বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
২০ ফাল্গুন ১৪৩২

যুদ্ধ থেমে গেলে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে

মোহাম্মদ আলী খোকন
আপডেটেড
১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৫৭

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় আর চীন প্রথম, গত দশক পর্যন্ত এমনই ছিল প্রচলিত তুলনা। তবে এ বছর অন্তত ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর এতে পোশাক রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি বস্ত্রশিল্প মালিকদেরও বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশার কথা শুনিয়েছেন মোহাম্মদ আলী খোকন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

বস্ত্রশিল্প খাতের অবস্থা এখন কেমন? দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কতটা অবদান রাখছে এই খাত?
আমরা বস্ত্র খাতের ব্যাকওয়ার্ড শিল্পের (পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প) সবচেয়ে বড় সংগঠন। আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রপ্তানিতে আমাদের জোগান ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বস্ত্রের যে জোগান, সেটি আমরাই দিয়ে থাকি। আমরা বছরে দেশে সাত বিলিয়ন মিটার কাপড় জোগান দিই। যার অনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে আমাদের বছরের টার্নওভার প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমাদের যে বিনিয়োগ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, এটি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এর সঙ্গে যদি আমরা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বিনিয়োগ যোগ করি, তাহলে মোট বিনিয়োগ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আমাদের এই খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। তাই সামগ্রিক বিচারে আমাদের বস্ত্র খাতের অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

সবচেয়ে বড় কথা যেটি, সেটি হচ্ছে আমাদের এই ব্যাকওয়ার্ড শিল্প না থাকলে আজকে পোশাকশিল্পের অবদান কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এই যে গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে, তাতে কিন্তু আমাদেরও বড় অবদান আছে। আমরা তুলা আনি, সেখান থেকে সুতা বানাই, সুতা থেকে কাপড়, কাপড় থেকে ডাইং ফিনিশিং করছি। সেখানে প্রিন্টিং হচ্ছে, চেক হচ্ছে, ডেনিম হচ্ছে, টুইল হচ্ছে, গ্যাবার্ডিন হচ্ছে, নিট ফ্যাব্রিক হচ্ছে নিট খাতকে ৯০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। ওভেন খাতে আমাদের জোগান হচ্ছে রপ্তানির ৪০ শতাংশ। আর ডেনিমের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। বাংলাদেশে জ্বালানির বড় গ্রাহক আমরা। ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করছি। করোনাভাইরাসের সময় আমরা বিপদে পড়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ উদ্যোগে আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। সেই সময়ের উদ্যোগের কারণে পরবর্তী সময়ে আমরা ভালো করতে পেরেছি। আসলে এই শিল্পটি ভালোর দিকে ছিল। নতুন বিনিয়োগ আসছিল; কর্মসংস্থান বাড়ছিল।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। কিছুদিন সংবাদ সম্মেলন করে বস্ত্র খাতের সংকটের কথা বলেছিলেন। এখন কেমন চলছে?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে যখন যুদ্ধ লাগল। গত মার্চ থেকে আমাদের অবস্থা খারাপ হতে থাকল। নামতে নামতে গত অক্টোবর আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল; এখন যে ভালো সেটি বলব না। গত নভেম্বরে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি যে আয় হয়েছে, সেটি অবশ্যই ভালো অর্জন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই যে অর্জন হয়েছে তা হচ্ছে আগে আমাদের অনেকগুলো অর্ডার ছিল, সেটির কারণে হয়েছে। সামনে আমাদের অর্ডারগুলো আছে, কিন্তু খুব স্লো (ধীর) ডেলিভারি। সেগুলোর মধ্যে ক্রেতাদের সে রকম চাপ নেই যে মালটি দিতে হবে। অন্য সময় আমাদের ওপর চাপ থাকত যে মাল দিতে হবে। এমন অবস্থা মাঝে মাঝে হতো যে প্রাইজ যেটিই হোক, আমাকে মাল দিতে হবে।

সারা বিশ্বে এখন মন্দার ভাব। সেটির প্রভাব কিন্তু আমাদের দিকে আসছে। কিন্তু একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো আছি; অনেক বড় বড় দেশের চেয়ে ভালো আছি। এই তো আমি ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে এলাম, নিজ চোখে দেখে এলাম, তাদের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। বাংলাদেশে আমরা যতটা খারাপ করি, তার তুলনায় প্রচার-প্রচারণা বেশি। যেটি ইউরোপে হয় না। ইউরোপে অনেকের ঘরে খাওয়া নেই, কিন্তু আপনি এটির খবর দেখবেন না। কিন্তু বাংলাদেশে যদি ৯০টি ভালো সেবা পাওয়া যায়, আর ১০টি খারাপ সেবা পাওয়া যায়। আমরা ১০টির খবর পাই। আর ৯০টির খবর পাওয়া যায় না। আমি ৫টি কিস্তি আগে দিয়েছি এই খবর হয় না। কিন্তু বিসমিল্লাহ গ্রুপ টাকা নিয়ে গিয়েছে সেই খবর হয়। আমি গণমাধ্যমের সবাইকে বিনীত অনুরোধ করব যে আপনারা দেশকে নিয়ে পজিটিভ নিউজ করেন। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে; আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সমালোচনার পাশাপাশি দেশের ভালো খবরও প্রচার করুন দয়া করে।

