রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১৫ চৈত্র ১৪৩২

করপোরেট ট্যাক্স অপব্যবহারে বছরে ৪.২৬০ কোটি টাকার কর হারাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:০১
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৫৯

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পন্থায় মুনাফা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং বিত্তবানদের একাংশ বিদেশে সম্পদ পাচার করায় বাংলাদেশ বছরে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ২৬০ কোটি টাকা হারাচ্ছে। প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে।

ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের (টিজেএন) ‘স্টেট অব ট্যাক্স জাস্টিস ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবারে এটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদেশে ব্যবসারত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মুনাফার একাংশ বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার মিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। আর সম্পদশালীরা বিদেশে সম্পদ গড়ায় কর বছরে হারায় ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের ২১ দশমিক চার শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, বহুজাতিক কোম্পানি ও সম্পদশালীরা কর ব্যবস্থার অপব্যবহারের কারণে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ প্রতি বছর ৪৯২ বিলিয়ন ডলার কর হারাচ্ছে।

প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন বার্ষিক উন্নয়ন ও পরিচালন খরচ মেটাতে প্রয়োজনীয় কর সংগ্রহ করতে পারছে না বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের রাজস্ব ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত ছিল সাড়ে আট শতাংশ, যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ কম। বাংলাদেশে কর অনিয়ম ও কর ফাঁকির ঘটনা অনেক।

টিজেএন গত বছর ‘স্টেট অব ট্যাক্স জাস্টিস’ প্রতিবেদন বলছে, ‘করপোরেট করের অপব্যবহারের কারণে দেশটির বার্ষিক ক্ষতি ছিল ৩৯৬ মিলিয়ন ডলার। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে মুনাফা সরিয়েছে এক দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।’

এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে এক দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছে। এটি দেশের প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির শূন্য দশমিক এক শতাংশ।

টিজেএন বলেছে, করপোরেট করের হার কমানো সত্ত্বেও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা করপোরেট কর অবকাশে স্থানান্তরিত করেছে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে আরও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ গত দেড় দশকে করপোরেট কর কমিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩-২৪ অর্থবছরে করপোরেট কর ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২৭ শতাংশ করেছে।

টিজেএন আরও বলেছে, করপোরেট করের হার কমানোর পর আরও বেশি কর পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

টিজেএনের বিবৃতিতে নেটওয়ার্কের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক লিজ নেলসন বলেন, 'আমরা কেমন সমাজে থাকতে চাই, তা বেছে নেওয়ার জন্য কর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।'

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারগুলো অতি-ধনী ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সম্পদশালী করতে করকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মনে করে, এটি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। অথচ তথ্যে দেখা যায় যে এটি বিপরীত প্রভাব ফেলছে। বিশ্বব্যাপী করের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহারের কারণে বিত্তবানদের বিপুল সম্পদ আমাদের অর্থনীতিকে অনিরাপদ করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ আরও খারাপ অবস্থায় পড়েছে। পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।’

তার মতে, বিশ্বের নানান দেশের মানুষ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যথাযথভাবে কর আরোপের জন্য তাদের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সরকার করপোরেট করের ওপর তোষণের নীতি অব্যাহত রেখেছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ সার্কিটে কর ফাঁকি ও এড়িয়ে চলার হার ব্যাপক।

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে প্রমাণ পেয়েছি- বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ট্যাক্স হ্যাভেন ব্যবহার করছেন। তবে, দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই গ্লোবালাইজড বিশ্বে ট্যাক্স হ্যাভেনগুলোর ভয়ঙ্কর ছায়া থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন।’

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নীতিনির্ধারকদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন খান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ছোট অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর কণ্ঠস্বরকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক করের কারিগরি দিকগুলোতে বিনিয়োগ করা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

স্টেট অব ট্যাক্স জাস্টিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এভাবে কর ফাঁকির কারণে বিশ্বের দেশগুলো বছরে ৪৭২ বিলিয়ন ডলার কর হারাচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির মধ্যে ৩০১ বিলিয়ন ডলার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্স হ্যাভেনে স্থানান্তর করে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে ১২১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়।


