সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হচ্ছে আজ

উদ্বোধন করবেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস * সাত দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে মেলায় * ৩৬১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁ থাকবে
ফাইল ছবি
আপডেটেড
১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:১৯

২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ-২০২৫) শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ১০টায় এ মেলার উদ্বোধন করবেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এই মেলা হতে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ মেলার যৌথ আয়োজক। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি ৭ দেশের ১১ প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ তথ্য জানান। বাণিজ্যসচিব মোহা. সেলিম উদ্দিন, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বাণিজ্য মেলায় যাত্রী পরিবহনে বিশেষ ছাড় দিতে ইপিবি ও অ্যাপসভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উবারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এরপর বাণিজ্য উপদেষ্টা ডিআইটিএফে প্রবেশের ই টিকেটিং অ্যাপসের উদ্বোধন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বাণিজ্য মেলায় এই প্রথম অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল/প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে এবার। মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির নির্ধারিত বাসসেবা থাকবে। পাশাপাশি থাকছে বিশেষ ছাড়ে উবার সেবা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে মেলায় তৈরি করা হয়েছে জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বর। তরুণসমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন।

মেলায় এ বছরই প্রথম সম্ভাবনাময় খাত/পণ্যভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে স্বতন্ত্র সোর্সিং কর্নার, ইলেকট্রনিকস ও ফার্নিচার জোন। বয়সভিত্তিক দর্শনার্থীদের সুবিধায় তৈরি করা হয়েছে প্রযুক্তি কর্নার, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য সিটিং কর্নার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে শিশুপার্ক। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশুকেন্দ্র। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক এবং শোভন চেয়ার ও বেঞ্চ রয়েছে।

জানানো হয়, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৬১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁ থাকছে এবারের মেলায়। দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে শত ভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, যন্ত্রপাতি, কার্পেট, প্রসাধনসামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, আসবাব, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, চামড়া, আর্টিফিশিয়াল চামড়া, জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, খেলার সামগ্রী, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামিন, পলিমার, হারবাল, টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ফাস্ট ফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, গৃহসজ্জার উপকরণ ইত্যাদি মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রয় হবে।

এক্সিবিশন সেন্টারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে জুলাই চত্বর, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে কালচারাল সেন্টার, প্রযুক্তি কর্নার ও বিনোদন কর্নার রয়েছে। সেন্টারের উত্তর-পূর্ব পাশে শিশুপার্ক এবং উত্তর-পশ্চিম পাশে ছত্রিশ চত্বর ও নামাজঘর স্থাপন করা হয়েছে।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রাঙ্গণের বাইরেও নিয়মিত টহল দল থাকবে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, পার্কিং এরিয়া ও সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয়–সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে।

এবারের মেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এক্সিবিশন হলে পুরুষ ও নারীদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আলাদা টয়লেটের পাশাপাশি এক্সিবিশন হলের বাইরেও পর্যাপ্তসংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলায় খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ভেজালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিত থেকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেবেন। মেলায় পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং ভবন রয়েছে। এ ছাড়া মেলা কেন্দ্রের বাইরে আছে ছয় একর জমিতে পার্কিংয়ের আলাদা ব্যবস্থা।

মেলার সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও দর্শনার্থীদের সব ধরনের তথ্য দেওয়ার জন্য রয়েছে তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সেবার জন্য মেলায় অনেক ব্যাংক বুথ স্থাপন করেছে। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাসব্যাপী এ মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত।


নির্বাচিত

অনুমোদনহীন ২২টি অবৈধ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর শনাক্ত করে সেগুলোর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট স্থায়ীভাবে ব্লক করাসহ গুগল প্লে স্টোর থেকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলো অপসারণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগের তদন্তের বরাতে এই তথ্য পাওয়া যায়।

লাইসেন্সবিহীন হিসেবে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বহুদূর পে, জিনিপে, পে-টিলার, বেঙলি পে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটি পে, ইজিপে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত এবং পিপড়াপে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা দিয়ে আসছিল। তদারকি এড়াতে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ আর্থিক চ্যানেল তৈরি করেছে।

পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর মূলত এমন একটি মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ককে একক সংযোগের আওতায় আনে। নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই সেবা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক, যার অধীনে বর্তমানে দেশে ১১টি বৈধ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি, আইনি সুরক্ষা কিংবা কোনো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকে না। ফলে এসব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারীদের দেউলিয়াত্ব, জালিয়াতি কিংবা আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকের বড় অঙ্কের অর্থ অনিষ্পন্ন থেকে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির বাইরে থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম গ্রাহকের পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোনো বিধানই মানছে না। ফলে তহবিলের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য নির্ধারণ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অধিকন্তু, কিছু প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো নিষিদ্ধ ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন এবং অনলাইন জুয়ায় সরাসরি সহায়তা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সাথে অনিবন্ধিত আর্থিক কার্যক্রমের কারণে সরকার মোটা অঙ্কের ভ্যাট ও ট্যাক্স রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া পেমেন্ট ব্যবস্থা পরিচালনা করা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন করে কোনো ব্যবহারকারী প্রতারিত হলে তার কোনো আইনি দায়ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহন করবে না। এ পরিস্থিতিতে শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, অবৈধ অর্থপাচার ও আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।


নির্বাচিত

পাট রপ্তানিতে ফিরছে সুদিন, দুই মাসে আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ১৬ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার আয় অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১১ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আলোচিত দুই মাসে পণ্যভিত্তিক আয়ের চিত্রে দেখা যায়, কাঁচাপাটের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, পাটের সুতায় ৫৮ শতাংশ এবং অন্যান্য পাটপণ্যে ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে; তবে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি থেকে আয় প্রায় ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট খাতের মোট রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছিল, যা এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এক যুগের সর্বনিম্ন ৮২ কোটি আট লাখ ডলারের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের পাটপণ্য রপ্তানি আয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল এবং চামড়া খাতকে পেছনে ফেলে জাতীয় রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তবে পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে আয় কমে খাতটি শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের তালিকায় তৈরি পোশাক, চামড়া ও হোম টেক্সটাইলের পর চতুর্থ স্থানে নেমে আসে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি মূলত বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজারে কাঁচাপাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থমূল্যে ইতিবাচক দেখালেও পণ্যের পরিমাণের দিক থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের পণ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আয় নিয়ে রপ্তানির সিংহভাগই দখলে রেখেছিল পাটের সুতা, তবে এর রপ্তানির পরিমাণ ২ শতাংশ কমে ৪ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমেছিল। একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ থেকে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় হলেও কাঁচা পাট রপ্তানি ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ১২ লাখ ডলারে নেমে আসে এবং কাঁচা পাটের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ হাজার টনে। এছাড়া বহুমুখী পাটপণ্যের আয়ও ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে স্থির হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য পাঠানো হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রচলিত সুতা ও চটের পাশাপাশি পাটের তৈরি বহুমুখী গৃহসজ্জা সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, বাগান পরিচর্যার সামগ্রী, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ও প্যাকেজিং পণ্যের ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া চীনে পাটকাঠির চারকোলের বিশাল বাজার রয়েছে। বিশ্বে পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের বার্ষিক ৯০ লাখ বেল কাঁচা পাটের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এ খাত থেকে বছরে ৫০০ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব বলে বিনিয়োগ বোর্ডের বিভিন্ন সমীক্ষায় উল্লেখ রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ক্রয়াদেশ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণভাবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের মুনাফাকে সংকুচিত করে রেখেছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাট খাতের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ শীর্ষক একটি পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করে ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কাঁচা পাটের জাতীয় উৎপাদন ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেলে উন্নীতকরণ, স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটবীজের চাহিদার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পূরণ এবং মোট রপ্তানিতে উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের অংশ ৪৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণাগার স্থাপন এবং সাপ্লাই চেইনে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


