সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এই লেনদেন তার আগের বছরের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম ছিল। ২০২৪ সালে একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১০ কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ডিএসইর বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৩৫ কার্যদিবস। আগের বছরে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ২৪৪ কার্যদিবস। অথাৎ সর্বশেষ বছরে ডিএসইতে লেনদেন কম হয়েছে ৯ কার্যদিবস। কার্যদিবস কমা সত্বেও টাকার অংকে ২০২৪ সালে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি। তবে আলোচ্য বছরে ডিএসইর ব্লোক মার্কেটে লেনদেন কমেছে। এ বছরে মাত্র ৯ হাজার ২১৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। আগের বছরে ব্লক মার্কেটে লেনদন হয়েছিল ১৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। ওই লেনদেন তার আগের বছরের লেনদেনের তুলনায় দশমিক ৫৩ শতাংশ কম ছিল।
এসএমই মার্কেটে লেনদেন বেড়েছে ৮৮%
ডিএসইর এসএমই মার্কেটে ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। আগের বছরে এ মার্কেটে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। এই লেনদেন তার আগের বছরের চেয়ে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম ছিলো।
বেড়েছে মোবাইল অ্যাপে লেনদেনও
এদিকে ডিএসইতে সর্বশেষ বছরে মোবাইল অ্যাপে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। তবে কমেছে অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেনকারীর সংখ্যা। এক্সচেঞ্জটিতে আগের বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বা ২৬ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।
তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ডিএসইতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ২১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট, যা মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকার, যা সেই বছরের মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ ছিল। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৪ হাজার ৪৫১ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা বা ২৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।
২০২৪ সাল শেষে মোবাইল ফোনে লেনদেনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪৩৩ জনে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৩২ হাজার ৬৮৮ জন। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে মোবাইল ফোনে লেনদেনকারীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ২৫৫ জন বা ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার জন্য মোট ১ কোটি ৬ লাখ আদেশ পাঠানো হয়৷ এর মধ্যে ১ কোটি ৪ হাজার আদেশ কার্যকর হয়েছে ৷
বাজার মূলধন কমেছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি
২০২৪ সালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হওয়া বাজার মূলধনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আলোচ্য বছর শেষে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে যা ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে ২০২৪ সালে বাজার মূলধন কমেছে ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। আলোচ্য বছরে ডিএসইর বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায় উন্নিত হয়েছিল। আর বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৯ কোটিতে নেমেছিল এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন।
আইপিও তালিকাভুক্তিতে ধস
দেশের পুঁজিবাজারে টানা দুই বছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বড় খরা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মাত্র চারটি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগের বছরও চারটি কোম্পানি আইপিওতে অর্থ উত্তোলন করেছিল। পরপর দুই বছরে এত কম আইপিও স্মরণকালের মধ্যে আর দেখা যায়নি। মূলত ২০২৩ সালে আইপিওতে রীতিমতো ধস নামে, যা অব্যাহত থাকে ২০২৪ সালেও। ২০২৪ সালে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করা চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- এনআরবি ব্যাংক, বেস্ট হোল্ডিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং টেকনো ড্রাগস। এ চার কোম্পানির মধ্যে এনআরবি ব্যাংক স্থির-মূল্য পদ্ধতিতে আইপিওতে শেয়ার বিক্রি করে। বাকি তিনটি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে এসেছে। এনআরবি ব্যাংক আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। বাকি তিন কোম্পানির মধ্যে বেস্ট হোল্ডিং ৩৫০ কোটি টাকা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ৯৫ কোটি এবং টেকনো ড্রাগস ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। অর্থাৎ চারটি কোম্পানি আইপিওতে শেয়ার ছেড়ে মোট ৬৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, শিকদার ইন্স্যুরেন্স এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড আইপিওতে আসে। অর্থাৎ ২০২৩ সালে তিনটি কোম্পানি এবং একটি মিউচুয়াল ফান্ড আইপিওতে আসে। এর মধ্যে মিডল্যান্ড ব্যাংক ৭০ কোটি টাকা, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি টাকা, শিকদার ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। অর্থাৎ চারটি প্রতিষ্ঠানের উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণ ছিল ২০২ কোটি টাকা।
বন্ড তালিকাভুক্তিও নিম্নমুখী
