মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩

লভ্যাংশ বাড়তে পারে ১৮ ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৫ ১৬:৫৭

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিসেম্বরে’২৪ অর্থবছরের আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। গত ১৩ মার্চ থেকে প্রাইম ব্যাংকের বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ঘোষণা শুরু হয়। সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। আগের বছর যেখানে সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অন্য ব্যাংকগুলো পর্যায়ক্রমে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। গত অর্থবছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) অনিরক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে ১৮ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। একই সময়ে ইপিএস কমেছে ১০টি, অপরিবর্তিত একটি এবং লোকসানে ৬টি ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিএস বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক), ব্যাংক এশিয়া, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি), ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি), পূবালী ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক), ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (এনআরবিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিটেড ইপিএস) হয়েছে ০.১৩৬ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার লোকসান ছিল ০.০৮১ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ০.৮৬৯ টাকা। গত অর্থছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ১৩৭ পয়সা।

ব্যাংক এশিয়া: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৭১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ০৬ পয়সা।

ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬৩ পয়সা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২০ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩১ পয়সা।

দ্যা সিটি ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৩৫ পয়সা আয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৮১ পয়সা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (কনসোলিডেটেড ইপিএস) হয়েছে ৬৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (কনস্যুলেডেটেড ইপিএস) ১ টাকা ৫১ পয়সা আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা।

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৯৭ পয়সা।

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৯১ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫৭ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। গত অর্থবছরের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৫১ পয়সা।

অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫ পয়সা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০৬ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৭৮ পয়সা আয় করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে (জানুয়ারি’২৪-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ০৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ১১ পয়সা ছিল।

সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকারচারাল ব্যাংক (এসবিএসি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৫ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৬০ ইপিএস হয়েছিল।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পাটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯২ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ টাকা ৯৪ ইপিএস হয়েছিল।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৩৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৩ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ২ টাবা ১৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ৫ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ন্যাশনাল ক্রেডিট কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি ব্যাংক): তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৯৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৩০ পয়সা ছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি: তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (কনস্যুলেটেড ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৪ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮৬ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ২ টাকা ৭৮ পয়সা ছিল।

যমুনা ব্যাংক পিএলসি: চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’২৪) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে ৩৩ পয়সা।

অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৪) ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৭৮ পয়সা।


নির্বাচিত

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করবে জাপান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৬ ১৮:২৯
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাজ্য ও জাপানের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল ও কৌশলগত বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় জাপানি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, জ্বালানি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে বড় অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ‘নতুন এক যুগের’ সূচনা করবে।

লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাজ্যের অবকাঠামো ও আর্থিক খাতে ৯ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করবে। এছাড়া সমুদ্র উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আরও প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই বিনিয়োগের ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশে প্রায় ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে। লন্ডনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন কিয়ার স্টারমার। পরবর্তীতে দুই নেতা জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। বৈঠক শেষে স্টারমার এই আলোচনাকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগের পুরো অর্থ সম্পূর্ণ নতুন নয়; এর একটি অংশ আগে থেকে ঘোষিত প্রকল্পের ধারাবাহিকতা হতে পারে। বর্তমানে ব্রিটিশ অর্থনীতি যখন নানামুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্য জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ০.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তবুও অর্থনীতিবিদরা আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ব্রিটিশ অর্থনীতিতে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। তবে সংস্থাটি আশাবাদী যে, দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটিশ অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এবং আগামী বছর ইউরোপের জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও গভীর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতালিকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়িত ‘জিসিএপি’ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের বিষয়ে উভয় দেশ নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এছাড়া ব্রিটিশ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েস জাপানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করবে। দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার সঙ্গে জাপানের শক্তিশালী উৎপাদন খাতকে সমন্বিত করা হবে। দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন যে, “যুক্তরাজ্য জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার।”

চুক্তির বিস্তারিত অনুযায়ী, মিতসুবিশি এস্টেট, মিতসুই ফুডোসান এবং নোমুরা রিয়েল এস্টেটের মতো জাপানি ব্যবসায়িক জায়ান্টগুলো আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো খাতে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে। এদিকে ব্রিটিশ বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এই চুক্তিকে স্বাগত জানালেও লেবার সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছে। ছায়া বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ জানিয়েছেন, যেকোনো বিনিয়োগ সহায়ক চুক্তিকে তারা সমর্থন করেন, তবে কর বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে এই চুক্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি চাঙ্গা করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বাজেটকে সাহসী আখ্যা দিয়ে বিএবি-র স্বাগত, আর্থিক সংস্কারে ৮ দফা সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে আর্থিক খাতের জন্য একটি ‘যুগান্তকারী ও সাহসী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃ মূলধনীকরণের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে সংগঠনটি স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিএবি মনে করছে যে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমাতে করপোরেট ও মিউনিসিপ্যাল বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এছাড়া আমানতের আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ঋণের আবগারি শুল্ক যৌক্তিকীকরণের ফলে সাধারণ আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতারা সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, বেসরকারি খাত যাতে ঋণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকারকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