নির্বাচিত

বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটন-বেইজিং শুল্ক হ্রাসের সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। রোববার এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস। তবে এই শুল্ক ছাড়ের নির্দিষ্ট হার কিংবা তা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সমঝোতার শর্তানুযায়ী, উভয় দেশ পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে তালিকা পর্যালোচনা করে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা বংশোদ্ভূত আতশবাজি, বড়দিনের সাজসজ্জার উপকরণ, গৃহস্থালি পণ্য ও খেলাধুলার সামগ্রীসহ মোট ৭৭ ধরনের পণ্যে শুল্ক কমাতে পারে। অন্যদিকে চীন ওয়াশিংটন থেকে আমদানি করা ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাংস, সামুদ্রিক খাদ্য, দুগ্ধজাত পণ্য, শস্য, হুইস্কি, কাঠ এবং কয়লা।

হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানায়, সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের পর এসব ‘অ-সংবেদনশীল পণ্যে’ আরও সুবিধাজনক শুল্কহার দেওয়ার বিষয়ে কিছু ‘সুপারিশ’ নিয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে। শনিবার বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এই সমঝোতার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন কয়লা ক্রয়ে চীন সম্মত হয়েছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এর আগে দেশ দুটির পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে শুল্কের পরিমাণ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সির বৈঠকে একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।


নির্বাচিত

নদীপথে আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র হয়ে বাংলাদেশে মিথানল রপ্তানির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের জলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে মিথানল রপ্তানি শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’ (এপিএল) এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর উত্তর-পূর্ব ভারতের ডিব্রুগড় অঞ্চল থেকে নদীপথে আন্তর্জাতিক কোনো বাণিজ্যিক পণ্য প্রেরণের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ঘটনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা বলেন, ‘ব্রিটিশরা এ দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে স্বাধীন ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে ডিব্রুগড় থেকে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

মিথানল পরিবহনের সুবিধার্থে আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপরিবহন বিভাগ থেকে দুটি কার্গো জাহাজ ইজারা নিয়েছে এপিএল কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা এই নৌযান দুটিকে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে সংস্কার করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে, যাতে ডিব্রুগড়ে উৎপাদিত রাসায়নিক নদীপথে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে স্বল্প খরচে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই পণ্যবাহী প্রথম জাহাজ ‘ডিএলবি পাটকাই’ ডিব্রুগড়ের বগিবিল ঘাটে এসে অবস্থান করছে। তবে এটি ঠিক কবে নাগাদ বাংলাদেশের উদ্দেশে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। আসাম রাজ্য সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএল মূলত মিথানল ও ফরমালিন প্রস্তুত করে থাকে। মূলত পূর্ব আসামের তেলক্ষেত্রগুলোতে থাকা বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসকে শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছিল।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে উল্লম্ফন, প্রতিব্যারেল প্রায় ১০৬ ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজার খোলার দিনেই জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচলের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে, যা সরাসরি জ্বালানির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেহরান। তবে শনিবার ট্রাম্প এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। অবশ্য এর পরদিনই অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহেই একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এএনজেডের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। হুতি ও ইরান সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে জ্বালানিপ্রবাহ ঝুঁকির মধ্যে আছে।’ উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে সৌদির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ছোড়া দুটি ড্রোন ও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথা জানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ব্রেন্ট তেলের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পায়। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে বাড়ার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ হতে পারে—এমন গুঞ্জনে স্থানীয় পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমার আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দরে এই পতন ঘটেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিশোধিত তেলের বাজারে চলমান চাপের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং ওয়াশিংটন রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির বড় সংকট তৈরি হবে, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই ইউরোপে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তোলন বাড়ায় সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দেশগুলোর দৈনিক তেল রপ্তানি ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের নিজস্ব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের বদলে পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি স্থানান্তর করায় হরমুজ প্রণালির ওপর জ্বালানি পরিবহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারের উদ্যোগে চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলেন, সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো: ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়।

পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ফেডের কড়াকড়িতে ঋণ ব্যয় বাড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতিগত সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট (০.২৫ শতাংশ) বাড়ালেও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর তাৎক্ষণিক কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন দেশটির অর্থনৈতিক ও বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে এর প্রভাবে পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, ডলারভিত্তিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশটির বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫% থেকে ৪.০০%-এর ঘরে। গত মে মাসের শেষভাগে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম নীতিগত পরিবর্তন। ফেডের নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও অন্তত এক দফা (২৫ ভিত্তি পয়েন্ট) বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেএস গ্লোবালের গবেষণা প্রধান ওয়াকাস ঘানি বলেন, ফেডের এই সুদের হার বৃদ্ধি রুপির ওপর কিছুটা চাপ বাড়াতে পারে এবং বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থাকে আরও সংকোচনমূলক করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণকে ব্যয়বহুল করবে। তবে পাকিস্তানের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নে এর তাত্ক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ গত সেপ্টেম্বরে ছাড়া ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারের ইউরোবন্ডের শর্ত আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাঁর মতে, “পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, যা সরাসরি দেশটির আমদানি বিল ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।”

ইসমাঈল ইকবাল সিকিউরিটিজের গবেষণা প্রধান সাদ হানিফ জানান, ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের জন্য একাকী কোনো বড় ধাক্কা হয়ে আসবে না। কারণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন রেকর্ড ২১.৪ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে এবং স্থানীয় ঋণবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও সীমিত।

তবে মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে সাদ হানিফ বলেন, “আগস্টে পাকিস্তানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.১ শতাংশ। ফলে বর্তমানে প্রকৃত সুদের হার মাত্র প্রায় ০.৪ শতাংশ। এ অবস্থায় ফেডের কড়াকড়ির কারণে অদূর ভবিষ্যতে এসবিপির পক্ষে নীতিগত সুদের হার কমানো কঠিন হবে। এছাড়া এসওএফআর (SOFR)-যুক্ত বাণিজ্যিক ঋণের মতো ফ্লোটিং রেটের বৈদেশিক ঋণের পরিশোধ ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওয়াশিংটনের ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বৃদ্ধির চেয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে ওঠানামা করা পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ও চলতি হিসাবের জন্য অনেক বেশি উদ্বেগের।”

একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ খান বলেন, ফেডের সিদ্ধান্তের ফলে রুপির অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বাড়বে এবং ঋণ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাবে। এছাড়া জ্বালানি ও সারের মতো জরুরি পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়লে তা মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, রিজার্ভ বাড়লেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানকে প্রায় ২১.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। রপ্তানি বৃদ্ধির চেয়ে ঋণ ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

আরিফ হাবিব লিমিটেডের (এএইচএল) গবেষণা প্রধান সানা তাওফিক এটিকে ফেডের একটি “মৃদু বৃদ্ধি” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এতে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা না থাকলেও ডলার শক্তিশালী হবে এবং মার্কিন বন্ডের ফলন বাড়বে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো যখন সংকোচনমূলক নীতির দিকে যাচ্ছে, তখন পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো স্থিতাবস্থা ধরে রেখেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের মনিটরি পলিসি কমিটি (এমপিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় বৈঠকে তাদের নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ১১.৫ শতাংশে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


নির্বাচিত

ট্যানারির বর্জ্য রূপান্তর হচ্ছে রপ্তানিমুখী মূল্যবান পণ্যে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভার চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত কঠিন রাসায়নিক বর্জ্য এখন উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকারী এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ওষুধ শিল্পের উপযোগী জেলটিন ও চামড়া নরম করার কাজে ব্যবহৃত শিল্প প্রোটিন পাউডার উৎপাদিত হচ্ছে। চীনের ওয়েনঝো ইউয়ানফেই গ্রুপের প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে দেশে প্রতিষ্ঠিত দুটি কারখানা এই সম্ভাবনাময় খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

কারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রম
সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কাছে ওয়েনঝো ইউয়ানফেই ও পিংইয়াং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত ‘বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ২০২৪ সালে নিবন্ধিত শতভাগ রপ্তানিমুখী ‘ইয়ংলি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড’ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানা দুটিতে কাঁচামাল হিসেবে সাভার শিল্পনগরী থেকে সংগৃহীত ওয়েট ব্লু ডাস্ট, চামড়ার ছাঁট ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে কারখানা দুটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার টন ট্যানারি বর্জ্য রিসাইকেল করছে এবং এতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) সমৃদ্ধ বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোম্পানির বার্ষিক জেলটিন উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার টন, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি ট্যানারির বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়েছে।


গত বছর থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে ইতোমধ্যে চীন ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের জেলটিন এবং ৩ লাখ ডলারের শিল্প প্রোটিন পাউডার। সম্প্রতি হংকং থেকেও ৪ লাখ ডলারের জেলটিনের নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সনদ সম্পন্ন করার পর তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এসব পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আমদানি নির্ভরতা হ্রাস
জেলটিন প্রধানত ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণ তৈরিতে এবং শিল্প প্রোটিন পাউডার প্রক্রিয়াজাত চামড়াকে নরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কাঁচামালের জন্য স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের জেলটিন এবং ১ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের খালি ক্যাপসুলের আবরণ আমদানি করেছে। ফলে দেশে এ ধরনের উৎপাদন বাড়লে তা আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্ভাবনাময় এই শিল্প বর্তমানে কাঁচামালের তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। বছরে ৫ হাজার টন জেলটিন উৎপাদনের জন্য প্রায় ৩০ হাজার টন গরুর কাঁচা চামড়ার ছাঁট প্রয়োজন হলেও দেশে এর মোট বার্ষিক সরবরাহ মাত্র ২০ হাজার টনের মতো। এর ওপর সম্প্রতি কিছু ব্যবসায়ী এই কাঁচা ছাঁট বিদেশে রপ্তানি শুরু করায় স্থানীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্প ও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষায় সাভার চামড়া শিল্পনগরী থেকে গরুর চামড়ার কাঁচা ছাঁট রপ্তানি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ইউএস এফডিএ নিবন্ধন, হালাল ও জিএমপি সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ সুরক্ষার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্যাপসুল খাতের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবৃদ্ধি
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ সাতটি দেশে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৬ ডলার মূল্যের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা) জেলটিনের খালি ক্যাপসুল রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭২ হাজার ৪০৮ ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৭ হাজার ১৮৯ ডলার। বছরভেদে এসব পণ্যের শীর্ষ গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, জার্মানি এবং সবশেষে মেক্সিকো।

বাজার গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী, খালি ক্যাপসুলের বৈশ্বিক বাজারের আকার ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বার্ষিক ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (নিউট্রাসিউটিক্যালস), স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওষুধ শিল্পের গবেষণার প্রসারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমানের জেলটিনজাত পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করছে।


নির্বাচিত

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পণ্যে ‘ডিসকাউন্টের’ প্রতিযোগিতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিতে শুরু করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। আসন্ন হ্যালোউইনসহ উৎসবের মৌসুমকে সামনে রেখে সুপারশপগুলোর মাঝে এখন গ্রাহক টানতে রীতিমতো দাম কমানোর প্রতিযোগিতা চলছে।

জনপ্রিয় ডিসকাউন্ট চেইন আলডি ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাজা খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তারা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমমূল্যের ছাড় দেবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্যের দর গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষ চেইন ক্রোগার পণ্যের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চড়া মূল্যের জেরে মতানৈক্য তৈরি হওয়ায় রেড বুল ও বোয়ার্স হেডের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে কোম্পানিগুলোর বাড়তি মুনাফার চাপ ভোক্তাদের ওপর না পড়ে।

মুদিপণ্য কেনাকাটায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও দামের বড় ছাড়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাকার্ট জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি বড় গ্রোসারি চেইন তাদের ‘নো মার্কআপ’ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হয়েছে, যার ফলে দোকানে সরাসরি যে দামে পণ্য পাওয়া যায়, অ্যাপে অর্ডার করলেও গ্রাহককে ঠিক একই দামে পণ্য দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো বাড়তি অনলাইন মাশুল যুক্ত করা হচ্ছে না। ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস রজার্স জানান, যেসব রিটেইলার বাড়তি দাম ছাড়া পণ্য বিক্রি করছে তাদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অন্যদের চেয়ে অন্তত ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