২০২৪ সালে মাত্র দুটি পার্পিচুয়াল বন্ড ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক ফাস্ট পার্পিচুয়াল বন্ড ৫০০ কোটি এবং ইউসিবি ব্যাংক সেকেন্ড পার্পিচুয়াল বন্ড ইস্যু করে ৫৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ৪টি পার্পিচুয়াল বন্ড ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়ে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। এর মধ্যে এবি ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ৬০০ কোটি, ঢাকা ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ২০০ কোটি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পার্পিচুয়াল বন্ড ৫০০ কোটি এবং ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পার্পিচুয়াল বন্ড ইস্যু করে ৯৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকানসহ মোট ১৬টি নতুন ব্যবসায়ী খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই নতুন রাজস্ব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশি ভ্যাট বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। রাজস্ব আয়ের এই গতিধারা অব্যাহত রাখতে এবং পরিধি বাড়াতে নতুন নতুন উৎস ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত এই তালিকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগে সরাসরি সুনির্দিষ্ট করের কাঠামোর বাইরে ছিল।
ভ্যাটের আওতায় আসতে যাওয়া এই ১৬টি খাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মুদির দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, কসমেটিক্সের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র এবং জুতার দোকান। তালিকায় আরও রয়েছে হার্ডওয়্যার, ডেকোরেটরস, এবং মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ ও ওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান। এছাড়া পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্টের দোকানগুলোকেও এই করের অধীনে আনা হচ্ছে। ফার্নিচার শোরুম, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এবং রেস্টুরেন্টগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ভ্যাট প্রদানের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যয় নির্বাহের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো অপরিহার্য। ব্যবসায়িক এই খাতগুলোকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের কাঠামোর আওতায় আনা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে রাজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়িক লেনদেনে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য ব্যবহৃত মেমোরি চিপ বিক্রিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। বাজারে আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির ষষ্ঠ প্রজন্মের ‘হাই ব্যান্ডউইডথ মেমোরি’ (এইচবিএম৪) চিপের বিক্রি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং বাণিজ্যিকভাবে এই অত্যাধুনিক এইচবিএম৪ চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী জুনের শেষ নাগাদ কেবল এই চিপ থেকেই স্যামসাংয়ের মোট আয় ১২০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মূলত এআই সিস্টেমের জটিল কম্পিউটিং কাজ দ্রুততর করতে এবং বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেসিংয়ের গতি বাড়াতে এই এইচবিএম চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্যামসাংয়ের এই বিশেষ চিপগুলো মূলত পরবর্তী প্রজন্মের এআই এক্সিলারেটরের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার আসন্ন ‘ভেরা রুবিন’ প্ল্যাটফর্মটি অন্যতম।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে পঞ্চম প্রজন্মের এইচবিএম৩ই চিপের আধিপত্য থাকলেও, আধুনিক এআই অ্যাপ্লিকেশনের চাহিদার কারণে এইচবিএম৪ চিপই আগামী দিনে ব্যবসার প্রধান উৎস হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্যামসাং কর্তৃপক্ষ বছরের দ্বিতীয় ভাগে (জুলাই-ডিসেম্বর) এই চিপের উৎপাদন ও সরবরাহ আরও ব্যাপক আকারে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারে আসার প্রথম বছর শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন চিপ থেকে স্যামসাংয়ের বার্ষিক আয় ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
শিল্প খাতের সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এইচবিএম চিপের বাজার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে এই খাতের মোট বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলারে। এআই প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান জয়যাত্রা স্যামসাংয়ের জন্য নতুন এক স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে।
স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাজুসের ‘প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বিক্রি হবে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
স্বর্ণের ধারাবাহিকতায় কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় নেমে এসেছে। স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এই আকস্মিক দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলার লড়াইয়ে এক নতুন গতি এনেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড সরাসরি অপসারণের আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও ৯১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে গুগল, অ্যানথ্রোপিক, সেলসফোর্স এবং স্ট্রাইপ-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রন্টিয়ার’। এর আগে এই খাতের উন্নয়নে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কার্বন নিঃসরণ কমানো বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং বায়ুমণ্ডলে জমা থাকা কার্বন সরাসরি শুষে নেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ‘ফ্রন্টিয়ার’ একটি বিশেষ অগ্রিম ক্রয় প্রতিশ্রুতি বা ‘অ্যাডভান্সড মার্কেট কমিটমেন্ট’ মডেলের মাধ্যমে নতুন কার্বন অপসারণ স্টার্টআপগুলোকে আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ভরসায় ‘ডিরেক্ট এয়ার ক্যাপচার’ এবং খনিজ শিলার মাধ্যমে কার্বন শোষণের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিকাশে কাজ করতে পারছেন। লক্ষ্য হলো সংগৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাটির গভীরে বা নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা।
