রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
৫ মাঘ ১৪৩২

বন্দরে লাইটারেজ জাহাজ সংকট, ক্ষতির শঙ্কায় আমদানিকারকরা

* বহিঃনোঙরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা * বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াকের সমন্বয়হীতা * দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ী মহলের * নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৩

লাইটারেজ জাহাজ সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী মাদার ভেসেল থেকে খালাস প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিবন্ধিত প্রায় ১ হাজার ২০টি লাইটারেজ জাহাজের মধ্যে যদি ৬৩০টির বেশি আটকে থাকে, তাহলে সংকট হওয়াই স্বাভাবিক। এর ওপর আবার ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ সারাদেশে পণ্য পৌঁছে দিতে বাইরে রয়েছে।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া), কোস্টাল ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এবং ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং বা আইভোয়াক

এই তিন সংগঠনের সমন্বয়হীনতা ও জাহাজ মালিকদের অতিমুনাফার আশা এই সংকটের জন্য দায়ী বলছেন কেউ কেউ। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া), কোস্টাল ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) এবং ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক)–এর সমন্বয়ে বিডব্লিউটিসিসি গঠিত। মূলত এই তিন সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সিরিয়াল প্রথা না মানা ও চট্টগ্রামে বরাদ্দকৃত ৯০০ লাইটার জাহাজ মোংলাসহ দেশের অন্য রুটে চলাচলের কারণে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ নবী আলম জানান, বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াক এ তিনটি সংগঠনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল গঠিত হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এছাড়া অতি মুনাফার আশায় সিরিয়াল না মেনে এবং চট্টগ্রামে না চালিয়ে লাইটার জাহাজ মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করছে। এ কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ জন্য সবার আগে বিসিভোয়া, কোয়াব এবং আইভোয়াক- এই তিন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

এদিকে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেল বলছে, ৫০ হাজার টনের একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে দৈনিক গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার হয়। সে হিসেবে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসে প্রতিদিন প্রয়োজন হয় দুইশ থেকে আড়াইশ লাইটারেজ জাহাজ।

বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাস করলেও বাকী আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেল থেকে জাহাজ বুকিং নেন। দৈনিক ৮০টি লাইটারেজ বরাদ্দ দেয়া হলেও তিনদিন সেল থেকে কোনো জাহাজ দেয়া হয়নি। যে কারণে প্রায় শতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ আছে।

শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগে যেখানে একটা জাহাজ ৮ থেকে ১০ দিনে খালাস হতো সেখানে এখন একটা জাহাজ প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগছে। সে হিসেবে জাহাজ প্রতিদিন যে পরিমাণ ড্যামারেজ খাচ্ছে তা হিসেব করলে প্রতিদিন ৮০টা জাহাজে ১৬ লাখ করে ড্যামারেজ খাচ্ছে।’

আকিজ শিপিং লাইনের এজিএম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি মাসে কিন্তু আমাদের ৮ থেকে ১০টা জাহাজ থাকে। এখন এই মুহূর্তে আমাদের পোর্টে আছে ৪টা। গত চারদিন থেকে কোনো কাজই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) আহ্বায়ক হাজী শফিক আহমেদ বলেন, ‘আগে যেটা ১৮ ঘণ্টায় ঢাকায় যেতো এখন সেটা তিনদিন লাগছে। বিভিন্ন জায়গায় জাহাজগুলো কুয়াশার জন্য চালাতে পারছে না। অনেকগুলো চিটাগাং পোর্টের জাহাজ মংলা পোর্টে চলে গেছে যেহেতু মংলা পোর্টে এখন যথেষ্ট মাদার জাহাজ আছে।’

বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার হোসেন সাগর বলেন, আনলোডিং অপারেশন (খালাস কার্যক্রম) প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যে জাহাজ ১০ দিনে বন্দর ছাড়ার কথা, সেটি এখন ২৫ থেকে ৩০ দিন অপেক্ষা করছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য আমদানিকারকদের দৈনিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে মোট ১০৮টি পণ্যবাহী জাহাজ অপেক্ষমাণ ছিল। এসব জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি জাহাজে প্রায় ১২ লাখ টন রমজানসংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্য—গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেল আছে। আরও পাঁচটি জাহাজে ২ লাখ টনের বেশি চিনি রয়েছে। সাতটি জাহাজে সার এবং ২৫টি জাহাজে সিমেন্টের ক্লিংকার বহন করা হচ্ছে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি মাদার ভেসেল লাইটার জাহাজের মাধ্যমে নদীবন্দর ও টার্মিনালে পণ্য পরিবহন করে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে খালাস শেষ করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে লাইটারেজ সংকটের কারণে অপেক্ষার সময় বেড়ে ২০ থেকে ৩০ দিনে দাঁড়িয়েছে। কিছু জাহাজ দিনের পর দিন কোনো পণ্যই খালাস করতে পারছে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ৩০-৩৫টি বড় জাহাজ বন্দরে থাকে, কিন্তু গত কয়েক দিনে ৭০-৮০টি জাহাজ অপেক্ষমাণ হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজের সংকটের কারণে দৈনিক খালাস ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

অপরদিকে লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে কঠোর অবস্থানে সরকার। লাইটার জাহাজের সংকট মোকাবিলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর।


চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে স্থবিরতা: সাগরে ভাসছে ৮৫টির বেশি জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল বা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যশস্য, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে সাগরে ভাসছে ৮৫টিরও বেশি জাহাজ। পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার বা ছোট জাহাজের তীব্র সংকটের কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে না পারায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন বিশাল অঙ্কের মাশুল বা জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, এই সংকটের মূল কারণ কেবল লাইটারেজ জাহাজের অভাব নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা এবং জাহাজের অপব্যবহার। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে খাদ্যশস্য পরিবহনকারী বেশ কিছু লাইটারেজ জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও পণ্য খালাস করছে না। আমদানিকারকরা এসব জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে পণ্যবাহী এই জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে এবং পুনরায় পণ্য পরিবহনের জন্য ফিরে আসতে পারছে না। ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সংকট যা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

সাধারণত বড় শিল্প গ্রুপগুলো তাদের নিজস্ব লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য খালাস করে থাকে। তবে সাধারণ আমদানিকারকরা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজের বুকিং নেন। বর্তমানে বিডব্লিউটিসিসি চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ লাইটারেজ জাহাজের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি। ফলে অর্ধশতাধিক জাহাজের পণ্য খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে ৫০ হাজার টন পণ্য নিয়ে আসা একটি মাদার ভেসেল ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সংকটের কারণে এই সময়সীমা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অনেক জাহাজকে ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো জাহাজ দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও এক টন পণ্যও খালাস করতে পারছে না। এই বিলম্বের কারণে শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বহির্নোঙরে অবস্থান করা প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা করে ড্যামারেজ বা জরিমানা দিতে হচ্ছে।

বিডব্লিউটিসিসি এই সংকটের জন্য ঘন কুয়াশা এবং বিএডিসির সারের কাজে ১৪০টি জাহাজ আটকে থাকাকে দায়ী করেছে। তবে ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। ইনল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মতে, বিডব্লিউটিসিসির অধীনে থাকা ১ হাজার ২০০ জাহাজের মধ্যে প্রায় ৩০০টি মোংলা বন্দরে চলে গেছে। এছাড়া ৬৮৭টি জাহাজ পণ্য বোঝাই করে গন্তব্যে যাওয়ার পর খালাস না করে এক থেকে দেড় মাস ধরে আটকে আছে। অপারেটররা এই সংকট নিরসনে জাহাজের সিরিয়াল প্রথা বাতিল করে উন্মুক্ত ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস করে অচলাবস্থা দূর করা সম্ভব হয়।