বিবৃতিতে বিএবি আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আটটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো—ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ দ্রুত উদ্ধার এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত শেয়ারের স্বচ্ছ নিষ্পত্তি, খেলাপি ঋণ কমাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন এবং আর্থিক খাতের ক্ষতিসাধনকারীদের পুনরায় এই খাতে প্রবেশ রোধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিএবি আরও সুপারিশ করেছে যে, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর করহার কমানো, প্রাতিষ্ঠানিক লভ্যাংশ কর মওকুফ এবং বোনাস লভ্যাংশের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারকে শুল্কমুক্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিএবি মনে করে, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধার নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।


নির্বাচিত

অ্যামচ্যামের নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচ্যাম) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন নির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি হিসেবে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং সহ-সভাপতি হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে এক জমকালো অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন কমিটির যাত্রা শুরু হয়।

নতুন কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা উর রহমান মাহমুদ। সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের আর্থিক সেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট ও ভোগ্যপণ্য খাতে ৩৫ বছরেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ পেশাদার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইতিপূর্বে তিনি অ্যামচ্যামের সহ-সভাপতি এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-এর পরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

অন্যদিকে সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন আহমদ একজন প্রথিতযশা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি ফিকি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদেরও করপোরেট কৌশল ও অর্থনীতি খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। নবগঠিত এই নির্বাহী কমিটিতে আরও রয়েছেন আল-মামুন এম. রাশেল, হাবিব ভূঁইয়া, সাজ্জাদ হোসেন এবং আতাউর রহিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ তার সময়কালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের স্মৃতিচারণ করেন। এই অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি নতুন কমিটির নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন যে, এই নতুন দল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নতুন এই দক্ষ নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক সুসংহত হবে।


নির্বাচিত

সূচকে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত, বাড়ল ডিএসই ও সিএসইর লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের প্রথম দিন বড় ধরনের উত্থানের পর দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও (১৫ জুন) দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। তবে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি ছিল। মূলত বড় মূলধনের শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার কারণেই সামগ্রিক সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও বেড়েছে। উভয় বাজারেই এদিন লেনদেনের গতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সোমবার লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের বেশ উন্নতি হয়। তবে শেষ পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের এক অংশের শেয়ার বিক্রির চাপে অনেক প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটে। তা সত্ত্বেও বাছাইকৃত বড় কোম্পানিগুলো দাম ধরে রাখায় দিন শেষে সবকটি সূচকই বেড়েই শেষ হয়। ডিএসইতে এদিন ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৮৪টির এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে ৩০টি শীর্ষ কোম্পানির ২০টিরই দাম বেড়েছে।

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এদিন ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনে শীর্ষস্থানে ছিল আইপিডিসি ফাইন্যান্স, যার প্রায় ৮১ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। তালিকায় এরপরই ছিল এনসিসি ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মা।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই এদিন ৫২ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসইতে ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৮টির দাম বেড়েছে এবং ৯৮টির কমেছে। লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সামগ্রিকভাবে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মানের কোম্পানিগুলোর দরে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় বাজারের লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

কোলাজ-দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা বা পিস ডিল স্বাক্ষরের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সমঝোতার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৮ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৩ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে স্থির হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সক্রিয় সহায়তায় আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতার অধীনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, চুক্তির এই খবরে তা দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই হয়ে থাকে। ফলে এই পথ সচল হওয়ার সংবাদে বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতটুকু স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো কত দ্রুত বাজারে তাদের সরবরাহ বাড়াতে পারে এবং আগামী দুই মাসের আলোচনা ফলপ্রসূ হয় কিনা তার ওপর। এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছে যে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক শর্তাবলি মেনে নেয়, তবে তারা দেশটির ওপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আগ্রহী।


নির্বাচিত

বাজেটে ঘাটতি, চ্যালেঞ্জের মুখে এডিপি বাস্তবায়ন

*এডিপিতে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ * ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা * ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ নিয়ে শঙ্কা * ঘাটতি পূরণে দেশি ব্যাংকঋণ ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর  * আরও তীব্র হবে সকাররের ঋণ পরিশোধের চাপ * সংকুচিত হতে পারে সরকারের ঋণে বেসরকারি বিনিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইমামুল ইসলাম

