সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এই লেনদেন তার আগের বছরের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম ছিল। ২০২৪ সালে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১০ কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ডিএসইর বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৩৫ কার্যদিবস। আগের বছরে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ২৪৪ কার্যদিবস। অথাৎ সর্বশেষ বছরে ডিএসইতে লেনদেন কম হয়েছে ৯ কার্যদিবস। কার্যদিবস কমা সত্বেও টাকার অংকে ২০২৪ সালে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি। তবে আলোচ্য বছরে ডিএসইর ব্লোক মার্কেটে লেনদেন কমেছে। এ বছরে মাত্র ৯ হাজার ২১৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। আগের বছরে ব্লক মার্কেটে লেনদন হয়েছিল ১৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। ওই লেনদেন তার আগের বছরের লেনদেনের তুলনায় দশমিক ৫৩ শতাংশ কম ছিল।
এসএমই মার্কেটে লেনদেন বেড়েছে ৮৮%
ডিএসইর এসএমই মার্কেটে ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। আগের বছরে এ মার্কেটে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। এই লেনদেন তার আগের বছরের চেয়ে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম ছিলো।
বেড়েছে মোবাইল অ্যাপে লেনদেনও
এদিকে ডিএসইতে সর্বশেষ বছরে মোবাইল অ্যাপে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। তবে কমেছে অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেনকারীর সংখ্যা। এক্সচেঞ্জটিতে আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।
তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ডিএসইতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ২১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট, যা মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকার, যা সেই বছরের মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ ছিল। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৪ হাজার ৪৫১ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা বা ২৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।
২০২৪ সাল শেষে মোবাইল ফোনে লেনদেনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪৩৩ জনে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৩২ হাজার ৬৮৮ জন। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে মোবাইল ফোনে লেনদেনকারীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ২৫৫ জন বা ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার জন্য মোট ১ কোটি ৬ লাখ আদেশ পাঠানো হয়৷ এর মধ্যে ১ কোটি ৪ হাজার আদেশ কার্যকর হয়েছে ৷
বাজার মূলধন কমেছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি
২০২৪ সালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হওয়া বাজার মূলধনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আলোচ্য বছর শেষে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে যা ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে ২০২৪ সালে বাজার মূলধন কমেছে ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। আলোচ্য বছরে ডিএসইর বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায় উন্নিত হয়েছিল। আর বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৯ কোটিতে নেমেছিল এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন।
আইপিও তালিকাভুক্তিতে ধস
দেশের পুঁজিবাজারে টানা দুই বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বড় খরা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মাত্র চারটি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগের বছরও চারটি কোম্পানি আইপিওতে অর্থ উত্তোলন করেছিল। পরপর দুই বছরে এত কম আইপিও স্মরণকালের মধ্যে আর দেখা যায়নি। মূলত ২০২৩ সালে আইপিওতে রীতিমতো ধস নামে, যা অব্যাহত থাকে ২০২৪ সালেও। ২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- এনআরবি ব্যাংক, বেস্ট হোল্ডিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং টেকনো ড্রাগস। এ চার কোম্পানির মধ্যে এনআরবি ব্যাংক স্থির-মূল্য পদ্ধতিতে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করে। বাকি তিনটি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে এসেছে। এনআরবি ব্যাংক আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। বাকি তিন কোম্পানির মধ্যে বেস্ট হোল্ডিং ৩৫০ কোটি টাকা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ৯৫ কোটি এবং টেকনো ড্রাগস ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। অর্থাৎ চারটি কোম্পানি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে মোট ৬৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, শিকদার ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড আইপিওতে আসে। অর্থাৎ ২০২৩ সালে তিনটি কোম্পানি এবং একটি মিউচুয়াল ফান্ড আইপিওতে আসে। এর মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংক ৭০ কোটি টাকা, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি টাকা, শিকদার ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। অর্থাৎ চারটি প্রতিষ্ঠানের উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণ ছিল ২০২ কোটি টাকা।
বন্ড তালিকাভুক্তিও নিম্নমুখী
২০২৪ সালে মাত্র দুটি পার্পিচুয়াল বন্ড ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক ফাস্ট পার্পিচুয়াল বন্ড ৫০০ কোটি এবং ইউসিবি ব্যাংক সেকেন্ড পার্পিচুয়াল বন্ড ইস্যু করে ৫৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ৪টি পার্পিচুয়াল বন্ড ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়ে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। এর মধ্যে এবি ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ৬০০ কোটি, ঢাকা ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ২০০ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ৫০০ কোটি এবং ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পার্পিচুয়াল বন্ড ইস্যু করে ৯৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’-এ ফিরেছে, ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষা এখন শূন্যে নেমে এসেছে।
এই অবস্থার কারণে জাহাজের টার্ন-অ্যারাউন্ড সময় কমে এসেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্জনের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা জানান, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ নিশ্চিত করা হয় এবং পরবর্তী অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে তা বজায় ছিল। তবে জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও বিভিন্ন জটিলতায় বন্দর কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, "ঈদের ছুটির সময়ও বন্দর ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে। এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে।"
