সোমবার, ১ জুন ২০২৬
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৩-২৪: লেনদেন খরায় ডিএসইর আয় ও মুনাফা তলানিতে

বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা # জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধন ৪.০৭% কমে ১৩.১২ শতাংশে অবস্থান # লেনদেন থেকে কমিশন আয় কমে যাওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয় বাড়ায় ডিএসইর মুনাফায় ভাটা # ৬১ কোটি মুনাফা করে ৫৯ কোটি লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:৫০

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ১৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির রাজস্ব আয় কমেছে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মূলত আলোচিত অর্থবছরে ডিএসইর মোট লেনদেন হ্রাস পাওয়া এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি ও ট্রেনিং একাডেমিক ফি বাবদ আয় কমায় এক্সচেঞ্জটির সার্বিক আয় কমে গেছে। এ সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর নিট মুনাফাতেও ভাটা পড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরের মোট লেনদেন থেকে ডিএসই কমিশন ফি বাবদ ৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা আয় করেছে। যেখানে আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল ৯৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমায় ফি বাবদ আয়ও কমেছে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ২১ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৪২টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে লিংস্টিং ফি আদায় করেছে ডিএসই। এসব কোম্পানি থেকে আলোচ্য অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির আয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে ২৩২টি কোম্পানি থেকে ঢাকার এই পুঁজিবাজারের আয় হয়েছিল ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর লিংস্টিং ফি বাবদ আয় বেড়েছে ৯৮ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির ডেটা বিক্রি ও অন্যান্য আয় ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৪ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইর লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং ট্রেনিং একাডেমিক আয় কিছুটা কমে যথাক্রমে ৩ কোটি ৭৩ লাখ এবং ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল যথাক্রমে ৫ কোটি ৬৬ লাখ এবং ৫৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসই সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে। যদিও এ সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে ৩৫২ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে এক্সচেঞ্জটির মোট ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যেখানে ৩৬১ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ডিএসইর ব্যয় হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ৯ জন কর্মী কমানো সত্ত্বেও বেতন-ভাতা পরিশোধ বাবদ ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৬১ লাখ টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্ত খাতে এক্সচেঞ্জটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে। এ খাতে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সে হিসেবে সর্বশেষ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে কিছুটা ভালো সময় পার হয়েছে। এই দুই অর্থবছরে বাজারের লেনদেনের পরিমাণ যেমন ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। তেমনি বিনিয়োগকারীদের মুখেও ভালো মুনাফা পাওয়ায় হাসির ঝলক ছিলে। যদিও অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত দুই অর্থবছরে পুঁজিবাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছিল। এ জন্যই এই সময়কার উত্থান বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে লেনদেন ক্রমহ্রাস পাওয়ায় বাজার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোসহ তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জেরও আয় কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একদিকে লেনদেন খরায় আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর মুনাফায় ভাটা পড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ মুনাফা হয়েছিল ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির নিট মুনাফা কমেছে ২৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডিএসই- সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে পূর্বের অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরেও অর্ধেকের বেশি সময় ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপিত ছিল। এ কারণে বাজারের লেনদেন কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলে ধারাবাহিকভাবে বেশির ভাগ সিকিউরিটিজের দরপতন হতে থাকে। এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিধায় পড়ে যায়। ফলে অর্থবছরের বাকি অংশেও লেনদেন তেমন একটা হয়নি। তাই কমিশন বাবদ পুঁজিবাজার থেকে এক্সচেঞ্জটির আয় কমে গিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, ‘আমাদের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে লেনদেনের কমিশন থেকে প্রাপ্ত মাশুল বা আয়। কিন্তু গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় কমে গেছে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমাদের বড় একটা ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে গত অর্থবছরে সার্বিকভাবে ডিএসইর আয় ও মুনাফা-দুটোই কমেছে।’

এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডিএসইর পর্ষদ। এ হিসাবে ৫৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করতে হবে। ফলে লভ্যাংশ বণ্টনের পর আলোচিত অর্থবছরের অর্জিত মুনাফার মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ডিএসইর পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যুক্ত হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে মোট ৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বণ্টন করেছে। সে হিসেবে আলোচিত অর্থবছরে অর্জিত ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মুনাফা থেকে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যোগ হয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আয় ও মুনাফা কমার পাশাপাশি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ডিএসইর। আলোচিত অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন রেশিও কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশে। আগের অর্থবছর শেষে এ রেশিও ছিল ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। টাকার পরিমাণে সর্বশেষ অর্থবছর শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ২০০ কোটি। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সর্বশেষ অর্থবছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমার পাশাপাশি জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।


আয়কর বিভাগে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, সতর্ক করল এনবিআর

আপডেটেড ১ জুন, ২০২৬ ১২:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আয়কর বিভাগে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে একটি অসাধু চক্র সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংস্থাটি সোমবার (১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধরণকে এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে আয়কর বিভাগে জনবল নিয়োগের কাজ চললেও এর আড়ালে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের নীল নকশা তৈরি করেছে।

