বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০২৩-২৪: লেনদেন খরায় ডিএসইর আয় ও মুনাফা তলানিতে

বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা # জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধন ৪.০৭% কমে ১৩.১২ শতাংশে অবস্থান # লেনদেন থেকে কমিশন আয় কমে যাওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয় বাড়ায় ডিএসইর মুনাফায় ভাটা # ৬১ কোটি মুনাফা করে ৫৯ কোটি লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত
মেহেদী হাসান সজল
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:৫০

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ১৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির রাজস্ব আয় কমেছে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মূলত আলোচিত অর্থবছরে ডিএসইর মোট লেনদেন হ্রাস পাওয়া এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি ও ট্রেনিং একাডেমিক ফি বাবদ আয় কমায় এক্সচেঞ্জটির সার্বিক আয় কমে গেছে। এ সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর নিট মুনাফাতেও ভাটা পড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বা ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরের মোট লেনদেন থেকে ডিএসই কমিশন ফি বাবদ ৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা আয় করেছে। যেখানে আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল ৯৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমায় ফি বাবদ আয়ও কমেছে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ২১ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৪২টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে লিংস্টিং ফি আদায় করেছে ডিএসই। এসব কোম্পানি থেকে আলোচ্য অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির আয় হয়েছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে ২৩২টি কোম্পানি থেকে ঢাকার এই পুঁজিবাজারের আয় হয়েছিল ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর লিংস্টিং ফি বাবদ আয় বেড়েছে ৯৮ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। আলোচিত অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির ডেটা বিক্রি ও অন্যান্য আয় ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৪ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইর লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং ট্রেনিং একাডেমিক আয় কিছুটা কমে যথাক্রমে ৩ কোটি ৭৩ লাখ এবং ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই আয় হয়েছিল যথাক্রমে ৫ কোটি ৬৬ লাখ এবং ৫৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডিএসই সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে। যদিও এ সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে ৩৫২ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে এক্সচেঞ্জটির মোট ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে যেখানে ৩৬১ জন কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ডিএসইর ব্যয় হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ৯ জন কর্মী কমানো সত্ত্বেও বেতন-ভাতা পরিশোধ বাবদ ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৬১ লাখ টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্ত খাতে এক্সচেঞ্জটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে। এ খাতে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সে হিসেবে সর্বশেষ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ডিএসইর ব্যয় বেড়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘ কয়েক বছরের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে কিছুটা ভালো সময় পার হয়েছে। এই দুই অর্থবছরে বাজারের লেনদেনের পরিমাণ যেমন ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। তেমনি বিনিয়োগকারীদের মুখেও ভালো মুনাফা পাওয়ায় হাসির ঝলক ছিলে। যদিও অভিযোগ রয়েছে, আলোচিত দুই অর্থবছরে পুঁজিবাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছিল। এ জন্যই এই সময়কার উত্থান বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে লেনদেন ক্রমহ্রাস পাওয়ায় বাজার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোসহ তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জেরও আয় কমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একদিকে লেনদেন খরায় আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ডিএসইর মুনাফায় ভাটা পড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক্সচেঞ্জটির কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ মুনাফা হয়েছিল ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির নিট মুনাফা কমেছে ২৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডিএসই- সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে পূর্বের অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরেও অর্ধেকের বেশি সময় ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপিত ছিল। এ কারণে বাজারের লেনদেন কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলে ধারাবাহিকভাবে বেশির ভাগ সিকিউরিটিজের দরপতন হতে থাকে। এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিধায় পড়ে যায়। ফলে অর্থবছরের বাকি অংশেও লেনদেন তেমন একটা হয়নি। তাই কমিশন বাবদ পুঁজিবাজার থেকে এক্সচেঞ্জটির আয় কমে গিয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, ‘আমাদের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে লেনদেনের কমিশন থেকে প্রাপ্ত মাশুল বা আয়। কিন্তু গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় কমে গেছে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমাদের বড় একটা ব্যয় করতে হয়েছে। এ কারণে গত অর্থবছরে সার্বিকভাবে ডিএসইর আয় ও মুনাফা-দুটোই কমেছে।’

এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ডিএসইর পর্ষদ। এ হিসাবে ৫৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করতে হবে। ফলে লভ্যাংশ বণ্টনের পর আলোচিত অর্থবছরের অর্জিত মুনাফার মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ডিএসইর পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যুক্ত হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে মোট ৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বণ্টন করেছে। সে হিসেবে আলোচিত অর্থবছরে অর্জিত ৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা মুনাফা থেকে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পুঞ্জীভূত মুনাফা তহবিলে যোগ হয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আয় ও মুনাফা কমার পাশাপাশি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ডিএসইর। আলোচিত অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন রেশিও কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ১২ শতাংশে। আগের অর্থবছর শেষে এ রেশিও ছিল ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। টাকার পরিমাণে সর্বশেষ অর্থবছর শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ২০০ কোটি। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সর্বশেষ অর্থবছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমার পাশাপাশি জিডিপি অনুপাতে বাজার মূলধনের রেশিও কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।


দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম: ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ছাড়াল

আপডেটেড ২১ মে, ২০২৬ ১২:২৪
বানিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমানোর পর আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর আগে বুধবার পর্যন্ত এই মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। স্থানীয় বাজারে অলঙ্কার তৈরির প্রধান উপাদান ‘তেজাবি’ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দর সমন্বয় করা হয়েছে বলে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকায় সোনার প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দামের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৭ thousand ৩৩১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বিক্রি হবে। সোনার মূল্যের পাশাপাশি বাজুস রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও ৩ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই মূলত স্থানীয় বাজারে দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তনের মূল কারণ। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর থেকেই বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৫৩৭ মার্কিন ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে বর্তমানে বর্তমান অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গত কয়েক মাস সোনার বাজারের জন্য এক ঐতিহাসিক সময় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে এক দিনেই ভরিপ্রতি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, যা এ দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম। তবে পরবর্তীতে কয়েক দফায় দাম কিছুটা কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে আবারও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতা ও অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎসবের এই মৌসুমে সোনার এমন লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি কেনাকাটার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য সোনার অলঙ্কার সংগ্রহ করা এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, তাঁরা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের দর পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেই অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করেন। ভবিষ্যতে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে আসে, তবে স্থানীয় বাজারেও দ্রুত দাম কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস প্রদান করেছে।


ঈদ উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে টানা আট দিন বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যকার সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে শুরু করে ১ জুন (সোমবার) পর্যন্ত এই বাণিজ্যিক স্থবিরতা বজায় থাকবে। তবে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ থাকলেও বুড়িমারী ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক থাকবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সোমবার এক দাপ্তরিক নোটিশের মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা দেয়। স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা অঞ্চলের আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সংগঠনগুলোর সাথে যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ছুটির বিষয়ে ইতোমধ্যে উভয় দেশের কাস্টমস বিভাগ, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল জানান, দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামী ২ জুন থেকে পুনরায় নিয়মিত বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের প্রভাব যাত্রীদের ওপর পড়বে না এবং ইমিগ্রেশন সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে। বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনগুলোতেও কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকবে। মূলত পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।


ঈদের আগে মসলার দাম রাজধানীতে চড়া হলেও হিলিতে নিম্নমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর খুচরা বাজারে মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও আমদানির কেন্দ্রস্থল দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ ও এলাচসহ বিভিন্ন মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা এই পরিস্থিতির জন্য বাজার তদারকির ঘাটতি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করেছেন। বর্তমানে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, আদা ২০০ টাকা এবং কাঁচামারিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে এলাচের দাম কেজিতে কয়েকশ টাকা বেড়ে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি লবণের দামও কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে ।

বিপরীতে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে মসলার কোনো সংকট নেই এবং দামও কমতে শুরু করেছে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জিরা, আদা, সাদা এলাচসহ বিভিন্ন মসলা এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা করা হচ্ছে।” কাস্টমস বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ২৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মসলা আমদানি হয়েছে, যার মধ্যে জিরা ও ছোট এলাচই রয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন।

বর্তমানে হিলিতে পাইকারি পর্যায়ে জিরার দাম কমে ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এছাড়া সাদা এলাচের দামও প্রতি কেজিতে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। হিলির পাইকারি বাজারের বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেনের মতে, নতুন সরকারের কঠোর নজরদারি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে এবার দাম কমেছে।

