বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কৃষিতে ভর দিয়ে স্বস্তি ফিরছে অর্থনীতিতে

ড. আতিউর রহমান
আপডেটেড
২৬ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:৪৫
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:২৫

কৃষি খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে এরই মধ্যে আমাদের আইএমএফের টাকা যখন আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। তখন আমরা একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে যেতে শুরু করব। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না।’

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশার কথা শুনিয়েছেন আতিউর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি এখনো মজবুত ভিত্তির ওপর আছে; খাদ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। আপনার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?

আমাদের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন, আমাদের যে খাদ্য পরিস্থিতি, আমাদের যে নীতি সমর্থন, আমাদের কৃষিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে ও আগামীতে যে আরও বিনিয়োগ হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খাদ্যসংকট নিয়ে দুর্ভাবনা করার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। এ কথা ঠিক, সবাই ২০২৩ সালকে মন্দার বছর বলছেন। আর সেই সময় খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ হবে বলছেন। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। এর বড় কারণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করছি। শুধু সরকার নয়, আমাদের ব্যক্তি খাত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাই কাজ করছে। সবাই এক দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।

যদিও আমরা এক্সপোর্ট নিয়ে অনেক কথা বলি। রেমিট্যান্স নিয়ে অনেক কথা বলি। কিন্তু আমাদের দেশীয় অর্থনীতি সেটি কিন্তু ভোগনির্ভর। সেটি আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর। সেখানেই আমরা অনেক বেশি জোর দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কৃষিতে গুরুত্ব দিতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আমাদের সাবধান করে দিয়েছেন। মন্দা যদি চলে আসে। তখন হয়তো আমদানি করা খাদ্য আমাদের জন্য আনতে হবে। সেগুলোর তো দাম অনেক বেশি হবে। সেটি আনতে গিয়ে হয়তো চাপ পড়বে। নিজেরা যদি আমরা আমাদের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে পারি। আমাদের ভোগটা যদি আমরা সামলাতে পারি। তাহলে আমাদের বেশি ডলার খরচ করতে হবে না। সেই অর্থে কৃষি একটি ফুড সাবস্টিটিউট ইন্ডাস্ট্রি। যদি আমাদের অনেক আমদানি করতে হতো। সেই আমদানির যে মূল্য সেটি কিন্তু বর্তমান রিজার্ভের ওপর আরও চাপ তৈরি করত।

বাংলাদেশ কৃষির উন্নয়নের জন্য যে নীতিমালা গ্রহণ করেছে সেটি যথার্থ। এ জন্যই বলছি, আমি দুই-তিন দিন আগেই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ করে এলাম। তেঁতুলিয়ায় গিয়েছিলাম, ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলাম। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখলাম যে এবার আমন উৎপাদন বাম্পার হয়েছে। কৃষকের মুখে হাসি। কারণ তারা অনেক বেশি উৎপাদন করতে পেরেছে। এখন আমাদের জন্য যেটি চ্যালেঞ্জ, সেটি হচ্ছে বোরো। আমাদের বোরো উৎপাদন ঠিকমতো করতে হবে। সে জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করছি, বিদ্যুৎ সব সময় থাকবে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। ডিসেম্বরে আরও ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। সব মিলিয়ে মনে হয় কৃষকরা সেচের বিদ্যুৎ পাবেন। আমাদের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ সেটি হচ্ছে ফার্টিলাইজার। আমরা যেন কৃষককে সময়মতো সার দিতে পারি। আমাদের খেয়ার রাখতে হবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের যে সার বিতরণব্যবস্থা তার ওপর নজর রাখতে হবে। যাতে আমাদের ডিলাররা কৃষকদের সার সময়মতো দিতে পারে। এটি নিয়ে যেন কোনো রকমের সমস্য না তৈরি হয়; সেদিকে খেয়াল করতে হবে। আরেকটি জিনিস করতে হবে আমন উৎপাদনের পর। আমাদের প্রকিউরমেন্ট শুরু হবে। আমরা যেন কৃষকদের যথার্থ মূল্য দিই।