ভারী শিল্প, বিমান ও জাহাজ চলাচলের মতো কিছু খাতে কার্বন নিঃসরণ পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, এই অবশিষ্ট নিঃসরণ সামাল দিতে কার্বন অপসারণ প্রযুক্তিই হবে ভবিষ্যতের কার্যকর সমাধান। যদিও এই প্রযুক্তির ব্যয় এখনও অনেক বেশি, তবে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলোও ইতোমধ্যে এই খাতের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে।
বর্তমান বিশ্ববাজারে কার্বন অপসারণের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার মূল্যের কার্বন ক্রেডিট বিক্রি হয়েছে। তবে এই খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপক বিনিয়োগ এবং সরকারি নীতিসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবর্তিত জলবায়ু নীতিমালা এই বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিপুল বিনিয়োগ মূলত ২০৩৫ সালের ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ‘এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) থেকে বে-মেয়াদি (ওপেন-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) থেকে ফান্ডটি নতুন এই ফরম্যাটে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঘোষিত নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে ফান্ডের ইউনিট ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবেন। ফান্ডটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ এবং লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। এই লেনদেন প্রক্রিয়া ফান্ডের প্রস্পেক্টাস এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা মেনেই পরিচালিত হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ক্লোজড-এন্ড থেকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি লাভজনক ও নমনীয় সুযোগ তৈরি করবে। এখন থেকে যেকোনো কার্যদিবসে ইউনিট কেনা-বেচার সুবিধা থাকায় বিনিয়োগের তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পোর্টফোলিও পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত আয়কে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ দিতে ‘অনাবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ নামে একটি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের আয়ের সঙ্গে দেশের বিনিয়োগের সরাসরি সংযোগ ঘটানো এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায়, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রবাসীরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিশেষ এই হিসাব খুলতে পারবেন। প্রবাসীরা চাইলে সঞ্চয়ী (সেভিংস), চলতি (কারেন্ট) বা স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট)—যেকোনো ধরনের হিসাব পরিচালনার সুবিধা পাবেন। এই হিসাবে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পাশাপাশি অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফা, সুদ এবং শেয়ার সংক্রান্ত লেনদেনের অর্থ জমা রাখা যাবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ এবং এর ওপর অর্জিত মুনাফা যেকোনো সময় প্রবাসীরা চাইলে সম্পূর্ণভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে (প্রত্যাবাসনযোগ্য) পারবেন।
নতুন এই হিসাবের অর্থ দেশের ভেতরেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা এই অর্থ দিয়ে স্থানীয় খরচ মেটাতে পারবেন, অন্য অনাবাসী হিসাবে স্থানান্তর করতে পারবেন কিংবা সরাসরি বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো এই হিসাবের অর্থ ব্যবহার করে বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য টাকায় ঋণ দিতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, এই ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই হিসাবে জমা থাকা অর্থ জামানত হিসেবে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তিও কেনা যাবে। তবে কৃষি, প্ল্যান্টেশন বা বাণিজ্যিক আবাসন খাতে এই ঋণের অর্থ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন ব্যবস্থা প্রবাসী আয়ের আর্থিক মধ্যস্থতাকে আরও নিবিড় করবে এবং প্রবাসীদের জন্য দেশের বিনিয়োগ বাজারে অংশগ্রহণ করা অনেক সহজ হবে।
কাঁচামালের তীব্র সংকটে ভুগছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম রপ্তানিমুখী খাত খুলনার চিংড়ি শিল্প। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। হুমকির মুখে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান। তবে এই সংকট কাটাতে আশার আলো দেখাচ্ছে ক্লাস্টার পদ্ধতি বা উচ্চ উৎপাদনশীল পোনা চাষ।
খুলনার চিংড়ি শিল্পকে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্যজীবীরা। মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ক্লাস্টার পদ্ধতি, অর্থাৎ একই এলাকার একটি বড় অংশের মৎস্যজীবীদের একসঙ্গে কিছু নিয়ম মেনে চাষ করা পদ্ধতিতে চিংড়ির উৎপাদন বেড়েছে কয়েক গুণ।
চিংড়ি চাষিরা বলেন, গভীরতা কম থাকার কারণে আমরা শতকে ১০০-র উপরে পোনা দিতে পারতাম না, ৮০ থেকে ১০০। আর এখন আমরা শতকে কমপক্ষে ২০০ পোনা দিতে পারি। প্রথম বছরেই দুই থেকে তিন ডবল হয়ে গেছে। এখন দুই থেকে তিন কেজি, তো সেখানে পাঁচ থেকে ছয় কেজি, কারো কারো সাত-আট কেজি উৎপাদন হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অফিস বলছে, পরীক্ষামূলক ক্লাস্টার পদ্ধতি সফল হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে রপ্তানি বেড়ে সুদিন ফিরবে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, আমরা চাচ্ছি এটা অন্য চাষীদের ভিতরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। সেটা অ্যাওয়ারনেসের মাধ্যমেও হচ্ছে এবং আমরা অন্য জায়গার চাষিদেরকেও কিন্তু এই ক্লাস্টার ফার্মে যেখানে তিন থেকে চার গুণ বেশি উৎপাদন হয়েছে খামারগুলো কিন্তু আমরা চাষিদেরকে ভিজিট করাচ্ছি এবং তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি।
এদিকে উৎপাদন বাড়াতে নতুন এই পদ্ধতির পাশাপাশি উচ্চ উৎপাদনশীল ভেনামি চিংড়ি চাষের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন রপ্তানিকারকরা।
ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. তরিকুল ইসলাম জহির বলেন, স্বল্প জায়গায় কম খরচ এবং ঝুঁকি কম, এই ধরনের চিংড়ি চাষ হচ্ছে পৃথিবীতে। এখন ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে ভেনামি। সেখানে আমাদের এখানে গভর্নমেন্টের যারা পলিসিতে আছে এবং এর পেছনে বিহাইন্ড দ্য স্ক্রিন অন্য দেশের কেউ কাজ করছে কিনা আমরা জানি না; তারা কোনোমতেই এই ভেনামি চিংড়িকে উৎসাহিত করছে না।
সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারি সহায়তা জোরদার করা গেলে খুলনার চিংড়ি শিল্প আবারো হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।
দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে আনা, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে গভর্নর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি, চার্জ এবং অন্যান্য নিয়মিত পাওনা বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। তিনি মনে করেন, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটাতে এবং বাংলা কিউআরকে সর্বজনীন ও জনপ্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গভর্নর তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “বাংলা কিউআরের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমবে। লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার হবে।” তিনি মনে করেন, এটি কেবল গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাবে না, বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলা কিউআরের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর সফল বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন যে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলা কিউআরকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও জনপ্রিয় করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনে এক নতুন বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
ইউক্রেনের ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ার বাজারে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারে মনোযোগ দিচ্ছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে এশিয়া অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন নির্মাতারা এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে ড্রোন বিক্রির পাশাপাশি যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ইউফোর্স’-এর প্রধান নির্বাহী ওলেগ রোগিনস্কি গত এপ্রিলে টোকিও সফর করেন। সফরকালে তিনি জাপানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিপুল সংখ্যক ড্রোন তৈরির প্রস্তাব দেন। জাপানের পাশাপাশি বর্তমানে আকাশ ও সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় এই আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। ইউফোর্স ছাড়াও ইউক্রেনের আরও বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান যেমন স্কাইটন, জেনারেল চেরি এবং সোয়ার্মার বর্তমানে জাপানে ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপান সম্প্রতি তাদের অস্ত্র রপ্তানির দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সেখানে যৌথ উৎপাদনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইউক্রেন ড্রোন প্রযুক্তিতে যে অসাধারণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউফোর্সের তৈরি ‘মাগুরা’ নামক সামুদ্রিক ড্রোন কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ওলেগ রোগিনস্কি বিশ্বাস করেন যে, পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক পরিবেশ ভিন্ন হলেও ড্রোনের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা অপরিবর্তিত থাকবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিও জাপানের সাথে এই উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজিবাজারে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির তকমা হারিয়েছে টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। স্যামসাংকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় উত্থানই কোম্পানিটির এই ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
বর্তমানে এসকে হাইনিক্স এআই সিস্টেমে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (এইচবিএম) চিপের প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী। এনভিডিয়া ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান গ্রাহক। গত কয়েকদিনে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানির মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান মেমোরি চিপ নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের শেয়ারদর সামান্য হ্রাস পাওয়ায় তারা শীর্ষস্থান হারায়। ২০০০ সালের পর এই প্রথম স্যামসাং ঘরোয়া বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এলো। তবে স্যামসাং দাবি করেছে যে, তাদের অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারগুলো হিসেবে আনলে তারা এখনও এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিপ্লব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির মতো উন্নত এআই মডেল পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত মেমোরি চিপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, যার সদ্ব্যবহার করেছে এসকে হাইনিক্স। ২০০২ সালের দিকে প্রায় দেউলিয়া হতে বসা একটি কোম্পানির জন্য এই অর্জনকে করপোরেট ইতিহাসের অন্যতম বড় সফলতার গল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। একসময় তীব্র ঋণের দায়ে আমেরিকান কোম্পানি মাইক্রনের কাছে বিক্রি হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি আজ বিশ্ব বাজারে রাজত্ব করছে।