হিলি কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আজম জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মসলা জাতীয় পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদে দেশে মসলার কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয় এবং বাজারদর ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকার খুচরা বাজারে যখন অগ্নিমূল্য বিরাজ করছে, তখন দেশের প্রধান এই আমদানি পয়েন্টে পর্যাপ্ত মজুত ও দাম কমে আসার খবরটি সাধারণ ক্রেতাদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই বিশাল ব্যবধান কমাতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করা জরুরি।


ডেইরি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নিউজিল্যান্ডকে বিনিয়োগের আহ্বান ডিসিসিআই'র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ডেইরি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নিউজিল্যান্ডকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ডিসিসিআই গুলশান সেন্টারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং শ্রীলঙ্কাকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইনের মধ্যকার সাক্ষাৎ হয়। এসময় ডিসিসিআইয়ের পক্ষে এ আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বার্তা।

বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেন যে, ডেইরি শিল্প ও খাদ্য নিরাপত্তার বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিউজিল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করছে। তিনি নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহায়তা কামনা করে বলেন, “বাংলাদেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন, ডেইরি খামারের আধুনিকায়ন, গবাদিপশুর উন্নত জাত উন্নয়ন, মৎস, ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সহায়তার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।” এছাড়া তিনি জলবায়ু ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতেও নিউজিল্যান্ডের বেসরকারি খাতকে একক বা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাসকীন আহমেদ নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তি সেবা আরও বেশি পরিমাণে আমদানির জন্য নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এই খাতের পণ্যগুলো নিউজিল্যান্ডের গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

হাইকমিশনার ডেভিড পাইন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশী পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশী পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’ ডেভিড পাইন দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন এবং বলেন যে এই লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

নিউজিল্যান্ডের খাদ্যপণ্যের উচ্চমান ও জিএমও-মুক্ত বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে শুধু রপ্তানি নয়, আমদানির ক্ষেত্রও বৈচিত্র্যময় করা জরুরি। তিনি বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।


১৯ দিনেই দেশে এল ২৪৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরণের ইতিবাচক গতি সঞ্চার হয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা বৈধ পথে মোট ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, মে মাসের শুরু থেকে এই সময় পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থ পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বমোট ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় যুক্ত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহার বাড়তি কেনাকাটা ও কোরবানির খরচের কথা মাথায় রেখে প্রবাসীরা তাঁদের পরিবারের নিকট অধিক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

ইতিপূর্বে গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে মাসিক আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছিল এবং এর পরের মাস এপ্রিলেও ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের শক্তিশালী প্রবাহ বজায় ছিল। বর্তমানের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অর্থবছরের শেষে প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে সুবিধা বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন ।


ঈদ উপলক্ষে বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে টানা আট দিন বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের মধ্যকার সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে শুরু করে ১ জুন (সোমবার) পর্যন্ত এই বাণিজ্যিক স্থবিরতা বজায় থাকবে। তবে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ থাকলেও বুড়িমারী ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক থাকবে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সোমবার এক দাপ্তরিক নোটিশের মাধ্যমে এই ছুটির ঘোষণা দেয়। স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা অঞ্চলের আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট সংগঠনগুলোর সাথে যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ছুটির বিষয়ে ইতোমধ্যে উভয় দেশের কাস্টমস বিভাগ, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল জানান, দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামী ২ জুন থেকে পুনরায় নিয়মিত বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে, বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের প্রভাব যাত্রীদের ওপর পড়বে না এবং ইমিগ্রেশন সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে। বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান জানিয়েছেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনগুলোতেও কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকবে। মূলত পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।


ম্যানুয়াল চালান পদ্ধতি বাতিল, রাজস্ব জমা হবে এ-চালানে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল চালান পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে সকল সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি বাধ্যতামূলকভাবে শতভাগ ‘এ-চালান’ পদ্ধতির মাধ্যমে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা দিতে হবে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যা সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মূলত সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব ইশরাত জাবিন স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী সরকারের সকল আয় ‘সংযুক্ত তহবিল’ বা ‘প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব’-এ জমা হওয়া আবশ্যক। ট্রেজারি নীতিমালা অনুযায়ী এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত টিএসএ-এর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দপ্তর এখনও পুরোনো ম্যানুয়াল কোড ব্যবহার করছে। এমনকি টিএসএ এড়িয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে পৃথক হিসাব খুলে অর্থ সংরক্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা সরকারের নগদ অর্থের সঠিক হিসাব নিরূপণে বাধা সৃষ্টি করছে।

