২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ১৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির রাজস্ব আয় কমেছে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মূলত আলোচিত অর্থবছরে ডিএসইর মোট লেনদেন হ্রাস পাওয়া এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি ও ট্রেনিং একাডেমিক ফি বাবদ আয় কমায় এক্সচেঞ্জটির সার্বিক আয় কমে গেছে। এ সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর নিট মুনাফাতেও ভাটা পড়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরের মোট লেনদেন থেকে ডিএসই কমিশন ফি বাবদ ৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা আয় করেছে। যেখানে আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল ৯৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমায় ফি বাবদ আয়ও কমেছে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ২১ শতাংশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৪২টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে লিংস্টিং ফি আদায় করেছে ডিএসই। এসব কোম্পানি থেকে আলোচ্য অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির আয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে ২৩২টি কোম্পানি থেকে ঢাকার এই পুঁজিবাজারের আয় হয়েছিল ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর লিংস্টিং ফি বাবদ আয় বেড়েছে ৯৮ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির ডেটা বিক্রি ও অন্যান্য আয় ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৪ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইর লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং ট্রেনিং একাডেমিক আয় কিছুটা কমে যথাক্রমে ৩ কোটি ৭৩ লাখ এবং ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল যথাক্রমে ৫ কোটি ৬৬ লাখ এবং ৫৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসই সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে। যদিও এ সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে ৩৫২ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে এক্সচেঞ্জটির মোট ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যেখানে ৩৬১ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ডিএসইর ব্যয় হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ৯ জন কর্মী কমানো সত্ত্বেও বেতন-ভাতা পরিশোধ বাবদ ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৬১ লাখ টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্ত খাতে এক্সচেঞ্জটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে। এ খাতে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সে হিসেবে সর্বশেষ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে কিছুটা ভালো সময় পার হয়েছে। এই দুই অর্থবছরে বাজারের লেনদেনের পরিমাণ যেমন ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। তেমনি বিনিয়োগকারীদের মুখেও ভালো মুনাফা পাওয়ায় হাসির ঝলক ছিলে। যদিও অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত দুই অর্থবছরে পুঁজিবাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছিল। এ জন্যই এই সময়কার উত্থান বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে লেনদেন ক্রমহ্রাস পাওয়ায় বাজার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোসহ তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জেরও আয় কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একদিকে লেনদেন খরায় আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর মুনাফায় ভাটা পড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ মুনাফা হয়েছিল ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির নিট মুনাফা কমেছে ২৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ডিএসই- সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে পূর্বের অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরেও অর্ধেকের বেশি সময় ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপিত ছিল। এ কারণে বাজারের লেনদেন কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলে ধারাবাহিকভাবে বেশির ভাগ সিকিউরিটিজের দরপতন হতে থাকে। এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিধায় পড়ে যায়। ফলে অর্থবছরের বাকি অংশেও লেনদেন তেমন একটা হয়নি। তাই কমিশন বাবদ পুঁজিবাজার থেকে এক্সচেঞ্জটির আয় কমে গিয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, ‘আমাদের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে লেনদেনের কমিশন থেকে প্রাপ্ত মাশুল বা আয়। কিন্তু গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় কমে গেছে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমাদের বড় একটা ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে গত অর্থবছরে সার্বিকভাবে ডিএসইর আয় ও মুনাফা-দুটোই কমেছে।’
এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডিএসইর পর্ষদ। এ হিসাবে ৫৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করতে হবে। ফলে লভ্যাংশ বণ্টনের পর আলোচিত অর্থবছরের অর্জিত মুনাফার মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ডিএসইর পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যুক্ত হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে মোট ৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বণ্টন করেছে। সে হিসেবে আলোচিত অর্থবছরে অর্জিত ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মুনাফা থেকে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যোগ হয়েছিল।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আয় ও মুনাফা কমার পাশাপাশি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ডিএসইর। আলোচিত অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন রেশিও কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশে। আগের অর্থবছর শেষে এ রেশিও ছিল ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। টাকার পরিমাণে সর্বশেষ অর্থবছর শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ২০০ কোটি। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সর্বশেষ অর্থবছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমার পাশাপাশি জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে আরো ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিলামের মাধ্যমে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই অর্থ কেনা হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে গত সপ্তাহেও দুই দিনে একই দরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে এই ডলার কেনার ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও স্থানীয় মুদ্রার (টাকা) তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে এই ডলার কেনার পর বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে।
দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগামী মাসে ঈদুল আযহা সামনে রেখে প্রবাসীরা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই ধারাবাহিকতায় চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনা এবং পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭০ পয়সা ধরে) এর পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এর আগে মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এই অঙ্ক ছিল ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৮৩৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্রাঙ্গণে এক সৌজন্য সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন। গত রোববার আয়োজিত এই বিশেষ সভায় তিনি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বিকাশে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সিএসই’র চেয়ারম্যান এ. কে. এম. হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। সভার এক পর্যায়ে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাজারের বহুমুখীকরণ এবং বিশেষ করে ‘ডেরিভেটিভস মার্কেট’ ও ‘মাল্টি অ্যাসেট ক্লাস এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের সফল অভিজ্ঞতা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তিনি ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজারে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ডা. রাজীব রঞ্জন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘পুঁজিবাজার বিষয়ে ভারতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী। যৌথ কারিগরি সেশন ও নলেজ ট্রান্সফার প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশেষত কমোডিটি ডেরিভেটিভস খাতে ভারতের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের আর্থিক বাজারকে আরও উন্নত করতে পারে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া (এমসিএক্স) এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই)-এর সফল মডেলটি সিএসই’র জন্য একটি ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে।’ রাজীব রঞ্জনের মতে, ভারত বাংলাদেশকে কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং একটি প্রকৃত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গণ্য করে এবং দ্বিপাক্ষিক এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নিবিড় হবে।
সিএসই’র চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ভারতের সহকারী হাইকমিশনারকে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামতের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং দুই দেশের আর্থিক খাতের এই মেলবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একটি গণমাধ্যম এই সংবাদের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক অভিনব পডকাস্ট সিরিজ চালু করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের এই দূরদর্শী পদক্ষেপটি মূলত এই খাতের সার্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিস্তারকারী নানাবিধ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার একটি অনন্য প্রয়াস। এই ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের তৈরি পোশাক খাতের অপার সম্ভাবনা ও সত্যনিষ্ঠ চিত্র প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ব্যতিক্রমী পডকাস্ট আলোচনায় অর্থনীতিবিদ, সফল ব্যবসায়ী, শীর্ষ ব্যাংকার ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সুচিন্তিত মতামত ও প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ও এর সম্ভাব্য বহুমাত্রিক প্রভাব, মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা এবং শিল্প প্রবৃদ্ধির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার মতো সমসাময়িক ও জটিল বিষয়গুলো। এই তথ্যবহুল পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য, ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুশাসনে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।
জাতীয় অর্থনীতি ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে অপরিসীম অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রায়শই তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে সমাজে নানারকম ভুল ধারণা ও অপপ্রচার ছড়ানো হয়। বিজিএমইএ-র এই যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মটি তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সেইসব অসত্য বয়ান দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠনের পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পোশাক শিল্পের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর কর্মকৌশল নির্ধারণে এই পডকাস্ট সিরিজটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও মনে করেন যে, এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের সামগ্রিক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত হবে।
পরিবর্তনশীল বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এই ক্ষণে বিজিএমইএ-র এই পডকাস্ট সিরিজ জ্ঞান ও নীতি-নির্ধারণী সংলাপ বিনিময়ের এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির দুটি আকর্ষণীয় পর্ব প্রচারিত হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় পর্ব অতি শীঘ্রই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। পডকাস্টের এই পর্বগুলো বিজিএমইএ-র নিজস্ব ডিজিটাল মাধ্যমসহ ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত সম্প্রচার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে। নিয়মিত নতুন পর্বগুলোর হালনাগাদ তথ্য জানতে সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় বিনিয়োগ কাঠামোকে আরও সংহত ও যুগোপযোগী করতে এক বড় ধরণের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে সরকার। এর ফলে বর্তমানের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠান— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনিক এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমগুলোকে একটি একক ছাতার নিচে এনে বিনিয়োগ সেবা প্রদানকে আরও সহজতর ও ফলপ্রসূ করা। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সংস্থাগুলোকে একীভূত করে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে একটি নতুন ও বৃহৎ জাতীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারি এই পদক্ষেপের ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্রদান আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মূলত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতেই এই সমন্বিত প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’ গঠিত হলে শিল্প স্থাপন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনবলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।
