চালের সংকট না থাকলেও বাজারে চালের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) দাম ২০০-২৫০ টাকা বেড়েছে। গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম গড়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দামে অস্থিরতার পেছনে রয়েছে মিলার, ধান-চালের মজুদদার, পাইকার ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’। মুনাফালোভী সিন্ডিকেট চালের মজুদ গড়ে তুলেছে। এরাই চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। এ কারণে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের ইতিবাচক সব উদ্যোগ। যদিও সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা মাঝারি আকারের বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতের চালের। এ ধরনের চালের ভোক্তা সাধারণত মধ্যবিত্ত। গতকাল শনিবার ঢাকার বাজারে খুচরা পর্যায়ে এ দুই জাতের চালের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৮-৬৪ টাকায়। এ ছাড়া মোটা চালের (গুটি স্বর্ণা ও চায়না ইরি) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ও চিকন চাল (মিনিকেট) বিক্রি হয়েছে কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে। মাস তিনেক আগে মোটা চালের কেজি ৪৮-৫০, মাঝারি চাল ৫৪-৫৮ এবং চিকন চাল ৬৮-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে সরু চালের দর প্রায় ৪ শতাংশ, মাঝারি চালের ৮ ও মোটা চালের দর ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির এই হার আরও বেশি। এ সময় সব ধরনের চালের দর বেড়েছে গড়ে ১২ শতাংশ।
সূত্র মতে, বাজারে চালের অভাব নেই। তবে মিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তারা এখন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। মিল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত এই চক্র জাল বিছিয়েছে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এ কারণে চাল উৎপাদন বেশি। বাজারে চালের সংকট সৃষ্টির বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক।
ঢাকায় চালের বড় পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দুটি কারণের কথা বলেছেন- এক. ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়াচ্ছেন। দুই. আমনে যে উৎপাদন কম হবে, সে খবর বাজারে আছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।
ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্সের গোলাম হাফিজ মানিক বলেন, মিলার, মজুদদার ও পাইকার এবং বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি চালের দামে ফায়দা লুটছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান-চাল কিনে গুদামজাত করে। পরে সুবিধামতো সময়ে বেশি দামে বিক্রি করে।
বাজারে ধানের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বড় মিলার গোডাউনে হাজার হাজার টন পুরোনো চাল ও ধান মজুদ করে রেখেছে। তাদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
গোলাম হাফিজ মানিক আরও বলেন, কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের লাগাম টানতে পারলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
শুল্ক প্রত্যাহারের পরও আমদানি বাড়ছে না
চালের সরবরাহ বাড়াতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অগ্রিম আয়করও ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চলতি সপ্তাহে বলা হয়, বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো, ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
কিন্তু শুল্ক প্রত্যাহার হলেও চক্রটি মজুদ চাল বেশি দামে বিক্রির জন্য আমদানি করছে না। আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছে অন্যদেরও। তাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৫৭ টন। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৩৪ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ১৬৮ টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু ৪৮ টন চাল আমদানি হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চালের মজুদ রয়েছে ৯ লাখ ৬৮ হাজার টন। তবে সরকারের নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে সাধারণত ১১ লাখ টন চাল রাখার কথা বলা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য বাজেট ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বাকি ৭ লাখ ৫০ হাজার টনের জন্য আরও ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ লাগবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ রিসোর্সেসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আকিজ এসেনসিয়ালসের কর্মকর্তা এস এম রাহাদুজ্জামান রাজীব বলেন, যে বছরই হাওরে বন্যা হয় অথবা আগাম বন্যায় ধান নষ্ট হয়ে যায়, ওই বছরই ধান-চালের সংকট সৃষ্টি হয়। গত সরকারের সময় আমরা দেখেছি ১০ থেকে ১৮ লাখ মেট্ৰিক টন পর্যন্ত চাল আমদানি করতে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত এক কেজি চালও আমদানি করতে পারেনি। শুল্ক কমানোর পরও ব্যবসায়ীরা আমদানি করেনি। এর অন্যতম কারণ বিশ্ববাজারে এখন চালের দর অনেক বেশি। ভারত থেকে আমদানি করলে চালের দর বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পড়বে। এ জন্য আমদানিতে আগ্রহ কম।
তিনি আরও বলেন, ডলার সংকটের কারণে ভারত থেকে আমদানির জন্য এলসি করলে এখনও খরচ বেশি পড়ে। ভারত থেকে যদি সাশ্রয়ী মূল্যে সরু চাল আমদানি করা যায় তাহলে দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। মিয়ানমার বা ফিলিপাইনের চাল আমাদের দেশের মানুষ খেতে অভ্যস্ত নয়। সরকার আজ যদি ভারত থেকে এক লাখ মেট্ৰিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, কাল প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা কমে যাবে। চালের দাম পুরোপুরি মজুতের ওপর নির্ভর করে। মজুদ থাকলে চালের দাম কমবে, না থাকলে রাতারাতি বেড়ে যাবে।
যেভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ হয়
রাহাদুজ্জামান রাজীব বলেন, চালের দাম বাড়ার পেছনে একটা চেইন অব কমান্ড কাজ করে তৃণমূল থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত। দাম বৃদ্ধির জন্য এককভাবে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না। চালের দাম প্রোডাক্ট চেইন ও পর্যাপ্ত মজুতের ওপর নির্ভর করে। যেমন- মিনিকেটের দাম অক্টোবর মাসে প্রতি বস্তা ছিল ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা। চলতি মাসে সেটার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এটার কারণ মিনিকেট চাল যে ধান থেকে হয় সেটার দাম বেড়ে গেছে। প্রতি মণের দাম ছিল (৩৭ কেজি) ১ হাজার ৫৬০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৩০ টাকা। এ কারণে ধানের দাম বেড়ে গেলে চালের দাম বাড়ে।