প্রতি বছরই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ বাড়তে থাকে। কিন্তু এডিপির এত পরিমাণ বরাদ্দ অবাস্তবায়ন থেকে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে এডিপির মাত্র ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এত পরিমাণ অবাস্তবায়ন থাকার পড়েও প্রতি বছরই এডিবি বেড়ে চলছেই। এর ফলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এছাড়া আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে সংশয়। সার্বিক দিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে- এই বিশাল এডিপির বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করেছে। তবে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন আবারো সামনে এসেছে। এক বছরে এডিপির আকারে ১ লাখ কোটি টাকার বৃদ্ধি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এ ধরনের বড় বৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বাস্তবায়নের গতি এখনো ধীর।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২ লাখ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে প্রথম নয় মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬ শতাংশ। এ বিশাল উন্নয়ন বাজেটের লক্ষ্য হলো অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো।

বাজেট নথি অনুযায়ী, এডিপির বড় অংশ অর্থায়ন করা হবে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণ এবং অনুদানের মাধ্যমে। দেশীয় উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে নিট ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। যার মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান হিসাবে ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে ঘাটতি আড়াই লাখ কোটি: প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতির বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে ব্যয়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব হলো- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করা হবে।

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন হলো- এই অর্থ কতোটা কার্যকরভাবে ব্যয় করা যাবে। সাম্প্রতিক তথ্যও আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বাস্তবায়নের হার কমার পাশাপাশি প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতির ঝুঁকিতে সরকারের ঋণ বাড়বে: রাজস্ব ঘাটতিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রাজস্ব আহরণে ঘাটতি অব্যাহত থাকলে আগামী তিন অর্থবছরে সরকারের ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়ে ৩৩.৭৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, জিডিপির আকার বৃদ্ধির কারণে সরকারি ঋণ জিডিপির ৩৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকলেও দেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাতের প্রেক্ষাপটে এই ঋণের বোঝা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগও প্রায় ৮৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে সংশয়।

অর্থ বিভাগের ফিসক্যাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে বাজেট লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় গড়ে ১৬ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে অধিক ঋণ নিতে হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে, যা বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় গণামাধ্যমকে জানান, নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ‘পরাবাস্তব’।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক বছরের মধ্যে এত বড় পরিমাণ রাজস্ব আদায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় কম হলে এবং সরকারি ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা এবং ঋণ পরিশোধের চাপ সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, এবারের উন্নয়ন বাজেটে থোক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। একই সঙ্গে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে, যা বিনিয়োগ ব্যাহত করবে।

বিদেশি ঋণের দায়বদ্ধতার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সুশাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে বিদেশি ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও তীব্র হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকার চেয়ে কম থাকবে। আমরা চেষ্টা করব, যতটা সম্ভব লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে।


নির্বাচিত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই নতুন দরের কথা জানায়, যা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ জুনও স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসেবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে স্বর্ণের দাম প্রায় ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেল।

চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল, সে বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে।


নির্বাচিত

আমদানি পণ্যের পরীক্ষায় বেসরকারি ল্যাবের অনুমোদন দিল এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি করা পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানিকারকদের ঘোষিত পণ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত রাসায়নিক পরীক্ষা করে থাকে। এতদিন এই পরীক্ষাগুলো মূলত কাস্টমস হাউসের নিজস্ব ল্যাবরেটরি অথবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন হতো। তবে এসব সরকারি ল্যাবের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পরীক্ষার ফলাফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগত, যার সরাসরি প্রভাব পড়ত পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায়।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এনবিআর জানিয়েছে, এখন থেকে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং আন্তর্জাতিক মান সংস্থা আইএসও (ISO) স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোতেও আমদানি করা পণ্যের নমুনা পাঠানো যাবে। এসব বেসরকারি ল্যাব থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এই সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এনবিআর কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে। বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোকে অবশ্যই বিএবি অনুমোদিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া আমদানি নীতি আদেশে যেসব বিশেষ পণ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি ল্যাবরেটরির নাম নির্ধারিত রয়েছে, সেইসব ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে না; অর্থাৎ সেসব পণ্য আগের নিয়মেই নির্ধারিত সরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করাতে হবে। এনবিআরের এই পদক্ষেপের ফলে আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ১.৩ শতাংশে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি তাদের অর্ধবার্ষিক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে এক আশঙ্কাজনক সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে যে বিশ্বব্যাংকের এবারের পূর্বাভাস গত জানুয়ারির অনুমানের চেয়ে দশমিক ১ শতাংশ কম। কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে এটিই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও বর্তমান সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাংক বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদহারের মতো কঠোর মুদ্রানীতির কথা ভাবছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক তাদের মূল প্রাক্কলনে ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছে। তবে বিকল্প একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরিস্থিতি আরও চরমে পৌঁছালে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে ঠেকতে পারে। বিশ্বব্যাংকের উপ-প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ সংকট এবং আর্থিক বাজারের চাপ যখন একে অন্যকে প্রভাবিত করে, তখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে প্রবৃদ্ধি সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও তা ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম থাকবে। প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, উচ্চ সরকারি ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের শ্লথগতি এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই মন্দার মধ্যেও ভারত ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক স্থবিরতার সম্মুখীন হয়েছে।