আমি যদি ৫৫ টাকা করে চাল আমদানি করি। আমার কৃষককে যদি আমি ৫০ টাকাও না দিতে পারি, তাহলে কিন্তু কৃষকের প্রতি সুবিচার হচ্ছে না। এই জায়গাটিতে আমাদের খেয়াল করতে হবে। আমাদের যে মজুত সেটি বাড়িয়ে যেতে হবে। মজুত যদি আমাদের বেশি থাকে, তাহলে আমাদের বিশ্ব সংকট হলেও আমরা সামাল দিতে পারব। গ্রাম নিয়ে আমি চিন্তিত না। খাদ্য নিয়ে যদি কিছু টানাপোড়েন থেকে থাকে সেটি শহরে। শহরের যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাদের আয়-রোজগার কিছুটা কমেছে। খাদ্য কিনতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। গ্রামে যে রকম সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আছে, শহরে কিন্তু ততটা নেই। সুতরাং আমাদের শহরের খাদ্য নিয়ে আরও ভাবতে হবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিরও উদ্বেগজনক সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। সরকারি হিসাবেই অক্টোবরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগস্টে এই সূচক ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠেছিল। মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে সরকারের কী করা উচিত?

সরকারের জন্য খুব অসুবিধা এই কারণে যে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নেই। আমাদের আছে টিসিবি। টিসিবির গলিতে গলিতে দোকানপাট নেই। সুতরাং মধ্যবিত্ত চাইলেও কিনতে পারে না। এখন ডিজিটাল যুগ। এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটালভাবে সব রকম ব্যবস্থা করা যেত। মধ্যবিত্ত যদি একটি জায়গায় অনলাইনে ঢুকতে পারে। আমার পাঁচ কেজি চাল লাগবে, সেটি সরকার সহনীয় মূল্যে সরবরাহ করবে। এটি কিন্তু করা যায়। মধ্যবিত্ত সহজেই এনআইডি ব্যবহার করবে। একজন একবারের বেশি ব্যবহার করবে না। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকাটি দিয়ে দেবে। যাদের দরকার তাদের এভাবে দেয়া যেতে পারে। এ রকম কিছু ইনোভেটিভ মেজার নেয়া যেতে পারে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় গরিব মানুষ নানাভাবে সহায়তা পাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি পরিবারকে কম দামে খাদ্য দেয়া হচ্ছে। এগুলো খুবই ভালো উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। অসহায় গরিব মানুষের খুব উপকার হচ্ছে। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের নিয়ে ভাবতে হবে। আড়াই বছরের করোনা মহামারি এবং যুদ্ধের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কারও বেতনই কিন্তু বাড়েনি। বরং অনেকে চাকরি হারিয়েছেন; কম বেতন পাচ্ছেন। এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমি মনে করি, সরকারকে এখন মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে যদি সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে যায়, সেটি মেনে নিয়েই এই কাজটি করতে হবে।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয় অনেক কমেছে। গত মার্চে পণ্য আমদানির জন্য যেখানে সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল, সেটি এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে শিল্প উৎপাদন বা সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে?

এখনই এতটা অস্বস্তির কথাটা না ভাবাই ভালো। আমরা কৃষিতে যেহেতু ভালো করছি। আমাদের দেখতে হবে আমাদের আমদানি যেন বন্ধ না হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমদানিতে আছে খাদ্য, কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি- এগুলোই মোট আমদানির ৮৫ শতাংশ। আমাদের রপ্তানি বাড়বে না যদি আমদানি না বাড়ে। সুতরাং আমদানিটা কিন্তু অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বাঁচানোর জন্য আমদানি বন্ধ করেছে। সেটির একটি সুফল আমরা পাচ্ছি। যাতে করে ছোট ছোট আমদানি যেমন গরুর জন্য ওষুধ, মুরগির জন্য খাদ্য- এগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ব্যাংকগুলো যেন এসব ছোটখাটো আমদানিতে ডলার জোগান দিতে পারে; এলসি খুলতে পারে- সেদিকে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহায়তা করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জন্য এখন খুবই ক্রিটিক্যাল সময়। এই সময় যাতে আমাদের জরুরি আমদানি বন্ধ না হয়, আমাদের যাতে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমাদের এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্স কিন্তু আবার বাড়ছে। আরও বাড়বে আমরা আশা করি। একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল এক্সচেঞ্জ রেট। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা চেষ্টা করছে। এক্সচেঞ্জ রেট একাধিক হওয়ার কারণে কিছু সংকট দেখা দিয়েছিল, ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল। এর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন ওয়ার ট্রান্সফার এবং রেমিট্যান্সে জন্য একটি ডলার রেট হয়েছে।