ঈদের ছুটি শেষে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৫
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ১০ দিনের বন্ধের পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে এই বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সোনামসজিদ বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি, লোড-আনলোড, পণ্য পরিবহনসহ কাস্টমস ও সিএন্ডএফ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে এই সময়েও সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।

বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান এবং সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অফিস সচিব একরামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে বন্দর বন্ধ থাকলেও ১৭ মার্চ কোনো আমদানি বা রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করেনি। শুধুমাত্র খালি ট্রাক নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে এবং সীমিত আকারে লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।


ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশি আলুচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার পথ খুলে গেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভিয়েতনামের বাজারে আলু রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে।

গত শুক্রবার ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী বিদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মে মাসে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। দূতাবাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ যাচাই শেষে ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশের আলুকে আমদানির জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করে।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, “এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক। এই অনুমোদনের ফলে আমাদের আলু রপ্তানিকারকদের সামনে বিশাল এক সুযোগ তৈরি হলো। এর সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত আলু রপ্তানি শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।”

দূতাবাস সূত্র জানায়, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য, বিশেষ করে তিল রপ্তানির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ কম।

অন্যদিকে উৎপাদন অঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জে কৃষকেরা পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছেন মাত্র ছয় থেকে আট টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, “উচ্চ ফলনশীল, রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর নতুন জাত সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। নতুন কিছু জাত থেকে একই পরিমাণ জমি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি আলু উৎপাদন সম্ভব।”

রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়লেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রপ্তানির খবর কিছুটা স্বস্তি মিললেও কৃষকের প্রচুর লোকসান হয়েছে। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না হলে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। যথাযথ অবকাঠামো ও হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ঘাটতি আছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও কৃষক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব জটিলতা দূর হলে বাংলাদেশি আলুর রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং চাষিরা স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ পাবেন।”


সরকারি ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন সময়সূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সরকারি ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিপণনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নির্দেশনায় সারাদেশে বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ফিলিং স্টেশন, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পগুলোতে সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান ডিপো থেকে সরবরাহের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিপো থেকে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং শেষ হবে বিকেল ৩টায়। এর আগে ডিলাররা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন।


তেলের দাম বাড়লে অর্থনীতিতে বড় চাপের আশঙ্কা

এসএমই শিল্পের জ্বালানি ও ডিকার্বনাইজেশন নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের ওপর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়বে। আর দীর্ঘ সময় ধরে দাম ১২০ ডলারের বেশি থাকলে অতিরিক্ত ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার সমান।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ বিসিক শিল্পনগরীর এসএমই শিল্পগুলোর জ্বালানি ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ ও ডিকার্বনাইজেশন সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে মাসিক ব্যয় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়, যা বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একদিকে সংকট, অন্যদিকে সুযোগ। এখনই যদি জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার দীর্ঘদিন ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। একপর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হলে শিল্পখাতে ‘ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”

গবেষণায় বলা হয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এই খাতনির্ভর হওয়ায় এর ক্ষতি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বড় শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতও অনেকাংশে এসএমইর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঝুঁকি বাড়বে।

গবেষকরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে বছরে ১৪ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এছাড়া চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে এসএমই খাতে বিকেন্দ্রীভূত রুফটপ সোলার প্যানেলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে পরিচালন ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, দেশের মোট শিল্প ইউনিটের ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত, যা শিল্পখাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তিকে নিয়োজিত করে এবং জিডিপিতে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। তবে এই খাত এখনো প্রায় ৯৫ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, যা বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিল্পখাতে জ্বালানি রূপান্তর জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় বিসিক শিল্পনগরীর চামড়া, প্লাস্টিক উৎপাদন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব খাত মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪৬ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ হয়, যার মধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় ১৪ দশমিক ০৯৭ মিলিয়ন টন কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চামড়া শিল্পে ১৯ থেকে ৩৩ শতাংশ, হালকা প্রকৌশলে ১৯ থেকে ৩১ শতাংশ, প্লাস্টিক শিল্পে ৩৩ থেকে ৪৯ শতাংশ এবং প্যাকেজিং খাতে ১৫ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিসিক শিল্পনগরীর মাত্র ১০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহার করে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মাধ্যমে বছরে ৮২ হাজার ৯৬৮ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্রায় ৫১ হাজার ৪৪০ দশমিক ৭১ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা যাবে।