২০২৩ সালেও চিপের বাজারে মন্দার কারণে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিল এসকে হাইনিক্স। তবে ২০২৪ সাল থেকে মাইক্রোসফট, গুগল ও মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করায় চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ফলে লোকসান কাটিয়ে কোম্পানিটি বিপুল মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। চলতি বছর এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ৩৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের শীর্ষস্থানে আরোহণের পথ প্রশস্ত করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যের পূর্বাভাস হ্রাস করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। ২০২৭ সালের জন্য অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা তাদের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম। বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়াকেই এই দর হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওপেক জোটের বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, গায়ানা, ভেনিজুয়েলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে তেল উত্তোলনের হার আশাতীতভাবে বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সে তুলনায় বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ছে না। বিশেষ করে বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীনে জ্বালানি ব্যবহারের ধরনে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। দেশটিতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) দ্রুত প্রসার তেলের চাহিদাকে চিরতরে সংকুচিত করে দিচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্ববাজারে দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছে ব্যাংকটি।
তবে দীর্ঘমেয়াদী দাম কমালেও চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারের আগের পূর্বাভাসই বজায় রেখেছে সংস্থাটি। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও গোল্ডম্যান স্যাকস মনে করছে, আগস্টের শেষের দিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে যে, যদি মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে ২০২৭ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। আবার সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হলে এই দাম ৬০ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য গোল্ডম্যান স্যাকসের এই নতুন পূর্বাভাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হবে। তবে যেকোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশি দূতাবাসগুলোর অনুমোদিত স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সংগৃহীত ভিসা ও কনস্যুলার ফি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে এই নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর ফলে ভিসা সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় ভিসা প্রসেসিং এজেন্টরা বাংলাদেশি মুদ্রায় সংগৃহীত ফি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, তাদের বিদেশের কার্যালয় অথবা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে সরাসরি বিদেশে পাঠাতে পারবে। এতদিন এই ধরনের অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় ব্যাংক এবং এজেন্টদের বিভিন্ন আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার সম্মুখীন হতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হলো।
তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা ফি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত হারে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থ প্রেরণের আগে দূতাবাস বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইস্যু করা ইনভয়েস সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে প্রতিটি আবেদনকারীর ফি আদায়ের বিস্তারিত বিবরণ থাকতে হবে। এছাড়া, বিদেশে অর্থ প্রেরণের আগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য সকল প্রকার কর (ট্যাক্স) যথাযথভাবে কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা ফি সংগ্রহ ও প্রেরণ প্রক্রিয়ায় যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি ব্যাংকগুলোর কাজের গতিও বৃদ্ধি পাবে। যদিও সাধারণ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ফি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও ঝামেলামুক্ত হওয়ার ফলে সেবার মান উন্নত হতে পারে।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান সরকার। ইয়েনের এই ধারাবাহিক দরপতন রুখতে এবং মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন হলে যেকোনো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা। বার্তাসংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের মান কমলেও সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যকার সুদের হারের বিশাল ব্যবধান মুদ্রাটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর কাটায়ামা গণমাধ্যমকে জানান, “প্রয়োজন হলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্পষ্ট সমঝোতা রয়েছে, যা উভয় দেশের সরকারই নিশ্চিত করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইয়েনকে শক্তিশালী করতে জাপান আবারও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত মাসেই এই উদ্দেশ্যে দেশটি ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। সোমবারের আলোচনার খবর প্রকাশের পর ইয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও এটি প্রতি ডলারে ১৬১.৯৩ ইয়েনে নেমে গিয়েছিল, যা ১৯৯৬ সালের পর রেকর্ড সর্বনিম্ন দরের কাছাকাছি। মঙ্গলবার টোকিওতে লেনদেনের সময় ডলার প্রতি ইয়েনের দাম ১৬১.৬০-এ অবস্থান করছিল।
জাপানি ইয়েনের এই দুর্বল অবস্থার ফলে দেশটি এক দ্বিমুখী পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, দুর্বল ইয়েনের কারণে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ সস্তা হওয়ায় জাপানের পর্যটন খাতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকার ইয়েনকে শক্তিশালী করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।