ব্যাংকে টাকা নেই বলে যারা গুজব ছড়াচ্ছে তারা দেশের শত্রু বলে মনে করেন বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের (এমটিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ব্যাংকে টাকা নেই এ রকম কোনো ঘটনা দেশের একটি ব্যাংক কিংবা শাখাতেও ঘটেনি। এটি স্রেফ একটি গুজব। যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছে তারা দেশের শত্রু। এদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ গত বুধবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণ, ডলার সংকট, সুদের হারসহ দেশের ব্যাংকিং খাতের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিবেদক এ এস এম সাদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা নেই- এমন একটি গুজব ছড়িয়েছে। আসলেই কি ব্যাংকে টাকার সংকট হয়েছে?
এ বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে জোর দিয়ে দায়িত্ব নিয়ে একটি কথা বলতে চাই, ব্যাংকে টাকা নেই এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যাংক কিংবা এর শাখায় গ্রাহকরা কিন্তু যেকোনো সময় গিয়ে টাকা উঠাতে পারছেন। কেউ ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন এমন কোনো ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। এর অর্থ দাঁড়াল ব্যাংকে তারল্য ঘাটতি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে ব্যাংকে টাকা নেই। এ রকম বক্তব্য কোনো বিশেষ মহল কোনো বিশেষ কারণে ছড়াচ্ছে। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না এ রকম গুজব কেন ছড়াচ্ছে। ফলে এ রকম গুজবের কারণে জনগণের মধ্যে এক রকমের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত আমাদের অডিট করছে। প্রতি মাসে আমাদের রিপোর্ট পাঠাতে হয়। সেই প্রতিবেদনে আমরা উল্লেখ করে দিই আমাদের কত তারল্য আছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং হই। অক্টোবর মাসে কারেন্ট টাকার পরিস্থিতি পজিটিভ ছিল। আগামী ফিসক্যালের শেষের দিকে আমরা একটা পজিটিভ অবস্থানে যাব বলে আশা করছি। ডলারের বাজার স্বাভাবিক রাখতে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারে ছাড়ার বিপরীতে কিছু টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাংকে টাকা নেই ফলে টাকা উঠিয়ে নিতে হবে- এটি স্রেফ একটি গুজব। যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছে তারা দেশের শত্রু। এদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন ব্যাংকিং খাতে দুর্বৃত্ত বেড়ে গেছে। তারা এই দুর্বৃত্ত বলতে বোঝাচ্ছেন খেলাপিদের। এর সমাধান দেখছেন কীভাবে?
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। সবশেষ হিসাবের এই অঙ্ক ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটা এখন ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা। ১৯৮২ সাল থেকে দেশে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। তখন খেলাপিরা শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ছিল। ধীরে ধীরে এই খেলাপিদের সংখ্যা বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে দেখা যায়। যখন অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেটা ফেরত না দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে তখন এই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে সমাজে। তখনই যদি খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত, তাহলে আজকে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হত না। কোন কোন ক্ষেত্রে খেলাপি হতে পারে- সেটা ব্যবসায় মন্দার কারণে। তবে ইচ্ছা করে খেলাপি হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন।
অর্থনীতিবিদরা ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদেরই দুর্বৃত্ত বলছেন। তারা ঠিকই বলছেন, এদের কারণেই ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সামগ্রিক ব্যাংক খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাচ্ছে না। ব্যাংক খাতে যখন প্রথম এই রকম খেলাপি হওয়া শুরু হয়েছিল, ঠিক তখনই এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। আইনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও চার-পাঁচ বছর লেগে যায়। আইনের মধ্যেও কিছু ফাঁক থাকে। খেলাপিরা সেই সুযোগ কাজে লাগান। ফলে এই প্রক্রিয়ার সময় অতিক্রান্ত হয়ে ১০ থেকে ১২ বছর লেগে যায়।
বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার ছেড়েও দেয়া হয়েছে। দুই-চারজন মারাত্মক বা বড় খেলাপি যারা অনেক দিন ধরে খেলাপি করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কমিশনে অনুরোধ করেছিলাম সেই মোতাবেক আসন্ন নতুন ব্যাংকিং অ্যাক্টে প্রতিফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। কোনো একজন ব্যক্তি ব্যবসার জন্য ঋণ নিলেন। এরপর কারখানায় সঠিকভাবে গ্যাস না আসায় সে ব্যক্তির ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে। ফলে তিনি খেলাপিও হতে পারেন। নির্দিষ্ট কারণের জন্য তিনি খেলাপি হয়েছেন। এটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু অনেকে ঋণ নেন টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য, ইচ্ছা করে খেলাপি হন- তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিত। আর দেরি না করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন প্রায় ১০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পরামর্শ দিয়েছে, ১ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। খেলাপি ঋণ কীভাবে কমানো যায়?
