মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

লভ্যাংশ বাড়তে পারে ১৮ ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৫ ১৬:৫৭

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বরে’২৪ অর্থবছরের আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। গত ১৩ মার্চ থেকে প্রাইম ব্যাংকের বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ঘোষণা শুরু হয়। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছর যেখানে সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অন্য ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। গত অর্থবছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) অনিরক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে ১৮ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। একই সময়ে ইপিএস কমেছে ১০টি, অপরিবর্তিত একটি এবং লোকসানে ৬টি ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিএস বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক), ব্যাংক এশিয়া, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি), ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি), পূবালী ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক), ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিটেড ইপিএস) হয়েছে ০.১৩৬ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার লোকসান ছিল ০.০৮১ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.৮৬৯ টাকা। গত অর্থছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ১৩৭ পয়সা।

ব্যাংক এশিয়া: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৭১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ০৬ পয়সা।

ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬৩ পয়সা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২০ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩১ পয়সা।

দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা আয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিডেটেড ইপিএস) হয়েছে ৬৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (কনস্যুলেডেটেড ইপিএস) ১ টাকা ৫১ পয়সা আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৭ পয়সা।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫৭ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। গত অর্থবছরের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৭৮ পয়সা আয় করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে (জানুয়ারি’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ০৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ১১ পয়সা ছিল।

সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬০ ইপিএস হয়েছিল।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৯৪ ইপিএস হয়েছিল।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৩৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ টাবা ১৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ৫ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৯৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল।

যমুনা ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৩ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৭৮ পয়সা।


ভারতের অটোমোবাইল বাজারে বিশাল বিপ্লবের লক্ষ্য মারুতি সুজুকির

২০৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ লাখ গাড়ি
ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আর. সি. ভার্গব জানিয়েছেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের প্যাসেঞ্জার ভেহিকেল বা যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার বার্ষিক ৬১ থেকে ৬৩ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে ছোট গাড়ির চাহিদার পুনরায় বৃদ্ধি এবং স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি সেগমেন্টের ব্যাপক জনপ্রিয়তাই এই বিশাল সাফল্যের মূল ভিত্তি হবে বলে মনে করছে কোম্পানিটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের সাথে দেওয়া এক বিবৃতিতে মারুতি জানিয়েছে যে, তারা বর্তমানে তাদের পরবর্তী পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করছে। এর প্রধান কারণ হলো, গত পাঁচ বছরের তুলনায় আগামী দিনগুলোতে ছোট গাড়ির বাজার অনেক বেশি দ্রুত গতিতে বিকশিত হবে বলে তারা মনে করছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তারা রেকর্ড ২৪.২ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজার ইউনিট বিদেশে রপ্তানি করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা তাদের পরবর্তী ১০ লাখ গাড়ি বিক্রির মাইলফলক পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই স্পর্শ করবে বলে আত্মবিশ্বাসী। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে কোম্পানিটি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন রুপি বা ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে তাদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩৬.৫ লাখ ইউনিটে উন্নীত করা হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৫ লাখ ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মারুতি সুজুকি এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রাথমিক পর্যায়ে ৫.৬১ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগে চারটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। চেয়ারম্যান আর. সি. ভার্গব মনে করেন, এই বায়োগ্যাস ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সিএনজি-র ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে এটি দেশের কার্বন নিঃসরণ কমানোর বা ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এটি মারুতির দীর্ঘমেয়াদী ক্লিন-এনার্জি কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অন্যদিকে, মারুতি সুজুকির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও হিসাশি তাকেউচি জানিয়েছেন, দ্রুত বাড়তে থাকা এসইউভি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে তারা সাতটি নতুন এসইউভি মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন। বর্তমান বাজারে ক্রেতাদের রুচির পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলায় মারুতি এখন যন্ত্রাংশের স্থানীয়করণ, বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা এবং সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর ব্যাপক জোর দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, জাপানি মূল কোম্পানি সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের সাথে মারুতির সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় ও সমন্বিত হয়েছে। এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ফলে নতুন মডেলের গাড়ি তৈরির সময়সীমা বা ডেভেলপমেন্ট সাইকেল অনেকটা কমে এসেছে, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতেও বড় সাহায্য করছে। সামগ্রিকভাবে, মারুতি সুজুকি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় রাস্তায় তাদের আধিপত্য আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও শক্তিশালী অবস্থান গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