তিনি বলেন, মিলার ও আড়তদারদের দোষ হচ্ছে আজকে ধানের দাম বাড়লে তারা আজকে থেকেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা ১৫ বা ২০ দিন পরে বাড়াতে পারত। তারা মজুতের সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। বাংলাদেশের ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় মূলত যশোর, নওগাঁ ও বগুড়া থেকে। মোটা চালের নিয়ন্ত্রণ হয় ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও হাওর এলাকা থেকে। চালের বাজার থেকে ধানের বাজারের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী। এটি নিয়ন্ত্রণ করে ৫০ জন ব্যবসায়ী। সারা দেশে চালের পাইকার আছে এক হাজার ৭০০ জন, যারা সরাসরি মিল থেকে চাল কিনে।
রাহাদুজ্জামান রাজীব আরও বলেন, ধানের সাপ্লাই চেইন হচ্ছে- কৃষকরা ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করে। ফড়িয়ারা বিভিন্ন সাপ্লাইয়ারের কাছে বিক্রি করে, আর সাপ্লাইয়ররা বিভিন্ন মিলারের কাছে ধান বিক্রি করে। স্থানীয় কিছু ফড়িয়া ও সাপ্লাইয়ার ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা সিসি লোন নিয়ে ধান কিনে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে রাখে। দাম বাড়লে ধান বিক্রি করে দেয়। মুজুদদাররা যে দামে ধান বিক্রি করে মিলাররা সে হিসাবে চালের দাম নির্ধারণ করে।
তিনি বলেন, সরকার সব সময় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মিলার ও আড়তদারদের ওপর দোষ চাপায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, জরিমানা করে। কিন্তু আসল কলকাঠি নাড়ায় ধানের ব্যবসায়ীরা। এদের সঙ্গে মিলারদেরও কিছু যোগসাজশ থাকে। এজন্য চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ধানের দাম নির্ধারণ করে দিতে হবে। পাশাপাশি মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। তাহলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সরু চালের দাম আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিনিকেট ও কাটারি চালের ধানটা পর্যাপ্ত নেই, এগুলো বোরো মৌসুমে হয়। চলতি আমন মৌসুমে মোটা ও মাজারি মানের চালের ধান উৎপাদন হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম কমবে। যদি সরকার আমদানি করতে না পারে, মে মাসের আগে সরু চালের দাম কমবে না।
তিনি বলেন, ঢাকায় চালের বড় আড়তের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, বাবু বাজার, যাত্রাবাড়ী কলাপট্টি, জুরাইন, কচুক্ষেত, মিরপুর-১, ১০, ১১, গাজীপুরের টঙ্গী বাজার, সাভারের নামা বাজার, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ, চিটাগাং রোড। এ ছাড়া চট্টগ্রামে চাকতাই ও পাহাড়তলী থেকে চাল সরবরাহ হয়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা বদ অভ্যাস হলো, আন্তর্জাতিক বাজার এ পণ্যের দাম বাড়লে সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে তাদের মজুদ থেকে বাড়তি দাম কার্যকর করে। কিন্তু তা এক মাস পরে কার্যকর করা যেত। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সুযোগ সবসময় নেই। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে এক বস্তা (৫০ বস্তা) চালের দামে পার্থক্য হয়ে যায় ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে চালের দামের অস্থিরতার পেছনে নিজেদের দায় অস্বীকার করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সোহেল এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মাহবুবুর রহমান সোহেল বলেন, কয়েক বছর ধরে চালের বাজারে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো আসার পর দাম অস্থিতিশীল হচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে আসার পর মাঝারি মানের মিলাররা তাদের সঙ্গে পেরে উঠে না। বড় কোম্পানিগুলো ব্র্যান্ড ইমেজ কাজে লাগিয়ে বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। আগে চালের দাম প্রতি বস্তায় বাড়তো ১০ থেকে ২০ পয়সা, এখন বাড়ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এটা হচ্ছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যের কারণে। এ ছাড়া দামের অস্থিরতার পেছেনে ধান মজুদদারদেরও দায় আছে। তারা সুযোগ সন্ধানে থাকে। তারা জানে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে দামেই হোক ধান ক্রয় করবে।
মজুদ কমছে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৩৫ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি এক চিঠি দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, জরুরিভিত্তিতে ১০ লাখ টন চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অর্থবছরের বাকি সময়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা কঠিন হতে পারে। তাই উন্মুক্ত দরপত্রের পাশাপাশি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া দরকার। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানিতে উৎসাহিত করতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনও (বিটিটিসি) সম্প্রতি চালের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের তুলনায় ভারত থেকে চাল আমদানিতে খরচ কম। মুনাফাসহ সব খরচ যোগ করার পর ভারতীয় চালের দাম পড়ে কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। আর থাইল্যান্ডের চালের দাম পড়ে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি।
সরকারি হিসাবে, নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে ১১ লাখ টন চালের কথা বলা হয়ে থাকে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। বাড়তি ৭ লাখ ৫০ হাজার টনের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে।
ধান ও চালের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ
মজুদ বাড়াতে সরকার বাজার থেকে প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৭ টাকা ও ধান ৩৩ টাকা দরে কিনবে। এ ছাড়া ৪৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কিনবে সরকার। গত বুধবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকের পর উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, চাল ও গমের যতটুকু মজুদ আছে ও যতটুকু আমদানি দরকার, তারচেয়ে কিছুটা বেশি আমদানি ও সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা ধান ও চাল সংগ্রহের দাম ঠিক করে দিয়েছি। সেটা যেন ভোক্তা ও কৃষকদের জন্য যৌক্তিক হয়। আমরা একটা দাম ঠিক করব আর বাজারে এর থেকে বেশি ব্যবধানে বিক্রি হবে- এমন যেন না হয়। এমনটা হলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারে।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানোরও তাগিদ দেন অর্থ উপদেষ্টা। সরকার আসন্ন আমন মৌসুমে সাড়ে ৩ লাখ টন ধান, সাড়ে ৫ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও ১ লাখ টন আতপ চাল কিনবে। সেদ্ধ চাল ও ধান কেনা হবে ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১৭ নভেম্বর থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত।
এদিকে বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৬৭ কোটি টাকা।
বিশ্ববাজার পরিস্থিতি
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বিশ্ববাজারের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছর আগের তুলনায় এখন চালের দাম ১১ শতাংশ কম। বিগত এক মাসে তা ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু তারপরও আমদানি করতে গেলে খরচ অনেক পড়বে। কমিশন বলছে, থাইল্যান্ডের চালের দাম পড়বে ৬৬ টাকা কেজি। এর সঙ্গে শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে দেশে দাম পড়বে ৯২ থেকে ৯৫ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করতে গেলে প্রতি কেজির দাম পড়বে ৫৪ টাকা। এর সঙ্গে শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ যোগ করে দাম পড়বে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাল খুবই সংবেদনশীল পণ্য। সরকার চাইলেও অনেক সময় হুট করে আমদানি সম্ভব হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও কারসাজি ঠেকাতে সরবরাহ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এখন দরিদ্র মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ব্যাপকভাবে চাল সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এ জন্য টাকার প্রয়োজন হলে অন্য খাতে খরচ কমাতে হবে।
চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যানের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি আরও বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে যাতে ধান আবাদ বেশি হয়, সে জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আশাবাদ বাড়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে এবং সুদের হার কমার সম্ভাবনাও জোরদার হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮১৯.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে আগের সেশনে এটি এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৪১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত এবং সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা, এই দুই কারণ মিলেই স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১১তম সেইফকন ২০২৬’। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলাটির পর্দা উঠেছে ১৬ এপ্রিল। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তি, আধুনিক বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা, টিম্বার এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো তুলে ধরছে যা দেশের প্রকৌশলী ও স্থাপত্যবিদদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। এই ধরনের প্রদর্শনী নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের মতে, এই আয়োজনটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, তুরস্ক দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর বিলাল বেলিউর্ট এবং জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ। এ ছাড়া কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সির উপ-পরিচালক সুনঘুন লি, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ওয়াং হংবো, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ জেড এম আজিজুর রহমান এবং সেভর ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর সাফল্য কামনা করেন। এই আয়োজন দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ভূমি লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) ৩.৭৫ একর ভূমিতে ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন করে বিনিয়োগ করবে। বুধবার বেজা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত এনএসইজেডে একটি হাই ভ্যালু পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা উন্নতমানের পলিয়েস্টার সুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যেই এই ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ এই বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এনএসইজেডে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগে বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।” তিনি দ্রুত শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে পণ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে মডার্ন সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, “বেজা’র সহযোগিতায় এনএসইজেডে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে যার দ্রুত সম্প্রসারণে তারা কাজ করছেন।” বেজার পক্ষে অতিরিক্ত সচিব সালেহ আহমদ এবং মডার্ন সিনটেক্সের পক্ষে আবু সুফিয়ান চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।
বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে কেবল কলকারখানাই নয়, বরং একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থার যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেড হলো দেশের স্বনামধন্য টি কে গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সাল থেকে ভোজ্যতেল, স্টিল, টেক্সটাইল, কাগজ এবং জাহাজ নির্মাণসহ বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে টি কে গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডার্ন সিনটেক্স ছাড়াও টি কে গ্রুপের সামুদা ফুড প্রোডাক্টসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে কেবল ১৫ এপ্রিল একদিনেই সংগৃহীত হয়েছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।