খেলাপি ঋণ কমাতে সংস্কৃতি পরিবর্তন করা জরুরি বলে আমি মনে করি। আইএমএফ বলছে, এই খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনতে হবে। এটা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার একটা পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। হঠাৎ করেই এই হার ১ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব না। একটা নির্দিষ্ট সময়রেখা তৈরি করে ব্যাংকগুলো খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেশি। ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে এবং সরকার এ কাজে আমাদের নিরাপত্তা দেবে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে। তাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আমানতকারীদের একটি টাকাও যেন কেউ মেরে দিতে না পারে। প্রত্যেকটি ব্যাংকের সব বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে। খেলাপি ঋণ কমাতে জরুরিভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা বিভাগকে তাদের কাজ করতে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রত্যেকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে হবে।
দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংকের আমানতের সুদের হার মূল্যস্ফীতির নিচে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন ৯-৬ -এর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উঠিয়ে দেয়া উচিত। আপনি কী মনে করছেন?
২০২০ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়, ব্যাংক ঋণ দিলে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে দিতে পারবে। আর ক্রেডিট কার্ডের জন্য ২০ শতাংশ করা হয়। ওই সময় ক্রেডিট (ঋণ) প্রবৃদ্ধি কম ছিল। ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্যও ছিল। সে সময় সরকার ভেবেছিল এ হারের মধ্যে ঋণের সুদের হার রাখতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি ভালো প্রবৃদ্ধি হবে। তবে ব্যাংকগুলোতে একটা সময় আমানতের সুদের হার কমিয়ে দিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশ করা হচ্ছিল। তখন এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যারা অবসরে গেছেন এবং মাস শেষে এই টাকার ওপর নির্ভর করে চলতে হয়, তারা কীভাবে চলবেন। তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্যাংকগুলো যেন আমানতের সুদের হার কমপক্ষে মূল্যস্ফীতির সমান দেয়। আবার বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তখন কমে গিয়েছিল। ফলে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্য।
২০২১ সালে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ ক্যাপ দিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও বেসরকারি খাতে ঋণ দেয়ার প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে গেছে। আবার মূল্যস্ফীতিও বেশি। ফলে সবাই এখন টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ফলে ৯ শতাংশে ঋণ দিয়ে আমরা যে ব্যবসা করছি, সেটা আসলে ক্ষতি হচ্ছে। কারণ সব কিছুর খরচ এত বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ৯ শতাংশে ঋণ দিয়ে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক, তারা যেভাবে চলতে বলবে, আমরা সেভাবেই ব্যবসা করব।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন কোনো নির্দেশনা আপনারা পেয়েছেন কি না?
এ রকম কোনো মৌখিক বা লিখিত কোনো নির্দেশনাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমরা পাইনি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আমরা এ বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ হতে দেখেছি। সেটা শোনা যাচ্ছে ঋণের ক্ষেত্রে, ৯ থেকে ১২ করতে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকেই আমরা শুনছি বা পড়ছি। আপনাদের রিপোর্টে দেখছি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাকি বলেছেন ব্যাংকের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ৯ থেকে ১২ শতাংশ করতে পারে। তবে আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো মেসেজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে মৌখিক বা লিখিত কোনোটাই আমাদের কাছে আসেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে আমাদের ঋণ বিতরণ এবং আমানতের ক্ষেত্রে যে ৯-৬ সীমা বেঁধে দিয়েছিল, সে মোতাবেকই আমরা কাজ করছি।
ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে ডলার না থাকায় তারা পণ্য আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছেন না। তাদের এ অভিযোগ কি সত্যি? ব্যাংকে কি আসলেই ডলার সংকট আছে?
