শেষ হতে যাচ্ছে ২০২৪। বছরটি দেশের পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির ছিল না। ভয় ও আতঙ্কের বছর ছিল বললেও ভুল বলা হবে না। বছরের প্রথমার্ধে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পরে দর সংশোধনের ফলে পতন দেখা দেয় পুঁজিবাজারে। এতে আতঙ্ক ও পুঁজি হারানোর ব্যথা সইতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বছরের শেষার্ধে সরকার পরিবর্তনের পর সংস্কারের উদ্দেশ্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এতে ফের অনাস্থা ও দরপতনে আতঙ্ক কাটেনি পুঁজিবাজারে। এসবের মধ্যে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বা আইপিও বাজারও ভালো ছিল না।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত বছরে বিভিন্ন কারণে আতঙ্কেই কেটেছে বিনিয়োগকারীদের। আওয়ামী শাসনামলে দেশের পুঁজিবাজারে অনিয়মের কারণে যে দুর্দশা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজন মৌলিক পরিবর্তন। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী সে বিষয়ে অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইসের ধকল গেছে। আশা ছিল, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর চিত্র বদলে যাবে। খুব সামান্য সময়ের জন্য বাজারে কিছু মুভমেন্ট দেখা গেলেও ইতিবাচক সাড়া নেই।
এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে না। মৌলিক (ফান্ডামেন্টাল) পরিবর্তন নেই। সুশাসনের (গভর্ন্যান্স) দিক থেকেও ভালো কিছু দেখা যাচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ে রোডম্যাপ নেই।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর ধরে সিস্টেমের খারাপ ব্যবহার হয়েছে। এ জায়গায় কমিটমেন্ট দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির নেতিবাচক অবস্থা, সুদহার বেশি, গভর্ন্যান্স ইত্যাদি কারণে পুঁজিবাজারে অবস্থা ভালো নয়।
যা ঘটেছে বছরজুড়ে
পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকাতে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। এতে একধরনের স্থবিরতা নেমে আসে পুঁজিবাজারে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম দফায় ৩৫টি বাদে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় পুঁজিবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। ফ্লোর প্রত্যাহারের পরই দরপতন শুরু হয়। এতে পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দরপতনের কারণে মার্চ শেষে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বাজার মূলধন কমে গেছে।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা, যা গতকাল দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে বছরের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ২৪২ পয়েন্ট, যা বছরের শেষ দিকে ২৯ ডিসেম্বর দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০৪ পয়েন্টে। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে সূচক কমেছে ১ হাজার ৩৮ পয়েন্ট।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ আগস্ট পদত্যাগ করেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল–ইসলাম। শিবলী কমিশনের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেয় সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন। বদলানো হয়েছে দেশের উভয় পুঁজিবাজারের পর্ষদ।
৭ অক্টোবর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজার সংস্কারের সুপারিশের জন্য পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের কাজ চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন। বাজারে চাঙা ভাব ছিল কিছুদিন। কিন্তু, একটু ঝলক দেখিয়ে নিভতে থাকে বাতি। গত ২৮ অক্টোবর ডিএসইএক্স সূচক কমে ৪ হাজার ৮৯৮ পয়েন্টে নেমে আসে, যা ছিল চার বছরের মধ্যে নিম্নতম। পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পর্যায়ে চলে আসেন বিনিয়োগকারীরা, যা নতুন কমিশনও ঠেকাতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতে বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বারবার বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিএসইসির ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
আইপিও বাজার খারাপ
২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- এনআরবি ব্যাংক, বেস্ট হোল্ডিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং টেকনো ড্রাগস। চারটি কোম্পানি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে মোট ৬৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স, শিকদার ইনস্যুরেন্স এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড আইপিওতে আসে। চারটি প্রতিষ্ঠানের উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণ ছিল ২০২ কোটি টাকা। পরপর দুই বছর মাত্র চারটি করে প্রতিষ্ঠান আইপিওতে এলেও ২০২২ সালে ছয়টি প্রতিষ্ঠান আইপিওর মধ্যে শেয়ারবাজার থেকে ৬২৬ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার টাকা তুলেছিল। অবশ্য আগের তথ্য দেখলে শেষ দুই বছরের আইপিওর চিত্র খুবই হতাশাজনক। কারণ, ২০২১ সালে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৪৪ লাখ ৪ হাজার টাকা।
আইপিও বাজারে দুর্দশার কারণ হিসেবে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে যেভাবে আসতে চায়, সেভাবে আসতে পারছে। প্রাইসিং মেথডের সমস্যা। আমরা বরাবরই এ বিষয়টা বলে আসছি।
এদিকে চলতি বছরে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে বোরাক রিয়েল এস্টেটের ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার আবেদন বাতিল করেছে নতুন কমিশন। বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস নামের একটি কোম্পানির ৫০ কোটি টাকা এবং জেনিথ ইসলামি লাইফের ১৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের আবেদনও বাতিল হয়েছে।