এই খালি জায়গার ব্যবহার ২০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে উৎপাদন সক্ষমতা ১১৪ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তখন বছরে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৮৮১ দশমিক ৪১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে।


পুঁজিবাজারে সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা, লেনদেনে ঊর্ধ্বগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে সূচক কমলেও লেনদেনে কিছুটা ইতিবাচক গতি ছিল।

আলোচ্য সময়ে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ০.৭০ শতাংশ কমেছে। এ সময় অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা যায়, যদিও দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইএক্স সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে নেমেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্ট। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচক ৩১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ৬ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে নেমেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮১টির দর বেড়েছে, ১৭৩টির কমেছে এবং ৩৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। ২২টির কোনো লেনদেন হয়নি। সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি এবং গ্রামীণফোনের শেয়ার।

লেনদেনের দিক থেকে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৫৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৪৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফলে এক সপ্তাহে গড় লেনদেন ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। এ কারণে বাজারে ধীরগতি দেখা গেলেও ক্রয় আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি, তবে অনিশ্চয়তার প্রভাব সূচকে পড়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত শীর্ষে ছিল, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ দখল করে। এরপর ওষুধ ও রসায়ন খাত ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয়, প্রকৌশল খাত ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বস্ত্র খাত ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

গত সপ্তাহে সাতটি খাত বাদে প্রায় সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ পতন হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৯২ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

অন্যদিকে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ বীমা খাতে ২ দশমিক ২০ এবং সিরামিক খাতে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ রিটার্ন অর্জিত হয়েছে।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই প্রবণতা দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.৭৭ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৯১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচকও ০.৭০ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১০২ পয়েন্টে নেমেছে।

সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ৪০ কোটি ৬ লাখ টাকার তুলনায় কম। এখানে লেনদেন হওয়া ২১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৭টির দর বেড়েছে, ৮৮টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।


আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি, কফি ও কোকোর দামে বড় পতন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে অপরিশোধিত চিনি, কফি ও কোকোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব পণ্যের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

গত বুধবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) লেনদেনে চিনির দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হঠাৎ কমে যায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপরিশোধিত চিনির দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড প্রায় ১৬ সেন্টে নেমে এসেছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার খবরে এই পতনের প্রধান প্রভাব পড়েছে চিনির বাজারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ব্রাজিল সাধারণত চিনি উৎপাদন কমিয়ে ইথানল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ে। তবে বিশ্বরাজনীতিতে যুদ্ধবিরতির আলোচনার প্রভাবে তেলের দাম কমে যাওয়ায় চিনির দামেও নিম্নগতি তৈরি হয়েছে।

কফির বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। অ্যারাবিকা কফির দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড ৩ ডলার ১৫ সেন্টে নেমেছে।

বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক ব্রাজিলে সম্ভাব্য রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের পূর্বাভাস বাজারে প্রভাব ফেলছে। যদিও স্থানীয় কৃষকরা মজুদ ধরে রাখছেন, তবুও ভবিষ্যৎ সরবরাহ বাড়ার আশঙ্কায় দাম কমছে।

অন্যদিকে কোকোর বাজারেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। লন্ডন বাজারে কোকোর দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন ২ হাজার ৩৫০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকায় অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের সম্ভাবনা, পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কিছুটা কম চাহিদার কারণে কোকোর দাম কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৪ ডলার অতিক্রম করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচারসের দাম ১১৪ ডলারের বেশি হয়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ফিউচারস ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১১৪ দশমিক ২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারস ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দামও প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির মন্ত্রিসভাকে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাস নিউজ।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দার নোভাক শুক্রবার (২৭ মার্চ) জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

নোভাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা এখনো অনেক বেশি। তবে দেশের ভেতরে সরবরাহ ঠিক রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।