দেশের জ্বালানি তেলের ঘাটতি কাটাতে আরও পাঁচটি জাহাজ দেশে আসছে। গত সপ্তাহে যেখানে ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এসেছে, সেখানে চলতি সপ্তাহেই ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল ও ৩২ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে এসব জাহাজ আসছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ওমান থেকে ৩৫ হাজার টন এবং দুপুরে মালয়েশিয়া থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে গোল্ডেন হরাইজন ও এফপিএমসি। এ ছাড়া বিকেলে ভারত থেকে আরও ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে প্যাসিফিক ইনডিগো বন্দরে ভিড়ার কথা রয়েছে।
জাহাজগুলোর লোকাল এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম জানান, "দেশে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুততম সময়ে তেল খালাসের বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আগে থেকে লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাহাজ এসে ভেড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল খালাস শুরু করে দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "গত শুক্রবার ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চারটি জাহাজ এসে ভিড়েছিল।" এসব জাহাজের তেল খালাস কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে আজ যুক্ত হচ্ছে ১.০১ লাখ টন জ্বালানি তেল বহনকারী আরও তিনটি জাহাজ।
আগামী তিন দিনের মধ্যে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ৩২ হাজার টন ডিজেল নিয়ে হাফনিয়া চিতা দেশে পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ৩২ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে আসবে জিং টং ৭৯৯।
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনার প্রভাবে স্বর্ণের মূল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর তথ্যানুসারে, সোমবার দিনের শুরুতে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ‘৪ হাজার ৮০৯ দশমিক ৭১ ডলারে’ দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একইসাথে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ‘৪ হাজার ৮২৯ দশমিক ৪০ ডলারে’ নেমেছে। বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “গত সপ্তাহে বাজার যে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল, তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের দাম কমেছে। এর ফলে আবারও ‘যুদ্ধকালীন বাণিজ্য’ পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।” মূলত অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় মার্কিন ডলার এবং বন্ড ইল্ড—উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ এখন বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজার ও শেয়ারবাজারে। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ আটক করার পর তেহরান থেকে প্রতিশোধের হুমকি আসায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং মন্তব্য করেছেন, “স্বর্ণের দিকনির্দেশনা এখন বৈশ্বিক ঝুঁকির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি এর ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।” উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতের প্রভাবে স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, কারণ উচ্চ সুদের হার এই মূল্যবান ধাতুর বিনিয়োগ আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
বিশ্ববাজারে মূল্যের এই নিম্নমুখী ধারার ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যেকোনো সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ‘২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা’ নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ‘২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা’ এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ‘২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকায়’ কেনাবেচা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামেও পতন দেখা গেছে; স্পট সিলভারের দাম কমে প্রতি আউন্স ‘৮০ দশমিক ৩৬ ডলারে’ ঠেকেছে।
জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন ও বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে সরকারি উদ্যোগে তৈরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ফুয়েল পাস বিডি’র নিবন্ধন কার্যক্রম আরও ১৯টি জেলায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। সোমবার ২০ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বার্তার মাধ্যমে এই সম্প্রসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মাঝে তেলের যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই উদ্ভাবনী পাইলট কর্মসূচিটি হাতে নিয়েছে। নতুন করে এই সুবিধার আওতায় আসা জেলাগুলোর তালিকায় রয়েছে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহের মতো প্রধান প্রধান মহানগরী ও বিভাগীয় অঞ্চলে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সকল জেলাতেই ফুয়েল পাস ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। সরকারি এই ডিজিটাল পদক্ষেপটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সংস্কারে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দরপতনের ধারা অব্যাহত ছিল। অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য হ্রাস পাওয়ার ফলে এক্সচেঞ্জটির প্রতিটি মূল্যসূচকই নিম্নমুখী হয়েছে। তবে বাজারে উল্লেখযোগ্য বিক্রয় আদেশের সমান্তরালে বেশ কিছু সিকিউরিটিজে মানসম্মত ক্রয় চাহিদাও বজায় ছিল, যার প্রভাবে সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ গত কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সকালের দিকে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সময়ের সাথে সাথে শেয়ার বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং দুপুর নাগাদ দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন নিশ্চিত হয়।
ডিএসইতে এদিন ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৭টিরই দরপতন ঘটেছে এবং মাত্র ১২০টির দাম বেড়েছে; বাকি ৬২টির দাম ছিল অপরিবর্তিত। ফলস্বরূপ, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩২ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে এবং বাছাইকৃত ডিএস-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৮২৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন লক্ষ করা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২৮ পয়েন্ট হারিয়ে ১৪ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেখানে লেনদেন হওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯০টির দর কমেছে এবং ৮১টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসাথে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ গত দিনের তুলনায় কমে ৩৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পুঁজিবাজারের এই মিশ্র প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতার আভাস দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও টেক্সটাইল খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে আঙ্কারা যাবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধি দল। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্সিয়াল কাউন্সেলরও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্রুত বিজিএমইএ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "পণ্য বহুমুখীকরণে তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার এবং এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।" তিনি বাংলাদেশের ম্যান-মেড ফাইবার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কের শক্তিশালী রিফাইনিং সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে ২০১১ সাল থেকে কার্যকর ‘সেফগার্ড ডিউটি’ প্রত্যাহার এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