এনবিআর জানিয়েছে যে, এই জালিয়াত চক্রটি মূলত বিভ্রান্তিকর প্রচারণার আশ্রয় নিচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেছে যে, চক্রটি দাবি করছে— ‘অর্থ দিলে চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব।’ এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অকৃতকার্য প্রার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে। মূলত সহজ-সরল চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করাই এদের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এনবিআর নিশ্চিত করেছে যে, পুরো কার্যক্রমটি একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে কঠোর তদারকির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং আয়কর বিভাগের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ফলে কেবলমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে এবং এখানে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে প্রার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, কোনো অবস্থাতেই চাকরির বিনিময়ে কাউকে অর্থ প্রদান করা যাবে না। যদি কেউ এই ধরণের সন্দেহজনক প্রস্তাবের মুখোমুখি হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় অথবা এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগে তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখের স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, এই চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান নতুন করে জোরদার করার ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননের আরও গভীরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জ্বালানি বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল বা ‘ডব্লিউটিআই’ ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩৭ ডলার বা ২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ২৮ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও সংঘাত প্রশমিত না হওয়া তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই সংঘাতকে ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বিস্তার হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে গত মার্চে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর শুরু হওয়া এই সংকট মাঝেমধ্যে শিথিল হলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে পেতে রাখা মাইন নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভীতি ক্রমশ বাড়ছে। প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক বিশেষ পর্যবেক্ষণে সতর্ক করে বলেছেন যে, এই জলপথটি পুনরায় সম্পূর্ণ নিরাপদ করে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি সম্পন্ন হলেও বাজারে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ রাতারাতি বৃদ্ধি পাবে না।’

উল্লেখ্য যে, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে ইরান কার্যত এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীনের উৎপাদন খাতের স্থবিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কার চেয়েও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছে।


ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দরে পুনরায় শুরু আমদানি-রপ্তানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে বন্দরের সকল বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরে এসেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল, পণ্য খালাস এবং লোড-আনলোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো আবারও সচল হয়েছে, যা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

উল্লেখ্য যে, ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দরের সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ছুটির পুরো সময়জুড়ে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল।

বন্দরের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোমরা সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা জানান, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী ছুটি শেষ হওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বন্দর তার পূর্ণ গতিশীলতা ফিরে পাবে এবং বাণিজ্যিক কর্মচাঞ্চল্য পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ফলে ব্যবসায়ীদের আমদানিকৃত পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।


ভোমরা স্থলবন্দরে ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে টানা সাত দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি ও সকল প্রকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ৩১ মে রোববার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কার্গো ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গত রোববার এক যৌথ বৈঠকে এই ছুটির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিন ধরে বন্দরের পণ্য পরিবহন, মালামাল লোড-আনলোডসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, ঈদের আমেজ ও ব্যবসায়িক সুবিধা বিবেচনায় রেখে বিষয়টি ভারতের সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুফান মন্ডল নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এতে করে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ঈদ মৌসুমে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘ এই বিরতি শেষে আগামী ১ জুন থেকে পুনরায় বন্দরের সব স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। ভোমরা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বাণিজ্যিক বিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১ জুন থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলবে। তবে সরকারি ছুটির বাইরে কাস্টমসের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কাস্টমস হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভোমরা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, আমদানিকারকরা চাইলে প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কর পরিশোধের মাধ্যমে তাদের পণ্য খালাস করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। দাপ্তরিক কাজ চালু থাকায় ব্যবসায়ীদের জরুরি প্রয়োজনে কাস্টমস সেবা পেতে কোনো সমস্যা হবে না। সব মিলিয়ে আগামী ১ জুন সকাল থেকে আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরটি।


কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চার লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যের আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পবিত্র ঈদুল আজহা এখন আর কেবল ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বিশাল ও বহুমুখী অর্থনৈতিক চক্রে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কোরবানির পশুকে কেন্দ্র করে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি থেকে চার লাখ কোটি টাকার বিশাল বাণিজ্যিক লেনদেন হতে পারে। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মোট অর্থনৈতিক লেনদেন সাধারণত দেশের সবচেয়ে বড় মৌসুমি বাজারগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।’ এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞের একটি বড় অংশই সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবেশ করে, যা দেশের লাখো ক্ষুদ্র খামারি ও কৃষকের জন্য বছরের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক এই প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গবাদিপশুর বিশাল বাজার। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর দেশে প্রায় এক কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে, যার বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি এক লাখ। যদি প্রতিটি পশুর গড় বিক্রয়মূল্য ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ধরা হয়, তবে শুধুমাত্র পশু কেনাবেচাতেই এক লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পশুর বাজারকে কেন্দ্র করে পশুখাদ্য, ওষুধ, টিকাদান ও খামারভিত্তিক সরঞ্জামের ব্যবসায়ও নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজের বাজারে বড় ধরণের চাহিদা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন কিস্তি সুবিধা ও বিশেষ অফার চালু করেছে।