একটি কথা আমি বারবার বলে থাকি, কোনো দলের রক্ষণভাগ যত শক্তিশালী, তাকে গোল দেয়া তত কঠিন। আমাদের পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ শক্তিশালী, অর্থাৎ আমরা বস্ত্র খাত হলাম পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ। আমরা শক্তিশালী বলেই পোশাক খাতের অনেক অর্জন হচ্ছে। গ্যাস ও বিদুৎ-সংকটের কারণে আমরা সরকারকে বলেছিলাম যে দরকার হলে আমরা একটু টাকা বাড়িয়ে দিই, আপনারা আমাদের বিদ্যুৎ দেন। আমরা বলেছিলাম আমরা যদি ১ লাখ ডলারের জ্বালানি পাই, তাহলে কিন্তু আমরা ২৪ লাখ ডলার আর্ন করতে পারি। এই পরিসংখ্যান যখন আমরা তুলে ধরেছিলাম; বলেছিলাম যে আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। আমরা যদি একসঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করি, তাহলে কিন্তু সংকট কাটিয় ওঠা যায়। আমরা যদি সংকটের সময় দোষারোপ করি, তাহলে কিন্তু জাতি সংকট থেকে উদ্ধার হতে পারব না।

এখন কি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কেটেছে? আগের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি?
উন্নতি হয়েছে ঠিক; কিন্তু সংকট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি। আমরা এটি বুঝি যে সরকার ইচ্ছে করে ব্যয় সংকোচন করেনি। এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে সরকারকে সহায়তা করা উচিত বলে আমি মনে করি। বিশ্বের সব দেশ সংকটকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার কারণে কিন্তু সংকট কাটিয়ে উঠেছে। জাতীয় সংকটে সব দল এক হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশের সংকটটিকে বিশ্বের দরবারে আরও বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ফায়দার জন্য। দেশকে কিন্তু আমরা ছোট করছি। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলব, দেশকে ছোট করে কোনো লাভ নেই। সমস্যা থাকবে, তার সমাধান থাকবে। জ্বালানির সমস্যা সারা বিশ্বের সমস্যা। সুতরাং আমরা মনে করি, সবাই মিলে কাজ করলে এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। আগে আমাদের কোনো জিনিস আনতে যদি ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো, এখন ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। আমাদের টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। বাংলাদেশে যে উন্নয়নকাজ হয়েছে, গত ১০ বছরে এগুলোকে আপনি ফেলে দেবেন কীভাবে।

এখন একজন রিকশাওয়ালাও রিজার্ভ (বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা মজুত) নিয়ে কথা বলে। এটি আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। রিজার্ভ নিয়ে চিন্তা করার জন্য রাষ্ট্রের অনেক লোকজন আছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে বলে আমি মনে করি। তখন বিশ্ব অর্থনীতির বাজার কিন্তু বিশেষভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। এই বাজারটিকে ধরার প্রস্তুতি এখন আমরা নিচ্ছি। আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ঠান্ডা হয়ে এলে অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে তখন দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। এখন বিশ্ব অর্থনীতির যে খারাপ অবস্থা, সেটি একসময় সহনীয় হয়ে যাবে। আর সহনীয় হয়ে গেলে আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবাই মিলে সেই প্রস্তুতিই নিতে হবে। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে কি আপনারা উদ্বিগ্ন?
আমি যখন ব্যবসায় আসি ’৮৭ সালে, তখন উত্তাল আন্দোলন এরশাদবিরোধী। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ বুকে-পিঠে লিখে শহীদ হলেন নূর হোসেন। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, এর পরও দেশে আন্দোলন হয়েছে- এগুলো দেখতে দেখতে আমরা ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই বাধাবিপত্তি-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়েই আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবস্যা করছি। উৎপাদন করছি, কর্মসংস্থান করছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

