মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩

লভ্যাংশ বাড়তে পারে ১৮ ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৫ ১৬:৫৭

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বরে’২৪ অর্থবছরের আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। গত ১৩ মার্চ থেকে প্রাইম ব্যাংকের বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ঘোষণা শুরু হয়। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছর যেখানে সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অন্য ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। গত অর্থবছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) অনিরক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে ১৮ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। একই সময়ে ইপিএস কমেছে ১০টি, অপরিবর্তিত একটি এবং লোকসানে ৬টি ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিএস বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক), ব্যাংক এশিয়া, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি), ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি), পূবালী ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক), ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিটেড ইপিএস) হয়েছে ০.১৩৬ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার লোকসান ছিল ০.০৮১ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.৮৬৯ টাকা। গত অর্থছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ১৩৭ পয়সা।

ব্যাংক এশিয়া: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৭১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ০৬ পয়সা।

ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬৩ পয়সা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২০ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩১ পয়সা।

দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা আয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিডেটেড ইপিএস) হয়েছে ৬৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (কনস্যুলেডেটেড ইপিএস) ১ টাকা ৫১ পয়সা আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৭ পয়সা।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫৭ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। গত অর্থবছরের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৭৮ পয়সা আয় করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে (জানুয়ারি’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ০৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ১১ পয়সা ছিল।

সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬০ ইপিএস হয়েছিল।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৯৪ ইপিএস হয়েছিল।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৩৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ টাবা ১৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ৫ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৯৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল।

যমুনা ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৩ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৭৮ পয়সা।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে বাড়ছে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির দাপট

চীনের গাড়ি নির্মাতাদের নতুন ভরসা বিদেশের বাজার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, বিক্রির প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং চাহিদার চাপ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী করছে দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে বিওয়াইডি ও শাওমির সাম্প্রতিক বিক্রির পরিসংখ্যান চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদেশে গাড়ি বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে সম্প্রসারণের পর এখন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এশীয় বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে চীনা গাড়ি নির্মাতারা।

রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনের অন্যতম বৃহৎ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি টানা ষষ্ঠ মাসের মতো অক্টোবরে বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৬৮ ইউনিটে পৌঁছেছে। তবে আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বরে বিওয়াইডির বিক্রি বেড়েছিল ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক বিক্রিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতা ও চাহিদার পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।

অভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় বিদেশে বিওয়াইডির সম্প্রসারণের গতি অনেক বেশি। অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে গাড়ি সরবরাহ ১০২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ১৯৪ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বাজার এখন প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে বিদেশে বিক্রি বাড়িয়ে ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে বিওয়াইডি। ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমিও। স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এখন গাড়ি উৎপাদন ও সরবরাহে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। শাওমি জানিয়েছে, অক্টোবরে তারা ৫০ হাজারের বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা চলতি বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে আগস্টে ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ৪০ হাজারের বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ বাড়ার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে শাওমির সম্প্রসারণের গতি স্পষ্ট হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে শাওমির মোট গাড়ি সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ইউনিটে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথম ১০ মাসের হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ পূরণ হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে সরবরাহের গতি ধরে রাখতে পারলে নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্মার্টফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের বাইরে গাড়ি উৎপাদনকে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলছে শাওমি। সাম্প্রতিক সরবরাহের পরিসংখ্যান এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বিওয়াইডির সাফল্য

ইউরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের পর চীনা গাড়ি নির্মাতাদের নজর এখন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো উন্নত গাড়ির বাজারের দিকে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিওয়াইডি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যারিসিউর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ হাজারের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিক্রি দেশটিতে টয়োটা ও তাদের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের সম্মিলিত বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত গাড়ির বাজারে এ সাফল্য চীনা নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিওয়াইডির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ক্রেতারা বিকল্প জ্বালানির গাড়ির দিকে ঝুঁকতে থাকায় চীনা নির্মাতারা সেখানে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু বিওয়াইডি নয়, চীনের গিলি, চেরি ও এক্সপেংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে দেশটির গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

জাপানের বাজারে প্রবেশে বাধা

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাফল্য পেলেও জাপানের বাজারে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের অংশ মাত্র ৬ শতাংশ। স্থানীয় গাড়ি নির্মাতাদের শক্ত অবস্থান, ক্রেতাদের মধ্যে হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা এবং চীনের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বাজার সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে জাপানে প্রবেশের পরও প্রত্যাশিত বিক্রি অর্জন করতে পারছে না বিওয়াইডি।