কিন্তু এক্সপোর্ট এবং রেমিট্যান্সের মধ্যে পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। আমাদের ইন্টার ব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট এখন খুবই স্যালো। এটির একটি রেটেই থাকা উচিত। সেই রেট দেখে দেশের মানুষ এবং বিদেশি যারা আমাদের এখানে বিনিয়োগ করছেন তারা বুঝতে পারবেন যে টাকা এবং ডলারের রেশিওটি কত। এটি অনেক সময় বোঝা যায় না। একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম থাকায় আমাদের সমস্যা হচ্ছে।

প্রাইভেট (বেসরকারি খাত) অনেক ফরেন ঋণ যারা নিয়েছেন, তারা একটু চাপের মধ্যে পড়ছেন। সেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যারা এই ঋণগুলো নিয়েছে তাদের মধ্যে একটি বোঝাপড়া হওয়া উচিত। এগুলোর জন্য সময় বাড়িয়ে নেয়া যায় কি না বা এগুলোর জন্য বিদেশি অন্যান্য ব্যাংক থেকে রিফাইন্যান্স করা যায় কি না- এসব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি।

ছোট ব্যাংকগুলো যারা এক্সপোর্ট বেশি করে না, রেমিট্যান্স বেশি আনে না, তারা যাতে এসেনসিয়াল পণ্য আমদানি করতে ইন্টার ব্যাংক থেকে তাদের যেটি প্রাপ্য এক টাকা বেশি দিয়ে ডলার পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আর তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখতে পারে। এটি কিন্তু ছোট ইম্পোর্টের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাতে কী হবে? হয়তো দেড় বিলিয়ন ডলার বাড়তি ড্র-ডাউন হবে। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না, মার্কেট যদি আমাদের সুস্থির থাকে, এর চার গুণ আমাদের ফিরে আসবে। ইম্পোর্ট যদি চালু থাকে আমাদের যেই পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত একটি শক্তিশালী অবস্থানের ওপর আছে। আমার সবার কাছে অনুরোধ থাকবে অযথা গুজব ছড়াবেন না। বরং আমরা সবাই মিলে কিছু শক্তিশালী নীতিমালা গ্রহণ করে এই যে টানাপোড়েন ফরেন এক্সচেঞ্জের, সেটি হয়তো পূরণ করতে পারব। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি যে সেটি তো অনেক শক্তিশালী। গ্রাম ভালো আছে। শহরে কিছু সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। সরকার এরই মধ্যে এক কোটি কার্ড করেছে। তারা নানাভাবে চেষ্টা করছে। মধ্যবিত্তের জন্য যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করতে হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় আমি বলতে চাই, আমাদের কথাবার্তায় আমরা যাতে খুব সাবধানে কথা বলি। যাতে কোনো রকম গুজব না তৈরি হয়। এ বিষয়গুলোর ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আগামী দুটি মাস যদি আমরা সাবধানে পা ফেলি, তাহলে আমাদের আইএমএফের টাকা যখন আসতে শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবির টাকা আসতে শুরু করবে। আমাদের রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। একটি স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির দিকে কিন্তু আমরা যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা এলে, বিভিন্ন দেশে সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশের খুব একটি সমস্যা হবে না। কেননা আমাদের সরকারি গুদামগুলোতে ২০ লাখ টনের মতো খাদ্য মজুত আছে। বেসরকারি পর‌্যায়েও প্রচুর খাদ্য আছে। আমনটা ভালো হয়েছে। বেরোটা যদি আমরা ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারি, তাহলে খাদ্য নিয়ে আর আমাদের কোনো চিন্তা থাকবে না। আর পেটে ভাত থাকলে অন্য সব বাধাবিপত্তি মোবাবিলা করা খুব একটা কঠিন হবে না বলে আমি মনে করি।