৩৫ বছরের ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের সংকট মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের থাকা উচিত। প্রত্যেক জিনিসের সিজন থাকে। পিঠা উৎসব শীতকালে হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো একটি ফেস্টিভ ব্যাপার। এতদিন কিছু ছিল না, এখন দেখা যাচ্ছে সমানতালে দুটো দলই করছে। দুই দলেরই প্রচুর লোকজন হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এটিকে এনজয় করছে ফেস্টিভ হিসেবে। সুতরাং আমি আতঙ্কিত নই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নতুন কিছু নয়। এর চেয়ে খারাপ সময় আমরা দেখেছি। সেই তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে। বাংলাদেশে অর্থনীতি বলেন, অর্থনীতির সাইজ বলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অবস্থান ৪১তম। আমরা যদি ধরে নিই আগামী পাঁচ বছরে আমাদের অর্থনীতির সাইজ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।

এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আজ থেকে ২০ বছর আগে আমাদের অর্থনীতি কত ছিল। কয়েক মিলিয়ন ডলারের ছিল। অর্থনীতি আস্তে আস্তে ট্রিলিয়ন ডলারের দিতে এগোচ্ছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো নিয়ে অনেক লেখা হচ্ছে। কিন্তু এই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর যে অবদান আছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বাংলাদেশের শিল্পে, আমাদের বস্ত্র সেক্টরে যে বিনিয়োগ আছে তার বেশির ভাগ টাকা বেসরকারি ব্যাংক থেকে আসছে। সুতরাং দু-একটি ব্যাংকের খারাপ দিক নিয়ে আপনি সারা ব্যাংকিং খাতের ওপর ঢালাও কথা বলতে পারেন না। সংকট থাকবে; এর মোকাবিলা থাকবে। এই মুহূর্তে আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র খাত কতটা অবদান রাখছে?
অর্থনীতিতে আমাদের অবদান যদি হিসাব করেন, এটাকে কোনোভাবে খাটো করে দেখা যায় না। বাংলাদেশের ৫২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে সরাসরি ১ কোটি ১০ লাখ লোক কাজ করে এখানে। ৫২ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, এটা হলো রপ্তানি, এতে স্থানীয়ভাবে আমাদের সেক্টরের ৮ বিলিয়ন ডলার, অন্যান্য সেক্টর মিলিয়ে ডোমেস্টিক প্রোডাক্টকে ধরলে আরও ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৩ বিলিয়ন ডলার হবে। সব মিলিয়ে ৬৫ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার আমাদের ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট। আমাদের টোটাল ইকোনমিতে আমাদের টোটাল ইন্ডাস্ট্রির অবদান হলো ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এটা ২০২২ সালের তথ্য হিসাব করে আমি বললাম। তাহলে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মধ্যে যদি ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান হয়, তাহলে ভেবে দেখেন কত বড় অবদান আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রির।

আমাদের কৃষির অবদান ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সার্ভিস সেক্টর থেকে ৫১ শতাংশ পাচ্ছি। শিল্প থেকে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান আসছে তার মধ্যে ৮৪ শতাংশ টেক্সটাইল থেকে আসছে। আমরা কাজ করছি, সরকারও সহায়তা করছে। আগামীতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার হবে। করোনা শেষ হয়ে গেছে। এখন চিন্তা করার সময়ে হয়েছে যে, কোন বাজারটিকে আমরা আগে দখলে নেব।

বস্ত্র খাতে নতুন বিনিয়োগ কেমন আসছে? কর্মসংস্থান কেমন বাড়ছে?
আমাদের সেক্টরে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ এসেছে। এগুলোর কোনোটাই বন্ধ হয়নি। আরও হওয়ার কথা ছিল, যুদ্ধের কারণে স্থগিত আছে। আমি বলব, ব্যাকওয়ার্ড শিল্পে আমাদের যে অবস্থানটা আছে, বর্তমানে আমাদের যে টেকনোলজি, ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনারি মেশিনারিজ আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৃথিবীর এমন কোনো টেকনোলজি নেই যে আমাদের নেই। আমরা প্রস্তুত। বলব যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ, কোনোটাতে ৭০ ও কোনোটাতে ৪৫ শতাংশ প্রস্তুত। আপনারা বলতে পারেন ৪৫ শতাংশ কেন ৭০ শতাংশ হলো না।

