, নির্বাচনের পর প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারের এই চনমনে ভাব অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।


বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে বিজিএমইএ-র অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় এই নিরঙ্কুশ জয়কে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানের অনন্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে যে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে, তা দেশের আপামর জনতার গণরায়েরই প্রকৃত প্রতিফলন।

বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করে যে, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব কার্যকর হবে বলে বিজিএমইএ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে। দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সন্ধিক্ষণে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের দূরদর্শী নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসা-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশাবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিজিএমইএ পরিবারের যেসব সদস্য বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংগঠনটি মনে করে। অভিনন্দন বার্তার শেষাংশে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ পরিচালনায় তার সকল উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।


বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষায় ডব্লিউটিও মহাসচিবের সতর্কবার্তা

ব্লিউটিওর মহাপরিচালক ড. এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা সতর্ক করে বলেছেন যে, অভিন্ন নিয়ম না থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ‘বিশৃঙ্খলায়’ নিমজ্জিত হতে পারে। জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সংস্থার কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এগুলো এখনো অপরিহার্য। ডব্লিউটিও প্রধানের মতে, ‘প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য দ্বিপক্ষীয় সংস্থাগুলো এখনো অপরিহার্য।’

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এ সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রয়োজনীয়। ডব্লিউটিওর মতো ফোরাম দেশগুলোকে একত্র হওয়ার এবং এসব সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টায় সুযোগ করে দেয়।’ তবে সংস্থার বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, ডব্লিউটিওর ‘বর্তমান অবস্থা টেকসই নয়’। বহুপক্ষীয় এই মঞ্চকে সময়োপযোগী করার তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমাদের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোকে কার্যকর হতে হলে পরিবর্তন আনতেই হবে।’

সংস্থা প্রধান হুঁশিয়ারি দেন যে, সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসায়ীরা শুল্কহার, পণ্যের মানদণ্ড ও শুল্ক প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে ১৯৩০-এর দশকের সেই বিধ্বংসী সুরক্ষাবাদী নীতির ঘূর্ণাবর্তে ফিরিয়ে নিতে পারে। প্রতিটি দেশ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করলে যে অরাজকতা তৈরি হবে, তা কেউ দেখতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংকট নিরসনে চলতি বছরের শেষ দিকে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে একটি সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্য ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংস্থাকে আরও সহনশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মহাসচিব।


সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর এই চাল রপ্তানির পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।

রপ্তানি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে। শর্তানুযায়ী, ‘প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হতে হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।’ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত চাল কোনোভাবেই রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজিকরণ শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে অহস্তান্তরযোগ্য, ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে এই কাজ করাতে পারবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতি অনুযায়ী সাধারণ চাল বিদেশে পাঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে গড়ে মাত্র ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগের মতো বিভিন্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানির এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে সম্পন্ন হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া পর্যন্ত সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয় না। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সময় বৃদ্ধি করায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী পুনরায় সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাবে।


এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন এবং জাপানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারের সূচকগুলো বর্তমানে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজারের শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী ধারার ওপর ভর করে এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক সূচকটি গত বৃহস্পতিবার দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহেই এই সূচকটি প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

জাপানের নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচির বিজয় দেশটির শেয়ারবাজারে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা মূলত তার নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া অর্থনৈতিক শিথিলতার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচি সরকার অর্থনৈতিকভাবে অধিক দায়িত্বশীল হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে মুদ্রাবাজারে ইয়েন এক সপ্তাহে ২.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। জাপানের এই বিপুল বিজয় সরকারকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা প্রদান করবে এবং বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশটিতে বেকারত্বের হার হ্রাস পাওয়া এবং কর্মসংস্থান অপ্রত্যাশিতভাবে গতিশীল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক স্বল্পমেয়াদে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি রিটার্ন একদিনে ৫.৮ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত অক্টোবর মাসের পর একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

ইউরোপীয় ফিউচার সূচকগুলোও একটি আশাব্যঞ্জক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কারণ নতুন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুমে বিনিয়োগকারীরা করপোরেট খাতের মুনাফা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সামগ্রিকভাবে আমেরিকার কর্মসংস্থান তথ্য এবং জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে ডলারের আধিপত্য এবং অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের দৃঢ় অবস্থান মুদ্রাবাজারে এক বিশেষ ভারসাম্য তৈরি করেছে, যার সুফল সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো বৈশ্বিক শেয়ার সূচকগুলোতে।


নির্বাচন পরবর্তী হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় শুরু

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিনের বিরতি কাটিয়ে আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। হিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনদিন বন্ধের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে।’ আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় হিলি স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমানও বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হিলি স্থল বন্দরের কাস্টমস বিভাগের সুপার এম আর জামান বন্দরের বর্তমান কর্মব্যস্ততা সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার দুপুরে এই স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ভুট্টা, মসলা ও ফল বোঝাই বেশ কয়েকটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো থেকে মালামাল খালাসের কাজ চলছে। বন্দরের সবধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে’। মূলত আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং মালামাল খালাস প্রক্রিয়া সচল হয়।