গার্মেন্টসে ব্যাক টু ব্যাক পেমেন্ট করা হচ্ছে। এ কথা ঠিক যে, এই মুহূর্তে আমাদের ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকটের প্রভাব রয়েছে। তবে এটি অন্যান্য দেশেও পড়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা মোতাবেক ডলার জোগান দিচ্ছে ব্যাংকগুলোতে। ফলে ব্যাংকগুলোর এখন উচিত প্রয়োজন ছাড়া ঋণপত্র না খোলা। কারণ খেয়াল রাখতে হবে ইমপোর্ট লায়বেলিটি শেষ করে সময়মতো ডলার পরিশোধ করতে হবে। এটি শুধু আমার ইমেজ বহন করছে না, বরং সমগ্র দেশের ইমেজ এটার ওপর নির্ভর করে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় থেকে আদায় করা ডলার থেকেই সব ব্যাংক চেষ্টা করছে ঋণপত্র খোলার। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো খাদ্য, সার, চিনির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে এলসি খুলছে। একসময় আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সে কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছিল। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি খরচ কমে এসেছে। ছয় মাস আগে যেখানে প্রতি মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হতো, সেটা এখন পাঁচ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের কারণেই এটা হয়েছে; এটা একটা খুব ভালো কাজ হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের অন্য কোনো উপায় ছিল না। আমি মনে করি ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক কাজটিই করেছে; এখনো করছে। সে কারণেই মাননীয় গভর্নর বলছেন, ‘আগামী জানুয়ারি থেকে আর ডলার সংকট থাকবে না; রিজার্ভ বাড়বে।’ ব্যক্তিগতভাবে আমিও সেটা মনে করি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে আমরা সঠিক পথেই আছি বলে আমি মনে করি। আমরা যেভাবে সাহসের সঙ্গে করোনা মহামারি মোকাবিলা করেছিলাম, যুদ্ধের ধাক্কাও ঠিক সেভাবে মোকাবিলা করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াব বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ৯৭ টাকা দরে সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ডলার দিচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কোনো ডলার দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই কারণেই কি বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট বেশি?
এখানে একটি বিষয় কিন্তু আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি ওলট-পালট হয়ে গেছে; তছনছ হয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশ কিন্তু সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণেই আমি বলব, আমাদের এখানে ডলারের সংকট নয়, বরং চাপ আছে। এটা বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। করোনার সময়ের ডেফার করা এলসিগুলো পেমেন্ট করতে হচ্ছে। ফলে সে কারণে একটা চাপ বেসরকারি ব্যাংকে আছে। আশা করছি, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে অনেকটাই এই ডলার চাপ কমে আসবে। বাফেদার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল বেসরকারি ব্যাংকে তারা সব রকমের সাহায্য করবে। ফলে আশা করছি ব্যাংকে ডলার সংকট আর হবে না।
আমদানির পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও কমছে। এতে এ বছর ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমবে কি না?
এই বছরের প্রথম পাঁচ-ছয় মাস (জানুয়ারি-মে) যেহেতু ট্রেজারির এক ধরনের আয় ছিল। ফলে মুনাফা না কমলেও নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম কমতে পারে। কারণ ডলার মার্কেটে একধরনের অস্থিরতা ছিল। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো ডলার কেনাবেচা করে মুনাফা করেছে। ব্যাংকগুলো সেই মুনাফা কীভাবে ব্যবহার করবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে সেখান থেকে কিছু মুনাফা আসতে পারবে। তবে সার্বিকভাবে এ বছর ব্যাংকগুলোর নিট আয় বা প্রফিটটা কম হবে বলে মনে হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ব্যাংকিং খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?