অপর পাইকারি প্রতিষ্ঠান কস্টকো তাদের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের হিসাবে কফি, আখরোট ও গোলমরিচের মতো নিত্যপণ্যে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও রন ভ্যাচরিস বলেন, ‘পণ্যের উৎস পর্যায়ে কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, কীভাবে পণ্যের দাম যত দূর সম্ভব নিচে নামিয়ে রাখা যায়। নতুন নতুন উপায়ে দাম কমানোটাই আমাদের মূল কাজ।’ এর আগে রিটেল জায়ান্ট ওয়ালমার্ট এ বছর ১১ হাজারের বেশি পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে। সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের বাণিজ্য সম্মেলনে ওয়ালমার্ট ইউএসের সিইও গুগিনা বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে পণ্যের সাময়িক মূল্যছাড়কে স্থায়ীভাবে কম দামে রূপান্তর করার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে পারছেন।’

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা প্লেসার ডটএআইয়ের তথ্যে দেখা যায়, অর্থনৈতিক চাপের মুখে সাধারণ মানুষ বেশি ছাড় দেওয়া সুপারশপগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে এবং আলডিতে ক্রেতাদের আগমন সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার কোনো তাৎক্ষণিক অলৌকিক সমাধান না থাকলেও সংকটময় সময়ে বড় সুপারশপগুলোর এমন প্রতিযোগিতামূলক মূল্যছাড় সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ লাঘবে বড় সহায়ক হবে।


নির্বাচিত

দুই দশকে কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) বিগত দুই দশকে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১২ গুণ। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রারম্ভিক মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেইপিজেডে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে।

বর্তমানে কেইপিজেডের ২৫৮টি শিল্প প্লটে ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ মিলিয়ে মোট ৪০টি শিল্পকারখানা পুরোদমে উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পরিচালিত। এছাড়া প্রায় ৫০ হাজার বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরও পাঁচটি নতুন শিল্প ইউনিটের বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের বৈশ্বিক উদ্যোক্তারা এই শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপন করেছেন।

কেইপিজেডের বাণিজ্যিক অগ্রযাত্রার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৭ সালের নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি শুরুর প্রথম অর্থবছরে এখান থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই শিল্পাঞ্চল থেকে বিশ্বের বাজারে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিগত পাঁচ অর্থবছরের চিত্রে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৩০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, প্রথাগত পোশাকের বাইরে বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণই এই শিল্পাঞ্চলের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এখানে হাই-টেক ক্রীড়া পোশাক, আধুনিক বাইসাইকেল, আন্তর্জাতিক মানের ক্যাম্পিং তাঁবু ও সরঞ্জাম, সেফটি সুট ও জুতা, আসবাবপত্র এবং চামড়াজাত বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এসব বিশেষায়িত পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানের মুখে ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে এ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে পতেঙ্গার স্থবির শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলটির উদ্বোধন করেছিলেন, যা বন্দরনগরীর শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।


নির্বাচিত

রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের ‘থ্রি-আর’ কৌশল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কর প্রশাসনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব সংগ্রহের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংস্থাটি তাদের সামগ্রিক রাজস্ব কৌশল সাজিয়েছে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে। এগুলো হলো—পুনরুদ্ধার (রিকভারি), পুনর্বহাল (রেস্টোরেশন) এবং পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন)। এর মধ্যে রিকভারি কৌশলের আওতায় গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে; রেস্টোরেশন কৌশলে করের আওতা সম্প্রসারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রিকনস্ট্রাকশন কৌশলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক সংস্কার এবং কর-জিডিপি ব্যবধান কমানোর এই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে নির্ধারিত মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগ থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অনুবিভাগ থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস বা শুল্ক অনুবিভাগ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, ‘আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে এনবিআর আশা করছে।’

