শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩
পলিথিন ব্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চাহিদার সঙ্গে পাটের দাম মনপ্রতি বেড়েছে ৬০০ টাকা

পলিথিন ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০২

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পলিথিন ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় বাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। তবে জোগান কম থাকায় ভালোমানের পাট গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশের অন্যতম প্রধান পাট-উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এই বছর পাটের উৎপাদন অনেক কম। কারণ হিসাবে কৃষকেরা বলেছেন গত মার্চ-এপ্রিলে পাট রোপণের সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালোভাবে হয়নি।

এছাড়া বিগত বছরগুলোয় পাটের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে পাটের উৎপাদন কমেছে। বাংলাদেশ পাট অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৮৪ লাখ ১৪ হাজার (প্রায় ১৮২ কেজিতে এক বেল)। চলতি অর্থবছরের এসে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ ৭৪ হাজার বেল। পাট চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, সরকার গত অক্টোবর থেকে সুপারমলে ও গত ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করায় পাটের দাম বেড়েছে। তারা জানান, বর্তমানে সবচেয়ে ভালোমানের পাট মণপ্রতি তিন হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময়ে তা ছিল তিন হাজার ২০০ টাকা। মাঝারিমানের পাট দুই হাজার ৬০০ টাকা থেকে হয়েছে তিন হাজার ২০০ টাকা। ফরিদপুরের কানাইপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, মান ও রঙের ওপর নির্ভর করে প্রতি মণ পাট ফরিদপুরে তিন হাজার ২০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে তা ছিল দুই হাজার ৬০০ টাকা থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা। দেশের অপর প্রধান পাট উৎপাদনকারী জেলা পাবনার পাট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহমুদুর নবী বলেন, পাটের দাম বেড়েছে মূলত চাহিদার জন্য। দাম বাড়লেও অনেক কৃষক পাট চাষে তেমন লাভ করতে পারেননি। পাট কাটার পর সার ও শ্রমিকের টাকা পরিশোধে অনেককে কম দামে পাট বিক্রি করতে হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার জামালপুর পাট বাজারের ব্যবসায়ী পঞ্চানন দাস ডেইলি স্টারকে জানান, বর্তমানে মাত্র ১০-১২ শতাংশ কৃষকের হাতে পাট মজুদ আছে। বাকিটা ছোট ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছেন। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের চাষি ইসরাত মাতুব্বর বলেন, আমাদের এলাকার বেশিরভাগ কৃষক পাট কাটার পরপরই কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে বিক্রির জন্য অনেকে কয়েক মন পাট ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি তিন হাজার ৮০০ টাকা মন দরে তিন মন পাট বিক্রি করেছেন। আগামী বছর আবার পাট চাষে উৎসাহিত হয়েছেন তিনি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মাগুরার রাউতারা গ্রামের কৃষক নব কুমার কুণ্ডু বলেন, এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। প্রায় ৫০ নণ পাট পেয়েছি। একই পরিমাণ জমিতে আগে ৯৬ মন পাট পেয়েছিলাম। তিনি জানান, এ বছর ফলন কম হলেও পাটের আঁশের মান অনেক ভালো। তাই বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে।

ফরিদপুরের হাট কৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি জাহিদ শেখ বলেন, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘা পাট চাষে খরচ হয়েছে ২৭ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, এ বছর এক মণ পাট উৎপাদনে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। বর্তমানে যে দাম পাচ্ছি তাতে কিছুটা লাভ হচ্ছে। তবে দাম কমলে ভবিষ্যতে পাট চাষ কঠিন হবে। ফরিদপুরের পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, যদিও পাট চাষের প্রথম দিকে তাপমাত্রার জন্য চারা ভালো হয়নি, তবে পাট জাগ দেওয়ার সময় বেশি বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা এ বছর ভালোমানের পাট পেয়েছেন। তাই দাম ভালো। পাটকলের মালিক ও করিম গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া বলেন, কারখানার মালিকরা কৃষকদের ন্যায্য দাম দিতে চান। তারা ন্যায্য দাম পেলে পাট উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন। মালিকরা পাট পণ্য রপ্তানি ও কারখানা চালু রাখতে পারবেন।


নির্বাচিত

আর্থিক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৭
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে গতকাল ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।
ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