কোরবানির অর্থনীতির আরেকটি অত্যন্ত শক্তিশালী দিক হলো পোশাক, কসমেটিকস ও ফ্যাশন খাত। ধারণা করা হচ্ছে, এই এক ঈদেই ফ্যাশন পণ্য ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে। একই সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের পরিবহন খাতও। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহানগরীতে পশু পরিবহনের জন্য হাজার হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান নিয়োজিত রয়েছে, যা চালক ও শ্রমিকদের জন্য বাড়তি উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভৌগোলিক বিচারে দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই সম্পন্ন হয় রাজধানী ঢাকায়, যেখানে আনুমানিক এক লাখ কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই উৎসবকে ঘিরে ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খাতগুলোও ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি এবং চাটাই প্রস্তুতকারী কামারশালাগুলো এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জাতীয় অর্থনৈতিক সূচকে বড় আকারে দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবে হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি মৌসুমি কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারও এখন কোরবানির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে। অনলাইন পশুর হাট এবং মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এই মৌসুমি অর্থনীতিকে আরও বেশি সুসংগঠিত ও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক উদ্দীপনার মাঝেও চামড়া শিল্পের চিত্র কিছুটা মলিন রয়ে গেছে। একসময় রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস থাকলেও বর্তমানে দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের ট্যানারি ব্যবস্থাপনার অভাবে এ খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ সংস্কার ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প ভবিষ্যতে দেশের প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয়ের আরও বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ আয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মৌসুমি কর্মসংস্থান এবং শিল্প উৎপাদনের যে সমন্বিত প্রবাহ তৈরি হয়, তা জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাচ্ছে।


ঈদ ঘিরে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ: ২৩ দিনে এলো প্রায় ৩০০ কোটি ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের জোয়ার শুরু হয়েছে। মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসীরা বৈধ পথে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ২৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রবিবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২১০ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৭ কোটি ডলার বেশি। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদুল আজহার পশু ক্রয় এবং উৎসবের অন্যান্য খরচ মেটাতে প্রবাসীরা তাঁদের পরিবারের নিকট অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ। উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসেও ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের শক্তিশালী প্রবাহ বজায় ছিল। বর্তমানের এই ধারাবাহিকতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সৌদির বাজারে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা, খাতভিত্তিক পরিকল্পনায় জোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কয়েক গুণ বাড়ানোর মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎকালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রথাগত তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত দ্রব্য, পাটপণ্য এবং বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে। এই অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রচলিত রপ্তানি কৌশলের বাইরে গিয়ে খাতভিত্তিক আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।” প্রতিনিধিদলটি আরও উল্লেখ করেছে যে, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশটিতে শিক্ষা, গ্রিন টেকনোলজি, মরুভূমি বনায়ন, আধুনিক কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক অর্থায়নের মতো সৃজনশীল খাতে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন বাজার উন্মোচিত হয়েছে।

বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরণের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রতিনিধিদলকে জানান যে, বিদেশে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির প্রতিনিধিত্ব করা হয়, তাই জাতীয় স্বার্থে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, “কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দক্ষ মানবসম্পদকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল বাজার দখল করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


সত্তর হাজার টন সার কিনছে সরকার, ব্যয় ৬৮৯ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে এবং সারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে মোট ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৩তম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার আমদানির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৫তম লটের আওতায় এই সার ক্রয়ে সরকারের মোট ব্যয় হবে ২৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ৬৮৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাগজাতকরণের খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত অন্য একটি প্রস্তাবে মরক্কো থেকে সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং মরক্কোর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওসিপি নিউট্রিক্রপসের মধ্যকার চুক্তির আওতায় এই সার সংগ্রহ করা হবে। ১২তম লটের মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৮৮১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে কৃষকদের সারের সংকট পোহাতে হবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


দেশের বাজারে কমলো জেট ফুয়েলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জেট ফুয়েলের দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লিটার প্রতি জেট ফুয়েলের দাম ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমানো হয়েছে।

গত শনিবার (২৩ মে) মধ্যরাত থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েল ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এরআগে গত ৭ মে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২ টাকা ৩৫ পয়সা কমানো হয়। গত ৭ এপ্রিল প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ২৫ টাকা। এর আগে ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম ৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম কমানো হয়। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮ ডলার করা হয়েছে।