একসময় সবাই আমদানি-রপ্তানি করত ডলারকেন্দ্রিক। তবে এ দুই দেশের যুদ্ধে এখন অনেকে চিন্তা করছে ডলারের পরিবর্তে অন্য কোনো মুদ্রা দিয়ে লেনদেন করা যায় কি না। বাংলাদেশ ব্যাংকও কিন্তু ইতিমধ্যে বলেছে, আমরা ইচ্ছা করলে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারব। তবে এই প্রভাব বিশ্বব্যাপী। ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হয়ে গেছে। শিপমেন্ট দেরি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে ব্যাংকগুলো।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কমে আসছে। আবার ইউক্রেন রপ্তানি করছে। তবে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের রপ্তানির যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা কমে আসবে বলে মনে করি। ফলে সার্বিকভাবে বলা যায়, আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের কারণে ব্যাংক খাতে সৃষ্ট সমস্যা কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আশাবাদ বাড়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে এবং সুদের হার কমার সম্ভাবনাও জোরদার হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮১৯.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে আগের সেশনে এটি এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৪১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত এবং সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা, এই দুই কারণ মিলেই স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১১তম সেইফকন ২০২৬’। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলাটির পর্দা উঠেছে ১৬ এপ্রিল। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তি, আধুনিক বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা, টিম্বার এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো তুলে ধরছে যা দেশের প্রকৌশলী ও স্থাপত্যবিদদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। এই ধরনের প্রদর্শনী নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের মতে, এই আয়োজনটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, তুরস্ক দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর বিলাল বেলিউর্ট এবং জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ। এ ছাড়া কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সির উপ-পরিচালক সুনঘুন লি, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ওয়াং হংবো, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ জেড এম আজিজুর রহমান এবং সেভর ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর সাফল্য কামনা করেন। এই আয়োজন দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ভূমি লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) ৩.৭৫ একর ভূমিতে ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন করে বিনিয়োগ করবে। বুধবার বেজা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত এনএসইজেডে একটি হাই ভ্যালু পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা উন্নতমানের পলিয়েস্টার সুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যেই এই ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ এই বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এনএসইজেডে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগে বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।” তিনি দ্রুত শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে পণ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে মডার্ন সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, “বেজা’র সহযোগিতায় এনএসইজেডে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে যার দ্রুত সম্প্রসারণে তারা কাজ করছেন।” বেজার পক্ষে অতিরিক্ত সচিব সালেহ আহমদ এবং মডার্ন সিনটেক্সের পক্ষে আবু সুফিয়ান চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।
বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে কেবল কলকারখানাই নয়, বরং একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থার যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেড হলো দেশের স্বনামধন্য টি কে গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সাল থেকে ভোজ্যতেল, স্টিল, টেক্সটাইল, কাগজ এবং জাহাজ নির্মাণসহ বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে টি কে গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডার্ন সিনটেক্স ছাড়াও টি কে গ্রুপের সামুদা ফুড প্রোডাক্টসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে কেবল ১৫ এপ্রিল একদিনেই সংগৃহীত হয়েছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।
বিগত ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থবছরের হিসেবেও এই চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক; ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ এখন ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের বিষয়টি আরও সুসংহত হলো।
একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলারে। ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকে স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বুধবার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আঞ্চলিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই বড় অঙ্কের তহবিলের কথা জানান। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই তহবিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সুবিধা পাবে।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পোশাক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের অন্যতম বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই অঞ্চলের কারখানাগুলো বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাপানের দেওয়া এই বিপুল সহায়তা এশীয় শিল্পাঞ্চলগুলোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, “জাপান কেবল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে ধুঁকতে থাকা দেশগুলোকে তেল সরবরাহ করবে না, বরং এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ও খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবে।” উল্লেখ্য যে, জাপানের এই আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির ব্যয়ের সমান।
জাপানের এই বিশাল সহায়তার পেছনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি নিজেদের শিল্প ও সরবরাহ চেইন (সাপ্লাই চেইন) রক্ষার স্বার্থও জড়িত রয়েছে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশটির অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যদি ওই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, তবে জাপান জীবন রক্ষাকারী এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে না। তাই জাপানি নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখতেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ইতিমধ্যে জাপানি অভ্যন্তরীণ বাজারে এই সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ন্যাপথার স্বল্পতার কারণে খ্যাতনামা টয়লেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টোটো’ তাদের বিশেষ কিছু ইউনিটের নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সামগ্রীর সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে জাপানের চিকিৎসক ও রোগীদের বিভিন্ন সংগঠনও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যেখানে বাজারের সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং এতে কমিশনের অন্যান্য কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে উপস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটির ভূমিকা, কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং অর্জিত সাফল্য সম্পর্কে বিশেষ সহকারীকে অবহিত করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে।
এছাড়া পুঁজিবাজার সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হয় এবং সেসব বিষয়ে বিশেষ সহকারীকে জানানো হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তানভীর গনি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র খাতভিত্তিক বিস্তৃত নির্বাচনি ইশতেহারের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের ‘স্প্রিং মিটিংস’ চলাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসাদও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অজয় বাঙ্গা ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপান্তরে বিশ্বব্যাংকের জোরালো সহায়তা কামনা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিশেষভাবে সময়মতো অর্থ ছাড় এবং ঋণের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, "শুধু গতানুগতিক ঋণই নয়, বরং বন্ডের মতো পুঁজিবাজারের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থায়নের নতুন নতুন পথ তৈরিতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।" তিনি আরও বলেন, "বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশব্যাপী ডিজিটাল সংযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ।"