দাবি আদায়ে অনড় মোবাইল ব্যবসায়ীরা: সকল ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিতের ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান আন্দোলন ও দোকানপাট বন্ধ কর্মসূচি চলাকালীন সকল প্রকার ব্যাংক ঋণের বিপরীতে কিস্তি পরিশোধ বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং ব্যবসা সচল থাকাকালীন ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং আয়-লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।" তাদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে যৌক্তিক দাবিগুলোর কোনো সমাধান না আসায় "এই বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব নয়।"

নিজেদের ব্যবসার বৈধতা ও সক্ষমতা প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায় যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনেই তারা ব্যাংক ঋণ পেয়েছে, যা তাদের আনুষ্ঠানিক ও বৈধ অর্থনীতির অংশ হওয়ার প্রমাণ দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে বলা হয়, "এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার বৈধতা, স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করে।" যারা এই শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে সংগঠনটি জানায়, "আজ যারা আমাদের অবৈধ বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, এই শিল্পে ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগই আমাদের বৈধতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।" পরিশেষে ব্যবসায়ীরা এই সংকট নিরসনে দ্রুত সমাধান দাবি করে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, "আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট, ন্যায্য সমাধান চাই। সমাধান এলেই ব্যবসা চলবে, ব্যবসা চললেই ব্যাংক কিস্তি চলবে।"


নীতি নির্ধারণে অংশীজনদের উপেক্ষা: দেশের ওষুধ শিল্পে সংকটের শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অংশীজনদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকা অনুমোদন ও মূল্য নির্ধারণের একতরফা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি)।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বাপির মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন যে, "অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও দাম নির্ধারণ অত্যন্ত কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত।" তিনি দাবি করেন, দেশের ওষুধ শিল্পের প্রধান অংশীজন হওয়া সত্ত্বেও বাপিকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করে মোট সংখ্যা ২৯৫-এ উন্নীত করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সরকার নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে এই তালিকার ওষুধগুলো তৈরি করতে হবে। সরকারের এমন অবস্থানের প্রেক্ষিতে ডা. জাকির হোসেন বলেন, "অর্তবর্তীকালীন রুটিন কাজের বাইরে এসে অনেক কিছু করতে চাইছে।" তিনি নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে সরকারকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনাদের সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন।" উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজার ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যয় বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করা হলে তা শিল্পের জন্য টেকসই হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বাপির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান যে, গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠান বাদে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি বর্তমানে রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কোম্পানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ১৯৯০ সালের মূল্য কাঠামোতে ২০২৫-২৬ সালেও ওষুধ বিক্রির বাধ্যবাধকতাকে তিনি অবাস্তব বলে অভিহিত করেন। ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে শিল্পের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ২০১৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তগুলো জাতীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে শিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান।


গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন মন্দা: অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরে নিম্নমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি) সব ধরনের সূচকের পতন ও লেনদেনের উল্লেখযোগ্য হ্রাসের মধ্য দিয়ে বাজার পরিস্থিতি নেতিবাচক ছিল।

গত সপ্তাহের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন ১৯.৯০ শতাংশ কমেছে এবং তালিকাভুক্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন ঘটেছে, যদিও এই পরিস্থিতির মধ্যেও বাজার মূলধন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪ থেকে ৮ জানুয়ারির তুলনায় গত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৪৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, তবে বাজার মূলধন এক হাজার ২৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেড়ে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট এক হাজার ৯০০ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা; যা আগের সপ্তাহের ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার গড় লেনদেনের তুলনায় বেশ কম।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৪১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হলেও মাত্র ৯৩টির দর বেড়েছে এবং ২৬৮টির দাম কমেছে, যেখানে ২৫টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল। এই নিম্নমুখী প্রবণতায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯.৫৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৪,৯৫৮.৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

একইভাবে ডিএসই-৩০ সূচক ২.২২ পয়েন্ট কমে ১,৯১২.৭২ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪.৮৭ পয়েন্ট কমে ৯৫২.৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএসএমইএক্স সূচক ৫.১৫ পয়েন্ট কমে ৯৫২.২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকের এমন ধারাবাহিক পতন ও লেনদেনের নিম্নগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও বাজার মূলধনের ইতিবাচক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।


বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় চীনের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্মুক্ত বাজার নীতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৫ সালে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্য মূল্য ৪৫ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছে এক নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে, যা গত পাঁচ বছরে ৪০ ও ৪৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের গণ্ডি অতিক্রমের ধারাবাহিকতায় অর্জিত হয়েছে।

টানা নয় বছর ধরে বজায় থাকা এই প্রবৃদ্ধি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক সাফল্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশটির রফতানি কৌশল বর্তমানে শুধু পণ্য বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ‘উইন-উইন’ সহযোগিতার একটি কার্যকর মডেলে পরিণত হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা যায় বিদেশি বিনিয়োগপুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৩ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বাণিজ্য মূল্যে, যেখানে ইন্টেলের ছেংতু চিপ কারখানা কিংবা টেসলার শাংহাই গিগাফ্যাক্টরির মতো হাইটেক উদ্যোগগুলো চীনে উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করছে বিশ্ববাজারের সাধারণ ক্রেতারা, কারণ ‘মেড ইন চায়না’ সোলার প্যানেল, নতুন জ্বালানির গাড়ি ও গৃহস্থালি সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে ও দ্রুততায় সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, চীনা পণ্যের অনুপস্থিতিতে দেশটির পরিবারগুলোর গড় জীবনযাত্রার ব্যয় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেত। একই সঙ্গে চীনের উন্নত সৌর ও বায়ুশক্তি প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সুলভ করে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক সবুজ রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করেছে, যা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ের বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। রফতানির পাশাপাশি চীন আমদানিতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে, যার প্রমাণ ২০২৫ সালের রেকর্ড ১৮ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের আমদানি চিত্র এবং গড় শুল্কহার ৭ দশমিক ৩ শতাংশে কমিয়ে আনা। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি হাইনান ফ্রি ট্রেড পোর্টের মতো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো সিমেন্স এনার্জির মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প-শৃঙ্খল সুবিধা ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিগুলো বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। ২০২৫ সালের কেপিএমজি রিপোর্টেও এর প্রতিফলন ঘটেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৬৪ শতাংশ বহুজাতিক উদ্যোগ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও জানিয়েছেন, ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে (২০২৬-২০৩০) চীন আমদানি ও রফতানির সুষম উন্নয়ন, উদ্ভাবনী বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সঞ্চালন মসৃণ করার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে চীন একটি আন্তর্জাতিকীকরণকৃত ভোগ পরিবেশ গড়ে তুলবে, ‘চায়নায় দোকান’ ব্র্যান্ড তৈরি করবে, পর্যটকদের জন্য কর ফেরত নীতি আরও উন্নত করবে এবং আন্তর্জাতিক ভোগ কেন্দ্র শহরগুলোর উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে বিশ্লেষকরা চীনের এই উন্মুক্ততা ও সহযোগিতার নীতিকে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার এক গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।


রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা প্রদর্শন: ‘গ্যাপেক্সপো-২০২৬’-এর সফল সমাপ্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

বিজিএপিএমইএ আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, পাকিস্তান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৫০০টি স্টলে তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও পণ্য প্রদর্শন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করেন বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার। লক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত এই মেলায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট খাতের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে গত অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ছিল ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সঠিক সুযোগ পেলে এটি পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এই খাতের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।” অন্যদিকে, দেশের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার মন্তব্য করেন, “অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা ব্যবসায়ী সেজে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের টাকা লুট করতে পারে না।”

ব্যবসায়িক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “এই সেক্টরটি বাংলাদেশের অন্যতম ‘আন্ডাররেটেড’ সেক্টর হলেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানির খাত। কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ করে। আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য গত একবছর খারাপ অবস্থায় গেছে। আমাদের আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও বিদেশিদের কাছে আস্থাভাজন গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়।” দেশীয় শিল্পের বিকাশে নীতিমালার প্রভাব সম্পর্কে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “‘আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু কিছু পলিসি আমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। ‘ফ্রি অফ কস্ট’ আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আলোচনা করে সেটা কমিয়েছি। সব যদি দেশের বাইরে থেকেই আসে, তবে আমাদের কারখানা তো চলবে না। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে হবে।” রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলার সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে ৮টি শ্রেষ্ঠ স্টলকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ স্বীকৃতি জানানো হয়।