মূলধনি মুনাফায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত সর্বাত্মক কর অব্যাহতির সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এ সুবিধা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আয়কর আইনে সংশোধনী আনাসহ সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র দাখিল করে ডিবিএ।

ডিবিএর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নির্ধারিত স্টক এক্সচেঞ্জ ও কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে প্রাপ্ত মূলধনি মুনাফাকে পুরোপুরি করমুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করপদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনি মুনাফায় করছাড় থাকলেও এর অতিরিক্ত লাভের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। ডিবিএ এই নির্ধারিত সীমা প্রত্যাহার করে ব্যক্তিশ্রেণির জন্য আগের মতো শতভাগ কর অব্যাহতি পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছে এবং একই সঙ্গে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রযোজ্য করকাঠামো যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, মূলধনি মুনাফার ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হলে বাজারে লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অর্জিত মুনাফা পুনরায় বাজারে খাটানোর সাহস পাবেন। এর ফলে পারিবারিক সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে স্থানান্তরিত হবে এবং তালিকাভুক্ত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজার থেকে সরাসরি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এ ছাড় চাওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ডিবিএ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) সম্পূর্ণ কার্যকর রূপ পেলে মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবায়ন অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে; তাই সেই প্রস্তুতি পর্ব পর্যন্ত কর অব্যাহতি বহাল রাখা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সাধারণ ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরবে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ পুঁজিবাজার আধুনিকায়নে


নির্বাচিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় ও স্থানান্তর সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার যাবতীয় ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় ও স্থানান্তর সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে কোনো রূপ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়, যা জারির তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নির্দেশনায় দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রার যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় ভার্চুয়াল সম্পদ ও মুদ্রার লেনদেন নিষিদ্ধকরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসমূহের লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার উন্মুক্ত সীমা (ওপেন পজিশন), নস্ট্রো হিসাব সমন্বয়, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (এসিইউ) ব্যবস্থায় দায় পরিশোধ, মুদ্রা সোয়াপ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে মূল্যঝুঁকি এড়াতে হেজিংসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা বিধিও এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বৈধ বা স্বীকৃত আর্থিক মাধ্যম নয়। এসব অনিবন্ধিত ভার্চুয়াল সম্পদের বিপরীতে কোনো রাষ্ট্র কিংবা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি না থাকায় এর বাজারমূল্য তীব্রভাবে ওঠানামা করে, যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের পৃথক নির্দেশনায় দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে কিংবা বাইরে ভার্চুয়াল মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো অর্থ আদান-প্রদানকে অননুমোদিত ঘোষণা করে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইনি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও দেশে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এই মুদ্রার অনানুষ্ঠানিক লেনদেন যে প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হচ্ছে, তা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক এক পরিসংখ্যানে। বিশ্বখ্যাত ব্লকচেইন ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেনালাইসিস বিশ্বের ১১৭টি দেশের উপাত্ত পর্যালোচনা করে বৈশ্বিক ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারের প্রবণতা সংক্রান্ত একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ‘দ্য ২০২৬ জিওগ্রাফি অব ক্রিপ্টো রিপোর্ট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণের হারে বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ষষ্ঠ, পাকিস্তান ২৫তম এবং শ্রীলঙ্কা ৮২তম স্থানে অবস্থান করছে।


নির্বাচিত

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নেতিবাচক করল ফিচ

দেশটির ঋণমান ‘এ প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখলেও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ। সংস্থাটি দেশটির ঋণমান ‘এ প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখলেও অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছে।

শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফিচ বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, সরকারি আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি এবং ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ফ্রান্সের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। এসব কারণে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যয়সংকোচন ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

ফিচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৮ সালে তা বেড়ে ১২৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে গত আগস্টে সংস্থাটি ২০২৮ সালে ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১২২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। ফ্রান্সের ঋণের বোঝা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় দেশটিকে ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এর ফলে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়ছে, যা সরকারি বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে ফ্রান্সে দুই দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে ঋণ কমানো ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখছে ফিচ। সংস্থাটির মতে, দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন এবং জনমত জরিপে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থী প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য আর্থিক কৌশল নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। ফিচের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নীতিনির্ধারণী বিতর্কে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে ঋণের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমাদের আস্থা বাড়াতে পারে।’

এ ছাড়া সরকারি সেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করে সংস্থাটি। ফিচের এ মূল্যায়নের আগে শুক্রবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনএসইই জানায়, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়নি। বরং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ফ্রান্সের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, ক্ষতি ৬৩০ কোটি ডলার

