আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনার প্রভাবে স্বর্ণের মূল্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর তথ্যানুসারে, সোমবার দিনের শুরুতে স্পট স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ‘৪ হাজার ৮০৯ দশমিক ৭১ ডলারে’ দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। একইসাথে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ‘৪ হাজার ৮২৯ দশমিক ৪০ ডলারে’ নেমেছে। বাজার বিশ্লেষক ইলিয়া স্পিভাক এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “গত সপ্তাহে বাজার যে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল, তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের দাম কমেছে। এর ফলে আবারও ‘যুদ্ধকালীন বাণিজ্য’ পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।” মূলত অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় মার্কিন ডলার এবং বন্ড ইল্ড—উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ এখন বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজার ও শেয়ারবাজারে। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ আটক করার পর তেহরান থেকে প্রতিশোধের হুমকি আসায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং মন্তব্য করেছেন, “স্বর্ণের দিকনির্দেশনা এখন বৈশ্বিক ঝুঁকির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনার অগ্রগতি এর ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।” উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতের প্রভাবে স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, কারণ উচ্চ সুদের হার এই মূল্যবান ধাতুর বিনিয়োগ আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
বিশ্ববাজারে মূল্যের এই নিম্নমুখী ধারার ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে যেকোনো সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ‘২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা’ নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ‘২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা’ এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ‘২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকায়’ কেনাবেচা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামেও পতন দেখা গেছে; স্পট সিলভারের দাম কমে প্রতি আউন্স ‘৮০ দশমিক ৩৬ ডলারে’ ঠেকেছে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও টেক্সটাইল খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে আঙ্কারা যাবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধি দল। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তুরস্ক দূতাবাসের কমার্সিয়াল কাউন্সেলরও বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্রুত বিজিএমইএ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল তুরস্ক সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "পণ্য বহুমুখীকরণে তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার এবং এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।" তিনি বাংলাদেশের ম্যান-মেড ফাইবার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কের শক্তিশালী রিফাইনিং সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে ২০১১ সাল থেকে কার্যকর ‘সেফগার্ড ডিউটি’ প্রত্যাহার এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
তুরস্ক থেকে আমদানি করা তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়েও মতবিনিময় হয়। এ প্রেক্ষিতে বিজিএমইএ তুরস্কের অর্গানিক কটন ও আধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠকে তুর্কি এয়ারলাইন্স এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের উন্নত লজিস্টিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনাও আলোচিত হয়। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
বিজিএমইএ’র অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক খাতে কর্মরত মার্চেন্ডাইজারদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়, তুরস্কের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন দীর্ঘ ১৭ বছর পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ নির্বাচনে ‘খ’ প্যানেলের প্রার্থী হাসেন আলী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি হরিণ প্রতীক নিয়ে এক হাজার ৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ক’ প্যানেলের খন্দকার মিজানুর রহমান ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকে এক হাজার ২৬ ভোট পেয়েছেন।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চেম্বার ভবনে ভোটগ্রহণ চলে এবং গণনা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে ‘খ’ প্যানেলে অংশ নেন বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ‘ক’ প্যানেলের ২১টি পদের মধ্যে বিএনপিপন্থি নয় জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন এবং জামায়াতপন্থি ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের ফলাফলে ১১টি পদে জয়ী হয় ‘ক’ প্যানেল এবং ‘খ’ প্যানেল পায় ১০টি পদ।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ‘ক’ প্যানেলের শামসুর রহমান শান্তন ঘুড়ি প্রতীকে এক হাজার ১৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন ‘খ’ প্যানেলের জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যিনি চশমা প্রতীকে এক হাজার ৭৫ ভোট পেয়েছেন।
পরিচালনা পর্ষদের ১৮টি পরিচালকের মধ্যে ১০টি পদ পেয়েছে ‘ক’ প্যানেল এবং ৮টি পদ গেছে ‘খ’ প্যানেলের দখলে। ‘ক’ প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা হলেন রেজাউল করিম, শাহ মো. মাইনুল হোসেন শান্ত চৌধুরী, হাসিবুল আলম, ইমাম মেহেদী, আহসান হাবীব, শাকিলুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, রুহুল আমীন, ফরহাদ হোসেন এবং মোবাশ্বের আলী।
অন্যদিকে ‘খ’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন তৌহিদ হাসান, মাইনুল হক, মো. শামসুজ্জামান, তাসনিম হোসেন, গোলাম সাকলাইন, এ জে এম জান্নাতুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম এবং মাহমুদ হাসান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফ হোসেন জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৯০০ জন এবং তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল।
আজ রবিবার দুপুরে এর তথ্য নিশ্চিত করেন পার্বতীপুর রেল তেল ডিপোর মেঘনা পেট্রোলিয়াম কম্পানির ম্যানেজার।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেল হেড তেল ডিপোতে তেল এসে পৌঁছায়।
তারও আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন এবং ১৮ এপ্রিল শনিবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।
ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এ ডিজেল পৌঁছায়।