বন্দরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া প্রসঙ্গে হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ নিরোধ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন বন্ধের পর আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক হয়েছে বন্দরের অভ্যন্তরীণ সব কার্যক্রম।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভারত থেকে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তা আনলোড হয়ে দেশি ট্রাকে লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যেতে শুরু করেছে।’ বর্তমানে বন্দরে ভুট্টা, মসলা ও ফলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শ্রমিকদের পণ্য খালাসের ব্যস্ততায় বন্দরের পরিবেশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।


মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগে ঘাটতি ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যেকোনো দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মজবুত ভিত্তির ওপর, তবে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অপুষ্টি, শিক্ষার নিম্নমান এবং অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে এসব দেশে মানবসম্পদ গঠনের প্রক্রিয়া চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

‘বিল্ডিং হিউম্যান ক্যাপিটাল হোয়্যার ইট ম্যাটার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১২৯টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে ৮৬টিতেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা অথবা কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শিখনের ক্ষেত্রে অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। সংস্থাটির মানব উন্নয়নবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মামতা মূর্তি বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও সুরক্ষার সক্ষমতার ওপর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সমৃদ্ধি নির্ভর করে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক দেশ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির পুষ্টি, শিক্ষা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে শ্রম উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনীতিতে টেকসই কর্মসংস্থানের ধরন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।’

বিশ্বব্যাংকের এই বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি এই দেশগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়ন তাদের সমপর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মতো হতো, তবে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গড়ে ৫১ শতাংশ বেশি আয় করতে সক্ষম হতো। প্রতিবেদনে আশঙ্কাজনক চিত্র হিসেবে সাব-সাহারা আফ্রিকার উদাহরণ টানা হয়েছে, যেখানে শৈশবকালীন অপুষ্টির কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের গড় উচ্চতা ২৫ বছর আগের তুলনায় কমে গেছে। এ ধরনের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত অবনতি সরাসরি মানুষের আয়ের সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এছাড়া ১৫ বছর আগের তুলনায় এই অঞ্চলের শিশুদের পড়াশোনার মানও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, পারিবারিক পরিবেশ এবং স্থানীয় সামাজিক পরিস্থিতিও শিশুদের ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। যেমন, চীনে কর্মসংস্থানের তাগিদে বাবা-মা দূরে থাকায় আত্মীয়দের কাছে বড় হওয়া শিশুরা তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাদের মেধা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে সান সালভেদরের গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অর্জন পার্শ্ববর্তী নিরাপদ এলাকার মানুষের চেয়ে অনেক কম।

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগের অভাবও অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এসব দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী কোনো আনুষ্ঠানিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং যারা কাজ করছেন তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষি বা নিম্নমানের আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত, যেখানে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। তবে এই সংকটের মাঝেও জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরগিজস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো তাদের আয়স্তরের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়ে উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে যে, অভিভাবক সহায়তা কর্মসূচি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং শিক্ষানবিশ কাজে সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক এখন সরাসরি সাহায্যের বদলে এমন সব বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে যা মানুষের ব্যক্তিগত আয় ও জাতীয় অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে সহায়ক হবে।


বিএনপির বিশাল বিজয়ে তারেক রহমানকে বিটিএমএ-র অভিনন্দন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শিল্পখাত, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও বস্ত্র খাতের সামগ্রিক অগ্রগতিতে নতুন এই নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিটিএমএ জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ায় বিটিএমএ-র চারজন সদস্যকে বিশেষ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তারা হলেন—সংগঠনটির সহসভাপতি মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা-৯), পরিচালক আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ-৩) এবং সদস্য এস এম ফয়সাল (হবিগঞ্জ-৪) ও মঞ্জুর এলাহী (নরসিংদী-৩)। সংগঠনটি মনে করে, নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ও দূরদর্শী পদক্ষেপে দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।

বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ও পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে প্রত্যাশা করা হয়েছে যে, টেক্সটাইল খাতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কাঁচামালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব বলিষ্ঠ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নতুন এই নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

সংগঠনটি আরও আশা প্রকাশ করেছে যে, শিল্পখাতের সম্প্রসারণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৃদ্ধিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে। পরিশেষে, বিটিএমএ-র পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সকল প্রতিনিধিদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে।


ভোটের ছুটিতে বাজারে সরবরাহ সংকট ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি, মাছ ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যদিও নির্বাচনের সময় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না, তবুও ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আমিষের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল, তবে আজ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পাইকারি বাজারে চড়া মূল্যের প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, দোকানপাটের একটি বড় অংশই বন্ধ রয়েছে এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মূলত ভোট দিতে ঢাকার বাইরের স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থান করায় বাজারে জনসাধারণের আনাগোনা এখনো কম। সকালে রাজধানীর বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শিম, মুলা ও বেগুন মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৪০-৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা এবং লাউ ৮০-৯০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্রতি হালি লেবু ৮০-১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সালাদের জন্য ব্যবহৃত শসা, গাজর ও টমেটোর দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

মশলা ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬০ টাকায় ঠেকেছে, যা গত সপ্তাহে ৫০ টাকা ছিল। আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ২৮০-৩২০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিং মাছ ৬৫০-৭৫০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আমিষের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০-১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩০০ টাকার নিচে ছিল। গরুর মাংসের দামও কিছুটা বেড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মুরগি ও মাংসের দাম বাড়লেও ডিমের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতেই স্থির রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি এমন অস্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


banner close