জরিমানার বছর
নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর পুঁজিবাজারে ১২টি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৭২২ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছে, যা পুঁজিবাজারের ইতিহাসে কোনো একটি বছরের সর্বোচ্চ। যুগের পর যুগ ধরে পুঁজিবাজারের আলোচিত চরিত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় আসে ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান এবং সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরুর নাম।
এ ছাড়াও নতুন আলোচনায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেইস ম্যানেজমেন্টের অংশীদার চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, আরেক অংশীদার হাসান তাহের ইমাম, এলআর গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরখাস্ত সদস্য মতিউর রহমানের।
মৌলিক বিষয়ে সুসংগঠিত সংস্কারের পরিবর্তে কেবল জরিমানা করে পুঁজিবাজারের জন্য বেশি কিছু নেয়ে আসা সম্ভব নয় বলে মনে করে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ। সংগঠনের নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, জরিমানা করা রেগুলার প্র্যাকটিস। আমরা এর বিরোধিতা করছি না। কিন্তু, এটা নিয়ে বেশি সময় দিতে চাই না। এটা সমাধান নয়।
তবুও আশাবাদী বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টরা
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগ পুঁজিবাজারে সুদিন নিয়ে আসবে বলে আশাবাদী বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী সানী মাহমুদ বলেন, অতীতে যে দুরাবস্থা গেছে পুঁজিবাজারে, ভবিষ্যতে সেই জায়গা থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং সরকার পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা রাখছি।
আশাবাদ রেখেছেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামও। তিনি বলেন, আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকরি উদ্যোগ, সংস্কারের প্রতিফলন এবং পুঁজিবাজারের প্রতি সরকারের একাগ্রতা দেখা যাবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, ২০২৪ সালে বিভিন্ন কারণে পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন দেখা গেছে। বাজারের স্বার্থে নতুন কমিশন কাজ করছে, সংস্কারে উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশন আশা করছে, আগামী বছরে এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারে।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিত্যপণ্য মজুতের এক অভিনব ও উদ্বেগজনক কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিবছর রমজানে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিকে পুঁজি করে সাধারণত স্থলভিত্তিক গুদামে পণ্য মজুত করা হতো, কিন্তু এবার প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে নদীপথে ভাসমান লাইটার জাহাজকেই ‘অস্থায়ী গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, যশোর ও নোয়াপাড়া এলাকার নদীতে পণ্যবোঝাই এমন অসংখ্য জাহাজ পণ্য খালাস না করে দীর্ঘ দিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুট করার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ দেশের প্রধান পাইকারি মোকামগুলোতে এখনই এই অসাধু তৎপরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহে আপাতদৃষ্টিতে বড় কোনো ঘাটতি না থাকলেও ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমদানিকারকরা পরিকল্পিতভাবে বন্দর থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন এবং লাইটার জাহাজে পণ্য আটকে রাখছেন। এতে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। নির্বাচন ও রমজান প্রায় একই সময়ে হওয়ায় এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। রমজান ও নির্বাচনের সময় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং এই অপতৎপরতা রুখতে নৌপরিবহন অধিদফতর ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শন দফতরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হবে। ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত জাহাজে থাকা পণ্যের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রমজানকে সামনে রেখে আমদানিকারকরা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করায় বহিঃনোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের ভিড় বেড়েছে, যার ফলে পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজেরও সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রাখছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে টাস্কফোর্স। যদিও লাইটার জাহাজ মালিক সমিতি দাবি করেছে, এমন অভিযোগ তাদের কাছে নতুন এবং অধিকাংশ জাহাজ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি গ্রুপের মতো বড় আমদানিকারকরা দাবি করছেন, পণ্য খালাসে ১-২ দিনের বিলম্ব স্বাভাবিক ঘটনা, এটিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাদ্যদ্রব্য মজুত করা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভাসমান জাহাজে বা অন্য কোনো উপায়ে অবৈধ মজুত প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের ২ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক অভিযানের মাধ্যমেই এই অসাধু চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে বাজার স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন বছরের শুরুতেই দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে; জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ২৫ জানুয়ারি রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “চলতি জানুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ।” এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার সংগৃহীত হয়েছিল, যা বর্তমান অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় ইতিহাসে কোনো একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত বছরের জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাব্যঞ্জক ছিল, যার মধ্যে নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার দেশে আসে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।
পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে বাংলাদেশের বর্ডার এজেন্সিগুলোর কাজের কৌশল ও গুরুত্বেও এসেছে নতুন মাত্রা। একসময় রাজস্ব আহরণই কাস্টমসের প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো, কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেই ধারণা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাস্টমসের এই বহুমুখী ভূমিকা ও গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন বা ডব্লিউসিও প্রতি বছর একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে। ২০২৬ সালের জন্য ডব্লিউসিও আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে কাস্টমস প্রোটেক্টিং সোসাইটি থ্রু ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট। ডব্লিউসিও-এর অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশ কাস্টমসও এই প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দিনটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার এবং দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হচ্ছে।
ফ্রন্টলাইন বর্ডার এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম সহজীকরণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, অস্ত্র, অবৈধ স্বর্ণ, এবং মানহীন খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ রোধসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডব্লিউটিও-টিএফএ, ডব্লিউসিও-আরকেসি এবং সিএমএএ চুক্তিসহ সার্ক, ডি-৮ এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও জাপানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য দেশের কাস্টমস প্রশাসনের সঙ্গেও সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধে ডব্লিউসিও-এর আরআইএলও এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক বা সিইএন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা অপরিসীম। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আয়ের ২৭ শতাংশই এসেছে কাস্টমস খাত থেকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্যে গতি সঞ্চার করা হয়েছে। এছাড়া এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ সুগম করা হচ্ছে।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বা বাণিজ্য সহজীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ জোর দিয়েছে। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, আইবাস প্লাস প্লাস ইন্টিগ্রেশন, বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো বা বিএসডব্লিউ এবং অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বাস্তবায়নের ফলে পণ্যচালান খালাস প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। টাইম রিলিজ স্টাডি অনুসারে, বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য একদিনের মধ্যেই শুল্কায়ন সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া নন-ইনট্রুসিভ ইন্সপেকশন, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর বা এইও, কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ই-অকশন এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে কাস্টমস নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের নিত্যনতুন কলাকৌশলের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় টিকে থাকতে উচ্চ পেশাদারিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যুগোপযোগী কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমস এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শিক্ষা উপকরণে স্টলে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলার সময় যতই এগোচ্ছে তত শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারও সহায়তা ছাড়াই বিজ্ঞানবাক্সের মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের এক্সপিরিমেন্টগুলো অনুসন্ধান, গবেষণা ও তথ্য পরীক্ষা করতে পারে। সে জন্য শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি বিজ্ঞানবাক্সের চাহিদাও বেশি। কোমলমতি শিশুরা এখন মোবাইল ও কম্পিউটারে গেমনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাতে তাদের চিন্তাশক্তি বিকশিত হচ্ছে না। এই শিশুরা যদি খেলতে খেলতে বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি শেখতে পারে তাহলে তাদের চিন্তার শক্তি বিকশিত হবে।
রূপগঞ্জে আব্দুল হক ভুঁইয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় আসা শিক্ষক দিপু রহমান বিজয় ও আমির হোসেন পর্যায়ক্রমে এভাবেই বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়ে তাদের মতামত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। মেলায় এসেই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তারা শিক্ষা উপকরণসহ বিজ্ঞানবাক্সের স্টলে নিয়ে আসেন। ওই স্টলে শুধু তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, ছিল অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদেরও ভিড়।