ইউরোপীয় শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে চীন, বাড়ছে জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:২৪
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম দুই পরাশক্তি চীন ও জার্মানি বর্তমানে এক জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির মুদ্রাস্ফীতি তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, অন্যদিকে চীনের এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ছে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির ওপর। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যিক ঘাটতি এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জার্মানির শক্তিশালী উৎপাদন খাতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রবিবার প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসে দেশটির উৎপাদক মূল্য সূচক বা পিপিআই প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুন মাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় এই নিম্নগতি দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার মাঝেও তেলের দাম স্থিতিশীল থাকা চীনের উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ কমে যাওয়ায় খুচরা মুদ্রাস্ফীতি বা সিপিআই নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা চীনা অর্থনীতির ভেতরের দুর্বল চাহিদাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

চীনের এই অভ্যন্তরীণ মন্দা জার্মানির রপ্তানি বাণিজ্যে ভয়াবহ ধস নামিয়েছে। জার্মানি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে চীনে জার্মান পণ্যের রপ্তানি ১২ শতাংশেরও বেশি কমে মাত্র ৩৭ বিলিয়ন ইউরোতে ঠেকেছে। ২০২১ সালেও চীন ছিল জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, যা বর্তমানে নেমে এসেছে নবম স্থানে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো ছোট দেশগুলোও এখন চীনের চেয়ে বেশি জার্মান পণ্য কিনছে। এর ফলে চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরের ৪০ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে ৫৫ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। জার্মানির গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোক্সভাগেনসহ বড় বড় শিল্পকারখানাগুলো এখন কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চীনের এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ রয়েছে। প্রথমত, চীন এখন বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চীনের আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট এবং স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ ও খরচ করার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসা এবং তার সংরক্ষণবাদী শুল্কনীতি জার্মানি ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে চীন জার্মানির শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও, চীনের বাজারের এই প্রতিকূলতা জার্মানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পলিটব্যুরো নতুন করে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তারা দ্রুত সরকারি ব্যয় বাড়ানো এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলমান ‘মূল্যযুদ্ধ’ বা অতিরিক্ত দাম কমানোর প্রতিযোগিতা বন্ধ করতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই সংস্কারের সুফল পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে জার্মানির অর্থনীতিবিদদের মতে, ‘মেড ইন জার্মানি’ ব্র্যান্ডটিকে এখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে। চীনের স্বনির্ভর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে জার্মানির রপ্তানি খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে।


টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিটিএমএ-র বিশেষ প্রস্তাবনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শিল্পায়ন ও প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-সহ অন্যান্য শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি উচ্চ ব্যয় এবং বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় বিনিয়োগ রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজনের সুনির্দিষ্ট শর্ত বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। সংগঠনগুলো মনে করে, বাজেট প্রক্রিয়ায় এই শর্তে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সুতা ও কাপড় উৎপাদনকারী মিলগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে তৈরি পোশাক খাতের আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার বা বাণিজ্যিক কারচুপি রোধ করা প্রশাসনের জন্য অনেক সহজতর হয়।

বর্তমানে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৮৮৩টি প্রতিষ্ঠান এই শিল্পের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক ভিত্তি রক্ষায় সংগঠনগুলো কর সংক্রান্ত আরও কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এনবিআরের কাছে পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর কমিয়ে সেটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আন্তঃঋণের ওপর আরোপিত কর থেকে অব্যাহতি প্রদান করা। এছাড়া কর জমায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানার বিধান বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও দাবি করেছেন যে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত টেক্সটাইল খাতের আয়কর হার ১২ শতাংশে স্থির রাখা হোক যাতে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে পারেন। একইসঙ্গে নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যয়বহুল ও জটিল সময়সীমা ১২ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, এনবিআর এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বর্তমান তারল্য সংকট ও উচ্চ সুদের হারের মধ্যেও দেশের প্রধান রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।