স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ভরিতে বাড়ল ২৬২৫ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে পুনরায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানো হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বাজুস বলেছে, “স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় স্বর্ণের দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে।” শনিবারও সারাদেশে এই পরিবর্তিত উচ্চমূল্যেই স্বর্ণ বেচাকেনা চলছে।

স্বর্ণের নতুন এই দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ এখন ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করে চূড়ান্ত দাম পরিশোধ করতে হবে, যদিও গয়নার অলংকরণ ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা দরেই স্থির রয়েছে।


পাঁচ বছরে আয় ও উদ্বৃত্তে রেকর্ড ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

২০২৫ সালে খরচ বাদে লাভ করেছে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে গত পাঁচ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে সব খরচ বাদ দিয়ে ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লাভ করেছে; যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫- এই পাঁচ বছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩.০৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৮.৪২ শতাংশ। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চবক সূত্র জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৭.৫৯ শতাংশের মধ্যে ধরে রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বাবদ চট্টগ্রাম বন্দর গত পাঁচ বছরে সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় করেছে পাঁচ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত রাজস্বের পরিমাণ ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

সূত্রমতে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে ২০২৪ সালেও বড় অঙ্কের অর্থাৎ ২ হাজার ৯২৩.১৭ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তার আগের বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০২৩, ২০২২ ও ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ, ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ ও ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০২৪ সাল। বছরটিতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ এ বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় আগের বছরের তুলনায় ৭.৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে রাজস্ব আয়ে ১৬.৬৯ এবং ২০২২ সালে ৬.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধের নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করায় গত দুই বছর ধরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৬১ শতাংশ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫০ শতাংশে সীমিত রাখতে পেরেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

যদিও ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধির হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং বছরটিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব ব্যয় হয়েছে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০.১৮ শতাংশ বেশি ছিল। এর আগে ২০২২ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.১৭ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে এই অর্থ জমা দেয় তারা। গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে মোট ৭৫৮০.২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা দিয়েছে কর হিসেবে, যার পরিমাণ ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ জমা দিয়েছে তিন হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর বাইরে কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণও প্রতি বছর বাড়ছে। সর্বশেষ ২০২৫ এ কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে সরকারের কোষাগারে ১৮০৪.৪৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় যা ৫.৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১,৭১১.৭৫ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মধ্যে ২০২৩ সালে ১,৫১৯.৩৫ কোটি, ২০২২ সালে ১,৩৫৯.৫৯ কোটি এবং ২০২১ সালে ১,১৮৫.০৪ কোটি টাকা সরকারের কোষগারে জোগান দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত দুই ক্ষেত্রে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।


ভূরাজনৈতিক সংকট ও সরবরাহ শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবার কিছুটা বেড়েছে তেলের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনের দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটির প্রাক্কালে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আক্রমণের সম্ভাবনা সাময়িকভাবে স্তিমিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার দাম কমলেও পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরির উপস্থিতি এবং সরবরাহে সম্ভাব্য ঘাটতির ভয়ে বাজার পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বেড়ে ৬৪ ডলার ১৩ সেন্ট হয়েছে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৫৯ ডলার ৪৪ সেন্টে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সরবরাহ আশানুরূপ শুরু না হওয়াকে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন। তাঁর মতে, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে যে পরিমাণ সরবরাহ আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তা এখনো ওভাবে শুরু হয়নি। শুক্রবার যারা তেল কিনেছে, তারা মূলত তিন দিনের ছুটির সময় ঘাটতিতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।’

যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালি অবরোধের আশঙ্কা বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দামের ওপর একটি বাড়তি চাপ বজায় থাকতে পারে।