চুম্বকের ২৬টি মজার খেলা নিয়ে চমক, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াস দুটি মজার সায়েন্স গেম, তড়িৎ তাপ ও আলোর ২০টি মজার খেলা নিয়ে আলোর ঝলক, ট্যানগ্রাম বুদ্ধি বাড়ানোর প্রাচীন চাইনিজ পাজল গেম, ২০টি ফোকাস চ্যালেঞ্জ, তড়িতের ২০টি মজার খেলা ও ২০টি খেলা নিয়ে রসায়ন রহস্য, অদ্ভুত মাপজোখ, ট্যানোগ্রাম, স্মার্টকিট, শব্দকল্প মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রি করছে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স। মহাকাশ এবং সৌরজগৎবিষয়ক নতুন বিজ্ঞানবাক্স ও ক্লাসভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির ২৭টি এক্সপেরিমেন্ট শিশুদের আকর্ষণ করছে। নিজ হাতে ব্যাবহারিক জ্ঞান সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিজ্ঞানবাক্সের পাশাপাশি মেলায় শিক্ষা উপকরণের স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্সের বিক্রয় প্রতিনিধি নাসিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে ১৬ বছর বয়সিদের জন্য বিজ্ঞানবাক্স ব্যবহার করতে পারে। তবে চার থেকে ছয় বছরের কৌতূহলী শিশুরাও বিজ্ঞানবাক্সের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। বয়স কিংবা শ্রেণি অনুযায়ী বাক্স তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবার শিক্ষা উপকরণ বিজ্ঞানবাক্স প্যাভিলিয়নে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।’
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের অপারেশন ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও শিশুদের টিকিটের মূল্য ২৫ টাকা করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ মূল্য ছাড়াই মেলায় প্রবেশ করতে পারছে।’
উল্লেখ্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
পুঁজিবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনের কমিশন সভাকক্ষে বিএসইসি ও সিডিবিএলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিডিবিএলের পক্ষ থেকে সভায় নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন, কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট, সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক পুঁজিবাজার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন আইপিও রুলসের মাধ্যমে আরও বেশি প্রফেশনাল ও বিশ্বমানের পদ্ধতিতে প্রাইস ডিসকভারির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিডিবিএলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিডিবিএলকে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চায় কমিশন।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে সিডিবিএলকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ানের মতো নতুন ভূমিকায় দেখতেও আগ্রহী কমিশন।
সভায় সিডিবিএলের চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসা উচিত। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সিডিবিএলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে দুটিতে নামিয়ে এনে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত (মার্জ) করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে রয়েছে ৬৪টি। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘গভর্নেন্স (সুশাসন) ব্যর্থতা ও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে ব্যাংক খাত থেকে ৩ লাখ কোটি টাকার মতো পাচার হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের গভর্নেন্স সিস্টেম নষ্ট হয়েছে।
গভর্নর বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- গভর্নেন্স ফেইলর। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে ব্যাংকের দুরবস্থার কারণ হলো- ব্যাংকগুলোর মালিকানা ব্যক্তিদের হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেমন ইসলামী পাঁচটি ব্যাংক এক করা হলো। সবগুলো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স না থাকায় ৩ লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গেছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘পৃথিবীতে চারটি খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম। ফলে বাংলাদেশে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির অবস্থানে রয়েছে। এখন আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত খাতকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বর্তমান গর্ভনর। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়ে গেছিল। আমরা বুঝতে পারছি, এই খাতটা কতটা নাজুক পর্যায়ে আছে। বিভিন্ন কলাকৌশলে এটাকে ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা এসেছে সেটা অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
এক দশকেরও বেশি সময় পর আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে যাত্রীদের সময় ও ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
বিমান এই রুটে একমুখী টিকিটের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা। রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের মূল্য ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকা থেকে শুরু। এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, এটি বিদ্যমান ট্রানজিট খরচের তুলনায় বড় ধরনের সাশ্রয়।
একাধিক ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাব হয়ে ইকোনমি ক্লাসে ফিরতি টিকিটের দাম পড়ছে ৮৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আসন সংকট এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতার কারণে ভাড়া বেড়েছে।
ইনোগ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের সিইও এবং ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক মো. তসলিম আমিন বাসসকে জানান, পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের দুবাই, দোহা বা শারজার মতো শহর হয়ে ট্রানজিট যাত্রা করতে হয়েছে। এতে যাত্রার সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। কিন্তু বর্তমানে যাত্রীদের গড়ে সাড়ে ৮ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগছে, কখনো কখনো ট্রানজিট সূচির কারণে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।’