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জটিল এ হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ সত্য হলে এটি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, প্রাথমিকভাবে একটি ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন ডেভঅপস প্রকৌশলীর ব্যবহৃত ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হ্যাকাররা অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলনের লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে ডিজিটাল ওয়ালেটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি বা প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লকচেইনভিত্তিক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের ধারণা, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ হামলার সঙ্গে জড়িত। ক্রিপ্টো খাতের বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলিপটিকও একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হয়, ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠীটি উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর অংশ।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও এ গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। বাইন্যান্সে এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সেই ঘটনার প্রায় চার গুণ। ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার হামলার অভিযোগ ওঠার পর লাজারাস গ্রুপ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত ‘দ্য ইন্টারভিউ’ চলচ্চিত্রের প্রতিশোধ নিতে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সন্ধান ও উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী সংস্থা এবং খাতসংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, ‘এটি ছিল একটি জটিল হামলা। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সমস্যার সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ লাতিন আমেরিকার জন্য পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তদন্ত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলেছে, হামলার ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি নির্ধারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে তারা। প্রয়োজনে তদন্তে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ উদ্ধারে ক্রিপ্টো খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও পদক্ষেপ নিয়েছে। স্টেবলকয়েন ইউএসডিটির ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথারের প্রধান পাওলো আরদোইনো জানিয়েছেন, বাইন্যান্সে সম্ভাব্য হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম সার্কেলের প্রধান জেরেমি আলেয়ার জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি জব্দ করেছে।

ইউএসডিটি ও ইউএসডিসি হলো স্টেবলকয়েন, যার মূল্য মার্কিন ডলারের মতো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে। এ কারণে অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির তুলনায় এসব ডিজিটাল মুদ্রার দামে সাধারণত বড় ধরনের ওঠানামা হয় না।

বাইন্যান্স একদিকে ব্যবহারকারীদের অর্থ নিরাপদ থাকার দাবি করেছে, অন্যদিকে হামলার কারণে হওয়া সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। স্টেবলকয়েন ছাড়া অধিকাংশ বড় ডিজিটাল মুদ্রার দাম কমে যায়। বিটকয়েনের মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ কমে রাতের দিকে ৭৬ হাজার ৪০০ ডলারে নেমে আসে, যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি বিটকয়েন প্রায় ৭৭ হাজার ৩০০ ডলারে লেনদেন হয়। একই সময়ে ইথেরিয়ামের দাম প্রায় ৬ শতাংশ এবং বাইন্যান্সের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সি বিএনবির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।

বাইন্যান্সে এ হামলা ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল সম্পদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের দাবি থাকলেও পুরো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


নির্বাচিত

ইপিএ ঘিরে জাপানে রপ্তানি ও বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা

* শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর * চুক্তির সুফল পেতে বাস্তবায়ন ও দ্বিপক্ষীয় সংলাপে গুরুত্ব * চামড়া, পাট, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ
গ্রাফিক্স ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা গেলে দেশটির বড় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়বে। তবে চুক্তির সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে এর শর্ত সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকায় জাপান দূতাবাস।

দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের মতে, চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে শুল্কসুবিধা ও পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) মধ্যে চুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবা, ই-কমার্স, শুল্কপ্রক্রিয়া ও মেধাস্বত্বের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, চুক্তি কার্যকর হলে নির্ধারিত শুল্ককাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

দূতাবাসের ভাষ্য, ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।’ এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার কথা উল্লেখ করেছে জাপান দূতাবাস।

তবে এসব খাতে রপ্তানি বাড়াতে জাপানের বাজারের চাহিদা, পণ্যের মান এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের ভালো ধারণা থাকতে হবে। পণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ ও শ্রমসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে জাপানের অনুমোদনপ্রক্রিয়া ও উৎপাদনমান-সংক্রান্ত কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার জন্য শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মতো পশ্চাৎমুখী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা এবং জ্বালানির কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস।

এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়লে সেখানে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে নতুন জাপানি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও বাড়তে পারে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ইপিএ বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার সুবিধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে চুক্তিটি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কার্যকর কাঠামো দিতে পারে।