তবে সামগ্রিক বাজার ভারসাম্য নিয়ে বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, “ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে জল্পনাকল্পনার ধারাবাহিক চাপ থাকলেও বাণিজ্যের যে মৌলিক ভারসাম্য, তাতে এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, “চীনের চাহিদায় হঠাৎই বেড়ে না গেলে কিংবা তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলে তেলের দাম সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে।” মূলত চীনসহ বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর গতির কারণেই ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকালীন রেকর্ড দামের তুলনায় বর্তমানে তেলের বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


নির্বাচন ও রমজান ঘিরে রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি: শক্তিশালী হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত প্রবাসী আয়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণও তত বাড়ছে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই; এই অল্প সময়ে দেশে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন ও রমজানে পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটানোর তাগিদে প্রবাসীদের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যা আগামী মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও চাঙা করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান। সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড; এর আগে গত বছরের মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স সংগৃহীত হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ থেকে শুরু করে প্রতি মাসেই এটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ পাচার ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে অধিক উৎসাহিত হচ্ছেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১৫৩ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে দেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।


ঢাকায় ফোর্ট্রেসের আবাসন মেলা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

আধুনিক আবাসন ও লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে ‘ফোর্ট্রেস প্রোপার্টি এক্সপো ২০২৬’ নামে আবাসন মেলার আয়োজন করেছে ফোর্ট্রেস গ্রুপ। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রূপায়ণ শপিং স্কয়ারে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মেলার উদ্বোধন করেন ফোর্ট্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান।

ফোর্ট্রেস গ্রুপের চলমান ৮০টি আবাসন প্রকল্পে ২১ লাখ বর্গফুট আয়তনের জায়গা থেকে গ্রাহকেরা ফ্ল্যাট বা অফিস স্পেস বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। জলসিঁড়ি আবাসন, বসুন্ধরা ও উত্তরায় প্রকল্প চলমান রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফোর্ট্রেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি সেরা প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন নকশা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভূমিকম্প সহনীয় আবাসনের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকি। আমাদের সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

আবাসন মেলাটি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


ছুটির দিনে বাণিজ্যমেলায় দর্শনার্থী, উপচেপড়া ভিড়

বিশেষ ছাড়ের টানে মেলায় মানুষের ঢল
আপডেটেড ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫৩
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে বাণিজ্যমেলায় উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মিষ্টি রোদে শীতের আমেজ ভালই লাগে। তাছাড়া শীতের দাপট অনেকটাই কমে গেছে। সকালেই সূর্যের আলোয় আলোকিত মেলা প্রাঙ্গণ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ক্রেতা দর্শনার্থীও। বিক্রেতারা জানান, আগের চেয়ে বেচাকিনি অনেক বেড়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, জুমার নামাজের পর থেকেই টিকিটের জন্য মানুষজনের লম্বা সারি। মেলায় মানুষের উপচে পড়া ভীড়। দোকানিরাও খুশি। ক্রেতা দর্শর্নাথীরাও পছন্দের পন্য কিনে খুশি।

মেলায় দর্শনার্থীদের এমন আগমনে বিক্রেতাদের মুখে উচ্ছাসের হাসি। মেলায় আসা ক্রেতারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে চাহিদা মতো নিজের কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি কেনার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে কেনাকাটা শেষ করে স্টলে বাইরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। মেলায় আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে কাপড়, প্রসাধনী ও ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে। ভিড় দেখা গেছে রাজা মামার চায়ের স্টলেও।

দুপুরের দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সকাল থেকে মেলায় আসতে থাকেন মানুষ। বিকেলে এটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের পর্যাপ্ত বুথ থাকায় মেলায় ঢুকতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।

বেড়াইদ থেকে এসেছেন ফাহাদ দম্পতি। তারা বলেন, মেলায় এসে ঘুরে ঘুরে বেশ কয়েকটি ফার্নিচারের শোরুম দেখলাম দুটি সোফা ও একটি ওয়ারড্রব পছন্দ হয়েছে। আরো কিছু দেখতেছি। সাধ্যমত কিনে নিয়ে যাব।