আপনি বলছিলেন যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে যারা বিপদে পড়েছে। এদের কীভাবে সহায়তা করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি, সেটি হলো জরুরি আমদানি বন্ধ করা যাবে না। নতুন পদ্ধতি আমাদের তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে বেশি ডলার আনার উদ্যোগ আমাদের নিতে হবে। যারা বাইরে থেকে ডলারে ঋণ নিয়েছে। আর এখন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকটে পড়েছে। তাদের কিন্তু সাহায্য করার কথা সরকারকে চিন্তা করতে হবে। যারা সঠিক উদ্যোক্তা। তাদের উতরে নেয়ার জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা এরা যদি বিপদে পড়ে, উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু অর্থনীতিতে আরেক ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে; যারা এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বা কাজ করছেন, তারা বেকার হয়ে যাবেন। তাই এ বিষয়টি এখন সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

হুন্ডি তখনই বাড়ে, যখনই কার্ব মার্কেটে ডলার রেটের সঙ্গে অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য অনেক বেশি হয়। মার্কেট রেটে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটটি হওয়া উচিত। এক্সচেঞ্জ রেট আমরা এত দিন ফ্লোটিং ম্যানেজেমেন্ট করতাম। অর্থাৎ মার্কেট রেটের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, এখনো করছি। কিন্তু রেটের অ্যাভারেজ (গড়) করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ছেড়ে দেয়া উচিত। কার্ব মার্কেট ও অফিশিয়াল রেটের পার্থক্য যদি ১ বা ২ টাকার হয়, তাহলে কিন্তু মানুষ অফিশিয়াল চ্যানেলেই টাকা পাঠাবে।

যারা অফিশিয়ালি টাকা পাঠাবে তাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আসা যায় কি না তা ভাবা দরকার। যেমন- এনআইডি ফিক্স করে তাদের ইনভার্সাল পেনশন স্কিমে যুক্ত করা, তাদের সন্তানদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। এ রকম লং টার্ম ইনসেনটিভ প্যাকেজের সঙ্গে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের যুক্ত করে দিলে দেশের স্বার্থে, পরিবারের স্বার্থে তারা অফিশিয়াল চ্যানেলে টাকা পাঠাবেন।

আরেকটি কাজ করতে হবে, আর সেটি হলো ক্যাম্পেইন করতে হবে। প্রবাসী ভাইবোনদের বলতে হবে, আপনারা যে আন-অফিশিয়াল চ্যানেলে (হুন্ডি) টাকা পাঠাচ্ছেন, এটি দিয়ে কী হয়? এই টাকা দিয়ে কেউ জঙ্গিপনা করে, অস্ত্র কেনে, সন্ত্রাস করে। তার চেয়ে টাকা অফিশিয়াল চ্যানেলে পাঠান, যেটি দিয়ে আমরা মেশিন কিনতে পারব রপ্তানির জন্য, শিশুখাদ্য কিনতে পারব। তখন তারা বুঝবেন, দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বৈধ পথে টাকা পাঠাবেন।

আমরা এই পারে (দেশে) যেমন ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যেমন আমরা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি, ওই পারেও অর্থাৎ উৎসেও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংকগুলোকে অ্যাপস খুলতে বলতে পারি। ধরুন, ওইখানে একটি ফেইক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আছে, যেটি তারা বলে, সেটি কিন্তু সত্যি না, ফেইক।

কিন্তু একটি রিয়েল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যদি করতে পারে এবং তারা যদি একটি অ্যাপস তৈরি করে, যেমন অগ্রণী ব্যাংক করেছে মালয়েশিয়ায়। তাহলে মরুভূমিতে বসেই আমাদের ভাইগুলো টাকা পাঠাবেন, যেটি আমাদের ব্যাংক হয়ে আবার তার বাড়িতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে যাবে। এই রকম একটি ব্যবস্থা আমরা করতেই পারি। আমাদের রেগুলেটর ও তাদের রেগুলেটররা আলাপ করতে পারেন।

আমি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলাম, তখন আমরা এই ধরনের একটি এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম মালয়েশিয়ায়, একটি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বিকাশের সঙ্গে এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। এই ধরনের এক্সপেরিমেন্ট আরও বেশি করা উচিত। তাতে মানুষ কনফিডেন্স পাবে। আনুষ্ঠানিকভাবেই আমরা টাকাগুলো আনতে সক্রিয় আছি।

মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যাংকঋণ ও আমানতের সুদের হার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