এরপর সেখান থেকে রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কম্পানিতে সরবরাহ করা হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট যেন ব্যবসায়ীদের জন্য ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের প্রেক্ষাপটে করজাল সম্প্রসারণ ও ব্যবসা সহজীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এমসিসিআই এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের বিনীত প্রত্যাশা– আসন্ন জাতীয় বাজেটটি যেন ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়।”
সেমিনারে তিনি বাজেট প্রণয়নে ছয়টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে করজাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, করপোরেট কর হ্রাস, ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল চালু, পিএসআর ও আইনি অসংগতি দূরীকরণ, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এসএমই খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
করজাল সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে কামরান টি রহমান বলেন, দেশে এক কোটির বেশি ‘টিআইএন’ থাকলেও অর্ধেকেরও কম করদাতা রিটার্ন জমা দেন। এনআইডি ও টিআইএন ডেটাবেজ সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করদাতাদের ভীতি কমাতে বছরে মাত্র ১০০ বা ১ হাজার টাকার ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ নির্ধারণ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
করপোরেট কর বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, করহার কমানো হলেও ‘নগদ লেনদেনের’ কঠোর শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনীতির বাস্তবতায় এই শর্ত বাতিলের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২.৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানান তিনি।
সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। আগামী বাজেটে অতিরিক্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা বিদ্যমান করদাতাদের জন্য হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যখনই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়, তখন যারা নিয়মিত কর দেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে নতুন করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।’ ২০০৯ সাল থেকে ভ্যাট সংগ্রহে ‘ইসিআর বা ফিসক্যাল’ ডিভাইস ব্যবহারের কথা থাকলেও গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেমিনারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, নিউএইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস করতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত ‘ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল’ চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর সঙ্গে চীনের তিনটি শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস এবং গুয়াংজু চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস এই চুক্তিতে যুক্ত হয়।
ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট চীনা চেম্বারগুলোর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
ডিসিসিআই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার চীনের গুয়াংডং প্রদেশে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে চীন সফরে থাকা ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদল একই দিনে চায়না ফরেন ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারের ‘ট্রেড ব্রিজ-বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় এবং সেখানে প্রায় ২৭০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করে।
অনুষ্ঠানের বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা সভায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, চীন বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশই দেশটি থেকে আসে। গত অর্থবছরে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে পঞ্চম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে চীন ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোটিভ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টর এবং উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ, ফিনটেক, কৃষি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ শিল্প এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ব্যবহারে যৌথ উদ্যোগ উভয় দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থার (সিসিপিআইটি) এক পরিচালক বলেন, নানশা অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২০২৫ সালে এর আঞ্চলিক জিডিপি ২৪০ বিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে। অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও বায়োমেডিসিন খাতে যৌথ উদ্যোগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স-এর সভাপতি উ শাওওয়েই বলেন, গুয়াংডংয়ে উৎপাদিত পণ্য দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টসের সহ-সভাপতি শি ইয়ংহং বলেন, ক্যান্টন ফেয়ার বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের অন্যতম মিলনমেলা এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চীনা উৎপাদনকারীদের সম্পর্ক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সহজ করতে অনলাইন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) সম্প্রসারণে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিডার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহারুল হুদা বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত, সহজ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে বিডা ধারাবাহিকভাবে ওএসএস প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করছে। নতুন পাঁচটি ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো হলো- ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এই সমঝোতার ফলে এখন থেকে ওএসএস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে বিডার ওএসএস প্ল্যাটফর্মে ১৪২টি সেবা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে বিডাসহ ৪৭টি স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে এবং এখন পর্যন্ত দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নতুন ব্যাংকগুলো যুক্ত হওয়ায় সেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে বিডা। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৬৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি।