এ জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে চুক্তির শর্ত, শুল্কসুবিধা এবং পণ্যের উৎপত্তি নির্ধারণের নিয়ম নিয়ে প্রচার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। এতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান চুক্তির আওতায় পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।

দূতাবাসের মতে, ইপিএর সুফল পেতে বাংলাদেশ ও জাপানের সরকার এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। চুক্তি কার্যকরের পর বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে যৌথ কমিটিসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত কার্যকর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সেই সম্ভাবনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি এবং বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।


নির্বাচিত

উচ্চমূল্যের পোশাকে বছরে ৫৮১ কোটি ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা

বাংলাদেশে তৈরি কিছু বিশেষায়িত ব্লেজার ও বিয়ের পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে এক হাজার ডলারেরও বেশি খুচরামূল্যে বিক্রি হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পোশাক তৈরির কার্যাদেশ বাড়ছে বাংলাদেশে। মৌলিক পোশাকের পাশাপাশি দেশীয় কারখানাগুলো এখন জ্যাকেট, স্যুট, ব্লেজার, বিয়ের পোশাক ও টেকনিক্যাল অ্যাপারেল উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জার্মানির হারকো এবং ডেনমার্কের বেস্টসেলার গ্রুপের মালিকানাধীন স্পেনভিত্তিক ব্র্যান্ড বালমোহকের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কারখানায় উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি করছে। এ ছাড়া এনগেলবার্ট স্ট্রস, শোফেল, স্কট, কারহার্ট, মন্টবেল, ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ও ৫.১১ ট্যাকটিক্যালের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডও সরাসরি অথবা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করছে।

রপ্তানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তৈরি কিছু বিশেষায়িত ব্লেজার ও বিয়ের পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে এক হাজার ডলারেরও বেশি খুচরামূল্যে বিক্রি হচ্ছে। টিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকেট ও আউটারওয়্যার রপ্তানি করে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ উচ্চমূল্যের পণ্য। অন্যদিকে, এনার্জি প্যাক ফ্যাশনসের রপ্তানি করা পোশাকের প্রায় ৯০ শতাংশই স্যুট ও ব্লেজারের মতো প্রিমিয়াম পণ্য।

১৯৮০-এর দশকে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন কম দামের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০১০ সালের পর থেকে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়তে থাকে। উদ্যোক্তাদের ধারণা, বর্তমানে মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উচ্চমূল্যের পণ্য। যদিও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আউটারওয়্যার, ড্রেসেস, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল ওয়্যার ও স্যুটের মতো উন্নত পোশাক বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ ছিল। একই সময়ে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের সম্মিলিত হিস্যা ছিল ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। এর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উচ্চমূল্যের পণ্য থেকে এলে রপ্তানি আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ দশমিক ৮৭ থেকে ৫ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌলিক পোশাকের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে উদ্যোক্তারা উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণ পোশাকে মুনাফার হার কমে এলেও বিশেষায়িত পোশাকে তুলনামূলক বেশি মুনাফার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় ব্র্যান্ডগুলো বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র খুঁজছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে অংশ বাড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে উচ্চমূল্যের পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষণ রয়েছে, কিন্তু এই বাজারের প্রকৃত আকার ও অগ্রগতি নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন। শুধু বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের কার্যাদেশ পাওয়া নয়, দেশীয়ভাবে দক্ষতা তৈরি, উন্নত উপকরণ ব্যবহারের সক্ষমতা, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোই হবে পরবর্তী ধাপ। সাধারণ পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত অবস্থান ধরে রেখেই প্রিমিয়াম পণ্যের অংশ বাড়াতে পারলে রপ্তানি আয় ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উভয়ই জোরদার হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব করতে হলে বিচ্ছিন্ন কিছু সাফল্যের বাইরে গিয়ে পুরো শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।


নির্বাচিত

কটন সুতা আমদানির নীতিমালা স্পষ্ট করল এনবিআর

১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা বলতে সিঙ্গেল কাউন্টের সুতা বোঝাবে: এনবিআর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির অনুমতি সংক্রান্ত নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার জারি করা এক আদেশে রাজস্ব প্রশাসন জানিয়েছে, পূর্বে প্রকাশিত দুটি আদেশে বর্ণিত ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা বলতে মূলত ১০-৩০ সিঙ্গেল কাউন্টের কটন সুতাকে বোঝানো হবে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস: রপ্তানি ও বন্ড) কাজী রায়হানুজ্জামান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের স্বার্থরক্ষা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাঁচামালের জোগান নিশ্চিতের অংশ হিসেবে গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনায় ১০-৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের মাধ্যমে পণ্য ছাড়ের সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে গত ৮ অক্টোবর উক্ত আদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছিল।