রেট অব ইন্টারেস্ট (সুদের হার) নিয়ে উভয় দিকের কনসার্নেই সত্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ালে দেশের জন্য ভালোই হয়, তাতে অনুৎপাদনশীল খাতে খরচটা কম হয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে, যেমন উৎপাদনশীল খাতে রেট অব ইন্টারেস্ট কম থাকলে উৎপাদন বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়ে। সুতরাং এটি একটি ব্যালান্সিং অ্যাক্ট, এই কাজটি করতে হবে। তবে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হারে যদি ডিপোজিট রেট দিই, তাহলে তো একজন মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে, সে তো টাকা দিন দিন হারিয়ে ফেলবে।

ব্যাংক যদি সেই হারের বেশি হারে ডিপোজিট দেয়, কম হারে যদি লোন দেয়, তার ওপরে ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। তাহলে তো ব্যাংকের ব্যবসা হবে না। এই রকম জিনিসগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট রেট কম দেব, সে ক্ষেত্রে তাকে ফিসক্যাল সাপোর্টে দেয়া যেতে পারে। যেমন আমি গভর্নর থাকার সময় কৃষিতে ইন্টারেস্ট রেট কম রেখেছি, খুবই কম হারে পিঁয়াজের জন্য লোন দিয়েছিলাম, সেটি কেমন করে, কারণ আমরা ৬ শতাংশ ভর্তুকি ফিসক্যাল পলিসিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছিলাম।

সুতরাং কোনো কোনো জায়গায় এ রকম ইনোভেটিভ আইডিয়া করাই যেতে পারে। তবে বাকিটা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত, ট্রাস্ট করা উচিত। বাজার যেভাবে আমাদের গাইড করবে, কিছুটা সামাজিক দায়বোধ থাকতে হবে, কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিলেও সার্বিক ক্ষেত্রে বাজারের ধর্মমতে চলতে হবে। অনুৎপাদনশীল খাত যদি খানিকটা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাতে ক্ষতি নেই।

কোরিয়ায় একসময় ২০ শতাংশ হারেও লোন দেয়া হতো। সেখানে প্রবৃদ্ধি কিন্তু কমেনি। সুতরাং আমি মনে করি, টাকাটা ঠিক জায়গামতো যাচ্ছে কি না, আমার রিয়েল ইকোনমি উপকৃত হচ্ছে কি না, এটি যদি হয় এবং সময়মতো মানুষ যাতে টাকা পায় সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। ধরা যাক, কম রেটে কৃষিঋণ দেয়া হলো। কৃষক গেলেন ব্যাংকে, টাকা নেয়ার সময় তার কাছ থেকে কিছু টাকা ব্যাংকাররা রেখে দিলেন। কৃষক কিন্তু হিসাব করবেন তার রেট অব ইন্টারেস্ট বা খরচ বেশি হিসাব করবেন। সুতরাং স্বচ্ছতার খাতিরে রেট অব ইন্টারেস্ট নিয়ে বাস্তববাদী ভাবনার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়াচ্ছে একটি মহল। আসলে বাস্তব অবস্থা কী। সাবেক গভর্নর হিসেবে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি নিরাপদ। কয়েক দিন আগে যে গুজব উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মানুষ ছড়িয়েছিল, তা কিন্তু নেই। তাহলে তো এখনো থাকত তাই না? এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল সেটি বোঝা যায়। আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে টাকা রাখা, বালিশের নিচে টাকা রাখার চেয়েও বেশি নিরাপদ। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে অনেক ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কোনো ব্যাংকের সত্যিই যদি লিকুইডিটি ক্রাইসিস থাকে, তাহলে সে তার রেপো ব্যবহার করতে পারে, সরকারের কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বা সিকিউরিটি থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ওই ব্যাংকটিকে লং টার্ম লিকুইডিটি সাপোর্ট দিতে পারে। এখন ফরেন এক্সচেঞ্জেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় এসেছে সাপোর্ট দেয়ার। দরকার হলে ওডি দেবে, সোয়াপ করবে। নানা রকম ইনস্ট্রুমেন্ট আছে, যাতে মার্কেটটিকে লিকুইড এবং স্বস্তিকর করে দেয়া যায়। এটি ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য ও লোকাল মার্কেটের জন্যও দরকার। আমাদের কাছে সেই ইনস্ট্রুমেন্ট আছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি কথা বলেছেন, ‘টাকার অভাবটা আসল অভাব না, আসল অভাব ভরসা।’ সুতরাং আমরা ভরসার পরিবেশ করি।

অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে সরকার ব্যয় সংকোচনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

সরকার এখন পর্যন্ত যথার্থ পথেই এগোচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিতে তারা যে গুরুত্বটা দিয়েছে, সেটা অত্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক হয়েছে। এখন যেটি করতে হবে। আমাদের দরকার হলে আগামী দুই মাসের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ থেকে ছেড়ে দেব, ছেড়ে দিয়ে হলেও এই জায়গাটায় স্টেবলাইজড করব। বিশেষ করে এসেনসিয়াল ইমপোর্টে যেন কোনো ব্যাংকই কোনো সমস্যা তৈরি না করে। সে জন্য দরকার হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হটলাইন খুলতে হবে, কোন ব্যাংক কী সমস্যা করছে, তা জানবে এবং সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন দিতে হবে।

পাইপলাইনে যেসব ফরেন এক্সচেঞ্জ আসার কথা সেটি ত্বরান্বিত করতে হবে। আইএমএফ, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে নেগোসিয়েশন করেছি, সেগুলোর প্রথম কিস্তি তাড়াতাড়ি চলে আসবে সেই কাজটি করতে হবে। আরেকটি কথা হলো, ফরেন এক্সচেঞ্জ বা রিজার্ভের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সবাই কথা বললে হবে না। কথা বলবেন সেন্ট্রাল ব্যাংক, গভর্নর বা মুখপাত্র এবং তথ্য দিয়ে ক্রেডিবল মেসেজ দেবেন, এটি সম্ভব, তাহলে সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যাবে বলে আমার মনে হয়।


বিশ্ব বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আশাবাদ বাড়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে এবং সুদের হার কমার সম্ভাবনাও জোরদার হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮১৯.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে আগের সেশনে এটি এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল।
অন্যদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৪১.৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত এবং সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা, এই দুই কারণ মিলেই স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।


টেকসই অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ঢাকায় ‘সেইফকন ২০২৬’ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১১তম সেইফকন ২০২৬’। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই মেলাটির পর্দা উঠেছে ১৬ এপ্রিল। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, এই আয়োজনে নবায়নযোগ্য শক্তি, আধুনিক বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা, টিম্বার এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো তুলে ধরছে যা দেশের প্রকৌশলী ও স্থাপত্যবিদদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে। এই ধরনের প্রদর্শনী নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের মতে, এই আয়োজনটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, তুরস্ক দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর বিলাল বেলিউর্ট এবং জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ। এ ছাড়া কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সির উপ-পরিচালক সুনঘুন লি, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ওয়াং হংবো, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ জেড এম আজিজুর রহমান এবং সেভর ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর সাফল্য কামনা করেন। এই আয়োজন দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


বেজা ও মডার্ন সিনটেক্স’র মধ্যে ৭.৫ মিলিয়ন ডলারের জমি লিজ চুক্তি সই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ভূমি লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) ৩.৭৫ একর ভূমিতে ৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নতুন করে বিনিয়োগ করবে। বুধবার বেজা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূলত এনএসইজেডে একটি হাই ভ্যালু পলিয়েস্টার ইয়ার্ন বা উন্নতমানের পলিয়েস্টার সুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যেই এই ভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।

অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ এই বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এনএসইজেডে মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেডের মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগে বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।” তিনি দ্রুত শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে পণ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে মডার্ন সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, “বেজা’র সহযোগিতায় এনএসইজেডে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে যার দ্রুত সম্প্রসারণে তারা কাজ করছেন।” বেজার পক্ষে অতিরিক্ত সচিব সালেহ আহমদ এবং মডার্ন সিনটেক্সের পক্ষে আবু সুফিয়ান চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।

বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে কেবল কলকারখানাই নয়, বরং একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থার যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। মডার্ন সিনটেক্স লিমিটেড হলো দেশের স্বনামধন্য টি কে গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সাল থেকে ভোজ্যতেল, স্টিল, টেক্সটাইল, কাগজ এবং জাহাজ নির্মাণসহ বহুমুখী খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে টি কে গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডার্ন সিনটেক্স ছাড়াও টি কে গ্রুপের সামুদা ফুড প্রোডাক্টসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।