তুরস্ক থেকে আমদানি করা তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়েও মতবিনিময় হয়। এ প্রেক্ষিতে বিজিএমইএ তুরস্কের অর্গানিক কটন ও আধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠকে তুর্কি এয়ারলাইন্স এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের উন্নত লজিস্টিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনাও আলোচিত হয়। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
বিজিএমইএ’র অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক খাতে কর্মরত মার্চেন্ডাইজারদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়, তুরস্কের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন দীর্ঘ ১৭ বছর পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ নির্বাচনে ‘খ’ প্যানেলের প্রার্থী হাসেন আলী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হরিণ প্রতীক নিয়ে এক হাজার ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ক’ প্যানেলের খন্দকার মিজানুর রহমান ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকে এক হাজার ২৬ ভোট পেয়েছেন।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেম্বার ভবনে ভোটগ্রহণ চলে এবং গণনা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে ‘খ’ প্যানেলে অংশ নেন বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ‘ক’ প্যানেলের ২১টি পদের মধ্যে বিএনপিপন্থি নয় জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন এবং জামায়াতপন্থি ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের ফলাফলে ১১টি পদে জয়ী হয় ‘ক’ প্যানেল এবং ‘খ’ প্যানেল পায় ১০টি পদ।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ‘ক’ প্যানেলের শামসুর রহমান শান্তন ঘুড়ি প্রতীকে এক হাজার ১৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন ‘খ’ প্যানেলের জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যিনি চশমা প্রতীকে এক হাজার ৭৫ ভোট পেয়েছেন।
পরিচালনা পর্ষদের ১৮টি পরিচালকের মধ্যে ১০টি পদ পেয়েছে ‘ক’ প্যানেল এবং ৮টি পদ গেছে ‘খ’ প্যানেলের দখলে। ‘ক’ প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা হলেন রেজাউল করিম, শাহ মো. মাইনুল হোসেন শান্ত চৌধুরী, হাসিবুল আলম, ইমাম মেহেদী, আহসান হাবীব, শাকিলুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, রুহুল আমীন, ফরহাদ হোসেন এবং মোবাশ্বের আলী।
অন্যদিকে ‘খ’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন তৌহিদ হাসান, মাইনুল হক, মো. শামসুজ্জামান, তাসনিম হোসেন, গোলাম সাকলাইন, এ জে এম জান্নাতুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম এবং মাহমুদ হাসান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফ হোসেন জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৯০০ জন এবং তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল।
আজ রবিবার দুপুরে এর তথ্য নিশ্চিত করেন পার্বতীপুর রেল তেল ডিপোর মেঘনা পেট্রোলিয়াম কম্পানির ম্যানেজার।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেল হেড তেল ডিপোতে তেল এসে পৌঁছায়।
তারও আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন এবং ১৮ এপ্রিল শনিবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।
ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এ ডিজেল পৌঁছায়।
এরপর সেখান থেকে রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কম্পানিতে সরবরাহ করা হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট যেন ব্যবসায়ীদের জন্য ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের প্রেক্ষাপটে করজাল সম্প্রসারণ ও ব্যবসা সহজীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এমসিসিআই এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের বিনীত প্রত্যাশা– আসন্ন জাতীয় বাজেটটি যেন ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়।”
সেমিনারে তিনি বাজেট প্রণয়নে ছয়টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে করজাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, করপোরেট কর হ্রাস, ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল চালু, পিএসআর ও আইনি অসংগতি দূরীকরণ, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এসএমই খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
করজাল সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে কামরান টি রহমান বলেন, দেশে এক কোটির বেশি ‘টিআইএন’ থাকলেও অর্ধেকেরও কম করদাতা রিটার্ন জমা দেন। এনআইডি ও টিআইএন ডেটাবেজ সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করদাতাদের ভীতি কমাতে বছরে মাত্র ১০০ বা ১ হাজার টাকার ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ নির্ধারণ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
করপোরেট কর বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, করহার কমানো হলেও ‘নগদ লেনদেনের’ কঠোর শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনীতির বাস্তবতায় এই শর্ত বাতিলের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২.৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানান তিনি।
সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। আগামী বাজেটে অতিরিক্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা বিদ্যমান করদাতাদের জন্য হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যখনই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়, তখন যারা নিয়মিত কর দেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে নতুন করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।’ ২০০৯ সাল থেকে ভ্যাট সংগ্রহে ‘ইসিআর বা ফিসক্যাল’ ডিভাইস ব্যবহারের কথা থাকলেও গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেমিনারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, নিউএইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস করতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত ‘ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল’ চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।