আমাদের জ্বালানি সেক্টরে যেটা হলো কি, আপনি জানেন যে ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কানেকশনটা খুবই মন্থর গতিতে যাচ্ছে, যেটা গ্যাসের যতটুকু চাহিদা সেই তুলনায় আমাদের কূপগুলো খনন হয়নি। আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস বা সম্পদ সেটা ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং যার কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলোতে প্রচুর গ্যাসের দরকার হয়। এত দিন যদি আমাদের সেই পরিমাণ ইউটিলিটি থাকত, তাহলে হয়তো সেটা হয়ে যেত। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক সম্পদ, এই সম্পদের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, মেয়াদ থাকে, তারপর আস্তে আস্তে নিম্নমুখী হতে থাকে। সুতরাং যেটা ২৭০০ এমএমসি গ্যাস উঠত চার-পাঁচ বছর আগে, সেটা ২৩০০ এমএমসিতে নেমে এসেছে। এটাকে পূরণ করার জন্য আমরা এলএনজি কিনছি। আমরা লং টার্মে ৫০০ এমএমসিএফটি কিনছি প্রতিদিন। আমাদের শর্ট টার্মে সেখান ২০০ আমরা কিনছি। কখনো আসছে, কখনো আসতে পারছে না। যুদ্ধের কারণে বিগত দুই-তিন মাসে আসতে পারছে না। প্রাইস অনেকটা হাই হয়ে গেছে। এসব কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলো আমরা সেভাবে আগাতে পারিনি। কিন্তু আমাদের যে ইয়ার্ন বলি, ইয়ার্নে আমরা ৯০ শতাংশ সফল, ম্যান-মেড ফাইবারে আরও ৫ শতাংশ এগিয়ে যাব। ২০২৩ সালে সম্ভবত আমরা ৯৫ শতাংশ অর্জন করব।

ডেনিমে আমরা প্রায় পুরোটাই সফল হয়েছি। ওভেন-নিটে তো আমাদের পুরো সাপ্লাই ঠিক আছে। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব, আমরা দেখছি সরকার অনেক চেষ্টা করছে যে, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করা যায় কিনা। আসলে কি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি সাসস্টেইনেবল (টেকসই) হওয়া সম্ভব নয়।

আমাদের নিজস্ব যে গ্যাসগুলো আছে, আগামী পাঁচ বছরে যদি আমাদের পাইপলাইনে যুক্ত হয়, আমি জানি সরকার কাজ করছে, বিভিন্ন জায়গায় কূপ খুঁজছে, সংস্কার করছে, ভোলায় দেখে আসলাম প্রতিদিন ১ থেকে ১০০ অতিরিক্ত গ্যাস থাকে সেটা জাতীয় গ্রিডে যোগ করার জন্য চেষ্টা করছে। সেটাকে লিক্যুইড ফর্মে আনার জন্য পাইপলাইনে। এভাবে দেখা গেছে, সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন আরেকটা কূপ পাওয়া গেছে। আমরা যদি নিজস্ব রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারি, আবার যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার প্ল্যান্ট যদি কমে আসে, সেই বিদ্যুৎটা যদি শিল্পে সাপ্লাই দেয়া যায়, তাহলে আমি মনে করি যে অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর বর্তমানে অর্থনীতিতে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ যে শিল্পের অবদান তা ৪০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। আমরা যদি গ্যাসকে রিঅ্যারেঞ্জমেন্ট করতে পারি, আমরা যদি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে পারি এবং এটা যদি শিল্পে ব্যবহার করতে পারি, অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

আমদানি কমছে। এটা একটা স্বস্তির খবর। তবে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বেশ কমে গেছে। এতে কি দেশে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না?

এখাতে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ক্যাপিটাল মেশিনারি কিন্তু গ্রোসারি জিনিস নয় যে প্রতিদিন আমদানি করা হয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যায়, দুই বছরে একবার আনতে হয়। আপগ্রেশনের কারণে বা অন্য কারণে আমদানি করতে হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনি যন্ত্রপাতি) আমদানি কমে গেছে এটা আশঙ্কার কিছু নেই। শিল্পের কাঁচামাল (র-ম্যাটেরিয়াল) আমদানি কমে গেলে আশঙ্কার কারণ আছে। ক্যাপিটাল মেশিনারি না এলে উৎপাদন হবে না, র-ম্যাটেরিয়াল আসবে না, টাকাও দরকার নাই। কিন্তু আমার মেশিন আছে, কিন্তু র-ম্যাটারিয়ালের কারণে মেশিন বন্ধ আছে এটা আশঙ্কার বিষয়। কিন্তু মেশিনারি আমদানির হ্রাসে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

সহায়ক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য আপনার প্রত্যাশা কী?
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীরা জড়াতে চাই না। বিরোধী দল হোক বা সরকারি দল হোক, দেশকে নিয়ে প্রপাগান্ডা (গুজব) ছড়ানো থেকে প্রথমে আমাদের বিরত থাকতে হবে। পৃথিবীর কোনো জাতি এটা করে না। দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, এর সুফল কিন্তু আমরা নাগরিক হিসেবে সবাই পাব।

জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যাদের জন্য আজকে মুক্ত স্বদেশ তাদের লাল সালাম। দেশটা স্বাধীন না হলে আমরা কয়টা বাঙালি শিল্পের মালিক হতাম। সুতরাং আমি বলব, জাতি হিসেবে ’৭১ সালে একত্রিতভাবে, সম্মিলিত শক্তি না হলে আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে পরাজিত করতে পারতাম না। সুতরাং প্রত্যেকটা সংকটে আমাদের এক হতে হবে। শুধু ব্যক্তিস্বার্থে কাজ-ক্ষমতা দেখলে হবে না। ’৭১ সালে যেমন জাতীয় ঐক্য হয়েছিল। আমি মনে করি অর্থনীতি সংকটে ঐক্য হওয়া উচিত। প্রপাগান্ডা ছড়ানো ঠিক নয়।

এ দেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যে দেশ নিজের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারে, বিভিন্ন ধরনের টানেল করতে পারে- সেই জাতিকে কখনো আপনি খারাপ বলতে পারেন না। আমি বলছি, ১০টা ব্যাংকের ক্লায়েন্ট খারাপ করছে, সেটা যদি ৩০টা টিভি চ্যানেল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচার করে, তাহলে ৯০টা ক্লায়েন্ট যে ভালো করছে তাদের আমরা কেউ চিনি না। আমরা খারাপকে চিনি, ভালোকে চিনি না। আমি মনে করি, আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। জাতীয় অর্থনীতি ও দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশটা আমার, আপনার দেশ। দেশর সুনাম নষ্ট করা যাবে না। জাতি হিসেবে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।


হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ল ১০ শতাংশ

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৮
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁতে পারে।

তেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলার প্রভাব থাকলেও মূল চাপ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার কারণে।

বাণিজ্যিক সূত্র জানায়, তেহরানের সতর্কবার্তার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও এলএনজি পরিবহন স্থগিত করেছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের ২০ শতাংশের বেশি এই জলপথ দিয়ে যায়।

পারমার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে বাজার খোলার পর তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়েও যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা আগেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। এদিকে ওপেক প্লাস জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে, যা বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন বলেন, হরমুজ এড়িয়ে সৌদি আরব বা আবুধাবির পাইপলাইন ব্যবহার করলেও প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজার চালু হলে দাম আরও ২০ ডলার বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইরান সংকট ঘিরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও শোধনাগার এখন মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে বিকল্প সরবরাহ ও শিপিং রুট খোঁজার চেষ্টা চলছে।


ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতের রুল, জব্দ না করার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ধারা ৬ (গ) কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশে ইতোমধ্যে আমদানি করা ভ্যাপ ও ই-সিগারেট জব্দ বা বাজেয়াপ্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে বাণিজ্য সচিব, কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ৬গ ধারায় ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনের উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং তার যন্ত্রাংশ বা অংশবিশেষ (ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ভ্যাপিং, ভ্যাপার ও ই-লিকুইড ইত্যাদি), হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস বা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করবেন না বা করাবেন না।

উপধারা (২)-এ উল্লেখ আছে, এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে পর্যায়ক্রমে শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।

এই ধারা চ্যালেঞ্জ করে মাসদুজ্জামানসহ ৪১ জন ব্যবসায়ী রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন এবং আমদানি করা ভ্যাপ ও ই-সিগারেট জব্দে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।


রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার, ৪৯ পণ্য প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র রমজান সামনে রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান বাড়িয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন। মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ইফতার ও সেহরিতে ব্যবহৃত ৪৯টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারকদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প সচিব মো. ওবাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, রমজানে বেশি ব্যবহৃত পণ্য যেমন ফ্রুট ড্রিঙ্ক, ফ্রুট সিরাপ, মুড়ি, খেজুর, সফট ড্রিংকস পাউডার, পাস্তুরিত দুধ, ভোজ্য তেল, ঘি, নুডলস ও সেমাই বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

মোট ৭৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০১টি মানসম্মত পাওয়া গেছে। বাকি ৪৯টি পণ্যে ভেজালের প্রমাণ মিলেছে। নিম্নমানের ভোজ্য তেল উৎপাদনের দায়ে একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত সাত মাসে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারজাতের অভিযোগে ১০৩টি কারখানা ও পেট্রোল পাম্প বন্ধ করা হয়েছে। এক হাজার ৪৭০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও জানান সচিব।

রমজান উপলক্ষে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে প্রতিদিন তিনটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও নিয়মিত অভিযান চলছে।

যৌথভাবে অভিযান পরিচালনায় যুক্ত থাকবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক (প্রকৌশলী) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বাজারে নামী প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল করে বিক্রির প্রবণতা রয়েছে। প্রাণ ও ইউনিলিভার-এর নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এসব পণ্য তাদের তৈরি নয়।

শিল্প সচিব বলেন, নিম্নমানের বা নকল খাদ্যপণ্য বিক্রি করলে তা ধ্বংস করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ চক্রও চিহ্নিত করা হবে।

বিএসটিআই সারা বছর অভিযান চালালেও রমজানে তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক পণ্য দেখলে সংস্থাটিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