সুদ ছাড়াই ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দৈনন্দিন জীবনের আকস্মিক ও জরুরি ব্যয় নির্বাহে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধ কিংবা মোবাইলের প্রয়োজনীয় রিচার্জের মতো ছোটখাটো খরচের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকছে। ঋণের অর্থ গ্রহণের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণ পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এই ঋণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর ওপর কোনো প্রথাগত সুদ বা ইন্টারেস্ট চার্জ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সামান্য অংকের নির্দিষ্ট সেবামূল্য বা প্রসেসিং ফি গ্রহণ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য দিতে হবে। এছাড়া ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণে ১০ টাকা, ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় ১৫ টাকা, ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় ২৫ টাকা, ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ৩৫ টাকা এবং ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নির্ধারিত হতে পারে। এই সেবামূল্যের বাইরে অন্য কোনো লুকানো চার্জ বা সুদ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষকে একটি ডিজিটাল আর্থিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা এবং নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, এই স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। বিশেষ করে যারা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার জটিলতার কারণে ঋণ সুবিধা পান না, তারাও ঘরে বসে এই সেবার আওতায় আসতে পারবেন। এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি ভোগ্যঋণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকট মোচনের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

পুরো ঋণ প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং কাগজবিহীন। ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রাহককে সশরীরে কোনো ব্যাংকের শাখায় উপস্থিত হতে হবে না কিংবা কোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কাগজের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক পরিচয় ও আঙ্গুলের ছাপ যাচাই করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল সম্মতি বা ই-সিগনেচারের মাধ্যমে আবেদনের মুহূর্তেই ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে। এমনকি ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়াটিও হবে একইভাবে সহজ ও ডিজিটাল।

বর্তমানে এই খসড়া নীতিমালাটি জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জনসাধারণের মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিশ্লেষণ শেষে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার ক্ষেত্রে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে এটি অন্যতম কার্যকর ডিজিটাল সেবা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দ. কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তিকে মাইলফলক বলছে এফবিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে (সিইপিএ) দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, এই ঐতিহাসিক সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ও রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এই দ্বিপক্ষীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রভাবশালী বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে আরও বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করার পথ সুগম হবে। এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক ফজলুল হক রপ্তানি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ৩ শতাংশ। সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি হবে। পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির পথও উন্মুক্ত হবে, যা সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ১৩৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করছে ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য এবং বিপরীতে রপ্তানি করছে ৪১ কোটি ১০ লাখ ডলারের সামগ্রী। ফজলুল হক আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির সুবাদে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এটি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে এবং দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে।

উল্লেখ্য, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সফল আলোচনা শেষে গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এই সিইপিএ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের অধিকার পাবে। বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়াও বাংলাদেশের বাজারে তাদের ১ হাজার ৫৪টি পণ্যে একই ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করবে।


জুলাইয়ে চীনে মূল্যস্ফীতি কমে ০.৫ শতাংশ, ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদাজনিত মন্দার প্রভাবে চিনে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কমেছে। জুলাই মাসে চিনের উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কমেছে ভোক্তা মূল্য সূচকও (CPI)। রবিবার চিনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (NBS) প্রকাশিত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যানের আদ্যোপান্ত:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে চিনের উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৪.১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা জুলাই মাসে ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও প্রকৃত হার তার চেয়ে অনেকটা কম।

অন্যদিকে, ভোক্তা মূল্য সূচক বা চিনের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি কমে ০.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ১.৫ শতাংশ। তবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য বাদে 'কোর সিপিআই' (Core CPI) বেড়েছে ০.৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ:
এএনজেড (ANZ)-এর সিনিয়র চায়না স্ট্র্যাটেজিস্ট ঝাওপেং শিং বলেন, "বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম থাকা এবং চিনের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার ঘাটতি—এই দুই কারণে মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার নিচে নেমেছে। তেলের দামের অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতির গতিপথকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।" তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে যে আর্থিক নীতি গ্রহণ করছে, তার প্রভাব বাজারে পড়তে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে।

পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং মনে করেন, চিনের অর্থনৈতিক গতিশীলতা দ্বিতীয় প্রান্তিকে (Q2) বেশ কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে চিনের 'পলিটব্যুরো' জুলাই মাসে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বড় ধরনের সরকারি ব্যয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ইতিবাচক হতে পারে।

চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় উৎপাদন খরচ কমেছে। তবে চিনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'টু-স্পিড ইকোনমি' বা দ্বিমুখী অর্থনীতি। একদিকে চিনের কারখানা উৎপাদন ও রপ্তানি শক্তিশালী থাকলেও, অন্যদিকে আবাসন খাতের মন্দা ও চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ বা অভ্যন্তরীণ চাহিদা অত্যন্ত দুর্বল।