তিনি আরও বলেন, "এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন। লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা।"
রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ নেয় এবং ঈদের ছুটিতেও রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বেড়ে ১৭ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রতি টন কয়লা ১৪০ ডলারের বেশি দামে লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধিকে এ দামের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ তথ্য জানিয়েছে হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে কয়লার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প হিসেবে আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে। পরিবেশগত কারণে যেসব দেশ কয়লার ব্যবহার কমিয়েছিল, তারাও এখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র পুনরায় চালু করছে।
জাপানসহ কয়েকটি উন্নত দেশ ইতোমধ্যে তাদের জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবেলায় দেশটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর এই বাড়তি চাহিদা বিশ্ববাজারে কয়লার দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশের বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদেশ থেকে আনা কয়লার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ১০ দিনের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল হামলা চালাতে পারে এমন খবরে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তেলের দামে এ উল্লম্ফন দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার প্রভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় মূল্য বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ইসরায়েলে হামলা এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুমকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান বলেন, "পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, "বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ একটি নির্দিষ্ট চক্রে চলে। ইউরোপে এই ঘাটতির প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে।"
তিনি আরও বলেন, "ব্রেন্ট এখন বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি ধীরে ধীরে দাম ১২০ ডলার বা তারও বেশি হবে।"
তার মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এমন সরবরাহ বিঘ্ন আগে দেখা যায়নি এবং এর প্রকৃত প্রভাব আগামী কয়েক মাসে অর্থনৈতিক সূচকে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
রোববার ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অংশ নেন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সোমবার (৩০ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্যালেস দ্য কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয়, "বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং বাণিজ্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে।"
এ সময় আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ তুলে ধরা হয় এবং এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা কামনা করা হয়। বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে জাপানের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার কথাও জানানো হয়।
নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে বলেন, "আরসিইপি জোটে বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত অংশীদার হতে পারে।" তিনি এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক এফটিএ আলোচনার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ারের দরপতনের প্রভাবে সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ফলে সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। তবে এদিন লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়। ব্যাংক ও বিমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদাম কমতে শুরু করে এবং তা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
এই পতনের প্রভাব অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দর কমা কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে যায় এবং দিনের লেনদেন শেষে সব সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় থাকে। দিন শেষে ডিএসইতে ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৫০টির দাম কমেছে এবং ৩০টির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ব্যাংক খাতে কোনো কোম্পানির শেয়ারদাম বাড়েনি। এ খাতের ২৮টির দাম কমেছে, আর ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিমা খাতে ৯টির দাম বাড়লেও ৪৫টির শেয়ারদাম কমেছে এবং ৪টির ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়নি। উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতন বেশি দেখা গেছে। ৩৭টির দাম বাড়লেও ১৫৩টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৪টির কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদাম বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং ৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও সমান চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ৯টির দাম বেড়েছে, ৯টির কমেছে এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক কমলেও লেনদেনে গতি বেড়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ টাকার। এরপর রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন ও বিডি থাই ফুড।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় টেকনো ড্রাগস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ফাইন ফুডস, সিটি ব্যাংক, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং শাইনপুকুর সিরামিক স্থান পেয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সিএএসপিআই সূচক ১১২ পয়েন্ট কমেছে। ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টির দাম বেড়েছে, ৯৮টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দেশের বাজারে একদিনে দুই দফায় সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই সমন্বয়ে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। আগের দিন (শুক্রবার) এ মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
শনিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করা হয়, যা বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নির্ধারিত নতুন দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরি প্রতি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাবেই সোনার দাম বাড়তি চাপে রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার কারণে চলতি মাসের শুরু থেকেই স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।
গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে দেশের বাজারেও বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ২৯ জানুয়ারি এক দফায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। আরও পাঁচটি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিড’ সনদ পাওয়ায় দেশে মোট সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০টিতে।
রবিবার (২৯ মার্চ) তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে তিনটি গোল্ড এবং দুটি প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে।
বর্তমানে দেশে ১১৮টি প্লাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশের, যা পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে।
শিল্প সূত্র জানায়, নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড।
এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭ ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিসটিং বিল্ডিং ভি৪-গাই এর অধীনে গোল্ড সনদ পেয়েছে। নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-০২ ৬৫ পয়েন্ট অর্জন করে একই ক্যাটাগরিতে গোল্ড মান পেয়েছে। অন্যদিকে উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট এবং মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে, যা সর্বোচ্চ মান হিসেবে বিবেচিত।
সংস্থাটি জানায়, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড)’ মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব সনদ প্রদান করে। বৈশ্বিকভাবে এই স্বীকৃতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থার অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্জন তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। বর্তমানে বাংলাদেশ সবুজ পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যে ‘গ্রিন ট্যাগ’ যুক্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দরকষাকষির ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা মিলছে। একই সঙ্গে এটি দেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিদায়ী ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড সনদ অর্জন করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংযোজন। এর মাধ্যমে সবুজ কারখানার সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে এসব কারখানা শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, উৎপাদন ব্যয় কমানোতেও ভূমিকা রাখছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে রফতানি প্রতিযোগিতায়।
তারা বলছেন, টেকসই শিল্পায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি সংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে এবং বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করবে।
দেশের মোট রফতানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের দখলে রয়েছে, যার অংশ ৮০ শতাংশেরও বেশি। এই একক নির্ভরতা দেশের রফতানি কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তবে বৈশ্বিক বাজারে এ খাতের অংশীদারিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যান্য রফতানি পণ্যের অবদান ২ শতাংশের নিচেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশ পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো মূলত একটি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তা সামগ্রিক রফতানি আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অর্থনীতির গতি সচল রাখতে পোশাক খাতের বাইরে নতুন পণ্য খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী খাতগুলোর সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্টস থেকে এসেছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ কোটি টাকা, যা মোট আয়ের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৈশ্বিক চাহিদা, বাণিজ্য নীতি বা ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পোশাক খাতে ধাক্কা এলে দেশের রফতানি আয় চাপের মুখে পড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপসহ নানা কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অতীতে বৈশ্বিক মন্দা, মহামারি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাতেও পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী দেশ যেমন ভিয়েতনাম, চীন ও ভারত ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি, উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। ফলে তারা বহুমুখী রফতানি কাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘ সময়েও এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় ছিল ১২৩ কোটি ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ কোটি ডলারে।
অন্য খাতগুলোর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল থেকে এসেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্য থেকে ১ দশমিক ১ শতাংশ আয়। জুতা ও প্রকৌশল খাত থেকেও সমান হারে ১ দশমিক ১ শতাংশ অবদান এসেছে। এছাড়া রাসায়নিক পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, চিংড়ি, প্লাস্টিক ও তামাক পণ্য থেকে ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত আয় হয়েছে। অন্যান্য খাতের সম্মিলিত অবদান প্রায় ৬ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টরা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চামড়া, ওষুধ শিল্প, আইসিটি, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক এবং কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দামে সামান্য পতন দেখা গেছে, আর বিপরীতে অ্যালুমিনিয়ামের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে এই ভিন্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) লেনদেনের সময় তামার দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি টন ১২ হাজার ২৬৭ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। লেনদেনের শুরুতে এ ধাতুটির দর প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য মন্দা এবং বাজারে তামার বড় ধরনের মজুদ এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে তামার মজুদ গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যা বছরের শুরু থেকে প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে এর আগে বুধবার চীনের ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে সাময়িক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অ্যালুমিনিয়ামের দামে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি টন ৩ হাজার ২৯০ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০ মার্চের পর সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সময়ে অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে—দস্তার দাম বাড়লেও সিসা, নিকেল ও টিনের দাম কিছুটা কমেছে।