দেশের রিজার্ভ এখন ৩৫.০৩ বিলিয়ন ডলার

আপডেটেড ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৪৩
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে কেবল ১৫ এপ্রিল একদিনেই সংগৃহীত হয়েছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।

বিগত ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থবছরের হিসেবেও এই চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক; ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ এখন ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের বিষয়টি আরও সুসংহত হলো।

একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলারে। ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকে স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জাপানের ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বুধবার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এক আঞ্চলিক সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই বড় অঙ্কের তহবিলের কথা জানান। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্যটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই তহবিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সুবিধা পাবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পোশাক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের অন্যতম বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই অঞ্চলের কারখানাগুলো বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাপানের দেওয়া এই বিপুল সহায়তা এশীয় শিল্পাঞ্চলগুলোকে শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, “জাপান কেবল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে ধুঁকতে থাকা দেশগুলোকে তেল সরবরাহ করবে না, বরং এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ও খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবে।” উল্লেখ্য যে, জাপানের এই আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির ব্যয়ের সমান।

জাপানের এই বিশাল সহায়তার পেছনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি নিজেদের শিল্প ও সরবরাহ চেইন (সাপ্লাই চেইন) রক্ষার স্বার্থও জড়িত রয়েছে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশটির অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। যদি ওই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, তবে জাপান জীবন রক্ষাকারী এসব সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে না। তাই জাপানি নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত রাখতেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ইতিমধ্যে জাপানি অভ্যন্তরীণ বাজারে এই সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ন্যাপথার স্বল্পতার কারণে খ্যাতনামা টয়লেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টোটো’ তাদের বিশেষ কিছু ইউনিটের নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা সামগ্রীর সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে জাপানের চিকিৎসক ও রোগীদের বিভিন্ন সংগঠনও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


পুঁজিবাজার উন্নয়নে করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যেখানে বাজারের সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং এতে কমিশনের অন্যান্য কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে উপস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটির ভূমিকা, কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি পুঁজিবাজারের ইকোসিস্টেম, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং অর্জিত সাফল্য সম্পর্কে বিশেষ সহকারীকে অবহিত করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে।

এছাড়া পুঁজিবাজার সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হয় এবং সেসব বিষয়ে বিশেষ সহকারীকে জানানো হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তানভীর গনি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বাংলাদেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের ‘স্প্রিং মিটিংস’ এর ফাঁকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র খাতভিত্তিক বিস্তৃত নির্বাচনি ইশতেহারের প্রশংসা করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের ‘স্প্রিং মিটিংস’ চলাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসাদও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অজয় বাঙ্গা ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করায় বিএনপিকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্থনীতির রূপান্তরে বিশ্বব্যাংকের জোরালো সহায়তা কামনা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিশেষভাবে সময়মতো অর্থ ছাড় এবং ঋণের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জবাবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, "শুধু গতানুগতিক ঋণই নয়, বরং বন্ডের মতো পুঁজিবাজারের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থায়নের নতুন নতুন পথ তৈরিতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।" তিনি আরও বলেন, "বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশব্যাপী ডিজিটাল সংযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ।"

বৈঠকে রেহান আসাদ সারা দেশে তারযুক্ত ও তারবিহীন উভয় ব্যবস্থায় শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের সংস্কার এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ডিপিআই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগে অংশীদার হতে বিশ্বব্যাংক গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থমন্ত্রী সৃজনশীল শিল্প খাতকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেন এবং এ খাতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সমস্যা সমাধান, আর্থিক খাতের শক্তিশালীকরণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারের বিষয়ে জোর দেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আধুনিকীকরণসহ সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি যুবসমাজের কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল সংযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চান।

বৈঠকে আর্থিক খাত সংস্কার, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।


সপ্তাহের শেষ দিনে শেয়ারবাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতা, কমেছে লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের পাল্লা ভারী থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে।

মূলত বড় মূলধনের বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকে এই ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়, তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকলেও মূল্যসূচক বেড়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে, ফলে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

তবে প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার পর বাজারের চিত্র বদলাতে থাকে এবং একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকা থেকে কমার তালিকায় চলে আসে।