চাহিদা কমে যাওয়ায় চিনের অনেক ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে 'প্রাইস ওয়ার' বা মাত্রাতিরিক্ত দাম কমানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা তাদের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ:
অর্থনৈতিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের শীর্ষ নেতারা বছরের বাকি সময়ের জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নেতারা জানান, বাজেটভুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এবং 'প্রাইস ওয়ার' বন্ধ করতে সরকার কড়া নজরদারি চালাবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর নতুন নীতি আনার পরিকল্পনাও করছে বেজিং।

বিশ্লেষকদের মতে, চিনের অর্থনীতিকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে হলে কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও আস্থা বাড়ানোর দিকেই এখন মূল নজর দিতে হবে জিনপিং সরকারকে।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানিতে শীর্ষ দেশ পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে পাকিস্তান। প্রতি বছর ১০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি সয়াবিন আমদানির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কৃষিভিত্তিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শিকাগোতে আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ এবং মার্কিন সয়াবিন রপ্তানি পরিষদের প্রধান নির্বাহী জিম সাটারের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অগ্রগতির চিত্র উঠে আসে। আজ শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে কৃষি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তান মার্কিন সয়াবিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক বাজারে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্বের ব্যাপক সম্ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ।

রাষ্ট্রদূত সাঈদ শেখ সয়াবিন উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিক প্রসার, সরাসরি ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, মার্কিন সয়াবিন রপ্তানি পরিষদের প্রধান নির্বাহী জিম সাটার পাকিস্তানের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি দেশটির পোল্ট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের টেকসই উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ছাড়াও শিল্পের উন্নয়ন এবং পুষ্টি সচেতনতা কর্মসূচিতে মার্কিন পরিষদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন। দুই পক্ষই সয়াবিন খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক মৈত্রী আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।


ল্যানসিয়ামে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এনভিডিয়া

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

টেক্সাসের স্টারগেট তথ্য কেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার প্রকল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ল্যানসিয়ামে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনভিডিয়া। শুক্রবার দ্য ইনফরমেশন-এর এক প্রতিবেদনে এই বিশাল বিনিয়োগের তথ্যটি উঠে এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে প্রায় ২০ শতাংশ মালিকানা বুঝে নেবে এনভিডিয়া। ল্যানসিয়াম প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্ল্যাকস্টোন-এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগসহ নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এনভিডিয়া ভবিষ্যতে আরও ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রেখেছে। এই চুক্তির আওতায় ল্যানসিয়ামের ভূসম্পত্তি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ অবকাঠামোর মোট ব্যবসায়িক মূল্য নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল পুঁজি ল্যানসিয়ামকে তাদের কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে আসার লক্ষ্যে এই অর্থ প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টারগেট প্রকল্পটি মূলত সফটব্যাংক, ওপেনএআই এবং ওরাকল-এর একটি যৌথ উদ্যোগ, যার প্রধান লক্ষ্য হলো বিশাল আকারের তথ্য ভাণ্ডার বা ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ৫০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এনভিডিয়া এবং ল্যানসিয়াম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে রয়টার্স-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

টেক্সাসের অ্যাবিলিনে অবস্থিত ১,০০০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত ল্যানসিয়াম ক্লিন ক্যাম্পাসটি স্টারগেট উদ্যোগের প্রথম সচল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো সংকট দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


চিংড়ি রপ্তানিতে বড় ধস, ১৪ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৬২ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং প্রথাগত উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে উচ্চ উৎপাদনশীল ও সাশ্রয়ী মূল্যের ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো মূলত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে গত ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রপ্তানি প্রায় ৬২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল, যা থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে এবং আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় সর্বশেষ অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন এবং আয় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে চীন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে বাগদা চিংড়ির চাহিদা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এর বিপরীতে ভেনামি জাতের চিংড়ির উৎপাদন খরচ কম এবং হেক্টরপ্রতি ফলন বাগদার চেয়ে প্রায় ১০-১২ গুণ বেশি হওয়ায় বিশ্ববাজারে এটি আধিপত্য বিস্তার করছে। অন্যদিকে, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো কম দামে চিংড়ি রপ্তানি করতে পারলেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় রপ্তানি মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে।