রাজস্ব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সটাইল খাতের নানাবিধ সমস্যা পর্যালোচনা ও টেকসই সমাধানের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই এই স্পষ্টীকরণ আদেশ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এনবিআর এই নির্দেশনা জারি করেছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

এআই চিপে স্যামসাংয়ের মুনাফা ১৫ গুণ বাড়লেও শেয়ারদরে পতন

এসকে হাইনিক্সের তুলনায় সরবরাহ সংকট নিয়ে অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল পূর্বাভাস দেওয়ায় পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন ঘটেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চিপ ব্যবসায় প্রায় ১৫ গুণ পরিচালন মুনাফার চমক দেখিয়েছে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। তবে অভাবনীয় এই মুনাফা অর্জন সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো আর্থিক সুবিধার ঘোষণা না দেওয়া এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের তুলনায় সরবরাহ সংকট নিয়ে অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল পূর্বাভাস দেওয়ায় পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের সার্বিক পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন উওনে (প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের ১২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন উওনের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বেশি। এর সিংহভাগই এসেছে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগ থেকে, যেখানে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন উওনে। নজরকাড়া এই ফলাফল সত্ত্বেও শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ না হওয়ায় লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ৬ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। অথচ এর বিপরীতে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

এর আগে এসকে হাইনিক্স তাদের উচ্চগতির ড্র্যাম ও এইচবিএম চিপ ২০২৯ সাল পর্যন্ত পুরোপুরি নিঃশেষ (সোল্ড আউট) হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি ডলার ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু স্যামসাং শুধু আগামী বছরের জন্য তাদের চিপের মজুদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে এবং সরবরাহ ঘাটতি ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে তুলনামূলক সংযত বার্তা দেয়। এ প্রসঙ্গে বিএনকে ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক লি মিন-হি বলেন, “গতকাল এসকে হাইনিক্স প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি অর্জন দেখিয়েছে এবং তা বাজারের ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স তাদের আগের দেওয়া পূর্বাভাসের কোনো বিশেষ পরিবর্তন করেনি।” একই বিষয়ে মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জিং জি ইউ বলেন, “স্যামসাংয়ের এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ ছিল মেমোরি সংকট কতদিন চলবে সে সংক্রান্ত তাদের পূর্বাভাস, যা গতকাল দেওয়া এসকে হাইনিক্সের বক্তব্যের চেয়ে কিছুটা কম ইতিবাচক মনে হয়েছে।”

চিপ কারখানা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছর ব্যয় ৬২ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৬ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন উওন করেছে স্যামসাং এবং আগামী বছরও বড় অঙ্কের মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্যামসাং জানায়, “এআই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটার সাথে সাথে ২০২৭ সালে মেমোরি ব্যবসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোগত মূলধনী ব্যয় ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের তুলনায় এআই-চালিত বাড়তি চাহিদা চিপ খাতের সরবরাহকে বহুগুণে ছাড়িয়ে যাবে।” তবে শেয়ারহোল্ডারদের বাড়তি প্রাপ্তির সিদ্ধান্তটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ায় বাজারে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সিএলএসএ-র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সঞ্জীব রানা বলেন, “বাজার হয়তো অতিরিক্ত শেয়ার পুনর্ক্রয় বা লভ্যাংশ ঘোষণার আশা করছিল, কিন্তু কোম্পানি সিদ্ধান্তটি জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত স্থগিত করায় স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশায় ভাটা পড়েছে।”

বাজারের দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য ধরে রাখতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান এই টেক জায়ান্ট। এরই মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আরও ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের মোট সক্ষমতার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নিশ্চিত সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিভিত্তিক চিপ তৈরির বা ফাউন্ড্রি বিভাগ লোকসানে থাকলেও আধুনিক ২-ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপের নতুন ক্রয়াদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস কারখানায় আগামী বছর থেকে টেসলার চিপ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির আভাস পাওয়া গেছে। তবে চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিজস্ব মোবাইল ফোন বিভাগে মার্জিন সংকুচিত হয়ে এ প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মোবাইল ব্যবসা প্রায় ৮০০ বিলিয়ন উওন ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