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে অনলাইনে আবেদন ব্যবস্থার সূচনার পর করদাতাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই সুবিধা চালুর পর স্বল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে এবং অধিকাংশই অনুমোদন পেয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এনবিআরের এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজারের বেশি করদাতা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন এবং সেগুলো ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি করদাতা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন এবং ৪১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
এনবিআর জানায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষ থেকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করদাতাদের সুবিধা বিবেচনায় চলতি বছর রিটার্ন জমার শেষ সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব না হলে করদাতারা অনলাইনে আবেদন করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় নিতে পারবেন। এজন্য নির্ধারিত সময়সীমার আগেই আবেদন করতে হবে।
এনবিআর আরও জানায়, সময় বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় “Time Extension” নামে একটি অপশন যুক্ত করা হয়েছে। করদাতারা নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে সহজেই আবেদন করতে পারছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনাররা অনলাইনে দ্রুত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই আবেদন অনুমোদিত হচ্ছে। সময় বৃদ্ধি অনুমোদিত হলে নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ভারতীয় এক কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টানা ১১ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বন্দর এলাকায় ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসছে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক প্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গত ১৮ই মার্চ বুধবার থেকে শুরু করে ২৭শে মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১০দিন হিলি শুল্ক স্টেশনে কর্মরত সিআ্যন্ডএফ এজেন্টদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে ওই সময়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মাঝে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটির পর শনিবার থেকে সিআ্যন্ডএফ এজেন্টদের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় কাস্টমসের সুপার মৃত্যুবরণ করায় গতকাল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়নি। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে পুনরায় দুদেশের মাঝে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে সকালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে।
এর আগে শনিবার থেকেই বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। ফলে বন্দর এলাকায় আগে থেকে থাকা আমদানিকৃত পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ১০ দিনের বন্ধের পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে এই বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সোনামসজিদ বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি, লোড-আনলোড, পণ্য পরিবহনসহ কাস্টমস ও সিএন্ডএফ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে এই সময়েও সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান এবং সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অফিস সচিব একরামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে বন্দর বন্ধ থাকলেও ১৭ মার্চ কোনো আমদানি বা রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করেনি। শুধুমাত্র খালি ট্রাক নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে এবং সীমিত আকারে লোড-আনলোড কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বাংলাদেশি আলুচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার পথ খুলে গেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভিয়েতনামের বাজারে আলু রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে।
গত শুক্রবার ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী বিদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মে মাসে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেয়। দূতাবাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ যাচাই শেষে ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশের আলুকে আমদানির জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করে।
ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, “এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক। এই অনুমোদনের ফলে আমাদের আলু রপ্তানিকারকদের সামনে বিশাল এক সুযোগ তৈরি হলো। এর সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত আলু রপ্তানি শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।”
দূতাবাস সূত্র জানায়, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য, বিশেষ করে তিল রপ্তানির প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ কম।
অন্যদিকে উৎপাদন অঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জে কৃষকেরা পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছেন মাত্র ছয় থেকে আট টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, “উচ্চ ফলনশীল, রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর নতুন জাত সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। নতুন কিছু জাত থেকে একই পরিমাণ জমি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি আলু উৎপাদন সম্ভব।”
রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়লেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রপ্তানির খবর কিছুটা স্বস্তি মিললেও কৃষকের প্রচুর লোকসান হয়েছে। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না হলে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। যথাযথ অবকাঠামো ও হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ঘাটতি আছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও কৃষক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব জটিলতা দূর হলে বাংলাদেশি আলুর রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং চাষিরা স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ পাবেন।”