২০২৩ সালে জাপানের বাজারে গাড়ি বিক্রি শুরু করে বিওয়াইডি। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির ৭৫টির বেশি ডিলারশিপ রয়েছে। তবে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সেখানে ৪ হাজারের কম গাড়ি বিক্রি করতে পেরেছে তারা। জাপানের মোট গাড়ির বাজারে বিওয়াইডির অংশ মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। ডিলারশিপ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলেও বিক্রির এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, জাপানের ক্রেতাদের কাছে নিজেদের ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এখনো প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জাপানের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরির জন্য বিওয়াইডি ছোট আকারের গাড়ির বাজারেও প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে চীনের চেরি-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ইএমটি ২০২৭ সালে জাপানে কেই গাড়ি বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। জাপানে কেই গাড়ি ছোট আকারের যাত্রীবাহী গাড়ির একটি জনপ্রিয় শ্রেণি। এ ধরনের গাড়ি বাজারে আনার পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মাধ্যমে জাপানের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি এবং বাজারে প্রবেশের বাধা মোকাবিলার চেষ্টা করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

চীনের অভ্যন্তরীণ গাড়ির বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ডের উপস্থিতি এবং তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা নির্মাতাদের জন্য ব্যবসা পরিচালনাকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে বাজারে চাহিদার ওঠানামা ও বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চাপও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশের বাজারকে প্রবৃদ্ধি ও মুনাফা বাড়ানোর নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তুলনামূলক কম দাম এবং ব্যাপক উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে চীনা গাড়ি নির্মাতারা।

সব মিলিয়ে বিওয়াইডি ও শাওমির সাম্প্রতিক বিক্রির পরিসংখ্যান চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গতি তুলে ধরছে। তবে বিভিন্ন দেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ এক রকম নয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় বিওয়াইডির বিক্রি বাড়লেও জাপানে এখনো সীমিত বাজার হিস্যা ধরে রাখতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ফলে শুধু উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো নয়, স্থানীয় ক্রেতাদের চাহিদা, বাজারের বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিযোগিতার ধরন বুঝে কৌশল নির্ধারণ করাও চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার প্রভাবে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন

শ্রমিক অসন্তোষ এবং অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। সোমবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতন দেখা গেছে। একই সাথে শেয়ার বিক্রির ব্যাপক চাপের কারণে ডিএসইতে মোট লেনদেনের গতিও সংকুচিত হয়েছে; তবে সামগ্রিক দরপতনের মাঝেও ব্যতিক্রম ছিল বস্ত্র খাত, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিন ধরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল এই বাজারে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ দ্রুত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা আজ তীব্র বিক্রয়চাপের রূপ নিয়েছে।

দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৮৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৪৯টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির বাজারদর। তবে বস্ত্র খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার বিপরীতে ২০টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত থাকে। ভালো কোম্পানি বা ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৭টির দর বাড়লেও কমেছে ১৫৫টির দাম। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩০টির পতন ঘটেছে। এ ছাড়া লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের দুর্বল ২৬টি কোম্পানির দাম বাড়লেও ৬৩টির দরপতন হয়েছে এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২৭টির দর কমার বিপরীতে মাত্র একটির দাম বেড়েছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য হারানোর ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্টে। সূচকের নিম্নমুখিতার সমান্তরালে ডিএসইতে দৈনিক লেনদেন নেমে এসেছে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬৪ কোটি ১ লাখ টাকা কম।

বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পুঁজিবাজারে এসে পড়েছে। বর্তমান প্রশাসনের আট মাসের মাথায় এত বড় মাত্রার শ্রম অসন্তোষ অপ্রত্যাশিত ছিল, যদিও শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। রাজধানীজুড়ে এমন অস্থিরতায় জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও যোগ করেন, আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলা অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলনে জটিলতা মানুষকে নগদ টাকা ধরে রাখতে বাধ্য করছে। তরল অর্থের সংস্থান করতে অনেকেই বাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছেন, যার ফলে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপ তৈরি হয়ে দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

এদিন ডিএসইতে একক লেনদেনে শীর্ষে অবস্থান করেছে ইভিন্স টেক্সটাইল, যার মোট ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার এবং ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল নিয়ে তৃতীয় ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জায়গা করে নেয় এনভয় টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, সায়হাম টেক্সটাইল, এমএল ডাইং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ৮৭টি। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে এবং মোট লেনদেনের অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকায়।