বিগত ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থবছরের হিসেবেও এই চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক; ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ এখন ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের বিষয়টি আরও সুসংহত হলো।
একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলারে। ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকে স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বুধবার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আঞ্চলিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই বড় অঙ্কের তহবিলের কথা জানান। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই তহবিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সুবিধা পাবে।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পোশাক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের অন্যতম বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই অঞ্চলের কারখানাগুলো বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাপানের দেওয়া এই বিপুল সহায়তা এশীয় শিল্পাঞ্চলগুলোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, “জাপান কেবল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে ধুঁকতে থাকা দেশগুলোকে তেল সরবরাহ করবে না, বরং এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ও খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবে।” উল্লেখ্য যে, জাপানের এই আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির ব্যয়ের সমান।
জাপানের এই বিশাল সহায়তার পেছনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি নিজেদের শিল্প ও সরবরাহ চেইন (সাপ্লাই চেইন) রক্ষার স্বার্থও জড়িত রয়েছে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশটির অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যদি ওই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, তবে জাপান জীবন রক্ষাকারী এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে না। তাই জাপানি নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখতেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ইতিমধ্যে জাপানি অভ্যন্তরীণ বাজারে এই সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ন্যাপথার স্বল্পতার কারণে খ্যাতনামা টয়লেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টোটো’ তাদের বিশেষ কিছু ইউনিটের নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সামগ্রীর সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে জাপানের চিকিৎসক ও রোগীদের বিভিন্ন সংগঠনও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যেখানে বাজারের সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং এতে কমিশনের অন্যান্য কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে উপস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটির ভূমিকা, কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং অর্জিত সাফল্য সম্পর্কে বিশেষ সহকারীকে অবহিত করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে।
এছাড়া পুঁজিবাজার সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হয় এবং সেসব বিষয়ে বিশেষ সহকারীকে জানানো হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তানভীর গনি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র খাতভিত্তিক বিস্তৃত নির্বাচনি ইশতেহারের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের ‘স্প্রিং মিটিংস’ চলাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসাদও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অজয় বাঙ্গা ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপান্তরে বিশ্বব্যাংকের জোরালো সহায়তা কামনা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিশেষভাবে সময়মতো অর্থ ছাড় এবং ঋণের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, "শুধু গতানুগতিক ঋণই নয়, বরং বন্ডের মতো পুঁজিবাজারের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থায়নের নতুন নতুন পথ তৈরিতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।" তিনি আরও বলেন, "বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশব্যাপী ডিজিটাল সংযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ।"
বৈঠকে রেহান আসাদ সারা দেশে তারযুক্ত ও তারবিহীন উভয় ব্যবস্থায় শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্কার এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ডিপিআই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগে অংশীদার হতে বিশ্বব্যাংক গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থমন্ত্রী সৃজনশীল শিল্প খাতকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এ খাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সমস্যা সমাধান, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে জোর দেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনিকীকরণসহ সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি যুবসমাজের কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চান।
বৈঠকে আর্থিক খাত সংস্কার, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের পাল্লা ভারী থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে।
মূলত বড় মূলধনের বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকে এই ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়, তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকলেও মূল্যসূচক বেড়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে, ফলে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
তবে প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার পর বাজারের চিত্র বদলাতে থাকে এবং একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকা থেকে কমার তালিকায় চলে আসে।
দিনের শেষদিকে এ প্রবণতা আরও জোরালো হয় এবং এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
তবে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত সূচক সামান্য বাড়িয়ে লেনদেন শেষ হয়, যদিও সার্বিকভাবে দরপতনের সংখ্যাই বেশি ছিল।