ট্রাভেল এজেন্টদের মতে, বিমানের সরাসরি সেবাদান চালু হলে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য এয়ারলাইন্স এই রুটে বিমান পরিচালনা করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, পুনরায় চালু হওয়া ঢাকা-করাচি রুটটি প্রাথমিকভাবে ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। ফ্লাইটগুলো আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ট্রায়াল ভিত্তিতে চলবে।
বিমানের বিপণন ও বিক্রয় পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঢাকা-করাচি প্রথম ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।’
দুই মাসের পরীক্ষামূলক সময়ে যাত্রী চাহিদা, লোড ফ্যাক্টর এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব মূল্যায়নের ভিত্তিতেই রুটটি স্থায়ী করা হবে কি না এবং ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সর্বশেষ ২০১২ সালে বিমান এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। তবে, যাত্রী সংকট ও লোকসানের কারণে সে সময় সেবা বন্ধ করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন— বৃহস্পতিবার ও শনিবার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ঢাকা থেকে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) ফ্লাইট ছেড়ে রাত ১১টায় করাচিতে পৌঁছাবে। করাচি থেকে রাত ১২টায় ফ্লাইট ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় এমন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ট্রানজিট বিঘ্ন ছাড়াই কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরাসরি সংযোগ যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’
পুনরায় ফ্লাইট চালুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও কারিগরি বিষয়ে আলোচনার পর আকাশপথ ব্যবহারের অনুমোদন এবং সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-করাচি রুট পুনরায় চালু হওয়াকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এ রুটে চামড়া রপ্তানি, কৃষি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক ভ্রমণ, ধর্মীয় পর্যটন ও চিকিৎসা ভ্রমণও সহজ হবে, যা এতদিন উচ্চ ভাড়া ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে সীমিত ছিল।
দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার রাজধানীর বিআইসিএম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন- এনরিকো লরেঞ্জোন (টিম লিডার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স), মিরোস্লাভ স্ক্রিয়েচকা (অ্যাটাচি- প্রোগ্রাম অফিসার, ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স, ম্যাক্রোইকোনমি ও পিএফএম) এবং কিশোয়ার আমীন (প্রোগ্রাম ম্যানেজার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স)।
বিআইসিএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুছ সালেহীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আসিফ ইমরান, সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ এবং নির্বাহী প্রেসিডেন্টের একান্ত সচিব হুমায়রা আলম।
বৈঠকে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইনস্টিটিউটের সামগ্রিক কার্যক্রম প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। ইইউ কীভাবে এসব শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে ইইউ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে বিআইসিএমের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা এই খাতের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার এবং আগামীতে সব ধরনের সহযোগিতা চলমান রাখার আশ্বাস দেন।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কানাডা থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ তেল সংগ্রহ করা হবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে সব ধরনের খরচ ধরে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে জরুরি বিবেচনায় ডিপিএম পদ্ধতিতে তেল কিনতে কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের (উৎস: ব্রাজিল) কাছে দরপ্রস্তাব চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি তা দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) পরে প্রস্তাবটি পরীক্ষা করে যোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির দরাদরির মাধ্যমে সুপারিশ করা এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের কাছে থেকে উল্লিখিত পরিমাণ তেল ৩৫৭ কোটি ৬২ হাজার ১০০ টাকায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ এই মূল্য হবে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা। এই তেল খোলাবাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে এবং কেনা দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হবে। এতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি রোজা সামনে রেখে সংকট রোধে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়। তেল সরবরাহ করবে প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড।
এই তেল কিনতে ব্যয় ধরা হয় ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকা। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার তেলের মূল্য ধরা হয় ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। আর টিসিবির গুদাম পর্যন্ত অন্যান্য খরচসহ প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১০২৭ ও ১৯৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এ দিন ডিএসইতে ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৬৪ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