পাঁচ বছর পর বৈশ্বিক ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজারে শীর্ষে শাওমি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

পাঁচ বছর বিরতির পর বৈশ্বিক ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজারে আবারও শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে শাওমি।

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ওয়্যারেবল ডিভাইস সরবরাহ দুই কোটি ইউনিট ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর মোট বিক্রির ১৮ শতাংশ ছিল শাওমির দখলে। এর ঠিক পেছনে রয়েছে অ্যাপল, যার বাজার হিস্যা ১৭ শতাংশ। হুয়াওয়ে পেয়েছে ১৬ শতাংশ। শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারত্বের ব্যবধান ১ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে স্যামসাং ৯ শতাংশ এবং গারমিন ৫ শতাংশ হিস্যা ধরে রেখেছে।

ওমডিয়ার গবেষণা পরিচালক সিনথিয়া চেন জানিয়েছেন, ওয়্যারেবল খাতে প্রতিযোগিতা এখন শুধু ডিসপ্লে, সেন্সর বা ব্যাটারি সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যবহারকারীরা এখন ডিভাইসের ইকোসিস্টেমের সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফোন, ট্যাবলেট, গাড়ি ও স্মার্ট হোম পণ্যের সঙ্গে যার সংযোগ যত শক্তিশালী, সেই ব্র্যান্ডের গ্রাহক তত স্থায়ী হচ্ছে।

শাওমির সাফল্যের পেছনে ‘মি ব্যান্ড’ সিরিজের জনপ্রিয়তা ও সাশ্রয়ী দামের স্মার্টওয়াচ বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ‘হিউম্যান × কার × হোম’ কৌশলের মাধ্যমে তাদের ওয়্যারেবল ডিভাইসগুলো বৃহত্তর ইকোসিস্টেমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাপল প্রিমিয়াম সেগমেন্টে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। আইফোনের সঙ্গে সমন্বয়, নির্মাণ মান এবং স্বাস্থ্যভিত্তিক ফিচারের বিস্তার তাদের এগিয়ে রাখছে। হুয়াওয়েও চীনের বাজারে প্রভাব বিস্তার করেছে এবং পেশাদার স্পোর্টস ট্র্যাকিং ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে।

ওয়্যারেবল ডিভাইসের স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা এখন শুধু স্টেপ কাউন্ট বা হার্ট রেট মাপায় সীমিত নেই। উন্নত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে খাতটি। ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের উপযোগী হালকা ও সরল নকশায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে অনেক ব্র্যান্ড।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার হিস্যার ব্যবধান খুব কম থাকায় চলতি বছর শাওমি, অ্যাপল ও হুয়াওয়ের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


ব্রেকিং ত্রুটিতে ৪৩ লাখের বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে ফোর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ট্রেলার ব্রেকিং সিস্টেমে সফটওয়্যার সমস্যার কারণে ৪৩ লাখের বেশি পিকআপ ট্রাক ও এসইউভি বাজার থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা ফোর্ড। ত্রুটির ফলে চলন্ত অবস্থায় ট্রেলারের ব্রেক অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ফক্স বিজনেস।

ট্রেলার ব্রেক হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা গাড়ির পেছনে যুক্ত ট্রেলারকে আলাদাভাবে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি হঠাৎ ধাক্কা লাগা বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি কমায়।

রিকলের আওতায় রয়েছে ২০২১-২৬ মডেলের জনপ্রিয় এফ-১৫০ সিরিজ। এছাড়া ২০২২-২৬ মডেলের সুপার ডিউটি ট্রাক, ২০২৪-২৬ মডেলের রেঞ্জার এবং ২০২২-২৬ মডেলের এক্সপিডিশন, ম্যাভেরিক ও লিঙ্কন নেভিগেটর মডেলের গাড়িগুলোও তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ মডেলের ট্রানজিট যানবাহনগুলোকেও রিকল নোটিসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফোর্ড জানিয়েছে, ট্রেলার টানার সময় ইন্টিগ্রেটেড ট্রেলার মডিউল মূল যানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। এতে ট্রেলারের ব্রেক ও টার্ন সিগন্যাল লাইট কাজ না করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ ব্রেকিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে অধিকাংশ গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যাবে। ‘ওভার দি এয়ার’ পদ্ধতিতে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে অথবা ডিলারশিপ ও মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে আপডেট গ্রহণ করা যাবে। মে মাসের মধ্যে সব ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িতে এ আপডেট পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘এক্সপ্লোরার এসইউভি’ নিয়েও বড় রিকলের ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। ২০১৭-১৯ মডেলের প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার এক্সপ্লোরার এতে অন্তর্ভুক্ত। পেছনের সাসপেনশনের ‘টো লিংক’ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, টো লিংক পেছনের চাকার সঠিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভেঙে গেলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পৃথক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ফোর্ড জানায়, আরও ৪০ হাজার ৬৫৫টি গাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ব্যাটারি অকেজো হওয়া ও ব্রেক প্যাডেলের ত্রুটি সংশোধনের জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতে, এসব ত্রুটি চালকের নিরাপত্তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ফোর্ডের জন্য উদ্বেগপূর্ণ সময় ছিল। বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড ১০৩টি ‘সেফটি রিকল’ ঘোষণা করেছে, যা তাদের আগের সব বার্ষিক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।


আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দর তিন সপ্তাহে সর্বোচ্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ার প্রবণতা ও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দর বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পখাতে ব্যবহারের সম্প্রসারণই এ উত্থানের মূল কারণ।

গত শুক্রবার লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ-এ তিন মাস মেয়াদি সরবরাহ চুক্তিতে তামা টনপ্রতি ১৩ হাজার ৪৭২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারির পর এটি সর্বোচ্চ দাম। টানা সপ্তম মাসের মতো ধাতুটির দর বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজনেস রেকর্ডার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অক্টোবর থেকে বিনিয়োগকারীরা তামা ও টিনের মতো শিল্পধাতুতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্য বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও নির্মাণ খাতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে চলতি বছর এখন পর্যন্ত তামার দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে ধাতুটির মূল্য রেকর্ড ১৪ হাজার ৫২৭ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছিল।

চীনে চান্দ্র নববর্ষের নয়দিনের ছুটি শেষে সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জ-এ তামার মজুদ ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বর্তমানে সেখানে মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫২৯ টন। দাম বেশি থাকায় কিছু ক্ষেত্রে চাহিদা কমলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডেটা সেন্টার খাতে তামার ব্যবহার অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএস এক নোটে জানিয়েছে, আগামী ১৩ মাসে তামার স্পট মূল্য ১৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তামার ব্যবহার ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫ সালে বাজারে ২ লাখ ৩ হাজার টন ঘাটতি থাকলেও চলতি বছরে তা বেড়ে ৫ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে অন্যান্য শিল্পধাতুর মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের দাম সামান্য কমেছে। টনপ্রতি অ্যালুমিনিয়াম ৩ হাজার ১৫২ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কম।


টানা তৃতীয় মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠালো প্রবাসীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টানা তৃতীয় মাসের মতো তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার। এর আগে জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ডলার।

রবিবার এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা এক মাসে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।


চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্রিনহাউস টেন্ট কারখানা স্থাপনে চুক্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশে প্রথমবারের মতো গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে চীন (হংকং)ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা গড়তে ভূমি ইজারা চুক্তি করেছে।

রোববার (১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। সেখানে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট তৈরি হবে, যা মাটিবিহীন চাষাবাদের জন্য বিশেষায়িত বহনযোগ্য কাঠামো। পাশাপাশি ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন ও পিই প্যাকেজিং ফিল্মও উৎপাদন করা হবে। হাইড্রোপনিক্স টেন্ট একটি নন-ট্র্যাডিশনাল ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি পণ্য, যা পণ্য বহুমুখীকরণ ও বিশেষায়িত বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে বেপজার কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. ওয়াং শেনিউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাগত জানিয়ে নির্বাহী চেয়ারম্যান ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চুক্তি অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ইরান ইস্যুতে শেয়ারবাজারে বড় ধস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে।

লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সব সূচক নিম্নমুখী হয়েছে, একই সঙ্গে কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণ।

রোববার (১ মার্চ) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ দাম বাড়ার তালিকায় থাকতে পেরেছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দর কমায় প্রধান সূচক একদিনে ১৩৮ পয়েন্ট নেমে যায়।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে, ফলে সূচকে বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে আসে।

দিনের শুরুতেই ডিএসইতে বিক্রির চাপ তীব্র হয়। লেনদেন শুরুর পর প্রধান সূচক এক পর্যায়ে ২২৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলে পতনের গতি কিছুটা কমে, তবে শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতিতেই দিন শেষ হয়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৩৫৩টির। ৬টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল।

১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ১৯২টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ২টি কোম্পানির দর বেড়েছে, আর ৭৭টির কমেছে।

লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ শ্রেণিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৪টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে নেমেছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে ছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনে লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সিটি ব্যাংক-এর শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ-এর লেনদেন ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার।

লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশে আরও ছিল রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।

সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তুলনায় কম।


মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মার্চ মাসেও জ্বালানি তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত দরই বহাল রাখা হয়েছে চলতি মাসে।

এবারও প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে।

রবিবার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে মার্চ মাসে ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে নির্ধারণ করা হলো।"