বৈঠকে রেহান আসাদ সারা দেশে তারযুক্ত ও তারবিহীন উভয় ব্যবস্থায় শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্কার এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ডিপিআই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগে অংশীদার হতে বিশ্বব্যাংক গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থমন্ত্রী সৃজনশীল শিল্প খাতকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এ খাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সমস্যা সমাধান, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে জোর দেন।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনিকীকরণসহ সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি যুবসমাজের কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চান।
বৈঠকে আর্থিক খাত সংস্কার, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের পাল্লা ভারী থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে।
মূলত বড় মূলধনের বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকে এই ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়, তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকলেও মূল্যসূচক বেড়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে, ফলে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
তবে প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার পর বাজারের চিত্র বদলাতে থাকে এবং একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকা থেকে কমার তালিকায় চলে আসে।
দিনের শেষদিকে এ প্রবণতা আরও জোরালো হয় এবং এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
তবে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত সূচক সামান্য বাড়িয়ে লেনদেন শেষ হয়, যদিও সার্বিকভাবে দরপতনের সংখ্যাই বেশি ছিল।
দিন শেষে ডিএসইতে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০১টির এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯৬টির কমেছে এবং ৩৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৪৬টির এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৫৯টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
এসবের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৯৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেনের পরিমাণ কমে ডিএসইতে মোট ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ কমেছে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, শাইনপুকুর সিরামিক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪ পয়েন্ট বেড়েছে।
এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৮৮টির এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
প্রায় দুই মাস বিরতির পর আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে নিলামের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। ফলে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স সংগ্রহে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেওয়া হয়—ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।
বাণিজ্যিক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এই দামে ডলার কিনছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার ক্রয় করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডলারের দর আবারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের বাজারভিত্তিক হস্তক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে চীন সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল দেশটির ৬ষ্ঠ গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারে অংশ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বাণিজ্য প্রতিনিধিদল মেলায় যোগ দেয়।
ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেয়ারের বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশনে হার্ডওয়্যার ও টুলস, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল ও এর আনুষঙ্গিক পণ্য, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ১৫০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের সুযোগ পান।
এই ফেয়ার উপলক্ষে আয়োজিত সাপ্লাইচেইন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।"
তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ৬৯৪.৪৯ মিলিয়ন ডলার।
এ সময় তিনি টেক্সটাইল ও টেক্সটাইলজাত পণ্য, যান্ত্রিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, ধাতু, প্লাস্টিক, খনিজ ও উদ্ভিজ পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় পলি জিনহান এক্সিবিশন, পলি ইভেন্টসের পরিচালক মিস নিকোল ফ্যান বলেন, "চীন এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধ তৈরিতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আশা প্রকাশ করেন সামনের দিনগুলোকে আরো বেশি হারে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এ সোসিং ফেয়ারে যোগদান করবে।"
তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রেতারা চীনের বৃহৎ সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন এবং নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবেন।
দেশের পুঁজিবাজারের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, বাজার মূলধন বাড়ানো এবং ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এর অংশ হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
‘টেকসই অর্থায়ন ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন সাব-প্রোগ্রাম-১’ এর আওতায় এই সহায়তা প্রদান করবে এডিবি।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো এক চিঠিতে এডিবির প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে বিএসইসি তাদের আগ্রহের কথা জানায়।
চিঠিতে এডিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ইআরডি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এডিবির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়া সহায়ক স্মারকলিপি “খসড়া এইড মেমোয়ার” এর মাধ্যমে এই কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রাথমিক আগ্রহ জানিয়ে বিএসইসি ইআরডিতে চিঠি পাঠায়।
সর্বশেষ চিঠিতে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, টেকসই অর্থায়ন এবং আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিতে চায়।
প্রস্তাবিত এই সহায়তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।
একই সঙ্গে বাজার মূলধন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএসইসি পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এডিবি “সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট সাবপ্রোগ্রাম-১”-এর আওতায় বিএসইসিকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন এই সহায়তা গ্রহণে আগ্রহী এবং তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজার মূলধন বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ বিএসইসি এবং এডিবির প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কারিগরি সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সেই বৈঠকের সারসংক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা পেলে দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বিশেষ করে ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিন) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ওই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে আসে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সচিবালয়ে আজ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দল।
সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান নানামুখী সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে একটি ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্যই এই কাউন্সিল গঠিত। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ‘আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ মালিকপক্ষের এই নেতার মতে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারসহ বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থলপথে ব্যবসা সচল রাখার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।