বিডা জানায়, ভবিষ্যতে ওএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ১৫০টির বেশি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘BanglaBiz’ নামে একটি সমন্বিত সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও এসব সেবা পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন বিডার পরিচালক (ওএসএস ও ডাটা অ্যানালাইটিকস) সুনীল কুমার অধিকারী। ওএসএস সিস্টেমের ওপর উপস্থাপনা করেন বিডার মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেলেও অন্যান্য অধিকাংশ খাতের প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কমেছে, তবে দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায় এবং সূচক শুরুতেই ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। দিন শেষে ডিএসইতে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২২৩টির এবং ৫৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দর বেড়েছে, ১০টির কমেছে এবং ১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১১১টির কমেছে এবং ২৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, বিপরীতে ৪৮টির কমেছে এবং ৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২৪টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ৬৪টির কমেছে এবং ১৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার প্রবণতা বেশি থাকায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে নেমেছে।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, তবে ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। প্রধান সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৮১৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ফলে বেড়েছে ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। দিনের লেনদেনে সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে রানার অটোমোবাইল, একমি পেস্টিসাইড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, গোল্ডেন সন, ইস্টার্ণ ব্যাংক এবং মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯ পয়েন্ট কমেছে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১০৮টির কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচির মধ্যে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।"
তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসাও করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশ ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীর বাজারগুলোতে বর্তমানে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকের পরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। উল্টো গত কয়েক দিন ধরে বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও হয়ে গেছে এবং এর প্রভাবে খোলা তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনেও বাজারে চাহিদামতো তেল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার ও নারিন্দা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে অধিকাংশ দোকানে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের কোনো সরবরাহ নেই। এক ও দুই লিটারের বোতল দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দাম নিচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই কোম্পানিগুলো অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ দিচ্ছে না, ফলে বাজারে এই হাহাকার তৈরি হয়েছে।
বোতলজাত তেলের এই সংকটের সুযোগে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৫৫ টাকা এবং এক লিটার ১৯৫ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও সাধারণ ক্রেতারা এই দরে তেল পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতারা নিরুপায় হয়ে বাড়তি দরে খোলা তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। নারিন্দা বাজারের একাধিক বিক্রেতা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বড় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়ানোর আবেদন করলেও সরকার তাতে সম্মতি দেয়নি। এর প্রতিবাদে বা চাপের মুখে কোম্পানিগুলো বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে বাজারে গুঞ্জন রয়েছে। অনেক খুচরা বিক্রেতার অভিযোগ, কোম্পানির প্রতিনিধিরা কয়েক দিন ধরে বাজারে আসছেন না, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতারা বাজারের এমন বেসামাল অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাজারে তেল কিনতে আসা সাধারণ মানুষ বলছেন, একদিকে গণমাধ্যমে তেলের দাম না বাড়ার খবর প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে এসে তেলের দেখা মিলছে না। তাঁদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যোগসাজশ করে তেলের মজুদ কমিয়ে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল আলোচনার টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না, বরং বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে সরকারকে কঠোর তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অন্যতম প্রধান এই উপকরণের দাম নাগালের বাইরেই থেকে যাবে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার সাথে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক দুই প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক। ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ ধরে এই দুই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কারাকাসের সাথে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য এক বড় ধরণের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, সংস্থাটি এখন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কাজ শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, আইএমএফ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কারাকাসের সাথে এই নতুন সম্পৃক্ততা শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আইএমএফ-এর এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাংকও একই পথে হাঁটার কথা জানায়। উল্লেখ্য যে, বিশ্বব্যাংক সর্বশেষ ২০০৫ সালে ভেনেজুয়েলাকে আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদান করেছিল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশলেরই একটি অংশ। কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর থেকে ব্যক্তিগত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এরপর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই ঘোষণা রদ্রিগেজ সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার পথে ওয়াশিংটনের নেওয়া সর্বশেষ ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর রদ্রিগেজ দেশটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের এক বিরাট কূটনৈতিক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ফলে ভেনেজুয়েলা এখন বৈশ্বিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা চাওয়ার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ পেল। বর্তমানে সংকটাপন্ন অর্থব্যবস্থাকে সচল করতে এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় গড়ে তুলতে এই ধরণের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশটির জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য ছিল।
ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ঋণের বোঝায় জর্জরিত একটি রাষ্ট্র। দেশটির মোট বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বর্তমানে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল ঋণের জাল থেকে বেরিয়ে আসা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেশটিকে নতুন পথ দেখাতে পারে। যদিও এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন অনেক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তবে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ একে একটি নতুন সম্ভাবনার শুরু হিসেবেই দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতা দেশটির অর্থনীতির চাকা কতটা দ্রুত সচল করতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনের স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরণের চমক দেখিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক নানাবিধ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চীনে আইফোনের সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনের সংকটের মাঝে অ্যাপলের এই প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের মূল্যবৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে চীনের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার গত এক প্রান্তিকে প্রায় ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মাঝেও অধিকাংশ ব্র্যান্ড যেখানে লোকসানের মুখে পড়েছে, সেখানে অ্যাপল এবং চীনের নিজস্ব ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে তাঁদের সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের সুবিধা এবং উন্নত কারিগরি মানের কারণে চীনা গ্রাহকদের বড় একটি অংশ এখন প্রথাগত ফোনের চেয়ে আইফোনের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইসের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। গ্রাহকদের এই পরিবর্তিত রুচিই মূলত অ্যাপলকে বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
বর্তমান বাজার হিস্যা অনুযায়ী, চীনের স্মার্টফোন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০ শতাংশ বাজার দখল করে বর্তমানে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে হুয়াওয়ে। অন্যদিকে, মাত্র ১ শতাংশের ব্যবধানে অর্থাৎ ১৯ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাপল। হুয়াওয়ে এবং অ্যাপল যখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন শাওমি ও অপোর মতো অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সময়টি বেশ কঠিন যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, আলোচিত এই সময়ে শাওমি ও অপোর মতো ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্মার্টফোন বাজার সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আস্থা বাজারের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত ও সচেতন গ্রাহকরা ফোনের স্থায়িত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় আইফোনের চাহিদা উর্ধ্বমুখী রয়েছে। আপাতত চীনের বিশাল বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে অ্যাপল ও হুয়াওয়ের মধ্যকার এই লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মাঝেও চীনের বাজারে আইফোনের এই ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অ্যাপলের জন্য এক বড় ধরণের স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এক বিপরীতমুখী চিত্র দেখা গেছে। মাছ ও মাংসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি অন্তত ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর কাওরানবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের এই অসম হ্রাস-বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক বাজেটে বড় ধরণের প্রভাব ফেলছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিমের বাজারে সবথেকে বেশি অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে যে ডিমের ডজন ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, আজ তা একলাফে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাছাই করা বড় ডিমের ডজন এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর সাধারণ ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। হঠাৎ করে ডিমের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ ক্রেতারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাজারে ডিম কিনতে আসা শিমুল হোসেন নামের এক ক্রেতা তাঁর অভিজ্ঞতায় বলেন, ডিম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খাবার হলেও এর দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই দায়। বাজারের এই অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিত্যপণ্যের এমন অস্বাভাবিক আচরণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে এবং যাপিত জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিমের বাজারে উত্তাপ থাকলেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ব্রয়লার মুরগির দামে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমেছে ব্রয়লারের দাম। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালী মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মানভেদে আসল সোনালী মুরগি ৪৫০ টাকা এবং হাইব্রিড জাতের সোনালী ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরেই স্থির রয়েছে। অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজার এখনো উচ্চমূল্যেই আটকে আছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদের আগে এই দাম কমার কোনো জোরালো সম্ভাবনা নেই।
মাছের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় অধিকাংশ মাছের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ইলিশ মাছের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ এখন ১০০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাস ২০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কৈ মাছ ১৪০ টাকা এবং মানভেদে পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছ বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি এমন থাকলে ইলিশের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।
সামগ্রিকভাবে রাজধানীর বাজারগুলোতে কোনো পণ্যের দাম কমলে অন্য পণ্যের দাম বাড়ার এই প্রবণতা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও ডিমের মতো অতি জরুরি প্রোটিন উৎসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামলানো কঠিন করে তুলেছে। সচেতন ক্রেতারা মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং সঠিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে সমঝোতা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।