বর্তমানে দেশে ১২২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০-৩৫টি সক্রিয় রয়েছে, বাকিগুলো কাঁচামাল ও আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আধুনিকায়ন ও সঠিক নীতিমালার অভাবে এ খাতটি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো সরকারি উদ্যোগে বিশাল এলাকায় সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা তাদের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কক্সবাজারের চকরিয়া-রামপুরা মৌজায় পড়ে থাকা প্রায় ৭ হাজার একর অনাবাদি জমি প্রকৃত রপ্তানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া হলে এবং ভেনামি চিংড়ি চাষের দ্রুত প্রসার ঘটানো গেলে এ খাতটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া মৎস্য খাতের জন্য গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার সরকারি তহবিলের সঠিক ও দ্রুত বণ্টন এই শিল্পের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সনাতন পদ্ধতি থেকে সরে এসে আধুনিক ও বাণিজ্যিক চাষাবাদ নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অন্যতম এই রপ্তানি খাতটি কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সরকারের কাছে ১৮ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় বিপিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত এক দশকে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করার গৌরব অর্জন করলেও বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংস্থাটি এই তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবুও সংকট না কাটায় জ্বালানি তেলের আমদানি সচল রাখতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি।

অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে জ্বালানি আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে সংস্থাটির মোট আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে এপ্রিল মাসেই সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন চালানে প্রায় ১৯ লাখ ৭০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়লেও দেশের বাজারে সেই অনুপাতে মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগদ অর্থের অভাব মেটাতে বিপিসি তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা আমানত থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত প্রায় ১৮ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা কমেছে। আমানত কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকাও তেলের দাম পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধনে স্থানান্তর করার ফলে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিপিসির বিগত ১০ বছরের আর্থিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংস্থাটি প্রায় ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। তবে এই মুনাফার সিংহভাগই লভ্যাংশ ও কর বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নিজস্ব তহবিল সংস্থাটির হাতে অবশিষ্ট ছিল না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজভাড়া, বিমা খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত প্রতি ব্যারেল তেলের খরচ পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।

বিপিসি আশঙ্কা করছে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং সরকারি সহায়তা দ্রুত পাওয়া না গেলে আগামীতে তেল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপত্র (এলসি) খোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে দেশে ডিজেল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি দেশের পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ অবস্থায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বড় অংকের এই অর্থ ছাড়ের আবেদন করা হয়েছে, যাতে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। তবে এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


তীব্র আর্থিক সংকটে মার্কিন ডাক বিভাগ, হাজারো কার্যালয় বন্ধের আশঙ্কা

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ তাদের অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার কম, তবুও এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল ডেভিড স্টেইনার জানিয়েছেন যে, সেনেট কমিটির প্রস্তাবিত নতুন জিপ কোড চালুর আইন কার্যকর হলে সংস্থাটির ওপর অতিরিক্ত ৮০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। এ কারণে তারা ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী জানুয়ারিতেই ডাকটিকিটের মূল্যবৃদ্ধির অনুমতি চাইছে। সংস্থাটির অস্তিত্ব রক্ষায় এ বছর কংগ্রেস কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে। স্টেইনারের মতে, "আমাদের পরিকল্পনায় নিশ্চিতভাবে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে হবে যা পরিষেবাকে প্রভাবিত করবে, যেমন আমাদের পরিষেবার মান খতিয়ে দেখা এবং হাজার হাজার অলাভজনক ডাকঘর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি দাম বাড়ানো।"

গত জুন মাসে তিনি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিলেন যে, ডাক বিভাগের হাতে কোনো নগদ অর্থ অবশিষ্ট নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা বর্তমানে কর্মীদের অবসরকালীন তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্টেইনারের ভাষায়, "আসল কথা হলো আমাদের হাতে কোনো নগদ টাকা নেই। কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আমরা আমাদের কর্মীদের অবসরকালীন তহবিল থেকে ঋণ নিচ্ছি।" লোকসান হওয়া কার্যক্রমগুলোর ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য তিনি কংগ্রেসের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সংকট নিরসনে গত মার্চ মাসে সংস্থাটি পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শকও নিয়োগ করেছে।