চাঁদাবাজি রোধে সামাজিক আন্দোলনের গড়ে তোলার আহ্বান ডিসিসিআই সভাপতির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশে চাঁদাবাজি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের গুরুত্ব নিয়েই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও যানজট কেবল ব্যবসায়ী বা বেসরকারি খাতের সমস্যা নয়, বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব নাগরিককে প্রভাবিত করছে। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যরাও এসব সমস্যার বাইরে নন। তাদের পরিবারও চাঁদাবাজি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব ভোগ করছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সম্ভবত এখন সময় এসেছে একটি সামাজিক আন্দোলন তৈরির। পুলিশ কিংবা কোনো একটি দপ্তর একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের নিজেদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। সামাজিকভাবে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

নিজেদের আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিরাশাবাদী হলে তো হবে না। একটা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে খুব শক্তিশালী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা থাকায় আমাদের আশাও বেড়ে গেছে। আমরা এবার বোধহয় সামনের দিকে ভালো কিছু দেখবো- চাঁদাবাজমুক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে।’

ব্যবসায়িক আস্থা গড়ে ওঠে বিশ্বাস, আইনের শাসন ও স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়েছে। কঠোর মুদ্রানীতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলেছে।

তার মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যবসার জন্য নিরাপদ ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জাতীয় অর্থনীতি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসা পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে এবং দেশীয়-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন–এর চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন–এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর উপ-কমিশনার (মতিঝিল বিভাগ) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর–এর পরিচালক আব্দুল জলিল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া।


দেশের বাজারে সোনার দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী, ভরিতে বাড়লো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সারা দেশে এই নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। একদিন আগেও এই মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার জন্য এখন থেকে ক্রেতাদের গুনতে হবে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।

সোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ধাতুর দাম বর্তমানে বেশ চড়া। স্বর্ণ ও রুপার আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি (Goldprice.org) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বর্তমানে ৫ হাজার ২৭৮ ডলারে অবস্থান করছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারেও সোনার দাম একলাফে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ২৯ জানুয়ারি এক দিনেই ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো একধাপে সোনার দাম এতটা বাড়ানো হয়নি। মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনার সংকটকেই এই দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণ।


ব্যবসায় দুর্নীতিই বড় বাধা, তিন খাতে ন্যায়পাল নিয়োগ চায় সিপিডি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্নীতি বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। এ সমস্যা মোকাবিলায় কর ন্যায়পাল, ব্যবসাজনিত ন্যায়পাল ও ব্যাংক ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিপিডি কার্যালয়ে “নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত : ১৮০ দিন ও তারপর” শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন করতে হয়, যা দুর্নীতিকে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে। তাই কর, ব্যবসা ও ব্যাংক খাতে পৃথক ন্যায়পাল নিয়োগ জরুরি এবং দ্রুত এ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব আহরণ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় ছিল। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখন সর্বনিম্ন। বর্তমান সরকার রাজস্ব আহরণ ৪ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পদ কর যুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও কর ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

কর বৈষম্য কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা, যারা নিয়মিত কর অব্যাহতি, কর ফাঁকি, কর ছাড় ও কর আহরণ পর্যবেক্ষণ করবে। ভ্যাট কাঠামোতে বর্তমানে ৮টি স্ল্যাব রয়েছে, তা ধাপে ধাপে ৩টিতে নামিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে ২টি স্ল্যাব হয়ে একক হারে যাওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এনবিআরের কর অবকাশ নীতির পুনর্বিবেচনার কথাও বলেন মোয়াজ্জেম। বিশেষ করে বিনোদন ক্লাব বা পুঁজিবাজারের মতো খাতে কর অবকাশ সুবিধা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে। খাতভিত্তিক ও জ্বালানিভিত্তিক কর ছাড় তুলে দিয়ে সমন্বিত একক নীতির আওতায় সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। ব্যক্তি শ্রেণির পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবসার জন্য অনলাইন কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দেন।

ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, আন্তর্জাতিক কর ফাঁকি রোধে বৈশ্বিক গাইডলাইন অনুযায়ী চুক্তি এবং এনবিআরের ভেতরে একজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের বিষয়েও মত দেন তিনি। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে বিভক্ত কাঠামোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নতুন সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিপিডি এই মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

সংস্থাটি মনে করে, নতুন সরকারের শুরুর দিকে ঘোষিত নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অনাগ্রহ, আইনি জটিলতা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা বড় কারণ। তাই বিকেন্দ্রীকৃত, জ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতি বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানায় সিপিডি। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যকর তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সিপিডি তাদের গবেষণার ভিত্তিতে মোট ১২টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক করণীয় চিহ্নিত করেছে।


banner close