সরকারের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অলসভাবে পড়ে থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্র সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ১ জুলাই থেকে ‘এ-চালান’ ব্যতিরেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণ বা জমা করা যাবে না। কোনো দপ্তরে পৃথক কোনো ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে তা অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, দেশের সকল সরকারি দপ্তরকে তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে ‘এ-চালান’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে সরকারের তাৎক্ষণিক আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ঋণের সুদজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আর্থিক খাতের এই সংস্কার অত্যন্ত সময়োপযোগী।


বিমা ও আর্থিক খাতের দাপটে শেয়ারবাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিমা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের জয়জয়কারে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক এবং লেনদেনের পরিমাণ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। বিমা খাতের ব্যাপক প্রভাবের ফলে লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে ইতিবাচক গতির সঞ্চার হয়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ১৩১টির এবং ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষভাবে বিমা খাতের ৪৪টি এবং আর্থিক খাতের ১৪টি প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধি সামগ্রিক বাজারকে চাঙ্গা রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২২২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অন্যান্য সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬১ এবং বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার বাজারটিতে মোট ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা গত কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৬৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এনসিসি ব্যাংক, যার ৪২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া আরডি ফুড, টেকনো ড্রাগস, মীর আখতার হোসেন ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনের দিক থেকে সামনের সারিতে ছিল।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরণের ইতিবাচক চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দাম বেড়েছে এবং ৮৭টির দাম কমেছে। সিএসইতে এদিন মোট ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা থাকা ভালো কোম্পানির পাশাপাশি ‘জেড’ গ্রুপের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।


সিএসইর শরিয়াহ সূচকে যুক্ত হলো ৩ কেম্পানি , বাদ পড়ল ১২টি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) তাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বার্ষিক পারফরম্যান্স ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে শরিয়াহ সূচকে বড় ধরণের সমন্বয় সাধন করেছে। বুধবার সিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই নতুন সমন্বয়ের ফলে সূচকে তিনটি নতুন কোম্পানি যুক্ত হওয়ার বিপরীতে আগের ১২টি কোম্পানিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ জুন থেকে সংশোধিত এই শরিয়াহ সূচকটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। বর্তমানে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১০৩টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই শরিয়াহ সূচকটি গঠিত হয়েছে।

সূচকে নতুন করে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো— এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি পিএলসি এবং সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে, পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকায় বা শরিয়াহ মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়া ১২টি কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— গ্রামীণফোন লিমিটেড, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি, এবং বারাকা পাওয়ার লিমিটেড। এছাড়াও ডরিন পাওয়ার, নাভানা সিএনজি, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ও সায়হাম কটন মিলসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে।

নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জন্য শরিয়াহ সম্মত কোম্পানি বাছাই করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সিএসই কর্তৃপক্ষ। শরিয়াহ সূচকের এই পরিবর্তন শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট ঘরানার বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দাম শক্তিশালী হয়েছে। বুধবার ডলারের মান গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও ক্রমবর্ধমান থাকায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বড় ধরণের অর্থনৈতিক চাপ তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারসহ প্রধান প্রধান মুদ্রার বিপরীতে এর মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরেছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারে, তবুও তিনি আবারও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রাকৌশলবিদ ক্যারল কং মনে করেন, ফেডের কঠোর অবস্থান ডলারকে আরও শক্তিশালী করবে।

ডলারের এই শক্তিশালী অবস্থানের কারণে জাপানি ইয়েনের মান প্রতি ডলারে ১৬০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা গত ৩০ এপ্রিলের পর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। ইয়েনের এই পতনের ফলে টোকিও পুনরায় মুদ্রাবাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল থাকায় তেলের দামে অস্থিরতা কমছে না। বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৮ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের চড়া দাম দেশের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা প্রকারান্তরে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা এবং স্থানীয় মুদ্রা টাকার মান স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য এই নতুন সীমা কার্যকর হবে। মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বর্ধিত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বতন সরকারের ঘোষণার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে।