বাণিজ্য সহযোগিতায় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট-আইসিডিটি সমঝোতা স্মারক সই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইসলামিক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব ট্রেড (আইসিডিটি)।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় আইসিডিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে ওআইসিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি এমজেএইচ জাবেদ এবং আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ সময় মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা ও আইসিডিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষরের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে শক্তিশালী বাণিজ্যিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আইসিডিটির গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানায়, এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধারণা বিনিময়, বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

উভয় পক্ষই মনে করছে, এর ফলে দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা আইসিডিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আইসিডিটির মহাপরিচালক লতিফা এলবুয়াবদেল্লাউই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন অঙ্গসংস্থায় নিয়মিত অবদান রাখছে এবং সংস্থাটির বিভিন্ন ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি এই সমঝোতা স্মারককে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিকে আইসিডিটির বিভিন্ন বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রমে একটি ‘পাইলট দেশ’ হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া ঢাকাকে একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য একটি সমন্বিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী, কর্মশালা, বাণিজ্য সংলাপ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য কার্যকর এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।


পাইপলাইনে ভারতে থেকে এলো ৫ হাজার টন ডিজেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। এই জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে সরবরাহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডিজেলের চালানটি দেশে আসে। পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল পরিবহনে সময় লেগেছে প্রায় ৬০ ঘণ্টা। পৌঁছানোর পর গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোগুলোতে ডিজেল লোড করা শুরু হয়। এর আগে, ১১ মার্চ একইভাবে পাঁচ হাজার টন ডিজেল দেশে আনা হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে আরও পাঁচ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে।

এছাড়া, আগামী চার মাসের মধ্যে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।


৭ দফা কমার পর বাড়লো স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশীয় বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। টানা সাত দফা কমানোর পর এবার মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা।

সংগঠনটি বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে টানা সপ্তমবারের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।

সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ১৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৪৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।


জ্বালানি সংকটে জরুরি ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে মোট তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে জুম অ্যাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এটি ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ বৈঠক।

জানা গেছে, বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন (EN590, 10 PPM) মানের ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ লাখ মেট্রিক টন EN590 EURO 5 (10 PPM) মানের ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার টন গমবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ৬২ হাজার ১৫০ টন গমবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নগদ ক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে ‘এমভি উবন নারী’ নামের জাহাজটি এ গম বহন করে এনেছে। এটি জিটুজি চুক্তির অধীনে দ্বিতীয় চালান। এর আগে একই চুক্তির প্রথম চালানে ৫৮ হাজার ৪৫৭ টন গম দেশে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত খালাসের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোট গমের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯০ টন চট্টগ্রাম বন্দরে এবং বাকি ২৪ হাজার ৮৬০ টন মোংলা বন্দরে নামানো হবে।

বাংলাদেশে বছরে গমের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যেখানে দেশীয় উৎপাদন হয় আনুমানিক ১০ লাখ টন। ফলে চাহিদার ঘাটতি পূরণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ গম বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।


আবারও ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান প্রবল উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে পুনরায় ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে প্রবল সংশয় এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে জ্বালানি বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ১৩ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এর ঠিক আগের দিন বাজারে তেলের দর প্রায় ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছিল, যা একদিনের ব্যবধানেই আবার নতুন উচ্চতায় ফিরে এল। বর্তমান এই অস্থিতিশীলতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের চেইনটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার খবর বিশ্বজুড়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই মুহূর্তে তাদের আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই, তখন সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। এর মাঝে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি ক্ষেপণাস্ত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বিদ্রুপাত্মক হুঁশিয়ারি বার্তা লিখে পাঠানোর ঘটনাটি যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সীমান্তে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়া এবং কুর্দি যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে মার্কিন পরিকল্পনার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মতো ঘটনাগুলো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন করে বিপদের ঘণ্টা বাজাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের আশায় থাকলেও মাঠপর্যায়ের কঠোর বাস্তবতা এবং ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিবাচক কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জ্বালানি পণ্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ও অস্থিরতা বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


banner close