দিন শেষে ডিএসইতে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০১টির এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯৬টির কমেছে এবং ৩৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৪৬টির এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৫৯টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
এসবের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৯৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের পরিমাণ কমে ডিএসইতে মোট ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ কমেছে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, শাইনপুকুর সিরামিক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪ পয়েন্ট বেড়েছে।
এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৮৮টির এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
প্রায় দুই মাস বিরতির পর আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে নিলামের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। ফলে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স সংগ্রহে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেওয়া হয়—ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।
বাণিজ্যিক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এই দামে ডলার কিনছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার ক্রয় করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডলারের দর আবারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের বাজারভিত্তিক হস্তক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে চীন সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল দেশটির ৬ষ্ঠ গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারে অংশ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বাণিজ্য প্রতিনিধিদল মেলায় যোগ দেয়।
ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেয়ারের বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশনে হার্ডওয়্যার ও টুলস, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল ও এর আনুষঙ্গিক পণ্য, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ১৫০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের সুযোগ পান।
এই ফেয়ার উপলক্ষে আয়োজিত সাপ্লাইচেইন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।"
তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ৬৯৪.৪৯ মিলিয়ন ডলার।
এ সময় তিনি টেক্সটাইল ও টেক্সটাইলজাত পণ্য, যান্ত্রিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, ধাতু, প্লাস্টিক, খনিজ ও উদ্ভিজ পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় পলি জিনহান এক্সিবিশন, পলি ইভেন্টসের পরিচালক মিস নিকোল ফ্যান বলেন, "চীন এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধ তৈরিতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আশা প্রকাশ করেন সামনের দিনগুলোকে আরো বেশি হারে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এ সোসিং ফেয়ারে যোগদান করবে।"
তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রেতারা চীনের বৃহৎ সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন এবং নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবেন।
দেশের পুঁজিবাজারের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, বাজার মূলধন বাড়ানো এবং ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এর অংশ হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
‘টেকসই অর্থায়ন ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন সাব-প্রোগ্রাম-১’ এর আওতায় এই সহায়তা প্রদান করবে এডিবি।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো এক চিঠিতে এডিবির প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে বিএসইসি তাদের আগ্রহের কথা জানায়।
চিঠিতে এডিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ইআরডি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এডিবির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়া সহায়ক স্মারকলিপি “খসড়া এইড মেমোয়ার” এর মাধ্যমে এই কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রাথমিক আগ্রহ জানিয়ে বিএসইসি ইআরডিতে চিঠি পাঠায়।
সর্বশেষ চিঠিতে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, টেকসই অর্থায়ন এবং আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিতে চায়।
প্রস্তাবিত এই সহায়তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।
একই সঙ্গে বাজার মূলধন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএসইসি পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এডিবি “সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট সাবপ্রোগ্রাম-১”-এর আওতায় বিএসইসিকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন এই সহায়তা গ্রহণে আগ্রহী এবং তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজার মূলধন বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ বিএসইসি এবং এডিবির প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কারিগরি সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সেই বৈঠকের সারসংক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা পেলে দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বিশেষ করে ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিন) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ওই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে আসে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সচিবালয়ে আজ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দল।
সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান নানামুখী সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে একটি ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্যই এই কাউন্সিল গঠিত। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ‘আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ মালিকপক্ষের এই নেতার মতে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারসহ বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থলপথে ব্যবসা সচল রাখার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।