বুধবার ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৬টি কোম্পানির, কমেছে ১৯২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।
এ দিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো—ওরিয়ন ইনফিউশন, স্কয়ার ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ, চাটার্ড লাইফ, প্রগতি লাইফ, বেক্সিমকো ফার্মা, খান ব্রাদার্স ও সামিট পোর্ট।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে। বুধবার সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮৬টির, কমেছে ৯১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির কোম্পানির শেয়ার দর।
এ দিন সিএসইতে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ২ কোটি টাকার লেনদেন বেড়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বা ট্রেড-বেসড মানি লন্ডারিং (টিবিএমএল) প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে একটি উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারস অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশ (এইসিওবিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে চিটাগাং ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপটি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের ব্যাংকিং খাত, কাস্টমস, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএফআইইউর পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমান। দিনব্যাপী আয়োজিত এই পলিসি ডায়ালগে দুটি পৃথক প্যানেল আলোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রথম প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশে ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং—ব্যাংকিং ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও কমপ্লায়েন্স চ্যালেঞ্জ। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিজেই। আলোচনায় বক্তারা টিবিএমএল-এর পরিবর্তিত ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা স্যাংশনস প্রতিপালন এবং ট্রেড ফাইন্যান্স পর্যবেক্ষণের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা উন্নত সিডিডি ও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া প্যানেলিস্টরা অর্থপাচার রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক অ্যানোমালি ডিটেকশন, ব্লকচেইন প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণের প্রতি বিশেষ জোর দেন।
দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল টিবিএমএল প্রতিরোধে গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাক্টিসেস বা আন্তর্জাতিক সেরা চর্চা—সমন্বিত উদ্যোগ ও আগামী দিনের করণীয়। এই পর্বে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত স্যাংশন স্ক্রিনিং, আন্তঃসীমান্ত তথ্য বিনিময় বা ক্রস-বর্ডার ইনফরমেশন শেয়ারিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তারা ট্রেড-ভিত্তিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও কৌশলগুলো দেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফআইইউর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমেই দেশে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও দায়িত্বশীল কমপ্লায়েন্স কালচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা টিবিএমএল প্রতিরোধে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সমাপনী বক্তব্যে বিএফআইইউ নেতৃত্ব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) ও কমব্যাটিং ফিন্যান্সিং অব টেররিজম (সিএফটি) প্রতিপালন জোরদার করার পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিনীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামক দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
এর আগে সূত্র জানিয়েছিল, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের কী দায়িত্বপালন করবে, কোন ধরনের কর্মকর্তা দায়িত্বপালন করবেন- এসব বিষয়ে অনুমোদনের পর বিভাগ দুটিতে কর্মকর্তাদের পদায়ন শুরু হবে।
২০২৫ সালের মে মাসে সরকার এনবিআরকে ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য কর প্রশাসন আধুনিকীকরণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নীতি প্রণয়ন করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ আর তা প্রয়োগ ও আদায় করবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
রাজস্ব নীতি বিভাগের প্রধান দায়িত্ব হলো কর আইন প্রণয়ন, কর হার নির্ধারণ করা। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর চুক্তি তত্ত্বাবধান, কর ফাঁকি রোধে নীতিমালা তৈরি, কর ফাঁকি ও কর ফাঁকির প্রবণতা মূল্যায়নও এ বিভাগের দায়িত্ব।
অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্ব আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায় ও প্রয়োগ, কর আদায় সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিরীক্ষা করা। এনবিআরের বর্তমান জনবল এই বিভাগে স্থানান্তরিত হবে।
দেশের বাজারে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। এর মাধ্যমে ফের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় উঠলো মূল্যবান এ ধাতুটির দাম।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত সোমবার ঘোষণা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার থেকে ভালো মানের ১ ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। তার আগে ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। অর্থাৎ, ৫ দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলো ১৭ হাজার ৩২২ টাকা। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।
এতোদিন ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার এ দাম নির্ধারণ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।