পাকিস্তান থেকে আসা ১৫০ টন তামাকের চালান আটক

জব্দকৃত এই কাঁচামাল দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা উন্নতমানের সিগারেট তৈরি করা যেত, যার খুচরা বাজারমূল্য দাঁড়াত প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও অবমূল্যায়নের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১০টি কনটেইনারে থাকা প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন অপ্রক্রিয়াজাত কাঁচা তামাকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বন্ড সুবিধায় ছাড়ের অপেক্ষায় থাকা এসব তামাক দিয়ে প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা মূল্যের প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দকৃত এই কাঁচামাল দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা উন্নতমানের সিগারেট তৈরি করা যেত, যার খুচরা বাজারমূল্য দাঁড়াত প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ‘গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আনা এই চালানের নথিপত্র পর্যালোচনায় মূল্যের মারাত্মক গরমিল শনাক্ত করা হয়েছে। একই এইচএস কোডের কাঁচা তামাক প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১ দশমিক ৪৫ ডলার দর ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে কেবল আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রেই সরকারের প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার আওতায় আনা তামাকের সঠিক ব্যবহার এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদারকি নিশ্চিত না হলে আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। পুরো চালানের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে শেলের মুনাফা দ্বিগুণ, আয় ১০৮১ কোটি ডলার

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি জায়ান্টটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ কোটি ডলারে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও পরিশোধনে নজিরবিহীন মার্জিনের ওপর ভর করে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ প্রান্তিক মুনাফা অর্জন করেছে বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেল। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার পুনর্ক্রয়ের আকারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি জায়ান্টটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ কোটি ডলারে (১০ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার), যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ১০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে এবং গত বছরের একই সময়ের ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নবম মাসে পৌঁছানোয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের কারণে শেলের তেল পরিশোধন মার্জিন প্রতি ব্যারেলে রেকর্ড ৪২ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের একই সময়ে ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৬ ডলার এবং আগের প্রান্তিকে ছিল ২৪ ডলার। অভাবনীয় এই আর্থিক সাফল্যের পর শেল তাদের ত্রৈমাসিক শেয়ার পুনর্ক্রয়ের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ ঘোষণার পরপরই ইউরোপের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির গতিকে ছাড়িয়ে শেলের শেয়ারের দাম শুরুতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে যায়।

ব্যবসায়িক খাতভিত্তিক আয়ে শেলের সমন্বিত গ্যাস বিভাগ থেকে ৩০৪ কোটি ডলার এবং জ্বালানি উত্তোলন বিভাগ থেকে ৩১৯ কোটি ডলার অর্জিত হয়েছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে কার্যকরী মূলধন ছাড়া পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের পরিমাণ ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে বিপুল মুনাফার মধ্যেও সামগ্রিক তেল ও গ্যাস উৎপাদনে যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে শেলের মোট জ্বালানি উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে গত মার্চে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলার পর কাতারে শেলের পার্ল গ্যাস-টু-লিকুইডস কারখানার একটি ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটি বর্তমানে আংশিক চালু থাকলেও এটি পুরোপুরি সংস্কার করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কানাডার এলএনজি প্রকল্পের উৎপাদন পুরোদমে শুরু হওয়ায় কাতারের এই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার ফলে সামগ্রিক এলএনজি উৎপাদন ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

ইউরোপীয় বায়োগ্যাস সম্পদের দুর্বল প্রত্যাশার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাক-কর আড়াই বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবচয় বা লোকসান নথিভুক্ত করতে হয়েছে, যা কানাডা প্রকল্পের ইতিবাচক অগ্রগতির সূত্রে অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে আসে। ২০২২ সালের শেষ ভাগ থেকে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিপি, টোটালএনার্জিস কিংবা শেভরনকে পেছনে ফেলে শেল তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১২০ শতাংশ মুনাফা দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিতিশীলতার সময়ে জ্বালানি জায়ান্টগুলো এই অপ্রত্যাশিত মুনাফা কীভাবে ব্যয় করে এবং মূলধনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের।

বিষয়:

নির্বাচিত

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রি

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে নিজস্ব রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে নিজস্ব রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে এ অর্থ সরবরাহ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গত ২০ অক্টোবর তুলনামূলক কম, অর্থাৎ প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা মূল্যে বিক্রি করেছিল সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন বাজারে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমন্বিত চাহিদা ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার, যার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২ কোটি ২০ লাখ ডলারের জোগান দেয়। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বুধবার দিনের শুরুতে রেমিট্যান্স হাউসগুলো থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে ক্রয়ের প্রস্তাব আসে এবং কয়েকটি ব্যাংক তা ১২৪ টাকা ৩০ পয়সায় কেনেও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলার ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেমিট্যান্স হাউসগুলো দর কমিয়ে পুনরায় ডলার বিক্রির প্রস্তাব দিতে শুরু করে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বুধবার ৩০ কোটি ডলারের বেশি অঙ্কের বৈদেশিক দায় বা পেমেন্ট মেটানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় ডলারের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে মাসের শেষ প্রান্তে প্রবাসী আয়ের গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসায় মুদ্রা বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে একধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এর আগে মঙ্গলবার ডলার বিক্রির নোটিশ জারি করেও শেষ মুহূর্তে রিজার্ভ থেকে কোনো অর্থ ছাড় করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে মোট ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হলো। অবশ্য রেমিট্যান্স প্রবাহের সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৭ দিনেই দেশে ২৫৪ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ

পোশাকের বাইরে রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারে নজর বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাকের (আরএমজি) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ জোরদার করছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে রপ্তানিকারকদের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান ও বিধিবিধান পরিপালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন পণ্য ও সেবাখাতের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে।

রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল সোর্সিং ডায়ালগে’ এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চেম্বার, ক্রেতা ফোরাম এবং বিদেশি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের উন্নয়নবিষয়ক কাউন্সেলর ও উপ-উন্নয়ন পরিচালক মার্টিন ডসন যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস)-এর আওতায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলো এ স্কিমের আওতায় বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার এখনো করতে পারেনি।”

বাংলাদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও সোর্সিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি আদেশ অর্জনের সুযোগ বাড়তে পারে।

ডিসিটিএস সম্পর্কে রপ্তানিকারকদের সচেতনতা বাড়াতে ইপিবি ও ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান এবং তা পরিপালনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুল্কবহির্ভূত বাধা মোকাবিলা ও অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে এ বছর ইপিবি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতের সংখ্যা আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করেছে। পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় শিল্প ও সেবাখাতকে রপ্তানি কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, “শিল্প খাতের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের কাঠামোয় স্বাস্থ্যসেবার মতো সেবাখাত অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।”

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগকে কার্যকর রপ্তানি আদেশে রূপ দিতে ব্র্যান্ডিং, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। এ জন্য বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়িক সংযোগ কার্যক্রম এবং প্রচারমূলক উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাট ও নতুন পণ্যে রপ্তানির সম্ভাবনা

প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত ও উদীয়মান পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল প্যাকেজিং সামগ্রীর আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব বাজারে প্রবেশ বাড়াতে পণ্যের মান, ক্রেতাদের চাহিদা এবং আমদানিসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইন্দোনেশিয়ার বাজারে পাটের সুতা, পাটের বস্তা, তামাক, তৈরি পোশাক ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো উচ্চমূল্যের খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি এসব খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, বিমান পরিবহন ও আতিথেয়তা শিল্পের প্রতিও অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ

রপ্তানি সম্প্রসারণে উৎপাদক, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। মোহাম্মদ হাসান আরিফ ২০১৫ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য মেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “বিদেশি ক্রেতাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”

বিদেশি সোর্সিং প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরতে স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রচারচিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট এবং বাণিজ্য মেলার সরাসরি ভিডিও ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্রাজিল-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি জানান, রিও ডি জেনেইরোতে বাণিজ্য প্রচার কার্যক্রমের পর আগামী ২২ থেকে ২৫ মার্চ সাও পাওলোতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ এক্সপো’ আয়োজন করা হবে।

ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির একজন প্রতিনিধি সম্প্রতি বাংলাদেশের ১৪টি কোম্পানির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফরের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া ইউরোপের বৃহত্তর বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশের সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কসোভোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এর সফল আয়োজনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অডিওভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র তৈরি এবং অনুষ্ঠানের সরাসরি ভিডিও প্রচারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় উঠে আসে, যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার কার্যকর ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close