এনবিআর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই অর্থবছরে বার্ষিক ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে কোনো আয়কর দিতে হবে না। এর পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ এবং এর পরের ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হয়েছে। আয়ের পরিমাণ আরও বেশি হলে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হবে। বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখ টাকার পরবর্তী এক লাখ টাকার জন্য ৫ শতাংশ হারে কর দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, নতুন কাঠামোতে তাতে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিশেষ ক্যাটাগরির করদাতাদের জন্যও করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের জন্য এই সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ করদাতাদের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বর্তমানের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমার এই বর্ধিত হার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বর্ধিত সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাজেটে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।


দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য টানা তৃতীয়বারের মতো কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। বুধবার সকালে বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয় এবং এদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি বা পিওর গোল্ড’-এর দাম কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে ঘরোয়া বাজারেও দাম কমানো হয়েছে। নতুন দরের তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির মূল্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা আগের মতোই ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম কিছুটা পড়তির দিকে রয়েছে। স্বর্ণের বৈশ্বিক বাজারদর সংক্রান্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি-র তথ্যমতে, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বর্তমানে ৪ হাজার ৪৬৫ ডলারে অবস্থান করছে। অথচ গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে আউন্স প্রতি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠে গিয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই সময় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম নজিরবিহীনভাবে বেড়ে এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা কিছুটা স্থিমিত হওয়ায় দেশের বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।


বিদেশি বিনিয়োগে ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানার দাবি বিশেষজ্ঞদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতের মতো কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিদেশি আধিপত্য বাড়ছে। এই খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রান্তিকীকরণ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তাই এসব সম্পদে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ দেশীয় মালিকানা এবং বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ’ (সিএসআর) আয়োজিত নীতিনির্ধারণী গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। ‘কৌশলগত সম্পদে দেশীয় বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসআর-এর নির্বাহী পরিচালক সাকিব আনোয়ার।

আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ক্যাব সভাপতি আবু আলম শহীদ খান, সাবেক সচিব শফিক জামান, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান, ঢাকা স্টিম উপদেষ্টা সম্পাদক হাসান মামুন, ঢাকা স্টিমের প্রধান নির্বাহী কর্নেল (অব.) মো. সোহেল রানা, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ কো-অর্ডিনেটরসবুজ এইচ চৌধুরী, এফসিএ, এটিজেএফবি সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার।

মূল প্রবন্ধে সাকিব আনোয়ার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) নামে মূলত দেশীয় অর্থের ও ঋণের ব্যবহার হচ্ছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিদেশি অপারেটরের ১৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশই এসেছে দেশীয় ও আঞ্চলিক ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ থেকে।

অন্যদিকে, দেশীয় উদ্যোক্তারা সমান সুযোগ পেলে যে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম, তার প্রমাণ হলো সিডিডিএল ও এমজিএইচ গ্রুপ। চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিডিডিএল আগের অপারেটরের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীলতা দেখিয়েছে। একইভাবে, এনসিটি পরিচালনায় এমজিএইচ গ্রুপ বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ে কনটেইনার প্রতি বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তাছাড়া, ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এমজিএইচ গ্রুপ লালদিয়ায় গ্রিন টার্মিনাল নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে।

উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে প্রবন্ধে বলা হয়, আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়াই লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অস্বাভাবিক দ্রুততায় মাত্র ১৩ দিনে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসির নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৬২ দিন।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (৯৩.৫০ ও ৯৭.৫০ ডলার) চেয়ে কনটেইনার প্রতি বেশি রাজস্ব (৯৮.৫০ ডলার) দেয়ার প্রস্তাব করলেও, সরকার বিদেশিদের নিয়েই মূল্যায়ন কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

বক্তারা বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা পেতে বিদেশি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রদূত ও রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে লবিং করছে। কিন্তু দেশীয় লজিস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের এমন কোনো অর্থবহ সংলাপ নেই। আমরা বিদেশি বিনিয়োগের বিপক্ষে নই, কিন্তু পিসিটির মতো ঋণের টাকায় ‘এফডিআই’ দেখানোর কোনো মানে হয় না। বিদেশি প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বা যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, কৌশলগত খাতে দেশীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা নীতি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলে। সবশেষে কৌশলগত অবকাঠামোতে বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রে দেশীয় কোম্পানির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন বন্দর নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের সুপারিশ করা হয়।


banner close