আর্থিক বিপর্যয়ের গভীরতা তুলে ধরে স্টেইনার বলেন, প্রতি সপ্তাহে ছয় দিন ১৭ কোটি ঠিকানায় চিঠিপত্র পৌঁছাতে বছরে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। কিন্তু এই যাতায়াত ব্যবস্থার ৭০ শতাংশই বর্তমানে লোকসানে রয়েছে। এ ছাড়াও দেশজুড়ে থাকা ১৮ হাজার ডাকঘরের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশই আর্থিকভাবে অলাভজনক। ২০০৭ সাল থেকে এই ডাক বিভাগের মোট লোকসানের পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে সংস্থাটির সবচেয়ে লাভজনক সেবা 'ফার্স্ট ক্লাস মেল'-এর চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

আর্থিক চাপ কমাতে মে মাস থেকেই সংস্থাটি ভ্রমণ, অফিস সরঞ্জাম এবং পরামর্শক খাতের মতো অনাবশ্যক ব্যয় স্থগিত করেছে। এ ছাড়া সরকারি পেনশন কর্মসূচির কিস্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২.৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ১৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে। এর আগে গত ১২ জুলাই থেকে ডাকটিকিটের দাম ৭৮ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ৮২ সেন্ট করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ছাড়া কেবল এই পদক্ষেপে সংকট উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাণিজ্য অচলাবস্থা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ওয়াশিংটনের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি মোকাবিলায় এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক অচলাবস্থা নিরসনে একটি বিশেষ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এই আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে, তবে অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের একগুচ্ছ বাণিজ্যিক দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে।

গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, অটোয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলো আমলে না নেয়, তবে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। কানাডা এই পরিস্থিতিতে কী ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, সে বিষয়ে সর্বপ্রথম তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতার অংশ হিসেবে কানাডা মার্কিন অটোমোবাইল বা গাড়ি আমদানির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে পারে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্যের কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া এবং বড় বড় কানাডীয় প্রদেশের দোকানগুলোতে পুনরায় মার্কিন মদ্যজাত পানীয় বিক্রির সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে আনবে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে। তবে পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

অবশ্য এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো প্রদেশগুলোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকা; বিশেষ করে মদ্যজাত পানীয় বিক্রির বিষয়টি প্রাদেশিক এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় অটোয়া চাইলেই রাতারাতি মার্কিন পণ্য তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। অটোয়া ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে যে, ১৯ আগস্টের আগে কোনো সম্মানজনক সমাধান না আসলে জনরোষ এবং প্রাদেশিক পর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থার কারণে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সম্ভাব্য এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) ত্রিপক্ষীয় চুক্তির একটি বৃহত্তর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার গত বৃহস্পতিবার একটি "গঠনমূলক ও বিস্তারিত বৈঠক" সম্পন্ন করেছেন। আগামী ১৯ আগস্টের সময়সীমা পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিদিন বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। যদিও উভয় পক্ষের দপ্তর থেকেই এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কানাডাকে একীভূত করার মতো বিতর্কিত প্রসঙ্গের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই মার্কিন শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বাণিজ্যিক এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কোন দিকে যায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।


শেয়ারবাজারে উৎপাদন বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫টি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকা ক্রমান্বয়ে দীর্ঘতর হয়ে এখন ৩৫-এ উন্নীত হয়েছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড। গত ১ আগস্ট থেকে কোম্পানিটির কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ডিএসই-কে জানিয়েছে, "নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তাদের পক্ষে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং ঋণদাতা ব্যাংকগুলো ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ জনবল সংকটের কারণে কারখানাটি সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমান সংকট নিরসনে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। ডিএসই’র তথ্য মতে, এই তালিকায় থাকা কিছু কোম্পানি স্বেচ্ছায় সমস্যার কথা জানালেও অনেক ক্ষেত্রে পরিদর্শনে গিয়ে কারখানা বন্ধ পাওয়া গেছে। তালিকায় থাকা সবচেয়ে পুরনো নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানটি হলো মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, যা ২০০২ সাল থেকে অচল। এছাড়া প্রকৌশল, বস্ত্র, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৬টিই ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যার বড় একটি অংশই দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনে নেই। এই পরিস্থিতি শেয়ারবাজারের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


banner close