নির্বাচিত

বিনিয়োগ টানতে জ্বালানি নিরাপত্তার রোডম্যাপ চায় অ্যামচেম

ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী চার বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিরাপত্তার একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি বলে জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটির মতে, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা গেলে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অন্যান্য দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’-এর প্রাক-সংবাদ সম্মেলনে এ অভিমত তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল উল্লেখ করেন, চার বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার রূপরেখা নিয়ে কাজ চলছে এবং এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধারাবাহিক প্রতিনিধিদল এসে বিভিন্ন খাতে ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজ করছে। তিনি জানান, জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকেও বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের তিন দশক পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মেলায় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। প্রদর্শনীতে ৪৩টি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ৬৩টি বুথের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য ও প্রযুক্তি তুলে ধরবে। প্রথমবারের মতো আয়োজনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন, ভোগ্যপণ্য, শিল্পোৎপাদন, শিক্ষা ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য পৃথক খাতভিত্তিক জোন স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ জোন, সরাসরি কেনাকাটার কার্নিভাল জোন এবং বিগত তিন দশকের বাণিজ্যিক মেলবন্ধনের স্মৃতি নিয়ে সাজানো হেরিটেজ কর্নার দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে।

আয়োজকেরা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে শিল্প খাতের টেকসই রূপান্তর ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ছয়টি বিশেষায়িত সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনের এ আসরে প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, অ্যামচেমের সহসভাপতি আলা উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ।


নির্বাচিত

দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে এনবিআর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি এবং রপ্তানি মূল্যে কারসাজিসহ নানাবিধ জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে দুটি তৈরি পোশাক কারখানা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) নিবিড় অনুসন্ধানে এ বিশাল অঙ্কের কর ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।

সোমবার এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এককভাবে রিয়াজ নিটওয়্যারের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিআইসির বিশেষ তদন্ত দল প্রতিষ্ঠান দুটির কারখানা ও বন্ডেড ওয়্যারহাউসে সরাসরি অভিযান চালিয়ে কাঁচামালের বাস্তব মজুতের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানির নথিপত্র মিলিয়ে এ গরমিল শনাক্ত করে।

অনুসন্ধানের বিবরণে জানা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় শুল্কমুক্ত সুবিধায় খালাস করেছিল। তবে কারখানার গুদামে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ কেজি কাপড়, যা মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। বাকি ২ হাজার ২৩৭ টন বা প্রায় ৭৮ শতাংশ কাপড়ই গুদাম থেকে সরিয়ে সরাসরি স্থানীয় খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। যার শুল্কায়নযোগ্য আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। রপ্তানি নথিতেও এই বিপুল পরিমাণ ওভেন কাপড়ের কোনো হদিস মেলেনি; এমনকি যেসব ইউডিতে কোনো রপ্তানিই হয়নি, সেগুলোর সিংহভাগ কাপড়ই চোরাই পথে বিক্রি করা হয়েছে।

অপরদিকে লিশা টেক্সের বন্ডেড গুদাম থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় সরিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রির মাধ্যমে ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পরিমাণ পোশাক রপ্তানি দেখিয়েও চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম অর্থ প্রদর্শন, বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ দেশীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত ভঙ্গ এবং ইউডির বাইরে গিয়ে কাঁচামাল সংগ্রহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট পরিশোধ ছাড়াই খোলাবাজার থেকে চার লক্ষাধিক পোশাকের আনুষঙ্গিক উপকরণ কেনা এবং একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহ করে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষায় বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সিআইসির এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

বিষয়:

নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৭
বাণিজ্য ডেস্ক
    যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আয় এসেছে ৩৩৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আয় এসেছে ৩৩৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০০ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধি পণ্য রপ্তানিতে দেশের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের পণ্যের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। এত বড় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।’

হাসান আরিফ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য সরবরাহ, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা এবং বিশেষ করে বড় ভোক্তাবাজারে দেশীয় পণ্যের ধারাবাহিক চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ছে

প্রচলিত বড় বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন ও বিকল্প বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বড় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫২ ও ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ইউরোপের দেশ স্পেনেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এতে রপ্তানি বাজারের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, রপ্তানি বাজারের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন কিংবা পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে।

যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ডলার। এ নিয়ে দেশটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। দেশটি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

ইউরোপের এসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দেশের তৈরি পোশাকসহ প্রধান উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি— এ তিন দেশ থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। ফলে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৪.৩৯ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতেও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ।

অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এ বাজারের ধারাবাহিক অবদানকেই তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক। এ কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমরা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কিংবা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ খুঁজতে বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক এড়ানোর বিষয়ে আমরা ইউএসটিআরের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাই লক্ষ্য

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণ, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, সময়মতো সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকেরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বড় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও ভোক্তাদের পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং অপ্রচলিত বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ার ফলে আগামী মাসগুলোতেও ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী।

তার মতে, প্রচলিত ও নতুন—উভয় ধরনের বাজারে রপ্তানির এ প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো নতুন ও বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা দেশের রপ্তানি ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

ক্রিপ্টো চুরির ৯৫ শতাংশ সম্পদ উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সের

৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯৫ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদের ৯৫ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স। আজ রবিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে সাইবার হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত অপরাধী গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ জড়িত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

বৃহস্পতিবারের সাইবার হামলার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। আজ থেকে ধাপে ধাপে এ সুবিধা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্ল্যাটফর্মটি থেকে বিটকয়েন, ইথার, বিএনবি, সোলানা, এক্সআরপি ও ডজকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তোলন করা যাবে।

এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ এ হামলার জন্য দায়ী। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উত্তর কোরিয়ার জেনেভা মিশন ও চীনে অবস্থিত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

দেশে বাড়ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে উদ্যোক্তারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
    ব্যবসার পরিধি বাড়লেও পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভোক্তার ব্যয় সংকোচনের কারণে চাপে রয়েছেন উদ্যোক্তারা

দেশে নগরায়ণ, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং বাইরে খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা শহর পর্যন্ত গড়ে উঠছে নানা ধরনের খাবারের দোকান, ফাস্টফুড আউটলেট, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ। তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এ খাতে বিনিয়োগ করছে। তবে ব্যবসার পরিধি বাড়লেও পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতা এবং ভোক্তার ব্যয় সংকোচনের কারণে চাপে রয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২১ সালের হোটেল ও রেস্তোরাঁ জরিপ অনুযায়ী, দেশে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি। এক দশকে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২১ লাখ মানুষ। জরিপে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চায়ের দোকানের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২১ সালের পর একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এ পরিসংখ্যানকে বর্তমান বাজারের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মাংস, মাছ, চাল, তেল, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে খাবার তৈরির খরচও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মীদের বেতন, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজির ব্যয়। ফলে একদিকে খাবারের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা এবং ক্রেতাদের ব্যয় কমে যাওয়াকে এ খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে উদ্যোক্তাদের একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ও বাড়তি অর্থ ব্যয় হয়। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহ, নতুন গ্যাস সংযোগ এবং কর-ভ্যাটের বিষয়গুলোও ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে একই এলাকায় একাধিক রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠায় ক্রেতা আকর্ষণে খাবারের মান, স্বাদ, পরিবেশ, মূল্য ও সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। অনলাইন অর্ডার ও খাবার সরবরাহের সুযোগ ব্যবসার ধরনে পরিবর্তন এনেছে। তবে এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত কমিশন ও সরবরাহ খরচ ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এ খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা। খাবার সংরক্ষণ, রান্না, পরিবেশন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করলে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত তদারকি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রস্তুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসা সম্ভাবনাময় হলেও এ খাতের টেকসই বিকাশে উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় কমানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা তদারকি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নীতিমালা তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সেবা খাতের বিকাশে রেস্তোরাঁ শিল্প আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


নির্বাচিত

নির্মাণসামগ্রীর বাজারে ঊর্ধ্বগতি, বাড়ছে ভবন নির্মাণের খরচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    রড ও সিমেন্টের দামের ওঠানামা নির্মাণকাজের মোট ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে

রাজধানীর বাজারে বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর দামে রয়েছে ভিন্নমুখী প্রবণতা। কোথাও দাম আগের তুলনায় বেড়েছে, আবার কোথাও সরবরাহ ও মানভেদে দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এতে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের পরিকল্পনা করা মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রড ও সিমেন্টের দামের ওঠানামা নির্মাণকাজের মোট ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের সাম্প্রতিক দর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৬ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায়। তবে রডের গ্রেড ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে এ দাম আরও বেশি হতে পারে। ৬০ গ্রেডের এমএস রডের দাম প্রতি টন ৯২ হাজার ৫০০ থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০ গ্রেডের রডের দাম ৮৯ হাজার থেকে ৯১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামেও পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকায়। তবে ব্র্যান্ড ও দোকানভেদে কিছু সিমেন্ট ৫১০ থেকে ৫১৫ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম সাধারণত ৪৭৫ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে থাকলেও বিশেষ ব্র্যান্ড বা বিক্রয়কেন্দ্রভেদে দাম বেশি হতে পারে।