নির্বাচিত

ইরানের প্রধান চার ব্যাংকে সাইবার হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে ইরানের শীর্ষস্থানীয় চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এই অতর্কিত হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নিয়মিত আর্থিক সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিপর্যয় ও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার কিংবা তথ্য চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে হামলার কারণে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি মূলত ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারাত, ব্যাংক সাদেরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান-এর ব্যবহৃত একটি যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সেবা পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বিপরীতমুখী ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারবাজারের দুই আলোচিত প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ভিন্নধর্মী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত মঙ্গলবার ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘ সময় পর সম্পূর্ণ ফ্লোর মুক্ত হলেও আজ (১৪ জুন) নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানি দুটির শেয়ারের মুভমেন্ট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের প্রথম কয়েক দিন উভয় কোম্পানিতেই ক্রেতা সংকট দেখা দিলেও আজ দুপুরে চিত্রটি পাল্টে যায়। ইসলামী ব্যাংক ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বিনিয়োগকারীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে প্রচুর ক্রয় আদেশ থাকলেও বিক্রেতার সংখ্যা ছিল শূন্য। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে ৩২ টাকায় লেনদেন শেষ হয়। হল্টেড হওয়ার আগে কোম্পানিটির প্রায় ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
অন্যদিকে, বেক্সিমকো লিমিটেডের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ফ্লোর পরবর্তী সময়ে শেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আজ দুপুরে দেখা গেছে, বেক্সিমকোর শেয়ারে বিপুল পরিমাণ বিক্রয় আদেশ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমা বা ১০ শতাংশ (৮ টাকা) কমে ৭২ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান নেয়। লেনদেনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য, মাত্র ৫৭ বারে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের পুনরায় ফিরে আসা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও বেক্সিমকোর ক্ষেত্রে ফ্লোর পরবর্তী দরপতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সকল কোম্পানি ফ্লোর মুক্ত হওয়ায় বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন।


নির্বাচিত

বাজেটে ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করলেও আধুনিকায়নে জোর ‘ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই সন্ধিক্ষণে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ’। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে রোববার (১৪ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে যে, বাজেটে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে কার্যকর বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক নীতি সংস্কার অপরিহার্য।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের প্রতিফলন ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—একটি বহু-বার্ষিক কর নীতি রোডম্যাপের প্রবর্তন, কর প্রদান ও রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ও শুল্কমুক্ত সুবিধার সম্প্রসারণ। এছাড়া প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) কাঠামোকেও তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি মনে করে, এই উদ্যোগগুলো ব্যবসায়িক নীতির পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), আইসিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউরোচ্যাম বলেছে যে, সরকারের ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিফ শাম্মা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর প্রশাসন ও বাণিজ্য সহজীকরণের ভালো উদ্যোগ থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের বিকল্প নেই। তবে তিনি সবকিছুর মূলে এই নীতিমালার সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইউরোচ্যাম সরকারকে নীতিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষা, শুল্ক আধুনিকীকরণ এবং মানসম্মত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও বেশি জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে সংগঠনটি সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


নির্বাচিত

টানা চার দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা চার দফায় দাম কমার পর আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে দেশের স্বর্ণের বাজারে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

শনিবার সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং জানানো হয়েছে যে, নতুন এই দর আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯er ৮৮২ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ জুন স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হলেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বড় অংকের এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলো।

স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। টানা চার দফা কমার পর এবার রুপার দাম ভরিতে ২৯১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য এখন ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুপার ক্ষেত্রেও বাজুস জানিয়েছে, ‘স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে রুপার দাম এ বছর এ পর্যন্ত মোট ৪৫ বার পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ বার দাম বেড়েছে এবং ২২ বার কমানো হয়েছে। ১১ জুন রুপার দাম সবশেষ কমানো হলেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হলো। বাজুসের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে অলঙ্কার কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close