দিনের শেষদিকে এ প্রবণতা আরও জোরালো হয় এবং এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

তবে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত সূচক সামান্য বাড়িয়ে লেনদেন শেষ হয়, যদিও সার্বিকভাবে দরপতনের সংখ্যাই বেশি ছিল।

দিন শেষে ডিএসইতে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০১টির এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯৬টির কমেছে এবং ৩৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৪৬টির এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৫৯টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

এসবের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৯৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে নেমেছে।

লেনদেনের পরিমাণ কমে ডিএসইতে মোট ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ কমেছে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, শাইনপুকুর সিরামিক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪ পয়েন্ট বেড়েছে।

এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৮৮টির এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।


নিলামে ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই মাস বিরতির পর আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে নিলামের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। ফলে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত মোট ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স সংগ্রহে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেওয়া হয়—ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।

বাণিজ্যিক ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এই দামে ডলার কিনছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার ক্রয় করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডলারের দর আবারও নিম্নমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের বাজারভিত্তিক হস্তক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য রক্ষা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত উদ্যোগ।


বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে চীন সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল দেশটির ৬ষ্ঠ গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারে অংশ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বাণিজ্য প্রতিনিধিদল মেলায় যোগ দেয়।

ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেয়ারের বিটুবি ম্যাচমেকিং সেশনে হার্ডওয়্যার ও টুলস, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল ও এর আনুষঙ্গিক পণ্য, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ১৫০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের সুযোগ পান।

এই ফেয়ার উপলক্ষে আয়োজিত সাপ্লাইচেইন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।"

তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ১৮.২০ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ৬৯৪.৪৯ মিলিয়ন ডলার।

এ সময় তিনি টেক্সটাইল ও টেক্সটাইলজাত পণ্য, যান্ত্রিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, ধাতু, প্লাস্টিক, খনিজ ও উদ্ভিজ পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় পলি জিনহান এক্সিবিশন, পলি ইভেন্টসের পরিচালক মিস নিকোল ফ্যান বলেন, "চীন এবং বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যকার সেতুবন্ধ তৈরিতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আশা প্রকাশ করেন সামনের দিনগুলোকে আরো বেশি হারে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা এ সোসিং ফেয়ারে যোগদান করবে।"

তিনি আরও বলেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রেতারা চীনের বৃহৎ সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন এবং নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবেন।


পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এডিবির সহায়তা নিতে আগ্রহী বিএসইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, বাজার মূলধন বাড়ানো এবং ডিজিটাল রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এর অংশ হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

‘টেকসই অর্থায়ন ও পুঁজিবাজার উন্নয়ন সাব-প্রোগ্রাম-১’ এর আওতায় এই সহায়তা প্রদান করবে এডিবি।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো এক চিঠিতে এডিবির প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে বিএসইসি তাদের আগ্রহের কথা জানায়।

চিঠিতে এডিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার বিস্তারিত তথ্য ইআরডি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এডিবির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়া সহায়ক স্মারকলিপি “খসড়া এইড মেমোয়ার” এর মাধ্যমে এই কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রাথমিক আগ্রহ জানিয়ে বিএসইসি ইআরডিতে চিঠি পাঠায়।

সর্বশেষ চিঠিতে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, টেকসই অর্থায়ন এবং আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিতে চায়।

প্রস্তাবিত এই সহায়তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।

একই সঙ্গে বাজার মূলধন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএসইসি পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এডিবি “সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট সাবপ্রোগ্রাম-১”-এর আওতায় বিএসইসিকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

কমিশন এই সহায়তা গ্রহণে আগ্রহী এবং তা পুঁজিবাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাজার মূলধন বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ বিএসইসি এবং এডিবির প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কারিগরি সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সেই বৈঠকের সারসংক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা পেলে দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বিশেষ করে ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এপ্রিলের দুই সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিন) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ওই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে আসে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।


পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত বাধা নিরসনে বিজিএমইএ-বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সচিবালয়ে আজ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দল।

সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান নানামুখী সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে একটি ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্যই এই কাউন্সিল গঠিত। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ‘আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ মালিকপক্ষের এই নেতার মতে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারসহ বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থলপথে ব্যবসা সচল রাখার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।


banner close