ইটের বাজারেও রয়েছে মানভেদে দামের পার্থক্য। রাজধানীতে প্রথম শ্রেণির প্রতি হাজার ইটের দাম প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির ইট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১২ টাকায়। তবে ইটের আকার, মান, উৎপাদনস্থল ও পরিবহন খরচের কারণে বাজারে দামের তারতম্য দেখা যায়। বালুর ক্ষেত্রেও ধরন ও উৎস অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে মোটা বালু প্রতি ঘনফুট প্রায় ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তা ফেরত দিলে কিছু ক্ষেত্রে এ দাম ৩০ টাকায় নেমে আসে। পাকশী বালু প্রতি ঘনফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ভরাটের বালু প্রতি বস্তা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর দাম নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, পরিবহন খরচ, জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পড়ে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর খুচরা বাজারে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মান, ব্র্যান্ড এবং বিক্রয়কেন্দ্রের অবস্থানও দামের পার্থক্য তৈরি করে। নির্মাণ খাতে এসব উপকরণের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণকারীরা। কারণ, একটি ভবন নির্মাণে মোট ব্যয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় রড, সিমেন্ট, ইট ও বালু কেনায়। ফলে এসব পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেও পুরো প্রকল্পের ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

বাজারে দামের পার্থক্য থাকায় নির্মাণকাজ শুরুর আগে একাধিক বিক্রয়কেন্দ্র থেকে দর যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রডের গ্রেড, সিমেন্টের ব্র্যান্ড, ইটের মান এবং বালুর ধরন নিশ্চিত হয়ে কেনাকাটা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে উল্লেখিত দামগুলো ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন দরতথ্য ও বিক্রয়কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। এলাকা, পরিবহন খরচ, পণ্যের মান ও সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত বাজারদরে পার্থক্য হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

অক্টোবরে শাওমির রেকর্ডসংখ্যক বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চলতি বছরের অক্টোবরে ৫০ হাজারেরও বেশি গাড়ি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একক কোনো মাসে গাড়ি সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তারা। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে কারখানাগুলোতে গাড়ির উৎপাদন জোরদার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আগস্ট মাসে ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ৪০ হাজার গাড়ি হস্তান্তরের পর সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে এসে সেই সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম দশ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার বৈদ্যুতিক গাড়ি সরবরাহ সম্পন্ন করেছে শাওমি।

স্মার্টফোন নির্মাতা থেকে অটোমোবাইল খাতে প্রবেশ করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের মধ্যে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বছরের প্রথম দশ মাসের হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই তাদের নির্ধারিত সেই বার্ষিক লক্ষ্যের প্রায় ৬১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন, ডিএসইতে সূচক কমল ৩২ পয়েন্ট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিন এবং সিএসইতে চার কার্যদিবসেই দরপতনের চিত্র দেখা গেল

দেশের পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাসের সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচকে পতন ঘটেছে। সূচকের অবনমনের সমান্তরালে ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিন এবং সিএসইতে চার কার্যদিবসেই দরপতনের চিত্র দেখা গেল।

লেনদেনের শুরুর আধা ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকের কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। প্রথম ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর থেকেই বাজারে তীব্র বিক্রয়চাপ শুরু হয়, যার ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হতে থাকে। দিনের শেষভাগে এই বিক্রয়প্রবণতা আরও গতিশীল হলে বড় দরপতনের মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেনের সমাপ্তি ঘটে।

দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ১৯০টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির বাজারদর। নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৪টির দর বাড়লেও কমেছে ৯০টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৯টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৩৬টির। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ‘জেড’ গ্রুপের দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৮টির দাম বাড়লেও কমেছে ৬৩টির এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত থাকে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে; এদিন ৩০টি ফান্ডের দর বাড়ার বিপরীতে মাত্র একটির দর কমেছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৪ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে সার্বিক লেনদেন নেমে এসেছে ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার চেয়ে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম।

ডিএসইতে একক লেনদেনে শীর্ষস্থান দখল করেছে মতিন স্পিনিং, যার মোট ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এবং ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী আঁশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, ফাইন ফুডস এবং এনভয় টেক্সটাইল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ১৮০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৫টির দাম বাড়লেও কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর। এতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে, তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ঠেকেছে