সুজানা ইসলাম নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পেশায় চাকুরীজীবি। তিনি বলেন, দুপুর থেকে সব স্টল ঘুরলাম, অনেক কিছু দেখলাম। পছন্দ হয়েছে কিছু পণ্য, যা ফেরার সময় নিয়ে যাব। মেলার চারদিক খোলামেলা থাকায় ঠান্ডা বাতাস কাবু করে ফেলেছে।

মার্কস কোম্পানীর স্যালসম্যান গাজী আশরাফ হোসেন বলেন, , বেচাবিক্রির পরিমাণ সন্তোষজনক। এতোদিন সবাই ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখেছেন। কিন্তু আজ ক্রেতার সংখ্যা বেশি। যারা আসছেন তারা কেনার জন্যই আসছেন।

স্বামী সন্তানসহ এসেছেন আঁখি মনি, তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাইকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। গৃহস্থালির ও রান্নাবান্নার কাজে জন্য বেশ কিছু পণ্য ক্রয় করেছি। স্যালসম্যান হৃদয় খান জানান, শুক্রবার লোকসংখ্যা অনেক হয়েছে। বেচাকেনা ও বেশ ভালো। কয়েকদিন শীতের কারণে মানুষ কেমন আসেনি তবে আজ মানুষের সমাগম আমাদের আশানুরূপ বেচাকেনা হয়েছে।

রাজা মামা চায়ের স্বত্তাধিকারী রাজা মামা বলেন, শুক্রবার লোকজন আসছে। বেচাকেনাও হচ্ছে। টার্কিস প্যাভিলিয়নের মালিক নাসির হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনে বেচাকেনা তেমন হয়নি। শুক্রবার দুপুর থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়।

আড়াই হাজার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় আসা আশরাফ ভূঁইয়া বলেন, আমরা চার বন্ধু মিলে চারটি ব্লেজার কিনলাম। পছন্দসই জিনিস বিশেষ ছাড়ে পেলে আরও কিছু কেনার ইচ্ছা আছে।

মেলায় আসা দর্শনার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, এখানে কেনা-কাটা করলে শত শত জিনিস দেখে পছন্দেরটাই কেনা যায়। আবার অফার ও ছাড়ে সাশ্রয়ী মূল্যেই কেনা যায়। শোরুমের মূল্য থেকে ১৫ পার্সেন্ট ছাড় পেয়েছি, তাই একটি এলইডি টিভি কিনলাম।

সাকুরা হান্ডি ক্যাপসের ম্যানেজার রাকিব হোসেন জানান, মেলার প্রথম এক সপ্তাহ তেমন বিক্রি হয়নি। শুক্রবার ও শনিবার বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। এমনিতে প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই মেলায় ক্রেতা বিক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের মিলন মেলা ঘটে। তবে পুরোদমে বেচা-বিক্রি আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে শুরু হতে পারে।

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রথম থেকেই ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কমই ছিল। এখন তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয়। এরই মধ্যে দুটি ছুটির দিনও আমরা পেয়েছি। শুক্র ও শনিবার এ দুদিন ক্রেতা দর্শনার্থীদের সন্তোষজনক উপস্থিতি ছিল। আশা করছি, আগামী ছুটির দিনগুলো থেকে মেলা পুরোদমে জমে উঠবে।

মেলায় নিরাপত্তায় দায়িত্বে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণায় ৩ দিন পর শুরু হয় মেলা। আবার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে, একই সময়ে তীব্র শীতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম ছিল। আজ আবার বেড়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ৭ শতাধিক পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা। মেলায় থাকা কারাপণ্য বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, এ বছর নানা কারনে বেচাকেনা কম হচ্ছে। তবে কারাপণ্যের চাহিদা সব সময় রয়েছে।

তবে আয়োজকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারে সংযুক্ত করতে বাণিজ্যমেলার আসর বসে। আর ব্যবসায়ীদের প্রদর্শনে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নেয়া পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাণিজ্য মেলা কাজ করছে। এবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৩ লাখ ৭৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এবারের মেলাস্থল। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা। তবে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।


banner close