বিইআরসির কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েলের দামের বিষয়ে কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৫ মে থেকে ২১ মে সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের গড়, বিপিসি এর এলসি সেটেলমেন্ট এ মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের বিদ্যমান মূল্য বিবেচনায় মূল্যহার সমন্বয় করা হয়।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শ্রীলঙ্কার চা রফতানিতে বড় ধরনের ধস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি চা শিল্প এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানির আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মাঝে এই ধাক্কা দ্বীপরাষ্ট্রটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে বলে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলারের এই বিশাল চা খাতের ওপর প্রায় ২৪ লাখ মানুষের জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। দেশটির বিশ্বখ্যাত ‘সিলন টি’ রফতানির প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সরবরাহ করা হয়, যা এখন চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার রফতানি উন্নয়ন বোর্ডের (ইডিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে চা রফতানি থেকে অর্জিত আয় আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে। ইরাকে চায়ের রফতানি ৩৮ শতাংশ কমলেও আমিরাতের ক্ষেত্রে এই পতনের হার রেকর্ড ৯৩ শতাংশে ঠেকেছে। জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা এবং অস্বাভাবিক পরিবহন ব্যয়ের কারণে ‘দিলমাহ’-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে উত্তর আমেরিকার নতুন বাজারের সন্ধান করছে।

এই চরম বাণিজ্যিক মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রান্তিক চা শ্রমিকদের ওপর। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার তুলনায় তাঁদের দৈনিক আয় অপরিবর্তিত থাকায় অনেক শ্রমিক পরিবার এখন তিন বেলার খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। চরম অনাহারে শ্রমিকরা বাগান ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, যা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রীলঙ্কা সরকার জ্বালানির দাম ৪০ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও দীর্ঘায়িত হলে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সহসা কাটবে না।


ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি, পুঁজিবাজারে প্রভাবের শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকার কম, তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো ধরণের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। এছাড়া নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যাংকগুলোও তাদের ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে না; অবশিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে স্টক বা বোনাস লভ্যাংশ আকারে দিতে হবে। শনিবার (২৩ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে মূলধন সংরক্ষণ হার এবং ডিভিডেন্ড পে-আউট রেশিওসহ বিভিন্ন নীতিমালা থাকলেও, নতুন এই নির্দেশনা ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, লভ্যাংশের পুরো অর্থ নগদে না দিয়ে একটি অংশ মূলধনে পুনরায় বিনিয়োগ বা ‘রি-ইনভেস্ট’ করলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি কমে আসবে।

এই নতুন নীতিমালা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার সময় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। তবে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলী যথারীতি বহাল থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেললেও ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ঈদের আগে চাঙা শেয়ারবাজার, সূচকে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কার্যদিবস রোববার (২৪ মে) দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে সূচকের উর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেই ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে গেল শেয়ারবাজার। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই প্রধান মূল্যসূচকগুলো বেড়েছে, যদিও ডিএসইতে লেনদেনের গতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঈদের আগে শেয়ার বিক্রির যে বাড়তি চাপ ছিল, তা কমে আসায় বাজার পুনরায় স্থিতিশীলতার পথে ফিরেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন ১৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৩৬টির এবং ৯২টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং শক্তিশালী ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সামান্য বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৮২ ও ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

তবে সূচক বাড়লেও ডিএসইতে তারল্য প্রবাহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। রোববার মোট ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় ১২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, যাদের ২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও মীর আখতার হোসেন লিমিটেডসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৬টির দাম বেড়েছে এবং ৭১টির দাম কমেছে। এই বাজারে মোট ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈদের ছুটির পর যদি এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে, তবে পুঁজিবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গতিশীলতা ফিরবে।


চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে  ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের পূর্ণ প্যানেলে জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকরা সরাসরি ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার রাতে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম। এবারের নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদের সবকটিতেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’। ১৮টি পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ হলেও টাউন ও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণির ৬ জন পরিচালক আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় পুরো পর্ষদই এখন এই ফোরামের নিয়ন্ত্রণে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, মোট ৬ হাজার ৭৮০ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৭২৫ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। সাধারণ শ্রেণিতে ৪৬ শতাংশ এবং সহযোগী শ্রেণিতে ৩২ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। ২০১৩ সালের পর থেকে চেম্বারের সব কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গঠিত হয়ে আসছিল, ফলে এবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে। নির্বাচনের জন্য মোট ১৭টি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল যেখানে ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন।

চেম্বারের বিধি মোতাবেক, নবনির্বাচিত ২৪ জন পরিচালকের প্রত্যক্ষ ভোটে এখন একজন সভাপতি এবং দুইজন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী সোমবার সকালে এই প্রেসিডিয়াম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ শ্রেণিতে কামাল মোস্তফা চৌধুরী ১ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়া এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী এবং মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। সহযোগী শ্রেণিতে মো. জাহিদুল হাসান ও মো. নুরুল ইসলামসহ ছয় জন নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্রধান ও নবনির্বাচিত পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ভোটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করুক। সেটিই হয়েছে।’ গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা ও চেম্বারের কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


banner close