নির্বাচিত

চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

জুলাই-অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ শতাংশ, পোশাক খাতের অবদান ৮০%
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৬০৮ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, রাসায়নিক পণ্য, হোম টেক্সটাইল ও জুতা রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে কৃষিপণ্য, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে।

রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোচ্য চার মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৭১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। দুই ধরনের পোশাক মিলিয়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে এ দুই খাত থেকে। অর্থাৎ দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনো তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। নিট পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে ওভেন পোশাকেও প্রবৃদ্ধি থাকায় এ খাতের দুই প্রধান উপশাখাতেই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা, পণ্যের দাম, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো নয়, পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং নতুন বাজার তৈরির বিষয়টিও এ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তৈরি পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতেও রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং জুতা রপ্তানিতে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এসব খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে পাট, চামড়া ও জুতার মতো খাতে উৎপাদন সক্ষমতা, মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো গেলে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে রপ্তানি আয়ের চিত্র সব খাতে সমান ইতিবাচক নয়। প্রথম চার মাসে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে আয় কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রপ্তানি আয়েও ১০ দশমিক ২ শতাংশ পতন হয়েছে। এসব খাতে আয় কমে যাওয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এ খাতগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে প্রথম চার মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যানে প্রবৃদ্ধির ধারা থাকলেও দেশের রপ্তানি কাঠামোর একটি বড় দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই আসছে নিট ও ওভেন পোশাক থেকে। ফলে তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক চাহিদা বা বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ঝুঁকি কমাতে পাট, চামড়া, জুতা, হোম টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন। রপ্তানি আয় বাড়াতে প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের মান ও নকশার উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব খাতে রপ্তানি কমেছে, সেসব খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতও রপ্তানি আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশের রপ্তানি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বিষয়:

নির্বাচিত

শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণ বিতরণ কমেছে ১৭.৬ শতাংশ

অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে শিল্পে মেয়াদি ঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনি বিনিয়োগে গভীর স্থবিরতার আভাস মিলছে। ২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে শিল্পে মেয়াদি ঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে মেয়াদি ঋণ বিতরণ পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী ২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো শিল্প খাতে সর্বমোট ৯৯ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ ছাড় করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৯৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকার চেয়ে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের শেষভাগে নতুন ঋণের প্রবাহে তীব্র ভাটা পড়ে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিতরণ হওয়া ৩১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ঋণ পরবর্তী জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে নেমে আসে ২৩ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকায় এবং চূড়ান্ত প্রান্তিক এপ্রিল-জুনে তা আরও কমে ২০ হাজার ২৯ কোটি টাকায় ঠেকে। আগের অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের ২৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার তুলনায় এই প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ কমেছে ৪ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিতরণের এই মন্দার বিপরীতে ঋণ আদায় ও স্থিতির পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে পুঞ্জীভূত ঋণের স্থিতি এক বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ আদায় ও স্থিতি বাড়ার বিষয়টি নতুন বিনিয়োগ নির্দেশ করে না; বরং মেয়াদি ঋণ ছাড় কমে যাওয়ার ফলে শিল্প সম্প্রসারণ থমকে যাওয়া এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেল, যখন সামগ্রিক অর্থনীতিতেও উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা, চড়া মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকঋণ প্রাপ্তি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে; ২০২৬ সালের মার্চে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছিল ২৪ বছরের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে। এর সাথে ঋণের সুদহার ১৩ থেকে ১৫ শতাংশে উঠে যাওয়ায় নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে ব্যাংকিং খাতের রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ। জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং এর ৮৫ শতাংশই কেন্দ্রীভূত রয়েছে মাত্র ১৫টি ব্যাংকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সুশাসনের অভাব ও উচ্চ সুদের কারণে সৃষ্ট এই সংকট উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৮ মাসের বিশেষ রূপরেখা গ্রহণ করলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ঋণের ব্যয় হ্রাস এবং ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের গতি ফেরানো সম্ভব নয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

আর্থিক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৭
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষাজাল শক্তিশালী করা, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে গতকাল ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর), যা ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো— দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে সহায়তা করা।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। এছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে।

ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ প্রতিশ্রুতি ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক।
ঋণটির পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময় রয়েছে।

ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটির অর্থায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সর্বশেষ এ অর্থায়ন চুক্তি দেশের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান সহযোগিতারই প্রতিফলন। সূত্র: বাসস

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close