আয়কর খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে কর ফাঁকি রোধ, উৎসে করের পরিধি বৃদ্ধি এবং আইনি কাঠামোর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হওয়া ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার ওপর ভিত্তি করে চলতি বছর ১০ শতাংশ স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতায় কর ফাঁকি শনাক্ত করে ৩ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার, পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সৃষ্ট কর মামলা নিষ্পত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা এবং বিলম্বিত রিটার্নে উৎসাহিত করে আরও ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। নীতিগত সংস্কারের আওতায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার কমিয়ে ১ হাজার কোটি, সব প্রতিষ্ঠানে টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে ১ হাজার কোটি এবং অডিটেড বিবরণী বাধ্যতামূলক করে ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর বিটুবি মডেলে উৎসে কর থেকে ৭ হাজার কোটি, আবাসন খাতে আইএফআরএস-১৫ প্রয়োগে ৪ হাজার কোটি এবং মূলধনি মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার আরোপের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভ্যাট অনুবিভাগে বিদায়ী অর্থবছরের ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায়ের ধারাবাহিকতায় ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন বৃদ্ধির সুবাদে ১৫ হাজার কোটি এবং সিগারেট ও বিড়িসহ তামাক খাত থেকে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকা আদায়ের রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিষ্পন্ন ভ্যাট মামলার ৫০ শতাংশ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে কাস্টমস অনুবিভাগে বিদায়ী অর্থবছরের ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বিপরীতে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত প্রবৃদ্ধিতে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি এবং নতুন বাজেটের পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের আশা রয়েছে। এছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কঠোরভাবে রোধ করে ১ হাজার ৮০০ কোটি, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫০০ কোটি, নিলাম কার্যক্রম থেকে ৫০০ কোটি, আমদানি পণ্যের সঠিক মূল্য ও শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ থেকে ৪০০ কোটি এবং স্থগিত রাজস্ব নিষ্পত্তির মাধ্যমে আরও ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শুল্ক প্রশাসন।


নির্বাচিত

সূচকের পতনে কমেছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের অবনমন লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পেলেও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা বেড়েছে।

ডিএসইর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শরিয়াহ সূচক এবং ডিএসই-৩০ সূচক যথাক্রমে ১২ পয়েন্ট করে কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১০৩ ও ২০৯৯ পয়েন্টে। এদিন বাজারটিতে শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড মিলিয়ে মোট ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কার্যদিবসের ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার তুলনায় ২৯ কোটি টাকা কম। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরপতনের পাল্লাই ছিল ভারী; যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ৭৫টির, বিপরীতে ২৭৭টি সিকিউরিটিজের দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের দর।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। বাজারটিতে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৬৬টির, বিপরীতে দর কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর। সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও সিএসইতে লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে; দিনশেষে সেখানে মোট ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা বেশি।


নির্বাচিত

বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে প্রণোদনা ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে নগদবিহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহারের বিপরীতে নতুন আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মিলিতভাবে মোট ৬ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই আর্থিক সুবিধা সরাসরি কোনো সাধারণ ক্রেতা বা বিক্রেতার হিসাবে যুক্ত হবে না; বরং লেনদেনটি সফলভাবে সম্পন্নকারী দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ দেওয়া হবে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, এমএফএস এবং পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের সাথে যুক্ত অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিক্রেতার মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনাকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২ টাকা। অন্যদিকে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ক্রেতার হিসাব বা কার্ড প্রদানকারী পক্ষ পাবে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৪ টাকা। উদাহরণ হিসেবে, ২ হাজার টাকার একটি কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ৪ টাকা পাবে। একইভাবে ১ হাজার টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকুয়ারিং পক্ষ ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং পক্ষ ২ টাকা হারে মাসিক ভিত্তিতে এই প্রণোদনা লাভ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের (পিআরএ) মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্সধারী সব বাণিজ্যিক মার্চেন্ট পয়েন্টের বাংলা কিউআর লেনদেনে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে। এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে প্রণোদনার আওতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরের বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনে আরও বেশি উৎসাহিত হতে পারে।


নির্বাচিত

banner close